Showing posts with label অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল. Show all posts
Showing posts with label অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল. Show all posts

Wednesday, February 5, 2020

হিজাব নিয়ে ব্রিটেনে বাংলাদেশী তরুণী সাবিনার লড়াই by নাজমুল হুদা সোহেল

হিজাব ইসলামের একটি ফরজ বিধান ও বিশ্বব্যাপী একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এটি হলো সেই বিধিব্যবস্থা ও চেতনা যার মাধ্যমে ঘর থেকে শুরু করে পথ-প্রতিষ্ঠান-সমাবেশসহ সমাজের সব ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণহীন কথাবর্তা, দর্শন, দৃষ্টি বিনিময়, সৌন্দর্য প্রদর্শন ও সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ করা হয়। পারিভাষিক অর্থে হিজাব নারী পোশাকের ওপর কেন্দ্রীভূত হলেও পোশাক ও নারীর মধ্যেই ইসলামের হিজাবব্যবস্থা সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর অর্থ আরো ব্যাপক যাতে নারী-পুরুষ উভয়ের কম-বেশি অংশীদারিত্ব রয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ছিল বিশ্ব হিজাব দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘স্ট্যান্ড ফর হার রাইট টু কভার’। বিশ্বব্যাপী হিজাব বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিজাব বিভ্রান্তি ও বিরোধিতা চরম আকার ধারণ করেছে। কেউ একে নারীর রাকবজ এবং তাদের মর্যাদা ও শালীনতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করছেন। আবার কেউ একে অযৌক্তিক, নারীর বন্দিত্ব, পশ্চাৎপদতার কারণ ও প্রগতির অন্তরায় হিসেবে চিত্রিত করছেন। কোনো কোনো অমুসলিম দেশে এর বিরোধিতা করতে গিয়ে পার্লামেন্টে হিজাব নিষিদ্ধকারী আইনও পাস হয়েছে। হিজাববিরোধীরা হিজাবের প্রসারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা কৌশল এবং প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। কাসরুমে হেনস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার, ড্রেসকোডের অজুহাতে হিজাব পরা ছাত্রীদের জামার হাতা কেটে দেয়া, অশালীন ব্যবহার, ব্যাকডেটেড বলে গালি দেয়া, চাকরি পেতে বাধা তৈরি করা, চাকরিচ্যুতিসহ প্রতিদিন অসংখ্য বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন হিজাবের অনুসারী নারীরা। তা সত্ত্বেও তরুণীরা অধিক হারে হিজাবের বিধিবিধান অনুসরণ করতে শুরু করেছে বিগত দশকে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে হিজাব তাদের অগ্রগতির প্রতিবন্ধক নয়; বরং নিবিষ্ট সহায়ক ও রাকবজের ভূমিকা পালন করছে। তাই মুসলিম নারীরা তাদের এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছে। কারণ হিজাব নিছক একটি পোশাকের নাম নয়, বরং ইসলামি সংস্কৃতি ও সভ্যতার একটি প্রতীক।
আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে হিজাবের ব্যবহার ক্রমাগত ও আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প কয়েক বছর আগেও এ দেশে হিজাব পরা নারীদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আর যারা হিজাব পরত তাদের বেশির ভাগই ছিল গ্রামের সাধারণ মহিলা। শহরে কিংবা শিক্ষিত মহলে বোরকার ব্যবহার ছিল হাতেগোনা; কিন্তু এখন শিক্ষিত মহলেও হিজাবের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন অফিস-আদালতে বর্তমানে হিজাবধারী নারীদের সংখ্যা অগণিত। নানা বৈরী প্রচারণার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তরুণ-তরুণীরা অধিক হারে হিজাবের বিধিবিধান অনুসরণ করতে শুরু করেছে বিগত দশক গুলোতে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গার্মেন্টকর্মী কোনো ধর্মীয় প্রণোদনা নয় বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হিজাবের পোশাক অংশটি বেছে নিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এটা হিজাববিরোধীদের ভাবিয়ে তুলছে। তাই যে করেই হোক হিজাবের এই অগ্রযাত্রা অঙ্কুরেই রোধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা এ দেশে হিজাব নিষিদ্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
তারা তাদের মিশন সফল করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তার কোনোটিই করতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না। এরই অংশ হিসেবে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হিজাবের ব্যাপক প্রসারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক হয়রানির পাশাপাশি হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও হিজাবের বিরুদ্ধে চলছে নানান ষড়যন্ত্র।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইউরোপজুড়ে মুসলিমদের একটা গৎবাঁধা নেতিবাচক ছবি তুলে ধরার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং বৈষম্য আরো বাড়ছে। সম্প্রতি সংগঠনটি ইউরোপীয় মুসলমানদের নিয়ে Muslims discriminated against for demonstrating their faith নামে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরি করে। রিপোর্টে মুসলিমদের বিরুদ্ধ বৈষম্যের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ইউরোপে এখন মুসলিম মহিলারা কেবল হিজাব পরার কারণে চাকরি পাচ্ছে না, মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। মুসলিম পুরুষরা কেবল দাড়ি রাখার কারণে চাকরিচ্যুত হচ্ছেন।
১২৩ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে অ্যামনেস্টি বলছে, ইউরোপজুড়ে মুসলিমরা তাদের ধর্ম পালন থেকে শুরু করে শিা, কর্মত্রে সব জায়গাতেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ২০০২ সালে উত্তর লন্ডনের ডেনবিগ হাইস্কুল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল স্কুলছাত্রী সাবিনা; জার্মানিতে স্কুলশিকিা ফিরিশতা লুদিন চাকরি হারান হিজাবের সপে কথা বলার কারণে। এমনি অনেক দেশেই ‘আইনি লড়াই’ এবং বহুপ্রকার প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে ‘হিজাব’ বারবার। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হিজাব নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে ফ্রান্স। সুইডেনে হিজাবসম্মত পোশাক পরার অপরাধে চাকরি হারিয়েছে অনেক মেয়ে।
বাধা পেরোতেই আন্দোলন দানা বাঁধে। এটিই প্রাকৃতিক নিয়ম। দেশে-বিদেশে হিজাবের বিরুদ্ধে এত বাধা ও ষড়যন্ত্রের পরও হিজাবের চেতনা বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে মুসলিম নারীরা, গড়ে তুলছে নানা সামাজিক আন্দোলন। হিজাবের বিরুদ্ধে প্রচলিত নানা বাধাকে চ্যালেঞ্জ করে গড়ে ওঠা হিজাব আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব হিজাব দিবস পালন, মানববন্ধন, র‌্যালি, সেমিনার, হিজাব মেলার আয়োজন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব সচেতনতামূলক প্রচারণা, আইনি লড়াই ইত্যাদি।
‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’ হিজাবকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমনই একটি সামাজিক আন্দোলন। ধর্মের প্রতি মানুষের পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা ও হিজাবের ব্যবহার বৃদ্ধির ল্েয এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। হিজাবের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠাই এর উদ্দেশ্য। ইসলামে হিজাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামি সংস্কৃতির একটি গর্বিত প্রতীক। এটি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং মা করে দেয়ারও অনন্য এক উদাহরণ। এতদসত্ত্বেও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে হিজাবের অনুসরণ একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। হিজাব পরে কর্মস্থলে যাওয়া যায় না, হিজাব পরলে চাকরি হারানো আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি অনেক শিাপ্রতিষ্ঠানেও হিজাব পরে যাওয়ার বিধান নেই।
এ ধরনের পরিস্থিতি উত্তরণে জনসচেতনতা সৃষ্টির অভিপ্রায়ে সারা বিশ্বের সব ধর্মের সব ধরনের মানুষের কাছে ‘হিজাব’ সম্পর্কে স্পষ্ট এবং সঠিক ধারণা সৃষ্টির উদ্দেশে ২০১৩ সাল থেকে ১ ফেব্রুয়ারিকে ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন এর উদ্যোক্তারা। ২০১৬ সালে বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে ১ ফেব্রুয়ারি হিজাব দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে-এর প্রচার সাহিত্য ইতোমধ্যে পৃথিবীর প্রায় ৫৬টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, ৩৩টি দেশে ৯১ জন সেলিব্রেটি ব্যক্তিত্বগণ ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’-এর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সামাজিক আন্দোলনটি বিবিসি, আলজাজিরার মতো মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়ও ব্যাপক কভার পাচ্ছে। ইভেন্টটি সম্পর্কে আরো জানা যাবে তাদের নিজস্ব এই ওয়েবসাইট থেকে : http://worldhijabday.com/
মুসলিম নারীরা হিজাব পরিপালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা সাহস করে র‌্যালি, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাধ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কয়েক বছর আগে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা হিজাব পরতে দেয়ার দাবিতে যে আন্দোলনে নেমেছেন তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিজাব পরতে দেয়ার দাবিতে ছাত্রীদের আন্দোলন করতে দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ও ব্লগে হিজাব একটি অতি প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। হিজাবকেন্দ্রিক ইভেন্ট ও প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে উঠে আসছে এসব সামাজিক মিডিয়ায়। সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিজাব আন্দোলনের অন্যতম প্লাটফরমের রূপ নিয়েছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে খোলা হয়েছে শত শত হিজাববিষয়ক ফেসবুক পেজ ও ব্লগ।
দ্য মুসলিম ওইমেন সোসাইটি MWS এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেন MAB দু’টি সংগঠন অ্যাসেম্বলি ফর প্রটেকশন অব হিজাব নামে একটি ইভেন্টের আয়োজন করে ১৭ জানুয়ারি ২০০৪ সালে। এই সম্মেলনটি পরিচালনা করেন আল্লামা ইউসুফ আল কারজাভি। বাংলাদেশের এই ইভেন্টের সমর্থনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। অ্যাসেম্বলি ফর প্রটেকশন অব হিজাব বর্তমানে সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিজাব সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হিজাব মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হিজাব মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালে। মেলার আয়োজক ছিলেন মার্সি মিশন বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। মেলার আয়োজকেরা জানান, মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী-পুরুষ সবাইকে শালীন পোশাক সম্পর্কে সচেতন করা ও ইসলামি সংস্কৃতির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো।
হিজাবের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্রিটেনে বাংলাদেশী তরুণী সাবিনার আইনি লড়াই অনেকেরই মনে থাকার কথা। অস্ত্র ছাড়াও প্রচলিত আইনে শ্রদ্ধা রেখে লড়াই করা যায়। ব্রিটেনে নিজ সংস্কৃতির পোশাক নিয়ে এমনই এক অহিংস লড়াইয়ে নেমেছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কিশোরী সাবিনা বেগম। ২০০২ সালে বিষয়টি ঝড় তোলে পৃথিবীর গণমাধ্যমে। তা ছাড়া দুই বছর আগে ব্রিটেনে বোরকা নিষিদ্ধের বিল রুখে দিয়েছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। বিরোধী দলের বিরোধিতায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত হলে লেবার দলীয় বাঙালি এমপি রুশনারা আলীসহ লেবার এমপিরা তীব্র বিরোধিতা করেন।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী বলেন, নেকাব পরিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অনুশাসনের অং। আমি সবসময়ই নারীদের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষায় আন্তরিক। এভাবে আইনি লড়াই করে হিজাবের অধিকার আদায়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। বাধার মোকাবেলায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা তাদের বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে নিজেদের হিজাব অনুসরণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হচ্ছেন, হিজাবের অধিকার রক্ষায় গড়ে তুলছেন বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন। এসব আন্দোলনে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নারীদের ব্যাপক সম্পৃক্ততা আগামী দিনের সমাজে হিজাবের ধারণা যে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে তারই সুস্পষ্ট ঈঙ্গিত বহন করছে। হিজাবের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে এ আন্দোলন আরো ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখক : শিক্ষক, প্রবন্ধকার
হিজাব নিয়ে  ব্রিটেনে বাংলাদেশী তরুণী সাবিনার লড়াই

