Saturday, March 31, 2018

একের পর এক পরাজয়ে দিশেহারা সৌদি আরব বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরকালে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী হিসেবে তুলে ধরার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাক্ষাতকারে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য পাশ্চাত্যের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "ইরানের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আমরা সামরিক সংঘাত এড়াতে পারি। যদি এতেও আমরা সফল না হই তাহলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে।"
সৌদি যুবরাজের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, অপরিণত সৌদি যুবরাজের অপরিপক্ক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। এই তরুণ যুবরাজ জানেই না যে, যুদ্ধ কী অথবা সে ইতিহাস পড়ে নি।" সৌদি যুবরাজ ইরানের শক্তি উপলব্ধি করতে পারে নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয় ঢাকার জন্য সৌদি আরব পাগলের মতো অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইয়েমেনি যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইয়েমেনিরা নিজেদের সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় সৌদি আরব কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছে। এখন সৌদি কর্মকর্তাদের উচিত নিজেদের পরাজয় স্বীকার করা। এই পরাজয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের জন্যও সতর্ক সংকেত যাতে তারা ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে।
খ্যাতনামা আরব রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতাওয়ান বলেছেন, "ইয়েমেন যুদ্ধ সৌদি আরবের জন্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। এ ছাড়া, এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে মোকাবেলায় ব্যর্থ। এসব লজ্জাজনক পরাজয়ের পর সৌদি আরব এখন বিপদজ্জনক খেলা শুরু করেছে।"
বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরব তার সাম্রাজ্য বিস্তার এবং দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক প্রক্সি কিংবা সরাসরি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু করেছে। কিন্তু কোথাও বিজয়ের মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনের বিশেষজ্ঞ ও লেখক মুহাম্মদ ফার্স জারাদাত মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উপস্থিতি জোরদার করার জন্য সৌদি আরব যে বিপদজ্জনক খেলায় মেতেছে আজ হোক কাল হোক তা এক সময় সেই বিপদ রিয়াদের শাসকগোষ্ঠীকেই গ্রাস করবে।
বর্তমানে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর কাছে আমেরিকার অশুভ লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, সৌদি আরব ফিলিস্তিন ও লেবাননের প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে ধ্বংস করার জন্য আমেরিকার হুকুমের গোলামী করছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে এবং সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে আনতে পারবে না। কিছু অস্ত্র কিনে রিয়াদের আঞ্চলিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন কখনই বাস্তবায়িত হবে না।

আসানসোলে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আক্রান্ত আসানসোল এলাকা পরিদর্শন করলেন গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি। তিনি আজ (শনিবার)আসানসোল সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক শশাঙ্ক শেঠি, পুলিশের আইজি রাজীব মিশ্র ও স্থানীয় পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মীনা ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা গোলযোগপূর্ণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভর্নরকে অবগত করেন। পরে আসানসোলের যেসব এলাকায় সহিংসতা সৃষ্টি হয় তার কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন।
গভর্নর ত্রিপাঠি সাংবাদিকদের বলেন, শান্তির বার্তা দিতেই এখানে এসেছি। গভর্নর ত্রিপাঠি এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার সকলের উদ্দেশ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পারিক সহিষ্ণুতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে, আজ আসানসোল-রানিগঞ্জে যাওয়ার পথে কালনা মোড়ে পুলিশ রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের বাধা দেয়। এসময় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সমর্থকরা রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র বিরুদ্ধে ‘আসানসোলে দাঙ্গা সৃষ্টিকারী তৃণমূল-বিজেপি দূরহটো’, ‘আসানসোলের দাঙ্গা হল কেন, পুলিশ প্রশাসন জাবাব দাও’ বলে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পুলিশি বাধা প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘ওরা বলছে ১৪৪ ধারা আছে, আমি বলছি জাতীয় সড়ক কী ১৪৪ ধারার আওতায় থাকতে পারে? এটা তো জাতীয় সড়ক। আমরা তো কোনো পাড়ায় ঢুকিনি, মহল্লায় ঢুকিনি। সরকারের এত ভয় কেন? যারা শান্তির কথা বলছে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে দেড়/দুই কিলোমিটার দূরে আটকে দিয়ে সরকার কী বাহাদুরি দেখাচ্ছে? আজকে ওই ঘটনা কী ঘটতো যদি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ, প্রশাসন সতর্ক থাকত?’
সম্প্রতি রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্রমিছিল ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় গোলযোগপূর্ণ আসানসোল-রানীগঞ্জ এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ৪ এপ্রিল বেলা ২ টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

মালদ্বীপে ভারতের ব্যক্তিকেন্দ্রিক হস্তক্ষেপের ফল হতে পারে হিতে বিপরীত by পি কে বালাচন্দ্রন

ভারতের ২২শে মার্চের বিবৃতি অনুযায়ী মালদ্বীপে দেশটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হস্তক্ষেপ করলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের এ ধরনের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, তেমনই হিতে বিপরীত হতে পারে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে ভারতকে হস্তক্ষেপকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব দেশের চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার একটি কারণ হলো তাদের ভারতের জোয়াল ছুড়ে ফেলে নিজেদের পথে এগিয়ে যাওয়ার আরো সুযোগ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। ভারতের বিপরীতে চীন (অন্তত এখন) হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তারা রাজনৈতিক অক্ষ গড়ার বদলে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করছে। অবশ্য চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার একটি মূল্যও আছে। যেসব সরকার চীনের দিকে ঝুঁকছে, তাদের প্রতি ভারত বৈরী হয়ে উঠেছে, স্থানীয় সুযোগ সন্ধানী সমর্থকদের নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
মালদ্বীপের ঘটনা
মালদ্বীপে বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ নাশিদের প্রতি পুরো সমর্থন দিয়ে ভারত সম্ভবত ভারত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দেশের বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সোনালি সুযোগ হারিয়েছে। প্রকাশ্যে বিরোধী দলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত ও প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে মালদ্বীপের বিভক্ত ও দলকানা রাজনীতির পঙ্কিলতায় ভারত নিজেকে ডুবিয়ে ফেলেছে।
মালদ্বীপের রাজনৈতিক আনুগত্যের সংকীর্ণতা, প্রবল দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অশ্রদ্ধার কারণে ভারতের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা কিংবা বিরোধী দলে থাকা কোনো নেতা, ব্যক্তি বা দলকে নিজেদের প্রতি একনিষ্ঠ দেখতে পাওয়া কঠিন হবে। প্রত্যেকেই ভারতকে সন্দেহের চোখে দেখবে। ভারত আনায়াসেই শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ও মধ্যস্থতাকারী হয়ে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারত। এতে করে সে সবার মন জয় করতে পারত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সে তা করেনি।
ব্যক্তিবিশেষের প্রতি সমর্থন প্রদানের ফলে মালদ্বীপ সরকার ভারতের তহবিলপুষ্ট প্রকল্পগুলো বাতিল করে দিতে পারে কিংবা কার্যকর করা মন্থর করে দিতে পারে। হস্তক্ষেপ করছে না এমন দেশগুলোর প্রতি সরকার নজর দিতে পারে। কিন্তু এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপে ভারত ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। ভারতের জন্য ভালো হয় নিরপেক্ষ থেকে ক্ষমতায় যারাই থাকুক না কেন তাদের সাথেই কেবল কাজ করা। এ পন্থায় ভারত স্বেচ্ছাচারী বিরোধী দল থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে পারে, স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও নেতাদের পক্ষ থেকে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ থেকে রক্ষা পেতে পারে।
মালদ্বীপের সাথে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বন্ধনের কারণে দেশটিতে গঠনমূলকভাবে হস্তক্ষেপ করার দুর্দান্ত অবস্থানে ছিল ভারত। ভারতের এই অবস্থানের কাছাকাছিও অন্য কোনো দেশ ছিল না। চীন বা পাশ্চাত্যের অন্য কোনো দেশের এমন সুবিধাজনক অবস্থান নেই। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন, বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ নাশিদসহ মালদ্বীপের সবাই ভারতকে বড়ভাই হিসেবে মেনে নিয়েছে। ভারতের বন্ধুসুলভ পরামর্শ সবই গ্রহণ করতে প্রস্তুত। কিন্তু এই চমৎকার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। জিএমআর বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাতিল করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মালদ্বীপ সরকারের সাথে মতবিনিময় বন্ধ করে দেয় ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মালদ্বীপই একমাত্র দেশ, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো সফর করেননি। বর্তমান সঙ্কটের ব্যাখ্যা করতে মালদ্বীপ যখন তার বিশেষ দূত ভারতে পাঠাতে চাইল, নয়া দিল্লি তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মালদ্বীপের সংকট নিরসনে ভারত নিজেও বিশেষ দূত সেখানে পাঠাতে পারত। কিন্তু সে তা-ও করেনি।
জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পর ভারত সেটির প্রশংসা করে নাশিদ ও ইয়ামিনকে একসাথে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারত। কিন্তু নয়া দিল্লি এসব না করে ইয়ামিনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে। তাকে ভারতের দাবিগুলো পূরণ করার জন্য চূড়ান্ত সময়মীমা বেঁধে দিয়েছে। এতে করে ভারত ও ইয়ামিন এমন এক স্থানে পৌঁছে যেতে পারে, যেখান থেকে তাদের ফেরার আর কোনো পথ থাকবে না। ভারতের অবস্থানের কারণে ইয়ামিন ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে ভোট বাগানোর জন্য মালদ্বীপের জাতীয়তাবাদী কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। ছোট ও কৌশলগত অবস্থানে থাকায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এড়িয়ে স্বাধীনতা রক্ষায় হিমশিম খেতে থাকা দেশটিতে জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম হতে পারে প্রপাগান্ডার শক্তিশালী হাতিয়ার।
ভারতের বিবৃতি
ভারত ২২শে মার্চ এক বিবৃতিতে মালদ্বীপ সরকারের প্রতি সংবিধানের সব অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা; পূর্ণ স্বাধীনতা সহকারে সুপ্রিম কোর্ট ও বিচার বিভাগের অন্য সব বিভাগকে কাজ করতে দেয়া; পার্লামেন্টের অবাধ ও যথাযথ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ প্রদান; ১লা ফেব্রুয়ারি দেয়া সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের রায় বাস্তবায়ন; এবং পূর্ণাঙ্গ সুযোগ দিয়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক সংলাপের প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয, মালদ্বীপ সরকারে জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক ও সেইসঙ্গে আইনের শাসনের বিশ্বাসযোগ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ভারত যখন বলে, তাদের নিরাপত্তা মালদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত, তখন ভারতের এই বিবৃতিতে বলপ্রয়োগের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলেই মনে হতে পারে।
মালদ্বীপের প্রত্যাঘাত
ভারতের এই বিবৃতির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে মালদ্বীপ বলেছে, এই বিবৃতি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মালদ্বীপ সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সামপ্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলী তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। ফলে এসবের সমাধানও ঘরোয়াভাবে হওয়া উচিত। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

ইরানের সাহায্য ছাড়া সৌদি অবরোধ নস্যাৎ করা সম্ভব হতো না: কাতারি স্পিকার

কাতারের উপদেষ্টা পরিষদের স্পিকার আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন জায়িদ আল-মাহমুদ
কাতারের উপদেষ্টা পরিষদের স্পিকার আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন জায়িদ আল-মাহমুদ বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাহায্য ছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশরের পক্ষ থেকে আরোপ করা সর্বাত্মক অবরোধ মোকাবেলা করা কাতারের পক্ষে সম্ভব হতো না। 
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ জুন কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করার পরপরই প্রতিবেশী ইরান তার আকাশ ও সমুদ্রসীমা দোহার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ইরান এ সহযোগিতা না করলে কাতার তার লোকজন কিংবা পণ্য সামগ্রী বাইরে পাঠাতে পারত না। ইরান ও কাতারের মধ্যকার অব্যাহত সহযোগিতা ও সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আহমাদ বিন আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আন্ত-সংসদীয় ইউনিয়নের ১৩৮তম অধিবেশনে যোগদানের অবকাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি ইরান-কাতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।
সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাসহ নানা অভিযোগে গত বছরের ৫ জুন সৌদি নেতৃত্বাধীন চারটি আরব দেশ কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে। কিন্তু ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কাতারের পাশে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ তুরস্কও কাতারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। প্রতিবেশীদের এ তৎপরতায় ক্ষুব্ধ হয় সৌদি আরব।

