Showing posts with label কামরুজ্জামান মিলু. Show all posts
Showing posts with label কামরুজ্জামান মিলু. Show all posts
Monday, September 30, 2019
ঝামেলা মিটবে কবে? by কামরুজ্জামান মিলু

চলচ্চিত্র
মুক্তি দিতে গিয়ে দিনের পর দিন নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন চলচ্চিত্র
প্রযোজকরা। বিশেষ করে সিনেমা অনেক সময় ভালো চললেও হল মালিকের কাছ থেকে
ঠিকমতো টিকিট বিক্রির টাকা পাচ্ছেন না চলচ্চিত্র প্রযোজকরা। তাই ঢাকার
চলচ্চিত্রে সিনেমা হলমালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে টিকিটের আয় (শেয়ার মানি)
বণ্টন নিয়ে ঝামেলা মিটছে না। মাঝে লম্বা সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক
পরিবেশক সমিতির নির্বাচন না হওয়ার কারণে এমন হয়েছে বলে মনে করেন
প্রযোজক-পরিবেশকদের অনেকে। দীর্ঘ আট বছর পর চলতি বছরের ২৭শে জুলাই
প্রযোজক-পরিবেশকদের স্বার্থ রক্ষায় গঠিত হয়েছে নতুন কমিটি। বর্তমানে
চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে গিয়ে যে অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা ঠেকাতে
কাজ শুরু করেছেন সমিতির বর্তমান নেতারা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক
পরিবেশক সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, সিনেমা হল থেকে
ঠিকমতো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না প্রযোজকরা। এরইমধ্যে চলচ্চিত্র পরিবেশনা নিয়েও
একটি কমিটি গঠিত হয়েছে।
সিনেমা হল মালিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত কথা বলছি। বিশেষ করে সিনেমা হল মালিকরা প্রযোজকদের টিকিট বিক্রির হিসাব দেয়ার সময় বড় অংকের ট্যাক্স কেটে রাখে। ভ্যাট থাকলেও অনেক আগেই তো সরকার সিনেমা হলের ট্যাক্স মওকুফ করেছেন। তাহলে কেন তারা বড় অংকের ট্যাক্স কাটছেন। এসব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ট্যাক্স যেন একজন প্রযোজককে না দিতে হয় এবং সিনেমা হল থেকে শেয়ারমানি যেন ঠিকমতো পান একজন প্রযোজক সে বিষয়ে বৈঠক চলছে। এরইমধ্যে মণিহার, চম্পাকলি, রাণীমহল, মতিমহলসহ বেশকিছু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করেছেন প্রযোজকেরা। মাসুম পাটোয়ারী নামের একজন প্রযোজক বলেন, আমি নতুন প্রযোজক হয়ে সিনেমা হল থেকে তেমন টাকা তুলতে পারিনি। নানা ধরনের ট্যাক্স, বুকিং এজেন্টদের টাকা দিয়ে আমার তেমন কোনো টাকা সিনেমা হল থেকে আসেনি। এমন চলতে থাকলে তো সিনেমায় অন্য কেউ লগ্নি করতে চাইবে না। সিনেমা ভালো কিংবা খারাপ যাই চলুক না কেন প্রযোজক হিসেবে অন্তত যেটুকু আমার প্রাপ্য তা আমাকে ঠিকমতো বুঝিয়ে দিতে হবে। সিনেমা হল মালিকরা তা করেন না। অন্যদিকে জানা যায়, বুকিং এজেন্টরা সিনেমা হলে যে প্রতিনিধি পাঠান সেই প্রতিনিধির খরচ সিনেমা হল মালিক দিতে চান না। বাধ্য হয়ে প্রযোজককে সেই টাকা পকেট থেকে দিতে হয়। প্রতিটি টিকিট বিক্রির টাকা থেকে সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা খরচ, এসি চার্জ, পৌর কর, ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকি টাকা হলমালিক ও প্রযোজকের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এরপরও একজন প্রযোজক যে টাকা পাচ্ছেন তা থেকে আবার হলে মেশিন ভাড়া, ব্যানার, হলের পোস্টার খরচ, বুকিং এজেন্টের কমিশনসহ হলে পাঠানো প্রতিনিধিদের পারিশ্রমিক বহন করতে হয়।
বেশির ভাগ প্রযোজকের ভাষ্য, এই খরচগুলো দিতে হলে তাদের হাতে আর কিছুই থাকে না। বলাকা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক এস এম শাহীন বলেন, আমাদের সিনেমা হলের টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১৪০ টাকা। সেখান থেকে নেট সেল প্রযোজককে দেয়া হয়। টিকিটের ৫০ ভাগ টাকাই দিয়ে দেয়া হয়। অন্য সিনেমা হলগুলো উনিশ-বিশ করলেও বলাকাতে এটা করার সুযোগ নেই। এদিকে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে এরইমধ্যে হল মালিকদের সঙ্গে বসতে শুরু করেছি আমরা। পর্যায়ক্রমে বাকি সিনেমা হল মালিকদের সঙ্গে বসা হবে। কিছু সিনেমা হলের ভ্যাট থাকলেও কোনো ট্যাক্স নেই। তাই এই ট্যাক্স কোনো প্রযোজক বহন করবে না। হল মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে টিকিটের আয় (শেয়ারমানি) বণ্টন নিয়ে ঝামেলা সবসময় তৈরি হচ্ছে তা সমাধানেরও চেষ্টা করছি আমরা। প্রায় আট বছর প্রযোজক সমিতি ছিল না। এতে চলচ্চিত্রে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা একে নিয়মের মধ্যে আনতে চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক বলেন, শেয়ারমানি বণ্টন নিয়ে সিনেমা হল মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে ঝামেলা দ্রুত মেটা দরকার। তা না হলে অচিরেই চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
সিনেমা হল মালিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত কথা বলছি। বিশেষ করে সিনেমা হল মালিকরা প্রযোজকদের টিকিট বিক্রির হিসাব দেয়ার সময় বড় অংকের ট্যাক্স কেটে রাখে। ভ্যাট থাকলেও অনেক আগেই তো সরকার সিনেমা হলের ট্যাক্স মওকুফ করেছেন। তাহলে কেন তারা বড় অংকের ট্যাক্স কাটছেন। এসব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ট্যাক্স যেন একজন প্রযোজককে না দিতে হয় এবং সিনেমা হল থেকে শেয়ারমানি যেন ঠিকমতো পান একজন প্রযোজক সে বিষয়ে বৈঠক চলছে। এরইমধ্যে মণিহার, চম্পাকলি, রাণীমহল, মতিমহলসহ বেশকিছু সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করেছেন প্রযোজকেরা। মাসুম পাটোয়ারী নামের একজন প্রযোজক বলেন, আমি নতুন প্রযোজক হয়ে সিনেমা হল থেকে তেমন টাকা তুলতে পারিনি। নানা ধরনের ট্যাক্স, বুকিং এজেন্টদের টাকা দিয়ে আমার তেমন কোনো টাকা সিনেমা হল থেকে আসেনি। এমন চলতে থাকলে তো সিনেমায় অন্য কেউ লগ্নি করতে চাইবে না। সিনেমা ভালো কিংবা খারাপ যাই চলুক না কেন প্রযোজক হিসেবে অন্তত যেটুকু আমার প্রাপ্য তা আমাকে ঠিকমতো বুঝিয়ে দিতে হবে। সিনেমা হল মালিকরা তা করেন না। অন্যদিকে জানা যায়, বুকিং এজেন্টরা সিনেমা হলে যে প্রতিনিধি পাঠান সেই প্রতিনিধির খরচ সিনেমা হল মালিক দিতে চান না। বাধ্য হয়ে প্রযোজককে সেই টাকা পকেট থেকে দিতে হয়। প্রতিটি টিকিট বিক্রির টাকা থেকে সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা খরচ, এসি চার্জ, পৌর কর, ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকি টাকা হলমালিক ও প্রযোজকের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। এরপরও একজন প্রযোজক যে টাকা পাচ্ছেন তা থেকে আবার হলে মেশিন ভাড়া, ব্যানার, হলের পোস্টার খরচ, বুকিং এজেন্টের কমিশনসহ হলে পাঠানো প্রতিনিধিদের পারিশ্রমিক বহন করতে হয়।
বেশির ভাগ প্রযোজকের ভাষ্য, এই খরচগুলো দিতে হলে তাদের হাতে আর কিছুই থাকে না। বলাকা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক এস এম শাহীন বলেন, আমাদের সিনেমা হলের টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১৪০ টাকা। সেখান থেকে নেট সেল প্রযোজককে দেয়া হয়। টিকিটের ৫০ ভাগ টাকাই দিয়ে দেয়া হয়। অন্য সিনেমা হলগুলো উনিশ-বিশ করলেও বলাকাতে এটা করার সুযোগ নেই। এদিকে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির বলেন, অনিয়ম ঠেকাতে এরইমধ্যে হল মালিকদের সঙ্গে বসতে শুরু করেছি আমরা। পর্যায়ক্রমে বাকি সিনেমা হল মালিকদের সঙ্গে বসা হবে। কিছু সিনেমা হলের ভ্যাট থাকলেও কোনো ট্যাক্স নেই। তাই এই ট্যাক্স কোনো প্রযোজক বহন করবে না। হল মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে টিকিটের আয় (শেয়ারমানি) বণ্টন নিয়ে ঝামেলা সবসময় তৈরি হচ্ছে তা সমাধানেরও চেষ্টা করছি আমরা। প্রায় আট বছর প্রযোজক সমিতি ছিল না। এতে চলচ্চিত্রে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা একে নিয়মের মধ্যে আনতে চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক বলেন, শেয়ারমানি বণ্টন নিয়ে সিনেমা হল মালিক ও প্রযোজকদের মধ্যে ঝামেলা দ্রুত মেটা দরকার। তা না হলে অচিরেই চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
Friday, September 27, 2019
গল্প সংকটে ঢালিউড by কামরুজ্জামান মিলু

একটি
চলচ্চিত্র দাঁড়ায় একটি সুন্দর গল্পের ওপর। আর সেই গল্প যদি দর্শকদের না
টানে তাহলে সেই চলচ্চিত্র লসের খাতায় নাম লেখাবে এটাই স্বাভাবিক। আশি-নব্বই
দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত ছবিতে গল্প খুঁজে পাওয়া যেতো। আর তাতে নিজেদের
জীবনের প্রতিফলন দেখতে দর্শক সিনেমা হলে ভিড় করতো। ব্যাপক মন্দাবস্থায়
নিমজ্জিত এখন দেশীয় চলচ্চিত্র। মাঝে কিছু সিনেমার গল্প দর্শকরা পছন্দ করলেও
বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য দুর্বল। তাই একের
পর এক এসব চলচ্চিত্র লসের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান
মন্দাবস্থার জন্য বেশিরভাগ দর্শকই সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্যকে বেশি দায়ী
করছেন। ‘প্রতীজ্ঞা’, ‘নাতবৌ’, ‘জিদ্দি’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘পিতা মাতা
সন্তান’, ‘বাংলার বধূ’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘দেনমোহর’, ‘কালিয়া’, ‘স্ত্রী
হত্যা’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘আমি সেই মেয়ে’সহ অনেক
হিট ছবির গল্প লিখেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় পরিচালক, গল্প, সংলাপ রচয়িতা ও
চিত্রনাট্যকার ছটকু আহমেদ। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, এখনকার ছবিতে গল্পের সংকট
চরমে। বর্তমান ছবির গল্পে নানা-নানি, দাদা দাদি তো দূরে থাক মা-বাবাই থাকে
না। চার-পাঁচ বছর ধরে আমিও তেমন গল্প লিখছি না। কারণ আমাদের সময় মাসের পর
মাস একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ চলতো, আর্টিস্টের সঙ্গে কথা হতো। এখন তো
একদিনের মধ্যে গল্প রেডি করে তাড়াতাড়ি চিত্রনাট্য দিতে বলা হয়। একটি ছবির
মূল চরিত্রের চাল-চলন কেমন হবে, সংলাপ কেমন হবে-এ বিষয়গুলোতে জোর দেয়া
দরকার। নোংরা বিষয় দেখানো আর জীবনের গল্প দেখানো এক না। সুন্দর গল্পের
পাশাপাশি চিত্রনাট্যে গতি থাকতে হবে। এখনকার সিনেমার চিত্রনাট্যে তো গতিই
নেই। বর্তমানে যেসব ছবি দেখি সেসব দেখে আমারই তো মন খারাপ হয়। এই গল্প সংকট
দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের। বর্তমানে জনপ্রিয় খল অভিনেতা ডিপজলের
প্রযোজনায় একটি ও নায়ক অনন্ত জলিলের প্রযোজনায় একটি এ মোট দুটি ছবির
চিত্রনাট্য লিখছেন ছটকু আহমেদ। একটা সময় সৈয়দ শামসুল হক, কাজী আজিজ,
মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানসহ নানা বিশিষ্টজন ছবির গল্প লিখতেন। উপযুক্ত
পারিশ্রমিক দিতে হবে ভেবে বর্তমান সময়ের অনেক নির্মাতাই সিনিয়র লেখকদের
কাছে গল্পের জন্য যান না। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিত্রপরিচালক
বলেন, দেশে গল্পকারের অভাব রয়েছে এটা সত্যি। তবে যারা আছেন তারা একটি গল্প
লিখতে দিলে অনেক সময় লাগিয়ে দিচ্ছেন। টাকাও বেশি নিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে
বিদেশি গল্প বা ছবির অনুকরণ করতে হয়। আর প্রতি বছরই ছবি মুক্তির সংখ্যা
কমছে। এরমধ্যে কাজ না করলে জীবন চলবে কি করে? পরিচালনার পাশাপাশি বেশকিছু
ছবির চিত্রনাট্য করে প্রশংসা পেয়েছেন তৌকীর আহমেদ। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের
মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গল্প ও চিত্রনাট্য। এর পাশাপাশি ছবির
নির্মাণও ভালো হতে হবে। বর্তমানে অনেক স্বাধীন নির্মাতা নিজেই সিনেমার গল্প
বলতে চান। সেক্ষেত্রে চিত্রনাট্য নিজে করেন। তবে সে বিষয়ে দক্ষতার সঙ্গে
সিনেমার গল্পটি দর্শকদের দেখাতে হবে। গল্পের সংকট রয়েছে এবং তা কাটানোর
জন্য চেষ্টা আমাদেরই তো করতে হবে। পরিচালনার পাশাপাশি ‘অস্তিত্ব আমার দেশ’,
‘জাগো’, ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবিগুলোর গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন খিজির
হায়াত খান। তিনি বলেন, আমি নিজেও ভালো এবং সময়োপযোগী চিত্রনাট্য লেখার
চেষ্টা করছি। সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে শতভাগ দর্শকের কাছাকাছি এখনো যেতে
পারিনি। আমাদের দেশে গল্পকার ও স্ক্রিপ্ট রাইটারের অভাব রয়েছে। সিনেমার
গল্প লেখা আর চিত্রনাট্য তৈরি করা দুটি আলাদা ব্যাপার। এ বিষয়ে দক্ষ লোক
প্রয়োজন। উপযুক্ত ট্রেনিংও দরকার। সিনেমার চিত্রনাট্যের একটা ফরমেট রয়েছে।
সেটা আমরা ফলো না করেই চিত্রনাট্য তৈরির চেষ্টা করছি। এ কারণে প্রতিনিয়ত
দর্শক হারিয়ে ফেলছি বলে মনে হয় আমার।
Sunday, September 22, 2019
ছবির গল্পই হচ্ছে হিরো by কামরুজ্জামান মিলু

ঢালিউডের
ব্যস্ততম তারকা বিদ্যা সিনহা মিম। এ পর্যন্ত বেশকিছু সিনেমা দর্শকদের
উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কার। ঢাকাই চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কলকাতায়ও তিনি বর্তমানে
বেশ পরিচিত মুখ। দুই বাংলার ছবিতে তিনি সমানতালে অভিনয় করছেন। বর্তমানে
‘পরাণ’ ছবির কাজে ময়মনসিংহে আছেন তিনি। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন এ
ছবির শুটিং করছেন। ছবিটিতে তার বিপরীতে শরিফুল রাজ ও ইয়াশ রোহান অভিনয়
করছেন। মিম বলেন, কাজটি বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন
রায়হান রাফি। আমার সঙ্গে এটা তার প্রথম কাজ। তবে কাজ করে মনেই হচ্ছে না যে
প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করছি। খুব ভালো লাগছে। বেশ গুছিয়ে কাজ করছেন তিনি।
তার পরিচালিত আগের ছবিগুলোও দর্শকরা পছন্দ করেছিলেন। আশা করি, এ ছবিটিও
পছন্দ করবেন। ‘পরাণ’ ছবিতে মেকআপ ছাড়াই কাজ করছেন মিম। চরিত্রের প্রয়োজনে
এমন রূপেই বড় পর্দায় দর্শকরা তাকে দেখতে পাবেন। এ প্রসঙ্গে মিম বলেন,
মফস্বলের একটি দারুণ স্টোরি। দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন। এ ছবির কাহিনী
সত্যিই মনে লাগার মতো। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছি। ছবিতে দুই নায়ক
সম্পর্কে জানতে চাইলে মিম বলেন, রাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্রে অভিনয়
করছে। নতুন হলেও বেশ ভালো অভিনয় করছে সে। আর ইয়াশ রোহানও ভদ্র স্বভাবের
ছেলে। সিনেমায় তার চরিত্রটিও এমন। দুজনেই বেশ ভালো করছে। তবে ছবিতে দুই
নায়ক হলেও কে আমাকে পাবে তা দেখার জন্য ছবিটি দর্শকদের শেষ পর্যন্ত দেখতে
হবে। আমার বিশ্বাস, আমাদের অভিনয় দর্শকরাও পছন্দ করবেন। চলতি বছর
পশ্চিমবঙ্গে ‘থাই কারি’ নামের একটি ছবি মুক্তি পায় মিমের। এ ছবিতে তার
বিপরীতে কলকাতার ব্যস্ত অভিনেতা সোহম অভিনয় করেন। ছবিটি নির্মাণ করেছেন
কলকাতার অঙ্কিত আদিত্য। আর শিগগিরই ঢাকায় মুক্তি পাবে তার অভিনীত নতুন ছবি
‘সাপলুডু’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল। মিম বলেন, এরইমধ্যে এ
ছবির শুটিং ও ডাবিং শেষ করেছি। বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া ছবিটি প্রযোজনা করেছে।
দারুণ হয়েছে কাজটি। বলা যায় ছবির গল্পই হচ্ছে হিরো। অন্য দশটা ছবির কাহিনী
থেকে একটু আলাদা। সিরিয়াস থ্রিলার ধাঁচের একটি কাহিনী। এ ধরনের ছবি খুব
একটা হয়নি। একটি মেয়ের স্ট্র্যাগল দেখা যাবে কাহিনীতে। সেই মেয়ের চরিত্রে
আমি অভিনয় করেছি। এ ছবির গানগুলো এরইমধ্যে অডিও আকারে প্রকাশ হয়েছে। আমি
‘পরাণ’ এর কাজ শেষ করে ‘সাপলুডু’ ছবির প্রচারণায় অংশ নেব। এ ছবিতে
সালাহউদ্দিন লাভলু, তারিক আনাম খান, জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো
বেশ কজন ভালো আর্টিস্ট কাজ করেছেন। ছবিটিতে মিমের বিপরীতে আরিফিন শুভ
অভিনয় করেছেন। ২০১৪ সালে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘তারকাঁটা’ ছবির পর
আবারো শুভ ও মিম একই ফ্রেমে কাজ করলেন। এদিকে সবশেষ চলতি বছর তারেক শিকদার
পরিচালিত ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে মিমকে। এ ছবিতে তার নায়ক
হিসেবে দর্শকরা বাপ্পি চৌধুরীকে দেখতে পান। আজকের আলাপনের সবশেষে মিম বলেন,
আর দুই-তিনদিনের কাজ হলে ‘পরাণ’ ছবির শুটিং শেষ হবে। এরমধ্যে সিকোয়েন্স
নির্ভর গানেরও কাজ করেছি আমরা। কাজটা ভালো হয়েছে। এ ছবির কাজ শেষ করে ঢাকায়
এসে ‘সাপলুডু’ ছবির প্রচারণায় অংশ নেব। নতুন এ ছবিটি নিয়ে আমি বেশ
আশাবাদী।

Friday, September 20, 2019
বুঝে শুনে ভালো কিছু কাজই করতে চাই: -কামরুজ্জামান মিলু

ঢাকাই
সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে সাময়িক
বিরতি শেষে আবার ফিরেছেন এ মাধ্যমটিতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ছবির
প্রস্তাব পেলেও ব্যাটে বলে না মেলার কারণে সেগুলোতে অভিনয় করেননি। বর্তমানে
বেশ বেছে কাজ করছেন এই তারকা। পূর্ণিমা বলেন, অনেকদিন পর কাজ শুরু করেছি।
মাঝে কয়েকটি নাটক, টেলিছবির পাশাপাশি সিনেমায় কাজের প্রস্তাব এসেছিল। তবে
নানা কারণে সেগুলো করা হয়নি। সত্যি বলতে বড় পর্দায় এখন থেকে বুঝে শুনে ভালো
কিছু কাজই করতে চাই। আর সামনে শীতে ছোট পর্দার জন্য দু-একটি কাজ করবো।
এদিকে ‘জ্যাম’ ছবির শুটিং আবার শুরু হচ্ছে। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের
পরিচালনায় আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে এ শুটিং শুরু হবে। ঢাকার বিভিন্ন
লোকেশনে হবে এ শুটিং। একটানা কাজটি শেষ করার ইচ্ছে আছে আমার। এ ছবিতে
পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ। বিশিষ্ট নির্মাতা জাকির হোসেন
রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবিতে সিঁথি চরিত্রে অভিনয় করে
দর্শকদের অবাক করেছিলেন পূর্ণিমা। অল্প বয়সে রূপালি পর্দায় নায়িকা হিসেবে
ঝলমলে এক অভিষেক হয়েছিল তার। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া নিজের এ প্রথম ছবিতে
পূর্ণিমা নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন রিয়াজকে। এরপর ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে
তুমি’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, টাকা’, ‘সুভা’,
‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মাটির ঠিকানা’সহ অসংখ্য জনপ্রিয়
বাংলা সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১০ সালে
কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ
অভিনেত্রী হিসেবে তিনি পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এদিকে বর্তমানে নঈম
ইমতিয়াজ নেয়ামূলের ‘গাঙচিল’ নামে আরেকটি নতুন ছবিতেও কাজ করছেন এই তারকা। এ
ছবিরও বেশকিছু অংশের কাজ হয়েছে। এবারের কোরবানি ঈদে ছোট পর্দার বিশেষ
নাটকে অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। মিজানুর রহমান আরিয়ানের নির্দেশনায় এ নাটকটির
নাম ‘সাবলেট’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। নাটকটি প্রচারের পর
