Friday, September 9, 2016

‘নিকৃষ্ট’ জায়গা এখন জনপ্রিয় গন্তব্য

শার্লহুয়া শহরের এক হতশ্রী ভবন
বেলজিয়ামের শার্লহুয়া। ২০০৯ সাল থেকে পর্যটনের বিচারে ইউরোপের নিকৃষ্টতম বলে বিবেচিত হয়ে আসা শহর। অথচ আজ এটি অনেক ভ্রমণপিয়াসীর কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্য। পর্যটন মানচিত্রে ‘অচ্ছুত’ এমন অনেক ইউরোপীয় জায়গাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এত দিন পর্যটকেরা হয়তো ওই সব স্থানকে তাঁদের ভ্রমণ তালিকায় নিচের দিকেও রাখতেন না। বেলজিয়ামের শার্লহুয়া শহরের নাম উচ্চারিত হলেই ওয়াকিবহাল লোকের মনের চোখে ভেসে উঠবে বেকারত্ব আর অপরাধের থাবায় ক্ষতবিক্ষত এক জনপদের ছবি। কিছুদিন আগেও এনোউ প্রদেশের ওয়ালোনিয়ায় অবস্থিত এ শহরের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত রাশি রাশি ধাতব বর্জ্য। দেয়ালগুলোয় আঁকা কুৎসিত ছবি আর শিল্পবর্জ্যের দৌরাত্ম্যের কারণে এই শহর ছিল পর্যটকদের কাছে খুবই অপ্রিয় একটা জায়গা। কিন্তু সম্প্রতি উধাও হয়েছে সেই বর্জ্য। পর্যটক টানতে স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্যোগ ফল দিতে শুরু করেছে।
ক্রমেই সেখানে বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা। জার্মানির ভ্রমণ গাইডরা ইদানীং জোর দিচ্ছেন বার্লিনের টেমপেলহফের শুয়েরবেলাসটুনসকরপারকে। বার্লিনের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন আকর্ষণকারী স্থান টিয়ারগার্টেন ও ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে টেমপেলহফের শুয়েরবেলাসটুনসকরপার। এটি আসলে একটি প্রকাণ্ড সিলিন্ডার। ১৯৪১-৪২ সালে এটি নির্মাণ করেন হিটলারের প্রধান স্থপতি আলবার্ট স্পির! একই অবস্থা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের মলেনবিক এলাকার। ইউরোপে জঙ্গিবাদের অন্যতম ঘাঁটি বলে মনে করা হয় এ এলাকাকে। ভয়াবহ প্যারিস হামলার ঘটনায় জড়িত অন্তত দুই সন্দেহভাজনের বাস ছিল দরিদ্র মানুষজন-অধ্যুষিত মলেনবিকে। ওই হামলায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র জীবিত সালাহ আবদেসলাম এখান থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। বেলজিয়ামের পর্যটন নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের কর্মী আন ব্রুমাগন বলেন, অনেকের কাছেই মলেনবিক ‘আস্ত নরক’। তবে এখানে এলে লোকে বুঝতে পারে, এলাকাটা কত প্রাণবন্ত। ব্রুমাগন জানান,
গত এপ্রিলেই মলিনবেকে বড় ধরনের একটি আধুনিক আর্ট গ্যালারি খোলা হয়েছে। ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলা না হলে আরও আগেই হয়তো উদ্বোধন করা হতো এটি। এ ছাড়া নেওয়া হয়েছে নতুন কমিউনিটি সেন্টার, বাগান-পার্ক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রকল্প। স্থানীয় মেয়রের উদ্যোগ এই এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থেকে এর সুফলের প্রমাণও মিলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগে অপ্রিয় ছিল ইউরোপের এমন জায়গাগুলোর প্রতি দেরিতে হলেও নতুন কিছু কারণে মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। সন্ত্রাস এর একটি কারণ। রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলার ভয়ে অনেকে এই মুহূর্তে প্রচলিত জনপ্রিয় স্থানগুলো থেকে দূরে থাকছেন। এ ছাড়া বেকারত্ব, সন্ত্রাস আর অপরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের নেওয়া উদ্যোগ বড় ভূমিকা পালন করছে এসব এলাকায় পর্যটন আকর্ষণে।

