Friday, August 22, 2014

টপলেস ডায়ানা পেন্টি

এরই মধ্যে ‘ককটেল’ ছবির মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয়-পারফরমেন্সের জাদু ছড়িয়েছেন ডায়ানা পেন্টি। প্রথম এ ছবির মাধ্যমে পরিচালকদের নজরে চলে আসেন তিনি। তবে প্রশ্ন জাগতে পারে এত ভাল পারফরমেন্সের পরেও কেন এত দিন তাকে নতুন কোন ছবিতে পাওয়া যায়নি? তবে কি ডায়ানা দিক পাল্টেছেন? না, এমন কিছুই হয়নি। অভিনয়ে আরও বেশি পাকাপোক্ত হওয়ার জন্যই তিনি গিয়েছিলেন লন্ডনে। সেখানে অভিনয়ের ওপর একটি বিশেষ কোর্স করেছেন । তবে অপেক্ষার পালা এবার শেষ। অভিনয়ের ডিগ্রি নিয়ে এরই মধ্যে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে এসেই একাধিক বিজ্ঞাপনের কাজ করেছেন । নতুন কমপক্ষে হাফডজন ছবির প্রস্তাব রয়েছে তার কাছে। তবে বেশি কাজে আগ্রহী নন ডায়ানা। একটি বড় বাজেটের ছবির মাধ্যমে আবারও বলিউডে ফিরেছেন তিনি। ছবিটি প্রযোজনা-পরিচালনা করছেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। সম্প্রতি তার ‘কিক’ ছবিটি নতুন ইতিহাস গড়েছে ব্যবসা সফলতার দিক দিয়ে। এবার নিজের পরবর্তী ছবির কাজ শুরু করেছেন তিনি। আর এ ছবির প্রধান নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করছেন ডায়ানা। ছবিতে একজন প্রতারক নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যে কিনা পরে ভালবাসায় বাধা পড়ে নতুন জীবন শুরু করতে চান। ‘ককটেল’-এর চেয়েও বেশি খোলামেলা রূপে এখানে তাকে উপস্থাপন করা হবে। এদিকে সম্প্রতি এ ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিং করে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। এ দৃশ্যে ডায়ানাকে দেখা যাবে পুরোপুরি টপলেস পোশাকে। অর্থাৎ শরীরের ওপরের অংশে কোন ধরনের পোশাক পরেননি তিনি, শুধু নিজের হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে ডায়ানা বলেন, অনেক দিন পর অভিনয়ে ফিরলাম। সাজিদ জি’র ছবিটি করে বেশ ভাল লাগছে। ছবিতে একজন আবেদনময়ী রূপেই দেখা যাবে আমাকে। তবে এর গল্প অনেক সুন্দর। আশা করছি ছবিটি সবার ভাল লাগবে।
 

