Sunday, April 6, 2025

ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ: কাজ ফেলে এখন বাজারমুখী মার্কিন নাগরিকেরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে দেশটির জনগণ। শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এ দিন দেশজুড়ে ১,২০০টির বেশি বিক্ষোভ হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্কের সরকারি বিভাগ ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সে দেশের জনগণ। ধারণা করা হচ্ছে ইলন মাস্কের সরকার সংস্কার ও প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হতে যাচ্ছে এটি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। আয়োজকরা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ন্যাশনাল মলের সামনে ২০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিক্ষোভে দেড়শতাধিক অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ কানাডা এবং মেক্সিকোতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন আয়োজকরা। নিউ জার্সির প্রিন্সটনের অবসরপ্রাপ্ত বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী টেরি ক্লিন এই বিক্ষোভে অংশ নিতে ওয়াশিংটন মনুমেন্টে উপস্থিত হন। অভিবাসন থেকে শুরু করে ডিওজিই কর্মী ছাটাই, চলতি সপ্তাহে শুল্ক আরোপ, শিক্ষা সবকিছুতে ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি। বলেছেন, আমি বলতে চাইছি, আমাদের পুরো দেশ অস্থিরতার মধ্যে আছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কোনো কোনো বিক্ষোভকারীর হাতে ইউক্রেনের পতাকা দেখা যায়। আবার কেউ ফিলিস্তিনের সমর্থনে কেফিয়াহ স্কার্ফ পরেছিল। তাদের হাতে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা পোস্টার দেখা গিয়েছে।

অন্যদিকে মঞ্চে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটরা। এছাড়া ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি এবং এর ব্যাপক শুল্ক ব্যবহারও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউ জার্সির ওয়েস্ট কেপ মে’র অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার ৭৩ বছর বয়সী ওয়েন হফম্যান। ওহাইওর ২০ বছর বয়সী ইন্টার্ন কাইল একাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তিনি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ টুপি পরে ওয়াশিংটন ডিসির সমাবেশের এক প্রান্তে হাঁটছিলেন। এ সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হু হু করে বাড়তে পারে দাম! কাজ ফেলে এখন বাজারমুখী মার্কিন নাগরিকেরা

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি  পণ্যের উপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছেন। মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে আমেরিকানরা এখন কেবল একটা কাজই করছেন  -যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজার থেকে  জিনিস কিনে  মজুত করে রাখা। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা পোশাক, জুতা, আসবাবপত্র এবং কফির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এবং তারা কোনও কিছুকেই সুযোগের উপর ছেড়ে দিচ্ছেন না। যারা কিছুটা ভাবনাচিন্তা করে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ,তারা এখন শুল্ক আরোপের সময় উচ্চ মূল্য এড়াতে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সংগৃহীত গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । শুল্ক আরোপের আগে আমেরিকানরা যেসব জিনিসপত্র মজুদ করছে তার তালিকা:

ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন
ট্রাম্প তাইওয়ান থেকে আমদানিতে ৩২ শতাংশ এবং চীন থেকে আমদানিতে ৫২ শতাংশ কর আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই, আমেরিকানরা ট্যাবলেট, স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ কিনতে ছুটে যাচ্ছেন বাজারে । এর সরঞ্জামগুলো বেশিরভাগই বিদেশ থেকে, বিশেষ করে চীন থেকে আসে।

পোশাক এবং জুতা

গ্যাপের মতো প্রধান পোশাক ব্র্যান্ডগুলো  ভিয়েতনাম থেকে প্রায় ২১ শতাংশ এবং ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও  বাংলাদেশ থেকে ৩৭ শতাংশ পোশাক সংগ্রহ করে। আরেকটি জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড, এইচএন্ডএম  চীন এবং বাংলাদেশে তাদের বেশিরভাগ পোশাক তৈরি করায় ।  তাই, শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে আমেরিকানরা জিন্স, স্পোর্টসওয়্যার এবং জুতা কিনছে।

অটোমোবাইল
যেসব আমেরিকানরা নতুন গাড়ি বা আপডেটেড মডেল, যার মধ্যে ইভিও রয়েছে, কিনতে দেরি করছিলেন, তারা এখন আমদানি করা গাড়ি কিনতে শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন। দাম বাড়ার আগেই গ্রাহকরা অফারগুলো দেখে তা কিনে রাখার চেষ্টা করছেন।

বিদেশি খাবার
বিদেশ থেকে আমদানি করা কফি, খাবার, মশলা এবং অন্যান্য মুদিখানার জিনিসপত্রও মানুষের তালিকায় রয়েছে। শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর, এই জিনিসপত্রগুলো  ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। তাই লোকেরা যা কিছু সম্ভব তা মজুদ করছে।

