Showing posts with label রাঙামাটি. Show all posts
Showing posts with label রাঙামাটি. Show all posts

Tuesday, October 15, 2019

ঝরনা-পাহাড়-নদীতে একদিন by মতিউর রহমান

সুনীল দিগন্তে মন হারায়...
ভোরবেলায় ঘুম ভাঙতেই জানালায় বাইরে তাকিয়ে বুঝলাম রাঙামাটির রাস্তায় পৌঁছে গেছি। দু’পাশে পাহাড়ি টিলা জুড়ে ঘন বন। আঁকাবাঁকা পথ মাড়িয়ে বাস ছুটে চলেছে কাপ্তাইয়ের পথে। কাপ্তাই পর্যন্ত যেতে যেতে এদিক-ওদিক সবুজ দেখে অনেকদিন পর প্রাণ জুড়িয়ে গেলো।
কাপ্তাই জেটিঘাট পৌঁছে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা যাওয়ার নৌকায় চেপে বসলাম। ছইতোলা নৌকা। দু’পাশে বসার জায়গা আছে। নৌকা চলা শুরু করতেই ছইয়ের ভেতর বসে থাকা গেলো না! তাই ছইয়ের ওপর চড়ে বসলাম। নদীর দু’পাশ অসাধারণ। টিলা আর পাহাড়ের সারির মাঝে দিয়ে বয়ে গেছে নদী। একটু পরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল।
মাঝে মধ্যে টিলাগুলোর মাথায় ছোট ছোট কাঠের বাড়ি চোখে পড়লো। প্রতিটি বাড়ি থেকেই নদী পর্যন্ত সোজাসুজি পায়ে হাঁটা পথ। সেখানে নৌকা বাঁধা। নদীর ঘাটে শিশু-কিশোরদের ছুটোছুটি চোখে পড়লো। ছোটবেলায় পড়ার বইয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশ নিয়ে যেসব লেখা পড়েছিলাম তা যেন এখানে জীবন্ত।
বিলাইছড়ি ঘাটে পৌঁছে মনে হলো এই নদীপথ আরও দীর্ঘ হলে খারাপ হতো না। বিলাইছড়ি থেকে হাঁটাপথে মুপ্পোছড়ি ঝরনা যেতে লাগে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। পাহাড়ি পথ বেয়ে খাড়া মাথায় উঠতে হয়। নামার পন্থাও একই।
নীল আকাশের নিচে পাহাড়-নদীর মিতালী
নীল আকাশের নিচে পাহাড়-নদীর মিতালী
দু’পাশে নাম না জানা নানান প্রজাতির গাছপালা। বুনোফুল তো আছেই। আমরা হেঁটে হাঁপিয়ে ওঠার পর একটু বিশ্রাম নিতে একটি কূপের পাশে আশ্রয় নিলাম। কয়েকজন আদিবাসীর সঙ্গে দেখা হলো সেখানে। মধ্যদুপুরের দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে এখানে থেমেছেন তারা। কথায় কথায় যা জানালেন তারা তা শুনে মাথা চক্কর দেওয়ার দশা! তারা বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন সকালে, ঘরে পৌঁছাতে বেজে যাবে রাত প্রায় ১০টা-১১টা এবং পুরোটা পথ হেঁটেই যেতে হবে তাদের। কোনও যানবাহন চলে না এই দুর্গম পথে। যেতে যেতে চোখে পড়লো আদিবাসীদের বাঁশ ও কাঠের বাড়ি। বাঁশের চাটাইয়ের ওপর দোকানের পসরা মেলে বসেছেন তারা। এখানে আড়াই টাকায় মিললো কলা আর ১০ টাকায় জাম। এসব ফলের স্বাদ ভোলার নয়।
বিলাইছড়ি ভ্রমণের পথে
বিলাইছড়ি ভ্রমণের পথে
ঝরনা থেকে পানি নেমে তৈরি হয়েছে পাথুরে খাল। তাতে বসে আদিবাসী শিশু-কিশোররা খেলাধুলায় মেতেছে। খালের পাশে পাওয়া গেলো সুপেয় পানির আধার। পাথর চুঁইয়ে এসে জমা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি। ঢাকা ওয়াসার শতভাগ সুপেয় পানি পান করতে ভয় লাগলেও খোলা আকাশের নিচের ওই পানি গিলতে একটুও সংকোচ হয়নি।
পাথুরে পথ অনেকটা হেঁটে বেশ হয়রান আমরা। ঝরনার কাছাকাছি আসতেই নেমে আসা পানির খাল হয়ে দাঁড়ালো পথ। পাথুরে খাল এতই পিচ্ছিল যে, একটু ভুল করলেই হাত-পা ভাঙার আশঙ্কা। অথচ এমন ভয়ানক পথে কয়েকজন আদিবাসী গাছের গুঁড়ি কাঁধে নিয়ে অনায়াসে হেঁটে যাচ্ছেন। কী অদ্ভুত জীবনীশক্তি তাদের!
বিলাইছড়ি ভ্রমণের নদী পথ
বিলাইছড়ি ভ্রমণের নদী পথ
এদিকে পথ যেন শেষ হতেই চাইছে না। গাইডকে যখনই জিজ্ঞেস করছি, আর কতদূর? তার একই জবাব— ‘আর আধঘণ্টা’। এমনকি মূল ঝরনার বাঁকে পৌঁছে যখন গন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলাম, তখনও তিনি উত্তর দিলেন— ‘আর আধঘণ্টা’। বাঁকঘুরেই ঝরনার দেখা পেয়ে গাইডের সময়জ্ঞানের বহর দেখে একচোট হেসে নিলাম। তুমুল গরমে ঝরনার দেখা পেয়ে লোভ সামলানো মুশকিল। খাড়া পাহাড় থেকে নেমে আসছে জলধারা। চারপাশে পাহাড়, পানির শব্দ আর আমরা ক’জন ছাড়া কিছুই নেই। এবার দৌড়ে গিয়ে ঝরনার শীতল পানির নিচে দাঁড়িয়ে এতক্ষণের ক্লান্তি দূর করার পালা।
গহীন অরণ্যে ঝরনার জলে...
গহীন অরণ্যে ঝরনার জলে...
------দরকারি তথ্য----
বিলাইছড়ি যেতে হলে মাঝপথে বিজিবি/সেনাবাহিনী ক্যাম্পে চেক-ইন করতে হয়। সেখানে নাম-ঠিকানা জানানোর পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। পাসপোর্টের ফটোকপি হলেও চলবে। এরপর তারা ছবি তুলে ছেড়ে দেবে।
ঝরনার জলে স্নানের ফাঁকে ভ্রমণসঙ্গীদের আড্ডা
ঝরনার জলে স্নানের ফাঁকে ভ্রমণসঙ্গীদের আড্ডা
------যেভাবে যাবেন-----
ঢাকা থেকে কাপ্তাই যেতে হবে বাসে। প্রায় ৮ ঘণ্টার ভ্রমণ। হানিফ, শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সেন্টমার্টিন পরিবহন প্রতিদিন রাতে রওনা দেয় কাপ্তাইয়ের পথে। কল্যাণপুর বা পান্থপথ কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যায়। নন-এসি বাসে ভাড়া পড়বে ৫৫০ টাকা।
বাস থেকে নেমে যেতে হবে জেটিঘাটে। এটি বাস কাউন্টারের কাছেই। জেটিঘাট থেকে বিলাইছড়ি দুই ঘণ্টার নদী পথ। নৌকা রিজার্ভ নিতে চাইলে ভাড়া পড়বে ১৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা। স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে গেলে ৬০ টাকা ভাড়া। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম নৌকা ছাড়ে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় আরেকটি রওনা দেয়। মাঝখানে বিরতি নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দুই ঘণ্টা পরপর আবারও নৌকা ছেড়ে যায়। ফেরার পথও একই।
ভ্রমণসঙ্গীকে নিয়ে কায়াকিং উপভোগ করছেন লেখক
ভ্রমণসঙ্গীকে নিয়ে কায়াকিং উপভোগ করছেন লেখক
-------কোথায় থাকবেন------
বিলাইছড়িতে রাতে থাকার মতো ভালো হোটেল নেই। যেগুলো আছে ভাড়া খুব কম। দুইজনের রুম ৩০০ টাকায় পাওয়া যাবে। বড় রুম নিতে চাইলে একহাজার অথবা ১২০০ টাকা পড়বে। যদি রাতের আগে ভ্রমণ শেষ হয় তাহলে কাপ্তাই এসে রাতে থাকা ভালো। কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে আধঘন্টার দূরত্বে বিজিবি নিয়ন্ত্রিত প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁর ভেতরে এসি/ নন-এসি সব ধরনের কটেজ মিলবে। ভাড়া পড়বে ১৫০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা।
পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নদী
পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নদী
-------কী খাবেন------
বিলাইছড়িতে যাওয়ার পথে পানির তৃষ্ণা পাবে। তাই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি রাখতে হবে। বিলাইছড়ি বাজারে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে। তবে সকাল ৯টার মধ্যে পরোটা ভাজা বন্ধ করে দেয় সেগুলো, সুতরাং আগেই খেয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া গাইডের সঙ্গে কথা বলে খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। আর প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁয় উঠলে সেখানকার খাবার মিস করা উচিত হবে না!
নৌকায় ভেসে বেড়ানোর আনন্দ অন্যরকম
নৌকায় ভেসে বেড়ানোর আনন্দ অন্যরকম
--------যা যা করতে পারেন-------
প্রথম দিন মুপ্পোছড়া ঝরনা দেখবেন। ঝরনার পথে যেতে দরকার হবে গাইড। নৌকা থেকে নামলেই গাইডরা যোগাযোগ করবে। তাদের দিতে হবে ৫০০ টাকার মতো। এরপর ধূপপানি ঝরনা দেখতে চাইলে পুরোদিন লাগবে যাওয়া-আসার জন্য। সেক্ষেত্রে নৌকা ভাড়া পড়বে ২০০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত। কায়াকিং করতে চাইলে ফেরার দিনে কাপ্তাই ফেরিঘাটে পৌঁছে প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁয় যাবেন। বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এই স্পট একটি লেককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বসে সময় কাটানোর জন্যে বেশ মনোরম পরিবেশ রয়েছে এতে।
কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে সিএনজি ভাড়া ২০০ টাকার মতো পড়ে। আর জুম রেস্তোরাঁয় ঢোকার প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। ২০০ টাকায় একটি কায়াক বোট পাওয়া যাবে একঘণ্টার জন্য। দু’জন বসে কায়াকিং করা যাবে। পাশেই প্রশান্তি পার্ক। সেখানেও ঢুঁ দিলে মন্দ লাগবে না!
>>>ছবি: লেখক

