Wednesday, August 24, 2016

বিশেষ কৌঁসুলি চান ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার তির ছুড়লেন আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে যেসব ই-মেইল উদ্ধার করেছে, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় হিলারি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারীরা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বিভিন্ন বিদেশি দাতাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করে তাঁরা ফাউন্ডেশনের জন্য বড় ধরনের অনুদান আদায় করেছেন। দুই পক্ষের সম্পর্ক কতটা গভীর এবং কী ধরনের ‘অপরাধ সংঘটিত’ হয়েছে তা তদন্তের জন্য ট্রাম্প একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের দাবিও তুলেছেন। সোমবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একরনে এক সভায় ট্রাম্প ওই দাবি তোলেন। বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ করে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।
কেন একজন বিশেষ কৌঁসুলি চাই, তা ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসের ছত্রচ্ছায়ায় মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআই হিলারির অপরাধ ঢাকার নানা চেষ্টা করেছে। তারা এই অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করবে, সে কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সে জন্য দরকার একজন নিরপেক্ষ ‘বিশেষ কৌঁসুলি’। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ হোয়াইট হাউসের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। এফবিআই হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইতিপূর্বে অপ্রকাশিত নতুন প্রায় ১৫ হাজার ই-মেইল খুঁজে পেয়েছে। এ কথা জানার পর হিলারি ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য নতুন রসদ পেয়ে যান ট্রাম্প। সোমবার একটি ফেডারেল আদালত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জুডিশিয়াল ওয়াচের আবেদনক্রমে এই ই-মেইলগুলো পরীক্ষার পর তা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি বারবার বলে এসেছেন, তিনি সরকারি দায়িত্ব-সম্পর্কিত সব ই-মেইল এফবিআইয়ের কাছে তুলে দিয়েছেন। এই নতুন ই-মেইলগুলো সেই হিসাবের বাইরে হওয়ায় তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন হলো।
ইতিপূর্বে আদালতের নির্দেশে ৭২৫ পাতার যে ই-মেইল প্রকাশ করা হয়, সেসবের অধিকাংশ হিলারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী হুমা আবেদিনের কাছে লেখা। অধিকাংশই নানা সাহায্যের অনুরোধ নিয়ে লেখা।  সবচেয়ে বিতর্কিত ই-মেইলটি লেবাননি বংশোদ্ভূত নাইজেরীয় ব্যবসায়ী গিলবার্ট শিগুরির। এতে তিনি লেবাননের বিষয় নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করেছেন। শিগুরি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে বড় ধরনের অনুদান দিয়েছেন, এ রকম ইঙ্গিত করে ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা হুমা আবেদিনকে এই বৈঠক আয়োজনের পক্ষে সুপারিশ করেন। জবাবে আবেদিন লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। এসব অভিযোগের জবাবে হিলারি ক্লিনটনের অন্যতম মুখপাত্র জশ শেরিন জানান, মন্ত্রি থাকার সময় বিভিন্ন অনুরোধ পেলেও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কোনো অনুদান প্রদানকারীর পক্ষে কোনো ব্যবস্থা হিলারি গ্রহণ করেননি। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনেরও সাংবাদিকদের জানান, অনুদান দেওয়ার জন্য কেউ কোনো সরকারি সুবিধা পেয়েছে, এমন প্রমাণ নেই।

কাবুলকে আরও অস্ত্র দেবে নয়াদিল্লি

কাবুলে ভারতের উপহার দেওয়া একটি হেলিকপ্টার। রয়টার্স
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগানিস্তানকে আরও বেশি অস্ত্র দেবে ভারত। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত কাবুলের রাষ্ট্রদূত শাইদা মোহাম্মদ আবদালি এ কথা জানিয়েছেন। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আফগানিস্তানে ভারতের সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে গত ১৫ বছরে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে ভারত। কিন্তু তারা পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনায় রেখে দেশটিকে অস্ত্র দেওয়ার আগে অনেক চিন্তাভাবনা করে থাকে। নয়াদিল্লি গত নভেম্বরে আফগানিস্তানকে চারটি বিশেষ হেলিকপ্টার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কট্টরপন্থী তালেবান সরকারের পতনের পর কাবুলকে এই প্রথম কোনো যুদ্ধ সরঞ্জাম দিল ভারত। আফগান রাষ্ট্রদূত আবদালি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার অবনতি হচ্ছে এবং তালেবান, আইএস ও অন্যান্য জঙ্গি মোকাবিলায় আফগান সরকারি বাহিনীর সামরিক রসদ প্রয়োজন।
ভারতের সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবদালি বলেন, ‘চারটি হেলিকপ্টারের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন। আজ আমরা এমন এক পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা ভারতসহ এ অঞ্চলের সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়।’ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগান সেনাপ্রধান জেনারেল কদাম শাহ শামিম ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে গিয়ে সামরিক সরঞ্জামের একটি তালিকা দেবেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে চাহিদার তালিকা অনুযায়ী কতটুকু সাহায্য ভারত বিনা মূল্যে দেবে আর কতটুকুর জন্য অর্থ নেবে, তা স্পষ্ট নয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় এখন প্রতিবছর প্রায় ৮০০ জন আফগান কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাবুলকে এসব সহায়তা দিলে স্বভাবতই পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হতে পারে। কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে বেশ শীতল।

সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কোনো বুদ্বুদ নয়

সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী আমাদের তথ্যমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বুদ্বুদের মতো স্থায়ী ১০ দিন কিংবা ১০ মাস থাকতে পারে। ভারতের দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের নিশ্চয়কারক মন্তব্য হয়তো কিছু লোককে তুষ্ট করতে পারে, তবে সাংবাদিকদের নয়, বিশেষ করে বিদেশি সাংবাদিকদের যাঁরা বাংলাদেশে সহিংস জঙ্গিবাদের উৎপত্তি এবং তার ক্রমবর্ধমান বিকাশের সঙ্গে পরিচিত। বাংলাদেশ আজ যে উগ্রবাদী হুমকির সম্মুখে, তা যদি সত্যি সত্যি বুদ্বুদের মতো ক্ষণস্থায়ী হতো তাহলে এর চেয়ে বেশি খুশি শুধু দেশের জনগণই নয়, আমাদের প্রতিবেশীরাও আনন্দিত হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাস্তব একেবারে ভিন্ন, যা বোঝার জন্য শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, গত ১০-১৫ বছরের ঘটনাগুলোর দিকে তাকালেই হয়। আরও বেশি দুঃখের বিষয়, বর্তমানের মতো অতীতেও যখন এ ধরনের জঙ্গিবাদী বা উগ্রবাদী সহিংস ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সরকার এবং সরকারি নেতারা হয় রাজনৈতিক কারণে, না হয় অজ্ঞতার কারণে দেশে জঙ্গিশক্তির অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন বা তার মোকাবিলা করতে চাননি।
আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে বিখ্যাত সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিনে এক দীর্ঘ আলেখ্যে অ্যালেক্স পেরি নামে এক সাংবাদিক বাংলাদেশে জঙ্গি শক্তির উপস্থিতির প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। বহু সূত্র থেকে আহরিত লেখায় তিনি বর্ণনা দেন কীভাবে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া আল-কায়েদা আর তালেবান অনুসারীরা সমুদ্রপথে বঙ্গোপসাগর দিয়ে কক্সবাজার পৌঁছায় আর কীভাবে তারা সে উপকূলে অভয়াশ্রম তৈরির চেষ্টা করছে। পেরি তাঁর লেখায় এ-ও মন্তব্য করেন যে আল-কায়েদা অনুসারীরা যারা অনেকেই বাংলাদেশের, তাদের বাংলাদেশে নতুন ঘাঁটি বানানোর পেছনে তখনকার বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহায়তা করছে। পেরি আরও বলেছিলেন যে আল-কায়েদা অনুসারীরা বাংলাদেশে ঘাঁটি করতে সাহস পাচ্ছে এ কারণে যে তখনকার ক্ষমতাসীন সরকার (জাতীয়তাবাদী দল) জোট করেছে জামায়াতে ইসলামী আর ইসলামিক ঐক্যজোটের সঙ্গে, যারা ইসলামি জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।
টাইম ম্যাগাজিনে এ আলেখ্য বের হওয়ার পর তৎকালীন সরকার কোনো জঙ্গিঘাঁটি খুঁজে বের করা কিংবা এ লেখার তথ্য অনুযায়ী কোনো অনুসন্ধান করা তো দূরে থাক, তারা ওই লেখাকে সর্বৈব মিথ্যা আখ্যা দিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের সে সংখ্যাটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে। আল-কায়েদা বা তাদের মতাদর্শ উৎসাহিত কর্মকাণ্ড কক্সবাজার এলাকায় না হলেও হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে। কিছুদিন পর উদয় হলেন সিদ্দিকুল ইসলাম নামে এক ইসলামি জঙ্গি, যিনি নিজেকে বাংলা ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি এবং তাঁর জামাআতুল মুজাহিদীন নামের জঙ্গি দল রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে ধর্মের নামে এক ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব চালায় ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ভাইয়ের সন্ত্রাসীরা দুই বছরে ৩২ জন লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁকে পুলিশ ধরতে পারেনি বা ধরেনি অনেক দিন। কারণ বাংলা ভাই ছিল সেই অঞ্চলের তৎকালীন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায়। (পরে বৈদেশিক চাপে এবং কিছুটা রাজনৈতিক কারণে তাঁকে সরকার গ্রেপ্তার করে, কিন্তু তাঁর বিচার এবং ফাঁসি হয় দুই বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।)
এ ছিল আমাদের দেশে গত দেড় দশকে সন্ত্রাস-সংক্রান্ত কিছু তথ্য। এবার আসা যাক গত কয়েক বছরের ইতিহাসে। গুলশানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের আগে গত দুই বছরে খুন হয়েছেন বেশ কিছু প্রগতিশীল লেখক, কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আর কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। এ হত্যাগুলোর দাবিদার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইএস, কোনো ক্ষেত্রে দেশীয় কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী। কিন্তু আমাদের তা বোঝার কোনো উপায় নেই, কারণ অধিকাংশ হত্যায় প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, তাদের শনাক্তই করা হয়নি। যেকোনো হত্যা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, তা জঙ্গি দ্বারা হোক বা ব্যক্তিগত আক্রোশের জন্য হোক। আর অপরাধ নিবারণের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে সুচারু এবং ত্বরিত তদন্ত। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত যেসব সন্ত্রাসমূলক হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার কয়েকটির ক্ষেত্রেও যদি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অভিযুক্ত করা যেত, তাহলে দেশবাসী কিছুটা আশ্বাস পেত যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান এবং ইউরোপ-আমেরিকায় যেসব ব্যাপক এবং ভয়াবহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয়েছে, সে তুলনায় এক গুলশানের ঘটনা ছাড়া বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়তো কম। কিন্তু তাই বলে এগুলোকে শুধু গৃহজাত বা বিরোধী দল অনুপ্রাণিত বলে আখ্যায়িত করলে সমস্যার সমাধান হবে না। আজকের বিশ্বায়ন শুধু অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক কিংবা সাংস্কৃতিক নয়, এ বিশ্বায়ন উগ্রবাদ ভাবাদর্শ প্রচার এবং তার অনুসারী বিস্তারের জন্যও।
বাংলাদেশে এ ধরনের ভাবাদর্শ প্রচারের জন্য কোনো বিদেশির সেখানে উপস্থিত থাকা জরুরি নয়। শুধু প্রয়োজন একটি অনুকূল পরিবেশ। আর এ পরিবেশ সৃষ্টি হয় যখন মানুষ নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আস্থা হারিয়ে ফেলে। পশ্চিমা দেশগুলোতে এত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বা মানুষ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে না। কারণ সেসব দেশের লোকদের তাদের সরকার এবং নিয়মতান্ত্রিকতার ওপর আস্থা আছে। ওই সব দেশে মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা আছে যে বড় বা ছোট সব অপরাধের সমাধান তারা করতে পারবে। সাধারণ মানুষের চলাফেরার নিরাপত্তা থাকবে। পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশে আমরা লোকজনকে তা দেখাতে পারছি না। আমরা মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারছি না সাধারণ জীবনযাপনের ও চলাফেরার। আমরা দেখাতে পারছি না যে আমরা অপরাধ নিবারণে বা অপরাধীদের নিবৃত্ত করতে সক্ষম। তাই অনেকটা লঘু পাপে আমাদের গুরুদণ্ড হতে পারে যদি না আমরা কাজ দেখিয়ে প্রমাণ করতে পারি যে আমরা সন্ত্রাস এবং অপরাধ দমনে আগ্রহী, আমরা আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় সক্ষম। তা না হলে সন্ত্রাস বুদ্বুদের পরিবর্তে কালবৈশাখীর মতো আমাদের জীবনে হানা দিতে থাকবে।
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: রাজনৈতিক ভাষ্যকার।