চীনে সেন্সরশিপের খড়গ, হয়রানির শিকার সাংবাদিক, আইনজীবী

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি গত মাসে তাদের সংবিধান পরিবর্তন করে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা যাবজ্জীবন পর্যন্ত অনুমোদন করা হয়। ঠিক এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে যেকোনো কথা, তার সমালোচনাকে কঠোর হাতে দমন করা হচ্ছে।  সবকিছুতে সেন্সরশীপ আরো করা হচ্ছে। যেমন ‘এমপেরর সি’ ‘দ্য এমপেররস ড্রিম’ এবং ‘ড্রিম অব রিটার্নিং টু দ্য গ্রেট কিং’ ‘উইনি দ্য পু’ এ জাতীয় শব্দের দিকে ধারালো সেন্সরশীপ আরো করা হচ্ছে। এমন রিপোর্ট করেছে চায়না ডিজিটাল টাইমস। এমন সেন্সরশিপ এখন চীনে নতুন কিছু নয়। কয়েক মাসে চীনে এর রীতি আরো গ্রাস করেছে। আরো নিয়ন্ত্রণমুলক টুলস এসেছে। যেমন ভারচুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। এর মাধ্যমে ফায়ারওয়ালকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায়। তবে তারাও এখন অনুমোদিত নিউজ আউটলেটকে ছাড় দিচ্ছে। যেসব আইনজীবী সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদেরকে বাধা দেয়া হচ্ছে। গত ৩০ শে জানুয়ারি সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না ঘোষণা করে যে, ৪৬২টি ওয়েবসাইট ও সামাজিক মিডিয়াকে অনলাইনে সংবাদ পরিবেশনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদি অনুমতি না নিয়ে কোন আউটলেট সংবাদ ভিত্তিক ওয়েবসাইট প্রকাশ করে তাহলে তাদেরকে ৩০ হাজার ইউয়ান জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরের মাসে প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক মিডিয়াগুলোর ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ব্যবহারকারীকে অবশ্যই তাদের বৈধ নাম প্রকাশ করতে হবে। ব্যক্তিগত আইডি প্রকাশ করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানে আছে তার কোড নম্বর প্রকাশ করতে হবে। দিতে হবে ফোন নম্বর। এরপরই অনলাইনে কোনো পোস্ট প্রকাশ করতে পারবে। এই বিধিবিধান কাযৃকর হয়েছে ২০ শে মার্চ থেকে। ওদিকে শিল্প ও তত্য মন্ত্রলালয় থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, সুষ্ঠুভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে ৩১ শে মার্চ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে লাইসেন্ন নেই এমন সব ভিপিএন’কে। এর অর্থ হলো, ব্যক্তিবিশেষ ও বিদেশী কোম্পানিগুলো, যাদের ভিপিএন ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে তাদেরকে শুধু রাষ্ট্র অনুমোদিত ভিপিএন ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ভিপিএন ব্যবহারের অনুমতি আছে তাদের। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)কে ইংরেজি ভাষার একটি মিডিয়ার একজন বর্ষীয়ান সাংবাদিক বলেছেন, চীনে তাদের রিপোর্টিং করার জন্য ভিপিএন অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই সাংবাদিক বলেছেন, এটা ছাড়া তারা রিপোর্ট ও ছবি পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। এ ছাড়া তার সম্পাদক, সহকর্মী ও সাক্ষাতকার দেয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।  চীনে এটাই প্রথম এ রকম ঘটনা নয়। কর্তৃপক্ষ এর আগেও মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রিত করতে এমন সব ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। ৬৪ তিয়ানওয়াং নামের মানবাধিকার বিষয়ক একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটে কাজ করেন পু ফেই। তিনি সিডিজে’কে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে এই সাইটের যেসব স্বেচ্ছাসেবক আছেন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো’তে কোনো একাউন্ট খুলতে পারছেন না। তাদেরকে বাধা দেয়া হচ্ছে বা ব্লক করা হচ্ছে। যখনই তারা নিবন্ধন করতে যান তখনই এমন ঘটনা ঘটছে। ফলে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ যেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করছে সাংবাদিকদের পিছু নিতে। একজন সাংবাদিক সিপিজেকে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন উইচ্যাট নামের ম্যাসেজিং যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। ওই সাংবাদিক বলেন, অধিকতর শত্রুতামুলক বিষয় হলো, আমার উইচ্যাট একাউন্ট জোর করে লগআউট করে দেয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় আমাকে উইচ্যাট একাউন্ট ব্যবহারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি ধরেন উইবো’র কথা। সেখানে আমার ব্যক্তিগত ম্যাসেজিং ফাংশন স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়া হয়েছে অথবা ফিল্টার করা হচ্ছে।
সাংবাদিকরা মনে করছেন, তাদের উইচ্যাট একাউন্টের এক্সেস পেয়ে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা। এর মধ্য দিয়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর নজর রাখছে। একজন সাংবাদিক বলেছেন, অন্য শহরে আসা একজন সফররত বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে উইচ্যাটে কথা বলার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই বন্ধুর পারিবারিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাদের পরিবারে একজন সাংবাদিককে ঠাঁই না দেয়ার জন্য শাসিয়ে যাচ্ছেন। ওই সাংবাদিক সিপিজে’কে আরো বলেছেন, কর্মকর্তারা তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ও তাদের সংবাদ মাধ্যমের নাম নিয়ে নিচ্ছেন। এমন কড়াকড়ি নজরদারির অর্থ হলো, উইচ্যাট ও সিনা উইবো ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বাতিল করছেন সাংবাদিকরা। ওই সাংবাদিক বলেন, এর অর্থ হলো চীনে সাংবাদিককরা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। আমার সাক্ষাতকারের বিষয়টিও অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়েছে। এটা কঠিন হলেও আমরা তো তা বন্ধ করতে পারি না। কারণ, এতে আমাদেরকে আরো বেশি পেশাদারিত্ব দেখাতে হয়। সৃষ্টিশীলতা দেখাতে হয়। অব্যাহত রাখতে হয় রিপোর্টিং।
চীনে যে শুধু ইন্টারনেট বা সামাজিক মিডিয়ার গলা টিপে ধরা হয়েছে তা-ই নয়। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের চীনা প্রতিনিধি ফরাসি সাংবাদিক হেইকি শমিডট। মার্চের শুরুর দিকে তাকে আটক করে বেইজিং পুলিশ। প্রায় এক ঘন্টা তাকে আটকে রাখা হয। তার ভয়েস রেকর্ডার জব্দ করা হয়। এসব কথা সিপিজেকে বলেছেন ওই সাংবাদিক। হেইকি শমিডট বলেছেন, তাকে থামানো হয়। সংবিধান সংশোধনের ভোট নিয়ে একটি মলে লোকজনের সাক্ষাতকার নেয়ার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের যখন দীর্ঘ সময় আটক রাখার চেয়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়, সেখানে স্থানীয় সাংবাদিক ও মিডিয়ার সোর্স, তাদের পরিবার ও আইনজীবীরা রয়েছেন আরো কঠিন ঝুঁকিতে।
চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক চেন সিয়াওপিংয়ের রিপোর্টের বদলা নিতে কর্তৃপক্ষ আপাতদৃষ্টে মনে হয় তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর গুয়াংঝৌ শহরে তার বাড়ি থেকে কিভাবে তার স্ত্রী নিখোঁজ হলেন তা নিয়ে জানুয়ারিতে প্রামাণ্য ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে সিপিজে। ১০ই ফেব্রুয়ারি পুলিশ আটক করে সু কিংন’কে। তিনি নিরপেক্ষ মানবাধিকার বিষয়ক গবেষক। তার নিউজ এজেন্সি সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমন তথ্য দিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে একটি লেখা পুনর্মুদ্রণ করেছিলেন সাংবাদিক সান লিন। তার বিষয়ে কয়েকদিন আগে রেডিও ফ্রি এশিয়াকে সাক্ষাতকার দেন সু কিন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই সু কিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবারকে এ কথা জানিয়ে দেয় পুলিশ। আলোচিত এ দু’জনই এখনও জেলে রয়েছেন।
শুধু সাংবাদিকরাই নন। সাংবাদিক ও  সরকারের সমালোচকদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ৬৪ তিয়ানওয়াং নিউজভিত্তিক ওয়েবআসিটের প্রকাশক হুয়াং কি’র প্রতিনিধিত্ব করছিলেন আইনজীবী সুই মুকিং। কিন্তু গুয়াংডং ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস তাকে নিষিদ্ধ করে ১২ই ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় আইন মন্ত্রণালয় থেকে ওই আইনজীবীকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। তাতে অসভ্য, আক্রমণাত্মক কথাবার্তার জন্য তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। সুই মুকিং সিপিজেকে বলেছেন, তাকে এভাবে নিষিদ্ধ করায় অন্য আইনজীবীরা আতঙ্কিত হবেন, যারা মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন। মানবাধিকার বিষয়ক কর্মীদের কথা বলেন। রাজনৈতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের পক্ষে কথা বলেন। চীনে জেলে আছেন সাংবাদিক ওয়াং শুরোং। তার প্রতিনিধিত্ব করছেন আইনজীবী লিন কিলেই। তিনি সিপিজেকে বলেছেন, সুই মুকিংকে নিষিদ্ধ করার পর তিনি চাপ অনুভব করছেন। তবে মানসিকভাবে তিনি প্রস্তুত আছেন। না হয় জেলই হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি আমি একজন আইনজীবী। আমার মক্কেলের পক্ষাবলম্বন করা আমার দায়িত্ব। আমার বেশির ভাগ মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জনস্বার্থ বিরোধী অথবা সামাজিক ইস্যু নিয়ে কথা বলা। আমি তাদের পক্ষে কথা বলছি। আমি তাদের হয়ে কথা বলে যাবো।

যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও ইহুদি নেতাদের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইসরায়েলপন্থী কয়েকটি কট্টর ইহুদিবাদী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এদের মধ্যে ফিলিস্তিনে অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রধান অর্থ যোগানদাতারাও রয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ইহুদিবাদী নেতাদের সঙ্গে বেশ উৎফুল্ল অবস্থায় দেখা গেছে ক্রাউন প্রিন্সকে। প্রসঙ্গত, ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি সৌদি আরব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইহুদি নেতাদের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের বিষয়টি বোঝা যায়। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মোহাম্মদ বিন সালমান কট্টর ইসরাইলপন্থী দল আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপাক), স্ট্যান্ড আপ ফর ইসরায়েল (এডিএল) ও জিউয়িল ফেডারেশন ফর নর্থ আমেরিকার (জেএফএনএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই দলগুলো ফিলিস্তিনে অবৈধ বসতি স্থাপন করার জন্য ইসরাইলকে লাখ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য ইসরাইলকে ৬০ লাখ ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছিল এসব দলগুলো। এরা ফিলিস্তিনে অবৈধ বসতি-বিরোধী সংগঠন ‘বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন (বিডিএস)’ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলকে উস্কে দেয়। আর বিডিএস অসহিংসভাবে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। বিডিএসকে নিষিদ্ধ করার জন্য ইহুদিবাদী দলগুলো লাখ লাখ ডলার ব্যায় করেছে।
এদিকে, মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইহুদি নেতাদের বৈঠকের ঘটনা দু’দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহজুব জুবেইরি বলেন, ক্রাউন প্রিন্স সৌদি আরবকে নতুন রুপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। আর ওয়াশিংটনের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করে আইপাকসহ অন্য ইহুদিবাদী দলের নেতারা। মোহাম্মদ বিন সালমান এই কৌশল নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি বোঝাতে চান, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে মার্কিন প্রশাসনের নেয়া যে  কোন সিদ্ধান্তের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন রয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে অভাবনীয় সাফল্য by আলমগীর মানিক

