Thursday, December 5, 2024

গাজায় গণহত্যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করল অ্যামনেস্টি

টানা ১৪ মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েল অবিরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকে আছেন অনেক মানুষ এবং লাখো মানুষ আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে এবং গণহত্যার অভিযোগ উঠছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটি তাদের তদন্তে বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। অ্যামনেস্টির মতে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, যা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে, ইসরায়েল বরাবরের মতো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের সেনারা হামলার সময় প্রযোজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করছে। তবে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তাদের গবেষণার পর তারা নিশ্চিত যে গাজায় গণহত্যা চলছে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে, জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও, ইসরায়েল তার আক্রমণ বন্ধ করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও ইসরায়েলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে তারা আবারও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই ধারাবাহিক হামলা এবং গাজার মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, তবে ইসরায়েল এখনো কোনো সমঝোতা বা শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়নি।

গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ ইসরায়েল বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ ইসরায়েল বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে। ছবি : সংগৃহীত



ইসলাম গ্রহণ করতে চান রোনালদো! সৌদির সাবেক ফুটবলারের দাবি

ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ান রোনালদোকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। তার জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তের খবর রাখতে মরিয়া ভক্তরা। তবে এই তারকা ফুটবলারকে নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন সৌদি আরবে আল নাসর ক্লাবের সাবেক গোলকিপার ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, ‘ইসলাম গ্রহণ’ করতে চান রোনালদো।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও টিভির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর ইসলাম গ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ গুঞ্জনের মধ্যেই টেলিভিশনে এক শোতে অংশ নিয়ে আব্দুল্লাহ বলেন, রোনালদো ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সৌদি আরবের সংস্কৃতি ও কালচারের প্রতি রোনালদোর শ্রদ্ধাবোধের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, রোনালদো আসলেই ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গোল করার পর ইতোমধ্যে তিনি সেজদাও দিয়েছেন। তিনি সবসময় খেলোয়াড়দের নামাজ ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে উৎসাহ দেন।

আল নাসরের সাবেক এ গোলকিপার বলেন, তিনি অনুশীলনের সময় আজান দিলে খেলোয়াড়দের নামাজের জন্য কোচকে বিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন, তার ভাষায়, প্রশিক্ষণের সময় আজান দিলে রোনালদো কোচকে আজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিরতির অনুরোধ করেছেন।

তিনি বলেন, শুরুর দিকে আমি রোনালদোর খুব কাছের মানুষ ছিলাম। কেননা তিনি ক্লাব, কালচার বা সংস্কৃতির কিছুর সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কৌতূহলী হতেন এবং আমার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাইতেন। এ ছাড়া গত বছরের মে মাসে এ ফুটবল তারকার খেলার মাঠে সেজদার ঘটনা তুলে ধরেন।

সাবেক এ গোলকিপার বলেন, রোনালদো গোল করার পর যখন মাঠে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তখন সব খেলোয়াড় একযোগে আল্লাহু আকবার বলে চিৎকার করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল রোনালদোর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি। তবে পরবর্তীতে সেটি গুজব বলে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু এবার একটি টিভিশোতে আল নাসরের সাবেক গোলরক্ষক দিয়েছিন অবাক করা সব তথ্য।

রিয়াল তারকা করিম বেনজেমা আর ম্যাসুট ওজিল এর আগেও প্রকাশ করেছিলেন ইসলামের প্রতি রোনালদোর প্রতি রোনালদোর অনুরাগের কথা। তবে রোনালদো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুক বা না করুক, তার বিনম্রতা, শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড় হিসেবে তার প্রতিশ্রুতি তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আল নাসরের সাবেক গোলরক্ষক ওয়ালিদ আবদুল্লাহ।

সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

আইনজীবী সাইফুল হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার এড়াতে নানা কৌশল নিয়েছিলেন আসামি চন্দন

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি চন্দন দাসকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা–পুলিশের একটি দলের কাছে চন্দনকে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামি চন্দন ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে আসছেন, এ তথ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পেয়েছিল। তিনি ট্রেনে ওঠার পর তথ্যটি জানানো হয় ভৈরব থানা–পুলিশকে। তবে তিনি সরাসরি ট্রেনে ভৈরবে আসেননি। ট্রেন পরিবর্তন করায় তাঁর আসতে দেরি হয়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চন্দন চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির মেথরপট্টির ধারী দাসের ছেলে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ভৈরব পৌর শহরের সুইপার কলোনিতে।

চন্দনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিন মিয়া বলেন, চন্দন আত্মগোপন করতে শ্বশুরবাড়িতে আসছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি সরাসরি ট্রেনে ভৈরব আসেননি; ট্রেন পরিবর্তন করে আসেন। সম্ভাব্য সময়ের চার ঘণ্টা পর চন্দনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

ভৈরব থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভৈরব স্টেশনে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে আসামি চন্দনের নেমে পড়ার কথা ছিল। অনেক আগে থেকেই সাদাপোশাকে স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করার সম্ভাব্য সব জায়গা ঘিরে ফেলা হয়। ট্রেন আসে ট্রেন যায়, চন্দন আর নামেন না। অবশেষে তিনি ট্রেন থেকে নামেন রাত ১১টার পর। পুলিশের হাতে ধরা পড়েন রাত পৌনে ১২টায়। তাঁর মুখে মাস্ক ছিল। তখন তিনি একটি ব্যাগ হাতে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

পুলিশ জানায়, মুখে মাস্ক থাকায় চন্দনকে প্রথমে চিনতে সমস্যা হচ্ছিল। ডিবি পুলিশ আগেই চন্দনের শার্ট ও প্যান্টের রং জানিয়েছিল। ধরা পড়ার পর তিনি নাম–পরিচয় গোপন করেননি। গ্রেপ্তারের পর চন্দনকে ভৈরব থানায় আনা হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তিনি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করছিলেন। পরে সাইফুলকে কোপানোর ভিডিও দেখানো হয়। এতে চন্দনের চেহারা স্পষ্ট ছিল। ভিডিও দেখার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আর অস্বীকার করেননি তিনি।

এদিকে চন্দনের শ্বশুরবাড়ি ভৈরব পৌর শহরের সুইপার কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে কেউ নেই। চন্দনের শ্বশুর নন্দু পেশায় ডোম ছিলেন। সাত বছর আগে তিনি মারা যান। শাশুড়ি রশ্মি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কলোনিতে থাকেন। ১৪ বছর আগে চন্দন ও বিন্দিয়ার বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুই সন্তান।

কলোনির অন্য বাসিন্দারা জানান, চন্দন শ্বশুরবাড়িতে কম আসতেন। তাঁদের কেউ জানতেন না চন্দন চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার আসামি। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। ছয় মামলায় গ্রেপ্তার হন ৪০ জন। তাঁদের মধ্যে হত্যায় জড়িত অভিযোগে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুলকে কোপান ওম দাশ, চন্দন ও রনব, আর তাঁকে পেটাতে থাকেন অন্যরা। সেখানে আরও ২৫-৩০ জন ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চন্দন দাসকে গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চন্দন দাসকে গতকাল রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

নিজের ইচ্ছাতেই পুরোপুরি নগ্ন হয়েছিলেন ‘বার্বি’ তারকা

মার্টিন স্করসেজির বহুল প্রশংসিত সিনেমা ‘দ্য উলফ অব দ্য ওয়াল স্ট্রিট’। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটি ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছিল। এ সিনেমার একটি দৃশ্যে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন মার্গো রবি। সম্প্রতি চলচ্চিত্রবিষয়ক মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটির সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী।

ছবিটি মু্ক্তির পর মার্গো রবির মতো প্রথম সারির একজন অভিনেত্রীর নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিস্তার আলোচনা হয়েছে। রবি জানিয়েছেন, গল্পের প্রয়োজনেই পুরোপুরি নগ্ন হয়েছিলেন তিনি।

এমনকি পুরোপুরি নগ্ন হওয়ার আইডিয়াও পরিচালক স্করসেজির নয়!
মার্গো রবি বলেন, ‘স্করসেজি আমাকে একটা তোয়ালে জড়িয়ে নিতে বলেছিলেন। তবে দৃশ্যটির জন্য অন্য কিছু করা প্রয়োজন ছিল।’

দৃশ্যটি শুটিংয়ের আগে নিজের কাঁধেই পুরো দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবি। চিত্রনাট্যে ছিল দৃশ্যটির শেষে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও অভিনীত চরিত্রটি তাঁকে চুম্বন করবেন। তবে রবি ঠিক করেন, তিনি তাঁকে (ডিক্যাপ্রিও) চড় মারবেন।

‘দ্য উলফ অব দ্য ওয়াল স্ট্রিট’ সিনেমাটি দিয়ে মার্গো রবির ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। পরে তাঁকে দেখা যায় ‘সুইসাইড স্কোয়াড’, ‘ম্যারি কুইন অব স্কটস’, ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’, ‘বার্বি’র মতো সিনেমায়।

 ‘দ্য উলফ অব দ্য ওয়াল স্ট্রিট’ সিনেমায় মার্গো রবি। আইএমডিবি
‘দ্য উলফ অব দ্য ওয়াল স্ট্রিট’ সিনেমায় মার্গো রবি। আইএমডিবি

বিক্ষোভে উত্তাল দ. কোরিয়া, অভিশংসনের মুখে প্রেসিডেন্ট

সামরিক আইন জারি করে পিছু হটার পর এবার অভিশংসনের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছয়টি দল নিয়ে গঠিত বিরোধী দলগুলোর একটি জোট বুধবার প্রেসিডেন্টের অভিশংসন চেয়ে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের প্লেনারি অধিবেশনে উত্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাবের ওপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভোটাভুটি হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে শুক্রবার বা শনিবার প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হতে পারে।

প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আইনপ্রণেতার ভোট প্রয়োজন হবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০০ সদস্যের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ইউনের দলের নিয়ন্ত্রণে আছে ১০৮টি আসন।

পার্লামেন্টে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর সেটি সাংবিধানিক আদালতে যাবে। সাংবিধানিক আদালতের ৯ বিচারপতির ৬ জন যদি অভিশংসনের পক্ষে সমর্থন দেন, তবে তা কার্যকর হবে।

এদিকে সামরিক আইন জারির সব দায়দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন। বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভ্রান্তি ছাড়ানো এবং মানসিক চাপ তৈরি করায় জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

সামরিক আইন জারি নিয়ে তুলকালাম

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে আজও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ভিডিওতে দেখা যায়, হাজারো বিক্ষোভকারী রাজধানী সিউলের কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া পার্লামেন্ট চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করে বিরোধী দলগুলো।

গত মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হঠাৎ দেশে সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন। সেনারা তখন পার্লামেন্ট ভবনেও ঢুকে পড়ছিলেন। তবে আইনপ্রণেতারা তাঁদের সেই চেষ্টা রুখে দেন। সামরিক আইন জারির কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভের মুখে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইউন।

সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়ে ইউন বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রের দেশ উত্তর কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়াপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী বাহিনীগুলো থেকে দেশকে এবং অবাধ সাংবিধানিক শৃঙ্খলাকে সুরক্ষিত রাখতে সামরিক আইন জরুরি।’ তবে তিনি তখন সুনির্দিষ্ট করে কোনো হুমকির কথা উল্লেখ করেননি।

ইউনের এ ঘোষণার পরপরই সিউলে পার্লামেন্ট ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁদের স্লোগান দিতে শোনা যায়।

হেলমেট পরা সেনারা ভাঙা জানালা দিয়ে পার্লামেন্টে ঢুকে পড়লে এবং আকাশে সেনা হেলিকপ্টারের টহল শুরু হলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট সামরিক আইন প্রত্যাহার করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস করে। এ সময় পার্লামেন্টের ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ইউনের দলের ১৮ জন সদস্য ছিলেন। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আকস্মিক সামরিক আইন জারি করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ
দক্ষিণ কোরিয়ায় আকস্মিক সামরিক আইন জারি করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ ছবি: রয়টার্স

কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে দুর্নীতি হয় না: ওয়াসা পরিদর্শনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে দুর্নীতি হয় না। সঠিক নজরদারি থাকলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি করার সুযোগ কম। আজ বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা’র কার্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যে কয়দিনই দায়িত্বে থাকি আমি আমার মন্ত্রণালয় অর্থাৎ ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের নামে যেসব বদনাম আছে সেগুলো ঘুচাতে চাই। ওয়াসা’র পদ্মা পানি শোধনাগার নিয়ে কয়েকদিন আগে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম, সেখানে যেই পাইপ বসানো হয়েছে তাতেও দুর্নীতি রয়েছে। ওই পাইপের কারণে যে পরিমাণ পানি শোধনের কথা তা হচ্ছে না। এখন ওই পাইপ অপসারণ করতেও সরকারের হাজার কোটি টাকা গচ্ছা যাবে। তাই আগের দিনে কি হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে আর শুনতে চাই না। নগরবাসীর সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তাই নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতের জন্য আপনারা সর্বোচ্চ কাজ করে তা নিশ্চিত করবেন। ওয়াসা’র কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের যদি মনে হয় ওয়াসা’র কোনো কর্মকর্তা, দায়িত্ববান ব্যক্তি দুর্নীতিতে জড়িত, তা আমাদের জানাবেন আমরা সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল করা আছে, আপনারা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন। ওয়াসার পানি সরবরাহে কোনো সংকট যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে এখন থেকেই সচেষ্ট হন। ওয়াসার সেবার মান নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আপনারা গ্রহণ করবেন সেই প্রত্যাশা সবার।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, এতগুলো মানুষের জীবনের বিনিময়ে, ত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে ভালো একটি জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। সংস্কারটা আমাদের চিন্তার জায়গা থেকে করতে হবে। ঢাকা ওয়াসায় যখন আমি আসলাম তখন দেখলাম এখানে আমার দুটি ছবি টাঙানো আছে। তাহলে সেই সংস্কারটা কোথায় হলো? আগে শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো থাকতো, এখন আমার ছবি টাঙানো হয়েছে। আমি অনুরোধ করব এই বিষয়গুলো পরিহার করে চলবেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, নগরবাসিকে সুপেয় পানি পরিবেশনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা’র। কিন্তু এই ওয়াসা’র কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি কেউই এই পানি ফুটিয়ে বা শোধন না করে খেতে পারেন না। আমি বিশ বছর আগে এক কর্মশালায় সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম- সেখানে সবাই তাদের সাপ্লায়ের পানি পান করে। কিন্তু আমাদের দেশের সাপ্লাইয়ের পানিতে বিভিন্ন রকম ময়লা-জীবাণু থাকে। পানযোগ্য নয়। তাই এই বিষয়ে ঢাকা ওয়াসাকে কাজ করতে হবে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জটা পূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে পয়ঃ বর্জ্য শোধনের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত ময়লাগুলো যেনো পানির লাইনে মিশে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা ওয়াসা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, আজ ছাত্র বিপ্লব না হলে আমি এই জায়গায় থাকতে পারতাম না। তাই আমার সময়ে যদি কেউ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয় সে যেই হোক না কেনো তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এসময় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়াসা’র প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পক্ষে আজিজুল আলম খান। 

mzamin


জাতীয় ঐক্যের কাউন্সিল গঠনের পরামর্শ: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের বৈঠক

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পতিত আওয়ামী লীগ ও তার দোসর রাজনৈতিক দল ছাড়া এ বৈঠকে অংশ নিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। বৈঠক থেকে দলগুলোর নেতারা বার্তা দিয়েছেন, দলীয় আদর্শ ভিন্ন হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। দল-মতের ওপরে উঠে বাংলাদেশ প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। বৈঠক থেকে নিন্দা জানানো হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ, আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার। সবাই মিলে একটি পলিটিক্যাল ও নিরাপত্তা কাউন্সিল করা যায় কি না, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কোনো কাউন্সিল করার সুযোগ আছে কিনা তা ভেবে দেখতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়। সভার মূল সুর ছিল, মত-পথ-আদর্শের ভিন্নতা থাকবে, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, অবস্থার ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু দেশ ও সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বের প্রশ্নে সবাই এক। এছাড়াও ভারতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সব দল ও পক্ষকে নিয়ে কোনো সমাবেশ করা যায় কি না সে বিষয়েও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে হওয়া ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি প্রকাশ্যে আনার। এছাড়াও রামপালসহ ক্ষতিকর সব চুক্তি বাতিলের। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  রক্ষা করে সবাই এক থাকার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। দেশের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পিআর সেল করার প্রস্তাব করা হয়। বিএনপি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নির্বাচনী রোডম্যাপের। একই সঙ্গে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা উপদেষ্টা পরিষদ, বিদেশি মিশন ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের বাদ দেয়ার দাবি তোলেন। বলেন, এদের কারণে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সরকারপ্রধান দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘ বৈঠক শেষে সবার ফটোসেশনে জানান দেয়া হয়- একতা ও ঐক্যের। বিকাল ৩টা থেকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ৪টা ১০ মিনিটে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর শুরু হয় বৈঠক। বৈঠকে সরকারের তিন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন। আর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডক্টর আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রফেসর ডা. এ জেডএম জাহিদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর প্রফেসর মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির শহীদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ফয়জুল হক লালা, জাতীয় জোটের এহসানুল হুদা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের (একাংশ) নুরুল আমিন ব্যাপারী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আবদুল বাসিত আজাদ ও জাহাঙ্গীর হোসেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের আবদুর রব ইউসুফী ও মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ এলডিপি’র মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের (ফারুক) সদস্যসচিব ফারুক হাসান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম’র ববি হাজ্জাজ, এনডিপি’র আবু তাহের প্রমুখ।

দীর্ঘ বৈঠকের শুরুতে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সবাই মিলে আমরা একজোট হয়ে যেন কাজটা করতে পারি। সবাই একত্র হয়ে বললে একটা সমবেত শক্তি তৈরি হয়, এই সমবেত শক্তির জন্যই আপনাদের সঙ্গে বসা। ড. ইউনূস বলেন, আমরা কেন জানি মানুষের ক্রোধ থেকে মুক্ত হতে পারছি না। বিজয়ের মাসে আরও বেশি করে আনন্দ করার কথা আমাদের। কিন্তু আমাদের এই স্বাধীনতা অনেকের কাছে পছন্দ হচ্ছে না। ৫ই আগস্টের পর থেকে কী হয়েছে, বাস্তবের পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা তা দেখেছেন। আমরা এই পরিস্থিতিতে মনে করেছিলাম দুর্গাপূজা নিয়ে একটা হাঙ্গামা শুরু হবে। সেখানে আপনারা সবাই ঐক্যের মধ্যে শরিক হয়েছিলেন। সারা দেশ জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা পালিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। সেটাও অনেকের পছন্দ হয়নি। দেশকে নতুন করে অস্থির করার চেষ্টা চলছে। এখন যে চেষ্টা চলছে সেখানে বিশেষভাবে আমরা আপনাদের চাচ্ছি।
তিনি বলেন, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, সেটাকে ধামাচাপা দিয়ে তারা আগের বাংলাদেশের কাহিনী রচনা করে যাচ্ছে।  সারাক্ষণ নানা রূপে তারা এটা করে যাচ্ছে। এটা যে শুধু এক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে তাও নয়, বড় দেশের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে গেছে। আমাদের এই অভ্যুত্থানটা তাদের পছন্দ হয়নি। তারা এটাকে নতুন ভঙ্গিতে দুনিয়ার সামনে পেশ করতে চায়। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। এখন সেগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করা বা বাস্তবতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। এটা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতবাদের বিষয় না। জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের বিষয়।

বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করলাম, তারা এটাকে মুছে দিয়ে আগেরটায় ফিরে যেতে চায়। মুখে বলছে না যে আগেরটা, কিন্তু ভঙ্গি হলো আগেরটা ভালো ছিল। তাদের শক্তি এত বেশি যে, তারা মানুষকে এর ভেতরে ভেড়াতে পারছে। তাদের কল্পকাহিনীর কারণে মানুষ সন্দেহ প্রকাশ করছে যে, এটা কী ধরনের সরকার হলো।

বহির্বিশ্বের মিডিয়া নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আমরা বারবার তাদের বলছি যে, আপনারা আসেন এখানে, দেখেন, এখানে কোনো বাধা নেই। কিন্তু না, তারা ওখান থেকেই কল্পকাহিনী বানিয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের সারা দুনিয়াকে বলতে হবে যে, আমরা এক, আমরা যেটা পেয়েছি সেটা একজোট হয়ে পেয়েছি, কোনো মতবাদের কারণে পাইনি, ধাক্কাধাক্কি করে পাইনি, যারা আমাদের ওপর চেপে ছিল, তাদের উপড়ে ফেলেছি। এটাই সবার সামনে তুলে ধরতে হবে, সবাই মিলে যেন এটা করতে পারি। আমাদের নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথে এটা মস্ত বড় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, অস্তিত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আজকে সকলকে এজন্য আহ্বান জানিয়েছি যে, আগস্টের ৫ তারিখে যে উত্তেজনা এবং শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করেছি, আমাদের ছাত্র-জনতা বুক পেতে দিয়েছিল, জীবন দিয়েছিল সে ঐক্যের কোথাও কোনো চির কিংবা ফাটল ধরেনি। আমরা সেই জাতি, যারা স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই জাতি এখনো সজাগ আছে, মজবুত আছে। সেই মজবুত জিনিসটা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরতে আমরা সববেত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তারা মনে করছে আমরা ঠাণ্ডা হয়ে গেছি, আমরা ঠাণ্ডা হই নাই। আমরা যখন দেখি যে, পুলিশ বলে- স্যার একটা মারি চারটা দাঁড়ায়া যায়, চারটা না চল্লিশটা দাঁড়াবে এবার। এই জাতি মরে নাই, দুর্বল হয় নাই, সবল আছে। আপনাদের আজকে উপস্থিতিটা শুধু সেটা জানানোর জন্য। আমাদের সবার মনে যেন সেটা জাগিয়ে দেয় যে, এটা আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেয়ার কোনো অবকাশ নাই।

কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, যে যত ষড়যন্ত্র করুক, যত অপ-প্রচার করুক, তারা এটা আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। কারণ আমাদের রক্ত এখনো শুকায় নাই। দেয়ালের লেখা এখনো মুছে যায় নাই, দগদগ করছে এখনো। আমাদের হৃদয়ের ক্ষতও দগদগ করছে। আমরা সেই শক্তিমান জাতি, আমরা লড়াই করবো। যে হাস্যকর প্রচেষ্টাগুলো হচ্ছে, সেটা তুলে ধরার জন্য আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি। আপনারা সুন্দরভাবে সেগুলো তুলে ধরেছেন। আমাদের নানা মত থাকবেই, কিন্তু এই বিষয়ে কোনো মতভেদ আমাদের নাই।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যেভাবে আপনারা ৫ই আগস্টের পর থেকে একত্র হয়ে চলেছেন, সেই একতা-মজবুত ঐক্য রয়ে গেছে এবং থাকবে। সেটা জনগণকে আজকে জানিয়ে দিলাম। সবার মনে সন্দেহ আসছে যে কী হচ্ছে জানি না। এই ছবিটা দেখলে আবার মানুষের মনে ভরসা জাগবে। আমরা তো সরে যাইনি, মজবুত অবস্থাতে আমরা এখনো আছি, এভাবেই থাকবো। কেউ আমাদের ঐক্য ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আমাদের স্বাধীনতা থেকে কেউ আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছে। নানা মত-পথ ও আদর্শের ভিন্নতা ছিল কিন্তু বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদার রক্ষার ক্ষেত্রে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ হয়েছে সেগুলো হলো- ভারতে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা, সহকারী হাইকমিশনে হামলা, বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা, অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সরকারের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ভারতের এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের আত্মমর্যাদাশীল ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে ভারতের এ ধরনের প্রচারণার সরকারকে আরও শক্তিশালীভাবে মোকাবিলা করার কথা বলা হয়েছে। এজন্য প্রবাসী, বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ডেকে নিয়ে আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের যোগাযোগ ও আইনি দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, বৈঠকে গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে হওয়া সব চুক্তি প্রকাশের দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রামপালসহ ক্ষতিকর সব চুক্তি বাতিলের দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যে অর্থনৈতিক নিপীড়ন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ও অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক গলানোর নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতকে বাংলাদেশের প্রতি মর্যাদাশীল এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশবিরোধী যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সমপ্রদায়ের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। একইসঙ্গে যেকোনো উস্কানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আসিফ নজরুল আরও বলেন, সবাই একটা কথা বলেছেন, আমাদের আর শক্তিহীন, দুর্বল, নতজানু ভাবার কোনোরকম অবকাশ নেই। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার এবং উস্কানির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো এবং আমাদের ঐক্য অটুট রাখবো। আমরা সাহসী থাকবো। ভবিষ্যতে যেকোনো প্রচারণা এলে, উস্কানি এলে আমরা আমাদের ঐক্যকে আরও বেগবান রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। তিনি বলেন, প্রস্তাব আকার এসেছে, গোটা জাতি ভারতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যে ঐক্যবদ্ধ আছে- সবাই মিলে একটা সমাবেশ করতে পারে কিনা, সবাই মিলে পলিটিক্যাল একটা কাউন্সিল করতে পারে কিনা, নিরাপত্তা কাউন্সিল করতে পারে কিনা, এজন্য প্রস্তাবনা হয়েছে। আর সভার মূল সুর ছিল, আমাদের মধ্যে মত-পথ-আদর্শের ভিন্নতা থাকবে, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, অবস্থার ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু দেশ ও সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। সব রাজনৈতিক সমাবেশে এ বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যে বাংলাদেশ ডিসেম্বরে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিজয় লাভ করেছি। সেটি আমরা করেছি গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি ও শান্তিশৃঙ্খলার জন্য। আমরা মনে করি, এখন যে সরকার আছে এটি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সরকারের দায়িত্ব এ দেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, পতিত সরকার বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। আর এতে বিদেশি কোনো দেশ সহায়তা করছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকা। ড. মোশাররফ বলেন, যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে সেটি বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য হচ্ছে। আমরা সরকারের সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। সবাই মিলে যেমনি জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করা হয়েছে, তেমনি তাদের এবং তাদের সহযোগীদের ষড়যন্ত্রকে এদেশের ছাত্র-জনতা সবাই মিলে মোকাবিলা করবো। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। আমরা সবাই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে একমত হয়েছি। বিএনপি নির্বাচনের দাবি করেছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন সম্পর্কে বলেছি। অতিদ্রুত একটা নির্বাচনী রোডম্যাপ দেয়ার কথা বলেছি আমরা। এখন যেসব ষড়যন্ত্র এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, জনগণ রোডম্যাপ পেয়ে নির্বাচনমুখী হয়ে গেলে সেসব আর কেউ করার সাহস পাবে না।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল, মত, আদর্শ ভিন্ন হলেও আমাদের পথ এক। এ পথ হচ্ছে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশমাতা সবার। এটা শুধু রাজনৈতিক দল নয়, জনগণের একটা বিশাল অংশ সাংবাদিকরাও। গত আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা অনেক সহায়ক ছিল। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে আমরা পথে পথে নানা অন্তরায় দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে আমরা সৎ প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক চাই। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে তাদের ভূমিকা উসকানিমূলক, অসহিষ্ণু, অগ্রহণযোগ্য। তারা মিথ্যা তথ্যের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে কলুষিত করার জন্য, এ দেশের জনগণ ও সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য অপপ্রয়াস ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে এর নিন্দা জানিয়েছি। আমরা সবাই এক জায়গায় ঐকমত্য হয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়, এ ক্ষেত্রে আমরা সিমেন্টের মতো। যেমন অতীতে ছিলাম, ৫ই আগস্ট এ ছিলাম, ভবিষ্যতে আমাদের এটি অব্যাহত থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হয়েছে, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও পরামর্শ করার আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের শেষে একটা জাতীয় ঘোষণা আসবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সে ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবো। আমরা সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবো। তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে চরমপন্থা যেদিক থেকে আসবে, আমরা সব রূপের চরমপন্থাকে ঘৃণা করি। আমরা তাদের প্রশ্রয় দেবো না, মেনেও নেবো না। এ ব্যাপারে সবাই আমরা একমত হয়েছি। আমরা আশা করছি, জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে, আমরা চূড়ান্ত সফলতার দিকে এগিয়ে যাব। চূড়ান্ত সফলতা না আসা পর্যন্ত আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে। চূড়ান্ত সফলতা আসার পরও দেশের জন্য আমাদের অটুট ঐক্য অব্যাহত থাকবে।

অতিথি তালিকায় নাম না থাকায় ফিরে যান অলি আহমদ:
প্রধান উপদেষ্টার ডাকা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদকে। বৈঠকে অংশ নিতে তিনি এবং তার দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভেন্যুতে প্রবেশের সময় অতিথি তালিকায় নাম না দেখে তারা সেখানে প্রবেশ না করে ফিরে যান। পরে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলেও তারা আর বৈঠকে আসেননি। বুধবার সন্ধ্যায় এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।

mzamin


টানাপড়েনের মধ্যেই ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ঢাকা আসছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি। ৫ই আগেস্টের পর এটা হবে ভারতের দায়িত্বশীল কোন প্রতিনিধির প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অর্থাৎ ফরেন অফিস কনসালটেশন- এফওসি অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ  ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের মূল্যায়ন মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে যে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেই প্রেক্ষাপটে সচিবের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উভয় দেশের কেউই এখনও সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু না, ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন দিল্লির বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি আসছেন এটা কনফার্ম। তার সফর এবং এফওসি’র বৈঠকটি আগামী ১০ই ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভবত এটি একদিন আগে হবে। স্মরণ করা যায়, গত ২৩শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অবসরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তখন অবশ্য তারিখ ঠিক হয়নি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি এই ক’দিনে সবই বলেছি। সামনের এফওসিটা হোক। তারপর কথা বলা সমীচীন হবে। সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা চাই ভালো সম্পর্ক। তবে সেটা দুই পক্ষ থেকে চাইতে হবে, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। ভারতীয় অন্য সংবাদমাধ্যম রাতে সচিবের সফরের  রিপোর্ট প্রকাশ করেন। তাতে বলা হয়, বিক্রম মিশ্রির এই সফরটি এমন সময়ে হতে চলেছে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে অভূতপূর্ব উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ই আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি চলছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়কে নির্যাতনসহ বেশকিছু অভিযোগ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত অতিরঞ্জিত এবং অসত্য খবর ধরে দেশটির সরকার যে রিয়েক্ট করেছে তাকে সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাছাড়া অতি সম্প্রতি উভয়ের জাতীয় পতাকার অবমাননা উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে নিয়েছেন। যার রেশ ধরেই ২রা ডিসেম্বর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের হামলা হয়, যাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হিসেবে বর্ণনা করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্বরোচিত ওই হামলার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে।
mzamin

বৃটেন নিয়ে অস্বস্তি, লন্ডনে বক্তৃতা করবেন হাসিনা: দূতকে ডাকলেন উপদেষ্টা by মিজানুর রহমান

ভারতের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বৃটেনকে নিয়ে। বৃটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে দেশটির অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ। যদিও পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে অনেক অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবাদ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশ সরকার। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বৃটেনকে নিয়ে অস্বস্তির দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে দেশটিতে অবস্থান করা আওয়ামী সমর্থকদের তৎপরতা। তারা লন্ডনে একটি বড়সড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৮ই ডিসেম্বর সেই সমাবেশ হবে। যেখানে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতির চেষ্টা চলছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ দাবি করে তারা ওই আয়োজনের একটি পোস্টার করেছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাসিনা বক্তব্য রাখবেন বলে প্রচার চালাচ্ছে। যদিও ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। খোদ আশ্রয়দাতা ভারতই তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রিট করছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ওই সমাবেশে শেখ হাসিনাকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত করার চেষ্টা করছেন আয়োজকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাবেশটি হবে কিনা? বা তিনি আদৌ বক্তৃতা করবেন কিনা? তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ওই আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে আপাতত ইস্ট লন্ডনের ইম্প্রেশন হল ঠিক হয়েছে। সেই সমাবেশ থেকে প্রবাসী সরকার গঠনেরও চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আয়োজকরা বলছেন। সেগুনবাগিচা দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, উপরোল্লিখিত বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে বুধবার ডেকে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাধারণত যে কোনো বিষয়ে অসন্তোষ জানাতে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারকে অতিরিক্ত সচিব বা মহাপরিচালক পর্যায়ে ডাকা হয়। কিন্তু বৃটেন যেহেতু শুরু থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রকাশ্যে সাপোর্ট দিয়ে আসছে তাই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে উপদেষ্টা নিজেই রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছেন। তাছাড়া বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তাই দূতকে তলব নয় বরং উপদেষ্টা কথা বলার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন মর্মে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বিদায়ের পর উপদেষ্টা মিস্টার হোসেন গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। সেখানে তিনি কোনো প্রশ্ন নিবেন না বলে আগেই ঘোষণা দেন। বলেন আমি কেবলই স্টেটম্যান্ট করবো। ফলে বৃটেনে আওয়ামী লীগের সমাবেশ নিয়ে হাইকমিশনারের সঙ্গে কী কথা হয়েছে বা আদৌ তিনি বিষয়টি তুলেছিলেন কিনা তা জানা সম্ভব হয়নি।

বৃটেন বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যা বললেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবারের সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা শুরু করেন এভাবে- ‘বৃটিশ হাইকমিশনারকে আমি ডেকেছিলাম দুটো কারণে, ছোটো ছোটো দুটো ঘটনা ঘটেছে। একটা হচ্ছে, ২ তারিখে বৃটিশ পার্লামেন্টে কয়েকজন এমপি বক্তব্য দিয়েছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপরে এবং সেখানে কিছু মিসইনফরমেশন আছে, এটা আমি হাইকমিশনারকে জানিয়েছি এবং বলেছি যে, চারিদিকে যে তথ্যের প্রবাহ চলছে, সেটা থেকে মনে হয় যেন তারা তা নিয়েছেন। আর দুয়েকটা সংগঠন যারা কথাবার্তা বলেছেন, সেগুলো মোটামুটি বৃটেন-বেইজড। এখানে যেটা পরিস্থিতি সেটার প্রতিফলন বৃটিশ পার্লামেন্টে ঘটেনি।’ উপদেষ্টা বলেন, আমি যেটা বলেছি, পার্লামেন্ট মেম্বাররা তো যা ইচ্ছা তা বলবেন। এটাতে কারও-ই কিছু করার নাই, আমাদেরও কিছু করার নেই। কিন্তু আমাদের অবস্থানটা তারা যেন তাদের চ্যানেলে তুলে ধরেন। উনিও (বৃটিশ হাইকমিশনার) বলেছেন, আপনারা আপনাদের মিশনের মাধ্যমে জানান, আমরাও জানাবো। অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের একটা বিবৃতি এসেছে বেশ বড়সড়। সেখানে খুব দুঃখজনকভাবে যেটা এসেছে, আমি বলেছিও তাকে যে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। সেখানে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, ৫ই আগস্টের পরে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এ জিনিসটি পুরোপুরি মিথ্যা। ৫ই আগস্টের আগে নিহতের সংখ্যা দেখানো হয়েছে মোট ২৮০ জন! আমি বলেছি বিষয়টা মোটেও তা না। ৫ই অগাস্ট বা তার আগে অন্তত দেড় হাজার ছেলেমেয়ে মারা গেছেন। তার মধ্যে ৭৮০ জনের তো আমরা একেবারে বাই নেইম পরিচয় জানি। বাকি অনেকের পরিচিয় নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ডেডবডি পাওয়া গেছে এবং তারা নিহত এতে কোনো সন্দেহ নেই। উপদেষ্টা বলেন, ৫ই আগস্টের পর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রিপোর্টটা যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা একেবারেই সঠিক নয়; বরং দুঃখজনক যে, এখানে জুলাই-আগস্ট জুড়ে এখানে এত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে, সেটার কোনো উল্লেখ নেই তাদের রিপোর্টে। এটাও উল্লেখ নেই যে এখানে বিপুলসংখ্যক ছাত্রকে রাস্তাঘাটে গুলি করে মারা হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি, তারা তাদের কথা বলছেন কিন্তু আমাদের তো সত্যটা এবং বাস্তবতাটা জানাতে হবে। আমাদের অবস্থানটা ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকতে হবে। বৃটিশ দূতকে বলেছি আপনি একটু ব্যাখ্যা করুন আপনার সরকারের কাছে এবং আপনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। এটাই।’

লন্ডন সমাবেশের আয়োজক আওয়ামী লীগের নেতা যা বললেন: লন্ডন সমাবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, আমরা আশা করছি শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন। তার সঙ্গে তাদের সরাসরি কথা হয়েছে কিনা? অর্থাৎ কীভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলো? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিভিন্ন মারফতে যোগাযোগ হয়েছে। ওই সমাবেশের জন্য বৃটিশ গভর্মেন্টের অনুমতি নিয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলরুমে অনুষ্ঠানের অনুমতি লাগে না। কেবলমাত্র ১০ ডাউনিং স্ট্রিট এবং পার্লামেন্টের সামনে অনুষ্ঠান করতে অনুমতি লাগে। বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে শেখ হাসিনাকে তারা এখানো কীভাবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে যে প্রচার চালাচ্ছেন? সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে তো অন্তর্বর্তী সরকার বলে কিছু নেই। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত তারা এমনটাই বলতে চান বলে জানান ওই নেতা।