Friday, September 6, 2019

কাশ্মীরে ব্ল্যাকআউট বন্ধে অ্যামনেস্টির ক্যামেপইন

কাশ্মীরে মাসব্যাপী ‘ব্ল্যাকআউট’ বন্ধে ‘আর্জেন্ট ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই প্রচারণার হ্যাসট্যাগ #লেটকাশ্মীরস্পিক। কাশ্মীরে কি পরিস্থিতি মানুষের সে বিষয়টিও তুলে ধরেছে তারা। বলা হয়েছে, কাশ্মীরে ভয়াবহভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা সেখানকার জনমানুষের নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে এক নিষ্ঠুর অত্যাচার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারত চ্যাপ্টার থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৫ই সেপ্টেম্বর তারা ওই প্রচারণা শুরু করেছে। এতে কাশ্মীরের অচলাবস্থার জন্য মানুষকে কীভাবে মূল্য দিতে হচ্ছে তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারত চ্যাপ্টারের প্রধান আকার প্যাটেল বলেছেন, ওই অচলাবস্থা এখন এক মাস হয়েছে।
ভারত সরকারের এই অচলাবস্থা আর দীর্ঘায়িত হতে পারে না। কারণ, এতে কাশ্মীরের মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের আবেগ ও মানসিক অবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা একইসঙ্গে দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অচলাবস্থার কারণে কাশ্মীরি পরিবারগুলোর সদস্যরা আলাদা হয়ে পড়ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যামেপইন থেকে গত এক মাস ধরে চলা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে কাশ্মীরিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের স্বশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার পর সেখানে টেলিফোন সেবা বন্ধ রয়েছে। জম্মু অঞ্চল যখন অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে তখনো কাশ্মীরের বেশিরভাগ এলাকাই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এ নিয়ে আকার প্যাটেল বলেন, একটি এলাকার নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর মত প্রকাশ ও চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদেরকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেয়া। তথাকথিত নয়া কাশ্মীর কখনোই কাশ্মীরিদের ছাড়া নির্মাণ সম্ভব নয়। গত এক মাস যাবৎ ভারত সরকার বলে আসছে কাশ্মীরে সব স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে এখনো অনেক কিছু শোনার বাকি। ২রা সেপ্টেম্বর ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুবরামানায়াম জয়শংকর বলেন, কাশ্মীরের সন্ত্রাসীদেরকে তাদের নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেই সেখানে ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। আলাদা করে শুধু সন্ত্রাসীদের জন্য এই সেবা বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব নয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ বিষয়ে অবহিত আছে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ থাকলেও বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখা ভারতীয় সংবিধানের বিরোধী।
কাশ্মীর থেকে পাওয়া গণগ্রেপ্তার, বেসামরিক নাগরিকদের নির্যাতন, রাবার বুলেট, পেলেট গান ও টিয়ারগ্যাসের বাছবিচারহীন
ব্যবহারের নিন্দা জানায় অ্যামনেস্টি। একে এই অঞ্চলের সব থেকে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও সেখানকার মানুষজন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। আতঙ্কে বেশিরভাগ মানুষ ঘর থেকে বেরুচ্ছে না।

Friday, August 23, 2019

দুই বছরেও অনিরাপদ রাখাইন বিচার হয়নি জড়িতদের -অ্যামনেস্টির রিপোর্ট

রাখাইন রাজ্যকে এখনো অনিরাপদ বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো নৃশংসতার দু’বছর হতে চলেছে, অথচ এর জন্য যারা দায়ী তারা এখনো বিচারের হাত থেকে দূরে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। আগামী রোববার রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনার দু’বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাদের ওই অভিযানে নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার। জাতিসংঘের তদন্তকারী দল ওই নৃশংসতার তদন্তে বলেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে। গণহত্যা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষোভ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদ মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিচারের প্রস্তাব উত্থাপন করলেও এখনো ওইসব জেনারেল তাদের পদে বহাল আছেন।
তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলাকে তত্ত্বাবধান করেছেন। রাখাইনের আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতের পর কীভাবে নতুন করে সেখানে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে সেনাবাহিনী তা প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস বিকুয়েলিন বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবর্তনের জন্য যে পদক্ষেপ সম্প্রতি নিয়েছে, তাতে আশ্রয়শিবিরের শরণার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ ও গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার স্মৃতি এখনো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে ভাস্বর। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এতটাই শক্তিধর ও অনুতাপহীন যে, রাখাইনে যে কারো ফিরে যাওয়া এখনো অনিরাপদ। এই ভয়াবহ বার্ষিকী এটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ। তারা ব্যর্থ ওই গণ নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে। জরুরিভিত্তিতে মিয়ানমার পরিস্থিতিকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত নিরাপত্তা পরিষদের এবং দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত।

Sunday, August 18, 2019

কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে দাবার ঘুটির মতো আচরণ করবেন না: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ভারত সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে দাবার ঘুটির মতো আচরণ না করা।

