Friday, April 29, 2011

উইলিয়ামই ছিলেন কেটের স্বপ্নপুরুষ

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তিনি ছিলেন কেট মিডলটনের স্বপ্নপুরুষ। উইলিয়ামকে নিয়ে ঘর বাঁধবেন—এমন স্বপ্নের কথা ঘনিষ্ঠজনদেরও বলেছেন কেট। একসময় কেটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, এমন একজন জানিয়েছেন এ কথা। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ক্যাল টমলিনসন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
২০০১ সালে স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে কিছুদিন ছুটি ছিল কেটের। সে সময় প্রমোদতরী (ইয়ট) ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জ বিজনেস-এ কাজ করেন কেট। ওই প্রতিষ্ঠানে সহকর্মী হিসেবে কেটকে পেয়েছিলেন টমলিনসন। সে অভিজ্ঞতার কথা এক সাক্ষাৎকারে দ্য নিউ এজ পত্রিকাকে জানান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যান্ড্রুজে যাওয়ার পর উইলিয়ামের সঙ্গে কেটের সাক্ষাৎ ও প্রেম হয়।
টমলিনসন বলেন, তাঁদের কাছে কোনো কথা লুকাননি কেট। শিগগিরই সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। আরও বলেন, সেখানে যাওয়ার পেছনে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে উইলিয়ামের মন কাড়া।
কেটের পুরোনো সহকর্মী বলেন, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিতে আরও যেসব তরুণ-তরুণী কাজ করতেন, তাঁদের চেয়ে আলাদা ছিলেন কেট। একটু ভারিক্কি ভাব নিয়ে থাকতেন তিনি। এক সহকর্মী তো তাঁর প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খেতে লাগলেন। টমলিনসন বলেন, ‘শেষে আড়ালে নিয়ে তাঁকে আমি বোঝাই, কেট তাঁর জন্য নন। কেটের চাওয়া আরও বড়।’
টমলিনসন বলেন, কেট খুব মন দিয়ে কাজ করতেন। খুব ভোরে উঠতে হতো তাঁদের। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ইয়টগুলো সাফসুতরো করতে হতো। এতে প্রচুর ঘষামাজার দরকার হতো, যা খুব পরিশ্রমের কাজ ছিল। তবে এই কঠোর পরিশ্রমে মোটেও পিছপা হতেন না কেট।

প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের হার কমিয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি

দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা আসন্ন ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের (যা করপোরেট কর নামে পরিচিত) হার কমিয়ে আনাসহ বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই), ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন সরকারের কাছে এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা তাদের কাম্য হারও সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর দিতে হয়।
এফবিসিসিআইয়ের তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান আয়করের হার কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে করের হার প্রস্তাব করা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ হলো, উৎপাদনকারী বা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর সাড়ে ২৭ শতাংশ আর এর বাইরের তথা কাববারি বা ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়করের হার ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।
আবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমানে সাড়ে ২৭ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর দিতে হয়। এফবিসিসিআই এই হার কমিয়ে ২৫ শতাংশে নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
আর ঢাকা চেম্বার তাদের প্রস্তাবে বলেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মুনাফার ওপর করের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে হবে।
আবার ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আয়করের হার আলাদা। বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর গুনতে হয়। ঢাকা চেম্বার এই হার ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।
এ ছাড়া মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ঢাকা চেম্বার এই হার কমিয়ে সাড়ে ৪২ শতাংশ নির্ধারণের পক্ষে।
ঢাকা চেম্বার আরও মনে করে, যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আয়করের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩২ শতাংশ করা যেতে পারে। তবে শর্ত হিসেবে শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বদলে ২০ শতাংশ পুনর্নির্ধারণেরও প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর কমানোর যুক্তি হিসেবে ঢাকা চেম্বার বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে (যেমন: চীন, মালয়েশিয়া) করপোরেট করের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা এবং দেশের বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করতে এখানেও করপোরেট করের হার যৌক্তিকীকরণ প্রয়োজন।
এফবিসিসিআই বলছে, দেশে বিদ্যমান করপোরেট করের হার অনেক বেশি, যা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক আয় প্রদর্শনে করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। এই হার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এলে করদাতা কোম্পানি অধিক কর প্রদানে এগিয়ে আসবে।
আবার ম্যানুফ্যাকচারিং ও ট্রেডিং উভয় কোম্পানির ক্ষেত্রে একই হারে কর আরোপ যুক্তিযুক্ত নয়। ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি বিধায় তাদের প্রণোদনা প্রদানের জন্য ট্রেডিং কোম্পানির চেয়ে নিম্নহারে কর আরোপণ যুক্তিযুক্ত।
এফবিসিসিআই তফসিলভুক্ত সিএসআর (সামাজিক দায়বদ্ধতা) কার্যক্রম, পণ্যমান পরীক্ষণব্যবস্থা, ফ্যাসিলিটি টুল সেন্টার স্থাপন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রভৃতি খাতের ব্যয় আয়করমুক্ত রাখার সুপারিশ করেছে।
পাশাপাশি এনজিওগুলো কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যবসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত পুঁজি এবং এর দ্বারা পরিচালিত ব্যবসা-বাণিজ্য উভয়ই মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সমহারে আয়করের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এফবিসিসিআই আরও মনে করে, পদ-পদবিনির্বিশেষে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সবাইকে করের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে তাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-আয় যদিও করযোগ্য, বাস্তবে তা করমুক্ত। কারণ তাঁরা বেতন আয়ের ওপর যে পরিমাণ কর প্রদান করেন, তা পরবর্তী সময়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিলের মাধ্যমে উঠিয়ে নেন। অথচ বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিশোধিত কর আয়ের সঙ্গে যোগ করে করের হার নির্ধারণ ও তদনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়।
করমুক্তির এই বৈষম্যমূলক সুযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

ডিএসইতে এক দিন পর আবার সূচক কমেছে

পুঁজিবাজারে আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেনে শুরুটা ভালো হলেও শেষটা আর শুরুর মতো থাকেনি। গতকাল পুঁজিবাজারে শুরুতে সূচক কমলেও শেষ দিকে হঠাত্ উল্লম্ফন ঘটে। সূচক বেড়ে যায় ২৭৬ পয়েন্ট। আজ হয়েছে তাঁর উল্টো। দিনভর ভালো কাটলেও শেষ দিকে সূচক নিম্নমুখী হয়ে যায়।
আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিন শেষে সূচকের সঙ্গে কমেছে দেড় শতাধিক শেয়ারের দাম। তবে লেনদেন গত দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ৫৪.৫৭ পয়েন্ট কমে ৬০২৮.৩১ পয়েন্ট দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ১৮১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। লেনদেন হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকার, যা গত দিনের চেয়ে ১৫৯ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, ডেসকো, তিতাস গ্যাস, বেক্সটেক্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটোমোবাইল, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, এনবিএল ও মালেক স্পিনিং।
আজ সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম আধ ঘণ্টা শেষে সূচক ৯৯ পয়েন্ট বাড়ে। এভাবে ধীরে ধীরে সূচক বাড়তে থাকে, তবে বেলা আড়াইটার পর থেকে সূচক কমতে থাকে। সূচক কমার এ ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

বাংলাদেশ ফান্ডের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন

পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডের রেজিস্ট্রেশন (ট্রাস্ট ডিড) সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সম্মেলন কক্ষে ফান্ডটির স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের উপস্থিতিতে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে কমিশন করে আজ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এর আগে আইসিবির বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে ফান্ডটির ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ফি কমানো এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কয়েকটি সিদ্ধান্ত রিভিউ করার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিবির মিউচুয়াল ফান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। সুতরাং বাংলাদেশ ফান্ড বিনিয়োগকারীদের আশাব্যঞ্জক মুনাফা দিতে পারবে।’
এদিকে এসইসির বিধি অনুযায়ী মোট ফান্ডের ১০ শতাংশ জমা থাকতে হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫০০ কোটি টাকা আজই সংশ্লিষ্ট স্পন্সর কর্তৃক ফান্ডে জমা পড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি রোড শো করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ফান্ডটির ইউনিট ওটিসিতে কেনাবেচা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড নামে ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ফান্ডটির স্পন্সর হিসেবে কাজ করছেন রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি, চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও জনতা, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।