সরকার নির্বিকার থাকতে পারে না

২০ হাজার শিক্ষার্থীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আবাসিক হল নেই। খোদ রাজধানীতে অবস্থিত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই চিত্র যেকোনো শিক্ষানুরাগীকে পীড়িত করলেও এসব নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। উদ্বেগের বিষয় হলো, কলেজকালীন জগন্নাথে যে কটি আবাসিক হল ছিল, সেসব অনেক আগেই বেদখল হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে শিক্ষার্থীরা যে আবাসিক হলটি উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছিলেন, সেখানে এখন সরকারি দলের একজন নেতা ও সাংসদের ১০ তলা ভবন শোভা পাচ্ছে। বুড়িগঙ্গার ওপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জন্য কিছু জমি কেনা হলেও সেখানে ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল নির্মাণ করা হোক। মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশের পাশাপাশি তাঁরা তিন দিন ধর্মঘট পালন করেছেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল নির্মাণের দাবিটি যৌক্তিক। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষকেরা তাঁদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কিংবা ভাঙচুর কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আর শিক্ষার্থীরা এও বলে দিতে পারেন না যে প্রস্তাবিত আবাসিক হল নির্দিষ্ট জায়গায়ই হতে হবে। আবাসিক হল পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায়, না অন্য কোথাও হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন তথা ধর্মঘটের কারণে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সামনে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা। অতএব, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির দিকটি সব পক্ষকেই বিবেচনায় নিতে হবে। যে জায়গায়ই হোক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে বেদখল হওয়া হলগুলো উদ্ধারেও নেওয়া হোক কার্যকর পদক্ষেপ।

‘বর্ডার ক্লিন’ অভিযানে তুরস্ক

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ও কুর্দিদের পিপলস প্রটেকশন ইউনিটের (ওয়াইপিজি) দখলে থাকা এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে তুরস্ক। সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সিরিয়ার শহর জারাব্লুজে গোলাবর্ষণ করে তুর্কি সেনাবাহিনী। জারাব্লুজ থেকে আইএস হটাতে তুরস্কের গাজিয়ানতেপ এলাকায় জড়ো হয় দেড় হাজারের অধিক তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সিরিয়ার মানবিজের কাছে কুর্দি ওয়াইপিজির অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তুরস্ক। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের। এএফপির খবরে বলা হয়, শনিবার আঙ্কারার নিকটবর্তী শহর গাজিয়ানতেপে হামলায় ৫৪ জন নিহত হন। নিহতদের ২২ জনই শিশু। এরপরই তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় তুরস্ক। তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার প্রায় ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এক তুর্কি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইতিমধ্যে ওয়াইপিজিকে লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। আর সীমান্ত অতিক্রম করে আইএসের অবস্থানের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত থেকে আইএসকে হটিয়ে দিতে প্রতিশ্র“তি দেয়ার পরই এ হামলা শুরু হল। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে আইএসকে ‘পরিপূর্ণরূপে ক্লিন’ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সীমান্ত পুরোপুরি আইএসমুক্ত করা উচিত এবং এ জন্য যা যা করতে হবে তা করতে আমরা প্রস্তুত। এদিকে, শনিবারের আÍঘাতী হামলায় যে শিশুটিকে ব্যবহার করা হয়েছে, তার অজ্ঞাতেই সবকিছু হয়েছে বলে ধারণা করছেন তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা। একজন তদন্ত কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘খুব সম্ভবত জঙ্গিরা শিশুটির অজ্ঞাতসারেই তার শরীরে বিস্ফোরক রেখেছে। অথবা হতে পারে শিশুটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিল, না বুঝেই সে বোমাটি বহন করেছে এবং দূরনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এ জন্যই আইএসের ওপর এমন ফুঁসে উছেঠে তুরস্ক।’ এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল তুরস্ক। তুরস্ক ওয়াইপিজিকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি শাখা বলে মনে করে।
১৯৮০ সাল থেকে কুর্দিদের স্বাধীনতার জন্য তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে আসছে পিকেকে। ওয়াইপিজির রাজনৈতিক সংগঠন কুর্দিশ ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির (পিওয়াইডি) বিরোধিতা করে তুরস্ক। ওয়াইপিজি বর্তমানে তুর্কি সীমান্তে হাসাকা থেকে আফরিন শহর পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। কুর্দিদের এই গ্রুপে বেশ উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ)। এদিকে, ওয়াইপিজি দখলে থাকা সিরিয়ার মানবিজ শহরেও হামলা চালিয়েছে তুরস্ক। আগস্ট মাসের শুরুতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় আইএসের কাছ থেকে মানবিজ শহর দখল করে ওয়াইপিজি। গাজিয়ানতেপ থেকে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে দেড় হাজারের অধিক তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী সৈন্য। একজন সিনিয়র বিদ্রোহী যোদ্ধা রয়টার্সকে বলেন, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) ব্যানারে তারা আইএস ও কুর্দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কারণ তুরস্ক চায় সীমান্ত এলাকায় আইএস নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল দখল করুক এফএসএ।