Saturday, August 17, 2019

প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন রাঙামাটি by মঈন উদ্দীন বাপ্পী

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু। ছবি: বাংলানিউজ
ঈদের ছুটিতে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটিতে। হ্রদ, ঝরনা আর উপত্যকাবেষ্টিত এই মায়াবি শহর আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বিশাল হ্রদ ঘিরে রেখেছে সবুজাভ ছোট্ট এই শহরটিকে। হ্রদের কিনারায় উঁচু সবুজ পাহাড় মুগ্ধতা ছড়াবে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অসংখ্য ঝরনা ঝরছে সকাল-দুপুর-সাঁঝে। ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনাচার মুগ্ধতা ছড়ায় পথে প্রান্তরে।

যেভাবে আসবেন: ট্রেনে আসতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর, গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মহাখালী, ফকিরাপুল, কমলাপুর, সায়দাবাদ থেকে বাসে উঠতে হবে। বাসে সরাসরি পৌঁছে যাবেন রাঙামাটি। ট্রেনে বা বিমানে আসলে চট্টগ্রাম নেমেই টেক্সিক্যাব বা অটোরিকশায় চলে আসুন স্টেশন রোড বিআরটিসি কাউন্টার কিংবা অক্সিজেন রাঙামাটি বাস কাউন্টারে।

পাহাড়িকা বিরতিহীন পরিবহনে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন রাঙামাটিতে। চট্টগ্রাম থেকে রেন্ট-এ কার নিয়েও চলে আসতে পারেন।

কোথায় ঘুরবেন: ঘণ্টা দুয়েক রেস্ট নিয়ে টুরিস্ট বোট রিজার্ভ করে চলে যান সুভলং ঝরনায়। পথে পাহাড়ের বুকে রেস্টুরেন্টের ঐতিহ্যমণ্ডিত খাবার, সবমিলিয়ে একটা দিন কেটে যাবে আপনার। দেখা হয়ে যাবে পেদাতিংতিং, জুমঘর, টুকটুক ইকো ভিলেজ, স্বর্গছেঁড়া, চাংপাং পর্যটন স্পট আর চাইলে সুভলং বাজারও। ফেরার পথে দেখে নেবেন রাঙামাটি পর্যটন মোটেল সংলগ্ন সেই বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি।

সন্ধ্যায় চলে যান স্থানীয় আদিবাসী পোশাক মার্কেটে। কিনতে পারেন প্রিয়জনের জন্য স্থানীয় পোশাক। দামাদামি খুব একটা যুতসই হবে না। পরদিন সকালে রিজার্ভ অটোরিকশা কিংবা মাইক্রো নিয়ে আসামবস্তি সড়ক ধরে চলে যান কাপ্তাই।

এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল, দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নেভিক্যাম্প, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থানে। তবে সবচেয়ে ভালো লাগবে যাওয়া আসার ১৯ কিলোমিটার চড়াই উৎড়াই আঁকাবাঁকা পথটিই। একপাশে হ্রদ আর অন্যপাশে গভীর বনঘেরা সবুজ পাহাড় আপনার ভালোলাগা জুড়ে স্থায়ী আসন নেবে। এ পথেই দেখে নিতে পারেন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু বনভান্তের জন্মস্থান মোরঘোনা এবং পাহাড়িয়া রিসোর্ট রাইন্যা টুগুন। কাপ্তাইয়ে জুম রেস্তোরাঁ বা অন্য কোথাও দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন। সন্ধ্যা নামার আগেই ফিরে আসুন রাঙামাটি।

পরদিন সকালে রাঙামাটি রাজবন বিহারে চলে যান। দেখুন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কীভাবে আত্মমগ্ন হয়ে নির্জনে ধর্মচারে ব্রত। বিহারের পাশেই চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের রাজবাড়ি। এখান থেকে বেরিয়ে চলে যান সুখীনীলগঞ্জ। রাঙামাটির সাবেক পুলিশ সুপারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নতুন পুলিশ লাইন। এখানে আছে বিচিত্র ধরনের বৃক্ষের সমাহার। পাশেই রাঙামাটি জেলা পরিষদের বোটানিক্যাল গার্ডেন। এরপরই বেরিয়ে চলে আসুন রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘরে। যেখানে চোখ বুলিয়ে নিন হাজার বছরের ঐতিহ্যে।

এখান থেকে চলে যান ডিসি বাংলো। অনুমতি সাপেক্ষে ঘুরে দেখুন জেলার সবচেয়ে প্রাচীন বাড়িটি এবং সংলগ্ন জাদুঘর। বাংলোর পেছনে ছোট্ট একটি ব্রিজ পাড়ি দিয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ভালোই লাগবে আপনার। দেখতে পারেন ডিসি বাংলো পার্ক ও পুলিশের পলওয়েল পার্কও।

ভিন্ন স্বাদের ভুঁড়িভোজ যেখানে করবেন: রাঙামাটি বেড়াতে আসবেন আর স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী রীতিতে রান্না করা কোনো খাবার খাবেন না তা কী হয়? বৈচিত্রময় খাবার খেতে চলে যান সাবারাং, রঙরাঙ, কেবাং কিংবা মেজাং রেস্টুরেন্টে। আপনার এতদিনের চেনা মুরগি কিংবা গরুর মাংস বা ডিম রান্নার স্থানীয় প্রক্রিয়ার ভিন্নতর স্বাদ আর সুগন্ধ আপনার রসনা বিলাসকে সমৃদ্ধ করবে।

Sunday, April 21, 2019

রাঙামাটিতে হাত বাড়ালেই ইয়াবা by আলমগীর মানিক

মায়ানমারে উৎপাদিত ইয়াবা যার অর্থ পাগলা ট্যাবলেট। মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি নেশাজাতীয় এই ট্যাবলেট পার্বত্য রাঙামাটি শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনেকটা অসহায়। কিছুতেই নাগাল পাচ্ছে না মাদক ব্যবসায়ীদের। বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, তারা ডালে ডালে চললেও মাদক ব্যবসায়ীরা চলছে পাতায় পাতায়। নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। ফলে সব অভিযানে মাদক সনাক্ত বা জব্দ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বলা যায়, ইয়াবার দুষ্প্রাপ্যতা বাড়লেও কমেনি সরবরাহ।
জেলার অন্যতম কাপ্তাই হ্রদের মধ্যদিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। এ অবস্থায় ইয়াবার ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর। মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দুই কর্মকর্তা রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারেও একমত হন তারা।
সভায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয়ে নতুনভাবে যোগদান করা সহকারী পরিচালক আবদুল হানিফের পরিচয় তুলে ধরার সময় তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয়েই দৃঢ় কন্ঠে বলেছেন, এতদিন রাঙামাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তেমন একটা দৃশ্যমান ছিলো না। এ অবস্থায় রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাড়াশি অভিযান পরিচালনার আহবান জানিয়ে ডিসি-এসপি জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে করে তাদের সঙ্গে নিয়ে অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
এক্ষেত্রে কারও কোনো প্রকার তদবিরে কান না দিয়ে নিজেদের অস্থিত্বের জানান দিতে রাঙামাটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত সহকারী পরিচালক আবদুল হানিফের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রশাসনের এই উর্ধতন দুই কর্মকর্তা।
এদিকে, সরজমিনে শহর ঘুরে এবং জেলার বিভিন্ন সংস্থা ও পুলিশের বিশেষ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দোর্দন্ড প্রতাপের সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া এই মাদক সিন্ডিকেটকে নানাভাবে ব্যাকআপ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এই ব্যাকআপের জ্বালানী হিসেবে কাজ করছে নেতাদের বাড়তি পাওনা।
মাদকের খুচরা বাজার মধ্যম বয়সী কিছু ‘বড় ভাই’ এতদিন নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে তারা ব্যবহার করছে অল্প বয়সী কিশোরদের। আড়াল থেকে তাদের হাতে যারা মাদক পৌঁছে দিচ্ছে, তারা মূলতঃ বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের খোলস পড়ে নিজেদের নেতৃত্বের আড়ালে নেতাদের বিভ্রান্ত করছে।
মধ্যমসারীর এই নেতাদের রাজনৈতিক কোন উচ্চাভিলাস বা আদর্শ নেই। তাদের একটাই চাহিদা- দলের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে সরকারদলের ছাত্রসংগঠনসহ কয়েকটি সংগঠনের কয়েকজন নেতা দামি দামি গাড়ি, সিএনজি অটোরিক্সা-মোটর সাইকেলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। যেগুলো পরিচালিত হচ্ছে ভিন্নভাবে। এই সকল নেতার বেশি সংখ্যকই শহরের রিজার্ভ বাজার এবং বাকি কয়েকজন তবলছড়ি, বনরূপা ও ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা।
প্রাপ্ত তালিকানুসারে শহরে অন্তত: ৮০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী খুচরা পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রির ক্ষেত্রে রাঙামাটি শহরের অন্যতম প্রধান হাট হলো রিজার্ভ বাজার এলাকা। আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী, ডেকোরেশন ব্যবসায়ী, সিএনজি মালিক-চালক, আপেলের দোকানদার, তেলের দোকানদার, ট্রাক ড্রাইভার থেকে কসাই পরিবারের সদস্যও রিজার্ভ বাজার এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
রিজার্ভ বাজার, পৌর ট্রাক টার্মিনাল, উন্নয়ন বোর্ড, পার্ক এলাকা, আবদুল আলী এলাকা, হোটেল সৈকতের পেছনে, চেঙ্গী মুখ, নীচের রাস্তা ও পুলিশ লাইন স্কুল এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম হলো- বেলাল, রোমান, ডেঞ্জু, ইউছুপ, দিদারুল আলম, বাদশা, হুমায়ুন, সোহাগ, সজিব, রাজু, রুবেল ওরফে কবির, পারভেজ, আক্তার, হাবিব, কাদের, মোকতার, কাশেম, রতন, আনোয়ার, নাছির, সাবু, রুবেল, আরজু, ফোরকান, জুয়েল, বাবু ড্রাইভার, সোহেল, রাজু মারমা।
অপরদিকে, শহরের তবলছড়িতে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ছোট নুরুন্নবী, নুরুল আমিন, মোতালেব ভান্তে, দিপু, সারোয়ার, আনিছ, দোকানদার সম্ভু, উৎপল, রনি, সাদ্দাম, মানিক, মিন্টু, শহিদুল ইসলাম ধনি, রেজা, সুমন, নুনু, সাগর, জনি চাকমা, রুবেল ড্রাইভার, পান্না, নাঈম, ফার্মেসী বাবু, সিএনজি দিদার, পারভেজ, খোকন চাকমা, দুলু, কাউছার, লিটন, বাবা সেলিম, আলমগীর ও আলাউদ্দিন।
এসব ব্যক্তিরা তবলছড়ির পর্যটন এলাকা, কেরানী পাহাড়, সিলেটি পাড়া, বিডিআর রোড, ব্রাক্ষ্মন টিলা, নারিকেল বাগান, মালিপাড়া, মাশরুম এলাকা ও আসামবস্তি এলাকায় সার্বক্ষণিক বিচরণ করে ইয়াবা বিক্রি করছে অবাধে।
এদিকে শহরের বাসটার্মিনাল, কাঁঠালতলী, আলম ডকইয়ার্ড থেকে শুরু করে বনরূপা, কোর্ট বিল্ডিং, পাবলিক হেলথ ও সদর হাসপাতাল এলাকা, কলেজ গেট ও ভেদভেদী পর্যন্ত ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা হলো- আজিজ, সুমন, ছোটন, সজল, মনসুর (সস্ত্রীক), হাশেম (সস্ত্রীক), নুর নাহার, মেজবাহ,  বাপ্পী, বাবু, জসিম, রুবেল, সোহেল, রুহুল আমিন, সুজন, আলিফ, শিমূল, আরিফ, জনৈক কালামের ছেলে, সুমন দাশ, ডোম সুজন, শাহীন আলম, বেলাল ও সিওঅফিসের জনৈক ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিয়ত ইয়াবা বিক্রির অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে সরবরাহকারীরা। তাদেরই একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতে নগদ টাকা গ্রহণ করে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, ‘নারিকেল বাগান এলাকায় নির্দিষ্ট নাম্বারের গাছের গোড়ায় ইয়াবা রাখা আছে, সেগুলো নিয়ে নিন।’
অপরদিকে পুলিশের কয়েকজন অফিসারের তৎপরতার মুখে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা এখন শহরের রাজপথ ছেড়ে নদীকেই বেছে নিয়েছে নিরাপদ রুট হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নদীতে আনাঘোনা কম থাকাসহ অভিযানের সময় নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে ধোকা দেয়া যায়। এছাড়াও পানিতে ঝাপ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করা যায়। এ কারণেই কাপ্তাই হ্রদকেই বর্তমানে ইয়াবা বিক্রির অন্যতম হাট বানিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী আকস্মিকভাবেই বোটের মালিক বনে গেছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা নির্ভর বোট বানিয়ে নদীতে চালাচ্ছে। এ সকল বোটের মাধ্যমে একমাত্র ইয়াবা বিক্রির কাজটিই করে থাকে ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি ট্যাবলেট ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নিয়ে ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়।
এদিকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা অনেক সময় রাজনৈতিক তদবিরে অসহায়বোধ করি। কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতার অতিমাত্রার তদবিরে অতিষ্ট হয়ে উঠে আমাদের অফিসাররা। তাই অনেক সময় আমাদের সদিচ্ছা থাকলেও অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারছেন না।
এদিকে, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, গত দেড়মাসে কোতয়ালী থানায় ২৩টি মাদকের মামলা রুজু হয়েছে। এতে ২৫ জন আসামী গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও তালিকাভুক্ত অনেকেই বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।
কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিয়মিত ইয়াবা সেবনসহ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হয়ে ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। এদের কারণেই যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে তাদের স্ব-স্ব বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। তাই শর্ষের মধ্যে ভূতগুলো তাড়াতে না পারলে সরকার ঘোষিত ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শ্লোগানটি কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

Monday, March 18, 2019

রাঙামাটিতে দুর্বৃত্তের ব্রাশফায়ারে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ৭

নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নয় কিলো নামক স্থানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ৭ জন নিহত হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ আরো ৮জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
মানবজমিনকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির।
নিহতদের মধ্যে একজন প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নান আরাফসহ দুইজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও একজন পোলিং অফিসার রয়েছেন বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে। নিহতদের অন্যরা হলেন, আনসার সদস্য আলামিন, মিহির কান্তি দত্ত, জাহানারা বেগম, বিলকিস আক্তার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার আবু তৈয়ব ও সহকারি পুলিং অফিসার আমির হোসেন। স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, হতাহতরা সবাই সোমবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে নির্ধারিত গাড়িতে করে বাঘাইছড়ি আসার সময় নয়কিলো নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গুলি করার স্থানটি পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রণাধীন।
নিরাপত্তাবাহিনীর ধারনা উক্ত দলটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, রাস্তার পাশে উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে স্বয়ংক্রিয় ভারী অস্ত্র দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করেছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা লোকজনের প্রায় সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সেনা-বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

Monday, May 21, 2018

‘পাহাড়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে’

রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন,‘ পার্বত্য এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এখানে দেশি-বেদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।’ রবিবার (২০ মে) সকালে ‘জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও চুক্তিবিরোধী সব কার্যক্রম প্রতিহত করুন’ এই স্লোগানে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে ছাত্র জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পাহাড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে না অভিযোগ করে ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হোক, চাঁদাবাজি বন্ধ হোক, তা আমরাও চাই, তবে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হতে হবে। কিন্তু আমি স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য হয়েও আমাকে যৌথবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকেও এ বিষয়ে কোনও কিছু বলা হচ্ছে না।’
ঊষাতন তালুকদার আরও বলেন, গত ৩মে নানিয়ারচরে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হয়েছে। এটার পক্ষে আমরা নই এবং পরের দিনের ঘটনা সেটার জন্যও আমি নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বরাবরই বলে আসছি, আমরা সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি চাই না। আমাদের নেতা সন্তু লারমা অত্র এলাকায় সবসময় শান্তি চায়। কিন্তু হঠাৎ করে কীভাবে শক্তিমান, বর্মা মারা গেলো, ঘটনা কী? আলামত কি? এটা আসলে একটা খেলা। এই খেলাতে আমরা মরে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনুন। সাধারণ মানুষ কেন আতঙ্কে থাকবে। আজ পাহাড়ে শুধু পাহাড়িরা নয়, বাঙালিরাও আতঙ্কিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা সন্তু লারমাসহ আমরা যখন চুক্তি করেছিলাম সব অস্ত্র, গোলাবারুদ জমা দেব তখন তিনি অত্যন্ত উদ্ধিগ্ন ছিলেন। এই গোলবারুদ, অস্ত্র নিয়ে মানুষ সবাই যাবে কিনা না নাকি কেউ থেকে যাবে। সব ধরনের অস্ত্র, গোলা বারুদ আমরা নিয়ে এসেছিলাম। একটিও লুকিয়ে রাখিনি। কেউ কেউ আমাদের দোষারপ করে কিন্তু আমরা কোনও কিছু রেখে আসিনি তখন। উনি (সন্তু লারমা) খুব আন্তরিকভাবে সদিচ্ছা নিয়ে, এখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য এসেছেন। নতুন করে অস্ত্র ধরার জন্য আসেননি।’
পিসিপি’র সভাপতি জুয়েল চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দীন মাহিম, সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল কবীর, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদীপ্ত বসু, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেলসহ অনেকে।

Thursday, May 3, 2018

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা

শক্তিমান চাকমা
বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সংস্কার) নেতা শক্তিমান চাকমাকে গুলি করা হয়েছে। 
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এসময় রূপম চাকমা নামে আরেক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক শক্তিমান চাকমা ও নানিয়ারচর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) লোকজন তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর আহত শক্তিমান চাকমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শক্তিমান চাকমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শক্তিমান চাকমা নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশসহ স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার পর দোষীদের খুঁজে বের করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ শক্তিমান চাকমা

Wednesday, October 28, 2015

বাঘাইছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় নষ্ট হচ্ছে ভিজিএফের জব্দ চাল

আমতলী পুলিশ ফাঁড়ি বারান্দায় পড়ে আছে জব্দ করা
ভিজিএফের চাল। ২০ অক্টোবর -প্রথম আলো
বাঘাইছড়িতে দুস্থ গোষ্ঠীর সহায়তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) পাঁচ মেট্রিক টন চাল (১০০ বস্তা) জব্দ করা হয় চলতি বছরের ১ জুলাই। উপজেলার আমতলী ইউনিয়নে বিতরণের জন্য এসব চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা চাল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে না নিয়ে অন্য স্থানে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আনা হয়। জব্দ হওয়ার পর থেকে বস্তাভর্তি চালগুলো ফেলে রাখা হয়েছে আমতলী পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায়। ফলে এসব চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আমতলী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ফাঁড়িতে ১০০ বস্তা চাল রাখার জায়গা নেই। তাই বারান্দায় রাখা হয়েছে। আগে ছেঁড়া বস্তা দিয়ে পড়া চাল পাখি ও মুরগি খেত। এখন চাল নষ্ট হওয়ায় পাখিও খাচ্ছে না। বর্ষার সময় পানি পড়ে কিছু চালের বস্তা ভিজে যায়। এরপর আমরা কিছু চাল পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরীক্ষা করে দেখেছি পানিও নীল হয়ে গেছে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় রাখা হয়েছে চালের বস্তা। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫টি বস্তা ফুটো হয়ে চাল বের হয়ে পড়ে যাচ্ছে। কিছু চালে পোকাও দেখা গেছে।
থানা ও ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী ইউনিয়নে গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫০০ হতদরিদ্র পরিবারকে পাঁচ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই চালগুলো বিতরণের জন্য গত ৩০ জুন দুরছড়ি খাদ্যগুদাম থেকে তোলা হয়। এরপর এসব চাল ইউপি কার্যালয়ে না রেখে মাইল্যা বাজারের দুটি দোকান ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা হয়। পরদিন ওই তিন স্থান থেকে চালগুলো জব্দ করে পুলিশ। এ ব্যাপারে উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে বাঘাইছড়ি থানায় মামলা করেন। এতে আমতলী ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব আলীসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরে মামলা তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাঙামাটি কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাহেব আলী বলেন, ইউপি সদস্যদের পরামর্শে গ্রহীতাদের সুবিধার জন্য চালগুলো তিন স্থানে রাখা হয়। ওই স্থানগুলো থেকেই চাল বিতরণ করা হতো। কিন্তু পুলিশ এসে চাল জব্দ করে নিয়ে মামলা করেছে। এখন তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ হবে এসব চাল আত্মসাৎ, নাকি বিতরণের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বলেছি। কিছু রাখা হয়েছে বিতরণ করার জন্য।’ তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এলাকায় বিতরণের সুবিধার জন্য চাল ইউপি কার্যালয়ে না রেখে অন্য স্থানে রাখা যায়।
থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ফকির বলেন, ‘জব্দ চাল আমরা বিতরণ করতে পারি না। যেহেতু থানায় একটি মামলা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অনুমতি দিলে কিছু রেখে বিতরণ করা যায়। এই চালগুলো নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতেও ঝামেলায় থাকতে হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম বলেন, জব্দ করা চালের বিষয়টি মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আইনে আছে তদন্ত কর্মকর্তা কিছু আলামত রেখে বাকিগুলো বিলি করে দিতে পারেন।
এদিকে দুদক মামলার তদন্ত এখনো শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দুদকের রাঙামাটি কার্যালয়ের পরিচালক মো. শফিকুল আহম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ভিজিএফ চাল নিয়ে আমাদের কাছে একটি অভিযোগ রয়েছে। অতি দ্রুত এর তদন্ত শুরু হবে।’