গতকাল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে যোগ দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব কুমি নাইডু ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংকটে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে দাবার ঘুটির মতো আচরণ করা উচিত নয়। কাশ্মীরের জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এগিয়ে আসা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েক দশক পর ফের প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বৈঠক করছে। পরিষদের সদস্যদের স্মরণে রাখা উচিত তাদেরকে মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। সুতরাং জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে মানবাধিকার রক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত তাদের।’

ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতি আমাদের আহবান তারা  যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং মানদণ্ড অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরের মানুষদের সঙ্গে আচরণ করে। রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার ও আটক এবং জনগণের চলাচলের স্বাধীনতার ব্যাপারেও যেন তারা তা মেনে চলে।’

নাইডু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের পদক্ষেপসমূহ সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
>>সাউথ এশিয়ান মনিটর।

Wednesday, June 19, 2019

মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে, দায় নিতে হবে সরকারকে

মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিশর সরকারকে। মুরসি কারাগারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পান নি। এর প্রতিবাদে দেশে দেশে মিশরীয় দূতাবাসগুলোর বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড। মুরসি মারা যাওয়ার পর মঙ্গলবার কায়রোর পূর্বাঞ্চলে মদিনা নাসর কবরস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার আইনজীবী আবদেল মোনেম আবদেল মাকসুদ বলেছেন, এ সময় মুরসির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোববার তিনি আদালতে অচেতন হয়ে পড়েন।
এর একদিন পরেই সোমবার মারা যান মুরসি। তার নামাজে জানাজা পড়ানো হয়েছে তোরা জেলখানার হাসপাতাল এলাকায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি। আরব বসন্তের ধারাবাহিকতায় ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের পতনের পর মিশরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় ২০১২ সালে। ওই নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি। এটাই সেখানে প্রথম কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন নি মুরসি। এক গণ প্রতিবাদ ও সামরিক অভ্যুত্থানে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। ক্ষমতা কেড়ে নেন সেনা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তারপর তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ওদিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর পরই গ্রেপ্তার করা হয় মুরসিকে। তারপর থেকে তিনি জেলেই ছিলেন।
মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে তারা তাদের নেতা মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুকে একটি হত্যাকা- আখ্যাযিত করে তার জানাজায় গণজমায়েত আহ্বান করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তাকে দাফন করার সময় মদিনা নাসর কবরস্থান ছিল ফাঁকা। কোনো নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষকে দেখা যায় নি সেখানে। তবে নিজেদের ওয়েবসাইটে মুসলিম ব্রাদারহুড একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে সারা বিশ্বে মিশরীয় দূতাবাসের বাইরে প্রতিবাদে জমায়েত হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্রাদারহুড।
বেশ কয়েক বছর ধরে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছিল যে, মুরসির সঙ্গে কারাগারে অশোভন আচরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই অধিকারকর্মীরা বলছেন, তার মৃত্যুকে জেলখানায় নিঃসঙ্গ রেখে তার ওপর পর্যায়ক্রমে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষাপতে দেখা উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মুরসির মৃত্যুর দায় এখন মিশর সরকারকে নিতে হবে। তারা তার উপযুক্ত মেডিকেল সেবা ও কারাগারে বন্দির মৌলিক অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে।  অন্যদিকে একই রকম বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আরেক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিশর সরকারকে। মুরসি মারা যাওয়ার শেষ কয়েক ঘন্টায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মোহাম্মদ মুরসির বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনি সহ বিভিন্ন রোগে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। ২০১২ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি ২০ বছরের জেল ভোগ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কমপক্ষে ৬টি মামলা। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ কাতার সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দাগিরির দায়ে তাকে দেয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন জেল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে জেলবিদ্রোহ করা, বিচার বিভাগকে অবমাননা করা ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ। তবে তার সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।

Monday, June 10, 2019

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে রিপোর্ট ফাঁস: বিস্মিত অ্যামনেস্টি ও পর্যবেক্ষকরা

দুই বছরে মাত্র ৫ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেয়া নিয়ে আসিয়ানের ফাঁস হওয়া রিপোর্টের কড়া নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষক। ওই রিপোর্টে সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় যেসব রোহিঙ্গা দেশছাড়া হয়েছেন, সেই নৃশংসতার বিষয় উল্লেখ করতে ব্যর্থতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। এ সংস্থার মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লরা হাই বলেছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ঘটবে এমনটা ভাবা হাস্যকর। বার্তা সংস্থা এএফপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরের অনলাইন দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
এতে বলা হয়, আসিয়ানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম (আসিয়ান-ইআরএটি) প্রণীত ওই রিপোর্ট দেখতে পেয়েছে এএফপি। এতে দুই বছরের মধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলা হয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। ওই রিপোর্টে রাখাইনে চলমান গৃহযুদ্ধের বিষয়ও অবজ্ঞা করা হয়েছে। এমন কি নির্যাতত মুসলিমদেরকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয় নি।
এ নীতি অবলম্বন করে থাকে মিয়ানমার।
এএফপি লিখেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে নির্যাতিত হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু এই রিপোর্টে তাদেরকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতে বাংলাদেশে অবস্থানকারী এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী ভুলপথে পরিচালিত হবে। বিদ্রোহীদের মূলোৎপাটনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেছে। সীমান্তের এপাড়ে পাঠিয়ে দিয়েছে দমনপীড়নের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তারা বেশ কয়েক দফা নির্যাতনকে বেছে নিয়েছে। ব্যাপকহারে হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা একে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিচারের আহ্বান জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ পর্যন্ত অগ্রগতি ওইটুকুই। কোনো রোহিঙ্গা নিরাপত্তা ও অধিকার ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কায় মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি নয়। এ অবস্থায় ‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপ্যাট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ ৫ লাখ রোহিঙ্গার ফেরত যাওয়া নিয়ে কাজ করে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা এই ৫ লাখ হিসেবেই স্বীকার করে। কিন্তু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দেয়া সংখ্যার চেয়ে এই সংখ্যা অনেক কম।
ওই রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে মিয়ানমার।

Sunday, May 26, 2019

সৌদি বিচার প্রক্রিয়া: জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়, অতঃপর শিরশ্ছেদ

সৌদি আরবে সরকারবিরোধী অথবা সংখ্যালঘু নিরাপরাধ ব্যক্তিদের কাছে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের মধ্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভয়াবহ বাস্তবতা উঠে এসেছে সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানে। ক’দিন আগে রিয়াদের পক্ষ থেকে যে ৩৭ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জনের বিচার কার্যক্রমের নথি হাতে পেয়েছে ওই মার্কিন সংবাদমাধ্যম। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। সরকারবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গড়ে তোলার কথিত অপরাধে। শিরশ্ছেদের শিকার ওই ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম।
গত ২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সৌদি আরব ৩৭ জন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। রিয়াদ, মক্কা, মদিনা, সংখ্যালঘু শিয়া অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চল প্রদেশ ও প্রধানত সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চল কাসিমে এ শিরশ্ছেদ করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর একজনকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। অন্যদের প্রতি সতর্কবাণী হিসেবে এ দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএর খবর অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে জড়ানো, চরমপন্থী মতাদর্শ পোষণ, দুর্নীতি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সন্ত্রাসী সেল গঠনের কারণে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া তিনটি বিচারিক নথিতে ওই ৩৭ জনের মধ্যে ২৫ জনের তথ্য পেয়েছে সিএনএন। আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিরেশ্ছেদর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। জবানবন্দিতে তারা দাবি করেছিলে, নির্যাতনাকারীরাই তাদের স্বীকারোক্তি লিখে দিয়েছিল। কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদ কালে নির্যাতনের প্রমাণ তুলে ধরেন। দণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মুনির আল-আদম নামের ২৭ বছর বয়সী একজন। তিনি শারীরিকভাবে অন্ধ ও বধির। প্রাণভিক্ষার আবেদনে তিনি বলেন, ‘স্বীকারোক্তির লেখা আমার নয়। আমি কোনো স্বীকারোক্তি লিখিনি। এই অপবাদ জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তা নিজ হাতে লিখেছেন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সর্বকনিষ্ঠের নাম আব্দুল কারিম আল-হাওয়াজ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আল-হাওয়াজের মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবরে কড়া সমালোচনা করে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে তাঁর মুক্তিতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আরেক অপ্রাপ্তবয়স্কের নাম মুজতবা আল-সুয়েকাত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। মুজতবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে চেয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে দাম্মাম বিমানবন্দরে এলে তিনি গ্রেপ্তার হন।
অবশ্য বিচার নিয়ে এসব নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির সরকার। তবে এক সরকারি কর্মকর্তা শিরশ্ছেদের দিন সিএনএনকে বলেন, অনেক আগে থেকেই সৌদি আরব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং আমাদের মূল্যবোধ নষ্ট করে, তাদের কোনো ছাড় নেই। যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল এবং তাঁরা সেখানে দোষী সাব্যস্ত হন।’
সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, এই ৩৭ জনকে নিয়ে সৌদি আরবে এ বছর অন্তত ১০০ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী গত বছর শিরশ্ছেদ করা হয় ১৪৯ জনের।

Wednesday, February 13, 2019

রাখাইনে গ্রামে ফেলা হয়েছে গোলা, ত্রাণ নিতে বাধা -অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানে নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা গ্রামগুলোর ওপর শেল বা গোলা নিক্ষেপ করছে।   বেসামরিক লোকজনকে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা সুবিধা নেয়া থেকে বিরত রেখেছে তারা। আগে যেসব সেনা ইউনিট নৃশংসতা ঘটিয়েছে তাদেরকেই মোতায়েন করা হয়েছে রাখাইনে। গত ডিসেম্বর থেকে সেখানে এ ঘটনায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫২০০ মানুষ। নতুন একটি রিপোর্টে সোমবার এসব অভিযোগ করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ বছর জানুয়ারির শুরুতে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা করে সশস্ত্র আরাকান আর্মি নামের একটি গ্রুপ। তার পর থেকে নতুন করে এই দমনপীড়নের বিষয়ে অভিযোগ তুললো অ্যামনেস্টি। সংগঠনটির ক্রাইসিস রেসপন্স বিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, এটি আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কোনো রকম মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না।
যেকোনো পরিস্থিতিতে বসতি আছে এমন গ্রামের ওপর গোলা নিক্ষেপ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা সমর্থনের অযোগ্য। অ্যামনেস্টি বলেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট ও  সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর যে ডিভিশনগুলো নৃশংসতায় জড়িত ছিল তাদেরকে সম্প্রতি রাখাইনে ফের মোতায়েন করা হয়েছে। তিরানা হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, প্রমাণ সাপেক্ষে বলে যে, তারা আরো ভয়াবহভাবে অধিকতর সিরিয়াসভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোমবার রাখাইনে চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার বিষয়ে নতুন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। এর শিরোনাম ‘মিয়ানমার: ফ্রেস এভিডেন্স অব ভায়োলেশনস অ্যামিড অনগোয়িং মিলিটারি অপারেশন ইন রাখাইন স্টেট’। এই রিপোর্টে অ্যামনেস্টি বলেছে, রাখাইনে বেসামরিক মানুষকে আটক করার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও নিষ্পেষণমূলক আইন ব্যবহার করছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। আর এসব ঘটছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট হওয়ার পরও। ওই রিপোর্টে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মিয়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমারের ওইসব কর্মকর্তা রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, কাচিন ও উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালিয়েছেন। আরাকান আর্মির হামলা সম্পর্কে অ্যামনেস্টি লিখেছে, ২০১৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছিল মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস। এদিন রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে চারটি পুলিশ পোস্টের ওপর সুসংগঠিত হামলা চালায় জাতিগত রাখাইন সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মি। ওই হামলায় ১৩ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। আরাকান আর্মি মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই জোরালো করেছে। তারা চীন ও রাখাইন রাজ্যে দৃষ্টি সরিয়ে এনেছে সম্প্রতি। এসব সংঘাতের মূল বিন্দু তাদের নিরাপত্তা রক্ষী।