বেশ সাড়া পেয়েছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে পূর্ণিমা সম্প্রতি আরেকটি বিষয়
নিয়ে খুবই আনন্দিত। তা হচ্ছে খুব অল্প সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখের বেশি। পূর্ণিমা এ
বিষয়ে বলেন, অনেক তারকার চেয়ে আমার ফলোয়ার সংখ্যা কম। তারপরও আমি খুশি।
কারণ খুবই অল্প সময়ে আমার ফলোয়ার সংখ্যা বেড়েছে ইনস্টাগ্রামে। ছবি, ভিডিও
শেয়ারের জনপ্রিয় এ মাধ্যমটিতে আমি এখন নিয়মিত। এখানে বর্তমানে আমার
অনুসরণকারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এটা জেনে খুব ভালো লাগছে আমার। ছোট
পর্দার কাজ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, গত ঈদে একটি কাজই করা হয়েছে। ‘সাবলেট’
নামের এ নাটকটি প্রচারের পর বেশ সাড়া পেয়েছি। কৃতাঞ্জলী কথাচিত্রের
ব্যানারে নির্মাণ হচ্ছে ‘জ্যাম’ ছবিটি। মাঝে দুই ধাপের হওয়ার পর এ ছবির কাজ
আবার শুরু হচ্ছে। ছবির গল্পটি ভালো। আমার বিশ্বাস, ছবিটি দর্শকরাও পছন্দ
করবেন। এদিকে ‘গাঙচিল’ ছবির বেশকিছু অংশের কাজ নোয়াখালি ও ঢাকায় করেছেন
পূর্ণিমা। এ ছবিতে ফেরদৌসের বিপরীতে দর্শকরা তাকে দেখতে পাবেন। পূর্ণিমা
বলেন, এ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম মোহনা। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দাদের
জীবনের নানা ঘটনা এই ছবির প্রধান উপজীব্য। এই অঞ্চলে এনজিওকর্মী হিসেবে
দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবেন। আর ফেরদৌস অভিনয় করছেন সাংবাদিক চরিত্রে। দুটি
ছবির পরিচালক একজনই। তাই শিডিউল মিলিয়ে ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ ছবির কাজ টানা
করবো। আপাতত ছবি দুটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। এরপর সব ঠিক থাকলে নতুন
ছবির কাজ শুরু করবো।
Saturday, September 7, 2019
হতাশা কাটছে না by কামরুজ্জামান মিলু

গেল
বছর আমদানিসহ ৫৬টি বাংলা ছবি দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। তবে
গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ছবি মুক্তির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। বাংলাদেশ
চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির অফিস কর্মকর্তা সোমেন বাবুর তথ্যমতে, এখন
পর্যন্ত আমদানি ও ঈদেরসহ মোট ৩৩টি ছবি বিভিন্ন সময় মুক্তি পেয়েছে। এরমধ্যে
‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি ভালো ব্যবসা করেছে। এ ছাড়া ‘নোলক’, ‘আবার বসন্ত’,
‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘যদি একদিন’, ‘আলফা’, ‘আব্বাস’, ‘বেপরোয়া’, আমদানি ছবি
‘শেষ থেকে শুরু’ ও সবশেষ ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিগুলো মুক্তির পর
বেশ আলোচনায় ছিল। চলতি বছর শেষ হতে বাকি আছে আরো চার মাস। এই সময়ের মধ্যে
১৫টি ছবিও মুক্তির জন্য প্রস্তুত নেই বলে বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজ সূত্রে
জানা যায়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান বলেন,
আমাদের আমদানি করা ছবিগুলোর মধ্যে ‘কিডন্যাপ’ ছবিটি মোটামুটি চলেছে।
তবে ‘শেষ থেকে শুরু’ ছবিটি বেশ ভালো চলেছে। আমরা শাকিব খান ও ফারিয়া অভিনীত বড় বাজেটের ছবি ‘শাহেনশাহ’ আগামী ৪ঠা অক্টোবর মুক্তি দেবো। এদিকে রাজধানীর বলাকা হলের ব্যবস্থাপক এস এম শাহীন বলেন, আমরা আমদানি করা ছবি ‘কিডন্যাপ’ চালিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে দর্শকস্বল্পতা ছিল। মোটামুটি চলেছে ছবিটি। আর আমদানি ছবিগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা না মিল না থাকার কারণে দর্শক হয়তো গ্রহণ করছে না। তিনি আরো বলেন, দর্শকরা দেশীয় ভালো মানের সিনেমা বেশি দেখতে চান। আমরা ঈদে শাকিবের ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি চালিয়েছি। এ ছবিটি মোটামুটি চলেছে। এখন ‘বেপরোয়া’ ছবিটি চালাচ্ছি। এ মাসে নতুন ছবি আর নেই। পুরানো ছবি এখন চালাতে হবে। আর আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের অপেক্ষায় আছি। নতুন ছবি সেসময় মুক্তি পেলে আবার চালাবো। আগামী সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে চারটি ছবি মুক্তির তালিকায় আছে। প্রযোজক সমিতির ছবি মুক্তির নিবন্ধন খাতা থেকে জানা গেছে, আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর ‘আমার জন্মভূমি’ নামের একটি চলচ্চিত্র মুক্তির জন্য নিবন্ধন করা আছে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু এরপর থেকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ‘মায়াবতী’, ‘অবতার’, ‘গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ’ ও ‘পাগলামী’ ছবিগুলো মুক্তির জন্য নির্মাতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর ‘মায়াবতী’ ও ‘অবতার’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পাবে। মাহিয়া মাহি ও জে এইচ রুশো অভিনীত ‘অবতার’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদ হাসান শিকদার। অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় ইয়াশ রোহান ও নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনীত ‘মায়াবতী’ ছবিটিও একই তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আর আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে মারুফ ও লাক্স তারকা অরিন অভিনীত এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ’ ছবিটি। কমল সরকার পরিচালিত ‘পাগলামী’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর। এতে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী ও কলকাতার শ্রাবণী রায়। সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরে মুক্তি পাবে শামিম আহমেদ রনী পরিচালিত ‘শাহেনশাহ’ ছবিটি। এ ছবিতে প্রথমবার দর্শকরা শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়াকে একফ্রেমে দেখতে পাবেন। রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ভালো কনটেন্ট না পাওয়ার কারণে হতাশা কাটছে না। মাঝে বৃষ্টি, ডেঙ্গু ভয়াবহতাসহ নানা কারণে ঈদের ছবির দর্শক কম ছিল। ছবিগুলো তারপরও মোটামুটি চলেছে। তবে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির গল্পটা ভালো ছিল। আরো ভালো যাওয়া উচিত ছিল এ ছবিটি। সামনে ভালো মানের ছবির সংখ্যাও কম। এভাবে চলতে থাকলে হতাশা বাড়বে। ভালো মানের ছবি কম নির্মাণ হচ্ছে। শুধু ঈদ না বছরজুড়েই ভালো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাক এটাই চাওয়া আমার।
তবে ‘শেষ থেকে শুরু’ ছবিটি বেশ ভালো চলেছে। আমরা শাকিব খান ও ফারিয়া অভিনীত বড় বাজেটের ছবি ‘শাহেনশাহ’ আগামী ৪ঠা অক্টোবর মুক্তি দেবো। এদিকে রাজধানীর বলাকা হলের ব্যবস্থাপক এস এম শাহীন বলেন, আমরা আমদানি করা ছবি ‘কিডন্যাপ’ চালিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে দর্শকস্বল্পতা ছিল। মোটামুটি চলেছে ছবিটি। আর আমদানি ছবিগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা না মিল না থাকার কারণে দর্শক হয়তো গ্রহণ করছে না। তিনি আরো বলেন, দর্শকরা দেশীয় ভালো মানের সিনেমা বেশি দেখতে চান। আমরা ঈদে শাকিবের ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি চালিয়েছি। এ ছবিটি মোটামুটি চলেছে। এখন ‘বেপরোয়া’ ছবিটি চালাচ্ছি। এ মাসে নতুন ছবি আর নেই। পুরানো ছবি এখন চালাতে হবে। আর আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের অপেক্ষায় আছি। নতুন ছবি সেসময় মুক্তি পেলে আবার চালাবো। আগামী সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে চারটি ছবি মুক্তির তালিকায় আছে। প্রযোজক সমিতির ছবি মুক্তির নিবন্ধন খাতা থেকে জানা গেছে, আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর ‘আমার জন্মভূমি’ নামের একটি চলচ্চিত্র মুক্তির জন্য নিবন্ধন করা আছে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু এরপর থেকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ‘মায়াবতী’, ‘অবতার’, ‘গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ’ ও ‘পাগলামী’ ছবিগুলো মুক্তির জন্য নির্মাতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর ‘মায়াবতী’ ও ‘অবতার’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পাবে। মাহিয়া মাহি ও জে এইচ রুশো অভিনীত ‘অবতার’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদ হাসান শিকদার। অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় ইয়াশ রোহান ও নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনীত ‘মায়াবতী’ ছবিটিও একই তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আর আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে মারুফ ও লাক্স তারকা অরিন অভিনীত এবং মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ’ ছবিটি। কমল সরকার পরিচালিত ‘পাগলামী’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর। এতে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী ও কলকাতার শ্রাবণী রায়। সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরে মুক্তি পাবে শামিম আহমেদ রনী পরিচালিত ‘শাহেনশাহ’ ছবিটি। এ ছবিতে প্রথমবার দর্শকরা শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়াকে একফ্রেমে দেখতে পাবেন। রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ভালো কনটেন্ট না পাওয়ার কারণে হতাশা কাটছে না। মাঝে বৃষ্টি, ডেঙ্গু ভয়াবহতাসহ নানা কারণে ঈদের ছবির দর্শক কম ছিল। ছবিগুলো তারপরও মোটামুটি চলেছে। তবে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির গল্পটা ভালো ছিল। আরো ভালো যাওয়া উচিত ছিল এ ছবিটি। সামনে ভালো মানের ছবির সংখ্যাও কম। এভাবে চলতে থাকলে হতাশা বাড়বে। ভালো মানের ছবি কম নির্মাণ হচ্ছে। শুধু ঈদ না বছরজুড়েই ভালো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাক এটাই চাওয়া আমার।
Friday, May 10, 2019
দু’দশকে বন্ধ হয়েছে এক হাজারের বেশি সিনেমা হল by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের
সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল।
দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? অতঃপর ক্রমে হলের সংখ্যা বেড়ে চলা,
এসবের আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে দেশজুড়ে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে
সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর পঞ্চম ও শেষ পর্ব দু’দশকে বন্ধ হয়েছে এক হাজারের বেশি সিনেমা হল।
সিনেমার ব্যবসা যখন ছিল তুঙ্গে তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সিনেমা হল নির্মাণ হয়। অথচ সেই সিনেমা হলের ব্যবসায় নেমেছে ধস। নিভে যাচ্ছে একের পর এক সিনেমা হলের আলো। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে সিনেমা হল চালু রয়েছে মোট ১৭৪টি।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সারা দেশে এই সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৫টি। সিনেমা হলে দর্শকের আনাগোনা কমে যাওয়া, বেশিরভাগ সিনেমা ফ্লপের খাতায় নাম লেখার পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিপর্যয়সহ নানা কারণে গত দু’দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে।
শুধু তাই নয়, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক কর্মী পেশা পরিবর্তনও করেছেন। এদিকে এসব কারণে আগামী ১২ই এপ্রিল থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা সারা দেশের সব সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই ঘোষণায় সম্প্রতি সায় দিয়েছে বুকিং এজেন্ট সমিতি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আমার একটি সিনেমা হল আছে। নাম ‘স্বপ্নপুরী’। আগে এই উপজেলায় চারটি সিনেমা হল ছিল। এখন আমারটাসহ ‘ঝুমুর’ নামে আরেকটি সিনেমা হল টিকে আছে। আসলে সিনেমা হতে হবে সিনেমার মতো। নাটক নির্মাণ করে সিনেমা হলে চালালে তো দর্শক আসবে না। এ ধরনের ছবি ঢাকার সিনেমা হলে চললেও এখানে চলে না। যে কারণে সারা দেশের সিনেমা হলে ধীরে ধীরে দর্শক কমেছে।
৩৬ শতাংশের বেশি জায়গা বিশিষ্ট আমার সিনেমা হলটি ১০ কোটি টাকা দিয়ে কিনতে চাওয়া হয়েছিল। চায়নার একটি কর্পোরেট অফিস করার কথা ছিল এখানে। কিন্তু আমি বিক্রি করিনি এবং সিনেমা হলটি এখনো বিক্রি করতে চাই না। আমি চাই সিনেমা হলের সেই রমরমা ব্যবসাটা আবার ফিরে আসুক। সেই অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি আরো জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরেই এখন সিনেমা হল নেই। রাঙ্গামাটির মতো পর্যটন শহরে নেই কোনো সিনেমা হল। আগে এখানে তিনটি হল ছিল। নরসিংদী জেলা শহরে ছবিঘর, মিতালী, সংগীতা, সুরভী নামে চারটি সিনেমা হলের একটিও এখন চালু নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তিনটি হলের সবকটিই এখন বন্ধ। সিনেমা হল নেই ঝালকাঠি, নড়াইল, পঞ্চগড়, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। নেত্রকোনা জেলা শহরে হীরামন নামে একটিমাত্র সিনেমা হল আছে এখন। এ ছাড়া পটুয়াখালী, দিনাজপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুরে বর্তমানে মাত্র একটি করে সিনেমা হল চালু আছে। যেখানে আগে এসব জায়গায় তিন-চারটি করে সিনেমা হল ছিল।
রাজধানীর পরেই চলচ্চিত্রের বড় বাজার ছিল চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, যশোর। প্রদর্শক সমিতির দেয়া তথ্যমতে, গত দু’দশকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে ২০টি সিনেমা হল। হারিয়ে গেছে অলঙ্কার, লায়ন্স, সানাই, রঙ্গম, সাগরিকা, বনানী কমপ্লেক্স, নূপুর, জলসা, গুলজার, উপহার, রিদম, উজালা, আকাশ, মেলোডি, সিনেমা কর্ণফুলী। ঢাকার মধ্যে পুরান ঢাকার গুলিস্তান, নাজ, সদরঘাটের রূপমহল, মুন, স্টার, আরমানিটোলার শাবিস্তান, এলিফ্যান্ট রোডের মল্লিকা, বাসাবোর অতিথি, আগমন, ইসলামপুরের লায়ন, চকবাজারের তাজমহল, পোস্তগোলার মেঘনা, যমুনা, ডায়না, নারায়ণগঞ্জের মিনতি, কাওরান বাজারের পূর্ণিমা এবং সবশেষ বংশালের মানসী হলটির মূল মিলনায়তন ভেঙে সেখানে মার্কেট করা হয়েছে।
এদিকে একসময় যশোরের পরিচিতি ছিল সিনেমা হলের শহর হিসেবে। সেখানকার ২১টি সিনেমা হল থেকে কমতে কমতে এখন মাত্র ২টি চালু আছে। খুলনায় সিনেমা হল ছিল ১১টি। এখন আছে তিনটি। সিলেটের সাতটির মধ্যে একটি এবং রংপুরের পাঁচটি সিনেমা হলের মধ্যে বর্তমানে একটি টিকে আছে। এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে দেশের জন্য এটি খুবই দুঃখজনক সংবাদ। ভালো মানের ছবির অভাব ও হলের ভালো পরিবেশ না থাকা অবশ্যই সিনেমা হল বন্ধের জন্য দুটি কারণ। তবে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হচ্ছে গুদামঘর মার্কা সিনেমা হল এখন আর কোথাও চলবে না।
সারা দেশে এখন আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সিনেপ্লেক্সের মতো করে আধুনিক হলে দর্শকরা এখন সিনেমা দেখতে চান। ১২০০ সিটের মতো বিশাল সিনেমা হল এখন আর চলবে না। কম আসন হলেও সুসজ্জিত ও সুন্দর পরিবেশের আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ হলে সিনেমা ব্যবসা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে। পাশাপাশি লোকাল ডিশ লাইনে বাংলা সিনেমা দেখানো বন্ধ করতে হবে এবং টেলিভিশনেও প্রতিদিন অবাধে সিনেমা দেখানোর বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নির্দিষ্ট দিনে ছোট পর্দায় দর্শকদের সিনেমা দেখানো দরকার। কারণ, গ্রামের বাজারে চায়ের দোকানে বসে দর্শকরা এসব সিনেমা দেখতে থাকে। এর ফলে সিনেমা হলে গিয়ে আর সিনেমা দেখার আগ্রহ তাদের থাকছে না।
একের পর এক সিনেমা হলও তাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যেসব সিনেমা হলের মালিকরা সিনেমা হল বন্ধ করেছেন তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আধুনিক সিনেপ্লেক্স বানানোর জন্য আগ্রহী করতে হবে। আর সিনেপ্লেক্সের মতো ফুডকোর্টসহ আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ করলে আমার বিশ্বাস অবশ্যই সিনেমা হল চলবে।
সিনেমার ব্যবসা যখন ছিল তুঙ্গে তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সিনেমা হল নির্মাণ হয়। অথচ সেই সিনেমা হলের ব্যবসায় নেমেছে ধস। নিভে যাচ্ছে একের পর এক সিনেমা হলের আলো। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে সিনেমা হল চালু রয়েছে মোট ১৭৪টি।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সারা দেশে এই সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৫টি। সিনেমা হলে দর্শকের আনাগোনা কমে যাওয়া, বেশিরভাগ সিনেমা ফ্লপের খাতায় নাম লেখার পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিপর্যয়সহ নানা কারণে গত দু’দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে।
শুধু তাই নয়, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক কর্মী পেশা পরিবর্তনও করেছেন। এদিকে এসব কারণে আগামী ১২ই এপ্রিল থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা সারা দেশের সব সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই ঘোষণায় সম্প্রতি সায় দিয়েছে বুকিং এজেন্ট সমিতি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আমার একটি সিনেমা হল আছে। নাম ‘স্বপ্নপুরী’। আগে এই উপজেলায় চারটি সিনেমা হল ছিল। এখন আমারটাসহ ‘ঝুমুর’ নামে আরেকটি সিনেমা হল টিকে আছে। আসলে সিনেমা হতে হবে সিনেমার মতো। নাটক নির্মাণ করে সিনেমা হলে চালালে তো দর্শক আসবে না। এ ধরনের ছবি ঢাকার সিনেমা হলে চললেও এখানে চলে না। যে কারণে সারা দেশের সিনেমা হলে ধীরে ধীরে দর্শক কমেছে।
৩৬ শতাংশের বেশি জায়গা বিশিষ্ট আমার সিনেমা হলটি ১০ কোটি টাকা দিয়ে কিনতে চাওয়া হয়েছিল। চায়নার একটি কর্পোরেট অফিস করার কথা ছিল এখানে। কিন্তু আমি বিক্রি করিনি এবং সিনেমা হলটি এখনো বিক্রি করতে চাই না। আমি চাই সিনেমা হলের সেই রমরমা ব্যবসাটা আবার ফিরে আসুক। সেই অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি আরো জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরেই এখন সিনেমা হল নেই। রাঙ্গামাটির মতো পর্যটন শহরে নেই কোনো সিনেমা হল। আগে এখানে তিনটি হল ছিল। নরসিংদী জেলা শহরে ছবিঘর, মিতালী, সংগীতা, সুরভী নামে চারটি সিনেমা হলের একটিও এখন চালু নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তিনটি হলের সবকটিই এখন বন্ধ। সিনেমা হল নেই ঝালকাঠি, নড়াইল, পঞ্চগড়, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। নেত্রকোনা জেলা শহরে হীরামন নামে একটিমাত্র সিনেমা হল আছে এখন। এ ছাড়া পটুয়াখালী, দিনাজপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুরে বর্তমানে মাত্র একটি করে সিনেমা হল চালু আছে। যেখানে আগে এসব জায়গায় তিন-চারটি করে সিনেমা হল ছিল।