প্রাকৃতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণ ও রাজস্ব আয়ের হার অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করায় হ্রদ ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে পার্বত্যবাসীর মনে। বিএফডিসির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ মাছ আহরণ-বিপণন ও প্রজননে বর্তমান হ্রদ ব্যবস্থাপকের সাহসী পদক্ষেপ এবং গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কারণেই এই সাফল্য এসেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সাধারণ জেলে ও মৎসজীবীরা। তারা জানান, কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির অর্ধশতাব্দী পর হ্রদ ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আসার প্রেক্ষাপটে এই হ্রদ ঘিরে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারের রাজস্ব অর্জন উন্মুক্ত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিগত বছরের চেয়ে অন্তত এককোটি টাকা বেশি অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি বিএফডিসিতে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদের ইতিহাসে রাজস্ব আয়ের এই হার হবে গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। মৎস্য ব্যবস্থাপনায় বিএফডিসি কর্তৃক বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে হ্রদের মৎস্য উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই বিগত কয়েক বছরের অতীত রেকর্ড অতিক্রম করেছে কাপ্তাই হ্রদের সার্বিক চিত্র।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএফডিসি ব্যবস্থাপনায় মৎস্য প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও পাচার রোধ, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তি এবং অভয়াশ্রমে কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। অথচ হ্রদ সৃষ্টির পর প্রথম কয়েক বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করে বিগত কয়েক বছর এই হ্রদে মৎস্য উৎপাদন ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছিল স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্যজীবী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল। সূত্র মতে, এ বছর সাফল্যের যে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হতো যদি বিগত মওসুমে পাহাড়ধসের মতো বিপর্যয় বা কাপ্তাই বাঁধে পানি অপসারণের হার নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি না হতো।
মৎস্যজীবীরা জানান, পাহাড়ধসের কারণে হ্রদের পানিতে যে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা দেখা দিয়েছে; তথা জেলেদের জাল প্রক্ষেপণে স্রোতের যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাতে সবাই মনে করেছিলেন এবার মাছ ব্যবসা লাটে উঠবে। কিন্তু সবার ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো বেশি ওজনের কার্প জাতীয় মাছের আমদানি বৃদ্ধি এবং বিপণন ব্যবস্থায় দুর্নীতি অপনোদন।
বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদের বিগত বছরগুলোর তুলনায় বিপুল পরিমাণ মাছ আহরিত হচ্ছে। কারণ হিসেবে জেলেরা জানিয়েছেন, বিগত বছরে গণহারে সৃষ্ট অবৈধ ঝাঁক অপসারণ, কঠোর নজরদারি, ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধি করায় তদুপরি তাদের সার্বিক সহযোগিতার ফলে মাছ আহরণ বন্ধ মৌসুমে মা মাছ নির্ঝঞ্ঝাটে ডিম ছেড়েছে কাপ্তাই হ্রদে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি পরিমাণে বড় মাছ বিশেষ করে রুই, কাতাল, মৃগেল, কালিবাউস, চিতল, বোয়াল, বাচা-পাবদাসহ ছয় ইঞ্চিরও বেশি পরিমাপের চাপিলা মাছ ধরা পড়ছে জালে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিএফডিসি’র সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টন মাছ আহরিত হলেও রাঙ্গামাটি বিএফডিসি তথা মৎস্য অবতরণ ঘাটে মাছ আসছে গড়ে ১৮ থেকে ২০ টন। বাকি মাছগুলো স্থানীয় বাজারসহ নানা স্থান দিয়ে অন্যত্র পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বল্পমূল্যে মাছ সংগ্রহ করতে পারছেন এবং এ অঞ্চলে আগত পর্যটকরাও কাপ্তাই হ্রদের মাছগুলোর স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন সাধ্যের মধ্যেই।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)র রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নৌ-বাহিনীর কমান্ডার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এছর রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে অন্যান্য বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সময়োগযোগী পদক্ষেপের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, আমাদের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে অন্তত দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। কারণ হিসেবে কমান্ডার আসাদ উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা দেশের সমতল এলাকা থেকে কার্প জাতীয় মাছের পোনা সংগ্রহ করে রাঙ্গামাটিতে এনে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করতাম। এতে করে প্রায় সময় পোনার একটি অংশ পরিবহনেই মারা যেত, আবার আরেকটি অংশ হ্রদের পানিতে অবমুক্তের কয়েকদিনের মধ্যেই মরে ভেসে উঠতো। সেই বিষয়টি সার্বিকভাবে অনুধাবন করেই সরকার রাঙ্গামাটিতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ দেশি প্রযুক্তিতে পোনা উৎপাদন কেন্দ্র তথা পূর্ণাঙ্গ হ্যাচারি স্থাপন করেছে। জেলার লংগদু উপজেলাধীন মারিশ্যাচর এলাকায় স্থাপিত এই হ্যাচারিতে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদনে ইতিমধ্যেই আমরা আশানুরূপ সফলতা অর্জন করেছি। এই হ্যাচারির মাধ্যমেই আমরা বর্তমানে বছরে ৬০ টন মাছের পোনা উৎপাদন করতে পারছি। তিনি বলেন, আমরা বাহির থেকে ক্রয় করে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টন পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করলেও এ বছর আমাদের নিজস্ব হ্যাচারিতে উৎপাদিত আগের ক্রয় করার চেয়ে দ্বিগুণ মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করবো ইন্‌শাআল্লাহ।

মোটরসাইকেল চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো ট্রাফিক পুলিশ

বান্দরবানে হেলমেট পড়া মোটর সাইকেল চালকদের দাড় করিয়ে ফুল দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আজ শনিবার বিকেলে বান্দরবান শহরের ট্রাফিক মোড় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের একটি দল হেলমেট পরিহিত মোটর সাইকেল চালকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এসময় তারা হেলমেট বিহীন মোটর সাইকেল চালকদের হেলমেট পড়ে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ জানায়।
ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মোঃ সালাউদ্দীন মামুন জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে হেলমেট পরিধানে জনগণকে সচেতন করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বান্দরবানে মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের হার বেড়ে যাওয়ায় হেলমেট পড়তে জনগণকে উৎসাহিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশীর ভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হেলমেট না পরার কারণে চালকরা মারা যায়। হেলমেট পড়া থাকলে অনেকাংশে বড় ধরনের আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই বান্দরবান ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তাদের দেখে অন্যরা হেলমেট পড়তে উৎসাহিত হয়।
ট্রাফিক পুলিশের এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি মটর সাইকেল চালকরাও। কিছু মোটরসাইকেল চালক জানান, পুলিশ সবসময় মোটর সাইকেল দাড় করিয়ে মামলা দেয় কিন্তু আজকে ফুল দিচ্ছে। তাই যারা হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালায় পুলিশের উৎসাহ দেখে আজকে থেকে তারাও হেলমেট পড়ে গাড়ি চালাবে।
উল্লেখ্য, আজ দুপুরে শহরের বালাঘাটা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হেলমেট না পড়ায় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই এক চালকের মৃত্যু হয় এবং দুজন গুরুত্ব আহত হন। এর পর থেকে পুলিশের তৎপড়তা বেড়ে যায়।

নদী যেখানে মরা খাল by আবদুল আলীম

এক সময় যে নদীতে থই থই করত পানি, তাতে চলত পাল তোলা নৌকা। কোথাও বা জাল দিয়ে মাছ ধরত জেলে। তীরে কলসি কাঁখে কুলবধূ। কোথাও আবার কলার ভেলা ভাসিয়ে ছেলে মেয়েরা খেলা করত। নাইতে নামত হাজারো নারী পুরুষ আর ছেলে-মেয়ে। কোথাও জল সেচ দিয়ে কৃষকের জমিতে পানি দেয়ার উৎসব। হ্যাঁ এসব বর্ণনা নিছক নয় জয়পুরহাটের ছোট যমুনা, চিরি নদী, তুলশী গঙ্গা আর হারাবতী নদীর নিত্য রূপ ছিল। কিন্তু এখন এসব শুধুই সুখস্মৃতি। স্রোতহীন, জলহীন নদী এখন ফসলের মাঠ। নদীতে পানি না থাকায় স্থানীয় চাষিরা নদী দখলে নিয়ে করছেন চাষাবাদ। আর চাষাবাদ করার কারণেও নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। কোথাও দু-এক হাঁটু পানি থাকলেও তা দখল করে চলছে চাষ। নাদী আর সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী না হয়ে হয়েছে ব্যক্তিগত ফসল চাষের ক্ষেত্র। জয়পুরহাটের চার নদীর চিত্র এখন এমনই। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে নদীগুলোর বুকে এখন ফসলের মাঠের উপযোগী হওয়ায় এক শ্রেণির কৃষক এই সুযোগ নিচ্ছেন আর সেখানে চাষাবাদ করছেন ধান, মিষ্টি আলুসহ নানা ফসল, চরছে গরু-ছাগলও। কোথাও কোথাও খেলার মাঠ বানিয়ে তাতে মেতে উঠছে শিশু-কিশোরের দল। যে কারণে বর্ষায় নদীগুলোর গতিপথ ঠিক না থাকায় অল্প পানিতেই দেখা দিচ্ছে বন্যা।
উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানি নামতে পারে না ভাটিতে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে জনপদে ঢুকে সৃষ্টি করছে জলাবদ্ধতার। প্রতি বছর অস্বাভাবিক বন্যায় ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে হাজার হাজার মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, অকাল বন্যায় প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সেই হিসাবে গত ১১ বছরে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ’ কোটি টাকা। অথচ নদীগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নদী খননের প্রস্তাব পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেই সরকারের। নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করতে না পারলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এ এলাকায় মরু পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় সীমানার অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে জয়পুরহাট জেলায় প্রবেশ করেছে ছোট যমুনা ও চিরি নদী আর উত্তরের জেলা দিনাজপুর থেকে তুলসীগঙ্গা ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের মাঠ থেকে হারাবতি নদীর সৃষ্টি। একসময় সারা বছর পানিতে ভরা থাকত নদীগুলো।
নৌকা চলত নিয়মিত, মাঝির গলায় উঠত গান আর দু-পারের কৃষি জমিতে সেচ চলত সেই পানি দিয়ে। নদীতে সারাবছর পানি থাকায় দু’পারের মানুষের সেতু বন্ধনের জন্য কিছুদূর পরপর তৈরি হয়েছে সেতু। দূরবর্তী এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কপথের চেয়ে নদীপথ ব্যবহৃত হতো বেশি। পার্শ্ববর্তী জেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমই ছিল এই নদীগুলো। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো এখন খটখটে। সবুজে ভরে যায় তার বুক। বোরো মৌসুমে নদীর বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে সেচকাজ করেন কৃষক।
১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে তুলসীগঙ্গা নদী খনন কাজ শুরু হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বাকি তিনটি নদী জন্মের পর কোনোদিনই খনন করা হয়নি বলে জানায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বিভাগ। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি স্লুইচ গেটগুলোও এখন অচল।
জয়পুরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আপেল মাহমুদ জানান, প্রতি অর্থবছরই জেলার নদীগুলো খননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ছোট যমুনা, তুলসীগঙ্গা, হারাবতি ও চিরি নদীর ১০২ কিলোমিটার খননের জন্য ১৩৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পাঠানো হয় কিন্তু সরকার ও দাতা সংস্থার টানাপড়েনের কারণে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বেসরকারিভাবেও নদী রক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ। পরিবেশ রক্ষার নামে দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করলেও নদী রক্ষায় এগিয়ে আসেনি কোনো এনজিও।
পানি উন্নয়ন বিভাগে কর্মরত পানি বিশেষজ্ঞরা জানান, নদী খনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করতে না পারলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা না হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। স্থায়ী মরুভূমিতে পরিণত হবে জয়পুরহাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

দুটি স্বপ্নের মৃত্যু: মানিকগঞ্জে আতঙ্কের নাম হ্যালোবাইক by রিপন আনসারী

মানিকগঞ্জে এখন আতঙ্কের নাম হ্যালোবাইক। কাগজপত্রবিহীন অবৈধ এই হ্যালোবাইকের তাণ্ডবে একদিকে শহরে তীব্র যানজট। অন্যদিকে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। পৌরসভার তালিকা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৫শ’ হ্যালোবাইকের বৈধতা থাকলেও মূল হ্যালোবাইকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার। বাকিরা টাকার বিনিময়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে। গত চারদিনে জেলা শহরের দুটি স্কুলের কোমল দুই শিক্ষার্থী ঈশিতা ও সোয়েব হ্যালোবাইকের চাপায় নিহত হয়েছে। দুজনেই প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী। অকালে ঝরে যাওয়া এই দুই শিশুর মৃত্যুতে শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। শুধু শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে হ্যালোবাইকের আঘাতে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে জেলা শহরের শেষ মাথা এবং বেওথা ঘাট পর্যন্ত কুইন্স স্কুল, হলি ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি চাইল্ড, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, খান বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়, খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজ, ৮৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আফরোজা রমজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মডেল হাইস্কুল, তীতুমীর একাডেমিসহ আরো বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রায় সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সড়কঘেঁষা। প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে দিয়ে দিনের বেলায় তিন চাকার ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইকের তাণ্ডব এতই বেশি যার ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয় চরম ঝুঁকির মধ্যে। তার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের বেহালদশা। রাস্তার প্রশস্ততা এতই কম যার কারণে দুটো ছোট যানবাহন পাশাপাশি যেতে হিমশিম খেতে হয়। মানুষ চলাচলের তিল পরিমাণ জায়গা থাকে না রাস্তার পাশে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। অভিযোগ আছে, টাকার বিনিময়ে শহরের হ্যালোবাইক চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। চালকদের নেই কোনো দক্ষতা, নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স আর বৈধ কাগজপত্র। শুধু শহরেই নয় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও চলছে হ্যালোবাইক। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই ছোট এই যানবাহন চলাচলে। এছাড়া হ্যালোবাইকের পাশাপাশি আরেকটা আতঙ্কের নাম হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। অহরহ এই রিকশায় ঘটছে দুর্ঘটনা। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার উকিয়ারা গ্রামের সোহেল মিয়ার কন্যা ঈশিতা আক্তার। সে শহরের বেওথা রোডের হলি ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী। শনিবার মা নিপা বেগমের সঙ্গে হ্যালোবাইকে করে যাচ্ছিলেন স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। শহরের নিরাময় ক্লিনিকের সামনে নামার পরপরই পেছন থেকে বেপোরোয়া গতিতে আসা আরেকটি হ্যালোবাইক ঈশিতাকে ধাক্কা দেয়। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে যায় রাস্তায়। সেই সঙ্গেই নিভে যায় জীবন প্রদীপ। ঈশিতাকে বাঁচানোর জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। স্কুলের পুরস্কার আর নেয়া হয়নি ঈশিতার।
এই দুর্ঘটনার তিন দিন যেতে না যেতেই হ্যালোবাইকের চাপায় নিভে যায় আরেকটি স্বপ্ন। মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতোই মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের শিশুপুত্র তিতুমীর একাডেমির প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী শোয়েব হোসেন স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি শেষে খালার সঙ্গে রাস্তা পার হতে গেলে দ্রুতগামী একটি হ্যালোবাইক শিশুটিকে পেছন থেকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শোয়েবকে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে। ঘণ্টাখানেক পর সকলকে কাঁদিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। নিহত শোয়েবের বাবা ওমর ফারুক ঢাকায় গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত আছেন। আর মা সোমা আক্তার মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সেবিকা। দুর্ঘটনায় দুটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যুতে এখন হ্যালোবাইক আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। হলি ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আকরাম হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ শহরে হ্যালোবাইকের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে এই ক্ষুদে যানবাহন খুবই বিরক্তকর। স্কুলের সামনে দিয়ে যেভাবে দ্রুতগতিতে এই যানগুলো চলাচল করে এতে বাচ্চাদের নিয়ে সবসময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি।
মানিকগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক লাভলু খান বলেন, স্কুল আর রাস্তার দূরত্ব জিরো মিটার। রাস্তার সঙ্গে স্কুল তারপরও হ্যালোবাইক যেভাবে বেপোরোয়া ভাবে চলাচল করে তা দেখার কেউ নেই। মানিকগঞ্জ শহরের বাসিন্দা সিনিয়র সাংবাদিক খোন্দকার আশরাফুন নবী বলেন, পর পর দুটি দুর্ঘটনায় দুই কোমলমতি শিশু নিহত হওয়ায় হ্যালোবাইক এখন শহরবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম। অবৈধ এই যানবাহন শহরে যানজটের পাশাপাশি প্রায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে নাগরিক জীবন বিষিয়ে তুলেছে। গায়ে গায়ে লেগে থাকা হ্যালোবাইকের জন্য রাস্তায় হাঁটাচলা করাটাই এখন রীতিমতো বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হলিফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকে হ্যালোবাইক আমাদের কাছে একটি আতঙ্কের বিষয়। স্কুলের সামনে এবং শহরের মধ্য দিয়ে যেভাবে বেপরোয়াগতিতে হ্যালোবাইক চলাচল করছে তা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। এদিকে গত কয়েক দিনে হ্যালোবাইকের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় টনক নড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষের। তারা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে অবৈধ হ্যালোবাইক শনাক্তে। জানিয়েছেন, পৌরসভার তালিকায় সাড়ে ৫শ’ হ্যালোবাইক অনুমোদন দেয়া আছে। কিন্তু অনুমোদন ছাড়া এখনো অনেক হ্যালোবাইক রোডে চলছে বলে জানিয়েছেন এক পৌর কর্মকর্তা। সেগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।

মৃত্যুফাঁদ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত শাহ আমানত সেতুর উভয় পাশে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দুটি গোল চত্বর। নগরীতে যানবাহন প্রবেশ ও বাহির পথের এই গোল চত্বর দুটি এখন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেতুসংলগ্ন দুই পাশের গোল চত্বর দুটিতে প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, সর্বোপরি অনিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার কারণে এই গোল চত্বর এলাকা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এমন বক্তব্য সেতুর বশরুজ্জামান গোল চত্বর এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অচ্যুত দাশগুপ্তের। শুধু তিনি নন, একই বক্তব্য ওই চত্বরের পুলিশ বক্সে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আজিজ, এএসআই সুবল ও কনস্টেবল অনিলেরও।
তারা বলেন, নানা অনিয়মের কারণে এই গোল চত্বরে ট্রাফিক আইন নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টকর। বলতে গেলে প্রতিদিন যানজট নিরসনের মাধ্যমে সড়ক সচল রাখতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। তার উপরে নেই প্রয়োজনীয় লোকবল। ফলে প্রায়ই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা এই চত্বর দুটিতে ঘটছেই।
তারা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে নগরীতে প্রবেশ ও বাহির পথে প্রায় সময়ই বাস-ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী সিএনজি, ট্যাক্সি, ভ্যান, রিকশাকে চাপা দেয়। এই চত্বরে প্রতিবছর বড় ধরনের ১৮-২০টি দুর্ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে কোনো কোনো মাসে ৪-৫টি, আবার কোনো কোনো মাসে ২-৩টি, আবার কোনো মাসে হয়তো ঘটে না এমনও হয়ে থাকে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি ধরনের দুর্ঘটনা লেগেই আছে। আর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণও করতে হয় যাত্রীদের।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অচ্যুত দাশগুপ্ত জানান, সর্বশেষ শনিবার বাঁশখালী থেকে নগরমুখী আসা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি ট্যাক্সি ও রিকশা ভ্যানকে চাপা দিলে ৬ যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে ১৭ই মার্চ যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে এক যাত্রী নিহত ও ২০-২১ জন যাত্রী আহত হয়। এরপর ১২, ৯ ও ৩ মার্চ তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে ২৪শে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় ৩ যাত্রী নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হন। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনার শিকার হয় বেশি। এর কারণ সড়কের মাঝে যে ডিভাইডার রয়েছে তা নিরাপদ নয়। ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে আইল্যান্ড লেগে যায়। তাছাড়া সেতু নামার পথে সড়কে কোনো স্পিডব্রেকার না থাকায় প্রায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বাস-ট্রাকও কাভার্ডভ্যান। তার উপরে গোল চত্বরগুলো অপ্রশস্ত। এ অবস্থায় সড়কের ওপর চালকরা দাঁড় করিয়ে রাখে শত শত বাস ও ট্রাক। এসব সরানোর জন্য চাপ দিলে তার চেয়ে ওপর মহল থেকে চাপ আসে আরও বড় ধরনের। যার কারণে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে শাহ আমানতের গোল চত্বর দুটি।
সরজমিনে দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর এপার-ওপারে সংযোগ স্থাপনকারী চার লেনের শাহ আমানত সেতু দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ১৯টি সড়কের গাড়ি যাতায়াত করছে। সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা দূরপাল্লার বাস তো আছেই। এই সেতুর দুই পাশে নির্মিত ত্রুটিপূর্ণ গোল চত্বর দুটি সরিয়ে নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী দু’বছর আগে নির্দেশ দিয়ে গেলেও সেটি এখনো সরানো হয়নি। বরং, দুর্ঘটনা রোধে সড়ক বিভাগ গোল চত্বরটির চতুর্দিক আরও চার ফুট আকারে ছোট করে। এতে দুর্ঘটনা তো কমেইনি, বরং বেড়েছে। গোল চত্বরের চারপাশে সব ধরনের যানবাহন যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় লোকজন জানান, গোল চত্বরের চারপাশে সব সময় বাস, সিএনজি ট্যাক্সি বা রিকশার চালকরা যাত্রী উঠানোর জন্য সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে দুর্ঘটনা যেমন ঘটে তেমনি যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধে গোল চত্বর এলাকাটিতে চারমুখী সড়কে ৪টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করা হলেও তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই প্রবেশ ও বাহির পথটিতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। শাহ আমানত পুলিশ বক্সের সামনে সিএনজি ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ হারুন বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা থেকে আসা যাত্রীদের ভাড়ায় উঠানোর জন্য, ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়াতে হয়। সড়কের ওপর না দাঁড়ালে যাত্রী পাওয়া যায় না বলে জানান ওই চালক।
সিএনজি ট্যাক্সির লাইনম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, শহর এলাকার যাত্রীদের উঠানোর জন্য চালকরা পাগল হয়ে পড়ে। অনেকবার বারণ করেও চালকদেরকে রোধ করা যায় না। দুর্ঘটনায় সিএনজি ট্যাক্সির ক্ষতি ছাড়াও চালকও মারা গেছে। তবুও সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গাফিলতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়মের কারণেই সেখানে অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে মুহূর্তের মধ্যে তা বন্ধ করতে পারে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, চালকদের অদক্ষতাই গোল চত্বরে দুর্ঘটনার মূল কারণ। চালকরা গাড়ি ছাড়ার আগে যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না, তেমনি ট্রাফিক আইনও মানে না। সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে রেখে যাত্রী উঠানামা করে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।

৬১ বছরের পুরনো রাজউকের ‘টাওয়ার ঘড়ি’ নতুন রূপে ফিরছে by দীন ইসলাম

৬১ বছরের পুরনো রাজউক ভবনের ঐতিহ্যবাহী ‘টাওয়ার ঘড়ি’ নতুন রূপে ফিরছে। যান্ত্রিক গোলযোগে সঠিক সময় না দেয়ায় বর্তমানে ঘড়িটি বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ঘড়িটিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ঘড়িটি মেরামত বা ডিজিটাল মাস্টার ক্লক স্থাপন করা হবে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে রাজউক চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি ঠিক করবে ঘড়িটি মেরামত হবে নাকি অবয়ব ঠিক রেখে ডিজিটাল ঘড়িতে রূপান্তরিত হবে। সহসাই উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটি রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। রিপোর্ট দিলেই ‘টাওয়ার ঘড়ি’র বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে রাজউক ভবনে ঘড়িটি স্থাপন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় ঘড়িটি মেরামত করা হয়েছে। তবে প্রায় ৬১ বছরের পুরনো ঘড়িটির যন্ত্রাংশ এখন বাজারে পাওয়া যায় না। তাই বারবার মেরামত করেও ঘড়িটি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে রাজউকের বোর্ডসভায় আলোচনা করা হয়। এর আগে রাজউক ভবনের ঘড়িটি মেরামত বা নতুনভাবে কী করা যায় এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ওই সব আলোচনায় বলা হয়, ঘড়ির বাইরের অবয়ব ঠিক রেখে এর ম্যাকানিকেল মুভমেন্ট পরিবর্তন করলে ঘড়িটি সচল করা যাবে। এজন্য চেইন, স্পোকেট, পারদ সুইচ, সলিনয়েড, মাস্টার ক্লক, ওয়েট ৪০ কেজিসহ আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করতে হবে। তাহলে ঘড়িটি নতুনভাবে সচল হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজউক ভবনে স্থাপিত ঘড়িটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ১০ বছরের গ্যারান্টি, ওয়ারেন্টিসহ আনুমানিক ২৮ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি প্রস্তাবে নতুনভাবে ডিজিটাল মাস্টার ক্লকসহ অবয়ব ঠিক রেখে টাওয়ার ঘড়ি স্থাপন করে ১০ বছরের গ্যারান্টি, ওয়ারেন্টিসহ আনুমানিক ৫২ লাখ টাকার দরকার হতে পারে বলে জানিয়েছে। এদিকে রাজউকের বোর্ড সভায় টাওয়ার ঘড়িটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বলা হয়, রাজউক ভবন রাজধানী ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। ভবনের টাওয়ারে স্থাপিত ঘড়িটি একদিকে যেমন ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে অন্যদিকে তেমনি শহরের বাসিন্দাদের সঠিক সময় দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। ঘড়িটি বঙ্গভবনে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে। বর্তমানে ঘড়িটি সঠিক সময় না দেয়ায় বন্ধ রয়েছে। আলোচনার পর প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও ডিজাইন)-কে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিতে পরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক)- কে সদস্য করা হয়েছে। এ কমিটিকে টাওয়ার ঘড়ির বাইরের অবয়ব ঠিক রেখে ভেতরের যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘড়িটি চালু বা নতুন ডিজিটাল টাওয়ার ঘড়ি সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য সুপারিশসহ মতামত দিতে বলা হয়েছে। কমিটি’র মতামত পাওয়ার পর ঘড়িটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজউক। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঘড়িটিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা হবে। আশা করছি সহসাই এ বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।

সৌদি যুবরাজ চান মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় থাকুক

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, তিনি চান মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করুক। সিরিয়া থেকে অল্প সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা সত্ত্বেও যুবরাজ সালমান একথা বললেন।
বৃহস্পতিবার ‘টাইম’কে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিন সালমান বলেন, “আমরা  বিশ্বাস করি মার্কিন সেনারা যদি দীর্ঘ মেয়াদে নাও থাকে তবে তাদের অন্তত মধ্য-মেয়াদে সিরিয়ায় অবস্থান করা উচিত।” এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওহাইও’র রিচফিল্ডে এক সমাবেশে উল্লসিত জনতার উদ্দেশে ঘোষণা করেন যে, শিগগিরি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “খুব শিগগিরি আমরা সিরিয়া থেকে চলে আসব। এখন থেকে অন্যরা দায়েশের বিষয়টি দেখভাল করুক। খুব শিগগিরি আমরা সিরিয়া থেকে বেরিয়ে আসছি।”
আমেরিকা এবং তার পশ্চিমা কয়েকটি মিত্র দেশ ২০১৪ সাল থেকে সিরিয়ায় দায়েশের বিরুদ্ধে বিমান চালিয়ে আসার দাবি করছে। তবে তাদের হামলায় এ পর্যন্ত দায়েশের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে -এমন নজির নেই বরং বহুসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্ররা জাতিসংঘ কিংবা সিরিয়া সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয় নি। এর বিরুদ্ধে সিরিয়া সরকার বার বার প্রতিবাদ করেছে এবং জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে মার্কিন কথিত অভিযান বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উত্থান ও সিরিয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য সৌদি আরবকেও দায়ী করছে দামেস্ক সরকার।

বাংলাদেশ ও ইরানের সুদৃঢ় বন্ধন আরো মজবুত হবে -আয়াতুল্লাহ আরাফি

বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ইরান এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত। বাংলাদেশ সফরকারী ইরানের আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং দেশটির মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আরাফি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই মনোভাব প্রকাশ করেন। জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও উন্নত করা সম্ভব। এ বিষয়ে দুই দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মমন্ত্রী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইরানের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ছাড়া ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন এবং ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আয়াতুল্লাহ আরাফি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি শিক্ষা খাতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আয়াতুল্লাহ আরাফি তার তিন দিনের বাংলাদেশ সফরকালে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রেজভীর সঙ্গে বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভয়েজি, আল মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দীন মাশায়েখি এবং ইরান দূতাবাসের গণমাধ্যম ও গণসংযোগ কর্মকর্তা খন্দকার মো. মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আলেম সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও ঢাকাস্থ সরকারি আলিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় মাদরাসার পাঠাগার উন্নয়নে আল মোস্তফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুই হাজার ইউরো প্রদান করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গদের সহায়তার জন্য তিনি ২০ হাজার ডলার দেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

‘উন্নয়ন অন্বেষণে’র আশংকা- বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা দীর্ঘ হতে পারে

অভ্যন্তরীণ উৎস বিশেষ করে ব্যাপক হারে জাতীয় সঞ্চয় পত্র বিক্রির (চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট সঞ্চয় পত্র বিক্রির পরিমাণ ৩৯ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬.০৮ শতাংশ বেশী) মাধ্যমে সরকারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের চাহিদার হ্রাস নির্দেশ করে। ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বর্তমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এমন আশংকা করেছে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ’উন্নয়ন অন্বেষণ’। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির মাসিক প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’য় এ আশংকার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরো বলছে, উচ্চ বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের ফলে সরকারের অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উৎপাদনশীল খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করে অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বাঁধার সম্মুখীন করছে। তাদের মাসিক প্রকাশনায় বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ঋণের স্থিতি ও ঋণ পরিশোধে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি দেশে উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ হ্রাস ও আন্ত:প্রজন্ম ঋণের বোঝা বৃদ্ধি করছে। প্রকাশনাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের স্থিতি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৫.১২ ও ৮.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে অভ্যন্তÍরীণ ঋণের স্থিতি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নীট বৈদেশিক সাহায্যের প্রবৃদ্ধি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১৭.৫৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২.১০ শতাংশ হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিডিপি’র অনুপাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৫.৪৫ শতাংশ ছিল, যা পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাক্রমে ১৫.৫, ১৫.৭৮ ও ১৫.৮১ শতাংশ হয়। চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই হার ১৪.৬৫ শতাংশ হয়, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে ১৪.৩০ শতাংশ ছিল। অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৯.৮৪ কোটি টাকা হয়েছে। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫.৪২ কোটি টাকা ছিল। বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ২০০৯-১০ অর্থবছর (১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৩.৮৪ কোটি টাকা) থেকে ২০১৬-১৭ র্অথবছর (৩ লাখ ৯ হাজার ৬৮১.৮৭ কোটি টাকা) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশনায় বলা হয়, বৈদেশিক ঋণের উপর প্রদত্ত সুদের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের (সুদ ও আসল) পরিমাণ ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৯৪ মিলিয়ন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে  হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আবার বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণের উপর প্রদত্ত সুদের পরিমাণ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ২০২ মিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়। ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি দিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বাজেট ঘাটতি ও ঋণের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে বিদ্যমান মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির পূনঃনিরীক্ষণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি বিচক্ষণ ও কার্যকরী ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি কাঠামো গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে।

সহযোগিতা পেলে রিয়াদ এখন আমাদের দখলে থাকত: ইয়েমেনি নেতা মোহাম্মাদ আলী হুথি

ইয়েমেনের সর্বোচ্চ বিপ্লবী পরিষদের প্রধান মোহাম্মাদ আলী হুথি বলেছেন, "সৌদি আরব যেসব দাবি করছে সে ধরণের সহযোগিতা ইরানের কাছ থেকে পেলে রিয়াদ এখন আমাদের দখলে থাকত।" 'ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর' টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
মোহাম্মাদ আলী হুথি আরও বলেছেন, "আমরা এখন যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছি সেগুলো রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার তৈরি। অতীতে সংগ্রহ করা ওই সব ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও কার্যকরি করে তোলা হয়েছে।" ইয়েমেনে অব্যাহত সৌদি আগ্রাসনের বিষয়ে বিশ্বের কোনো কোনো দেশের নিরবতার সমালোচনা করেন তিনি।
ইয়েমেনের এই নেতা বলেন, "আমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছি বলে কোনো কোনো দেশ আমাদের সমালোচনা করছে। আমরা নিজেদের রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ বিষয়ে কিছু দেশের সমালোচনা সত্যিই বিস্ময়কর।"
তিনি বলেন, যতদিন ইয়েমেনে শত্রুদের আগ্রাসন ও অবরোধ অব্যাহত থাকবে ততদিন ইয়েমেনিরা নিজেদের রক্ষায় সব ধরণের পন্থা অবলম্বন করবে।
ইয়েমেনে আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত করে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন হামলায এ পর্যন্ত অন্তত ছয় লাখ মানুষ হতাহত হয়েছে বলে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মাহিদ হত্যা: তদন্তে আলো ফেলে একটি রিকশার ছবি by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