Wednesday, November 14, 2018

অ্যামনেস্টির খেতাব হারালেন সু চি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'কে দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রত্যাহার করে নিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভবে এ ঘোষণা দেয় মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনটি। এতে বলা হয়, সু চি তার এক সময়কার নৈতিক অবস্থান থেকে 'লজ্জাজনকভাবে' সরে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে সেখান থেকে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সু চি'কে দেওয়া খেতাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, কানাডার পার্লামেন্টের দেওয়া সম্মানসূচক নাগরিকত্ব, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের দেওয়া সম্মাননা, গ্লাসগো নগর কাউন্সিলের দেওয়া ফ্রিডম অফ সিটি খেতাবসহ আরও অনেক সম্মাননা। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো লন্ডনভিত্তিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এর আগে জাতিসংঘও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্মি সেনাবাহিনীর অভিযানকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছে। এই অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছে।
২০০৯ সালে অং সান সু চি'কে 'অ্যাম্বাসাডর অব কনশেন্স' বা 'বিবেকের দূত' খেতাব দিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গৃহবন্দি থাকার সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অং সান সু চি'র শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। সেই সম্মাননাই এখন প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। সংস্থাটির মহাসচিব কুমি নাইডু এক চিঠির মাধ্যমে অং সান সু চি'কে এই খবর জানিয়ে দিয়েছেন।
কুমি নাইডু লিখেছেন, ‘আট বছর আগে গৃহবন্দি থাকা নেত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পর তার রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা ভুলে সামরিক বাহিনীর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সংস্থার একজন দূত হিসেবে সু চি'র কাছে প্রত্যাশা ছিল, শুধু মিয়ানমারের ভেতরে নয়, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের অবিচারের বিরুদ্ধে আপনি আপনার নৈতিক কর্তৃত্ব ও ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু আমরা গভীর দুঃখ ভারাক্রান্ত। কারণ আপনি আর আশা, সাহস এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেন না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আপনাকে দেওয়া 'অ্যাম্বাসেডর অব কনসায়েন্স' সম্মাননা অব্যাহত রাখার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি'র নেতৃত্বে বেসামরিক সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল।
রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযানের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, গত বছর নিধনযজ্ঞ চলার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে হাজারো মানুষ। ধর্ষিত হয়েছে অগণিত নারী ও শিশু, আটক ও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পায়নি বৃদ্ধ, শিশু এবং কিশোরও। শতাধিক গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় অস্বীকার করে অং সান সু চি ও তার দফতর তাদের রক্ষা করেছে।
কুমি নাইডু লিখেছেন, ভয়ঙ্কর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের এসব ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে কিংবা রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত লাখো রোহিঙ্গার জীবনমান উন্নয়নের বা পরিবর্তনের আশা ক্ষীণ। নৃশংসতা থামাতে ভবিষ্যতে সরকারের উদ্যোগ কেমন হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায় যখন একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের কথা অস্বীকার করে রাষ্ট্রযন্ত্র।
সংস্থাটি বলছে, সামরিক বাহিনীর বিস্তর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আইন তৈরি ও সংশোধনের বেশ কিছু ক্ষমতা ছিল বেসামরিক সরকারের হাতে। কিন্তু অং সান সু চি'র সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দু'বছরের মাথায় মানবাধিকার কর্মী, শান্তিকর্মী ও সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়, হয়রানির শিকার এমনকি কারাবরণ করতে হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি সাহায্য করুন আর নাই করুন, মিয়ানমারে বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতের ব্যাপারে তারা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। সূত্র: বিবিসি।

Tuesday, November 13, 2018

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিষ্পেষণমূলক

বাংলাদেশে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি আক্রমণ (অ্যাটাক) বলে আখ্যায়িত করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক  সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার নতুন এক ব্রিফিংয়ে এমনটা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এর আগের যে আইনটির পরিবর্তে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে তা আরো অনেক বেশি নিষ্পেষণমূলক।
‘মাজলিং ডিসেন্ট অনলাইন’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ আইনে রয়েছে অস্পষ্ট ও অত্যধিক বিস্তৃত সব ধারা। এটা ব্যবহার করা হতে পারে ভয় দেখাতে, সাংবাদিকদের জেলে নিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে, ভিন্নমতকে দমন করতে। এ ছাড়া ব্যবহার হতে পারে নজরদারির ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক আকারে।
গত ছয় বছরে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি) ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করেছে কমপক্ষে ১০০০ মানুষকে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক দিনুশিকা দিশানায়েকে বলেছেন, অতীতে আইসিটি আইন ব্যবহার করে কমপক্ষে ১২০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশে। সেই অতীত ভেঙে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে নতুন এই কঠোর আইন আরো বেশি দমনমূলক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্ত মত প্রকাশকে অনেক রকমভাবে অপরাধের আওতায় নেয় (ক্রিমিনালাইজ) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এতে আছে উচ্চ হারে জরিমানা। শাস্তি হিসেবে আছে জেল। আন্তর্জাতিক আইন ও তার মানদণ্ডের সঙ্গে এই আইন বেমানান। তাই অবিলম্বে এ আইনটি সংশোধন হওয়া উচিত। 
আইসিটি আইনের সমালোচিত অনেকগুলো ধারা পাল্টাতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ মেনে নেয়া সহ বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার সম্মত হওয়া সত্ত্বেও জিডিটাল নিরাপত্তা আইনে বেশ কিছু ধারা রয়েছে যা মানবাধিকারের জন্য একই রকম ভয়াবহ হুমকি প্রদর্শন করে। এতে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা নেই। এতে রয়েছে দমনমূলক জামিন অযোগ্য ১৪টি অপরাধের শাস্তি। এই আইন সরকারের হাতে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ডকে তদন্ত করার ক্ষমতা নিশ্চিত করবে। চাইলেই বিটিআরসি ইন্টারনেটে থাকা যেকোনো ধরনের তথ্য মুছে ফেলার অধিকার রাখে। পুলিশ চাইলেই কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

Wednesday, March 21, 2018

তারা জীবনের জন্যে লড়ে, আর আমরা তাদের জন্য by লিন হাশেম

কেমন লাগে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে? অসুস্থ সন্তানকে খাদ্য এবং চিকিৎসা দিতে না পারলে। দূষিত নোংরা পানি দিয়ে খাবার ধুতে হলে। একের পর এক নির্ঘুম রাত বোমাবর্ষণের ভেতর জীবনের হুমকি নিয়ে কাটাতে। নিজের ভালবাসার শহরকে ধংসস্তুপে পরিণত হতে দেখতে। কেমন লাগে? প্রতিদিন নিজেকে এই প্রশ্নটি না করে আমি॥ পারি না। যেহেতু সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় অবস্থান করার কারণে প্রতিদিনই আমাকে সেখানে অবরুদ্ধ থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, আমি প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে পারি না। আসলে কেমন লাগে- প্রতিটা দিন নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের হুমকি নিয়ে বাঁচতে?
সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটার প্রাত্যহিক বাস্তবতা এমনই। এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ। তবে তারা যে সেখানে স্বেচ্ছায় বসবাস করছে- তা নয়। ২০১২ সাল থেকে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর অবরোধে আটকে আছে এসব মানুষ। সেখানে চিকিৎসা, খাদ্য, পানি ও ওষুধপত্রের তীব্র সঙ্কট। তার ওপরে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার সঙ্গে মিলে অবরোধ আরো জোরদার করে সিরিয়া। বেড়ে যায় তা-বের পরিমাণ। ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনা এবং নাগরিকদের বোমাবর্ষণ এবং হামলার লক্ষবস্তুতে পরিণত করা হয়। এমনকি হাসপাতাল বাজারগুলোতেও হামলা চালানো হতে থাকে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কম মরাকান্না কাঁদে নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি এক মাসের যুদ্ধবিরতির আবেদন করে, যাতে করে অঞ্চলটিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া যায়। এতে সম্মতি দেখালেও বাস্তবে কিন্তু হামলা ও বোমাবর্ষণ থামায় নি সিরিয়া। ফলে বাধ্য হয়েই ৫ই মার্চে ত্রাণবাহী গাড়িবহর আংশিক ত্রাণ বিতরণ করে পূর্ব ঘৌটা ত্যাগে বাধ্য হয়।
সিরিয়ায় নৃশংসতা চলছে সাত বছর ধরে। সাত বছর ধরে দেশটির আলেপ্পো, হোমস, রাকা, ইদলিব ও আফরিনসহ অন্যান্য শহরে চলছে মৃত্যু, ভয়, কষ্ট এবং ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা। এই সাত বছরের মধ্যে ছয় বছরই পূর্ব ঘৌটার অধিবাসীরা বেআইনিভাবে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এর ভেতরেই তারা বেঁচে আছেন।
যখন আমি এসব ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত, রাগান্বিত কিন্তু নির্ভীক মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলি, তাদের ভেতরকার লড়াকু জীবনীশক্তি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই। পূর্ব ঘৌটা যদিও একটি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে, এটি কিন্তু বাঁচতে চাওয়ার তীব্র আকাঙ্খার প্রতীকেও পরিণত হয়েছে। সম্ভাব্য মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও হাল না ছেড়ে মানুষ কিভাবে বাঁচার চেষ্টা করে- তার মূর্ত প্রতীক পূর্ব ঘৌটার অধিবাসীগণ। এই অমানবিক পরিস্থিতি পৃথিবীকে চরম লজ্জার সামনে দাড় করিয়ে দেয়। এই নারকীয় অবস্থার মধ্যেও এই অঞ্চলের অধিবাসীদের অব্যাহত লড়াই দেখে আমাদের চেতনা জাগ্রত হওয়া উচিত। প্রতিবাদ জানানো উচিত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। অথচ, সাত বছর ধরেই এই নারকীয়তা চলে আসছে! অবস্থাদৃষ্টে সিরিয়ার সঙ্কট আমাদের আশা, ভরসা কিংবা প্রার্থনার উর্ধ্বে চলে গেছে। এভাবে কি চলতে থাকবে অনির্দিষ্টকাল? না। তা হতে পারে না। আমাদের বিবেকের ঘুম ভেঙে জাগতে হবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে অব্যাহতভাবে দাবি জানাতে হবে এই নারকীয়তা বন্ধের। জরুরীভিত্তিতে সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। উঠিয়ে নিতে হবে পূর্ব ঘৌটায় আরোপিত অবরোধ। এই দাবিতে গলা মেলাতে হবে সবার। মনে রাখতে হবে, পূর্ব ঘৌটার অধিবাসীরা যেমন প্রতিনিয়ত জীবনের জন্যে লড়ছে; আমাদের লড়তে হবে তাদের জন্যে।
(লিন হাশিম অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিরিয়া ক্যাম্পেইনার। মানবাধিকার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার নিবন্ধের অনুবাদ করেছেন নাজমুস সাদাত পারভেজ)

Sunday, March 18, 2018

অস্ট্রেলিয়ায় সুচি, মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিবাদ

একদিকে মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবাদ, আইনজীবীরা বিচার চেয়ে আবেদন, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ ‘অস্ট্রেলিয়া-আসিয়ান’ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি সিডনি পৌঁছেছেন। সেখানে তার উপস্থিতিকে দেখা হচ্ছে হারানো আশাকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়া হিসেবে। এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর নয়জন নেতা এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কম্বোডিয়ার ‘স্ট্রংম্যান’ হিসেবে পরিচিত হুন সেন ও ভিয়েতনামের নগুয়েন সুয়ান ফুক। এ দু’জনও নিষ্পেষণ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে কয়েকজন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের একজন কবির আহমেদ। তিনি ২০১৩ সালে শতাধিক মানুষ বোঝাই একটি বোটে করে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেন। তাকে জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা ছুটে বেড়াতে হয়েছে। তাই তার আটটি সন্তানের জন্ম হয়েছে এক এক দেশে। কেউ জন্মেছেন মিয়ানমারে। কেউ মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু জন্ম নিলেও কোনো দেশেরই নাগরিক হতে পারেন নি তিনি বা তার সন্তানরা। এখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ছোট্ট একটি গ্রুপের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। চালান একটি মুদি দোকানি। কবির আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী কঠোর কৌশল অবলম্বন করে। এই সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সেনাদের মতো নয়। তারা কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ হত্যা করে। তার মতে, অং সান সুচি ক্ষমতায় আসার আগে মিয়ানমারের পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। আমাদেরকে কাজ করতে দেয়া হতো না। স্বাধীনভাবে চলতে দেয়া হচ্ছে না। তারপরও আমাদেরকে নির্যাতন করা হতো। আমাদের ওপর থাকতো তাদের কড়া নজরদারি। তবুও অন্তত সেখানে বসবাস করতে পারতাম আমরা। কিন্তু সুচি ক্ষমতায় আসার পর আমাদেরকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ওদিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা জাতি নিধনে অং সান সুচি নিষ্ক্রিয় থাকায় তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে সারাবিশ্ব থেকে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু আইনজীবী সুচির বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে বিচার চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দেশটি রোববার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আইনজীবীদের ওই আবেদনের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার এটর্নি জেনারেল বলেছেন, সুচি দায়মুক্তির সুবিধা পান। মিয়ানমারের জটিল রাজনৈতিক হিসাবের অধীনে এখনও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের কারণেই অং সান সুচিকে সারাবিশ্বের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে তাদের ওপর কড়া চাপ রয়েছে, যাতে তারা মিয়ানমার ইস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সিডনি সম্মেলনে মানবাধিকার ইস্যুতে জোর দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তবে মানবাধিকার ইস্যুটি যদি তোলাও হয় বা আলোচনা হয় তা হবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। প্রকাশ্যে নয়। ফলে মিয়ানমার ইস্যুতে লজ্জাজনক নীরবতা অবলম্বনের কারণে আসিয়ান নেতাদের অভিযুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত অঞ্চলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক জেমস গোমেজ বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ানের অবশ্যই মিয়ানমারের প্রতি একটি বার্তা দেয়া উচিত। তা হলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ গ্রহণযোগ্য নয। এমন অপরাধ শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেয়া হবে না।

Wednesday, November 4, 2015

লন্ডনে অ্যামনেস্টির সামনে প্রতিবাদ, স্মারকলিপি

বিবৃতি প্রত্যাহার চেয়ে ডেভিড গ্রিফিথের হাতে একটি
স্মারকলিপি তুলে দেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া বিবৃতির প্রতিবাদে লন্ডনে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চ যুক্তরাজ্য শাখার ডাকে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি থেকে সংস্থাটির বিবৃতি প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে ওই ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল তিনটা থেকে লন্ডনের ইস্টন স্ট্রিটে অ্যামনেস্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় তাঁরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দেওয়া অ্যামনেস্টির বিবৃতির বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান শেষে তাঁরা অ্যামনেস্টির সাউথ এশিয়ান ট্রানজিশনাল লিড অ্যান্ড রিসার্চ ডাইরেক্টর ডেভিড গ্রিফিথের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। এতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দেওয়া অ্যামনেস্টির বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। ডেভিড গ্রিফিথই অ্যামনেস্টির পক্ষে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন।
গণজাগরণ মঞ্চ যুক্তরাজ্য শাখার সমন্বয়ক অজন্তা দেব রায়ের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন কবি গোলাম কবির, কবি হামিদ মোহাম্মদ, কবি মুজিবুল হক মনি, রম্য রহিম, সাগুফতা শারমিন তানিয়া, মো. সালিম মাহমুদ, নাহিদ জায়গীরদার, কামরুল হাসান তুষার, সিনথিয়া আরেফিন, তাজুল ইসলাম, এমএম হোসেইন, রোমেল আলাউদ্দিন প্রমুখ।
অ্যামনেস্টির বিবৃতির বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো