Tuesday, September 8, 2026

টানা এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলে কী হয়, জানেন?

সুস্বাদু স্ন্যাক হিসেবে পপকর্ন দারুণ জনপ্রিয়। মাঝেমধ্যে প্রিয়জনদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে দেখতে হয়তো আপনি পপকর্ন খান। কিন্তু রোজই যদি খেতে থাকেন এই স্ন্যাক, কী হবে তখন? টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খানকে প্রশ্নটি করেছিলেন রাফিয়া আলম

পপকর্ন হলো ভুট্টার খই। তাই ভুট্টার পুষ্টিগুণ মিলবে এই স্ন্যাক থেকে। থায়ামিন, নায়াসিন, পাইরিডক্সিন অর্থাৎ ভিটামিন বির বিভিন্ন ধরন আপনি পেতে পারেন পপকর্ন থেকে। আরও পাবেন অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান।
এ ছাড়া পপকর্নে পাবেন কিছুটা আমিষ। এতে আরও আছে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, জিংক, কপারসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পপকর্ন থেকে আপনি পাবেন প্রচুর আঁশ।
তবে বিপত্তি বাধে পপকর্ন তৈরির সময় তাতে যোগ করা কিছু অস্বাস্থ্যকর উপাদানের কারণে। তাই আপনি একটানা এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলে কী ঘটতে পারে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কোন পপকর্ন খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন, তার ওপর।

পুষ্টি ও তুষ্টি

এক সপ্তাহ একটানা পপকর্ন খেলে এর আঁশের কারণে আপনার কোষ্টকাঠিন্যের ঝুঁকি কম থাকবে। আপনার অন্ত্রে বসবাসকারী উপকারী জীবাণুরাও পুষ্টি পাবে এই আঁশ থেকে। তাই আপনার পেটের পীড়ায় ভোগার ঝুঁকি কমবে।
পপকর্ন আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় তা খেলে আপনার পেট ভরা থাকবে বেশ কিছুটা সময়। এ ছাড়া পপকর্ন সুস্বাদু এবং মুচমুচে হওয়ায় এই স্ন্যাক খেলে তৃপ্তি পাবেন সহজে। তাই আপনার পক্ষে অন্যান্য উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে আপনার জন্য। এ ছাড়া পপকর্নের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের উপকারও পাবেন।
তাই স্বাস্থ্যকর তেল, যেমন জলপাই তেল বা অ্যাভোক্যাডো তেল দিয়ে বানানো পপকর্ন, যাতে অন্য কোনো অস্বাস্থ্যকর উপাদান নেই, তা একটানা এক সপ্তাহ খেলে ক্ষতি নেই।

যদি থাকে অস্বাস্থ্যকর তেল

তবে যদি এমন পপকর্ন খান, যাতে অস্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে আপনি পড়বেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কক্ষ তাপমাত্রায় জমাট বেঁধে যায়, এমন তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে এমন তেলের খাবার খেলে।
এমনটা অবশ্য নয় যে আপনি এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলেই আপনি এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হবেন বা ঝুঁকি বাড়বে। তবে একটানা অস্বাস্থ্যকর তেল খাওয়া হলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও যা

* চিনি বা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া টপিং দেওয়া থাকলে সেই পপকর্নের কারণেও আপনার দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

* কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক মিশ্রিত পপকর্নেও বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

* মাইক্রোওয়েভ ওভেনে সরাসরি প্যাকেট বসিয়ে যে পপকর্ন তৈরি করা হয়, তা ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এতে প্লাস্টিকের মতো অনমনীয় উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান সহজে ভাঙে না এবং খাবারে মিশে ঢুকে যেতে পারে আমাদের দেহে।

* তবে স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি করা পপকর্নও অতিরিক্ত খেলে আপনি রোজকার প্রয়োজনীয় খাবারে রুচি বা আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে অন্যান্য বহু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সুস্বাদু স্ন্যাক হিসেবে পপকর্ন দারুণ জনপ্রিয়
সুস্বাদু স্ন্যাক হিসেবে পপকর্ন দারুণ জনপ্রিয়। ছবি: পেক্সেলস

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

আল–জাজিরাঃ ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় মাত্র ৭৭টি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়েছে।

জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।

কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে।

অন্যদিকে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকে এই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল শুরু হবে। অঞ্চলটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়ানো থাকবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নাম পাল্টে ফেলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রণালিটির নাম পাল্টে নিজের নামে, অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো এভাবেই চোখে পড়ে। ১৫ জুন ২০২৬
ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো এভাবেই চোখে পড়ে। ১৫ জুন ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধে জড়ালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ কেন বাড়তে পারে

মিডলইস্ট আইঃ দক্ষিণ কোরিয়া যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে যোগ দেয়, তাহলে তেহরান দেশটিকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে তেহরান হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মারানদি।

লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় মারানদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন করার প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে দেশটির সম্পদ ও স্থাপনা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। ইরান সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যবস্তু সব সময় সামরিক স্থাপনাই হবে, এমনটা না–ও হতে পারে। সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মারানদি বলেন, ‘তাই ইরানের সামনে কোরীয়রা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইরান তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল পুনরায় অবাধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে নিজেদের নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।