রাজধানীর পরেই চলচ্চিত্রের বড় বাজার ছিল চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, যশোর। প্রদর্শক সমিতির দেয়া তথ্যমতে, গত দু’দশকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে গেছে ২০টি সিনেমা হল। হারিয়ে গেছে অলঙ্কার, লায়ন্স, সানাই, রঙ্গম, সাগরিকা, বনানী কমপ্লেক্স, নূপুর, জলসা, গুলজার, উপহার, রিদম, উজালা, আকাশ, মেলোডি, সিনেমা কর্ণফুলী। ঢাকার মধ্যে পুরান ঢাকার গুলিস্তান, নাজ, সদরঘাটের রূপমহল, মুন, স্টার, আরমানিটোলার শাবিস্তান, এলিফ্যান্ট রোডের মল্লিকা, বাসাবোর অতিথি, আগমন, ইসলামপুরের লায়ন, চকবাজারের তাজমহল, পোস্তগোলার মেঘনা, যমুনা, ডায়না, নারায়ণগঞ্জের মিনতি, কাওরান বাজারের পূর্ণিমা এবং সবশেষ বংশালের মানসী হলটির মূল মিলনায়তন ভেঙে সেখানে মার্কেট করা হয়েছে।
এদিকে একসময় যশোরের পরিচিতি ছিল সিনেমা হলের শহর হিসেবে। সেখানকার ২১টি সিনেমা হল থেকে কমতে কমতে এখন মাত্র ২টি চালু আছে। খুলনায় সিনেমা হল ছিল ১১টি। এখন আছে তিনটি। সিলেটের সাতটির মধ্যে একটি এবং রংপুরের পাঁচটি সিনেমা হলের মধ্যে বর্তমানে একটি টিকে আছে। এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে দেশের জন্য এটি খুবই দুঃখজনক সংবাদ। ভালো মানের ছবির অভাব ও হলের ভালো পরিবেশ না থাকা অবশ্যই সিনেমা হল বন্ধের জন্য দুটি কারণ। তবে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হচ্ছে গুদামঘর মার্কা সিনেমা হল এখন আর কোথাও চলবে না।
সারা দেশে এখন আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সিনেপ্লেক্সের মতো করে আধুনিক হলে দর্শকরা এখন সিনেমা দেখতে চান। ১২০০ সিটের মতো বিশাল সিনেমা হল এখন আর চলবে না। কম আসন হলেও সুসজ্জিত ও সুন্দর পরিবেশের আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ হলে সিনেমা ব্যবসা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে। পাশাপাশি লোকাল ডিশ লাইনে বাংলা সিনেমা দেখানো বন্ধ করতে হবে এবং টেলিভিশনেও প্রতিদিন অবাধে সিনেমা দেখানোর বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নির্দিষ্ট দিনে ছোট পর্দায় দর্শকদের সিনেমা দেখানো দরকার। কারণ, গ্রামের বাজারে চায়ের দোকানে বসে দর্শকরা এসব সিনেমা দেখতে থাকে। এর ফলে সিনেমা হলে গিয়ে আর সিনেমা দেখার আগ্রহ তাদের থাকছে না।
একের পর এক সিনেমা হলও তাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যেসব সিনেমা হলের মালিকরা সিনেমা হল বন্ধ করেছেন তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আধুনিক সিনেপ্লেক্স বানানোর জন্য আগ্রহী করতে হবে। আর সিনেপ্লেক্সের মতো ফুডকোর্টসহ আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ করলে আমার বিশ্বাস অবশ্যই সিনেমা হল চলবে।
Tuesday, April 30, 2019
দর্শকশূন্যতার বড় কারণ হলের বাজে পরিবেশ by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের
সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল।
দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে সিনেমা হলের সংখ্যা
বেড়ে চলা, এসবের উন্নয়ন, আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে দেশজুড়ে সিনেমা হলের
বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা
হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর চতুর্থ পর্ব ‘দর্শকশূন্যতার বড় কারণ হলের বাজে পরিবেশ’
শুরুতেই কয়েক দশক আগের কথা বলতে হয়। মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম তখনও ছিল চলচ্চিত্র বা সিনেমা। তরুণ ছেলেদের একসঙ্গে হয়ে সিনেমা হলের সামনে আড্ডা দেয়া, সেখানকার দেয়ালে লাগানো নতুন ছবির পোস্টার দেখে নানারকম আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হওয়া কিংবা সিনেমা দেখায় মেতে ওঠায় কতই না আনন্দ ছিল তখন। শুধু তরুণই নয়, সব বয়সের দর্শকই সিনেমা হলে গিয়ে এ কাজগুলো করতো নির্ভয়ে।
সে সময়টাতে সিনেমা হলে বিভিন্ন শোয়ের পাশাপাশি নাইট শো-ও হতো। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সানন্দচিত্তে সেসব শো দেখতে যেত।
সারা দেশের সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই দারুণ আনন্দে এসব করা যেত। কিন্তু একটা সময়ে এসে হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। সারা দেশেই ক্রমশ সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হতে থাকে। একশ্রেণির দর্শককে দেখা যায় ভাসমান পতিতাদের নিয়ে সিনেমা হলে ঢুকতে। অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেট ব্যবস্থা নোংরা হয়ে পড়ে। সে সঙ্গে সিনেমা হলের পর্দা, শব্দের মানও ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে।
এসব কারণে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা ছেড়ে দেন অনেক দর্শক। নারী দর্শক তো দূরে থাক অনেক পুরুষ দর্শকও একা সিনেমা হলে আসতে ভয় পেতে থাকেন তখন থেকে। এর ফলে ক্রমশ দর্শকশূন্য হতে থাকে সিনেমা হলগুলো। যে অবস্থা এ সময়ে সারা দেশের অনেক সিনেমা হলেই বিদ্যমান। এ প্রসঙ্গে দর্শকপ্রিয় নির্মাতা ইস্পাহানী আরিফ জাহান বলেন, সমাজ ব্যবস্থার কথা একবার চিন্তা করে দেখুন। আগে দিনের শোর পাশাপাশি নাইট শো দেখে দর্শকরা সিনেমা হল থেকে বের হতো। আর পরিবারের সকলে মিলে সিনেমা হলে ছবি দেখে আনন্দে বাড়ি ফিরতো।
মানুষ একটা ভালো সময় কাটাতেই সিনেমা হলে যেত। আর সেই সিনেমা হলের পরিবেশই যদি ভালো না থাকে তাহলে কেন মানুষ সেখানে যাবে? ছবির ব্যবসায়িক ব্যর্থতার অনেকগুলো কারণের মধ্যে সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হয়ে যাওয়া অন্যতম। এখন গ্রামেও অনেক ঘরে ড্রইংরুমে সোফাসেট আছে, রঙিন টিভি এবং ডিশ লাইন সংযোগ আছে। যা আগের সময়ে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সবকিছু উন্নত হলেও সারা দেশেই সিনেমা হলের পরিবেশ খুব একটা ভালো হয়নি। হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সিনেমা হলে ভালো পরিবেশের অভাবে দর্শকরা যাচ্ছে না।
তাই প্রায়শই দর্শকশূন্য থাকছে সিনেমা হল। এর সমাধান জরুরি। এদিকে সরজমিন খবর নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ও দেশের নানা জায়গায় অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেটে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই, দুর্গন্ধে দর্শকরা অসুস্থ হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সিনেমা হলে এখনো পুরনো অশ্লীল সিনেমা চালানো হয়। আর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বেশকিছু সিনেমা হলের সামনেই পতিতা, তাদের খদ্দের, হিজড়া এবং এমন বিভিন্ন ধরনের লোকজন দেখা যায়, যারা সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের জন্য নানা বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ছাড়া সিনেমা হলের আশেপাশে বিচরণ করা ছিনতাইকারী এবং প্রতারকচক্র তো আছেই। এদের ভয়েও সিনেমা হলে যেতে চায় না অনেকেই।
কারণ অনেক সময়ই সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা পড়ে যায় এসব নোংরা পরিবেশের ঝামেলায়। চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন দিলু বলেন, দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলের পরিবেশ এখন ভালো না। অনেক সিনেমা হলে এখনো ছারপোকা মারতে হয়, সিট থেকে নারিকেলের ছোবড়া বেরিয়ে থাকে, সিট ভাঙ্গা পাওয়া যায়, ঠিকমতো ফ্যান চলে না, দর্শকদের ঘামে ভিজে সিনেমা দেখতে হয়। তাই এসব সিনেমা হল থেকেও লাভ নেই। হলের পরিবেশ যদি সুন্দর না হয় তাহলে দর্শকরা কখনোই সিনেমা হলে যাবে না।
মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। স্বল্প টাকার ইন্টারনেট ব্যবহার করে যার মাধ্যমে সহজেই যে কোনো ভাষার সিনেমা পাওয়া যায় বোতাম টিপলেই। তাহলে মানুষ কেন টাকা খরচ করে বাজে পরিবেশের সিনেমা হলে যাবে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিতে। তাই সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট সকলের এগিয়ে আসতে হবে নিঃস্বার্থভাবে। আর হলের পরিবেশের পাশাপাশি সিনেমার মান ভালো হলেই সিনেমা হলে দর্শকরা আবার যাওয়া শুরু করবে বলে বিশ্বাস করি আমি।
শুরুতেই কয়েক দশক আগের কথা বলতে হয়। মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম তখনও ছিল চলচ্চিত্র বা সিনেমা। তরুণ ছেলেদের একসঙ্গে হয়ে সিনেমা হলের সামনে আড্ডা দেয়া, সেখানকার দেয়ালে লাগানো নতুন ছবির পোস্টার দেখে নানারকম আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হওয়া কিংবা সিনেমা দেখায় মেতে ওঠায় কতই না আনন্দ ছিল তখন। শুধু তরুণই নয়, সব বয়সের দর্শকই সিনেমা হলে গিয়ে এ কাজগুলো করতো নির্ভয়ে।
সে সময়টাতে সিনেমা হলে বিভিন্ন শোয়ের পাশাপাশি নাইট শো-ও হতো। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সানন্দচিত্তে সেসব শো দেখতে যেত।
সারা দেশের সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই দারুণ আনন্দে এসব করা যেত। কিন্তু একটা সময়ে এসে হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। সারা দেশেই ক্রমশ সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হতে থাকে। একশ্রেণির দর্শককে দেখা যায় ভাসমান পতিতাদের নিয়ে সিনেমা হলে ঢুকতে। অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেট ব্যবস্থা নোংরা হয়ে পড়ে। সে সঙ্গে সিনেমা হলের পর্দা, শব্দের মানও ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে।
এসব কারণে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা ছেড়ে দেন অনেক দর্শক। নারী দর্শক তো দূরে থাক অনেক পুরুষ দর্শকও একা সিনেমা হলে আসতে ভয় পেতে থাকেন তখন থেকে। এর ফলে ক্রমশ দর্শকশূন্য হতে থাকে সিনেমা হলগুলো। যে অবস্থা এ সময়ে সারা দেশের অনেক সিনেমা হলেই বিদ্যমান। এ প্রসঙ্গে দর্শকপ্রিয় নির্মাতা ইস্পাহানী আরিফ জাহান বলেন, সমাজ ব্যবস্থার কথা একবার চিন্তা করে দেখুন। আগে দিনের শোর পাশাপাশি নাইট শো দেখে দর্শকরা সিনেমা হল থেকে বের হতো। আর পরিবারের সকলে মিলে সিনেমা হলে ছবি দেখে আনন্দে বাড়ি ফিরতো।
মানুষ একটা ভালো সময় কাটাতেই সিনেমা হলে যেত। আর সেই সিনেমা হলের পরিবেশই যদি ভালো না থাকে তাহলে কেন মানুষ সেখানে যাবে? ছবির ব্যবসায়িক ব্যর্থতার অনেকগুলো কারণের মধ্যে সিনেমা হলের পরিবেশ খারাপ হয়ে যাওয়া অন্যতম। এখন গ্রামেও অনেক ঘরে ড্রইংরুমে সোফাসেট আছে, রঙিন টিভি এবং ডিশ লাইন সংযোগ আছে। যা আগের সময়ে ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সবকিছু উন্নত হলেও সারা দেশেই সিনেমা হলের পরিবেশ খুব একটা ভালো হয়নি। হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ সিনেমা হলে ভালো পরিবেশের অভাবে দর্শকরা যাচ্ছে না।
তাই প্রায়শই দর্শকশূন্য থাকছে সিনেমা হল। এর সমাধান জরুরি। এদিকে সরজমিন খবর নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ও দেশের নানা জায়গায় অনেক সিনেমা হলেরই টয়লেটে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই, দুর্গন্ধে দর্শকরা অসুস্থ হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সিনেমা হলে এখনো পুরনো অশ্লীল সিনেমা চালানো হয়। আর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বেশকিছু সিনেমা হলের সামনেই পতিতা, তাদের খদ্দের, হিজড়া এবং এমন বিভিন্ন ধরনের লোকজন দেখা যায়, যারা সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের জন্য নানা বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ছাড়া সিনেমা হলের আশেপাশে বিচরণ করা ছিনতাইকারী এবং প্রতারকচক্র তো আছেই। এদের ভয়েও সিনেমা হলে যেতে চায় না অনেকেই।
কারণ অনেক সময়ই সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা পড়ে যায় এসব নোংরা পরিবেশের ঝামেলায়। চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন দিলু বলেন, দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলের পরিবেশ এখন ভালো না। অনেক সিনেমা হলে এখনো ছারপোকা মারতে হয়, সিট থেকে নারিকেলের ছোবড়া বেরিয়ে থাকে, সিট ভাঙ্গা পাওয়া যায়, ঠিকমতো ফ্যান চলে না, দর্শকদের ঘামে ভিজে সিনেমা দেখতে হয়। তাই এসব সিনেমা হল থেকেও লাভ নেই। হলের পরিবেশ যদি সুন্দর না হয় তাহলে দর্শকরা কখনোই সিনেমা হলে যাবে না।
মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। স্বল্প টাকার ইন্টারনেট ব্যবহার করে যার মাধ্যমে সহজেই যে কোনো ভাষার সিনেমা পাওয়া যায় বোতাম টিপলেই। তাহলে মানুষ কেন টাকা খরচ করে বাজে পরিবেশের সিনেমা হলে যাবে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিতে। তাই সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট সকলের এগিয়ে আসতে হবে নিঃস্বার্থভাবে। আর হলের পরিবেশের পাশাপাশি সিনেমার মান ভালো হলেই সিনেমা হলে দর্শকরা আবার যাওয়া শুরু করবে বলে বিশ্বাস করি আমি।
Friday, April 5, 2019
বাংলাদেশের সিনেমা হল (তৃতীয় পর্ব) ‘হাউজফুল’ লেখা সেই সব দিন by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের
সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল।
দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে সিনেমা হলের সংখ্যা
বেড়ে চলা, এসবের উন্নয়ন, আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে দেশজুড়ে সিনেমা হলের
অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা হল।
লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর তৃতীয় পর্ব সিনেমা হলে ঝুলত ‘হাউজফুল’ লেখা বোর্ড
একটা সময় সারা দেশে নারী দর্শকদের সিনেমা হলে যাওয়া-আসা ছিল সবচেয়ে বেশি। স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন এমনকি পরিবারের অন্যরা এবং বন্ধু-বান্ধব মিলে সবাই একসঙ্গে সিনেমা হলে ভিড় করতে দেখা যেত। সোনালি সেই সময়ের সিনেমা হলগুলোর চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পোস্টার, ব্যানারের পাশাপাশি বিয়ে বাড়ির মতো সুন্দর মরিচা বাতি দিয়ে সাজানো হতো সিনেমা হলগুলোকে।
দূর থেকে দেখে সব বয়সি নারী-পুরুষের সিনেমা হলে যেতে মন চাইতো- রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, ববিতা, চম্পা, নূতন, ইলিয়াস কাঞ্চন কিংবা জসিমের ছবি দেখার জন্য। বিশেষ করে মধুমিতা, অভিসার, জোনাকী, বলাকা, সনি, চম্পাকলী, আলমাস, চিত্রা, আজাদ, মানসী, নেপচুন, গীত, পুনম, সংগীত, রাজমণি, রাজিয়া, পূরবী, সনি, সৈনিক ক্লাব, আনন্দ, ছন্দ ও শ্যামলীসহ দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলে দর্শকরা দলবেঁধে ছবি দেখতে যেত। দর্শক বেশি হওয়ার কারণে সিনেমা হলে ঝুলত ‘হাউজফুল’ লেখা বোর্ড।
সিনেমা হলের ব্যবসা সত্তর-আশির দশকে ক্রমশ বাড়তে থাকলে ব্যবসায়ীরা একই জেলা শহরে বা থানায় নির্মাণ করতে শুরু করেন একের পর এক সিনেমা হল। এ বিষয়ে দেশের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হার্টবিট প্রোডাকশনের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ ও আইনবিষয়ক সম্পাদক তাপসী ফারুক বলেন, দেখতে দেখতে সিনেমা হলের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে একটা সময় সারা দেশে ১২শ’এ পৌঁছায়। এমনকি ২০০৮ সালে আমার প্রযোজিত ছবি ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ যখন মুক্তি পায় তখনো দেশে ৭শ’-এর বেশি সিনেমা হল ছিল।
ওই সময়ে তো সপ্তাহে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি ছবি পর্যন্ত মুক্তি পেতো এবং সবকটি ছবিই ব্যবসা করতো। গ্রামে মাইকিং করে, ব্যান্ড পার্টি ভাড়া করে এবং সিনেমা হলে মরিচা বাতি দিয়ে লাইটিং করে ছবির প্রচারণা করা হতো। গ্রামের দর্শকরা মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমার নাম আগে থেকেই জানত। দর্শকের মনে তখন সিনেমা হলে নতুন ছবি মুক্তি পাওয়া নিয়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। সিনেমা হলে ব্যবসা যখন রমরমা হতে শুরু করলো তখন সারা দেশেই সিনেমা হল বাড়তে শুরু করে। আমার নিজের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় ১০টি সিনেমা হল ছিল। ব্যবসা ভালো হওয়ার কারণেই তো মূলত এই সিনেমা হলগুলো পরিচালনা করেছিলাম আমি।
মনে আছে, শুক্রবার হলেই সবাই মিলে ছবি দেখার ধূম লেগে যেত। তখন ইন্টারনেট হাতে ছিল না। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল সিনেমা। আমার প্রযোজনায় ‘প্রাণের প্রিয়া’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মনের জ্বালা’, ‘লাভ ম্যারেজ’সহ বেশকিছু ছবি একটানা কয়েক সপ্তাহ সিনেমা হলে চলেছে। এমনকি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক মাস চালানোর পর এক সিনেমা হলের কাছ থেকে আরেক সিনেমা হল ছবি ভাড়া করে নিয়ে যেত এবং সেখানেও দর্শক ছবি দেখার জন্য ভিড় জমাতো। এক ছবি পরিবারের অনেকে মিলে একাধিকবার সিনেমা হলে গিয়ে দেখতো।
এসব কারণেই দিন দিন বেড়ে চলে সিনেমা হলের সংখ্যা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে চলচ্চিত্র চর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। বর্তমানে চট্টগ্রামে ‘আলমাস’ ও ‘সিনেমা প্যালেস’ নামে দুটি সিনেমা হল রয়েছে। ‘সিনেমা প্যালেস’ এর কর্ণধার ও চট্টগ্রাম প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ভালো ভালো ছবি দর্শকরা দেখতে পেতো বলেই চট্টগ্রামে একটা সময় সিনেমা হল বাড়তে থাকে। ‘সিনেমা প্যালেস’, ‘আলমাস’, ‘সাগরিকা’, ‘গুলজার’, ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’, ‘ঝুমুর’, ‘লায়ন’, ‘বনানী’, ‘সানাই’, ‘সংগীত’, ‘নূপুর,’ ‘চাঁদনী’, ‘কর্ণফুলি’, ‘পূরবী’সহ অনেক সিনেমা হল একটা সময় চট্টগ্রামে তৈরি হয়। ‘অবুঝ মন’, ‘রুপবান’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা’সহ অসংখ্য ছবি বেশ ভালোভাবে চলেছে আমাদের ‘সিনেমা প্যালেস’ হলে। দর্শকদের সেসময় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ‘হাউজফুল’ সাইনবোর্ড ঝুলত।
সিনেমা ভালো ব্যবসা করার কারণে হল মালিকদের মনে ছিল আনন্দ। ১৯২৭ সালে ‘সিনেমা প্যালেস’ নির্মাণ হয়। আমাদের এ সিনেমা হলে মহিলাদের বসার জন্য আলাদা করে ৬০টি আসন রয়েছে। নারী-পুরুষ সবাই সিনেমা উপভোগ করতে আসে। এখন সময়টা মন্দা। তাই চট্টগ্রাম শহরে মাত্র দুটি সিনেমা হল টিকে আছে। তবে, একটা সময় ব্যবসা ভালো ছিল এবং সিনেমা হলের সংখ্যা চট্টগ্রামে বেশ বেড়েছিল। আমরা পুরনো সেই দিনটি আবার ফিরে পেতে চাই। বন্ধ না হয়ে আবারো সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে বাড়তে থাকুক এটাই প্রত্যাশা থাকবে আমাদের।
একটা সময় সারা দেশে নারী দর্শকদের সিনেমা হলে যাওয়া-আসা ছিল সবচেয়ে বেশি। স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন এমনকি পরিবারের অন্যরা এবং বন্ধু-বান্ধব মিলে সবাই একসঙ্গে সিনেমা হলে ভিড় করতে দেখা যেত। সোনালি সেই সময়ের সিনেমা হলগুলোর চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পোস্টার, ব্যানারের পাশাপাশি বিয়ে বাড়ির মতো সুন্দর মরিচা বাতি দিয়ে সাজানো হতো সিনেমা হলগুলোকে।
