Thursday, November 14, 2019

নিরাপদ ট্রেন যাত্রায় বিশ্বাস ভঙ্গ by ইব্রাহিম খলিল

ট্রেনে যাত্রা খুব একটা সুখকর নয়। চট্টগ্রাম-সিলেট ও ঢাকা রেলপথে তূর্ণা নিশীথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলার কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি ছাড়া আর কোন বগির সিট আরামদায়ক নয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিগুলোতেও ঠাঁই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে যাত্রীরা। যা ভুক্তভোগী ট্রেন যাত্রী ছাড়া আর কারো বুঝার কথা নয়। এরপরও ট্রেন যাত্রাকে সকল যাত্রার চেয়ে মোটামুটি নিরাপদ ভাবা হয়। এরমধ্যে ভুক্তভোগী যাত্রী যেমন রয়েছেন, তেমনি ট্রেন যাত্রা এখনও হয়নি এমন লোকও রয়েছেন।

ট্রেন যাত্রাকে নিরাপদ ভাবার মূল কারণ হচ্ছে-একমুখো রেলপথ। শিডিউল মোতাবেক ট্রেন চলাচল।
ফলে সড়ক ও জলপথের মতো বাস, মাইক্রো, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি এবং জলপথে লঞ্চসহ সব রকমের যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার আশঙ্কা কম। এ পর্যন্ত তেমন একটা ঘটনা ঘটেওনি। ফলে সড়ক ও জলপথের চেয়ে রেলপথে ট্রেনযাত্রাকেই নিরাপদ ভাবে মানুষ। সে হিসেবে ট্রেনে যাত্রীর ভিড়ও নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। উৎসব-পার্বনে তো বাঁদুরঝোলা যাত্রীর মাঝে ঢাকা পড়ে ট্রেন। রেলপথে তখন শুধু মানুষের গতিই দেখা যায়। আর স্বাভাবিক সময়ে এমন কোন দিন নেই, যেখানে যাত্রী সংকট। টিকিট সংগ্রহে শোনা যায়, ট্রেনের টিকিট নাই আর নাই। যদিও কালোবাজারে ট্রেনের টিকিটের কোন অভাব নেই।  ট্রেনযাত্রার উপর মানুষের যখন এতই আস্থা। ঠিক সেই সময়ে সে আস্থায় চির ধরাল মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। গত মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন তূর্ণা-নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন উদয়ন এক্সপ্রেসের একটি বগিতে প্রচন্ডগতিতে আঘাত হানে।

এতে উদয়নের ওই বগিটি কাগজের মতো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরেকটি বগি। তূর্ণা-নিশীথার ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ ঘটনায় ঝরে পড়ে ৭ জন পুরুষ ৬ জন নারী ও ৩টি শিশুর প্রাণ। আহত হয়ে জীবনের অন্ধকার পথে শতাধিক যাত্রী।

আর এই দুর্ঘটনা সড়ক বা জলপথের মতো অনিরাপদ চলাচলের কারণে হয়নি। এ দুর্ঘটনার জন্য আন্ত:নগর ট্রেন তূর্ণা-নিশীথার চালকের সিগন্যাল অমান্য করাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর গভীরে লুকিয়ে আছে আরো লোমহর্ষক তথ্য।
তূর্ণা-নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে দুজনই অটো ব্রেক সিস্টেম বা প্যাডেলে ইট চাপা দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। আর ট্রেন তখন চলছিল নিজস্ব গতিতে। এ অবস্থায় ট্রেন সিগন্যাল মানবে কি করে। ট্রেনের তো আর নিজস্ব চোখ নেই। যে চোখ ট্রেন চালানোর দায়িত্বে ছিল সেটি ছিল ঘুমের ঘোরে। যাকে বলা হয় দায়িত্বহীনতা, অবহেলা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশীথা মঙ্গলবার ভোর রাত ২টা ৪৮ মিনিটে শশীদল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা করে। মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার স্টেশনে প্রবেশের আগেই আউটারে থামার জন্য লালবাতি জ্বালিয়ে সংকেত দেয় তূর্ণা-নিশীথাকে (ট্রেন নম্বর ৭৪১)।

অপরদিকে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭২৪) কসবা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ পথে স্টেশন মাস্টার তাকে মেইন লাইন ছেড়ে দিয়ে ১ নম্বর লাইনে আসার সংকেত দেন। ওই ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করার পর পেছনের ৩টি বগি মেইন লাইনে থাকতেই তূর্ণা-নিশীথার চালক সিগনাল (সংকেত) অমান্য করে দ্রুত গতিতে এসে ওই ট্রেনের শেষ ৩টি বগির মধ্যেরটিতে আঘাত করে। এতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই বগির ১০ যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় আরো ৬ জন। আহত হন শতাধিক যাত্রী। কিন্তু ইঞ্জিন ছাড়া তূর্ণা-নিশীথার কোনো ক্ষতি হয়নি। ট্রেনের সব বগি অক্ষত অবস্থায় মেইন লাইনে ছিল।

আর এ দুর্ঘটনার জন্য দুই চালককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রশ্ন, তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলেও কি স্বজনদের ফিরে পাবেন সেই পরিবারগুলো। আহতদের অন্ধকার জীবনে কি পারবেন সেই সোনালী আলো ফিরিয়ে দিতে।

সর্বোপরি, এই দুর্ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে মানুষের নিরাপদ ট্রেন যাত্রা নিয়ে। বিশ্বাস ভেঙেছে-এমন মন্তব্য এখন মানুষের মুখে। বাস ও লঞ্চ যাত্রার মতো ট্রেনযাত্রায়ও আতঙ্ক বেড়েছে মানুষের। যার প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে দুর্ঘটনার দিন থেকেই।

দুর্ঘটনার পর ওইদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-সিলেট-ঢাকার ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিডিউল মোতাবেক ট্রেনগুলোর যাত্রীরা চট্টগ্রাম কদমতলী রেলস্টেশনে আটকা পড়ে। কিন্তু দেখা যায়, যাত্রীরা হাতে রেলের টিকিট নিয়েও ফিরে যাচ্ছেন।

এ সময় চাঁদপুরগামী ট্রেনের যাত্রী ব্যাংক কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বাবা-ট্রেন আসলেও আমি যাব না। বাসে যাব। এ কথা বলে স্বপরিবারে রেলস্টেশন ছেড়ে চলে যান তিনি।