ঘটনাটি ঘটেছে রাতের অন্ধকারে। রাতের অন্ধকারের মতো পুলিশও ছিল অন্ধকারে। আঁধারে আলো হয়ে দেখা দেয় এক পথচারীর মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ছবি। সে ছবিতে দেখা যায় একটি রিকশার পেছনের ছবি। মাহিদ আল সালাম হত্যা রহস্য উদঘাটনে সে ছবিই পুলিশের সামনে আলোর রেখা হয়ে দেখা দেয়। সে আলোর রেখা ধরেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জ্যোতির্ময় সরকারের নেতৃত্বে তদন্ত দল পৌঁছে যায় ঘাতকের কাছে।
একটি মোবাইল দোকানের কর্মচারী ছবিটি তোলেন। রিকশার ছবিটিকে সামনে রেখেই তদন্ত এগুতে শুরু করে। পুলিশ তাদের নিজস্ব বিভিন্ন সূত্রের প্রয়োগ করে সন্ধান চালায় ছবির রিকশাটি খুঁজতে। সফলও হয়। রিকশার সন্ধান মেলে, সন্ধান মেলে চালকেরও। আখালিয়ায় সিটি কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরানের বাসার পাশের মজনু মিয়ার গ্যারেজ থেকে আটক করা হয় রিকশাচালক জয়নাল আবেদীন ভাণ্ডারিকে। ব্যাটারিচালিত ওই রিকশা চালকের বাড়ি দিনাজপুরে। ঘটনার রাতে তিনিই মাহিদকে বন্দর থেকে রিকশায় তুলেন। সেখান থেকে পাঠানটুলা হয়ে নিয়ে আসেন কদমতলিতে। পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দেন ভাণ্ডারি। জানান, কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেলে আসা একদল তরুণই হামলা চালিয়েছিল মাহিদের ওপর। রিকশাচালকের বর্ণনা মতে, লম্বা চুলের লিকলিকে শরীরের এক তরুণ মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলো। অন্ধকারে এর বেশি কিছু আর ঠাহর করতে পারেননি ওই রিকশাচালক। অন্ধকারে দেখা আবছা সে বর্ণনাই পুলিশের সামনে আলোর রেখা তৈরি করে দেয়। পুলিশ এবার নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। রিকশাচালকের দেয়া বর্ণনামতো চালক আর মোটরসাইকেলের খোঁজ চলতে থাকে নগরজুুড়ে। সফল হয় পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার সোয়াব মির্জার ছেলে মির্জা আতিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তায়েফ মুহাম্মদ রিপনকে। আতিকের স্বীকারোক্তি অনুসারে মাহিদকে ছুরিকাঘাতে ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার রাত ১টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় আরো এক ছিনতাইকারী বারখলার বাসিন্দা রাসেলকে।
অপরাধ তদন্তে জ্যোতির্ময় সরকারের ঝুলিতে আরো অনেক সাফল্য জমা আছে। ‘সূত্রহীন’ এ মামলাকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেন। তাছাড়া এ মামলাটি বিশেষ কারণে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণও ঘটাচ্ছিলো। নিজে যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ নিয়ে গায়ে পুলিশের পোশাক জড়িয়েছেন নিহত মাহিদ আল সালামও সেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ছাত্র। মাহিদ যেন তারই ছোট ভাই। সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার অ্যাডভোকেট এম এ সালামের ছেলে শাবির অর্থনীতি বিভাগের ২০০৮-০৯ সেশনের শিক্ষার্থী মাহিদ আল সালাম ২০১১-১২ সেশনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। চাকরির সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রোববার মধ্যরাতে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে নগরীর কদমতলি এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি। উরু ও হাঁটুর পেছনে ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার। সে রক্তক্ষরণ নিজের হৃদয়ে টের পেয়েছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এসএমপির এডিসি জ্যোতির্ময় সরকার। নিজেই নিজের সামনে এ রহস্যের শেষ দেখার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সফলও হন।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মির্জা আতিক হত্যার দায় স্বীকার করে বুধবার আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, মূলত ছিনতাইয়ে বাধা প্রধান করায়ই মাহিদকে হত্যা করা হয়েছে। দুটো মোটরসাইকেলে করে তারা চারজন মাহিদের পথ রোধ করে। তারপর মাহিদের কাছ থেকে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে থাকে। মাহিদ তাদের বাধা দেন। তখনই ছুরির আঘাতে থামিয়ে দেয়া হয় তাকে। পরে ছিনতাইকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ছিনতাই কাজে জড়িত চারজনকে আসামি করেই মামলা হয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানায়। মামলায় আসামি করা হয় ৪ জনকে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নাহিদ, রিপন, রাসেলের পর মামলার অপর আসামি ভার্থখলার শাকিল আহমদের সন্ধানে রয়েছে পুলিশ। সেই মূল ঘাতক বলে জানা গেছে। শিগগিরই তারও নাগাল মিলবে বলে পুলিশের আশা।
এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার রহস্য উদ্ঘাটনের পেছনে নিজের একক কৃতিত্ব মানতে চান না। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এটা টিমওয়ার্ক। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায়ই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

গাজায় গণহত্যা; নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক, তদন্ত চান গুতেরেস

‘ফিলিস্তিনি ভূমি দিবস’ উপলক্ষে গাজাবাসীর অবস্থান কর্মসূচিতে ইসরাইলের হামলা
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নাগরিকদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইল গতকাল (শুক্রবার) যে গণহত্যা চালিয়েছে সে বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গাজার গণহত্যার বিষয়টি স্বাধীনভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল ‘ফিলিস্তিনি ভূমি দিবস’ উপলক্ষে ইসরাইল সীমান্তে গাজার অধিবাসীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ওই কর্মসূচি বানচাল করতে ইসরাইল ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত ও ১,৫০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গাজা পরিস্থিতিতে কুয়েতের অনুরোধে গতকাল নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মানসুর আল-ওতাইবি গাজা পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলে মন্তব্য করেন। 
ভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ-মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি মোকাবেলায় ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা সীমান্তে ট্যাংক এবং অন্তত ১০০ স্নাইপার মোতায়েন করে। এসব সেনাকে তাজা গুলি ও হত্যাকাণ্ড চালানোর মতো যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কর্তৃত্ব দেয়া হয়।
গতকালের বৈঠকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেছেন, তিনি আশা করেন গাজার অধিবাসীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-কর্মসূচিতে ইসরাইল যে ঘৃণ্য গণহত্যা চালিয়েছে সে বিষয়ে জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালন করবে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে উৎকণ্ঠিত বিএনপি by কাফি কামাল

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বিএনপি। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে চিন্তিত বিএনপি নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করছেন খালেদা জিয়া। হাঁটু ও পিঠের ব্যথা বেড়েছে তার। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল কারাগারে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, ‘কারা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়া কারা কর্তৃৃপক্ষকে বলেছেন তিনি অসুস্থতা অনুভব করেছিলেন। এরপর সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।’ খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎটি বাতিল করে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা কারাবিধি মেনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে কারাগারে খালেদা জিয়ার নিয়মিত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান জানান, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছেন।’ সবমিলিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি ধোঁয়াশা। প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের মহাসচিবকে দেখা করতে না দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানামুখী আশঙ্কা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি চেয়েছেন দলটির মহাসচিব। এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা গোপনের অভিযোগ আনেন তার আইনজীবীরা। বুধবার দুপুরে বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হয়ে আইনজীবীরা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। তাঁর সুচিকিৎসা প্রয়োজন। দলটির মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টিকে আমরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছি না। অন্যান্য স্বৈরাচাররা যেভাবে প্রতিপক্ষকে অপসারণ করার চেষ্টা করে, সেই ধরনের অপসারণ করার চেষ্টা এখানে হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করি। ওদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যখন চারদিকে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে তখন গতকাল পরিবারের কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী, তাদের দুই সন্তান ও জিয়া পরিবারের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমানসহ ৬ জন কারাগারে যান। সাক্ষাৎ শেষে পৌনে ছয়টার তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। তবে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বা অন্য কোনো বিষয়ে তারা গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। ব্যথার কারণে জ্বরও এসেছিল। বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের অধীনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। রয়েছেন একজন ডিপ্লোমা নার্সও। কারা সূত্র জানায়, ২৮শে মার্চ অসুস্থতাজনিত কারণেই খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে খালেদাকে দেখতে কারাগারে যান ঢাকার সিভিল সার্জন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেন। সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে খালেদা জিয়া কথাবার্তাও বলেছেন অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। কারাগারে খালেদা জিয়ার নিয়মিত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার বয়স ৭৩ বছর। এই বয়সে তো কিছু সমস্যা থাকেই। এ ছাড়া আগে থেকেই তিনি ব্যাক পেইন, হাঁটুতে ব্যথা ও আর্থাইটিসে ভুগছেন। সেই সমস্যাগুলোর কারণে মাঝেমধ্যেই শরীর খারাপ হতে পারে। কিন্তু যেমন বলা হচ্ছে, তেমন কোনো অসুস্থতা নেই। আমরা সার্বক্ষণিক তাঁর খবর রাখছি। আমি আজও দেখে এসেছি। খালেদা জিয়ার বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল ইকবাল হাসান মানবজমিনকে জানান, খালেদা জিয়া আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এসব সমস্যা একটু বেড়ে গিয়েছিল। যে কারণে তিনি অসুস্থবোধ করছিলেন। এখন তিনি সুস্থ আছেন। কারা বিধি অনুসারে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার পিঠ, হাঁটুতে ব্যথা বেড়েছিল। দীর্ঘদিন থেকেই তিনি আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বুধবারই মহাসচিব মির্জা আলমগীরের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন বিএনপি চেয়ারপারসন শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করছেন জানিয়ে পরদিন দেখা করার কথা বলেন কারা কর্তৃপক্ষ। পরে বৃহস্পতিবার তিনটার দিকে নির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য মহাসচিব কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে চেয়ারপারসনের একান্ত সচিবের মাধ্যমে কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন সাক্ষাৎ হবে না। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছি। প্রকৃত অবস্থা কিছুই জানি না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বুধবার আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তার অসুস্থতার কথা বলে তাকে আদালতে হাজির করেনি কারাকর্তৃপক্ষ। তারই প্রেক্ষিতে ম্যাডামের চার জন ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় নিয়মরীতি মেনে তার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। নির্ধারিত সাক্ষাতের কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, সার্বিক বিষয়ে দলের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমরা প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে জামিন চাই। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শ ও তার নিজের মতামতের ওপর নির্ভর করেই কোথায় চিকিৎসা নেবেন সেটা দেখা যাবে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের ধারণা ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তিনি জামিন পাবেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পরপর উন্নত চিকিৎসার নামে সরকার তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে পারে- এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। বিএনপি নেতাদের মধ্যেও এমন একটি আশঙ্কা ছিল। বিএনপি নেতারা জানান, সরকার মনে করেছিল খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে ফেলা যাবে। অন্যদিকে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে ভাঙন ধরানো যাবে। কিন্তুকারাগারে পাঠানোর পর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার পারদ দিনদিন ঊর্ধ্বমুখী। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যও এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি মজবুত। ফলে দলে ভাঙন ধরানো ও খালেদা জিয়ার ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে সরকারের কৌশল কাজে আসেনি। নেতারা জানান, খালেদা জিয়া এমনিতে বয়স্ক, তার ওপর তিনি অতীতে হাঁটুর অপারেশনসহ বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে তার অসুস্থতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি, নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিএনপিকে অন্ধকারে রেখে উন্নত চিকিৎসার নামে তাকে বিদেশ পাঠানোর অপকৌশলটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। গত কয়েকদিনে সে আশঙ্কাটিই আবার সামনে নিয়ে এসেছে সরকার। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা কয়েকবার কারাগারে গেলেও কারাফটক থেকে তাদের ফেরত আসতে হয়। কারা কর্মকর্তারা তাদের বলেন, প্রয়োজন হলে তারাই খবর দেবেন। যেখানে অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি, মহাসচিবের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করা হয়েছে, সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
সরকারকে সন্দেহ বিএনপির
এদিকে কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ সন্দেহ প্রকাশ করেন। মির্জা আলমগীর বলেন, কারাগারে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টিকে আমরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছি না। অন্য স্বৈরাচাররা যেভাবে প্রতিপক্ষকে অপসারণ করার চেষ্টা করে, সেই ধরনের অপসারণ করার চেষ্টা এখানে হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত। সেজন্য অতি দ্রুত তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। মির্জা আলমগীর বলেন, কারাগারে যে পরিবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে, তা তার প্রাপ্য নয়। খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে একটি পরিত্যক্ত, জীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে ভবনে আটক রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনো বন্দি নেই। তাঁর প্রতি ন্যূনতম সৌজন্যবোধ না দেখিয়ে জেলে নেয়ার প্রথম তিন দিন তাঁকে কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। এখন যে ডিভিশন দেয়া হচ্ছে সেখানেও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাতে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা অবনতির দিতে যাচ্ছে বলেই আমরা আশঙ্কা করছি। তার যে খাবারটা দেয়া হয় সেটা সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয় কিনা আমরা বলতে পারি না। সরকারের উচিত বিষয়টা খোলাসা করা। আমরা অবিলম্বে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সংবাদ চাই। অবিলম্বে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে দেশনেত্রী নিরাপদ নন। তার কারারুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হওয়াটাকে কোনো মতেই আমরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না। মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে- অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পবরর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছেই। এই সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করছে এবং সর্বশেষ কারারুদ্ধ করেছে। এখন জামিন ঠেকাতে চেষ্টা করছে। যেভাবেই হোক, তাঁকে কারারুদ্ধ করে রাখার জন্য প্রতিটি বিষয়কে বিলম্বিত করা হচ্ছে। কারামুক্তিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য একটাই, বিরোধী দলকে স্তব্ধ করে দেয়া এবং দেশের জনপ্রিয় নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। নীল নকশার একদলীয় শাসনব্যবস্থা তারা নিরঙ্কুশ করতে চায়। আজকে বিশ্বে স্বীকৃত হয়েছে, বাংলাদেশে একটা স্বৈরাচার সরকার রয়েছে। মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি- এখন তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। যাতে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেশে হোক বিদেশে হোক আমরা করতে পারি। যেহেতু খালেদা জিয়া এর আগে দেশের বাইরেও চিকিৎসা করিয়েছেন, সেহেতু মুক্তি পেলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্যারোলে মুক্তির কথা বলিনি। আমরা বলেছি তাকে মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি তো তার প্রাপ্য। উনার জামিন হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এখন তাকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। মুক্তি পেয়ে তিনি দেশে হোক, বিদেশে হোক চিকিৎসা নেবেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আবার সাক্ষাৎ চাইব। কিন্তু তারা এখন কাউকে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছেন না। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। তারপর থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মামুন আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