দূর থেকে দেখে সব বয়সি নারী-পুরুষের সিনেমা হলে যেতে মন চাইতো- রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, ববিতা, চম্পা, নূতন, ইলিয়াস কাঞ্চন কিংবা জসিমের ছবি দেখার জন্য। বিশেষ করে মধুমিতা, অভিসার, জোনাকী, বলাকা, সনি, চম্পাকলী, আলমাস, চিত্রা, আজাদ, মানসী, নেপচুন, গীত, পুনম, সংগীত, রাজমণি, রাজিয়া, পূরবী, সনি, সৈনিক ক্লাব, আনন্দ, ছন্দ ও শ্যামলীসহ দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলে দর্শকরা দলবেঁধে ছবি দেখতে যেত। দর্শক বেশি হওয়ার কারণে সিনেমা হলে ঝুলত ‘হাউজফুল’ লেখা বোর্ড।
সিনেমা হলের ব্যবসা সত্তর-আশির দশকে ক্রমশ বাড়তে থাকলে ব্যবসায়ীরা একই জেলা শহরে বা থানায় নির্মাণ করতে শুরু করেন একের পর এক সিনেমা হল। এ বিষয়ে দেশের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হার্টবিট প্রোডাকশনের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ ও আইনবিষয়ক সম্পাদক তাপসী ফারুক বলেন, দেখতে দেখতে সিনেমা হলের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে একটা সময় সারা দেশে ১২শ’এ পৌঁছায়। এমনকি ২০০৮ সালে আমার প্রযোজিত ছবি ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ যখন মুক্তি পায় তখনো দেশে ৭শ’-এর বেশি সিনেমা হল ছিল।
ওই সময়ে তো সপ্তাহে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি ছবি পর্যন্ত মুক্তি পেতো এবং সবকটি ছবিই ব্যবসা করতো। গ্রামে মাইকিং করে, ব্যান্ড পার্টি ভাড়া করে এবং সিনেমা হলে মরিচা বাতি দিয়ে লাইটিং করে ছবির প্রচারণা করা হতো। গ্রামের দর্শকরা মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমার নাম আগে থেকেই জানত। দর্শকের মনে তখন সিনেমা হলে নতুন ছবি মুক্তি পাওয়া নিয়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। সিনেমা হলে ব্যবসা যখন রমরমা হতে শুরু করলো তখন সারা দেশেই সিনেমা হল বাড়তে শুরু করে। আমার নিজের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় ১০টি সিনেমা হল ছিল। ব্যবসা ভালো হওয়ার কারণেই তো মূলত এই সিনেমা হলগুলো পরিচালনা করেছিলাম আমি।
মনে আছে, শুক্রবার হলেই সবাই মিলে ছবি দেখার ধূম লেগে যেত। তখন ইন্টারনেট হাতে ছিল না। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল সিনেমা। আমার প্রযোজনায় ‘প্রাণের প্রিয়া’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মনের জ্বালা’, ‘লাভ ম্যারেজ’সহ বেশকিছু ছবি একটানা কয়েক সপ্তাহ সিনেমা হলে চলেছে। এমনকি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক মাস চালানোর পর এক সিনেমা হলের কাছ থেকে আরেক সিনেমা হল ছবি ভাড়া করে নিয়ে যেত এবং সেখানেও দর্শক ছবি দেখার জন্য ভিড় জমাতো। এক ছবি পরিবারের অনেকে মিলে একাধিকবার সিনেমা হলে গিয়ে দেখতো।
এসব কারণেই দিন দিন বেড়ে চলে সিনেমা হলের সংখ্যা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে চলচ্চিত্র চর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। বর্তমানে চট্টগ্রামে ‘আলমাস’ ও ‘সিনেমা প্যালেস’ নামে দুটি সিনেমা হল রয়েছে। ‘সিনেমা প্যালেস’ এর কর্ণধার ও চট্টগ্রাম প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ভালো ভালো ছবি দর্শকরা দেখতে পেতো বলেই চট্টগ্রামে একটা সময় সিনেমা হল বাড়তে থাকে। ‘সিনেমা প্যালেস’, ‘আলমাস’, ‘সাগরিকা’, ‘গুলজার’, ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’, ‘ঝুমুর’, ‘লায়ন’, ‘বনানী’, ‘সানাই’, ‘সংগীত’, ‘নূপুর,’ ‘চাঁদনী’, ‘কর্ণফুলি’, ‘পূরবী’সহ অনেক সিনেমা হল একটা সময় চট্টগ্রামে তৈরি হয়। ‘অবুঝ মন’, ‘রুপবান’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা’সহ অসংখ্য ছবি বেশ ভালোভাবে চলেছে আমাদের ‘সিনেমা প্যালেস’ হলে। দর্শকদের সেসময় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ‘হাউজফুল’ সাইনবোর্ড ঝুলত।
সিনেমা ভালো ব্যবসা করার কারণে হল মালিকদের মনে ছিল আনন্দ। ১৯২৭ সালে ‘সিনেমা প্যালেস’ নির্মাণ হয়। আমাদের এ সিনেমা হলে মহিলাদের বসার জন্য আলাদা করে ৬০টি আসন রয়েছে। নারী-পুরুষ সবাই সিনেমা উপভোগ করতে আসে। এখন সময়টা মন্দা। তাই চট্টগ্রাম শহরে মাত্র দুটি সিনেমা হল টিকে আছে। তবে, একটা সময় ব্যবসা ভালো ছিল এবং সিনেমা হলের সংখ্যা চট্টগ্রামে বেশ বেড়েছিল। আমরা পুরনো সেই দিনটি আবার ফিরে পেতে চাই। বন্ধ না হয়ে আবারো সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে বাড়তে থাকুক এটাই প্রত্যাশা থাকবে আমাদের।
Thursday, March 28, 2019
সিনেমা হলের আধুনিকায়ন (পর্ব-২) by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের
সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল।
দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে উন্নয়ন, আধুনিকায়নের
পথ পেরিয়ে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক
প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর দ্বিতীয় পর্ব ‘সিনেমা হলের আধুনিকায়ন’
দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছে ডিটিএস সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ সময় স্বপ্ন ছিল। তবে ধীরে ধীরে দর্শকরা বেশকিছু সিনেমা হলে পেয়েছে এমন সুযোগ সুবিধা। প্রযুক্তির পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনেমা হলের আধুনিকায়নের কাজও হয়েছে। অবশ্য সেই সংখ্যা এখনো অনেক কম।
দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোর পাশাপাশি হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলে রয়েছে ডিটিএস সাউন্ড সিস্টেম। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হল রয়েছে বেশকিছু। কিন্তু বেশিরভাগ জেলা শহর বা থানা পর্যায়ে সিনেমা হলে এখনো ছবি দেখার ক্ষেত্রে এমন সুবিধা দর্শকরা পাচ্ছেন না। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজলে দোশানি ঢাকায় চলে আসেন এবং পরে একটি সিনেমা হল নির্মাণ করেন। ১৯৫৩ সালে আগা খান এই সিনেমা হলের উদ্বোধন করেন।
এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক সিনেমা হল। প্রথমে হলটির নাম ছিল ‘লিবার্টি’। পরে তা ‘গুলিস্তান’ করা হয়। ‘গুলিস্তান’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ফুলের বাগান। ঢাকার এই সিনেমা হল শুরু থেকেই ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দেশি ছাড়াও বিশ্বের নানা দেশের সিনেমা এখানে দেখানো হতো। একই সময়ে ঢাকার ‘নাজ’ সিনেমা হলও ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এখন সিনেমা হল দুটি আর নেই। এগুলো ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে শপিং মল। এদিকে ঢাকার ‘স্টার’, ‘মধুমিতা’, ‘বলাকা’, ‘সনি’, ‘পূর্ণিমা’, ‘আনন্দ’, ‘মুন’, ‘অভিসার’, ‘জোনাকী’সহ বেশকিছু সিনেমা হলে দর্শকরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা পেয়েছেন হলগুলোর সূচনা সময় থেকেই। চট্টগ্রামের ‘বনানী কমপ্লেক্স’, ‘আলমাস’, যশোরের ‘মণিহার’, খুলনার ‘স্টার’ এবং রাজশাহীর ‘উপহার’ সিনেমা হলও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, একটা সময় ১২০০ এর বেশি সিনেমা হল ছিল যা এখন ১৭৪-এ নেমে এসেছে। এখন ঢাকার হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হল রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দর্শকরা একটা সময় অনেক সিনেমা হলে ছবি দেখতে এসে এমন সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। তবে ধীরে ধীরে সিনেমা ব্যবসায় ধ্বস নামার কারণে বেশিরভাগ হলেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে ঢাকার ‘মধুমিতা’, ‘অভিসার’, ‘বলাকা’, ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’, ‘যমুনা ব্লকবাস্টার’, চট্টগ্রামের ‘আলমাস’ ও যশোরের ‘মণিহার’ নামে হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলেই শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় দর্শক সিনেমা উপভোগ করতে পারছেন। খুলনার ‘শঙ্খ’ সিনেমা হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা থাকলেও হলটি বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকার আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলের মধ্যে অন্যতম রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হল।
এটির যাত্রা শুরু ১৯৬৭ সালের ১লা ডিসেম্বর। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই হলের উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে ২০১৭ সালে। মতিঝিল এলাকায় তিন বিঘা জায়গায় গড়ে উঠেছে এই প্রেক্ষাগৃহ। পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই হলে ১ হাজার ২২১ জন দর্শক একসঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারেন। মধুমিতা সিনেমা হলের বর্তমান কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, দেশের অনেক সিনেমা হল যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা আমাদের হল শুধু চালুই রাখিনি, দিনে দিনে আধুনিক করছি। আমি সব সময়ই চাই বাংলাদেশের সিনেমা যেন এগিয়ে যায়। এজন্য শুধু দেশ-বিদেশের ছবি প্রদর্শনী নয়, এ সিনেমা হলের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান মধুমিতা মুভিজ থেকে ‘আয়না’, ‘মিস লংকা’, ‘আগুন’, ‘গুনাহ’, ‘দূরদেশ’, ‘নিশান’, ‘উৎসর্গ’সহ বেশ কিছু সুপারহিট সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক শব্দ (ম্যাগনেটিক সাউন্ড) সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মধুমিতা সিনেমা হল। ১৯৯৭ সাল থেকে এ হলে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সিনেমা হলে বসার আসন, বাথরুম থেকে শুরু করে শব্দব্যবস্থা সবকিছুই আধুনিক। তিনি জানান, মধুমিতা কর্তৃপক্ষ কয়েকটি উন্নত মানের সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করারও পরিকল্পনা করেছে।
সেখানে ফুডকোর্টের পাশাপাশি শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে। সবশ্রেণির দর্শক এ সিনেপ্লেক্সগুলোতে যাতে সিনেমা দেখার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন সে লক্ষ্যে আরো নানা আধুনিকায়ন করা হবে এখানে। সিনেমা হলে ব্যবসায়িক বিপর্যয় আর না ঘটলে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের স্বপ্নটা দ্রুত পূরণ করতে চান তিনি। এদিকে দেশের অন্যান্য সিনেমা হলের মালিকরাও নিজ নিজ প্রেক্ষাগৃহের আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতারও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। তবে এর আগে দরকার সারা দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেয়ার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের পথ বের করা।
দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছে ডিটিএস সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ সময় স্বপ্ন ছিল। তবে ধীরে ধীরে দর্শকরা বেশকিছু সিনেমা হলে পেয়েছে এমন সুযোগ সুবিধা। প্রযুক্তির পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনেমা হলের আধুনিকায়নের কাজও হয়েছে। অবশ্য সেই সংখ্যা এখনো অনেক কম।
দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোর পাশাপাশি হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলে রয়েছে ডিটিএস সাউন্ড সিস্টেম। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হল রয়েছে বেশকিছু। কিন্তু বেশিরভাগ জেলা শহর বা থানা পর্যায়ে সিনেমা হলে এখনো ছবি দেখার ক্ষেত্রে এমন সুবিধা দর্শকরা পাচ্ছেন না। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজলে দোশানি ঢাকায় চলে আসেন এবং পরে একটি সিনেমা হল নির্মাণ করেন। ১৯৫৩ সালে আগা খান এই সিনেমা হলের উদ্বোধন করেন।
এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক সিনেমা হল। প্রথমে হলটির নাম ছিল ‘লিবার্টি’। পরে তা ‘গুলিস্তান’ করা হয়। ‘গুলিস্তান’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ফুলের বাগান। ঢাকার এই সিনেমা হল শুরু থেকেই ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দেশি ছাড়াও বিশ্বের নানা দেশের সিনেমা এখানে দেখানো হতো। একই সময়ে ঢাকার ‘নাজ’ সিনেমা হলও ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এখন সিনেমা হল দুটি আর নেই। এগুলো ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে শপিং মল। এদিকে ঢাকার ‘স্টার’, ‘মধুমিতা’, ‘বলাকা’, ‘সনি’, ‘পূর্ণিমা’, ‘আনন্দ’, ‘মুন’, ‘অভিসার’, ‘জোনাকী’সহ বেশকিছু সিনেমা হলে দর্শকরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা পেয়েছেন হলগুলোর সূচনা সময় থেকেই। চট্টগ্রামের ‘বনানী কমপ্লেক্স’, ‘আলমাস’, যশোরের ‘মণিহার’, খুলনার ‘স্টার’ এবং রাজশাহীর ‘উপহার’ সিনেমা হলও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটি এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, একটা সময় ১২০০ এর বেশি সিনেমা হল ছিল যা এখন ১৭৪-এ নেমে এসেছে। এখন ঢাকার হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হল রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দর্শকরা একটা সময় অনেক সিনেমা হলে ছবি দেখতে এসে এমন সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। তবে ধীরে ধীরে সিনেমা ব্যবসায় ধ্বস নামার কারণে বেশিরভাগ হলেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে ঢাকার ‘মধুমিতা’, ‘অভিসার’, ‘বলাকা’, ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’, ‘যমুনা ব্লকবাস্টার’, চট্টগ্রামের ‘আলমাস’ ও যশোরের ‘মণিহার’ নামে হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলেই শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় দর্শক সিনেমা উপভোগ করতে পারছেন। খুলনার ‘শঙ্খ’ সিনেমা হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিধা থাকলেও হলটি বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকার আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলের মধ্যে অন্যতম রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হল।
এটির যাত্রা শুরু ১৯৬৭ সালের ১লা ডিসেম্বর। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই হলের উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে ২০১৭ সালে। মতিঝিল এলাকায় তিন বিঘা জায়গায় গড়ে উঠেছে এই প্রেক্ষাগৃহ। পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই হলে ১ হাজার ২২১ জন দর্শক একসঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারেন। মধুমিতা সিনেমা হলের বর্তমান কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, দেশের অনেক সিনেমা হল যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা আমাদের হল শুধু চালুই রাখিনি, দিনে দিনে আধুনিক করছি। আমি সব সময়ই চাই বাংলাদেশের সিনেমা যেন এগিয়ে যায়। এজন্য শুধু দেশ-বিদেশের ছবি প্রদর্শনী নয়, এ সিনেমা হলের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান মধুমিতা মুভিজ থেকে ‘আয়না’, ‘মিস লংকা’, ‘আগুন’, ‘গুনাহ’, ‘দূরদেশ’, ‘নিশান’, ‘উৎসর্গ’সহ বেশ কিছু সুপারহিট সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আধুনিক শব্দ (ম্যাগনেটিক সাউন্ড) সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মধুমিতা সিনেমা হল। ১৯৯৭ সাল থেকে এ হলে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সিনেমা হলে বসার আসন, বাথরুম থেকে শুরু করে শব্দব্যবস্থা সবকিছুই আধুনিক। তিনি জানান, মধুমিতা কর্তৃপক্ষ কয়েকটি উন্নত মানের সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করারও পরিকল্পনা করেছে।
সেখানে ফুডকোর্টের পাশাপাশি শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে। সবশ্রেণির দর্শক এ সিনেপ্লেক্সগুলোতে যাতে সিনেমা দেখার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন সে লক্ষ্যে আরো নানা আধুনিকায়ন করা হবে এখানে। সিনেমা হলে ব্যবসায়িক বিপর্যয় আর না ঘটলে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের স্বপ্নটা দ্রুত পূরণ করতে চান তিনি। এদিকে দেশের অন্যান্য সিনেমা হলের মালিকরাও নিজ নিজ প্রেক্ষাগৃহের আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতারও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। তবে এর আগে দরকার সারা দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেয়ার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের পথ বের করা।
Tuesday, March 26, 2019
সিনেমা হলের সূচনার গল্প (পর্ব-১) by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের
সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল।
দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে উন্নয়ন, আধুনিকায়নের
পথ পেরিয়ে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক আয়োজন
বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর প্রথম পর্ব ‘সিনেমা হলের সূচনার গল্প’
সিনেমা হলে বসে এখন আমরা রঙিন বা থ্রিডি ছবি দেখার সুযোগ পেলেও আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাক সিনেমা দিয়ে এর শুরু। সেটাও ছিল সাদাকালো। এরপর দীর্ঘ সময় পর আসে অর্ধেক রঙিন।
এরপর সম্পূর্ণ রঙিন ছবি। বর্তমানে আগের মতো সিনেমার ব্যবসা না হওয়ায় সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে ক্রমশ কমছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সিনেমা হলগুলো। এরইমধ্যে দেশীয় ছবি ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা না করাসহ নানা কারণে দেশের সব সিনেমা হল আগামী ১২ই এপ্রিল থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। এ সমস্যার সমাধান হবে কি-না তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে সিনেমা হল নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সিনেমাপ্রেমীদের। দেশে সিনেমা হলের শুরুর সময়ের অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, একটা সময় বায়োস্কোপে ছবির মানুষ আর জন্তু-জানোয়ারের ভিডিও সকলে মিলে দেখা শুরু করে। সেটা ছিল চলন্ত ছবি। বায়োস্কোপের পর ঢাকার আহসান মঞ্জিলের কাছে ক্রাউন থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। ঢাকার প্রথম সিনেমা হল ছিল ‘কমলা টকিজ’।