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতেই সম্প্রচার নীতিমালা -সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুজন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। তারা বলেছেন, সরকার ঘোষিত এই নীতিমালা ইতিমধ্যে দেশের সচেতন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই এটি বাতিল করা উচিত। বক্তারা নীতিমালা করতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনেরও একটি বিকল্প পরামর্শ দেন।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সমপ্রচার নীতিমালা, আইন ও সমপ্রচার কমিশন’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন-এর জাতীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এতে বলা হয়, সরকার ঘোষিত সম্প্রচার নীতিমালা ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। নীতিমালার রচয়িতারা ছাড়া আর কেউ এই নীতিমালার সমর্থনে এগিয়ে যায়নি। এমনকি সাংবাদিকদের যে আওয়ামী গ্রুপ রয়েছে তারাও এর সমালোচনায় মুখর। সরকার আশা করেছিল এই নীতিমালা দিয়ে স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু প্রথম স্তরেই বাধাগ্রস্ত হবে। এই নীতিমালার পেছনে সরকারের নীল নকশা রয়েছে দাবি করে বলা হয়, ৫ই জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর সরকার অনেকটা অস্বস্তিতে আছে। প্রায় বিনা নির্বাচনের জাতীয় সংসদ নিয়েও সরকার অস্বস্তিতে। দেশে তো বটেই, বিদেশেও অনেক বন্ধু রাষ্ট্র প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। সরকার নানা রাজনৈতিক কৌশলে বিরোধী মতকে কোণঠাসা ও কাবু করে ফেলেছে। জাতীয় পার্টিকেও ভোঁতা করে দিয়েছে। বাস্তব অর্থে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সরকারের কার্যকর বিরোধিতা করার মতো এখন আর পরিবেশ নেই। সরকারের যাবতীয় কুকীর্তি নিয়ে সমালোচনায় মুখর এখন গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমকে বশে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আর কয়েকটি নাগরিক ফোরামও সরকারের বশংবদ হতে রাজি হয়নি। এরাই এখন সরকারের তথাকথিত ‘স্বপ্ন’ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিভির ‘সংবাদ’ ও সমালোচকদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই প্রথম পদক্ষেপ: জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা। এটা সফল হলে আরও কিছু পদক্ষেপ হয়তো সরকার নেবে। এভাবে বর্তমান সরকার অনেকটা ‘বাকশাল’ স্টাইলে ‘এক নেতা এক দেশ’ ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। প্রবন্ধে সম্প্রচার কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির বিকল্প একটি প্রস্তাব রাখা হয়। প্রস্তাব অনুসারে, সরকার প্রধান অংশীজন (এ্যাটকো), জাতীয়ভিত্তিক বিভিন্ন পেশাজীবী ফোরাম (অন্তত ১০টি), সক্রিয় নাগরিক ফোরাম (অন্তত ৫টি)-এদেরকে ১ জন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করার দায়িত্ব দিতে পারেন। সদস্যদের যোগ্যতার মাপকাঠিও বলে দিতে হবে। যাদের নাম প্রত্যেক তালিকায় কমন হবে তাদেরকেই সরকার সমপ্রচার কমিশনে মনোনয়ন দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য মন্ত্রণালয় জানতে পারবেন কমন নামগুলোর প্রতি বহু লোকের আস্থা রয়েছে। সার্চ কমিটিতে শুধু সদস্যদের মতামত পাওয়া যায়। আর এই পদ্ধতিতে অন্তত ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির পরোক্ষ মতামত পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি ফোরাম তাদের নির্বাহী কমিটির সভা করে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে নামগুলো প্রস্তাব করবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সমপ্রতি বিচারপতিদের অভিশংসনের আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে তাদের নৈতিকতা খর্ব করা হয়েছে। এখন যদি কণ্ঠরোধের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় তাহলে কয়েকদিন সবাই মানববন্ধন বা আন্দোলন করবে। এরপর থেমে যাবে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পরই সরকার এই সমপ্রচার নীতিমালা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, সরকার মনে করে যাদের চুল-দাড়ি পেকেছে তারাই ভাল পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু তা ঠিক নয়, বাস্তববাদী তরুণদের মধ্যে অনেক মেধা রয়েছে। তারা মাঠে ঘাটে কাজ করে। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। তিনি বলেন, এই নীতিমালা যদি করতে হয় তাহলে মিডিয়ার মালিক, চিফ রিপোর্টার, মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টার, নাগরিক সমাজ সবার সঙ্গে আলাপ করেই করা হোক। তা না হলে এটা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। দেশ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এছাড়া যে কমিশন করা হবে  সেটা যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে তার নিশ্চয়তা কি? কারণ সেখানে যাদের নিয়োগ দেয়া হবে তাদের তো নিয়োগকর্তারই দাসত্ব করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে র‌্যাব এরশাদকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এটা ছিল সরকারের একটা কৌশল। কিছু কিছু দল ও লোককে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই এসব পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সরকারের কোন কাজে দ্বিমত পোষণ করার মতো দেশে এখন কোন কোন লোক নেই উল্লেখ করে দিলারা চৌধুরী বলেন, সংসদে কার্যত বিরোধী দল না থাকায় সেখানেও জনকল্যাণে কথা বলা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ দু’একটা ঘটনা গণমাধ্যমের সুবাদেই পেয়ে থাকে। আর এখন এই সুযোগ থেকেও জনগণকে বিচ্ছিন্ন করতেই এই নীতিমালা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন জনগণের পক্ষে টকশোতে কথা বলা হয়, সংসদে বলা হতো আর গণমাধ্যমকর্মীরা প্রকাশ করতো। তাই সরকার টকশো নিয়ন্ত্রণের পর এবার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এরফলে দেশে অপশাসন শুরু হবে। মূলত ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা অনুসরণ করলে বাস্তব অনেক কিছুই গণ্যমাধ্যমে তুলে ধরা যাবে না। যেমন আমাদের নেতানেত্রীরা দেশের বাইরে টাকা পাচার করলে সে সম্পর্কে বক্তব্য প্রচার করা সম্ভব হবে না। কারণ সে সব ঘটনার তদন্ত করে কারও পক্ষে বলা সম্ভব হবে না। বর্তমানে আমাদের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালার নামে যেটা হয়েছে সেটা কোন নীতিমালাই হয়নি। প্রতিপক্ষের মতামত ও দর্শন যেন প্রকাশ না পায় তার ইতি টানা হয়েছে।
আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া ওয়েবসাইটে থাকা অবস্থায় আমরা মতামত দেইনি। সেখানে পরামর্শ দিলে আজকে সমালোচনা অন্যভাবে হতো। সম্প্রচার নীতিমালার বেশির ভাগ অংশ নির্দোষ। তবে অনেক জায়গা বিপজ্জনক। নীতিমালায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমরা দেশীয় চলচ্চিত্রকে অশ্লীলতার দায় দিচ্ছি। অন্যদিকে বিদেশী চলচ্চিত্র উপভোগের মাধ্যমে তাদের পূর্ণতা দান করছি। নীতিমালায় শুদ্ধ উচ্চারণের বিষয়ে যেভাবে জোর দেয়া হয়েছে তাতে করে আমাদের অনেকের বক্তব্য সম্প্রচারযোগ্য নয়। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর মধ্যে সুষম ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সৃষ্টির কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, নীতিমালার কিছু মৌলিক বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হওয়া যাচ্ছে না। যেসব বিষয় প্রয়োগ সম্ভব নয় সেগুলো বহাল রাখার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশী সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রে নীতিমালায় কোন কিছুর উল্লেখ নেই। নীতিমালার চেয়ে জরুরি হচ্ছে সাংবাদিকদের পেশার উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া। এজন্য গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গত সাড়ে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা সরকারের কাছে আশাবাদী হতে পারি না। আমরা যদি বিগত সময়ে গঠিত কমিশনগুলোর দিকে তাকাই তবে দেখা যাবে কোনটাই স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। তথ্য কমিশন সম্পর্কে আমাদের অত্যন্ত করুণ অভিজ্ঞতা। সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এই মুহূর্তে নীতিমালার কোন দরকার ছিল না। নতুন নীতিমালা করার জন্য কমিশন আগে গঠন করা দরকার। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা ও মিরপুরে ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মিডিয়ার কারণে ধরা পড়েছে। যে কারণে সরকার এখন গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। সম্প্রচার নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এটা গ্রহণযোগ্য নীতিমালা হয়নি। নতুন করে নীতিমালা করতে হবে। সে জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরকারকে এই নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা কি তা বোঝাতে হবে। আবশ্যকীয়তা ভালভাবে বোঝাতে হবে। নীতিমালার অনেক ভয়ঙ্কর দিক রয়েছে। যেগুলো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। শুধু তাই নয়, এটা মিডিয়ার স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খর্ব করবে। এধরনের নীতিমালা গণতান্ত্রিক দেশে খাপ খায় না। এটা তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যও সন্তোষজনক নয়। এই নীতিমালার বিরুদ্ধে জোরেশোরে প্রতিবাদ করতে হবে। সম্প্রচার কমিশনের মাধ্যমে নীতিমালা করার দাবি জানান তিনি। আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে হুমায়ূন কবীর হিরু, রেহানা সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার মুসবাহ আলীম, এম এ সিদ্দিকী প্রমুখ অংশ নেন।

পাকিস্তানে অগণতান্ত্রিক সরকার মানবে না যুক্তরাষ্ট্র -রেড জোনে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান

পাকিস্তানের রেড জোনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ রেড জোনে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। সব প্রদেশে ফের তিনি অসহযোগের ডাক দিয়েছেন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিববর্তে সংবিধানবহির্ভূত কোন পরিবর্তনকে তারা সমর্থন করেন না। তারা পাকিস্তান পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ জানিয়েছেন, আমরা পাকিস্তানের সংবিধানকে সমর্থন করি। সমর্থন করি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে। নওয়াজ শরীফ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। সে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আছে। এ অবস্থায় আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানাই। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবো। যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্যে ইমরান খান বলেছেন, তারা পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পদত্যাগ দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ও তাহিরুল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) আন্দোলন করছে। তারা দেশটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা রেড জোনে অবস্থান করছেন প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে। নওয়াজ শরীফকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়েছে এমন অভিযোগে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম। এ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহন করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটিশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে চান। তবে একটি কারচুপির নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মেনে নেয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন হতো এবং একজন কংগ্রেসম্যান বলতেন, বেশির ভাগ ভোট যাচাই করা যাচ্ছে না, তাতে কি যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ণাঙ্গ তদন্ত হতো না? এ সময় তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড ওলসকে বলেন, আপনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমার বার্তা পৌঁছে দিন। কেন আমাদের জন্য এক আইন এবং আপনাদের জন্য আরেক আইন? কেন আমাদের গণতন্ত্র ভিন্ন? নওয়াজ শরীফ এখন সেনাবাহিনীর আড়ালে লুকিয়েছেন। আর যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির নির্বাচনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ওদিকে পিটিআই ও পিএটির দাবি অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ। গতকাল জাতীয় পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ খান আচাকজাই একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে সবার উপরে সংবিধান ও আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেয়ার দাবি জানানো হয়। এর পর আজ পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। গতকালের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার আয়াজ সাদিক। এতে মোহাম্মদ খান আচাকজাই বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট রাজনীতিবিদ অগণতান্ত্রিক, অসংযত ভাষা ব্যবহার করছেন। তিনি এর নিন্দা জানান। ওদিকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পিটিআই ও পিএটি নেতাদের মার্জিত ভাষা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পিটিআই প্রধান ইমরান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা বিষয়ক মামলার রায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিচারপতি আনওয়ার জহির জামালি ওই পরামর্শ দেন। পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে পিটিআই ও পিএটির নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন তিনি তাতে আপত্তি করেন। এর আগে আদালত ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির বিরুদ্ধে সমন পাঠিয়েছিল। তাদেরকে গতকাল আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাদের একজনও উপস্থিত হন নি। গতকাল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান সরকারকে সংবিধান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে ইমরান খান ক্রমশ তেজি হয়ে উঠছেন। তিনি গতকালও দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সব প্রদেশে অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইসলামাবাদের নতুন আইজি ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ আমি বেঁচে থাকবো রেড জোনেই থাকবো। প্রতিবাদ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরা আইন অমান্য করছি না। যেসব কন্টেইনার বসানো হয়েছে সেগুলো সরিয়ে দিতে আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ করেছি, যাতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়। এর আগে তিনি সব প্রদেশের নেতাকর্মীকে তিনি ইসলামাবাদে গিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আপনাকে ছেড়ে দেবো না নওয়াজ। আপনি যে সম্পদ লুট করেছেন তা আমরা উদ্ধার করবো। স্বরাষ্ট্র সচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ভাববেন না যে আপনি ছাড় পাবেন। সেনাবাহিনী পিটিআই ও পিএটি উভয় পক্ষকেই সরকারের সঙ্গে সঙ্কট উত্তরণের পন্থা বের করতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষই সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আলোচনা হচ্ছে, পাকিস্তানে নওয়াজ শরীফ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ওই নির্বাচনকে বিদেশী পর্যটকরা সুষ্ঠু ও অবাধ বলে আখ্যায়িত করেছিল। সরকারের বিরুদ্ধে বড় কোন দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। তাহলে কেন? কোন শক্তিতে ইমরান খান এমন আন্দোলন, বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন? এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। কেউ কেউ বলছেন, ইমরান খানকে পর্দার আড়াল থেকে সমর্থন দিচ্ছে সেনাবাহিনীর একটি অংশ। তবে তা গুজবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে সুনিশ্চিত কোন তথ্য মেলেনি।