অরাজক খুনের হিড়িক by মোহীত উল আলম

রাজশাহীতে ডাক্তারি পাঠরত তথাকথিত ছাত্র জ্যোতির্ময় আর সাব্বির তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাহাবুবকে নৃশংসভাবে খুন করার পর একটা বিষয় উদ্বেগের কারণ হয়েছে যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে। এর মাত্র ১০ দিন আগে একই শহরে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল হককে নির্মমভাবে খুন করে তাঁর ব্যবসার সহযোগী এবং খানিকটা বন্ধু সারোয়ার হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনা এ দুটি। সামনের দিনগুলোতে এ রকম খুন আরও ঘটতে পারে, সে শঙ্কা থেকে কেন এ রকম খুন বেড়ে গেল, কীভাবে তা নিবৃত্ত করা যায়, তার ওপর আলোকপাত করার জন্য বর্তমান লেখাটি।
পেশাদার খুনের সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ের খুনের তফাত হলো, যে ব্যক্তি আগে খুন করেনি, সে নির্মমভাবে খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পেশাদার খুনের বেলায় একটি স্পষ্ট ষড়যন্ত্রের ছক কাজ করে। তৃতীয় পক্ষের সংযোগ থাকে। পেশাদার খুনির তালিকা কখনো কখনো থানার পুলিশের কাছেও থাকে। ব্যক্তি পর্যায়ের খুন দুভাবে হয়। বচসা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে একজন আরেকজনকে মেরে ফেলল, যা আচমকা এবং কিছুটা দুর্ঘটনার মতোও, এ খুনের সঙ্গে সমাজ পরিচিত। জ্যোতির্ময় ও সাব্বির বা সারোয়ার এদের খুনের পদ্ধতি ব্যক্তি পর্যায়ের হলেও আচমকা ছিল না, ছিল পরিকল্পনার ছাপ, যাকে সাধারণ ভাষায় ঠান্ডা মাথায় খুন বলা হয়।
যুুদ্ধ, দাঙ্গা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ঘটিত খুনগুলো ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ের খুনকে নিবৃত্ত করার জন্য কোনো সমাজ তৈরি থাকে না। অর্থাৎ খুব সুশাসিত পুলিশ-নিয়ন্ত্রিত সমাজেও বন্ধু বন্ধুকে মেরে ফেলতে পারে, স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে। এ খুনগুলো না হওয়ার আগে পর্যন্ত পুলিশ জানতে পারবে না যে এগুলো হবে। যেমন—আজকের পত্রিকার (২৫ এপ্রিল) খবর অনুযায়ী, রায়েরবাজারে স্বামী শফিক স্ত্রী নাদিয়াকে মেরে ফেলল। এটা যে হবে পুলিশ আগে জানতে পারার কোনো উপায় ছিল না। তার পরও কিন্তু অপরাধ যে করবে, তার মনে আইন-পুলিশের ভয় থাকে। সে জন্য পুলিশ শক্তিশালী হলে, শক্ত আইনি ব্যবস্থা বজায় থাকলে খুন করতে মানুষ ভয় পাবে। শেকসপিয়ার তাঁর বিখ্যাত খুনি-নায়ক ম্যাকবেথের মুখ দিয়ে জানাচ্ছেন যে খুনের বিচার শুধু যে পারলৌকিক জগতে হয় তা নয়, এ জগতেও বিচার-ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তা হয়। ফলে আইনি ব্যবস্থার শাস্তির মাধ্যমে অনেক সময় খুনিকে তার নিজের ঠোঁটে খুনের বিষ-পেয়ালা তুলে নিতে হয়। ম্যাকবেথ বলছেন, ইহলৌকিক জগতের বিচারব্যবস্থার প্রতি ভয় না থাকলে খুনের সংখ্যা এ পৃথিবীর বুকে অনেক বেড়ে যেত। রেনেসাঁ যুগের শেকসপিয়ারের অন্যতম সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব ইংরেজ চিন্তাবিদ ফ্রান্সিস বেকন ফরাসি মনীষী মন্তেন বা মঁতের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর ‘অব ট্রুথ’ রচনায় বলেছেন, অপরাধী ঈশ্বরকে ভয় না পেলেও মর্ত্যের পুলিশকে ভয় পায়। সে জন্য শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী থাকলে অপরাধের হার কমত নিশ্চয়। তবে বাংলাদেশের পুলিশ দুর্বল—এ কথা বলে পার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ সংসদে একজন মন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন যে অন্যতম শক্তিশালী পুলিশের দেশ আমেরিকায় খুনের হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। এটা যদি সত্যও হয়, আত্মসন্তুষ্টির কোনো কারণ হতে পারে না, যেমন—প্রতিদিন ঠকে, এ রকম একজন জুয়াড়ি যদি একদিন জুয়া না খেলে এবং মনে করে, যে টাকাটা সে সেদিন হারায়নি, সেটা তার লাভ হলো; সেটা যেমন আত্মপ্রবঞ্চনা হবে, তেমনি বাংলাদেশ যদি মনে করে, তারা আমেরিকার চেয়ে খুনের সংখ্যায় পিছিয়ে আছে, তাই তারা উন্নততর দেশ, সেটাও তেমন আত্মপ্রবঞ্চনা হবে। কারণ, যেসব কারণে খুন হয় যেমন অর্থ, যশ, পদ, প্রেম-পরকীয়া ও নিছক হিংসা—তার কোনোটার অবস্থা বাংলাদেশে আমেরিকার চেয়ে আশাব্যঞ্জক সূচকে নেই।
ধর্মে খুনের কারণে ইহলোকে ও পরকালে শাস্তির বিধান আছে। ধর্ম মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে ও সৃষ্টিকর্তার শাস্তির কথা বলে মানুষের মনে খুন বা পাপ করার বিরুদ্ধে ভীতির সঞ্চার করে। কিন্তু খুনির মন মঁতে কথিত ওপরের উক্তি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে যত-না ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় পুলিশকে। আবার ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে মানুষ খুন করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় যুক্তি ব্যবহার করে। এ ধরনের খুনিরা নিজেদের আজরাইলের ভূমিকায় অবতীর্ণ করায়। অনেক সময় স্বপ্নে দেখা পীরের আজ্ঞায় মাতা তার শিশুসন্তানকে হত্যা করছে, এমনও ঘটতে দেখি সমাজে। এটিও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা এবং কুসংস্কারজাত হত্যাকাণ্ড।
একেকটা খুন একেকটা ঐকিক ঘটনা বা তুলনারহিত ঘটনা। যেমন—যে টাকার দেনার চাপে জ্যোতি ও সাব্বির খুন করল মাহাবুবকে, তার চেয়ে বহু বড় অঙ্কের টাকার বিসংবাদেও একজন আরেকজনকে খুন করে না। তাই একটা খুন হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে আরেকটা খুন না হওয়া পরিস্থিতির তুলনা চলে না। বড় কারণে যেমন, তেমনি সামান্য কারণেও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
মনে হয়, মানুষের অন্য সব প্রবৃত্তির মতো খুন করার প্রবৃত্তিও জিনগত। অর্থাৎ কোষ গঠনের কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ খুনি প্রবৃত্তিসম্পন্ন হতে পারে। যেমন—আমিনুলের হত্যাকারী সারোয়ার খুন করতে পারে, সে রকম লোক নাকি ছিল না। কিন্তু সে তো খুন করল। খুনের প্রবৃত্তি তার হয়তো জিনগত বৈশিষ্ট্য ছিল। ছিল লুকোনো অবস্থায়। পাশ্চাত্যে হত্যাকাণ্ড নির্ণয় এবং অপরাধী শনাক্তকরণে জিনভিত্তিক অনুসন্ধান ব্যাপক কার্যকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এটাও বলা যায়, বাংলাদেশের পুলিশ (র্যাবসহ) বর্তমানে অপরাধী ধরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বহুগুণ পারদর্শী হয়েছে। খুন করার পর খুনি ধরা পড়ছে না, এ রকম ঘটনা এখন অনেক কমে গেছে। জ্যোতি ধরা পড়লেও সাব্বির এখনো ধরা পড়েনি, কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে কিছুদিনের মধ্যে সেও ধরা পড়বে।
যা হোক, মাহাবুবকে খুন করা হয়েছে অর্থের লেনদেনের স্বার্থ থেকে। এ জন্য খুনের পেছনে অন্যতম কারণ বৈষয়িক, যেটা সমাজে আইনশৃঙ্খলার ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, প্রেম-পরকীয়াজনিত হত্যাকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হলেও বৈষয়িক জটিলতা থেকে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা একেবারে অসম্ভব নয়। কারণ, অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্রিয়া-প্রক্রিয়া থেকে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড প্রায়ই বেআইনি বা অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মপদ্ধতির কার্যকারণ থেকে সৃষ্ট হয়ে থাকে, যার ওপর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা, কিন্তু যা আসলে থাকে না। জিনিসটা এ রকম: পুরো দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর কার্যকলাপ, অর্থ বিনিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিচালনা, কর প্রদান ও গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও গ্রহণ ইত্যাদি কাজে এত বেশি অনিয়ন্ত্রিত বেআইনি সূত্র কাজ করছে যে তারই একটি উদাহরণ হিসেবে জ্যোতির কঙ্কাল ব্যবসাকে দেখা যায় এবং সেখানে মাহাবুবের খুনটা এসেছে কার্যকারণের সূত্রে অনিবার্য পরিণতি হিসেবে মাত্র। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সবগুলো সম্পর্কের পরিণতি হয়তো খুন হিসেবে আসছে না, কিন্তু খুন হওয়ার মতো আলামত তৈরি হচ্ছে। তারই একটা পরিণতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হত্যাকাণ্ডটি।
খুন সম্পর্কে শেষ কথাটি হলো, খুন একটি অপরাধ হলেও এর মধ্যে অপরাধীর সক্রিয় সৃজনশীলতা থাকে, যদিও ইতর অর্থে। খুনিকে নৃশংস বলা যাবে, কিন্তু বোকা বলা যাবে না। সে জন্য পুলিশকে খুনির ক্রিয়াশীলতার চেয়ে আরও তৎপর হতে হবে তার (খুনির) ক্রিয়াশীলতা (বা সৃজনশীলতাকে) বিনষ্ট করার জন্য। আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এদিকে অর্থাৎ পুলিশের মেধাশক্তি, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ইত্যাদি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে।
খুনের চরিত্র নির্ধারিত হয় খুনির পেশা ও অভিজ্ঞতা দ্বারা। যেমন—জ্যোতি আর সাব্বির ডাক্তারি পড়ত বলে এবং কঙ্কাল নিয়ে ব্যবসা করত বলে তারা জানত যে লাশকে নয় টুকরা না করেও শুধু সিমেন্ট দিয়ে আবৃত করলে সে লাশের পচা গন্ধ বের হবে না। খুন তাই একটি সর্বজনীন মনোবৈকল্য হলেও এটির রূপ ও ঘটনপদ্ধতি খুনির পেশা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতানির্ভর।
পরিশেষে কামনা করি, আর যেন আমার এ দেশে কোনো খুন না হয়।
ড. মোহীত উল আলম: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব, ঢাকা।
mohit_13_1952@yahoo.com

মূল্যস্ফীতির চাপ-আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিন

গত মঙ্গলবার ‘জাতীয় বাজেট ২০১১-১২’ শীর্ষক প্রস্তাব উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে যেসব তথ্য, বিশ্লেষণ ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে, তা মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ করা প্রয়োজন। জাতীয় অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থার চিত্র ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতির কিছু আভাস এ থেকে পাওয়া যাবে।
প্রথমত, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্টদায়কভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে বেশি; মধ্যবিত্তের জীবনমানের অধোগতিও বেগবান হয়েছে। প্রধান খাদ্য চালের দাম গত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দামও নানা হারে বেড়ে চলেছে। সরকার খাদ্য আমদানি করছে ও মজুদ বাড়াচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য কম মূল্যে চাল বিক্রির কর্মসূচি নিয়েছে; ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের খাদ্যসাহায্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব বিকল্প অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সে জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর উদ্যোগ। কিন্তু বিনিয়োগ-পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। শিল্প খাতে বিনিয়োগ আশানুরূপভাবে বাড়েনি, বাড়ছেও না। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও উন্নতি ঘটেনি। বর্তমান অর্থবছরের নয় মাসে এডিপিতে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানিসংকট দূর করা, দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্পদপ্রবাহ বাড়ানো, কর সংগ্রহ জোরদার করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং রপ্তানি ও অনাবাসী আয় বৃদ্ধি—এগুলো বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঘোষিত প্রাধিকার। সন্দেহ নেই, প্রাধিকারগুলো ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। কিন্তু এসব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব, সরকারের ভেতর সমন্বয়ের ঘাটতি, মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতার ঘাটতি ও উন্নয়ন প্রশাসনের দুর্বলতা বেশ বড় বাধা।
বিশেষত, জ্বালানিসংকট দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। ২০১০ সালের আগস্টে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল চার হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট, আর এ বছরের ১১ এপ্রিল বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল চার হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, প্রকৃত বিদ্যুৎপ্রবাহ যা বেড়েছে তা নগণ্য—মাত্র ৬৫ মেগাওয়াট। যদিও প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বছরে গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে, অন্যদিকে পিডিবির পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে যেতে পারেনি। বিদ্যুৎ খাতে এই সংকট শিল্পে বিনিয়োগ না বাড়ার একটি বড় কারণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর। সিপিডির বাজেট প্রস্তাবে তাই কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আগামী বাজেটে এটাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু সাঁই বাবা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু সত্য সাঁই বাবাকে গতকাল বুধবার পুত্তাপারথিতে তাঁর নিজ আশ্রমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। এ সময় লাখ লাখ ভক্ত- অনুসারী তাঁদের গুরুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মৃত্যুর পর দাহ করার নিয়ম থাকলেও সাঁই বাবাকে হিন্দু ধার্মিক পুরুষদের নিয়মে সমাহিত করা হয়।
ভক্তদের শেষ দর্শনের জন্য সাঁই বাবার মরদেহ একটি স্বচ্ছ কাচের বাক্সে রাখা হয়। তাঁর পরনে ছিল চিরচেনা গেরুয়া পোশাক। এ সময় ভক্তরা প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে তাঁদের গুরুকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভক্তদের সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। আশ্রমের বাইরে অপেক্ষারত অগণিত ভক্তর জন্য চারটি বড় পর্দায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সাঁই বাবাকে তাঁর মূল আশ্রমের ঘোষণা মঞ্চের নিচে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা এল কে আদভানি, ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকারসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসআই সম্পর্কে মার্কিনিদের মনোভাবে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান

পাকিস্তানের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) সম্পর্কে মার্কিন তদন্তকারীদের মনোভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া গোপন মার্কিন নথিপত্র থেকে জানা যায়, মার্কিন তদন্তকারীরা আইএসআইকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে মনে করেন। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৭ সালের গোপন তালিকা ‘টেরোরিস্ট অ্যান্ড টেরোরিস্ট সাপোর্ট এনটিটিস’-এ আইএসআইকে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা ও তালেবানসহ প্রায় ৭০টি গোষ্ঠীর সঙ্গে একই কাতারে রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে আইএসআইর সুনামহানি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইএসআই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং কখনোই জড়িত ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন প্যানেট্টা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন সিআইএর পরিচালক লিওন প্যানেট্টা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর প্রধান জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস। গতকাল বুধবার এবিসি ও এনবিসি টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
টেলিভিশন দুটির খবরে বলা হয়েছে, এ মাসের শেষের দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস পদত্যাগ করবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে। প্যানেট্টা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর পেট্রাউসের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল জন অ্যালেন। তিনি বর্তমানে আফগানিস্তানে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের উপপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে কূটনীতিক রায়ান ক্রোকারকে নিয়োগ দেবেন। বর্তমান রাষ্ট্রদূত কার্ল এইকেনবেরির স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

মাউন্ট এভারেস্টে যেতে চান প্রিন্স হ্যারি

সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদবি পেয়েছেন। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের পাইলট বনেও গেছেন। ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি এবার শখ করেছেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্টে যাবেন। তাঁর ইচ্ছা আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের মে মাসেই এই দুঃসাহসিক অভিযানে দেখা যেতে পারে প্রিন্স হ্যারিকে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধাহত সদস্যদের একটি সংগঠন আছে, যার নাম ওয়াকিং উইথ দ্য উন্ডেড। এই দলটি সম্প্রতি সফলতার সঙ্গে উত্তর মেরু অভিযান সম্পন্ন করেছে। দলটির সদস্যদের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে নিজের মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের ইচ্ছার কথা জানান হ্যারি।
যুদ্ধাহত সেনাদের চারজনের একটি দল চলতি মাসের গোড়ার দিকে উত্তর মেরু অভিযানে যায়। কারও কোনো সাহায্য ছাড়াই ১৩ দিনে ১৭০ মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দেয় তারা। তাদের সবাই আফগানিস্তান যুদ্ধে আহত হয়েছে। আহত সেনাদের পক্ষে এটাই ছিল প্রথম উত্তর মেরু অভিযান।

চীনে মেলামিনযুক্ত ২৬ টন গুঁড়ো দুধ উদ্ধার

চীনের পুলিশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং শহরের একটি আইসক্রিম প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে মেলামিনযুক্ত ২৬ টন গুঁড়ো দুধ উদ্ধার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়। তিন বছর আগে মেলামিন মেশানো গুঁড়ো দুধ খেয়ে দেশটিতে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, আইসক্রিম কোম্পানিটি গত মার্চে দক্ষিণের গুয়াংসি এলাকার একটি কোম্পানির কাছ থেকে বাজারদরের চেয়ে কম দামে ওই দুধ কেনে।
ইনার মঙ্গোলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় এই গুঁড়ো দুধ প্রস্তুত করা হয়। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো গুয়াংসি এলাকার ওই কোম্পানির কাছে এসব গুঁড়ো দুধ বিক্রি করা হয়। জব্দ করা গুঁড়ো দুধের বেশির ভাগই ছিল জমাট বাঁধা। মেলামিন মিশ্রণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনটি কোম্পানির ব্যবস্থাপকদের আটক করা হয়েছে।
২০০৮ সালে মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ খেয়ে চীনে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রায় তিন লাখ শিশু। চলতি মাসেও নাইট্রেট মেশানো দুধ পান করে দেশটিতে তিনটি শিশু মারা যায়।

আফগান পাইলটের গুলিতে আট বিদেশি সেনাসহ নিহত ৯

আফগান বিমানবাহিনীর এক পাইলটের গুলিতে আটজন বিদেশি সেনাসদস্য ও একজন ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। পাল্টা গুলিতে ওই পাইলট নিহত হন গতকাল বুধবার রাজধানী কাবুলে আফগান বিমান বাহিনীর ব্যবহূত একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি বিদেশী সৈন্যদের ওপর যত হামলা চালিয়েছেতার মধ্যে গতকালেল হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুলিতে আইএসএএফের আটজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে নিহত সেনাসদস্যদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জহির আজিমি এএফপিকে জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আফগান ওই পাইলটের সঙ্গে সহকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে তিনি গুলি করেন। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
আফগান বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা কর্নেল বাহাদের বলেন, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই পাইলট পকেট থেকে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতারি গুলি করতে শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা দৌড়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। অনেকে জানালা টপকে পালিয়ে যান।
এদিকে এএফপিকে মোবাইল ফোন থেকে টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিদুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, তাঁদের এক আত্মঘাতী যোদ্ধা বিমানবন্দরে চাকরি নেন। পরে তিনিই ওই হামলা পরিচালনা করেন।
কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আফগান কর্মকর্তা বলেন, বিমানবাহিনীর আফগান কম্পাউন্ডে গুলির এই ঘটনা কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়। ৫০ বছর বয়সী এক পাইলট ওই গুলি ছোড়েন। তাঁর নাম গুল আহমেদ পাইলট কোনো সন্ত্রাসী দলের সদস্য নন, কাবুলের তারাখেল এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল ফারিয়াব প্রদেশে এক আফগান পুলিশ দুই ন্যাটো সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন। গত নভেম্বর মাসে এক আফগান পুলিশের গুলিতে ছয় মার্কিণ সেনা নিহত হন। এর আগেও ও আফগান বাহিনীর হাতে বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দেশটিতে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার বিদেশি সেনাসদস্য রয়েছেন। ২০১৪ সালের মধ্যে বিদেশি বাহিনীর হাত থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বভার আফগান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কথা।

তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন লবস্যাং

হার্ভার্ডের শিক্ষাবিদ লবস্যাং সাঙ্গে তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে দালাই লামা যে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে আসছেন, এখন থেকে লবস্যাং ওই দায়িত্ব পালন করবেন।
গত মার্চে দালাই লামা ঘোষণা করেন, নির্বাচিত কারও হাতে তিনি এ দায়িত্ব তুলে দেবেন। তাঁর এ ঘোষণার পর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তিব্বতিদের অংশগ্রহণে গত মার্চে নির্বাচন হয়। সারা বিশ্বে প্রায় ৮৩ হাজার ৪০০ তিব্বতি ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ হাজার ভোটার ভোট দেন।
ভারতের ধরমশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের নির্বাচন কমিশনার জামফেল গতকাল বুধবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, লবস্যাং ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তেনজিন তেথং পেয়েছেন ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। শতকরা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তাশি ওয়াংদি।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী (৪৩) লবস্যাং ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের তদন্তকারী দল লিবিয়ায়

লিবিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দল দেশটির রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এই দলটি নিয়োগ দেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার ওপর আরোপিত তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গত মঙ্গলবার লিবিয়ায় পাশ্চাত্য জোটের অভিযান চালানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা করার কোনো অধিকার পাশ্চাত্য জোটের নেই।
লিবিয়ার উপজাতি নেতারা গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্তকারী দল গতকাল বুধবার ত্রিপোলি পৌঁছায়। দেশটির সরকার দলটিকে তদন্তের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। দলটির সদস্যরা জানান, তাঁরা সব পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন। গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্রোহী সেনা এবং ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। তবে দলটিকে মূলত গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার নভি পিল্লাই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বলেন, লিবিয়ায় সম্ভবত ব্যাপকভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা খনির তেল বিক্রি করতে পারবে বিদ্রোহীরা। এতে বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করবে বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিন লিবিয়া অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, পাশ্চাত্য জোটের অবশ্যই উচিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব মেনে চলা। ওই প্রস্তাবে লিবিয়ার সাধারণ জনগণকে রক্ষার জন্যই শুধু অভিযানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, গাদ্দাফিকে হত্যা করার জন্য নয়। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বলেছেন, গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চান না। আবার এখন তাঁদের কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, হ্যাঁ, আমরা গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চাই।’ পুতিন প্রশ্ন করেন, ‘গাদ্দাফিকে হত্যার অনুমতি কে তাঁদের দিয়েছে? কোনো বিচার হয়েছে? তিনি (গাদ্দাফি) কে, সেটা কোনো বিষয় নয়, তাঁকে হত্যা করার অধিকার কে কাকে দিয়েছে সেটা প্রশ্ন।’ ডেনমার্ক সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লিবিয়া প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিন। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাশিয়া।
লিবিয়ার ৬১ আদিবাসী নেতা এক যুক্তবিবৃতিতে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লিবিয়ার অখণ্ডতার ওপর হুমকি আসছে। গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবারের নানা প্রচারণার কথাও আমরা শুনছি। আমরা বলতে চাই, কোনো কিছুই আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে পারবে না। আমরাও অবাধ গণতন্ত্র এবং ঐক্যবদ্ধ লিবিয়া চাই।’ তাঁরা লিবিয়ার স্বার্থে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানান।

মেসিদের সফর আয়োজনে বাফুফের প্রস্তুতি শুরু

লিওনেল মেসিদের ঢাকা সফর নির্বিঘ্ন এবং সফল করে তুলতে কাজে নেমে পড়েছে বাফুফে। কাল বাফুফের জরুরি সভায় প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এই সফর। আজ নির্বাহী কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হবে। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হবে চূড়ান্ত ঘোষণা এবং সংবাদ সম্মেলনেই ভারতীয় বিপণন এজেন্ট সেলিব্রিটি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা।
এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত রূপ পেয়ে গেছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দুটি অনুশীলন সেশন থাকবে আর্জেন্টিনার। একটি দেখা যাবে টিকিট কেটে। অন্যটিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। দেশের একদল কিশোর ফুটবলারের সঙ্গে মেসি-তেভেজদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পাবে। এর বাইরে নৈশভোজ এবং সংবাদ সম্মেলন থাকছে।
তিন দিনের এই ঐতিহাসিক সফর নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৌতূহলী মানুষ খোঁজ নিচ্ছে টিকিট কবে পাওয়া যাবে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লিগের খেলা দেখতে আসা অনেক দর্শকের মুখে শোনা গেল কৌতূহলোদ্দীপক নানা প্রশ্ন। টিকিটের ব্যাপারে বাফুফে এখনো ভাবেনি। তবে টিকিটের দাম অন্তত ১০ হাজার রাখার ব্যাপারে প্রাথমিক চিন্তাভাবনা আছে।
বাংলাদেশ লিগের খেলা দেখতে এসে কাজী সালাউদ্দিন এদিন জানালেন, ‘সফরটা নিয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। আমরা সবকিছু গুছিয়ে এনেছি।’ এও যোগ করলেন, ‘অবশ্যই মেসিকে নিয়ে আসার ব্যাপারে আমাদের শর্ত থাকবে। আশা করছি, মেসিসহ পুরো শক্তির আজেন্টিনা দলকেই আমরা ঢাকায় পাব। সঙ্গে অবশ্যই কোচ বাতিস্তা।’

মরিনহোর ইট, গার্দিওলার পাটকেল

ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে হাত-পা ছুড়ছেন, তারস্বরে চিৎকার করে খেলোয়াড়দের নির্দেশ দিচ্ছেন—পেপ গার্দিওলার এই ছবিটা খুব চেনা। এত দিনের চেনা ছবিটা তো এমনও ছিল যে স্যুট-টাইয়ে পরিপাটি বার্সেলোনার কোচ মাঠের বাইরে এই পোশাকের মতোই মার্জিত। বিতর্কিত মন্তব্য করেন না, আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। প্রতিপক্ষ দলের কোচ এবং রেফারির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই গার্দিওলাই চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের আগে নিজের আরেকটা রূপও দেখালেন। সরাসরি আক্রমণ করলেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহোকে। এএফপি, রয়টার্স।
ইট মারলে পাটকেল খাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। রিয়াল কোচ মরিনহোই ইটটা প্রথমে মেরেছিলেন। প্রতিপক্ষকে খোঁচা মারায় ওস্তাদ পর্তুগিজ কোচ বলেছিলেন পেপ গার্দিওলা সেই নতুন গোত্রের কোচ, যাঁরা রেফারির সঠিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। এত দিন মরিনহোর চোখে কোচ ছিলেন দুই প্রজাতির, ‘একটা হলো খুবই ক্ষুদ্র একটা দল যারা রেফারিকে নিয়ে কোনো কথাই বলে না। আরেকটি বড় দল, যে দলে আমিও আছি, যারা রেফারিদের মারাত্মক ভুলের সমালোচনা করেন।’ কিন্তু গার্দিওলা তাঁর কাছে বিস্ময়করভাবে তৃতীয় এবং নতুন গোত্রের কোচ, ‘সেদিন পেপ যা ঘোষণা করল, তাতে আমরা তৃতীয় একটি দলকে নিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করলাম। এই মুহূর্তে এই দলের একমাত্র সদস্য সে, যারা রেফারির সঠিক সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করে। বিশ্ব ফুটবলে এমনটি আমি আর কখনো দেখিনি।’
গার্দিওলার কথিত রেফারির সমালোচনার ঘটনা কিংস কাপ ফাইনালের পর। রেফারি বার্সেলোনা উইঙ্গার পেদ্রোর একটা গোল বাতিল করেছিলেন অফসাইড দেখিয়ে। সেই সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলে পরাজয়ের বেদনা থেকে বার্সেলোনা কোচ রেফারির সমালোচনা করেছিলেন। যদিও গার্দিওলা দাবি করছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মরিনহো আরেকটি এল ক্লাসিকোর আগে গত মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে এটি নিয়েই গার্দিওলাকে ব্যঙ্গভরে খোঁচা দিয়েছিলেন। আরেকটা কারণও ছিল। গত রাতের ম্যাচের জন্য জার্মান উলফগ্যাং স্টার্ককে রেফারি ঘোষণা করার আগে পর্তুগালের পেদ্রো প্রয়েঙ্কার নাম শোনা গিয়েছিল। গার্দিওলা তখন বলেছিলেন, প্রয়েঙ্কাকে রেফারি করা হলে পর্তুগিজ মরিনহো ‘খুব খুশি’ হবেন। মরিনহো কি এটা শুনে চুপ করে থাকার লোক!
তবে গার্দিওলার কাছ থেকে এমন জবাব হয়তো তিনি প্রত্যাশা করেননি। নব্বইয়ের দশকে মরিনহো যখন বার্সেলোনার সহকারী কোচ, গার্দিওলা তখন সেই দলের খেলোয়াড়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের কোচের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটা আবরণ তাই ছিলই। মরিনহোর আক্রমণে সেই আবরণ ছিঁড়ে বেরিয়ে এলেন এক ক্ষুব্ধ গার্দিওলা, ‘মিস্টার মরিনহো যেহেতু সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করেছেন, আমিও একই কাজ করব। আমরা একসঙ্গে চার বছর কাজ করেছি। তিনি আমাকে চেনেন, আমিও তাঁকে চিনি, আমি এটাই মনে রাখতে চাই। আপনি একসঙ্গে কাজ করেছেন এমন কেউ যদি আপনার চেয়ে পত্রিকার খবরকেই বেশি বিশ্বাস করেন, সেটি খুব বাজে লাগে।’
সাংবাদিকদের হতভম্ব করে দিয়ে এরপর তীব্র শ্লেষভরে গার্দিওলা বলেছেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে তিনিই বস, সবার ওস্তাদ, এই বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক। আমি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই না। আগামীকাল (বুধবার) রাত ৮.৪৫ মিনিটে মাঠেই আমাদের দেখা হবে। তবে মাঠের বাইরে তিনি (মরিনহো) এরই মধ্যে জয়ী। এ জন্য আমি তাঁর হাতে আগেই ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নস লিগ তুলে দিচ্ছি। তিনি তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে একজন জাদুকর এবং আমি অবিরত খোঁচাখুঁচির এই খেলায় নামতে চাই না।’
দুই কোচের কথার লড়াইয়ের পর মাঠের লড়াইয়ে কে জিতলেন, সেটি হয়তো এরই মধ্যে জেনে গেছেন আপনি।