১৯২৭ সালে পুরনো ঢাকার রাজার দেউড়িতে প্রথম নির্মাণ হয় এটি, পরে যা ‘প্যারাডাইস সিনেমা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর পল্টন ময়দানের স্টেডিয়ামের পাশে ‘ব্রিটানিয়া সিনেমা হল’ নির্মাণ হয়। এখানে ইংরেজি ছবি প্রদর্শিত হতো। সেই সময় শিক্ষিত দর্শক শ্রেণির ভিড় ছিল বেশি। পল্টনের খোলা প্রান্তরে এ প্রেক্ষাগৃহটি ছিল বেশ বড়। তবে ছাদ ছিল টিনের। এরপর ‘পিকচার প্যালেস’ নির্মাণ হয় আরমানিটোলায়। পরে এই একতলা প্রেক্ষাগৃহটি ‘শাবিস্তান’ নামে পরিচিতি পায়। হারিকেন এবং লণ্ঠন দিয়ে সিনেমা প্রদর্শন করা হতো প্রথমদিকে। প্রতিদিন দুটি করে ছবি দেখানো হতো। এরপর ১৯৩০ সালের দিকে ঢাকার মির্জা আবদুল কাদের সরদার ডায়মন্ড জুবিলী থিয়েটারের কর্তৃত্ব নেন। তিনি সেসময় প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। যা ১৯৩২ সালে ‘লায়ন সিনেমা হল’ নামে পরিচিতি পায়।
এই ভবনটি ইংরেজি এল অক্ষরের আকৃতির ছিল। এই প্রেক্ষাগৃহে প্রথম উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ‘আলম আরা’ মুক্তি পায়। দেশে সিনেমা হলের বিস্তার সম্পর্কে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ঢাকায় ‘রূপমহল’, ‘লায়ন’, ‘আজাদ’, ‘মধুমিতা’, ‘সনি’, চট্টগ্রামে ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’ প্রভৃতি সিনেমা হল পরে গড়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জে ‘হংশ’, ‘ডায়মন্ড’সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরেও সিনেমা হল গড়ে ওঠে। এসবই ছিল ইংরেজ শাসনামলের কথা এবং তখনও একচেটিয়া রাজত্ব চলছিল নির্বাক চলচ্চিত্রের। সে সময় ছবির মানুষ যে চলে-ফিরে বেড়ায়- সেটাই ছিল মহাআশ্চর্য ঘটনা। পঞ্চাশ-ষাটের দশক তো বটেই, আশির দশক পর্যন্ত বাংলাদেশে সিনেমা হলকে আকর্ষণীয় করে সাজানোর প্রবণতা ছিল। ঢাকার মধুমিতা-গুলিস্তান শুধু নয়, এ দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল হিসেবে পরিচিত যশোরের মণিহারও ছিল ভাস্কর্য-চিত্রশোভিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনশ’র বেশি সিনেমা হল ছিল।
এরপর এ সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে ১২০০-তে দাড়ায়। কিন্তু একসময় তা কমতে থাকে নানা কারণে। মিয়া আলাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে সিনেমা হল কমতে শুরু করে। ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ ভেঙে ফেলা হয়। ‘নাজ’ সিনেমা হলে আমি ও বঙ্গবন্ধু একসঙ্গে বসে একই ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ‘রুপবান’ ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। সেসময় আমি জগন্নাথ কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম। ছবি দেখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা হয় আমার। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, লেখাপড়া রেখে সিনেমা দেখতে এসেছো নাকি? লেখাপড়া ঠিকমতো করো। তখন আমি উত্তরে বলেছিলাম, লিডার, আমি সব সিনেমা দেখি না। ‘রুপবান’ বলেই দেখতে এলাম এবং আমি লেখাপড়া ঠিকমতো করছি। তখন তিনি পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, ঠিক আছে। তাহলে দেখ। এই কথাগুলো আমার আজও মনে আছে।
ঢাকার ‘সনি’ সিনেমা হলের মালিক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ১৯৮৬ সালের ১৬ই আগস্ট ‘সনি’ সিনেমা হলটি নির্মাণ করি। এ হলের ভেতরে দর্শকদের জন্য ছিল পর্যাপ্ত জায়গা এবং সিট সংখ্যা ছিল মোট ১২০০। দারুণ ব্যবসা করতে শুরু করেছিল এ সিনেমা হলটি। আমার সিনেমা হল ছাড়াও ঢাকার ‘আজাদ’, ‘চিত্রামহল’, ‘মানসী’, ‘অভিসার’, ‘নেপচুন’, ‘গীত’, ‘সংগীত’, ‘জোনাকী’, ‘রাজমণি’, ‘রাজিয়া’, ‘পদ্মা’, ‘সুরমা’, ‘গ্যারিসন’, ‘শাহীন’, ‘পুরবী’, ‘এশিয়া’, ‘পর্বত’, ‘মুক্তি’, ‘শ্যামলী’, ‘বিজিবি অডিটোরিয়াম’, ‘বলাকা’, ‘আনন্দ’, ‘ছন্দ’, ‘পুনম’, ‘মধুমিতা’সহ সারা দেশে ক্রমশ ১২০০ সিনেমা হল তৈরি হয়। আর এখন ১৭৪টি সিনেমা হল চালু আছে। কারণটা সকলের জানা।
সিনেমা হলে বসে এখন আমরা রঙিন বা থ্রিডি ছবি দেখার সুযোগ পেলেও আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাক সিনেমা দিয়ে এর শুরু। সেটাও ছিল সাদাকালো। এরপর দীর্ঘ সময় পর আসে অর্ধেক রঙিন।
এরপর সম্পূর্ণ রঙিন ছবি। বর্তমানে আগের মতো সিনেমার ব্যবসা না হওয়ায় সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে ক্রমশ কমছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সিনেমা হলগুলো। এরইমধ্যে দেশীয় ছবি ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা না করাসহ নানা কারণে দেশের সব সিনেমা হল আগামী ১২ই এপ্রিল থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। এ সমস্যার সমাধান হবে কি-না তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে সিনেমা হল নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সিনেমাপ্রেমীদের। দেশে সিনেমা হলের শুরুর সময়ের অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, একটা সময় বায়োস্কোপে ছবির মানুষ আর জন্তু-জানোয়ারের ভিডিও সকলে মিলে দেখা শুরু করে। সেটা ছিল চলন্ত ছবি। বায়োস্কোপের পর ঢাকার আহসান মঞ্জিলের কাছে ক্রাউন থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। ঢাকার প্রথম সিনেমা হল ছিল ‘কমলা টকিজ’।
১৯২৭ সালে পুরনো ঢাকার রাজার দেউড়িতে প্রথম নির্মাণ হয় এটি, পরে যা ‘প্যারাডাইস সিনেমা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর পল্টন ময়দানের স্টেডিয়ামের পাশে ‘ব্রিটানিয়া সিনেমা হল’ নির্মাণ হয়। এখানে ইংরেজি ছবি প্রদর্শিত হতো। সেই সময় শিক্ষিত দর্শক শ্রেণির ভিড় ছিল বেশি। পল্টনের খোলা প্রান্তরে এ প্রেক্ষাগৃহটি ছিল বেশ বড়। তবে ছাদ ছিল টিনের। এরপর ‘পিকচার প্যালেস’ নির্মাণ হয় আরমানিটোলায়। পরে এই একতলা প্রেক্ষাগৃহটি ‘শাবিস্তান’ নামে পরিচিতি পায়। হারিকেন এবং লণ্ঠন দিয়ে সিনেমা প্রদর্শন করা হতো প্রথমদিকে। প্রতিদিন দুটি করে ছবি দেখানো হতো। এরপর ১৯৩০ সালের দিকে ঢাকার মির্জা আবদুল কাদের সরদার ডায়মন্ড জুবিলী থিয়েটারের কর্তৃত্ব নেন। তিনি সেসময় প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। যা ১৯৩২ সালে ‘লায়ন সিনেমা হল’ নামে পরিচিতি পায়।
এই ভবনটি ইংরেজি এল অক্ষরের আকৃতির ছিল। এই প্রেক্ষাগৃহে প্রথম উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ‘আলম আরা’ মুক্তি পায়। দেশে সিনেমা হলের বিস্তার সম্পর্কে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ঢাকায় ‘রূপমহল’, ‘লায়ন’, ‘আজাদ’, ‘মধুমিতা’, ‘সনি’, চট্টগ্রামে ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’ প্রভৃতি সিনেমা হল পরে গড়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জে ‘হংশ’, ‘ডায়মন্ড’সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরেও সিনেমা হল গড়ে ওঠে। এসবই ছিল ইংরেজ শাসনামলের কথা এবং তখনও একচেটিয়া রাজত্ব চলছিল নির্বাক চলচ্চিত্রের। সে সময় ছবির মানুষ যে চলে-ফিরে বেড়ায়- সেটাই ছিল মহাআশ্চর্য ঘটনা। পঞ্চাশ-ষাটের দশক তো বটেই, আশির দশক পর্যন্ত বাংলাদেশে সিনেমা হলকে আকর্ষণীয় করে সাজানোর প্রবণতা ছিল। ঢাকার মধুমিতা-গুলিস্তান শুধু নয়, এ দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল হিসেবে পরিচিত যশোরের মণিহারও ছিল ভাস্কর্য-চিত্রশোভিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনশ’র বেশি সিনেমা হল ছিল।
এরপর এ সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে ১২০০-তে দাড়ায়। কিন্তু একসময় তা কমতে থাকে নানা কারণে। মিয়া আলাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে সিনেমা হল কমতে শুরু করে। ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ ভেঙে ফেলা হয়। ‘নাজ’ সিনেমা হলে আমি ও বঙ্গবন্ধু একসঙ্গে বসে একই ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ‘রুপবান’ ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। সেসময় আমি জগন্নাথ কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম। ছবি দেখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা হয় আমার। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, লেখাপড়া রেখে সিনেমা দেখতে এসেছো নাকি? লেখাপড়া ঠিকমতো করো। তখন আমি উত্তরে বলেছিলাম, লিডার, আমি সব সিনেমা দেখি না। ‘রুপবান’ বলেই দেখতে এলাম এবং আমি লেখাপড়া ঠিকমতো করছি। তখন তিনি পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, ঠিক আছে। তাহলে দেখ। এই কথাগুলো আমার আজও মনে আছে।
ঢাকার ‘সনি’ সিনেমা হলের মালিক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ১৯৮৬ সালের ১৬ই আগস্ট ‘সনি’ সিনেমা হলটি নির্মাণ করি। এ হলের ভেতরে দর্শকদের জন্য ছিল পর্যাপ্ত জায়গা এবং সিট সংখ্যা ছিল মোট ১২০০। দারুণ ব্যবসা করতে শুরু করেছিল এ সিনেমা হলটি। আমার সিনেমা হল ছাড়াও ঢাকার ‘আজাদ’, ‘চিত্রামহল’, ‘মানসী’, ‘অভিসার’, ‘নেপচুন’, ‘গীত’, ‘সংগীত’, ‘জোনাকী’, ‘রাজমণি’, ‘রাজিয়া’, ‘পদ্মা’, ‘সুরমা’, ‘গ্যারিসন’, ‘শাহীন’, ‘পুরবী’, ‘এশিয়া’, ‘পর্বত’, ‘মুক্তি’, ‘শ্যামলী’, ‘বিজিবি অডিটোরিয়াম’, ‘বলাকা’, ‘আনন্দ’, ‘ছন্দ’, ‘পুনম’, ‘মধুমিতা’সহ সারা দেশে ক্রমশ ১২০০ সিনেমা হল তৈরি হয়। আর এখন ১৭৪টি সিনেমা হল চালু আছে। কারণটা সকলের জানা।
Monday, May 28, 2018
‘ভীষণ চতুর আর ফাপরবাজ টাইপের একটি চরিত্র’ by কামরুজ্জামান মিলু

চিত্রনায়ক
বাপ্পি চৌধুরী বর্তমানে দুটি ছবির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ এবং ইস্পাহানী আরিফ
জাহানের ‘নায়ক’ নামে দুটি ছবির কাজ করছেন তিনি। বাপ্পি মানবজমিনকে বলেন, গত
১৩ই মে থেকে রাজধানীর প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজে এর শুটিং শুরু হয়েছে। ছবির
গল্পটি ভিন্ন ধরনের। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম থাকছে আবীর। ভীষণ চতুর আর
ফাপরবাজ টাইপের একটি চরিত্র। দর্শক ছবিটি দেখে বেশ উপভোগ করবেন। এবারই
প্রথম এ ছবিতে অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করছেন বাপ্পি চৌধুরী। কেমন
লাগলো কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব ভালো লেগেছে কাজ করে। আর ছবির
নির্মাতা দেবাশীষ দা’র সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। শুটিংয়ে তার কাছে অনেক
সহযোগিতা পাচ্ছি। তিনি নিজে বিভিন্ন সিক্যুয়েন্স বুঝিয়ে দিচ্ছেন। খুব
রিলাক্সভাবেই কাজটি করতে পারছি। এ ছবির প্রথম অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে
আগামীকাল থেকে বাপ্পি ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ‘নায়ক’ ছবির শেষ অংশের কাজে
ঢাকার বাইরে আউটডোরে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নায়ক’ ছবির গল্প ও
আমার চরিত্রটি অন্য ছবিগুলো থেকে আলাদা। ছবিতে মৌসুমী আপু ও অমিত হাসান
ভাইয়ের মতো সিনিয়র শিল্পীরাও রয়েছেন। ছবির নাম ‘নায়ক’ হলেও চরিত্রটি নায়ক
নয়। ধনী পরিবারের এক তরুণ, যে কি-না সবখানে নায়কোচিতভাবে হাজির হয়, তার
জীবনেও ট্রাজেডি আসে, এমন কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে। আর এবারই প্রথম
আমার বিপরীতে অধরা খান কাজ করছেন। আমরা বান্দরবান এবং কক্সবাজারে গানের
শুটিংয়ে অংশ নিতে আউটডোরে যাব আগামীকাল। তিনটি গানের শুটিং হবে সেখানে।
গানের কাজ শেষ হলেই ছবির ক্যামেরা ক্লোজ হবে। আশা করি, এ ছবিটিও দর্শক
পছন্দ করবেন। সবশেষ চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত ‘পলকে পলকে তোমাকে
চাই’ ছবিটি মুক্তি পায়। শাহনেওয়াজ শানু পরিচালিত এ ছবিতে বাপ্পির বিপরীতে
অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি। বাপ্পির কাছে ছবির দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল
জানতে চাইলে বলেন, ছবিটি মুক্তির পর আমি খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এমনকি গত ছয়
মাসে এ ধরনের সেল কোনো ছবি পায়নি বলে আমি জেনেছি। এটাই তো অনেক বড় পাওয়া।
তবে ছবি মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য সময় বের করাটা বেশ জরুরী। অন্যদিকে এর
বাইরে বাপ্পি ‘বেসামাল’ নামে আরও একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করেছেন। রাহুল
রওশনের পরিচালনায় এ ছবিতে তার নায়িকা নিঝুম রুবিনা। ছবিটি নিয়ে বাপ্পি
বলেন, এ ছবিতে দুইদিন শুটিং করেছি। সামনে আবারো কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
গল্প শুনে মনে হয়েছে ছবিতে অভিনয় করার অনেক জায়গা রয়েছে আমার। আশা করি, এ
ছবিটিও দর্শক পছন্দ করবেন। এরই মধ্যে বাপ্পি নায়ক হিসেবে অনেকদূর এগিয়েছেন
এবং ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত আসন তৈরি করছেন। এরই মধ্যে তিনি নায়ক হিসেবে মিম,
ববি, মাহি, আঁচলসহ অনেক নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন। সামনে কোন ছবিটি
মুক্তির জন্য প্রস্তুত জানতে চাইলে বাপ্পি বলেন, সামনে আমার অভিনীত ‘দাগ’
ছবিটি মুক্তি পাবে। এ ছবির শুটিং এবং ডাবিং শেষ হয়েছে। তারেক শিকদার
পরিচালিত ছবিটিতে আমার বিপরীতে মিম ও আঁচল অভিনয় করবেন। এরইমধ্যে এ ছবির
‘তুমি বাঁধনি আমাকে’ শিরোনামের একটি গানও ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। গানের
কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান এবং কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী
কনকচাঁপা ও আতিক হাসান। সংগীতায়োজনে ছিলেন আলী আকরাম শুভ। ছবিটিতে কাজ করে
ভালো লেগেছে। আশা করি, দর্শক পছন্দ করবেন। এ ছবি ছাড়া চিত্রনায়িকা জলির
সঙ্গে বেলাল সানীর ‘ডেঞ্জার জোন’ নামে একটি ছবির ৯০ ভাগ কাজ শেষ করেছেন
বাপ্পি। সামনে এর বাকি কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
Friday, April 13, 2018
‘আমি তো এত কাজ এখন করতে চাই না’ by কামরুজ্জামান মিলু

দেশীয়
চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। খল অভিনেতা হিসেবে লম্বা সময়
ঢালিউডে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। চলতি বছরেও বেশকিছু ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত
আছেন এই অভিনেতা। বর্তমানে মিশা সওদাগর বদিউল আলম খোকনের ‘হারজিৎ’, ‘আমার
মা আমার বেহেশত’, ‘অন্ধকার জগৎ’, সোহানুর রহমান সোহানের ‘অবলা নারী’,
‘রাগি’, জি সরকারের ‘খোদার কসম’, ‘লাভ-২০১৪’, শাহিন সুমনের ‘মাতাল’, ওয়াজেদ
আলী সুমনের ‘মনে রেখো’, ‘ক্যাপ্টেন খান’, আশিকুর রহমান আশিকের ‘ওপারেশন
অগ্নিপথ’, শফিক হাসানের ‘বাহাদুরী’, মাহমুদ হাসান শিকদারের ‘অবতার’,
মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আনন্দ অশ্রু’, বজলুর রাশেদ চৌধুরীর ‘দেশনায়ক’,
গাজী জাহাঙ্গীরের ‘প্রেমের বাঁধন’, রবিন খানের ‘কানা গলি’সহ প্রায় দুই ডজন
ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরইমধ্যে আটশ’র বেশি ছবি মুক্তি
পেয়েছে তার। মিশা সওদাগর বলেন, সম্প্রতি আমার অভিনীত ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘পলকে
পলকে তোমাকে চাই’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। দুটি ছবি থেকেই বেশ ভালো
সাড়া পাচ্ছি। পুরো বছরে কাজের জন্য তেমন কোনো ছুটি মেলে না। প্রায়
প্রতিদিনই শুটিং করতে হয়। পুরো বছরের মধ্যে দুই মাস এবার আমেরিকায় থাকব।
তারপরও বলতে গেলে আমেরিকায় এক মাস ছবির শুটিং করব, বাকি এক মাস ঘুরব। এই
রোজার মধ্যে আমেরিকায় মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় একটি ছবিতে কাজ করব।
শুটিংয়ের বাইরে রোজার ঈদে আমার দুই সন্তানসহ আমেরিকায় ঘুরব এবং এরপর ঢাকায়
ফিরব। রোজার মধ্যে আমেরিকায় শুটিং করব এবার। এত ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে
কেমন লাগে জানতে চাইলে মিশা বলেন, আমি তো এত কাজ এখন করতে চাই না। আমি তো
বলে দেই যে, গল্প ভালো না লাগলে ছবিতে কাজ করব না। তারপরও করতে গিয়ে দেখলাম
এখন অনেক ছবি আমার হাতে। মিশা অভিনীত বেশকিছু ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এসব ছবির মধ্যে আজ বড় পরিসরে তার অভিনীত এবং ‘ইফতেখার চৌধুরীর পরিচালনায়
‘বিজলী’ ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শামীমুল ইসলাম
শামীমের ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘জান্নাত’।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার একাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও দীর্ঘ দিন
ধরে এ প্রযোজনা সংস্থার কোনো ছবিতে দেখা যায় নি মিশাকে। গত ৬ই এপ্রিল
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জাজের কর্ণধার প্রযোজক আব্দুল আজিজের
জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠান ও ‘বিজলী’ ছবির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে
আব্দুল আজিজকে সব মনমালিন্য ভুলে এফডিসিতে ফিরে আসার অনুরোধ করেন মিশা।
এসময় প্রেক্ষাগৃহের মেশিনের ভাড়া কমানোর বিষয়েও আব্দুল আজিজকে অনুরোধ করেন
এই অভিনেতা। জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মাণ পরিকল্পিত জাজ
মাল্টিমিডিয়ার একটি নতুন ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। এমন সংবাদের বিষয়ে
জানতে চাইলে মিশা সওদাগর বলেন, ছবির গল্প পছন্দ হলে আমি অবশ্যই কাজ করব।
কারো সঙ্গে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আর জাজের আজিজ ভাই যে কোনো ছবি
শুরু করার আগে আমাকে ফোন দেন। কারণ তিনি আমার অভিনয় ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ
করেন। জাজ থেকে সবশেষ ‘সুলতান’ ছবিরও প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তবে কাজটা করিনি।
আমি জাজের অনেক ছবিতে কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত করিনি।
সবকিছু ঠিক থাকলে হয়ত এ প্রতিষ্ঠানের নতুন ছবিতে আমি সামনে কাজ করব। তবে
এখনো এই অভিনেতা জাজের নতুন কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি। শাকিব খানের সঙ্গে
দীর্ঘদিন পর ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিতে কাজ করছেন মিশা সওদাগর। তবে এটা নিয়ে
ইন্ডাস্ট্রির অনেকে জলঘোলা করার চেষ্টা করছেন বলে জানান মিশা। তিনি বলেন,
একটা কথা সবার মনে রাখা উচিত সেটা হচ্ছে, আমার পেশা কিন্তু অভিনয় নেতাগীরি
নয়। আর আমার জীবনে চাওয়ার আর কিছু নেই। কারণ দর্শকরা আমাকে অনেক কিছু
দিয়েছে। বাকি জীবনটা সুন্দরভাবেই কাজ করে যেতে চাই।
Monday, March 26, 2018
মুক্তিযুদ্ধের যত চলচ্চিত্র by কামরুজ্জামান মিলু

৯
মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও না জানা অনেক গল্প
বাংলা চলচ্চিত্রে এসেছে। তবে অনেকের মতে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বড়
পর্দায় পুরোপুরি তুলে আনা সম্ভব হয়নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ একটি দেশের
যেমন জন্ম দিয়েছে, তেমনি স্বাধীন মানচিত্রের জন্য কেড়ে নিয়েছে লাখো মানুষের
প্রাণ। মুক্তিযুদ্ধ এত ঘটনাবহুল যে শতাব্দীর পর শতাব্দী এ নিয়ে চলচ্চিত্র
নির্মাণ করা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে
মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত বেশিসংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মাণ
হয়েছে, দেশের বাইরেও তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে
অসংখ্য প্রামাণ্য, স্বল্প এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে আমাদের
দেশে। মুক্তিযুদ্ধের আগেই প্রখ্যাত নির্মাতা জহির রায়হান নির্মাণ করেন
‘জীবন থেকে নেয়া’। ১৯৭০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে সংসারের একগোছা
চাবির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসন ক্ষমতা বোঝানো হয়। অন্যদিকে
প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর প্রযোজক চলচ্চিত্রকার
মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিশাল বড় একটি ক্যানভাস।
‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হয়েছে মাত্র।
১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’
চলচ্চিত্রটি। একই বছর মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস উঠে এসেছে মমতাজ আলীর
‘রক্তাক্ত বাংলা’ ও আনন্দের ‘বাঘা বাঙ্গালী’ চলচ্চিত্রে। ১৯৭৬ সালে
হারুন-অর রশিদ নির্মাণ করেন ‘মেঘের অনেক রং’। সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার
শহীদুল হক খান সরকারি অনুদানে ১৯৮১ সালে নির্মাণ করেন ‘কলমিলতা’। ১৯৯৪ সালে
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা গল্পে নির্মাণ করলেন
‘আগুনের পরশমনি’। ৪৬ বছর ধরে বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে বেশকিছু
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। অন্যতম এই চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ওরা
১১ জন’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’,
‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, আমার জন্মভূমি, ‘আবার তোরা
মানুষ হ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘মেঘের অনেক রঙ’, ‘কলমিলতা’, ‘নদীর নাম মধুমতি’,
‘আগামী’, ‘এখনো অনেক রাত’, ‘মুক্তির গান’, ‘মাটির ময়না’, ‘জয়যাত্রা’,
‘খেলাঘর’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘গেরিলা’, ‘জীবনঢুলী’,
‘৭১-এর সংগ্রাম’, ‘মেঘমল্লার’, ‘৭১-এর মা জননী’, ‘অনুক্রোশ’, ‘হৃদয়ে ৭১’,
‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘এইতো প্রেম’, ‘শোভানের স্বাধীনতা’, ‘ভুবন মাঝি’
ইত্যাদি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র বলতে আমাদের চোখের সামনে
ভেসে ওঠে ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘লিবারেশন ফাইটার্স’, ‘নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’,
‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’ ‘প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’, ‘আগামী’, ‘প্রত্যাবর্তন’
‘সূচনা’, ‘দুরন্ত’, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘ধূসর যাত্রা’, ‘৭১-এর যিশু’,
‘স্মৃতি ৭১’, ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’ প্রভৃতি। তবে বর্তমানে
মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যাটা অনেকটাই কমেছে।
তাই অনেক নির্মাতার মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার যে অনুদান দেয় তাতে একটি
মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব হয় না। এর ফলে
দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্মাতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। নতুন অনেক
মেধাবী নির্মাতার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছে থাকা
সত্ত্বেও বাজেটের কারণে বারবারই পিছিয়ে যাচ্ছেন। তাই সরকারি এই অনুদানের
অঙ্কটা বাড়ানোর বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দেয়ার অনুরোধ জানান এই
প্রজন্মের বেশ কিছু নির্মাতা।
Saturday, March 3, 2018
‘আরবাব’ যেখানে সোনার হরিণ by কামরুজ্জামান মিলু

চাকরি
সংকট, দেরিতে বেতন- এমন সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই প্রবাসজীবন বেছে
নিতে পছন্দ করেন। ওমানের বিভিন্ন জায়গায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি
বসবাস করছেন। শ্রমশক্তির বড় একটি বাজার এখন ওমানে। ‘সালালাহ’, ‘সোহার’, ‘আল
খায়ের’ ও ‘মাস্কাট’-এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক বাস করে।
এখানে বেশিরভাগ শ্রমিক ফ্রি ভিসায় এসে চাকুরী করে। ওমানের রাজধানী
মাস্কাটের রুয়িতে অবস্থিত এক জায়গার নাম হামরিয়া।
এখানে বেশিরভাগই বাংলাদেশি। অনেকে কাজের সন্ধানে ভিসা নিয়ে এলেও পুলিশের চেকিংয়ে পড়তে হয়। বিশেষ করে শুক্রবার দিন পুলিশ বেশি চেকিং করে থাকে। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি ওমানের রুইতে অবস্থানকালে মোবাইল ব্যবসায়ী ফরহাদের সঙ্গে কথা হলো তিনি বলেন, আগে সিঙ্গাপুর ছিলাম। সেখান থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বর্তমানে ওমানে আছি। প্রথমে চাকরি এরপর ব্যবসা করছি। বর্তমানে এ ব্যবসা থেকে যা আয় হচ্ছে তা আগের তুলনায় কম। কোনোরকম দিন চলে যাচ্ছে। এখানে ব্যবসা করতে হলে যাদের আরবাব (ওমানি স্পন্সরকে আরবাব বলে) ভালো, তাদের আরবাব থানায় গিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হয়। এক কথায় আরবাব ভালো হলে সব ভালো, নইলে প্রবাস ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে হয়। তাই বলতে গেলে আরবাবের হাতেই থাকে অনেকের ভাগ্য। তবে সব আরবাব খারাপ না বলেও জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, আমার আরবাব যথেষ্ট ভালো। অনেকে তো কর্মী হিসেবে এখানে এসে এখন বিরাট ব্যবসায়ীও হয়েছেন। তেমন এক ব্যবসায়ীর নাম তৌফিকুজ্জামান পলাশ। বর্তমানে তার নামে তৌফিক ইউনাইটেড আরাব কোম্পানি আছে এখানে। ট্র্যাভেলস এবং ট্যুরিজম ব্যবসায় তিনি বেশ নাম করেছেন। দুবাই, কাতারেও তার শাখা অফিস রয়েছে। এসব বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক বাংলাদেশি ড্রাইভার শাহীন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ওমানে এসেছি সাত বছর। এখানে ট্রাফিক নিয়ম বেশ কড়া। আমার নিজের তিনটি গাড়ি রয়েছে। গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিনই ১৫ রিয়াল (৩০০০ টাকার বেশি) আয় করছি। কথা বলার পর শাহীন তার নিজ গাড়িতে করে সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদে ঘুরতে নিয়ে গেলেন। এই মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভেতরের মূল প্রার্থনা কক্ষের কার্পেট। ওমানের সুলতান ২০০১ সালের ৪ঠা মে মসজিদটি উদ্বোধন করেন। সুলতান কাবুসের নামেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ। প্রধান মুসালায় একসঙ্গে সাড়ে ছয় হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটিতে মহিলাদের জন্যও একটি মুসালা রয়েছে যেখানে ৭৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া বাইরের খোলা অংশে নামাজ আদায় করতে পারেন আট হাজার মুসল্লি। সীমানার ভেতরের অতিরিক্ত স্থান এবং করিডরসহ মসজিদটিতে মোট ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে দায়িত্ব পালন করেন কার্লিয়ন আলাওই এলএলসি। ফেরার পথে মাস্কাট বিমানবন্দরে হাসান ও চন্দ্র নামে দু’যুবকের সঙ্গে দেখা। তারা সেখানের ‘সিল অ্যান্ড কোম্পানি’-তে ২০০ রিয়ালে চাকরি করে। তাদের যাত্রীদের ব্যাগ প্যাকিংয়ের কাজ করতে হয়। পরিবহন অভাবে বড় ধরনের অসুবিধায় পরতে হয় ওমানে পর্যটকদের। কারণ সেখানে রেলপথ নেই ভরসা, তেমন কোনো লোকাল বাসও নেই। যাতায়াতের জন্য পর্যটকদের একমাত্র ট্যাক্সিই ভরসা।
এখানে বেশিরভাগই বাংলাদেশি। অনেকে কাজের সন্ধানে ভিসা নিয়ে এলেও পুলিশের চেকিংয়ে পড়তে হয়। বিশেষ করে শুক্রবার দিন পুলিশ বেশি চেকিং করে থাকে। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি ওমানের রুইতে অবস্থানকালে মোবাইল ব্যবসায়ী ফরহাদের সঙ্গে কথা হলো তিনি বলেন, আগে সিঙ্গাপুর ছিলাম। সেখান থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বর্তমানে ওমানে আছি। প্রথমে চাকরি এরপর ব্যবসা করছি। বর্তমানে এ ব্যবসা থেকে যা আয় হচ্ছে তা আগের তুলনায় কম। কোনোরকম দিন চলে যাচ্ছে। এখানে ব্যবসা করতে হলে যাদের আরবাব (ওমানি স্পন্সরকে আরবাব বলে) ভালো, তাদের আরবাব থানায় গিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হয়। এক কথায় আরবাব ভালো হলে সব ভালো, নইলে প্রবাস ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে হয়। তাই বলতে গেলে আরবাবের হাতেই থাকে অনেকের ভাগ্য। তবে সব আরবাব খারাপ না বলেও জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, আমার আরবাব যথেষ্ট ভালো। অনেকে তো কর্মী হিসেবে এখানে এসে এখন বিরাট ব্যবসায়ীও হয়েছেন। তেমন এক ব্যবসায়ীর নাম তৌফিকুজ্জামান পলাশ। বর্তমানে তার নামে তৌফিক ইউনাইটেড আরাব কোম্পানি আছে এখানে। ট্র্যাভেলস এবং ট্যুরিজম ব্যবসায় তিনি বেশ নাম করেছেন। দুবাই, কাতারেও তার শাখা অফিস রয়েছে। এসব বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক বাংলাদেশি ড্রাইভার শাহীন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ওমানে এসেছি সাত বছর। এখানে ট্রাফিক নিয়ম বেশ কড়া। আমার নিজের তিনটি গাড়ি রয়েছে। গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিনই ১৫ রিয়াল (৩০০০ টাকার বেশি) আয় করছি। কথা বলার পর শাহীন তার নিজ গাড়িতে করে সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদে ঘুরতে নিয়ে গেলেন। এই মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভেতরের মূল প্রার্থনা কক্ষের কার্পেট। ওমানের সুলতান ২০০১ সালের ৪ঠা মে মসজিদটি উদ্বোধন করেন। সুলতান কাবুসের নামেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ। প্রধান মুসালায় একসঙ্গে সাড়ে ছয় হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটিতে মহিলাদের জন্যও একটি মুসালা রয়েছে যেখানে ৭৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া বাইরের খোলা অংশে নামাজ আদায় করতে পারেন আট হাজার মুসল্লি। সীমানার ভেতরের অতিরিক্ত স্থান এবং করিডরসহ মসজিদটিতে মোট ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে দায়িত্ব পালন করেন কার্লিয়ন আলাওই এলএলসি। ফেরার পথে মাস্কাট বিমানবন্দরে হাসান ও চন্দ্র নামে দু’যুবকের সঙ্গে দেখা। তারা সেখানের ‘সিল অ্যান্ড কোম্পানি’-তে ২০০ রিয়ালে চাকরি করে। তাদের যাত্রীদের ব্যাগ প্যাকিংয়ের কাজ করতে হয়। পরিবহন অভাবে বড় ধরনের অসুবিধায় পরতে হয় ওমানে পর্যটকদের। কারণ সেখানে রেলপথ নেই ভরসা, তেমন কোনো লোকাল বাসও নেই। যাতায়াতের জন্য পর্যটকদের একমাত্র ট্যাক্সিই ভরসা।
Thursday, July 6, 2017
‘আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না’ by কামরুজ্জামান মিলু

জাতীয়
চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী সিমলা। অনেকদিন ধরেই চুপ রয়েছেন। মাঝে
তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনেকে নতুন কাজ নিয়ে তার সঙ্গে
যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন
সিমলা। তিনি বলেন, আমার মা অনেকদিন ধরেই বেশ অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার জন্য
তাকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে ঢাকায় ফিরেছি। এজন্য মাঝে সবাই ফোন
বন্ধ পেয়েছে। সেজন্য আমি আন্তরিকবাবে দু:খিত। কাজের কি খবর জানতে চাইলে
সিমলা বলেন, শিগগিরই আবারো রাশিদ পলাশের ‘নাইওর’ ছবির বাকি কাজ শুরু করব।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাতা রাশিদ পলাশ শুরু করেছিলেন তার প্রথম ছবি
‘নাইওর’-এর কাজ। এ ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং হবার পর অনেকদিন ধরেই কাজ
বন্ধ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল ছবির আড়াই মিনিটের
টিজার। তবে এরপর ছবির বাকি কাজ এখনও শুরু হয়নি। কারণ কি জানতে চাইলে সিমলা
বলেন, আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আমি অভিনয়ের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত। এ
ছবির প্রযোজক একজন নারী। কাজ শুরু হবার পর তার বিয়ে হয়। তখন শুটিং বন্ধ
ছিল, আবার কিছুদিন আগে তিনি মা হয়েছেন বলে জেনেছি। এর আগে ছবির শুটিং হয়েছে
ঢাকার দুটি বস্তি, রমনা, এফডিসি ও রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায়। আমার বিপরীতে এ
ছবিতে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন। ‘নাইওর’ ছবিতে একটা ভিন্নধর্মী
চরিত্রে কাজ করেছি। এখানে আমার চরিত্রের নাম কমলা সুন্দরী। সে নাচ-গান করে।
তার জীবনের সুখ-দুঃখ এ ছবিতে দর্শকরা দেখতে পাবেন। আমার ও মিলন ভাইয়ের
কয়েকদিনের কাজ বাকি রয়েছে। আমার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই এ ছবির কাজ শেষ হবে।
১৯৯৯ সালে প্রয়াত গুণী নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের হাত ধরে বড়পর্দায় কাজ
শুরু করেন সিমলা। নিজের অভিনীত প্রথম ছবি ‘ম্যাডাম ফুলি’। এ ছবি দিয়েই
অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর তার অভিনয়ে ‘পাগলা ঘন্টা’ নামের
ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর শুধুই সামনে এগিয়ে চলা। মাঝে অভিনয় বিরতি থাকলেও
সবশেষ মাসুদ পথিকের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ এবং হাবিবুর রহমান হাবিবের
‘রূপগাওয়াল’ ছবি দিয়ে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। ‘নাইওর’ ছবির বাইরে গত বছর
রুবেল আনুশের ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবির শুটিং করেছেন সিমলা। এ ছবির কাজ
এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ছবিটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা কম হয়নি। এ ছবির
গল্পে অপ্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেম দেখানো হয়েছে। ছবিটি
প্রসঙ্গে সিমলা বলেন, এ ছবির কাজ কয়েকমাস আগেই শেষ হয়েছে। তবে এতে দর্শক
আমার ভয়েজ পাবেন না। কারণ এ ছবির ডাবিংয়ে আমি ছিলাম না। আর পরিচালককে আগে
থেকেই বলা ছিল আমি ভয়েজ দিব না। ছবির কাজ শেষ করতেও অনেক দেরি করেছেন
পরিচালক। ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবিতে অভিনয়ের পর থেকে আমাকে নিয়ে অকারণে
নানা আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। তবে আমি অভিনয়কে ভালোবাসি বলেই সবকিছু মেনে
নিয়ে ছবির কাজটি শেষ করেছি। আশা করছি, এ বছরই নতুন এ দুটি ছবি মুক্তি পাবে
আমার। ক্যারিয়ারের বাইরে সিমলা নিজেকে নিয়ে কি ভাবছেন এখন জানতে চাইলে
বলেন, নিজের মতো করেই পথ হাঁটতে পছন্দ করি আমি। তাই আলাদাভাবে কাউকে কিছু
বলার নেই। লবি মেইনটেইন করে আমি ছবিতে কাজ করবো না। তাই এখন ভিন্নধর্মী
গল্পে একটু বেছে বেছে কাজ করতে শুরু করেছি। সামনে ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির
সিক্যুয়াল হবে ‘ম্যাডাম ফুলি টু’। এটা আমার কাছে একটা স্বপ্নের প্রোজেক্ট।
বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। তাই আমার ভক্তদের উদ্দেশে বলতে চাই
অপেক্ষায় থাকুন। ভালো কিছুই সামনে আসছে।
Monday, June 26, 2017
শাকিব-অপুর যেভাবে কেটেছে বিয়ের ৯ বছর by কামরুজ্জামান মিলু

ঢাকাই
চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই মুখ শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ২০০৮ সালের ১৮ই
এপ্রিল ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। এরই মধ্যে তারা পার করেছেন নবম
বিবাহবার্ষিকী। তাদের একটি ছেলেও আছে। ছেলের নাম আব্রাহাম খান জয়। এই
দম্পতিকে ঘিরে গত এক মাসে অনেক আলোচনা হয়েছে মিডিয়ায়। তার পরও থেকে যায়
জীবনের নানান কথা। কারণ, বিয়ে করে সংসার করার পরও দীর্ঘদিন আড়ালেই ছিলেন
তারা।
অপু ও শাকিবের বিয়ে নিয়ে এখনও ভক্ত বা পাঠকদের মনে জানার আগ্রহের কমতি নেই। কীভাবে শাকিব-অপুর পরিচয়, বন্ধুত্ব ও বিয়ে এবং বিয়ের পর কীভাবে কেটেছে গত নয়টি বছর? এসব বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে জীবনের একান্ত কিছু কথা শেয়ার করেছেন অপু বিশ্বাস।
শাকিব ও অপুর পরিচয়
তখন অপু বিশ্বাস বগুড়ায় সরকারি ইয়াকুব আলী স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে নবম শ্রেণির ছাত্রী। ২০০৫ সালে আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘কাল সকালে’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে সর্বপ্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে এফআই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির জন্য প্রস্তাব পান অপু। সে সময় শাকিবকে তেমন চিনতেন না তিনি। কারণ, বাংলা ছবি তেমন দেখা হতো না তার। আর পরিবারের শাসনের কারণে সিনেমা হলে গিয়েও ছবি দেখা হয়ে ওঠেনি। অপু বলেন, যখন জানতে পারি নতুন ছবিতে আমার হিরো শাকিব খান, এটা জানার পর বাসায় সিডি ভাড়া করে এনে তার অভিনীত ‘শুভা’ ছবিটি দেখলাম। তখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। প্রয়াত গুণী নির্মাতা চাষি নজরুল ইসলামের পরিচালনায় এ ছবিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেন পূর্ণিমা। এ ছবিটা দেখার পর আমার বান্ধবীরা (বৃষ্টি, সিমিম, রিক্তা) সকলে বলল, শাকিব তো বেশ ভালো অভিনয় করেন। আমার বাংলা ছবি তখন তেমন দেখা হতো না। বলিউডের শাহরুখ খানের ছবি দেখা হতো বেশি। শাহরুখ খান ছিল আমার প্রিয় নায়ক। শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম আমার দেখা এফডিসিতে। আমার মনে আছে সেই দিনটার কথা। ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ ছবির সেটে ছিলেন শাকিব। তখন পরিচালক এফআই মানিক ভাই আমার সঙ্গে শাকিবের পরিচয় করিয়ে দেন। তখন বগুড়া থেকে এসে উত্তরায় আমাদের পারিবারিক আত্মীয় রাজু ভাইয়ের বাসায় থেকে আমি ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির কাজ শুরু করলাম। নায়করাজ রাজ্জাক আংকেলকে আমার মা খুব পছন্দ করতেন। মূলত সিনেমা করতে গেলে এই অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, এই ভেবে অনেকটা শখের বশে কাজ শুরু করা হয় আমার।
অপুকে শাকিবের প্রথম প্রেমের প্রস্তাব
‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির জন্য সাভারে শুটিং সেট ফেলা হয়। সেখানে কাজ করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। আর এক্ষেত্রে অপুর কথা মতো শাকিব খান এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। অপু বলেন, প্রথম ছবি থেকেই শাকিব আমার দিকে রোমান্টিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। আমার মা (শেফালী বিশ্বাস) শুটিংয়ে আমার সঙ্গে সবসময়ই থাকতেন। তাই মাকে আমি বেশি দোষ দিতে চাই। কারণ, ছোটবেলা থেকে আমি গার্লস স্কুলে বান্ধবীদের সঙ্গে মিশেছি। বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না আমাদের। তাই তেমন ঘুরতে বের হতে পারতাম না আমি। কড়া শাসনে আমাকে থাকতে হয়েছে। যে কারণে কোনো ছেলেবন্ধু ছিল না আমার। বাড়ি থেকে বাইরে একা কোথাও ছাড়ত না। খুব বেশি শাসন না করলে হয়তো আমার জীবনে এত বড় ভুল হতো না। এসবের কারণে ছেলেমানুষের সঙ্গে একটা নতুনত্ব ছিল আমার কাছে। প্রথম ছবিতে একটি দৃশ্য ছিল যে, দৌড়ে এসে শাকিব খানকে জড়িয়ে ধরার। একটা সময় আমি দৌড়ে আসলেও আমি শাকিবের সামনে এসে ফ্রিজ হয়ে যেতাম। জড়িয়ে ধরতে পারতাম না। তখন পরিচালক মানিক ভাই শটটা ঘুরিয়ে দিলেন। তখন উল্টো শাকিব দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেই সময়ের সেই মুহূর্তটি আমার কাছে ভিন্ন রকম ছিল। অপু আরও বলেন, এরপর শাকিব আমাকে বিভিন্নভাবে বলেছে যে, আমি শাকিবের কাছে প্রথম ভালোলাগার মতো একটি মেয়ে। তার জীবনে এর আগে এমন মেয়ে আসেনি। তখন শুটিংয়ে আমি একটা ফোন ব্যবহার করতাম। তখন শুটিং বিরতিতে ইশারা করে আমার কাছে ফোন নাম্বার চাইল একদিন শাকিব। আমি টিসুতে আইভ্রু পেন্সিল দিয়ে লিখে আমার ফোন নাম্বারটা শাকিবকে দিয়েছিলাম। শাকিব এরপর প্রায়ই ফোন দিত। অনেক সময় মা ফোন ধরলে শাকিব ফোন কেটে দিত। আমি ফোন রিসিভ করলে কথা বলত, এমন ঘটনা প্রায়ই হয়েছে। নাম্বারটা দেওয়ার পর ফোনে কথা শুরু হয় আমাদের।
অপুর জন্য শাকিবের বগুড়া- শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং যাওয়া
বগুড়ায় এসএসসি পাস করার পর সিনেমা ছেড়ে ইন্ডিয়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অপু। সেখানে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ, ভারতে অপুর মেজো বোন লতা সিংহ রায় থাকতেন। অপু এ প্রসঙ্গে বলেন, ইন্ডিয়াতে যাওয়ার কারণ হচ্ছে সিনেমা কন্টিনিউ করার ইচ্ছে ছিল না আমার। তখন শাকিব আমার জন্য বেশকিছু দিন বগুড়া গিয়েছিল এবং পরে আমি ইন্ডিয়া যাওয়ার পর বাই রোডে লালমনিরহাট পাটগ্রামের বুড়িমারী বর্ডার হয়ে চেংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে শিলিগুড়ি গিয়েছিল শাকিব। লতা দিদি আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন। শাকিব খান শিলিগুড়ি যাওয়ার পর দিদি বলল, শাকিব যেহেতু এত দূর এসেছে ঠিক আছে তুই দেখা কর। তিন দিন সেখানে একটি তিন তারকা হোটেলে ছিল শাকিব। এটা ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলছিলেন অপু। ওই সময় শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস শুটিংয়ে না একসঙ্গে সময় কাটাতে দার্জিলিংয়ে ঘুরতে যান। আর সেখানে অপুকে দেখতেই মূলত ঢাকা থেকে আসেন শাকিব খান। অপু বিশ্বাস বলেন, সেদিন শাকিবসহ দার্জিলিং যাওয়ার সময় শেবক রাস্তায় একটা বড় কালীমন্দির আছে। সেখানে যেতে চাইলো শাকিব। কারণ, ওয়েদারটা খুবই ভালো ছিল। শাকিব জায়গার প্রেমে পড়ে যায়। আমরা তখন ওই মন্দিরে গেলাম। কেউই বাধা দেয়নি আমাদের। টিয়া কালারের একটি জ্যাকেট ও জিনস প্যান্ট পরেছিল শাকিব। মন্দিরে প্রবেশের পর পুরোহিত প্রশ্ন করলেন, আপনারা কারা ? তখন আমি উত্তরে বললাম, আমরা স্বামী ও স্ত্রী। মজা করেই আমি সেদিন বলেছিলাম। শাকিব বললো, আমি মাড়োয়ারি হিন্দু। তখন পুরোহিত বললো, তোমার স্ত্রীর কপালে সিঁদুর কোথায়। তারপর পুরোহিত শাকিবকে কপালে টিকা ও শাকিব আমার কপালে সিঁদুর দিয়ে দিল। সেই হিসেবে তখনই আমাদের বিয়ে হয়। যখন ঘুরাফেরা শেষ করে শাকিব ঢাকাতে ফিরল। আর ফেরার পথে বাসে শাকিব ফোন করে বলেছিল, সবকিছু রেখে শুধু আমার কলিজা নিয়ে বাসায় ফিরছি। একা ফিরতে খুব খারাপ লাগছে। এরপর আমার একটু একটু ভালো লাগা মনে কাজ করছিল। অপু আরও বলেন, এরপর আমি শাকিবের বিষয়ে ঢাকায় নানাভাবে কিছু খোঁজখবর নিয়ে সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি অন্য হিরোর বিপরীতে কাজ করব। আমি তখন হিরো মান্না ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম শাকিবের সঙ্গে আমার ভালোবাসাটা এ পর্যন্তই থাক। বিয়ে পর্যন্ত গড়াক এটা চাইনি। রাজ্জাক আংকেলের একটা প্রোডাকশনেও কাজ করার জন্য কথা হলো। তখন আমি ভেবেছি, শাকিবের সঙ্গে ছবি না করলে তো শাকিব আমার কাছ থেকে এমনিতেই দূরে সরে যাবে। শাকিবকে তখন বলেছিলাম, যা হওয়ার হয়েছে। ভালো বন্ধুত্ব আছে, সেটাই থাক আমাদের। এরপর ঢাকায় এসে আবার কাজ শুরু করলাম। কিন্তু শাকিবের খুব কাছের প্রযোজক ও প্রোডাকশন ম্যানেজার মামুনুজ্জামান মামুন ভাই আমার বাসায় এসে প্রায়ই শাকিবের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসা করতেন। কখনও খাসির মাংস, মাছ, পোলাও বিভিন্ন কিছু নিয়ে আসতেন। তিনি এসে বলতেন, শাকিব আপনাকে কতটা পছন্দ করেন, তা আপনি জানেন না। ইন্ডিয়া থেকে আসার পর থেকে শুধুই আপনার কথা বলছে। এরপর আস্তে আস্তে আমি শাকিবের প্রতি দুর্বল হলাম। পরে বগুড়ায় সরকারি মুজিবর রহমান মহিলা কলেজে পড়া শেষ করলাম। আর ছবিতে কাজ কন্টিনিউ করা শুরু হলো আমার। ছবিও হিট করা শুরু করল। ঢাকায় একেবারে চলে আসলাম। ব্যস্ততা বাড়ল আমার।
সম্পর্ক ও বিয়ে
জাকির হোসেন রাজুর ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে আবারও শাকিব অপু এক হয়। এ ছবি করতে গিয়ে আবার ফোনে কথা বলা শুরু হয় শাকিব ও অপুর। সম্পর্ক সামনে এগুতো থাকলো। এরপর আবারও দ্বিতীয়বারের মতো শাকিবের প্রতি দুর্বলতা কাজ করা শুরু করলো অপু বিশ্বাসের। অপু বলেন, তখন শাকিব খান হ্যারিয়ার গাড়ি ব্যবহার করত। তখন আশুলিয়ার প্রিয়াঙ্কায় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির শুটিং চলছিল। একদিন গাড়িতে মামুন ভাই, শাকিব ও আমি ছিলাম। হঠাৎ শাকিব মামুন ভাইকে একটা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে আমার সঙ্গে গাড়িতে কথা বলা শুরু করল। ওই ছবির শুটিং চলা অবস্থাতেই শাকিব বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তখন মিরপুর শাহ আলী মাজার রোডের একটি বাসায় থাকতাম আমি। শাকিব আমাকে সেদিন বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি শাকিবকে বললাম, এটা সিনেমা না আমার জীবন। স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে যেসব মর্যাদা দেয়া উচিত সেগুলো আমি পাব কি-না সেটা জানতে চাই। তখন আমার সব কথা মেনে নিয়েছিল শাকিব। এরপর দুজনের সিদ্ধান্তে বিয়ে হয় আমাদের। ২০০৮ সালের ১৮ই এপ্রিল শুক্রবার বিয়ে হয় আমাদের। মামুন ফরিদপুরে শাকিবের বাড়ির কাছ থেকে মজিবুর রহমান নামের এক কাজী সাহেবকে নিয়ে আসে এবং আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পুরো বিষয়টি তখন কেবল আমার মেজ বোন লতা ও শাকিবের চাচাতো ভাই মনির জানতেন। এরপরের গল্পটা সবার জানা।
শাকিবের বাড়িতে অপু
বিয়ের পর শাকিবের বাসায় বেশিরভাগ সময় থাকতেন অপু বিশ্বাস। তবে অনেকটা লুকোচুরি করে থাকতে হয়েছে তাদের। তাই মাঝে মাঝে শুটিং শেষে অপু নিজের বাসায়ও চলে যেতেন। আবার কখনও গভীর রাতে শাকিবের গুলশানের দুইয়ের বাসায় উঠতেন এবং ভোরবেলা নিজের গুলশান নিকেতনের বাসায় গিয়ে রেডি হয়ে শুটিংয়ে বেরিয়ে পরতেন। অপু বলেন, বিয়ের পর গুলশান দুইয়ে শাকিবের বাসায় উঠলাম আমি। তবে দুজনেই শুটিং থাকার কারণে বেশ ব্যস্ততায় সংসার কাটে আমাদের। এরপর জানলাম, মনি নামে শাকিবের একটা ছোট বোন আছে। পরিবারের অজান্তে অন্য জায়গায় মনি বিয়ে করার কারণে শাকিব মনির সঙ্গে রাগ করে সাত বছর ধরে কথা বলতো না। পরে আমি শাকিবকে বুঝিয়ে মনিকে আমার বাসায় নিয়ে আসলাম। ভাইবোনকে এক করে দিয়েছি। যে কারণে শাকিবের বাসায় এখন মনি থাকেন। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সংসার করতে হয়েছে আমাকে। শাকিবের বাসায় আমার শ্বশুর (আব্দুর রব)-শাশুড়ি (রিজিয়া বেগম) থাকতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় শাকিবের পরিবার আমাকে কেনো পছন্দ করে না, সেটা আমি জানি না। এটা আমার কাছে খুবই কষ্টের। বিয়ের পর শাকিবের জন্য প্রথম রান্না কি ছিল জানতে চাইলে অপু বলেন, আমি শাকিবের জন্য বিয়ের পর প্রথম খিচুড়ি রান্না করেছিলাম। আমার হাতে ডেজার্ট আইটেম খেতে পছন্দ করে শাকিব। পোলাও, মম, ছানার মিষ্টি, বিরিয়ানি-এই ধরনের রিচ ফুড খেতে খুব পছন্দ করে শাকিব। এছাড়া প্রায়ই বগুড়া থেকে দই এনে শাকিবকে খাওয়াতাম। একবার শুটিং করতে ব্যাংককে গিয়ে শাকিব আমাকে ট্রিট দিলো। একটা জাপানিজ রেস্টুরেন্ট ছিল যেখানে খাবারগুলো ঘুরতো চারপাশে। আর নিজের পছন্দমত কাঁচা খাবার রান্না করে খাওয়া যেত। এভাবেই খাবারগুলো রাখা ছিল। ওখানের চিংড়ি টেম্পুরা আমাকে খাওয়াইছে শাকিব। এটা আমার খুব পছন্দের ছিল। ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’ ছবির শুটিংয়ে ব্যাংককে প্রথমে সিজলারে খাওয়ানোর পর ওই জাপানিজ রেস্তরাঁয় আমাকে খাওয়ায় শাকিব। এরপর যতবার আমাদের ব্যাংককে যাওয়া হয়েছে ততবার সেই রেস্তরাঁয় খাওয়া হয়েছে আমাদের। শুটিংয়ের বাইরে একবার ফুকেটের ফি ফি আইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়েছিলাম আমি ও শাকিব। শুটিংয়ের বাইরে দুজনের তেমন ছবি ওঠানো হতো না। এর কারণ জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বলেন, আমি জানি না। অনেকে শুনলে হইতো বিশ্বাস করবে না যে, আমাদের বিয়ের ছবিটিও ওঠানো হয়নি। আর যেখানে আমরা ঘুরতে যাইতাম শাকিব ছবি ওঠাতে পছন্দ করতো না। তবে ফুকেটের ফি ফি আইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে সবশেষ আমরা একটি ছবি তুলেছিলাম। তাছাড়া আমরা এত জায়গায় ঘুরেছি দুজনের তেমন কোনো ছবি নেই। পছন্দের মানুষকে উপহার দেয়ার বেলায় প্রথম ছিলেন অপু। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শাকিবকে পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাক পছন্দ করে কিনে দিতাম, অনেক পোশাক উপহারও দিয়েছি। আর শাকিবও আমাকে গলার হীরের মালাসহ বেশকিছু উপহার দিয়েছে।
শাকিব-অপুর সংসার
শাকিবের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিজে বন্ডে সাইন দেয়ার পর সিজার হয় অপুর। ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর শাকিব ও অপুর ঘরে ছেলে সন্তান আব্রাহাম খান জয় আসে। তারপরও শাকিব এ খবর অপুকে গোপন রাখতে বলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দুজনের ক্যারিয়ারের স্বার্থে সন্তান ও বিয়ের কথা গোপন রাখার কথা বলেছিল শাকিব। তবে আমি অনেকদিন লুকোচুরি সংসার করেছি। অপেক্ষাও করেছি অনেকবার। এরপর আর দেরি করতে চাইনি। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে টিভি লাইভে গিয়ে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি ক্লিয়ার করি। একটানা এই কথাগুলো বলেন অপু বিশ্বাস। বর্তমানে শাকিব বিভিন্ন সিনেমার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আর এবারের ঈদে অপু ও শাকিব অভিনীত একটি ছবি মুক্তি পাবে। বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত এ ছবির নাম ‘রাজনীতি’। এ ছবি মুক্তি পাবার পর আবারও নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অপু। আর শরীরের ওজন কমানোর জন্য বনানীর একটি ব্যায়ামাগারে নিয়মিত সময়ও দিচ্ছেন। তবে সকলের প্রত্যাশা শাকিব ও অপু আবারও এক ছাদের নিচে সংসার করবেন। সুখে থাকবেন। কারণ তাদের ঘরে এখন ফুটফুটে সন্তান আব্রাহাম খান জয়। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের জীবনে পেছনে ফেলা আসা বা সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সব জটিলতার অবসান হোক এটাই প্রত্যাশা সবার।
সূত্র- মানবজমিন ঈদ আনন্দ ২০১৭
অপু ও শাকিবের বিয়ে নিয়ে এখনও ভক্ত বা পাঠকদের মনে জানার আগ্রহের কমতি নেই। কীভাবে শাকিব-অপুর পরিচয়, বন্ধুত্ব ও বিয়ে এবং বিয়ের পর কীভাবে কেটেছে গত নয়টি বছর? এসব বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে জীবনের একান্ত কিছু কথা শেয়ার করেছেন অপু বিশ্বাস।
শাকিব ও অপুর পরিচয়
তখন অপু বিশ্বাস বগুড়ায় সরকারি ইয়াকুব আলী স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে নবম শ্রেণির ছাত্রী। ২০০৫ সালে আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘কাল সকালে’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে সর্বপ্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে এফআই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির জন্য প্রস্তাব পান অপু। সে সময় শাকিবকে তেমন চিনতেন না তিনি। কারণ, বাংলা ছবি তেমন দেখা হতো না তার। আর পরিবারের শাসনের কারণে সিনেমা হলে গিয়েও ছবি দেখা হয়ে ওঠেনি। অপু বলেন, যখন জানতে পারি নতুন ছবিতে আমার হিরো শাকিব খান, এটা জানার পর বাসায় সিডি ভাড়া করে এনে তার অভিনীত ‘শুভা’ ছবিটি দেখলাম। তখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। প্রয়াত গুণী নির্মাতা চাষি নজরুল ইসলামের পরিচালনায় এ ছবিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেন পূর্ণিমা। এ ছবিটা দেখার পর আমার বান্ধবীরা (বৃষ্টি, সিমিম, রিক্তা) সকলে বলল, শাকিব তো বেশ ভালো অভিনয় করেন। আমার বাংলা ছবি তখন তেমন দেখা হতো না। বলিউডের শাহরুখ খানের ছবি দেখা হতো বেশি। শাহরুখ খান ছিল আমার প্রিয় নায়ক। শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম আমার দেখা এফডিসিতে। আমার মনে আছে সেই দিনটার কথা। ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ ছবির সেটে ছিলেন শাকিব। তখন পরিচালক এফআই মানিক ভাই আমার সঙ্গে শাকিবের পরিচয় করিয়ে দেন। তখন বগুড়া থেকে এসে উত্তরায় আমাদের পারিবারিক আত্মীয় রাজু ভাইয়ের বাসায় থেকে আমি ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির কাজ শুরু করলাম। নায়করাজ রাজ্জাক আংকেলকে আমার মা খুব পছন্দ করতেন। মূলত সিনেমা করতে গেলে এই অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, এই ভেবে অনেকটা শখের বশে কাজ শুরু করা হয় আমার।
অপুকে শাকিবের প্রথম প্রেমের প্রস্তাব
‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির জন্য সাভারে শুটিং সেট ফেলা হয়। সেখানে কাজ করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। আর এক্ষেত্রে অপুর কথা মতো শাকিব খান এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। অপু বলেন, প্রথম ছবি থেকেই শাকিব আমার দিকে রোমান্টিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। আমার মা (শেফালী বিশ্বাস) শুটিংয়ে আমার সঙ্গে সবসময়ই থাকতেন। তাই মাকে আমি বেশি দোষ দিতে চাই। কারণ, ছোটবেলা থেকে আমি গার্লস স্কুলে বান্ধবীদের সঙ্গে মিশেছি। বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না আমাদের। তাই তেমন ঘুরতে বের হতে পারতাম না আমি। কড়া শাসনে আমাকে থাকতে হয়েছে। যে কারণে কোনো ছেলেবন্ধু ছিল না আমার। বাড়ি থেকে বাইরে একা কোথাও ছাড়ত না। খুব বেশি শাসন না করলে হয়তো আমার জীবনে এত বড় ভুল হতো না। এসবের কারণে ছেলেমানুষের সঙ্গে একটা নতুনত্ব ছিল আমার কাছে। প্রথম ছবিতে একটি দৃশ্য ছিল যে, দৌড়ে এসে শাকিব খানকে জড়িয়ে ধরার। একটা সময় আমি দৌড়ে আসলেও আমি শাকিবের সামনে এসে ফ্রিজ হয়ে যেতাম। জড়িয়ে ধরতে পারতাম না। তখন পরিচালক মানিক ভাই শটটা ঘুরিয়ে দিলেন। তখন উল্টো শাকিব দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেই সময়ের সেই মুহূর্তটি আমার কাছে ভিন্ন রকম ছিল। অপু আরও বলেন, এরপর শাকিব আমাকে বিভিন্নভাবে বলেছে যে, আমি শাকিবের কাছে প্রথম ভালোলাগার মতো একটি মেয়ে। তার জীবনে এর আগে এমন মেয়ে আসেনি। তখন শুটিংয়ে আমি একটা ফোন ব্যবহার করতাম। তখন শুটিং বিরতিতে ইশারা করে আমার কাছে ফোন নাম্বার চাইল একদিন শাকিব। আমি টিসুতে আইভ্রু পেন্সিল দিয়ে লিখে আমার ফোন নাম্বারটা শাকিবকে দিয়েছিলাম। শাকিব এরপর প্রায়ই ফোন দিত। অনেক সময় মা ফোন ধরলে শাকিব ফোন কেটে দিত। আমি ফোন রিসিভ করলে কথা বলত, এমন ঘটনা প্রায়ই হয়েছে। নাম্বারটা দেওয়ার পর ফোনে কথা শুরু হয় আমাদের।
অপুর জন্য শাকিবের বগুড়া- শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং যাওয়া
বগুড়ায় এসএসসি পাস করার পর সিনেমা ছেড়ে ইন্ডিয়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অপু। সেখানে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ, ভারতে অপুর মেজো বোন লতা সিংহ রায় থাকতেন। অপু এ প্রসঙ্গে বলেন, ইন্ডিয়াতে যাওয়ার কারণ হচ্ছে সিনেমা কন্টিনিউ করার ইচ্ছে ছিল না আমার। তখন শাকিব আমার জন্য বেশকিছু দিন বগুড়া গিয়েছিল এবং পরে আমি ইন্ডিয়া যাওয়ার পর বাই রোডে লালমনিরহাট পাটগ্রামের বুড়িমারী বর্ডার হয়ে চেংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে শিলিগুড়ি গিয়েছিল শাকিব। লতা দিদি আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন। শাকিব খান শিলিগুড়ি যাওয়ার পর দিদি বলল, শাকিব যেহেতু এত দূর এসেছে ঠিক আছে তুই দেখা কর। তিন দিন সেখানে একটি তিন তারকা হোটেলে ছিল শাকিব। এটা ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলছিলেন অপু। ওই সময় শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস শুটিংয়ে না একসঙ্গে সময় কাটাতে দার্জিলিংয়ে ঘুরতে যান। আর সেখানে অপুকে দেখতেই মূলত ঢাকা থেকে আসেন শাকিব খান। অপু বিশ্বাস বলেন, সেদিন শাকিবসহ দার্জিলিং যাওয়ার সময় শেবক রাস্তায় একটা বড় কালীমন্দির আছে। সেখানে যেতে চাইলো শাকিব। কারণ, ওয়েদারটা খুবই ভালো ছিল। শাকিব জায়গার প্রেমে পড়ে যায়। আমরা তখন ওই মন্দিরে গেলাম। কেউই বাধা দেয়নি আমাদের। টিয়া কালারের একটি জ্যাকেট ও জিনস প্যান্ট পরেছিল শাকিব। মন্দিরে প্রবেশের পর পুরোহিত প্রশ্ন করলেন, আপনারা কারা ? তখন আমি উত্তরে বললাম, আমরা স্বামী ও স্ত্রী। মজা করেই আমি সেদিন বলেছিলাম। শাকিব বললো, আমি মাড়োয়ারি হিন্দু। তখন পুরোহিত বললো, তোমার স্ত্রীর কপালে সিঁদুর কোথায়। তারপর পুরোহিত শাকিবকে কপালে টিকা ও শাকিব আমার কপালে সিঁদুর দিয়ে দিল। সেই হিসেবে তখনই আমাদের বিয়ে হয়। যখন ঘুরাফেরা শেষ করে শাকিব ঢাকাতে ফিরল। আর ফেরার পথে বাসে শাকিব ফোন করে বলেছিল, সবকিছু রেখে শুধু আমার কলিজা নিয়ে বাসায় ফিরছি। একা ফিরতে খুব খারাপ লাগছে। এরপর আমার একটু একটু ভালো লাগা মনে কাজ করছিল। অপু আরও বলেন, এরপর আমি শাকিবের বিষয়ে ঢাকায় নানাভাবে কিছু খোঁজখবর নিয়ে সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি অন্য হিরোর বিপরীতে কাজ করব। আমি তখন হিরো মান্না ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম শাকিবের সঙ্গে আমার ভালোবাসাটা এ পর্যন্তই থাক। বিয়ে পর্যন্ত গড়াক এটা চাইনি। রাজ্জাক আংকেলের একটা প্রোডাকশনেও কাজ করার জন্য কথা হলো। তখন আমি ভেবেছি, শাকিবের সঙ্গে ছবি না করলে তো শাকিব আমার কাছ থেকে এমনিতেই দূরে সরে যাবে। শাকিবকে তখন বলেছিলাম, যা হওয়ার হয়েছে। ভালো বন্ধুত্ব আছে, সেটাই থাক আমাদের। এরপর ঢাকায় এসে আবার কাজ শুরু করলাম। কিন্তু শাকিবের খুব কাছের প্রযোজক ও প্রোডাকশন ম্যানেজার মামুনুজ্জামান মামুন ভাই আমার বাসায় এসে প্রায়ই শাকিবের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসা করতেন। কখনও খাসির মাংস, মাছ, পোলাও বিভিন্ন কিছু নিয়ে আসতেন। তিনি এসে বলতেন, শাকিব আপনাকে কতটা পছন্দ করেন, তা আপনি জানেন না। ইন্ডিয়া থেকে আসার পর থেকে শুধুই আপনার কথা বলছে। এরপর আস্তে আস্তে আমি শাকিবের প্রতি দুর্বল হলাম। পরে বগুড়ায় সরকারি মুজিবর রহমান মহিলা কলেজে পড়া শেষ করলাম। আর ছবিতে কাজ কন্টিনিউ করা শুরু হলো আমার। ছবিও হিট করা শুরু করল। ঢাকায় একেবারে চলে আসলাম। ব্যস্ততা বাড়ল আমার।
সম্পর্ক ও বিয়ে
জাকির হোসেন রাজুর ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে আবারও শাকিব অপু এক হয়। এ ছবি করতে গিয়ে আবার ফোনে কথা বলা শুরু হয় শাকিব ও অপুর। সম্পর্ক সামনে এগুতো থাকলো। এরপর আবারও দ্বিতীয়বারের মতো শাকিবের প্রতি দুর্বলতা কাজ করা শুরু করলো অপু বিশ্বাসের। অপু বলেন, তখন শাকিব খান হ্যারিয়ার গাড়ি ব্যবহার করত। তখন আশুলিয়ার প্রিয়াঙ্কায় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির শুটিং চলছিল। একদিন গাড়িতে মামুন ভাই, শাকিব ও আমি ছিলাম। হঠাৎ শাকিব মামুন ভাইকে একটা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে আমার সঙ্গে গাড়িতে কথা বলা শুরু করল। ওই ছবির শুটিং চলা অবস্থাতেই শাকিব বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তখন মিরপুর শাহ আলী মাজার রোডের একটি বাসায় থাকতাম আমি। শাকিব আমাকে সেদিন বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি শাকিবকে বললাম, এটা সিনেমা না আমার জীবন। স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে যেসব মর্যাদা দেয়া উচিত সেগুলো আমি পাব কি-না সেটা জানতে চাই। তখন আমার সব কথা মেনে নিয়েছিল শাকিব। এরপর দুজনের সিদ্ধান্তে বিয়ে হয় আমাদের। ২০০৮ সালের ১৮ই এপ্রিল শুক্রবার বিয়ে হয় আমাদের। মামুন ফরিদপুরে শাকিবের বাড়ির কাছ থেকে মজিবুর রহমান নামের এক কাজী সাহেবকে নিয়ে আসে এবং আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পুরো বিষয়টি তখন কেবল আমার মেজ বোন লতা ও শাকিবের চাচাতো ভাই মনির জানতেন। এরপরের গল্পটা সবার জানা।
শাকিবের বাড়িতে অপু
বিয়ের পর শাকিবের বাসায় বেশিরভাগ সময় থাকতেন অপু বিশ্বাস। তবে অনেকটা লুকোচুরি করে থাকতে হয়েছে তাদের। তাই মাঝে মাঝে শুটিং শেষে অপু নিজের বাসায়ও চলে যেতেন। আবার কখনও গভীর রাতে শাকিবের গুলশানের দুইয়ের বাসায় উঠতেন এবং ভোরবেলা নিজের গুলশান নিকেতনের বাসায় গিয়ে রেডি হয়ে শুটিংয়ে বেরিয়ে পরতেন। অপু বলেন, বিয়ের পর গুলশান দুইয়ে শাকিবের বাসায় উঠলাম আমি। তবে দুজনেই শুটিং থাকার কারণে বেশ ব্যস্ততায় সংসার কাটে আমাদের। এরপর জানলাম, মনি নামে শাকিবের একটা ছোট বোন আছে। পরিবারের অজান্তে অন্য জায়গায় মনি বিয়ে করার কারণে শাকিব মনির সঙ্গে রাগ করে সাত বছর ধরে কথা বলতো না। পরে আমি শাকিবকে বুঝিয়ে মনিকে আমার বাসায় নিয়ে আসলাম। ভাইবোনকে এক করে দিয়েছি। যে কারণে শাকিবের বাসায় এখন মনি থাকেন। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সংসার করতে হয়েছে আমাকে। শাকিবের বাসায় আমার শ্বশুর (আব্দুর রব)-শাশুড়ি (রিজিয়া বেগম) থাকতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় শাকিবের পরিবার আমাকে কেনো পছন্দ করে না, সেটা আমি জানি না। এটা আমার কাছে খুবই কষ্টের। বিয়ের পর শাকিবের জন্য প্রথম রান্না কি ছিল জানতে চাইলে অপু বলেন, আমি শাকিবের জন্য বিয়ের পর প্রথম খিচুড়ি রান্না করেছিলাম। আমার হাতে ডেজার্ট আইটেম খেতে পছন্দ করে শাকিব। পোলাও, মম, ছানার মিষ্টি, বিরিয়ানি-এই ধরনের রিচ ফুড খেতে খুব পছন্দ করে শাকিব। এছাড়া প্রায়ই বগুড়া থেকে দই এনে শাকিবকে খাওয়াতাম। একবার শুটিং করতে ব্যাংককে গিয়ে শাকিব আমাকে ট্রিট দিলো। একটা জাপানিজ রেস্টুরেন্ট ছিল যেখানে খাবারগুলো ঘুরতো চারপাশে। আর নিজের পছন্দমত কাঁচা খাবার রান্না করে খাওয়া যেত। এভাবেই খাবারগুলো রাখা ছিল। ওখানের চিংড়ি টেম্পুরা আমাকে খাওয়াইছে শাকিব। এটা আমার খুব পছন্দের ছিল। ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’ ছবির শুটিংয়ে ব্যাংককে প্রথমে সিজলারে খাওয়ানোর পর ওই জাপানিজ রেস্তরাঁয় আমাকে খাওয়ায় শাকিব। এরপর যতবার আমাদের ব্যাংককে যাওয়া হয়েছে ততবার সেই রেস্তরাঁয় খাওয়া হয়েছে আমাদের। শুটিংয়ের বাইরে একবার ফুকেটের ফি ফি আইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়েছিলাম আমি ও শাকিব। শুটিংয়ের বাইরে দুজনের তেমন ছবি ওঠানো হতো না। এর কারণ জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বলেন, আমি জানি না। অনেকে শুনলে হইতো বিশ্বাস করবে না যে, আমাদের বিয়ের ছবিটিও ওঠানো হয়নি। আর যেখানে আমরা ঘুরতে যাইতাম শাকিব ছবি ওঠাতে পছন্দ করতো না। তবে ফুকেটের ফি ফি আইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে সবশেষ আমরা একটি ছবি তুলেছিলাম। তাছাড়া আমরা এত জায়গায় ঘুরেছি দুজনের তেমন কোনো ছবি নেই। পছন্দের মানুষকে উপহার দেয়ার বেলায় প্রথম ছিলেন অপু। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শাকিবকে পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাক পছন্দ করে কিনে দিতাম, অনেক পোশাক উপহারও দিয়েছি। আর শাকিবও আমাকে গলার হীরের মালাসহ বেশকিছু উপহার দিয়েছে।
শাকিব-অপুর সংসার
শাকিবের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিজে বন্ডে সাইন দেয়ার পর সিজার হয় অপুর। ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর শাকিব ও অপুর ঘরে ছেলে সন্তান আব্রাহাম খান জয় আসে। তারপরও শাকিব এ খবর অপুকে গোপন রাখতে বলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দুজনের ক্যারিয়ারের স্বার্থে সন্তান ও বিয়ের কথা গোপন রাখার কথা বলেছিল শাকিব। তবে আমি অনেকদিন লুকোচুরি সংসার করেছি। অপেক্ষাও করেছি অনেকবার। এরপর আর দেরি করতে চাইনি। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে টিভি লাইভে গিয়ে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি ক্লিয়ার করি। একটানা এই কথাগুলো বলেন অপু বিশ্বাস। বর্তমানে শাকিব বিভিন্ন সিনেমার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আর এবারের ঈদে অপু ও শাকিব অভিনীত একটি ছবি মুক্তি পাবে। বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত এ ছবির নাম ‘রাজনীতি’। এ ছবি মুক্তি পাবার পর আবারও নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অপু। আর শরীরের ওজন কমানোর জন্য বনানীর একটি ব্যায়ামাগারে নিয়মিত সময়ও দিচ্ছেন। তবে সকলের প্রত্যাশা শাকিব ও অপু আবারও এক ছাদের নিচে সংসার করবেন। সুখে থাকবেন। কারণ তাদের ঘরে এখন ফুটফুটে সন্তান আব্রাহাম খান জয়। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের জীবনে পেছনে ফেলা আসা বা সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সব জটিলতার অবসান হোক এটাই প্রত্যাশা সবার।
সূত্র- মানবজমিন ঈদ আনন্দ ২০১৭
Saturday, May 27, 2017
নায়িকা হতে গিয়ে... by কামরুজ্জামান মিলু

এসএসসি
পাস করেছি মাত্র। আমার ফিগার, দৈহিক গঠন, চেহারা ছিল আকর্ষণীয়। তাই স্কুলে
পড়ার সময়ই বন্ধু-বান্ধবীরা মডেলিং করার কথা বলতো। কেউ কেউ ডাকতো নায়িকা
বলে। এসব শুনে শুনে আমারও মনে একটু একটু করে স্বপ্ন জাগে। মডেল হবো। নায়িকা
হবো। কত ভক্ত আমার অটোগ্রাফ নিয়ে লাইন ধরবে। ইস্ আমি দেশজুড়ে পরিচিত হবো।
ভাবতে ভাবতে টাকা জমিয়ে একজন ফটোগ্রাফারের কাছে ফটোসেশন করি। এরপর তার
অনুপ্রেরণায় বেশকিছু ম্যাগাজিনে আমার ছবি প্রকাশ হয়। কিন্তু বাসায় বাধা
দিতে শুরু করেন মা। এক পর্যায়ে বাবাও রেগে যান। আমার বাবা একজন ব্যাংকার।
পরিবারের একমাত্র মেয়ে আমি। কথাগুলো বলছিলেন ছদ্ম নামধারী মায়া। আসল নাম
বলতে রাজি নন তিনি। ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়িকা হতে এসেছিলেন। প্রথমে মডেল
এরপর নায়িকা হওয়ার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। মিডিয়াতে তার যাত্রা
শুরু ২০০০ সালে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে মডেল হওয়ার সুবাধে বেশকিছু বন্ধুও
তৈরি হয় তার। তিনি বলেন, তারা আমাকে একজন চলচ্চিত্র প্রযোজকের কাছে যেতে
বলেন। সেই প্রযোজক হোটেল সোনারগাঁও ছাড়া দেখা করবেন না বলে জানান। সেখানে
যেতে মনে ভয় কাজ করে। তবুও যাই। বাসা থেকে কাউকে না বলে আমি ওই প্রযোজকের
সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে দেখার পর পছন্দ করে সাইনিং মানি হিসেবে বিশ
হাজার টাকা দেন এবং পরের সপ্তাহে লোকেশন দেখার জন্য কক্সবাজারে যেতে বলেন।
আমি তখন এইচএসসি ফাইনাল পরীক্ষাও দিয়েছি। জীবনে কেউ প্রথম এভাবে এত টাকা
আমার হাতে দিলো। বুঝছিলাম না কি করব। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, এরপর
মাকে এক বান্ধবীর বাসায় যাবো বলে ওই প্রযোজকের সঙ্গে আমার এক বান্ধবীসহ
বেরিয়ে যাই। বান্ধবী সঙ্গে যাবে বলে মনে তেমন ভয় কাজ করেনি। তবে কক্সবাজারে
যাওয়ার পর ওই বান্ধবীকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেন প্রযোজকের এক বন্ধু।
সেই রাতের কথা আমি ভুলবো না। আমাকে খাবারের মধ্যে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো
হয়েছিল। আমি বুঝতে পারিনি সেদিন। জোরপূর্বক আমার সঙ্গে কি কি করা হয়েছে তা
আর মুখে বলতে চাই না। তারপরও ছবিতে কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। মনে জেদ জন্ম
নিয়েছিল। তবে শেষমেশ জানতে পারেন সেই প্রযোজক দেশের বাইরে চলে গেছেন। আরো
খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, উনি মূলত কোনো ছবির প্রযোজক না। এতকিছুর পরও
নায়িকা হওয়ার নেশাটা তার মধ্যে ঠিকই ছিল। মায়া বলেন, এতকিছুর পর আরো একবার
এক ছবির প্রযোজককে বিশ্বাস করেছিলাম। তিনিও ছবিতে নেবেন বলে আশ্বাস
দিয়েছিলেন। তবে সেই ছবিতে আমাকে ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করতে বলেন। আমি
কাজটা দুদিন করে চলে এসেছিলাম। কারণ বুঝতে পারছিলাম যে, আমাকে ঠকানো হচ্ছে।
নায়িকা হওয়ার জন্য কতকিছুই না করেছি। তারপরও ছবির নায়িকা আর আমার হওয়া
হয়নি। এখন আমি বিবাহিতা। আমার ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। আমি তাদের নিয়ে সুখেই
আছি। আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। মডেল বা সিনেমার নায়িকা যারা হতে চান
তাদের জন্য মায়ার পরামর্শ- এখানে অনেক ধরনের মানুষ আছে। না জেনে না বুঝে
পরিবারকে না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। যেমন এখন আমার কাছের
কোনো বন্ধু-বান্ধব নেই। আমার সঙ্গে আমার পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। নায়িকা
হতে গিয়ে আজ সব থেকেও আমি একাকী। মায়ার মতো গল্প না হলেও ঠিক নায়িকা হওয়ার
জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা লোপা। তিনি বলেন,
মূলত একটি নাচের স্কুলে নাচ শেখার জন্য যেতাম। স্বপন নামে একজন
কোরিওগ্রাফার আমাকে মডেল বানানোর প্রস্তাব দেন। এরপর আমি টাকা জমিয়ে এক
মডেল ফটোগ্রাফারের কাছে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ফটোসেশন করি। তারপরও সেই ফ্যাশন
কোরিওগ্রাফার আমাকে ভালো কোনো কাজে ডাকতেন না। ডিজে পার্টি, মহানগর
নাট্যমঞ্চের শোতে ডাক দিতেন। সেখানে নাচের পাশাপাশি বিভিন্ন র্যাম্প শোতে
কাজ করে ১২০০-১৫০০ টাকা পেতাম। একটা সময় নায়িকা হওয়ার জন্য মন টানতো। কারণ
আমাদের সঙ্গে অনেক নামিদামি মডেলরাও নাচ শিখতেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন
চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে কাজও করেছেন। লোপার মনে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন।
পরিবারে মাও চাইতেন মেয়ে নায়িকা হোক। অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ে লোপা
একদিন বনানীর এক ডিজে পার্টিতে যান। লোপা বলেন, ২০০৭ সালের কথা। তখন ফ্যাশন
শো’র পাশাপাশি ডিজে শো প্রচুর ছিল। আর এসব পার্টিতে যাবার জন্য বাসায়
মিথ্যা কথা বলে বের হতাম। সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষরাও ডিজে অনুষ্ঠানগুলোতে
আসতেন। বনানীতে সেরকম একটি অনুষ্ঠানে দেখা হলো একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের
সঙ্গে। তিনি আমাকে নায়িকা বানাবেন বলে ওয়াদা দিলেন। বাসায় যাবার জন্য বার
বার অনুরোধ করলেন। এক পর্যায়ে আমি রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু ওনার বাসায় গিয়ে
দেখি বাসায় কেউ নেই। তিনি একা থাকেন। তিনি বললেন, আজ এখানে থাকো। আগামীকাল
ছবির প্রযোজক তোমার সঙ্গে এসে কথা বলবেন। কিন্তু আমি ভয়ে পালিয়ে এসেছি।
কারণ বাসার মধ্যে মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ অস্ত্রও আমি দেখেছি। অবশ্য চলচ্চিত্রে
কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। ১০টির মতো ছবিতে কাজও করেছি। নাটকেও অভিনয়
করেছি। তবে প্রধান চরিত্রে আমাকে কেউই নেয়নি। বারবার পরিচালক-প্রযোজকরা
প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথার বরখেলাপ করেছেন। এরমাঝে আমার চোখের সামনে অনেকে
নায়িকা হয়েছেন। আমাকেও অনেক নায়ক ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমিও নিজের
অজান্তে তাদের মিষ্টি কথায় গলে গেছি। কিন্তু আমি আজও চলচ্চিত্রের এক্সট্রা
শিল্পী হিসেবেই পরিচিত। এখন আর তেমন এফডিসিতে যাই না। একটা বিয়েও হয়েছিল
আমার। সেটাও টিকেনি। চলচ্চিত্রে থেকে অনেক কিছু হারিয়েছি। যেটুকু পেয়েছি
সেটা আর বলার মতো না। তবে দোষটা আমারই। পরিবারের কথা না শুনে সেই
যাত্রাবাড়ী থেকে এসে এফডিসিতে সারাদিন পড়ে থাকতাম। এখন এলাকায় ছোট্ট একটা
বেকারির দোকান আছে আমার। সেখানে আমার ছেলে বসে। আমিও মাঝে মাঝে বসি। এই তো।
শোবিজে মেয়েরা কাজ করা মানে তাদের সমাজে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। তাও আবার
চলচ্চিত্রের নায়িকা। টিভি বা বড়পর্দায় তারকাদের দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই
নায়িকা হওয়ার বাসনা মনে জন্ম নিতে থাকে অনেকের। অনেক বন্ধু, বান্ধবীরাও
বলতে শুরু করে তোর চেহারা বলিউডের অমুক নায়িকার মতো। আত্মীয়স্বজনরাও বলা
শুরু করে শোবিজে বুঝে না বুঝে অনেকে পা দেন। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে কাজ করে
কেউ নাম কামান আর কেউ ভবিষ্যৎ জীবনটা অন্ধকারে ঠেলে দেন।
Saturday, October 12, 2013
যে কারণে গ্রেফতার হলেন রুমি by কামরুজ্জামান মিলু
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আরফিন রুমি শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রুমির
প্রথম স্ত্রী লামিয়া ইমলাম অনন্যা তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার
পর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এর নিজ বাসা থেকে
Wednesday, October 9, 2013
অসম্ভবকে সম্ভবের পথে নি:স্বার্থ ভালোবাসা by কামরুজ্জামান মিলু
অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ। এটা শুধু বিজ্ঞাপনের সংলাপই নয় এবার
অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে অনন্তর ছবি `নি:স্বার্থ ভালোবাসা`।
Friday, September 27, 2013
দেশ ছাড়লেও গান ছাড়ছি না: নাওমি by কামরুজ্জামান মিলু
শুনলাম গান ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। আরে না না.. কে বলল, এসব কথা।
আমি দেশ ছেড়ে গেলেও গান ছেড়ে যাচ্ছি না।
"& still even today I hear the mournful tune of the Sanai"Say,Valiant,High is my head!I am the rebel,the rebel son of mother-earth!Ever-high is my head.O travellers on the road of destruction,Hold fast Ur hammer,pick up Ur shovel,Sing in unison & advance.We created in the joy of our arms.We shall now destory at the pleasure of our feet.‘O Lord,For eight years have I lived & never did I say my prayers & yet,did U ever refuse me my meals for thet?Ur mosques & temples are not meant for men,Men heve no right in them.The mollahs & the Priests Heve closed their doors under locks & keys.’Comrades, Hammer away at the closed doors Of those mosques & temples,& hit with Ur shovel mightily.For,climbing on their minarets,The cheats are today glorifying Selfishness & hypocrisy.& creatr a new universe of joy & peace.Weary of struggles,I,the great rebel,Shall rest in quiet only when I find The sky & the air free of the piteous groans of the oppressef.Only when the dattlefields are cleared of jingling bloody sabres Shall I,weary of struggles,rest in quiet,I,the great rebel.I am the rebel-eternal,I raise my head beyond this world,High,ever-erect & alone!
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1801)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
কালবেলা
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
মুসলিম
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইউরোপ
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
সৌদি আরব
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
ইউক্রেন
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
স্বাস্থ্য
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
লেবানন
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জীবনযাপন
শিল্প
কুমিল্লা
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
Exclusive
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
চিকিৎসা
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
ইয়েমেন
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
জলবায়ু ও পরিবেশ
তুহিন ওয়াদুদ
উত্তর কোরিয়া
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
কালি ও কলম
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
নিবন্ধ
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
জনস্বাস্থ্য
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কাতার
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আরব আমিরাত বা দুবাই
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
লিবিয়া
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
ইসলাম
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
জোহরান মামদানি
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জলবায়ু পরিবর্তন
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
কিশোর আলো
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
সোমালিয়া
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট