Tuesday, January 1, 2019

ইসরাইলের কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসকে বেচতে দেব না: মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের কাছে ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে বিক্রি করার জন্য তিনি কখনো আমেরিকাকে সুযোগ দেবেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাসই হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।
ফাতাহ আন্দোলনের ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার রামাল্লাহ শহর থেকে দেয়া এক বাণীতে মাহমুদ আব্বাস বলেন, “বায়তুল মুকাদ্দাস বিক্রির জন্য নয়; এ শহর নিয়ে কাউকে আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেব না। বায়তুল মুকাদ্দাসই থাকবে ফিলিস্তিনের চিরদিনের রাজধানী।” তিনি বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের মালিকানা দাবি করে আসছে তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা কখনো স্বীকৃতি দেয় নি। পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে ইসরাইলের উপস্থিতিকে দখলদারিত্ব বলে মনে করে তারা।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে নিজের সঙ্গে যুক্ত করে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। ইসরাইলের এ পদক্ষেপ কখনো স্বীকৃতি দেয় নি আন্তর্জাতিক সমাজ। এরপরেও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

চীন ও ভারতের জন্য হাসিনার জয়ের তাৎপর্য কী? by সি. উদয় ভাস্কর

প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রোববার জাতীয় নির্বাচনে জিতেছে। তার দল এ নিয়ে মোট ৪ বার ও টানা তৃতীয়বার মসনদে এসেছে। আওয়ামী লীগ এই ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করেছে। দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০ আসনে ২৮৮টিতেই জয় পেয়েছে। তবে এই জয়ের পাশাপাশি নির্বাচনের দিন সহিংসতা দেখা গেছে। উঠেছে কেন্দ্র-ওয়ারি ভোট কারচুপির অভিযোগ।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সহ বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ফলাফল অস্বীকার করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
ঘরোয়াভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান খেলোয়াড় শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে। তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও তীব্র তিক্ততা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
তবে আন্তর্জাতিকভাবে দেশটিকে দেখা হয় দুই সমানভাবে আধিপত্যশীল দুই শক্তির মাঝে পিষ্ট। এই দুই শক্তিরই রয়েছে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ।
বাংলাদেশেই এই চার দশকব্যাপী রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও কুৎসা রটানো। আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনী বিজয় হয়তো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে ফলাফলে বড় ধরণের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি নিশ্চিত যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল বাংলাদেশকে আরও ৫ বছর পরিচালিত করবে। এই এক দশকে যেই আর্থসামাজিক অগ্রগতি বাংলাদেশ করতে সক্ষম হয়েছে তা আরও দৃঢ় করতে পারবে।
১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জন্ম হওয়া দেশটি আগে পাকিস্তানের অংশ ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের হাতে জাতিগত ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার ছিল এখানকার অধিবাসীরা। যেই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এতে ৩০ লাখ মানুষ মারা গেছে বলে সরকারীভাবে দাবি করা হয়। বাংলাদেশের জন্মের সময় অনেকটা ধাত্রীর ভূমিকায় ছিল ভারত। এর মাধ্যমে মূলত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তিত হয়ে যায়।
দেশ স্বাধীনের পর প্রথম দিনগুলো ছিল রক্তাক্ত। দেশের প্রতিষ্ঠাতা হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের আগস্টে নিহত হন। ১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৪৬০০ কোটি ডলার। মাথাপিছু আয় ছিল ৪০০ ডলার। সেই জিডিপি এখন ২৬৫০০ কোটি ডলার। দেশের মাথাপিছু আয় এখন ১৬২০ ডলার। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাসিনা চরমপন্থা ও ইসলামি মৌলবাদী শক্তিকে কঠিনভাবে প্রতিহত করেছেন।
তবে হাসিনার বিরুদ্ধে কর্তৃপরায়ণতা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগ রয়েছে। তার ঘরোয়া এজেন্ডা দৃঢ় করা এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য আনাই হাসিনার বর্তমান চ্যালেঞ্জ। ভারত যদিও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে, দুই দেশের সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রেই জটিল।
বেইজিং-এর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করলেও হাসিনা নয়া দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে, চীন হলো বাংলাদেশের বৃহৎ বাণিজ্যিক আংশীদার ও শীর্ষ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী। ভারতের জন্য এর আবার বিভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ শিগগিরই চীন থেকে কেনা সাবমেরিন পরিচালনা শুরু করবে। ফলে বঙ্গোপসাগরের সামরিক চরিত্রে আরও জটিল হয়েছে।
বেইজিং-এর কাছে বাংলাদেশ একটি আকর্ষনীয় কৌশলগত স্থান। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ বাংলাদেশ। চীন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকাকে গুরুত্ব দেয়। এছাড়া বাংলাদেশে ২৪০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি। তবে হাসিনা চীনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বেশ সতর্ক। বিশেষ করে, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ঘটনাপ্রবাহ তাকে সতর্ক করেছে। সেখানে চীন রীতিমত ঋণের-ফাঁদ পেতেছে।
নিঃসন্দেহে ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলো নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক। সম্প্রতি এ বিষয়টি অনেকেই বলছেন যে, ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক প্রতিবেশী হলো বাংলাদেশ; পাকিস্তান নয়। ভারতকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে ঢাকাকে উভয় সংকটে পড়তে না হয়। ভারতকে এ-ও মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ এমন একটি জাতি যেটি ন্যায়সঙ্গত আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির নিদর্শন। দেশটির গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। এছাড়া দেশটির ডিএনএ মধ্যপন্থী ইসলামঘেষাঁ, যেটি নিজের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখে।
চীনের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী চাওয়া হবে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক এমনভাবে পরিচালিত করা যাতে ভারতের উদ্বেগ হ্রাস পায়। এছাড়া চীন-বাংলাদেশ ও ভারতকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এমনও হতে পারে যে, এটিই হতে পারে বর্তমানে অস্থিতিশীল চীন-পাকিস্তান-ভারত ত্রিমাত্রিক সম্পর্কের জন্য দৃষ্টান্ত।
(কমোডোর সি উদয় ভাস্কর ভারতের নয়াদিল্লি-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজের পরিচালক। তার এই নিবন্ধ হংকং-এর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে। ঈষৎ সংক্ষেপিত।)