এ বিষয়ে গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়, সামরিক সহায়তার বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, যুদ্ধবহির্ভূত ভূমিকা এবং অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিউল ওই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং রসদ সরবরাহে সহায়তার জন্য একটি জাহাজ পাঠানো।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সামরিক সদস্যদের নতুন কোথাও মোতায়েনের যেকোনো সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর মন্ত্রিসভার একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হতে হবে। সবশেষে জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিভিন্ন প্রচেষ্টায় যোগ দিতে ওয়াশিংটন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিউলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এই বিরোধকে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোটের বৃহত্তর টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত বছর দেশটির আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬১ শতাংশ এবং ন্যাফথার ৫৪ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসেছে।

ন্যাফথা হলো পেট্রোলিয়াম শোধনের সময় পাওয়া একটি হালকা তরল হাইড্রোকার্বনজাত পদার্থ। এটি এক ধরনের জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এটি। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ন্যাফথা ব্যবহার হয়।

মারানদি বলেন, (দক্ষিণ কোরিয়ার) সম্ভাব্য এই সহায়তা যুদ্ধে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার মতো সামরিক সক্ষমতা দক্ষিণ কোরিয়ার খুব বেশি নেই বলেও তাঁর মত।

মারানদি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার একটি-দুটি জাহাজ কী-ই বা করতে পারবে? এটা নিছকই বোকামি।’ তবে দক্ষিণ কোরিয়া যদি সত্যি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে এর পরিণতি মারাত্মক হবে বলে সতর্ক করেছেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘ইরান শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোও ইরান সহজেই ধ্বংস করতে সক্ষম।’

ওয়াশিংটনের চাপে দক্ষিণ কোরিয়া ২০১৯ সালে সোমালিয়া থেকে জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের মোতায়েন হরমুজ প্রণালির আশপাশের জলসীমা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্চ মাসে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ওই ইউনিটের দায়িত্বে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ং থেকে একটি সামরিক শিবিরে মার্কিন সেনাবাহিনীর এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ২১ আগস্ট ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ং থেকে একটি সামরিক শিবিরে মার্কিন সেনাবাহিনীর এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ২১ আগস্ট ২০২৬ ছবি: এএফপি

আয়শা ওয়াহাবের বিজয় আমেরিকার যে চেহারা তুলে ধরে by সালেহ উদ্দিন আহমদ

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আমরা যে খবর পড়ি, তার প্রায় সবই নেতিবাচক। ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগান যুদ্ধ এবং চলমান ইরান যুদ্ধ কোনোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম বাড়ায়নি। গাজায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইসরায়েলকে ধ্বংসের মদদ জুগিয়েছে, তা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এসব নিয়ে আমিও অনেক সমালোচনামূলক কলাম লিখেছি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রর সবই কি নেতিবাচক? সবকিছুই কি সমালোচনার বিষয়? যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভালো ও ইতিবাচক দিকগুলো আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই। নানাভাবে সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আরেক যুক্তরাষ্ট্র আছে, যার উন্মুক্ত সুযোগ–সুবিধা অনেক আলোচনা থেকেই বাদ পড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধ, আধিপত্য ও ট্রাম্পের খামখেয়ালি নীতির ধারক নয়। যুক্তরাষ্ট্র মানুষের স্বপ্ন গড়ারও দেশ। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে মানুষ আসে এখানে স্বপ্ন গড়তে। কে কার ছেলে, কার মেয়ে, কোথা থেকে এসেছেন, এসব কোনো ব্যাপার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ নিজ নিজ মেধা দিয়ে নিজের স্বপ্ন গড়ে তোলে।

একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট ম্যাকডোনাল্ডে কাজ করেছেন প্রথম সাত বছর, এখন তিনি বারোটা ম্যাকডোনাল্ডের মালিক। যাঁরা পেশাজীবী নন, তাঁদের অনেকেই ট্যাক্সি চালিয়ে বা ছোটোখাটো কাজ করে বাড়ি-গাড়ি কিনে ছেলেমেয়েদেরকে ভালো কলেজে পড়াচ্ছেন। তবে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আইন মেনে আসতে হয় এবং আইন মেনে চলতে হয়।

বাংলাদেশিরা নিউইয়র্ক শহরের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, পার্কচেস্টার এবং ব্রুকলিনের চার্লস ম্যাকডোনাল্ডে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট বাংলাদেশ, তাঁরা সবাই নিজেদের পরিশ্রম দিয়ে কুড়িয়ে নিচ্ছেন নিজেদের সাফল্য। পৃথিবীর কোন জায়গায় বাংলাদেশিরা পাবেন এই সুযোগ?

সুন্দর পিচাই ভারতের তামিলনাড়ুর এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তাঁর বাড়িতে একমাত্র ইলেকট্রনিকস যন্ত্র ছিল, একটা পুরোনো সাদাকালো টেলিভিশন। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করে তিনি এখন গুগলের সিইও, তাঁর তিন বছরের পারিশ্রমিক প্যাকেজ ৬৯২ মিলিয়ন ডলার। অন্য দেশ থেকে আসা অসংখ্য পেশাজীবী মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, যাঁদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনীতিতেও আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলমান অধিবাসী এবং তাঁদের সন্তানেরা দারুণভাবে উৎসাহিত এবং নিজেদের অবদান রাখছেন। তাঁদের অনেকেই মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন।

বাংলাদেশি বংশধর রাজনীতিবিদেরাও পিছিয়ে নেই। হ্যানসেন ক্লার্ক প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, যিনি ২০১১ সালে মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নুসরাত জাহান চৌধুরী এখন একজন ফেডারেল বিচারপতি।

বিভিন্ন রাজ্যের সিনেটর হিসেবেও বেশ কয়জন নির্বাচিত হয়েছেন—শেখ রহমান (জর্জিয়া), নাবিলা ইসলাম (জর্জিয়া), সাদ্দাম সালিম (ভার্জিনিয়া) এবং আবুল খান (নিউ হ্যামশায়ার) তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

উগান্ডা থেকে আগত এক অভিবাসী পরিবারের সন্তান জোহরান মামদানিকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্ক শহরের নির্বাচিত মেয়র।

এটাই শুধু তাঁর পরিচয় নয়। মামদানি যে প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক, তাঁকে অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যেও আরও অনেক প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন এবং তাঁদের বেশ কয়জনের সাফল্য নিশ্চিত।

তাঁদের মধ্যে একজন আবদুল আল-সাইয়েদ, এক মিসরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান, যিনি মিশিগানে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়লাভ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জনমত জরিপে বর্তমানে তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।

নভেম্বরে যদি তিনি সিনেটর নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে আবদুল আল-সাইয়েদই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান সিনেটর।

আজকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন মুসলমান রাজনীতিবিদকে নিয়ে কথা বলব, তাঁর নাম ড. আয়শা ওয়াহাব। তিনি এক আফগান শরণার্থী দম্পতির মেয়ে, যিনি ছোটকালে মা-বাবা হারিয়ে এক ফস্টার কেয়ারে (সরকারি তত্ত্বাবধানে পালিত হওয়ার ব্যবস্থা) বড় হয়েছেন। আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একজন সম্মানিত সদস্য।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার এক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য পদত্যাগ করাতে যে আসনটি খালি হয়, সেখানে বিশেষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আয়শা ওয়াহাব কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জয় সহজ ছিল না। তাঁকে পরাজিত করার জন্য ইসরায়েলি লবি আইপাক চার মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪ কংগ্রেস এলাকা সান ফ্রান্সিসকোর জনগণ আয়শা ওয়াহাবকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করেন তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে। এটা শুধু আয়শা ওয়াহাবের জয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির এক বিরাট জয় এবং ইসরায়েলি লবি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি যে হারে সমর্থন হারাচ্ছে, তার একটা বড় উদহারণ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর অভিবাসী ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং প্রাথমিক নির্বাচন করে বড় দলগুলোর মনোনয়ন পাচ্ছেন। তাঁদের সাফল্য গর্ব করার মতো।

আফগানিস্তানে এখন মেয়েদের চলাফেরা অনেক সীমাবদ্ধ, লেখাপড়ার সুযোগ আরও সীমিত। আয়শা ওয়াহাব যদি আফগানিস্তানে বড় হতেন, তাহলে আজ আয়শার মেধা ও স্বপ্ন কোনোটাই বিকশিত হওয়ার সুযোগ হতো না।

১৯৮৭ সালে নিউইয়র্কে আয়শা ওয়াহাবের জন্ম। তাঁর বাবা-মা ছিলেন আফগান শরণার্থী। আয়শার খুব অল্প বয়সেই তাঁর বাবা আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান এবং এর কিছুকাল পরেই তাঁর মা মারা যান। এরপর আয়শা ও তাঁর বোনকে ফস্টার কেয়ারে নেওয়া হয়; পরবর্তী সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আফগান পরিবার তাঁদেরকে দত্তক নেয়।

আয়শা ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনী রাজনীতিতে আসার আগে আয়শা প্রযুক্তি খাত, অলাভজনক সংস্থা এবং সামাজিক ও জনস্বার্থমূলক প্রচারণায় কাজ করেছেন।

তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় অবস্থিত হেওয়ার্ডে স্থানীয় রাজনীতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনবিষয়ক প্রচারণায় ক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে তিনি হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিক কংগ্রেস নির্বাচনে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে আয়শার মতামত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক ফোরামে তিনি বলেছিলেন যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যা ঘটছে, তাকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবেই বিবেচনা করেন।

তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ অবশ্য তাঁর সঙ্গে একমত হননি। হার্নান্দেজও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য, তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য ইসরায়েলি লবি আইপাক বিপুল অর্থ ব্যয় করে। আইপাকের এই অর্থব্যয় বিফলে গেল, আয়শা ওয়াহাবই নির্বাচনে জয়লাভ করলেন।

এই জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে প্রগতিশীল ও ইসরায়েলি সমর্থক অংশের মধ্যকার বৃহত্তর দ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন। এইবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী কুপোকাত হয়েছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এখন দুই–তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত ইসরায়েলে অস্ত্রশস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীলেরা, বিশেষ করে মুসলমান রাজনীতিবিদেরা মার্কিন জনমতের সুযোগ নিয়ে এইবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক ভালো করতে পারবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আশা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেও বাহবা দিতে হয়—ইলহাম ওমর, রাশিদা তালিব, লতিফ সাইমন, গাজালা হাশমি, জোহরান মামদানি, আবদুল আল-সাইয়েদ, আয়শা ওয়াহাবের মতো অপরিচিত নামের মুসলমান প্রার্থীদের ভোট দিয়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন, বিশেষভাবে ইসরায়েলি লবি ও রিপাবলিকান পার্টি যখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনবরত বিষোদ্‌গার করছে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই তা সম্ভব, এই যেন আরেক যুক্তরাষ্ট্র!

* সালেহ উদ্দিন আহমদ। শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সেনেটর আয়েশা ওয়াহাব
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সেনেটর আয়েশা ওয়াহাব। এএফপি

শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না: কাতার

সৌদি গেজেটঃ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করতে পারে না। নিরাপত্তার জন্য নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দেশগুলোকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। আজ সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এ কথা বলেছেন।

আজ আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে আল-আনসারি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মতো হুমকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে এ অঞ্চলের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানের হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে উপসাগরীয় দেশগুলো সেই হামলার ধাক্কা সফলভাবে সামাল দেওয়ায় তাদের প্রশংসা করেন আল-আনসারি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট যথেষ্ট নয়।

হিলি ফোরামে আল-আনসারি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।’

আল-আনসারি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। হ্যাঁ, আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজন আছে। হ্যাঁ, আমাদের মিত্রদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তার জন্য শুধু তাদের ওপর নির্ভর করতে পারি না।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশটি ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে কয়েক দফায় বড় ধরনের হামলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। পুরো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে ইরান।

ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি তেহরান সফর করেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপ কি পালাবদলের পথে

নিউইয়র্ক টাইমসঃ জার্মানির পূর্বাঞ্চলের একটি রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জয় আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে সাফল্য পেতে মরিয়া কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে নতুন করে শক্তি জোগাবে।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে গত রোববারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় এএফডি। সেই ফলের প্রভাব লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। ইউরোপের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার নজির খুব কম।

কারণ, এটি ইউরোপের অন্য কোনো দেশ নয়—জার্মানি। নাৎসিবাদের বিপর্যয়কর ইতিহাসের পর দেশটি বরাবরই কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছে। এবারের ফল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক দশক ধরে ইউরোপে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তারা ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। এই নির্বাচন সেই ধারার সর্বশেষ ধাপ।

আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এএফডির বড় সাফল্য সামনে কট্টর ডানপন্থীদের আরও জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে। একই সঙ্গে কীভাবে এমন জয় পাওয়া যায়, তার একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে দলটি।

এএফডির জনতুষ্টিবাদী ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্যের মিল রয়েছে। এসব দেশের ভোটারদের মধ্যেও জার্মান ভোটারদের মতোই অনেক ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

আগামী বসন্তে ফ্রান্সের ভোটাররা নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। আগামী আগস্টের মধ্যে স্পেনে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ ইতালিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তিন দেশেই কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন বাড়ছে। ভোটারদের অনেকে অর্থনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করছেন। এতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অবস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান বলেন, ‘উন্নত ইউরোপ একধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না। ভোটারদের চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।’

দ্রব্যমূল্য ও বেকারত্বের প্রভাব

জার্মানিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি।
তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই যে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে দলটি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে ব্যর্থ হতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো আগেই জানিয়েছে, তারা এএফডির সঙ্গে জোটে সরকার গঠন করবে না। দলটির কয়েকজন নেতা নাৎসি স্লোগান ব্যবহার করেছেন এবং হলোকাস্টের গুরুত্ব খাটো করে দেখিয়েছেন। জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন’ উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর একটি কারণ হলো, দলটি অভিবাসী পরিবারের জার্মান নাগরিকদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে তুলে ধরে।
তারপরও এএফডির এই ফল চ্যান্সেলর মের্ৎসকে বিপদে ফেলতে পারে। নিজের দলের সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য তাঁকে দায়ী করলে তাঁর নেতৃত্ব আরও দুর্বল হবে। এমনিতেই ইউরোপে জার্মানির নেতৃত্ব আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

মের্ৎসের অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রকাশ্যেই তাঁর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। জার্মানির রাজনীতিতে একসময় এমন পরিস্থিতি প্রায় অকল্পনীয় ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুজতবা রহমান বলেন, ‘এটি ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একজন চ্যান্সেলর যখন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য হন, তখন জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ইউরোপের সমস্যাগুলো মোকাবিলার সামর্থ্যও শেষ পর্যন্ত কমে যায়।’

কট্টর ডানপন্থীদের নিয়ে দুই ধরনের ধারণা

নির্বাচনের ফল ইউরোপীয়দের মধ্যকার একটি বড় বিভাজনও সামনে এনেছে। এক পক্ষ কট্টর ডানপন্থীদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ মনে করেন, কট্টর ডানপন্থীরাই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে।

প্রথম পক্ষের আশঙ্কা, কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দুর্বল করে দেবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করবে। অন্য পক্ষ মনে করে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অভিজাত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই অভিজাতরা জাতীয় পরিচয় দুর্বল করেছে এবং মানুষের জীবিকা বিপদের মুখে ফেলেছে।

ফ্রান্সে লো পেনের সম্ভাবনা

ফ্রান্স নিয়ে মধ্যপন্থীদেরও উদ্বেগ কম নয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ আগামী বসন্তে দায়িত্ব ছাড়বেন। দেশটির প্রধান কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‌্যালির প্রার্থী মারিন লো পেন প্রথম দফার জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি দ্বিতীয় দফার জরিপেও তিনি প্রথম হয়েছেন।

লো পেন ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। এবার তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ক্ষমতার বেশি কাছে পৌঁছে গেছেন।

মুজতবা রহমানের মতে, প্যারিসে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে, যা অন্য কোনো দেশের নির্বাচনের ফলে হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, ফ্রান্স একটি বড় দেশ। তার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি এটি।

ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে তথাকথিত ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতিরও অবসান ঘটতে পারে। এই নীতির কারণে ফ্রান্স ও জার্মানির মূলধারার দলগুলো এত দিন কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট বা সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফরাসি ও ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ের বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশেই যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য টিকে ছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।’

স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি

বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্পেনের পরবর্তী জোট সরকারে কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি জায়গা করে নিতে পারে। বিভিন্ন দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও অভিবাসনসংকটের কারণে বর্তমানে ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সুবিধা করতে পারছিল না ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। এ পরিস্থিতিতে জনসমর্থন হারানো প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তাই গত জুলাইয়ে সরিয়ে দেয় দলটি।

তবে কট্টর ডানপন্থীদের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না, বিষয়টি এমনও নয়। রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয় নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠছে। এতে দলটির সাফল্যের গতি হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই সুযোগে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতি সামলানোর কিছুটা সময় পেয়েছে।

হাঙ্গেরিতে অরবানের পরাজয়

গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে পরাজিত হন। ব্যাপকভাবে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁর সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, অর্থনীতির প্রতি উদাসীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধে জড়িয়েছে।

অরবানের ফিদেস পার্টির পরাজয় ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিকদের আশাবাদী করেছে। তাঁরা মনে করছেন, কট্টর ডানপন্থীরাও নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাজনীতির অধ্যাপক টিমোথি বেল বলেন, এএফডির সাফল্য নিয়ে মূলধারার রাজনীতিকদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন, তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক আচরণ করে কি না এবং দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাতে পারে কি না—সেটিই হবে দেখার বিষয়।

মেলোনির কৌশল

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জনতুষ্টিবাদী দলের শিকড় নব্য ফ্যাসিবাদে। তবে ক্ষমতায় এসে তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিষয়ে নিজের অবস্থান অনেকটা নরম করেছেন। তাঁর সরকার সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের রেকর্ড গড়েছে।

আগামী গ্রীষ্মের নির্বাচনে সেই মেয়াদ আরও বাড়ানোর মতো অবস্থানে রয়েছেন মেলোনি। কিন্তু তাঁর চেয়েও ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে অভিবাসনের মতো বিষয়ে মেলোনি আবারও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।

গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অভিবাসী স্পেনের একটি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এ ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কঠোর সমালোচনা করেন মেলোনি।

ফারাজকে আরও ডান দিক থেকে চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজও একই ধরনের চাপে পড়তে পারেন। তাঁর দলের অসন্তুষ্ট সদস্য রুপার্ট লো দল ছেড়ে আরও ডানপন্থী একটি নতুন দল গঠন করেছেন। দলটি ফারাজের সমর্থকদের একটি অংশকে নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে।

অধ্যাপক টিমোথি বেলের মতে, আরও ডানপন্থী দলের প্রতিযোগিতা এবং রিফর্ম ইউকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের কারণে ফারাজের সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট ভোট জোগাড় করা কঠিন হবে।

ফ্রান্সে মধ্যপন্থীদের বিভক্তিই লো পেনের সুযোগ

ফ্রান্সে মারিন লো পেনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত। জনমত জরিপে তাঁর সমর্থন শীর্ষস্থানীয় মধ্যপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ কিংবা শীর্ষস্থানীয় কট্টর বামপন্থী প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এদুয়ার ফিলিপ বা অন্য কেউ মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থীদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন সংগ্রহ করতে পারবেন কি না। তাঁদের মধ্য থেকে মূলধারার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থী উঠে এলে দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি লো পেনকে হারানোর সুযোগ পাবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

কিন্তু ফ্রান্সের মধ্যপন্থীরা এখনকার মতো বিভক্ত থাকলে মেলঁশনের দ্বিতীয় দফায় ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন লো পেন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। লড়াই এমনটি হলে লো পেনই হবেন জয়ের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী।

ট্রাম্পের প্রভাব কতটা

ইউরোপের অন্য কট্টর ডানপন্থী নেতাদের মতো লো পেনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তারপরও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড লো পেনসহ ইউরোপের অন্য জনতুষ্টিবাদী প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে থাকতে পারে।

ইউরোপে ট্রাম্প এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।

মুজতবা রহমান বলেন, ইউরোপের চাপে থাকা মধ্যপন্থীরা আশা করছেন, ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। সেই শিক্ষা হলো, মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা করতে গেলে ভুল করার ঝুঁকি থাকে।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনের পর ম্যাগডেবার্গে এএফডির নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দলটির নেতা অ্যালিস ভাইডেল। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনের পর ম্যাগডেবার্গে এএফডির নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দলটির নেতা অ্যালিস ভাইডেল। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

মিডল ইস্ট আইঃ অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার (আজ) এ নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

হোয়াইট হলের সূত্রের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এখন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য সেটা মেনে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইসিজের ওই নির্দেশনায় ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করে পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছিল।

ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এখন যুক্তরাজ্য সরকারের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ব্যবসায়িক খাতে যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোমবার বলেন, সব দেশেরই বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তারা এ পরিস্থিতিকে (বসতি স্থাপন) বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। এটি শুধু পছন্দের বিষয় নয়। এটি টিকিয়ে রাখতে কোনো সহযোগিতাও করা যাবে না।

ফ্রান্সেসকা আলবানিজ আরও বলেন, অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির ক্ষেত্রে একটি ‘প্রকৃত পরিবর্তনের’ অংশ হতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।

লেবার মুসলিম নেটওয়ার্ক (এলএমএন) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (আইসিজেপি) গত সপ্তাহে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যাতে অর্থনৈতিক আর আর্থিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের ‘পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা উচিত। সেই সঙ্গে অবৈধ বসতির অর্থনীতিকে সহায়তা করে এমন কোনো কাজ করতে দেওয়াও ঠিক হবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের শুধু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখালেই চলবে না, বরং জেনেভা সনদের আওতায় যেকোনো পরিস্থিতিতে এর প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলিদের নতুন ই-ওয়ান বসতি স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে বেশ আলোচনা–সমালোচনা চলছে। এ প্রকল্প অধিকৃত পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করতে চলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। ঠিক এমন একটি সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সামনে এল।

সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এরই মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলও দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন, বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নয়; বরং আর্জেন্টিনার।

ইয়ার নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কোনো মন্ত্রী নন, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও নন। তারপরও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইয়ারের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান আবার ভেবে দেখতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার জিবি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, আর্জেন্টিনা যদি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ করে বসে, সেই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যকে সমর্থন করবেন না তিনি। ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যখন ইরানের ভূখণ্ডে হামলা শুরু করেছিল, তখন আপনাদের দেশ আমাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, দ্বীপপুঞ্জে তাঁর দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত’ হয়েছে। মিলেই বলেন, তাঁর দেশ সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

জাতির উদ্দেশে গত শুক্রবার সকালে দেওয়া ভাষণে হাভিয়ের মিলেই বলেন, যেসব তেল কোম্পানি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে খনন করতে চাইবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে সেখানে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।

এর আগে গত এপ্রিলে ফাঁস হওয়া পেন্টাগনের একটি মেমো থেকে জানা যায়, লন্ডনের সঙ্গে দর–কষাকষিতে ফকল্যান্ডকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড গত সপ্তাহের শেষের দিকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র একটি বৈঠক থেকে বের হলাম। যাঁরা গাজায় গিয়েছেন এবং এখনো সেখানে সরাসরি কাজে যুক্ত আছেন; তাঁদের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললাম। সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে সেটা ভয়াবহ।’

দৃঢ় কণ্ঠে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে, যেমনটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগের চেয়ে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মিলিব্যান্ডের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক দর্শকদের জন্য ভিডিও বানানোর সময় সত্যের দাম কমই থাকে।’

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, ‘ব্রিটিশরা পাগল হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের ইহুদিবিদ্বেষ সীমা ছাড়িয়েছে এবং তারা কোনো সত্য মানছে না।’

উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড নিজেও একজন ইহুদি। মিলিব্যান্ডের মা ও বাবা হলোকাস্টে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ) পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন।

নতুন বসতি ‘মালে আরুগোত’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি ইসরায়েলি পরিবারের সদস্যরা। পশ্চিম তীরের গুশ এতজিয়নে, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বসতি ‘মালে আরুগোত’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি ইসরায়েলি পরিবারের সদস্যরা। পশ্চিম তীরের গুশ এতজিয়নে, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পেন্টাগনের অস্বীকৃতি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবার উপযুক্ত বেতন ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার মুখে পড়েছে। কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় কিছু সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

লিবি ক্লিনার নামে এক বিধবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরানবিরোধী অভিযানে নিহত তার স্বামী মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের মৃত্যুর পর অতিরিক্ত কিছু সুবিধার জন্য তিনি যোগ্য নন বলে তাকে জানানো হয়েছিল। ৩৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স মার্চে পশ্চিম ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ছয় সদস্যের একজন ছিলেন। বিমানটি ইরানে মার্কিন হামলায় সহায়তা করছিল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ছয় মাসের বেশি সময়ে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৮০ জন আহত হয়েছেন।

ক্লিনার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘আমার স্বামী যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর আমাকে বলা হলো, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ নয় বলে আমরা একটি সুবিধা হারাচ্ছি।’

তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি পরিষ্কার করে। কর্মকর্তারা জানান, অ্যালেক্স ক্লিনারের শেষ বেতন-ভাতায় ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত অর্থ এবং যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর ছাড় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, শুরুতে ক্লিনারকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তার শেষ বেতন-ভাতায় মাসে ২২৫ ডলারের ‘কমব্যাট পে’ও ছিল। এটি পাওয়ার জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা প্রয়োজন হয় না। তবে বেতনভাতায় অর্থটি ভুলভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল।

ক্লিনার বলেন, শোকাহত একটি পরিবারের জন্য সরকারি বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস, পরিভাষা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অধিকার বুঝে নেওয়া কতটা কঠিন, এই অভিজ্ঞতা তা স্পষ্ট করেছে।

তার মতে, কোনো ‘গোল্ড স্টার পরিবারকে’ সরকারি পরিভাষার বিশেষজ্ঞ হয়ে জানতে হবে না তারা কী সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। স্বামীর মৃত্যুর পর তার পরিবার দেখভাল করা হবে এমন বিশ্বাস নিয়েই অ্যালেক্স দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বেতন-ভাতা নিয়ে বিভ্রান্তি

মার্কিন সেনা সদস্যদের বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা নির্ভর করে তাদের দায়িত্ব, কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কী ধরনের কাজ করছেন এসব বিষয়ের ওপর। ফলে বছরে একাধিকবার তাদের বেতন-ভাতায় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে ভুল তথ্য বা হিসাবের জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।

ক্লিনার বলেন, এমন কঠিন সময়ে প্রতিটি শোকাহত পরিবার যেন শুরু থেকেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য বিষয়টি কোনো ‘ফুটনোট’ নয়; তাদের সেবা ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানোর অংশ হিসেবেই বিষয়টি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, সরকার ক্লিনারের পরিবারকে যতটা সম্ভব সহায়তা করতে চায় এবং তিনি যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।

‘এটা যুদ্ধ নয়’ বলছেন ভ্যান্স

ক্লিনারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স আবারও ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে আপত্তি জানান। তার দাবি, সেখানে বর্তমানে ‘সক্রিয় গোলাগুলি’ চলছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এর আগে বারবার ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলেছেন। পরে তিনিও ভ্যান্সের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, মার্কিন হামলা বিচ্ছিন্নভাবে চলছে।

ট্রাম্প বলেন, অনেকেই একে যুদ্ধ বলেন না। তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ঘটনা বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের পরিবার পেন্টাগনের বিরুদ্ধে সংঘাতে আহতদের প্রকৃত মাত্রা কম করে দেখানোর অভিযোগও তুলেছে। আহত সেনাদের যুদ্ধাহত হিসেবে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে সেনাদের আহত হওয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষ করে আহত সেনারা দ্রুত দায়িত্বে ফিরতে পারলে তাদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশে সামরিক বাহিনী সাধারণত ধীরগতিতে এগোয়।

এরই মধ্যে ইরানে নিহত কয়েকজন মার্কিন সেনার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রাম্প। নিহত লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহানের মা শারি ফিহান জানান, ট্রাম্প তার সঙ্গে একজন সন্তানহারা মায়ের মতো করে কথা বলেছেন এবং তার পরিবারের বিপর্যয় নিজের চোখে দেখেছেন।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

নিহত মার্কিন সেনাদের কফিনের পাশে অন্য সেনারা। ছবি : পেন্টাগন
নিহত মার্কিন সেনাদের কফিনের পাশে অন্য সেনারা। ছবি : পেন্টাগন

সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আবারও হামলা

সৌদি আরবের জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মাসে একই এলাকায় আরেকটি হামলায় প্রতিষ্ঠানটির শোধনাগারের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক মাসের মধ্যেই নতুন করে এ হামলা হলো।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানা গেছে, সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জিজানে সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে।

ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী জিজান অতীতেও ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো হুথিরা স্বীকার করেনি।

জিজানে প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় শোধনাগার রয়েছে। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত মাসে বলেছিলেন, আগের হামলায় কোম্পানিটির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।

সর্বশেষ হামলাটি গত মাসের হামলার কাছাকাছি মাত্রার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে হামলার খবরের মধ্যে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমে যাওয়ায় জিজান থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। তবে হুথিরা আবার হামলা শুরু করার পর সেই পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যায়।

কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে জিজান থেকে কোনো পরিশোধিত তেলজাত পণ্য পরিবহন করা হয়নি।

সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। সে সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে রিয়াদ তাদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়।

তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর জুলাই পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়নি। এরপর আবারও ইয়েমেনে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

তেহরানের কাছ থেকে উৎসাহ পাচ্ছে বলে মনে করা হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণার পর নতুন করে হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সপ্তাহান্তে উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর স্থল অভিযান শুরু করে। বাব আল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহাসিক মোখা বন্দর ও তাইজ শহরের আশপাশে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছেন। এতে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।

চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, হুথিদের নতুন অভিযান গত ছয় বছরের মধ্যে ইয়েমেনে সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের সূচনা করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীও পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।

তার মতে, ‘আমরা আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে এসেছি। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সংঘাত চলছে। সৌদিরা সরাসরি সংঘাত এড়াতে সবকিছু করছে, তবে তারাও এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির আগে হুথিরা নিয়মিত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাত। বেশির ভাগ হামলা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকিয়ে দিলেও কিছু হামলা জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছিল।

সূত্র : দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলার দৃশ্য। পুরোনো ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া
সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলার দৃশ্য। পুরোনো ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

ধনেপাতা কেন খাবেন, কীভাবে খাবেন by রাফিয়া আলম

খাবার ও পানীয়র স্বাদে বৈচিত্র্য আনে ধনেপাতা। পুষ্টিমানেও দারুণ। কী ধরনের পুষ্টি উপাদান মিলবে ধনেপাতায় আর কীভাবে খাওয়া হলে উপকার পাওয়া যাবে সবচেয়ে বেশি, তা জেনে নিন আজ। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম

ধনেপাতা এমনিতে শীত মৌসুমের ফসল। তবে এখন বছরজুড়েই পাওয়া যায়। সারা বছর যে ধনেপাতা পাওয়া যায়, তার স্বাদ ও ঘ্রাণ একটু আলাদা হলেও পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাকই থাকে। যে মৌসুমেই খাওয়া হোক, কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

যা পাবেন

ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার আর জিংক। আরও আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ ও কিছুটা আমিষ। এর জলীয় অংশও আমাদের দেহের কাজে আসে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে ধনেপাতা সহায়ক। এ ছাড়া ধনেপাতার স্বাদটাই এমন যে তা আমাদের লালার নিঃসরণ বাড়ায়। অর্থাৎ আমাদের হজমপ্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে ধনেপাতা।

যেভাবে খাওয়া হয়

অনেক ধরনের পদেই ব্যবহার করা হয় ধনেপাতা। মাছের তরকারিতে যেমন চুলা থেকে নামিয়ে নেওয়ার আগে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ধনেপাতা। কেউ দেন ডালে। দেওয়া যায় লাউ রান্নার সময়ও। নানা পদের তরকারিতেই দেওয়া যায় সুস্বাদু এ পাতা।

কেউ তৈরি করেন ধনেপাতার ভর্তা কিংবা চাটনি। লবণ, রসুন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, শর্ষের তেল প্রভৃতি উপকরণ দেওয়া এমন পদ রসনার তৃপ্তি মেটায়।

কেউ কেউ আবার শুঁটকি বা অন্যান্য উপকরণের ভর্তায় যোগ করেন ধনেপাতা। কেউ ধনেপাতা ছড়িয়ে নেন চটপটি বা ফুচকায়। কেউ ছোলা বা মুড়ি মাখানোর সময়ও যোগ করেন এ পাতা।

কেউ আবার ধনেপাতা যোগ করেন সালাদে। বিভিন্ন ধরনের টকফলের সঙ্গে ধনেপাতা যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। কেউ আবার পানীয়ও ব্যবহার করেন ধনেপাতা।

যেভাবে খেলে যে সুবিধা

* ভর্তা বা চাটনির মতো পদে ধনেপাতার পরিমাণটা অন্যান্য পদের চেয়ে বেশি থাকে। তাই ধনেপাতার এ ধরনের পদ থেকে বেশ খানিকটা পুষ্টি পাবেন। অন্যান্য পদে ধনেপাতার পরিমাণ কম থাকায় পুষ্টি উপাদানও থাকে কম পরিমাণে।

* সব পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাক পেতে হলে ধনেপাতা এমনভাবে খাওয়া ভালো, যাতে তা চুলার তাপে দেওয়ার প্রয়োজন না হয়। তাপে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়।

* টকফলের সঙ্গে ধনেপাতা যোগ করা হলে দুয়ে মিলে ভিটামিন সির পরিমাণটা বাড়ে।

* ভর্তা বা চাটনিতে ধনেপাতার ডাঁটার অংশও থাকে, তাই তাতে আঁশ পাবেন বেশি।

* অসুস্থ অবস্থায় যখন রুচি থাকে না কিংবা খাবার খেতে গেলে গন্ধ লাগে, তখন ধনেপাতার চাটনি বা ভর্তা দিয়ে ভাত, মাছ-মাংস বা তরকারি খাওয়া যায় সহজে।

ধনেপাতার পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাক পেতে চাইলে   চুলার তাপে দেওয়ার প্রয়োজন নেই
ধনেপাতার পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাক পেতে চাইলে চুলার তাপে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছবি: প্রথম আলো