Friday, March 30, 2018

অর্থ চুরির চেষ্টা: নস্যাৎ করেছে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ভুয়া ‘সুইফট মেসেজ’ পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে  অর্থ স্থানান্তরের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে মালেশিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেগারা মালেশিয়া (বিএনএম) বলেছে, মঙ্গলবার সাইবার হামলার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ লুট করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়ে যায়। নস্যাৎ করে দেয়া হয় সাইবার হামলাকারীদের প্রচেষ্টা। এতে ব্যাংক কোনো আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধটি সুইফটের গ্লোবাল পেমেন্টস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসেছিল কি না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেনি ব্যাংক নেগারা। সুইফটের ওই ভুয়া মেসেজের বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাইবার হামলার পর সুইফট, অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে  সব অননুমোদিত অর্থ স্থানান্তর আটকে দেয়া হয়।
কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাইবার হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হামলা চালিয়ে প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার লুট করে নেয়। তখন আন্তর্জাতিক অর্থ হস্তান্তরের মাধ্যম ‘সুইফট’ ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা পাঠিয়েছিল হ্যাকাররা। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার একটি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ রুবেল (রুশ মুদ্রা) লুট করে হ্যাকাররা। এতেও ভুয়া ‘সুইফট মেসেজের’ ব্যবহার করা হয়।
মালেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাইবার আক্রমণের কারণে তাদের অন্য আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। এছাড়া অংশীদারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদের সহায়তায় সাইবার হামলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ব্যাংক নেগারা।

মোবাইল কি আপনার পেছনে গোয়েন্দাগিরি করছে?

যখন আমরা বিনামূল্যের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করি আর সেটিতে নানা শর্তে সম্মতি দেই, তখন কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি যে, এসব অ্যাপ আমাদের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানতে পারছে? কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেক শর্ত আসে বা সম্মতি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো না পড়েই সবাই ‘ওকে’ করে দেন। তার মানে সেই অ্যাপটিকে ফোনের অনেক তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হলো। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আমরা কি কথা বলি বা কি বার্তা পাঠাই, পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর, মোবাইলের ছবি বা ভিডিও এমনকি আমাদের আর্থিক তথ্যও।
মূলত বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকে। হয়তো কোনো সামপ্রতিক মেডিকেল টেস্টের তথ্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়, যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে। অথবা সামপ্রতিক কোনো বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে   যাবে  বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে। তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন, এরকম একজন ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলছেন, “এখন বিশ্বে কোনো কিছুই ফ্রি নেই। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের, পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন।”
ভাকুল শর্মা বলছেন, “ফোনের এসব তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল  তৈরি করছে। যার ফলে তার পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য প্রস্তাব করা যায়।” বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কোম্পানি থেকে তথ্য কেনে। তারপর গ্রাহক অনুযায়ী, তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অফার করা হয়।
ধরা যাক আপনি হয়তো ইলেকট্রনিক পণ্য পছন্দ করেন, তখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনার কাছে অফার আসবে। অথবা আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন, তখন বিভিন্ন ট্রাভেল কোম্পানি বা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নানা আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেতে থাকবেন। ভাকুল শর্মা বলছেন, যখন আমরা মোবাইলে একা কাজ করি, ফেসবুক বা টুইটারে লিখি, তখন আসলে আমরা নিজেদের মতো করেই সেখানে কাজ করি। ফলে সেখানে প্রত্যেকের একেবারে নিজস্ব চরিত্রের ছাপ থেকে যায়। আর এর ফলে আমাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়ে যায় এসব অ্যাপস। আর ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এলগরিদমও ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভারতের মতো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখনো এসব ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষার জন্য আইন তৈরি হয়নি। কেউ জানেনও না এসব তথ্য কোথায়, কার কাছে, কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারতে এখন এ ধরনের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইন করার দাবি উঠছে। অনেকে বলছেন, যেহেতু এসব কোম্পানি সাধারণ নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে, এসব টাকার ভাগ এই নাগরিকদেরও পাওয়া উচিত। তবে এর সবচেয়ে বড় সমাধান হলো, যখনই কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা হবে, তখনই খুব ভালো করে দেখে নেয়া যে, সেটি ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কতটা নাক গলাতে চায়। আপনি এসব অ্যাপকে আপনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কতটা অনুমতি দিতে চান, সেটাও আপনার ওপরই নির্ভর করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রীতরাজ সিং বলছেন, “মোবাইল, অ্যাপ বা ইন্টারনেটে আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যত কম তথ্য দেবেন, তত নিরাপদ থাকবেন। কারণ আমাদের কারো জানা নেই, আজ থেকে ১০/২০ বছর পরে এসব তথ্যের কি হবে।”
সূত্র: বিবিসি

ভূমি দিবসের বিক্ষোভে উত্তাল গাজা, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ১০

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভূমি দিবস উপলক্ষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। শুক্রবার গাজার ইসরায়েল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। উত্তাল বিক্ষোভ ও তা দমনে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে গাজা উপত্যকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল আহতের সংখ্যা সহস্রাধিক বলে জানিয়েছে।
১৯৭৬ সাল থেকে বছরের ৩০শে মার্চ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণে ওই বছর থেকেই ভূমি দিবস পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। এবছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে।
দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে এই বিক্ষোভটি প্রতি বছর আয়োজিত হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস আন্দোলনসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কয়েকটি উপদল এ প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম, বিবিসি ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, এবার গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের অন্তত ছয়টি স্থানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বিক্ষোভে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হামাসসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ অংশ নেবে। বিক্ষোভ দমনে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েলও। গাজা সীমান্তে শতাধিক শার্প শুটার (লক্ষ্যভেদ করতে দক্ষ সেনা) মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার।
বিক্ষোভের শুরুর দিন শুক্রবার সকালেই খান ইউনিস শহরে এক ফিলিস্তিনি কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আরকে ব্যক্তি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় আহত হয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিক্ষোভের সময় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সংবাদমাধ্যম।
হামাস পরিচালিত আল-আকসা টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় ওমর ওয়াহিদ সামুর (২৭) নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন জাবিয়া এলাকায়। নিহতের নাম মোহাম্মদ কামাল (২৫) বলে জানিয়েছে গাজার হাসপাতাল সূত্র। তৃতীয় নিহত ফিলিস্তিনির নাম আমিন মাহমুদ মুয়ামার। মান বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, রাফায় সংঘর্ষে মুয়ামার মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত চতুর্থ ফিলিস্তিনির নাম মোহাম্মদ আবু ওমর।

গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দিনের পর দিন দেখিয়ে দিয়েছেন তারা বড় ধরনের কিছু করার জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন। পুরো ফিলিস্তিনকে ফিরে পাওয়ার পদক্ষেপের সূচনা এই মিছিল।
হামাস নেতা জানান, পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ফেরত পাওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের কোনও সমাধান তারা মানবেন না এবং সমঝোতায় রাজি হবেন না। তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ ইসরায়েলি দখল ও অবরোধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণ যে ঐক্যবদ্ধ তা প্রমাণ করেছে। যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক চুক্তি ও সমঝোতা রুখে দাঁড়াবে এই ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনিরা।
বিক্ষোভ দমনে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সীমান্ত বেস্টনির কাছাকাছি এলাকাকে সংরক্ষিত সামরিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এদিকে, পৃথক ঘটনায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে দুজনকে গুলি করেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাবালিয়া, রাফাহ ও গাজা উপত্যকায় গুলিতে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিয়েবারম্যান গাজাবাসীদের প্রতি টুইটারে আরবিতে হুমকি দিয়েছেন এবং হামাসের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। বিক্ষোভের আগে শুক্রবার সকালে তিনি লিখেছেন, গাজার নেতৃত্ব আপনাদের জীবন নিয়ে খেলছে। যারা সীমান্তের কাছাকাছি আসবে তারা জীবনের ঝুঁকি নেবে। আমার পরামর্শ হলো নিজেদের জীবন রক্ষা করুণ এবং উসকানিতে পা দেবেন না।
ফিলিস্তিনিদের ওপর তাজা গুলি করার সরাসরি নিদের্শনা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গাদি আইজেনকোট বলেছেন, আমরা গাজা উপত্যকায় সীমান্তে  নিরাপত্তা জোরদার করছি। যে কোনও ধরনের নাশকতা এড়াতে সেনারা প্রস্তুত থাকবে।’

হামাসের প্রায় এক লাখ সক্রিয় সমর্থক এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।  এরই মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামাস নেতাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে চরম কিছু করা হলে হামাস নেতাদের হত্যা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিচায় আদারি। তিনি বলেন, ‘আমরা নারী ও শিশুদের পেছনে হামাস নেতাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না। প্রয়োজনে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
ইসরায়েলি হুমকির জবাবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা খলিল আল হায়ায় বলেন, ফিলিস্তিনির ইসরায়েলি হুমকিতে ভীত নয়। তারা ইসরায়েলি সীমান্ত লক্ষ্যে পদযাত্রা করবেই।

কাতারে জাল আকামায় কপাল পুড়লো কামালের by আমিনুল ইসলাম লিটন

দিনমজুর ও নিজের অল্প জমিতে খেটেখুটে বেশ ভালোই চলছিলো হতদরিদ্র কামালের। এরপর নিজ গ্রামের আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলুর প্রলোভনে পড়ে বিদেশে পাড়ি জমান কামাল। সেখানে ১০ মাস কোনো কাজ পাননি। এক পর্যায়ে জাল আকামা লাগিয়ে দেন রুহুল আমিন রুলু। ধরা পড়ে বহিষ্কার হন কাতার থেকে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে নিজের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় কামালের। এখন বিদেশে নিয়ে প্রতারণা ও টাকা উদ্ধারের আশায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন কামাল হোসেন। কামাল হোসেন মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, আমি মাঠে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ঘুগরি গ্রামের নবিছুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল গনি বিশ্বাস তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে প্রলুব্ধ করেন। কাতারে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনে কাজ করার  লোভ দেখায় আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু। দক্ষ না হলেও ২০১৭ সালের ১লা মার্চ টেকনিশিয়ান ভিসায় তাকে কাতারে নিয়ে যান রুহুল আমিন। এর আগেই তার শ্যালক আব্দুল গনির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। আরব আমিরাতের জি-৯৮৫৭ নং ফ্লাইটে কাতারে পৌঁছালে বিমানবন্দর থেকে কামালকে নিয়ে যান রুহুল আমিন। কামাল অভিযোগ করেন, সেখানে আমাকে প্রায় ১০ মাস কোনো কাজ দিতে পারেনি রুহুল আমিন। উপরন্তু সে আমাকে জাল আকামা লাগিয়ে দেয়। বিদেশে আমার ওপর দুঃসহ নির্যাতন নেমে আসে। কাজ নেই। খাওয়া নেই। বাধ্য হয়ে আমি বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করে দিন কাটাতে থাকি। জাল আকামা দেখে তারা আমাকে ওই দেশ থেকে বহিষ্কার করে। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে গিয়ে আদম ব্যাপারী রুহুল আমিন রুলু শেষ পর্যন্ত আমাকে কোনো পাত্তায় দিতো না। উপায় না পেয়ে আশ্রয় গ্রহণ করি আমার এলাকার এক ভাই ঘুগরি গ্রামের রসুল বিশ্বাসের ছেলে মফিজ উদ্দিনের কাছে। তিনিও কাতার থাকেন। ২০১৮ সালের ৮ই জানুয়ারি মফিজ ভাইয়ের সহায়তায় আমি দেশে ফিরে আসি।  দেশে ফিরে আমি প্রতারণা, জাল আকামা ও দক্ষ না হলেও টেকনিশিয়ান ভিসা পাঠিয়ে বিদেশে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিকার ও সমুদয় টাকা ফেরতের দাবি জানাতে থাকি গনি বিশ্বাসের কাছে। তিনি আমাকে টাকা ফেরতের আশ্বাসও দেন। এরপর থেকেই আমি ঘুরতে থাকি তার পেছনে। এখন গনি বিশ্বাস টাকা ফেরত তো দূরের কথা, উল্টাপাল্টা হুমকি দিচ্ছে। কামাল আরো জানান, তিনি সুবিচার চেয়ে পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ করবেন। বিষয়টি নিয়ে মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রফিউদ্দিন খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, টাকা উদ্ধারে সামাজিক ভাবে অনেক বার বসা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু টাকা ফেরত দেয়ার নামে তাকে ঘুরাচ্ছে।

গাজা উত্তাল: ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শহীদ ১৩ , আহত ১০০০

ফিলিস্তিনের গাজায় ভূমি দিবসের বিক্ষোভে ইসরাইলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
দখলদার সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে করে নির্বিচারে বন্দুকের গুলি, কামানের গোলা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর গাজায় ১৬ বছর বয়সী আহমাদ ওদে, পূর্ব জাবালিয়ায় ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মাদ কামাল নাজ্জার, রাফায় আমিন মোহাম্মাদ মুয়াম্মার ও ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মাদ আবু ওমর, পূর্ব গাজায় মাহমুদ সাদি রাহমি ও জিহাদ ফারিনাহ শাহাদাৎবরণ করেছেন।
এর আগে আজ সকালে খান ইউনুসে কামানের গোলার সাহায্যে ৩১ বছর বসয়ী কৃষক ওমর সামুরকে হত্যা করে বর্ণবাদী ইসরাইলি বাহিনী। প্রতি বছর ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে ফেরার দাবিতে ভূমি দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭৬ সালের এ দিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ২১ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমি নতুন করে দখলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এরপরই ফিলিস্তিনিরা ওই দিনটিকে ভূমি দিবস হিসেবে নামকরণ করে।