আসন নিয়ে সন্তুষ্ট নয় জাপা -রাঙ্গা

জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, আমরা নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমাদের যা পাওয়ার কথা ছিল তা পাইনি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় জাতীয় পার্টির ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাঙ্গা বলেন, আমাদের ৩০টি আসন দেয়া হয়েছিল। তা থেকে ২৪টি করা হয়েছে। আমরা ২২টিতে ফল পেয়েছি। নির্বাচনে আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় এজেন্টও থাকতে দেয়া হয়নি। তবুও বলব, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। রাজনীতিতে যে আমাদের ভুল ত্রুটি হয়নি তা বলার কোন সুযোগ নেই।
এখন আমাদের মহিলা এমপি হিসেবে বঞ্চিতদের জন্য কিছু করা যায় কিনা সে চেষ্টা করব।
জাপা মহাসচিব আরো বলেন, দেশের অন্য দলের চেয়ে জাপা সংগঠিত দল। এটা বিএনপি বা অন্য দল না। জাপা এখন দেশের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী দল।
আমাদের চেয়ারম্যানকে ভুল বোঝানো এবং তাকে ভুল বোঝানো নেতা কর্মীদের বিচার করা উচিত। তাহলে আগামী দিনে দল টিকে থাকবে। আমাদেরকে গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতির মাঠে থাকতে হবে। রাষ্ট্রে কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আমরা বিরোধী দল হতে পারব সমস্যা নাই। মহাজোটের সঙ্গে আলোচনা করে ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিব আমরা বিরোধী দলে  যাব কিনা না। প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতি বলেন, আমরা অনেক কথা বলতে পারি না। তবুও মহসচিবের কাছে দাবি সবাইকে নিয়ে বসেন, তাদের মনের কথা শোনেন।
পার্টির দপ্তর সম্পাদক সুলতান আহমেদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান- রওশন আরা মান্নান, আলমগীর সিকদার লোটন, বাহাউদ্দিন বাবুল, নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জহিরুল ইসলাম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক- ফখরুল আহসান শাহজাদা প্রমুখ।

সিলেটজুড়ে অন্যরকম নীরবতা by রুদ্র মিজান

সারা দেশের মতো সিলেটজুড়ে এক মহাবিজয় পেলো মহাজোট। দুটি আসন ছাড়া প্রতিটি আসনে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেন বিজয়ী হয়েছেন। এ বিজয়ে যে আনন্দ উপভোগ করার কথা ছিল, সেরকম কোনো আনন্দ নেই সিলেটে।
আছে অন্যরকম নীরবতা। মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ড. একে মোমেন এবং বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। দু-জনেই ভদ্রজন হিসেবে   পরিচিত।
তাদের নিয়ে কথা নেই। কথা হচ্ছে ভোট নিয়ে। এ কেমন ভোট হলো। ভোট দিতে পারেননি অনেকেই। ভয়ে-শঙ্কায় কেন্দ্রে যাননি অনেকে। আবার শঙ্কা কাটিয়ে কেন্দ্রে গিয়েও ফিরে এসেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন না হলেও ভোট প্রয়োগ হয়েছে ধারণার চেয়ে বেশি। তবে এত শত অভিযোগের মধ্যেও উন্নয়নের জয় হয়েছে বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সিলেটের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ছিল। তাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয় হয়েছে বলেই মনে করেন তারা। 
আলোচনায় স্থান পাচ্ছে, ভোটের আগের রাতের নানা গুঞ্জন। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা কাহিনী। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোরেই রহস্যময় ভোট প্রয়োগের পরিসংখ্যান। দুপুরে বুথে ঘটে যাওয়া ভুতুড়ে কাণ্ড। দুই তৃতীয়াংশ খালি থাকা বাক্সগুলো উধাও হয়ে যায়, ঘণ্টা-দেড়ঘণ্টা পরে রেখে যাওয়া হয় ব্যালট পরিপূর্ণ বাক্স। কোথাও কোথাও এজেন্টদের প্রতিবাদ। তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ ও প্রভাবশালীদের কাছে পাত্তা পায়নি। নির্বাচনের আগে রাতের বেলা কেন্দ্রে কি ঘটেছিল। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কি ছিল। কারা রাতের আঁধারে ব্যালটে সিল দিয়েছিল। এসব বিষয় আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।
বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে কথা ছিল একটাই ‘ভোট গ্রহণ স্লো করুন। আরো স্লো।’ লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা অনেকেই বিরক্ত হয়ে ফিরে গেছেন। লাঞ্চের কথা বলে ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয় বিভিন্ন কেন্দ্রে। ঠিক তখন ব্যালট বাক্স কারা, কোথায় নিয়ে গিয়েছিল এ সবই হচ্ছে আলোচনার বিষয়। মুক ও বধির স্কুল কেন্দ্রের এজেন্টরা জানান, হঠাৎ করেই দুপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তার নামে ব্যালট বাক্স দু’তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে জোর করে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। দেড় ঘণ্টা পরে ব্যালট পরিপূর্ণ বাক্স নামানো হয় নিচে। এটিকে একটি সাজানো নির্বাচন উল্লেখ করে বাসদের সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর বলেন, এটি ভোট কারচুপির নির্বাচন। সাজানো ও প্রহসনের নির্বাচন। আমরা দেখেছি, ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভোটারদের লাইনে রেখে লাঞ্চের বিরতির নামে পরিকল্পিত ছক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের সরাতে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এমনকি হিসেবেও গরমিল করা হয়েছে। এটি সাজানো একটি নির্বাচন। সরকারের লুটপাটের শাসনকে দীর্ঘ করতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এই নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। সাধারণ মানুষদের মধ্যে কাজলশাহ এলাকার আহমদ আলী জানান, তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন। কিন্তু এরকম প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চাননি। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসবে।
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে জানিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম বলেন, এটি জামায়াত-জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল পক্ষের বিজয়। একই মন্তব্য করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে উন্নয়ন হয়েছে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বিস্তার লাভ করেনি। এ ছাড়া শেখ হাসিনা কথা দিয়ে কথা রাখেন, তার ইশতেহারে মানুষের আস্থা ছিল বলেই মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে জানিয়ে ল কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, কারচুপি বা ভোট ডাকাতি না হলে গণতন্ত্র, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষ সারা দেশে বিজয়ী হতো।
গতকাল সারা দিন সিলেট শহর ঘুরে দেখা গেছে, লোকজনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্দীপনা নেই। বরং নিস্তব্ধ, নীরবতা সিলেটজুড়ে। অনেকেই নির্বাচন প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। দেখা মিলেনি বিএনপি নেতাদেরও। নাগরিক জোট সিলেটের সভাপতি হুমায়ূন চৌধুরী বলেন, ড. মোমেন ও মুক্তাদীর দু-জনই ভদ্র লোক। তাদের যে কেউ বিজয়ী হলে সিলেটবাসীর মঙ্গল হবে। কিন্তু এরকম নির্বাচন আমরা আশা করিনি। অনেকে ভোট দেয়া হয়ে গেছে জানিয়ে ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ করা হয়েছে। অথচ বিপুল ভোট কাস্ট হয়েছে। এ সবই রহস্যময়। এই রহস্যময় নির্বাচন সিলেটবাসী চাননি বলে জানান তিনি।
সিলেট জেলায় মোট ভোটার ২২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৪। এর মধ্যে এই নির্বাচনে প্রয়োগ হয়েছে ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪। যা ৭৬.৭৫ ভাগ। সিলেট-আসনে নৌকার প্রার্থী একে মোমেন পেয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৫১ ভোট।

ভোট কেন্দ্রে রক্তাক্ত প্রার্থী

ভোটের দিন সকালে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে রক্তাক্ত হয় এ প্রার্থী। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সালাহউদ্দিনের ছেলে রবীন জানিয়েছেন, সকাল সোয়া নয়টার পরে তার বাবা শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে গেলে তার ওপর হামলা হয়। আহত অবস্থায় তাকে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলায় তাদের ১৫ থেকে ১৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার বাবার পিঠে ও পেটে কোপ লেগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে সালাউদ্দিন ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। সে সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সালাউদ্দিন কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় মহাজোটের সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার ওপর হামলা হয়। সেখানে প্রার্থী সালাউদ্দিনসহ ১০ থেকে ১৫জন আহত হন।  সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শ্যামপুর মডেল কলেজ কেন্দ্রটি সকালেই দখলে নিয়ে নেয় মহাজোটের নেতাকর্মীরা। শ্যামপুর মডেল কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার এসএম  রেজাউল করিম বলেন, সকাল থেকে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট আমার কাছে আসেনি।
কিন্তু সালাউদ্দিন বারবারই অভিযোগ করছেন উনার এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমি তাকে এজেন্ট পাঠাতে বলেছি। বলেছি সুন্দর পরিবেশ আছে। কিন্তু উনি কোনো কথা না শুনে প্রত্যেকটি বুথের মধ্যে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। তবে হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, এটি একটি সাজানো ঘটনা। উনি নিজেই সেখানকার লোকজন ও প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। এমনকি ধাক্কাধাক্কিও করেছেন। তদন্তে সত্য ঘটনা জানা যাবে বলে জানান তিনি। হামলার পরই  শ্যামপুরের ওই কেন্দ্রে বর্তমানে পুলিশ-র‌্যাব পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। দফায় দফায় মহাজোটের নেতৃবৃন্দ বার বার কেন্দ্র প্রবেশ করেন। একই অবস্থা দেখা গেছে ঢাকা চার আসনের অন্য কেন্দ্রগুলোতেও। জুরাইনের আরকে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, শ্যামপুর আইডিয়াল স্কুলও মহাজোটের কর্মীদের দখলে ছিল। এসব কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি।

উন্নয়নের কারণেই জনগণ ভোট দিয়েছে -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সরকারের ধারাবাহিকতা চেয়েছে, উন্নয়ন চেয়েছে তারাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তবে আমি সকলেরই প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে গতকাল এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় বিদেশি প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ আমার সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে। এজন্যই তারা আমাদের ভোট দিয়েছে। তিনি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যেন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটকে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে প্রতিহত করেছে। প্রধানমন্ত্রী  বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভোটকেন্দ্র বাতিল করেছেন। ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন।
নির্বাচনের পরে দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীরা যেন কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হন, সে জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতে আমাদের খুবই খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনে ফিরে গেলে দেখতে পাবো, ওইদিন থেকেই বিএনপি-জামায়াত আমাদের কর্মীদের হত্যা করতে শুরু করে, মেয়েদের ধর্ষণ করে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ৬ বছরের মেয়েকেও নিস্তার দেয়নি। তখন অনেক সহিংসতা ঘটেছে। অপারেশন ক্লিন হার্টের মাধ্যমে তারা আমাদের অনেক নেতা-কর্মী ও এমপিকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমরা এমন কিছু করিনি। বরং নির্বাচনের সময় আমাদের নেতা-কর্মীরাই মারা গেছেন। আমরা তাদের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাই না। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আসক্ত। আপনারা জানেন, নির্বাচনের আগে আমি সব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে সংলাপে বসেছি। তারা যে দাবিই করেছে, আমি তা পূরণ করেছি। যেন তারা নির্বাচনে যোগ দিতে পারে, নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। এখন নির্বাচনের পরেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক দল সংগঠিত করার জন্য সব সুযোগ পাবে। কিন্তু তাদের কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাবে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের উন্নয়ন করা।
পর্যবেক্ষণে ইচ্ছুক বিদেশিদের পর্যবেক্ষকদের ভিসা বিলম্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পর্যবেক্ষকদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। আর এটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তারা ভালো মনে করলে অনুমতি দিতে পারে।  আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিন বলেন, আমরা জানি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হলেও তাদের অনেকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধিক সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলে স্লো হয়েযেতে পারে।
বিজয়ের মাসে আরো একটি বিজয়: এদিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান ও কর্মকর্তারা গতকাল প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গতকাল গণভবনে গিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি বলেন, মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো। শেখ হাসিনা বলেন, এ বিজয় তার ব্যক্তিগত কোনো লাভের জন্য নয়, বরং এই বিজয় দেশ ও জনগণের প্রতি আরো বড় ধরনের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পুনঃনির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কাজ করার বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হলো এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো। নেতৃত্ব ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মহা-পুলিশ পরিদর্শক, জনপ্রশাসন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বিজিবি ও র‌্যাবের ডিজি। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে: লজ্জিত নই -সিইসি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে গড়ে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। বলেছেন, ভোট নিয়ে তিনি তৃপ্ত, সন্তুষ্ট। ভোটে কোনো অনিয়ম হয়নি। ভোটে তারা লজ্জিত নন। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের পুনঃনির্বাচনের দাবি নাকচ করে তিনি বলেছেন, নতুন করে আর নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। সারা দেশে ভোট উৎসব এবং শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সিইসি নূরুল হুদা। তবে কিছু জায়গায় সহিংসতায় ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কারচুপির অভিযোগ তুলে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুনঃভোটের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সিইসি ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে বলেন, না, আমরা আর নতুনভাবে নির্বাচন করবো না; আর নতুন করে নির্বাচনের সুযোগ নেই।
ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি লিখিত অভিযোগ দিলে কী করবেন ও পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশের ধাপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলেও গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে তা প্রতিবন্ধকতা হবে না। জনগণের ভোটের বিবেচনায় ফল নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান সিইসি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সব দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেজন্য তাদের ধন্যবাদ।
এই নির্বাচনে ৩৯ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে এই নির্বাচন নিয়ে আপনারা কোনো ক্ষেত্রে অতৃপ্ত কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘না আমরা অতৃপ্ত না, তৃপ্ত। সারাদিন আপনাদের মাধ্যমেই, টেলিভিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের অবস্থা দেখেছি। ব্যাপকভাবে অনিয়ম হয়েছে এমন কিছু আমরা পাই নি। তবে আমরা যেখানে অনিয়ম পেয়েছি সেখানে নির্বাচনই বন্ধ করে দিয়েছি। দেশি বিদেশি কোনো গণমাধ্যমে অনিয়ম দেখতে পাই নি। পুরো কমিশন সন্তুষ্ট। কেউ তো আমাকে অসন্তুষ্টির কথা বলেনি।
তিনি বলেন, রোববার দেশের ২৯৯ আসনে ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট চলাকালে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৩টি কেন্দ্রের ফলাফল বন্ধ থাকার কারণে ওই আসনের ফল আটকে যায়। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯টি আসন, আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি। ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাসদ ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, বিকল্প ধারা ২টি, তরীকত ফেডারেশন ১টি আসনে জিতেছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে একটি আসনে জিতেছে। এই নিরঙ্কুশ জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনটি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিএনপি ৫টি আসনে জিতেছে, গণফোরাম দুটি আসনে জিতেছে। কারচুপির অভিযোগ এনে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।
সিইসি ভোট পরবর্তী প্রক্রিয়ায় বলেন, বিপুল ভোটার উপস্থিতি ছিল। তারা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে  ভোট দিয়ে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়ছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে যা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে জাতি গতকাল (রোববার) ভোট উৎসবে মেতেছিল। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর জাতি মূলত ভোট উৎসবে মেতেছিল।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৮৭.১৩ শতাংশ। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ। এবার সারা দেশে ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সেই হিসেবে ৮০ শতাংশ ভোটের হার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে নির্বাচিত ২৯৮টি আসনে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। আমরা আশা করছি আগামী দুইদিনের মধ্যে নির্বাচিতদের নামের গেজেট প্রকাশ করতে পারবো।

সুলতানেই আস্থা by ইমাদ উদ দীন

কুলাউড়াবাসীর আস্থা ছিল তার ওপর। ভোটারদের মনও জয় করতে পেরেছিলেন জনতার সুলতান। তাই ভোটের মাঠে শত প্রতিকূলতা তার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মানুষের ভালোবাসায় শেষ বিজয়ের হাসিটা প্রাপ্য হয়ে গেল তার। ডাকসুর সাবেক ভিপি,  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদও তার এ বিজয়কে উৎসর্গ করলেন নিজ জন্ম মাটির প্রিয়জনদের প্রতি। যারা তাকে আপন করে কাছে টেনেছেন, ভালোবেসেছেন আর ভোট যুদ্ধে বিজয়ী করেছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ’র নির্বাচনী মাঠ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ভোটের আগের রাত পর্যন্ত তার কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীরা সাজানো মিথ্যা মামলা আর গায়েবি মামলায় ছিলেন বাড়ি-ঘর ছাড়া।
আর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কতেক অতিউৎসাহী কর্মকর্তাদের বিরূপ আচরণও ছিল লক্ষণীয়। চলমান এমন অবস্থায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠার শেষ ছিল না স্থানীয় ভোটারদের। ভোটের মাঠে এমন নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে তিনি এ বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হন। ভোটের দিন বিকাল ৪টার পর থেকে ভোট গণনা শুরু হলে তার ফলাফল জানতে উদগ্রীব ছিলেন স্থানীয় ভোটারদের পাশাপাশি পুরো জেলা ও সিলেট বিভাগের দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষ। তারা মুঠোফোনে একাধিকবার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে ফলাফলের খোঁজ খবর জানতে চেয়েছেন। কারণ তিনি নিজ জেলাসহ পুরো সিলেট বিভাগের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন তার ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে। প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের লোকজনও তাকে সিলেটের রাজনীতির মাঠের ‘ম্যারাডোনা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে অনেক আগেই। তিনিও তাদের এমন ভালোবাসার প্রতিদান রক্ষা করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখন পূর্বসূরীদের দেখানো আর্দশ থেকে একটুকুও বিচ্যুত হননি। এমন ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক গুণাবলীর কারণেই সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা। যার প্রমাণ মেলে এই ভোটে। কুলাউড়া উপজেলা ইলেকশন কন্ট্রোল রুমে মৌলভীবাজর-২ সংসদীয় আসনের মোট ৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে একের পর এক  কেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করে। ব্যবধানের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন তার কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীরা। তখন তাদের নানা স্লোগানে মুখরিত হয় তার নির্বাচনের বিভিন্ন এলাকা। দেশবাসীর সুলতান কুলাউড়ার সুলতান। সুলতান ভাই-ভয় নাই আমরা তোমায় ভুলি নাই। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, সুলতান মনসুর একজন। বাগান এলাকার ভোট ছাড়া অন্য এলাকার ভোট তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চাইতে অনেক বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এই সংসদীয় আসনে মোট ভোট ২,৪১,১০৮টি। ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক ডাকসু ভিপি জাতীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ পান ৭৯,৭৮২ ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি এমএম শাহীন পান ৭৭,১৪৭। তার বিজয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় জনগণের সরল উক্তি সৎ যোগ্য ও আর্দশিক মানুষকে বিজয়ী করতে পেরে আমরা তৃপ্ত।

মানুষকে বেশিদিন স্বৈরতন্ত্রের অধীনে রাখা যাবে না -ভয়েস অব আমেরিকাকে ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল বলেছেন, এদেশের মানুষকে বেশিদিন স্বৈরতন্ত্রের অধীনে রাখা যাবে না। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকায় প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ড. কামাল বলেন, যতই অস্ত্র, অর্থ ব্যবহার করা হোক, জালিয়াতি করা হোক, এদেশে স্বৈরতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যাবে না। মানুষকে বেশিদিন স্বৈরতন্ত্রের অধীনে রাখা যাবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন আনবে তারা একদম অবাক হয়েছে দেখে, যে রেজাল্ট (ফল) বেরিয়েছে তাতে সরকার আবার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসছে, আবার পাঁচ বছরের জন্য। সাতদিন আগেও দেশি বিদেশি কোনো পত্রপত্রিকা জনমত যাচাই করে কেউই বলেনি এ সরকার আবার নির্বাচিত হতে পারে।
ড. কামাল বলেন, বাংলাদেশে কখনো তৃতীয় টার্ম পায়নি এখন পর্যন্ত। আর ইনি   ( শেখ হাসিনা) তো একটার্ম করে পাঁচ বছর চালিয়েছে এটাও খুবই বিতর্কিত।
আমি সবাইকে বলেছি ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করো আমরা মুক্ত হবো। মুক্ত হওয়া না। আমরা পুরোপুরি একই জিনিষের শিকার হচ্ছি। একটা স্বৈরতন্ত্রকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা একদমই আকাঙ্খিত ছিল না বাংলাদেশের ৪৭ বছর পরে। আমি মনে করি এটা কল্পনা করা যায় না।
আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি উল্লেখ করে এই সংবিধান প্রণেতা বলেন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা মোটেই পেলো না। তারা (আওয়ামী লীগ) প্রতারক। গোল্ড মেডেল পাওয়া উচিৎ প্রতারণার জন্য। আন্তর্জাতিকভাবে যদি কোনো গোল্ড মেডেল পাওয়া যায় তাহলে প্রতারণার জন্য এ সরকারকে পাওয়া উচিৎ।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, আগের রাতে ভোট কাস্ট হয়ে গেছে। সেখানে ভোট দিতে গেছে বলেছে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

নির্বাচনের প্রশ্নবিদ্ধ ফল নিয়ে উদ্বেগ টিআইবির, বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত, বলপ্রয়োগসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।
আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগসহ নির্বাচনী আচরণবিধির বহুমুখী লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন ও তার ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই সব পক্ষের জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দী জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এমনকি নির্বাচনের আগের রাতে এবং নির্বাচনের দিনও এমন হয়রানি চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, এতে করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি জোটের পোলিং এজেন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারার অভিযোগের বিষয়টি যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পেরেছে কিনা সে উদ্বেগ আরো ঘনীভূত করেছে।
তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির নামে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে খোদ রাজধানীতেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে তাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এছাড়াও ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া, বহু ভোটার ভোট দেওয়ার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ইত্যাদি ঘটনার প্রতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে টিআইবি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তদন্ত করে এসব ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যর্থতা নিরূপণ করা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা অপরিহার্য। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে আস্থার সংকটের প্রেক্ষিতে কমিশনের গৃহিত পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারের প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান থাকবে, এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নিন।

গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুর্তেতেকে নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। বিশেষ করে যুবতী বা নারী সম্পর্ক নিয়ে তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই কথা বলে ফেলেন। মুক্ত মঞ্চে কোনো এক যুবতীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। এসব যেন তার কাছে মামুলি ব্যাপার। কিন্তু তিনি এবার বিতর্ক, ক্ষোভ উস্কে দিয়েছেন আরেক স্বীকারোক্তি দিয়ে। দুতের্তে স্বীকার করেছেন যখন তিনি টিনেজ বয়সে ছিলেন, তখন একজন গৃহপরিচারিকাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। এ নিয়েই সমালোচনার ঝড় বইছে।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এক বক্তব্যে তিনি এসব স্বীকার করেছেন।
বলেছেন, একবার একজন যাজকের কাছে তিনি স্বীকার করেছিলেন একজন গৃহপরিচারিকা একবার ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি কিভাবে তার আন্ডারওয়্যারের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন। দুর্তেতে ওই গৃহপরিচারিকার বিষয়ে বলেন, আমি তার কম্বল তুললাম। তাকে স্পর্শ করলাম। তার প্যান্টির ভিতরে আমার হাত। আমি তাকে স্পর্শ করছি। এমন সময় সে জেগে গেলো। ফলে আমি তার রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। এরপর আমি আবার তার ঘরে প্রবেশ করি এবং তাকে আবার যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা করি।
একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে এমন স্বীকারোক্তি দেয়ায় ক্ষেপেছে নারী অধিকার বিষয়ক গ্রুপ গাব্রিয়েলা। তারা বলেছেন, যে পদে আছেন দুতের্তে সেখানে তিনি অযোগ্য। তার পদত্যাগ করা উচিত। এ ছাড়া তার এমন মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ফিলিপাইনের অন্যান্য অধিকার বিষয়ক গ্রুপ। গাব্রিয়েলা বলেছে, শুধু ধর্ষণ করলেই ধর্ষণ হয় এমন না। এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জোমস সালভাদোর বলেছেন, দুতের্তে যা করেছেন তাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায়। ওদিকে কোয়ালিশন এগেইনস্ট ট্রাফিকিং ইন ওমেন এশিয়া প্যাসিফিক সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে দেশের গৃহকর্মে নিয়োজিতরা ঝুঁকিতে পড়বেন। এর নির্বাহী পরিচালক জ্যাঁ এনরিক বলেছেন, তার এ ধরণের মন্তব্যে ধর্ষণ সংস্কৃতি ও গৃহকর্মদৈর ওপর যৌন নির্যাতন বেড়ে যাবে। এখন বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ফিলিপাইনের ১০ লাখেরও বেশি গৃহকর্মী নিয়োজিত।
দুতের্তে এমন সব বিস্ফোরক মন্তব্য ও স্বীকার করলেও এখনও তিনি ফিলিপাইনে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

সিলেট-২ আসনে মোকাব্বিরের জয়ের নেপথ্যে আকছির

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গণফোরামের  প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান সূর্য প্রতীক নিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন। তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানকে হারিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রায় ৩৮, হাজার ৯৭১ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৯ হাজার ৪২০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহিবুর রহমান পেয়েছেন ৩০ হাজার ৪ শত ৪৯ ভোট। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় মাত্র দুদিন আগে মোকাব্বির খানকে সমর্থন দেয় স্থানীয় বিএনপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর পরিবার। সংবাদ সম্মেলন করে তারা সমর্থন করে বিষয়টি ভোটারদের জানিয়ে দেন। এলাকার নতুন মুখ হওয়ার পরও মাত্র দুদিন সময়ে সিলেট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাব্বির খান বিজয় লাভ করেন।
আর এর পেছনে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম আছকির আলী। মাত্র একদিন নির্বাচনী মাঠে সূর্য প্রতীকে ভোট দিয়ে তার ভাই এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের জবাব দেয়ার জন্য আহবান জানিয়ে ঝাঁঝালো বক্তব্য দেন। তার কারিশমায় এ বিজয় আসে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সিলেট-২ আসনের ১২৭টি কেন্দ্রে ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৪২০ ভোট পান মোকাব্বির খান। এবারই প্রথম তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
এই আসনে ঐক্যজোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র ইলিয়াস আবরার অর্ণব। মনোনয়নপত্র বাচাই শেষে ইলিয়াস পুত্র অর্ণব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা শুরু করেন তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং প্রতীক বরাদ্দের দিন লুনাকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান। পরে তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থিতা বাতিল হলে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান। ২,৮৬,৩৮০ ভোটারের ওই আসনে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন মোকাব্বির। মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহ্‌ইয়া চৌধুরী ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ ঘরনার হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার ‘সিংহ’ প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৪৫ ভোট, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ১৭১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রব মল্লিক ‘কার’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৭০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন ‘হাত পাখা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪০ ভোট, এনপিপির মনোয়ার হোসাইন ‘আম’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৫৬ ভোট ও বিএনএফের মোশাহিদ খান ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে পেয়েছেন ২৭৬ ভোট। উপজেলার আট ইউনিয়নে ৭৪টি কেন্দ্র ৩২৮টি ভোটকক্ষ ও ১৫০৬০৩ ভোটার ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় থেকে উপজেলার ৭৪টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত গণফোরামের মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে ৬৩টি কেন্দ্রে বিজয়ী হন। এর মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আশুগঞ্জ বাজার দোহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১২৩৭ ভোট পান যা উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক সূর্য প্রতীকে ভোট প্রাপ্ত সেন্টার নিখোঁজ বিএনপি নেতা ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর ঘাটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে পরিচত এটি। মূলত সাতটি গ্রাম পালের চক দোহাল মনোহরপুর রামচন্দ্রপুর শ্রীপুর পাঠাকইন পাঁচঘরি নিয়ে এই সেন্টার মোট ভোটার প্রায় ৩২০০।

বিদেশী মিডিয়ায় নির্বাচনের ফল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিধস জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এর মধ্য দিয়ে তিনি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলেন। সব মিলিয়ে তার ক্ষমতার মেয়াদ হতে যাচ্ছে চার বার। তবে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে হাস্যকর আখ্যায়িত করে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে বিরোধী দল। নির্বাচনের দিন সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন দল ও এর মিত্ররা ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনের পরে এসব কথা লিখেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
এর মধ্যে অনলাইন বিবিসির শিরোনাম ‘বাংলাদেশে নির্বাচন: শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মেয়াদে নির্বাচিত’। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সোমবার বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন। এর আগে তার দল যে রেকর্ড গড়েছিল সেই রেকর্ডকে এ নির্বাচন অতিক্রম করেছে।

বিরোধীরা এ নির্বাচনকে হাস্যকর উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। নতুন করে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ নির্বাচন সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতির বলেও তারা এর নিন্দা জানিয়েছে। বিরোধী দলীয় জোট মোট সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এ জোটের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হাস্যকর এই নির্বাচনের ফল বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিবিসি আরো লিখেছে, ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে রয়েছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। কিন্তু ব্যালটবাক্স ছিনতাই করার অভিযোগ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে ২২১টিতে অনিয়ম হয়েছে।

ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই বিবিসির একজন সংবাদদাতা দেখতে পেয়েছেন, ব্যালটভর্তি ব্যালটবাক্স চট্টগ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান প্রিজাইডিং অফিসার। সেখানে শুধু ক্ষমতাসীন দলের পোলিং এজেন্টরা ছিলেন। অন্য ভোটকেন্দ্রেরও একই অবস্থা। ভোট জালিয়াতি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে প্রধান বিরোধী দলের কমপক্ষে ৪৭ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অধিকার বিষয়ক কর্মীরা, পর্যবেক্ষকরা ও বিরোধী দল সতর্ক করেছিল আগেই। তারা বলেছিল, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শিরোনাম ‘নির্বাচনে বড় বিজয় পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীরা জালিয়াতির অভিযোগ করছেন’। এতে বলা হয়, অস্বাভাবিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার জোট বিজয়ী হয়েছেন। তবে বিরোধীরা জালিয়াতির অভিযোগে এ নির্বাচন বর্জন করেছে। ভারতের আঞ্চলিক শক্তির খুব ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে। তারা পার্লামেন্টের ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জিতেছে মাত্র ৬ টি আসনে। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল তারা। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা তার শাসনকে আরো সুসংহত করলেন। তাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কৃতীত্ব দেয়া হয়। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মিডিয়ার বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনের মতো অভিযোগ রয়েছে তার সরকারের বিরুদ্ধে। তবে তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

ওদিকে নির্বাচনের আগে কয়েক মাসে বিরোধী দলীয় কয়েক শত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তারা বলছে, বানোয়াট অভিযোগে এসব নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অনেকে বলেছেন, তারা যাতে প্রচারণা চালানোর ক্ষমতা না রাখেন এ জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

বার্তা সংস্থা এপি’র শিরোনাম ‘শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন জোট বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে- নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা’। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন জোট ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। সরকার গঠন করার জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ সোমবার সকালে এ ফল ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের এ ফলের অর্থ হলো টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করবেন শেখ হাসিনা, যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করছে তিনি ক্রমশ বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছেন।

বিরোধীরা এ নির্বাচনকে বর্জন করেছে। নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক। যে ফলই আসুক তিনি তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন রোববার। তবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর কি করবেন তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায় নি।

ভারতের অনলাইন দ্য হিন্দুর শিরোনাম ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় শেখ হাসিনার, বিরোধীরা নতুন ভোট চাইছেন’। এতে বলা হয়, ভূমিধস বিজয়ে চতুর্থবার ক্ষমতা নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা। বিরোধীরা এতে ভোট জালিয়াতি, সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হওয়ার অভিযোগে নির্বাচনকে হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছে।
অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমসের শিরোনাম ‘শেখ হাসিনার ভূমিধস বিজয়, বিরোধীরা পুনঃনির্বাচন চান’। স্ক্রল ডট ইন-এর শিরোনামও একই রকম।

মোদির অভিনন্দন, এক্ট ইস্ট পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকার দিকে তাকিয়ে দিল্লি by ইন্দ্রানি বাগচি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যান্ডসাম’ভাবে বিজয়ী হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। ফলে পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রতিবেশী দেশটিতে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশে অব্যাহতভাবে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ভারত। একই সঙ্গে ভারতের ‘এক্ট ইস্ট পলিসি’র অপরিহার্য হিসেতে তৈরি করা হচ্ছে।
বিদেশি নেতাদের মধ্যে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো প্রথম নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই ভারত সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি পুনরায় আস্থা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশি জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছে ভারত। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি। বিবৃতিতে বলা হয়, তার (শেখ হাসিনা) সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্ব অব্যাহতভাবে বিকশিত হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি (মোদি)।
বিগত বছরে ভারতের সব প্রতিবেশী দেশে, যেমন পাকিস্তান থেকে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ হলো একমাত্র দেশ, যেখানে ক্ষমতাসীনদের অব্যাহতভাবে ক্ষমতায় থাকা হলো ভারতের স্বার্থ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তাদের ভূমি ও নৌ সীমানা নিয়ে সমস্যার সমাধান করার মধ্য দিয়ে তারা সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করেছে।
বাংলাদেশে হাসিনার বিজয়ে উগ্রপন্থি শক্তিগুলোকে, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতকে পিছনে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ঢাকার গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, নির্বাচনের সময়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানি আইএসআই সক্রিয় ছিল বলে তারা নোটিশ করেছে।
ভারতের সবচেয়ে বেশি সহায়তা পায় এখন বাংলাদেশ। হাসিনার বিজয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দুটি স্তম্ভকে আরো গভীর করবে। তা হলো নিরাপত্তা ও কানেকটিভিটি বা সংযুুক্তি। শেখ হাসিনা আগাগোড়াই ভারতের মিত্র। এ জন্যই তিনি ভারতের নিরাপত্তার কথাও ভাবেন। এর বিনিময়ে হাসিনার বড় উদ্বেগের বিষয় রোহিঙ্গা ইস্যু। এ ইস্যুতে আরো বেশি সেনসিটিভভাবে কাজ করতে হবে ভারতকে। কাজ করতে হবে মিয়ানমারের সঙ্গে, যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশকে করতে হবে মানবিক সহায়তা।
আগামী বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের পরিণতি ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে।
 (টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন)