Sunday, May 10, 2015

মায়ের হাতটি যখন থাকবে না... by মানসুরা হোসাইন

মা দেলেরা বেগম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ের পোশাক ঠিক করে দিচ্ছেন।
মোহাম্মদপুরের পুেরােনা থানা রোড সিগন্যাল থেকে তোলা ছবি
‘আমি আমার এক চোখ দিতে চাইছিলাম মেয়েরে। ভাবছিলাম আমার এক চোখ দিয়া মেয়ে দেখব। কিন্তু কেউ নিল না। ডাক্তাররা জানাই দিছে মেয়ের চোখ আর ভালা হবে না। এখন মেয়েরে ছাইড়া এক মিনিটও দূরে থাকি না। আমি যত দিন বাইচ্যা আছি আমার মেয়ের শরীর তো দূরের কথা একটা পশমেও কেউ হাত দিবার পারব না।’
কথাগুলো বলছিলেন দেলেরা বেগম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পুেরােনা থানা রোড সিগন্যালে দেলেরা বেগম এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে কল্পনার সংসার। রবি ও সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলো কাটে এই সিগন্যালে। সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিগন্যালের পাশেই ফুটপাতে দিনের খাওয়া, ঘুম সবই চলে। বৃষ্টি-বাদলার দিনে পাশের মার্কেটে আশ্রয় নেন তাঁরা। বাথরুমও সারেন সেখানেই।
গতকাল শনিবার বিকেলে কথা হয় দেলেরা বেগম ও কল্পনার সঙ্গে। কল্পনা দুই চোখে কিছুই দেখতে পান না। তিন বছর বয়সে কল্পনার টাইফয়েড হয়। চিকিৎসার পেছনে শুধু টাকা খরচই হয়েছে, লাভ হয়নি। তারপর মা দেলেরাই কল্পনার একমাত্র আশ্রয়। মায়ের হাতটি ধরেই কাটিয়ে দিলেন ১৮ বছর।
মায়ের হাতটি যখন থাকবে না তখন কী হবে? এই প্রশ্নে মায়ের মুখ অন্ধকার। কেননা, এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে অজানা। শুধু জানেন, এই মেয়ের জন্য সৃষ্টিকর্তাই ভরসা। এরপর যদি কেউ থাকে তা তাঁর ছোট মেয়ে। ছোট মেয়েই হয়তো এই মেয়ের দিকে হাত বাড়াবে। কিন্তু তা-ও অনিশ্চিত।
কল্পনার গায়ে জামা পরিয়ে দেওয়া, গোসল করানো, ভাত মুখে তুলে দেওয়া, টয়লেটে গেলে পানি ঢেলে দেওয়া, মাসিকের সময় পরিষ্কার করে দেওয়া, সবই করতে হয় দেলেরাকে। তিনি এসব কাজই করেন হাসিমুখে। তাঁর ভাষায় বিরক্ত হয়েই বা কী হবে?
চোখে সমস্যা হওয়ার পর থেকে কল্পনা অন্য দশটি মেয়ের মতো বেড়ে ওঠেননি। তাঁর কল্পজগতে কখন কী চলে তা মা-ও অনেক সময় বুঝতে পারেন না। রেগে গেলে মাকে গালি দেওয়া, আঘাত করা সবই করেন। মা সবকিছু সহ্য করেন মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে। বয়স অনুযায়ী বুদ্ধির দিক থেকেও কল্পনা খানিকটা পিছিয়ে আছেন।
দেলেরা বেগমের বাড়ি নওগাঁয়। ঢাকায় আছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে চোখে দেখতে পায়। দেখতেও সুন্দর। তাকে কিছু পড়াশোনাও করিয়েছেন দেলেরা। ছোট মেয়ের যখন ছয় মাস বয়স তখন দেলেরার স্বামী আরেক বিয়ে করে তাঁদের ছেড়ে চলে যান। স্বামী মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর কোনো সম্পর্ক ছিল না। দেলেরা একাই দুই মেয়েকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন এতগুলো বছর। একসময় পোশাকশিল্প কারখানায় কাজ করেছেন দেলেরা। সেখান থেকে টাকা জমিয়ে গ্রামে দেড় কাঠা জমি কিনে একটি ঘর তুলেছেন। খেয়ে না-খেয়ে টাকা জমিয়েছেন ছোট মেয়ের বিয়ের জন্য। ৫০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বছর আগে ছোট মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
বড় মেয়ে কল্পনার বিয়ের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন। স্বাভাবিক সুরেই বললেন, ‘ওর তো বিয়া হবে না। কে বিয়া করব? আমার একটি ঘর আছে। তা বড় মেয়ের নামেই কিনছি। এই ঘরের লোভে কেউ বিয়া করল, কিন্তু তারপর যদি আমার মেয়েরে আর না দেখে? আমার তো আর কেউ দেখার নাই।’
দেলেরা জানালেন, এত বড় মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করতে ভালো লাগে না। মেয়েও আর মানুষের কাছে হাত পাততে চান না। দুই-পাঁচ টাকা পেতে দুই-তিন সিগন্যাল পার করতে হয়। আবার কোনো কোনো দিন এক শ বা দেড় শ টাকাও মেলে। এই টাকা দিয়েই কল্যাণপুরে একটি ঘরের জন্য দুই হাজার টাকা ভাড়া দেন দেলেরা। মা ও মেয়ে মাংস খেয়েছিলেন গত কোরবানির ঈদে। বড় মাছ কবে খেয়েছিলেন মনে নেই। গতকাল দুপুরে মা ও মেয়ে ভাত খেয়েছেন শুধু আলুভর্তা দিয়ে। মেয়েকে সারাক্ষণ আগলে রাখতে হয় বলে এখন আর ভিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো কাজও করতে পারেন না।
৪৫ বছর বয়সী দেলেরা বলেন, ‘খাই আর না-খাই ঘরভাড়া জমা করি না। ঘরে থেকে বাইর কইরা দিলে মেয়েরে নিয়া কই দাঁড়ামু?’
মেয়ের জন্য কী চান জানতে চাইলে দেলেরা বলেন, ‘আমি আমার কথা ভাবি না। ভিক্ষা না কইরা ঘরে বইসাই যদি মেয়ের তিনবেলা খাবার জোগাড় হইত। মেয়েরে নিয়া যদি আর পথে পথে ভিক্ষা করতে না হইত। সিগন্যালে সবাই দুই-এক টাকা কইরা দিলেই কিছু টাকা জমাইতে পারতাম। কিন্তু সবাই দেয় না। তখন খুব খারাপ লাগে।’
মুখে এক টুকরো কষ্টের হাসি এনে দেলেরা বললেন, ‘আমার মনে হয়, আমি মইরা গেলে আমার এই মেয়েও বেশি দিন বাঁচব না। খুব বেশি হইলে এক-দেড় বছর বাঁচব। তারপর মইরা যাইব।’

ছাত্রলীগের দখলে মঞ্চ

সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক আগ্রহে জেলা পরিষদ নির্মাণ করেছিল ‘মুক্ত প্রাঙ্গণ’। নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় কবি নজরুল অডিটরিয়াম (মিলনায়তন) লাগোয়া মঞ্চটি গত ৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর থেকেই এটি সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা থাকলেও পরদিন থেকে মুক্তমঞ্চটির দখল নিয়েছে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। বিষয়টি মুক্ত প্রাঙ্গণ ও মিলনায়তন বরাদ্দ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও সংস্কৃতিকর্মীরা কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
সিলেটের আটটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় ২০ জন কর্মী বলেন, শুধু মুক্ত প্রাঙ্গণের দখলই নয়, মিলনায়তনেও সাংস্কৃতিক কোনো অনুষ্ঠান করতে চাইলে ছাত্রলীগ কর্মীদের চাঁদা দিতে হয়। চাহিদামতো চাঁদা দিতে না পারলে ছাত্রলীগ কর্মীরা মিলনায়তনে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেন, গাড়ি পার্কিং করতে দেন না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তন এবং মুক্ত প্রাঙ্গণ দুই স্থানের কোনোটিতে অনুষ্ঠান করতে হলে সংস্কৃতিকর্মী কিংবা সংগঠনকে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পরিশোধ করে অনুমোদন আনতে হয়। সম্প্রতি মুক্ত প্রাঙ্গণটি নতুনভাবে নির্মাণের পাশাপাশি মিলনায়তনটি পুনঃসংস্কার করা হয়। উদ্বোধনের পর গত এক মাসে প্রায় ১০টি সংগঠন সেখানে অনুষ্ঠান করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নাট্যকর্মী জানান, টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আসা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে। এর পরও অকারণে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংস্কৃতিকর্মীদের কটূক্তি এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করেছে।
সর্বশেষ ১ থেকে ৩ মে নবশিখা নাট্যদলের আয়োজনে শিহাব শাহীন পরিচালিত ছুঁয়ে দিলে মন চলচ্চিত্রের তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনী চলাকালে ছাত্রলীগ কর্মীরা মুক্ত প্রাঙ্গণের সামনে কয়েকটি বেঞ্চ পেতে সেখানে গাঁজার আড্ডা বসান। এ সময় তাঁরা দর্শনার্থীদের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেন এবং মুক্ত প্রাঙ্গণ চত্বরে গাড়ি পার্কিংয়ে বাধা দেন। প্রদর্শনীটি সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে আয়োজকেরা ছাত্রলীগ কর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের হাতে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন।
নবশিখা নাট্যদলের একজন সংগঠক অভিযোগ করেন, মুক্ত প্রাঙ্গণের সামনে আড্ডাবাজ ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুবায়ের আহমদ ওরফে সুহেল অন্যতম। তাঁর হাতেই তিনি নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সুবায়ের আহমদের মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি মুঠোফোন ধরেননি।
৪, ৫ ও ৬ মে সন্ধ্যায় সরেজমিনে মুক্ত প্রাঙ্গণের চত্বরে তিনটি বেঞ্চ পেতে অন্তত ১৫-২০ জন যুবককে আড্ডা দিতে দেখা গেল। সন্ধ্যার পর সংস্কৃতিকর্মী কিংবা সাধারণ পথচারী কেউ মুক্ত প্রাঙ্গণের সীমানার ভেতরে ঢুকলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাঁদের লাঞ্ছিত করছেন। এসব কর্মীর প্রায় সবাই ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ আহমদের অনুসারী বলে স্থানীয়দের কয়েকজন নিশ্চিত করেছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে পারভেজ আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য একটি ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ স্থানে এসে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ এবং সংস্কৃতিকর্মীরা আড্ডা দেন। আমরাও মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে সবার মতোই আড্ডা দিই, চা পান করি। এর বাইরে অন্যসব অভিযোগের তথ্য সঠিক নয়।’ তবে পারভেজ ছাত্রলীগের বর্তমান জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য নন জানিয়ে বলেন, ‘আগামী কমিটিতে আমি পদপ্রত্যাশী।’
ছাত্রলীগ কর্মীদের উপদ্রবের কথা উল্লেখ করে গত ২৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানটি সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডার জন্য, এটি বহিরাগতদের আড্ডা দেওয়ার জন্য নির্মিত হয়নি। অভিযোগটি মহানগর পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পুলিশ প্রশাসনই বহিরাগতদের ঠেকাতে উদ্যোগ নেবে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগটি এখনো হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গরুর মাংস ৪০০ ছুঁই ছুঁই! by মোছাব্বের হোসেন

রাজধানীতে এখন এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৪০০ ছুঁই ছুঁই। ভারতীয় গরু না আসার অজুহাত দেখিয়ে মাংসের দাম বাড়িয়েই চলেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের সঠিক তদারকি না থাকার কারণে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। মাংস ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এভাবে চললে আসছে রোজাতে আরও বাড়বে দাম।
প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক রাজধানীর হাতিরপুল বাজার, কারওয়ান বাজার ও মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায়। প্রতি কেজিতে অন্তত ২৫০ গ্রাম হাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানে হাড় ছাড়া মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। এই বাজারে মাংস কিনতে এসেছেন চিকিৎসক শোয়েব তারিক। তিনি জানান, গত সপ্তাহেও ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কিনেছেন। এখন কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে গেছে। হাতিরপুল বাজারের মাংস বিক্রেতা মজনু মিয়া বললেন, ‘কী আর কমু কন? ভারত থাইক্যা তো গরু আহে না। দেশি গরু, বেশি দামে কিনতে হয়। হের লাইগ্যা দামও বেশি।’
তবে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায়। পূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল মাবুদ মাংস কিনতে এসে বলেন, ‘যেভাবে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে, খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া আর উপায় দেখি না।’ এই বাজারের মাংস বিক্রেতা আবদুর রহমানও অন্য বিক্রেতাদের মতো ভারতীয় গরু না আসার অজুহাত দেখালেন। তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে গরু আসে না। আগে যা-ও আইতো, অখন তো এক্কেবারেই বন্ধ। বর্ডার না খুললে গরুর দাম কইমতো না।’ তবে রাজধানীর মিরপুরের বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম কিছুটা কম। মিরপুর ১০ নম্বরসংলগ্ন এলাকার একটি বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। সকালে কথা হয় এই এলাকার মাংস বিক্রেতা বিপ্লবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় ৩৬০ টেহা দাম। বাজারে গরু নাই, গরু কম। এর লাইগ্যা বেচাকেনা কইম্যা গেছে। আমার তো বেশি বেশি কাস্টমার দরকার। অখন বেশি দামের লাইগ্যা একটা গরু বেচি। একটা বেচলে লাভ নাই। দুইটা বেচলে লাভ।’ বাজারগুলোতে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শবে বরাতে আরও দাম বাড়তে পারে। ওই সময় মাংসের চাহিদাও বেশি থাকবে। অনেকে বলেছেন শবে বরাতে গরুর মাংস ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলমও স্বীকার করলেন রাজধানীর অনেক বাজারে গরুর মাংস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, খিলগাঁও, কাঁঠালবাগান বাজার, ধূপখোলা ও ট্যানারি মোড় এলাকায় গরুর মাংস ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
রবিউল আলম বলেন, ‘ভারত যেহেতু গরু দেবে না, তাই সরকারের কাছে আবেদন করেছি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। বিকল্প হিসেবে পার্শ্ববর্তী অন্য দেশ থেকে গরু-মহিষ আমদানি করা যায় কি না, সরকারকে তা ভেবে দেখতে হবে।’ তিনি জানান, গত তিন মাসে দেশের নিজস্ব গরু বাজারে মাংসের চাহিদা মিটিয়েছে। এখন তা শেষের দিকে। সামনে রমজান মাসে গরুর মাংসের দাম আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, ‘আমরা শুধু রোজার মাসে বাজার তদারকি করি। অন্য সময় করি না।’

থাইল্যান্ডের জঙ্গলে দুদিনে ১২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

থাইল্যান্ডের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের
কয়েকজন। এদের শংখলা প্রদেশের রাত্তাফুম জেলা
কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। গতকালের ছবি l রয়টার্স
থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশে একটি পাহাড়সংলগ্ন জঙ্গল থেকে গতকাল শনিবার ৩২ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার একই প্রদেশের জঙ্গলে মানব পাচারকারীদের ঘাঁটি থেকে ১১৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়, যাঁদের মধ্যে ৯১ জনই বাংলাদেশি। এ নিয়ে গত দুই দিনে দেশটির মালয়েশিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে মোট ১২৩ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। খবর ব্যাংকক পোস্ট, এএফপি ও রয়টার্সের।
ব্যাংকক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল খাও কায়েউ পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে ৩২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তাঁদের ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত দেখাচ্ছিল। সবাইকে উদ্ধার করে স্থানীয় বান খলোং স্কুলে নেওয়া হয়। সেখানে খাওয়া ও বিশ্রামের পর তাঁদের স্থানীয় রাত্তাফুম জেলা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়। ওই শরণার্থী শিবিরে গত শুক্রবার উদ্ধার হওয়া ১১৭ অভিবাসীকে রাখা হয়েছে।
শংখলা প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর একারাত সিসেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ২৬ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম। বাকি ৯১ জন বাংলাদেশি। তবে আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল পুথিচার্ট একাচান্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার মোট ১৯৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জন রোহিঙ্গা ও ৫৮ জন বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘আমরা জানার চেষ্টা করছি, এঁরা স্বেচ্ছায় থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন, নাকি পাচারকারীদের শিকার হয়েছেন। পাচারকারীদের শিকার হলে তাঁদের সমাজ উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর নিজের ইচ্ছায় অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করে থাকলে অভিবাসন পুলিশের কাছে পাঠানো হবে। অভিবাসন পুলিশ তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার উদ্ধারের পর অভিবাসীদের রাত্তাফুম জেলা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি শরণার্থী শিবিরে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অভিবাসী উদ্ধারের খবরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের জন্য পানি, ফলমূল ও বিভিন্ন খাবার নিয়ে আসেন। গতকাল সেখানেই অভিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ওই অভিবাসীদের মধ্যে আছে বাংলাদেশ থেকে আসা ১৩ বছর বয়সী বালক বুসরি সালাম। সে জানায়, একদল মানুষ নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডে ঢোকে। দুই সপ্তাহ ধরে জঙ্গলে থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছিল তারা। সালাম বলে, ‘আমার ভাই মালয়েশিয়ায় আছে। আমিও সেখানে যেতে চাই।’
থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পুলিশের মুখপাত্র প্রায়ুত থাভর্নসিরি এএফপিকে জানান, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ৩৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে থাই পুলিশের অভিযানে শংখলা প্রদেশের জঙ্গলে অন্তত ছয়টি ঘাঁটি ও সেখানকার কবর থেকে ৩২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। খোঁজ পাওয়া যায় কয়েকটি কঙ্কালের। পাওয়া যায় বেশ কিছু কবরও। এরপর পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় জীবিত এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হলো।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত শুক্রবার একটি প্রতিবেদনে মানব পাচারের চিত্র তুলে ধরে। ওই দিনই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, বঙ্গোপসাগর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচারের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনিয়মিত সমুদ্রপথে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়া পৌঁছানোর আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছে হাজারো মানুষ।
সমন্বিত নেতৃত্বের অভাব: দক্ষিণ থাইল্যান্ডে জঙ্গল থেকে বেশ কিছু অভিবাসীর কঙ্কাল আবিষ্কারের ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, মানব পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে সমন্বিত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের (এপিএইচআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে আসিয়ান নেতাদের ভূমিকা সম্পর্কে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের সদস্য ও এপিএইচআরের চেয়ারপারসন চার্লস সান্তিয়াগো বলেছেন, ঘটনা হলো, আসিয়ান নেতারা এই সংকট উপেক্ষা করছেন। এটি তিরস্কারযোগ্য।
গতকাল শনিবার এপিএইচআরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থাইল্যান্ডে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা এও প্রমাণ করে, রোহিঙ্গারা দলে দলে দেশ ত্যাগ করছে। বিষয়টি উদ্বেগের। এটি শুধু মিয়ানমারের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নয়। আরও বলা হয়, সহিংসতার শিকার হয়ে অন্য দেশে আশ্রয়প্রার্থী কিংবা হতদরিদ্র অভিবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা অবশ্যই আঞ্চলিক সরকারগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে।

মা–জননীর সুখ–দুঃখ by উম্মে মুসলিমা

আজ বিশ্ব মা দিবস। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। উইকিপিডিয়া অনুসারে মা দিবসের তাৎপর্যের মূলে আছে তিনটি বিষয় ১. সকল মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ২. সকল মাতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ৩. সমাজে মায়ের প্রভাবের প্রতিফলন। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’
শিল্প-সাহিত্যে সবচেয়ে বড় জায়গাটি দখল করে আছেন মা। মাক্সিম গোর্কির মা দিয়ে আমরা আমাদের মায়ের স্বরূপ উদ্ঘাটনে উৎসাহী হয়েছি। মাকে নিয়ে শিশু ভোলানাথের অসাধারণ কবিতাগুলো যেন এখনো আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে মায়ের গন্ধকেও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে তোলে। এমন যে পৃথিবীবিখ্যাত ‘মোনালিসা’, তাকেও গবেষকেরা সন্তানবতী করে তুলেছেন। তার মানে গবেষকেরা স্বীকার করেছেন, মাতৃরূপেই নারীর সৌন্দর্য পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংস্কৃতিতে ‘পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা’ বলে যে কথা প্রচলিত ছিল, তা এখনো আমাদের অনেক স্বামীর মনেই বদ্ধমূল। শুধু স্বামীই নন, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, দেবর, ভাশুরও চান তাঁদের বাড়ির বউটার কোলজুড়ে যেন সন্তান আসে অচিরেই। ছেলেসন্তান হলে তো কথাই নেই। কিন্তু সন্তান চাই। তা না হলে বাঁজা নাম নিয়ে বউটা হয় সবার মুখ ঝামটা সহ্য করেন, নাহয় সতিনের সঙ্গে মন-কষাকষি করে সারা জীবন কাটিয়ে দেন। কেউ তালাক পান। দুঃখে-লজ্জায় কেউ আত্মঘাতী হন। এ চিত্র গ্রামাঞ্চলেই বেশি। শহরাঞ্চলের পুরুষেরাও অনেকেই এ রকম মানসিকতা লালন করেন। এখনো সন্তান জন্ম দিতে না পারার জন্য নারীকেই এক শ ভাগ দায়ী করা হয়। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সন্তান জন্মদানের বাধাসমূহের সঠিক চিকিৎসা হলে সব নারীই কমবেশি সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। রূপকথায় অনেক গল্পের শুরুই এভাবে—‘এক ছিল রাজা। তার ছিল ছয় রানি। কিন্তু রাজার মনে খুব দুঃখ। কারণ রাজার কোনো সন্তান ছিল না।’ তখন কারও মনে এ আশঙ্কা উদয় হতো না যে রাজাই আসলে নপুংসক। তাই একের পর এক রাজা বিয়ে করতেন। যত দোষ সব রানিদের। পরে সপ্তমবার গরিবের এক মেয়েকে বিয়ে করে স্বপ্নে পাওয়া বা কামেল কবিরাজের কাছ থেকে পাওয়া এক দুষ্প্রাপ্য গাছের শিকড় খাইয়ে ছোট রানির গর্ভে সন্তান আসত। রাজার আঁটকুড়ে নাম ঘুচত।
ফাহিমা রহমান (ছদ্মনাম) এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী। নিঃসন্তান। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ, অনেক টেস্ট-ডায়াগনসিস, অনেক ওষুধ-পথ্যের পরও দীর্ঘ ১৫ বছরের বিবাহিত জীবনে সন্তানের মা হতে পারেননি। তবে স্বামী খুবই সহানুভূতিশীল। আত্মীয়স্বজনের চাপেও দ্বিতীয় বিয়ের কথা চিন্তা করেননি। বাসায় কোনো আত্মীয় তাঁদের ছোট বাচ্চা নিয়ে বেড়াতে এলে ফাহিমা যেন ছোঁ মেরে বাচ্চাকে নিয়ে খাওয়ানো, গোসল করানো, ঘুম পাড়ানো, ডায়াপার পাল্টানো—সব নিজের হাতে করতে মহা তৎপর হয়ে পড়তেন। পাশের বাসার এক কর্মজীবী নারী প্রতিবেশীর সন্তান হওয়ার পর চাকরি করতে পারবেন কি না সংশয় দেখা দিলে ফাহিমা নিজে থেকেই তাঁর বাচ্চার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রায় তিন বছর বাচ্চাটাকে নিজের সন্তানের মতো আদরে-সোহাগে মানুষ করেছিলেন। বাচ্চাটা নিজের মাকে ডাকত আম্মু আর ফাহিমাকে ডাকত মাম্মু। প্রতিবেশী নারী যেদিন বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলেন, সেদিন ফাহিমার অবস্থা দেখে অনেকেই চোখের জল ফেলেছিলেন। ফাহিমা বেশ কিছুদিন নাওয়া-খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। বাচ্চাও জিদ ধরলে তার মা-বাবা মাসে-দুই মাসে একবার করে তাঁর বাচ্চাকে ফাহিমার কাছে নিয়ে আসতেন। তারপর আস্তে আস্তে সময়ে সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল। টাইম ইজ দ্য বেস্ট হিলার।
অন্যদিকে একজন সাংবাদিকের স্ত্রীর বিয়ের চার বছরের মাথায় গর্ভধারণের পর গর্ভপাত হয়ে গেলে পরে তিনি আর গর্ভধারণ করতে পারেননি। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই খুব বাচ্চার শখ। ওরা এতিমখানা থেকে মা মরা এক সদ্যোজাত মেয়েশিশুকে এনে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করছেন। এতিম সন্তানটি পরম আদরে মা-বাবার স্নেহের ছায়ায় বড় হচ্ছে। অথচ সুরাইয়া (ছদ্মনাম) ২০ বছর ধরে হাপিত্যেশ করছেন একটা সন্তানের জন্য। লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন চিকিৎসায়। দুবার টেস্টটিউব বেবি নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। ইদানীং নাকি এক পীরের কাছে যাওয়া শুরু করেছেন। তাঁর স্বামী চিকিৎসা করিয়েছেন কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘না, না ওর কোনো অসুবিধা নেই। ওদের বংশের কেউ এ রকম নেই। বরং আমারই এক খালা ছিলেন নিঃসন্তান। দোষটা আমারই। পুরুষ মানুষের দোষ দিয়ে কী লাভ!’
সন্তান না হলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চিকিৎসা আবশ্যক। এখনো আমাদের দেশে কোনো পুরুষকে সন্তান জন্ম না দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয় না। পুরুষেরা তা মানেনও না। তাই নিঃসন্তান নারীরা বোন, বান্ধবী, খালা, ফুফু, ভাবিদের নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। যেন ধরেই নেন ত্রুটি তাঁদেরই। অনেক স্বামী পৌরুষ হারানোর ভয়ে যান না, অনেকে উল্টো এসব অনুরোধের জন্য স্ত্রীকে পীড়ন করেন। অনেকে ভাবেন বেশ তো, দ্বিতীয় বিয়ের একটা মওকা পাওয়া গেল।
কোনো কারণে সন্তান না হলে এত হাপিত্যেশের কী আছে? ‘মাতৃত্বেই নারীর পূর্ণতা’—এ একটা সেকেলে ধারণামাত্র। অনেকে তো হাড়-জ্বালানো সন্তানদের হাত থেকে রেহাই পেতে মাথার চুল ছেঁড়েন। উন্নত বিশ্বে পেশা-সচেতন নারীরা ইচ্ছে করেই অনেকে সন্তান না নেওয়ার কথা ভাবেন। এসব দেখে ওসব দেশের সরকার দেশ মানবশূন্য হয়ে যাওয়ার ভয়ে নারীদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে আসছে। অনেকে আবার সন্তান জন্মের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘ছেলেপুলে না থাকলে ঘরবাড়ি কেমন খাঁ খাঁ করে না?’ আবার কোনো মা বলেন, ‘তিনটে ছেলেমেয়ের তিনটেই বিদেশে লেখাপড়া করতে গেছে। ওরা ওখানেই বিয়ে-থা করবে। সেই তো একাই থাকতে হবে আমাদের। সারাক্ষণ ওদের জন্য রাজ্যের দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়।’ সন্তান জন্ম দিলেই মাতৃত্ব উথলে ওঠে, না দিলে পাষাণী—এমন তো নয়।
মাতৃত্ব মানবিক গুণ। মাদার তেরেসার নিজের কয়জন সন্তান ছিল? উন্নত দেশগুলোতে সন্তান দত্তক নেওয়া অতি স্বাভাবিক সংস্কৃতি। অনেকে নিজের সন্তান থাকলেও দত্তক নেন। বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন বিয়ে না করেও দত্তক নিয়েছেন। গায়িকা ম্যাডোনা, নায়িকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নিজেদের সন্তানের সঙ্গে দত্তক সন্তানদেরও সমান আদরে মানুষ করছেন। তাই সন্তান জন্ম দিতে না পারা যতটা না কষ্টের, তার চেয়ে দুঃখজনক হলো ‘বাৎসল্য’ না জন্মানো। বাৎসল্য যদি নিঃসন্তান নারী-পুরুষের হৃদয়ে বেদনা জাগায়, তাহলে আমাদের এতিমখানার মাতৃস্নেহ বঞ্চিতরা কেউ কেউ সে বেদনা উপশম করতে পারে, তারা নিজেরাও পারিবারিক পরিবেশে সুস্থ মানসিকতায় বড় হতে পারে, ‘মা’ ‘বাবা’ ডাক শুনে সন্তানহীন বাবা-মায়েরও চোখের কোনা চিকচিক করে উঠতে পারে পরম পাওয়ার আনন্দাশ্রুতে।
উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।

মনজুরের বাসায় নাছির, পরস্পরকে ‘বেয়াই’ সম্বোধন

সদ্য বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে
তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের
নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। যাওয়ার সময়
তিনি মনজুরের জন্য ফুল নিয়ে যান। ছবি: সৌরভ দাশ
পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান তাঁরা। ছবি: সৌরভ দাশ
মনজুর আলমের বাসায় ৪০ মিনিট কাটান নাছির। তাঁরা একে
অন্যকে ‘বেয়াই’ বলে সম্বোধন করেন। ছবি: সৌরভ দাশ
নগর পরিচালনায় সাবেক মেয়রের কাছে সাহায্য চান নতুন মেয়র।
সাবেক মেয়রও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ছবি: সৌরভ দাশ
সদ্য বিদায়ী মেয়র ও নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় তাঁরা একে অন্যকে ‘বেয়াই’ বলে সম্বোধন করেন। পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ রোববার মনজুর আলমের বাসায় যান নাছির। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট কাটান তিনি।
বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে নগরের সিটি গেট এলাকায় অবস্থিত মনজুর আলমের বাসা মোস্তফা-হাকিম ভবনে যান নাছির। মনজুর আলমের দুই ছেলে নিজামুল আলম ও সাইফুল আলম আ জ ম নাছিরকে স্বাগত জানান। পরে তিনি মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আ জ ম নাছির ও মনজুর আলম। দায়িত্ব পালনকালে সাবেক মেয়রের সহযোগিতা নেবেন কি না জানতে চাইলে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘অবশ্যই সাবেক মেয়রের সহযোগিতা চাইব। ওনার আগে দায়িত্ব পালনকারী মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীরও সহযোগিতা ও পরামর্শ নেব। নগর পরিচালনায় ওঁনাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব।’
নতুন এই মেয়র বলেন, ‘এখন করপোরেশনের সামগ্রিক বিষয়ে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করছি। যখন যেখানে প্রয়োজন নির্দ্বিধায় সাবেক মেয়রদের পরামর্শ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম নগর ও ৬০ লাখ নগরবাসীর জন্য এ সহযোগিতা নেওয়া হবে।’
মেয়রের দায়িত্ব কখন নিচ্ছেন জানতে চাইলে আ জ ম নাছির বলেন, এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো বিষয় নেই। এ ব্যাপারে আইনি জটিলতা রয়েছে। যেহেতু আগের কাউন্সিলরদের মেয়াদ ২৫ জুলাই শেষ হবে, তাই সে পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে তাঁর কোনো তাড়াহুড়া নেই বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছেন বলেও নাছির জানান।
বিদায়ী মেয়র মনজুর আলম বলেন, ‘গতবার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরেই সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়েছিলাম। এবার নাছির সাহেব আমার বাসায় এসেছেন। এই রীতি প্রচলন থাকলে আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
বর্তমান মেয়রকে সহযোগিতা করা প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, ‘নাছির সাহেব যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমার পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে। করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমে আমার প্রায় দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম রয়েছে। এগুলো ফেরত আনলে নাছির সাহেব অসুবিধায় পড়তে পারেন। নগরের উন্নয়নে বর্তমান মেয়রকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
সাবেক ও বর্তমান মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ লতিফ ও দিদারুল আলম, করপোরেশনের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক নেতা সফর আলী প্রমুখ।

ভারসাম্যহীন প্রশাসন

জনপ্রশাসনে সর্বশেষ পদোন্নতি বঞ্চনার চিত্র কর্মস্থলের পরিবেশকে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে এখন জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। কেউ সরাসরি এভাবে তোপের মুখে না পড়লেও পাশের কক্ষে থাকা ব্যাচমেটের সঙ্গে যোজন যোজন ব্যবধান তৈরি হয়েছে। দেখা গেছে, মেধা তালিকার ওপরে থাকা সত্ত্বেও কেউ এখনও উপসচিব অথবা যুগ্মসচিব। অথচ কোটায় নিয়োগ পাওয়া ব্যাচমেট এখন অতিরিক্ত সচিব কিংবা সচিবের চেয়ারে বসে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ বাদ পড়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তালিকায় পড়ে, কেউ আবার জ্যেষ্ঠতা বঞ্চিত হয়ে পদোন্নতি বিবেচনার তালিকাতেই নাম লেখাতে পারেননি। এতে করে অনেক মেধাবী ও নিরীহ কর্মকর্তার যোগ্যতা-দক্ষতা অনেকটা বরবাদ হতে চলেছে। অনেকে ভেবেছিলেন, তাদের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পদোন্নতিবঞ্চিত দাবিদার কর্মকর্তাদের ক্ষোভ-হতাশার পাল্লা শুধুই ভারি হচ্ছে। আর যারা ভেবেছিলেন, পদোন্নতি না হলেও অন্তত জ্যেষ্ঠতা ফিরে পাবেন তাদের সে আশাও এখন দুরাশায় পরিণত হয়েছে। এই যখন অবস্থা, তখন প্রশাসনজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে বললেও ভুল বলা হবে না। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের অনেকের অভিমতও এ রকম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচ থেকে সম্প্রতি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১০৫ জন কর্মকর্তা। অথচ তাদের চার ব্যাচ সিনিয়র ১৯৮২ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও উপসচিব পদেই রয়ে গেছেন। অপরদিকে ২০তম ব্যাচের ১৯৩ জন কর্মকর্তা উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেও তাদের ছয় ব্যাচ সিনিয়র ৯ম ব্যাচের দু’জন কর্মকর্তা এখনও সিনিয়র সহকারী সচিবের ঘানি টেনে চলছেন। এক মাস আগে জনপ্রশাসনে তিনটি স্তরে উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে ৮৭৩ জনকে পদোন্নতি দেয়ার পর এমন ভারসাম্যহীনতার ছায়া এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এছাড়া এই পদোন্নতি সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত দাবিদার কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন, যুগ্মসচিব পদে ৩০৫ জন এবং উপসচিব পদে ১৯৪ জন।
এদিকে সত্যিকারার্থে দলমত নিরপেক্ষ যেসব মেধাবী কর্মকর্তা এভাবে দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তাদের ক্ষোভ-অসন্তোষের শেষ নেই। বঞ্চিতদের মধ্যে যেসব মেধাবী কর্মকর্তার এখন সচিব কিংবা অতিরিক্ত সচিব পদে থাকার কথা ছিল তাদের অনেকেই উপসচিব অথবা বড়জোর যুগ্মসচিব পর্যন্ত গিয়ে আটকে আছেন। কেউ কেউ অবসরে যাওয়ার জন্য পাততাড়ি গোটাচ্ছেন। আর যাদের উপসচিব ও যুগ্মসচিব হওয়ার কথা তাদের কেউ কেউ এখনও পেছনের সারিতে পড়ে আছেন। এ রকম ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, এভাবে বিনা অপরাধে বারবার পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়া যে কতটা কষ্টের তা মুখের ভাষায় বোঝানো যাবে না। পরিবার-পরিজন ও সমাজের কাছেও তাদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, রিভিউ করার আবেদন জানিয়ে কোনো লাভ হবে বলে মনে করেন না। মূলত এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এজন্য ন্যায়বিচার পেতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনে পদোন্নতি বঞ্চিত করার অভিযোগ নতুন নয়। সব সরকারের আমলে কম-বেশি ছিল। বিএনপি সরকারের সময়ও প্রতিটি পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করে শত শত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ১৯৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি ঠেকাতে গোপনে তিন দফায় পদোন্নতি বিধিমালা সংশোধন করার নজিরও রয়েছে। এছাড়া ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার সে সময় রেকর্ড গড়েছিল।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসএসবি (পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া কাউকে পদোন্নতি থেকে বাদ দেয়া হয়নি। নিজেকে খুব মেধাবী কিংবা পদোন্নতি পাওয়ার সব শর্ত পূরণ আছে বলে যারা দাবি করছেন তাদেরও কোথাও না কোথাও কোনো সমস্যা আছে। তাছাড়া শুধু জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী কাউকে পদোন্নতি দেয়া হয় না। আর সব ধাপে পদোন্নতি পাওয়া একজন কর্মকর্তার অধিকারের বিষয়ও নয়। বরং পদোন্নতি দেয়া, না দেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারই মুখ্য বিষয়। পদোন্নতি বিধিমালাতেও এ বিষয়ে এসএসবিকে অনেক ক্ষমতা দেয়া আছে। তা সত্ত্বেও তারা মনে করেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাস নাগাদ ইতিবাচক একটা মেসেজ আসতে পারে। তবে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা দেয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
অতিরিক্ত সচিব : এক হিসাবে দেখা গেছে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় দেড়শ’ জন। এর সঙ্গে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা যুক্ত করলেও তা পাঁচশ’র কাছাকাছি চলে যাবে। যেমন এক মাস আগে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন ব্যাচ হিসেবে ১৯৮৫ ব্যাচের বেশ কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান কর্মকর্তার স্থান হয়েছে। কিন্তু একই ব্যাচের অনেকের ভাগ্যে তা জোটেনি। বরং এই ব্যাচের সিনিয়র (তদূর্ধ্ব পর্যায়ের) আরও দুটি ব্যাচের যুগ্মসচিবদের যদি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে ধরে নেয়া হয়, তাহলে সে সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৮৫ জনে। এর সঙ্গে আদার্স ক্যাডারের কর্মকর্তা যুক্ত করলে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। যেমন- ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের ১৬ জন, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের ৪৪ জন, ১৯৮৪ ব্যাচের ১৭৬ জন। এছাড়া ১৯৮৫ ব্যাচেরই রয়েছে ২৪৯ জন যুগ্মসচিব। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতা না পাওয়া কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই পদোন্নতি পাওয়া ২৮৬ জন ও একই বছর ১০ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পাওয়া আরও ৬০ জন কর্মকর্তা। অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তারা হলেন ১৯৮২ ব্যাচের সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বদিউল আলম, মোশাররফ হোসেন, ড. মো. আবদুল হামিদ, মোহাম্মদ মোস্তফা, রফিকুল-ই-মোহাম্মদ, এটিএম মহিউদ্দিন আহমেদ, এনডিসি, সফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল ফাত্তাহ মো. বখতিয়ার, সফিউর রহমান, এনডিসি, এসএম মেসবাহুল ইসলাম, মির্জা ফজলুল করিম, এম আবুল কাশেম মাসুদ, হাসানুর রহমান, আজিজ হাসান, এনডিসি, নাসরিন আখতার, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের নাসির উদ্দিন খান, আবুল হাশেম, সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, সামসুল কিবরিয়া চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, এডি মোহাম্মদ আবদুল বাসেত, একেএম মুর্তজা, নাজমা বেগম, ফজলুল হক, ড. দিলীপ কুমার শর্মা, এনডিসি, মাহবুবুর রহমান, শাহ আলম বখশী প্রমুখ (জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সবার নাম দেয়া সম্ভব হল না)।
যুগ্মসচিব : যুগ্মসচিব পদে বর্তমানে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা ৩০৫ জন। যাদের মধ্যে ৬ বার বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮২ ব্যাচের ১ জন, ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের ৯ জন, ৪/৫ দফায় বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮৪ ব্যাচের ৫৮ জন, ৪ বার করে বঞ্চিত হয়েছেন ১৯৮৫ ব্যাচের ১০২ জন, ৩ বার বঞ্চিত হয়েছেন ৮৬ ব্যাচের ৫৫ জন এবং প্রথমবারের মতো গত ৬ এপ্রিল বঞ্চিত হয়েছেন ৯ম ব্যাচের ৩৩ জন ও ১০ম ব্যাচের ৪৭ জন।
যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিতরা হলেন ৮২ ব্যাচের মোহা. কামাল রেজা, ৮২ বিশেষ ব্যাচের মো. ওয়ালিউর রহমান, সুরুত জামান, আবু আল হেলাল, মুজিবুর রহমান, মো. ইলিয়াস, এসএম ফয়সাল আলম, সাবিনা ইয়াসমিন, আফজাল হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৮৪ ব্যাচের গোলাম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, জাফর সাদিক, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, তালেবুর রেজা মো. মোস্তাকুল হক, আবদুল বারী, মোয়াজ্জেম হোসেন, রফিকুল ইসলাম সরকার, ভূঁইয়া মো. আতাউর রহমান, নুরুল করিম মজুমদার, এসএম রইস উদ্দিন আহমেদ, আজিজার রহমান মোল্লা, তালুকদার শামসুর রহমান, জসিম উদ্দিন মাহবুব, সাইফুদ্দিন আহমেদ মজুমদার, ইমদাদুল হক, গোলাম মোস্তফা, লোকমান আহমেদ, কেফায়েত উল্লাহ, সৈয়দ আহমদ সাফা, মো. হাফিজউদ্দিন, ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ মাহবুব-ই-জামাল, আবদুল কাইয়ুম, মীর আহমেদ, আবদুর রউফ, জাহিদ হোসেন, শেখ আলাউদ্দিন, আবু তালেব মোল্লা, ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, সামসুল আলম, আকমল হোসেন, আবদুর রব, গোলাম মাওলা, নবিউল হক মোল্লা, মমতাজ বেগম, ফেরদৌস আলম, ড. মো. আবদুল কাদের, শামীম সারা খান, ড. মহিউদ্দিন, এসএম আমজাদ হোসেন, মমরেজ মিয়া, তালাত মাহমুদ খান, এনএম ইসলাম প্রমুখ।
১৯৮৫ ব্যাচের তৌহিদুর রহমান, ড. শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক, মো. মনিরুজ্জামান, আবুল বাশার মো. সিরাজুল হক, আবু তালেব, তাহসিনুর রহমান, আবদুল্লাহ আল বাকি, কাজী মো. আনোয়ারুল হাকিম, মোহাম্মদ শেফাউল করিম, মো. সলিমুল্লাহ, কাজী মেরাজ হোসেন, আবদুল মান্নান, ড. কাউয়ুম আরা বেগম, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, মো. মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী, আবদুল আহাদ, ড. শাহেদ ইকবাল মাহবুব, হুমায়ুন কবির, জামাল হোসেন মজুমদার, জাহাঙ্গীর আলম খান, ইয়াহিয়া ভূঁইয়া, ড. কামরুল আহসান, আলনূরি ফাইজুর রেজা, হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সাজ্জাদুল কাইয়ুম দুলাল, আউলাদ হোসেন খান, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আবু সৈয়দ মো. শাহীন রেজা খান, আবুল কালাম আজাদ, এসএম ফিরোজ আলম, জুলফিকার আলী হায়দর, ফাইজুল করিম, আব্দুল্লাহ মাসুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস হোসেন, ড. রেজাউল করিম, মকবুল হোসেন, জর্জেস মিয়া, নাসিমা মহসীন, আবদুর রশীদ, নাসরীন আখতার চৌধুরী, শেখ আতিয়ার হোসেন প্রমুখ।
১৯৮৬ ব্যাচের ড. আবুল হোসেন, শামীম আল মামুন, শরীফ মর্তুজা মামুন, এএন এম শফিকুল ইসলাম, ইলিয়াস ভূঁইয়া, সেলিম আখতার, জাফর উল্লাহ খান, মহসিনা খান, তৌফিকুর রহমান, জাকির হোসেন কামাল, হাওলাদার জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সামসুদ্দোহা, আবদুল জলিল, মুকসিদুর রহমান, মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ, মো. আলাউদ্দিন, নূরুল আলম, আবু নাসের, মঈন উদ্দিন, আবু তালেব, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবু তালেব, কাজী ফাইজুর রহমান, মকবুল হোসেন, লাইসুর রহমান, ড. সিরাজুল ইসলাম, লুৎফুন্নাহার বেগম, আবদুল মতিন প্রমুখ। ৯ম ব্যাচের ফখরুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল মজিদ, মোস্তা গাউসুল হক, এজেটএম আবদুল্লাহ হেল বাকি, মো. মহসীন, আবদুল মান্নান, মাহবুবুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফারুক আলম, সারওয়ার মাহমুদ, আলমগীর হোসেন, কেএম তরিকুল ইসলাম, হাসনুল ইসলাম, একেএম মাসুদুর রহমান, রেজাউল হায়দার, নাসরীন খোরাসানি, আবদুস সাত্তার সরকার, শফিকুল হক, জাকির হোসেন, অনল চন্দ্র দাস, নজরুল ইসলাম, জিএম আবদুল কাদের, ইউসুফ আলী, রফিকুল ইসলাম খান, সাদ’ত হোসেন, এসএম মাসুদুর রহমান, মিজানুর রহমান, আমজাদ হোসেন ব্যাপারি প্রমুখ।
১০ম ব্যাচ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন, রেজাউল করিম, আজম খান, মির্জা তারিক হিকমাত, মোজাম্মেল হক, কাজী মোহাম্মদ মনজুর-ই-মাকসুদ, রিজওয়ানুল হুদা, সালমা মমতাজ, দেলোয়ার হায়দার, হারুন অর রশীদ মোল্লা, নুরুল আলম নিজামী, মকবুল হোসেন, আতাউর রহমান, আবু মাসুদ, ড. খালিদ হোসেন, ড. শাহনাজ আরেফিন, ড. মোহাম্মদ আমিন, মাহমুদা খাতুন, জিল্লুর রহিম শাহরিয়ার, মাসুদ করিম, মো. আনিসুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদা আখতার, ড. মনিরুজ্জামান, মনজুর মোর্শেদ, সাইদুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গিয়াস উদ্দিন মোগল, একেএম দিনারুল ইসলাম, তাহেরা ফেরদৌস বেগম, কবিরুল হাসান, জাফর রাজা চৌধুরী, মোমেনা খাতুন, ড. সিতারা বেগম প্রমুখ।
উপসচিব : বর্তমানে উপসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা ১৯৪ জন। যাদের মধ্যে ৫ দফায় বঞ্চিত হয়েছেন ৯ম ব্যাচের ২ জন ও ১০ম ব্যাচের ৭ জন, ৪ বার করে বঞ্চিত হয়েছেন ১১তম ব্যাচের ২২ জন ও ১৩তম ব্যাচের ২৭ জন, ৩ বার বঞ্চিত হয়েছেন ১৫তম ব্যাচের ২৬ জন, ২ বার করে বঞ্চিত হন ১৭তম ব্যাচের ১৩ জন ও ১৮তম ব্যাচের ১৭ জন এবং ৬ এপ্রিলের পদোন্নতিতে প্রথমবারের মতো বঞ্চিত হয়েছেন ২০তম ব্যাচের ৮০ জন।
উপসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিতরা হলেন ৯ম ব্যাচের তাজুল ইসলাম ও মো. সেলিম। ১০ম ব্যাচের সিরাজুল ইসলাম খান, গাজীউদ্দিনর মোহাম্মদ মনির, এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী, মো. আব্বাসউদ্দিন, মাহবুবল আহসান, ১১তম ব্যাচের আক্তারুজ্জামান তালুকদার, এবি আইন আবদুল্লাহ, কেএম কবিরুল ইসলাম, মো. কামাল উদ্দিন, আহমেদুল হক, একেএম এসানুল হক, মনিরুজ্জামান খান, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, রেজাউল কবির, শরীফ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, ইমামুদ্দিন কবির, মোহাম্মদ আলী, ফাহিমা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ মহসীন ভূঁইয়া, ফরিদুল ইসলাম, আবদুল মতিন, এমএম মঈন উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। ১৩তম ব্যাচের আবদুল খালেক, সেকেন্দার রিজভী, ড. মো. নাজমুল আমিন মজুমদার, একে লুৎফর রহমান, মাহমুদ হাসান, এ ই এম জিয়াউদ্দিন আল মামুন, আলীম আখতার খান, রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মাহবুবুর রহমান, ফজলুল কবির, শাহীন আখতার, খন্দকার মাহবুর রহমান, ফয়েজ আহমেদ, মাহফুজুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আল ফারুক, মিজানুর রহমান, মনজুর রহমান, নওয়াব আসলাম হাবিব, আবদুল হাশেম, হামিদুর রহমান প্রমুখ। ১৫তম ব্যাচের এএইচএম আবদুল করিম, খালেদ রহিম, শেখ মতিয়ার রহমান, বাবুল মিয়া, ওবায়দুর রহমান, শাহজাহান মিয়া, সাইদুর রহমান, রেজাউল করিম, রকিবুল হাসান, মালেকা পারভীন, নাসির উদ্দিন দৌলা, সৈয়দ নূরুল বশীর, ইউনুছ আলী, একেএম তরিকুল আলম, সেলিম উল্লাহ, এএসএম হুমায়ুন কবির, শওকত রশীদ চৌধুরী, আফজালুর রহমান, শেখাবুর রহমান, শবনাম মুশতারি, ড. আবদুল হাকিম, আবদুন নাসের খান, শেখ আখলাক আহমেদ, আবদুর রহমান তরফদার, ড. এএম ওয়ালিউল্লাহ প্রমুখ। ১৭তম ব্যাচের কাজী আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম খান, ফিরোজ সরকার, সাইদুর রহমান খান, কেএম আলী নেওয়াজ, নরুননাহার চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম, মো. ফখরুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, আবু আহমেদ সিদ্দিক, রায়হান কায়সার, দাউদ মিয়া, ড. সৈয়দা নওশীস, মোক্তার আহমেদ প্রমুখ। ১৮তম ব্যাচের শাহ আলম, ফজলুর রহমান, রফিকুল আলম, ড. মিজানুর রহমান, সুরাইয়া আখতার জাহান, ড. সাইফুল আলম, মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, রেজাউন নবী।
আদার্স ক্যাডার : প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ন্যায় অন্যান্য ক্যাডার থেকে যারা অপশন দিয়ে উপসচিব থেকে সচিব পর্যায়ে ওঠে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের অনেকের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং তাদের উপসচিব হতেই অনেক সময় পাড়ি দিতে হয়েছে।
প্রশাসন ক্যাডারের অনেক জুনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের উপসচিব হতে হয়। এরপর উপরের ধাপগুলোতে কখনও সময়মতো পদোন্নতি হয় না। এবার তিন স্তরের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই নজির স্থাপিত হয়েছে।
শুধু একটি ক্যাডারের উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন গণপূর্ত ক্যাডারের বিসিএস (বিশেষ) ১৯৮৩ ব্যাচ। বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের কর্মকর্তারা ১৯৮৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। যাদের মধ্যে ৭ জন কর্মকর্তা অন্যান্য ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০০৫ সালের ২১ এপ্রিল এবং ৪ জন কর্মকর্তা অন্যান্য ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০০৬ সালের ২৬ জানুয়ারি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। গণপূর্ত ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অন্যান্য ক্যাডারের কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের থেকে আলাদাভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করায় তারা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়। ওদিকে বিলম্বে ১৯৮৩ ব্যাচের গণপূর্ত ক্যাডারের ৬ জন কর্মকর্তা বিলম্বে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পরবর্তীতে তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিও পিছিয়ে যায়।
সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়ায় কয়েকজনকে অবসরে যেতে হয়েছে।
অবশেষে ৬ এপ্রিল অতিরিক্ত সচিব পদে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হলেও গণপূর্ত ক্যাডারের ১৯৮৩ ব্যাচের ছয়জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। যুগ্মসচিব হিসেবে যাদের তিনজনের চাকরিকাল ৪ বছর পার হয়েছে। চাকরির শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে হতাশাগ্রস্ত এসব পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা এখন পুনর্বিবেচনার আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ মুহূর্তে তারানকোর বাংলাদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই -মানবজমিনকে ড. মোমেন by মিজানুর রহমান

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটে সরকার ও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল তো বটেই সব দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দেখতে চায় জাতিসংঘ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং মধ্যস্থতার চেষ্টায় সংস্থাটির মহাসচিব বান কি মুন তার অধস্তন সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে এরই মধ্যে দায়িত্ব দিয়েছেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রকাশ্যে জাল ভোট, কারচুপি এবং ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওই নির্বাচনটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সেখানে তার মুখপাত্র একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা সম্পর্কে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। চলমান সঙ্কট নিরসনে তিনি তারানকোকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার দ্রুত তদন্ত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বান কি মুনের ওই প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর ঢাকার কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে তারানকোর আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে। তিনি শিগগিরই আসতে চান বলেও খবর বেরিয়েছে। সরকার এখন তাকে বাংলাদেশে আসতে দিতে চায় কি-না? সেই আলোচনাও আছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল তিনি টেলিফোন আলাপে মানবজমিনকে বলেন, আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে তারানকোর বাংলাদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই? তাছাড়া, তিনি যেখানে গেছেন সেখানে যে খুব সফল হয়েছেন এমনটিও নয়। তিনি ইউক্রেনে গেছেন সেখানে কিছুই করতে পারেননি। তিনি রাজনৈতিক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় বাংলাদেশেও গিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশে তার কিছু সফলতা আছে। সরকার ও বিরোধী দলকে অন্তত এক টেবিলে বসাতে পেরেছিলেন। সেটা তিনি ব্যাপক প্রচার করেন। তিনি আবারও বাংলাদেশের দায়িত্ব পেয়েছেন। মহাসচিব যাকে ইচ্ছা যে কোন দেশের পরিস্থিতি দেখভালে দায়িত্ব দিতে পারেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, মহাসচিব এবং তারানকো দুজনই ওই দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি বলেছেন। আমরা তা শুনেছি, এ পর্যন্তই। তিনি বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলছেন। আমার সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। তবে তিনি এখনও বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য কোন আনুষ্ঠানিকভাবে দরখাস্ত করেননি। অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেছেন কি-না এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, হ্যাঁ তিনি তো যেতে চান। তিনি মনে করেন ঢাকা সফরে প্রথমবারে তিনি কিছু সফল হয়েছেন। এবার আরও সফল হবেন। সরকার তাকে আসতে দেবে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা দেখা হবে দরখাস্ত করার পর। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বান কি মুনকে ‘ইল এডভাইস’ করা হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সঠিক তথ্য আমরা তাকে জানিয়েছি। সেটি পাওয়ার পর মহাসচিব আগের অবস্থানে নেই বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সমঝোতা চায়। কিন্তু সেটা তো পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে। সংবিধান মতে ওই নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। সুতরাং এত আগে তারানকোকে ঢাকায় পাঠানো হবে বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া, তিনি নিজে এত আগে যাবেনই বা কেন? কোন বিদেশীর কথায় বাংলাদেশের মতো ইকোনমিক পাওয়ার-এর দেশের আর কিছু হবে না বলে মন্তব্য করে মোমেন বলেন, আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিয়েরা লিওন আর বাংলাদেশ এক নয়।
সমপ্রতি দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, দুই নেত্রীর মধ্যে সরাসরি সংলাপের চেষ্টা চালাচ্ছে জাতিসংঘ। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে ওই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, আসলে জাতিসংঘ একটি সমঝোতা চায়। তারা সব দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চায়। জাতিসংঘের সেই চাওয়ায় বিএনপি যদি গোঁ-ধরে থাকে তা হলে আলোচনা হবে না এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আলোচনায় আসতে হবে ওপেন মাইন্ড নিয়ে। সেখানে গিভ অ্যান্ড টেক হতে পারে। গোঁ-ধরলে চলবে না।

আরিফ-মান্নান-বুলবুল বরখাস্ত, নূর হোসেন বহাল! by সোহরাব হাসান

আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু আইনের রক্ষক সরকার যে সেটি মানে না, তার প্রমাণ স্থানীয় সরকার সংস্থার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তাদের দ্বৈতনীতি ও সিদ্ধান্ত। সিলেট ও গাজীপুরের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত পাঁচটি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এ আদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১২ অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও গাজীপুরের মেয়র এম এ মান্নানকেও সরকার আইনের একই ধারায় সাময়িক বরখাস্ত করে। আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে বর্তমানে কারাগারে আছেন। এম এ মান্নানকে আসামি করা হয়েছে গাজীপুরের বোমা হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায়। তিনিও কারাগারে এবং দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। কুমিল্লা ও বরিশালের মেয়র সরকারি দলের সঙ্গে ‘আপস’ করে চলেন; ভয় কখন পদ চলে যায়।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো যে নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের হয়েও নানা রকম হয়রানির শিকার। তাঁর বিরুদ্ধে সাংসদ শামীম ওসমানের (যাঁর বিরুদ্ধে তিনি লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়ে মেয়র হয়েছিলেন) আনা অভিযোগ তদন্ত করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। অন্যদের বিরুদ্ধে এর চেয়ে গুরুতর অভিযোগ এলেও আমলে নেওয়া হয় না।
সরকার নানা অজুহাতে বিএনপির তিনজন মেয়রকে সরিয়ে দিলেও নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত হত্যার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তাঁর সহযোগী শাহজালাল বাদলের বিষয়ে একেবারে নিশ্চুপ। তাঁরা দুজনই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। পর পর চারটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত অক্টোবরে চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। আইন অনুযায়ী, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশনকে পলাতক দুই কাউন্সিলরের মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং তাদের বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর চিঠি দেয়। ২০০৯ সালে প্রণীত স্থানীয় সরকার আইনের মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ প্রসঙ্গে ১৩-এর (ক) ও (খ) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে সিটি করপোরেশনে পর পর তিনটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। এ ছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলেও তিনি অপসারণযোগ্য হবেন।
নূর হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ ও র্যা বের কর্মকর্তাদের দিয়ে কী নৃশংসভাবে সাতজন মানুষকে খুন করেছেন, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। নারায়ণগঞ্জ গেলে সেই সাত পরিবারের সদস্যদের আহাজারি এখনো শোনা যায়। সাত খুনের পর এই নূর হোসেনকে ধরিয়ে দিতে সরকার এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। দ্রুততম সময়ে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কিন্তু গত এক বছরেও তাঁকে দেশে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেই। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আইনি জটিলতার কথা বলেছেন। আসামের উলফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যদি সরকার সব আইনকানুন উপেক্ষা করে ফেরত দিতে পারে, নূর হোসেনের মতো দাগি ও দণ্ডিত আসামিকে কেন ফেরত আনতে পারবে না? নূর হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। দুটি মামলায় তাঁর শাস্তিও হয়েছে। তার পরও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের কাছে নূর হোসেনের সম্পর্কে তথ্য জানতে চায়। নূর হোসেনকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই এখন কলকাঠি নেড়ে তাঁর কাউন্সিলর পদ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। তাঁর অপরাধের খতিয়ান যে সিটি করপোরেশনের কাছে নয়, পুলিশের কাছে থাকে, এটাও নিশ্চয়ই মন্ত্রণালয়ের জানার কথা।
ইতিমধ্যে পুলিশ সাত খুনের মামলার চার্জশিট দিয়েছে এবং তাতে নূর হোসেনসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। র্যা বের তিন কর্মকর্তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, কীভাবে নূর হোসেন এই খুনের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে তাঁদের ব্যবহার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা ও দুটি জিডি রয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় তিন বছর, অবৈধভাবে বন্য প্রাণী রাখার দায়ে এক বছর কারাদণ্ড হয়েছে। কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে। সাত খুনের পরে গত মে মাসে জেলা প্রশাসন নূর হোসেন, শাহজালাল বাদল ও তাঁদের সহযোগীদের ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে।
যেসব অভিযোগে রাজশাহী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে, এর চেয়ে অনেক গুরুতর অভিযোগ নূর হোসের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। একযাত্রায় ভিন্ন ফল কেন? অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বিএনপি-জামায়াত জোট পরিচালিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ মারা, বাস-ট্রাক জ্বালিয়ে দেওয়া, ট্রেনে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘৃণ্য অপরাধ যারা সংঘটিত করেছে, তাদের কজনকে পুলিশ ধরে বিচারের মুখোমুখি করেছে? হাতে গোনা কয়েকজন। বেশির ভাগ মামলায় বিএনপি নেতা-নেত্রীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। কিন্তু যাদের সেই হুকুমটা তাঁরা দিলেন, পুলিশ-র্যা ব তাদের খুঁজে বের করতে পারল না। মূল আসামিকে অজ্ঞাত রেখে হুকুমদাতাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলে সরকারের রাজনৈতিক ফায়দা হতে পারে, অপরাধের বিচার হবে না, প্রকৃত অপরাধীও শাস্তি পাবে না।
রাজশাহীর মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে যেসব মামলার চার্জশিট দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে পুলিশ হত্যা, পুলিশকে গুলি করে আহত করা এবং বাস পোড়ানোর মামলাও রয়েছে। বিএনপির নেতা হিসেবে এসব ঘটনায় তাঁর নৈতিক দায় থাকলেও আইনি দায় প্রমাণ করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার অকাট্য প্রমাণ হাজির করে। সরকার আগুন-সন্ত্রাসীদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে কেউ কিছু বলবে না, বরং স্বাগত জানাবে। কিন্তু এসব অঘটনকে যদি তারা বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের হাতিয়ার করে, তাহলে স্থানীয় সরকার বলে কিছু থাকবে না, সেটি সরকারের দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীতে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারার ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও আসামি করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর নভেম্বর মাসেই সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিএনপিসহ বিরোধী জোটের টানা অবরোধের মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের মতিহার থানার কাপাশিয়া এলাকায় ঢাকাগামী গাড়িবহরে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি দুপুরে নগরের কাদিরগঞ্জে ট্রাকের বহরে হামলা এবং ১৯ জানুয়ারি নগরের ভদ্রা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মেয়রকে আসামি করা হয়। এর পর থেকে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। সিটি করপোরেশনে নিজ কার্যালয়েও আসেননি। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ চন্দ্র সরকারকে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলাসহ ১১টি মামলা আছে এবং পাঁচটিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং ঘটনাটি ১১ বছর আগের। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী দলে ছিল। অন্যান্য মামলার মতো এ মামলাটিরও সুষ্ঠু তদন্ত করেনি বিএনপি। সেই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতে হবে। তাই বলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত সব সহিংসতা ও নাশকতার দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপানোর যুক্তি কী? একজন নির্বাচিত মেয়র কি বাসে আগুন দিয়েছেন? পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন?
আইন যে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে চলে না, তার আরও কিছু উদাহরণ এখানে তুলে ধরছি। ঘাটাইল উপজেলার চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানকেও টাঙ্গাইল আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন গত ১১ মার্চ বন দখল ও ধ্বংসের দায়ে। একই দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়, যাতে তিনি হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। তিনি এখনো উপজেলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। টাঙ্গাইল সদর পৌরসভার চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান খান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমদ হত্যার আসামি। সেখানেও দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাঁর নাম বলেছেন। গত নভেম্বর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও দুই দফায় যথাক্রমে তিন মাস ও ৪৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন। গত ৮ এপ্রিল তাঁর ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও আর আবেদন করেননি। আইন অনুযায়ী, একজন পৌর চেয়ারম্যান বছরে তিন মাস ছুটি ভোগ করতে পারেন। ডেইলি স্টার খবর দিয়েছে, এক বছরের বেশি সময়ে বিরোধী দলের সমর্থক স্থানীয় সরকারে বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন প্রতিনিধিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সরকার–সমর্থক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঝালকাঠি পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার নামে চাঁদাবাজির মামলা থাকলেও নেপথ্যে কাজ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই আওয়ামী লীগ নেতার দ্বৈরথ। তিনি যে নির্বাচনে মেয়র হয়েছেন, সেই নির্বাচনটিও ছিল বিতর্কিত। আদালত ফলাফল পুনঃগণনান নির্দেশ দিলেও সেটি মানেননি।
যেখানে আইন দ্বারা ক্ষমতা চালিত হওয়ার কথা সেখানে এখন ক্ষমতা দ্বারাই আইন চালিত হচ্ছে। এ কারণেই তিনটি বড় সিটি করপোরেশনের মেয়র বরখাস্ত হলেও বহাল থাকেন নূর হোসেনের মতো কুখ্যাত ব্যক্তি, সরকার নিজেই যাকে ধরার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab০3@dhaka.net


অবশেষে নূর হোসেনকে বরখাস্ত by রোজিনা ইসলাম
১০ মে, ২০১৫
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে অবশেষে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে গত বৃহস্পতিবার সই করা হলেও আজ রোববার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জসীম উদ্দিন হায়দার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন আইন)-২০০৯-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী নূর হোসেনকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নূর হোসেন খুনের ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখানকার পুলিশ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই দেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আদালতে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সাজা হয়েছে। এই দুটি কারণ দেখিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া ফৌজদারি মামলাজনিত কারণে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
নূর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং শাহজালাল বাদল ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। শাহজালাল সম্পর্কে নূর হোসেনের ভাতিজা। ওই খুনের ঘটনার পর থেকে শাহজালালও পলাতক। তাঁদের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের অক্টোবরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু এতদিন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় তাঁরা দুজনই কাউন্সিলর পদে বহাল ছিলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইনে মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ প্রসঙ্গে ১৩-এর (ক) ও (খ) ধারায় উল্লেখ আছে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পর পর তিনটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। কেউ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তিনিও অপসারণযোগ্য হবেন। নূর হোসেন ও শাহজালাল বাদল সিটি করপোরেশনের পর পর চারটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া অবৈধভাবে বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী সংরক্ষণের দায়ে আদালত নূর হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায়ও নূর হোসেনের তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন গত বছরের ২৭ এপ্রিল অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে। লাশ উদ্ধারের আগেই নূর হোসেন ও শাহজালাল বাদল আত্মগোপন করেন। কাউন্সিলর নজরুল ও তাঁর চার সহযোগীকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা থানায় ২৮ এপ্রিল নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে থাকা নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আছে আরও দুটি। শাহজালাল বাদলের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে। সাত খুনের পর গত বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসন নূর হোসেন, শাহজালাল বাদল ও তাঁদের সহযোগীদের ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে।

নারী লাঞ্ছনা- ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা, আহত ১০

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে
আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ছবি: মনিরুল আলম
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে
আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ছবি: মনিরুল আলম
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় ঘেরাও
কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। ছবি: মনিরুল আলম
ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের
বাধার মুখে সড়কে প্রতিবাদী সমাবেশ করেন
আন্দোলনকারীরা। ছবি: মনিরুল আলম
ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের
বাধার মুখে সড়কে প্রতিবাদী সমাবেশ করেন
আন্দোলনকারীরা। ছবি: মনিরুল আলম
ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার আগে
রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ করেন
আন্দোলনকারীরা। ছবি: মনিরুল আলম
পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে পুলিশ দফায় দফায় বাধা দিয়েছে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারা এবং ছয় দফা দাবিতে আজ রোববার ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হয়। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ‘পাল্টা আঘাত’ ব্যানারে গত ৭ মে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস ঘুরে শাহবাগ দিয়ে ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে বাধা পেয়ে কার্জন হলের দিক দিয়ে ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের কয়েক দফা বাধা পেরিয়ে আন্দোলনকারীরা কার্জন হল, হাইকোর্ট মোড় পেরিয়ে ডিএমপির কার্যালয়ের কাছাকাছি শহীদ ক্যাপটেন মনসুর আলী সরণি পর্যন্ত যায়। সেখানে বাধা পেয়ে তাঁরা সড়কে বসে পড়েন। আন্দোলনকারীরা সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান তারেক বলেন, ‘এখানে যতসংখ্যক পুলিশ আমাদের বাধা দিচ্ছে, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে তারা থাকলে নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটত না।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করা মাইক কেড়ে নেয় পুলিশ। তারা আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা, বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত ও বুট দিয়ে লাথি মারে।
এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তাঁরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়েন। পুলিশ জলকামান দিয়ে পানি ছোড়ে। কাঁদানে গ্যাসও ছোড়ে। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে আসেন।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান তারেকের দাবি, পুলিশি হামলায় তিনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আবদুল বাতেন বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের বারবার বলেছি, আপনারা দাবির বিষয়ে প্রতিনিধি দল পাঠান। কিন্তু তাঁরা তা করেননি। তাঁরা রাস্তা বন্ধ করে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।’

গাছের ডাল ভাঙায় এমন শাস্তি! by শরিফুল হাসান

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায়
কাতরাচ্ছে শিমু আক্তার । ছবি: শরিফুল হাসান
বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মেয়েটি। দুই পা ভেঙে গেছে। গোড়ালি থেকে ওপর পর্যন্ত প্লাস্টার করা। নাকের ভেতর নল লাগানো। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমে আছে। একটু পর পর পানি পানি বলে কাতরাচ্ছে। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেল।
না, কোনো দুর্ঘটনায় আহত হয়নি শিমু আক্তার নামের মেয়েটি। বাড়িওয়ালির নির্যাতনের শিকার হয়ে সে এখন হাসপাতালে বলে দাবি করেছে শিমু। সে অভিযোগ করে বাড়ির মেহেদিগাছের পাতা ছিঁড়তে গিয়ে ফুলগাছের একটি ডাল ভেঙে ফেলায় তাকে বাড়িওয়ালি পিটিয়ে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল ভাসানটেকের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ বদিউজ্জামান সড়কের এ/পি ২৭৯/২/ক নম্বর বাড়ি। বাড়িটি অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তার। তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের বিরুদ্ধেই মেয়েটিকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাসানটেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালি পলাতক।
মামলার সূত্র এবং মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়েটির বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জের কয়রনা গ্রামে। ছোটবেলায় মা হারায় সে। বাবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এর পর প্রতিবেশী মিজানুর রহমান তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর বাড়িতেই কাজ করছে শিমু। বছর দুয়েক আগে মিজানুর রহমান ভাষানটেকের ওই সেনা কর্মকর্তার বাসায় ভাড়া থাকা শুরু করেন।
শিমু কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যে বাসায় কাজ করতাম সেই বাসার গৃহকর্ত্রী আমাকে মোটামুটি আদর করত। কিন্তু ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী (আয়েশা আক্তার) কারণে-অকারণে আমাকে বকত। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির উঠান থেকে আমি কয়েকটা মেহেদি পাতা আনতে গেলে টবের একটি ফুলগাছের ডাল ভেঙে যায়। সেটা দেখে বাড়ির মালিকের স্ত্রী আমাকে বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে মারধর করে। এর পর রাতে আমাকে আবার ডেকে পাঠায়। আমাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে বলে তোর সঙ্গে কথা আছে। এর পর আমাকে আবারও মারতে থাকে। আমি তখন তাকে খামচি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাকে জোর করে মারতে মারতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’
মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার কয়েক দিন আগেই আমার স্ত্রী বাড়িতে যায়। আমি অফিস করে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমার মা বাসায় ছিল। হঠাৎ করে বাড়িওয়ালি শিমুকে ডেকে পাঠায়। তখন আমার মা বলে, যদি ডেকে থাকে তাহলে শুনে আয় কেন ডাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির দারোয়ানসহ সবার চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি শিমু পড়ে আছে। আমরা অজ্ঞান অবস্থায় তাকে কচুক্ষেতের হাইটেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা অবস্থা গুরুতর বলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। এর পর আমরা রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।’
মেয়েটি বর্তমানে ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সেখানকার চিকিৎসক আশরাফউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির শরীরের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। মেরুদণ্ডের একটি হাড় সরে গেছে। পেটের ভেতর রক্ত জমে আছে। এমন অবস্থায় চাইলেও অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। আমরা মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
ঘটনার পর থেকেই আয়েশা বেগম বাড়িতে নেই। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই বাড়িতে থাকি না। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঘটনাস্থলে গেলেই আপনারা সব জানতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো কথা নেই।’
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এ বি এম আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আমরা মামলার তদন্ত করছি। আইন অনুযায়ী আমরা সবকিছু করব।’

জমজ দুই শিশুর দুই পিতা!

নিউজার্সির এক মা জন্ম দিয়েছেন জমজ দুই সন্তানকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জানা গেছে যে সন্তান দুজনের পিতাও দুজন। বাচ্চাদের ভরণপোষণের খরচ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওই নারী। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে পুরুষকে বাচ্চাদুটির পিতা হিসেবে বলা হয়েছিল তিনি শুধুমাত্র একটি বাচ্চার পিতা। আর তাই আদালত রায় দিয়েছে তিনি শুধু একটি বাচ্চার ভরণপোষণের খরচ দেবেন। ৪ঠা মে পাসাইক কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক সোহেল মোহাম্মদ পারিবারিক আদালতে এ রায় দেন। তিনি ওই অপর শিশুটির জন্য ওই নারীর ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে দেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিরল এ ঘটনাটি। এতে ওই মায়ের নাম প্রকাশ করা হয় নি। এদিকে বৃটেনের মিররের প্রতিবেদনে তাকে নামের আদ্যক্ষর টি. এম. উল্লেখ করা হয়েছে। আলাদতের নথিপত্র অনুযায়ী, টি.এম. স্বীকার করেছেন যে, অন্তস্বত্ত্বা হওয়ার সময়ে তিনি দুজন ভীন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তবে তিনি আদালতে বাচ্চাদের ভরণপোষনের আবেদনে শুধু একজনের কথা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে শুধু দু’টি এমন ঘটনা নিয়ে আইনি মামলার নজির রয়েছে। একসঙ্গে দু জন পুরুষের সন্তান ধারণের বিরল এ বিষয়টিকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফিকানডেশন’ বলা হয়ে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এমনটা অসম্ভব বলে মনে হলেও, এটা কিভাবে ঘটতে পারে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ক্লিভল্যান্ডের ম্যাকডোনাল্ডস ওমেনস হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুক রসি বলেন, এটা স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে। যখন একজন নারী সন্তান গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সময়কালে একটি ডিম্বকোষের স্থানে দুটি তৈরি করে তখন ভীন্ন দুজন পুরুষের সঙ্গে সহবাস করলে এমনটা হতে পারে।

রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংস্কারের প্রস্তাব উদ্বিগ্ন নাগরিকদের

সংকটকবলিত রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি পদের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করাসহ সংবিধানের কয়েকটি ধারা এবং সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়ায় পূর্ণ গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ এসব কথা বলে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সমাজের আহ্বায়ক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম শামুসল হুদা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নেতৃবৃন্দ সজ্ঞানে কিংবা অজ্ঞানে এটা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলকভাবে গড়ে তুলতে হবে। তাঁরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের উপস্থিতি এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ও বর্তমানের বিষয়ে আপস-মীমাংসার মানসিকতা থাকা যে গণতন্ত্র বিকাশের জন্য অপরিহার্য, সেটাও উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে শামসুল হুদা জানান, ভয়াবহ সন্ত্রাস চলাকালে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়ে যে চিঠি দিয়েছিলেন এর জবাব তাঁরা পাননি। তবে তাঁরা মনে করেন সংস্কার নিয়ে তাঁদের প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও চর্চা চলতে থাকলে সত্যিকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ কোনো না কোনো সময় ফিরে আসবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম শামুসল হুদা। ছবি: ফোকাস বাংলা
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উদ্বিগ্ন নাগরিকেরা যে রাজনৈতিক পরিবর্তন কামনা করছেন—তা একমাত্র রাজনীতিবিদেরাই আনতে পারেন।
আজকের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিলুর রেজা চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহম্মেদ, মনজুর হাসান প্রমুখ।
সংস্কারের প্রস্তাব
সাংবিধানিক সংস্কারের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পদের পূর্ণ স্বাধীনতা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভারসাম্য আনা; প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করা, সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা রেখে নারীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক সংসদীয় আসন সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতা ও সম্পদ হস্তান্তর করা, জাতীয় ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট চালু করা।
এ ছাড়া সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আমলাতন্ত্রের সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা, দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক দলগুলোর বিদেশি শাখা বিলুপ্ত করা এবং ছাত্র-পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলের কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা।

রাশিয়ায় বৃহত্তম সেনা কুচকাওয়াজ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয়ের ৭০ বছরপূর্তিতে বিশাল আয়োজন করেছে রাশিয়া। দেশটির রাজধানী মস্কোয় এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে এ প্যারেড প্রদর্শনীতে ১৬ হাজারেরও বেশি সেনা অংশ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে সর্বাধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক অস্ত্রশস্ত্র প্যারেড ময়দানে প্রদর্শন করা হয়। রাশিয়ার স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) প্যারেড প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাশিয়ার সব সামরিক ইউনিট থেকে সেনারা প্যারেডে অংশ নিয়েছেন। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সেনা পোশাক পরে কর্মসূচিতে যোগ দেন। প্যারেড প্রাঙ্গণের ওপর মহড়ারত ছিল ১০০টি যুদ্ধবিমান। বিশটিরও বেশি দেশের প্রধান এ কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে বর্তমানে মস্কোয় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তবে ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার ভূমিকার জন্য পশ্চিমা নেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রধান এ অনুষ্ঠান বয়কট করছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া ও হতাহত সোভিয়েত সেনাদের প্রতি সম্মান জানান প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সৈনিকদের প্রতিও সম্মান জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। পুতিন বলেন, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা দেখছি, কীভাবে সেনা শক্তিতে শক্তিমান সরকারগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সময় তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোর ব্যাপারে পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। কুচকাওয়াজ উপলক্ষে উচ্চ প্রযুক্তির রাশিয়ান যুদ্ধ ট্যাংক টি-১৪ আর্মাতাকে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও দেখানো হয় এ সময়। একেকটি আরএস-২৪ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তিনটি করে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। এসব অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবারই প্রথম সবার সামনে উপস্থাপন করল রাশিয়া। প্রসঙ্গত, ১৯৩৯ সালের ‘আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি’ ভঙ্গ করে ১৯৪১ সালের ২২ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন হামলা করে জার্মান নাৎসি বাহিনী। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত জার্মান বাহিনী সামনে বাড়তে থাকে এবং স্তালিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ অবরোধে আটকাপড়া মানুষের মধ্যে রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের মাও ছিলেন। এ সময় অনাহার ও তৃষ্ণায় মারা যান পুতিনের বড় ভাই। তখনও পুতিন জন্মগ্রহণ করেননি। অবরোধে লাখ লাখ মানুষ নিহত হলেও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যান তার মা। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে পুতিন পৃথিবীর বুকে আসেন। ১৯৪৪ সাল থেকে সোভিয়েত বাহিনী সামনে বাড়তে শুরু করে ও জার্মান বাহিনী পেছনে সরে যেতে বাধ্য হয়। ১৯৪৫ সালের ২১ এপ্রিল বার্লিনে প্রবেশ করে সোভিয়েত সেনারা। ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলারের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে যুদ্ধের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্বব্যাপী ৬ কোটিরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে আড়াই কোটির বেশি মানুষ রাশিয়ার। আবার আসছে সমাজতন্ত্র? : সেই ১৯৮৯ সালে আফগান যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে। এরপর মিখাইল গর্ভাচেভের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার থেকে বিদায় নেয় সমাজতন্ত্র। সেই থেকে নিজস্ব স্টাইলের পশ্চিমা ধনতন্ত্রই চর্চা করে আসছে দেশটি। কিন্তু এত বছর পর দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি জোসেফ স্ট্যালিনের মূর্তি উন্মোচন করল। অথচ ক্রেমলিন থেকে তাদের কোনো বাধা দেয়া হয়নি। বিবিসি

নতুন নেতার সন্ধানে লেবার পার্টি

নির্বাচনে ভরাডুবির পর পরাজয়ের গ্লানিতে পদত্যাগ করেছেন লেবার পার্টির প্রধান এড মিলিব্যান্ড। ডেপুটি প্রধান হারিয়েট হারমান সাময়িকভাবে দলের নেতৃত্ব দেবেন। ততদিনে দলীয়ভাবে নির্বাচিত হবেন লেবার পার্টির নতুন নেতা। বিশ্লেষকরা বলছেন ২০১০ সালে ব্যর্থতার পর নতুন করে জনগণের কাছে বিমুখ হওয়া লেবার পার্টিকে গুছিয়ে উঠতে এক দশক লেগে যেতে পারে। কিন্তু কে দলকে নতুন করে সাজিয়ে সাফল্যের অভিমুখে নিয়ে যাবেন কে? সম্ভাব্য নেতৃত্ব এখানে তুলে ধরা হল।
ডেভিড মিলিব্যান্ড
ডেভিড ক্যামেরন ও এড মিলিব্যান্ডের যৌথ দক্ষতা রয়েছে কি ডেভিড মিলিব্যান্ডের? নামের শুরুতে ক্যামেরনের অংশ থাকলেও তিনি এড মিলিব্যান্ডের বড় ভাই ডেভিড মিলিব্যান্ড। ২০১০ সালে দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে এড মিলিব্যান্ডের কাছে সামান্য ব্যবধানে হেরেছিলেন তিনি।
দুই ভাইয়ের মধ্যে রেষারেষি ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তারপর রাজনীতি ছেড়ে নিউইয়র্কভিত্তিক দাতব্য সংস্থা আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর এক টুইটে তিনি বলেন, ‘প্রগতিশীল রাজনীতির পুনর্নির্মাণে দূরদর্শী সুচিন্তার প্রয়োজন।’ তবে তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে আবার ফিরছেন কিনা তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখিকা ও লেবার পার্টির বড় ডোনার জেকে রাউলিংয়ের টুইট বার্তা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দলের ভেতরে অনেকেই তাকে নেতা হিসেবে চান।
অ্যান্ডি বার্নহাম
গর্ডন ব্রাউনের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকারি কাজে বেশ দক্ষ। লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা ২০০১ সাল থেকে টানা এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ২০১০ সালে দলের প্রধান হতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু এড মিলিব্যান্ডের কাছে পরাজিত হন। দলের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী বলে বিবিসিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
চুকা উমুন্না
লেবার পার্টির একজন উদীয়মান তারকা চুকা উমান্না। ২০১০ সালে তিনি প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন এবং সেবারই শ্যাডো বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ নির্বাচনে প্রায় ১৪ হাজার ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সম্ভাব্য নেতা হিসেবে তাকে পেতে দলের অভ্যন্তরে প্রচারণাও চলছে।
ইয়েত্তে কোপার
গর্ডন ব্রাউন সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক ট্রেজারি প্রধান গত চার বছর শ্যাডো স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে কাজ করেছেন ইয়েত্তে কোপার। তার স্বামী এড বালসের এবার লজ্জাজনক পরাজয় ঘটেছে। এ সুযোগে দলের নেতৃত্বে আসতে চান তিনি।
এছাড়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড্যান জারভিস, ইতিহাসবিদ-সাংবাদিক ত্রিসট্রাম হান্ট, লিজ কেন্ডাল, রাচেল রিভিসও দলের প্রধান হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

মানব সভ্যতার ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর সংঘাতের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। জার্মানির নাৎসি বাহিনীর আক্রমণে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এ যুদ্ধ। এতে ৭ কোটির বেশি মানুষ ও সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটে। ইতিহাসের আয়নায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি এখানে তুলে ধরা হল।
৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ : মিউনিখ চুক্তি
১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিলি চেম্বারলেইন ইউরোপকে যুদ্ধমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেন। ইউরোপে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর আগ্রাসন রুখতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে জার্মানি অস্ট্রিয়া দখল করে নেয় এবং চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে সুদাতেনল্যান্ড দাবি করে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মিউনিখ চুক্তি অনুসারে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদাতেন অঞ্চল জার্মানিকে হস্তান্তর করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তার বিনিময়ে হিটলার আর কোনো ভূমি দখল করবেন না বলে প্রতিশ্র“তি দেন।
কিন্তু সাতমাস পরে ১৯৩৯ সালের ১৫ মার্চ হিটলার সমগ্র চেকোস্লোভাকিয়া আক্রমণ করে দখল করেন।
১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : পোল্যান্ড আক্রমণ
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ১৫ লাখ জার্মান সেনা সীমান্তে অবস্থান নেয় ও ১৩০০ যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডে বোমা ফেলে পুরো দেশকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে।
৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা
১৯১৮ সালের ভার্সাই চুক্তি অনুসারে পোল্যান্ডকে রক্ষার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তবে হিটলারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা কিছুই করতে পারেনি।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : রাশিয়ার হামলা
হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করতে পারে এই আশংকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ব দিক থেকে পোল্যান্ডে হামলা করে রুশ বাহিনী।
৩০ নভেম্বর ১৯৩৯ : সোভিয়েত-ফিনল্যান্ড যুদ্ধ
সোভিয়েত ইউনিয়ন সৈন্যরা লিথুনিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ায় প্রবেশ করার পর ফিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ নিলে ফিনল্যান্ড প্রচণ্ডভাবে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করার ভেতর দিয়ে এ বিশ্বযুদ্ধ নতুন মোড় নেয়।
৯ এপ্রিল ১৯৪০ : নরওয়ে ও ডেনমার্ক আক্রমণ
নরওয়ে ও ডেনমার্কে আগ্রাসন চালিয়ে জার্মান বাহঘিনী নারভিকসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বিমানবন্দর দখল করে নেয়।
১০ মে ১৯৪০ : জার্মানির
ফ্রান্স আক্রমণ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেইনের সংযতকরণ নীতি ব্যর্থ হলে ১৯৪০ সালের ১০ মে পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতায় আসেন উইনস্টন চার্চিল। এদিন জার্মানি ফ্রান্স আক্রমণ করে বসে।
১০ জুলাই ১৯৪০ : ব্রিটেনে যুদ্ধ
হিটলার এবার ব্রিটেন আক্রমণ করে। স্থল হামলার আগে ব্রিটিশ রয়্যাল বিমান বাহিনীকে বিধ্বস্ত করে ফেলে। নিহত হয় প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। মাত্র ২৪ রাতে ৫৩০০ টন উচ্চ বোমা ফেলা হয় লন্ডনে।
২২ জুন ১৯৪১ : জার্মানির সোভিয়েত আক্রমণ
১৯৪১ সালের ২২ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেন হিটলার। ইতালি, রোমানিয়া ও ফিনল্যান্ডের সহায়তায় প্রায় ৩০ লাখ জার্মান সেনা রাশিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। লক্ষাধিক ইহুদিকে হত্যা করে।
৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ : পার্ল হারবার আক্রমণ
জার্মানির মিত্র জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমা নিক্ষেপ করে। এর প্রতিশোধে বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ : স্টালিনগার্ডে জার্মানির আত্মসমর্পণ
১৯৪২ সালে রাশিয়ার স্টালিনগার্ডে জার্মানির একটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
৬ জুন ১৯৪৪ : ডি ডে
দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে ডেনমার্ক এলাকায় জার্মান বাহিনীকে বিস্মিত করে আতর্কিত হামলা চালায় ব্রিটেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনী। এর মাধ্যমে ফ্রান্সকে পুনরায় স্বাধীন করা হয়।
৮ মে ১৯৪৫ : জার্মানি পরাজিত
দুনিয়া দখলের হিটলারি স্বপ্ন চুরমার হয়ে ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
৬-৯ আগস্ট : পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ
পার্ল হারবারে হামলার প্রতিশোধে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দুটো পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এতে শহর দুটি ধ্বংস হয়ে যায়।
১৪ আগস্ট ১৯৪৫ : যুদ্ধ শেষ
অবশেষে ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

নেপালের পাশে রোনাল্ডো

নেপালের ভূমিকম্পের ভয়াবহতা স্পর্শ করেছে ক্রীড়াবিশ্বের তারকাদের। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নেপালের ভূমিকম্পে ৭ মিলিয়ন ইউরো দান করেছেন। এর আগে সেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। মেসি, সুয়ারেজ, রোনাল্ডো, বেনজেমা, নেইমাররা নেপালের ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লা লীগায় নিজ নিজ ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার আর্থিক সহায়তা দিলেন রোনাল্ডো। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি ৩০ বছর বয়সী ব্যালন ডি অরজয়ী রোনাল্ডো সাত মিলিয়ন ইউরো দান করলেন। এই প্রথমবারের মতো তিনি সাহায্যের হাত বাড়াননি। এর আগে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন সিআর সেভেন। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্তদেরও সাহায্য করেছিলেন রোনাল্ডো। ওয়েবসাইট।