বিউটি, বোন আমার by সাজেদুল হক

সবুজ ঘাস। নিথর, নিস্তব্ধ দেহ। উৎসুক জনতার ভিড়। যেন বাংলাদেশের মানচিত্রে শুয়ে থাকা এক কিশোরীর লাশ। ছবিটি এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল কথাটাও অবশ্য আজকাল ভাইরাল। হঠাৎই কোনো ঘটনা নাড়া দেয় মানুষকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে। কয়দিন পর তারা সেটা আবার ভুলেও যায়।
সে যাই হোক। বিউটি নামের মেয়েটির কথায় ফিরে আসি। মেয়েটি বাঁচতে চেয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী বখাটে বাবুলের উৎপীড়নে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল তাকে। রেহাই মেলেনি তারপরও। গত ২১শে জানুয়ারি বিউটিকে অপহরণ করে বাবুল। আটকে রেখে ধর্ষণ করে টানা। ৯ই ফেব্রুয়ারি মেয়েটি উদ্ধার হয়। থানায় মামলা করতে চেয়েছিলেন বিউটির বাবা। অভিযোগ, থানা মামলা নেয়নি। পরে দ্বারস্থ হন আদালতের। এতে ক্ষুব্ধ হয় বাবুল। হুমকি দেয় ধর্ষিতার পরিবারকে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেয়েটিকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নানাবাড়ি। কিন্তু এতেও রক্ষা হয় না। সেখান থেকে বাবুল ও তার সহযোগীরা ফের মেয়েটিকে অপহরণ। ১৭ই মার্চ সবুজ মাঠে বিউটির লাশ মেলে। এই পুরো কাহিনী এরইমধ্যে সবার জানা হয়ে গেছে। এটাও জানা যাচ্ছে, বাবুল নামের অমানুষটি আজো ধরা পড়েনি।
এটাও আমাদের একটা রোগ, পতাকা আর মানচিত্রের ওপর দোষ চাপিয়ে আমরা নিজেরা বাঁচতে চাই। এটা অসহায় মানুষের আর্তিও হতে পারে। সাম্য, ন্যায় বিচার আর মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহান স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন লাখো মানুষ। ৩০ লাখের বেশি মানুষ তাদের জীবনদান করেছেন এই সংগ্রামে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ কী তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক মুক্তিই কি কেবল তাদের স্বপ্ন ছিল। সাম্য, ন্যায়বিচার আর মানবিক মর্যাদা আজ কোথায়।
কী নিদারুণ কষ্ট। পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে কী যন্ত্রণা নিয়েই না মেয়েটা চলে গেল। এমন জীবন কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে কি কারো হতে পারে। কী অন্যায় করেছিল মেয়েটি। এই বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে গল্পে মত্ত হওয়ার কথা ছিল তার। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকার কথা ছিল। অথচ তাকে কি-না ধর্ষণের পর ধর্ষণের শিকার হতে হলো। শিকার হতে হলো হত্যার। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার জীবন রক্ষায় কোনো পদক্ষেপই নিতে পারলো না। তার হত্যার পর আজো পর্যন্ত ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে পারল না। মিডিয়া যদি লেগে না থাকে এ ঘটনা হারিয়ে যেতেও হয়তো বেশি সময় লাগবে না।
বিউটি, বোন আমার। ওই ওপারে নিশ্চয়ই তুমি ভালো আছো। আর হয়তো অভিশাপ দিচ্ছ এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাসিন্দাদের। দোষ তো এই মানুষেরই। সময় বা স্থানের কোনো দোষ নেই। পবিত্র গ্রন্থেও তাই বলা আছে। আমরা আসলে অভিশাপেরই যোগ্য। শুধু রাষ্ট্র ব্যবস্থাই নয়, এই দেশের নাগরিক সমাজ, কথিত নারীবাদী সমাজ, সর্বোপরি মানুষ আমরা অন্যায়কে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ভোগবাদী এই সমাজে, এই সময়ে অন্য কারো কোনো কিছুতেই আমাদের কিছু যায় আসে না। কালের চাকা ঘুরছে। চারদিকে সংঘটিত হচ্ছে অসংখ্য অন্যায়। আর আমরা বসে বসে দেখছি। কোথাও কোনো প্রতিবাদ নেই, কোথাও কোনো দ্রোহ নেই। এমনকি পরিস্থিতি ওই পর্যায়ে গেছে, নিপীড়িত হয়ে অনেকে থানায় বা আদালতে গিয়ে বিচার চাওয়ারও সাহস রাখছেন না। তারা ফেসবুকে ফরিয়াদ জানাচ্ছেন। কেউ কেউ তাও করতে পারছেন না।
বিউটির গল্প একার নয়। এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। আইনের শাসনের অনুপস্থিতি তৈরি করেছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা। শাসন বা শোষণের আইন নয়, আইনের শাসনই কেবল পারে বিউটিদের বাঁচাতে। না হয় সবুজ মাঠে বিউটিদের লাশ পড়তেই থাকবে আর আমরা অভিশাপ বহন করেই চলবো। আগে একবার লিখেছিলাম। বিউটি তোমাকেও লিখি। তুমি আমাদের ক্ষমা করো না, বোন। অভিশাপ দিও।

জম্মু-কাশ্মিরে একাধিক গেরিলা হামলা, পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

জম্মু-কাশ্মিরে অজ্ঞাত গেরিলা হামলায় এক স্পেশাল পুলিশ কর্মকর্তা (এসপিও) নিহত ও তার স্ত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার বিজবেহরা এলাকায় গেরিলারা মুস্তাক আহমেদ শেখ নামে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় বন্দুক নিয়ে হামলা চালালে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিন রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ গেরিলারা গুলিবর্ষণ করলে মুস্তাক আহমেদ ঘটনাস্থলেই  নিহত হন এবং তার স্ত্রী ফরিদা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। আহতকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একইদিনে গেরিলারা তিনটি আলাদা জায়গায় হামলা চলায়। 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোপিয়ানে সেনাবাহিনীর ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের টহলদারি দলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা  চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে হামলাকারীদের জবাব দেয়। ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জম্মু-কাশ্মির পুলিশ, সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আক্রমণকারী গেরিলাদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, কুলগাম জেলায় অজ্ঞাত বন্দুকধারী এক বেসামরিক ব্যক্তিকে টার্গেট করে গুলিবর্ষণ করলে ওই ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একইদিনে এভাবে পরপর গেরিলা হামলার ঘটনায় সমস্ত নিরাপত্তা এজেন্সিকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, অন্য একটি ঘটনায় আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে পাক গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রবি কুমার নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে মানচিত্র, সামরিক তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। ধৃত রবি কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারা অনুসারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

'কুর্দি গেরিলাদের সহযোগিতা দিলে ফরাসি সেনাদের ওপর আঘাত হানতে পারে তুরস্ক'

কুর্দি গেরিলাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিলে ফরাসি সেনাদের ওপর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি উপপ্রধানমন্ত্রী বাকির বুজদাগ আজ (শুক্রবার) বলেছেন, যারা তুরস্কবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা দেবে ও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবে, আঙ্কারা তাদেরকেও সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করবে এবং তাদের ওপর আঘাত হানবে। তিনি এক টুইটে এ কথা বলেছেন।
তবে ফ্রান্স এ ধরনের অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেবে না বলে তিনি আশা করেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন গতকাল (বৃহস্পতিবার) এলিসি প্রাসাদে সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের প্রতি সমর্থনের যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি উপপ্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। 
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কুর্দি গেরিলাদের বিষয়ে ফ্রান্স শতভাগ ভুল অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, " মিত্র দেশগুলোর সেনাদের ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে আমরা সীমান্তে গেরিলাদেরকে অবাধে তৎপরতা চালানোর অনুমতি দিতে পারি না।"
তুরস্ক সিরিয়ার আফরিনে কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আঙ্কারা দাবি করে আসছে।

বাঘের সঙ্গে লড়াই করে ফেরা আতিয়ারের আর্তনাদ by জাহিদ সুমন

যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। দুই হাতে, দুই কাঁধে, মুখে, পেটে, ঘাড়ে ও মাথায় বাঘের কামড়ের ক্ষত। গুনে গুনে ঘাড় ও মাথা যন্ত্রণা করে। মাঝে মাঝে শরীর অবশ হয়ে যায়। এক চোখে কম দেখি, চোখের পলক পড়ে না। কষ্টের কাজ করতে পারি না। জীবনের করুণ আর্তনাদের কাহিনী এভাবে বর্ণনা করেন শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের বাঘ আক্রমণে পঙ্গু আতিয়ার মল্লিক (৬২)। আতিয়ার মল্লিকের ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। বর্তমানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। নিজের কোনো জমি জায়গা নেই। পিতার আড়াই কাঠা ভিটা। পিতার ভিটায় তার দুই ভাই বসবাস করে। আতিয়ার মল্লিক অন্যের জমিতে মাটির ঘর বেঁধে বসবাস করছে। ছোট বেলা থেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতো। বিয়ের পরে ঠিকমত সংসার চলতো না। তখন সে পশ্চিম সুন্দরবনের নদী ও খালে বাগদা চিংড়ি পোনা (রেনু) ধরার কাজ শুরু করেন। সুন্দরবনের মালঞ্চ, কলাগাছি, দোবেকী, হরি, পশুর ও বিবির খালে রেনু ধরে যে টাকা আয় করতো তাতে তার সংসার সুখে চলছিল। আতিয়ার মল্লিক বলেন,“২০০৭ সালের বৈশাখ মাসের ১৪ তারিখে দুপুরের দিকে লেবুনিয়া খালে জাল টানা শুরু করি। দলে আমরা ৩ জন ছিলাম। ২ জন এক দিকে এবং আমি একা একদিক থেকে জাল টেনে রেনু ধরতে থাকি। হঠাৎ ওই ২ জন এসে বলে আজ কেন জানি মন ভালো লাগছে না। আজ আর রেনু ধরতে হবে না। আমি বাধা দেয়। এরপর আমি এক দেড় হাজার রেনু ধরি। সেগুলো একজনকে বেছে নিতে বলি এবং আরেক জনকে নিয়ে আমি আবারও নদীর ধার দিয়ে রেনু ধরার জন্য জাল টানা শুরু করি। কিছু দূর জাল টেনে চলে যাই। হঠাৎ বনের একটি পশুর গাছের আবডাল (আড়াল) থেকে বাঘ আমার কানে থাবা (চড়) মেরে ফেলে দেয় এবং পানিতে চেপে ধরে। বাঘের ২ পা মাটিতে এবং ২ পা দিয়ে আমাকে চেপে ধরে। কামড় দিয়ে আমার ঘাড়ের হাড় ক্ষত করে দেয়। আমার শরীরে রক্ত ভেসে যেতে থাকে। আমার সঙ্গে যে ছিল সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আমি বাঘের সঙ্গে লড়াই করতে থাকি। বাঘের গলা চেপে ধরি। দেখতে থাকি আমাকে কেউ বাঁচাতে আসছে কিনা। বাঘ আমাকে উপরে তোলার চেষ্টা করতে থাকে। আমি ভাবি যদি একবার আমাকে উপরে তুলতে পারে তাহলে আমাকে খেয়ে ফেলবে। আমি বাঘের মুখের ভেতর আমার বাম হাত ঢুকিয়ে দেই। এক পর্যায়ে বাঘ আমাকে ছেড়ে দিয়ে কিছুদূর গিয়ে বসে থাকে। আমি তখন অজ্ঞান প্রায়। আল্লাহর রহমত তখন ৪ জনের একটি নৌকা আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে দেখতে পায়। তারা এসে তখন বাঘকে পেটাতে থাকে, এক পর্যায়ে তখন বাঘ বনের মধ্যে চলে যায় এবং আমাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। এক দেড় বছর সুশীল নামের এক কবিরাজ আমাকে চিকিৎসা করে। আমি ৬ মাস কথা বলতে পারিনি, বুঝতে পারিনি, কাউকে চিনতেও পারিনি। সারাক্ষণ শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা হতো। কিছু খেতে পারতাম না। আস্তে আস্তে আমি স্বাভাবিক হতে থাকি। আমার জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কোনো কাজ করতে গেলে কষ্ট হয়। প্রতিদিন ব্যথা ও যন্ত্রণার ওষুধ খেতে হয়। পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে আছি। মাঝে ১টি ভ্যান জোগাড় করে চালাতাম। কিছু আয় করতাম। কিন্তু ভ্যানটি ভেঙে যাওয়ায় আমি বেকার বসে আছি।
আতিয়ার মল্লিক আরো জানান, ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছি। ২ বছর এই চাল পাবো। ভাতের ব্যবস্থা সরকার করেছে ঠিকই কিন্তু ওষুধ কিনতে পারছি না। নিজের স্ত্রী ও ছোট ছেলে শ্রমিকের কাজ করে। ১ বেলা ওষুধ খেতে পারি তো অন্য বেলা পারি না। আতিয়ার মল্লিকের আবেদন কেউ যদি তাকে একটি ভ্যান সহযোগিতা করতো তাহলে ঠিকমত ওষুধ খেয়ে শরীরের ব্যথা/যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতাম। কিছু আয় করতে পারলে পরিবারের অবহেলা থেকে মুক্তিও পেতাম। নিজে আয় করতে না পারলে আপন জনও ভালো চোখে দেখে না।
আতিয়ার মল্লিক আক্ষেপ করে বলেন,“সিএসআরএল ও প্রগতি এনজিও আমাকে নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করেছে। জলবায়ু মেলায় সাতক্ষীরা, খুলনা ও ঢাকায় নিয়ে গেছে কিন্তু আমার কোনো উপকার হয়নি।

‘ফাও’ বালুর কারবারে পকেট ভারি পাউবো কর্মকর্তার

বালু সরকারি। ব্যবসা ব্যক্তির। সরকারি টাকায় নদী খননে পাওয়া বালু বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরছে তারা। আশুগঞ্জে ‘ফাও’ বালুর কারবারে গড়ে উঠেছে পঞ্চাশেরও বেশি লোকের একটি সিন্ডিকেট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী আরো অনেকেই রয়েছেন এই দলে। বিপুল পরিমাণ বালু মজুদ করা হচ্ছে রেলওয়ের জায়গায়। তাও অবৈধভাবে। আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চর-সোনারামপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে খনন কাজ শুরু হয় মার্চ মাসের শুরুতে। তার আগেই বালুর ব্যবসার সব পাকাপাকি হয়। বালু ব্যবসায় জড়িত একাধিক সূত্র জানিয়েছে-নরসিংদী জেলায় বাড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তার নিয়োজিত এজেন্ট জাকির হোসেন আশুগঞ্জে এসে বালু বিক্রির সব ঠিকঠাক করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তার পক্ষে বালুর দাম বাবদ লাখলাখ টাকা গ্রহণ করছে সে। ওই জায়গায় নদী খননে ৬/৭ কোটি ঘনফুট বালু উঠতে পারে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে। প্রতিফুট বালুর মূল্য ধরা হয়েছে ২ টাকা। সেই হিসেবে বিনা পুঁজির এই ব্যবসায় ১৩/১৪ কোটি টাকা পকেটে ঢুকবে সিন্ডিকেট সদস্যদের। এদিকে এই বালু মজুদ করা হচ্ছে আশুগঞ্জ রেলসেতুর কাছে খাদ্যশস্য সাইলোর পাশে বিশাল জায়গা জুড়ে। জায়গাটি কৃষি কাজ করার কথা বলে বন্দোবস্ত আনা হয়েছে। বন্দোবস্ত গ্রহণকারীরাও রয়েছে বালু ব্যবসার দলে। স্থানীয় লোকজন বলছেন- বালুর বিশাল স্তূপ আর বালু বোঝাই ট্রাকের চলাচলের কারণে মেঘনা নদীর পূর্বতীর, আশুগঞ্জ খাদ্যশস্য সাইলো, মেঘনা নদীতে দুইটি রেলসেতু এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর ক্ষতি হতে পারে। তথ্যানুসারে, আশুগঞ্জ স্টেশন এলাকায় চর-চারতলা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. জালাল মিয়া, আবু তাহেরের ছেলে শামসুল হক মুন্সির নামে পয়েন্ট ৬২ একর এবং একই গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে মো. ফিরোজ মিয়া ও গফুর মিয়ার ছেলে দীন ইসলামের নামে ২.৮৫ একর ভূমি কৃষি কাজের জন্য সম্প্রতি বন্দোবস্ত দেয় রেলওয়ে। নদী খননের লাখলাখ ফুট বালু মজুদ হচ্ছে সেখানে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি বালু মজুদ করার জন্যে স্কেভেটর ও পে-লোডার দিয়ে মাটি খনন করে পাড় নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেট। এরপর রেলওয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার, ফিল্ড কানুনগো ও আমিন সেখানে এসে বাধা দেন। চলতি মাসের পহেলা মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংশ্লিষ্ট জেলার কর্মকর্তাকে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী একটি চিঠি দিয়ে অবৈধভাবে ওই জায়গায় প্রবেশ করে মাটি ভরাটের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু এই বাধা অগ্রাহ্য করেই সেখানে বালুর স্তূপ করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। রেলওয়ে থেকে চিঠি দেয়া হয় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। আর স্থানীয় লোকজন জানান- এখানে খনন কাজ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে। ‘জলঢাকা’ নামের একটি ড্রেজার নদী খনন করছে এখানে। রেলওয়ে থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহায়তাও চাওয়া হয় এ স্থানে বালুর মজুদ বন্ধে। এই চিঠি পাওয়ার পর সহায়তার পরিবর্তে স্থানীয় চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন খন্দকার নিজেই বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হন। তিনিই এখন বালু ব্যবসার হর্তাকর্তা। এ ব্যাপারে স্থানীয় থানা পুলিশও নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা। কৃষিকাজের জন্য বন্দোবস্ত গ্রহণকারীদের একজন সামসুল হক মুন্সি বলেন-রেলের জায়গা বন্দোবস্ত এনেছি আমরা কয়েকজন। কিন্তু আমি বালুর ব্যবসাতে নেই। তিনি জানান স্থানীয় চরচাতলা ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকার-ই এই বালুর ব্যবসা করছেন। তার সঙ্গে  রয়েছেন মাসুদ মেম্বার, দীন ইসলাম মেম্বার, মজিবুর, জয়নাল মিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কবিরের ভাই মিজানসহ ৩০/৪০ জন। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম তালুকদার জানান- এ ব্যাপারে রেলওয়ের কোনো চিঠি তিনি পাননি। তিনি বলেন রেলওয়ের স্টেট ম্যাজিস্ট্রেট আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছেন। তারা চাইলে আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি বাইন হীরা বলেন- বিষয়টি জেনে জানাতে হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে পত্র ও মৌখিকভাবে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা আমাদেরকে কোনো জবাব দেয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বলেন, বালু কোথাও না কোথাও রাখতে হবে। আমরা আলোচনা করেই এখানে রাখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও অনুমতি রয়েছে।

লন্ডনে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান: সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাইলেন বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী

লন্ডনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন দেখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এমপি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কনজারভেটিভ পার্টি, বিরোধী লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ৬৩ বৃটিশ এমপির উপস্থিতিতে (ভিজিট বুকে সইকারী) অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, কক্সবাজারের মতো জনবহুল এলাকার মানুষ নিজেদের কষ্ট অগ্রাহ্য করে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ‘দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্ব সভায় সমাদৃত’ উল্লেখ করে কনজারভেটিভ পার্টির ওই নেতা আশা করেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং এখানে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরো সমৃদ্ধ হবে। গত মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে দি টেরেস প্যাভিলিয়নে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানে স্বাগত বক্তব্যে লেবার পার্টির এমপি জিম ফিজপেট্রিক ‘স্বাধীনতার সূচনা থেকে বাংলাদেশ বৃটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে বলেন- স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এত বিশাল সংখ্যক বৃটিশ এমপি উপস্থিত হয়েছে, যা অন্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানে সরকারদলীয় আরেক এমপি অ্যান মেইন বলেন, মাত্র ৪৭ বছরে বাংলাদেশ যে উন্নয়ন করেছে, তা সত্যিই অকল্পনীয়। শেখ হাসিনার ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়া উচিত। সারা বিশ্বকে বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে তাদের সক্ষমতা। এডিনবরার বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রশংসা এবং বৃটেনে বাংলাদেশিদের অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এমপি জোয়ানা চেরি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন স্টিভেন স্টিংস এমপি। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন লিস ম্যাকানিজ এমপি। বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেটা আবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ। একাত্তরে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্ত হওয়ার পর লন্ডন হয়ে দেশে ফেরার ঘটনা স্মরণ করে তাৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডোয়ার্ড হিথের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বড় পর্দায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নাচও পরিবেশন করা হয়। এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বৃটিশ এমপিদের হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচার ইংরেজি সংস্করণসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান সংবলিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট  ডেভি আব্রাহাম, পার্লামেন্টারি আন্ডার  সেক্রেটারি মাইকেল এলিজ, শ্যাডো মিনিস্টার চি অনুরাহ, শ্যাডো লিডার অব দ্য হাউস অফ কমন্স ভ্যালেরি ভাজ, শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট জনাথন আশওয়ার্থ, শ্যাডো মিনিস্টার জুলিয়ে কুপার, শ্যাডো মিনিস্টার ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন ও শ্যাডো চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার জন ম্যাকডনাল প্রমুখ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জালাল উদ্দিন, সৈয়দ  মোজাম্মেল আলী, মারুফ আহমদ  চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাজ্জাদ মিয়া, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, শাহ শামীম আহমদ, মাসুক ইবনে আনিস, রবিন পাল, সরাব আলী, আসম মিসবাহ ও মেহের নিগার চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগীতা আহমেদ ও সৈয়দা সায়মা আহমদ।

কোনো দল যা ইচ্ছা তা করতে পারে না -ড. কামাল হোসেন

’৭২ সালের সংবিধানকে অবমাননা করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, স্বাধীন দেশের চিফ জাস্টিসকে অপমান করার অর্থ রাষ্ট্রকে অপমান করা, আপনাকে-আমাকে অপমান করা বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। এখানে কোনো দল যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে না। এমনকি ৩শ’টি আসনে জয়লাভ করলেও যা ইচ্ছা তা করার ক্ষমতা  কোনো দলের নেই। তিনি গতকাল দুপুরে জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে আইনজীবীদের  সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, জিয়াউর রহমানকে যখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্বীকার করা হয় তখন কষ্ট লাগে, বঙ্গবন্ধুকে যখন অপমান করা হয় তখন সহ্য করা যায় না, শেখ হাসিনাকে যখন অপমান করা হয় তখন মেনে নেয়া যায় না আবার শেখ হাসিনা কোনো অন্যায় করলে সেটাও মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, জিয়া অরফানেজে কোনো দুর্নীতি হয় নাই, খালেদা জিয়া কোনো দুর্নীতি করেন নাই, কোনো টাকা লুটপাট হয় নাই। টাকা আছে ব্যাংকে। বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাকে যেন সম্মানের সঙ্গে রাখা হয়। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে একরকম গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। এধরনের ঘটনা গোটা বিশ্বে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, এ দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই, সেই নির্বাচনে যেই ক্ষমতায় আসুক জনগণ সেটা মেনে  নেবে। একটা সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আইনজীবীদের সহযোগিতা দরকার বলে মনে করেন কাদের সিদ্দিকী।
জেলা বারের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য দেন জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন, সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এমপি অ্যাড. এইএম খলিলুর রহমান। পরে  গণফোরাম আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেন ড. কামাল হোসেন ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

ইসরাইল এখন কেন সবার প্রিয়? by শাই ফেল্ডম্যান ও তামারা কফম্যান

এই মুহূর্তে আরব বিশ্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আশ্চর্য্যজনক বিষয়টি হলো, ইসরাইল ইস্যুটি সেখানে এখন তেমন বিতর্কিত নয় বললেই চলে। আমাদের ১১ দিনের সৌদি আরব ও কুয়েত সফরে আমরা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়টি শুনেছি মাত্র একবার। একে বেশ নাটকীয় পরিবর্তনই বলা চলে। অথচ, কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের প্রতি সামগ্রিক শত্রুতাই ছিল আরব দেশগুলোর বিরল ঐক্যের কারণ।
ব্রান্ডেইজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাউন সেন্টার ফর মিডল স্টাডিজে গত বছর অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আমাদের একজন আরব সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আরব দেশগুলো কবে ইসরাইলকে মেনে নেবে?’ খুব সংক্ষেপে তিনি সঠিক জবাবটি দিয়েছিলেন। তার উত্তর ছিল এই যে, ‘যেদিন তারা (আরব রাষ্ট্রসমূহ) বুঝতে পারবে যে ইসরাইল না থাকার চেয়ে, থাকাটাই তাদের জন্য মঙ্গলকর।’
ইসরাইলের অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক বলে থাকেন, নিরাপত্তাই এখানে মূখ্য বিষয়। তারা দাবি করেন, আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ইসরাইল উভয়ের অভিন্ন হুমকি হলো ইরান ও ইসলামি চরমপন্থা। এই অভিন্ন নিরাপত্তা হুমকিই ইসরাইল ও গুরুত্বপূর্ণ আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যের জন্ম দিয়েছে। আরব সরকারগুলো প্রতিপক্ষকে নাজেহাল রাখতে ও আরও স্বস্তিদায়ক আঞ্চলিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ইসরাইলকে অংশ মনে করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরাইলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে আরব দেশগুলো নিজেদের স্বার্থের পক্ষে ভাবার আরও বিস্তৃত কারণ আছে। এক্ষেত্রে গত দশকের দুইটি ঘটনাপ্রবাহ বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রথমত, আঞ্চলিক জ্বালানি বিপ্লবের ফলে ইসরাইল জ্বালানির দিক দিয়ে শুধু স্বনির্ভর রাষ্ট্রই নয়, বরং জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইল ও মিশরীয় কোম্পানির মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির যেই ১৫০০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা ছিল রীতিমত ‘গেম চেঞ্জার’। এই চুক্তির ফলে মিশর ইসরাইলের কাছ থেকে যে গ্যাস কিনবে, তা দেশটি তরলীকৃত করে ইউরোপ ও আফ্রিকায় রপ্তানি করতে পারবে। মিশরের সামনে এখন অন্যতম আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠার হাতছানি। পাশাপাশি, প্রাক্তন বৈরীভাবাপন্ন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা গড়ে উঠেছে।
ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর জোট জিসিসি’র মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ার কারণে উভয়ের জন্য যেই নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা-ও এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি সহায়তা পাচ্ছে। ব্যবহার করছে ইসরাইলের অত্যাধুনিক নজরদারিমূলক প্রযুক্তি। দুই পক্ষ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও করে থাকে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই তাদের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। তেল ও গ্যাস-নির্ভর অর্থনীতিকে আরও বেশি সেবা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা ব্যাপক।
আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি আরব সরকারগুলোর আগ্রহ হ্রাসের ফলে। এই আরব দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ফিলিস্তিনি দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে। কিন্তু ফিলিস্তিনের পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদর্শনের ব্যাপারে এই দেশগুলো এখন অত আগ্রহ পায় না। এর আংশিক কারণ হলো, ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রায় সাত দশকের নিরঙ্কুশ আরব সমর্থন থেকে তেমন কোনো ফল আসেনি বললেই চলে।
কিন্তু এর চেয়ে বড় কারণ হলো, অকার্যকর ও বিবদমান ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রতি ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে আরব সরকারগুলোর। বিভিন্ন আরব দেশ ও ইরান ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক অংশকে স্বীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে মাহমুদ আব্বাসের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে ক্রমেই বিরোধ প্রকাশ্য হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের দাবি এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে আরব দেশগুলো এখন নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ এগিয়ে নিতে চায়। তারা নিজ নিজ পক্ষের ফিলিস্তিনি অংশকে সমর্থন দিয়ে, অন্য অংশকে দমাতে চায়।
এই সব কিছুর সামগ্রিক ফলাফল যেটা দাঁড়ালো তা হলো সুন্নি আরব সরকারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে নাটকীয় পরিবর্তন চলে এসেছে। ইসরাইলের প্রতি একসময় যেই দেশগুলো চরম শত্রুতা পোষণ করতো, সেই দেশগুলোই ভাবতে শুরু করেছে এই অঞ্চলে ইসরাইলের উপস্থিতি বরং তাদের জন্য মঙ্গলজনক। ফলস্বরূপ, ইসরাইলের বর্তমান সরকার সহ অনেক ইসরাইলি মনে করেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ইসরাইলের আর এখন কোনো বাধা নেই। এমনকি একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোটা বিরোধ নিজেদের পক্ষে ফয়সালা করতে চাইলেও ইসরাইলকে বাধা দেওয়ার কেউ নেই।
নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করলেও, বর্তমান পরিবেশে ইসরাইলের জন্য বাধাবিপত্তিও আছে। প্রথম সীমাবদ্ধতা হলো যে, বেশিরভাগ আরব শাসক গোষ্ঠী যদিও এখন নিজেদের অভ্যন্তরীন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশি চিন্তিত ও ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি বিরক্ত, তবুও আরব জনগণের কাছে কিন্তু ফিলিস্তিন ইস্যুর গুরুত্ব ওভাবে কমে যায় নি। সাধারণ আরবরা এখনও ফিলিস্তিনি ইস্যু নিয়ে চিন্তিত। আঞ্চলিক গণমাধ্যমের বরাতে তারা প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একবার করে হলেও ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে পারে। আরব শাসকগোষ্ঠী সাধারণত বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত সহ্য না করলেও, ২০১১ সালের আরব বসন্ত থেকে এই শিক্ষা পেয়েছে যে জনমত অস্বীকার করলে কী পরিণতি হতে পারে।
জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো কুয়েত। ইসরাইলকে অর্থনৈতিকভাবে বয়কটের বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে আরব লীগের যেই কমিশন রয়েছে, সেটি কুয়েতেই অবস্থিত। দেশটিতে আগে ফিলিস্তিনি অনেক নেতা থাকতেন। তবে পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত যখন সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে সমর্থন দিলেন, তখন দেশটি থেকে গণহারে ফিলিস্তিনিদের পাঠিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু তারপরও কুয়েতি জনগণের মনে ফিলিস্তিনি ইস্যুটি এখনও বেশ গভীরে প্রোথিত। ২০০৪ সালে কুয়েত ও ফিলিস্তিনের সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়। ফিলিস্তিনের পক্ষে মনোভাব তুঙ্গে রাখতে কুয়েতের পার্লামেন্ট বড় ভূমিকা রাখে। দেশটির ইসলামী আন্দোলন ও বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এ নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, কুয়েত এখনও ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্বস্ত। কুয়েত ঘোষণা দিয়েছে, যেসব ব্যক্তির পাসপোর্টে ইসরাইল সফরের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে তারা কুয়েতে ঢুকতে পারবে না। এ বছর ফিলিস্তিনি ভূখে দূতাবাস স্থাপনেরও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
সৌদি আরবেরও একই অবস্থা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব রুখতে ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে সৌদি নেতারা সন্তুষ্ট। কিন্তু জনমত ও ধর্মীয় প্রভাবের কারণে এখনও সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্যে বা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি নয়। সৌদি আরব এখনও বলে থাকে, ইসরাইলের উচিত হবে ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করা। এর ভিত্তিতেই আরব-ইসরাইল সংঘাতের নিরসন হওয়া উচিত। কিন্তু বলাই বাহুল্য বর্তমান ইসরাইল সরকার এটি মানবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর আরব দেশগুলোর ম্রিয়মান প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে। প্রকারান্তরে ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপ মেনে নিয়ে আরব দেশগুলো শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেই খ্রান্ত দেয়। ইসরাইল এ থেকে প্রতীকী বিজয় অর্জন করে। কিন্তু ইসরাইল যদি একতরফাভাবে আরও কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জোরালো অবস্থান না নেওয়া ছাড়া আরব দেশগুলোর কোনো পথ থাকবে না। ইসরাইল সরকার যদি আরব দেশগুলোর সঙ্গে মৈত্রী এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে আরব দেশগুলোর সমস্যা নিয়েও দেশটিকে সচেতন থাকতে হবে।
আবার সুন্নী দেশগুলোর সঙ্গে এই মৈত্রীর ফলে ইসরাইলের সামনে নতুন কিছু সমস্যা এসে উপস্থিত হয়েছে। শত্রুতা থাকাকালে এসব সমস্যা ছিল না। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আরব দেশগুলো বর্তমানে যেই আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনছে, সেটা সম্পর্ক রক্ষা করার স্বার্থে সহ্য করতে হচ্ছে ইসরাইলকে। সাধারণত, অতীতে ইসরাইল নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এমনকি রাশিয়াকেও আরব দেশগুলোর কাছে আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে জোর আপত্তি জানিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছে। এছাড়া আরব দেশগুলোর কাছে সংবেদনশীল পারমানবিক প্রযুক্তি স্থানান্তর নিয়েও বিরোধীতা ছিল ইসরাইলের।
কিন্তু এখন সেই আরব দেশগুলো ইসরাইলের ‘নতুন বন্ধু’। এখন আরব দেশগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান কিনতে চাইলে ইসরাইল কি আগের মতো বিরোধীতা করতে পারবে? কিছুকাল আগে মিশরের কাছে জার্মানির অত্যাধুনিক সাবমেরিন বিক্রির ক্ষেত্রে ইসরাইল এই সমস্যায় পড়েছে। এছাড়া সৌদি আরব সম্প্রতি পারমানবিক প্রযুক্তি পেতে যেভাবে সরব হয়েছে, তাতেও ইসরাইল বিপাকে পড়েছে। উভয় দেশই ইরানকে পারমানবিক প্রযুক্তি পেতে দিতে চায় না। কিন্তু সৌদি আরবের হাতে পারমানবিক প্রযুক্তি থাকা নিয়েও স্বস্তি বোধ করে না ইসরাইল।
এটি স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলার দরুন কিছু অদ্ভুত মৈত্রী তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৭০ বছর ধরে একঘরে থাকা ইসরাইলের জন্য নতুন সম্ভাবনা খুবই আকর্ষনীয়। কিন্তু ইসরাইল এখন তাদের বন্ধু-শত্রু আরব দেশগুলোকে নিয়ে উভয়সংকটে।
(শাই ফেল্ডম্যান ও তামারা কফম্যান হলেন যথাক্রমে ব্রান্ডেইজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাউন সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের পরিচালক ও ব্রুকিং ইন্সটিটিউশনের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো। ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তাদের নিবন্ধ অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীর বোন বাংলাদেশি যুবকের হাত ধরে উধাও

উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী এস পি সিং বাঘেল-এর বোন বাংলাদেশি যুবকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছে।  এ যেন দক্ষিণী সিনেমার গল্প। তবে গল্প নয়, একেবারে কঠোর বাস্তব। অবশ্য পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বারো দিন আগে বছর ষোলোর ওই কিশোরীকে নিয়ে পালিয়েছে সে। সম্পদ অধিকারী নামের ওই যুবক উত্তরপ্রদেশ থেকে মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালিয়ে আসে উত্তর ২৪ পরগনায়। প্রথমে বারাসতে এসে ঠাঁই নিলেও পরে আর তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইউপি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বোনকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন মন্ত্রী ও তাঁর ভাইরা। সমস্ত রাজ্যে দু’জনের ছবি দিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তেও নজরদারি চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ধরা পড়লে সম্পদের কী পরিণতি হবে তা আন্দাজ করা কঠিন নয়। তবে তার এই দুঃসাহসিক কীর্তি যে সিনেমার গল্পকেও হার মানাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিদিনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নড়াইল জেলার বাসিন্দা সম্পদ। সেখানে থেকে এ দেশে এসে ইউপির প্রভাবশালী মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালানো, তাজ্জব হওয়ার মতো ঘটনা। তার আত্মীয়দের থেকে জানা যায়, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে চলে আসে সম্পদ। এসে বারাসতের কানাপুকুর এলাকায় জমি কিনে বাড়িও তৈরি করে। তারপর সেই বাড়ি ভাড়ায় দিয়ে উত্তরপ্রদেশে দিদি জামাইবাবুর কাছে চলে যায়। নিজেকে চিকিৎসক হিসাবে পরিচয় দিয়ে জামাইবাবুর ওষুধের দোকানে বসত সে। এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তার হিসাবে নামডাকও হয়। সেখান থেকেই মন্ত্রীর বোনের সঙ্গে পরিচয়। অভিযোগ, ১৬ মার্চ মন্ত্রীর নাবালিকা বোনকে নিয়ে বিমানে চেপে কলকাতায় চলে আসে সে। খোঁজ খবর নিয়ে পরের দিনই কলকাতায় আসেন মন্ত্রী এস পি সিং বাঘেল-এর ভাই ও ইউপি পুলিশ। প্রথমেই তাঁরা বারাসতের কানাপুকুরে সম্পদের বাড়িতে হানা দেন। সেখান থেকে এলাকার কয়েকজন যুবক ও সম্পদের দুই আত্মীয়-সহ মোট ছ’জনকে আটক করেন। স্থানীয়রা জানান, ১৭ তারিখ রাতে সশস্ত্র কয়েকজন সম্পদের খোঁজে এসে ওই এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। খবরটি স্থানীয় কাউন্সিলর চম্পক দাসের কানে যায়। বিষয়টি জানার পর ইউপি পুলিশ ও মন্ত্রীর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপরেই গোটা ঘটনা সামনে আসে।
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ভাই নীরজ সিং জানিয়েছেন,  সম্পদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জোগাড় করেছেন তাঁরা। বাংলাদেশে সম্পদের বাবা-মা থাকেন। সেখানে ইতি আধিকারী নামে একটি স্ত্রীও রয়েছে তার। তা সত্ত্বেও মন্ত্রীর ষোলো বছরের বোনকে ফুঁসলে নিয়ে পালিয়েছে সে। নিজেকে খুব বড়লোক বলে পরিচয় দিয়েছিল সম্পদ। বারাসত, সুভাষনগর, বনগাঁ-সহ সম্পদের সমস্ত আত্মীদের বাড়িতে হানা দেয় ইউপি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে বারাসতের কাউন্সিলর চম্পক দাস জানিয়েছেন, “মন্ত্রী এস পি সিং নিজে ফোন করেছিলেন। আমরা সব রকম সাহায্য করছি।” সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এলাহাবাদে এক আত্মীয়র আশ্রয়ে রয়েছে তারা। সেখানেও খোঁজ শুরু করেছে ইউপি পুলিশ।
সূত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন