Sunday, June 2, 2019

‘ধানের দাম নাই আমরার ঈদও নাই’- হাওরাঞ্চলে কৃষকের ঈদ ভাবনা by রাশেদ আহমদ খান

“ধারকর্জ করে ফসল ফলাইলাম। মাথার ঘাম পায়ে ফালাইয়া জমি করছি। ধান মোটামুটি হইছে। কিন্তু দাম এক্কেবারে ফানির মতন। ফলাইতে যে খরচ হইছে, ধান বিক্রি কইর‌্যা এ টাকাও আমরা ফাইছি না। কষ্ট আর টাকা দুইটাই গেল। এখন বাচ্ছা কাচ্ছা নিয়া সারা বছর কি খাইমু এ নিয়াই ঘুম আয় না। আমরার আবার ঈদ আর পূজা কিতা।
ধানের দাম নাই আমরার ঈদও নাই।” বিষণ্ন মনে কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচংয়ের মখা গ্রামের কৃষক আব্দু নুর মিয়া। ৫ কানি জমি চাষ করে যে ফসল পেয়েছেন তা বিক্রির পর লোকসান হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আগামীতে আর কৃষি কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষক আব্দু নুর। শুধু নুর মিয়া নয় ভাটি অঞ্চলের সকল কৃষকদের মাঝেই এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। ধানের অস্বাভাবিক কম মূল্যে দিশাহারা কৃষকরা। নতুন ধান ঘরে তুলেও তাদের মনে আনন্দ নেই। উৎপাদন খরচ থেকে ধানের মূল্য বেশি হওয়ায় অনেকটা দিশাহারা তারা। আর সরকারিভাবে ধান কেনা হচ্ছে, এ খবরই জানেন না অধিকাংশ কৃষক। যদিও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকস্থানে ধান ক্রয় করলেই এ খবরে প্রভাব পড়েনি সাধারণ কৃষকদের মাঝে। তাদের ধারণা ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয়ের নামে কঠিন শর্ত চেপে দিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সঙ্গে হয়রানি করে। তাই গুদামে ধান দেয়ার কথা ভাবেন না প্রকৃত কৃষকরা। তারা মনে করেন গুদামে ধান দিবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী দালালরা। 
তবে কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। ২৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫৪ টন বোরো ধান। আগামী ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত এই বোরো সংগ্রহ কর্মসূচি চলমান থাকবে। জেলা খাদ্য অফিস জানায়, জেলার ১০টি খাদ্য গুদামে ১৫ হাজার ৬৩১ টন চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাঝে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৯ হাজার ৬৩০ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ১ টন আতপ চাল। এছাড়াও ২৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫৪ টন বোরো ধান।
আজমিরীগঞ্জের পিরিজপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্য বদরুল আলম জানান, শুনেছি আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কৃষকের বিপরীতে ২৬ টাকা কেজিতে ১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করবে সরকার। দুই হাজার কৃষকের প্রত্যেককে এই সুবিধা দিলে মাথাপিছু ৫ কেজি করে ধান বিক্রি করতে পারবেন তারা। সরকারি বড় কর্মকর্তারা প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে গিয়ে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করে কৃষকদের ধন্য করেছেন। এতে প্রতিদিন কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ বিল হয় অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। হতভাগা কৃষকদের কোনো উপকারই হয় না।
মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে ৫ কানি জমি চাষ করেছিলেন বানিয়াচংয়ের আতুকুড়া গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন। আশা ছিল ধান বিক্রি করে মহাজনের টাকা পরিশোধ করেবন। সারা বছরের জন্য খোরাকের ধান সংগ্রহ করে রাখতে পাবেন। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। পানির দরে ধান বিক্রি করে চাষের খরচই পাননি জমির উদ্দিন। এখন মহাজনের সুদের টাকার চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা তার। ৩ মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে ৫ সদস্যের সংসার। এদের পেট ভরে দু’বেলা খেতে দিতে পারেন না তিনি। আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। কিন্তু ঈদের আনন্দ নাই তার পরিবারে। এ নিয়ে ভাবতেও চান না ষাটোর্ধ্ব জমির উদ্দিন। দু’মুঠো খেয়ে বাঁচলেই যেন তিনি সুখী। এ চিত্র হাওরাঞ্চলের প্রতিটি কৃষক পরিবারের। এবার বোরো মৌসুমে মাঝারি ধরনের ফলন হলেও ধানের দাম একেবারেই কম। মৌসুমে এসব অঞ্চলে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকায়। অন্যদিকে ধান কাটার লোকের অভাবে শ্রমিক নিয়োগ করতে হয়েছে বাড়তি টাকায়। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তাই কষ্টার্জিত ধান কমমূল্যে বিক্রি করে হতাশ কৃষকরা। আর এ পরিস্থিতিতে ঈদ তাদের জন্য কোন খুশির বার্তা নিয়ে আসতে পারেনি। বেঁচে থাকার লড়াই করতে করতে তারা একবারেই ক্লান্ত। তাই ঈদ বা পূজা কোনো উৎসবই তাদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারেনি। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের দাবি সরকার যাতে ধানের দাম বাড়িয়ে কৃষকদের রক্ষা করে। শুধু লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা নয়, কৃষি ও কৃষকদের রক্ষায় তারা প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুকুটের লড়াই শুরু: মাশরাফিকে যা বললেন প্রিন্স হ্যারি by ইশতিয়াক পারভেজ

রানীর দেশে শুরু হলো ২২ গজের যুদ্ধ। মুকুট জিতে নিতে চলছে লড়াই। ইংলিশরা জয় দিয়ে শুরু করেছে, এবার নিজেদের মাটিতে আক্ষেপ ভোলানোর মিশন তাদের। পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে ক্যারিবীয়রা। গতকাল শ্রীলঙ্কাকে হেসে খেলেই হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অপেক্ষার প্রহর শেষ বাংলাদেশের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হার দিয়ে শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ম্যাচ দিয়েই মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের শুরু হবে ট্রফি জিতে নেয়ার স্বপ্নের যাত্রা।
২০ বছর পর বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবার ফিরেছে জন্মভূমিতে। বুধবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বিশ্বকাপের ১০ দলের অধিনায়ক গিয়েছিলেন বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাতে। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও আভিজাত্যের প্রতীক মনে করা হয় এই ভবনকে। গোটা বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত ভবনগুলোর একটি। সৌভাগ্যের দেশে মাশরাফির দল মাঠের লড়াই শুরু করবেন আজ। মাত্র দুই বছর আগেই ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার গৌরব কুড়ায় বাংলাদেশ। এবার ট্রফি ছোঁয়ার পালা। লন্ডনের দ্য ওভাল গ্রাউন্ডে আজ প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
ইংল্যান্ড জুড়ে বাংলাদেশের ভক্ত সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা। তবে  সেখানে সব কিছুই যেন একটি নিয়মের মধ্যে। মাঠে আসা দর্শকরা গ্যালারি আর স্টেডিয়াম পাড়াতেই উল্লাস করবেন। কিংবা যেখানে বার, পাব আর নাইট ক্লাব আছে সেখানে বড় বড় টিভি পর্দায় খেলা দেখে উল্লাস করবেন। যে কারণে হুট করেই যেখানে সেখানে ক্রিকেট নিয়ে মিছিল দেখা যাবে না। তবে এই দেশেই আছে টাইগারদের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী। বিশেষ করে বাঙালি পাড়া হিসেবে পরিচিত লন্ডনের ব্রিক লেন, হোয়াইট চ্যাপল ও স্যাডওয়েলে হাঁটতে গেলেই শোনা যায় খেলা নিয়ে আলোচনা।
কিংবা বাংলাদেশিদের হোটেলে খেতে গেলে বা তাদের ট্যাক্সিতে উঠলেও বুঝা যায় নিজ দেশকে সমর্থন দিতে কতটা মুখিয়ে আছেন তারা। মাশরাফি বিন মুর্তজাও জানেন তাদের শক্তির অন্যতম অংশ সমর্থকরা। এমনকি সেটি জানেন প্রিন্স হ্যারিও। রাজপ্রাসাদে সেই বিষয়টি টাইগার অধিনায়ককে স্মরণও করিয়ে দিয়েছেন রাজপুত্র। তা নিয়ে মাশরাফি জানান, ‘প্রিন্স হ্যারি আমাকে বললেন, বাংলাদেশের অনেক বড় একটি কমিউনিটি আছে এখানে। অনেকক্ষেত্রেই তারা বড় ভূমিকা রাখছে এই দেশে। আবহাওয়া নিয়েও কথা হলো, দেশে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা  থেকে এসে এখানে খেলা কতটা কঠিন। বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতির খোঁজ- খবরও নিলেন। বললেন খেলা উপভোগ করতে।’
বাংলাদেশের এই খেলা দেখার জন্য গতকাল পর্যন্ত সমর্থকদের টিকিটের পেছনে ছুটতে দেখা গেছে। অনেকেই এসেছেন দেশ থেকে। এসে যে যার মতো টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে বেড়েছে টিকিট কালোবাজারিতে বিক্রিও। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ দেখতে আসা তারেক সামস, ও জাহিদ হাসনাইন নামে দু’জন তিনদিন ধরে ইংল্যান্ডে ঘুরেছেন টিকিটের জন্য। অবশেষে ৩৫ পাউন্ড মূল্যের দু’টি টিকিট কিনেছেন ২০০ পাউন্ড দিয়ে। তাতেও খুশি তারা। এখন অপেক্ষা যে টিকিটগুলো নেই তা যোগার করা। শুধু তাই নয়, ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ সহ নিউপোর্ট থেকে অনেক টাইগারভক্ত গতকালই চলে এসেছেন লন্ডনে। এছাড়াও বার্মিংহাম থেকে আসবে আরো সমর্থক।
লন্ডনের কেনিংটনে অবস্থিত ওভাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটি ২৩ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। আশা করা যাচ্ছে গ্যালারি থাকবে হাউস ফুল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ২০ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ দল। তার মধ্যে বিশ্বকাপে তিনবার। এখানেই বাংলাদেশ দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে আন্তর্জতিক ওয়ানডেতে প্রথম জয়টি আসে ২০০৭ বিশ্বকাপে। সেবার হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল সংগ্রহ করে ২৫১ রান ৮ উইকেট হারিয়ে। জবাবে মাত্র ১৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় শক্তিশালী  দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৫-তে দেশের মাটিতে। মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে হার দিয়ে শুরু করলেও মাশরাফির নেতৃত্বে পরের দুই ম্যাচে জিতে যায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পেয়েছিল সিরিজ জয়ের স্বাদ। আবারো সুযোগ এসেছে টাইগারদের ক্রিকেটে ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মুকুট জয়ের মিশন শুরু করার।

মাঝ দরিয়ায় বাড়ি বানিয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি!

বান্ধবীকে নিয়ে একান্তে থাকতে তিনি বাড়ি তৈরি করেছেন সাগরের মাঝখানে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। অথচ এই বাড়ি বানিয়ে এবার সাজার মুখোমুখি হতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিক চাড এলওয়ার্টস্কি ও তাঁর বান্ধবীকে। এই বাড়ি বানানোর জন্য মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তাঁদের।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চাড এলওয়ার্টস্কি তাঁর বান্ধবী সুপ্রানি থে পেনকে নিয়ে থাকার জন্য সাগরের মধ্যে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, থাইল্যান্ডের জলসীমার মধ্যে এই বাড়ি তৈরি করে দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছেন চাড।
থাইল্যান্ডের পুলিশ কর্নেল নিকর্ন সোমসুক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই এই বাড়ি তৈরি করেছেন চাড। অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তাঁরা। থাই নৌবাহিনী বলছে, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় চাডের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে থাই নৌবাহিনী যখন ওই বাড়িতে অভিযান চালায়, তখন সেখানে কেউ ছিল না।
অবশ্য চাড এলওয়ার্টস্কির দাবি, থাই উপকূল থেকে সাগরের দিকে ১৩ মাইল দূরত্বে বাড়িটি নির্মাণ করায় জলসীমা আইন লংঘন হয়নি। কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি উপকূল থেকে ১২ মাইল দূরে ও থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তাঁদের।
চাড এলওয়ার্টস্কি পেশায় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন তিনি। এরপর সেই কাজ ছেড়ে ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করেন তিনি। ‘সিস্টেডিং’ নামের একটি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চাড ও সুপ্রানি। এই আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক জলসীমাতেই বাড়ি তৈরি করা উচিত। এতে করে তাঁরা কোনো দেশের আইনের আওতায় পড়বেন না। একই সঙ্গে ‘ওশান বিল্ডার্স’ নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁরা যুক্ত। এই বিশেষ গোষ্ঠীটি সাগরে বাড়ি বানাতে সহায়তা করে থাকে।
জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ওই বাড়ি তৈরি করেন চাড। তবে তা থাই কর্তৃপক্ষের নজরে আসে চলতি সপ্তাহে। ওই বাড়িতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ কাটিয়েছিলেন চাড-সুপ্রানি।

রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওআইসিকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাস্তুচ্যুত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে তাদের অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে বর্তমান বিশ্ব যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তা মোকাবিলায় ওআইসিকে একটি কৌশল প্রণয়নের আহ্বানও জানান তিনি, যাতে জোটের সদস্য দেশগুলো একে অন্যের জন্য কাজ করতে পারে। শনিবার সৌদি আরবের মক্কার সাফা প্যালেসে ইসলামী দেশগুলোর জোট ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। ওআইসির ৫৭ সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে। শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে অতিথিদের স্বাগত জানান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করলে বাদশাহ তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় তাদের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন সৌদি বাদশাহ ও ওআইসি মহাসচিব।
এরপর শুরু হয় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বক্তৃতা পর্ব। সম্মেলনে ওআইসির এশিয়া গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিপীড়িত হওয়া এবং তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার তাদের ফেরানোর জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে তার জন্মভিটায় ফেরত যাওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। গত মার্চে আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং জবাবদিহি ও বিচার সম্পর্কিত প্রশ্নের বিষয়টি সামনে আনার লক্ষ্যে এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়ার একটি পথ নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে এতদূর নিয়ে আসার জন্য গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় তহবিল ও কারিগরি সহায়তার দিয়ে মামলাটি চালু করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আবেদন করছি। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় ওআইসির সক্রিয়তা প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা।
রিয়াদ সম্মেলনে নিজের দেয়া চারটি প্রস্তাব মক্কা সম্মেলনেও তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হল- অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করা, মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার ভুলবুঝাবুঝি বা ভেদাভেদ নিরসন, সংলাপের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা। শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিল অন্ধকার জগতের আলোকবর্তিকা হিসেবে। কিন্তু অপব্যাখ্যার কারণে সন্ত্রাসবাদ ও সংঘাতের ভাবধারা হিসেবে ইসলামকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, খৃস্টান চার্চ আক্রমণের দুঃখভোগী পরিবারের প্রতি আমরা সহানুভূতি ও সংহতি জানিয়েছি, যে হামলার আমার আট বছর বয়সী নাতি শেখ জায়ানও নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় সাহায্য-সহযোগিতাহীন মানুষ যেভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে সেসব অসহায় মানুষের বেদনা ও যন্ত্রণার সঙ্গেও সংহতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওআইসি যে লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ার আফসোসও ছিল জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরীক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই ও বোনদের জমি ও সার্বভৌমত্বের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, উম্মাহর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা এবং মুসলিম বিশ্বের জনগণের মধ্যে একাত্মতা ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ওআইসি গঠিত হয়েছিল।
কিন্তু সাত দশক পরেও ফিলিস্তিনের সমস্যা এখনও বিদ্যমান এবং এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ এখনও বিভক্ত। মুসলমানদের অমর্যাদা ও দুর্ভোগের অবসানের পথ নির্দেশনা তৈরি করতে সৌদি বাদশাহ’র প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বলেন, বর্তমান বিশ্বে রয়েছে অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবেলায় ওআইসিকে একটি বিস্তৃত কৌশল গড়ে তুলতে হবে, যার মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের জন্য কাজ করতে পারে। পৃথিবীর কৌশলগত সম্পদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি এবং যুবশক্তির বেশিরভাগই রয়েছে আমাদের হাতে। আমাদের নিজেদের সমস্যা নিজেদেরেই সমাধান করার সমক্ষতা থাকা উচিত। দারিদ্র্যকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অসঙ্গতি মোকাবিলার জন্য যৌথ ইসলামী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওআইসি-২০২৫ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। ওআইসির ইন্সটিটিউশনগুলোকে বিশেষ করে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের নীতিমালা ও অনুশীলনগুলোকে ওআইসির এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার উপরও জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পণ্য বাজারজাত ও পরিষেবায় ধারণা ও উদ্ভাবন আজ ইসলামী বিশ্বের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) উপ মহাপরিচালক পদে প্রার্থী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের জন্য ইসলামী দেশগুলোর নেতাদের সমর্থন চান। ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার বিকালে সরাসরি জাপান থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেন শেখ হাসিনা। সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন প্রমূখ। শনিবার সন্ধ্যায় ওমরাহ পালন করবেন শেখ হাসিনা। এরপর রোববার মদিনায় হযরত মুহাম্মদ (স.) এর রওজা জিয়ারত করবেন তিনি।
সৌদি আরব সফর শেষে মদিনা থেকে জেদ্দা ফিরে সোমবার ভোরে ফিনলান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারে তিনি ফিনল্যান্ডে ঈদ করবেন। আগামী ৮ জুন সরকার প্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। টোকিওতে ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২৮শে মে ঢাকা ছেড়ে যান প্রধানমন্ত্রী। জাপান সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তার আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছে।

মার্কিন মাটিতে ট্রাম্প নীতির সমালোচনা মেরকেলের

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্ব রাজনীতির সমালোচনা করেছেন। কোনো নাম উল্লেখ না করে তিনি বিশ্ব বাণিজ্য ও শুল্ক, অবরোধ প্রয়োগ, জলবায়ু, প্রাচীর স্থাপন এবং একলা চলা নীতির সমালোচনা করে সবাইকে মুক্ত, উদার ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলবার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে অবস্থিত স্বনামধন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার বক্তৃতা করেন জার্মান চ্যান্সেলর। তাঁর ৩৫ মিনিটের সমাবর্তন বক্তৃতায় ২০ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক পক্ষ জানিয়েছে।
বক্তৃতায় মেরকেল পূর্ব জার্মানিতে তাঁর যৌবনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, পূর্ব বার্লিনে তাঁর বসবাস করবার বাড়িটির কাছেই বার্লিনকে বিভক্ত করে রাখা প্রাচীরটি ছিল। অনেক উৎসাহ রইলেও তিনি কখনই সে প্রাচীরের অপরদিকের কিছু জানতে পারতেন না। প্রতিদিন তিনি ভাবতেন কীভাবে এই প্রাচীরকে জয় করা যায়। অবশেষে সেই প্রাচীরের পতন হলো এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে ইতিহাসের নতুন যাত্রা শুরু হলো। তিনি বলেন নতুন করে বর্ণ,ধর্ম, জাতিতে জাতিতে আবারও প্রাচীর গড়ে তুলবার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সকলকে সেই অজ্ঞতা এবং সংকীর্ণ মনস্তত্ত্বের প্রাচীর ভেঙে ফেলবার চেষ্টা করতে হবে। মনগড়া মিথ্যা অভিযোগ কখনই সত্য হয় না, সত্য সব সময় সত্য হয়ে রবে।
মেরকেল আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে দ্বন্দ্ব এবং কথায় কথায় শুল্ক প্রয়োগ ও অবরোধ সবার সমৃদ্ধির ভিত্তিকে বিপন্ন করবে। সবাইকে একক সমৃদ্ধির কথা না ভেবে সবার কথা ভাবতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবনের প্রাকৃতিক ভিত্তি গুলি হুমকির সম্মুখীন। এই সমস্যা স্পষ্টত মানুষের তৈরি করা। তাই এই চ্যালেঞ্জকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সবার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।
ইতিপূর্বে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মেরকেলের দুই পূর্বসূরি কনরাড আডেনআওয়ার ও হেলমুট কোহল বক্তৃতা করেছেন। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মেরকেলকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, মার্গারেট ওয়াং এর আমন্ত্রণে মেরকেল এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আডেনআওয়ার ও হেলমুটের সময় জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক বজায় ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসবার পরে থেকে দেশ দুটির সম্পর্ক ক্রমশই শীতল হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা করেন। যুক্তরাষ্ট্র, ৩০ মে। ছবি: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে

এক টাকায় ইফতারি by নাসরিন আক্‌তার

শিশুদের হাতে এক টাকায় ইফতারি দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা
মধ্য আকাশ থেকে সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমে। অবশ্য রোদের তেজ তাতে কমেনি। নীল রঙের পিকআপ ভ্যানটি মিরপুর পল্লবীর আরামবাগ এলাকায় ঢুকতেই একঝাঁক শিশু-কিশোর এসে ভিড় জমায় ভ্যানটির সামনে। এই ভ্যানটি তাদের বেশ চেনা। তারা জানে বিকেলের ঠিক এই সময়টায় ভ্যানটি এসে থামবে। ভ্যানের সামনে তারা লাইন দিয়ে দাঁড়াবে। ভ্যান থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা এসে তাদের হাতে তুলে দেবেন ইফতারির একটি বাক্স। একেবারে বিনে পয়সায় নয়, দাম এক টাকা।
একজনের খাবারের উপযোগী এই এক টাকার ইফতারির বাক্সে থাকে ছোলা, মুড়ি, একটি করে পেঁয়াজি, বেগুনি, খেজুর, বিস্কুট ও সেদ্ধ ডিম। এক টাকার এই ইফতারির বাক্স দিচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সম্প্রতি এক বিকেলে হাতে এক প্যাকেট ইফতারি পেয়ে দারুণ খুশি ঝুমা। খুশি ঝুমার মা শাহানা বেগমও। প্রতিদিন ইফতারের আগে এক টাকার এই ইফতারির বাক্স স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশু-কিশোর ও রোজাদারদের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে।
প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই মিরপুরের আরামবাগসহ কড়াইল বস্তি, কালশী, রূপনগর, ভাসানটেক, রায়েরবাজার এলাকায় ইফতারি দিচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। মূলত শিশুদের খাবার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য, তবে বিতরণের সময় কারও কাছে টাকা না থাকলে বা বয়স্ক কেউ এলে তাদের খালি হাতে ফেরানো হয় না। এ ছাড়া রাতের বেলায় ভাষানটেক ও হাইকোর্ট মাজার এলাকায় এক টাকায় সাহ্‌রিও খাওয়ানো হয়।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তারা জানায়, ফাউন্ডেশনের কয়েকটি উদ্যোগের একটি হলো ‘এক টাকায় আহার’। ২০১৬ সাল থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এক টাকায় দুস্থদের হাতে খাবার তুলে দেয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই রমজান মাসে ‘এক টাকার ইফতারি’ ও ‘এক টাকায় সাহ্‌রি’ বিতরণ করা হয়। শুভেচ্ছা মূল্য এই এক টাকা নেওয়া হয় যেন গ্রহীতার মনে কোনো হীনম্মন্যতা সৃষ্টি না হয়। বিদ্যানন্দ গ্রহীতাদের ভেতর ‘ভিক্ষা’ ও বণ্টনকারীদের মধ্যে ‘দান’ শব্দটি মুছে ফেলতে চায়। তারা যেন ভাবতে পারে প্রতীকী হলেও কিছু মূল্য দিয়েই খাবারটি তারা নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পায় ১২ বছরের নিচের সুবিধাবঞ্চিত শিশু আর ৬০ বছরের বেশি হতদরিদ্র বৃদ্ধ।
প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবী সুলতানা জান্নাত বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গত রমজানে আড়াই লাখ বাক্স ইফতারি দেওয়া হয়েছে। এ বছর আরও বেশি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে মিরপুর সাড়ে এগারোতে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ইফতারির আয়োজন শুরু হয়। রান্না শেষে প্যাকেটে ভরে সেগুলো গাড়িতে করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে ঠিক ঠিক সময়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুরো রমজানেই এই ইফতারির আয়োজন চলে। ইফতারির পাশাপাশি ঢাকার বেশ কয়েকটি জায়গায় এক টাকায় সাহ্‌রি খাওয়ানো হয়। রমজান মাস ছাড়া বছরের অন্য মাসগুলোতে রোজ ঢাকায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষের জন্য খাবার রান্না ও বিতরণ করা হয়। এসব কাজে প্রতিদিন দেড় শর মতো স্বেচ্ছাসেবী সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একটানা কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক আহমেদ, সালমান খানের মতো শিক্ষার্থীরা; আবার রওশনা, নিলুফার হোসেনের মতো গৃহিণীরাও।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহীতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক টাকায় ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ প্রথম আলোকে জানালেন, মূলত সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দান করা টাকা থেকেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রম চলছে। ২০১৬ সাল থেকে শুরু করেন এই কার্যক্রম। এই ফাউন্ডেশনের আটটি স্থানীয় শাখাসহ ৪০ জন কর্মকর্তা আছেন। এখানে কাজ করেন শত শত স্বেচ্ছাসেবক। অনাথ ও বঞ্চিত শিশুদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যানন্দ এক টাকায় আহার, রমজান মাসে এক টাকায় ইফতারির কার্যক্রম ছাড়াও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আছে দুস্থদের জন্য এক টাকায় চিকিৎসা। বিদ্যানন্দ শিশু নিকেতন, বিদ্যানন্দ অনাথালয়। দুস্থ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ প্রকল্প। দরিদ্র গর্ভবতী নারীদের জন্য এক গ্লাস দুধ কার্যক্রম, শীতকালীন ও ঈদে নতুন কাপড় বিতরণ। মাসে এক দিন বড় পর্দায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হয়।

বাজেটে কৃষিকে গুরুত্ব দিতে শাইখ সিরাজের সুপারিশমালা

২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে কৃষি ও এর উপখাতগুলোতে সরকারের বরাদ্দ ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রস্তাব হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে সুপারিশমালা তুলে দেন কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। শেরেবাংলা নগরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডিস্থ সম্মেলন কক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দেশের সকল ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি ওই সুপারিশমালা তুলেছেন। সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুপারিশমালায় যেসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ের উদ্যোগকে আরো বাস্তবমুখী প্রয়োগ করা, পরিবর্তিত জলবায়ু মোকাবিলা করে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়াতে শস্যবীমা স্থায়ীভাবে চালু করা, দেশে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা, কৃষিপণ্যের উন্নত ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালু করা, সরকারের বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা এবং বীজের মান নিশ্চিত করা, কীটনাশক আমদানি, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কৃষির যান্ত্রিকীকরণে কৃষককে আরো অভ্যস্ত করে তোলা এবং আমদানিকৃত কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর ভর্তুকি ও শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং পোল্ট্রি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ানো, বীমা ব্যবস্থা চালু করা এবং এ খাতের বিদ্যুৎ বিল ও ঋণপ্রদানে কৃষিখাতের অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র খামারিদের বাঁচাতে পোল্ট্রি নীতিমালা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।চ
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে উন্নয়ন সাংবাদিক শাইখ সিরাজ জাতীয় বাজেট সম্পর্কে কৃষককে অধিকার সচেতন করে তোলা এবং বরাদ্দ, প্রত্যাশা ও চাহিদা নিরূপণের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করে আসছেন। এবার দেশের পাঁচটি স্থানে ওই প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচটি জেলার প্রায় ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধার সুফল প্রাপ্তি বিষয়ে একটি প্রকাশ্য জরিপের ফলাফল শাইখ সিরাজ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রীর সামনে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের দাবি, প্রত্যাশা ও চাহিদা রাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপনের এই কার্যক্রমটি অত্যন্ত অর্থবহ ও কার্যকর একটি আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে কৃষক ও সরকারের নীতিনির্ধারকের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করবে। তিনি বলেন, এ সরকার বরাবরই কৃষির প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়ে আসছে। আগামীতেও তা অব্যাহত রাখতে কৃষকের পক্ষ থেকে জমা দেয়া সুপারিশমালার বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। আগামীতে দেশে চাল আমদানির উপর শুল্ক আরোপ করে চাল আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার অশ্বাস দেন। এ ছাড়াও পোল্ট্রি খাতে বীমা প্রবর্তনের মাধ্যমে এ শিল্পে হঠাৎ ধ্বসকে রক্ষার আশ্বাসও দেন তিনি। আগামী বাজেটে কৃষি যন্ত্রপাতির উপর শুল্ক কমিয়ে কৃষকের কাছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজে পৌঁছে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।   
সুপারিশমালা প্রদান অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের পাঁচটি স্থানে যথাক্রমে শরীয়তপুর, বাগেরহাট, কক্সবাজার, যশোর ও নাটোর জেলার কৃষকের সঙ্গে খোলা প্রাঙ্গণে কৃষির সমস্যা, সংকট, প্রত্যাশা, দাবি ও চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুরে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, বাগেরহাটে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কক্সবাজার সদরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, যশোরের মণিরামপুরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও নাটোরের নলডাঙ্গায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’-এর এবারের কার্যক্রম ও কৃষকের এবারের দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বরিস জনসনকে সমর্থন ট্রাম্পের

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টিতে শুরু হয়েছে নেতৃত্বের লড়াই। এরই মধ্যে দলীয় প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে নেমে পড়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে খুব পছন্দ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বরিসকে কনজার্ভেটিভ পার্টির ‘এক্সিলেন্ট’ নেতা হতে পারেন বলে মূল্যায়ন করেছেন। সহসাই বৃটেন সফরে আসছেন ট্রাম্প। তার এ সফরকে সামনে রেখে একটি সাক্ষাতকার নেয় লন্ডনের দ্য সান। এতে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি এ পদে (কনজার্ভেটিভ দলের নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রিত্ব) বরিস খুব ভাল কাজ করতে পারবেন। ট্রাম্প আরো বলেছেন, এ পদের অন্য প্রার্থীরা তার অনুমোদন বা সমর্থন চেয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি যেকাউকে সাহায্য করতে পারি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে আরো বলা হয়েছে, কনজার্ভেটিভ দল থেকে নেতৃত্বের লড়াইয়ে সর্বশেষ নাম লিখিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। তিনি বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই তিনি বৃটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনতে প্রস্তুত। তার এ ঘোষণা দেয়ার পর পরই ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেছেন। ওদিকে অনলাইন ডেইলি মেইলে এক নিবন্ধে সাজিদ জাভিদ লিখেছেন, আরেকটি গণভোট তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন।
ওদিকে ট্রাম্পের বৃটেন সফরকে কেন্দ্র করে মাল্টি মিলিয়ন পাউন্ডের নিরাপত্তা অপারেশন সাজানো হচ্ছে। এ সফরকে সামনে রেখে ট্রাম্প বলেছেন, কনজার্ভেটিভ দলের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নিবিড় মনোযোগ দিয়েছেন। এই দলের প্রধানই হবেন বৃটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্প বলেন, আমি এ বিষয় নিয়ে খুব কঠিনভাবে পর্যালোচনা করেছি। ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীকে আমি জানি। তবে আমার মনে হয় বরিস এ পদে খুব ভাল কাজ করতে পারবেন। আমি মনে করি তিনি এক্সিলেন্ট হবেন। আমি তাকে পছন্দ করি। সব সময়ই আমি তাকে পছন্দ করি। জানি না তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকবেন কিনা। তবে তিনি খুব চমৎকার মানুষ। অত্যন্ত মেধাবী মানুষ।
ট্রাম্প এ সময় অন্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করলেন না। তিনি তাদেরকে ‘আদার পিপল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, অনুমোদন দিতে তাকে অনুরোধ করেছেন ‘আদার পিপল’। যদি আমি তাদেরকে অনুমোদন দিই তাহলে যেকাউকে সহায়তা করতে পারি।
এ ছাড়া ফেভারিট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে দেখছেন ট্রাম্প। তার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, হ্যাঁ আমি তাকে পছন্দ করি। তবে পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গভের বিষয়ে আপত্তি আছে ট্রাম্পের। কারণ, দৃশ্যত তিনি ইরান ইস্যুতে সমালোচনাকারী।

আরুক মুন্সীকে দেখতে মানুষের ভিড়

আরুক মুন্সী
হঠাৎ দেখলে মনে হবে অবিকল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান! চেহারা, পোশাক, বেশভুষায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অনেক মিল। এই খবর শুনে অনেকেই তাকে দেখতে ভিড় করেন।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের কামারোল গ্রামে জন্ম আরুক মুন্সীর। তিনি চাকরি করেন ঢাকার এক‌টি প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তার পরিবার নড়াইলের ইতনা গ্রামের সুচাইলে বসবাস করছে। এ কারণে বাড়িতে তেমন একটা আসেন না তিনি। তবে বিভিন্ন উৎসবে বাড়িতে এলেই তাকে দেখার জন্য লোকজনের ভিড় পড়ে যায়।
এলাকার সাধারণ মানুষ আরুক মুন্সীকে দেখার জন্য ভিড় করে থাকেন। অবাক দৃষ্টিতে তাকে দেখেন। এ যেন আরেক বঙ্গবন্ধু! অনেকেই তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। অনেকে কুশল বিনিময় করে মনের শান্তি পান।
আরুক মুন্সী বলেন, ‘মানুষ ভিড় করে বলে বিব্রত হন না। ভালোই লাগে। নি‌জেকে বঙ্গবন্ধুর আদ‌র্শের সৈ‌নিক ম‌নে করি আমি।’
কাশিয়ানী উপজেলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান বলেন, ‘সত্যিই তাকে হঠাৎ দেখলে বঙ্গবন্ধুর মতো দেখায়। তাকে আমিও প্রথম দেখে অবাক হয়েছিলাম।’

পাহাড় ও নাচোলের দুই বিজ্ঞাপন, সমালোচনার মুখে নুহাশ হুমায়ূন by উদিসা ইসলাম

টিকোইল গ্রামে মাটির তৈরি ঘরে বাহারি আলপনা
সম্প্রতি নুহাশ হুমায়ূন দুটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিজ্ঞাপন দু’টির একটি মোবাইল অপারেটর ও অন্যটি বার্জার পেইন্টের। সুশীল সমাজ ও অ্যাক্টিভিস্টরা তার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, পাহাড়ের সংস্কৃতি কিংবা বার্জারের সহায়তায় টিকোইল গ্রামের নারীদের প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে আলপনার ঐতিহ্য বিষয়ে না জেনেই তিনি বিজ্ঞাপন দুটো তৈরি করেছেন এবং এ ধরনের উপস্থাপনা ওই এলাকার মানুষদের অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র এলাকার একটি গ্রাম টিকোইল। গ্রামটি স্থানীয় পরিসরে আলপনা গ্রাম নামেই পরিচিত। মাটির তৈরি ঘরে যুগের পর যুগ ধরে নারীরা আলপনা এঁকে চলেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— নানা রকম মাটি দিয়ে নানা রকম রঙ এবং প্রাকৃতিকভাবে গাছ-লতা থেকে আঠা তৈরি করে তারা মাটির ঘরে আলপনার কাজটি করে থাকেন। গ্রামবাসী বলছেন, কোনও আলাপ-আলোচনা ছাড়া হুট করেই এই গ্রামে শুটিং ইউনিট আসে। দুদিন ধরে এখানকার একটি বাসায় তাদের সঙ্গে থেকে কীসব করেছেন শুটিংয়ের লোকজন। তারা জানেনও না তাদের কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেননা, ওই দুদিনের পর আর তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগও করেনি। শুটিং শেষে তাদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের হাতে বার্জারের ডিব্বা দেওয়া হয়।
টিকোইল গ্রামে শ্যুটিংয়ের সময় বার্জার রঙয়ের ব্যবহার
গ্রামটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বার্জার পেইন্টসের এই ভিডিও’র কারণে। নববর্ষ সামনে রেখে পাঁচ মিনিট ছয় সেকেন্ডের ভিডিও’তে নুহাশ হুমায়ূনের ‘জার্নি টু দ্য আলপনা গ্রাম’ দেখানো হয়েছে। সেখানে নানাভাবে বলা হচ্ছে— আলপনা গ্রামের শিল্পীরা যে রঙ দিয়ে মাটির দেয়ালগুলো রাঙান, সেসবের স্থায়িত্ব বেশি নয়। মূলত এই বিষয়টিকেই ফোকাস করে তাদের (ওই গ্রামবাসীকে) বার্জার কোম্পানির রঙ ব্যবহারের কথা জানানো হয়। অথচ তারা (বার্জার কোম্পানি) জানেনই না এই রঙ দিয়ে আসলে মাটির দেয়াল রাঙানো যাবে না।
যে বাসায় শুটিং হয়েছিল সেই বাসার সদস্য বেখন বর্মণ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হুট করে শহর থেকে এরা এসে শুটিং করে। বাসার যে অংশ তাদের সার্বক্ষণিক দরকার হয়, সে অংশটি শুটিংয়ের লোকেরা রঙ করে নেয়।
বেখন বর্মণ বলেন, ‘বার্জার কোম্পানির লোকজন এসেছিল। তারা আমাদের সঙ্গে এই আলপনার বিষয়ে কথা বলেছেন। বার্জার পেইন্ট বেশি স্থায়িত্ব এসব বলেছেন। দুদিন পর ওরা শুটিং করে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় দুটো করে রঙর ডিব্বা দিয়ে গেছেন। আর কোনও যোগাযোগ হয়নি।’ এ ধরনের বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে জানেন কিনা প্রশ্নে তিনি নেতিবাচক জবাব দেন। ভিডিওতে রঙের স্থায়িত্ব নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বেখন বলেন, ‘বার্জার দিয়ে কখনও একাধিকবার মাটির দেয়ালে রঙ করা যাবে না। কেননা, একাধিকবার ব্যবহারে এটি পুরু হয়ে মাটির দেয়ালটাকেই নষ্ট করে দেবে।’
তিনি আরও  বলেন, ‘কাজটি আমাদের ঐতিহ্য, আমরা ভালোবেসে আলপনা করি। তারা এসে শুটিং করতে চেয়েছেন। বাসার একটা অংশের দেয়ালের নকশা মুছে ফেলতে বলেছেন। আমরা তাদের সাহায্য করেছি। যখনই যে আসে আমাদের কথা বলতে হয়, সময় দিতে হয়। কিন্তু তারপর তারা কী করলো তা আর জানি না।’
টিকোইল গ্রামে মাটির ঘরে নারীদের আঁকা আলপনা
আর মোবাইল সেটের বিজ্ঞাপনে পাহাড়ের একটি প্রত্যন্ত এলাকা দেখানো হয়েছে। ৩ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই বিজ্ঞাপনের ফিল্মে দেখানো হয়— রমজানে সেহরি ও ইফতারের সময় জানার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় একজন পাহাড়ি ছেলে দোকানে আজান শুনে দৌড়ে দৌড়ে পুরো পাড়ার সবাইকে জাগায়। সেখানে একজন জেগে উঠে বের হয়ে এসে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমি হিন্দু।’ আর সেই পাহাড়ি ছেলেটির বাঙালি নাম রাফি। অনেক অসঙ্গতিতে ভরা এই ফিল্মকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলে চিহ্নিত করে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী ইলিরা দেওয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিল্মটির বিষয়বস্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তো অবশ্যই। নামাজ পড়ার দৃশ্য দিয়ে ধর্মীয়ভাবে একটা অপব্যাখ্যা/ ভুলবার্তা সাধারণের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, ইফতার-সেহরি হবে। এর সঙ্গে মন্দির ও প্যাগোডায় ভোর ও সন্ধ্যা বেলায় যে বন্দনা করা হয়, সেটাও তুলে ধরে বাংলাদেশ যে সম্প্রীতির দেশ, তা তুলে ধরা যেত। পাহাড়ের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি যে দিন দিন ইসলামিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে, সেই প্রকৃত চিত্রই এখানে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে স্বাভাবিকীকরণ করার আরেক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।’
বিজ্ঞাপনচিত্রের (ভিডিও) কনটেন্ট তৈরি করেছেন তুরাস আয়মান। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে আয়মান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সত্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি তৈরি করেছি। তবে যেখানে শুট করা হয়েছে ঘটনাটি সেখানকার, এমন নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাকে ধরার জন্য সেখানে করা হয়েছে।’
বার্জার পেইন্টের বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়ের সময়
তিনি বলেন, ‘একেকটা ইস্যুর কনটেক্সট থাকে। পাহাড়ের আর যে ইস্যু আছে, সেগুলো এখানে ধরতে চেষ্টা করা হয়নি। জনাকীর্ণ একটি এলাকা, যেখানে ছোট মুসলিম কমিউনিটি আছে এবং  আজানের ধ্বনি শোনা যায় না— সেখানে একজন ছেলে রাফি, যেটি তার আসল নাম না, সে সবাইকে সঠিক সময়টা জানানোর মধ্য দিয়ে একটি পরিবার খুঁজে পায়। আমরা এই সুইট জিনিসটা তুলে ধরতে চেয়েছি। অন্য কোনও উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না।’
অ্যাক্টিভিস্ট বাকী বিল্লাহ বিজ্ঞাপনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘বিজ্ঞাপন নির্মাতা ঐতিহ্যের পরম্পরা সম্পর্কে বয়ান দিচ্ছেন, মাটি দিয়ে প্রাকৃতিক রঙ তৈরির কলাকৌশল দেখাচ্ছেন, অথচ সবকিছু দেখিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, প্রাকৃতিক রঙ বড়ই ক্ষণস্থায়ী। এ রঙ কিছু দিন পরপর মুছে যায়। কষ্ট করে আবারও তাদের রঙ করতে হয়। সেখানে দেবদূতের মতো রঙের ডিব্বা নিয়ে হাজির হচ্ছে বার্জার।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে বান্দরবানে রমজানের আবেগের ক্লাইমেক্সে হাজির হচ্ছে টেকনো মোবাইল। তার আগের ভিজ্যুয়ালটুকু বিরাট অ্যাবসার্ড যদিও। রেডিও বা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও একটা ঘড়ি জোগাড় করা এমন কি আহামরি ব্যাপার! রানিং রাফির স্ক্রিপ্ট রাইটারের একটা পোস্ট থেকে জানা গেলো— সাজেকে বেড়াতে গিয়ে তিনি যেটার কমতি অনুভব করেছেন, তা হলো— আজানের শব্দ এবং সেখান থেকেই কনসেপ্টটা তার মাথায় এসেছে। যথারীতি এই বিজ্ঞাপনের সাফল্যে উদ্দীপ্ত তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন টেকনো এবং নুহাশ হুমায়ূনকে। কী ভয়াবহ! তিনি হয়তো সাজেক ছাড়া পাহাড়ের অন্য কোথাও যাননি। তার দেখা নাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মসজিদ-মাদ্রাসায় বোঝাই হয়ে আছে পাহাড়ি জনপদ।’
বিজ্ঞাপন নিয়ে নুহাশ হুমায়ূনের ফেসবুক স্টাটাস
নৃবিজ্ঞানী সিঁউতি সবুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতারা জনবিচ্ছিন্ন এবং ইতিহাসবিমুখ। তারা প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠিত ভাবনাকেই প্রচার করতে চান। ফলে এ ধরনের অবান্তর বিজ্ঞাপন সৃষ্টি হয়। পাহাড়িদের সম্পর্কে তাদের যেমন ধারণা নেই, তেমনই পুরনো ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়েও তাদের ধারণা নেই। এক অর্থে এদেরকে ইতিহাস বিচ্যুতও বলা যায়।’
দুটি ফিল্মের (বিজ্ঞাপন) বিষয়ে নুহাশ হুমায়ূনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে মেসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু  তিনি কোনও উত্তর দেননি।

পূর্ব এশিয়ার জন্য অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থার প্রস্তাব মাহাথিরের

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে একটি স্বর্ণভিত্তিক অভিন্ন মুদ্রা-ব্যবস্থার আওতায় আসার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি মনে করছেন, পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন করা গেলে এই অঞ্চলের দেশগুলো ডলার নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। বাণিজ্য খাতেও গতি বাড়বে।
জাপানের রাজধানী টোকিওতে 'দ্য ফিউচার অব এশিয়া' সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন মাহাথির। ইম্পেরিয়াল হোটেলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও তাত্ত্বিকরা যোগ দিয়েছেন।
সম্মেলনে মাহাথির বলেছেন, ‘পূর্বাঞ্চলে আমরা যদি পরস্পরের কাছাকাছি আসতে চাই, তাহলে আমাদের একটি অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। স্থানীয়ভাবে সেই মুদ্রা ব্যবহার করা নয়, অঞ্চলগত বাণিজ্যে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।’ মাহাথির আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাণিজ্যিক লেনদেনে আমাদের ডলার ব্যবহার করতে হয়। তবে ডলারের মুদ্রামান স্থিতিশীল নয়। সুতরাং আমি যে মুদ্রা ব্যবস্থার প্রস্তাব করছি, তার ভিত্তি হওয়া উচিত স্বর্ণ। কেননা, স্বর্ণ অনেক বেশি স্থিতিশীল।’
জাপানি সম্প্র্রচারমাধ্যম নিকেই আয়োজিত ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’কে এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিবেচনা করা হয়। মালয়েশিয়ার স্থপতি মাহাথির মোহাম্মদ ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে এতে অংশ নিয়েছেন।

ঈদ সেলামির নামে চাঁদাবাজির মচ্ছব by শুভ্র দেব

ঈদ সেলামির নামে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চাঁদা দিতে চাইছেন না এমন ব্যবসায়ীদের দেয়া হয় নানা হুমকি-ধমকি। কোথাও কোথাও দেখানো হচ্ছে অস্ত্রের ভয়ভীতি। তাই বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যান্য বছরের মত এবারও ঈদকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজদের বিভিন্ন গ্রুপ। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নামে উঠানো হচ্ছে চাঁদা। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি ও পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙ্গিয়ে হচ্ছে চাঁদাবাজি।
নিয়মিত চাঁদাবাজদের পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছেন মৌসুমি চাঁদাবাজরা।
ইফতার মাহফিল, জাকাতের কাপড় কেনা, ঈদ সেলামি, ঈদ বকশিস, সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কোথাও কোথাও।
গত কয়েকদিন সরজমিন রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেট, খিলগাঁও রেলগেইট বাজার, মালিবাগ সুপার মার্কেট, মালিবাগ বাজার, মৌচাক, ফরচুন সুপার মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, চাঁদনীচক, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, বঙ্গবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, ইসলামপুর কাপড় বাজার, কেরানীগঞ্জ কাপড় বাজার, এছাড়া মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, টঙ্গী, পুরাণ ঢাকার একাধিক মার্কেট, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ আরো একাধিক এলাকার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও মতিঝিল, গুলিস্তান, হলিডে মার্কেট, ফার্মগেট, উত্তরা, বিমানবন্দর, মিরপুর, শেরেবাংলানগর, নিউমার্কেটসহ আরো কিছু এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে চাঁদাবাজির তথ্য।
মালিবাগ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন বলেন, বলার কিছুই নাই। বিভিন্ন সংগঠনকে চাঁদা দেয়ার বাজেট আলাদাভাবে রাখতে হয়। কাউকে না বলার উপায় নাই। বিক্রি সব সময় ভাল হয় না। কিন্তু তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে হয়। না হলে হেনস্থার শিকার হতে হয়। দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের হাট ইসলামপুর। প্রতি বছর সেখান থেকে কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু ইসলামপুরের যেসকল ব্যবসায়ীকে চাঁদা দিতে হয় তাদের কেউই মিডিয়ায় কথা বলতে রাজি হন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ব্যবসায়ী বলেন, বাপ দাদার ব্যবসা।
এই ব্যবসা দিয়েই পরিবারের রুটি-রুজি চলে। এ ব্যবসা ছাড়ারও উপায় নাই। তাই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। এবছরও অনেক টাকা চাঁদা দিয়েছি। চকবাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর দ্বিগুণ চাঁদা দিয়েছি। গুলিস্তানের ব্যবসায়ী মুরাদ আলী বলেন, ব্যবসা করাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বড় অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করে কত টাকাই বা লাভ হয়। একদিকে কর্মচারির খরচ, দোকান ভাড়া, বিভিন্ন বিল তারপর এই লাভ থেকে পরিবারের খরচ চালাতে হয়। এর ওপর যদি চাঁদা দিতে হয় তো ব্যবসা করার কোন মানে হয়না। গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসীয় জুয়েল বলেন, এখন পর্যন্ত কত সংগঠন কত অজুহাতে যে আসছে তার ঠিক নাই। আরও অনেক আসবে। একেক সংগঠনের চাঁদার রেট একেক রকম।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবে রাজধানীতে প্রায় ১৪৭টি শপিংমল রয়েছে। বাস্তবে এর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। আর এসব শপিংমলে অন্তত লাখ খানেক ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে। অভিজাত এলাকার ব্যবসায়ীদের গুনতে হয় আরো বেশি টাকা।
সুত্র জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদা তোলায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক একটু বেশি। দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ আছেন কারাগারে। দেশ পলাতকের পাশাপাশি আবার অনেকেই গাঁ ডাকা দিয়ে আছেন। কিন্তু আড়ালে থেকেও তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন। তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তোলা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
শপিংমলের মত বাদ যায়নি ফুটপাতে চাঁদাবাজি। নামে বেনামে সংগঠনের নামে নিয়মিত চাঁদার পাশাপাশি তোলা হচ্ছে ইফতার ও ঈদ কেন্দ্রিক। চাঁদা না দিলেও ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনও অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সারাদেশের সিটি করপোরেশন, বন্দর, হাটবাজার ও জেলা-উপজেলার  নিবন্ধনকৃত হকার আড়াই লাখ। এরমধ্যে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকাতেই আছে প্রায় এক লাখের উপরে হকার। এর বাইরে অনিবন্ধিত ও মৌসুমী হকার আরো  কয়েক লাখ। ঈদকে সামনে রেখে এসব হকারের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে শত কোটি টাকা। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানের শুরু থেকেই ইফতার মাহফিলের নামে চাঁদাবাজি চলছে। আর ঈদ যত ঘনিয়ে চাঁদাবাজির রেটও বাড়ছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে বসেন হকার হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, ফুটপাতে বসে ব্যবসা করার জন্য প্রতিদিন একবার চাঁদা দিতে হয়। কিন্তু প্রতি বছর রমজান মাস আসলে নানা কিসিমের চাঁদা দিতে হয় বিভিন্ন সংগঠনকে।
যারা চাঁদা নিতে আসে তারা বিভিন্ন নেতাদের নাম বললে আর কিছু করার থাকে না। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতিসহ খারাপ আচরণ করা হয়। করা হয় নানা হয়রানি। গুলিস্তানের সাইফুল বলেন, ব্যবসা হোক আর না হোক চাঁদার টাকা ঠিকই দিতে হয়। ছোট ব্যবসার জন্য সর্বনিম্ন ২০০ টাকা আর একটু ভাল ব্যবসা হলে কমপক্ষে ৫০০ টাকা নেয়া হয়। বায়তুল মোকারমের ফুটব্যবসায়ী সায়েম বলেন, চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করার উপায় নাই। মিরপুরের হকার  আমিন বলেন, রমজান মাসে আলাদা বাজেট করে রাখতে হয়। জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে পারা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে ফুটপাত থেকে চাঁদা উঠানোর জন্য প্রায় ৫ শতাধিক চাঁদাবাজ রয়েছেন। তারা লাইনম্যান নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট পরিমান টাকার বিনিময়ে তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উঠানোর কাজ করেন। তাদেরকে সহযোগীতা করেন স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি ও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুসন্ধান ও সূত্রে জানা গেছে, নিউমার্কেট ও আশেপাশের এলাকায় চাঁদা তুলেন সাত্তার মোল্লা, ইব্রাহিম ইবু, নুর ইসলাম, বাচ্চু, রফিক, আমিনুল ইসলাম, মোর্শেদ, ইসমাঈল, সাইফুল ইসলাম। শেরেবাংলা নগর ও ফার্মগেট এলাকায় শাহআলম, জুতা মোবারক, শামসু, চুন্নু। জুরাইন ও পোস্তগোলায় চাঁদা তুলে হানিফ, সিরাজ ও খায়রুল। লালবাগে চান মিয়া, ফিরোজ ও আব্দুস সামাদ। যাত্রাবাড়িতে মান্নান, তোরাব আলী ও সোনা মিয়া। মিরপুরে-১ এ মিজান, বাদশা, জুয়েল ও আলী। ওসমানি উদ্যানে  লম্বা শাহজাহান। শাহবাগে নুর ইসলাম, কালাম, ফজর আলী, আকাশ। গুলশানে হাকিম, কুড়িলে নুরুল আমিন, আব্দুর রহিম। মিরপুর-১১ শফিক, হানিফ, আব্দুল ওয়াদুদ। গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনে বাবুলসহ অন্যান্যরা। সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের উত্তর পাশের রাস্তায় জজ মিয়া। পুর্ব পাশের রাস্তায় সেলিম মিয়া। বায়তুল মোকাররমে কাদের, পটল, মুজিবুর, আবুুল হাসেম, সেকান্দার হায়াত, হারুন, খোকন, নসু ও তার সহযোগীরা।
গুলিস্তান খদ্দের মার্কেটের পুর্বে  ভাগ্নে কাদের, আকতার, জাহাঙ্গীর, সালাম। একই মার্কেটের পশ্চিমে কাদের উত্তরে হান্নান। বিমান বন্দর এলাকায় বাবুল, জামাল, আকতার, ইব্রাহিম, মনির, উত্তরায় টিপু, নাসির হামিদ। মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাবুল ভুঁইয়া, মো. আলী, আবদুল গফুর। গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের রাস্তায় লম্বা হারুন, সহিদ, আমিন মিয়া। পশ্চিম পাশে কানা সিরাজ, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে বিমল বাবু। জুতা পট্টিতে সালেক, জয়, বাবুল। গোলাপশাহ মাজারের দুই পাশে শাহীন ও বাবুল। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এলাকায় রতন, শিবলু, সাইফুল ও তার আরো কয়েকজন সহযোগী। মতিঝির আলিকোর সামনে সাদেক, সোনালি ব্যাংকের সামনে মকবুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ পাশে আজাদ, উত্তরপাশে হারুন, শাহীন। বক চত্বরে নুর ইসলাম, রুপালী ব্যাংক হেড অফিসের সামনে রাজু, বাবলু, অগ্রনি ব্যাংক হেড অফিসের সামনে মান্নান, জীবন বীমার সামনে কালা কাশেম, জাসদ অফিসের নিচে রনি।
বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার জন্য প্রতিটি ফুটপাতে আলাদা আলাদা লাইনম্যান আছে। তাদের চাঁদাবাজি ফরজ করতে তারা  হকার ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন করেছে। লাইনম্যানদের মধ্যে থেকে একজনকে সভাপতি ও আরেকজনকে সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজানের শুরু থেকে চাঁদাবাজি চলছে। ঈদ যত সামনে আসবে ততই চাঁদার রেট বেড়ে যাবে। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এই চাঁদাবাজি চলবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা অনেক আন্দোলন করছি। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে একাধিক মামলা। কিন্তু তাদেরকে কখনই গ্রেপ্তার করা হয়নি। কারণ তারা প্রত্যেকেই পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই কাজ করে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার পাশাপাশি পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদা উঠানোর জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিছু অসাধু চক্র। এই চক্রগুলো প্রতি বছর ঈদ কেন্দ্রিক দুর পাল্লার বিভিন্ন বাস থেকে চাঁদা উঠায়। ঈদ যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু চাঁদাবাজরা রাজধানীতে প্রবেশ ও বাহির পথে চাঁদাবাজি শুরু করে দিয়েছে।  ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকার টার্মিনাল গুলোতে প্রবেশকালে চাঁদা তোলা হয়। এর বাইরে খোদ ট্রাফিক পুলিশও কাগজপত্র চেক করার নামে চালকদের হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেক চালক। আবার দুর পাল্লার অনেক যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এখনই চালকরা বাড়তি ভাড়া নেয়া শুরু করে দিয়েছে। বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণ জানতে চাইলেও তারা কোন সদুত্তর দিচ্ছেন না। তবে চালকরা জানিয়েছেন, তাদের খরচ বেড়েছে। ইঞ্জিন চালু করলেই একাধিক ঘাটে তাদেরকে টাকা দিতে হচ্ছে।

এদিকে, গত ২৬শে মে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মহাসড়কে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের জন্য সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে সিসিটিভি স্থাপন, ট্রাক, পিকআপ এবং পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহণ রোধ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন না থামানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু চক্র নানাভাবে চাঁদাবাজি করে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এসময়টা একটু বেশি তৎপর থাকে। চাঁদাবাজির ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সারা দেশের পুলিশবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে তবে আমরা ব্যবস্থা নেব।

ইতালিতে প্রদর্শিত হলো ড. ইউনূসের জীবনীভিত্তিক অপেরা

নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতালির ফানো শহরে ‘২৭ ডলার’ নামের একটি ভিন্নধর্মী অপেরার প্রিমিয়ার শো-তে যোগ দেন ২০শে মে। অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত টুরিস্ট নগরী ফানোর ‘তেয়াত্রো দেল্লা ফরচুনা’য় (থিয়েটার অব লাক) বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে প্রদর্শিত হয় অপেরাটি।
উরবিনো বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর প্রফেসর ভিলবার্তো স্টচ্চি-র বিশেষ আমন্ত্রণে প্রফেসর ইউনূস এই অপেরা শো-তে যোগ দেন। অপেরা ‘২৭ ডলার’-এর প্রযোজক ইতালিয়ান ন্যাশনাল সিঙ্গারস এসোসিয়েশন। এতে সহায়তা দিয়েছে উরবিনো বিশ্ববিদ্যালয়, ‘কার্লো বো’, ফানো মিউনিসিপ্যালিটি, তেয়াত্রো দেল্লা ফরচুনা ফাউন্ডেশন ও ইমাজেম এসআরএল। প্রায় আট বছরের প্রস্তুতি শেষে অপেরাটি মঞ্চায়িত হয়েছে। প্রফেসর ইউনূসের জীবনী এবং দরিদ্র মহিলাদের নিকট আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে তাঁর সংগ্রামের কাহিনী বিধৃত হয়েছে এই অপেরায়।
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত প্রফেসর ইউনূসের গ্রন্থ 'Banker to the Poor'-এ অনুপ্রাণিত হয়ে অপেরাটি তৈরি হয়। এর রচয়িতা পাওলা সামোজ্জিয়া ও পরিচালক আন্দ্রিয়া মিরো ও কার্লো মাগরি। অপেরাটি উপস্থাপন করেন ইতালিয়ান ন্যাশনাল সিঙ্গারস অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাম্বাসেডর ও ইউনিভার্সিটি অব উরবিনোর আট অ্যান্ড কালচারাল প্রজেক্টের শিল্প নির্দেশক সোপ্রানো ফিলিসিয়া বনগিওভান্নি। মূল অভিনয় শিল্পী ছিলেন সোপ্রানো ফিলিসিয়া বনগিওভান্নি এবং টেনর ক্রিশ্চিয়ানো ক্রেমন্নিনি।
সোপ্রানো গ্রামীণ ব্যাংকের নারী ঋণগ্রহীতাদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং টেনর প্রফেসর ইউনূসের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটি ছিল একটি পুরুষ শাসিত পৃথিবীতে নারীদের সংগ্রামের ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র মুক্তির সফল প্রচেষ্টার একটি শৈল্পিক উপস্থাপনা। অপেরাটি তার অনবদ্য ধ্বনি, সুর ও ঐক্যতানের মাধ্যমে সে সময়কার নারীদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে। অপেরাটি শুরু হয় হস্তশিল্পে নিয়োজিত কয়েকজন দরিদ্র নারী মহাজনদের নিকট মাত্র ২৭ ডলার ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে কীভাবে নিজেদের জীবনকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত করতে সক্ষম হয় তার কাহিনী দিয়ে।
‘২৭ ডলার’ অপেরাটিতে তুলে ধরা হয়েছে অর্থায়নের জগতে দরিদ্রদের প্রবেশ তাদের জন্য কী অপরিসীম সুযোগ তৈরি করে এবং কীভাবে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি ও আর্থিক শিক্ষার মধ্যদিয়ে একটি মূল্যবোধভিত্তিক অর্থনৈতিক সংস্কৃতি ও টেকসই সমাজ গড়ে ওঠে- যেখানে ব্যক্তি মানুষ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
শো শেষে সাংবাদিকরা প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাৎকার নিতে এলে তিনি বলেন, ‘কাহিনীটি যেভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে তাতে আমি অভিভূত। অপেরা শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতা শোটিকে একটি শক্তিশালী কাহিনীতে পরিণত করেছে। কাহিনীর নারীদের দুঃখ-দুর্দশার পাশাপাশি সমাজে আত্ম-প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সংগ্রাম অপেরাটির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ্য করে তুলেছে।’
অপেরাটি দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন উরবিনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ইতালির বিশিষ্ট অপেরা ব্যক্তিত্বগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
প্রফেসর ইউনূস উরবিনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫,০০০ ছাত্র এখানে অধ্যয়ন করে। এরপর প্রফেসর ইউনূস এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত একটি ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ওই দিন অপরাহ্ণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি আড়ম্বরপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূসকে বিশ্ব ব্যাপী মানবতার কল্যাণে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বোচ্চ সম্মাননা  ‘রেক্টর্স সীল’ প্রদান করা হয়।
২১শে মে রোমে ফিরে এসে প্রফেসর ইউনূস বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন। জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক হোসে গ্রাৎজিয়ানো দ্য সিলভা। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নোবেল জয়ী ক্ষুধা ও বিরোধের সাথে যুক্ত বিভিন্ন ইস্যু বিষয়ে তাদের চিন্তাধারা পুনর্বিবেচেনা করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানান যাতে সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষদেরকে বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোক্তায় পরিণত করা সম্ভব হয়।
‘খাদ্য নিরাপত্তা ও শান্তি বিষয়ক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ীদের মৈত্রীর কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও মনিটর করতে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালকের আমন্ত্রণে প্রফেসর ইউনূস সংস্থাটির সদর দপ্তরে আসেন। প্রফেসর ইউনূস এই সংগঠনের দুজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যর একজন। সংঘাত ও ক্ষুধার দুষ্ট চক্র মোকাবিলায় ২০১৬ সালে ১২ জন নোবেল বিজয়ীকে নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমরা যদি ভিন্নভাবে চিন্তা না করি, ভিন্নভাবে কাজ না করি- তাহলে দারিদ্র, ক্ষুধা, জলবায়ু বিপর্যয় ও সংঘাত কখনোই দুর করা সম্ভব হবে না।’
এই সংগঠনে আরো যে নোবেল লরিয়েটগণ রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন ইয়েমেনের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী তাওয়াক্কুল কারমান, ইরাকী ইয়াজিদি মানবাধিকার কর্মী নাদিয়া মুরাদ যিনি ধর্ষণকে যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য ২০১৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং কলম্বিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস যাকে নিজ দেশের ৫০ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রোমে অবস্থানকালে প্রফেসর ইউনূস ইতালিয়ান পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা ও ইতালীর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিকোলা জিনগারেত্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন। দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং বেকারদেরকে উদ্যোক্তায় পরিণত করতে প্রফেসর ইউনূসের তত্ত্ব ও তার প্রয়োগ নিয়ে তারা দীর্ঘ আলোচনা করেন।

ট্রাভেল পারমিটে কড়াকড়ি জটিলতার আশঙ্কা by মিজানুর রহমান

সিরিয়া, ইরাকসহ বিদেশে যুদ্ধ করতে যাওয়া বাংলাদেশি কতিপয় উগ্রপন্থিকে ঠেকাতে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুতে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  ট্রাভেল পারমিট (টিপি) নিয়ে জঙ্গিরা দেশে ঢুকে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে সতর্ক নির্দেশনা জারি করেছে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাঠানো ওই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া কাউকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া যাবে না। জনস্বার্থে জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে জঙ্গিদের অবশ্যই ঠেকাতে হবে। তার জন্য দুনিয়া  স্বীকৃত অত্যাধুনিক ম্যাকানিজম রয়েছে। আছে উন্নত প্রযুক্তি, যা বাংলাদেশেও প্রয়োগ হচ্ছে।
এটি আরও বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এর জন্য ট্রাভেল পারমিট বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এটি দুনিয়ার দেশে দেশে থাকা লাখ লাখ শ্রমজীবি নিরীহ বাংলাদেশির ওপর প্রভাব ফেলবে! প্রবাসীদের স্বার্থ দেখভালের দায়িত্বও সরকারের উল্লেখ করে এক কূটনীতিক বলেন, নানা কারণে পাসপোর্ট না থাকা বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিট দিয়ে দেশে ফেরাতে হয়। অনেক সময় হোস্ট কান্ট্রিগুলোর চাপ থাকে। তাছাড়া জেনারেল অ্যামনেস্টি ঘোষণার আওতায়  বৈধতার প্রক্রিয়াও অনেকে জেল জরিমানা ছাড়া ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে ফিরেন। যার বেনিফিট তারা পরবর্তীতে পান। সূত্র মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জঙ্গিদের ঠেকাতে টিপির ওপর কড়াকড়ি  আরোপের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিটি দূতাবাসগুলোতে ফরওয়ার্ড করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা চেয়েছে তা-ই করা হয়। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এটা মানতেই হবে। কিন্তু ট্রাভেল পারমিটের জন্য প্রবাসীদে অপেক্ষা নানামুখি জটিলতা বাড়াবে।
মিশনেও চাপ বাড়বে। এটি কতটা বাস্তব ভিত্তিক সিদ্ধান্ত তা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সামপ্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি তৎপরতার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জাতীয়তা ও প্রাক্‌পরিচিতি যাচাই ছাড়া কাউকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। এতে পরিচয় গোপন করে যুদ্ধফেরত জঙ্গি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা থেকে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দেশ থেকে অনেকে সিরিয়া ও ইরাকে গেছেন। এর সঠিক সংখ্যা কত এবং তাঁদের কতজন মারা গেছেন ও জীবিতরা কে কোথায় আছেন, তার পূর্ণাঙ্গ কোনো হিসাব বা তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পশ্চিমা একটি দেশের কাছে প্রবাসী সন্ত্রাসবাদী যোদ্ধাদের (ফরেন টেররিস্ট ফাইটারস বা এফটিএফ) যে তালিকা রয়েছে, তাতে সিরিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪০ জনের বেশি। তাঁরা মূলত ২০১৪-১৫ সালে দেশ ত্যাগ করেন। তাঁদের অনেকে মারা গেছেন এবং কেউ কেউ ধরা পড়ে সিরিয়া বা ইরাকের বন্দিশালায় আছেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পাচ্ছে। এর বাইরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক বিদেশি নাগরিক সিরিয়ায় গেছেন।
সিরিয়ায় আইএসের পতন হওয়ার পর সেখানকার বিদেশি যোদ্ধারা নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারে, এ আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ রয়েছে। যার কারণে সবাই সতর্কতা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কাউকে ট্রাভেল পারমিট না দেয়ার জন্য মিশন বা দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। ট্রাভেল পারমিট ইস্যুতে কড়াকড়ির সিদ্ধান্তে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক যাদের যে কোন কারণে পাসপোর্ট নেই, ট্রাভেল পারিমিট  পাওয়া জরুরি তারা কোন সমস্যায় পড়বেন কি-না? এমন প্রশ্ন আগেই ওঠেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, এমন ক্ষেত্রে ই-মেইলে বা ফ্যাক্সে দ্রুত অনুমোদন দিবে মন্ত্রণালয়। ট্রাভেল পারমিট বা টিপি বন্ধের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও। তারা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে আর প্রবাসী শ্রমিক বিশেষ করে যাদের কাছে কাগজপত্র নেই তাদের কাছে টিপি শব্দটা ব্যাপক পরিচিত।
সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে টিপি দেয়া হয়। বিদেশে গিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা, চুরি বা খোয়া যাওয়া, আগুনে পুড়ে বা পানিতে নষ্ট হওয়া ইত্যাদি। এ অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট করা সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের দেশে ফিরতে হবে, তাদেরই টিপি দেয়া হয়। তাছাড়া হোস্ট কান্ট্রির কোনো আইন ভাঙার কারণে সেখানকার সরকার কাউকে আটক করে নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠাতে চায়। মালয়েশিয়া বা সৌদি আরবে অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযানে এটা হয় হরহামেশা। তখন সাধারণত টিপি দিয়ে তাদের দেশে পাঠানো হয় হোস্ট কান্ট্রির চাহিদা মোতাবেক। বিশ্লেষকরা বলছেন, দূতাবাস যখন শতভাগ নিশ্চিত হয় যে লোকটি বাংলাদেশের নাগরিক তখনই সাধারণত টিপি দেয়া হয়। এজন্য পাসপোর্ট হারালে বা চুরি হলে অবশ্যই পুলিশ রিপোর্ট করতে হয়। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভিসার কপি (যদি থাকে) জমা দিতে হয়। এসব না হলে টিপি দেয়া সম্ভব নয়। আর সব পেলে দূতাবাস দেশে পাঠিয়ে বা সম্ভব হলে সেখান থেকে যাচাইবাছাই করে টিপি দেয়।

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ : ফাঁদে আটকা পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র!

আপনি যদি আমেরিকায় থাকেন, শিগগিরই আপনার জুতার দাম বেড়ে যেতে পারে।
ধরা যাক আপনি দৌড়াতে পছন্দ করেন। তাহলে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। জগিং বা দৌড়ানোর জন্য দরকার হয় যে ধরনের জুতা, তার দাম ১৫০ ডলার থেকে বেড়ে ২০৬ ডলার হতে পারে। এটি 'ফুটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটর্স অব আমেরিকার' দেয়া হিসেব।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা জুতার ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর যে প্রস্তাব করেছেন, তা যদি কার্যকর হয়, তাহলে এমনটাই ঘটবে।
এখন একটি মার্কিন পরিবারে যদি সবার জন্য জুতা কিনতে হয়, তাহলে খরচ কতটা বাড়বে। হিসেব করে দেখা যাক :
প্রতি পরিবারে ৫০০ ডলারের বাড়তি খরচ
ধরা যাক আপনার ছোট ছেলে। তর তর করে বড় হচ্ছে। জুতার সাইজ কেবলই বদলে যাচ্ছে। তার জুতার দাম এখন ১০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ ডলারে।
আপনার কিশোরী মেয়ে। মাত্র বাস্কেটবল খেলা শুরু করেছে। তার জুতার দাম ১৩০ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৯ ডলার।
আপনার স্ত্রী তার জন্মদিনের জন্য উপহার চায় একজোড়া হান্টিং বুট। সেতো অনেক টাকা। ১৯০ ডলারের জায়গায় এখন গুনতে হবে ২৪৯ ডলার।
কাজেই কেবল জুতার জন্যই একটি মার্কিন পরিবারকে অতিরিক্ত ১৬৯ ডলার খরচ করতে হবে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো কেবল জুতার ওপর শুল্ক বসাচ্ছেন না। এই শুল্ক আরোপ করছেন আরো অনেক কিছুর ওপর- গরুর মাংস, ফ্রোজেন ফল-মূল থেকে শুরু করে শাক-সব্জি পর্যন্ত।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদরা গবেষণা করে দেখেছেন, মার্কিন ভোক্তারা এখন ১২ শতাংশ বেশি দামে ওয়াশিং মেশিন কিনছেন। ড্রায়ারের দামও বেড়ে গেছে।
কাজেই গড়পড়তা মার্কিন পরিবারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রভাব বেশ ভালোই পড়বে।
আমেরিকান অ্যাপারেল এন্ড ফুটওয়্যার এসোসিয়েশন (এএএফএ) হিসেব করে দেখাচ্ছে চার সদস্যের একটি মার্কিন পরিবারকে কাপড়-চোপড়, জুতা, বেড়াতে যাওয়ার নানা জিনিস এবং অন্যান্য কিছু আইটেম বাবদ প্রায় পাঁচ শ' ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে।
তবে অর্থনীতি বিষয়ক একটি কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান ট্রেড পার্টনারশীপ ওয়ার্ল্ডওয়াইড অনুমান করে দেখিয়েছে, আমদানি শুল্কের কারণে গড়পড়তা একটি পরিবারে আসলে খরচ বাড়বে ২ হাজার ৩ শ' ডলার পর্যন্ত।
কী ঘটছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ১০ই মে চীন থেকে আরও প্রায় বিশ হাজার কোটি ডলারের আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন।
এর পাল্টা চীন প্রায় ছয় হাজার ডলারের মার্কিন আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়। জুন মাসের ১ তারিখ হতে এই শুল্ক কার্যকর হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন বলেন, তিনি চীনের বিরুদ্ধে এর পাল্টা আরও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। যেসব পণ্যের ওপর এখনো শুল্ক বসানো হয়নি, সেগুলোর ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা চাইলে দেশে তৈরি পণ্য কিনে শুল্ক দেয়া এড়াতে পারেন। বা তারা ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম থেকে পণ্য আনতে পারেন, যেসব দেশের ওপর এই শুল্ক বসানো হয়নি।
তবে আমেরিকান অ্যাপারেল এন্ড ফুটওয়্যার এসোসিয়েশনের (এএএফএ) প্রধান নির্বাহী রিক হেলফেনবিয়েন বলছেন, ব্যাপারটা অত সহজ নয়। যদিও এসব দেশ থেকে আমদানি বাড়ছে, জুতা তৈরি অত সহজ নয়। এটার জন্য যে ধরনের দক্ষতা আর প্রযুক্তি দরকার, সেটাও একটা দেশ থেকে আরেক দেশে দ্রুত নিয়ে যাওয়া যায় না।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া জুতার ৭২ শতাংশ এবং কাপড়-চোপড়ের ৪১ শতাংশ আসে চীন থেকে।
"আমরা আসলে এখানে খুবই নির্ভরশীল। আমাদের যাওয়ার অন্য কোনো জায়গা নেই। কাজেই আমরা কিন্তু একটা ফাঁদে আটকা পড়ে আছি। এই শুল্ক আমাদের ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি করবে।"
ব্যবসায়ীদের আরেকটি সংগঠনের মুখপাত্র অ্যান্ডি পল্ক বলছেন, চীন থেকে যে ধরনের জুতা আমদানি করা হয়, তার অনেক জুতা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরিই হয় না। আর যদি কোনো জুতা তৈরি হয়, তার উৎপাদন খরচ পড়ে অনেক বেশি।
যেমন এক জোড়া হাইকিং বুটের দাম পড়বে ৩০০ ডলার। রানিং শু কিনতে খরচ হবে দেড় শ' ডলার।
বাণিজ্য যুদ্ধ কেন?
চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বসালে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম হবে, তত্ত্বকথা তাই বলে। এর ফলে ভোক্তারাও মার্কিন পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবেন। আর বাণিজ্য যুদ্ধে দরকষাকষির জন্য এটাকে একটা অস্ত্র হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে।
যদিও এই আমদানি শুল্কের কারণে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি হবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন দীর্ঘমেয়াদে এটি আসলে চীনা অর্থনীতিকে আঘাত হানবে।
সূত্র : বিবিসি

বাচ্চা বিক্রি করবো, কত দাম দেবেন

পুরনো ব্যবহার করা জিনিস বেচাকেনার দোকান। বাইরে লেখা, ১৮ বছরের নীচে প্রবেশ নিষেধ। মাথায় বেসবল ক্যাপ ও গায়ে কার্গো শার্ট পরা একটি লোক সটান ঢুকে পড়েন দোকানে। হাতে একটি শিশু। টেবিলের উপরে বাচ্চাশুদ্ধু কটটিকে রেখে দিয়ে বলেন, ‘আমার কাছে এটা রয়েছে। মাত্র সাড়ে সাত মাস ব্যবহার করা হয়েছে। কত দাম দেবেন?’
ফ্লরিডার সেরাসোটার ঘটনা। চোখের পলক পড়ছিল না দোকানের কাউন্টারে দাঁড়ানো রিচার্ড জর্ডনের। বলে কী! তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন তিনি। তবে লোকটি তত ক্ষণে বেরিয়ে গিয়েছেন। পুলিশকে জর্ডন জানান, লোকটিকে তার সন্দেহজনক মনে হয়েছে। বাচ্চাটিকে নিয়ে ভয় হচ্ছে।
দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে পুলিশ খোঁজ শুরু করে অভিযুক্তের। টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে নিজের ছবি দেখে অভিযুক্ত রিচার্ড স্লোকাম নিজেই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে চলে আসে। আটক করে তাকে। জেরার মুখে ৪৩ বছর বয়সি স্লোকাম জানিয়েছেন, তিনি ওই শিশুটির বাবা। দোকানের বাইরে ‘১৮ বছরের নীচে প্রবেশ নিষেধ’ লেখাটি পড়ে মজা করতে ইচ্ছে হয়েছিল। তাই নিজের সাড়ে সাত মাসের সন্তানকে নিয়ে দোকানে ঢোকেন। ভেবেছিলেন, মজা করে ভিডিয়ো বানাবেন। তার পর তা স্ন্যাপচ্যাটে দেবেন। স্লোকামের এমন ‘স্বীকারোক্তি’তে স্তম্ভিত পুলিশও।
পুলিশকে স্লোকাম আরও জানান, স্ন্যাপচ্যাটে অ্যাকাউন্ট খুলে মজা করার পরিকল্পনা ভাইপোর সাথে করেছিলেন। সে কাকাকে খুব উৎসাহ দিয়েছিল। কিন্তু লোককে হাসাতে গিয়ে এখন গালমন্দ শুনতে হচ্ছে! স্থানীয় সব চ্যানেলে দেখানো হয়, তিনি কী করেছেন। সকলেই বলছেন, ‘এটা কী ধরনের রসিকতা!’ স্লোকামের মতে, তিনি মজার কাজ করেছিলেন। দোকানদার জর্ডনের কথায়, ‘এটা মোটেই মজার কিছু নয়। বেশ গম্ভীর মুখে উনি বলছিলেন, কত দাম দেবেন। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাচ্চাকে দেখাচ্ছিলেন।’ জর্ডন জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় কোনও জবাব দিতে পারেননি। ঘাড় ঘুরিয়ে শুধু ‘না’ দেখিয়েছিলেন। তখন বাচ্চাটিকে টেবিলের উপর থেমে নামিয়ে নিয়ে চলে যান স্লোকাম।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও তারা সন্দেহজনক কিছু পায়নি। তাই অপরাধমূলক কাজের চার্জ গঠন হচ্ছে না স্লোকামের বিরুদ্ধে।

ডান্সক্লাবে পরিচয়, নুর-অন্তরার অতঃপর যা ঘটলো by ওয়েছ খছরু

দু’জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের একই এলাকায়। কেউ কাউকে চিনেন না। ঢাকার ডান্সক্লাবে পরিচয়। এরপর থেকে প্রেম। পরে বিয়ে। অনেক ঘটনার পর অবশেষে ডিভোর্স। আর ডিভোর্স দিয়ে স্ত্রী অন্তরার মামলার আসামি হলেন নুর আহমদ। এখন পুলিশ তদন্ত করছে বিষয়টি। তবে- সুনামগঞ্জ সদরের নারায়ণতলা এলাকায় এ নিয়ে কানাঘুষার অন্ত নেই। যতটা না বেশি আলোচিত হচ্ছেন নুর আহমদ তার চেয়ে বেশি জল্পনা দেখা দিয়েছে অন্তরাকে ঘিরে। সমাজপতিরা বার বার বিষয়টিকে মিটমাটের চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু অন্তরাকে তারা ফিরিয়ে আনতে পারেননি সুপথে। সুনামগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নারায়ণতলা কোনাপাড়া গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে নুর আহমদ। একই এলাকার আমপাড়া গ্রামের ময়দর আলীর মেয়ে মোছা. অন্তরা।
নুর এবং অন্তরার সম্পর্ক প্রায় ৪ বছরের। ইমামের মাধ্যমে বিয়ে করে তারা ঘর-সংসার করেছেন। কিন্তু লিখিতভাবে এফিডেভিট হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। নুর আহমদের ভাষ্য মতে- ঢাকার ডান্সবারের মেয়ে অন্তরা। বাড়ি সুনামগঞ্জেই। কিন্তু তিনি তা জানতেন না। একদিন এক ডান্সবারে অন্তরার সঙ্গে তার দেখা। ২০১৫ সালের শেষ দিকে তাদের দেখা হওয়ার পর পরিচয়ও হয়। সেই সূত্র ধরে তারা প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। অন্তরাকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালের ১লা এপ্রিল ইমামের মাধ্যমে অন্তরাকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতো না নুর আহমদের পরিবার।
বিয়ের পর অন্তরা তার মায়ের সঙ্গে বাসাতেই থাকে। বিয়ের এক মাসের মাথায় নুর আহমদ জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে চলে যাওয়ার সময় অন্তরাকে তার মা ফুলনেছা বেগমের কাছে রেখে যান। এবং সৌদি আরব গিয়ে তিনি প্রতি মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা অন্তরার খরচ বাবদ পাঠান। প্রায় আড়াই বছর সৌদি আরবে ছিলেন নুর আহমদ। এই আড়াই বছরের মধ্যে অন্তরা আবার যেইসেই। আবারো ডান্সক্লাব হয়ে ওঠে তার ঠিকানা। নুর আহমদ অভিযোগ করেন- উচ্চাভিলাষী মা ফুলনেছার কারণে অন্তরা আবার সেই পথে পা বাড়ায়। সৌদি আরব থেকে বিষয়টি জেনে প্রতিবাদ করেন। এ সময় নুর আহমদ সৌদি আরবে থেকে শাশুড়ির সঙ্গে কথা বললেও কোনো সান্ত্বনা পাননি।
বরং ফুলনেছা- অন্তরার ওপর ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। এরপরও নুর আহমদ সরল মনে অন্তরা ও তার মাকে প্রতি মাসে খাওয়া-থাকা বাবদ টাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এদিকে- গত ৮ই ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে ছুটি কাটাতে দেশে ফিরেন নুর আহমদ। স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে তাদের বিয়ের চূড়ান্ত বৈধতা দিতে নুর ও অন্তরা সুনামগঞ্জের আদালতে এফিডেভিট করেন। ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারা আদালতে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে এফিডেভিট করেন। এদিকে- আদালতে এফিডেভিটের পরপরই বদলে যেতে থাকে অন্তরা। নুর আহমদ জানান- তিনি সৌদি আরবে থাকার সময় অন্তরার সঙ্গে একাধিক পরপুরুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি তিনি লোকমুখে জানলেও বিশ্বাস করেননি। কিন্তু দেশে আসার কিছু দিনের মধ্যে বিষয়টি খোলাসা হয়ে যায়। এমনকি স্বামীর কাছে থাকা অবস্থায় সে পরপুরুষের সঙ্গে মিলতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে চলে আসে। ঢাকার ডান্সক্লাবেও ফিরে যায়। বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। আর প্রতিবাদের সূত্র ধরে শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। পারিবারিক কলহের পর অন্তরা ও তার মা ফুলনেছা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বার বার সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চালানো হয়। এরপরও অন্তরা সুপথে ফিরেনি।
পরপুরুষের সঙ্গ ছাড়েনি। এ কারণে এফিডেভিট করার দুই মাসের মাথায় ১৮ই এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে অন্তরাকে ডিভোর্স দেন নুর আহমদ। ডিভোর্সপত্রে নুর আহমদও জানান- ‘তার স্ত্রী প্রায় সময় গর্হিত কাজ করে। সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে আসেনি।’ ওদিকে- ডিভোর্স দেয়ার পরপরই নুর আহমদ তার ডিভোর্সি স্ত্রী অন্তরা ও তার মা ফুলনেছাকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন। এতে উল্লেখ করেন অন্তরা কিংবা তার মা তাকে নানাভাবে ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে নানাভাবে হুমকিও দিচ্ছে। এদিকে- ডিভোর্সের পর অন্তরা ২৫শে এপ্রিল সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নুর আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর মামলা করেন। মামলায় তিনি নুর আহমদের পিতা মুকশেদ আলী, মা আমেনা খাতুন, ভাই পিয়ার আহমদ ও বোন পারভিনকে আসামি করেছেন। আর্জিতে অন্তরা দাবি করেন- ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিয়ের পর নুর আহমদ তাকে তার পিতার বাড়িতে তুলে নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার পর নুর আহমদের আসল চরিত্র তার কাছে প্রকাশ পায়। এ সময় নুর আহমদ সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ২রা মার্চ তার কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আর এই দাবিতে তাকে মারধর করা হয়। এ কারণে তিনি পিত্রালয়ে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।
এদিকে- সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা করলে আদালত সেটি সুনামগঞ্জ থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী মাসের শুরুতে আদালতে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি এখন তদন্ত করছে সুনামগঞ্জের পুলিশ। এ ব্যাপারে অন্তরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্তরার মা ফুলনেছা জানিয়েছেন- তার মেয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেটি সত্য নয়। নুর আহমদ তার মেয়ে অন্তরাকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু সৌদি থেকে ফেরত আসার পর তার পরিবারের প্ররোচনায় পড়ে অন্তরাকে ডিভোর্স দিয়েছে। তিনি বলেন- অন্তরা বিয়ের পর অনেকটা শুধরে গেছে। সাংসারিক হতে চেয়েছিল। নুর আহমদের অভিযোগ অন্তরার চেয়ে তার মায়ের দিকেই বেশি। তিনি বলেন- অন্তরার মায়ের উচ্চ ভিলাষিতার খায়েস মেঠাতে সৌদি থেকেও আড়াই বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা দেয়ার পরও অন্তরা তার মায়ের প্ররোচনায়ই পরপুরষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। সাংসারিক হতে দেয়া হয়নি অন্তরাকে।

যে বিশ্বকাপের পর নিঃস্ব হবে বিশ্ব by রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

ঈষৎ পক্বকেশ, কাঁচাপাকা দাড়ির ভদ্রলোককে আর বোধহয় দেখা যাবে  না। বিলেতে আসন্ন বিশ্বকাপই খুব সম্ভবত শেষ। অলস অবসর যাপনে হয়তো তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়বেন তিনি, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট মস্তিষ্ক। হয়তো হাতে তখন ব্যাটের বদলে থাকবে রং-তুলি। বাইশ গজের সবুজ গালিচার জায়গা নেবে সাদা ক্যানভাস। শৈশবে তার যা প্রথম প্রেম ছিল। বছরে একবার খেলবেন আইপিএল, বিশ্ব ওই একবারই তখন দেখবে তার অসাধারণ ক্রিকেট প্রজ্ঞার ঝলক। কিন্তু নীল জার্সির পৃথিবীতে আর নয়।
ছ’ফুট তিন ইঞ্চির দৈত্যাকার জামাইকান তিনিও তো আর থাকছেন না। জীবনের ৩৯ বসন্ত পেরিয়ে আজও তিনি ক্ষুরধার, ধুঁয়াধার। কিন্তু সেই দীর্ঘদেহীরও এই শেষ, এই বিশ্বকাপই শেষ। তাকে এরপর হয়তো আবিষ্কার করা যাবে জামাইকার মাঠে, গ্যালারিতে বিয়ার হাতে। যেখানে বসে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন, তার বোলার শাসনের রাজধর্মের সঠিক পালন ক্রিকেট উত্তরাধিকাররা করছেন কি না। কে জানে হয়তো বা অস্ফুটে বলেও ফেলবেন, নাহ্‌, ইউনিভার্স বস হওয়া তোদের কম্ম নয়! কিন্তু ক্রিকেট? বিশ্বকাপ উত্তর ক্রিকেট কফিনের ডালা খোলা? নাহ্‌, আর না।
কিংবা ধরা যাক ভারতীয় উপমহাদেশেরই দুই ক্রিকেট বীরকে। সিংহল প্রদেশ জাত যে পেসার বিশ্ব ক্রিকেটে স্লিং আর্ম বোলিং অ্যাকশনের প্রকৃত জন্মদাতা- তিনিও বা আর আগামী ১৪ই জুলাইয়ের পর থাকছেন কোথায়? ঝাঁকরা চুলের সদা হাস্যময় শ্রীলঙ্কা পেসারের মুখটা মনে পড়লে, চাপা দীর্ঘশ্বাস মিশবে না ভারত মহাসাগরের জলে? আবার চোখের কোনে জমা হবে না জলীয় বাষ্প পদ্মাপারের ক্রিকেট যোদ্ধার কথা ভাবলে? অনুভব হবে না বিশ্বকাপের পর তার ক্রিকেট মহাপ্রস্থানের অনুরণন? বাংলাদেশ ক্রিকেটের শেখ মুজিবর রহমান যে তিনি, ক্রিকেটীয় রেকর্ড-পারফরমেন্সের শুষ্কং কাষ্ঠং সংখ্যা ছাড়িয়ে বহু দিন কালোত্তীর্ণ। দেশের ক্রিকেট টিম নয়। পদ্মাপারের বঙ্গজাতির হৃদয়ের এগারোর অধিনায়ক। কিন্তু হায়, বিশ্বকাপ শেষে তিনিও আর নেই।
ভৌগলিক সীমায় বিভাজিত এই গ্রহে উপরের চরিত্রদের নাম আলাদা। প্রথম জনকে লোকে চেনে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি নামে। দ্বিতীয় জনের নাম ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। তৃতীয় ও চতুর্থ চরিত্রের নাম সহজেই অনুমেয়- লাসিথ মালিঙ্গা এবং মাশরাফি বিন মোর্তাজা। কিন্তু এদের মধ্যে অদ্ভুত দু’টো মিল আছে। এরা প্রত্যেকেই ক্রিকেট নামক খেলাটার বিশ্বনাগরিক এবং প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ শেষে প্রস্থানমুখী। ভুল হলো একটু। আরো গোটা কয়েক প্রবাদপ্রতিম নাম এদের সঙ্গে জুড়তে হবে। ধোনি-গেইল-মাশরাফিদের মতো যাদেরও এটা জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। কেউ কেউ আর এরপর খেলবেনও না। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন। স্টেইন গানে মরচে না ধরলেও তার বয়স বেড়েছে। তিনি এখন ৩৫। নিউজিলান্ডের রস টেলরও আর খেলবেন না। ‘পুর্নজন্ম’ ঘটানো ডেভিড ওয়ার্নার- তিনিও কি আর খেলবেন পরের বিশ্বকাপ? অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের কঠোর শাসনবর্তিতার নিয়ম বলে না। খেলবেন না। ৩৬ কেউ বিশ্বকাপ খেলছে, সে দেশে কেউ বিশ্বাস করে না!
ইংল্যান্ডে বিশ্বযুদ্ধের ঢক্কানিনাদ শুরু হওয়ার বহু বহু আগে একটা তীব্র আলোচনা ক্রিকেট দুনিয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বলাবলি শুরু হয়ে গিয়েছিল যে, বিলেত বিশ্বকাপ ব্যতিক্রমের বিশ্বকাপ হতে চলেছে। ’৯২-র পর আবার প্রত্যাবর্তন ঘটাতে চলেছে রাউন্ড রবিন ফরম্যাট, যা শেষ পর্যন্ত খোঁজ দিয়ে যাবে প্রকৃত বিশ্বজয়ীর। গ্রুপ লিগ ফরম্যাটে ক’টা ম্যাচ আর খেলে টিম। যুদ্ধ তো এবার। চ্যালেঞ্জ তো এবার। যেখানে প্রতিটা টিম মহড়া নেবে প্রতিটার, যাচাই হবে ক্রিকেট পৌরুষের। কিন্তু আরো একটা দিক থেকে তো ব্যতিক্রমী হতে চলেছে আসন্ন বিলেত বিশ্বকাপ। একটা বিশ্বকাপ শেষে একযোগে এত ক্রিকেট মহানায়কের পূর্ণগ্রাস শেষ কবে হয়েছে? শেষ মনে পড়ে, ২০১১ বিশ্বকাপ। শচীন টেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র শেহবাগ, রিকি পন্টিংদের শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু তার পরও বিশ্ব ক্রিকেটে একটা ধোনি, একটা কোহলি, একটা এবি ডি’ভিলিয়ার্স, একটা কুমার সঙ্গকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে ছিল। কিন্তু এবার? এরপর ক্রিকেটের জননেতা?
কোহলি এবং শুধুই হয়তো বিরাট কোহলি।
ক্রিকেটীয় বিচার-বিশ্লেষণে এবার ঢোকা যাক। কে জিতবে এবারের কাপ? উপরের মহাপ্রস্থানকারীদের মধ্যে কে পারবেন শেষবারের মতো বিশ্বজয়ীর শৃঙ্গ আরোহন করতে? ধোনি পারবেন রাঙিয়ে দিতে যাওয়ার আগে? আবারও এক সুবিশাল ছক্কায় ফিরিয়ে আনবেন ওয়াংখেড়ে ফাইনালের মায়াবী রাত? ক্রিস্টোফার গেইল পারবেন ব্যাটিং নামক এক বন্যসুখের অমৃতপাত্রে বিশ্বকে ডুবিয়ে দিতে? স্টেইন পারবেন ক্রিকেট প্রৌঢ়ত্বে বেঁচে থাকা স্ফুলিঙ্গগুলো একত্রিত করে শেষবারের মতো যৌবনের মশাল জ্বালতে? মাশরাফি পারবেন বাঙালির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলে দিতে? প্রমাণ করতে পারবেন তিনি যে, এগারো বাঙালি আর আদুরে বেড়াল নয়, বিশ্ব দরবারে তারা এখন বাঘ বটে? বাইশ গজে ব্যাঘ্রগর্জন তুলে তিনি দেখিয়ে দেবেন যে, তার দেশ এখন প্রকৃত শের-ই-বাংলা?
কুলকুলে আবেগস্রোত যদি শুধুমাত্র বিচার্য হতো, এত ঝামেলাই থাকতো না। ক্রিকেটের এহেন বিশ্ব নাগরিকদের সার বেঁধে দাঁড় করিয়ে ট্রফিটা হাতে তুলে দিলেই চলত। কিন্তু ক্রিকেট চিরকাল যে চলেছে যুক্তির নিয়মে। আপনখেয়ালে বারবার রক্তাক্ত করেছে আবেগের তুলতুলে শরীরকে।
কিছু দিন আগে আইপিএল চলাকালীন বাংলাদেশের আর এক প্রিয় সন্তান সাকিব-আল-হাসান ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের কাজটা এবার খুব কঠিন। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের জন্যই কঠিন। ছোট-বড়-মাঝারি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৯ ম্যাচের বেশ কয়েকটা জিততে হবে সেমিফাইনাল যেতে হলে। অন্যবার সেমিফাইনাল যাওয়ার সুযোগটা বেশি থাকে। শুনে প্রথমে সাকিবের কথাকে বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, ঠিকই তো বলেছেন তিনি। ভারত যে ভারত, যাদের যুগ্ম ফেভারিট ধরে এত আগাম আলাপ-আলোচনা, প্রথম চারটে প্রচণ্ড কঠিন ম্যাচের (দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান) মধ্যে দু’টো বার না করতে পারলে, সেমিফাইনাল স্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটে যেতে পারে। তা ছাড়া ভারতীয় টিমে ফুটোফাটাও বিস্তর, যা ছিদ্র থেকে ফাটলে পরিণত হলে দুঃখ আছে। যেমন, এখনও নিশ্চিত কোনো নাম্বার ফোর ব্যাটসম্যান নেই। যেমন, টিমের দুই রিস্টস্পিনার কুলদীপ যাদব এবং যুজবেন্দ্র চাহাল কী করবেন, বোঝা যাচ্ছে না। যেমন টিমের নড়বড়ে মিডল অর্ডার। সমালোচকদের কথা ধরলে, এত দুর্বল মিডল অর্ডার নিয়ে এর আগে ভারত বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি কখনও।
অতএব ভারতের সম্ভাবনা খাতায়-কলমে যতটা, বাস্তবে ততটা নয়। বাংলাদেশেরও তাই। সমপ্রতি মোহিনী পারফরমেন্স বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। ঐতিহাসিক ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে। কিন্তু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফরম্যাট সত্যিই গোলযোগ বাঁধিয়ে দিতে পারে। সত্যিকারের ফেভারিট বরং ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড সব দিক থেকেই তুখোড় টিম। স্বপ্নের ফর্মে থাকা ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভ স্মিথ জুড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া বর্তমান প্রেক্ষিতে ভয়াবহ ক্রিকেট শক্তি। ভারত আসবে এর পরে। পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরোটাই অনিশ্চয়তার কুয়াশায় মোড়া দু’টো টিম। চললে যারা ফাইনালও খেলতে পারে, না চললে যারা গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে পারে। বাংলাদেশ অবশ্যই থাকবে টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স হিসেবে। যেমন থাকবে কেন উইলিয়ামসন-রস টেলর-ট্রেন্ট বোল্টের নিউজিল্যান্ড। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কথায় কথায় একবার বলেওছিলেন যে, অদ্ভুত একটা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। যেখানে শ্রীলঙ্কা বাদ দিলে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটা দেশ বিশ্বজয়ের ক্ষমতা রাখে। এবার ফেভারিট ফিরতে পারে পরাজিতের গ্লানি নিয়ে, আর টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স শেষে ছুটিয়ে দিতে পারে অশ্বমেধের ঘোড়া! বাংলাদেশের তাই আশাহত হওয়ার কারণ নেই। এটা তো অনস্বীকার্য যে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপ সামলানো খুব সহজ হবে না। তেমনই কঠিন হবে মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল-তাসকিনকে সামলানো। আর বাংলাদেশ তো অনেক দূরের গ্রহ। সে দিনের পুঁচকে আফগানিস্তান- তাকেও কিন্তু আর হালকা নেয়ার জায়গা নেই। শেষ এশিয়া কাপে তারা ভারতের বিরুদ্ধ ম্যাচ ‘টাই’ করেছে, পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে হারিয়েছে।
কিন্তু শুধু ট্রফিই কি সব? ধরা যাক, ধোনি-ম্যাশ-গেইল-স্টেইন কেউ ট্রফি পেলেন না। বিশ্বকাপ না জিতেও যদি ধোনি দিয়ে যান ভয়ডরহীন পুরুষালি পারফরমেন্স, মাশরাফির অলরাউন্ড পারফরমেন্স থেকে যদি নিঃসৃত হয় সততার সোঁদা গন্ধ, পরের পর যদি ওঠে গেইল স্টর্ম, স্টেইন গান যদি শেষবারের মতো সশব্দে গর্জে ওঠে- প্রাপ্তি কি কিছু কম হবে? বলবেন না তখন, ক্রিকেটের চিরশ্রেষ্ঠ স্মারক পাইনি তো কী, মাশরাফির অমরত্ব লাভ আমরা ইংল্যান্ডে দেখেছিলাম। বলবেন না তখন, ধোনি দেখিয়ে দিলেন তিনি ‘শেষ হইয়াও হন নাই শেষ।’
আর তাই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ক্রিকেট রোমান্টিকদের শুধু খেলাটা থেকে রোমান্স উপভোগের লক্ষ্য নিয়ে এবারের বিশ্বকাপটা দেখতে বসা ভালো। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দাঁড়ি পাল্লাটা দেরাজে তুলে রেখে। ম্যাশ-ধোনি-গেইলদের তো এটাই শেষ, এই আগামী দেড় মাস। যার পর ক্রিকেট থাকবে। কিন্তু তারা আর থাকবেন না। বিশ্বকাপের পর নিঃস্ব হবে বিশ্ব, ক্রিকেটের নিঠুর ছলনায় যার পর আমি-আপনি-আমরা হব একাকী অসহায়।
এবং ‘আমার হারানো প্রেম ফিরিয়ে দাও’ বলেও আর লাভ হবে না!
(পরিচিতি: লেখক কলকাতার ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সহ ক্রীড়াসম্পাদক)

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে মিয়ানমার। নিজ দেশে নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ তৈরি না হবার কারণ দেখিয়ে রোহিঙ্গারাও নাগরিক অধিকার ছাড়া স্বেচ্ছায় মিয়ানমার ফিরতে চাচ্ছে না।
মিয়ানমারে  সরকারী বাহীনি ও  রাখাইন সন্ত্রাসীদের  নির্যাতনের মুখে   প্রায় ১১ লাখের বেশী রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।  বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯১৩ জন
আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করে মিয়ানমার।  জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার  জন্য যে পরিবেশ দরকার মিয়ানমার এখনো তা তৈরি করতে পারেনি। এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে জানান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকলেও বাংলাদেশের তাগাদা আমলে নিচ্ছে না মিয়ানমার।
মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এর মধ্যে চার দফা বৈঠক করেছে। দুই দফায় পরিবার ভিত্তিক ৩০ হাজার ৪২৮ জন রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু যাচাই বাছাই করে মাত্র ৩ হাজার ৪৬৫ জনকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। বাকিদের বিষয়ে তিন ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটি। একটা অংশের নাম তাদের নথিতে নেই, কারো কারো থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম নেই এবং বাকীরা সন্ত্রাসী। অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের না নেয়ার ক্ষেত্র  তৈরি করে রেখেছে মিয়ানমার।
ওদিকে  ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে অস্ত্রের মহড়া ছাড়াও হত্যা ,  হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৩২ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬, মার্চে ১০, এপ্রিলে ৪ ও মে মাসে ৪ জন। টেকনাফ পুলিশের ভাষ্য আনুযায়ি পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১৫ জন রোহিঙ্গা। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী।এদের  দুজন মানব পাচারকারী বলে পুলিশ দাবী করেছে।
এ ছাড়া আশ্রয় শিবিরের কিশোরদের মাঝে অপরাধ বৃদ্ধির পাশাপাশি  রোহিঙ্গা কিশোরী ও যুবতী  মেয়েরা  হত্যা ও ধর্ষনের শিকার হচ্ছে।  গত ২৬ মার্চ বালুখালী শিবিরের ই-ব্লক থেকে পুলিশ আয়েশা বেগম (১৯) নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। ধর্ষণের পর তাঁকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মুখোশধারী একদল রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং শিবির থেকে খতিজা বেগম নামের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। এরপর হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে যায়। উখিয়ার বালুখালী শিবিরের বাসিন্দা এক গৃহবধূ বলেন, সম্প্রতি এক রাতে মুখোশধারী তিন যুবক ঘরে ঢুকে তাঁর এক কিশোরী মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম গণমাধ্যমকে  বলেছেন, যেসব রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ বেড়েছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।