Tuesday, August 10, 2010

আদিবাসী, জাতিসংঘ ও সরকার যদি একযোগে কাজ করত by সঞ্জীব দ্রং

এবার জেনেভায় জাতিসংঘ এক্সপার্ট মেকানিজম অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলসের অধিবেশনে আদিবাসীরা সরকার, জাতিসংঘ ও আদিবাসী—এই তিন পক্ষ মিলে কীভাবে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে কাজ করতে পারে, এ বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। বিষয়টি আমাদের দেশে স্বপ্নের মতো ব্যাপার। তবে কাজটি হওয়া উচিত। একধরনের শ্রদ্ধাপূর্ণ সংলাপ শুরু হতে পারে। উদ্যোগটা সরকারের তরফ থেকে কবে নেওয়া হবে, আমি জানি না। এ নিয়ে বড় আশা করতে মন চায় না। তবে জাতিসংঘ যদি উদ্যোগটি নিত? বাংলাদেশে ইউএনডিপি যদি এ নিয়ে একটু কাজ করত? জেনেভায় দেখলাম, উদ্বোধনী অধিবেশনে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের হাইকমিশনার মিস নাভানেথিম পিলে বলেছেন, বিশ্বের সব অঞ্চলে আদিবাসী জনগণ ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার এবং ভূমির অধিকার শুধু নয়, বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেছেন, বর্তমানে আমাদের মানবাধিকারের উন্নতির স্বীকৃতি ও উৎসব করলেই হবে না, মনে রাখতে হবে, অতীতে আদিবাসীদের অধিকারকে ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর নতুনভাবে ‘জাতিসংঘ-আদিবাসী অংশীদারিত্ব’ নামে আইএলও এবং ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে আদিবাসীদের সহায়তা করার জন্য হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করবে।
এই যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করার কথা বলা হলো, এর প্রতিফলন কি আমাদের দেশে আমরা দেখতে পাব? বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য।
এ বছরও সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন করছে না। তবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আজ ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু নারী দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শিশু দিবস ইত্যাদি সরকার যেভাবে পালন করে, সেভাবে আদিবাসী দিবস হচ্ছে না। তবে সারা দেশে, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে আদিবাসী দিবস এবার উদ্যাপন করা হচ্ছে। বলা যায়, আদিবাসী দিবস সবখানে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি আদিবাসী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আদিবাসী দিবস এবার পালন করছে।
এদিকে সংসদীয় আদিবাসী ককাশ গঠিত হয়েছে। আদিবাসী-বান্ধব মাননীয় দুজন সংসদ সদস্য সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে রয়েছেন—রাশেদ খান মেনন এমপি ও হাসানুল হক ইনু এমপি। আদিবাসীদের সুখ-দুঃখ ও দাবির কথা তাঁরা ভালোমতো জানেন। এই দুজন সাংসদ আদিবাসীদের চিরদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের সাথি ছিলেন। আশা করতে ইচ্ছে করে, এবার সংবিধান সংশোধনের সময় মৌলিক অধিকার অংশে আদিবাসীদের পরিচয়, সংস্কৃতি, অবদান ও অধিকারের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা বেশ আশান্বিত হয়েছিলাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দেখে। ইশতেহারে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, আদিবাসীদের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাস, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চির অবসান, তাদের জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম, মান-মর্যাদার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। আদিবাসীদের জমি, জলাধার এবং বন এলাকায় সনাতনী অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব ধরনের আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থার অবসান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের জন্য চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
‘পার্বত্য চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে বর্ধিত উদ্যোগ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, আদিবাসী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি এবং তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারার স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের সুষম উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।’
বলা বাহুল্য, বিগত প্রায় ১৮ মাসে আদিবাসী জীবনে নির্বাচনী ইশতেহারের এসব কথার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাইনি। তবে আশা করি আগামী দিনে এসবের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব।
আমরা তবুও আশায় বুক বেঁধে চেয়ে আছি। আদিবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের সংলাপ ও আলোচনার সংস্কৃতি তৈরি হবে। অন্যান্য সময় আদিবাসীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি ও মন্ত্রী মহোদয়গণ আসেন ও কথা বলেন। বিষয়টি উল্টো করে দিতে চাই। স্বপ্ন দেখতে চাই, আগামী দিনে সরকার নিজে সভার আয়োজন করবে এবং আমরা আদিবাসীরা সেখানে যোগ দিয়ে আমাদের কথা বলে আসব এবং সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিনা পয়সায় সরকারকে সহযোগিতা করব। এ ক্ষেত্রে আমরা জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইব আমাদের মতো অর্থবলের দিক থেকে গরিব দেশে। কবে হবে এসব?
পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে যে মৈত্রী ও বন্ধন তৈরি হচ্ছে, তা এক কথায় অতুলনীয়। একে যেন আমরা অনেক দূর নিয়ে যেতে পারি।
অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বৃহত্তর নাগরিক সমাজের অনেকে এখন আমাদের অধিকারকে সমর্থন করছেন। মিডিয়া এখন বেশ আগ্রহী আদিবাসী ইস্যুতে। জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সরকার, জাতিসংঘ ও আদিবাসী জনগণ ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।
সঞ্জীব দ্রং: কলাম লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী।
sanjeebdrong@gmail.com

শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে, লেনদেন গতকালকের চেয়ে কম

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাধারণ সূচক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে। বেলা তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ১৯ দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬২১ পয়েন্টে। তবে আজ গতকালের চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে। আজ মোট দুই হাজার ১৫১ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
আজ সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস ও প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো সাফকো স্পিনিং, অ্যাপেক্স স্পিনিং, আল-হাজ্জ টেক্সটাইল, বেক্সিমকো সিনথেটিকস ও কনফিডেন্স সিমেন্ট।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, আরএন স্পিনিং মিলস, সাইহাম টেক্সটাইল ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স।

রাজশাহীর কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে

রাজশাহী শহরের অদূরে কাটাখালীতে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মেগাওয়াটের একটি রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বা ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। চলতি মাসেই নর্দার্ন পাওয়ার সল্যুশন লিমিটেডের নতুন এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, জার্মান প্রযুক্তিতে স্থাপন করা হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেটি থেকে ২০১১ সালের মার্চে সরবরাহ শুরু করা হবে। এর ফলে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর কিছু অংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাটাখালীতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দরপত্র আহ্বান করে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন পাওয়ার সল্যুশন কাজটি পায়।
এনা গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিকুজ্জামান খান প্রথম আলোকে জানান, এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে জ্বালানি হিসেবে ফার্নেস অয়েল (অপরিশোধিত তেল) ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও কেনা হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাজশাহীর ছয় সাংসদ যথাক্রমে—ওমর ফারুক চৌধুরী, ফজলে হোসেন বাদশা, মেরাজ মোল্লাহ, আবদুল ওয়াদুদ, এনামুল হক ও শাহরিয়ার আলম।
কোম্পানির চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাংসদ এনামুল হক প্রথম আলোকে জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে। ফলে লোডশেডিংও থাকবে না।

ঋণের ভারে জর্জরিত সারাহ ফার্গুসন

সারাহ ফার্গুসন
ব্রিটেনের ডাচেস অব ইয়র্ক সারাহ ফার্গুসনের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে। ঋণের কারণে গত মাসে তিনি ১১ জন পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কর্মচারীকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর পরও ব্রিটিশ রাজপরিবারের আশঙ্কা, ঋণের কারণে তাঁকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দেউলিয়াত্ব এড়াতে সারাহ ফার্গুসন সম্ভাব্য সবকিছু করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকা বলেছে, বাকিংহাম প্রাসাদের একজন অর্থ উপদেষ্টা ডাচেস অব ইয়র্ককে স্বেচ্ছায় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ব্রিটিশ রাজপরিবারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও তিনি সারাহ ফার্গুসনকে এটাই করতে বলেছেন।
সারাহ ফার্গুসনের ঋণের কারণে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ঋণের পরিমাণ আগে যা ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি

মুসলিম নারীরা বিচারপতি হতে পারবেন না

ভারতের উত্তর প্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দ নতুন এক ফতোয়া জারি করে বলেছে, মুসলিম নারীরা বিচারপতি হতে পারবেন না। এটা শরিয়তবিরোধী। দারুল উলুমের ওয়েবসাইটে দেওয়া ওই ফতোয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লির নারী আইনজীবী মুমতাজ আখতার সাংবাদিকদের বলেছেন, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কারও যোগ্যতা বিচার করা উচিত, নারী বা পুরুষের বিবেচনায় নয়।
মুমতাজ আরও বলেন, একজন নারী বিচারপতি যেভাবে একজন নির্যাতিত মহিলার সমস্যা বুঝতে পারেন, একজন পুরুষ বিচারপতি সেভাবে পারেন না।
১৯৮৯ সালে কেরালার এম ফাতিমা বিবি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মুসলিম নারী বিচারপতি হন। এরপর ২০০৬ সালে পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি হন সীমা আলি খান।

শুধু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ ঠেকাতে চায় রক্ষণশীলরা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অবৈধ অভিবাসী ও ভ্রমণকারীদের সন্তানদের ওপর রক্ষণশীলদের নজর পড়েছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অবৈধ অভিবাসী এবং বেড়াতে আসা লোকজনের জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব ঠেকানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সংশোধনী আনার ঘোষণা দিয়েছেন রিপাবলিকান দলের আইন-প্রণেতারা।
সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিনওসি গ্রাহাম বলেছেন, আমেরিকাকে এখন নতুন এক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের আগমন ঘটছে। নাগরিকত্ব লাভের জন্য কেবল সন্তান জন্ম দিতে ব্যাপকসংখ্যক পর্যটকেরও আগমন ঘটছে। এ অব্যবস্থা ঠেকাতে সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রভাবশালী এ আইন-প্রণেতা। সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন সংবিধানের সংশ্লিষ্ট সংশোধনী নিয়ে কংগ্রেসে শুনানির আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সীমানায় জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ (১৪তম) সংশোধনীর মাধ্যমে এ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখানে জন্ম নেওয়া কোনো সন্তানের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য পিতামাতার অভিবাসন বৈধতা যাচাই করা হয় না। পাশাপাশি ভ্রমণে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে জন্ম নেওয়া সন্তান এখানকার নাগরিক। আইনের এ সুযোগ গ্রহণ করে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে নানা পথে যুক্তরাষ্ট্রে লোকজনের অনুপ্রবেশ ঘটে। অনেককেই ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেখা যায় কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য। প্রসূতি পর্যটন নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত এ প্রক্রিয়া চলে আসছে বছরের পর বছর। প্রসূতি পর্যটনের চাপ সামাল দিতে হয় হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে। রক্ষণশীল আইন-প্রণেতারা মনে করছেন, এ প্রক্রিয়া পুরো অভিবাসন-ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। বহু অবৈধ অভিবাসীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও মা-বাবাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বৈধতার অভাবে। অভিবাসন আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগ এবং ধরপাকড় শুরু হলে ক্ষেত্রবিশেষে মানবিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। নাগরিক সন্তানদের সঙ্গে পিতামাতার বিচ্ছিন্নতার অবস্থা সৃষ্টি হয়।
সিনেটর লিনওসি গ্রাহাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী বহির্বিশ্বের লোকজনকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
জন্মগতভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রোজমেরি জেনকস বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি না করে আইন-প্রণেতাদের আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কোনো সংশোধনী আনা বা সংশোধনী বাতিল করা খুব জটিল প্রক্রিয়া। রক্ষণশীল আইন-প্রণেতারা তাই এখন বিকল্প খুঁজছেন। রক্ষণশীল সংগঠক রোজমেরি জেনকস বলেন, দেশব্যাপী ভেঙে পড়া অভিবাসন-ব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে ‘প্রসূতি ভ্রমণ’ অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার মাধ্যমেই অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রাপ্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মেগরাহিকে নিয়ে মার্কিন প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করলেন কার্ডিনাল

লকারবি বোমা হামলাকারী আবদেল বাসেত আলী আল-মেগরাহিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন স্কটল্যান্ডের রোমান ক্যাথলিক চার্চের নেতা কার্ডিনাল কেইথ ওব্রায়েন। বিবিসির প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্ডিনাল বলেছেন, স্কটিশ সরকার অন্যায় কিছু করেনি। খবর বিবিসির।
কার্ডিনাল বলেন, গত বছর মানবিক দিক বিবেচনা করে মেগরাহিকে মুক্ত করার ব্যাপারে স্কটিশ সরকারের অধিকার ছিল।
মেগরাহিকে মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা স্কটল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। কার্ডিনাল বলেন, মন্ত্রীদের পোষা কুকুরের মতো আচরণ করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের সেবার সংস্কৃতি রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিহিংসার নীতিতে অনড়।
১৯৮৮ সালে লকারবি বোমা হামলায় ২৭০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেগরাহির প্রস্টেট ক্যানসার হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি আর তিন মাস বাঁচতে পারেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে স্কটল্যান্ডের জাস্টিস সেক্রেটারি কেনি ম্যাক আসকিল গত বছরের আগস্ট মাসে মেগরাহিকে মুক্তি দেন। এর এক বছরেও তাঁর মৃত্যু না হওয়ায় মুক্তির সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কার্ডিনাল বলেন, ‘বিশ্বের অর্ধেকের বেশি রাষ্ট্রে ভয়ংকর অপরাধের দায়ে প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা ফায়ারিং স্কয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আমি বলি যে এটা প্রতিহিংসার সংস্কৃতি।’
কার্ডিনাল বলেন, ‘একটি চোখের বদলে একটি চোখ এবং একটি দাঁতের জন্য একটি দাঁত নেওয়া আমাদের স্কটল্যান্ডের সংস্কৃতি নয়। আমাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছু শিখুক।’

ভেনেজুয়েলার আহ্বানে সাড়া কলম্বিয়ার

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি এ প্রস্তাব দেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্কের সঙ্গেও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন সান্তোস। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেন।
হুয়ান মানুয়েল সান্তোস (৫৮) দেশটির রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবের স্থলাভিষিক্ত হলেন। শপথ অনুষ্ঠানে সান্তোস বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে খোলামেলা ও সরাসরি আলোচনা চান। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিবাদ নিরসনে যেসব দেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে, সেসব দেশকে ধন্যবাদ জানান সান্তোস। ফার্ক বিদ্রোহীরা ভেনেজুয়েলার নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে—উরিবের এ অভিযোগের পর ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো শাভেজ বলেছেন, তিনি সান্তোসের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
শপথ অনুষ্ঠানে সান্তোস বলেন, ‘যুদ্ধ’ শব্দটি তাঁর অভিধানে নেই।
সান্তোসের শপথ অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্ব নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরোও উপস্থিত ছিলেন।

ভারী বর্ষণ: পাকিস্তানে বন্যার অবনতি

পাকিস্তানে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা-কবলিত প্রায় দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি সিন্ধু প্রদেশের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে আরও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।
দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হেলিকপ্টার মিশন বন্ধ এবং দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিন্ধু প্রদেশের একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া তারবেলা ও মংলা বাঁধও হুমকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় গত শনিবার সিন্ধু প্রদেশে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সিন্ধুসহ অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় কোটি মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি সিন্ধু প্রদেশের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, পরিস্থিতি বিপর্যয়কর এবং তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ অবস্থায় আরও আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছুই করেছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা এতই গুরুতর যে পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম প্রাধান্য হচ্ছে, লোকজনের জীবন বাঁচানো। আমাদের ত্রাণ কর্মসূচি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয় করতে হবে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিন্ধুতে আরও অন্তত দুই দিন বৃষ্টি হবে। ওই অঞ্চল সবচেয়ে বেশি বন্যার হুমকিতে আছে বলে কর্তৃপক্ষ আগেই ঘোষণা দিয়েছে। তাঁরা বন্যাপীড়িত অপর রাজ্য খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন। রাজ্যের এক কর্মকর্তা আদনান আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ, বিশেষত সোয়াত উপত্যকায়। নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা লোকজনকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বলেছি।’
পুলিশ কর্মকর্তা মুমতাজ জেরিন বলেন, গত শনিবার বন্যা-কবলিতদের উদ্ধার করে একটি ট্রাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকটি একটি গভীর খাদে পড়ে গিয়ে ১১ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে ব্রিটেন, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরাকে হামলার মোক্ষম অজুহাত ছিল ৯/১১

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, ৯/১১-এর ঘটনাকে আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলার মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অজুহাতকে জোরালো করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১-এর ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলেছে। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনায় কত জন মারা গেছে, তার কোনো সঠিক তথ্যপ্রমাণ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র যত লোক নিহত হওয়ার কথা প্রচার করেছে, প্রকৃতপক্ষে তত লোক মারা যায়নি। গত শনিবার তেহরানে একটি সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে আহমাদিনেজাদ এ কথা বলেন। ভাষণটি টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হয়। ওই ভাষণে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর হাতে ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হওয়ার তথ্যকে তিনি আবারও ‘জায়নবাদীদের বানানো গল্প’ আখ্যায়িত করেন।
আহমাদিনেজাদ অনেকদিন থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইহুদিনিধন বা ‘হলোকাস্ট’কে পশ্চিমাদের বানানো গল্প বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ওই হলোকাস্টের গল্প বানিয়েছে।
গত শনিবার আহমাদিনেজাদ বলেন, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা চালানোর মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ঘটনায় একজন জায়নবাদীও নিহত হয়নি। কারণ, আগের দিনই তাদের কাজে না যাওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) প্রচার করেছে ৯/১১-এর ঘটনায় তিনহাজার লোক নিহত হয়েছে। কিন্তু নিহতদের নাম প্রকাশ করে আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
তিনি বলেন, ইহুদিদের মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী আস্তানা গড়ার বিষয়টি জায়েজ করতে তারা তথাকথিত হলোকাস্টের গল্প ফেঁদেছিল।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহর মোত্তাকি বলেছেন, আগামী রমজানের পর প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ লেবানন সফর করবেন। জায়নবাদীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই আহমাদিনেজাদ সেখানে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনে ভূমিধসে ১২৭ জনের প্রাণহানি

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ১২৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। ভূমিধসে অনেক ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। গতকাল রোববার চীনের সরকারি গণমাধ্যম এ কথা জানায়।
খবরে বলা হয়, গানসু প্রদেশের মূলত তিব্বতি এলাকায় এই ভূমিধসে ৭৬ জন আহত হয়েছে। ২০ হাজার লোককে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্তত একটি গ্রাম পুরোপুরি কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গতকাল দুর্গত এলাকায় গিয়ে পৌঁছেছেন। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর জন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ও প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। গত শনিবার এই ভূমিধসের সূত্রপাত হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য প্রায় তিন হাজার সেনা এবং ১০০ জন চিকিৎসাকর্মী পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গানান প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধান মাও শেনগউকে উদ্ধৃতি করে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যায় ঝউকু কাউন্টির বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূমিধসে কাদামাটি, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীতে গিয়ে পড়েছে। এ কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। এতে সৃষ্টি হয়েছে বন্যার।
সিনহুয়া জানায়, উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিধসে একটি ছোট জল বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে।
কাউন্টির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঘন কাদার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। কাদামাটি এত ঘন যে এর ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, এমনকি গাড়ি চালানোও সম্ভব।
কাদার জন্য এখনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। ভারী যন্ত্রপাতির পরিবর্তে বেলচা ও খালি হাতে তাঁদের উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হচ্ছে।
সিনহুয়া জানায়, কোনো কোনো রাস্তায় তিন ফুট কাদামাটির স্তর পড়েছে।
খবরে বলা হয়, ভূমিধসে অনেক বাড়িঘর চাপা পড়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় টেলিযোগাযোগ, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একটি জায়গায় পানি তিন তলার সমপরিমাণ উঠে গেছে। পানি একটি বাড়ির পাঁচ তলা ছুঁয়েছে বলেও জানা গেছে।
লোকজনকে উদ্ধারে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা—স্থানীয় টেলিভিশনে এসব দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। খবরে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ৬৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে

রেটিং পয়েন্ট কমল ভারতের

হারলেও শীর্ষস্থান হাতছাড়া হচ্ছে না ভারতের, জানা গিয়েছিল পি সারা ওভাল টেস্ট শুরুর আগেই। হেরে নয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টেস্ট জিতেই এক নম্বরে থেকে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। তবে সিরিজ ড্র হওয়ায় কমেছে রেটিং পয়েন্ট। ১৩০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শুরু করা ভারতের রেটিং পয়েন্ট এখন ১২৭। শীর্ষ দলের সঙ্গে সিরিজ ড্র করে শ্রীলঙ্কা উঠে এসেছে তিনে। একসময় সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অস্ট্রেলিয়া নেমে গেছে চারে। সিরিজটা জিতলে অবশ্য শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকাকেও টপকে উঠে যেত দুইয়ে। শুধু তা-ই নয়, নিঃশ্বাস ফেলত ভারতের ঘাড়ে। শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট তখন হতো ১২১, ভারতের ১২২। তবে আপাতত নিরাপদই ধোনির দল। দুইয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান ৮।

‘ভালো’ হয়ে যাবেন রাইডার

জেসি রাইডারকে ‘ভালো’ হয়ে যাওয়ার আরও একটা সুযোগ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। রাইডারও ঠিক করেছেন, আর মাথা গরম করবেন না। একদমই ‘ভালো মানুষটি’ হয়ে থাকবেন এখন থেকে।
কখনো মাতলামি করে পুলিশের হাতে ধরা পড়া, কখনো হোটেলে গিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ—জেসি রাইডার মানেই এসব। সর্বশেষ ঘটনায় এনজেডসি কড়া ধমক দিয়েছে এই ক্রিকেটারকে। জরিমানা তো করা হয়েছেই, সঙ্গে চরমপত্র দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এ রকম উল্টাপাল্টা ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আরও কঠোর পথে যাবে বোর্ড। এনজেডসির মহাব্যবস্থাপক জিওফ এলট বলেছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে যদি একই ঘটনা আবারও ঘটে, তাহলে হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে তাঁর চুক্তি।’
ধমক খেয়ে আপাতদৃষ্টিতে হুঁশ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে রাইডারের। এনজডেসি যে এবারই তাঁর ব্যাপারে চরম কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, সেজন্য নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছেন ১১ টেস্টে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৮৯৮ রানের মালিক। প্রতিজ্ঞা করেছেন নিজেকে শুধরে নেওয়ার, ‘এখন বুঝতে পারছি, মাথাটা ঠান্ডা রাখতে হবে।্রকঠোর অনুশীলন করে দলে ফেরাতে হবে নিজেকে। এটা একটা সতর্কবার্তা আমার জন্য। এখন থেকে ঘরেই থাকব। সব রকম ঝামেলা এড়িয়ে চলব, যাতে জনসম্মুখে কোনো বিবাদে না জড়াতে হয়। সঠিক পথে চলে আবার নিউজিল্যান্ড দলে ফেরার খুব ইচ্ছা আমার।’
ফিটনেস সমস্যায় বর্তমানে নিউজিল্যান্ড দলের বাইরে আছেন রাইডার। তবে বাংলাদেশেই ২০০৮ সালে টেস্ট অভিষিক্ত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আশা, ফিট হয়ে ফিরবেন এবারের বাংলাদেশ সফরের দলে।

শেষ পর্যন্ত সুপার কাপ হচ্ছে

বেলা সাড়ে তিনটায় বাফুফে অফিস থেকে জরুরি মুঠোবার্তা—চারটায় সংবাদ সম্মেলন!
কিন্তু সাড়ে চারটা অব্দি সিনিয়র সহসভাপতির কক্ষে বসে সভা করলেন কয়েকজন কর্মকর্তা। একটু আগে তাঁরা বসেছেন বাফুফে সভাপতির সঙ্গে। ‘তাঁরা’ মানে বাংলাদেশ লিগ কমিটির কর্মকর্তারা। বোঝাই গেল, বাংলাদেশ লিগ এবং ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে কোনো খবর দেওয়া হবে।
ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে তিন মাস আগেই যেখানে পরিকল্পনা হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে বাফুফে এত দিন বন্দী ছিল সেই দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে। একটা সভা করতেই মাস পার হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা নেই, তাই সভা হবে না। সব বন্ধ!
তিন-চার দিন আগে বাফুফের জরুরি কমিটির সভায় সব ঠিক করে ফেলবে বলা হলেও সেই সভায়ও কিছু হয়নি। বছরের শুরু থেকে যেভাবে বলা হচ্ছিল, ‘১০ দিনের মধ্যে সব হয়ে যাবে’ এই সভা শেষেও সেটিই বলা হলো। পরশু বাংলাদেশ লিগ কমিটি সভায় বসে লিগ নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অবনমিত দুই দল বিয়ানীবাজার আর শুকতারার ফেরার আবেদন এবং ঘরোয়া ফুটবলের মূল আয়োজনগুলোর সময়সূচি ঠিক করার জন্য সভাপতির সঙ্গে বসার পর অবশেষে কাল এল কিছু ঘোষণা।
হারুনুর রশিদ, আনোয়ারুল হকদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী আধঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, ‘বাংলাদেশ লিগ ১২টি দল নিয়েই হবে। শুকতারা, বিয়ানীবাজারের আবেদন নাকচ।’ বলা হয়েছে, আগামী বছর সেপ্টেম্বরে ৮ দল নিয়ে পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর শুরু হবে, এই দলগুলো সেখানে খেলতে পারবে। যদিও এই ঘোষণায় বিয়ানীবাজার ক্ষুব্ধ, মামলার চিন্তা মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রীকে দিয়ে সুপারিশ করানোর চেষ্টায় আছে দলটি।
এবার বাংলাদেশ লিগে গোলরক্ষকসহ পাঁচজন বিদেশি, বিদেশি খেলোয়াড়দের ব্লিপ টেস্ট (ফিটনেস টেস্ট), ১-১৫ সেপ্টেম্বর দলবদল, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন, প্রতিটি বিভাগে একটি করে স্টেডিয়াম শুধু ফুটবলের জন্য ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে নেওয়ার চেষ্টা হবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
মৌসুমের প্রথম আয়োজন ফেডারেশন কাপ। ব্যাপ্তি ৭ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। পরের মাসে আর খেলা নেই। ঈদুল আজহা এবং গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমসের জন্য বিরতি (এমন কারণে পৃথিবীর কোথাও কিছু বন্ধ থাকবে না, বাংলাদেশ বলেই ব্যতিক্রম!)! ১-১৫ ডিসেম্বর হবে সুপার কাপ। পাতানো ফুটবল যারা খেলে তাদের জন্য দেড় কোটি টাকার পুরস্কারের সুপার কাপ আয়োজনের বিরোধিতা হয়েছিল কিছুদিন আগে। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি হারিয়ে না যাওয়া ঘরোয়া ফুটবলের জন্য ভালো খবরই। সুপার কাপের পরপরই বাংলাদেশ লিগ, যা ২০ ডিসেম্বর শুরু করে মে মাসে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাঠে ম্যাচ চলাকালে সংশ্লিষ্ট ক্লাব এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া প্রতিটি দলকে এবার থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ কোচিং ক্যাম্প করতে হবে। তবে জুনিয়র দল রাখা এখনই বাধ্যতামূলক নয়।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার চলতে থাকায় এই স্টেডিয়াম আপাতত পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘরোয়া ফুটবল কমলাপুর স্টেডিয়ামেই চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সুপার কাপের সম্ভাব্য ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে কোনো অজুহাত হিসেবে নিতে রাজি নন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পেলে ভালো, নইলে কমলাপুরেই হবে সুপার কাপ। আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না।’ তবে তাঁর কথা হলো, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হলে সুপার কাপের প্রাইজমানি আগের মতোই থাকবে। কিন্তু কমলাপুরে হলে সবকিছু কমে যাবে।’
প্রথম সুপার কাপে খেলেছে বাংলাদেশ লিগের ৮ দল। দ্বিতীয় সুপার কাপে খেলার কথা ৬ দলের, নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডির হাতে যেহেতু জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়, তাই জামালকে সুযোগ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ লিগের ১২টি দলকেই খেলার সুযোগ দেবে বাফুফে।

৯ উইকেটের সহজ জয় ইংল্যান্ডের

রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ৩৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর দ্বিতীয় টেস্টেও ৯ উইকেটের সহজ জয় পেল ইংল্যান্ড। ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৯১ রান সংগ্রহ করে গতকাল তৃতীয় দিন শেষ করেছিল পাকিস্তান। আজ সোমবার চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ আসিফ স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকারে পরিণত হলে ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের টার্গেট দেয় পাকিস্তান।
শুরুটা ভালোই হয়েছিল পাকিস্তানের। তৃতীয় ওভারেই কুককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আমির। কিন্তু পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করেছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও জনাথন ট্রট। দুজনই ৫৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন গ্রায়েম সোয়ান।
এজবাস্টন টেস্টে জিতে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ১৮ আগস্ট থেকে ওভালে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।

চেলসিকে হারিয়ে শুরু ম্যানইউর

অ্যালেক্স ফার্গুসনের মনে একটা কালো দাগ লেগেছে গত মৌসুমে। তীরে গিয়েও তরী ডুবেছে যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। আর সেই তরী ডুবেছিল চেলসির প্রতাপের কাছে। গতকাল ইংলিশ মৌসুমের সূচনাকারী কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচ জিতে দাগ মোছানোর প্রথম পর্বটা সারা হলো ফার্গুসনের।
তিন বছর ধরে কমিউনিটি শিল্ড জিতে আসা দলটিই লিগ শিরোপা জিতছে। ভ্যালেন্সিয়া, হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও দিমিতার বারবেতভের গোলে চেলসিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তাই লিগ শুরুর আগেই শিরোপার সুবাসটাও হয়তো নাকে লাগতে পারে ম্যানইউর। আর পেতে পারে গত বছরের কমিউনিটি শিল্ডে এই চেলসির কাছেই হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার আনন্দ।
৪৪ বছর পর ইংল্যান্ডকে আবার বিশ্বকাপ জেতানোর মিশন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন ম্যানইউর স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি। গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের ম্লান করে বিশ্বকাপটা নিজের করে নিতে। কিন্তু ফিরেছেন একরাশ হতাশা নিয়ে। বিশ্বকাপের সেই হতাশা ম্যানইউর জার্সি গায়ে ভোলার কথা বলেছেন। কাল ম্যানইউর ৩ গোলের একটিও তাঁর নয়, তবে ম্যানইউর লাল জার্সিটা গায়ে উঠলেই যে তিনি অন্য রকম—সেটা ঠিকই দেখিয়েছেন।
প্রথমার্ধে ম্যানইউকে এগিয়ে দেওয়ার ভ্যালেন্সিয়ার গোলটির উৎস রুনিই। বারবেতভকে সুযোগ দিতে প্রথমার্ধ শেষে রুনিকে তুলে নিয়েছেন ফার্গুসন। তবে এর আগে চেলসির ডিফেন্ডারদের ঠিকই ভুগিয়ে গেছেন। ম্যাচটি ২-০ করেছেন এ মৌসুমেই ম্যানইউতে নাম লেখানো মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হাভিয়ের হার্নান্দেজ। এরপর সলোমন কালু একটি গোল ফিরিয়ে দেওয়ার পর রুনির পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা বারবেতভ করেছেন দলের তৃতীয় গোল।
বারবেতভের গোলটি ছিল দলীয় খেলার দারুণ এক ফসল। ২০টি পাসের সমন্বয়েই যে হয়েছে গোলটি। মৌসুমের প্রথম গোল পেয়ে খুশি বারবেতভ, ‘এটা মৌসুমে আমার প্রথম গোল। তাই বলতে পারি, দিনটি খুব ভালো ছিল। এখন আমরা জয়টা উদ্যাপন করতে পারি এবং পারি মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় থাকতে। আমাদের টিম স্পিরিটটা দারুণ। আমরা সবাই মিলে বড় একটা পরিবারের মতো।’

বদলে যাচ্ছে ইংল্যান্ড

রাশভারী। কথা বলেন মেপে। ফ্যাবিও ক্যাপেলোকে ইংলিশ মিডিয়া চিত্রিত করেছে রাগী হেডমাস্টারের চেহারায়। পরশু লন্ডনের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ক্যাপেলো যেন ঠিক তার উল্টো। কথা বললেন খোলাখুলি। বিশ্বকাপের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড ফুটবল দলের কোচ ক্ষমা চেয়ে নিলেন ব্যর্থতার জন্য। জানালেন, এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ক্লান্তিকর, শক্তির পুরোটা শুষে নেওয়া ইংলিশ ফুটবলের মৌসুম। স্বীকার করে নিলেন, বিশ্বকাপের পর তাঁকে ছাঁটাই করাই ছিল যৌক্তিক।
বুধবার হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। ওই ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করতেই এভাবে সাংবাদিকদের সামনে আসা আরেক মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া ইংল্যান্ডের এই ইতালিয়ান কোচের। ক্যাপেলো জানালেন, বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার খানিকটা ২০১২ ইউরো দিয়ে পুষিয়ে দিতে চান বলেই থেকে গেছেন, ‘এফএ (ইংলিশ ফুটবল সংস্থা) চাইলে আমাকে অবশ্যই ছাঁটাই করতে পারত। আমিও সেটা মেনে নিতাম। কিন্তু আমি একজন যোদ্ধা, যে কখনোই তার ক্যারিয়ারে থেমে যায়নি। আমি সব সময়ই সামনের দিকে তাকিয়েছি। আমি থেকে গেছি, কারণ আমি পরিস্থিতির উন্নতি করতে চাই, ইউরোতে ভালো কিছু করে দেখাতে চাই। এটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন সমর্থকদের কাছেও, ‘আমি সমর্থকদের, বিশেষ করে যারা আমাদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত গিয়েছিল, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। জানি, তারা অনেক শ্রম আর অর্থ খরচ করেছেন। হয়তো বুধবারের ম্যাচে তাঁরা আমাদের দুয়োও দেবেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, আপনারা আমাদের সমর্থন দিন। ব্যর্থতা ভুলে ইউরোর বাছাইপর্বে দৃষ্টি দেওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরি।’
আগামী মাসে শুরু ইউরো বাছাইপর্বে ইংল্যান্ড ৩ সেপ্টেম্বর বুলগেরিয়ার বিপক্ষে খেলবে প্রথম ম্যাচ। এর আগে মাত্র একটা প্রীতি ম্যাচই পাচ্ছেন ক্যাপেলো। হাঙ্গেরির ম্যাচটা তাই তাঁর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে এরই মধ্যে ‘ভবিষ্যতের দল’ গড়েছেন। বিশ্বকাপের ২৩ জনের মাত্র ১০ জন ঠাঁই পেয়েছেন ক্যাপেলোর দলে। ফ্রান্স-ইতালিকে অনুসরণ করে তিনিও বড় ধরনের পরিবর্তনই আনলেন।
দলে যুক্ত হওয়া নতুন ১৩ জনের মধ্যে আছেন জ্যাক উইলশার, কাইরান গিবস। ১৮ ও ২০ বছর বয়সী এই দুই আর্সেনাল-প্রতিভার এই ম্যাচেই অভিষেক হয়ে যাওয়ার কথা। ফুলহামের ববি জামোরাও আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। উইলশার হতে চলেছেন ইংল্যান্ডের অভিষেকে দশম কনিষ্ঠতম আন্তর্জাতিক ফুটবলার।
বিশ্বকাপ দলের ১২ জনের (একজন নিজেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন) ওপর আস্থা না রাখা মানেই ব্যর্থতার দায়ের বেশির ভাগ তিনি চাপিয়ে দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের ওপর। যদিও ক্যাপেলো মন্তব্য করেছেন, বিশ্বকাপে ভালো না খেলার কারণ ইংল্যান্ডের স্নায়ুক্ষয়ী মৌসুম। শারীরিকভাবে তো বটেই, এই চাপ মানসিকভাবেও খেলোয়াড়দের প্রাণশক্তি শুষে নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে রাতভর নৈশক্লাবে আমোদ-ফুর্তি করে খবরে আসা রুনির ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি খবরটা পড়েছি। শুনেছি, স্যার ফার্গুসন এসব ব্যাপারে অসন্তুষ্ট। আমিও রুনির সঙ্গে কথা বলব।’

তারুণ্যের পতাকা হাতে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল

ব্রাজিলে মেনেজেস-যুগ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। নিউইয়র্কে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হচ্ছে মানো মেনেজেসের। বিশ্বকাপের পর বিশ্ব ফুটবলের বড় দলগুলোর বেশির ভাগ পালাবদলের মধ্যে হেঁটেছে। সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত বোধ হয় মেনেজেসই নিয়েছেন। বিশ্বকাপের ২৩ জনের মধ্যে মাত্র চারজনকে রেখেছেন তাঁর প্রথম ম্যাচের দলে! ১০ জনই একদমই আনকোরা খেলোয়াড়।
এই তরুণ দলটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র উড়ে এসেছেন ব্রাজিল কোচ। তরুণদের মধ্যে আছেন লিওঁ মিডফিল্ডার এডারসনও। ২০০৩ সালে এডারসনের নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। দলে আছেন সান্তোসের পাওলো হেনরিক আর নেইমার। এঁদেরই ভাবা হচ্ছে আগামীর বড় তারকা।
মেনেজেস আভাস দিয়েছেন, নতুন করেই দলটাকে গড়ে তুলবেন। এই তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ২০১৪ বিশ্বকাপের দল। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতার চাপ সামলাতে পারবে যারা। এডারসন জানিয়েছেন, তাঁরা প্রস্তুত, ‘জাতীয় দলে খেলার জন্য সবাই সব সময়ই প্রস্তুত থাকে। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আমার জন্য ছিল দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা। আশা করি, আগামী বিশ্বকাপেও সেটি হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই তো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে। আমাদের স্বপ্নটা আরও অনেক বড়, কারণ পরের বিশ্বকাপ তো ব্রাজিলেই।

কাকার জন্য কান্না নয়

কাকা নেই, রিয়াল মাদ্রিদের এখন কী হবে? মাদ্রিদের পত্রপত্রিকাগুলোয় এমন হাহাকার। কাকাকে প্রায় চার মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে শুনেই উঠেছে হায় হায় রব। কিন্তু কাকাকে যাঁর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ সেই হোসে মরিনহোর এ নিয়ে কোনো ভাবান্তর নেই। তিনি বরং বললেন, কাকার জন্য হাহাকার করার সময় তাঁর নেই।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন কাকাও। কিন্তু পুরোনো চোট সামনে এসে দাঁড়ানোয় কাকাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়াল দিতে হয়েছে বেলজিয়ামে। সেখানে বাঁ-হাঁটুর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তাঁর। এখন কেমন আছেন তিনি? যুক্তরাষ্ট্রে এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ মরিনহো জানালেন কাকার অবস্থার কথা, ‘কাকার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। অস্ত্রোপচার নিয়ে কিংবা কাকার সেরে ওঠার বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না।’
এ কেমন কথা? শিরোপা লড়াইয়ে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদ এত বড় একটা ধাক্কা খেল, চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হলো দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে, আর এটা নিয়ে কোনো কথা হবে না? তাহলে কি অধিক শোকে পাথর হয়ে গেলেন মরিনহো!
মোটেই তা নয়। মরিনহোর আসলে শুধু একজনকে নিয়ে ভাবার সময় নেই, ‘দলের নেতা হয়ে আমি একজন খেলোয়াড়ের জন্য কেঁদে সময় নষ্ট করতে পারি না। আমার আরও খেলোয়াড় আছে। আমার দর্শনে কোনো কিছু নিয়ে আফসোস করা বা কান্নার জায়গা নেই।’
কাকার পুরোনো চোট আবিষ্কার হওয়ার পরই মরিনহো বলেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গঞ্জালো হিগুয়েইন আর করিম বেনজেমাই তাঁর ভরসার কেন্দ্র। রিয়ালের ভবিষ্যৎ দেখছেন এই তিনজনের হাতেই। কালও এই কথাই বললেন চেলসি ও ইন্টার মিলানের সাবেক কোচ, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আছে। আর আমরা অনুশীলনে শারীরিক যে কসরতটা করি, সেটা ও উপভোগ করছে। ধারণা করছি, আমার অনুশীলন-পদ্ধতি নিয়ে সে খুশি।’
এরপর দলের অনুশীলনের পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন মরিনহো, ‘আমরা সবকিছুর ওপরই কাজ করি। ফিটনেসের কাজের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক কাজও করি আমরা। এতে খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। একটা উদাহরণ দিই। আমেরিকার (মেক্সিকান ক্লাব) বিপক্ষে ১-২ গোলে পিছিয়ে ছিলাম আমরা। ৬০ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু ও দলকে জেতানোর জন্য আরও খেলতে চাইল। এটাই আপনাকে আমাদের দলের দৃঢ়তা সম্পর্কে একটা ধারণা দেবে।’ এই দর্শন তো আছেই। সামি খেদিরা ও পেদ্রো লিওনের মতো খেলোয়াড়দের দলে টেনে তূণে অনেক তীর জমিয়ে ফেলেছেন মরিনহো। কাকার জন্য তাই মাথাব্যথা হচ্ছে না ‘স্পেশাল ওয়ানের’।
তিনি অবিচলিতভাবে বলে দিতে পারলেন—কাকার জন্য কাঁদার সময় নেই!

‘স্পিডস্টার’ থেকে ‘রকস্টার’

বারবার সামনে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি। শারীরিক ধকলটা সামলাতে পারেননি বলে টেস্ট ক্রিকেটকেই বিদায় জানিয়েছেন। তবে ব্রেট লি বসে থাকার পাত্র নন। অস্ট্রেলিয়ান এই ‘স্পিডস্টার’ এখন ‘রকস্টার’ হওয়ার পথে। তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সঙ্গে মিল আছে ‘রকস্টার’ হওয়ার শুরুটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লির অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে। শিগগিরই ‘রকস্টার’ লির যাত্রাও শুরু হচ্ছে ভারতে ‘শো’ করেই।
অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ড লিখেছে, বন্ধু মিক ভাউডনকে নিয়ে গড়া নতুন ব্যান্ড ‘হোয়াইট শু থিওরি’ ভারতে আটটার মতো ‘শো’ করবে। ব্রেট লি জানান, ‘মিকই মূল শিলগুী। দারুণ গলা ওর। আমরা অনেক বছর ধরে একজন আরেকজনকে চিনি। মিক গানও গাইছে অনেক দিন ধরে। আমি মূলত ব্যাকআপ ভোকাল। সঙ্গে বেস গিটার বাজাই।’
ভারতে ‘লাইভ শো’ করার পর লি-ভাউডেন মিলে একটা অ্যালবাম বের করবেন। নিজের স্টুডিও ব্যবহার করতে দিয়ে ‘হোয়াইট শু থিওরি’ ব্যান্ডের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন লির আরেক বন্ধু জিমি বার্নেস। ব্রেট লি ‘সিক্স অ্যান্ড আউট’ নামের আরেকটা ব্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত আছেন, যাদের এখনো ছেড়ে আসেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘স্বভাবগতভাবেই আমি সংগীত ভালোবাসি। আর রকস্টার হতে কে না চায়! কোনো সন্দেহ নেই সংগীতে আমার প্রবল অনুরাগ। মজা করে সব সময়ই বলি, আমি মূলত একজন সংগীতশিল্পী, খেলাধুলাটা পরে। তবে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সত্যিকারের একটা সুযোগ পেলাম’—বলেছেন লি।
বছর চারেক আগে ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের একটা অ্যালবামে কাজ করেছিলেন লি। তবে ভারতে এবারের কাজটাকেই বড় করে দেখছেন লি। ‘রকস্টার’ হওয়ার পথে এটাই যে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ!

সোয়ানের ঘূর্ণি, জুলকারনাইনের প্রতিরোধ

দলের পেসারদের ওপর গ্রায়েম সোয়ানের চটে যাওয়াই স্বাভাবিক। অ্যান্ডারসন-ব্রড-ফিন মিলে যা শুরু করেছেন, তাতে আগামী অ্যাশেজের আগে তাঁর ফর্মের বারোটা বেজে যাওয়ার দশা হয়েছিল। হাতে যে বলটাই পাচ্ছিলেন না!
আগের চার ইনিংস মিলে করতে পেরেছেন মাত্র ৯.২ ওভার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৭.১ ওভার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২ ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে পাওয়ার আগেই পাকিস্তান বিলীন। বল হাতে পাননি চলতি এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসেও।
বেশ কিছুদিন পর টেস্টে বল করার সৌভাগ্য কালই প্রথম হলো। পরপর দুই ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, হাত কেমন উসখুস করছিল তাঁর। এই ইংলিশ স্পিনার পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট। ৮২ রানে পঞ্চম আর ১০১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বসা পাকিস্তান অবশ্য এর পরও লড়াই করেছে। এই লড়াই করেছে তারা জুলকারনাইন হায়দার আর সাঈদ আজমলের ব্যাটে। অষ্টম উইকেটে দুজনে মিলে তুলেছেন ১১৬ রান।
সোয়ানের বলে কলিংউডের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। জুলকারনাইনও হয়েছেন সোয়ানের ঘূর্ণির শিকার। ১২ রানের জন্য তিনি দেখা পাননি ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির। তবে আউট হওয়ার আগে পাকিস্তানকে দিয়ে গেছেন সম্মানজনক একটা স্কোর গড়ার ভিত্তি। ১০১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও কাল দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে পাকিস্তানের স্কোর বোর্ডে ছিল ৯ উইকেটে ২৯১ রান। যদিও ম্যাচ বাঁচানো বা জয়ের জন্য এই রান নিতান্তই। কারণ এত কিছুর পরও মাত্র ১১২ রানের লিডই হয়েছে পাকিস্তানের।
সোয়ান কালও বল হাতে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আজহার আলী আর ইমরান ফারহাত নিরুপদ্রব সংসার পেতে বসায়। জুটিটা ৫২ রানে পৌঁছে গিয়েছিল বলেই সোয়ানকে ডেকে পাঠান স্ট্রাউস। তিনটা বল লেগেছে অধিনায়ককে আশ্বস্ত করতে। ফারহাত বোল্ড! পরের ওভারের ওই তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরেছেন আজহারও। পাকিস্তানের উইকেট পতনের মিছিলও শুরু এ থেকেই। সানিয়া মির্জাকে ঘরনি করার পর থেকে ব্যাটে রান-খরা শোয়েব মালিকের, দলকে আরও বিপদের মধ্যে ফেলে আউট হয়েছেন ৩ রানে। ফিন তাঁর শিকারি। এরপর দুই উমর—আকমল ও আমিনকে ফিরিয়ে দেন সোয়ান।
চা-বিরতি পর্যন্ত পরের ৩১টি ওভারে অবশ্য নতুন কোনো বিপদে পড়েনি পাকিস্তান। পড়তে পারত। জুলকারনাইন টেস্ট অভিষেকে ‘কিং পেয়ার’ (দুই ইনিংসেই প্রথম বলে আউট) পাওয়ার বিরল ‘কীর্তি’ গড়েই ফেলেছিলেন প্রায়। কিন্তু রেফারেল পদ্ধতি বাঁচিয়ে দিয়েছে তাঁকে। আজমলের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ার আগে আমিরকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তরযুগের ব্যাটিং করে সপ্তম উইকেটে তুলেছেন ৫২ রান।
নেতৃত্বের চাপ
অধিনায়ক সালমান বাটের এই সিরিজে ব্যাটিং-গড় ৪! চার ইনিংসে রান করেছেন ১৬।

রিয়ালের সমকক্ষ ম্যানসিটি!

সাফল্য, খ্যাতি, প্রতিপত্তি—স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির কোনো তুলনা চলে? এখন হয়তো চলে না। তবে খেলোয়াড় কেনায় যে হারে টাকা ঢালতে শুরু করেছে ম্যানসিটি, তাতে অন্তত খরচের দিক দিয়ে খুব শিগগির রিয়ালের কাতারে পৌঁছে যাবে ইংলিশ ক্লাবটি।
দুই হাতে টাকা ঢেলে বরাবরই দলবদলের বাজার দখলে রাখে রিয়াল। দৃশ্যটা এবার একটু ব্যতিক্রম। খেলোয়াড় কেনায় এবার ম্যানসিটি যেন নেমেছে সবাইকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতায়! এরই মধ্যে খরচ করেছে ৮ কোটি পাউন্ড (১২ কোটি ৭২ লাখ ডলার)। অ্যাস্টন ভিলা থেকে জেমস মিলনার যোগ দিলে খরচ ১০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে। আরও খেলোয়াড় খুঁজছে তারা। সবকিছু দেখে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার কোচ উনাই এমেরি বলেই দিলেন, ম্যানসিটিই বিশ্বের একমাত্র ক্লাব, ব্যয়ের সামর্থ্যে যারা রিয়ালের সমকক্ষ এবং এই টাকাই হয়তো ইংলিশ ক্লাবটিকে ‘দানবে’ পরিণত করবে।
নিজেদের মাঠে পরশু এই ভ্যালেন্সিয়াকেই ম্যানসিটি হারাল ২-০ গোলে। অনেক আশায় দলে নেওয়া জেরম বোয়াটেং, ইয়াইয়া তোরেদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। দলের প্রথম গোলটিই করেন জার্মান লেফটব্যাক বোয়াটেং।
ভ্যালেন্সিয়া কোচ এমেরি ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিশ্বের অন্য দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ম্যানসিটিকেই অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তারা যে দল গড়ছে, তাতে বিনিয়োগের দিক থেকে সত্যিই বিশ্বের শীর্ষ তিনটি ক্লাবের একটি হতে যাচ্ছে তারা।’
তুলনাটা রিয়ালের সঙ্গে। তো ম্যানসিটি জিতলে ওদিক থেকে রিয়ালকেও জিততে হয়! প্রীতি ম্যাচে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদও। পরশু যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিকে রিয়াল হারিয়েছে ৩-২ গোলে। গঞ্জালো হিগুয়েইন করেছেন দুই গোল, গ্যালাক্সির পক্ষে দুই গোল করেছেন টড ডুনিভান্ট ও ল্যান্ডন ডনোভান। রিয়ালকে জিতিয়েছে জাভি আলনসোর গোল। এ ম্যাচ দেখতে রোজ বোলে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার দর্শক।
প্রীতি ম্যাচে সবচেয়ে মজাটা হয়েছে লন্ডনে। বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা দুই তারকা রবিন ফন পার্সি ও সেস ফ্যাব্রিগাসকে ছাড়াই আর্সেনাল জিতেছে পোলিশ দল লিগিয়া ওয়ারশর বিপক্ষে। স্কোরলাইনটা অবিশ্বাস্য, ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্সেনাল জিতেছে ৬-৫ গোলে! ওদিকে কাল বেইজিংয়ে বেইজিং গুয়ান দলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। গোল করেছেন সার্জিও রোবের্তা, নোলিতো ও ইব্রাহিমোভিচ। মেসি কোনো গোল পাননি, একবার বল লাগিয়েছেন বারে। মেসি বল ধরলেই ‘বার্ড নেস্টে’ উপস্থিত ৪৫ হাজার দর্শক ‘মেসি মেসি’ বলে দিয়েছে চিৎকার।

চ্যাম্পিয়ন সিদ্দিকুরের ফেরা

বেশির ভাগ সময় ক্রিকেটে এমন দেখা যায়। বিদেশ থেকে কোনো সিরিজ বা বড় কোনো ম্যাচ জিতে এসে বিমানবন্দরে উৎসবের ঢেউ বইয়ে যায়। কিন্তু কাল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সিদ্দিকুর রহমানের সৌজন্যে গলফেও দেখা গেল এমন উৎসব। নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে যখন ঢুকছিলেন সিদ্দিকুরের বাবা আফজাল হোসেন ও মা ফিরোজা বেগম, তাঁদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল গর্ব ও আনন্দের অন্যরকম এক আভা।
লাউঞ্জে বসা বাবা আফজাল হোসেন ইতিউতি করে কাকে যেন খুঁজছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তাঁর অন্য দুই ছেলে রফিকুল ও শফিকুল তখনো বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। মিনিট পাঁচেক বাদে দুই ভাই ঢুকতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বাবা। সিদ্দিকুরের আরেক ভাই ইদ্রিস ইসলাম চাকরির জন্য শ্রীমঙ্গলে থাকায় আসতে পারেননি। সিদ্দিকুরকে বরণ করে নিতে তর সইছিল না কারোরই। ক্লাব-সতীর্থ ও ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সবার মুখে হাসি, হাতে গাঁদা ফুলের মালা আর ফুলের তোড়া। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে কাচের দরজা পেরিয়ে সবার আগে মা-বাবাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন বাংলাদেশের গলফ তারকা। এক ফাঁকে সতীর্থরা তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচতে শুরু করলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর শোনালেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প। এগিয়ে গিয়েও আবারও পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিনে চমৎকার শুরু করে জাগিয়ে তোলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে গড়ানো ম্যাচে জিতেই ইতিহাস গড়েছেন। এরপর মালয়েশিয়া ওপেনে খেলে ঢাকায় ফিরেছেন সিদ্দিকুর। তবে মালয়েশিয়া ওপেনে ভালো করতে পারেননি, ২৭তম হয়েছেন।
ব্রুনাই ওপেন জয়ের পর সিদ্দিকুরের স্বপ্নের সীমা বিস্তৃত হয়েছে ইউএস ওপেন পর্যন্ত, ‘ব্রুনাই ওপেনে খেলতে যাওয়ার সময়ও ভাবিনি, আমি চ্যাম্পিয়ন হব। তবে এখন আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। আপাতত ইউরোপ ট্যুরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমার লক্ষ্য। আশা করি, এরপর ইউএস ওপেনেও খেলার সুযোগ করে নিতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গলফ ফেডারেশনের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মির্জা বাকের সারওয়ার আহমেদ, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক প্রমুখ।