স্ত্রীর নগ্ন ছবি প্রকাশের অভিযোগে ইমন কারাগারে

স্ত্রীর নগ্ন ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করার হুমকি দিয়েছেন সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। শুধু ফেসবুকে আপলোড বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিই দেননি, পাঠিয়েছেন দুই বন্ধুর কাছেও। টাকা চেয়েছিলেন ৫ কোটি। তা না হলে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে তা আপলোড করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ইমনের স্ত্রী জিনাত কবির তিথি তার দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করেছেন, ইমন কৌশলে তার নগ্ন ছবি তুলেছিল। সেই ছবি সে তার দুই বন্ধু তৌফিকুল আলম চৌধুরী ও দেবাশীষ বিশ্বাসকে ই-মেইল করে পাঠিয়েছেন। জানতে চাইলে চলচ্চিত্র পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইমন আমাকে তার বান্ধবী কাম স্ত্রী জিনাতের কিছু নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম এগুলো আমার কাছে পাঠাচ্ছো কেন? আমি এগুলো দিয়ে কি করবো? দেবাশীষ বলেন, পরে আমি আমার ফেসবুক থেকে ইমনকে ব্লক করে দিই। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ইমন বা তার স্ত্রী জিনাতের কারও সঙ্গেই কোন শত্রুতা নেই। তবু আমাকে কেন জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে আমি বুঝতে পারছি না। অপরদিকে গ্রেপ্তারের পর রমনা থানায় ইমন সাংবাদিকদের বলেন, আমার কি ওই বয়স আছে যে, আমি নগ্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করবো? এটা ফালতু কথা। পুলিশ আমার বাসায় গিয়ে বলে থানায় যেতে হবে। আমি একটি টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেই চলে আসি। এ সময় তিনি কথিত স্ত্রী তিথির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তারের পর গতকাল শওকত আলী ইমনকে আদালতে সোপর্দ করে রমনা থানা পুলিশ। ইমনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ইমনের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে ইমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। গত সোমবার ইমনের স্ত্রী জিনাত কবির রাজধানীর রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার গভীর রাতে ইমনকে গ্রেপ্তার করে রমনা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই এ কে আজাদ জানান, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে বাদি যাদের কাছে ই-মেইল পাঠানোর কথা বলেছেন তাদেরও থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম স্ত্রী বিজরী বরকতউল্লাহর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর জিনাত কবির ওরফে তিথিকে জড়িয়ে স্ক্যান্ডাল ছড়ান শওকত আলী ইমন। এর আগে ২০১২ সালের ৬ই ডিসেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে জিনাত কবিরকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও চলছে। বছর দুয়েক আগে জিনাত কবির অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে ইমন তাকে ইস্কাটনে নিজের ফ্ল্যাটে রেখে তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে আসছেন। কিন্ত বিভিন্ন বাহানা করে শেষ পর্যন্ত তাকে বিয়ে না করায় তিনি আইনের আশ্রয় নেন। পরে ২০১২ সালে ৬ই ডিসেম্বর রমনা থানায় ১০ লাখ টাকার দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ইমন-জিনাত।

সরকারি কর্মকর্তারাও পাচ্ছেন না দুবাইয়ের ভিসা by দীন ইসলাম

জরুরি প্রয়োজনে সরকারি কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তথা দুবাইয়ে যাওয়া প্রয়োজন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হালিম চৌধুরীর (ছদ্মনাম)। কিন্তু চেষ্টা-তদবির করেও ওই দেশে তিন মাস বসবাসের অফিসিয়াল ভিসা যোগাড় করতে পারেননি। গত সোমবার তাকে দেয়া হয়েছে এক মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা। ওই কর্মকর্তাটি জানালেন,  ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে দুবাইস্থ বাংলাদেশ মিশনে কাজ করা যাবে না। তিন মাসের সরকারি আদেশ নিয়ে গেলেও এক মাস পর আবার দেশে ফিরে আসতে হবে। এরপর আবার নতুন করে ভিসা নিয়ে যেতে হবে। যে ভিসা দেয়া হয়েছে তাতেও ভুলের ছড়াছড়ি। তারা কি এটা সচেতনভাবে নাকি অবচেতনভাবে করেছে বলা যাবে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুবাইতে যাওয়ার এ ঝক্কি-ঝামেলা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দুই মাস ধরে শুরু হয়েছে। এত দিন সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করা হলেও সময় যেন কিছুটা পাল্টে গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদেরও এখন কোন ধরনের ভিসা দেয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য আলাদা দু’টি টিম দুবাইয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এসব টিমের সদস্যদের নামে ইতিমধ্যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে। কিন্তু ভিসা নিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন। এ কারণে বারবার দুবাই যাত্রার সময় পরিবর্তন করছেন তারা। ওই টিমের এক সদস্য জানালেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা দেয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবো। এখন ভিসা না পেলে কিভাবে সেবা দিতে যাবো বলুন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তাদের ভিসার নবায়ন না হওয়ায় তারা নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন। অনেকে ছুটিতে বাড়িতে ফেরার সুযোগ পেলেও নতুন করে ভিসা পাবেন না- এমন চিন্তায় পরিবার-পরিজনের কাছে ফেরার চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কর্মকর্তা এমিরেটস এয়ারলাইন্সযোগে দেশে আসার সময় দুবাইতে ট্রানজিটে থাকেন। অনেকেই চান একদিন বা কয়েক দিনের ভিসা নিয়ে দুবাইতে কাটিয়ে দেশে ফিরতে। ওই সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও আগে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরলে এ সুযোগ নিতে কোন সমস্যা পোহাতে হতো না। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ছাড়া অন্য কোন দেশের নাগরিকদের এটা কোন সমস্যা নয়। ওদিকে অনেক আগে থেকেই এদেশের সাধারণ নাগরিকদের দুবাই তথা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভিসা দেয়া বন্ধ রয়েছে। কর্মসংস্থান বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা, ট্যুরিস্ট বা ভ্রমণ ভিসা এবং সব ধরনের বাণিজ্যিক ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের দ্বিতীয় বৃহৎ উৎস দেশটি। ভিসা বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের বাণিজ্যিক সম্পৃক্তিকে নানাভাবে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে দুবাই। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন দুবাই হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণকারী বাংলাদেশী নাগরিকরা। এছাড়া, কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ থাকা এ দেশের দরজা এখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ। এ পরিস্থিতির অবসানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে  কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর ভেন্যু নির্বাচনের ভোট দেয়াকে ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে দুবাইয়ের মন কষাকষি শুরু হয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজক হওয়ার প্রতিযোগিতায় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, তুরস্কের ইজমির, ব্রাজিলের সাও পাওলো, রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ ও থাইল্যান্ডের একটি শহর। এর মধ্যে প্রার্থিতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় থাইল্যান্ড প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়ে। বাংলাদেশের ভোটের ব্যাপারে সবচেয়ে আশাবাদী ছিল দুবাই। এমন অবস্থার মধ্যেই গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভোট পাবে রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ। এমন সিদ্ধান্তের পরই সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশী সাধারণ পর্যটক ও সাধারণ ট্রানজিট ভিসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে যে সব বাংলাদেশী নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন এয়ারলাইনসের (এমিরেটস, ফ্লাই দুবাই বা ইতিহাদ) যাত্রী হিসেবে বৃটেন, আমেরিকা বা কানাডা ভ্রমণ করতেন, তাদের শর্তসাপেক্ষে ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা দেয়া হতো। এরই মধ্যে এ ভিসাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল প্রয়োজনে দুবাইয়ের ভিসা দেয়া হলেও এটাও এখন বন্ধ হওয়ার পথে। ওদিকে স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে দুবাই ভ্রমণ করতেন। বিরাট এ যাত্রী সংখ্যাকে ঘিরে ঢাকা-দুবাই রুটে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের অনেকগুলো ফ্লাইট চলাচল করতো। এর মধ্যে কেবলমাত্র এমিরেটস এয়ারলাইনস এককভাবে সপ্তাহে ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো। গত তিন মাসে পর্যায়ক্রমে কমিয়ে এখন সপ্তাহে মাত্র ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসটি। এমিরেটস-এর ফ্লাইট সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্লাই দুবাই চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে ৭টি এবং ঢাকা থেকে ৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো। তাদের ফ্লাইট সংখ্যাও ইতিমধ্যেই অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

চা দিতে দেরি করায় স্ত্রীকে খুন!

চা দিতে দেরি করায় স্ত্রীকে খুন করলেন স্বামী! গত বুধবার ভারতের ওড়িশার ঢেঙ্কানল জেলার একটি গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে গুহালিপাল গ্রামের ৫৬ বছরের মহালিয়া নায়েক নামের এক ব্যক্তি স্ত্রী ঝনাকে চা দিতে বলেন। কিন্তু চা তৈরি করে নিয়ে আসতে দেরি করেন ঝনা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মহালিয়া। প্রচন্ড চিৎকার-চেঁচামেচি করেন মহালিয়া। এতে রেগে গিয়ে রান্নাবান্না বন্ধ করে দেন স্ত্রী। এতে দাম্পত্য-কলহ আরও চরমে ওঠে। পরে সেদিনের মতো ঝগড়া থেমে গেলেও বুধবার রাতে একই প্রসঙ্গ নিয়ে আবার বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তারা। এই সময়ই একটা ছুরি নিয়ে স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মহালিয়া। ছুড়িকাঘাতে গুরুতর আহত ঝনা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ পরের দিন মহালিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

দুদকের জালে তিন নেতা

ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁরা হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, পটুয়াখালী-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান ওরফে বদি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা থানায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এঁদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় পৃথক তিনটি মামলা করেন দুদকের তিন উপপরিচালক। এর আগে দুপুরে দুদকের নিয়মিত বৈঠকে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, এঁরা তিনজনই দুদকের কাছে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। মান্নান খান চার লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে তিনি ৭৫ লাখ চার হাজার ২৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
মাহবুবুর রহমান এক কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং পাঁচ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
আর আবদুর রহমান বদি সম্পদ বিবরণীতে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী দুই সাংসদ ও সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের এই মামলা দায়েরের ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। গতকাল রাতে প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের বিরুদ্ধে মামলা করে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দুদক। আমরা এ রকমই চাই। তবে পরিচয়, অবস্থাননির্বিশেষে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তব অগ্রগতি হবে এবং এর ফলে দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।’
বিগত মহাজোট সরকারের সাত মন্ত্রী-সাংসদের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ উঠলে দুদক গত ২২ জানুয়ারি তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনী হলফনামাকে ভিত্তি করে এই অনুসন্ধান শুরু হয়। এরপর প্রায় আট মাস অনুসন্ধান শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো।
এখনো চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। তাঁরা হলেন বিগত মহাজোট সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, ঢাকার আওয়ামী লীগের সাংসদ আসলামুল হক ও রাজশাহীর সাংসদ এনামুল হক এবং সাতক্ষীরার জাতীয় পার্টির সাংসদ এম এ জব্বার। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হন।
তবে এর আগে টাকার বস্তা কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও তাঁর ছেলে সৌমেনকে নির্দোষ ঘোষণা, পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলায় সাবেক দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে ছাড় দেওয়া, শেয়ার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করা, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বিতর্কিত হল-মার্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজন উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতা এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে দুদকের সমালোচনা রয়েছে।
আবার দু-একটি ঘটনায় সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত সাজা হয়নি কারও। এবার তিন নেতার মামলার সর্বশেষ অবস্থা কী দাঁড়াবে বা সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা আছে দুদকের মধ্যেই।
দুদকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির কোনো মন্ত্রী-নেতা হলে চিন্তা ছিল না। সরকারদলীয় বলে ভেতরে ভেতরে অনেক অস্থিরতা কাজ করছে।
দুদক সূত্র জানায়, এই তিন মামলার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে দুজন কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। সাংসদ বদির বিরুদ্ধে শুরুতেই জোরেশোরে অনুসন্ধান করেন উপপরিচালক আহসান আলী। প্রথমে তাঁকে বদলি, পরে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। আর সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে।
মান্নান খানের বিরুদ্ধে মামলা: দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন এ মামলার এজাহারে জানিয়েছেন, সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে চার লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৭৫ লাখ চার হাজার ২৬২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
মাহবুবুর রহমান: দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হুদা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত পাঁচ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং দুদকের কাছে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে আরও এক কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।
হলফনামায় স্ত্রী প্রীতি হায়দারের কাছ থেকে ২০০৮-০৯ করবর্ষে ৪০ লাখ এবং ২০১০-১১ করবর্ষে এক কোটি টাকা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০০৯-১০ করবর্ষে প্রীতি হায়দার প্রথম কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ করেন এবং ২০১০-১১ করবর্ষে প্রথম রিটার্ন দাখিল করেন। অন্যদিকে ওই করবর্ষে প্রীতি হায়দার ব্যবসা করে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন এবং সম্পদ ও দায়-বিষয়ক আইটি-১০বি ফর্মে প্রীতি তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা পেয়ে এক কোটি টাকা স্বামী মাহবুবুর রহমানকে দিয়েছেন বলে লিখেছেন। কিন্তু ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার ও স্বামীকে টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
একইভাবে হলফনামায় জনৈক বিপুল হাওলাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন মাহবুবুর রহমান। কিন্তু বিপুল হাওলাদার এ অর্থ দেননি বলে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়ে দিয়েছেন।
হঠাৎ মাছ চাষ করে ২০১১-১২ করবর্ষে দুই কোটি টাকা আয় ও ২০১৩-১৪ করবর্ষে দেড় কোটি টাকা এবং মেয়ের বিয়ের উপহার হিসেবে নগদ ৮০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানালেও দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা মাছ চাষ থেকে আয়ের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাননি। আর মেয়ের বিয়ের উপহার হিসেবে নগদ অর্থ প্রাপ্তির সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও মেলেনি।
তাঁর আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দুদক দেখেছে, মোট পাঁচ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের কোনো বৈধ উৎস নেই। এই অর্থ তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অর্জন করেছেন।
আবদুর রহমান বদি: কক্সবাজার-৪ আসনের এ সাংসদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখাতে কমদামি সম্পদকে বেশি দাম (এক কোটি ৯৮ লাখ তিন হাজার ৩৭৫ টাকা) দেখানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান।
দুদক নোটিশ দিলে বদি প্রায় ১১ কোটি টাকা সমমানের বিভিন্ন ধরনের সম্পদের তথ্য গোপন করেন। বদি নিজ নামে ও স্ত্রী-সন্তানদের নামে মাত্র পাঁচ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকার তথ্য দুদকের সম্পদ বিবরণীতে দাখিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন করবর্ষের আয়কর নথি থেকে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৩০ জুন ২০১৩ পর্যন্ত বদির মোট আয় ১৬ কোটি ছয় লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা। এ ছাড়া সম্পদ অর্জনের উৎস হিসেবে বিভিন্ন ধরনের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার কথা বললেও বদি দুদকের কর্মকর্তার কাছে এ-সম্পর্কিত কোনো প্রমাণাদি দেখাতে পারেননি।

শাকিরার জনপ্রিয় গান ‘লোকা’ নকল!

শাকিরা
কলম্বিয়ার পপতারকা শাকিরার স্প্যানিশ ভাষায় গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘লোকা’ ডমিনিকা প্রজাতন্ত্রের এক সুরকারের লেখা গানের নকল বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। গানের স্বত্ব নিয়ে গত বুধবার দেওয়া হয় এ রায়। খবর এএফপি ও বিবিসির। ৪০ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক এলভিন হেলারস্টাইন বলেন, আরিয়াস নামে পরিচিত ডমিনিকান গায়ক র্যা মন আরিয়াস ভাসকেজ গানটি লেখেন এবং সুর দেন। গত জুনে ১১ দিন ধরে চলা শুনানিতে আরিয়াস দাবি করেন, তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে গানটি লিখেছিলেন। আরিয়াস আদালতকক্ষে গানটি গেয়েও শোনান। তাঁর ওই গানের একটি ক্যাসেট আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আরিয়াসের সেই গানটি ডমিনিকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পরে ‘এল কাটা’ নামে পরিচিত এডওয়ার্ড এডউইন বেলো পোউ নামের আরেক গায়ক গানটি গান ২০০৭ সালে। এডওয়ার্ড বেলো তখন গানটি তাঁর নিজের রচিত বলে দাবি করেছিলেন। ২০১০ সালে শাকিরার অ্যালবাম সালে এল সোল বের হয়। এই অ্যালবামেই ‘লোকা’ গানটি রয়েছে। এটি ৫০ লাখ কপি বিক্রি হয়। গানটি বিলবোর্ডে শীর্ষ লাতিন গানের তালিকায় স্থান পায়। ইংরেজিতে অ্যালবামটি বের হয় দ্য সান কামস আউট নামে। বিচারক তাঁর রায়ে লিখেছেন, শাকিরার ‘লোকা’ গানটি যে এডওয়ার্ড বেলোর গানের অনুকরণ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরও লিখেছেন, শাকিরার গান যেই-ই লিখুক, বেলো যেহেতু আরিয়াসের গানের নকল করেছিলেন তাই বলা যায়, শাকিরার গানও পরোক্ষভাবে আরিয়াসের গানেরই নকল।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাঠে থাকব : ইমরান

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত রেড-জোনে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রধান ইমরান খান। বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ ইমরান দেশব্যাপী আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়ে দেশের সব প্রদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিজ দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ইসলামাবাদের নবনিযুক্ত আইজিকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তারা যেন না ভাবেন যে পার পেয়ে যাবেন।’ তিনি বলেন, যদি তার সমর্থকদের কিছু করা হয় তবে তিনি নিজেই নতুন আইজিকে জেলে পাঠাবেন। ক্ষুব্ধ ইমরান বলেন, যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ রেড জোনেই থাকব। ইমরান বলেন, প্রতিবাদ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর আমরা কোনো আইন ভাঙছি না। সুপ্রিমকোর্টের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আবেদন জানাব কোর্ট যেন সব প্রতিবন্ধকতা তুলে নেন।
পার্লামেন্টের পেছন দরজা দিয়ে পালালেন এমপিরা পাকিস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের অবরোধের মুখে পার্লামেন্টের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন এমপিরা। নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে চলতে থাকা কয়েকদিনের আন্দোলনের পর বুধবার পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করে তাহির-উল কাদরি ও ইমরান খানের সমর্থকরা। তারা পার্লামেন্ট থেকে কাউকে বের হতে কিংবা কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয়। কাদরির দল পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) ও ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্মীরা ছয়দিন ধরে ইসলামাবাদের রাজপথে অবস্থান নিয়ে আছে। মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভকারীরা ক্রেন ও বোল্ট কাটারের সাহায্যে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে। বুধবার বিক্ষোভকারীদের প্রধানমন্ত্রী ও এমপিদের অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন কাদরি। সেদিন তারা পার্লামেন্ট ভবনে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ‘যারা ভেতরে আছে তাদের বের হতে দেবেন না, আর বাইরের কাউকে সেখানে ঢুকতে দেবেন না’, বলেন কাদরি। পার্লামেন্ট পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কোনো বাধা দেয়নি। কাদরিও তার সমর্থকদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারদলীয় এমপি মারভি মেমন বলেন, পার্লামেন্ট উপস্থিত সব এমপিই বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। পার্লামেন্টের পেছনে থাকা বিকল্প পথে তারা কাজ শেষে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানান মরাভি। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের অধিবেশন আবার বসবে জানিয়েছে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে রয়েছে গুটিকয়েক বিক্ষোভকারী। তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

আলোচনায় বসে সমাধানে আসুন

পাকিস্তানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। তারা দেশের সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া রেড জোনের সরকারি ভবনগুলোকে রক্ষা করারও অঙ্গীকার করেছে তারা। সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন দেশটির পার্লামেন্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক (পিএটি) নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় প্রবেশ করে। ওই এলাকাটিতে পাকিস্তানের প্রায় সব সরকারি ভবন ও বিদেশী দূতাবাসগুলো অবস্থিত। বুধবার জিও নিউজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস রিলেসন্সের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া বলেছেন, ‘রেড জোনের সরকারি ভবনগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতীক এবং সেনাবাহিনী সেগুলোকে রক্ষা করবে।’ এছাড়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক রেষারেষি ভুলে আলোচনায় বসেন। একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসুন।
ক্ষমতা ছাড়তেই হবে : ইমরান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে বলে হুশিয়ারি দিলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে সরকার পতনের দাবিতে আজাদি আন্দোলনের সমাবেশে বুধবার তিনি এ কথা বলেন।
ইমরানের পিটিআই’র সঙ্গে যৌথ আন্দোলন করছেন আধ্যাত্মিক নেতা তাহির-উল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক পার্টি (পিএটি)। দল দুটি মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ আলাদা সমাবেশ করছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে রেড জোনে প্রবেশ করতে ইমরানকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
চাপের মুখে ক্ষমতা ছাড়ব না : নওয়াজ
চাপের মুখে পদত্যাগ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নওয়াজ শরিফ । প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নওয়াজ। এ সময় তিনি বলেন, চাপের মুখে ক্ষমতা ছাড়ব না, আলোচনার জন্য দরজা খোলা রাখা হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াব না। বৈঠকে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমরানের পিটিআই’র সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলন করছেন ধর্মীয় তাহির-উল কাদরির পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক পার্টি (পিএটি)। দল দুটি মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ আলাদা সমাবেশ করছে।
ইমরান-কাদরিকে সুপ্রিমকোর্টে তলব
পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট ক্রিকেটার কাম রাজনীতিক ইমরান খান ও ধর্মীয় নেতা তাহির-উল কাদরিকে তলব করেছে। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতে সম্ভাব্য অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নেয়ায় বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি নাসির-উল-মুলকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এই সমন জারি করে। লাহোর হাইকোর্টের মুলতান বারের একজন আইনজীবী তাদের বিরুদ্ধে রিটটি দায়ের করেন।
শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্ট পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান ও পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক দলের প্রধান তাহির-উল কাদরির বিরুদ্ধে সমন জারি করে।
অভ্যুত্থান হবে না : সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করবে কিনা তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে। নওয়াজ শরিফকে সেনাবাহিনী আশ্বস্ত করেছে যে তারা কোনো অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছে না। তবে এর বিনিময়ে সরকারকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হবে।
গত সপ্তাহে নওয়াজ শরিফ সেনাপ্রধানের কাছে দুটি প্রতিনিধি দল পাঠান। তাদের সেনাপ্রধান তার বাহিনীর ওই মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
পাকিস্তান সরকারের আশংকা সেনাবাহিনীর মদদেই ইমরান খান ও তাহির-উল কাদরি মাত্র ১৫ মাস আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দিয়েছে।

রদ্রিগেজের স্বপ্নের অভিষেক ম্লান

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মূল পার্থক্যটা কোথায়? মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বির আগে যুতসই একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে, ‘৯৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে রিয়াল কেনে দু’জন খেলোয়াড় আর আমরা কিনি নয়জন। এটাই পার্থক্য।’ কিন্তু প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও মনের জোর অনেক সময় ধনী-গরিবের মেরু ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে পারে। গত মৌসুমে স্প্যানিশ লীগ জিতে ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে উঠে সেটাই করে দেখিয়েছিল অ্যাটলেটিকো। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের চার প্রধান কুশীলব কস্তা, ভিয়া, ফিলিপ লুইস ও থিবো কোর্তুয়া দল ছেড়ে গেছেন। কিন্তু ভাঙা হাট হলেও অ্যাটলেটিকোর লড়াকু মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন মৌসুমের শুরুতেই তার প্রমাণ মিলল। মঙ্গলবার স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে রিয়ালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো। বার্নাব্যুতে জেমস রদ্রিগেজের অভিষেকটা স্বপ্নের মতোই হতে যাচ্ছিল। ঘরের মাঠে বদলি হিসেবে নেমে ৮০ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এই কলম্বিয়ান সেনসেশন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার মিনিট দুয়েক আগে রদ্রিগেজের হাসি কেড়ে নেন অ্যাটলেটিকোর হিরো রাউল গার্সিয়া। তার দারুণ এক গোলেই জয়বঞ্চিত হতে হয় রিয়ালকে। মহামূল্যবান এই অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে শুক্রবারের দ্বিতীয় লেগে মানসিকভাবে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে ডিয়েগো সিমিওনের দল। গতবার দুই লেগেই বার্সেলোনাকে রুখে দিয়েছিল অ্যাটলেটিকো। কিন্তু ঝুলিতে অ্যাওয়ে গোল না থাকায় কপাল পুড়েছিল তাদের। আগামীকাল ভিসেন্তে ক্যালডেরনে ফিরতি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হলে এবার কপাল চাপড়াতে হবে রিয়ালকে। তার ওপর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর খেলা নিয়ে রয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। পরশু পায়ের পেশিতে টান লাগায় দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি রিয়ালের প্রাণভোমরা। গত সপ্তাহে রোনাল্ডোর জোড়া গোলেই সেভিয়াকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছে রিয়াল। পরশু প্রথম একাদশে থাকলেও সিআর সেভেন ছিলেন নিষ্প্রভ।
বরং বাঁ-পায়ের চোটের কারণে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি। রোনাল্ডোর পরিবর্তেই রিয়ালের জার্সি গায়ে ঘরের মাঠে অভিষেক হয় বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কলম্বিয়ান প্লেমেকার রদ্রিগেজের। ম্যাচটি ছিল আবার গত মৌসুমের চ্যাম্পিন্স লীগ ফাইনালের পুনর্মঞ্চায়ন। রিয়াল মোটেও গোছাল ফুটবল খেলতে পারেনি। যথেষ্ট দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে পুরো ম্যাচেই তুলনামূলক শক্তিধর প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিল প্রতিশোধের মন্ত্রে উজ্জীবিত অ্যাটলেটিকো। বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে মারিও মান্দজুকিচ ও রাউল গার্সিয়ার মাধ্যমে গোলের নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল অ্যাটলেটিকোই। রিয়ালকে বাঁচিয়ে দেন শেষ প্রহরী ইকার ক্যাসিয়াস। স্বাগতিকদের পক্ষে ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন গ্যারেথ বেল ও টনি ক্রুস। ৮০ মিনিটে রদ্রিগেজের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। করিম বেনজেমার একটি শট প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে ফিরতি শট নেন রদ্রিগেজ। তার শট অ্যাটলেটিকোর এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বোকা বানায় গোলকিপারকে। ৮৮ মিনিটে কোকের কর্নার থেকে দারুণ এক ফ্লিকে রিয়াল সমর্থকদের হতাশ করেন গার্সিয়া (১-১)। ম্যাচ শেষে রোনাল্ডোর চোট নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি আন্সেলোত্তি। পরীক্ষার পর বোঝা যাবে চোট কতটা গুরুতর। তবে অ্যাটলেটিকোর মাঠে সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী রিয়াল বস, ‘জানি কাজটা কঠিন হয়ে গেল। ক্যালডেরনে এখন গোল করতেই হবে আমাদের। কিন্তু আমি মনে করি, এই খেলাটা খেলতে পারলে আমরাই সুপার কাপ জিতব।’ এএফপি।

মোদি সরকার ‘মিথ্যা স্বপ্ন’ দেখাচ্ছে

সোনিয়া গান্ধী
ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জনগণকে ‘মিথ্যা স্বপ্ন’ দেখাচ্ছে। খবর এনডিটিভির। সোনিয়া গান্ধী গতকাল বুধবার তাঁর স্বামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধীর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, বলেন, 
আজকে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা তাদের অভ্যাসমতো এমন সব কর্মসূচিই ঘোষণা করছে, যেগুলো আমরা শুরু করেছিলাম।’ অবস্থান পুনরুদ্ধারে কংগ্রেসকে ‘দীর্ঘ সংগ্রাম’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সোনিয়া। রাহুল গান্ধীর আহ্বান: এদিকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ভারতের প্রতিটি নারীই কোনো না কোনোভাবে নিপীড়নের শিকার হন।

‘দায় নেই’

মনমোহন সিং
ভারতে নব্বইয়ের দশকের আলোচিত শিখ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মুক্ত, অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিং নন। গত মঙ্গলবার দেওয়া এক রুলিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস বোয়াসবার্গ বলেন, সাবেক কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে দায়িত্বে থাকাকালে কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য মামলায় জড়ানো মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ।
তবে সরকারের অন্য পদে থাকার সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য সেটা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইন্দ্রজিত সিং এক মামলায় দাবি করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী থাকাকালে মনমোহন পাঞ্জাবে কয়েকটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। রয়টার্স