জিমের সরঞ্জাম
ট্রেডমিল, স্টেশনারি বাইক, ম্যাসাজ চেয়ার এবং অন্যান্য জিম সরঞ্জাম হয় আমদানি করা হয় অথবা বিভিন্ন দেশ থেকে সরঞ্জাম আনিয়ে  বানানো হয়। যেহেতু এগুলো ব্যয়বহুল হতে পারে, তাই মানুষ মনে করছে এখনই  এগুলো কিনে রাখার  সঠিক সময়।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি
দাম বাড়ার আগেই আমেরিকানরা রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ এবং ডিশওয়াশারের মতো গৃহস্থালীর জিনিস কিনতে দোকানে লাইন দিচ্ছে। বেশ কিছু গৃহস্থালীর যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ  চীন বা তাইওয়ান থেকে আমদানি করা হয় এবং শীঘ্রই তাদের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যান্য আইটেম
অন্যান্য জিনিসপত্রের মধ্যে, আমেরিকানরা বিল্ডিং এবং সংস্কারের উপকরণ, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি এমনকি শিশুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও  কিনে রাখছে । যেহেতু ডায়াপার, খেলনা, শিশুদের পোশাক এবং স্ট্রলার সাধারণত আমদানি করা হয়, তাই শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরে এগুলো  ব্যয়বহুল হবার  সম্ভাবনা রয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে,প্রেসিডেন্ট  ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন শিল্পের জন্য "মুক্তি দিবস" হিসেবে উল্লেখ করে  যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো মার্কিন মিত্র সহ প্রায় সকল দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন। শনিবার, মেক্সিকো এবং কানাডা ছাড়া বেশিরভাগ মার্কিন আমদানির উপর ১০ শতাংশ "বেসলাইন" শুল্ক কার্যকর হয়েছে। ৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬০টি মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারের উপর উচ্চতর শুল্ক আরোপ করা হবে। এএফপি জানিয়েছে, আমেরিকান আমদানির উপর তারা কী চার্জ করে তার উপর ভিত্তি করে প্রতিটি জিনিসের  জন্য উপযুক্ত হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

মহাকাশে বাড়ছে আবর্জনা, অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদ ঘটবে না তো?

আমরা যখন মহাকাশ অন্বেষণ এবং লক্ষ লক্ষ রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছি, তখন মহাকাশের আবর্জনাই  আমাদের নিজস্ব গ্রহের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। অকেজো কৃত্রিম উপগ্রহ, রকেটের পরিত্যক্ত অংশ, মিশন-সংক্রান্ত আবর্জনা (লেন্স ক্যাপ বা সেপারেশন বোল্ট জাতীয় যন্ত্রপাতি ইত্যাদিকে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের আবর্জনা বলা হয়। এই ধ্বংসাবশেষ কার্যক্ষম মহাকাশযান, উপগ্রহ এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর মহাকাশ যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে কক্ষপথে কার্যক্ষম উপগ্রহের চেয়ে এখন স্পেস ডেব্রিসের পরিমাণ বেশি।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি প্রতি বছর একটি করে মহাকাশ-পরিবেশ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। যা থেকে ছবিটা পরিষ্কার হচ্ছে। ২০২৫ সালের রিপোর্ট কিন্তু ভয় ধরাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য সাজিয়েই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মহাকাশে অন্তত ৪০ হাজার বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ১ সেমির বেশি আকারের বস্তুরই পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে বিপদ হতে পারে। ১২ লক্ষের বেশি মহাকাশ-বর্জ্য জমেছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিতকারী টুল MASTER দেখাচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচশো কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে ঘুরে বেড়ানো এই বর্জ্যগুলি সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গেই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। ফলে যখন তখন বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেবল ২০২৪ সালেই অন্তত হাজার তিনেক বর্জ্যকে ঘুরপাক খেতে দেখা গিয়েছে মহাকাশে। কেবল পৃথিবীতে আছড়ে পড়াই নয়, মহাকাশযানের সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা মহাকাশ অভিযানের নিরাপত্তা হ্রাস করছে।

সামগ্রিকভাবে, ২০২১ সালের শেষের দিকে একটি উপগ্রহ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলে এই আবর্জনার সংখ্যা আরো বেড়েছে। সংঘর্ষ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ থেকে শুরু করে, মহাকাশ আবর্জনার থেকে বেশ কিছু ঝুঁকি  রয়েছে। কার্যকরী মহাকাশযানের সাথে তাদের সংঘর্ষ হতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা।

সূত্র : wionews

mzamin

'ভারতে স্বাধীনতার ৮০ বছর হতে চললো, এখনও পর্যাপ্ত সরকারি চাকরির সংস্থান করা যায়নি'

৮০ বছরের দোরগোরায় ভারতের স্বাধীনতা। কিন্তু, এতদিনেও যোগ্য প্রার্থীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি চাকরির বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারি চাকরির অভাবের কথা তুলে ধরে তার উপর জোর দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের মতে, খুব কম সংখ্যক সুযোগ থাকার ফলে চাকরির যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু প্রার্থী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ বলছে, ‘যোগ্য প্রার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায়। কিন্তু, পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগের অভাবে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।’

আসলে সুপ্রিম কোর্টে বিহারের চৌকিদার পদ সংক্রান্ত বিতর্কের একটি মামলার শুনানি ছিল। বিহারের নিয়ম ছিল সে রাজ্যের চৌকিদার পদটি বংশানুক্রমিকভাবে চালু থাকবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি চৌকিদার পদে চাকরি করছেন, তার অবর্তমানে তারই পরিবারের কেউ চাকরি পাবেন। কিন্তু, সেই প্রথাকে পাটনা হাই কোর্ট বাতিল করে দেয়। পাটনা হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই প্রথার কোনও সাংবিধনিক বৈধতা নেই। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি দায়ের হয়েছিল। হাইকোর্ট কি স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বংশানুক্রমিক চৌকিদান নিয়োগের নিয়মকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে? সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনার জন্য এই প্রশ্ন ওঠে। সেই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ পাটনা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। আদালতের বক্তব্য, স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও আমরা যারা সরকারি চাকরি করতে চাই , তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি চাকরির সংস্থান করা যায়নি।  

সূত্র : livelaw

mzamin

মাইক্রোসফটের হাতে ফিলিস্তিনিদের রক্ত : এক নারীর প্রতিবাদ

মাইক্রোসফটের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে এক আলোচিত মুহূর্ত তৈরি হয়েছে, যখন এক নারী কর্মী গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে সরাসরি মঞ্চে প্রতিবাদ জানান।

ইসরায়েলি সেনাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করার অভিযোগে কোম্পানির ওপর ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মাইক্রোসফটের হাতে ফিলিস্তিনিদের রক্ত লেগে আছে।

শনিবার (৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুস্তফা সুলেমানের বক্তৃতার সময় এ প্রতিবাদ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, সাবেক সিইও স্টিভ বলমার এবং বর্তমান সিইও সত্য নাদেলা। এই তিনজনকে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এক মঞ্চে দেখা যায়।

সেই সময়ে মাইক্রোসফটের নারী কর্মী ইবতিহাল আবুসাদ হঠাৎ মঞ্চের সামনে গিয়ে চিৎকার করে বলেন, মুস্তফা, তোমার লজ্জা নেই? তুমি বলো এআইকে ভালো কাজে ব্যবহার করবে, অথচ মাইক্রোসফট ইসরায়েলি সেনাদের এআই প্রযুক্তি সরবরাহ করছে! ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে। মাইক্রোসফট এই গণহত্যার অংশীদার!

প্রতিবাদ চলাকালে ইবতিহাল বলেন, সুলেমান এবং পুরো মাইক্রোসফটের হাতেই রক্ত লেগে আছে। প্রতিবাদের একপর্যায়ে তিনি মঞ্চের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতীক ‘কেফিয়াহ স্কার্ফ’ ছুড়ে দেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন।

ঘটনার সময় সুলেমান শান্তভাবে উত্তর দেন, আপনার প্রতিবাদ আমি শুনতে পাচ্ছি, ধন্যবাদ।

এই ঘটনার পরপরই আরেক কর্মী ভানিয়া আগারওয়ালও একইভাবে বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি মঞ্চে থাকা গেটস, বলমার ও নাদেলার সামনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানান। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল, ফলে প্রতিবাদের দৃশ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে, গাজায় গণহত্যায় মাইক্রোসফটের সম্পৃক্ততা নিয়ে অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে প্রতিবাদ জানানোয় পাঁচ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গাজায় চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এ বছর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে জানায়, মাইক্রোসফট ও তাদের অংশীদার ওপেনএআই গোপনে ইসরায়েলি বাহিনীকে এআই প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এসব প্রযুক্তির সহায়তায় গাজা ও লেবাননে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে ইসরায়েল।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ।

মাইক্রোসফট কর্মীদের এই সরব অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তি খাতের বড় বড় কোম্পানিগুলোর নৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দিন দিন। ইবতিহাল আবুসাদের সাহসী প্রতিবাদ সেই প্রশ্নগুলোকেই সামনে নিয়ে এসেছে বিশ্বমঞ্চে।

মাইক্রোসফটের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে কর্মীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন কোম্পানির এআই বিভাগের সিইও মুস্তফা সুলেমান। ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোসফটের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে কর্মীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন কোম্পানির এআই বিভাগের সিইও মুস্তফা সুলেমান। ছবি: সংগৃহীত



ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভ: মাইক্রোসফটের হাতে রক্তের দাগ

ইসরাইলকে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে মাইক্রোসফট। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীরা। তাদের এই বিক্ষোভে ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতরে ব্যাহত হয় মাইক্রোসফটের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ।

মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তফা সুলেমান কোম্পানির এআই চ্যাটবট ‘কপিলট’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছিলেন। এ সময় ওই বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বলমার। মাইক্রোসফট কর্মী ইবতিহাল আবুসাদ চিৎকার করে মুস্তফার প্রতি ধিক্কার জানান। ওই সময় তিনি মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান এবং তার চিৎকার শুনে মুস্তফা বক্তৃতা থামিয়ে দেন।

ইবতিহাল বলেন, আপনি দাবি করেন আপনি ভালো উদ্দেশে এআই ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহী। আর এদিকে মাইক্রোসফট ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে এআই প্রযুক্তি বিক্রি করছে। আরো বলেন, দেড় বছরে গাজায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ মারা গেছেন। মাইক্রোসফট গাজায় ইসরাইলের চালানো গণহত্যায় শক্তি সঞ্চয় করছে। প্রত্যুত্তরে সুলেমান বলেন, আপনার প্রতিবাদের জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনাকে শুনছি। আবুসাদ চিৎকার অব্যাহত রাখেন এবং বলেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের হাতে রক্ত লেগে আছে। ওই সময় আবুসাদ মঞ্চে একটি কেফিয়াহ স্কার্ফ ছুড়ে মারেন।

উল্লেখ্য, কেফিয়াহ স্কার্ফ ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিল গেটস, বলমার ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা যখন এক সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন, তখন ভানিয়া আগারওয়াল নামে আরও এক মাইক্রোসফট কর্মী প্রতিবাদ করেন। এ বছরের শুরুতে বার্তাসংস্থা এপি’র তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। বলা হয়, গাজা ও লেবাননে বোমার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে মাইক্রোসফটের এআই মডেল ও ওপেনএআই ব্যবহার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

mzamin

মার্কিন শুল্ক: শঙ্কায় মালিক শ্রমিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণায় বিশ্ব জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আগামী ৯ই এপ্রিলের মধ্যে ট্রেড ব্যালান্স না করলে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য মার্কিন আমদানিকারকদের ৩৭ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। এতদিন এ শুল্কের পরিমাণ ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। নতুন আরোপিত এ শুল্কহার     বাস্তবায়ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামগ্রিক অর্থনীতি। তাই সরকারের শীর্ষ মহল থেকে শুল্ক কমানো ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতিতে শ্রমঘন বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিক-শ্রমিকরা। ঢাকার অদূরে টঙ্গী, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর ও শিল্প এলাকায় মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও শঙ্কা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের ছুটিতে বেশির ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও সরজমিন ঘুরে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সহ অন্য খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো শুল্ক ঘোষণার পরপরই সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, মার্কিন সরকার যে ভাষায় কথা বলছে, আমাদেরও সে ভাষায় উত্তর দিতে হবে। যেমন তারা ট্রেড ব্যালান্সের কথা বলছে। আমেরিকায় তুলার বাজার আছে, ভোজ্য তেল, গম, বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশের বাজারে চাহিদা আছে এমন পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে বাংলাদেশের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে বাণিজ্য সমন্বয় প্রক্রিয়ায় অনেকদূর এগিয়েছে। আমাদেরও বিলম্ব না করে সরকারি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেছেন, মার্কিন সরকার বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ কর আরোপ করেছে। এটা আমাদের কাছে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হয়েছে। এখন তাৎক্ষণিক সমাধান হলো আমাদের সরকার ধীরে ধীরে তাদের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডিউটি কমিয়ে দিতে পারে। এটা করলে আমাদের ক্ষতি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের আমদানির চেয়ে রপ্তানি অনেক বেশি। তাই যতটুকু আমদানি হচ্ছে সেখানে সরকার যদি ডিউটি কমিয়েও দেয় এর প্রভাব খুব একটা হবে না। এটা একটা সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন হাতেম।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম বলেন, আমেরিকা থেকে আমাদের রপ্তানি আয় মোট আয়ের এক-পঞ্চমাংশ হলেও একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে বাংলাদেশকে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখতে কূটনৈতিক চ্যানেলে তৎপরতা চালাতে হবে। সরকারের উচিত- কূটনৈতিক চ্যানেলে সঠিক তথ্য তাদের সামনে তুলে ধরা। সরকারকে শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শুল্ক প্রত্যাহারে রাজি করানোর আহ্বান জানান। তা না হলে, আমাদের পোশাক খাত ভয়াবহ সংকটে পড়বে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির কারণে নতুন বাজার তৈরির দিকেও মনোযোগী হবেন রপ্তানিকারকরা।

শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক কমানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি ও জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মরত।

দেশের একজন গার্মেন্টস রপ্তানিকারক ও বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে পোশাক সরবরাহ করে থাকে। এখানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করেন। হঠাৎ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক অর্ডার (ক্রয়াদেশ) বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক মূল্য সুবিধা হারাতে পারে। বাংলাদেশকে এখন কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বাড়ানো।

বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি এবং রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। ভারত ও পাকিস্তানে কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে চীনের দাপট একচেটিয়া। চীনের হিস্যা ২১ শতাংশ। বাংলাদেশের হিস্যা ৯ শতাংশের কিছু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। চতুর্থ অবস্থানে ইন্দোনেশিয়া এবং পঞ্চম ভারত। শীর্ষ দশের বাকি ৫ দেশ যথাক্রমে মেক্সিকো, হুন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭২০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ওই বছরের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ। অন্যান্য পণ্য মিলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানি হয় ৮৫০ কোটি ডলারের পণ্য।

উদ্বেগ গার্মেন্ট পল্লীতে
শ্রমঘন বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিক-শ্রমিকরা। ঈদের ছুটিতে বেশির ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও মালিক-শ্রমিক উভয়ের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। টঙ্গীর একটি মাঝারি মানের কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করি। এই শুল্ক কার্যকর হলে আমাদের উৎপাদন খরচ অনুযায়ী মার্কেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিদেশি ক্রেতারা তখন হয় চীন বা ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকবে, নয়তো অর্ডারই কমিয়ে দেবে।

টঙ্গী ব্রিজ এলাকায় কথা হয় শ্রমিক রুবিনা আক্তারের সঙ্গে। টঙ্গীর একটি কারখানায় সহকারী অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, কারখানায় কাজ করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চালাই। যদি অর্ডার কমে যায় আর কাজ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে সংসার চালাবো? খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক আরিয়ান রমজান বলেন, ঈদের আগে আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের পর চাকরির জন্য চেষ্টা করবো ভাবছি। কিন্তু সব জায়গায় এখন আলোচনা হচ্ছে ট্রাম্পের এই শুল্ক নিয়ে। গার্মেন্টস শিল্প আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এর সুযোগ সুবিধা বজায় রাখতে সরকারকে সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

একেএস গার্মেন্টস মালিক কাসেম বলেন, এ শুল্ক আরোপের ফলে আপাতত কোনো সমস্যা না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে অর্ডার কম আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বেশি দামে পোশাক ক্রয় করতে হবে। ফলে তারা কম পণ্য কিনবে। গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের আইন বিষয়ক সম্পাদক একেএম মিন্টু মনে করেন বাংলাদেশ সরকারকে শুল্ক কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

রাইজিং গ্রুপের জিএম তৌহিদের মতে, শুল্ক যেহেতু ১৫ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ হয়েছে তার প্রভাব তো অবশ্যই পড়বে।

mzamin

ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট: চিকেন নেকে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত

বহুল আলোচিত চিকেন নেক-এ নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, চিকেন নেক পশ্চিমবঙ্গের অংশ। এই সংকীর্ণ অংশ ভারতের রাজধানীসহ গোটা দেশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতকে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান এবং চীনের সঙ্গে এর সীমানা রয়েছে। এই চিকেন নেক শিলিগুড়ি করিডোর নামেও পরিচিত। ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে বর্ণনা করেছে। উন্নত সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করতে পারে তারা। করিডোরের কাছে দার্জিলিংয়ের সুকনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩৩তম কোর সুকনায় অবস্থিত। ৩টি ডিভিশন নিয়ে গঠিত ওই কোরে ৪৫-৫০ হাজার সৈন্য থাকে। তারা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কোর রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্ম ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত।

ভারতীয় সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য করিডোরের নিরাপত্তার বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ‘চিকেনস নেক’ ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক অঞ্চল। যেকোনো হুমকির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাহিনীকে সেখানে দ্রুত মোতায়েন করা যেতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে- ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে মিগ ২৯ যুদ্ধ বিমানের পাশাপাশি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধের জন্য করিডোরে ব্রহ্ম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি রেজিমেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে যেকোনো অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য ভারত এই অঞ্চলে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে । এমআরএসএএম এবং আকাশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত মাত্রা প্রদান করে, যেকোনো অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আকাশসীমার সুরক্ষা নিশ্চিত করে। নিয়মিত সামরিক মহড়া: তিন বাহিনীর কোর প্রায়শই যুদ্ধ মহড়া পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে টি-৯০ ট্যাঙ্কের সঙ্গে লাইভ-ফায়ার ড্রিল। ইন্ডিয়া টুডে আরও লিখেছে, ভারত আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা  মনে করেন যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান সংযোগ ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারত এই অঞ্চলে তার প্রতিরক্ষা অবস্থান জোরদার করেছে।

চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনীল চৌহান সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফর করেছেন অপারেশনাল প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে। এই সফরে ফরোয়ার্ড ঘাঁটি পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০১৭ সালের দোকলাম অচলাবস্থার সময় ‘চিকেনস নেক’ সুরক্ষিত করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই সময় ভারতীয় বাহিনী ভুটানের ভূখণ্ডে একটি রাস্তা নির্মাণের চীনা প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করে। বলা হয়, ওই রাস্তা শিলিগুড়ি করিডোরকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারত। অতীতের সংঘর্ষ থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভারত তার প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং প্রস্তুতি বৃদ্ধি করে চলেছে। উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, কৌশলগত মোতায়েন এবং ক্রমাগত সতর্কতার মাধ্যমে, ভারত যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ‘চিকেনস নেক’কে শক্তিশালী করেছে। আঞ্চলিক গতিশীলতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

mzamin

ভারতের নতুন ওয়াক্‌ফ বিল মুসলমানদের জন্য যে সমস্যা ডেকে আনবে by এজাজ হুসেইন ও শেখ সালিক

ভারতের পার্লামেন্টে মুসলিম সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন সংশোধনের একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকারের উত্থাপিত এই বিলের বিরোধিতা করেছে মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো।

বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, ‘ওয়াক্‌ফ’ সম্পত্তি পরিচালনা বোর্ডে অমুসলিমদেরও রাখা যাবে। এ ছাড়া ওয়াক্‌ফ করা জমির মালিকানা যাচাইয়ে সরকারের ক্ষমতাও বাড়বে। সরকার অবশ্য বলছে, এতে দুর্নীতি কমবে, ব্যবস্থাপনা হবে সুষ্ঠু আর বৈচিত্র্য বাড়বে। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এই বিল মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকারে আঘাত হানবে। আর সেই সুযোগে পুরোনো মসজিদসহ বহু ঐতিহাসিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

বিলটি নিয়ে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। বুধ থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলেছে লোকসভায় আলোচনা। আর রাজ্যসভায় টানা ১৬ ঘণ্টা ধরে হয়েছে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা।

বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, এই বিল অসাংবিধানিক এবং মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও মোদির বিজেপি মিত্রদলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস করাতে সক্ষম হয়েছে।

লোকসভায় এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৮৮ জন সংসদ সদস্য, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩২ জন। রাজ্যসভায় ১২৮ জন বিলের পক্ষে ও ৯৫ জন এর বিরুদ্ধে ভোট দেন। এখন বিলটি আইনে পরিণত করবার জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

১৯৯৫ সালের একটি আইন পরিবর্তনের জন্য বিলটি পেশ করেন সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ওই আইনে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তা পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছিল রাজ্যভিত্তিক বোর্ড।

অনেক মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দল বলছে, এই বিল বৈষম্যমূলক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

বিলটি প্রথম সংসদে পেশ করা হয় গত বছর। বিরোধী দলগুলো বলছে, এরপর তারা কিছু সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, বিরোধীরা গুজব ছড়াচ্ছে এবং ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত করছে।

ওয়াক্‌ফ কী

ওয়াক্‌ফ হলো ইসলামি দানের একটি প্রাচীন ব্যবস্থা। ওয়াক্‌ফের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্থায়ীভাবে সাধারণত জমির মতো কোনো সম্পত্তি ধর্মীয় বা জনহিতকর কাজে ব্যবহারের জন্য দান করেন। এ ধরনের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি বিক্রি করা বা কারও নামে হস্তান্তর করা যায় না।

ভারতে ওয়াক্‌ফ বোর্ডগুলোর অধীন প্রায় ৮ লাখ ৭২ হাজারটি সম্পত্তি আছে। এগুলোর মোট আয়তন প্রায় ১০ লাখ একর। এসবের মোট মূল্য প্রায় ১৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। এসব সম্পত্তির অনেকগুলোর ইতিহাস শত শত বছর পুরোনো। অধিকাংশই ব্যবহার করা হয় মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও এতিমখানার মতো জনকল্যাণমূলক কাজে।

নতুন আইন ওয়াক্‌ফ পরিচালনা বদলে দেবে

ভারতে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনা করে আধা সরকারি বোর্ড। এই বোর্ড প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আলাদাভাবে গঠিত। নতুন আইনে বলা হয়েছে, এসব বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে।

এখন পর্যন্ত ওয়াক্‌ফ বোর্ডে কেবল মুসলিমরাই সদস্য হন। ভারতে অন্য ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলোও নিজ নিজ ধর্মাবলম্বীদের দিয়েই পরিচালিত হয়।

সংসদীয় বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, অমুসলিম সদস্যরা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং সম্পত্তি পরিচালনায় সহায়তা করবেন। ধর্মীয় বিষয়ে তাঁরা হস্তক্ষেপ করবেন না। তিনি বলেন,‘অমুসলিম সদস্যরা শুধু নজরদারি করবেন যে বোর্ড আইন মেনে চলছে কি না আর দানকৃত সম্পত্তি যথাযথ কাজে লাগছে কি না।’

তবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মতো সংগঠনগুলো বলছে, এই বক্তব্য ইসলামি ওয়াক্‌ফ ব্যবস্থার মূল চেতনার পরিপন্থী। তাদের মতে, ওয়াক্‌ফ বোর্ডের পরিচালনা মুসলমানদের দ্বারাই হওয়া উচিত। তারা একে মুসলিম নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই বিলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে এই বোর্ড।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘যখন হিন্দু মন্দির পরিচালনা কমিটিতে অন্য ধর্মাবলম্বীরা স্থান পান না, তখন ওয়াক্‌ফ বোর্ডে অমুসলিমদের রাখা হবে কেন?’

সবচেয়ে বিতর্কিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো মালিকানাসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন। এর ফলে বহু পুরোনো মসজিদ, দরগাহ বা কবরস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, বহু সম্পত্তিই একসময় মৌখিকভাবে বা কাগজপত্র ছাড়াই ওয়াক্‌ফ হিসেবে দান করা হয়েছিল। এসবের অনেকেরই কোনো আইনি নথি নেই, যেগুলো কয়েক দশক বা এমনকি শত শত বছর আগের।

মালিকানা নিয়ে শুরু হবে দ্বন্দ্ব

নতুন আইনের অন্য পরিবর্তনগুলো শত শত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ওয়াক্‌ফ জমির ওপর গড়া মসজিদগুলোর ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। চরমপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো ভারতের নানা প্রান্তে বেশ কিছু মসজিদের ওপর তাদের মন্দির আছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এসব মসজিদ পুরোনো হিন্দু মন্দির ভেঙে তৈরি। এ ধরনের অনেক মামলা আদালতে বিচারাধীন।

নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে তাদের জমির মালিকানা প্রমাণ করতে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে বোর্ডের ক্ষমতা খর্ব হবে। আর তা মুসলমানদের জমি কেড়ে নেওয়ার পথ তৈরি করবে। বোর্ডগুলোকে কতবার এই রকম জমির দাবির বৈধতা প্রমাণ করতে বলা হবে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে লিখেছেন, ‘ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) বিল মুসলিমদের কোণঠাসা করার এবং তাঁদের ব্যক্তিগত আইন ও সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নেওয়ার হাতিয়ার।’ তিনি এটিকে সংবিধানের ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘বিজেপি এবং তাদের মিত্ররা এখন মুসলিমদের নিশানা করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এটি অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।’

মুসলমানদের উদ্বেগ

অনেক মুসলমানই স্বীকার করেন যে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিতে দুর্নীতি, দখলদারি আর অব্যবস্থাপনা রয়েছে। তবে তাঁরা আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনের ফলে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার মুসলিমদের সম্পত্তির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। আর এখন তো ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে।

নরেন্দ্র মোদির শাসনে মুসলমানরা প্রায়ই টার্গেট হচ্ছেন। তাঁদের খাবার, পোশাক, এমনকি হিন্দু-মুসলিম বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়েও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তাঁরা।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলেজিয়াস ফ্রিডম) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নির্বাচনের সময় মোদি ও তাঁর দল মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ছাড়ানো বক্তব্য’ ও ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়েছে।

তবে ভারতের সরকার বলছে, দেশটি গণতান্ত্রিক নীতিতে পরিচালিত হয় এবং সেখানে কারও সঙ্গে কোনো বৈষম্য নেই।

ভারতের মোট ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ শতাংশ মুসলমান। তাঁরা ভারতের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হলেও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। ২০১৩ সালের এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, মুসলমানরা দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি।

* এজাজ হুসেইন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, অ্যাসোসিয়েট প্রেস

* শেখ সালিক অ্যাসোসিয়েট প্রেসে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে লেখেন

অ্যাসোসিয়েট প্রেস থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ

অমৃতসরে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
অমৃতসরে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদের’ আহ্বান জানিয়ে কয়েক মুসলিম ধর্মীয় নেতার ‘ফতোয়া’ জারি

বিশ্বের সব মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম পণ্ডিত। অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের ওপর ১৭ মাস ধরে চলা নৃশংস ও নির্বিচার ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল তাঁরা এ ফতোয়া জারি করেন।

ইউসুফ আল-কারযাভীর নেতৃত্বে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি গতকাল সব মুসলিম দেশকে ‘এই গণহত্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

১৫ দফা–সংবলিত ওই ফরমানে আলী আর কারদাঘি বলেন, ‘গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে তা ইসলামিক আইন অনুযায়ী আমাদের নিপীড়িত ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে বড় অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

কারদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় নেতাদের একজন। তাঁর ফরমান বা ফতোয়াগুলো বিশ্বের ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলমানের কাছে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে।

‘ফতোয়া’ হলো ইসলামিক আইনি আদেশ। সাধারণত কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন ধর্মীয় নেতা এ আদেশ জারি করেন। তবে এটি মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়।

কারদাঘি বলেন, ‘গাজার মুসলমানদের নির্মূলে কাজ করা কাফের শত্রুকে [ইসরায়েল] সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা সে যে ধরনের সমর্থনই হোক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, এদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা অথবা স্থল, জল বা আকাশপথে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলসীমা বা বন্দরের মাধ্যমে তাদের পরিবহনকে সহায়তা করা নিষিদ্ধ।

এই ধর্মীয় নেতা বলেন, ‘গাজায় আমাদের ভাইদের সহায়তার লক্ষ্যে দখলদার শত্রুদের স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিটি (আইইউএমএস) একটি ফতোয়া জারি করেছে।’

কারদাঘির বিবৃতির প্রতি অন্য আরও ১৪ জন মুসলিম পণ্ডিত সমর্থন জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বিশ্বের সব মুসলিম দেশের প্রতি তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিচুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তিনি আগ্রাসন বন্ধে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি। ছবি: এএফপি

অধ্যাপক ইউনূসকে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী চান সারজিস, এনসিপির অবস্থান কী by আসিফ হাওলাদার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এই আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে সারজিসের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট নানা আলোচনা তৈরি করেছে। কিন্তু সারজিস আলমের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কি তাঁর দল এনসিপি একমত?

এ বিষয়ে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে সারজিস ফেসবুকে যে পোস্ট দিয়েছেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এটি এনসিপির দলীয় অবস্থান নয়। দলের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সারজিসের এ ধরনের পোস্ট করা অনুচিত বলেও তাঁদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।

ঈদুল ফিতরের এক দিন আগে গত ২৯ মার্চ দুপুরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন স্টেটসম্যানকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার আজীবন থাকবে।’

আজ শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী এই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যবহারকারী ‘লাভ’ ও ৩০ হাজারের বেশি ‘কেয়ার’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতিক্রিয়া দেওয়া অধিকাংশ ব্যবহারকারী বিষয়টিকে সমর্থন করছেন। এর পাশাপাশি সারজিসের ওই পোস্টে পক্ষে–বিপক্ষে ৩৯ হাজারের বেশি মন্তব্যও এসেছে।

সারজিস আলমের এই পোস্ট নানা আলোচনা তৈরি করেছে। সারজিসের পোস্টের পর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আরও অনেকেই এ বিষয়ে ফেসবুকে পক্ষে–বিপক্ষে পোস্ট দেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা হচ্ছে।

সারজিসের এই পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারজিস যা লিখেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত চাওয়া। এটা এনসিপির দলীয় অবস্থান নয়।’ একই কথা বলেছেন এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, দলের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সারজিসের এ ধরনের পোস্ট করা অনুচিত।’
এই বিষয়ে সারজিস আলমের সঙ্গে শনিবার বিকেলে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষাটা ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘আমি নির্বাচিত সরকারের কথা বলেছি, বর্তমান সরকারের কথা বলিনি। অন্তর্বর্তী সরকার যত দিন থাকা যৌক্তিক বলে সব অংশীজন মনে করবে, সেটা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। অধ্যাপক ইউনূস একজন বৈশ্বিক নেতা। সেই জায়গা থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথা ফেসবুকে লিখেছি। এটা এনসিপির দলীয় অবস্থান নয়।’

গাড়িবহরের সমালোচনা নিয়ে সারজিস যা বললেন

পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করতে চান এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ঈদের আগে গত ২৪ মার্চ শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড়ে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারজিসের গাড়িবহরের সমালোচনা করেছেন।

এরপর সারজিস আর গাড়ির বহর নিয়ে এলাকায় ‘শোডাউন’ করেননি। ঈদের ছুটিতে এলাকায় জনসংযোগ শেষে সারজিস শনিবার ঢাকায় ফিরেছেন।

গাড়িবহর নিয়ে আলোচনা–সমালোচনাকে কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমি প্রত্যাশা করিনি এতগুলো গাড়ি হয়ে যাবে। এমন অনেকে গাড়ি নিয়ে এসেছেন, আমার স্কুল-কলেজ ও ছোটবেলার বন্ধুদের অনেকে তাঁদের সার্কেলের পাঁচ-সাতজনসহ গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। এ জন্য গাড়ির সংখ্যাটা শতাধিক হয়ে যায়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এটা মানুষকে নির্বাচনের একটা আমেজ দিয়েছে। এই আমেজটা তারা বিগত এক যুগ ধরে পাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে সারজিস আরও বলেন, ‘অনেকে ভাবছিলেন, বিএনপি একেবারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে, অন্য কেউ তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না। এই সংস্কৃতিতে তাঁরা আগে থেকেই অভ্যস্ত ছিলেন। এসব পুরোনো সংস্কৃতি আমরা পরিবর্তন করব। কিন্তু সরাসরি সবকিছু বাদ দিয়ে একদম নতুন আঙ্গিকে গেলে আমরা অপ্রাসঙ্গিকও হয়ে যেতে পারি। বিএনপির প্রার্থীর কাছাকাছি প্রভাব রাখতে পারবে, এ রকম একজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে মানুষ দেখতে চায়।’

গত ২৪ মার্চ বিকেলে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড় শহর পার হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে
গত ২৪ মার্চ বিকেলে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড় শহর পার হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে। প্রথম আলো ফাইল ছবি