শিশুদের যেভাবে জঙ্গি বানাচ্ছে আইএস

ইরাকের কিরকুকে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর আগমুহূর্তে রোববার ১২ বছরের এক শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। শিশুটির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তখন তার কোমরে বিস্ফোরণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাকে আÍঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করে মাঠে নামিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার একদিন আগেই তুরস্কে এক বিয়ে বাড়িতে আÍঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, হামলাকারীর বয়স ১২-১৪ বছর। শিশু জঙ্গিদের ব্যবহার করে হামলার নজির ইরাক-নাইজেরিয়া হয়ে এবার তুরস্কে দেখা গেল। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের ব্যবহার নতুন নয়। শ্রীলংকার তামিল টাইগার, আফ্রিকা-কলম্বিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী গোয়েন্দাগিরি, চোরাকারবারি ও যোদ্ধা সহকারী হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করেছে। তবে ইরাক-সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস শিশুদের ব্যাপক হারে আত্মঘাতী মিশনে ব্যবহার করছে। ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নিজেদের তথাকথিত ‘খেলাফত’ কায়েমে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই ‘শাসন ব্যবস্থা’ টিকিয়ে রাখতে শিশুদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে আইএস। ‘আগামী প্রজন্মের’ জঙ্গি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া হিসেবে বিদেশী সদস্যদের সন্তানদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক জন হরগান ইউএসএ টুডেকে বলেন,
মোট ছয়টি ধাপে শিশুদের জঙ্গি হিসেবে গড়ে তুলছে আইএস। আইএসের কবল থেকে বেঁচে ফেরা বিভিন্ন মানুষের সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে হরগান এ বিষয়ে গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি বলেন, প্রথম পদক্ষেপ মোহাবিষ্ট করা। ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশুদের নিয়ে একত্রে জড়ো করে জঙ্গিরা। এরপর তাদের ক্যান্ডি-খেলনা কিনে দেয়। ধর্মের কথা বলে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতিযোগিতা করে। বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করে। এমনকি তাদের আইসক্রিম কিনে দেয়। ধীরে ধীরে তাদের হিংসাত্মক পথে নিয়ে যায়। সহিংসতায় অভ্যস্ত করতে তাদের বিভিন্ন শিরোশ্ছেদ অনুষ্ঠানে হাজির করানো হয়। একপর্যায়ে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ছুরি-তলোয়ার হাতে দৌড়াদৌড়ি করে, ইউনিফর্ম পরে মার্চ করে, অস্ত্রের মহড়া দেয়। অনেক সময় শিশুদের দিয়েই বিভিন্ন রক্তপাতের ঘটনা ঘটানো হয়। আইএসের এক প্রোপাগান্ডা ভিডিওতে চার বছর বয়সী এক ব্রিটিশ শিশুকে মৃত্যুদণ্ড দিতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, আইএস অধ্যুষিত এলাকায় শিশুদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। কোনো কোনো শিশুকে সেখানে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কেউ বা সেখানে আটকা পড়েছে। আবার আইএসের বিদেশী সদস্যদের সন্তানরাও ওই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে।
অন্তত ৫০ জন ব্রিটিশ শিশু-কিশোর ওই প্রশিক্ষণ শিবিরে যুক্ত রয়েছে। আইএসের কথিত রাজধানী সিরিয়ার রাকাতে ধারণ করা ‘খেলাফতের শিশু’ নামে এক ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ বছরের শিশুরাও আইএসের সামরিক পোশাক পরে আছে। আর তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে সন্ত্রাসবাদের ওপর বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউরোপোল জানিয়েছে, আইএসের শাসনে বেড়ে ওঠা শিশুদের নিয়ে তারা বিশেষভাবে চিন্তিত। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইএসের কথিত খেলাফতে রয়েছে অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ শিশু। যাদের জঙ্গি দীক্ষায় প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী শুধু সিরিয়ায় ৩৬২ জন শিশু যুদ্ধকাজে জড়িত। এর মধ্যে ২৭৪ জন আইএসের আওতাধীন। এর আগে ‘চিলড্রেন অব ইসলামিক স্টেট’ নামের এক প্রতিবেদনে লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী থিংক-ট্যাংক ‘কুইলিয়াম’ তার তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছেন, ৩১ হাজার গর্ভবতী নারীকে লালন করছে আইএস। তাদের গর্ভেই জš§ নেয়া শিশুরাই হবে আইএসের নতুন প্রজšে§র ‘জঙ্গি’। জন হরগান বলেন, এখন এসব শিশু অবশ্যই ‘ভিকটিম’। তবে তারা বড় হয়ে আগামী দিনের সন্ত্রাসী হবে। তখন কেউ তাদের ভিকটিম হিসেবে গণ্য করবে না।

সুখ কেবলই মরীচিকা

সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি কয়েক মাস আগে। বর্তমানে পিআরএলে আছি। সরকারের ঊর্ধ্বতন পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পরও এই পিআরএল যা আগে এলপিআর হিসেবে সুপরিচিত ছিল- এই দু’য়ের সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বুঝতে পারিনি। এ দুটিই নাকি ছুটি। এলপিআর, যাকে বাংলায় বলা হতো অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি, এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অবসরকাল শুরু হয়ে যেত। এ এলপিআরের পরিবর্তে কী কারণে পিআরএল করা হয়েছে এবং তা জনস্বার্থেই করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে সরকারি কর্মচারীরা বা জনগণ কতখানি জ্ঞাত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বর্তমানটি জনস্বার্থে করা হয়ে থাকলে যুগ যুগ ধরে চলে আসা আগেরটি কি জনস্বার্থবিরোধী ছিল, তাও আরেকটি বড় প্রশ্ন। প্রশ্ন যাই থাক, পিআরএলকালে আমি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরও ১ (এক) বছরের ছুটি ভোগ করছি এবং সরকারের কোনো কাজ না করেই যথারীতি বেতনভাতা পাচ্ছি। আমার প্রাপ্য ছুটি বাবদ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করে বেশ কিছু টাকাও পেয়েছি। এসব কথা লেখার প্রেক্ষাপট হল, অবসরে গিয়ে দীর্ঘদিনের হাজারো ব্যস্ততার দিনপঞ্জি থেকে নিজেকে ঘরে বন্দি করে কী যাতনা শুরু হয়ে যায় তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতে চাইবেন না। এ যাতনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় আমার দীর্ঘদিনের শুভাকাক্সক্ষী এক স্যারের শরণাপন্ন হই।
স্যার শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিলেন, চা পানে আপ্যায়িত করলেন। বললেন, জীবনে যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ সেগুলো লিপিবদ্ধ করো। দেখবে, তোমার এ অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ লেখা দেশ ও জাতির উপকারে লাগবে। স্যার যত সহজে উপদেশটি দিলেন বিষয়টি যে কত কঠিন তা স্যারও হয়তো একসময় বুঝতে পারবেন। কারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা আর মুদ্রণযোগ্য এক পাতা লেখা কখনোই এক নয়। কাজেই স্যারের পরামর্শমতো কী নিয়ে লেখা শুরু করব সে ভাবনা থেকেই এ লেখা। সেই ছোটবেলার ‘ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ’ কেবল রঙিন স্মৃতি হয়ে আছে। সে স্মৃতিতে যেমন সুখ অনুভব হয়, তেমনি এতদিন পর সেই স্মৃতির সঙ্গে যোগ হয়েছে অনেক বেদনা, অনেক যন্ত্রণা। যাদের ঘিরে আমার সে সময়ের সুখের স্মৃতি তা রোমন্থনকালে তাদের প্রায় সবাই অনুপস্থিত। দীর্ঘ রোগভোগের পর নানার মৃত্যু; শিশু, তরুণ ও যুবক বয়সে ৬ জন মামার অকাল মৃত্যু, বেঁচে থাকা একমাত্র স্কুল শিক্ষক মধ্যবিয়সী মামার এক দিনের জ্বরে হঠাৎ মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে নানী ও সবশেষে আমার মায়ের অকাল মৃত্যুর ঘটনা সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। এসবের মধ্য থেকে কেবল আম কুড়োনোর স্মৃতিগুলোর মতো সুখ আলাদা করা খুবই কঠিন কাজ হলেও শুধু লেখার স্বার্থে সেগুলো সাজানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। দুঃখের স্মৃতিকে সাজাতে চাই না এ জন্য যে,
তাতে দুঃখ বেড়ে যাবে আর তা অবসর জীবনের বিড়ম্বনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সবাই যে সুখী হতে চায়, কেউ হয় আর কেউ হয় না। এ জগৎ সংসারে কোনো দুঃখবোধ নাই এমন একজন সুখী মানুষের সন্ধান লাভ কি সম্ভব? প্রকৃত সুখী হওয়া আদৌ সম্ভব কিনা এ নিয়ে সুখবাদী দার্শনিকরা নানারূপ তত্ত্ব, মতবাদ দিয়ে নিজেদের মতকে প্রতিষ্ঠা করার নানামুখী যুক্তি প্রয়োগের অপচেষ্টা করেও মানুষকে ১০০ শতাংশ সুখী বানাতে সমর্থ হননি। সুখের জন্য কিছু চাইতে গেলে প্রায়ই তা পাওয়া যায় না বরং বিদ্যমান সুখও চলে যায়। এটা অনুধাবন করেই কবিগুরু গেয়েছেন, ‘তারা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, সুখ চলে যায়’। রাজা বিক্রমাদিত্যের বিদুষী কন্যা জ্ঞানী ও প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত বর কামনা করে পেয়েছেন এক মহা মূর্খকে। তাই কপালে কঙ্কনাঘাত হেনে বলেছেন ‘কিং ন করতি বিধি র্যদি রুষ্ট/কিং ন দদাতি স এবহি তুষ্ট/উষ্ট্রে লুম্পতি রং বা ষং বা/ তস্মৈ দত্তা নিবিড় নিতম্বা/। সে কারণেই কেউ কেউ এ তত্ত্ব প্রচার করতে বাধ্য হয়েছেন’ সুখী যদি হতে চাও, সুখের কথা ভুলে যাও। কাজেই সুখের পেছনে অহেতুক দৌড়ানোর চেয়ে সুখের কথা ভুলে যাওয়ার চর্চা বাড়াতে হবে। বর্তমান সমাজের উন্নয়ন বিষয়ে নানা মুনি নানা মত নিয়ে পত্রিকার পাতা এবং টেলিভিশনের পর্দা গরম করছেন। কিন্তু জীবনের সুখ-দুঃখ নিয়ে আলোচনা নেই তাতে। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম মানুষের মন থেকে দুঃখের স্মৃতিগুলো স্থায়ীভাবে মুছে দেয়ার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেকখানি অগ্রসর হয়েছে।
এটা সম্ভব হলে তো এ জগৎ সুখময় হয়ে যাবে। আমরা কি সে যন্ত্র আবিষ্কারের অপেক্ষায় থাকব, না সুখের কথা ভুলে থেকে ‘যখন যেমন তখন তেমন’কে মেনে নিয়ে দুঃখবোধকে বশে রাখার অভ্যাস তৈরি করব তা নিয়ে যত শিগগিরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে, ততই মঙ্গল বলে মনে করি। কীভাবে এ অভ্যাস তৈরি করা যায় তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে দেখা যায় ‘প্রত্যাশার জন্ম এবং তা পূরণের ফলাফল’ থেকেই সুখ এবং দুঃখবোধ তৈরি হয়। প্রত্যাশার প্রাপ্তি থেকে সুখ এবং অপ্রাপ্তি থেকে দুঃখ- এ দু’য়ের মাঝামাঝি কোনো তৃপ্তিবোধ না থাকায় মানুষ নিজেকে কেবল সুখী বা দুঃখী ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না। এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুখ আর দুঃখের মাঝামাঝি একটি অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। জ্যামিতিক হারে মানুষবৃদ্ধি রোধকল্পে যেভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের স্লোগান উঠেছিল, তেমনিভাবে মানুষের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধির কারণে জগৎ-সংসারে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার জন্য যে অস্থিরতা তা রোধ কল্পে নিয়ন্ত্রণহীন প্রত্যাশাকে নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ব্যতিরেকে এ অস্থিরতা দূর করা সম্ভব হবে না। বরং তা মহীরুহ হয়ে ম্যালথাসের বর্ণিত নিয়মে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। আর তা হবে খুবই দুঃখজনক। ক্লাসের ফার্স্ট বয় যখন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে কোনো রকম ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছেন এবং একই ক্লাসের মধ্যম সারির এমনকি পেছনের সারির ছাত্র হয়েও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকার পর আরও প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ন্যক্কারজনক অনৈতিক কোনো কাজ করেন,
তখন তো প্রকৃতি তাকে ক্ষমা করবে না। এ ধরনের অনেক উদাহরণ আমাদের সামনে থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অহরহই ঘটতে দেখা যায। যে কোনো প্রত্যাশার নিয়ন্ত্রণে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। কোনো ব্যক্তি স্বাধীনভাবে কোনো কিছুর প্রত্যাশা করতেই পারে। এ ক্ষেত্রে সমাজ বা রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু তার এ প্রত্যাশা পূরণে যখনই কোনো অনৈতিক পন্থা গ্রহণ করা হবে, তখন রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভালো অভ্যাস গঠনের চর্চা করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা দৃশ্যমান নয়। সমাজও কি এ ধরনের বিবেকহীন মানুষকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে? রাষ্ট্র এবং সমাজ এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনই যেখানে এ বিষয়ে নির্লিপ্ত, সেখানে দু-চারজন ব্যক্তি ওই মানুষটিকে ঘৃণা করলেই কী আর না করলেই কী। সুখের স্মৃতিগুলো মালাবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় সুখের অস্তিত্ব যেখানে সংকটাপন্ন ভাবি, সেখানে কীভাবে তৈরি হবে মালাটি। একটা চাকরি পাওয়ার পর যে সুখ অনুভূত হয়, বেতনের টাকায় চলতে না পারায় সে সুখ উবে যায়,
ঊর্ধ্বতনদের দাপুটে আচরণে নিজেকে অসহায় মনে হয়, পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ার পর জীবন বিষাদময় হয়। এভাবে প্রতিটা সুখকেই কেবল সম্পূর্ণ ক্ষণস্থায়ী একটি অনুভূতি ছাড়া অন্য কিছুই মনে হয় না। এভাবে সব সুখই এক সময় অসুখী হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা দেয়। কাজেই ধার করে ঘি কিনে খেয়ে সুখী হওয়ার চেয়ে প্রকৃত সুখ অন্বেষণের পথ খুঁজে বের করাই উত্তম। সদা পরিবর্তনশীল জগতে বর্তমান খুবই সংক্ষিপ্ত সময়। বর্তমান প্রতি মুহূর্তে অতীত হয়ে যাচ্ছে আর আমরা ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এভাবে ভবিষ্যতও ক্রমাগতভাবে বর্তমান এবং পর মুহূর্তে অতীত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের আবর্তে সবকিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা এগিয়ে চলেছি এমন এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে, যার সঙ্গে নিজেকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। এরূপ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই আমি, আমার প্রত্যাশা এবং আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে, যার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশার জন্ম নিয়ন্ত্রিত হয়ে সীমিত প্রত্যাশা মানব সমাজকে সুখী হতে সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
মো. আনছার আলী খান : সাবেক অতিরিক্ত সচিব; সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন

ডিএসইতে ৭ মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মিলে ৬১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ২৪ কোটি টাকা। ডিএসইর এ লেনদেন গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ডিএসইতে ৬৬৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। তবে উভয় শেয়ারবাজারেই মঙ্গলবার মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন কমেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে ডিএসইতে মঙ্গলবার ৩১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি ৯২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৫৮৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৪৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৯২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়া সূচক ৫ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১১ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের ৭৩ লাখ ৪১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের,
কমেছে ১২৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৩ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২০ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : মঙ্গলবার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল মবিল যমুনা বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার, মিথুন নিটিং, বিএসআরএম লিমিটেড, ন্যাশনাল টিউবস, স্কয়ার ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেসকো এবং একমি ল্যাবরেটরিস। ডিএসইতে মঙ্গলবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল নদার্ন জুট, অ্যাম্বি ফার্মা, রহিম টেক্সটাইল, মিথুন নিটিং, স্টাইল ক্র্যাফট, সোনালী আঁশ, উসমানিয়া গ্লাস, আনলিমা ইয়ার্ন, এপেক্স ফুড এবং ফারইস্ট নিটিং।

টিমবুকতু ঐতিহ্য কী কেন ধ্বংস হল

২০১২ সালের ১ জুলাই টিমবুকতু
স্থাপনা ধ্বংস করছে জঙ্গিরা -এএফপি
একদিকে সাহারা মরু। আরেকদিকে পশুচারণের নির্মল তৃণভূমি। আর আছে শত বছরের পুরনো কিছু নিদর্শন- এই নিয়েই মালি। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার একটি হতদরিদ্র রাষ্ট্র এটি। ঐতিহাসিক স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাগুলোই এর একমাত্র গর্ব। এজন্যই বিখ্যাত দেশটির টিমবুকতু নগরী। কিন্তু ২০১২ সালে জঙ্গিদের তাণ্ডবে শেষ হয়ে গেছে তা। তবে সম্প্রতি আবারও সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে শহরটি।
কে নির্মাণ করেছিল পবিত্র স্থাপনাগুলো : চতুর্দশ, পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে আফ্রিকায় মুসলমান শাসনের স্বর্ণযুগে নির্মাণ করা হয়েছিল স্থাপনাগুলো। সুরম্য মসজিদ, মাজার এবং মনোরম সমাধিক্ষেত্র প্রস্তুতের মাধ্যমে মুসলিম শাসনের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দেয়া হয়েছিল তখন। মুসলমান ধর্মগুরুদের অধীনে সে সময় এই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয়। এরপর সেগুলোর দেখাশোনা করতেন বংশ পরম্পরায় উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত খাদেম, স্থানীয় মানুষ এবং পৃষ্ঠপোষকরা। ১৯৮৮ সালে টিমবুকতু শহরের এ ধরনের ১৩টি স্থাপনাকে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করে ইউনেস্কো।
কেন এগুলোকে পবিত্র মনে করা হতো : ৩৩৩ সাধুর শহর বা মরুভূমির মুক্তা বলে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই নগরী। স্বর্গীয় প্রশান্তি খোঁজার আশায় সমগ্র বিশ্ব থেকে মুসলিম পর্যটকরা এই স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে আসত। নগরীর আদি বাসিন্দারা দীর্ঘদিন থেকেই বিশ্বাস করতেন যে, এই পবিত্র স্থাপনাগুলো তাদের সব ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। মেয়ের বিবাহ থেকে শুরু করে প্রয়োজনে বৃষ্টি নামানোর জন্যও স্থানীয়রা ধর্মগুরুদের শরণাপন্ন হতেন। ইউনেস্কো এই জায়গাকে মালি ও পশ্চিম আফ্রিকার অধিবাসীদের পবিত্র ধর্মীয় অঞ্চল বলে অভিহিত করেছে।
কেন এগুলো ধ্বংস করা হল : ২০১২ সালের এপ্রিলে আল কায়েদাপন্থী আনসার দ্বীনের বিদ্রোহীরা মালির উত্তরাঞ্চলের দখল নেয়ার পর কুঠার দিয়ে চুটিয়ে চুটিয়ে ধ্বংস করে মসজিদসহ শত বছরের পুরনো এই স্থাপনাগুলো। কয়েকশ’ বছরের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছে জঙ্গিরা। প্রাচীন মাজার এবং সমাধিক্ষেত্রগুলোকে ধর্মবিরোধী স্থাপনা বলে গুঁড়িয়ে দেয় তারা। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ফরাসি বাহিনীর নেতৃত্বে মালি সরকার উত্তরাঞ্চল পুনরুদ্ধার করার আগ পর্যন্ত নাশকতা অব্যাহত রাখে তারা। জঙ্গিরা প্রথমে টিমবুকতুর অধিবাসীদের এসব স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে স্থাপনাগুলোকেই ধ্বংস করে তারা।
কেন জরুরি হয়ে উঠেছে আইসিসি’র মামলা : এটাই প্রথম মামলা, যেখানে জঙ্গিবাদের অপরাধে বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এমনকি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে বিবেচনা করে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও হেগের এই আদালতে প্রথম কোনো জঙ্গি বিচারের শুনানিতে উপস্থিত হয়েছে। এমনকি নিজের দোষ পর্যন্ত স্বীকার করেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
পবিত্র স্থাপনাগুলোর পরিণতি কী হয়েছে : ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করেই ২০১৪ সালের মার্চ থেকে এ প্রক্রিয়া চলেছে। পুরনো ছবি দেখে ঠিক আগের মতো করেই নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলো। এজন্য অর্থ সাহায্য দিয়েছে ইউনেস্কোসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ। ২০১৫ সালে জুলাই মাসে সংস্কার কাজ শেষ হয় এবং ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

ভাষণ দেয়ার সময় অজ্ঞান সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক লাইভ সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং। পরে অবশ্য চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে জানায় এএফপি। এমনকি লি সিয়েন চিকিৎসা ছুটিও নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার রাতে ও সোমবার সকালে লি’র কয়েক দফা ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার হৃৎযন্ত্রে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেরও ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার নাগাদ তিনি কাজে ফিরতে পারবেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়। তার অনুপস্থিতিতে উপ-প্রধানমন্ত্রী তিও চি হিয়েন দায়িত্ব পালন করবেন।
লি ফেসবুকে এক বার্তায় বলেন, ‘আমি ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে খুশি যে ডাক্তাররা মনে করছেন, আমি ভালো আছি। কিন্তু তারা আমাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। তাই আমি এ সপ্তাহ চিকিৎসা ছুটি কাটাব।’ রোববার লি বক্তব্য দেয়ার সময় অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে দেখতে চিকিৎসকরা আসার পর অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি আবার ভাষণ দিতে শুরু করলে জনতা ব্যাপক করতালিতে তাকে স্বাগত জানায়। রোববার লি’র দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, ক্লান্তি ও পানিস্বল্পতার কারণে রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার হৃৎপিণ্ডের অবস্থা ভালো আছে এবং তার স্ট্রোক হয়নি। ২০০৪-এর আগস্ট থেকে লি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। গেল বছর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড অপসারণ করা হয়। গেল শতকের ৯০-র দশকে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য করণীয়

আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য বলতে আমরা ধানকেই বুঝে থাকি। ধানকে এ দেশের জাতীয় সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরির মাসিক মুখপত্র রাইস টুডে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা বলতে মূলত ধান বা চালের নিরাপত্তাকেই বোঝায়। ধান উৎপাদনে বর্তমান স্বয়ংসম্পূর্ণতা বা উদ্বৃত্ত উৎপাদন একদিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, ধান বিজ্ঞানীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং কৃষকের নিরলস পরিশ্রম। প্রশ্ন হচ্ছে, এ স্বয়ংসম্পূর্ণতা টেকসই হবে কিনা? কারণ টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ক্রমহ্রাসমান সম্পদ (কৃষিজমি, শ্রমিক, পানি ইত্যাদি) এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত (বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি)। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। সম্প্রতি ব্রিতে অনুষ্ঠিত ২৩তম ধান গবেষণা ও সম্প্রসারণ কর্মশালায় Rice Vision for Bangladesh: 2050 and Beyond শীর্ষক মূল প্রবন্ধে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নানা সুপারিশ উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী দিনের চালের সঠিক মাথাপিছু চাহিদা নিরূপণ, সীমিত সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুগোপযোগী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের দিকনির্দেশনা।
বৈশ্বিক হিসেবে, বিশ্বের ১৬ কোটি হেক্টর ধানি জমিতে ৪৭ কোটি টন চাল উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের যে জনসংখ্যা হবে তার চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হবে আরও ২৫ ভাগ বাড়তি উৎপাদন। ইউএনপিডির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৮৫ ভাগ এবং ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.২২ ভাগে। এ হিসাবে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২১ কোটি ৫৪ লাখ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০৭১ সালে ২৪ কোটি ২৮ লাখে। অর্থাৎ ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করার চিন্তা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু চালের চাহিদা বছরে জনপ্রতি ১৪৮ কেজি, যা খাদ্যের বহুমুখিতা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের দরুন প্রতি বছর ০.৭ ভাগ হারে কমছে। সে হিসাবে ২০৪০ সাল নাগাদ মাথাপিছু চালের চাহিদা কমে জনপ্রতি প্রান্তিক সীমা ১৩৩ কেজিতে দাঁড়াবে। এজন্য ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমবে। সার ও তেলের দাম কমানো, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, উন্নত মানের ধানের বীজ সরবরাহ, বিভিন্ন ঘাত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন- এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিগত বছরগুলোয় চালের উৎপাদন ৩.৪ লাখ টন হারে বেড়েছে। বর্তমানে চালের উৎপাদন ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন।
গতিশীলতার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে চালের উৎপাদন হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টন। বিপরীতে ২০৫০ সালে ২১ কোটি ৫৪ লাখ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে চাল প্রয়োজন হবে ৪ কোটি ৪৬ লাখ টন। এটাই আপাতত টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য, যা সামনে রেখে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রমহ্রাসমান কৃষি জমি। এটি মোকাবেলায় প্রয়োজন আধুনিক ধানের জাতগুলোর কৌলিতাত্ত্বিক বা জেনেটিক গেইন ত্বরান্বিতকরণ। দেশে প্রতি বছর ধানি জমি কমছে ০.৪ ভাগ হারে; ফলে চাষের জমি সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। উৎপাদন বাড়াতে হবে উলম্বভাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে আধুনিক জাতগুলোর গড় ফলন ৩.১৭ টন/হেক্টর। অত্যাধুনিক ব্রিডিং কৌশল অবলম্বন ও মাঠ পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গড় ফলন ৪.৮২ টন/হেক্টর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এতে প্রতি বছর জেনেটিক গেইন হবে ০.৪৪ টন/হেক্টর। বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রয়োজন গবেষণা মাঠ ও কৃষক পর্যায়ে ফলনের পার্থক্য কমানো। বাংলাদেশে ধানের প্রকৃত ফলন ও সম্ভাব্য ফলনের পার্থক্য ০.৮৩ টন/হেক্টর। উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ পার্থক্য প্রতি বছর ১.১৩৫ ভাগ হারে হ্রাস করতে পারলে ২০৫০ সালে ৪৮ লাখ টন উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সীমিত ও ক্রমহ্রাসমান সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বর্তমান ০.৪ ভাগ হারে ধানি জমি কমলেও আমাদের মোট ধানি জমি ৬.২৯ মিলিয়ন হেক্টর নিশ্চিত করা গেলেই মোট চালের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ২.০-২.৪ ভাগ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। ধান ২০ সেমি. নাড়া/খড় রেখে কর্তনের পর তা চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিলেই জমির জৈব পদার্থের পরিমাণ ২.৪ ভাগ উন্নীত করা সম্ভব। আরেকটি উপায় হচ্ছে, ধানভিত্তিক শস্যবিন্যাসে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, নতুন নতুন স্বল্পমেয়াদি জাত চাষের মাধ্যমে একই জমি থেকে বছরে অধিক পরিমাণে আয় করা। গবেষকরা বলছেন, শস্য চাষের নিবিড়তা ২০৫০ সাল নাগাদ ২২১ ভাগের বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে না। তৃতীয়ত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ধান চাষে সেচ বা পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা। ধান একটি পানি পছন্দকারী ফসল। আউশ ও আমন বৃষ্টিনির্ভর হলেও বোরো মৌসুমে ধানের জমি সেচের কাজে ব্যবহৃত হয় ভূগর্ভস্থ পানি, যা ভবিষ্যৎ আশংকার কারণ। কারণ অনবরত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিতে পারে। এজন্য বৃষ্টিনির্ভর আউশ ও আমনের আবাদ বাড়াতে হবে। কৃষিতে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও ধান চাষে আধুনিক জাত এবং প্রযুক্তির বিস্তার ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেকেলে প্রযুক্তি আর প্রচলিত ধানের জাত দিয়ে এটা কখনোই সম্ভব নয়।
যেমন- স্বল্পকালীন রোপা আমনে প্রচলিত জাত ব্রি ধান৩৩ এবং ব্রি ধান৩৯ এর পরিবর্তে আধুনিক জাত ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১ ও ব্রি ধান৭২ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৪ চাষ করতে হবে। মধ্যমেয়াদি আমনে আগের জনপ্রিয় জাত বিআর১১, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮-এর পরিবর্তে ব্রি ধান৪৯ ও ব্রি ধান৭০-এর চাষ করা যেতে পারে। উত্তরের জেলাগুলোতে যেখানে বৃষ্টিনির্ভর স্বর্ণা জাতের প্রচলন রয়েছে সেখানে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক আমন জাতসমূহ যেমন- ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭২ জাতগুলো প্রবর্তন করা গেলে ফলনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আবার বোরো মৌসুমে মেগা জাত (সর্বাধিক জনপ্রিয়) হিসেবে খ্যাত ব্রির জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮, ও ব্রি ধান২৯-এর চেয়েও অনেক ভালো জাত বর্তমানে রয়েছে, যার মধ্যে ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৫৮ ব্রি ধান৬০, ব্রি ধান৬৩, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৩ উল্লেখযোগ্য। লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকার জন্য ব্রি ধান৪৭ এর আধুনিক সংস্করণ ব্রি ধান৬৭। আউশে পারিজা, জামাইবাবু ও বিআর২৬-এর পরিবর্তে যথাক্রমে ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৬৫ এবং নেরিকা মিউটেন্ট প্রবর্তন করে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষিবিদ এম আবদুল মোমিন : ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ কর্মকর্তা, ব্রি, গাজীপুর
smmomin80@gmail.com

মার্গারিতা এ দেশে বেড়ে উঠলে কী ঘটত?

‘পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল রাষ্ট্র বাংলাদেশ কেন অলিম্পিক গেমসে কখনও কোনো পদক পায়নি’ (Why the world's eighth most populous country never has won an Olympic medal)- সম্প্রতি এই শিরোনামে ইয়াহু নিউজ ফিডে একটি প্রতিবেদন দেখে মনটা গ্লানিতে ভরে গিয়েছিল। সেই গ্লানি কিছুটা কেটে গেল রিও অলিম্পিকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রুশ জিমন্যাস্ট মার্গারিতা মামুনের সাফল্যের খবরে। বাংলাদেশী বাবা ও রুশ মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া মার্গারিতা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের ইনডিভিজুয়াল অল-আরাউন্ড ইভেন্টে রাশিয়ার হয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছেন। বলা হচ্ছে, এই ইভেন্টে তিনি এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা জিমন্যাস্ট। তার ডাকনাম নাকি বাংলার বাঘ (বেঙ্গল টাইগার)! তার কোচ এ নাম দিয়েছেন। যথার্থ নামই বটে! এর মধ্য দিয়ে তার ‘বাঙালি’ পরিচয়টিও যেন প্রকাশ পাচ্ছে। মার্গারিতা দেখিয়ে দিলেন ধমনীতে বাঙালির রক্ত নিয়েও অলিম্পিকে সেরা হওয়া যায়। কেন এভাবে বলছি? রিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের সাত ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। কেউ কোনো পদক পাননি। অলিম্পিকে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে আসছে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে। পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রথম অলিম্পিক গেমসে অংশ নেয়ার ৩২ বছর পরও কোনো অলিম্পিকে একটিও পদক জয় করতে পারেনি, এমনকি একজন উপযুক্ত প্রতিযোগীও তৈরি করতে পারেনি।
আজ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী খেলোয়াড় উইন্টার অলিম্পিক গেমসে অংশ নেয়নি। ৪৩তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে দেশটির কোনো প্রতিযোগী কোনো ইভেন্টে ২১তম স্থানের চেয়ে ভালো কিছু করতে পারেনি। এসব কথা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ইয়াহু। ‘জয় নয়, অংশ নেয়াই বড় কথা’- এ সান্ত্বনা নিয়েই আমরা আছি। কিন্তু আমরা কি খতিয়ে দেখেছি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আমাদের অবস্থান কোথায়? ইয়াহু নিউজে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া দুটি মাত্র দেশ অলিম্পিকে আজ পর্যন্ত কোনো পদক পায়নি। এ দুটি দেশ হল রিপাবলিক অব কঙ্গো (জনসংখ্যায় ১৮তম) ও মিয়ানমার (২৬তম)। তবে অলিম্পিকে সাফল্য লাভের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা যথার্থ মাপকাঠি হতে পারে না। যদি তাই হতো তাহলে ১৩৩ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারত (যারা অল্প কিছুদিন পর চীনের জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে এ ক্ষেত্রে প্রথম হতে যাচ্ছে) মাত্র দুটি পদক (রিওতে একটি রৌপ্য, একটি ব্রোঞ্জ) পায় কেন? বস্তুত অলিম্পিকে এ উপমহাদেশের সব দেশের অবস্থানই কমবেশি সমান- সাফল্যের বিচারে। একসময় অলিম্পিকের হকির স্বর্ণপদকটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। সেটিও এখন পশ্চিমাদের দখলে চলে গেছে।
কেন আমাদের এ অবস্থা, ওই ইয়াহু নিউজেই তার জবাব মেলে। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে প্রথম লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশ নেয়। ওই গেমসে বাংলাদেশের তখনকার দ্রুততম মানব সাইদুর রহমান ডন ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিয়ে প্রাথমিক হিটেই বাদ পড়ে গিয়েছিলেন। দেশে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও ক্রীড়া সামগ্রীর অভাবে ডন ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারেননি। নিজেকে উন্নীত করতে পারেননি আন্তর্জাতিক মানে। সে সময় ডনের বয়স ছিল ২১। অথচ ১৬ বছর পর্যন্ত তার নিজের কোনো ট্রাক স্পাইক (দৌড়ানোর জুতা) ছিল না। ১৭ বছর পর্যন্ত কোনো কোচিং পাননি। এমনকি ১৯ বছর পর্যন্ত তিনি কোনো সিনথেটিক ট্র্যাকে দৌড়ানোর সুযোগ পাননি। কলেজছাত্র থাকাকালে তিনি দৌড়াতেন তার বাড়ির কাছে ঘাসের মাঠে। ১০০ ও ২০০ মিটার দূরত্ব মাপতেন হাত দিয়ে। বন্ধুরা সাধারণ হাতঘড়ি দেখে তার দৌড়ের সময় পরিমাপ করত। ডন বলেছেন, ‘কেউ আমাকে দৌড়াতে শেখায়নি। মূলত অন্যদের দৌড় দেখে দেখে শিখেছি। অন্যান্য অ্যাথলেটের ওপর লেখা বই পড়ার চেষ্টা করেছি- তারা কী করত বা কী খেত। কিন্তু এটা কঠিন ছিল।’ মার্গারিতার বাবা বাংলাদেশী, কিন্তু তিনি থাকেন রাশিয়ায়। জন্ম ও বেড়ে ওঠা মস্কোয়। খেলার পরিবেশ, প্রশিক্ষণ,
সুযোগ-সুবিধার অভাব নেই সেখানে। রাশিয়া হল বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়াক্ষেত্র। অলিম্পিকে বহুবার তারা (সোভিয়েত ইউনিয়ন/ রাশিয়া) পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে। রিও অলিম্পিকে ডোপিংয়ের অভিযোগ এনে দেশটির বেশিরভাগ ক্রীড়াবিদকে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ করা না হলে এবারও হয়তো তারা শীর্ষে থাকত। মার্গারিতা যদি বাংলাদেশে বেড়ে উঠতেন, তাহলে যে এ পর্যায়ে আসতে পারতেন না এটা প্রায় নিশ্চিত। অনেকে যুক্তি দেখান, এ উপমহাদেশের মানুষ শারীরিক গঠনের দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে খর্বকায় হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তারা ওদের সঙ্গে পেরে ওঠে না। কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। আফগানরা তো সুঠামদেহী, তারা কেন রিওতে কোনো পদক পায়নি? চীন, জাপান বা কোরিয়ার কথা না হয় বাদ দিলাম (অর্থনৈতিক অগ্রগতি তাদের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে), থাইল্যান্ড (এবার দুটি স্বর্ণসহ ছয়টি পদক) বা ভিয়েতনামের (একটি স্বর্ণসহ দুটি পদক) মানুষের শারীরিক গঠন কি আমাদের চেয়ে উন্নত? আসল কথা হল ভিশনের অভাব। ওইসব দেশে শৈশব থেকেই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় বিজড়িত করা হয়।
কার মধ্যে কী প্রতিভা আছে তা শৈশবেই শনাক্ত হয়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্র ও পরিবার তার পরিচর্যা করে। কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোয় প্রতিভা থাকলেও পরিবেশ ও আর্থিক সামর্থ্যরে অভাবে সেটা আর বিকশিত হতে পারে না। অলিম্পিকে সাফল্য পেতে চাইলে দেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি আগে অনুধাবন করতে হবে। যেসব অভিভাবক খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনের মধ্যে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখতে চান, তাদের জন্য ক্রীড়া শিক্ষা প্রশিক্ষণ (বিকেএসপি) ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শৈশব থেকেই শিশুদের ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে তৈরি করতে হবে। এখন আমরা ক্রিকেটের ওপর যেমন জোর দিয়েছি, তেমনি অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিলে একদিন আমাদের সন্তানরাও অলিম্পিক গেমস থেকে মেডেল জয় করে ফিরবে। বাংলাদেশের মানুষকে গৌরবের অনুভূতি দেয়ার জন্য আপাতত মার্গারিতাকে জানাই অভিনন্দন।
আসিফ রশীদ : সাংবাদিক ও লেখক
arbangladesh@gmail.com

সারা দেশে যখন বন্যা মিঠাপুকুরে তখন খরা

রংপুরে মিঠুপুকুরে তীব্র খরার কারণে চাষীরা শ্যালো মেশিন
দিয়ে আমন ধানের জমিতে সেচ দিচ্ছে। ছবিটি রোববার
গোপালপুর ইউনিয়নের শাল্টি গোপালপুর থেকে তোলা -যুগান্তর
সারা দেশে বন্যার পানিতে জমির ফসল তলিয়ে গেলেও রংপুরের মিঠাপুকুরে খরায় পুড়ছে আমন ক্ষেত। উপজেলার বেশিরভাগ জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হলেও অবশিষ্ট জমিতে পেট্রলচালিত শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। আবার অনেকের আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় কূপ খনন করে ধানের জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এ জন্য কৃষককে আমন ধান উৎপাদনে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
রোববার দুপুরে সরেজমিন চেংমারী, বালুয়া মাসিমপুর, রাণীপুকুর, ময়েনপুর, গোপালপুর ও খোড়াগাছ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষকই পেট্রলচালিত শ্যালোমেশিন ও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। এ সময় কথা হয় রূপসী গাছুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাজা মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৩ একর জমিতে ধান চাষ করেছি। মৌসুমের প্রথমে বৃষ্টির পানি দিয়ে চারা রোপণ করা হয়েছে প্রায় ২ একর জমিতে। বাকি জমিতে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণ করা হচ্ছে। কৃষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘খরার কারণে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণ করতে হচ্ছে।
রোববার ১৫ শতক জমিতে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এর ফলে আমন ধান উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।’ উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর। এর মধ্যে, হাইব্রিড জাত ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর, উফশি ৩২ হাজার ৩০০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৫৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। ইতিমধ্যে, প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি দিয়ে এসব জমির ধানের চারা রোপণ করেছেন কৃষকরা। বাকি জমিতে চারা রোপণের জন্য কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকূপের পানির ওপর।
উপজেলা কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম এ পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির পানি দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন কৃষকরা। বাকি জমিগুলোতে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণ করছেন তারা। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মিঠাপুকুরে গভীর নলকূপ রয়েছে ১৪৩টি। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে সংযোগ রয়েছে ১০৫টির। ওই দফতরের সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবীর বলেন, ‘আমার দফতরের বেশিরভাগ গভীর নলকূপ চালু রয়েছে। কৃষকরা জমিতে পানি সেচ দেয়ার জন্য এসব নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।’

উজ্জ্বল তারা আর নিষ্প্রভ যারা

সফল যারা
উসাইন বোল্ট
চার বছর আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আই অ্যাম দ্য গ্রেটেস্ট’। রিওতে এসেছিলেন অমরত্বের সুধা পান করতে। ক্যারিয়ারের শেষ অলিম্পিকে ঐতিহাসিক ‘ট্রিপল ট্রিপল’ করে সত্যিই অমর হয়ে গেলেন বোল্ট। ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলেতে টানা তিন অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতে অ্যাথলেটিক্সের গণ্ডি ছাপিয়ে গোটা ক্রীড়াঙ্গনের সর্বকালের সেরাদের কাতারে চলে গেছেন জ্যামাইকার স্প্রিন্ট-সম্রাট। স্প্রিন্ট ইভেন্টে অলিম্পিকে নয়টি স্বর্ণ জেতার কীর্তি নেই আর কারও।
মাইকেল ফেলপস
সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ানের প্রশ্নে অনেকের পছন্দ বোল্ট, অনেকের ফেলপস। তবে তর্কাতীতভাবেই অলিম্পিক ইতিহাসের সফলতম ক্রীড়াবিদ ফেলপস। ২৩টি স্বর্ণসহ রেকর্ড ২৮টি অলিম্পিক পদক জিতে নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাঁতার সম্রাট। বোল্টের মতো ফেলপসেরও শেষ অলিম্পিক ছিল এটি। পাঁচটি স্বর্ণ ও একটি রুপা জিতে মহানায়কের মতোই সাঁতারকে বিদায় জানিয়েছেন পুলের রাজা। কোচ বব বোম্যান যথার্থই বলেছেন, ‘আরেকজন ফেলপস আর কখনোই আসবে না।’
মো ফারাহ
অনেক আগেই নিজেকে কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন ফারাহ। এবারের অলিম্পিক তাকে দিয়েছে ব্রিটেনের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটের স্বীকৃতি। দূরপাল্লার দৌড়ে টানা দুই অলিম্পিকে জোড়া স্বর্ণ জিতেছেন সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ দৌড়বিদ। ৫ ও ১০ হাজার মিটার দৌড়ে গত ৪০০ বছরে প্রথম ‘ডাবল ডাবল’ কীর্তি ফারাহর।
সিমোন বাইলস
রিও অলিম্পিকের সেরা আবিষ্কার এই মার্কিন কৃষ্ণকলি। অলিম্পিক অভিষেকেই জিমন্যাস্টিক্সের রানীর আসনটা নিজের করে নিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী সিমোন। জিতেছেন চারটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ। বিম ইভেন্টে মুহূর্তের ভুলে স্বর্ণ হাতছাড়া না হলে জিমন্যাস্টিক্সে এক অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ জেতার রেকর্ডটা তার একার দখলে চলে যেত।
নেইমার
এবারের অলিম্পিকে স্বাগতিক ব্রাজিলকে উৎসবের সবচেয়ে বড় উপলক্ষটা এনে দিয়েছেন নেইমার। ঘুচিয়েছেন ফুটবলপাগল দেশটির চিরকালের এক আক্ষেপ। অলিম্পিক ফুটবলে ব্রাজিলের প্রথম স্বর্ণ জয়ের নায়ক নেইমারই। জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে দলের একমাত্র গোলটি করার পাশাপাশি টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন তিনি।
ব্যর্থ যারা
নোভাক জোকোভিচ
কয়েক বছর ধরে টেনিসের অবিসংবাদিত রাজা তিনি। জিতেছেন ১২টি গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা। রিওতে এসেছিলেন ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা ঘোচাতে। কিন্তু অলিম্পিক স্বর্ণ অধরাই রয়ে গেল জোকোভিচের। স্বর্ণ দূরে থাক, কোনো পদকই জোটেনি সার্ব তারকার ভাগ্যে। সবাইকে হতভম্ব করে একক ও দ্বৈতের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে যান নাম্বার ওয়ান জোকেভিচ।
লি চং ওয়েই
জোকোভিচের মতোই দুর্ভাগা ব্যাডমিন্টনের একনম্বর তারকা মালয়েশিয়ার লি চং। তার দুঃখ বরং আরও বেশি। হারলেন টানা তৃতীয় ফাইনালে। লিকে হারিয়ে এবার প্রথমবারের মতো এককের স্বর্ণ জিতেছেন র‌্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে থাকা চীনের চেন লং।
কেট ক্যাম্পবেল
মেয়েদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে নিজের বিশ্বরেকর্ড নতুন করে লিখেতে চেয়েছিলেন ক্যাম্পবেল। কিন্তু রেকর্ড দূরে থাক, নিজেদের প্রিয় ইভেন্টে শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জলকন্যা। ছেলেদের একই ইভেন্টে ক্যাম্পবেলের স্বদেশী ম্যাকভয়ও ডাহা ফেল করেছেন।
অ্যারন কুক
তায়কোয়ান্দোর নিজের ইভেন্টে দ্বিতীয় বাছাই ছিলেন কুক। ব্রিটেনের সাবেক নাম্বার ওয়ান এবার মলদোভার হয়ে অলিম্পিকে অংশ নেন। লক্ষ্য ছিল স্বর্ণ জিতে জন্মভূমিকে জবাব দেয়া। কিন্তু প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে যান কুক।
রেনাদ লাভিলেন
অলিম্পিকে রুপার পদকের ওজনও কম নয়। কিন্তু পোল ভল্টের রাজা রেনাদের জন্য এটা ব্যর্থতাই। রিওতে স্বাগতিক ব্রাজিলের থিয়াগো ব্রাজ দ্য সিলভার কাছে স্বর্ণ খুইয়ে দুয়োধ্বনিও শুনেছেন রেনাদ। এ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে পরে ক্ষমা চাইতে হয়েছে তাকে। এএফপি।

সাম্প্রতিক

একসময়ে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন চিত্রনায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অভিনেত্রী হিসেবে কলকাতার ছবিতে এখনও তিনি দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। যার শেষ উদাহরণ প্রসেনজিৎকে নিয়ে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘প্রাক্তন’। হাতে ঢাকাই ছবির কাজ না থাকলেও কলকাতায় অভিনয় নিয়ে এখনও ব্যস্ত রয়েছেন এ নায়িকা।
তার নতুন ছবি ‘পটাদার কীর্তি’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিগগিরই। ২০ আগস্ট কালকাতায় হয়ে গেল ছবিটির অডিও প্রকাশনা উৎসব। যেখানে নিজের কাছের মানুষ ছিলেন এতে নিমন্ত্রিত। আর এ নিমন্ত্রণপত্র বিশেষভাবে বাংলাদেশের দুই চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও আরফিন শুভকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। দুজনেই ঋতুপর্ণার আমন্ত্রণে উপস্থিত হয়ে এভাবেই ক্যামেরার সামনে ধরা দেন।

সিরীয় যুদ্ধের শেষ কোথায়?

সিরিয়ার আলেপ্পোতে আহত ৫ বছরের নির্বাক শিশুর ছবি হতবাক করেছে গোটা বিশ্বকে। অ্যাম্বুলেন্সে বসা অসহায় ওমরান দাকনিশের ধূলিধূসরিত রক্তাক্ত ছবি-ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। রক্তমাখা মুখে ছোট্ট হাতের পরশে আঙুলে লেগে যাওয়া রক্ত দেখে অবাক হয়েছে শিশুটি। অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে তা মুছে দিয়েছে। এর আগে তুর্কি সৈকতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা আয়লানের নিথর দেহ। এমন হাজারও শিশু অজান্তে রক্ত ঝরিয়েছে সিরিয়ায়। কিন্তু এর মাধ্যমেও মুছবে না দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের রেশ। পাঁচটি কারণে শিগগিরই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামবে না।
অসংস্কারযোগ্য জাতি বিভক্তি : ২০১১ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যে শেষ পর্যন্ত এ অবস্থায় পৌঁছবে তা সুদূর কল্পনাতেও ছিল না। ‘আরব বসন্ত’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যারা আসাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন তারা হয়তো এ পরিণতির কথা ভাবেননি। ক্ষমতাসীন আলাওয়াতি সংখ্যালঘুদের (যাদের সহায়তা দেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থীরা) বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে দেশটির প্রধান সুন্নি গোষ্ঠী। আলাওয়াতি সংখ্যালঘুরা পরে কুর্দি, খ্রিস্টিান ও অন্যান্য সুন্নির সঙ্গে জোট গঠন করে। অতএব শিয়া-সুন্নির ঐতিহাসিক বিভাজন থেকে রক্তপাত শুরু হতে সময় লাগেনি। সেই বিভাজনের দু’দিকে পশ্চিম এশিয়ার দুই শক্তিধর ইরান আর সৌদি আরব। ফলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল দখলে রয়েছে কুর্দি বাহিনীর হাতে আর পূর্বাঞ্চল বিদ্রোহী সুন্নিদের হাতে।
উভয়পক্ষই শক্তিশালী : সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সৈন্য স্বল্পতার কারণে আলেপ্পোর পুরা নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ। এটাই বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চলার একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার ইন ওয়াশিংটনের সিনিয়র বিশ্লেষক ক্রিস হারমার। তিনি আরও বলেন, আরব সেনাদের অপ্রতুল সৈন্য থাকায় আলেপ্পো দখল নিতে পারছে না। ফলে বিদ্রোহীরা পাল্টা আক্রমণ করতে পারছে। এছাড়া বিদ্রোহীরা নাছোড়বান্দা, আসাদ সমর্থিত রাশিয়ার বিমান হামলা ঠেকাতে না পারলেও জেদের জোরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ক্রিস।
বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ : ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটি থেকে রাশিয়ার বিমান হামলা সিরিয়ায় আসাদের বাহিনীকে সাহায্য করছে। আদতে এ দুই দেশই সিরিয়াকে সামরিক সখ্য দিয়ে সাহায্য করছে। ইরান শিয়া সামরিকদে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক ও লেবানন থেকে অর্থ ও সামরিক রসদ জুগিয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান, সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত ও তুরস্কের কাছ থেকে বিদ্রোহীরা সহায়তা পেয়েছে। লেবানন, সিরিয়া ও আরবের কূটনীতিক রায়ান ক্রকার বলেন, সুন্নি নিয়ন্ত্রিত সৌদি আরব ও শিয়া অধ্যুষিত ইরানের মধ্যে ধর্মীয় বিরোধ এ অঞ্চলের অন্যতম সমস্যা।
আল কায়দা ও আইএস সম্পৃক্ততা : সংঘাতের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আসাদের ওপর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে বিদ্রোহীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আইএসের উত্থান ও সিরিয়ার বৃহৎ অংশ দখলে নেয়ায় বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা ও নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধে। ফলে একদিকে আসাদবিরোধী নিরপেক্ষ শক্তিকে সমর্থন (অর্থ ও অস্ত্র জুগিয়ে)। অন্যদিকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোট তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের এ দ্বিমুখী নীতিতে সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি কাজে আসছে না : কূটনীতির অন্তহীন কূটকচালের পরও সিরিয়ায় কোনো সমাধান সূত্রের দেখা মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার সমর্থনপুষ্টরা, সিরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের প্রতিনিধিরা জেনেভায় রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বসলেও কোনো কাজে আসেনি। জাতিসংঘের সিরীয় দূত স্টেফান ডি মিসতুরা বহু যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণ সহায়তায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তার মিত্ররা আসাদকে টিকিয়ে রাখতে চায়। অন্যদিকে বিদ্রোহীরা ও যুক্তরাষ্ট্র আসাদকে সরাতে চায়।

স্বাধীনতার ৭০ বছরেও ভারতীয় মুসলমানদের উন্নতি নেই – মুসলিম জাহানের একমাত্র সিংহ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

বর্তমান পৃথিবীতে যদি মুসলিমদের জন্য কোনো নেতাকে সিংহের খেতাব দেওয়া হয় তাহলে তা ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যিনি একমাত্র ব্যক্তি ভারতে মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে বিতর্কের জন্য বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানালেন।
শনিবার ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌতে দলীয় কর্মীদের এক সভায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি ওই চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশের মুসলিমদের অবস্থা খারাপ থেকে আরো খারাপ হলেও কংগ্রেসসহ কোনো দলই এ নিয়ে মাথা ঘামায়নি।’
ওয়াইসি বলেন, ‘সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং বিজেপি আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে থাকে। তারা বলে থাকে আমি নাকি উত্তেজক বক্তব্য দিয়ে থাকি। কিন্তু তাদের নেতারা যখন বক্তব্য দেন তাতে কী ফুল বর্ষণ হয়? আমি তো ৭০ বছর ধরে চাপা থাকা আবেগের কথা বলছি। সংবিধান আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করার অধিকার দিয়েছে। আমি সমস্ত দলকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, তারা মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং আমার ওপরে চাপানো অভিযোগ প্রসঙ্গে আমাদের সভায় এসে বিতর্ক করুন অথবা আমি তাদের সভায় গিয়ে বিতর্ক করতে পারি।’
ওয়াইসি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমরাও অংশগ্রহণ করেছিল। আলেমরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে জেহাদের ফতোয়া দিয়েছিলেন, কিন্তু ইতিহাসবিদরা এসব কথা তুলে ধরেন না। স্বাধীনতার লড়াই মুসলিমরাই প্রথম শুরু করেছিল, কংগ্রেস বা অন্য কোনো দলের নেতারা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইতিহাসে এদের স্থান হয়নি। কারণ, ইতিহাস লেখকরা মুসলিম ছিলেন না। এই জাতি সকলের ওপরে আস্থা রেখেছে কিন্তু তারা পশ্চাদপদতা ছাড়া কিছুই পায়নি।’
তিনি বিভিন্ন দলের মুসলিম মুখ বা ‘লিডার’ বলে পরিচিত সপা নেতা আজম খান, বসপা নেতা নাসিমুদ্দিন সিদ্দিকি এবং কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদকে মুসলিম ‘ডিলার’ বলে অভিহিত করেন।
ওয়াইসি বলেন, ‘সন্ত্রাসের ‘অভিযোগে’ গ্রেফতার হওয়া যুবকদের আইনি সহায়তা দেয়ার কথা বলায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পাশে দাঁড়ানোর অভিযোগ করা হচ্ছে। যদিও এটা সত্যি যে, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে আইনি সাহায্য দেয়ার জন্য (বিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা) শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অর্থ সংগ্রহ করে আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন।’
তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুসলিম হওয়ার জন্যই তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়। ‘মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ই কেবল তাদের অধিকার দিতে পারে বলেও ওয়াইসি মন্তব্য করেন।
www.rajibkhaja.com