কুমিল্লাগামী যাত্রী আকবর হোসেন বলেন, সড়কপথে বাস দুর্ঘটনার ভয়ে ট্রেনে যাতায়াত করি। যদিও ট্রেনযাত্রা খুব একটা সুখকর নয়। তুর্ণা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি ছাড়া ট্রেনের সবকটি বগির বসার সিট ভাঙাচোরা। এসি বগিতে পর্যন্ত দাড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করে যাত্রীরা।

তিনি বলেন, চালক ঘুমানোর কারনে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে সড়কপথেও দূরপাল্লার বাসগুলোতে চালক ঘুমিয়ে বা বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারনে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোসহ বিভিন্নরকম যানবাহন বেপরোয়া গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।  জলপথেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচলেও দুর্ঘটনা ঘটে। ঝড়ো হাওয়ায় উল্টে গিয়ে ডুবে যায়, চরে আটকা পড়ে, মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানী ঘটে। সে হিসেবে একমুখো রেলপথে দুর্ঘটনা কম, এটাই ছিল স্বস্তি ও বিশ্বাস। এখন সেই বিশ্বাসটুকুও ভেঙেছে ট্রেন। তাহলে কোথায় আর নিরাপদ যাত্রা। ট্রেনে নিরাপদ যাত্রায় মানুষের বিশ্বাস ভাঙায় বুধবার সকাল থেকেও ট্রেনযাত্রী কমছিল বলে জানান চট্টগ্রাম কদমতলী রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, কসবার দুর্ঘটনায় ট্রেনযাত্রায় মানুষের আতঙ্ক বেড়েছে। ফলে ট্রেনযাত্রী কমেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া সবকটি ট্রেনে যাত্রীর আসন খালী ছিল বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ভাষ্য, সড়কপথে বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের কারণে গত কয়েকবছরে দেশে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। এ নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিসহ নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

যার ফলে, সরকার পুরনো সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেন। নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাস করেন। যা কার্যকর হয়েছে। এ আইনের ফলে সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উধাও হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই সময়ে ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণেও নতুন আইন করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোভিয়েত ইউনিয়নকে আনবিক বোমার ফর্মুলা দিয়েও পার পেয়ে গিয়েছিলেন যে আমেরিকান বিজ্ঞানী

১৯৪৯ সালের ২৯শে অগাস্ট প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায় সোভিয়েত রাশিয়া। এটি ছিল আরডিএস-১ নামে পরিচিত একটি প্লুটোনিয়াম বোমা। এর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় 'পরমাণু শক্তিধর' দেশে পরিণত হয়।
এ ঘটনায় বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় পশ্চিমা দেশগুলো। সিআইএর ফাইলে যে তথ্য ছিল সে অনুযায়ী, সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৯৫৩ সালের আগে পারমানবিক বোমা তৈরি করে ফেলতে পারার কথা না।
আরো বিস্ময়ের ব্যাপার, যে ব্যক্তিটি গোপনে সোভিয়েতদেরকে পরমাণু বোমা তৈরির তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তিনি একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী। নাম তার থিওডর হল।
এটা সত্য যে থিওডর হলই একমাত্র আমেরিকান নন যিনি শত্রুপক্ষকে পরমাণু বোমা বিষয়ক গোপন তথ্য সরবরাহ করেছেন।
থিওডর হল ছিলেন বিখ্যাত ম্যানহাটান প্রোজেক্টের কনিষ্ঠতম বিজ্ঞানী। এই প্রকল্প থেকেই বিশ্বের প্রথম আনবিক বোমাটি তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া এবং হার্ভার্ডে পড়া এই বিজ্ঞানী কিভাবে একজন গুপ্তচরে পরিণত হয়েছিলেন?
'আরডিএস-১' এর সাথে 'ফ্যাটম্যান'-এর সাদৃশ্য থাকার বিষয়টি কোন কাকতাল ছিল না। ফ্যাটম্যান হলো সেই প্লুটোনিয়াম বোমাটি যেটিকে ১৯৪৫ সালের ৯ই অগাস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরের উপর ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
'ম্যানহাটান প্রোজেক্টে'র একেবারে ভেতর থেকে সেই বোমার নকশা সংক্রান্ত তথ্য সোভিয়েতদের কাছে পাচার করা হয়েছিল। ব্রিটেন ও ক্যানাডার সাথে যৌথ উদ্যোগে যে আণবিক বোমার প্রকল্পটি চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র তারই কোডনেম ছিল ম্যানহাটান প্রোজেক্ট।

টপ সিক্রেট:

গোপনীয়তার ব্যাপারটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৫ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লেখা হয়েছিল, "সম্ভবত পুরো দেশের মাত্র কয়েক ডজনের বেশী মানুষ ম্যানহাটান প্রোজেক্টের পুরো অর্থ জানে না"। থিওডর হল ছিলেন সেই কয়েক ডজনের একজন।
মি. হলের জন্ম ১৯২০ সালের ২০শে অক্টোবর। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী, মা গৃহিনী। মহামন্দার সময়ে বেড়ে উঠছিলেন তিনি। এটা ছিল এমন একটা সময় যখন সাধারণ আমেরিকানদের অনেক কষ্টেসৃষ্টে জীবন কাটতো।
কিন্তু এই পরিস্থিতি থিওডর হলের মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। গণিত এবং পদার্থবিদ্যায় তিনি উত্তরোত্তর মেধার পরিচয় দিচ্ছিলেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেন। ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড থেকেই স্নাতক শেষ করেন।
সত্তর বছর আগে কাযাখাস্তানে প্রথম বোমাটির পরীক্ষামূলক বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
তার এই মেধা মার্কিন কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি।
১৯৪৩ সালের গোড়ার দিকেই গোপন লস অ্যালামস গবেষণাগারের একটি পদের জন্য সাক্ষাৎকার নেয়া হয় হলের।

কমিউনিস্ট রুমমেট:

কিন্তু আমেরিকার কর্মকর্তারা যেটা জানতেন না, এই তরুণ পদার্থবিদকে ভিন্ন একটা গোষ্ঠীও তাদের দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে।
হল ছিলেন হার্ভার্ডের মার্ক্সিস্ট ছাত্র সংগঠনের সদস্য। আর তার রুমমেট ছিল স্যাভিল স্যাক্স নামের আরেক ছাত্র।
নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা স্যাক্স ছিলেন একজন রুশ অভিবাসীর সন্তান। তিনি ছিলেন একজন চরম কমিউনিস্ট।
সোভিয়েতদের পক্ষ হয়ে আণবিক বোমার গোপন তথ্য পাচারের জন্য হলকে দলে ভিড়িয়েছিলেন এই স্যাক্সই।
১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তরুণ বিজ্ঞানী হল তার সাবেক রুমমেটের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো লস অ্যালামস থেকে আণবিক বোমার গোপন তথ্য সোভিয়েতদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এটা ছিলো প্লুটোনিয়াম বোমা তৈরি সংক্রান্ত একটি আপডেট।
ফ্যাটম্যান নামের বোমার নকশা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য চুরি করেছিলো মস্কো। এই প্লুটোনিয়াম বোমাটি দিয়ে ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকি শহরে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কিডনির ক্যান্সারে মারা যাওয়ার দুই বছর আগে, ১৯৯৭ সালে তিনি এক লিখিত বিবৃতি দেন যেটা নিউইয়র্ক টাইমসে ছাপা হয়।
এতে তিনি বলেন, "আণবিক অস্ত্র নিয়ে আমেরিকার মনোপলি একটি যুদ্ধ পরবর্তী মন্দা সৃষ্টি করবে কিনা তা নিয়ে ১৯৪৪-এ উদ্বিগ্ন ছিলাম আমি"।

তরুণ তুর্কী:

হলের বক্তব্য, আণবিক শক্তিধর সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করবে এবং প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।
"ওই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন কোন শত্রু ছিল না বরং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছিল", বলেন থিওডর হল।
"নাৎসিদের বিরুদ্ধে বীরোচিত যুদ্ধ করেছে সোভিয়েতরা। এতে তাদের বিপুল প্রাণহানী হয়েছে। এটা হয়তো পশ্চিমা মিত্রদের পরাজিত হওয়া ঠেকিয়েছে"।
সোভিয়েতদের চোখে থিওডর হল ছিলেন 'দ্য ইয়ংস্টার' বা তরুণ তুর্কী।

এনক্রিপ্টেড বার্তা:

যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একই শত্রুর মোকাবেলা করেছিলো, কিন্তু এটা কখনোই মস্কো ও ওয়াশিংটনকে পরস্পরের উপর নজরদারি করা থেকে বিরত রাখেনি।
থিওডর হলের আশঙ্কা ছিল পারমানবিক অস্ত্র প্রযুক্তির একক মালিক হয়ে মনোপলি তৈরি করতে পারে আমেরিকা।
প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিস্তৃত কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কর্মকাণ্ডই ছিল সোভিয়েতদের লক্ষ করে। এই কর্মকাণ্ডের সাংকেতিক নাম ছিল 'ভেনোনা', শুরু হয়েছিল ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
ডিসেম্বর ১৯৪৬ সালে, গোপন সংকেতের পাঠোদ্ধারকারীরা প্রথমবারের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এনকেভিডি-র সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধার করতে সমর্থ হয়।
এসময় কিছু সাংকেতিক টেলিগ্রাফ বার্তার পাঠোদ্ধার করা হয় যেখান থেকে আমেরিকানরা ম্যানহাটান প্রোজেক্টে সোভিয়েত গুপ্তচরবৃত্তির অস্তিত্ব জানতে পারে।
১৯৫০ সালে এফবিআই যেদিন থিওডর হলের দরজায় কড়া নাড়ে তখন তিনি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে পিএইচডি করছিলেন।
একটি এনক্রিপ্টেড বার্তার তথ্য অনুযায়ী মি. হলকে মস্কোর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
লস অ্যালামোসের আরেকজন গুপ্তচর ছিলেন জার্মান পদার্থবিদ ক্লাউস ফুকস। তাকে আগের বছরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ম্যানহাটান প্রোজেক্টের ছিল কঠোর গোপনীয়তার নীতি
তিনি শত্রুপক্ষের কাছে আমেরিকান গোপন পারমানবিক তথ্য পাচারের কথা স্বীকারও করে ফেলেছেন।
কিন্তু থিওডর হলের কাছ থেকে কোন স্বীকারোক্তি আদায় করতে ব্যর্থ হয় এফবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে স্যাভিল স্যাক্সের কাছ থেকেও কিছু পায়নি কর্মকর্তারা।

ব্রিটেন যাত্রা:

অন্য কোন অভিযুক্ত গুপ্তচরেরাও এই বিজ্ঞানীর নাম নেননি। নজরদারিতেও গুপ্তচরবৃত্তির কোন তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বস্তুত ম্যানহাটান প্রোজেক্ট শেষ হওয়ার পর গুপ্তচর হিসেবে আর সক্রিয় ছিলেন না হল।
মস্কোর তারবার্তাগুলো অবশ্যই ছিল যেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেত। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা সেগুলো আদালতে পেশ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তারা চাননি, তারা যে সোভিয়েত গোপন তারবার্তাগুলোর সংকেত ভাংতে সমর্থ হয়েছিলেন সেকথা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আবিষ্কার করেন, ১৯৪৪ সালে রুশ কন্টাক্টের সাথে দেখা করেন থিওডর হল।
ফলস্বরূপ অন্য গুপ্তচরদের মতো কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়নি হলকে। তিনি ছাড়া পেয়ে যান।
কিন্তু তারপর নিজের এবং স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দূর হয়না হলের। তিনি শিকাগোর শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে গবেষণার একটা নিচু পদের চাকরীতে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরির প্রস্তাব পেলে সস্ত্রীক যুক্তরাজ্যে চলে যান মি. হল।
১৯৮৪ সালে অবসরে যান থিওডর হল এবং তারপর থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিলেন।
কিন্তু ১৯৯৬ সালে আবার অতীত তাকে তাড়া করতে শুরু করে। তার সাথে রাশিয়ানদের চুক্তি সংক্রান্ত তারবার্তাগুলো ডি-ক্লাসিফায়েড করা হয় এবং সেগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
কিন্তু ততদিনে স্যাভিল স্যাক্সসহ মি. হলের কর্মকাণ্ডের কোন প্রত্যক্ষদর্শীই আর বেঁচে নেই।

অবশেষে প্রকাশিত:

নিউইয়র্ক টাইমসকে থিওডর হল বলেছিলেন, "অভিযোগ আছে, আমি ইতিহাসের গতি বদলে দেয়ার জন্য দায়ী"।
"হয়তো ইতিহাসের গতি অপরিবর্তিত থাকলে তা ৫০ বছর আগেই আণবিক যুদ্ধের কারণ হতো। উদাহরণস্বরূপ: ১৯৪৯ অথবা ৫০-এর গোড়াতেই বোমাটি ফেলা হতো চীনের ওপর"।
"ভালো কথা, আমি যদি সেটা ঠেকাতে সাহায্য করে থাকি, তাহলে অভিযোগ স্বীকার করে নিলাম"।
৭৪ বছর আগে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলার পর পৃথিবীতে আর কোন পারমানবিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
১৯৯৯ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান থিওডর হল।