আবার বাগ্‌যুদ্ধে ওবামা–ট্রাম্প

আবার বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন টেলিভিশন এনবিসির এক অনুষ্ঠানে গত বুধবার ট্রাম্প বলেন, ওবামার চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অনেক বড় নেতা। এর প্রতিক্রিয়ায় লাওসে আসিয়ান সম্মেলনের এক ফাঁকে ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতাই নেই ট্রাম্পের। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প ওবামাকে ‘নিকৃষ্টতম’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ওই সময় ওবামা ট্রাম্পকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের পুতিন-বন্দনা নতুন নয়। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, পুতিন তাঁকে ‘মেধাবী মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় তিনি ‘সম্মানিত বোধ’ করেছেন। এনবিসির ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ ফোরামে ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন পৃথকভাবে অংশ নেন। টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিন অনেক বড় নেতা। দেশের ওপর তাঁর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নেতার চেয়ে রাশিয়ার নেতা অনেক বড়।’
বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার বীজ বপন করছে রাশিয়া—মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান যেদিন এমন অভিযোগ করেন, সেদিনই ট্রাম্প পুতিনের প্রশংসা করলেন। এনবিসি টেলিভিশনের প্রশ্নকর্তা মাট লয়ার পুতিন সম্পর্কে তাঁর আগের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের ৮২ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। এদিকে আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিয়ে লাওসে থাকা ওবামা সেখানেই তুলাধোনা করলেন ট্রাম্পকে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূর্ব এশিয়ায় এটিই ওবামার শেষ সফর। গতকাল ওবামা বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই লোকটি (ট্রাম্প) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য। তিনি যখনই কথা বলেন, এ বিষয়টি বেশি স্পষ্ট হয়।’ ট্রাম্পের দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করে ওবামা বলেন, ‘আপনি কী বলছেন সে বিষয়ে আপনার ধারণা থাকতে হবে। আর কথা বলার জন্য আপনার প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনার কথার মধ্য দিয়েই কীভাবে আপনার নীতির বাস্তবায়ন করবেন সে বিষয়টি ফুটে ওঠে।’

এ কোন ‘রক্তনদী’

রক্তলাল দালদিয়ান নদী
রাশিয়ার ভূখণ্ডভুক্ত উত্তর মেরু অঞ্চলে নরিলস্ক নিকেল শিল্প এলাকার কাছে একটি নদীর পানি রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। এর কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করছেন রাশিয়ার পরিবেশবিষয়ক তদন্তকারীরা। দালদিয়ান নামের ওই নদীর রক্ত-লাল পানির ছবি রাশিয়ার গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। সরকারি একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানার পাইপলাইন ছিদ্র হয়ে কপার-নিকেলের ঘনীভূত বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ার কারণে পানির রং পরিবর্তন হতে পারে।
নরিলস্ক নিকেল ধাতব পদার্থ নিকেল ও প্যালাডিয়াম উৎপাদনকারী বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোভিয়েত আমলে সাইবেরিয়ার ক্রাশনুইয়ার্স্ক অঞ্চলের তাইমির উপদ্বীপে এই কারখানার বিশাল চুল্লি নির্মাণ করা হয়। দালদিয়ান নদীর কাছে খননকারী কোম্পানির নাদেঝদা নামের স্থাপনা রয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের কারখানা থেকে কোনো নদী দূষণ হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে তাঁরা কিছু জানেন না।

ভালো লাগা কৌতুকগুলো by আনিসুল হক

আজ ঠিক করেছি, শুধুই হাসিঠাট্টা করব। শুধুই কৌতুক বলব। এবং সব আমার স্টক থেকে। মানে, স্মৃতি থেকে তুলে আনব আমার সবচেয়ে পছন্দের কৌতুকগুলো। আমার পছন্দের কৌতুকগুলোর মধ্যে আছে সোভিয়েত কৌতুক আর বুশ কৌতুক। একবার প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ গেছেন ছাগলের খামার পরিদর্শনে। তিনি কয়েকটা ছাগলের সঙ্গে ফটো তুললেন। পরের দিনের প্রাভদা পত্রিকায় সেই ছবি বের হলো। নিচে ছবির পরিচিতি, ‘পাঁচটা ছাগলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ। বাঁ থেকে তৃতীয়।’ ইদানীং কোরবানির পশুর সঙ্গে সেলফি তোলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তা দেখে হঠাৎ করে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, সেলফিটা কে তুলেছে? সেলফিটা আসলে কার?
আমি হয়তো একটা ছাগলের সঙ্গে ছবি তুলে ছবি–পরিচিতি দিতে পারি, ছাগলের সঙ্গে আমি, বাঁ থেকে দ্বিতীয়। সোভিয়েত কৌতুকের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো পুশকিনের ভাস্কর্যের কৌতুকটি, যে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন স্তালিন। প্রস্তাব করা হলো, পুশকিনের একটা ভাস্কর্য স্থাপিত হবে। শিল্পী মডেল বানালেন। পুশকিন বসে নিজের লেখা কবিতার বই পড়ছেন। তখন পর্যালোচনা করে বলা হলো, এটা বেশি ভাববাদী হয়ে যাবে। পুশকিন বরং স্তালিনের লেখা বই পড়ুক। সেই ভাস্কর্য নির্মাণ চলছে। তখন হঠাৎ মনে হলো, পুশকিনের আমলে স্তালিন ছিলেন না, স্তালিনের কোনো বইও ছিল না। এটা ইতিহাসের ব্যত্যয় হয়ে যায়। তাহলে কী করা যায়। ইতিহাসের ভুল সংশোধন করা হলো। এবার মূর্তিটা দাঁড়াল, স্তালিন পুশকিনের বই পড়ছেন। তখনো আবার সমালোচনা হলো।
স্তালিন কবিতা পড়ছেন, এটাও ভাববাদী হয়ে যাবে। ভুল বার্তা দেবে জনগণকে। চূড়ান্তভাবে মূর্তিটা বানানো হলো। স্তালিন স্তালিনের লেখা বই পড়ছেন। এর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে একমাত্র বুশের কৌতুক। বুশ গেছেন ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডের রানির সঙ্গে দেখা করতে। রানিকে তিনি বললেন, আপনারা রাজ্য চালান কী করে। রানি বললেন, বুদ্ধি দিয়ে।
কী রকম?
এই যে দেখো, আমার প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। আমি তাকে জিজ্ঞেস করছি, আচ্ছা টনি বলো তো, একটা ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, সে তোমার মায়ের ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নেই, ছেলেটা কে?
টনি ব্লেয়ার বললেন, আমি। রানি বললেন, দেখলে বুশ। টনি কত বুদ্ধিমান। এই রকম বুদ্ধি দিয়েই আমরা দেশটা চালাই। বুশ দেশে ফিরে গেলেন। মন্ত্রীদের ডাকলেন। বললেন, বলো দেখি একটা ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, সে তোমার মায়ের ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নেই, ছেলেটা কে?
পুরো মন্ত্রিসভা স্তব্ধ হয়ে গেল। এই কঠিন প্রশ্নের জবাব কারও জানা নেই। এই সময় কলিন পাওয়েল এলেন। তিনি বুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বুদ্ধিমান বলে গণ্য। বুশ তাঁকে বললেন, আচ্ছা পাওয়েল বলো তো, একটা ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, সে তোমার মায়ের ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নেই, ছেলেটা কে?
কলিন পাওয়েল বললেন, আমি।
বুশ বললেন, হয় নাই। সঠিক উত্তর: টনি ব্লেয়ার।
বুশ গেছেন স্বর্গের দুয়ারে।
তাঁকে আটকে দিল স্বর্গের দ্বাররক্ষক। আপনার পরিচয় দিন।
বুশ বললেন, আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, আমি কেন পরিচয় দেব, সবাই চেনে আমাকে। দ্বাররক্ষক বলল, একটু আগে আইনস্টাইন এসেছিলেন। তাঁকে বললাম, আপনি যে আইনস্টাইন, তার প্রমাণ দিন। তিনি লিখলেন, ই ইজ ইকুয়াল টু এমসি স্কয়ার। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, বুঝেছি বুঝেছি, আপনি আইনস্টাইন, দয়া করে ভেতরে ঢুকুন। এরপর এলেন পাবলো পিকাসো। তিনি তাঁর বিখ্যাত কবুতরটা আঁকলেন। আর সাইন করে দিলেন। আমি বললাম, স্যার আমি আপনাকে চিনেছি। আপনি পিকাসো। ভেতরে ঢুকুন। আর আপনাকে আর পরিচয় দিতে হবে না।
বুশ বললেন, আইনস্টাইন, পিকাসো—এরা আবার কারা?
দ্বাররক্ষক বলল, বুঝেছি বুঝেছি, আপনিই প্রেসিডেন্ট বুশ। আপনি ভেতরে যেতে পারেন।
বুশের কৌতুক কি বেশি পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প জোকস শুনতে চান?
আচ্ছা, যদি রোনাল্ড রিগ্যানের মতো ট্রাম্পেরও আলঝেইমার রোগ হয়, তাহলে কী হবে? কী আর হবে, ট্রাম্প এখনকার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে যাবেন।
এইবার একটা সত্য ঘটনা।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী।
একজন চাষির ছেলে এসেছে বরিশাল থেকে, চাকরির জন্য।
তুমি কী পারো?
জি?
লেখাপড়া করেছ?
জি না।
গাড়ি চালাতে পারো?
জি না।
রান্নাবান্না করতে পারো?
জি না।
ঘাস কাটতে পারো?
জি না।
কিছুই পারো না?
জি না। তাহলে তোমাকে আর কী চাকরি দেব? তোমাকে তো মন্ত্রী বানানো ছাড়া আর কোনো উপায় দেখি না। আর আব্রাহাম লিংকনেরসমস্যাটার কথাও আপনাদের আগে বলেছি। তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সবাই তাঁকে ঘিরে ধরল, তারা মন্ত্রী হতে চায়। তখন আব্রাহাম লিংকন একটা গল্প বললেন। এক রাজা। তিনি যাচ্ছেন শিকারে। রাজাকে আবহাওয়ামন্ত্রী বলল, আবহাওয়া ভালো। ঝড়বৃষ্টি নাই। আপনি নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। রাজা যাচ্ছেন। এই সময় একটা চাষা বলল, সামনে যাবেন না। সামনে ঝড়বৃষ্টি হবে। এখানেই তাঁবু গেড়ে অপেক্ষা করুন। সত্যি সত্যি ঝড়বৃষ্টি শুরু হলো। তখন রাজা ওই চাষাকে আবহাওয়ামন্ত্রী বানালেন। তারপর শুধালেন, আপনি কী করে বুঝলেন, সামনে ঝড়বৃষ্টি আছে?
চাষা বলল, আমার গাধা যখন কান নাড়ে, তখন ঝড়বৃষ্টি হয়। সেভাবে বুঝেছি। রাজা বললেন, তাহলে আর আপনাকে মন্ত্রী রাখব কেন? গাধাটাকেই তো আমি মন্ত্রী বানাতে পারি। রাজনীতিবিদদের নিয়ে কৌতুক করা সোজা। কারণ, তাঁরা কৌতুক শুনলে রেগে যান না। অন্য পেশাজীবীদের নিয়ে কৌতুক করা মুশকিল। কারণ, তাঁরা প্রতিবাদ করেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদ তাঁর বহুব্রীহি নাটকে একজন ডাক্তারকে বেশ বোকাসোকা দেখিয়েছিলেন। আফজাল হোসেন সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই নাটক প্রচারের পর ডাক্তাররা নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া এক পেশাজীবী ঘুষ খান, এটা লেখার পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। পৃথিবী অনেক দূরদর্শী মহানুভব অগ্রসর চিন্তার নেতাও পেয়েছে। টমাস জেফারসন ১৮০১ থেকে ১৮০৯ পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকারবিহীন সংবাদপত্র আর সংবাদপত্রবিহীন সরকারের মধ্যে আমি প্রথমটা বেছে নেব। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘মানুষকে ব্যবহার, ভালোবাসা ও প্রীতি দিয়েই জয় করা যায়; অত্যাচার, জুলুম ও ঘৃণা দিয়ে জয় করা যায় না।’
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

গৌরবের এই প্রতিদান!

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশকে যারা গৌরবান্বিত করেছে, সেই কিশোরী ফুটবলারদের তার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হলাম আমরা। দলের নয়জন খেলোয়াড় বাড়ি ফেরার পথে বাসের সহযাত্রীদের মৌখিক গঞ্জনার শিকার হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সন্তানোপম এসব মেয়েকে অপমানের মধ্য দিয়ে গণপরিবহনে নারীদের প্রতিকূলতার চিত্রই কর্কশভাবে ফুটে উঠল। আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অজপাড়াগাঁর এই মেয়েদের উঠে আসার গল্প রূপকথার মতোই। অতিদরিদ্র বাস্তবতায় গ্রামীণ পরিবেশ থেকে ওদের উঠে আসা একই সঙ্গে অধ্যবসায় ও কষ্টসহিষ্ণুতার গল্প। জীবনে অনেক কষ্টই ওদের অধিকাংশকে করতে হয়েছে। কিন্তু কষ্ট সয়েও তারা দেশের মুখকে উজ্জ্বল করেছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তারা বাংলাদেশের বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে। হয়ে উঠেছে অসংখ্য ছেলেমেয়ে তথা দেশবাসীরই অনুপ্রেরণার প্রতীক। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও ওদের দৃষ্টান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অথচ এত বড় বিজয়ের পরও তাদের বাড়ি পাঠানো হলো গন্ডগোলময় লোকাল বাসে! বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যতই বলুক যে মেয়েরাই এভাবে ফিরতে চেয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিভাবকহীন অবস্থায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রামে তাদের লোকাল বাসে পাঠানো মোটেই সুবিবেচনার পরিচয় নয়। তাদের উচিত ছিল বাফুফের নিজস্ব অথবা ভাড়া করা গাড়িতে কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। তা না করায় সামান্য কারণে তাদের অপমানকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো। আমরা সব মানুষের জন্য, বিশেষত সব কিশোরী ও নারীর জন্যই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক গণপরিবহন চাই। আমরা চাই গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা করার দুর্বৃত্তপনার অবসান হোক। এ কারণেই এসব কৃতী ফুটবলারের অপমানের মধ্যে সব নারীর অপমান লুকিয়ে আছে। এর মধ্যে উন্মোচিত হয়ে গেছে আমাদের কর্তৃপক্ষের কারও কারও দায়িত্বহীন মানসিকতার।

আসিয়ান সম্মেলনে চীনের দাপট


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে নিজের শক্তিমত্তা দেখাল উদীয়মান পরাশক্তি চীন। চীনের কূটনীতির কারণে এ সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর বিতর্ক নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য হয়নি। অথচ আসিয়ানের সদস্য বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের তীব্র বিরোধ রয়েছে। এমনকি এ ইস্যুতে এ অঞ্চলে যুদ্ধের আশংকাও করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। বস্তুত বর্তমানে ভূ-রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত ইস্যু দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা। যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ামুখী কূটনীতি শুরুর পর এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বেড়েছে উত্তেজনাও। চীন বিশ্বের অন্যতম এই ব্যস্ত সাগরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে হেগের সালিশি আদালতের রায়ে এই সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের একাধিপত্যকে বাতিল করে দেয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আশা করে হয়েছিল যে আসিয়ান সম্মেলনে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু। কিন্তু তা হয়নি। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কোনো উত্তেজনা আছে বলে আসিয়ান নেতাদের ভাষণে মনে হয়নি। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে বৃহস্পতিবার সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেও সচতুর শব্দ চয়নের মাধ্যমে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। শুধু বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আসিয়ান নেতারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে জুলাইয়ের হেগের আদালতের রায়কে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। হেগের আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কিছু কৃত্রিম দ্বীপ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এই সাগরে চীনের মালিকানার দাবিকে প্রায় পুরোপুরি নাকচ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে বছরের ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবাহিত হয়। এমন একটি বিষয়কে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াটা বিস্ময়কর হলেও এজন্য চীনের দাপুটে কূটনীতিকে দায়ী করা হয়েছে। আসিয়ানের নিয়ম অনুসারে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে সর্বসম্মতভাবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীন লাওস ও কম্বোডিয়াকে ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে কোনো কড়া অবস্থান বা বিবৃতি দিতে দেয়নি। আসিয়ানের অন্যতম সদস্য তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের বিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বুধবার আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের বৈঠক মসৃণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে অবশ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী চীন। এ ইস্যুকে যথাযথভাবে সামাল দিতে চায় চীন। এজন্য বাইরের হস্তক্ষেপ দরকার নেই।
বাইরের হস্তক্ষেপ বলতে স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে। চীন এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। তবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুকে ফের সামনে নিয়ে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যিনি তার দেশের কূটনীতিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এশিয়াকে। ওবামা বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মালিকানা দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে হেগের আদালত যে রায় দিয়েছেন তা মেনে চলা অপরিহার্য। চীন বলছে, তারা ওই রায় মানে না। লাওসে আসিয়ান নেতাদের উদ্দেশে ভাষণে ওবামা বলেন, ‘জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সালিশের রায় বাধ্যতামূলক। এটা এ অঞ্চলে সমুদ্রসীমা অধিকারকে ব্যাখ্যা করেছে। আমি স্বীকার করছি ওই রায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে। কিন্তু কীভাবে উত্তেজনা কমিয়ে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় এবং কূটনীতি ও স্থিতিশীলতাকে বিকশিত করা যায় আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি।’ ওবামার ভাষণে চীন যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা স্পষ্ট। ওবামার ভাষণের আগেই ফিলিপাইন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে যাতে দেখা যায় যে দক্ষিণ চীন সাগরের স্কারবোরো সোয়ালে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে চীন। বেইজিং অবশ্য এ দাবি অস্বীকার করেছে। ওই এলাকাটি ফিলিপাইনের মূল ভূখণ্ড থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে। ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে। ফিলিপাইনের নৌবাহিনীর সঙ্গে এক বিরোধের পর ২০১২ সালের সোয়াল দখল করে নেয় চীন।

ওবামা-দুতের্তে অদ্ভুত দৃষ্টি বিনিময়

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের সাক্ষাতে অদ্ভুত দৃষ্টি বিনিময় হয়েছে। লাওসে আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) সম্মেলন চলাকালে জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আগে উভয় নেতার এ সাক্ষাৎপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তাদের মধ্যে ‘সংক্ষিপ্ত আলোচনা’ হয়েছে বলে উভয় দেশের সরকারপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে ‘পতিতাপুত্র’ বলে গালি দেয়ায় দুতের্তের সঙ্গে ওবামা তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। খবর এএফপির। দুতের্তের সফরসঙ্গী ও ফিলিপিনো পররাষ্ট্র সচিব পারফেক্টো ইয়াসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হোল্ডিং রুমে তারা মিলিত হন। সবার শেষে তারা হোল্ডিং রুম ত্যাগ করেন। তবে তাদের এ সাক্ষাৎ কতক্ষণ ধরে চলে তা আমি বলতে পারব না।
শেষ পর্যন্ত তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে তাতেই আমি খুশি।’ এদিকে হোয়াইট হাউসের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, আসিয়ান সম্মেলনের জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আগে উভয় নেতা সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মিলিত হন। পরে ওবামা সাংবাদিকদের জানান তিনি দুর্তেতেকে মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ‘সঠিক পথে’ লড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাতে সাক্ষাতের আগে ওবামা ও দুতের্তে অদ্ভুত দৃষ্টি বিনিময় করেন। মঙ্গলবার উভয়নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিয়েনতিয়েনের উদ্দেশে ওবামার যাত্রার কয়েক ঘন্টা আগে দুতের্তে তাকে ‘পতিতাপুত্র’ বলে গালি দেন ও তার সমালোচনা করেন। এরপর পরই বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র নিড প্রাইস বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ফিলিপিনো নেতা দুতের্তের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন না। পরিবর্তে ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শাটল ডিপ্লোমেসির কার্যকারিতা কি ফুরল?

পূর্বসূরি হিলারি ক্লিনটনের রেকর্ড ভাঙতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির হাতে সময় আছে এখনও চার মাস। হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সফর করেছিলেন ১১২টি দেশ। এ ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে কেরি। তবে দেশ না ধরে মাইলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হলে হিলারির চেয়ে বিদেশ বেশিই সফর করেছেন তিনি। দ্রুততাকে মান হিসেবে ধরলেও মনে হয় জয় হবে তারই। হবেই না বা কেন? গত সপ্তাহের শুরুতে কেরি ছিলেন জেনেভায়; আইএসের জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে একটি চুক্তির বিস্তারিত শর্ত চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে। তারপর ঝটিকা সফরে এলেন বাংলাদেশ। সেখানে থেকে গেলেন ভারত। খেয়াল করার মতো বিষয়, ক্ষমতাসীন প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও কিন্তু বিদেশ সফর করেছেন তুলনামূলকভাবে অন্যান্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি। ইসরাইল ও তুরস্কের মাঝে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ইদানীং বেশ ছোটাছুটি করতে হচ্ছে তাকে। উভয় ঘটনা থেকে সহজেই অনুমেয়, ওবামা প্রশাসনের আচরণ অধিক বিশ্বমুখী এবং তারা জোর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সফট পাওয়ার’ বৃদ্ধির ওপর; আর সেজন্যই হিলারি ক্লিনটন, জন কেরি ও জো বাইডেনদের শাটল ডিপ্লোমেসি। প্রশ্ন হল, একবিংশ শতাব্দীর এ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগে ব্যয়বহুল শাটল ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে কী অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র? তা থেকে বোঝা যাবে শাটল ডিপ্লোমেসির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। সেক্ষেত্রে প্রথমে বলা দরকার,
বিশেষত গত বছর শাটল ডিপ্লোমেসি না চালালে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বহুপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়া কঠিন ছিল। একই সঙ্গে এও বলতে হবে, প্রধানত প্রযুক্তির কারণে চলতি শতাব্দীতে এসে খানিকটা কার্যকারিতা হারিয়েছে শাটল ডিপ্লোমেসি। লক্ষণীয়, কূটনীতির এ পরিভাষাটির উদ্ভব ও বিকাশ ১৯৭০-র দশকে; সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের হাত ধরে। তিনি এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন ইসরাইল, মিসর ও সিরিয়ার মাঝে। কার্যত শাটল ডিপ্লোমেসির কল্যাণেই ফিলিস্তিনিদের শান্তির রূপকার হয়ে ওঠে আমেরিকা। সাফল্য ছিল বলেই ওই ধারার কূটনীতি অব্যাহত রাখা হয় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলেও। ২০১১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব হিলারি ক্লিনটন গ্রহণের আগে শাটল ডিপ্লোমেসিই চালিয়েছেন সাবেক সিনেটর জর্জ মিশেলের মতো কূটনীতিকরা। বরং ২০১৩ সালে জন কেরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। তার কারণ, এ সময়ে এসে অনুভূত হয়, উচ্চ তথ্যপ্রযুক্তির পরিবেশে শাটল ডিপ্লোমেসি আসলে কূটনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষার এক ধরনের কবরস্থান। কেননা দেখা যাচ্ছে, কোনো চুক্তিকেই তার বাস্তবায়নের পথে বেশিদূর এগিয়ে নেয়া যায় না শাটল ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে। ফলে হাতে যত সময়ই থাকুক, কেরির পক্ষে হিলারির রেকর্ড ভাঙা কঠিন বৈকি।
এখন বরং হাতে যে ক’দিন বাকি রয়েছে জন কেরিকে ব্যস্ত থাকতে হবে সিরিয়া নিয়ে। তার মনোযোগ, সময় ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দু হবে এটি। দেশটির সংকট কিন্তু গভীরতর হচ্ছে ক্রমে। তা ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশে। এরই মধ্যে কোনো কোনো বিশ্লেষক সিরিয়া ইস্যুকে অভিহিত করেছেন একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে। আর এর সমাধান হিসেবে প্রয়োগ হয়েছে শাটল ডিপ্লোমেসির। বৈঠক জেনেভায় চলতে থাকুক সমস্যা নেই। তবে সিরিয়ায় মানুষ হত্যা অব্যাহত থাকলে কিন্তু শাটল ডিপ্লোমেসির কার্যকারিতা নিয়েই সংশয় দেখা দিতে পারে জনমনে। সিরিয়া ইস্যুর গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন জাতিসংঘের তিন তিনজন বিশেষ দূত- কফি আনান, লাখদার ব্রাহিমি ও বর্তমানে স্তাফান দো মিস্তুরা। তাদের উদ্যোগে ঘাটতি ছিল না। তবে সেগুলো শেষ পর্যন্ত আটকা পড়ে কানাগলিতে। সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি কেমন বিপাকে পড়েছে তা বর্ণনার জন্য এ ঘটনাই যথেষ্ট। সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার টাস্কফোর্স ভেঙে দিয়েছেন, নাকি ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছেন দো মিস্তুরা? বেশকিছু দিন ধরে কোনোভাবেই অবরুদ্ধ নগরীগুলোয় ত্রাণবহর পাঠাতে পারছিলেন না তিনি।
দৃশ্যত সিরিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। এর একদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে রাশিয়া ও ইরান এবং অন্যদিকে সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো। কেউ কেউ বলছেন, এ সংকট নিরসনে পশ্চিমাদের কূটনৈতিক উদ্যোগে কিছু ফাঁকফোকর ছিল। রাশিয়া ও ইরান সেই শূন্যস্থান বিপুল সামরিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করে টিকিয়ে রেখেছে বাশারের ক্ষমতা। সিরিয়ায় কূটনৈতিক অচলাবস্থার এমন ঘাটতি সৃষ্টির মূল দুটি- একটি নতুন ও অপরটি পুরনো। নতুন দুর্বলতাটি হল, যেখানে ক্রমবর্ধমান হারে জঙ্গিরা আশ্রয় নিচ্ছে সিরিয়ায়, তদুপরি যে অঞ্চলের নিয়তির প্রধান নির্ধারক বর্তমানে জঙ্গিবাদ, সেখানে উৎসের উত্তাপ থেকে দূরবর্তী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেলে বসে শাটল ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে সঠিক সমাধান আনা কঠিন। আর পুরনো দুর্বলতা হচ্ছে, জাতিসংঘের কূটনীতির নিজস্ব রীতি তথা ঐতিহ্য। ১৯৪৮ সালের পর থেকে জাতিসংঘ যে ক’জন বিশেষ দূত নিযুক্ত করেছে তাদের কারও বয়সই ৬৪ বছরের কম ছিল না। ব্রাহিমির ৮০, দো মিস্তুরার ৭০, আনানের ৭৮। অবশ্যই শান্তি আনয়নের কূটনীতিতে বয়স্ক, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠানোর একটা ভালো যুক্তি আছে, তারা সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তবে এর দুর্বলতা স্পষ্ট। সমস্যা হল, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত ‘তরুণ’ কূটনীতিকদের পাঠিয়ে বিশেষ লাভ হবে বলে মনে হয় না।
কারণ সিরিয়ার জঙ্গিদের উদ্দেশ্য হল সহিংসতা ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে আপন স্বার্থ হাসিল। তাদের বিপক্ষে ‘তরুণ’ কূটনীতিকরা দরকষাকষিতে তেমন সুবিধা করতে পারবেন না বলেই ধারণা অধিকাংশ বিশ্লেষকের। ফলে আগামীতে যদি আমরা জন কেরির মতো শাটল ডিপ্লোমেসিতে অভ্যস্ত আরেকজন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাও পাই, তবু ফুরোবে না শাটল ডিপ্লোমেসির চাহিদা। উপরন্তু আমার মনে হয়, বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিরসনে শাটল ডিপ্লোমেসির ওপর অধিক জোর দিতে হতে পারে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবকে। নিয়তির পরিহাস, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মুখোমুখি শাটল ডিপ্লোমেসির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে না গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে তা বেড়েছে। এ ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে জানতে চেয়েছিল দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন। রসিকতার সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, প্রতিপক্ষ কোন ব্যান্ডউইডথের ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সেটা দেখার জন্যই আমরা যাই। অবশ্যই শাটল ডিপ্লোমেসি কূটনীতির ‘সর্বরোগ সংহারক মহৌষধ’ নয়। কিন্তু এর উপকারিতা ব্যয়ের (বিমান-হোটেল ভাড়া ইত্যাদি) চেয়ে বেশি বলে প্রতীয়মান। আমার কথা যদি মনে না ধরে, শুধু একবার তাকান ইয়েমেনের দিকে। দেশটি কি বিপুল জানমালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রেহাই পেত না সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরানের মাঝে শাটল ডিপ্লোমেসি থাকলে?
গার্ডিয়ান থেকে ভাষান্তর : জায়েদ ইবনে আবুল ফজল
স্যার সাইমন জেনকিনস : লন্ডনের দ্য টাইমসের সাবেক সম্পাদক

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের প্রতি স্ট্রাউসের হুশিয়ারি

বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে খেলোয়াড়দের সরাসরি চাপ না দিলেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বেঁধে দিল সময়সীমা। ওয়ানডে অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানসহ যারা দ্বিধায় ভুগছেন তাদের সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সফরে না গেলে দলে জায়গা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সব ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত শনিবারের মধ্যে জানিয়ে দিতে হবে। সব ঠিক থাকলে ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়ানডে দল ঘোষণা করবে ইংল্যান্ড। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত করে ইসিবি। নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইসিবির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে যেতে কোনো ক্রিকেটারকে বাধ্য করা হবে না।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো ও ক্রিস জর্ডান। টেস্ট অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকুও সফরে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান শুরু থেকেই সিদ্ধাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রেগ ডিকাসনের ইতিবাচক প্রতিবেদনের ওপর যেন আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি। সিদ্ধান্তটা এখনও ঝুলিয়ে রেখেছেন। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি ২০ ম্যাচে নয় উইকেটে হারার পর বাংলাদেশ সফর নিয়ে সেই পুরনো কথাই শুনিয়েছেন মরগ্যান, ‘অধিনায়ক হিসেবে আপনি সবাইকে নিয়েই সেখানে যেতে চাইবেন। কিন্তু ক্রিকেটে অখণ্ড মনোযোগ দেয়ার জন্য নিরুদ্বিগ্ন থাকাটা জরুরি। সেখানে যেতে আমি কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ মরগ্যানের মতো আরও যারা দ্বিধায় আছেন তাদের দলে জায়গা ধরে রাখার বিষয়টি মনে করিয়ে দিলেন স্ট্রাউস, ‘কোনো খেলোয়াড়ের সরে দাঁড়ানোর সুযোগে অন্য কেউ যদি ভালো করে ফেলে, তাহলে তো জায়গা হারানোর ঝুঁকি থাকবেই। পরের সিরিজেই তাকে ফেরানোর নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারেন না। তবে আমি এখনও আশাবাদী, সবাইকে নিয়েই বিমানে উঠতে পারব।
কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পেয়েছি, তা ঝুঁকি কমিয়ে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’ প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেও বাংলাদেশে আসতে কাউকে বাধ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্ট্রাউস, ‘বাংলাদেশ সফরে ইংল্যান্ডের টেস্ট ও ওয়ানডে- দুই অধিনায়ককেই চাই আমি। তবে দিনশেষে সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে হবে। আমরা অবশ্যই কাউকে চাপ দিচ্ছি না। বলছি না যে, বাংলাদেশে তাদের যেতেই হবে। আমার পরামর্শ হল, ডিকাসনের প্রতিবেদনটা পর্যালোচনা করে যেন সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ডিকাসন যদি কোনো সফরকে নিরাপদ বলে, তাহলে সেটা নিরাপদ। সে নিরপদ না বললে অবশ্যই তা নিরাপদ নয়। আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ সফর সম্পূর্ণ নিরাপদ। লফবরোর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আজ ও আগামীকাল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্ট্রাউস। সেখানেই সবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চাইবেন তিনি। অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও পেসার মার্ক উডকে বাংলাদেশ সফরে বিশ্রাম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসিবি।