Thursday, November 25, 2010

আলোচনা- 'নেত্রীর অশ্রুপাত, হরতাল এবং অ্যাকশনে বিএনপি' by সঞ্জীব রায়

৬ নম্বর মঈনুল রোডে অবস্থিত সেনানিবাসের বাড়িটি শেষ পর্যন্ত হারাতেই হলো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। আইন-আদালত থেকে রাজপথ_কোনোটাতেই শেষরক্ষা হলো না। ৪০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাসের কথা বলেও দয়ালু মনের পরিচয় পেলেন না বিরোধীদলীয় নেত্রী। ১২ নভেম্বর আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ায় ১৩ নভেম্বরই বাড়িটি ছাড়তে হলো খালেদা জিয়াকে। আর এই বেদনায় কেঁদে বুক ভাসালেন তিনবার দেশের নেতৃত্বদানকারী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনা- 'আরো আলোকিত হোক জনশক্তি রপ্তানি খাত' by হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

কয়েকদিন আগে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ক্রোড়পত্রে 'দিনবদলের অর্থ' শিরোনামে একটি লেখায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার লক্ষণীয় অগ্রগতি বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের উপার্জন এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত সব কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেন। রেহমান সোবহানের মতো প্রথিতযশা বিজ্ঞজনের মন্তব্য থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আমাদের অভিবাসী শ্রমিকসহ প্রবাসীরা বিদেশী মুদ্রা উপার্জনে দারুণ সফলতার পরিচয় দিয়েছে এবং যার সুফল ভোগ করছে গোটা বাংলাদেশ।

আলোচনা- 'কানকুন সম্মেলনে আমাদের প্রত্যাশা' by শিরীন আখতার

আর ক'দিন পরেই মেক্সিকোর'র কানকুনে জাতিসংঘ আয়োজিত জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনের ১৬তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই বিষয়টিকে বিশ্ব দরবারে উত্থাপন করতে। বাংলাদেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীরা তার সাথে প্রায় ২০০টির বেশি সংগঠন সারা দেশব্যাপী এ সংক্রান্ত বক্তব্যগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কাজ করছে। এবারের কানকুন সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হবে যে সকল বিষয়ে তা হলো: ১. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থ রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুদান হিসাবে বাংলাদেশকে দিতে হবে ২. অর্থ ব্যয়ে দাতাদের মুরবি্বপনা থাকতে পারবে না।

আলোচনা- 'জনসংখ্যার বিপদ ও পরিত্রাণের পথ' by অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম

আমরা উন্নয়ন চাই। কারণ আমাদের দেশ খুব গরীব। আর উন্নয়ন বলতে বুঝি দারিদ্র্য বিমোচন। যার ফলে মানুষ ক্ষুধার হাত থেকে মুক্তি পাবে এবং তার সঙ্গে মুক্ত হবে বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অভাব থেকে। উন্নয়নের ব্যাপারে রাষ্ট্র ক্রান্তি কালিন ভূমিকা পালন করে এবং তাই এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের সাফল্য এবং ব্যর্থতা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে আমাদের মত স্বল্পোন্নত দেশে মানুষের বেঁচে থাকা এবং বিকাশের জন্য যেহেতু উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচন অতি জরুরি কাজ। তাই এই গুরু দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রের মত সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যক্তির ভূমিকাকেও উপেক্ষা করা যায় না।

শিল্প-অর্থনীতি 'বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি:দুর্ভাবনার বিষয়' by ড. আর. এম. দেবনাথ

ঈদের ছুটির আগে আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিনিয়োগ সম্পর্কে কতগুলো ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন। ঐসব তথ্যের ওপর ভর করে তিনি বলেছেন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধীরে-ধীরে স্থবিরতা কেটে যাচ্ছে। তিনি বিদু্যৎ ও গ্যাসের সমস্যার কথা উলেস্নখ করে বলেছেন এতদসত্ত্বেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে যে ব্যবসায়ীরা আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। তা না হলে মূলধনী যন্ত্রপাতি বা ক্যাপিটেল মেশিনারি আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেত না। অর্থমন্ত্রী এমন সময়ে তার আশাবাদ ব্যক্ত করলেন যখন ২০১০-১১ অর্থবছরের ছয়মাস প্রায় গত হতে চলল। ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে। ছুটির আমেজ কাটতে না কাটতেই নভেম্বর শেষ হয়ে যাবে। অর্থ বছরের ছয় মাস শেষ হতে বাকি থাকবে মাত্র এক মাস।

গল্পসল্প- 'হায়রে নাড়ি ছেঁড়াধন' by শিখা ব্যানার্জী

সময়ের পরিক্রমায় বাবা-মা একদিন বৃদ্ধ হয়ে পড়েন, হয়ে পড়েন অক্ষম, চলৎশক্তিহীন। শুধু অগাধ স্নেহ ছাড়া তখন সন্তানদের আর কিছুই দেয়ার থাকে না তাদের। কিন্তু অধিকাংশ সন্তানেরাই ভুলে যায়, কি করে তারা এত বড়টি হয়েছে। এর পেছনে কত নির্ঘুম রাত কেটেছে মায়ের, ছেলে-মেয়েদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে কত পরিশ্রম করতে হয়েছে বাবাকে। একদিন তারাও সংসারি হয়, হয় সন্তানের বাবা-মা, কিন্তু বাবা-মা'র যে গভীর আত্মত্যাগ, তার কোন অাঁচড় কাটে না তাদের কঠোর মনে।

গল্পসল্প- 'জননী ও জন্মভূমি' by শুভ রহমান

প্রথাবিরোধী গায়ক নচিকেতা এসেছিলেন সিডনিতে। বিতর্কিত গানের কথা, সুর ও ভঙ্গির মতো তাঁর কথাবার্তাও ভিন্ন ধরনের, মঞ্চ যেন তাঁর হাতের পুতুল। বাক্স্ফূর্তিতে মাতোয়ারা নচিকেতা বাঙালি জীবনে বাবার ভূমিকার কথা বলছিলেন, অভিযোগ করছিলেন, মাকে নিয়ে, মার উদ্দেশে, মাকে ঘিরে যত গান, কবিতা, ইমোশন, বাবাকে নিয়ে ততোটা হয় না। বাবার কি কোনো ভূমিকা নেই? সন্তান কি বাবার কাছেও ঋণী নয়? তার এই বক্তব্য পুরুষ দর্শকদের মনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল এবং এটাই স্বাভাবিক। তাৎক্ষণিক ভালো লাগায় হাততালি দিতে দিতে এক সময় নিজের অজান্তেই থেমে গেল হাতে দুটো।

গল্পালোচনা- ''বিভীষণ' বিদায় ও হরতাল সমাচার' by শুভ রহমান

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বহিষ্কার নিয়ে বাজার সরগরম। দুই দিন ধরে তা 'টক অব দ্য কান্ট্রি'। পত্রিকান্তরে 'বিভীষণ' বিদায় নিয়ে কার্টুনও আঁকা হয়েছে। সাবেক এই তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন আগেই লাইমলাইটে এসেছিলেন জাতীয় ঐকমত্যের জন্য দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে। তখনো বিএনপি মহলের ভেতরে তাই নিয়ে সমালোচিত হচ্ছিলেন। তারপর হঠাৎ বাড়ি আর হরতাল নিয়ে বক্তব্য রেখে দল থেকে বহিষ্কৃতই হয়ে গেলেন। বিএনপি তাঁকে ঘরের শত্রু বিভীষণবৎ বিদায় করে দিলেও বিএনপির বিভিন্ন সময়কার গণবিরোধী ভূমিকার কারণে তাঁর প্রতিবাদী ও স্পষ্ট বক্তব্যে দেশবাসী চমৎকৃতই হয়েছে। ব্যারিস্টার হুদা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন করেও গণতান্ত্রিক মহলের প্রশংসা পেয়েছিলেন ও বিএনপির বিরাগভাজন হয়েছিলেন।

রিয়ালের বড়, চেলসির কষ্টার্জিত জয়

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া আঘাতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় অ্যাজাক্স আমস্টারডামকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর জিলিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে চেলসি। রিয়াল-চেলসির জয়ের রাতে অজিরের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে হেসেছে এসি মিলানও। কিন্তু ব্রাগার কাছে ০-২ গোলে হেরে গেছে আর্সেনাল।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের কাছে পাত্তাই পায়নি অ্যাজাক্স। তাদেরকে বিধ্বস্ত করে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে লা লিগা জায়ান্টরা। এ ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে গত মাস থেকে এ পর্যন্ত ১২ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলসংখ্যা ১৭।
এদিকে খেলার মাত্র ১৯ মিনিটে গোল খেয়ে বসেছিল চেলসি। প্রথমার্ধ কাটে পিছিয়ে থেকেই। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে সমতায় আসে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। এরপর গোল আসছিল না কিছুতেই। ৮৬ মিনিটে গোল করে চেলসিকে কষ্টার্জিত জয়টা এনে দেন মালোদা।

প্রথম টেস্টেই খেলছেন ক্লার্ক

কিছুটা শঙ্কা ছিল মাইকেল ক্লার্ককে নিয়ে। ইনজুরিতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার এই সহ-অধিনায়ক খেলতে পারবেন কি না, এ নিয়ে। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে কাল বৃহস্পতিবারই মাঠে নামছেন তিনি। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠেয় প্রথম টেস্টের ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক।
অ্যাশেজ লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি নিয়ে মাইকেল ক্লার্ককে মাঠে নামানো হচ্ছে কি না প্রশ্নে অধিনায়ক রিকি পন্টিং বিবিসিকে বলেন, ‘এখানে কোনোভাবেই ঝুঁকির বিষয়টি জড়িত নেই। গত কয়েক দিনে দ্রুত উন্নতি হয়েছে ক্লার্কের। ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোনো দিকেই সমস্যা হচ্ছে না তাঁর।’ এরপর পন্টিং যোগ করেন, ‘অ্যাশেজ এমন একটা লড়াই, যেখানে কাউকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা দলের জন্য বিপজ্জনক। কেউ দলের বাইরে চলে যাক, এমনটা চাই না আমরা। এর জন্য নেটে যত বেশি সম্ভব ব্যাটিং করানো হয়েছে ক্লার্ককে।’

আবুধাবি টেস্ট ড্র

গতকালের ১৭৩ রানের সঙ্গে আর ৩০ রান যোগ করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে একটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। এতে ৩৫৩ রানের লিড দাঁড়ায় আফ্রিকার। জয়ের জন্য ৩৫৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১৫৩ রান তোলে। এরপর ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৌফিক ওমর ও মোহাম্মদ হাফিজ ১৯ ওভার ব্যাট করে ৬৬ রান সংগ্রহ করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বোথার বলে তৌফিক (৩০) এবং হ্যারিসের বলে হাফিজ (৩৪) ও ইউনুস খান (০) রানে ফিরে গেলে ৬৬ রানেই পাকিস্তান ৩ উইকেট হারায়। এরপর আর উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। বাকিটা সময় ব্যাট করেন মিজবাহ-উল-হক ও আজহার আলী। আজকের দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত মিজবাহ (৫৮) ও আজহার (২৮) রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করা দক্ষিণ আফ্রিকা আজ বুধবার সকালে বাউচারকে (১৫) হারিয়ে আরও ৩০ রান যোগ করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। ম্যাচ জয়ের জন্য মরিয়া স্মিথ এ নিয়ে এই টেস্টের দুই ইনিংসই ঘোষণা করলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তোলে। এ সময় প্রিন্স ৪৭ ও বোথা ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন। হাশিম আমলা করেন ৬২ রান। পাকিস্তানের পক্ষে ৩ উইকেট নেন আবদুর রেহমান। এর আগে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে আজহার আলীর ৯০ ও মিসবাহর ৭৭ রানের সুবাদে সব উইকেট হারিয়ে ৪৩৪ রান করে। এতে ১৫০ রানের লিড পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেল স্টেইন ৪ ও পল হ্যারিস ৩ উইকেট নেন।
অন্যদিকে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ডি ভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ার সেরা হার না মানা ২৭৮ ও ক্যালিসের ১০৫ রানে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫৮৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের অভিষিক্ত পেসার তানভির আহমেদ নেন ৬ উইকেট।

উজেবেকিস্তান দলে আরেক ডোপপাপী!

এশিয়ান গেমসকে আরেক দফা কলঙ্কিত করলো উজবেকিস্তান। গত শুক্রবার দেশটির একজন অ্যাথলেট ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল আজ বুধবার জানিয়েছে, ডোপ টেস্টে উজবেকিস্তানের আরও একজন অ্যাথলেট উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছেন!
অলিম্পিক কাউন্সিলের মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান গুয়াংজুতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত আমরা মোট এক হাজার ১৬২টি টেস্টে করেছি। ফলাফল পেয়েছি এক হাজার ৯০টির। এর মধ্যে অন্তত দুজন অ্যাথলেট ডোপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট, এ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে যে দুজন অ্যাথলেট ডোপ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা দুজনেই উজবেকিস্তানের।

সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরিতে বিপদ কাটিয়েছে শ্রীলঙ্কা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বিপদে পড়লেও দ্বিতীয় দিন শ্রীলঙ্কাকে পথে ফিরিয়ে এনেছেন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। তাঁর শতকের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৯৪ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। দিন শেষে সাঙ্গাকারা অপরাজিত আছেন ১৩৫ রান নিয়ে। অন্য প্রান্তে ১২ রানে অপরাজিত প্রসন্ন জয়াবর্ধনে।
মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে পানি পানের বিরতির পরপর বৃষ্টি নামায় খেলা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি।
গতকালের ৩ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ বুধবার খেলা শুরু করে স্বাগতিকরা। আগের দিনের অপরাজিত সাঙ্গাকারা ও থিলান সামারাবিরা বিপদ কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে পথে ফিরিয়ে আনেন। এই দুই ব্যাটসম্যান দলের খাতায় যোগ করেন আরও ১২০ রান।
দলীয় ২০৪ রানের মাথায় ব্রাভোর বলে শিলিংফোর্ডের হাতে ধরা পড়ার আগে সামারাবিরা করেন ৮০ রান। এ রান করতে ১৭০ বল খেলেছেন তিনি। চার মেরেছেন আটটি ও ছক্কা একটি। তিনি দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ২৬ রান নিয়ে।
সামারাবিরা সাজঘরে ফেরত গেলেও ব্যাট করতে থাকেন সাঙ্গাকারা। করেন ২৪তম টেস্ট শতক। আগের দিনের ২৫ রানের ইনিংসটিকে আজ টেনে নিয়ে যান ১৩৫-এ। সাঙ্গাকারা এ রান করতে খেলেন ২৫২ বল। ইনিংসটি সাজান ১৬টি চার ও একটি ছক্কায়। এরপর বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।
এর আগে ২৭৩ রানের মাথায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ২৫ রান করে কেমার রোচের বলে ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। রোচ ৬৬ রানে নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া একটি করে উইকেট নেন অধিনায়ক ডারেন সামি ও ব্রাভো। এ জন্য সামি দেন ৪৭ ও ব্রাভো ৬১ রান।
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ড্র হয়। তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ১ ডিসেম্বর।

খবর- হরতালের বিরুদ্ধে একজোট, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

হরতালের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। এক মাসে দুটি হরতাল কর্মসূচিতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা গতকাল বুধবার বৈঠক করে এ থেকে বাঁচার পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, হরতাল ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ জন্য তাঁরা সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে হরতাল না দেওয়ার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, দেশের অর্থনীতির জন্য হরতাল একটি ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি এবং এর ফলে দেশের জনগণের পরিবর্তে উপকৃত হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো। এ অবস্থায় কোনো কোনো ব্যবসায়ী নেতা আইন করে হলেও হরতাল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

পেছাল সাফ মহিলা ফুটবল

আগামী মাসের ৪ তারিখ থেকে কক্সবাজারে শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রথম সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোর মেয়েদের এই ফুটবল প্রতিযোগিতা পিছিয়ে গেল সপ্তাহ খানেক।
গত পরশু মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভায় ঠিক হয়েছে, কক্সবাজারের এই টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ১২ ডিসেম্বর, শেষ ২৪ ডিসেম্বর। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সাফ কমিটি।

চট্টগ্রাম পর্বের অনুশীলন শেষ

তিন দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষ করে বাংলাদেশ দল গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম ছেড়েছে। যাওয়ার আগে কোচ-খেলোয়াড়েরা বলে গেলেন, আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য প্রস্তুতির শুরুটা চট্টগ্রামে ভালোই হয়েছে। বিশ্বকাপ সামনে রেখেও বাংলাদেশ দলের চোখ আপাতত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু পাঁচ ওয়ানডের জিম্বাবুয়ে সিরিজের দিকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বরাবরই ভালো খেলার রেকর্ড শাহরিয়ার নাফীসের। তাঁর চারটি সেঞ্চুরির তিনটিই এই দলের বিপক্ষে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী শাহরিয়ার, ‘খেলার সুযোগ পেলে ভালো ব্যাটিং করার চেষ্টা করব। চট্টগ্রামের ক্যাম্পটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমরা প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রামে এসেছি।’ চট্টগ্রামে তিন দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করে সন্তুষ্ট দলের সবাই। কাল শেষ দিনে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং প্র্যাকটিসের পাশাপাশি দুই দলে ভাগ হয়ে ম্যাচও খেলেছেন ক্রিকেটাররা।
জাতীয় দলের বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট অ্যাঙ্কেলের চোট কাটিয়ে ফেরা মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখে বেশ সন্তুষ্ট। ঢাকা ফেরার আগে পন্ট বলেছেন, ‘মাশরাফির ফিটনেসের ব্যাপারে আমি খুবই খুশি। সমস্যা ছাড়াই সে পুরো রানআপে বল করতে পারছে। অন্য যাদের ছোটখাটো ইনজুরি আছে, তারাও সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠবে আশা করি।’
এ রকমই দুই ক্রিকেটার জুনায়েদ সিদ্দিক ও রুবেল হোসেন। জুনায়েদের সমস্যা কুঁচকিতে, রুবেলের পিঠে। ঝুঁকি এড়াতে কাল অনুশীলনে নামেননি দুজনের কেউই। তবে দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান জানিয়েছেন, কারও চোট নিয়েই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কাল থেকে ঢাকায় দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করবেন জুনায়েদ-রুবেল।
চট্টগ্রামের ক্যাম্প নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আউটফিল্ড স্লো বলে মন্তব্য করেছেন বোলিং কোচ পন্ট। এ ছাড়া এখানকার উইকেটও পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে হয়নি তাঁর কাছে।

সাঙ্গাকারা কি ভুলই করলেন

আগের রাতের বৃষ্টিতে মাঠ এতটাই অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল যে, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে কাল লাঞ্চের আগে খেলা শুরুই হলো না। কিন্তু যখন হলো, চমক দিয়েই শুরু হলো। বৃষ্টিভেজা সিমিং কন্ডিশনে টসে জিতে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা কিনা নিলেন ব্যাটিং!
উইকেট একেবারেই নতুন। সেটাও যদি আবার মরীচিকা হয়ে ধরা দেয়, সাঙ্গাকারার আর কী দোষ? একদিকে সিমিং কন্ডিশন। অন্যদিকে উইকেট দেখে নাকি তাঁর মনে হচ্ছিল সেটা অনেকটাই শুকিয়ে এসেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে টসে জিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ তো কঠিন হবেই। সাঙ্গাকারা সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বললেন, শেষ দিকে উইকেটে স্পিন ধরবে। তবে দেরিতে শুরু হয়ে আলোকস্বল্পতার জন্য বেশ আগেই শেষ হয়ে যাওয়া কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন শেষে লঙ্কান অধিনায়কের নতুন উপলব্ধি হতে পারে—অনেক ভেবেচিন্তে একটা ভুল সিদ্ধান্তই বুঝি নিলেন! ৩৪ রানেই পড়ে গেছে ৩ উইকেট। সারা দিনে যে ৩৭.২ ওভার খেলা হয়েছে, তাতে ওই ৩ উইকেট হারিয়েই শ্রীলঙ্কার রান ৮৪। অবশ্য সাঙ্গাকারার জন্য একটা সান্ত্বনার বাণী হতে পারে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির কথা। টসে জিতলে নাকি তিনিও আগে ব্যাটিং নিতেন!
সাঙ্গাকারার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে খুশি হয়েছেন নিশ্চয়ই কেমার রোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিতারকাই ফিরিয়েছেন শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনারকে। মাহেলা জয়াবর্ধনেকে বোল্ড করে রোচের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছেন স্যামি। এরপরই থিলান সামারাবীরার সঙ্গে সাঙ্গাকারার ৫০ রানের জুটি।

নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন না দেওয়ায় ১২ কোম্পানিকে জরিমানা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ১২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ডেল্টা স্পিনার্স, দেশ গার্মেন্টস, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড, ইস্টার্ন কেব্লস, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস অ্যান্ড ব্লেন্ডারস, যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা অয়েল কোম্পানি এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এর মধ্যে শেষের ছয়টিই সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্তানুযায়ী সব কোম্পানিকেই নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা যাতে সম্যক ধারণা পান, সে জন্য এ প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সেই আইন ঠিকভাবে পরিচালন করছে না, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
ডিএসই সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক বছর শেষ হওয়ার চার মাসের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরও ১৪ দিন সময় পায় কোম্পানিগুলো। সেই হিসাবে ১৪ নভেম্বর কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দিন শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ৫১টি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

১৩ কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করেছে এসইসি

অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ গতকাল মঙ্গলবার এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।
কোম্পানিগুলো হলো: সোনালী আঁশ, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপস, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডায়িং, এমবি ফার্মা ও সিএমসি কামাল। এর মধ্যে সোনালী আঁশ, বাংলাদেশ অটোকারস, দেশ গার্মেন্টস ও সিএমসি কামাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত নয়। সেই হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জটি অপর নয়টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করেছে।
জানা গেছে, গতকাল লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। এতে এসব শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা বেশ খোশমেজাজেই ছিলেন। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির সদস্য মনসুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েক দিন ধরে যেভাবে বেড়েছে, তা এসইসির কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতেই কোম্পানিগুলোর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মনসুর আলম বলেন, কোম্পানিগুলোর লেনদেনে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কি না, এসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ তা খতিয়ে দেখছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কাছে এসব কোম্পানির লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লেনদেন বন্ধ হওয়া কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তাদের তালিকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারাও রয়েছেন। সিএমসি কামালের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্র জানায়, সিএমসি কামাল ১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর কয়েক বছর লভ্যাংশ দিলেও ২০০৪ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এর মধ্যে দুই বছর বার্ষিক সাধারণ সভাও (এজিএম) করতে পারেনি কোম্পানিটি। ফলে কোম্পানিটির ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে আসে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতার আসার পর থেকে শেয়ারটি আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। এক বছর আগেও শেয়ারটি ১৩০ টাকার মধ্যেই লেনদেন হতো। তবে সদ্য সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভাংশ দিলে শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীকালে একটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ঘোষণা এবং অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় পরিবর্তন করার পর শেয়ারটি আরও দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। লেনদেন স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ারটি সর্বোচ্চ ২৯৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ গত এক বছরে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ২৩ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই ২৭৮ দশমিক ৪। এর মানে হলো, কোম্পানিটি যদি বর্তমান হারে আয় করে, তাহলে সর্বশেষ দামে যে বিনিয়োগকারী শেয়ারটি কিনেছেন, তাঁর বিনিয়োগের সমপরিমাণ অর্থ আয় করতে কোম্পানিটির ২৭৮ বছরেরও বেশি সময় লাগবে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোম্পানিটির অন্যতম উদ্যোক্তা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় এসইসি কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির বিষয়টি কখনো তেমনভাবে আমলে নেয়নি। আর এ সুযোগে কিছু বিনিয়োগকারী কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারটির দাম বাড়িয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আ হ ম মোস্তফা কামাল কোম্পানির উদ্যোক্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজার যে পরিস্থিতিতে গিয়েছে, তাতে এসইসির উচিত ‘প্রাইস ব্রেকার’ চালু করা।
নাম প্রকাশ করার শর্তে অপর একজন উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির শেয়ারের দাম এত হওয়া উচিত নয় এটা যেমন ঠিক, তেমনি লেনদেন বন্ধ করাটাও কোনো সমাধান নয়।
ঢাকা ডায়িংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ৯০ টাকার ঘরে লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিটির পিই ১৪৩ দশমিক ২৪। মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এ কোম্পানিটির আয় ঋণাত্মক বলে জানিয়েছে ডিএসই। এ ছাড়া তাল্লু স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকসেরও পিই ঋণাত্মক।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এমবি ফার্মার পিই ২১২ দশমিক ৯৪, দেশ গার্মেন্টসের ৪২০ দশমিক ৩৯, সোনালী আঁশের ৮৬ দশমিক ৫৪, বিডি অটোকারসের ১১৫ দশমিক ৪৩, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৩৩৫ দশমিক ৭, আজিজ পাইপের ১১০ দশমিক ৬১ এবং মিথুন নিটিংয়ের পিই ১৩০ দশমিক ৭। পুঁজিবাজারের নিয়মানুযায়ী এসব কোম্পানির কোনোটিই ঋণসুবিধা পাওয়ার কথা নয়।
তবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিথুন নিটিং জানিয়েছে, তাদের কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে এবং কোম্পানিটি ঋণের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকালের প্রথম আলোতে ‘দাম বেড়ে ২৬ কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর পরই অতিমূল্যায়িত শেয়ারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে একইভাবে দাম বাড়ার পরও সিনোবাংলা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, কে অ্যান্ড কিউ, মুন্নু সিরামিকস, ইমাম বাটন, এইচ আর টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, অ্যাপেক্স স্পিনিং, রহিম টেক্সটাইল, ন্যাশনাল পলিমার, মুন্নু স্টাফলার, চিটাগাং ভেজিটেবল, মুন্নু জুটেক্স, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল ও লিবরা ইনফিউশনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আজও দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত

অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কারণে আজ বুধবার দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কোম্পানি দুটি হলো—রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড।
গত কয়েক দিন অব্যাহতভাবে কোম্পানি দুটির দাম বৃদ্ধি পায়। শেয়ার দুটির প্রতিটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। আজ লেনদেন বন্ধের আগে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ২৩১ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ২,৫৪৩ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ২,৩১২ টাকা। এ ছাড়া দুলামিয়া কটনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৫ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ৫১৫.২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। গতাকাল এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ৪৪০.২৫ টাকা।
প্রসঙ্গত, অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার অভিযোগে গতকাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোম্পানিগুলো হলো—সোনালী আঁশ, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপস, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডায়িং, এমবি ফার্মা ও সিএমসি কামাল। এর মধ্যে সোনালী আঁশ, বাংলাদেশ অটোকারস, দেশ গার্মেন্টস ও সিএমসি কামাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত নয়। সেই হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জটি অপর নয়টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করেছে।

রূপালী ব্যাংকের ২৪.৫৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়া হচ্ছে

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ অর্থাত্ ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৮০টি শেয়ার ছাড়া হচ্ছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারগুলো ছাড়া হবে বলে জানা গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে রূপালী ব্যাংকের ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন দুই হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।
রূপালী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা এবং ১০টি শেয়ারে একটি মার্কেট লট। আজ বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ৯৩৯ টাকায় বিক্রি হয়।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে আরও শক্তিশালী হওয়ার পরামর্শ এসইসির

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছে। কমিশন একই সঙ্গে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ডিএসই ও সিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের শাখাগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করারও পরামর্শ দিয়েছে। আজ বুধবার এসইসির কার্যালয়ে ডিএসই ও সিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার এসইসির নির্দেশে ডিএসইতে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। ডিএসই চাইলে আগেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারত। আমরা আশা করি, ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ আরও বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। তারা শক্তিশালী হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’
ফরহাদ আহমেদ আরও বলেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ব্রোকারেজ হাউসগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা আরও বেশি তদারকি করার পরামর্শ দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া হয়েছে। এসইসিতে অভিযোগ আছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এক নামে নিবন্ধন (সনদ) নিয়ে অন্য ব্যক্তিদের দ্বারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ আহমেদ বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন (সনদ) বাতিল করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।

ডিএসইতে আজ চাঙা ছিল ব্যাংক খাত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ চাঙা ছিল ব্যাংক খাত। এ ছাড়া আজ সাধারণ সূচক আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ও বাজার মূলধন। তবে আর্থিক লেনদেন কিছুটা কমেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। সারা দিনই ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনে চাঙাভাব দেখা যায়। দিন শেষে দেখা যায় ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টিরই শেয়ারের দর বেড়েছে। একই সঙ্গে আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১১৮ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বেড়ে ৮৬৭২ দশমিক ৯০ পয়েন্টে দাঁড়ায়, যা ডিএসইর সর্বোচ্চ রেকর্ড। আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ১০৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির।
আজ ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৬৯৩ কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৪৩ কোটি টাকা কম।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, ইউসিবিএল, এনসিসি ব্যাংক, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনবিএল, এসপি সিরামিক ও স্কয়ার টেক্সটাইল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দর। এ ছাড়া সায়হাম টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স, বঙ্গজ, রহিম টেক্সটাইল, ফুওয়াং ফুড, এনসিসি ব্যাংক, অ্যাপেক্স ফুড ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে অ্যাকটিভ ফাইনের শেয়ারের দর। এ ছাড়া ইমাম বাটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, কোহিনুর কেমিক্যাল, জেমিনি সি ফুড, জুট স্পিনার্স, রহিমা ফুড, ডেল্টা স্পিনিং ও পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স দর কমে যাওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩,৬২,১৮৫ কোটি টাকা।

গরিবদের সহায়তা করতে গাড়ি নিলামে দিচ্ছেন আহমাদিনেজাদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ একটি আবাসন প্রকল্পে সহায়তার জন্য নিজের গাড়ি নিলামে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা জানানো হয়।
টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিলামে গাড়িটি বিক্রির পর অর্জিত অর্থ মেহের আবাসন প্রকল্পে দান করা হবে। স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে ইরান সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সমাজকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী সাদেক মাহসুলিকে উদ্ধৃত করে ওয়েবসাইটে বলা হয়, মেহের আবাসন প্রকল্পে সহায়তার জন্য আহমাদিনেজাদ তাঁর গাড়িটি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, গাড়িটি আন্তর্জাতিক নিলামে বিক্রি করা হবে।
আহমাদিনেজাদ যে পিজো গাড়িটি নিলামে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি ১৯৭৭ সালের ৫০৪ মডেলের।
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ক্ষমতার প্রথম মেয়াদকালে বাড়িঘরের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘আবাসন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে’ তাঁর কর্মসূচির তালিকায় ওপরের দিকে রাখার ঘোষণা দেন।

ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ডে ২৬ মাওবাদী নিহত

ভারতের মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ড রাজ্যে গতকাল মঙ্গলবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২৬ মাওবাদী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ছত্তিশগড়ে ২৫ জন ও ঝাড়খন্ডে একজন মারা গেছে।
জানা যায়, যৌথ বাহিনীর একটি দল গতকাল সকালে ছত্রিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলার জগড়গুন্ডা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মাওবাদীদের সঙ্গে তাদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২৫ জন মাওবাদী নিহত হয়। দান্তেওয়াড়ার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২৫ মাওবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষে যৌথ বাহিনীর কোনো সদস্যের মৃত্যু হয়নি বলে তিনি জানান।
এদিকে ঝাড়খন্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ঘাটশিলার কাছে বারদি গ্রামে ভোরের দিকে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের এক এরিয়া কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম অরূপ মুচি। জানা যায়, গত সোমবার রাতে মাওবাদীদের একটি দল ওই এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী রাতেই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। গতকাল সকালে তল্লাশি চালাতে গেলে দুই পক্ষে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে মাওবাদী নেতা অরূপ মুচি মারা যান। অন্যরা পালিয়ে গেলেও একজন ধরা পড়েছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাড়ির মালিককেও।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুরায় এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক মাওবাদীকে আটক করেছে পুলিশ। ১৫ বছরের ওই মাওবাদীর নাম সুকুরমণি শোরেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুকুরমণি অস্ত্র চালাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

অবসরে যেতে চান দালাই লামা

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা (৭৫) ভারতের ধরমশালায় অবস্থিত তিব্বতের সরকারপ্রধানের পদ থেকে আগামী বছর অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কাজের চাপ ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব কমানোর জন্য তিনি এই পরিকল্পনা করেছেন।
সম্প্রতি একটি টিভি অনুষ্ঠানে দালাই লামা বলেন, এ বিষয়ে তিব্বতের রাজনৈতিক নেতা ও নির্বাসিত পার্লামেন্টের সঙ্গে কথা বলার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবসরের কথা পার্লামেন্টকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে তিব্বতে রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার পর থেকেই তিনি নির্বাসনে রয়েছেন। কারণ রাজনৈতিক নেতারাই তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দালাই লামা এটাকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বলে মনে করেন।
১৯৫৯ সালে তিব্বতে চীন শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন দালাই লামা। এরপর তিনি তিব্বত থেকে পালিয়ে এসে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার ধরমশালায় তিব্বতি সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। তবে কোনো দেশই এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
দালাই লামার মুখপাত্র তেনজিন তাকলা জানান, দালাই লামা আনুষ্ঠানিক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করলেও আধ্যাত্মিক নেতার দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি দালাই লামা তিব্বতিদের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন বলে তিনি জানান।
তাকলা আরও জানান, আগামী মার্চে পার্লামেন্টের অধিবেশনে দালাই লামা তাঁর অবসরের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। এরপর পার্লামেন্টে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৯৮৯ সালে দালাই লামা শান্তিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।

দখল করা ভূমি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলে বিল পাস

দখল করে রাখা গোলান মালভূমি ও পশ্চিম তীরের জমি ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করে একটি বিল অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। গত সোমবার ৬৫-৩৩ ভোটে বিলটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি সরকার এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
নতুন এই বিল অনুযায়ী, অধিকৃত ওই সব এলাকার জমি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিআমিন নেতানিয়াহু এই বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই বিল কোনো ধরনের অবিবেচক চুক্তির সম্ভাবনাকে ঠেকাবে।’ বিলের প্রস্তাবক লিকুদ পার্টি থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য ইয়ারিভ লেভিন বলেন, জনগণের ঐক্য ধরে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করবে এই উদ্যোগ।
এদিকে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে ফিলিস্তিনি পক্ষের প্রধান মধ্যস্থতাকারী শায়েব এরকাত বলেন, ‘এই বিল অনুমোদন করার মাধ্যমে ইসরায়েল সরকার আরও একবার আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি উপহাস করেছে। আমাদের জমির ওপর থেকে দখলদারির অবসানের বিষয়টি কোনো ধরনের ভোটের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বিল অনুমোদন করায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠবে। কারণ যেকোনো ইসরায়েলি সরকারের পক্ষে অধিকৃত ভূমি থেকে দখল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
ইসরায়েল গোলান মালভূমি ও পশ্চিম তীরের ওপর সার্বভৌম অধিকার দাবি করে। কিন্তু গোলান মালভূমি সিরিয়ার এবং পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের অংশ। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায়। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের ব্যাপারে সিরিয়া অবশ্য তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

ওবামাকে ‘সেরা সাপুড়ে’র পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘সেরা সাপুড়ে’র পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। তিনি ন্যাটোকে ‘সামরিক মাফিয়া’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি আফগানিস্তানে যুদ্ধের নামে গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ১৯ ও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক নিবন্ধে কাস্ত্রো এসব মন্তব্য করেন। গতকাল সোমবার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।
কাস্ত্রো ন্যাটোকে ‘আগ্রাসী জোট’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ন্যাটো কোটি কোটি মানুষের দরিদ্রতা, বেকারত্ব এবং খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সংকটকে অগ্রাহ্য করছে। কাস্ত্রো ন্যাটোকে ‘শিকারি পাখি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে ব্যবহার করে আফগানিস্তানে যুদ্ধের নামে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।
লিসবন সম্মেলনে ঘোষিত ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির সেনাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে আখ্যা দেন কাস্ত্রো। পরাজয়ের মুখে পড়লে ন্যাটো আফগান সেনাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।
৮৪ বছর বয়সী কাস্ত্রো বলেন, কেবল নিজেদের স্বার্থে এই যুদ্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তারা বিশ্বের জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘ওবামা এরই মধ্যে স্বীকার করেছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্থগিত করতে হতে পারে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর এখন তাঁকে আমরা সেরা সাপুড়ের পুরস্কার দিতে পারি। এখন এটাই বাকি আছে।’

ইল্যান্ডে হলুদ শার্ট সমর্থকদের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ‘হলুদ শার্ট’ অনুসারীরা এ বিক্ষোভ করেন। এতে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ লোক অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, জনগণের মতামত না নিয়ে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করে প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। প্রস্তাবিত এই সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট দল সুবিধা পাবে।
২০০৮ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন আপিসিত। ওই আন্দোলনে আপিসিতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন হলুদ শার্ট সমর্থকেরা। কিন্তু ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে নানা ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে তাঁদের দূরত্বের সৃষ্টি হয়।
হলুদ শার্ট সমর্থকদের নেতা সোন্ধি লিমথংকুল বলেছেন, ‘আপিসিতের সত্যিকার চেহারা বেরিয়ে এসেছে। কেবল দেখতে সুন্দর হলে ও সুন্দর করে কথা বললেই জনগণের জন্য সব সময় তা মঙ্গল বয়ে আনে না। এখন সময় হয়েছে আপিসিতের ভেতরকার চেহারার ব্যাপারে সত্যটা প্রকাশ করার।’
প্রস্তাবিত সংশোধনের ওপর কাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এই প্রস্তাব নিয়ে দুই দিন ধরে বিতর্ক চলছে। হলুদ শার্ট সমর্থকেরাও এ নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

দুই কোরিয়ার সংঘর্ষের ইতিহাস

১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের পর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি:
২১ জানুয়ারি, ১৯৬৮: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক চাং হিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ব্লু হাউসে উত্তর কোরিয়ার একদল কমান্ডোর হামলা। কিন্তু প্রাসাদের মাত্র ৮০০ মিটার দূরে ওই কমান্ডো দলের ৩২ সদস্যকে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের আটক ও হত্যা করা হয়।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৪: ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট পার্ককে লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়ার এক এজেন্ট গুলি ছোড়েন। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী নিহত হন।
৯ অক্টোবর, ১৯৮৩: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চাং হু-এইচওয়ান এক সফরে মিয়ানমারে পৌঁছার ঠিক আগমুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার এক এজেন্টের আত্মঘাতী হামলায় দক্ষিণের চার মন্ত্রী ছাড়াও ১৬ জন নিহত হন।
২৯ নভেম্বর, ১৯৮৭: দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানে উত্তর কোরীয় এজেন্টের রাখা বোমার বিস্ফোরণে ওই বিমানের ১১৫ জন আরোহী নিহত হন।
সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬: উত্তর কোরিয়ার একটি সাবমেরিন দক্ষিণ কোরীয় উপকূলে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় উপকূলরক্ষীদের হামলায় ২৪ জন অনুপ্রবেশকারী নিহত হন। এ ছাড়া এক কমান্ডোকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৫ জুন, ১৯৯৯: পীত সাগরে সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে ২০ জন সেনাসদস্যসহ উত্তর কোরিয়ার একটি জাহাজ ডুবে যায়।
২৯ জুন, ২০০২: আবারও পীত সাগরে সংঘর্ষ। এতে ছয় সেনাসদস্যসহ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার ১৩ জন নিহত হন।
১০ নভেম্বর, ২০০৯: পীত সাগরে দুই দেশের নৌসেনাদের গুলিবিনিময়। সিউলের দাবি, গুলিতে উত্তরের একটি টহল নৌকায় আগুন ধরে যায়।
২৬ মার্চ, ২০১০: দুই দেশের বিতর্কিত জলসীমায় দক্ষিণ কোরীয় চেওনান যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ। ৪৬ জন নাবিক নিহত।
২০ মে, ২০১০: বহুজাতিক তদন্তে দাবি, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে চেওনানে ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
২৪ মে, ২০১০: উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সিউল। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জলসীমা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার জাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
২৯ অক্টোবর, ২০১০: সিউলে জি-২০ সম্মেলনের আগে সীমান্ত এলাকায় দুই কোরিয়ার সেনাসদস্যরা গুলিবিনিময় করেন।
২৩ নভেম্বর: উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়াইওনপিয়ং দ্বীপে গোলা ছোড়ে। দক্ষিণ কোরিয়াও এর জবাব দেয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার দুজন নৌসেনা নিহত হন।

শনাক্তকারী রোবটে ত্রুটি আরেকটি পাঠানো হচ্ছে

নিউজিল্যান্ডের খনি দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ২৯ শ্রমিকের অবস্থান শনাক্ত করতে গতকাল মঙ্গলবার নতুন একটি রোবট খনি এলাকায় পৌঁছেছে। এর আগে দূর-নিয়ন্ত্রিত একটি রোবট দুর্ঘটনাকবলিত খনির ভেতর পাঠানো হয়। ওই রোবটে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে।
প্রকৌশলীরা ওই খনিতে বায়ু চলাচলের জন্য একটি সুড়ঙ্গ খনন প্রায় শেষ করেছেন। এদিকে স্থানীয় পুলিশ বর্তমান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে। খনিতে আবারও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন প্রকৌশলীরা। উদ্ধারকাজের তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা হতাশা প্রকাশ করেন।
সাউথ আইল্যান্ডের গ্রে মাউথ এলাকার পাইক রিভার কয়লা খনিতে গত শুক্রবার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ২৯ শ্রমিক নিখোঁজ হন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন্য নিউজিল্যান্ডের, দুই জন অস্ট্রেলিয়ার, দুই জন ব্রিটেনের ও একজন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি পার্লামেন্টে বলেন, ‘নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মনের অবস্থা আমরা বুঝতে পারছি। তাঁদের মতো আমরাও কিছুটা হতাশ। শ্রমিকদের অনুসন্ধানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, শ্রমিকেরা সবাই বেঁচে আছেন। তাঁদের জন্য প্রার্থনাও করছি আমরা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত চার দিনে আমরা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’
স্থানীয় মেয়র টনি ককসর্ন বলেন, পরিস্থিতি বোঝার জন্য প্রথম রোবটটি খনির ভেতর পাঠানো হয়। কিন্তু ওই রোবটের ওপর পানি পড়ায় শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে। ফলে এটি আর কোনো কাজ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘এটা খুব হতাশার বিষয়। এখনো আমাদের এমন কথা শুনতে হচ্ছে।’
খনির ভেতরের অবস্থা বুঝতে একটি সুড়ঙ্গ খননের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন প্রকৌশলীরা। বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতর বিষাক্ত গ্যাস নিঃসৃত হচ্ছে। এ কারণে উদ্ধারকারী দল খনির ভেতর যেতে পারছে না। বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বুঝতেই ওই সুড়ঙ্গ খনন করা হচ্ছে।
উদ্ধার তৎপরতার সমন্বয়কারী পুলিশ সুপার গ্যারি নলেস বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। খনির ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার আশা ধীরে ধীরে কমে আসছে। আমাদের সবাইকে বাস্তববাদী হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব বিকল্প হাতে রেখে পরিকল্পনা করছি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা বেঁচে না থাকলে আমাদের করণীয় কী হবে—তা-ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
নলেস জানান, খনির ভেতর রোবট পাঠানো হয়েছে। সেখানে কোনো শব্দ বা নড়াচড়া হলে ওই রোবট সংকেত পাঠাবে। এ ছাড়া খনির ভেতরের বর্তমান অবস্থার ছবিও পাঠাবে।
ভিডিওচিত্র প্রকাশ: পাইক রিভার খনি বিস্ফোরণের সময় সিসি টিভিতে ধারণ করা ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের কয়েক সেকেন্ড পর খনির সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। একই ভিডিওচিত্রে ওই খনির প্রধান নির্বাহী পিটার হুইটল বলেন, বিস্ফোরণস্থলের আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে এই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকেরা সবাই বেঁচে আছেন।

আলোচনা- 'হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে কিছু কথা' by এয়ার কমোডর (অব.) মুহম্মদ জাকীউল ইসলাম

অক্টোবর ঊষালগ্নে আমাদের হজ ফ্লাইটের প্রথম ফ্লাইট মাটি ছেড়ে আকাশে উড়ল। এর এক মাস পর ১০ নভেম্বর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হলো হজ ফ্লাইট পরিচালনের প্রথম পর্যায়। বিমানের সর্বস্তরের কর্মচারীর চোখে তাই আনন্দাশ্রু। অসাধ্য সাধন করেছেন তাঁরা। টানা ৩২ দিনের নিরলস পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা বয়ে এনেছে সাফল্যের সংবাদ। পরম করুণাময়ের প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। রেকর্ডসংখ্যক দেশবাসীকে হজ পালনে জেদ্দা পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল বিমান!

শিল্প-অর্থনীতি 'কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেতন-কাঠামো' by খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন-কাঠামোর বাইরে এনে স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব এবং আলোচনা বহুদিনের। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নররা সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করেছিলেন। প্রস্তাবও পেশ করেছিলেন। 'অস্থায়ী' (রাজনৈতিক) সরকারের আপত্তি ছিল না। 'স্থায়ী' (আমলা) সরকারের বিরোধিতায় ফয়সালা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অর্থমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়ার পর আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি উত্থাপিত হয় এবং তিনি খোলামেলাভাবেই আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

স্মরণ- 'মীর শওকত আলী বীর উত্তম : একজন বীরের প্রতিকৃতি' by ড. আশকার ইবনে শাইখ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক মন্ত্রী লে. জে. (অব.) মীর শওকত আলীর পরলোকগমন অনেকটাই আকস্মিক বলা চলে। ২০ নভেম্বর ঢাকার গুলশানের বাসভবনে হঠাৎ থেমে যায় তাঁর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া। যদিও তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎই লিম্ফোমা নামে একধরনের ক্যান্সারে ভুগছিলেন; কিন্তু তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ সেটি নয় বলেই ঢাকা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি। মীর শওকত আলীর কথা নতুন করে বলা নিষ্প্রয়োজন। দেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন তাঁর অবদানের কথা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে তাঁর সাফল্য ছিল অসাধারণ। আর এ জন্যই তাঁর খেতাবও জুটেছিল বীর উত্তম। অসীম সাহসী, স্পষ্টবাদী, ত্যাগী, মুক্তিযুদ্ধের এই সমরনায়ককে দেখেছি রণাঙ্গনে। বয়স তখন আমার পঁচিশের কোঠায়। কয়েকবার তাঁর সঙ্গে অস্ত্র হাতে কথাও হয়েছে। এসব ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে এই নিবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি করা আমার উদ্দেশ্য নয়, তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতেই আজ তাঁকে নিয়ে কয়েক লাইনের এই নিবন্ধ।

আন্তর্জাতিক- 'মিয়ানমারে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ' by আহসান হাবীব

আজকের দুনিয়ায় গণতন্ত্রের আন্দোলনে সবচেয়ে আলোচিত নাম অং সান সু চি। আশা ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে তাঁর মুক্তি বিশ্ববাসীর কাছে ছিল অত্যন্ত আনন্দের ও সুখকর মুহূর্ত। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অন্যদের থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছে। তিনি হাল ছাড়েননি। মুক্তির পর জনগণের যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তাতে বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কি পারবেন মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে? স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাতে কিংবা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব অগ্রগতি কি হবে?

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বিচিত্র সংকটের আবর্তে একটি বাড়ি' by এবিএম মূসা

বিরোধী দল ‘সর্বাত্মক আন্দোলন’ করবে; হরতালের মাধ্যমে সেই আন্দোলন শুরু করেছেও বলা যায়। আন্দোলনের উদ্দেশ্য আপাতত মনে হয় দুটি। একটি হচ্ছে, সরকারের পতন ঘটাতে হবে, কারণ তারা সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ। অপরটির মূলে একটি বাড়ি। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সংরক্ষিত এলাকার বাড়িটি ত্যাগ অথবা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। একটি হরতাল হয়ে গেছে অথবা করানো হয়েছে, আরেকটি হবে। ‘হরতাল’ আন্দোলনের অতি সহজ পন্থা। বিরোধী দল একটি হরতালের ডাক দিয়ে প্রায় দুই বছর পর আমাদের জাতীয় ‘আন্দোলনের’ চিরাচরিত প্রকারটি নতুন করে ঝালাই করে নিচ্ছে।

ইতিহাস- 'হাজংমাতা শহীদ রাশিমনির স্মৃতিসৌধে' by দীপংকর চন্দ

রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের গল্প। মেঘমুক্ত নীল আকাশের গল্প। দুরন্ত বাতাসের মাতামাতির গল্প। নানা ধরনের গল্প শুনতে শুনতে সামনে এগোলাম আমরা। সোমেশ্বরী নদী অতিক্রম করে শিবগঞ্জ বাজার থেকে রিকশা নিয়ে পেরিয়ে এলাম কত কত মায়াবী পথ! ছায়াচ্ছন্ন পাখিডাকা সেই সব পথের দুধারে সবুজ শস্যসাগর। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো একটি-দুটি গ্রাম শস্যসাগরের মাঝে ভাসছে যেন! এসব দেখতে দেখতেই আমরা প্রবেশ করলাম বহেরাতলীতে। ছোট্ট সুন্দর এই গ্রামের শান্ত পথ ধরে কিছুক্ষণ চলার পর সচকিত হলাম হঠাৎ।

ডিজিটাল-প্রযুক্তি কি মানবতাবিরোধী প্রবণতা তৈরি করে? by মোহীত উল আলম

কয়েক বছর আগে প্রথম আলোর এক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে একটি প্রহসনমূলক নাটিকা দেখানো হয়েছিল। বিষয়বস্তু ছিল নদীভাঙনের ওপর। নদীপারের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল। গরু-মোষ নিয়ে চাষিরা পরিবারসহ চরম বিপাকে পড়েছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের একাধিক সাংবাদিক দল গিয়ে তাদের দুরবস্থার দিকে না তাকিয়ে সেটিকে পুঁজি করে ভিডিওচিত্র ধারণ করে যাচ্ছিল। এক তরুণী সাংবাদিক একের পর এক চাষিদের স্পট ইন্টারভিউ করছিল, যা সরাসরি টিভিতে সম্প্রচারিত হচ্ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির অনুপম উন্নতির ফলে মানুষের দুরবস্থাকে সহজে সংবাদের বিষয় করে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু তাদের দুরবস্থা লাঘবের কোনো চেতনা ওই উৎসাহী যুব-সাংবাদিক দলগুলোর মধ্যে ছিল না। নাটিকার খোঁচাটি দারুণ লাগলেও ভুলে গিয়েছিলাম।