বাংলাদেশে নিউমোনিয়া: একবছরে ৫ বছরের কম বয়সী ১২০০০ শিশুর মৃত্যু

গত বছর বাংলাদেশে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ১২০০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার হিসেবে বিশ্বে ১৪তম স্থান বাংলাদেশের। তবে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণের এক্ষেত্রে বহু গুণ এগিয়ে আছে। মঙ্গলবার বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
প্রতিবেদন অনুসারে, এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ভারতে। গত বছর দেশটিতে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ২৭ হাজার শিশু। পুরো বিশ্বের মধ্যে নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশটিতে। ভারতের পরই রয়েছে পাকিস্তান। গত বছর দেশটিতে নিউমোনিয়ায় মারা গেছে ৫৮ হাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
চীনে এ সংখ্যা ১৮ হাজার ও ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার। প্রথম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটিতে গত বছর নিউমোনিয়ায় মারা গেছে ১ লাখ ৬২ হাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মারা গেছে ১ শিশু
ইউনিসেফ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ৮ লাখ ২ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই হিসেবে, গড়ে প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়। বিশ্বজুড়ে নিউমোনিয়ার টিকা পায়নি ৭ কোটি ১০ লাখ শিশু। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, জন্মের এক মাসের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার শিশুর।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েত্তা ফোরে বলেন, প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ২০০ শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে। এটি নিরাময় ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এমনটা হচ্ছে। এই রোগ মোকাবিলায় জোরদার বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগের প্রয়োজন।
ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের মাধ্যমে নিউমোনিয়া ছড়িয়ে থাকে। এতে শিশুদের তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাদের ফুসফুসে পূঁয ও তরল পদার্থ জমা হতে থাকে। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। উল্লেখ্য, পুরো বিশ্বজুড়ে গতবছর ম্যালেরিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ২ লাখ ৭২ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডায়রিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়াটকিনস বলেন, নিউমোনিয়া একটি ভুলে যাওয়া বৈশ্বিক মহামারী। এটা মোকাবিলায় তাৎক্ষনিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মমাফিক অক্সিজেন চিকিৎসার অভাবে লাখ লাখ শিশু মারা যাচ্ছে।

‘জীবনের দাম’ বাড়বে কবে? by মরিয়ম চম্পা

ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর প্রাণহানি হলে কিংবা কেউ আহত হলে ৭৬ বছর আগে করা রেলওয়ে আইনে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ মাত্র ১০ হাজার টাকা। গত বছর রেল কর্তৃপক্ষ এই ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। বৃটিশ আমলের ক্ষতিপূরণ আইনে এখনো চলছে রেল। অথচ প্রতিবেশি দেশ ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে ক্ষতিপূরণ ৪ লাখ রুপি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ দিয়ে জীবনের মূল্য হয় না ঠিক। কিন্তু দূর্ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য ক্ষতিপূরণটা জরুরি। ৭৬ বছর আগে যে ক্ষতিপূরণ দেয়া হতো এর বর্তমান বাজার দর ধরলেও প্রায় কোটি টাকা হয়ে যায়। তারা বলছেন, সবকিছুরই মূল্য বাড়ছে, জীবনের মূল্য বাড়বে কবে?

১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৮২-এ ধারায় যাত্রীবাহী ট্রেনের দুর্ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের দায়দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি সর্বশেষ ১৯৪৩ সালে সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়, রেল কর্তৃপক্ষের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর প্রাণহানি কিংবা আহত হলে অথবা যাত্রীর কর্মক্ষমতা নষ্ট হলে এর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনকি যাত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি এবং মালামালের জন্যও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইনে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাইলে আহতদের আরও কম ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব। এদিকে রেলওয়ে আইনে শুধু টিকিটধারী যাত্রীদেরই ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীর বাইরে (ট্রেনে কাটা পড়ে বা ট্রেনের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে) কেউ নিহত বা আহত হলে কোনো ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। রেলওয়ের তথ্য বলছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৯ বছরে ৪০০ মানুষ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এবারের বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্ষতিপূরণের হার পুনর্নিধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে গবেষক-অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, ক্ষতিপূরনের টাকার অংক কেন বাড়ছে না সেটা বলা সহজ নয়। মানুষের মৃত্যুর ক্ষতি টাকা দিয়ে পূরণ করা কঠিন। যেহেতু আমাদের সমাজ টাকার ওপর ভর করে আছে সেক্ষেত্রে মানুষের বেঁচে থাকতে টাকা লাগে। দুর্ঘটনায় একজন বাবা যদি নিহত হন সেক্ষেত্রে তার সন্তানদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা লাগে। তবে এখানে আমাদের সমাজ যেহেতু শ্রেণি বিভক্ত। কাজেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক মাপকাঠি এবং আর্থিক দিক থেকে তিন থেকে চার শ্রেণির মানুষ রয়েছে সমাজে। ধনী, গরিব, মধ্যেবিত্তসহ অন্যান্য। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় ক্ষতিপূরণ যাদের সবচেয়ে দরকার তারা হলো যাদের কিছু নেই। যাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম একজন ব্যক্তি। আহত-নিহত হলে তাদের জন্য একটি কাঠামো হওয়া উচিৎ। শ্রেণিগত যত নিচের দিকের মানুষ হবেন অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণটা তত বেশি হওয়া উচিৎ।

দ্বিতীয়ত, কোনো নারী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলে সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ হওয়া উচিৎ। বিত্তের মাপকাঠিতে যত উপরের দিকে উঠবেন তত কম ক্ষতিপূরণ পেতে হবে তার। তৃতীয় হচ্ছে, দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের সকল সদস্য মারা গেছে কিন্তু শিশুটি বেঁচে রয়েছে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে উক্ত শিশু বা সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে। টাকা দিয়ে নয় বরং তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আলোকিত ভবিষ্যত ইত্যাদির দায়িত্ব রাষ্ট্রের নিতে হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৪৩ সালে সংশোধনী আইনে রেলওয়ে ক্ষতিপূরণ যদি ১০ হাজার টাকা করা হয় সেটা এখন কতো টাকা হওয়ার কথা। কমপক্ষে ত্রিশ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা। তখনকার সময়ে স্বর্ণের দাম দিয়ে তুলনা করলে তখন ১০ হাজার টাকা দিয়ে যতটুকু স্বর্ণ পাওয়া যেত এখন সেই পরিমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেটা হলে ক্ষতিপূরণের পরিমান প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের আয় বেড়েছে, জীবন মান বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে সে তুলনায় একজন নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া খুবই সামান্য। কোন আইনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে সেটা আমার জানা নেই। যদি রুলস এ থাকে তাহলে সেটা পরিবর্তন করতে হবে। একটি পেয়াজের দাম যেখানে এখন ১২ টাকা সেখানে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এর পরিবর্তে ক্ষতিপূরণের পরিমান বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, দুর পাল্লায় রেলওয়ে যাত্রী বীমার একটি ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে টিকেটের সঙ্গে ৫ থেকে ১০ টাকা যুক্ত করে যাত্রী বীমা করা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানি সহায়তা করতে পারবে বলে মনে করছি।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, দেশ যখন উন্নত হয় চাহিদা তত বাড়ে। অর্থনৈতিক অবস্থা মানানসই করতে হয়। এগুলো অনেক ক্ষেত্রে এখনো হয়নি। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তন করা হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে। এবং রেলওয়ের আইনটি কিন্তু সেই পুরানো অবস্থাতেই আছে। রেলওয়ের ১শ বছরের কালভার্ট এখনো ঠিকঠাক করা হয়নি। অর্থাৎ উপরে যতই ফিটফাট হোক না কেন ভেতরে এলোমেলো থাকলে তো হবে না। এই উন্নয়নের গুরুত্ব মানুষের কাছে ওভাবে আসবে না। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সব জায়গাতেই উন্নত করতে হবে। রেলওয়ে আইন যেটা আছে সেটা অনেক পুরানো। সে হিসেবে এই ক্ষতিপূরণের কোনো মূল্যই হয় না। এখানে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের মূল্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা দরকার ছিল। যারা এটা করেনি এটা তাদের ব্যর্থতা। এখন দেশ ডিজিটাল হয়েছে। কাজেই সকল ক্ষেত্রে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের একটি মাপকাঠি রয়েছে। আমাদের দেশে সেরকম ব্যবস্থা নেই। যে সামান্য পরিমান ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় তার একটি স্ট্যান্ডার্ড মান থাকা উচিৎ। রেলওয়ে আইনে যে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা আছে সেটা এখন আপডেট করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন আইন যেভাবে আপডেট হয়েছে একইভাবে রেলপরিবহন আইনটি যতদ্রুত সম্ভব আপডেট হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া এটা যাত্রী সাধারণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। বর্তমানে রেলওয়েতে হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবং লক্ষ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এরমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ বাজেট যেখানে মেগা হয় সেখানে শুধু যাত্রী সাধারণের সহায়তার বিষয় আসলে সেটা ঠেকে যায়। বর্তমান সরকারের আমলে রেলের ভাড়া তিন দফা বেড়েছে। কাজেই ১শ বছর আগে যে দশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে সহায়তা দেয়া হত সেটা এখন দিলে হবে না। এখন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আমরা চাই। আমরা মনে করি এই ক্ষতিপূরণের পরিমান নিহতের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা, পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদেরকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে :- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়া সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যে সব ব্যক্তি জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। গতকাল সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর-পর্বে এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের একটি হাত রয়েছে। কিন্তু আমরা সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাসী।

এ ব্যাপারে তার সরকারের কঠোর নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিষ্কার অবস্থান হচ্ছে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা একটি জিনিস স্পষ্ট বলতে চাই- বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কোনো দেশের বা প্রতিবেশী কোনো দেশে কেউ কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় বা কোনো রকম সন্ত্রাসী তাদের কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, এটা থাকবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিকে আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেবো না। আমাদের দেশে থেকে অন্য দেশে কোনো রকম সমস্যার সৃষ্টি করুক বা কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাক বা কোনো রকম গোলমাল করুক সেটা আমরা কখনো আমাদের দেশে স্থান দেইনি, দেবো না। বাংলাদেশ সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এই দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থলসীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস) সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন। সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে এবং একটি চুক্তিও করেছে। কিন্তু একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দেশটিতে ফেরত যেতে চাচ্ছে না।

এটি এখন মিয়ানমার সরকারের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ থাকবে সেই বিশ্বাসটি আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্টি করা তাদেরই (মিয়ানমার) দায়িত্ব। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পত্র প্রেরণ করেছে। সংসদ নেতা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদাই বদ্ধপরিকর। তাছাড়া, বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সকল দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকল ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারা দেশে এধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া সমাজ থেকে সকল ধরনের অপরাধ নির্মূল করার জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও নানা ধরনের সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যেই হোক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি ক্রয় করেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সর্বপ্রকার হয়রানির অবসানে আমরা বদ্ধপরিকর। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তর কমিয়ে এনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বিধি-বিধান যথাসময়ে প্রতিপালন এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনারও পরিকল্পনা আমাদের সরকারের রয়েছে। দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যা যা করার তা করে যাচ্ছি, করে যাবো। গত ১০-১১ বছর আগে দেশের কী অবস্থা ছিল একটু বিবেচনা করুন। আগে মানুষ এক বেলা খেতে পর্যন্ত পারতো না। কিন্তু গত এক দশকে দেশের চেহারাই পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনে বাবার মতো আমার জীবনকে উৎসর্গ করবো।

দম বন্ধ করে দেওয়া ১০ ছবি!

কথায় আছে, ভয়কে জয় করুন। কিন্তু নিচের ছবিগুলো দেখলে অনেক আত্মবিশ্বাসী পর্বতারোহীরও ঘাম ছুটে যাবে! কারণ বিশ্বজুড়ে এমন দুঃসাহসী কাজ খুব কম মানুষ করে দেখিয়েছেন। বুক দুরুদুরু করা কিছু রুদ্ধশ্বাস ছবি দেখি চলুন। চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়া কিংবা দম বন্ধ করে দেওয়ার মতোই সব!
টোবি সিগার
  • *যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের ইংরেজ অঞ্চলের মহকুমা সারে’র গডালমিং শহরে থাকেন টোবি সেগার। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ নরওয়ের ট্রলটাঙ্গা পর্বতের কিনারে ব্যাক-ফ্লিপ (ডিগবাজি) করার মুহূর্তে ছবিটি তোলা। মাটি থেকে এই জায়গা ২ হাজার ৩০০ ফুট (৭০০) মিটার উঁচুতে। গিরিচূড়াটির কিনারের অংশ পুরোপুরি সমতল। এর ঠিক নিচে বয়ে চলছে নরওয়ের লেক রিংডালসভানেটের উত্তর অংশ।
লাইভ জেএন
লাইভ জেএন
  • *লাইভ জেএন নামে পরিচিত একজন ডেয়ারডেভিল অনেক উঁচুতে একটি ক্রেনে দুই হাত ধরে ঝুলে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির খোলা আকাশে দুঃসাহসিক কাজটি করে দেখিয়েছেন তিনি। তার পায়ের নিচে দেখা যাচ্ছে লং আই ল্যান্ড ইউনিভার্সিটির (এলআইইউ) গোলাপি ক্যাম্পাস ভবন।
আন্দ্রেজ সিসিয়েলস্কির তোলা ছবি
আন্দ্রেজ সিসিয়েলস্কির তোলা ছবি
  • * উঁচু ভবনের ছাদ থেকে ঝুঁকি নিয়েই দিন ও রাতের নিউ ইয়র্ক সিটির ছবি তুলতে চেয়েছেন জার্মানির মিউনিখের পর্যটক আন্দ্রেজ সিসিয়েলস্কি। ছাদে বসে পা দুটো বাইরে রেখে লম্বালম্বি তোলা ছবিটি দেখলে মাথা ঘুরে যেতে পারে! এতে টাইমস স্কয়ার দেখা যাচ্ছে।
মেলিসা কর্নেক্সল ও জেমস দম্পতি
মেলিসা কর্নেক্সল ও জেমস দম্পতি
  • *কনের সাহস আছে বলতে হবে! যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে ক্যাথেড্রাল লেজের কার্নিশে দাঁড়িয়ে থাকা বর জেমসের এক হাত ধরে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছেন মেলিসা কর্নেক্সল। ৪০০ মিটার উঁচুতে স্বামীর ওপর পুরো বিশ্বাস রেখে ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি। সেখানে ঘণ্টায় ৪৫ মাইল বেগে হাওয়া বইছিল। তাদের ওই মুহূর্তের ছবিটি তুলেছেন ফিলব্রিক ফটোগ্রাফির জায় ও ভিকি। তবে চতুরতার সঙ্গে দম্পতির জন্য রাখা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে পেরেছেন তারা। মেলিসা ও জেমস দম্পতি যেন পড়ে না যান সেজন্য তাদের বিশেষভাবে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিয়েছিলেন ক্লাইম্বিং গাইড মার্ক শভেন।
রুশ ডেয়ারডেভিল
রুশ ডেয়ারডেভিল
  • *রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একটি ক্রেনের ওপর এক রুশ ডেয়ারডেভিল বিশ্রাম নিচ্ছেন। চোখ ছানাবড়া করে দেওয়া ছবিটি তুলেছেন আইভান সেমেনভ। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বন্ধুদের ছবি তুলে থাকেন ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ।
দিমিত্রি চারনিশ ও তার প্রেমিকা পলিনা
দিমিত্রি চারনিশ ও তার প্রেমিকা পলিনা
  • *দুবাইয়ের আকাশচুম্বি একটি ভবনের শীর্ষে দিমিত্রি চারনিশ ও তার প্রেমিকা পলিনা (বাঁয়ে)। ২২ বছর বয়সী মস্কোর বাসিন্দা দিমিত্রি জানতেন, তার ভালোবাসার মানুষের দুবাইয়ের উঁচু ভবন দেখার ইচ্ছে ছিল। তাই পলিনার সেই বাসনা পূর্ণ করলেন তিনি। অনুমতিহীন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিশ্বের লম্বা ভবনগুলো চষে বেড়ানোর জন্য দিমিত্রির পরিচিতি আছে।
পিট হুইটেকার
পিট হুইটেকার
  • *বাদুড়ের মতো উল্টো দিকে ঝুলে আছেন পিট হুইটেকার! ইংল্যান্ডের শেফিল্ডের বাসিন্দা তিনি। বন্ধু টম র্যা ন্ডালকে নিয়ে আমেরিকার উটাহ অঙ্গরাজ্যের ক্যানিয়নল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্কে গিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই পেশাদার পর্বতারোহী। মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ছবিটি সেখানেই তোলা।
ম্যাট ডিগিন্স
ম্যাট ডিগিন্স
  • *উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ঘেঁষে স্কটল্যান্ডের ওকনি দ্বীপ। সেখানে একসঙ্গে পর্বত আরোহন করতে বেরিয়েছিলেন ম্যাট ডিগিন্স ও পল ট্যাটারসাল। পাহাড়ের একটি স্তূপে বিপজ্জনকভাবে ওঠার সময় ম্যাটের ছবিটি তোলেন ডেভ কাথবার্টসন। বিবিসি’র সিরিজ ব্রিটেনস অ্যানসেন্ট ক্যাপিটাল: সিক্রেটস অব ওর্কনির শুটিংয়ে সহায়তা করতে গিয়েছিলেন এই আলোকচিত্রী।
ডেভিড থমাস নেলমেস
ডেভিড থমাস নেলমেস
  • *যুক্তরাজ্যে ইংল্যান্ডের লিডস শহরের বাসিন্দা ডেভিড থমাস নেলমেস দুবাইয়ে ৭০ তলা উঁচু একটি ভবনের ছাদে দৌড়ানোর সময় ছবিটি তোলা। ২৩ বছর বয়সী এই ডেয়ারডেভিল আগে জিমন্যাস্ট ও ফ্রিরানার হিসেবে কাজ করতেন। তার কোনও ডরভয় আছে বলে মনে হয় না!
অ্যাডাম স্টার্ন
অ্যাডাম স্টার্ন
  • *ফিলিপাইনে বারাকুডা লেকে পানির নিচে পাহাড় বেয়ে উঠে উচ্চতার ভয় কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার ফ্রিডাইভার অ্যাডাম স্টার্ন। পর্বতারোহী হিসেবে বিশ্বে ওপরের সারিতে আছে ২৮ বছর বয়সী এই তরুণের নাম। তার ঝুলিতে আছে অনেক অস্ট্রেলীয় রেকর্ড।
>>>সূত্র: ডেইলি মেইল

ধর্মে আগ্রহ কমছে আরবদের! -বিবিসির জরিপ

বাড়ি থেকে পালানো সেই সৌদি তরুণী রাহাফ আল-কুনের কথা নিশ্চয় মনে আছে! থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে কী হুলুস্থুল কাণ্ডটাই না বাধিয়েছিলেন! তাঁর সাফ কথা, অত ধর্মীয় বিধিনিষেধের বেড়াজালের পরিবারের আর ফিরে যাবেন না। ঘটনাটি ঘটে এ বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। পরে ১২ জানুয়ারি কানাডা সরকার তাঁকে আশ্রয় দিয়ে কানাডায় নিয়ে যায়।
সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ ১৮ বছরের তরুণী রাহাফ বাড়ি থেকে পালিয়ে ব্যাংককে বিমানবন্দরে আটকে পড়েন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কুয়েতে ছিলেন। তিনি কুয়েত থেকে ব্যাংকক হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ব্যাংকক থেকে তাঁকে কুয়েতে ফেরত পাঠানোর জন্য বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত হোটেলে রাখলে সেখানে তিনি নিজেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। রাহাফ কুয়েতে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন। পরিবারে ফিরলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে।
পরিবার সম্পর্কে অভিযোগ করে রাহাফ বলেছিলেন, ‘আমার দেশে আমি পড়তে পারি না। কাজ করতে পারিনি। আমি স্বাধীন হতে চাই। পড়তে চাই। আমার ইচ্ছেমতো কাজ করতে চাই।’ তিনি জানান, পরিবারে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। চুল কেটে ফেলার কারণে তাঁকে ছয় মাস ঘরে বন্দী করে রাখা হয়।
পরিবারের অতিমাত্রায় শাসন থেকে বেরিয়ে দম ফেলার জন্য কোনো সৌদি তরুণীর এটাই প্রথম পলায়ন নয়; রাহাফের আগে আরেক সৌদি তরুণী দিনা আলী লাসলুমও (২৪) বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। তবে তিনি সফল হননি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে দিনাকে ফিলিপাইনের ম্যানিলা বিমানবন্দরে আটক করা হয় এবং ফিরিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে।
আরব দেশগুলোয় ধর্মে আগ্রহ কম—এমন লোকের সংখ্যা বাড়ছে বলে বিবিসি জরিপে উঠে এসেছে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
রাহাফের ঘটনার আট মাস আগে সালওয়া নামের আরেক সৌদি নারী বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। তবে তিনি একা পালাননি। সঙ্গে নিয়েছিলেন ছোট বোনকে। দুই বোন এখন বাস করছেন কানাডার মনট্রিয়লে।
তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় বিধিনিষেধ কি আরব সমাজের অনেকের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে? উত্তরটা ‘হ্যাঁ’। শুধু নারী নয়, অনেক পুরুষের জন্যও এ উত্তর প্রযোজ্য। বিবিসির এক সাম্প্রতিক জরিপও তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে বিবিসি পরিচালিত সবচেয়ে বড় ও ব্যাপকভিত্তিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোতে ধর্মে অনাগ্রহী লোকের সংখ্যা বাড়ছে। জরিপে নারীর অধিকার, ধর্ম, মধ্যপ্রাচ্য নীতির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, অভিবাসন ও যৌনতার ব্যাপারে আরবদের ভাবনা, অনুভূতি ও মতামত জানতে চাওয়া হয়। তবে লক্ষণীয়, এই জরিপে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো বাদ পড়েছে। এর ব্যাখ্যায় দেশগুলোর নাম উল্লেখ না করে বিবিসি বলেছে, কিছু দেশের সরকার জরিপ পরিচালনায় ‘অবাধ ও পূর্ণ’ প্রবেশাধিকার দেয়নি।
বিবিসি নিউজ অ্যারাবিকের জন্য আরব ব্যারোমিটার রিসার্চ নেটওয়ার্কের করা এই জরিপে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের। ২০১৮ সালের শেষে এবং ২০১৯ সালের বসন্ত পর্যন্ত ১০টি দেশে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে আলজেরিয়া, মিসর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, মরক্কো, ফিলিস্তিন-অধ্যুষিত এলাকা, সুদান, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেন।
জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০১৩ সাল থেকে এসব অঞ্চলে ধর্মে মন নেই—এমন লোকের সংখ্যা ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশ হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। ৩০ বছরের নিচের বয়সীদের মধ্যেই এ প্রবণতা বেশি। এই বয়সীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ ধর্মে আগ্রহী নয় বলে শনাক্ত হয়েছে। একমাত্র ইয়েমেনের ক্ষেত্রে এ চিত্র উল্টো।
রাজনীতিতে নারীর অধিকারকে বেশির ভাগ সমর্থন জানালেও পরিবারে পুরুষের আধিপত্যই চেয়েছেন তাঁরা। এমনকি নারীরাও চান পুরুষের সিদ্ধান্ত হোক ‘শেষ কথা’।
জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মানুষ নারীদের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আলজেরিয়া। জরিপে আলজেরিয়ার অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশেরও কম নারীদের দেশের প্রধান হওয়ার বিষয়টি সমর্থন করেছে।
বাড়ি থেকে পালানো সৌদি তরুণী রাহাফ আল-কুন। ছবি: টুইটার
তবে পারিবারিক জীবনের ক্ষেত্রে নারীসহ বেশির ভাগই মনে করেন, পরিবারের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত স্বামীর বা পুরুষের নেওয়া উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে মরক্কো থেকে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন। তাঁদের অর্ধেকেরও কম মনে করেন, স্বামীর হাতেই শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব থাকা উচিত।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে নিজ দেশে বিরোধী মত কঠিনভাবে দমনের অভিযোগ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতির ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যোগ এই জরিপে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বেশির ভাগই এ ক্ষেত্রে নেতা এরদোয়ানের নাম নিয়েছেন। তবে তিনটি দেশের অংশগ্রহণকারীরা এরদোয়ানের চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তাঁদের পছন্দে এগিয়ে রেখেছেন। এ-বিষয়ক জরিপের প্রতিটি ধাপে সবচেয়ে নিচে স্থান পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জরিপে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের ৫১ শতাংশ এরদোয়ান, ২৮ শতাংশ পুতিন এবং ১২ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছে। লেবানন, লিবিয়া ও মিসর পছন্দের শীর্ষে রেখেছে পুতিনকে। তবে এ ক্ষেত্রে এটাকে অংশগ্রহণকারীদের শতভাগ মতামতের সমষ্টিকে বোঝায় না। কারণ, ‘জানি না’ ও ‘প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি’ জানিয়েছেন যাঁরা, সেসব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেছেন। যখন তাঁদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কোন দেশকে হুমকি মনে করেন? জবাবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে ইসরায়েলের নাম। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় দেশ হিসেবে ইরানের নাম এসেছে।
জরিপ চালানো দেশগুলোয় অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা করুণ, তা উঠে এসেছে বেশির ভাগের দেশত্যাগের ভাবনা থেকে। তাঁরা দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান ইউরোপ, আমেরিকা, এমনকি আরব বিশ্বের ধনী দেশগুলোয়। তবে অভিবাসনের জন্য দেশ নির্বাচনে তাঁদের পছন্দে পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপ নয়, তাঁদের পছন্দের শীর্ষে এখন উত্তর আমেরিকা।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রতি পাঁচজনের একজন অন্য দেশে অভিবাসনের কথা ভাবছেন। এ ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে সুদান। অর্ধেক মানুষই অন্য দেশে চলে যেতে চান। এর জন্য দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।
রাহাফের মতো বাড়ি থেকে পালানো আরেক সৌদি তরুণী সালওয়া। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
উত্তর আমেরিকায় অভিবাসনে আগ্রহী লোকের সংখ্যা বেড়েছে। একসময় এই অঞ্চলের লোকজনের অভিবাসনের জন্য পছন্দের শীর্ষে ছিল ইউরোপ। এখন তাঁদের কাছে ইউরোপ খুব একটা জনপ্রিয় না। এ ছাড়া আরব বিশ্বের অন্য দেশগুলোও তাঁদের অভিবাসনের আগ্রহের জায়গায় রয়েছে।
সমকামিতার বিষয়ে মনোভাবে তারতম্য দেখা গেছে। তবে এ ব্যাপারে এই অঞ্চলগুলোয় গ্রহণযোগ্যতার হার কম, খুবই কম। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উদার হিসেবে সুনাম রয়েছে লেবাননের। এরপরও দেশটিতে সমকামিতার বিষয়ে উদার মনোভাব দেখিয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ।
২৫ হাজার ৪০৭ জনের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। আরব ব্যারোমিটার রিসার্চ নেটওয়ার্ক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিভিত্তিক একটি গবেষণা নেটওয়ার্ক। ২০০৬ সাল থেকে নেটওয়ার্কটি এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে আসছে। ব্যক্তিগত স্থানে অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ মিনিট ধরে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গবেষকেরা। এতে শুধু আরব বিশ্বের মতামত তুলে আনা হয়েছে। ফিলিস্তিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এতে নেওয়া হয়নি ইসরায়েল ও ইরানের লোকজনকে। এই অঞ্চলের বেশি ভাগ দেশই এতে অংশ নিয়েছে। তবে কয়েকটি দেশের সরকার জরিপ পরিচালনায় অবাধ ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কুয়েতের জরিপ ফলাফল এত দেরিতে এসেছে যে তা বিবিসি অ্যারাবিক কাভারেজে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সিরিয়ায় যাওয়া কষ্টসাধ্য হওয়ায় এ দেশটিও বাদ পড়েছে জরিপ থেকে। আইনি ও সাংস্কৃতিক দিক বিবেচনায় কিছু দেশের অংশগ্রহণকারীরা কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি। ব্যাপক পরিসরে করা জরিপে এগুলো ছিল সীমাবদ্ধতা।

পিরিওডকালীন সময়ে হাঁটাহাঁটি বন্ধ থাকবে? by ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিরিওড দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক অস্বস্তি ও সমস্যা নিয়ে।
তলপেটে ব্যথা, পেট ফোলাভাব, হাত-পায়ে ব্যথাভাব, শারীরিক দুর্বলতা, খাবারে অরুচিভাব দেখা দেওয়া সহ দেখা দেয় মুড সুইং এর মতো সমস্যা। একসাথে কয়েক ধরনের শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার ফলে, এ সময় শুয়ে-বসে থাকতেই বেশি আরামবোধ হয়।
সুস্বাস্থ্যের জন্য ও ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তারাও এ সময়টিতে আলস্যবোধ করেন। জড়তা এসে ভর করে শরীর ও মনে। ফলে পিরিওড চলাকালীন ৫-৭ দিন অনেকেই হাঁটাহাঁটি করা বাদ দিয়ে দেন। এছাড়া অনেকের মাঝেই ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে যে, এ সময়ে খুব বেশি হাঁটাহাঁটি অথবা কোন ধরনের শরীরচর্চাই করা যাবে না। অথচ এ সময়ে শারীরিক সমস্যাগুলো কমাতে ও পিরিওডকে সহজ করতে সাহায্য করে রুটিন হাঁটাহাঁটির অভ্যাস।
কেন এ সময়ে হাঁটাহাঁটি উপকারী?
শুধু হাঁটাহাঁটি নয়, হালকা দৌড়, রাইডিং ও সাঁতরানোর মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চামূলক কার্যক্রম পিরিওডকালীন সময়ে শারীরিক সমস্যাগুলোকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
যদিও এ সময়ে একেবারেই শরীরচর্চা করতে ইচ্ছা করে না, তবে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও যদি কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা বা সাইকেল চালানো যায় তবে উপকার পাওয়া যাবে। কয়েক মিনিটের ওয়ার্ম আপেই শরীর ঝরঝরে বোধ হবে এবং তলপেটের ব্যথাভাব কমে যাবে।
এমনকি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরাও পিরিওডকালীন সময়ে নারীদেরকে একদম বসে না থেকে হালকা ঘরানার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে ভারি ঘরানার যেকোন ধরনের শরীরচর্চা এড়িয়ে যেতে পিরিওডকালীন সময়ে।
তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। বেশ কিছু গবেষণার তথ্য থেকে দেখা গেছে, মানুষ ভেদে পিরিওডকালীন সময়ে শারীরিক কার্যক্রমের প্রভাবে ভিন্নতা দেখা দেয়। অর্থাৎ একজনের জন্য বিশ মিনিটের হাঁটা যতটুকু ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে, আরেকজনের জন্যেও যে ততটুকু প্রভাব দেখা দেবে সেটা নিশ্চিত নয়।
এ সময়ে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে?
স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য সময়ে শরীরচর্চা করার চাইতে পিরিওডকালীন সময়ে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয় কিছু বাড়তি বিষয়ে। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে পোশাকের বিষয়। শরীরচর্চা বা বাইরে হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে লাল, বাদামী কিংবা কালোর মতো গাড় রঙগুলো বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক পরিস্থিতি এড়ানো যাবে।
এছাড়া পরিধেয় পোশাক এমন হতে হবে যেন অস্বস্তিবোধ না হয়। আরামদায়ক পোশাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তেমন তন্তুর পোশাক নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া লিকেজের ভয় থাকলে এমন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে, যা ভারি রক্তপাতে সমস্যা করবে না। হাঁটাহাঁটি বা সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে টেম্পন ব্যবহার না করাই উত্তম।
মোদ্দাকথা, পিরিওড চলাকালীন সময়ে হাঁটাহাঁটি বা হালকা ঘরানার শরীরচর্চাতে কোন না নেই। বরং এতে উপকার রয়েছে।
পিরিওডকালীন সময়েও চালু রাখতে হবে শরীরচর্চা