Friday, July 29, 2011

বিবর্তনের উল্টো by প্রক্রিয়ায় আমরা আসিফ

প্রায় শুনি, উচ্চশিক্ষার মান আরও ভালো করতে হবে। মেধাবীদের এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু যে শিশুটি সঠিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গেই সম্পৃক্ত হতে পারেনি, তার পক্ষে উচ্চশিক্ষায় সৃজনশীল কিছু করা কীভাবে সম্ভব। যে শিশু স্কুলে গিয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার মুখোমুখি হয়, তার বাকি জীবনের মনস্তাত্ত্বিক গঠন কেমন দাঁড়াবে? প্রতিবছর পাঠ্যসূচি পরিবর্তন, ভুল ইতিহাস পড়ানো, ভুল শিক্ষা কার্যক্রমে এই শিশুগুলো বড় হয়ে ভবিষ্যতে নিজের জন্যই বা কী করবে, সমাজকেই বা কী দেবে? এভাবে একদিকে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পাসের হার বাড়িয়ে বলা হচ্ছে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ দিয়ে নকল প্রতিরোধে সাফল্যের কথা রাজনৈতিক দলগুলো বলে থাকে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে পুলিশ দিয়ে নকল প্রতিরোধ করতে হয়, সেখানে আদৌ শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, তা ভেবে দেখার বিষয়। শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো আর পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন নকলকে এমনিই বন্ধ করে দিতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞান আলোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নপ্রতি প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে বাস করেও সেই সুদূর সন্দ্বীপের মানুষও সমুদ্র ও মেঘনার ভাঙনের মধ্যে থেকেও এই বক্তৃতা শুনেছেন টিকিট কিনে। যদিও অনেকে বলেন মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয় বক্তৃতা দেওয়ার কথা। আর এসব দূরবর্তী অঞ্চলে মানুষের সমস্যার তো শেষ নেই। কিন্তু প্রয়োজন তো অনুধাবন বা উপলব্ধির ওপরও নির্ভরশীল।
১৯০৫ সালে এই তত্ত্ব আবিষ্কৃত হলেও ভাবতে অবাক লাগে, আমাদের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির মধ্যে এই তত্ত্বের নীতিমালা ও ফলাফলগুলো শতবর্ষেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আসলে আমাদের সমাজে বিজ্ঞানের প্রসার ঘটেছে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে অত্যন্ত বিকৃতভাবে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে আমরা গুলিয়ে ফেলছি। কোনোটির ঠিক উপস্থাপন হচ্ছে না। বিজ্ঞানকে আমরা যতটুকু জেনেছি, তা অনেকটা মজার ব্যাপার এবং ম্যাজিকের মতো করে। কোনো একটি বিষয়ে শুনলে তা যত অদ্ভুতই লাগুক না কেন, কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি না, বিস্ময়বোধের ছিটেফোঁটাও প্রকাশ করি না বা সে ক্ষমতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। কোনো রকম যুক্তিতর্ক এবং চিন্তাভাবনা ছাড়াই আমরা বলি বিজ্ঞানের পক্ষে সবই সম্ভব। ব্ল্যাকহোল, ওয়ার্মহোল অথবা চমকপ্রদ শব্দ মুখস্থ করাটাই বিজ্ঞানচর্চা বলে গণ্য করি। ব্ল্যাকহোলকে বুঝে ফেলি আপেক্ষিকতত্ত্ব সম্বন্ধে কোনো কিছু না জেনেই, একইভাবে কসমোলজি বা মহাবিশ্বতত্ত্ব জানতে চাই। এসব ঘটনার পেছনে অনেক কারণই কাজ করছে, যেমন—শিক্ষার অস্বাভাবিক বাণিজ্যিকীকরণ ও নম্বর পাওয়ার মর্মান্তিক চেষ্টা তো আছেই।
এ ছাড়া আছে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তুলকালাম করে একজন শিক্ষার্থীর মনোজগতে সমস্যা সৃষ্টি আর বাংলায় পদার্থবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিজ্ঞানের মূল নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করার মতো ভালো বইয়ের অভাব। তত্ত্বগুলোর দুর্বোধ্যতার কথা বলে সাধারণের কাছ থেকে সব সময় দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে এমন একটি সমাজ তৈরি হচ্ছে যে সমাজের মানুষেরা বিজ্ঞানের অগ্রগতির উপজাত তার প্রাযুক্তিক সাফল্যকে ভোগ করছে বটে, কিন্তু যে বিজ্ঞানের কারণে এই সাফল্য, সে সম্পর্কে কিছুই জানছে না। ক্রমাগত মানুষের জ্ঞানগত অবস্থান পিছিয়ে পড়ছে এবং সংস্কৃতিতে বিজ্ঞানবোধের অভাব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করে তুলেছে। এ কারণেই প্রাযুক্তিক সাফল্যকেও ব্যবহার করছি বিপথগামী করে।
একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার পরিবর্তে আমরা এমন এক দানবীয় সভ্যতা গড়ে তুলছি যে সভ্যতা চাহিদা ও জোগান বোঝে, বোঝে চিন্তাভাবনা ছাড়াই যেকোনো মূল্যে এক টুকরো জমি দখল করাই জীবনের সার্থকতা। কিন্তু সেই জমি কত ঠুনকো, তা আমরা ১৯৯৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা হলেও বুঝতে পারি। সেই পর্যবেক্ষণ আমাদের দেখিয়েছিল: ডাঙার মুক্ত হাওয়া থেকে মানুষের ঘরে বন্দী হওয়া, তারপর ক্রমাগত ঘরের মেঝে থেকে খাটে, মাচা বাঁধতে চালে মাথা ঠেকে যাওয়া এবং শেষে গাছে—এ যেন বিবর্তনের উল্টো প্রক্রিয়ার এক নাটক শুরু হয়েছিল। মানুষের ৩৮ লাখ বছর সময় লেগে গিয়েছিল এই গাছ থেকে মাটিতে নেমে ঘর বানিয়ে আজকের পর্যায়ে আসতে, অথচ বন্যার পানি যেন আমাদের সেখানে ফিরে যেতে দুই মাসেই বাধ্য করেছিল।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, এখন গাছও নেই, নেই বিস্তৃত বনভূমিও। যুগ যুগ ধরে নদীর গভীরতা পলি পড়ে কমে যাওয়া, পরিকল্পনাহীন শহর তৈরি, পরিবেশকে ধ্বংস এবং বিজ্ঞানের অবদানগুলোর চরম অপব্যবহারের পাপ মানবসভ্যতাকে ঘিরে ফেলেছে। এটা একধরনের পাপের প্লাবনে ডুবে যাওয়ার ইঙ্গিত। এই ঘটনাগুলো যেন অনেকটাই অনুধাবন করাচ্ছে কেন সাংস্কৃতিক বিবর্তন জৈবিক বিবর্তনের তুলনায় বেগবান হওয়া প্রয়োজন। ধার করা প্রাযুক্তিক উৎকর্ষ দিয়ে বিজ্ঞানবোধহীন মানুষের প্রবৃত্তিগত লোভ জাগিয়ে তোলা এবং জানালার মধ্য দিয়ে বাইরের আকাশ দেখার স্বপ্নপূরণের প্রবণতা তৈরির বিপদটি কোথায়? বিজ্ঞানকে উপলব্ধি করা ছাড়া এ বিপদ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই।
আসিফ: বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও বক্তা।

জনশক্তি-বাজার প্রসারে সঠিক উদ্যোগ কাম্য by হাসান আহমেদ চৌধুরী

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে মানবপাচার আইন, ২০১১ নামে একটি নতুন আইন মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য সব ধরনের মানবপাচার রোধ এবং এর সঙ্গে যে বা যাঁরা সংশ্লিষ্ট থাকবেন, তাঁরা অবশ্যই প্রচলিত আইনে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হবেন। নিঃসন্দেহে যেকোনো ধরনের মানবপাচারের ঘটনা ঘৃণিত, অমানবিক এবং অবশ্যই সেটি বড় ধরনের অপরাধ বলেই গণ্য। নতুন প্রণীত এই আইনটি মানবপাচার প্রতিরোধ এবং মানবপাচারকারীদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এই আইনের কতিপয় ধারা-উপধারা জনশক্তি রপ্তানি-প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এই ধারা-উপধারার কারণে যেসব ব্যক্তি ও জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন সরকারের সব নিয়মনীতি এবং বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুসরণ করে জনশক্তি ব্যবসায় নিযুক্ত, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত, হয়রানি ও অভিযুক্ত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মানবপাচারের কথিত অভিযোগ এনে যেকোনো সময় যেকোনো জনশক্তি রপ্তানিকারককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং দণ্ডাদেশ প্রদান করা যাবে।
দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) পক্ষ থেকে বিষয়টির প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। নতুন মানবপাচার আইনের কতিপয় ধারার সঙ্গে বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর সাংঘর্ষিক একটি পটভূমি তৈরি হওয়ার কারণেই জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই সংশয় থেকে বাদ পড়েনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও। মূলত প্রস্তাবিত মানবপাচার আইনের ৩ ধারার ২ উপধারা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই ধারায় উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা ভূখণ্ডের বাহিরে অসৎ উদ্দেশ্যে অপর কোনো ব্যক্তিকে আইনী পন্থায় বা অন্যভাবে কাজের বা চাকরীর উদ্দেশ্যে গমন, অভিবাসন বা বহির্গমন করিতে প্রলুব্ধ বা সহায়তা করে ইহা জানা সত্ত্বেও যে ঐ অপর ব্যক্তি আসলে বাধ্যতামূলক শ্রম বা সার্ভিচিউডের অনুরূপ শোষণমূলক শ্রম-পরিস্থিতিতে অথবা এই ধারায় বর্ণিত কোনো প্রকার শোষণমূলক পরিস্থিতিতে নিপতিত হইবে তাহা হইলে ঐ ব্যক্তির উক্ত কর্ম উপধারা (১)-এর সংজ্ঞায়িত “মানবপাচার”-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।’
প্রস্তাবিত আইনের ওপরে উদ্ধৃত ৩(২) ধারার বিধান পাঠে স্পষ্ট যে, ‘বহির্গমন অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর আওতায় সম্পাদিত/সংঘটিত অভিবাসন কার্যক্রমকেও মানবপাচার রূপে গণ্য বা পরিগণিত করা যাবে, কেননা এই অনুচ্ছেদে ব্যক্তি আসলে বাধ্যতামূলক শ্রম বা সার্ভিচিউডের অনুরূপ শোষণমূলক শ্রম-পরিস্থিতিতে অথবা এই ধারায় বর্ণিত কোনো প্রকার শোষণমূলক পরিস্থিতিতে নিপতিত হইবে তাহা হইলে ঐ ব্যক্তির উক্ত কর্ম উপধারা (১) এর সংজ্ঞায়িত “মানবপাচার”-এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।’ এ বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও আপত্তি তুলেছিল। তারাও স্পষ্টত বলতে চেয়েছে, এই ধারা-উপধারা বহাল থাকলে জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
গত ২৩ জানুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপসচিব সুধাকর দত্ত কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে প্রবর্তিত নতুন ধারাটি নিয়ে সংশয় এবং বিকল্প মতামত প্রদান করা হয়। ওই মতামতে বলা হয়, ১৯৮২ সালের বহির্গমন অধ্যাদেশের আওতায় অভিবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশে এ পর্যন্ত ৭০ লাখ কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে। বিধিসম্মতভাবে কর্মরত এসব কর্মীর অভিবাসনসহ যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করা, সমন্বয় করা চাকরিসহ বেতন-ভাতাদি নিশ্চিত করা, কোনো আইনি সমস্যা হলে তার বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করা ইত্যাদি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সব কার্যক্রম ওই অধ্যাদেশের আলোকে হয়ে থাকে, যা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তত্ত্বাবধান করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসসহ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি, পুলিশের বহির্গমন বিভাগ সংশ্লিষ্ট থাকে। চাহিদা প্রদানকারী দেশের নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও সম্পৃক্ততা রয়েছে এই কার্যক্রমে। বহির্গমন অধ্যাদেশের আওতায় অভিবাসনকারী বিপুলসংখ্যক কর্মীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স (প্রবাসী-আয়) দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে অত্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বহির্গমন অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর সম্পৃক্ততা থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত ‘মানবপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১১’ শীর্ষক খসড়া এই মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে খসড়াটিতে এমন কিছু বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে, যা (প্রয়োগের ক্ষেত্রে) মানবপাচারের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংজ্ঞা ও পরিধি অতিক্রম করে আইনগতভাবে সিদ্ধ দীর্ঘ প্রচলিত অভিবাসন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে।
খোদ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের আরও সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে, বলার অপেক্ষা রাখে না যে উপর্যুক্ত অনুমান বা শর্ত এতটাই ভাববাচক যে একে অপ্রমাণ বা খণ্ডন করা বাস্তবিকই অসম্ভব হবে। প্রস্তাবিত আইনের ১৫(৩) উপধারায় এর অধীনে কোনো মামলায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতিরও প্রয়োজন হবে না মর্মে বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
আমরা মনে করি, দেশের জনশক্তি রপ্তানির খাতকে আরও সচল-সক্রিয় রাখতে বর্তমান সরকারের উচিত এই খাতে যাতে কোনো ধরনের বাধা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সঠিক ও সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখ অভিবাসী শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছে এবং এসব শ্রমিক জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বলেছেন, দেশের অর্থনীতি আরও সচল রাখতে হলে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে আরও বেশি করে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানো যায়। কিন্তু আমরা দেখছি, বিভিন্ন সময় এই খাত ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে এবং পুরোনো জটিলতাগুলোর সঠিক সমাধান না করতে পারার কারণে আমাদের এই খাত আরও যতটা প্রসারিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। জনশক্তি বাজারকে আরও প্রসারের লক্ষ্যে আইনের মারপ্যাঁচ নয়, সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সুবিবেচনাই বেশি কাম্য।
হাসান আহমেদ চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
kirondebate@gmail.com

বেঙ্গল পলিমার ওয়্যারসের বার্ষিক ডিলার সম্মেলন

বেঙ্গল পলিমার ওয়্যারস লিমিটেডের বার্ষিক ডিলার সম্মেলন গতকাল বুধবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে ৪৫০ জনেরও বেশি ডিলার অংশ নেন।
বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. মোরশেদ আলম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, বিপণন প্রধান মো. আজমুল ফারুকীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাহক হয়রানির পর সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তন স্পষ্ট করা হলো

প্রায় এক মাস ধরে গ্রাহকদের নানা ধরনের হয়রানির পর অবশেষে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তন নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
এই পরিপত্র জারির ফলে এখন থেকে আর কোনোভাবে ২০১১ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কোনো ধরনের কর কাটা হবে না, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার ফলে এই পরিপত্র জারির আগে যাঁদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন হয়েছে, তাঁরা ২০১১-১২ করবর্ষের আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় কর্তিত উৎসে কর সমন্বয় করতে পারবেন।
তবে অন্যান্য সঞ্চয়পত্রে ক্রয়কালীন সময়ে যে হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে, সেই হারেই অর্থাৎ ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে।
জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সব সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা ক্রয়কালীন সময়ের বিদ্যমান হারে মুনাফা পাবেন। আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে পরিপত্রের অনুলিপি সব সঞ্চয় ব্যুরো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বছরের ১ জুলাই বা এর পরে কেনা সব সঞ্চয়পত্রে নতুন হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। পরিবার ও পেনশনারসহ সব সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন হবে।
আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়েছে, উৎসে করের অর্থ ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। তাই ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো, ডাকঘর এক্ষুনি সরাসরি গ্রাহককে এই অর্থ ফেরত দিতে পারবে না। তবে উৎসে আয়কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে পরিশোধ হিসেবে বিবেচিত হবে না। তাই যাঁদের কাছ থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা ২০১১-১২ করবর্ষের আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় তা সমন্বয় করতে পারবেন। সমন্বয়ের পরও অর্থ পাওনা থাকলে তা ফেরত দেওয়া হবে।
কিন্তু যেসব গ্রাহক বিশেষত মহিলাদের টিআইএন নেই, তাঁদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, একটি অসম্পন্ন নির্দেশনার ভিত্তিতে চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকেই সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন শুরু করে দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ডাকঘর ও সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়গুলো। এতে পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা বড় ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন।
বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর ২১ জুলাই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে হয় সিদ্ধান্ত হয়, ১ জুলাইয়ের আগে কেনা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর কাটা হবে না। তার পরও আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করতে পাঁচ দিন সময় ক্ষেপণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র বাদে অন্য সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুন সময়কালের মধ্যে যাঁরা পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাঁদের মুনাফা করমুক্ত থাকে। তাঁরা যখনই মুনাফা উত্তোলন করুন না কেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো কর কর্তনের সুযোগ নেই।

নয়টি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

পুঁজিবাজারের আইন ভঙ্গের অভিযোগে ছয় ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি ও দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি কোম্পানির পরিচালকদের সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এসইসি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান।
জানা গেছে, ব্রোকার ডিলার বিধিমালা লঙ্ঘন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে জেড শ্রেণীর শেয়ার লেনদেন করায় ছয় ব্রোকারেজ হাউসকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংক ব্রোকারেজ লিমিটেডকে ২০ লাখ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডকে ২৫ লাখ, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ২৫ লাখ, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউস লিমিটেডকে ২০ লাখ, আইআইডিএফসি ব্রোকারেজ হাউসকে পাঁচ লাখ ও ইব্রাহিম সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রথম পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসকে সিকিউরিটি অ্যান্ড ব্রোকারেজ ডিলার বিধিমালা ভঙ্গ এবং ইব্রাহিম সিকিউরিটিজকে জেড শ্রেণীর শেয়ার কেনাবেচায় বিদ্যমান বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এসইসির সুবিধাভোগী আইনে নিষিদ্ধ সময়ে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যানশিয়াল কোম্পানির (বিআইএফসি) শেয়ার লেনদেন করায় মমতাজ বেগম ও আবদুল ওয়াদুদ মালিককে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এসইসি। এ ছাড়া বিআইএফসির দুই পরিচালক আব্বাস উদ্দীন আহমেদ ও নাজমা আব্বাসকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে রাইট শেয়ারসংক্রান্ত কাগজপত্র যথাসময়ে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে না পাঠানোর কারণে ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরপর তিন বছরের বেশি একই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ায় ড্যান্ডি ডায়িংকে জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। আর এসইসির অনুমোদন ছাড়া পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোয় তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
দুটি কমিটি গঠন: শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়াদেশ প্রদানে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি (পাঞ্চিং এরর) নিরীক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে গবেষণা ও উপদেষ্টা নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে এসইসি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ কমিটি দুটি গঠন করা হয়। কমিটি দুটি হলো: পাঞ্চিং এরর কমিটি এবং গবেষণা ও উপদেষ্টা সেবা কমিটি।
এসইসির সদস্য মো. আমজাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঞ্চিং এরর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ও আনোয়ারুল ইসলাম।
অন্যদিকে নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গবেষণা ও উপদেষ্টা সেবা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পরিচালক মাহাবুবুল আলম ও পরিচালক প্রদীপ কুমার বশাক।

টানা তৃতীয় দিন দরপতন

আগের দুই দিনের মতো গতকাল বুধবারও দেশের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক ছিল নিম্নমুখী। এ নিয়ে টানা তিন দিনের দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৮৩ পয়েন্টের মতো।
অবশ্য বাজার বিশ্লেষকেরা এ দরপতনকে শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, কয়েক দিনের টানা দর বাড়ার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। ফলে শেয়ারের বিক্রি-চাপ বাড়ায় কিছুটা দরপতন প্রত্যাশিতই ছিল।
তবে হঠাৎ করেই জ্বালানি খাতের দুই কোম্পানি যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসায় অনেকেই বাজারে মূল্য সংশোধনের আরও কিছুটা ত্বরান্বিত হবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, একসঙ্গে অনেক শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসায় বাজারদরের চেয়ে তুলনামূলক কম দামেই সরকারি কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে। তাই অনেকেই হয়তো অন্যান্য খাতের শেয়ার বিক্রি করে এসব শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহী হবেন। ফলে সরকারি কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য খাতের শেয়ারের দরও কমবে।
গতকাল দিনের শুরুতে এ ভাবনার কিছুটা প্রতিফলন ঘটে। যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম ছাড়াও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন, পাওয়ার গ্রিড এবং ডেসকোসহ অন্যান্য সরকারি কোম্পানির শেয়ারের দামও কমে যায়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজার পরিস্থিতি দেখে তিতাস, ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার ছাড়া হবে। সেই হিসেবে এসব কোম্পানির শেয়ার আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। তা ছাড়া একটি নির্দিষ্ট মূল্যের নিচে শেয়ারগুলো বিক্রি করা হবে না বলেও আলোচনা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই গতকাল ডিএসইর লেনদেন শুরু হয়। গতকাল দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৬২৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ৭২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৭ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩১ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ১৯২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৬ কোটি টাকা বেশি।

কিছুই খাচ্ছেন না মোবারক

কিছুই খাচ্ছেন না হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। শারীরিকভাবেও তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার দেশটির গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে এ কথা জানা যায়। অবশ্য সমালোচকেরা অসুস্থতাকে তাঁর বিচার এড়ানোর ঢাল হিসেবে দেখছেন।
দুর্নীতি ও সরকার উৎখাত আন্দোলনে নামা বিক্ষোভকারীদের হত্যার আদেশ দেওয়ার অভিযোগে গত এপ্রিল মাসে মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি শরম আল-শেখের একটি হাসপাতালে নিরাপত্তা হেফাজতে হূদেরাগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের প্রধান মোহাম্মদ ফাদাল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আল-গমহুরিয়া পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবারক কেবল তরল খাবার ও ফলের রস খাচ্ছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খাচ্ছেন না।
বার্তা সংস্থা মিনারের খবরে বলা হয়, হাসপাতালে তিনি খুব হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁর ওজনও কমে গেছে। মোবারকবিরোধীরা তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক এ খবরের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এটি মোবারকের বিচার এড়ানোর অজুহাত।
দুই ছেলে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদিল, ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোবারককে আগামী ৩ আগস্ট আদালতে দাঁড় করানো হবে। কোথায় এ বিচার হবে, তা এখনো প্রকাশ হয়নি।

প্রশিক্ষণে বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করবে চীন

ইউক্রেনের কাছ থেকে কেনা একটি পুরোনো বিমানবাহী রণতরী মেরামত করে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করবে চীন। ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তা করা হবে। গতকাল বুধবার এ কথা নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
চীনের প্রতিরক্ষা-ব্যয় বৃদ্ধি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলো। রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম, এমন জঙ্গি বিমানসহ উচ্চপ্রযুক্তির নতুন নতুন যুদ্ধসরঞ্জাম প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে চীনের সেনাবাহিনীতে।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং ইয়ানশেং রণতরী কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আত্মরক্ষামূলক সামরিক নীতিতে চীন অবিচল থাকবে। কাজেই চীনকে নিয়ে প্রতিবেশীদের উদ্বেগের কিছু নেই। তবে নিজেদের বিশাল সমুদ্রসীমা ও উপকূলভাগ সুরক্ষিত রাখার অধিকার চীনের আছে। এটা চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেং ইয়ানশেং বলেন, ‘বিমানবাহী রণতরী তৈরি একটি খুব জটিল কাজ। কাজেই প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য আমরা একটি পুরোনো রণতরী মেরামতের মাধ্যমে নতুন করছি।’
বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, এই প্রথম বিমানবাহী রণতরী কেনার বিষয়টি স্বীকার করল সরকার। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে কথা বলছিলেন, যদিও তাঁরা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে চীনের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ করে চীন জানিয়েছে, এতে দুই দেশের কৌশলগত সামরিক-স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা বিমানের পিছু ধাওয়া করে চীনের জঙ্গি বিমান তাইওয়ানের সীমানায় ঢুকে পড়ে বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়। এরপর গত সোমবার মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন জানান, বেইজিংয়ের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নজরদারির এ কাজ করে যাবে।

সংবাদমাধ্যমে হিনার উজ্জ্বল উপস্থিতি

পাকিস্তানের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার প্রথমবারের মতো ভারত সফরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লি পৌঁছান তিনি। এর মধ্যে তাঁর অসংখ্য ভক্ত জুটে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় তাঁর প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম ছিল, ‘সবচেয়ে সুন্দর চেহারায় পাকিস্তান’।
হাস্যরস সৃষ্টি করতেও পিছপা হয়নি কোনো কোনো পত্রিকা। মুম্বাই মিরর-এর শিরোনামে ছিল, ‘পাক-বোমার ভারতে অবতরণ’।
৩৪ বছর বয়সী পাকিস্তানি এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবির জন্য বিশাল জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ট্যাবলয়েড পত্রিকা মেইল টুডে। এতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর ফ্যাশন ফ্রন্টের জন্য শতভাগ নম্বর পেয়েছেন তিনি। হিনা রব্বানি খারের পোশাক-পরিচ্ছদ, রোদচশমা, মুক্তোর অলংকার—সব মিলিয়ে তাঁকে ফ্যাশন-দুরস্ত দেখিয়েছে।
দুই সন্তানের জননী হিনা রব্বানীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার তুলনা করেছে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
রেডিফ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, হিনা রব্বানি খারের মধ্যে সৌন্দর্য ও মেধার অপূর্ব মিলন ঘটেছে। টুইটারেও তাঁর প্রশংসায় অনেক বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সরে দাঁড়ালেন বিচারক নতুন করে শুনানি শুরু হচ্ছে আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া মামলার বিচার-কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিচারপতি সৌমিত্র পাল। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিচারকাজ থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি সৌমিত্র পাল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জয়নারায়ণ প্যাটেল বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়কে এই বিচার পরিচালনার দায়িত্ব দেন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৯ জুন এক মাসের মধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এক মাস পূরণ হওয়ার আগে বিচারপতি সরে দাঁড়ানোয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না বলা যায়। কারণ, নতুন বিচারপতিকে আবার প্রথম থেকে শুনানি শুরু করতে হবে।
বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় গতকাল বুধবার দুই পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে জানিয়ে দেন, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে এই মামলার শুনানি শুরু হবে।

ব্রেইভিকের সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী সংগঠনের আঁতাত ছিল না

নরওয়ের গোয়েন্দাপ্রধান জেন ক্রিস্টিয়ানসেন বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া অ্যান্ডারস বেহরিক ব্রেইভিক একাই অসলোতে বোমা হামলা চালান ও অটোয়া দ্বীপে নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান। তাঁর সঙ্গে যুক্তরাজ্য বা নরওয়ের কোনো উগ্র ডানপন্থী সংগঠনের আঁতাত ছিল না।
গতকাল বুধবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, ব্রেইভিক উন্মাদ নন। ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে তিনি হামলা চালিয়ে নির্বিচারে নিরপরাধ লোক হত্যা করেন।
হামলা করার আগ মুহূর্তে ইন্টারনেটে পোস্ট করা তাঁর দেড় হাজার পৃষ্ঠার বক্তব্যে ব্রেইভিক দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ইংলিশ ডিফেন্স লিগের (ইডিএল) যোগাযোগ রয়েছে। ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে তিনি বলেন, একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি এ হামলা চালান। অন্যদিকে, ব্রেইভিকের আইনজীবী গেইর লিপস্ট্যাড দাবি করেন, এ পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে, এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ব্রেইভিক একজন উন্মাদ।
তবে জেন ক্রিস্টিয়ানসেন বলেছেন, ব্রেইভিক ও তাঁর আইনজীবীর কথা সত্যি নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ব্রেইভিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্য তাঁরা পেয়েছেন, এতে মনে হয়েছে ব্রেইভিক একা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি মোটেও উন্মাদ নন। তিনি একজন ঠান্ডা মাথার খুনি।

লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসের সব কর্মীকে বহিষ্কার

লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসের সব কর্মীকে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদকে (এনটিসি) বৈধ সরকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। লন্ডনে দূত নিয়োগে এনটিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এসব কথা জানান।
লন্ডনে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ-বিষয়ক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও আমি এনটিসিকে লিবিয়ার একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমরা এনটিসির সঙ্গে সম্পর্ক রাখব।’ তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর লন্ডনে মুয়াম্মার গাদ্দাফির নিযুক্ত লিবীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সসহ সব কর্মীকে যুক্তরাজ্য ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হেগ আরও বলেন, ‘আমরা গাদ্দাফির সরকারকে আর দেশটির কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেব না।’
গত মে মাসে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ব্রিটিশ দূতাবাসে হামলা হয়। এরপর যুক্তরাজ্য সে দেশে নিযুক্ত লিবিয়ার দূতকে বহিষ্কার করে। এ সময় দেশটিতে নিযুক্ত লিবিয়ার সামরিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়।
বর্তমানে ত্রিপোলিতে ব্রিটিশ কোনো দূত নেই। তবে এনটিসির শক্ত ঘাঁটি লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি নিযুক্ত রয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগ বলেন, ‘বিশ্বের অন্য দেশের সরকারের সঙ্গে আমরা যেমন সম্পর্ক বজায় রাখি, এনটিসির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। লন্ডনে লিবীয় দূতাবাসে নতুন দূত নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমরা এনটিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
সংকট সমাপ্তি নিয়ে মতবিরোধ: লিবিয়ার চলমান সংকটের সমাপ্তি কীভাবে হবে—তা নিয়ে গাদ্দাফি ও বিদ্রোহীদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত আবদুল ইলাহ আল খতিব এ কথা জানান। তিনি চলতি সপ্তাহে এনটিসির ঘাঁটি বেনগাজি ও গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণে থাকা ত্রিপোলি সফর করেন।
গত মঙ্গলবার রাতে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে আল খতিবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সংকটের ব্যাপারে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার বেলায় দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে। তবে দুই পক্ষই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে।
প্রবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক দল: যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী লিবীয় নাগরিকদের নিয়ে নিউ লিবিয়া পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেনগাজির ওজু হোটেলে এ ঘোষণা দেন রমজান বেন আমের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা করে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাস করছেন আমের। বার্তা সংস্থা এএফপিকে আমের জানান, গাদ্দাফি বলেছেন, তিনি দিনের পর দিন ধাপে ধাপে লিবিয়াকে গড়ে তুলেছেন। আসলে তিনি ধাপে ধাপে, বিশেষ করে বেনগাজিকে ধ্বংস করেছেন।
আমের দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে তাঁদের ২০ হাজার সমর্থক রয়েছে।

আম্পায়ার্স কার্নিভালে সিক্স-এ-সাইড উৎসব

বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের সপ্তাহব্যাপী আম্পায়ার্স কার্নিভাল কাল সত্যিকার অর্থেই পেয়েছে উৎসবের রং। মিরপুরের জিপি-বিসিবি একাডেমি মাঠে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত হলো ছয় দলের সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ফাইনালে বিসিবি ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশন।
উৎসবমুখর দিনে ক্রিকেট ছাড়াও ছিল দেশের সাবেক আম্পায়ার ও স্কোরারদের সম্মাননা জানানোর পর্ব। ছিল আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেওয়া সয়লাব হোসেন টুটুলের বিদায়ী সংবর্ধনাও। সকালে সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস। বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিবির সহসভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ও বিশেষ অতিথি বিসিবির পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন।

মিনি রাগবি

সেমিফাইনালে উঠেছে সানিডেল, মেথোডিস্ট, সামারফিল্ড স্কুল ও এসওএস শিশুপল্লী। সুলতানা কামাল ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কাল সানিডেল স্কুল ৪৬-৫ পয়েন্টে অক্সফোর্ড স্কুলকে, সামারফিল্ড স্কুল ২৪-১০ পয়েন্টে হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে, মেথোডিস্ট স্কুল ২০-০ পয়েন্টে সেন্ট টমাস স্কুলকে, এসওএস শিশুপল্লী ২৯-০ পয়েন্টে গ্রিন হেরাল্ড স্কুলকে এবং হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ১০-৫ পয়েন্টে অক্সফোর্ড স্কুলকে হারিয়েছে। দুটি সেমিফাইনালই আজ।

ম্যান সিটিতে আগুয়েরো

সময় না থাকায় করিন্থিয়ানস চুক্তি করেনি। যাব যাব করেও তাই কার্লোস তেভেজের যাওয়া হয়নি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছেড়ে দিয়ে এখনো রয়ে গেছেন ম্যানচেস্টার সিটিতেই। খবরটি সত্যি হলে সত্যিকার অর্থেই তেভেজের ভবিষ্যৎ আটকে যাবে অনিশ্চয়তার জালে। দলবদলের বাজারে জোর গুঞ্জন, তেভেজের জায়গা নিতে ম্যান সিটিতে আসছেন আরেক আর্জেন্টাইন সার্জিও আগুয়েরো।
যা খবর, তাতে চার কোটি পাউন্ডে ২৩ বছর বয়সী আগুয়েরোর ম্যান সিটিতে যোগ দেওয়াটা শুধুই সময়ের ব্যাপার। তাঁর বর্তমান ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে নাকি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে রবার্তো মানচিনির দল। পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিটা হলে এটা হবে ফার্নান্দো তোরেসের পর ইংলিশ ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রান্সফার রেকর্ড। ইস্টল্যান্ডে ম্যারাডোনা-জামাতার সাপ্তাহিক বেতন হবে দুই লাখ পাউন্ড!
যদি ম্যান সিটিতে আসেনই, আগুয়েরোই হয়তো কোচ মানচিনির ১ নম্বর স্ট্রাইকার হবেন। কারণ, চলে যেতে চাওয়া অধিনায়ক তেভেজই মানচিনির ১ নম্বর পছন্দ। কিন্তু বারবার চলে যাওয়ার বায়না ধরায় স্বাভাবিকভাবেই তেভেজের প্রতি মানচিনি অসন্তুষ্ট।
আগুয়েরোকে পেলে ম্যান সিটি আরও শক্তিশালী হবে সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যেই তারা কথার ফুলঝুরি ফোটাতে শুরু করেছে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের লক্ষ্য, হইচইপ্রিয় ম্যান সিটির মুখ বন্ধ করে দেবেন। ম্যানইউ কোচ কথার তীরটা ছুড়লেন সামনের ম্যানচেস্টার ডার্বি সামনে রেখে। আগামী মাসেই কমিউনিটি শিল্ডে কোলাহলপরায়ণ ম্যান সিটির মুখোমুখি হবে ম্যানইউ।

সুয়ারেজের লিভারপুল-স্বপ্ন

সর্বশেষ শিরোপা ২০০৬ সালে। এফএ কমিউনিটি শিল্ড ও এফএ কাপের সেই শিরোপা দুটোয় ধুলো জমতে শুরু করেছে। ২০০৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়টাও অনেক দিন হয়ে গেল। প্রায় ২২ বছর হলো ইংলিশ লিগের শিরোপা জিতেছে সর্বশেষ (১৯৮৯-৯০)।
ধুলো সরিয়ে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে চায় লিভারপুল। ক্লাবের স্বপ্নসারথি লিভারপুলেরই সাবেক তারকা কেনি ডালগ্লিস। অ্যানফিল্ডে সবার কাছে যিনি কিং কেনি। গত মৌসুমেই বেশ কিছু খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছেন আবার কোচ হয়ে আসা ডালগ্লিস, এবারও কিনেছেন নতুন খেলোয়াড়। তবে ডালগ্লিসের তুরুপের তাস হবেন সম্ভবত কোপা আমেরিকাজয়ী উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। সুয়ারেজ নিজেও এবার দেখছেন লিগ জয়ের সম্ভাবনা।
এবারের কোপার সেরা খেলোয়াড় গত বিশ্বকাপ থেকেই আছেন দারুণ ফর্মে। সুয়ারেজ এবার লিভারপুলের হয়েও দেখাতে চান জাদু। সেই জাদুতে মুগ্ধ করতে চান ইংলিশ ফুটবল সমর্থকদের, শিরোপা এনে দিতে চান লিভারপুলকে।
‘লিভারপুলের মতো একটা ক্লাবে খেললে শিরোপা জয়ের আশা আপনি করবেনই। আর আমাদের তো শিরোপা জয়ের বাস্তবসম্মত সম্ভাবনাই আছে’—বলেছেন এই বছরের জানুয়ারি মাসেই ২২.৮ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে নাম লেখানো সুয়ারেজ।
তবে সুয়ারেজ শিরোপায় চোখ রাখলেও এটাকে বাস্তবসম্মত মনে করেন না লিভারপুলের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার মার্ক লরেনসন। সুয়ারেজের সঙ্গে স্টুয়ার্ট ডাউনিং ও চার্লি অ্যাডামদের মতো উঠতি তারকাদের পেলেও লরেনসন মনে করেন, শিরোপা জয়ের সামর্থ্য লিভারপুলের হয়নি।
বলেছেন, ‘কেনি (ডালগ্লিস) হয়তো জনসমক্ষে এটা কখনোই বলবে না, তবে যে খেলোয়াড় লিভারপুল কিনেছে তাতে সে হয়তো চ্যাম্পিয়নস লিগের কথাই সম্ভবত ভাববে।’

ইংল্যান্ডই আসল এক নম্বর!

‘র‌্যাঙ্কিং ভুল, ইংল্যান্ডই সত্যিকারের এক নম্বর’—দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর ক্রিকেট প্রতিনিধি স্টিভেন ব্রেঙ্কলির একটি লেখার শিরোনাম। একই পত্রিকায় লেখা কলামে সাবেক ইংল্যান্ড পেসার অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার লিখেছেন, ‘আমি ভেবে পাচ্ছি না, যদি জহির খান না খেলে, তাহলে ভারত ইংল্যান্ডের ২০টি উইকেট তুলবে কীভাবে!’
এভাবে সরাসরি না হলেও লর্ডস টেস্টের পর ইংল্যান্ডের বেশির ভাগ পত্রিকার ক্রিকেট প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের লেখার সুর ছিল এমনটাই। চার ম্যাচের সিরিজটা দুই টেস্টের ব্যবধানে জিতলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এক নম্বরে উঠে যাবে ইংল্যান্ড। তবে প্রথম টেস্টে ১৯৬ রানের বড় জয়ের পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট-মহলে একই রব, এক নম্বরের দাবিদার আসলে ইংল্যান্ডই।
জিওফ বয়কটের দাবি, ইংল্যান্ডের আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষে ওঠাটা এখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার, ‘ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক উঁচুতে, এক নম্বরের জন্য দল ক্ষুধার্ত হয়ে আছে। আমার মনে তো হয় না ভারত ইংল্যান্ডের শীর্ষে ওঠা ঠেকাতে পারবে। পারলে সেটা হবে অবিশ্বাস্য কিছু।’ ইংল্যান্ডের সাবেক ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড তো আরেক ধাপ এগিয়ে, ‘এক নম্বর জায়গাটা ইংল্যান্ডের প্রাপ্য, এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই। দারুণ একটা দল তারা, প্রতিদিনই উন্নতি করছে।’
বোলিং কোচ ছিলেন বলেই কি না, ইংলিশ বোলারদের পারফরম্যান্সেই বেশি মুগ্ধ ডোনাল্ড, ‘ট্রেমলেট, ব্রড, অ্যান্ডারসন, সোয়ানরা অসাধারণ বোলিং করেছে। ভুলে যাবেন না, বাইরেও ওদের দারুণ কিছু বোলার আছে। টিম ব্রেসনান সুযোগের অপেক্ষায় আছে, ফিন-অনিয়নসরা আছে। ২০০৭ সালের পর ছেলেরা যেভাবে বেড়ে উঠেছে, সেটাকে বলা যায় অসাধারণ। জিমি (অ্যান্ডারসন) বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছে দারুণভাবে।’ ২০০৭ সালেই অ্যান্ডারসনদের বোলিং কোচ ছিলেন ডোনাল্ড।
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস অবশ্য এতটা জোর দিয়ে কিছু বলছেন না। তবে দ্য টেলিগ্রাফকে যা বলেছেন, একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যেটাকে বলা যায় বয়কটদের কথারই প্রতিফলন, ‘এক নম্বর হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো সুযোগগুলো লুফে নেওয়া এবং লর্ডসে আমরা সেটা ভালোভাবেই করেছি। চার ম্যাচ সিরিজে এটি মাত্রই প্রথম ম্যাচ, কিন্তু এই ম্যাচেই আমরা প্রমাণ করেছি, যখন আমরা ভালো খেলি, আমরা তখন যেকোনো দলের মতোই ভালো।’ ইঙ্গিতটা যে ভারতের দিকে, সেটা তো আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামীকালই, ট্রেন্টব্রিজে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উল্লম্ফন

ফুটবলের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ১৬ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। কাল প্রকাশিত সর্বশেষ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের জায়গা হয়েছে ১৪৭তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র নেপালই (১৩৬) আছে বাংলাদেশের ওপরে। ছয় ধাপ পিছিয়ে ভারতের অবস্থান ১৫৩।
বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে জয় ও পাকিস্তানে গিয়ে ড্র করায় এই উন্নতি। লেবাননের সঙ্গে না হারলে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। এক বাংলাদেশকে হারিয়েই ১৮ ধাপ এগিয়েছে লেবানন (১৫৯)। এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিই।
কোপা আমেরিকা জিতে উরুগুয়ে ১৮ থেকে চলে এসেছে ৫-এ। ১৯৯৩ সালে র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর কোপার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের এটাই সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে গত বছর বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়ে ছয়ে উঠেছিল দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এক আর্জেন্টিনা ছাড়া উন্নতি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশেরই। ১০ দেশের আটটিই স্থান পেয়েছে শীর্ষ পঞ্চাশে। ২৪ ও ২৯ ধাপ এগিয়ে উরুগুয়ের মতো নিজেদের সেরা অবস্থানে চলে এসেছে সেমিফাইনাল খেলা দুই দল পেরু (২৫) ও ভেনেজুয়েলাও (৪০)। চিলিও (১১) এগিয়েছে ১৬ ধাপ। কোপা থেকে আগেভাগে বিদায় নিলেও ব্রাজিল এক ধাপ এগিয়ে স্পেন, হল্যান্ড ও জার্মানির পরেই স্থান পেয়েছে। আর্জেন্টিনা আছে আগের মতো দশেই।
তবে র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে বাহামার। একবারে ৪৫ ধাপ উন্নতি করে ১৫২-তে চলে এসেছে ক্যারিবিয়ান দেশটি। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ২৮ ধাপ পিছিয়েছে ওই অঞ্চলেরই হাইতি (১১৭)।

২০১৪ বিশ্বকাপের দূত পেলে

ব্রাজিলে বিশ্বকাপ। আর পেলের কাঁধে কোনো দায়িত্ব বর্তাবে না, তা কি হয়? বিশ্বকাপে বড় এক দায়িত্বই পেলেন ব্রাজিল-কিংবদন্তি। ২০১৪ বিশ্বকাপের সম্মানসূচক দূত হলেন তিনি। ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি দিলমা রুসেফের আমন্ত্রণেই এই দায়িত্ব নিয়েছেন পেলে।
দায়িত্ব যত বড় ঠিক ততটাই সম্মানের। ব্রাজিলকে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপ জেতানো নায়ক দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, ‘আমার খেলা প্রথম বিশ্বকাপেও (১৯৫৮) আমি এটা করে ছিলাম। আমি ব্রাজিলকে সমর্থন এবং সহায়তা করব। এটা অনেক বড় দায়িত্ব এবং এই আমন্ত্রণ আমি ফিরিয়ে দিতে পারিনি।’ এই গুরুদায়িত্ব পেয়ে পেলে খুশি। পেলের মতো কিংবদন্তিকে আয়োজনের সঙ্গে জড়াতে পেরে খুশি কর্তৃপক্ষও। ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রী অরলান্ডো সিলভা বলেছেন, এই গুরুদায়িত্বের জন্য পেলেই ‘স্বতঃসিদ্ধ পছন্দ’।
এই আনন্দের সংবাদের পাশাপাশি একটা দুঃসংবাদ—আয়োজক হিসেবে ব্রাজিল সময়মতো বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হতে পারবে কি না, এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অবকাঠামো নির্মাণে ধীরগতি খোদ ব্রাজিলিয়ানদের মনেই এই শঙ্কার বীজ বুনেছে। কদিন আগে, ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক রোমারিও যেমন বলেছেন, ‘কেবল যিশুই পারে ব্রাজিলে ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ করতে। যদি এই তিন বছরে যিশু আবির্ভূত হন তাহলেই কেবল এটা সম্ভব।’
এমন আশঙ্কার যথেষ্ট কারণও আছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে মোট ১২টি ভেন্যুতে। এর ৯টিরই নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই! যোগাযোগব্যবস্থা, বিমানবন্দরের প্রস্তুতিতেও অগ্রগতি নেই। তাই নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ নিয়ে ব্রাজিলিয়ানরাই উৎকণ্ঠিত।
তবে দেশবাসীর প্রতি সমালোচনাকে এক পাশে রেখে টুর্নামেন্টের স্বাগতিক হিসেবে শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে। রাষ্ট্রপতি দিলমা রুসেফ দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, নির্মাণকাজ ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।’ পূর্বাভিজ্ঞতাও তাঁদের আছে। ১৯৫০ বিশ্বকাপও হয়েছিল প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশটিতে।
বিশ্বকাপের আরও প্রায় তিন বছর বাকি থাকলেও প্রাক-বাছাইপর্ব দিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পথচলা। আগামী শনিবার রিও ডি জেনিরোতে হবে বাছাইপর্বের ড্র।

আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পাচ্ছেন কে?

৬২ বছরের জীবনে একটা অতৃপ্তি আছে তাঁর। সেই অতৃপ্তিটাই ঘুচিয়ে দিতে চান। আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে চান কার্লোস বিয়াঞ্চি।
সার্জিও বাতিস্তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার পর আর্জেন্টিনা কোচের পদটা ফাঁকাই রয়েছে। নতুন কোচ হিসেবে শোনা যাচ্ছে আলেজান্দ্রো সাবেলা আর প্যারাগুয়ের কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর নাম।
লড়াইয়ে নামলেন বিয়াঞ্চিও। আর্জেন্টাইন ক্লাব ভেলেজ সার্সফিল্ডে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। পরে এই ক্লাবের কোচ হিসেবেও সফল হন। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাব-শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা লিবার্তোদোরেস জেতান। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের পূর্বসূরি টুর্নামেন্ট ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও ওই বছর জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানকে হারিয়ে।
তবে কোচ হিসেবে বিয়াঞ্চি সবচেয়ে সফল ছিলেন বোকা জুনিয়র্সে। তিনবার কোপা লিবার্তোদোরেস (২০০০, ২০০১ ও ২০০৩ সালে) জিতিয়েছেন। চারবার জিতিয়েছেন লিগ। দুবার জিতিয়েছেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।
সর্বশেষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে এক মৌসুমে (২০০৫-০৬) কোচিং করানো বিয়াঞ্চি এখন বেকারই আছেন বলা যায়। আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র দুই বছর খেলা এই সাবেক স্ট্রাইকার এখন চাইছেন জাতীয় দলের কোচ হতে। ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছাটা বরাবরের মতো এখনো আমার কাছে একই রকম—বিরাট। আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার যে যোগ্যতা লাগে সেটি আমার আছে বলেই মনে করি। ভবিষ্যৎই বলে দেবে আমি এই সম্মানটি পাব কি না’—বলেছেন ৬২ বছর বয়সী বিয়াঞ্চি।
আর্জেন্টিনায় ভীষণ জনপ্রিয় এই কোচ বলেছেন, দায়িত্ব পেলে নিজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার উজাড় করে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে শক্তিশালী একটি দলে পরিণত করবেন, ‘আমি শুধু চাই, যাদের ওপর আমার আস্থা আছে তাদের নিয়েই যেন আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়। খেলোয়াড় আর কোচ হিসেবে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেটি এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি।’
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের একাংশের ধারণা, বাতিস্তার উত্তরসূরি হিসেবে বিয়াঞ্চির সম্ভাবনাই বেশি। তবে আরেকটি অংশ বলছে, বিয়াঞ্চি নয়, কোচ হতে চলেছেন সাবেলা। আরব আমিরাতের ক্লাব আল-জাজিরার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালে এস্তুদিয়ান্তেসকে কোপা লিবার্তোদোরেস জেতানো সাবেলার। কিন্তু চুক্তিটা হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে সরে এসেছেন এই ৫৬ বছর বয়সী। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা (এএফএ) থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই শেষ পর্যন্ত আল-জাজিরার সঙ্গে চুক্তিটা করেননি সাবেলা।

অথচ তারা খেলে শূন্য মাঠে

২৩ জুলাই, ২০১১। ঘরের মাঠে দুই বছর পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে লেবানন। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। অথচ বৈরুতের স্টেডিয়াম ছিল ফাঁকা। বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশেষ ছাড় পেলেও স্থানীয় দর্শকেরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তাহলে কি লেবানিজদের ফুটবল টানে না?
কারণ কী? লেবানন কোচ এমিলি রুস্তম মেটালেন কৌতূহল ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে আমাদের ফুটবল বড় একটা সমস্যার ভেতর দিয়ে চলছে। আমরা দুই বছর ধরে জাতীয় দলকে বিদেশে পাঠাইনি। এমনকি আমাদের ফুটবলে দুই বছর ধরে দর্শকবিহীন অবস্থায় হচ্ছে। সাধারণ দর্শকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। দাঙ্গা-হাঙ্গামাই বড় কারণ।’
সন্ত্রাস আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় জেরবার লেবাননে ফুটবল আলাদা থাকতে পারে না। সেই লেবাননের হাতে ৪-০ গোলে নাকাল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে এক পা দিয়েই রাখল লেবানন। ১৯৯৮ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৮৫ ছিল যে দেশটির, বিদেশের মাটিতে না খেলার কারণে গত পরশু পর্যন্ত তাদের র‌্যাঙ্কিং কিনা বাংলাদেশের ১৪ ধাপ পেছনে ছিল! কাল ঘোষিত নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৪৭ লেবানন ১৫৯। সেই লেবানন মাঠের শৌর্যটা ঠিকই দেখাল বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ঘরোয়া ফুটবল কাঠামোটা এখনো সে অর্থে অপেশাদার, যদিও কোচ বলছেন আধা পেশাদার। প্রথম বিভাগে ১২টি, দ্বিতীয় বিভাগে ১৪টি দল খেলে। লেবানিজ প্রথম সারির খেলোয়াড়ের আয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক কম। রুস্তম জানাচ্ছেন, ‘ক্লাব থেকে মাসে এক থেকে এক দেড় হাজার ডলার পায় একজন খেলোয়াড়।’ তবে অঙ্কটা এর চেয়ে অনেক কম। কোচ একটু বাড়িয়েই বলেছেন।
নড়বড়ে কাঠামো। কিন্তু জাতীয় দলের জন্য লেবানন ফুটবল ফেডারেশন ঠিকই একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের নেই। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ অনুশীলন ম্যাচ খেলা দূরে থাক, এটা নিয়ে ভাবেইনি। লেবানন তিনটি ম্যাচ খেলেছে শক্তিশালী দলের সঙ্গে। ওমানের কাছে ১-০, গালফ চ্যাম্পিয়ন কুয়েতের কাছে ৬-০, আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৬-২-তে হার।
রুস্তম বলছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আমরা আস্তে আস্তে উঠে আসতে চাইছি। ওই তিনটি ম্যাচে আমি সব খেলোয়াড়ের কাছে বার্তা দিয়েছি, সুযোগটা কাজে লাগাও এবং তোমরা দেখাও, তোমরা কী করতে পারো। ৬ সপ্তাহের এই প্রস্তুতিতে ফলটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।’
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে লেবাননের দুজন খেলোয়াড় বাইরে খেলেন। তাঁদেরই একজন রেদা চীনে খেলেন, প্রথমটি না খেললেও আজকের ম্যাচে তাঁর খেলার কথা। কোচের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে আরও বেশি খেলোয়াড় বিদেশে সুযোগ পাবেন। আশায় আছেন, মাঠে দর্শক-নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে সরকার। এত প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে চলা লেবাননকে দেখে কি শিখবে বাফুফে?

বাটারফ্লাইয়ে ফেল্পেসর ফেরা

২০০ মিটার বাটারফ্লাই তাঁর প্রিয় ইভেন্ট। কাল সাংহাইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মাইকেল ফেল্প্স এতে সোনা জিতলেনও। কিন্তু জয়ের অনুভূতিটা একটু বেশিই প্রকাশ করলেন এক অলিম্পিকে ৮ সোনাজয়ী মার্কিন সাঁতারু। শুধু লন্ডন অলিম্পিকের ঠিক এক বছর আগে বলেই নয়, নিজের এই ইভেন্টে বেশ কয়েকটি পরাজয়ের পরেই তো এল কালকের জয়টি। জয়ের পর ফেল্প্স ও গ্যালারিতে বসা তাঁর মা ডেবির অভিব্যক্তিতেই ফুটে উঠেছিল জয়টা কতখানি স্বস্তির।
প্রায় নয় বছর অপরাজিত থাকার পর এ বছরের শুরুতে চীনের উ পেংয়ের কাছে দুবার এবং অস্ট্রেলিয়ার নিক ডার্সির কাছে একবার হেরেছিলেন ফেল্প্স। অসুস্থতার জন্য অস্ট্রেলিয়ান দলে ডার্সি সুযোগ না পেলেও কাল ছিলেন উ পেং। ১ মিনিট ৫৩.৩৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ফেল্প্স সোনা জিতলেও উ পেং হয়েছেন তৃতীয়। দ্বিতীয় হয়েছেন জাপানের তাকেশি মাতসুদা।
প্রথম ১০০ মিটারে ফেল্প্স এগিয়ে থাকলেও তৃতীয় ল্যাপে জাপানের মাতসুদার অসাধারণ সাঁতারে কিছুটা পেছনে পড়ে যান। শেষ ৫০ মিটারে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়ে সবার আগেই ছুঁয়ে ফেলেন ফিনিশিং লাইন। ‘সাঁতারটা বেশ ভালোই হয়েছে। আমি সব সময় যা করি তাই করতে চেয়েছি। ১৫০ মিটার শেষে তো আমার সামনে অন্যদের দেখলাম। আর তখনই চেষ্টা করলাম জোরে সাঁতরাতে’—সোনা জয়ের পর সাংবাদিকদের বলেছেন ফেল্প্স।
এর আগে জিতেছেন ৪০০ মিটার, কাল ২০০ মিটার জিতে ফ্রি-স্টাইলে ‘ডাবল’ করলেন ফেদেরিকা পেলেগ্রিনি। ২০০৯ রোম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও এই দুই ইভেন্টের ডাবল জিতেছিলেন ইতালিয়ান। পেলেগ্রিনির আগে আর মাত্র তিনবার এই ডাবল জয়ের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শার্লি বাবাশফ, ১৯৮৬ সালে পূর্ব জার্মানির হেইকে ফ্রেডরিক ও ২০০৭ সালে ফ্রান্সের লরা মানাদু।
কাল পুরুষদের ৮০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে সোনা জিতেছেন গ্রান্ট হ্যাকেটের উত্তরসূরি বিবেচিত স্বাগতিক চীনের সুন ইয়াং। ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে জিতেছেন ব্রাজিলের ফেলিপে ডা সিলভা।

`ইংল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বের রাজা’

ইংলিশ ক্রিকেট কিংবদন্তি ইয়ান বোথাম তাঁর নিজের দেশকে ‘ক্রিকেট বিশ্বের রাজা’ হিসেবেই মনে করেন। তাঁর মতে, খুব তাড়াতাড়ি টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থানটি ইংল্যান্ড ভারতকে সরিয়ে দখল করে নেবে।
‘আমরা সবাই লর্ডসে ইংল্যান্ডের যে পারফরম্যান্স দেখলাম, তা কেবল বিশ্বের সেরা দলের পক্ষেই সম্ভব। আমার মনে হয়, এমন পারফরম্যান্স সিরিজের বাকি টেস্টগুলোতেও ইংল্যান্ড দর্শক-সমর্থকদের উপহার দেবে।’ বোথামের মন্তব্য।
সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার মনে করেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই কাগজে-কলমে টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থানটা ভারতের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে ইংল্যান্ড। আর তখনই ক্রিকেটে একটি নতুন যুগ শুরু হবে, যে যুগে দাপটের সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের রাজ্যে রাজত্ব করবে ইংল্যান্ড।
ওয়ানডেতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও এবারের সিরিজে ভালো করার জন্য ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না বলে মনে করেন বোথাম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ইনজুরির সমস্যা ও অন্যান্য দুর্বলতা নিয়ে লর্ডসে ভারত কীভাবে ইংল্যান্ডকে হারানোর সাহস করছিল, তা ভেবে পাচ্ছি না।’ বোথামের কণ্ঠস্বর কিন্তু একটু শ্লেষাত্মকই শোনাল।
বোথাম বলেন, ‘ভারতীয় খেলোয়াড়েরা অনেকেই অভিজ্ঞ। তারা অতীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনেক ম্যাচেই মাঠে নেমেছে। কিন্তু আমি মনে করি না যে তাঁরা এবারের ইংলিশ দলের মতো এত সাফল্যক্ষুধায় আক্রান্ত দল দেখেছে। বর্তমান ইংল্যান্ড দলটি সত্যিই অন্য রকম।’
রেফারেল-পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্লিপ্ততা ও বিরোধিতার তীব্র সমালোচনাও করেছেন বোথাম। তিনি বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বোঝা উচিত যে ক্রিকেট খেলাটা তাদের একার নয়, এটা সবার খেলা এবং সবাই ক্রিকেটে রেফারেল-পদ্ধতি দেখতে চায়।

বিব্রত বিপ্লব এবং কোচের উচ্চাশা

বাংলাদেশের কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি বারবার একটা কথাই বলে গেলেন, ‘লেবানন নিজেদের মাটিতে আমাদের ৪ গোল দিয়েছে। আমরা কেন আমাদের মাটিতে ৫ গোল দিতে পারব না। আমাদের প্রতিপক্ষ তো আর আর্জেন্টিনা নয়। কাজেই পারব না কেন?’ ‘হোয়াই’, ‘হোয়াই’ বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন নিজেই।
পেশাদার কোচের চোখে সরল সমীকরণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল তো আর দুধভাত নয়। মাঠে নেমে আগে খেলতে হবে। বাংলাদেশ সেটি পারেনি আগের ম্যাচে। লেবাননের কাছে ২৩ জুলাই উড়ে গেছে ৪-০ গোলে!
সেই পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ নানাভাবে হয়েছে গত কদিন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পায়ে তো কিছু নেই-ই, মাথায়ও নাকি কিছু নেই—রাখঢাক না রেখে বলে দিয়েছেন ইলিয়েভস্কি। অথচ আজ সেই খেলোয়াড়দের কাছেই কি না ৫ গোলের ব্যবধানে জয় চান কোচ!
সত্যিই চান? ‘কেন সম্ভব নয়’ বললেও ‘জিততে চাই’ কথাটা সরাসরি বলতে পারেননি কোচ। কখনো খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসায় ভরান, কখনো তুলাধোনা করেন। তাতে বিভ্রান্তিই তৈরি হয়। আজকের ম্যাচে আসলে তাঁর কী লক্ষ্য? ‘ভেরি ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন’—বলে কথা বাড়ালেন না মেসিডোনিয়ান কোচ।
কিন্তু প্রশ্নবাণ ছুটলই। অধিনায়ক বিপ্লবকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে রাখঢাক না করে জানিয়ে দেন, ‘না, বিপ্লবকে কালও খেলাব না। গোলরক্ষক হিসেবে আমি আগের ম্যাচের মতো মামুুন খানকেই রাখছি।’
বিপ্লবের সঙ্গে কি নিষ্ঠুর রসিকতাই করা হলো না? সংবাদ সম্মেলনে তিনি অধিনায়ক, কিন্তু মাঠে অধিনায়ক আরেকজন! বিপ্লব ‘নন-প্লেয়িং’ ক্যাপ্টেন।
বিপ্লবের বিব্রত ভাবটা বোঝা গেল, তাঁর চোখ দুটোও ছলছল করে উঠল। কিন্তু কথাবার্তায় ধীরস্থির থাকলেন, ‘আমরা একটা পরিবার। আমরা চাই, সেরা ফুটবল খেলতে। কোচের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। কোচই বস। জাতীয় দলে আমি ৫ মিনিটে খেলার সুযোগ পেলেও খেলব।’
লেবানন ম্যাচের আগে অধিনায়ক বিপ্লবকে একাদশ থেকে বাদ দেন কোচ। নতুন অধিনায়ক হিসেবে সহ-অধিনায়ক আরিফ দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন বছর পর দলে ফেরা সুজনকে পরতে হয়েছে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী। সুজনের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন আরিফ!
অধিনায়ক-নাটকের পর জোটে একরাশ লজ্জা। লেবানন সম্পর্কে পুরো ধারণা ছিল না। তাদের একটা ভিডিও পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেননি বাফুফের কর্তারা। ৪ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে দল। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সুজন দেশে ফিরে বলেছেন, ‘লেবানন গিয়ে ঘুমাতে না-পারা, খেতে না-পারা—এগুলো আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলেছে। এত বাজে ফুটবল খেলব কল্পনাও করিনি।’
সেই ক্ষত মোছার সুযোগ আজ। বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে ফিরতি ম্যাচটা খেলতে নামছে সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ঘরের মাঠ, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবই অনুকূল—অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই সুজনদের।
তবে খেলোয়াড়েরা কিন্তু কোচের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। নইলে কেন বলবেন, ‘৯০ মিনিট খেলার সামর্থ্য এঁদের নেই, এঁরা ৪৫ মিনিটের প্লেয়ার। জাহিদ খুব ভালো প্লেয়ার, অথচ ফিজিক নেই। ওয়ালি ভালো ডিফেন্ডার, দম নেই...।’
এই ‘নেই’-এর সমাহারে সুজন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘জিতব’ মুখ ফুটে বলার সাহস অবশ্য নেই। তবে ভেতরের প্রত্যাশাটা হলো, অন্তত ড্র করে মান বাঁচানো এবং এটা প্রমাণ করা, লেবাননের কাছে বাংলাদেশ চার গোলের হারার দল নয়।
লেবাননও চাইছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে। যদিও কোচ এমিলি রুস্তমের আকাঙ্ক্ষাটা বেরোল ঘোরা পথে, ‘জিততে চাইব না, এমন কোনো লক্ষ্য নিয়ে মাঠে যাব না। পৃথিবীর কোনো কোচই এভাবে চিন্তা করেন না।’
অধিনায়ক কোজার ইনজুরি কাটিয়ে আজ ফিরছেন। কোচের পাশে বসে আজকের ম্যাচ নিয়ে বেশি কিছু বলেননি এই মিডফিল্ডার। আনুষ্ঠানিকতা সারলেন সংক্ষিপ্ত দুটি বাক্যে, ‘বাংলাদেশ ভালো দল। আমরা ভালো দলের সঙ্গেই খেলতে এসেছি।’
বাংলাদেশ ‘ভালো দল’—এটা প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখানো। সম্মানটা পুনরুদ্ধার করতে আরিফ, সুজনদের সামনে আজ বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বলে ওঠার আজই উপযুক্ত সময়।
তবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসলে অন্য। সে হলো পরিকল্পনাহীনতা। না হলে ইতিহাসের হাতছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কেন কোনো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুত হবে না?

দেওবন্দ মাদ্রাসার ‘উদারপন্থী’ উপাচার্য বরখাস্ত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাদ্রাসা ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের উপাচার্য গোলাম মুহম্মদ বাস্তানভিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে উদারপন্থী মনোভাব প্রকাশের নামে মাদ্রাসার নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনার পর মাদ্রাসার মজলিশে শুরা (পরিচালনা পর্ষদ) তাঁকে বরখাস্ত করে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, উদারপন্থী মনোভাবসম্পন্ন হওয়ায় বাস্তানভি ক্রমেই ‘আধুনিক’ ও প্রযুক্তিমনস্ক ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছিলেন। ফেসবুকে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় মহফিলে তিনি দেওবন্দের পাঠ্যসূচিতে আধুনিকায়ন আনার এবং দেওবন্দের কট্টরপন্থী আলেমদের ঘোষণা করা কিছু কঠোর ফতোয়া (ইসলামি বিধান) শিথিল করার কথা বলে অনেকের বিরাগভাজন হন। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মুসলিমবিদ্বেষী নেতা হিসেবে পরিচিত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন নীতির প্রশংসা করায় ব্যাপক বিতর্কিত হয়ে পড়েন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাস্তানভিকে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে গত রোববার মজলিশে শুরা গত রোববার বৈঠক করে তাঁকে বরখাস্ত করে। মুফতি আবুল কাশিম নোমানীকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
দেওবন্দের ১৪৫ বছরের ইতিহাসে এর আগে কোনো উপাচার্যকে বরখাস্ত করা হয়নি।