সবই বদলায় কেবল ভোটের চেহারা বদলায় না

কেন্দ্র দখল। জাল ভোট। ব্যালক বাক্স ছিনতাই। গুলি। লাশ। সেই একই ছবি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই চলে  আসছে তা। তত্ত্বাবধায়ক শাসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর চিত্র হয়তো কিছুটা আলাদা ছিলো। তবে রক্তের দাগ আছে ওই সব নির্বাচনের ব্যালটেও। জোর যার ভোট তার-বহু এলাকাতে সে সময়ও এমন চিত্র দেখা গেছে। দুনিয়া অনেক বদলে গেছে। রাষ্ট্রের চেহারাও পালটে গেছে। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। জনগণের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক বদল হয়েছে অনেক। কিন্তু ভোটের চেহারার কোন বদল হয়নি।
বৃহস্পতিবার দেশের ১৩৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের চিত্র এরইমধ্যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। পুরোটা অবশ্য পত্রিকায় আসেনি। এ নির্বাচনে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে প্রাণ গেছে একজনের। পুলিশসহ আহত হয়েছেন অনেকে। যথারীতি কেন্দ্র দখল আর ব্যালক পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। জাল ভোটতো এখন ডাল-ভাত। বহু জায়গায় বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঝপথে ভোট বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে অনেক। কোথাও যে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়নি তা নয়। কোন কোন এলাকার চিত্র মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিলো। কোথাও কোথাও ভোট হয়েছে গোলযোগ ছাড়া। কিন্তু মোটাদাগে জোর-জবর দস্তির আরেকটি স্থানীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশের মানুষ।
ভোটের এই হাঙ্গামার চিত্র অবশ্য বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় থাকার সময়কার নয়। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক ভোটের ছবি ওই একটাই। রাতের বেলাতেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী প্রার্থীরা। চলে ভোটের কেনা-বেচা। ইদানীং অবশ্য সকাল সকাল ব্যালট পেপার ছিনতাইয়েরও চল হয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পেছনে ব্যালট পেপারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিলো। ’৭০ এর নির্বাচনে এ অঞ্চলের জনগণ নিরঙ্কুশভাবে বঙ্গবন্ধুকে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। ওই নির্বাচনে মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্রের মৃত্যুই ঘোষণা করা হয়েছিলো।
স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিলো বিতর্কিত। সামরিক শাসনামলে নির্বাচনের নামে নানা তামাশা হয়েছে। ‘হ্যাঁ,’ ‘না’ ভোটের নাটকও দেখেছে এদেশের মানুষ। এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ছিল মোটামুটি বিতর্ক মুক্ত। সে নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ওই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার আর উপ-নির্বাচনগুলোতে দেখা যায় সে একই দৃশ্য। জোর জবরদস্তি আর সহিংসতার নির্বাচন। মাগুরার উপ-নির্বাচনের জাল-জালিয়াতিতো সে সময়কার সব রেকর্ডই ভেঙে দিয়েছিল। এরই ধারবাহিকতায় যেন অনুষ্ঠিত হয় ১৫ই ফেব্রুয়ারির ভোট। ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও ছিল একই দৃশ্য পুনরায় মঞ্চায়ন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ছিল মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। এর একটিতে বিএনপি এবং দু’টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। পরাজিত পক্ষ এসব নির্বাচন নিয়ে টুকটাক প্রশ্ন তুললেও আন্তর্জাতিক মহল এবং সাধারণভাবে জনগণ এসব নির্বাচনকে গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় নির্বাচনে বারবারই হাঙ্গামার একই দৃশ্য দেখা গেছে। আগে স্থানীয় নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীক ছাড়াই হতো। কিন্তু কয় বছর ধরে দলীয় প্রতীকে এসব নির্বাচন হচ্ছে। ধারণা করা হয়েছিলো, দলীয় প্রতীক বিশেষ করে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের কোন্দল নিরসনে ভূমিকা রাখবে। আখেরে অবশ্য তাতে তেমন কোনো লাভ হয়নি। বহু জায়গাতেই প্রতীকের বাইরে সরকারি দলের অনেক নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। যেখানে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী ছিলেন সেসব এলাকায় সহিংসতার মাত্রা বরাবরই বেশি ছিলো। স্থানীয় প্রশাসনকেও নানা ঝক্কি-ঝামেলা মোকাবিলা করতে হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু কিছুরই ইতিবাচক বদল হয়েছে। কিন্তু ভোটের চেহারার তেমন কোনো বদল হয়নি। বদল যতটুকু হয়েছে তা আরো খারাপ পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।

আসানসোলে ছেলে হারানোর পরও ইমামের শান্তির ডাক

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে অনুপম নজির স্থাপন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের একটি মসজিদের ইমাম। সেখানে রাম নবমী নিয়ে চলা সহিংসতায় ইমাম মাওলানা ইমাদুল রশিদির ১৬ বছর বয়সী কিশোর ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু মাওলানা রশিদি প্রতিশোধ স্পৃহার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। বরং, ছেলের জানাযায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আপনারা যদি আমার ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে আমি এই মসজিদ ও শহর ছেড়ে চলে যাব। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার শহরের রেলপাড় এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলার পর ইমাদুল রশিদির ছেলে সিবতুল্লাহ রশিদিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বুধবার রাতে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই মৃতদেহ সিবতুল্লাহ রশিদির।
সন্দেহ করা হচ্ছে, দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী সিবতুল্লাহ রশিদিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাওলানা রশিদি বলেন, ‘আমার ছেলেকে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে যায়। আমার বড় ছেলে তখন পুলিশকে বিষয়টি জানায়। কিন্তু তাকে পুলিশ স্টেশনে বসিয়ে রাখা হয়। পরে আমরা জানতে পারি যে, পুলিশ একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।’
বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে সিবতুল্লাহ রশিদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমাম রশিদি শান্তির ডাক দেন। তিনি বলেন, ‘আমি শান্তি চাই। আমার ছেলে চলে গেছে। আমি চাই না আর কোনো পরিবার তাদের প্রিয় কাউকে হারাক। আমি চাই না আর কোনো ঘর পুড়ে ছারখার হোক।’ তিনি পরে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমি জানাযায় উপস্থিত সবাইকে বলেছি, আমার ছেলে হত্যার জন্য কেউ যদি কোনো ধরনের প্রতিশোধ নিতে যায়, আমি আসানসোল ছেড়ে চলে যাবো। আমি তাদের বলেছি যে, আপনারা যদি আমাকে ভালোবাসেন, তাহলে কেউ একটা আঙুলও তুলবেন না।’
ইমাম রশিদি বলেন, জনগণের উদ্দেশ্যে শান্তির বার্তা দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, ‘আসানসোলের মানুষ এমন নয়; এটা একটা ষড়যন্ত্র।’
আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, সিবতুল্লাহ রশিদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মুসলমান যুবকরা উত্তেজিত ছিল। তাদেরকে শান্ত করতে ইমাম সাহেবের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইমাম সাহেবকে নিয়ে গর্বিত। নিজের ছেলে হারানোর যন্ত্রণায় দগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, তিনি শান্তির ডাক দিয়েছেন।’
আসানসোলের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাসিম আনসারি বলেন, ‘এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই নয়, পুরো দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’ তার ভাষ্য, ‘ইমাম রশিদি এই এলাকায় জনপ্রিয়। তিনি যদি শান্তি ডাক না দিতেন, তাহলে আসানসোলে আগুন জ্বলতো।’
বৃহস্পতিবার হিন্দুত্ববাদী শাসক দল বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে সহিংসতা উপদ্রুত আসানসোলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। রাম নবমীর একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ধর্মীয় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আসানসোলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক হওয়া বাবুল সুপ্রিয়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তালিকাভুক্তও করেছে স্থানীয় পুলিশ। বিজেপি নেতা লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অন্যদেরকেও আসানসোলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। এ সময় বিজেপি কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সশস্ত্র কমব্যাট বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।
সোমবার থেকে আসানসোল-রানীগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ তখন থেকেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বুধবার পশ্চিম বঙ্গ সরকারের কাছ থেকে এ নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সিলেটে বেপরোয়া ছিনতাই সিন্ডিকেট by ওয়েছ খছরু

সিলেটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিদিনই সিলেটের কোথাও না কোথাও ছিনতাই হচ্ছে। আবার ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ যাচ্ছে মানুষেরও। বিশেষ করে রাতের বেলা ছিনতাইয়ের ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। এতে করে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেমে এসেছে। তবে পুলিশ বলছে- সিলেটে যাতে রাতের বেলা ছিনতাই না বাড়ে সে কারণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আর শাবির সাবেক ছাত্র মাহিদ খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই প্রকৃত আসামিরা গ্রেপ্তার হবে। ছিনতাইয়ের চিহ্নিত আস্তানা সিলেটের দক্ষিণ সুরমা। পাশাপাশি উত্তর এলাকার বেশ কয়েকটি স্পটও ছিনতাই জোনে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ সুরমায় ছিনতাইয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ে ভোরবেলা। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন সহ নগরীর প্রবেশ মুখ দক্ষিণ সুরমা। যারা বাইরে থেকে সিলেটে আসেন তাদের বেশির ভাগ যাত্রীই ভোরবেলা এসে গাড়িযোগে সিলেটের কদমতলী ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নামেন। সেখান থেকে রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশাযোগে গন্তব্যে যান। কিন্তু দক্ষিণ সুরমায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে যাত্রীরা। দক্ষিণ সুরমা কদমতলী। নতুন ব্রিজের মুখ। গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও ঢাকা বাইপাস সড়কের জংশন এটি। কদমতলী এলাকায় ছিনতাইয়ের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ২০ জনের ছিনতাই গ্রুপ। ওই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় মাদকসেবীরা ও এক পুলিশের সোর্স। গাড়ি থেকে যাত্রী নেমে নতুন ব্রিজ হয়ে একটু দূরে গেলেই তাদের জাপটে ধরা হয়। ফাঁকা রাস্তা থাকায় নির্বিঘ্নে যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এরপর তারা ব্রিজের নিচ দিয়ে কলোনিতে চলে যায়। নতুন ব্রিজের উত্তর অংশে মেন্দিবাগ ও উপ-শহরের গলির মুখে রয়েছে আরেকটি ছিনতাই চক্র। ওদের হাতে বিশেষ করে বাস টার্মিনাল এলাকায় আগত যাত্রীরা ছিনতাইয়ের শিকার হন। দক্ষিণ সুরমার কদমতলী পয়েন্টে রয়েছে আরো একটি চক্র। ওই চক্র পাম্প ও বিভিন্ন মার্কেটের কর্ণারে অবস্থান করে। পাশে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তারা নির্বিঘ্নে ছিনতাই করে চলে যায়। তেমন ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার ভোররাতে। রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদ ঢাকা যাওয়ার পথে কদমতলীতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়। ওখানে মাহিদের ঊরুতে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব ছিনতাই করা হয়। আর গুরুতর অবস্থায় মাহিদকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এখন সিলেট। মাহিদের খুনিদের গ্রেপ্তারে সিলেট পুলিশের ঘুম হারাম। কিন্তু গতকাল বিকাল পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা হচ্ছে ছিনতাইকারীদের বড় আস্তানা। ওই টার্মিনাল এলাকার পেছনের কয়েকটি কলোনিতেই ছিনতাইকারীদের আস্তানা। এসব আস্তানা থেকে তারা ছিনতাই পরিচালনা করে। আর ছিনতাই করার পর তারা ওইসব কলোনিতে আশ্রয় নেয়। ভোরবেলা যাত্রীরা দূর-দূরান্ত থেকে নামলে তাদের ব্যাগ টেনে নেয়া সহ নানা ঘটনা ঘটে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। গাড়ির চালকরা জানিয়েছেন প্রায় প্রতিদিনই ২-৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে টার্মিনাল এলাকায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না। কখনো কখনো পুলিশের সামনেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের গলির সামনে রয়েছে ঝাপটাপার্টির দৌরাত্ম্য। ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে রেলের যাত্রীরা ভোরে এসে সিলেটে নামেন। রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার সময় গাড়ি থেকে ঝাপটা দিয়ে ব্যাগ, মোবাইল ছিনতাই করা হয়। আর ছিনতাই করে তারা রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে থাকা কলোনির দিকে চলে যায়। এর বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কীন ব্রিজের মুখ পর্যন্ত মাদকসেবীদের একটি ছিনতাই সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা বিভিন্ন টং দোকানের আড়ালে কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। নিরিবিলি অবস্থায় যাত্রী পেলেই ঝাপটে সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়। দক্ষিণ সুরমার এসব ছিনতাইকারীদের বাস বিভিন্ন কলোনিতে। ওই কলোনিতে মাদক ও অসামাজিক কাজের আখড়া। নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়রা। তারা নিয়মিত ফাঁড়ি পুলিশকে বখরা দেয় বলে পুলিশ ছিনতাই রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। সিলেটের কীন ব্রিজের সুরমা মার্কেট এলাকায় ছিনতাই পার্টি। পাশাপাশি ঝাপটা পার্টির দৌরাত্ম্যও বেশি। রাত নামলেই ছিনতাইকারীরা নেমে পড়ে রাস্তায়। আর দিনে ওরা ঝাপটা পার্টি হয়ে কাজ করে। ছিনতাই করে কখনো কখনো তারা কীন ব্রিজের নিচ দিয়ে পালিয়ে যায়। একটি গ্রুপের প্রধান আস্তানা সুরমা মার্কেটের ভেতরেই। ওই মার্কেটের ভেতরে তাদের আস্তানা রয়েছে। ছিনতাই করার মালামাল নিয়ে রাখা হয় ওখানে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পুলিশ সহ তাদের সম্পর্কে অবগত থাকলেও কখনোই ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করা হয় না। এর বাইরে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, আম্বরখানা, জিন্দাবাজার গার্লস স্কুলের সামন, ধোপাদিঘীরপাড়, সুবহানীঘাট, উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, চৌহাট্টা, মেডিকেল, রিকাবীবাজার, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট ও বিশ্ববিদ্যালয় ফটক এলাকায় রয়েছে ছিনতাই পার্টি। সিলেটে ছিনতাইকারীদের হাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন প্রতিদিনই বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কেউ না কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জালালাবাদ থানার পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এমনকি শহরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ছিনতাই বন্ধে তারা কয়েক মাস আগে পুলিশের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিলেট পুলিশের সোর্সদের শেল্টারে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মহানগর পুলিশ থেকে কয়েক মাস আগে একটি ছিনতাইয়ের তালিকা করা হয়েছিল। ওই তালিকা ছিল দুর্ধর্ষ থেকে ছিঁচকে ছিনতাইকারীরাও। রয়েছে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রও। তালিকা পুলিশের কাছে থাকলেও ছিনতাই বন্ধে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের তেমন গরজ নেই। খোদ ফাঁড়ি পুলিশের অনেক সদস্যই ছিনতাইকারীদের শেল্টারে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে প্রায় সময়। এদিকে মাহিদ খুনের ঘটনায় পুলিশ সক্রিয় থাকলেও এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন রাতে নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়ে এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা গণধোলাই দেয়। গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে ওই ছিনতাইকারী পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বেনু চন্দ চন্দ্র। তিনি গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ওই ছিনতাইকারী আহত অবস্থায় পালিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতালে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, ছিনতাই রোধে সিলেটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ। মাহিদ খুনের ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সুখবর মিলবে বলে জানান তিনি।

চার বন্ধুর ছিনতাই মিশনে খুন হয় মাহিদ by ওয়েছ খছরু

চার বন্ধুর ছিনতাই মিশনে খুন হয়েছে সিলেটের মাহিদ  আল সালাম। রিকশায় যাচ্ছিলো মাহিদ। এ সময় চায়ের দোকানে বসা তারা চারজন। মাহিদকে দেখেই তারা মোটরসাইকেল স্টার্ট দেয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা মাহিদকে ঘিরে ফেলে। এরপর মাহিদের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনতাইকালে তারা উরুতে ছুরিকাঘাত করে। এতে মাটিতে লুটে পড়ে মাহিদ। আর সব কিছু নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চার ছিনতাইকারী। সিলেটে আলোচিত মাহিদ খুন ও ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য খোলাসা করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে পুলিশ চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া মীর্জা আতিক নামের এক ছিনতাইকারী আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আর গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া রাসেলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এর আগে পুলিশ বুধবার খুন ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত রিপনকেও তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ সূত্র জানায়, কাজী আতিক খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এবং তার অপর তিন সহযোগীর নামও বলে। খুনের ঘটনাকালীন সময়েরও বিবরণ দেয় কাজী আতিক। ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ার কারণেই এ খুন তা পরিস্কার। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মাহিদ আল সালাম খুনের ঘটনায় জড়িত দক্ষিণ সুরমার বারোখলা গ্রামের রাসেলকে গতকাল ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেলকে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ সিদ্দিকীর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চায়। আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এখন তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি জানান, খুনিদের মোটরসাইকেলসহ মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মাহিদ আল সালাম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক ছাত্র। তার পিতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম একজন নামকরা আইনজীবী ছিলেন। নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় তাদের বাসা। মাহিদ গত রোববার রাতে ব্যাংকের চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য নিজ বাসা থেকে বের হয়। রাত ১টার দিকে সে ক্বীন ব্রিজ এলাকা পাড়ি দেয়। এরপর রাত ৩টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাহিদকে কদমতলী এলাকায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেট। খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে শাবির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। কাফনের কাপড় পরে তারা রাস্তা অবরোধ করে। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পুলিশ অভিযান শুরু করে। বুধবার ভোররাতে পুলিশ নগরীর মির্জা আতিক ও রিপনকে গ্রেপ্তার করে। মির্জা আতিক সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ভার্তখলা ৬১নং বাসার মির্জা মকবুলের ছেলে। তায়েফ আহমদ রিপন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস আলীর ছেলে। বর্তমানে সে নগরীর কাজিরবাজার পুলিশ স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। এদিকে মির্জা আতিক আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে, গত রোববার রাতে আতিক, রিপনসহ চার ছিনতাইকারী ক্বীনব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে ফুয়াদ রেস্টুরেন্টে বসেছিল। এ সময় রিকশাযোগে একটি ছেলেকে মোবাইলে কথা বলে আসতে দেখে তারা। দুই মোটরসাইকেলে তারা চারজন রিকশার গতিরোধ করে। ছিনতাইকালে বাধা দেয়ায় মাহিদের উরুতে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চার ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের চাচা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল বাদী হয়ে আতিক, রিপনসহ চারজনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে তারা ছিনতাই করতে গিয়ে মাহিদকে হত্যার বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় মির্জা আতিক আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও তায়েফ আহমদ রিপন স্বীকার না করায় তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওদের পরিবারের স্বপ্ন চুরমার by ফরিদউদ্দিন আহমেদ

তাদের ঘিরে পরিবারগুলোর অনেক স্বপ্ন ছিল। অথচ সব স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। তৌহিদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার ছিলেন নিম্নবিত্ত পরিবারের একমাত্র ভরসা। তারাই ছিলেন পরিবারের আলো। তাদের ঘিরেই পরিবারগুলো শূন্যতার মাঝে পূর্ণতার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সব আশা আর পূর্ণতার প্রত্যাশা মিশে গিয়েছে হতাশার বালুচরে। স্বজনদের চোখে-মুখে এখন শুধু দীর্ঘঃশ্বাস। নিজেদের অসহায় নিম্নবিত্ত পরিবারের হাল ধরার আশায় গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েটে ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কয়ার ফ্যাশন কারখানায় শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তারা। প্রত্যাশা ছিল একমাস পর বস্ত্র প্রকৌশলের স্বীকৃতি নিয়ে বের হবেন। একমাসের জন্য ওই পোশাক কারখানার পাশে মাস্টারবাড়ী এলাকার ছয়তলা ভবনের তিনতলায় চার বন্ধু মিলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। গত ২৪শে মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় ওই ভবনের তৃতীয় তলায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হন কুয়েট ছাত্র শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার। একই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান আরেক সহপাঠী তৌহিদুল ইসলাম। বাকি তিনজনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তারাও একে একে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের তিন মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হন গত রোববার। তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রহর গুণছিলেন গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে। এদিকে রাতদিন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে টাকা, রক্ত ও ওষুধসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করেও তিন বন্ধু হাফিজ, দীপ্ত ও শাহিনের কাউকে বাঁচানো গেল না। ২০ থেকে ২৫ জন বন্ধু সর্বদা তাদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও বন্ধুদের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে ওরা এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলেন গেলেন। টানা চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাতে মারা যান শাহিন মিয়া। এরপর মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন অপর দুজনও। হাফিজ বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টায় ও গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় দিকে দীপ্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাদের স্মৃতিচারণ করে বন্ধু সাফোয়ান বলেন, তারা ছিল অত্যন্ত মেধাবী। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা দশের তালিকায়। এমনকি পড়াশোনার বাইরেও তাদের আচরণ ছিল মনে রাখার মতো। সবার সঙ্গে প্রাণ খুলে মিশতো। তাদের আরেক বন্ধু বলেন, আমাদের সব চেষ্টা যেন বৃথা হয়ে গেল। তাদের পরিবারের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। অনেকে সাহায্য- সহযোগিতা করেছে। তাতেও তারা ফিরে আসেনি। তাদের ঘিরে পরিবারগুলোর অনেক স্বপ্ন ছিল। অথচ সব স্বপ্ন বাড়িওয়ালার ভুলে দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, বন্ধুরা তো বাঁচেনি। কিন্তু তাদের পরিবারগুলোকে তো বাঁচাতে হবে। এ ঘটনায় পুলিশ বাড়িওয়ালাকে আসামি করে মামলা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে বলে জেনেছি। তবে আমাদের একটাই দাবি- তাদের ক্ষতিপূরণ যেন অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত পায়, সে ব্যবস্থা যেন হয়। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামব। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রোববার থেকে কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিলসহ চারজন শিক্ষক ঢামেকে অবস্থান করেন। ওই ঘটনায় নিহত মো. তৌহিদুল ইসলাম অপুর গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শাহাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা গ্রামে। দীপ্ত সরকারের বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দীঘল গ্রামে। তার বাবা নেই। মো. শাহীন মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামে। তারও বাবা বেঁচে নেই। মো. হাফিজুর রহমান নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার বান্দিপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তাদের সবার বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তারা প্রায় সবাই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ নাঈম হাসান মানবজমিনকে বলেন, তাদের প্রত্যেকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদের দুটি বাসে করে এবং ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে নিহতদের বাড়িতে গেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হবে এবং পুলিশও মামলা করেছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড থেকেও কিছু সহায়তা করা হয় তাদের। কিন্তু তারা তো বেঁচে নেই। এই টাকাগুলো হয়তো তাদের পরিবারকে দেয়া হবে। কারণ, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ বলে এই শিক্ষক মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, শুরু থেকেই তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। শাহিনের ৮৩ শতাংশ, দীপ্তের ৫৪ এবং হাফিজের ৫৮ শতাংশ বার্ন হয়েছিল। তাদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল। এ ধরনের রোগীকে বাঁচানো খুবই ক্রিটিক্যাল। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা চলে গেল।