Wednesday, June 29, 2011

শুধু ইউরো নয়, গণতন্ত্রও হুমকির মুখে by অমর্ত্য সেন

গণতন্ত্রের অনুশীলনে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে ইউরোপ। সেখানে আজ আর্থিক অগ্রাধিকারের পেছনের দরজা দিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দুর্দশায় নিপতিত। অথচ, এ বিষয়টি যতটা মনোযোগ দাবি করে, ততটা পাচ্ছে না। এটা উদ্বেগজনক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে ইউরোপের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কীভাবে উত্তরোত্তর দুর্বল হতে পারল—এসব গুরুতর বিষয় গুরুত্বের দাবি রাখে। ইউরোপের রাজনীতির জমিনে বহু জায়গায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সি এখন অবাধে প্রভুত্ব ফলিয়ে বেড়ায়।
দুটি স্বতন্ত্র বিষয়কে আলাদা করে বিবেচনা জরুরি। প্রথমটা, গণতান্ত্রিক অগ্রাধিকারগুলোর অবস্থানবিষয়ক। ওয়াল্টার ব্যাজট ও জন স্টুয়ার্ট মিল যাকে দেখেছেন ‘আলাপ-আলোচনার পথে শাসন পরিচালনার’ প্রয়োজনীয়তা হিসেবে, সেটাও এর আওতাভুক্ত। ধরুন, আমরা মেনে নিলাম যে কী করতে হবে সে ব্যাপারে ক্ষমতাধর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের বাস্তবসম্মত বোঝাপড়া আছে। তাহলে তা বরং গণতান্ত্রিক সংলাপে তাদের কথা শোনার দাবি জোরালো করবে। কিন্তু তাদের কথা শোনা আর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সিগুলোকে কর্তৃত্ব করতে দেওয়া তো এক জিনিস নয়।
দ্বিতীয়ত, সঙ্গিন রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিনায়কেরা যে আত্মত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন, তা সেসব দেশের চূড়ান্ত টেকসই এনে দেবে এবং আর্থিক একীভবনের সংস্কারশূন্য ছাঁচের ভেতরে ইউরো অব্যাহত থাকা এবং ইউরো ক্লাবের অপরিবর্তিত সদস্যপদ নিশ্চিত করবে—তেমনটা ঘটা বেশ কঠিন। রেটিং এজেন্সিগুলো যেভাবে আর্থিক সমস্যার কারণ নির্ণয় করে, তাতে যথার্থ সত্য উঠে আসে না। মনে রাখা ভালো যে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের আগে আগে রেটিং এজেন্সিগুলো কর্তৃক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যয়নের রেকর্ড এতটাই জঘন্য ছিল যে মার্কিন কংগ্রেসে এদের বিচার করা উচিত কি না, তা নিয়ে আন্তরিক বিতর্ক হয়েছিল।
ইউরোপের বড় অংশই এখন সরকারের ব্যয় অনেক কমিয়ে দ্রুত ঘাটতি কমানোর চেষ্টারত। এ অবস্থায় যে নীতি নেওয়া হচ্ছে তার সম্ভাব্য প্রভাব সরকারের রাজস্ব সৃষ্টির ওপর কী হবে, তা বাস্তবভিত্তিকভাবে যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আত্মত্যাগ’-এর মতো উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের নিশ্চয় মাদকতা আছে। এটাই ‘যথার্থ’ কাঁচুলির দর্শন: ‘এটা পরে ম্যাডামের যদি একটুও আরাম লাগে, তাহলে ম্যাডামের নিশ্চয়ই এর থেকে ছোট সাইজেরটা দরকার।’ অবশ্য, আর্থিক যথার্থতার দাবিকে যদি তাৎক্ষণিক ব্যয় হ্রাসের সঙ্গে যান্ত্রিকভাবে সম্পর্কিত করা হয়, তাহলে এর ফল হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সোনার ডিম পাড়া হাঁসটাকেই মেরে ফেলা।
এই আশঙ্কা ব্রিটেন থেকে গ্রিস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে খাটে। গ্রিস বা পর্তুগালের মতো অপেক্ষাকৃত সঙ্গিন অবস্থায় পড়া দেশের ওপর কী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায়, তার পক্ষে কতগুলো স্পষ্ট আপাতগ্রাহ্য অজুহাতের জোগান দেয় ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে ‘রক্ত, ঘাম ও অশ্রু’ কৌশলের সর্বজনীনতা। এর ফলে, আর্থিক বাজারে সঞ্চারিত ভীতি মোকাবিলার মতো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক স্বর ইউরোপের ভেতর দানা বাঁধা কঠিন হয়ে পড়ে।
বৃহত্তর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্পষ্টতর অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা। সরকারের রাজস্ব সৃষ্টিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা গভীরভাবে বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত। প্রবৃদ্ধি ও সরকারের রাজস্বের মধ্যে দৃঢ় সূত্র থাকার বিষয়টি চীন ও ভারত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল পর্যন্ত বিশ্বের বহু দেশে দেখা গেছে।
এ ক্ষেত্রেও ইতিহাস থেকে শেখার আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তরকালে বহু দেশে সরকারের বিরাট ঋণের বোঝা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই বোঝা শিগগিরই কমে যায় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে। অনুরূপভাবে, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ক্ষমতায় এসেই ১৯৯২ সালে বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মেয়াদেই সেই সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ কাজে বিরাট সহযোগিতা করেছে।
গণতন্ত্র হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা ব্রিটেনের ক্ষেত্রে খাটে না। কেননা, এসব নীতি গ্রহণকারী সরকার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জিতে শক্তিশালী হয়ে এসেছে। নির্বাচনের সময় বলা হয়নি অথচ এখন বলা হচ্ছে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে গেলে সেটা নিয়ে কিছু তর্ক-বিতর্ক হয়, সেই স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ীরা পেয়েই থাকে। তাতে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কমে না, এমনকি ব্রিটেনের মতো জায়গাতেও। তবে, ব্রিটেনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণপ্রবণ নীতি কেমন করে গ্রিসের ওপর আরও কঠোর নীতি আরোপের অজুহাত তৈরি করে, সেটাও চিহ্নিত করা দরকার।
ইউরোভুক্ত কয়েকটি দেশ এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কেমন করে এল? অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীভবন ছাড়াই একটি যৌথ মুদ্রার দিকে ধাবিত হওয়ার খামখেয়াল অবশ্যই এর পেছনে কাজ করেছে—গ্রিস বা পর্তুগালের মতো দেশ অতীতে অর্থনৈতিক চুক্তি ভঙ্গ করার ঘটনা স্মরণে রাখা সত্ত্বেও। এখন গ্রিক সরকার রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে। তা সত্ত্বেও সম্ভবপর সবকিছু করছে। কিন্তু গ্রিসের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আবশ্যপালনীয় শর্তাবলি এথেন্স বেদনাক্লিষ্ট হূদয়ে মেনে নেওয়ার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না এসব ব্যবস্থা ও এসবের সময় নির্বাচন কতটা বিজ্ঞজনোচিত হয়েছে, তা ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ইউরোপের ঐক্যের জোরালো সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও আমি ইউরোর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম—সে কথা মনে করে এখন সান্ত্বনা খুঁজতে চাই না। ইউরোর ব্যাপারে আমার আশঙ্কা অংশত এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশ তাদের আর্থিক নীতি ও বিনিময়মূল্য সমন্বয়ের স্বাধীনতা পরিত্যাগ করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এই স্বাধীনতা অতীতে বহু দেশকে দারুণভাবে সহায়তা করেছে; আর্থিক বাজার স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে মানুষের জীবনকে অস্থিতিশীল করে তোলার যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, সেটা ঠেকিয়েছে। সেই আর্থিক নীতির স্বাধীনতা পরিত্যাগ করা যেত যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইউরোপ একীভূত হয়ে উঠত (যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে যেমন একীভবন ঘটেছে)। কিন্তু ইউরো-অঞ্চলের আধাখেঁচড়া একীভবন বিপর্যয়ের পথই তৈরি করেছে। অসংলগ্ন আর্থিক একীভবনের এক সঙ্গিন কর্মসূচিকে ধারণ করতে তৈরি করা হয়েছে এক সম্মিলিত গণতান্ত্রিক ইউরোপের অপূর্ব রাজনৈতিক ধারণা।
এখন ইউরো-অঞ্চলের পুনর্বিন্যাসের সমস্যা হবে নানাবিধ। তবে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা হতে হবে। যে সংকীর্ণ চিন্তা অতীতে ভয়ানক ফল বয়ে এনেছে, সেই সংকীর্ণতাপ্রসূত অর্থনৈতিক ঝড়ে ইউরোপকে ভেসে যেতে দেওয়া যাবে না। রেটিং এজেন্সিগুলোর একতরফা হুকুম জারি করার অপ্রতিরুদ্ধ ক্ষমতা অনতিবিলম্বে কমানোর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে হবে। এসব এজেন্সির রেকর্ড জঘন্য হওয়ার পর এগুলোকে শৃঙ্খলার ভেতর নিয়ে আসা কঠিন। তবে সমাধানের কাজ চলার সময় (বিশেষত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়) অর্থনৈতিক আস্থার প্রশ্নে বড় পার্থক্য রচে দিতে পারে বৈধ সরকারের সুপ্রতিফলিত স্বর। ইউরোপের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রান্তিকীকরণ ঠেকানো আশু কর্তব্য। ইউরোপের গণতন্ত্র ইউরোপের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সারা দুনিয়ার জন্যও।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
অমর্ত্য সেন: নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ।

বিজিবির দোকানগুলো সমবায় বিভাগে

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ন্যায্যমূল্যের বিপণনকেন্দ্রগুলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগকে দিয়ে আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এটি একটি ভালো খবর। কারণ, এই ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলো যে নিম্ন আয়ের মানুষের উপকারে লাগে, তা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে লক্ষ করা গেছে। খোলাবাজারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দামে দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া যেত ওই সব দোকানে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর আটটি বিপণনকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে ওই মন্ত্রণালয়ের অধীন সমবায় অধিদপ্তরকে। তারপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ১০০টি বিপণনকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে সমবায় অধিদপ্তরের দ্বারা। এই উদ্যোগের ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকটি হলো এই যে, সমবায় অধিদপ্তর যদি দোকানগুলোর জন্য সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকে দ্রব্যসামগ্রী কেনে, তাহলে উৎপাদকেরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে পারে। এমনিতে কৃষিপণ্যের পাইকারি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংঘবদ্ধ কারসাজির কারণে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। আর মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারি বিক্রেতারা কম দামে পণ্য কিনে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য চড়া দামে বিক্রি করে। ফলে ক্রেতাসাধারণকে বেশি পয়সা গুনতে হয়। কৃষকদের তরফ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ, অন্য দিকে ভোক্তাসাধারণের দিক থেকে দ্রব্যসামগ্রীর উচ্চমূল্যের অভিযোগ—এ দুইয়ের মাঝখানে সংঘবদ্ধ মধ্যস্বত্বভোগীদের অনৈতিক মুনাফাখোরি কিছুটা হলেও হ্রাস পেতে পারে, যদি সমবায় অধিদপ্তর দক্ষতার সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিজিবির ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলো পরিচালনা করতে পারে।
প্রশ্নটি এখানেই—দক্ষতাপূর্ণ সুব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সাফল্যের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বিরল। সমবায় অধিদপ্তর সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কর্তৃপক্ষ। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী; ওই বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা দোকানগুলো যেমন সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে, সমবায় অধিদপ্তর কি তেমনটি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে? সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই দোকানগুলো পরিচালিত হলে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পর্যায়েই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। এটি একটি জনমুখী প্রত্যাশা; এই প্রত্যাশা কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত হলে অন্ততপক্ষে কৃষিপণ্যের বাজার-ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে।

তাঁরা কোথায় যাবেন? এবং... by আশীষ কুমার চক্রবর্তী

গত ২৪ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত শ্রদ্ধেয় আসিফ নজরুলের লেখাটির দিকে দৃষ্টিপাত করছি। দুটি কারণে লেখাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি। প্রথমত, লেখার শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঝুমুরের যে করুণ কাহিনির কথা লেখা হয়েছে, আমার বাড়িও সেখানে। দ্বিতীয়ত, অনেক দিন ধরে লিখতে ইচ্ছে হলেও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে শুরু করতে পারছিলাম না। আসিফ নজরুলের তিক্ত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণাধর্মী লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ নিয়ে আরও কিছু লেখার তাড়না অনুভব করলাম। চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের যে ব্যাধি মহামারি আকারে বাড়ছে, তা নির্মূল কিংবা না সারাতে না পারলে রোগীর চিকিৎসা তো দূরের কথা পুরো জাতি, দেশই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চলে যাবে, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব! অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি সাহসী ও সচেতনতামূলক লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
আমি জানি না তাঁর এই লেখা কতজন ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সচেতন করেছে, তবে আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে এই লেখার গুরুত্ব অনুধাবন করছি। মনে হচ্ছে এমন একজন অভিভাবক দরকার, যিনি এই স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা লাঘবের লাগাম ধরবেন। যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে তার মধ্যে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা, অজ্ঞানতা এবং ভুল চিকিৎসা অন্যতম। একটু ব্যাখ্যা করা যাক, দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টির সঙ্গে আমি একমত। আমি একটি হাসপাতালের প্রশাসকের চেয়ারে বসে যে বিষয়টা লক্ষ করছি তা হলো, হাতে গোনা কজন ছাড়া জুনিয়র ডাক্তাররা পেশার প্রতি চরম উদাসীন, রোগীর প্রতি অমনোযোগী! বেশির ভাগ ডাক্তার প্রাইভেট হাসপাতালের চাকরিকে কোনো চাকরি মনে করেন না। শুধু সময় পার করতে চান। একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনে কাজ করতে গিয়ে আমি আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে এ ক্ষেত্রে বাদ সাধার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানসিকভাবে আমরা একরকম, কারণ আমরা জবাবদিহিতে বিশ্বাসী, দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যতটুকু সম্ভব রাউন্ড দিয়ে ফাঁক-ফোকর বের করতে চেষ্টা করি রোগীদের স্বার্থে, ফলে আমাদের কেউ পছন্দ করে না। তাতে কোনো আফসোস নেই আমার। কারণ, আজ আমি এই চিকিৎসা পেশার ঘুণপোকা সারানোর কথা লিখছি।
নব্য ডাক্তাররা মনোযোগ দিয়ে ইন্টার্নশিপ করছেন না, এমবিবিএস পাস করার পরই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষায় বসে পাস করে বড় ডাক্তার হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উপার্জন করার স্বপ্নে বিভোর! ‘ক্যারিয়ার’ নামক একটি বিশেষ শব্দের আড়ালে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে দেশের রোগীরা, যারা আমাদের মতো চিকিৎসকদের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! আমাদের পূজনীয় ও সিনিয়র ডাক্তারদের ব্যাপারে আমি বলতে চাই, শুধু বড় বড় ডিগ্রির ভারে ন্যুব্জ হয়ে কোনো লাভ নেই! রোগীকে সময় দিতে হবে, রোগীর ইতিহাস শুনতে হবে, নিজ হাতে রোগীর ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেশির ভাগ কনসালট্যান্ট রাউন্ডে এলে রোগীকে নিজে দেখেন না, ডিউটি ডাক্তারদের ওপর নির্ভর করেন। আমি এর ঘোরতর বিরোধী এবং এই কাজটি নিন্দনীয়। ফলে সঠিক রোগনির্ণয় বিলম্বিত হয়। রোগীরা এ দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে দিন দিন। আর এই সুযোগ নিচ্ছেন পাশের দেশের চিকিৎসকেরা। কারণ ওখানকার চিকিৎসকদের ব্যবহার ভালো! এটিই মূল কারণ। অথচ এ দেশে বর্তমানে উন্নত বিশ্বের সব সুবিধা বিদ্যমান।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গ্রাস করে রেখেছে এই মহান পেশাকে। কিছু কিছু ডাক্তার তাঁর পেশাগত পরিচয়ের পরিবর্তে ‘ডাক্তার-নেতা’ বলতে বেশি গর্ব বোধ করেন। এ মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুরই সমাধান হবে না। তবে আমি নৈরাশ্যবাদী নই। সবিনয়ে কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করতে চাই, যা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে কিছু সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি:
প্রথমত,বিসিএসের (স্বাস্থ্য) মাধ্যমে যেসব ডাক্তার উত্তীর্ণ হবেন তাঁদের অন্যান্য নিয়মকানুনের পাশাপাশি ‘মুচলেকা’ নিতে হবে যে যেখানে তাঁর পোস্টিং সেখানে তিনি ঠিকমতো চাকরি করবেন এবং এতে কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ করবেন না, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত, ডাক্তারদের কোনো সংগঠন থাকবে না। কারণ এতে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বৃদ্ধি পাবে। ডাক্তার-রোগী এই পরিচয় ব্যতীত ডাক্তারদের অন্য কোনো সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) অধিকতর শক্তিশালী করে চিকিৎসকদের সব কাজের জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে উন্নত বিশ্বে চিকিৎসকদের অর্থনৈতিক দণ্ড, সনদ বাতিলসহ শাস্তি হলেও আমাদের দেশে তার কোনো উদাহরণ নেই! তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে ডাক্তারদের পেশার প্রতি অমনোযোগিতা, দায়িত্বে অবহেলার মতো ভয়ংকর কাজ!! তাই অভিযুক্ত ডাক্তারদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অতীব প্রয়োজন। অন্যথায় ভুয়া ডিগ্রিধারী ‘ওহাব’ কিংবা ‘ফিরোজ উদ্ দৌলার’ মতো সর্বরোগের মহৌষধ প্রস্তুতকারী স্বপ্নে বনে যাওয়া চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে ক্রমাগত।
তবে আমি মনে করি, এ দেশের মানুষ যত সচেতন হবে, পত্রপত্রিকায় এ বিষয়গুলো নিয়ে যত বেশি লেখালেখি হবে, ততই এসব অভিযোগ কমে আসবে। একটা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন ডাক্তারের মধ্যে কজন প্রতিদিন উপস্থিত থাকেন? তাহলে কি বিসিএসে (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হওয়া দেশ ও নিরীহ রোগীদের ঠকানোর বৈধ পন্থা? চিকিৎসকদের এই দৌরাত্ম্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মানে ডাক্তাররা আর কাউকে পরোয়া করছিলেন না! তাই এখনি সময় এসব অন্যায়-অবিচার থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করা। অন্যথায় এ দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকদের ভাবমূর্তি চিরতরে বিনষ্ট হয়ে যাবে, কলঙ্কিত হয়ে যাবে এই মহান পেশা!
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী: পরিচালক, আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হসপিটাল (প্রা.) লিমিটেড।

পাকিস্তানে এক তালেবান কমান্ডারের দলত্যাগ

পাকিস্তান তালেবানের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার দল ত্যাগ করেছেন। ফজল সাইদ হাক্কানি নামে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ওই কমান্ডার গত সোমবার জানান, দল ত্যাগের পর তিনি তেহরিক-ই-তালেবান ইসলামি (টিটিআই) নামে পৃথক একটি মার্কিনবিরোধী দল গঠন করেছেন।
টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো নিউজকে হাক্কানি জানান, মসজিদ ও বেসামরিক লোকজনের ওপর আত্মঘাতী হামলার প্রতিবাদস্বরূপ তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি টিটিপির কাউন্সিলের নেতাদের বার বার বলেছি, মসজিদ, বাজার ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের আত্মঘাতী হামলা বন্ধ করা উচিত।’
হাক্কানি বলেন, ‘আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে নিরপরাধ বেসামরিক লোকদের হত্যা করাটা ইসলাম সমর্থন করে না।’

ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেট ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক ফারাক্কা বাঁধের একটি স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। ফলে ফারাক্কার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।
গত রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফারাক্কার ১৩ নম্বর গেটটি ভেঙে পড়ে। বাঁধটিতে মোট ১১৯টি গেট রয়েছে। এর মধ্যে ফিডার ক্যানেলের জন্য রয়েছে ১০টি গেট। আর পদ্মার দিকে পানি প্রবাহিত করার কাজে ব্যবহার করা হয় বাকি গেটগুলোকে।

শর্ত মানলে রামদেবকে অনশনে শরিক হতে দেবেন আন্না হাজারে

ভারতের বিশিষ্ট সমাজকর্মী আন্না হাজারে একটি জোরালো ও কার্যকর লোকপাল বিলের দাবিতে তাঁর পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচিতে যোগগুরু স্বামী রামদেবকেও শরিক হতে দেবেন। তবে সে ক্ষেত্রে রামদেবকে কিছু শর্ত মানতে হবে। গত রোববার রাতে সাংবাদিকদের হাজারে এ কথা বলেন।
আগামী ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্না হাজারের অনশন শুরু করার কথা। এই অনশনে রামদেবও যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে হাজারে বলেন, ‘রামদেব আমার সঙ্গে অনশনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে আমার কিছু শর্ত আছে। এসব শর্ত যদি তিনি মানেন, তাহলে আমার সঙ্গে তাঁর বসতে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে রামদেবের আন্দোলন ও অনশনে যাওয়ার বিষয়ে আন্না হাজারের সমর্থন রয়েছে। তবে পুলিশি অভিযান ঠেকাতে তিনি ১১ হাজার তরুণ-তরুণী নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছেন, এটি হাজারে ও তাঁর অনুসারীদের মনঃপুত হয়নি।

চার খেমাররুজ নেতার বিচার শুরু

যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য অভিযোগে কম্বোডিয়ার চার শীর্ষ খেমাররুজ নেতার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার কম্বোডিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধাপরাধ আদালতে এ বিচার শুরু হয়। চার শীর্ষ নেতাকেই গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন কম্বোডিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সাম্পান, রাজনীতিবিদ নুয়ন চিয়া, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেং স্যারি ও তাঁর স্ত্রী সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী লেং।
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ শাসনামলে নির্যাতন, হত্যা, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও দুর্ভিক্ষে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ওই মৃত্যুর ঘটনায় এই চার খেমাররুজ নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ নানা অভিযোগ আনা হয়। তাঁরা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালতের কাঠগড়ায় তোলার পর ‘ব্রাদার নাম্বার টু’ নামে পরিচিত নুয়ন চিয়া ও খিউ সাম্পানকে রোগা ও দুর্বল দেখাচ্ছিল। এ সময় ৮৪ বছর বয়সী নুয়ন চিয়া বলেন, ‘এই বিচারে আমি খুশি নই।’ এরপর তিনি আচমকা আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি আবারও আদালতকক্ষে প্রবেশ করেন।
নুয়ন চিয়ার আইনজীবী মিচিয়েল পেস্টম্যানের অভিযোগ, এই মামলার তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং তদন্তে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। তিনি বলেন, বিচারিক তদন্ত এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট ছিল যে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
জটিল এই মামলার বিচারকাজ শেষ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খেম নারেথ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য এই বিচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, তিনি চান, ওই চার নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক। খেমাররুজ শাসনামলে মা ও ভাইকে হারিয়েছিলেন খেম নারেথ।

টাটার স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন খারিজ

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার সরকারি কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে টাটা মোটরসের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার চার দিনের শুনানি শেষে বিচারপতি সৌমিত্র পালের আদালত টাটার রিট আবেদন খারিজ করে দেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার টাটাকে ইজারা দেওয়া জমির ৪০০ একর অনিচ্ছুক কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে সরকার ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘সিঙ্গুর পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল’ নামে একটি আইন পাস করে। এ আইন অনুসারে রাজ্য সরকার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জমি ফেরত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে টাটা।
এদিকে রাজ্য সরকার এরই মধ্যে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার জন্য ৫০ জন জরিপকারীকে সিঙ্গুরে পাঠিয়েছে। আজ থেকে তাঁরা জমি ফেরত কার্যক্রম শুরু করবেন।
প্রসংগত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রায় ৪০০ একর জমি ফেরত দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

‘সংকট উত্তরণে’ সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের বৈঠক

সিরিয়ার চলমান সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে সে দেশের প্রায় ১৫০ জন ভিন্নমতাবলম্বী বৈঠক করেছেন। গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়ে রাজধানী দামেস্কের একটি হোটেলে তাঁরা আলোচনায় বসেন। পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বাথ পার্টির শাসনামলে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ভিন্নমতাবলম্বীদের বৈঠক হলো।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারের কট্টর সমালোচক, তবে তাঁদের কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
সিরিয়ার জাতীয় সংগীত গেয়ে তাঁরা বৈঠকের সূচনা করেন। এ ছাড়া গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সামরিক ও বেসামরিক লোকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের সভাপতি আবদেল করিম রিহাবি বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে একটি জাতীয় কৌশলনীতির সূত্রপাত করতেই আমরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, রাজপথে যারা বিক্ষোভ করছে তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলা এ বৈঠকের উদ্দেশ্য নয়।
সরকারের সমালোচনা করার কারণে পাঁচ বছর জেল খেটে আসা মানবাধিকারকর্মী আনওয়ার বুন্নি বলেছেন, আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের বৈঠক করার ঘটনা সিরিয়াতে এটাই প্রথম।
এ বৈঠকের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। তবে বৈঠকে সরকার কোনো রকম বাধা না দেওয়ায় এতে সরকারের মৌন সম্মতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আনওয়ার বুন্নি বলেন, জনগণকে যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক বন্দীদের যদি মুক্তি দেওয়া হয় এবং বিরোধীদের মেনে নিয়ে বিক্ষোভ থামাতে যদি বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সংলাপ’ মেনে নেওয়া ও তাতে সরকারবিরোধীদের যোগ দেওয়া উচিত।
প্রেসিডেন্ট আসাদ গত ২০ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের সূচনা হতে পারে, এমনকি ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির একতরফা ক্ষমতা গ্রহণেরও অবসান হতে পারে। আসাদ বলেছেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যে তিনি কোনো সংস্কার করতে রাজি নন। তবে বিরোধীদের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঘোষণা করা হয়, আসাদ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনো সংলাপেই তাঁরা অংশ নেবেন না।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দমন অভিযানের মুখে ইতিমধ্যে ১১ হাজার সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ তুরস্কে এবং কয়েক শ লোক লেবাননে পালিয়ে গেছে। লেবাননে অবস্থানরত বিবিসির সাংবাদিক জিম ম্যুর বলেছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের অনেকেই ভাবছেন, একদিকে যখন সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন চলছে, তখন ভিন্নমতাবলম্বীদের এ বৈঠক সরকারি দমন-পীড়নকে বৈধতা এনে দিতে পারে।
সিরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল বারাদা টিভির সম্পাদক মালিক আল আবদেহ্ বিবিসির ওয়ার্ল্ড টুডে অনুষ্ঠানে বলেছেন, এ ধরনের বৈঠকে সরকার অবশ্যই খুশি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র তিন-চারজন জেল খেটেছেন। বাকিদের কেউই সরকারবিরোধী বলে স্বীকৃত ও পরিচিত নন। সুতরাং এটাকে বিরোধীদের বৈঠক বলা যাবে না। এটাকে বড়জোর সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের আলোচনা বলা যেতে পারে।

পাকিস্তান থেকে ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে

পাকিস্তান থেকে ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের অনুরোধেই তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান ২০ জনের মতো সামরিক প্রশিক্ষককে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্র শতাধিক সামরিক প্রশিক্ষককে প্রত্যাহারের পরই যুক্তরাজ্য তার প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, সাময়িকভাবে এই প্রত্যাহার করা হবে। পাকিস্তানের আমন্ত্রণেই যুক্তরাজ্য সামরিক ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করা হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ পাকিস্তান সফরের মাত্র চার দিন পরই ওই সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হলো। এসব প্রশিক্ষক পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী ফ্রন্টিয়ার কোরের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে কাজ করছে। এই আধা সামরিক বাহিনী আফগান সীমান্তের কাছে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্ধ পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালু করার বিপক্ষে বেশির ভাগ জাপানি

কিউবায় চিকিৎসাধীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের অবস্থা গুরুতর—এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। তথ্যমন্ত্রী আন্দ্রেস ইজারা গতকাল সোমবার এএফপিকে জানান, তিনি (শাভেজ) সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার পত্রিকা এল নুয়েভো হেরাল্ড-এর এক খবরে শনিবার বলা হয়, ৫৬ বছর বয়সী শাভেজ মৃত্যুর কিনারে না পৌঁছলেও তাঁর অবস্থা গুরুতর। শাভেজ প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের ব্যাপারে ওই সূত্র কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে রোববার জানানো হয়, শাভেজের মেরুদণ্ডের গোড়ার দিকে হওয়া ফোড়া ১০ জুন কিউবায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ভেনেজুয়েলার সরকার শাভেজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অসুস্থ শাভেজের অনুপস্থিতি নিয়ে ভেনেজুয়েলায় উদ্বেগের পাশাপাশি নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে রাজধানী কারাকাসে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করছেন, প্রেসিডেন্ট শাভেজ বিদেশ থেকে সরকার পরিচালনা করছেন, যা অসাংবিধানিক।
শাভেজের ভাই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, শাভেজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কারাকাসে ফিরবেন।

শাভেজের গুরুতর অসুস্থতার খবর নাকচ ভেনেজুয়েলার

কিউবায় চিকিৎসাধীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের অবস্থা গুরুতর—এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। তথ্যমন্ত্রী আন্দ্রেস ইজারা গতকাল সোমবার এএফপিকে জানান, তিনি (শাভেজ) সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার পত্রিকা এল নুয়েভো হেরাল্ড-এর এক খবরে শনিবার বলা হয়, ৫৬ বছর বয়সী শাভেজ মৃত্যুর কিনারে না পৌঁছলেও তাঁর অবস্থা গুরুতর। শাভেজ প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের ব্যাপারে ওই সূত্র কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে রোববার জানানো হয়, শাভেজের মেরুদণ্ডের গোড়ার দিকে হওয়া ফোড়া ১০ জুন কিউবায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ভেনেজুয়েলার সরকার শাভেজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অসুস্থ শাভেজের অনুপস্থিতি নিয়ে ভেনেজুয়েলায় উদ্বেগের পাশাপাশি নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে রাজধানী কারাকাসে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করছেন, প্রেসিডেন্ট শাভেজ বিদেশ থেকে সরকার পরিচালনা করছেন, যা অসাংবিধানিক।
শাভেজের ভাই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, শাভেজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কারাকাসে ফিরবেন।

১০০ দিনে লিবিয়ায় ন্যাটোর পাঁচ হাজারবার হামলা

লিবিয়ায় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর বেসামরিক লোকজনকে রক্ষার নামে সেখানে অভিযান শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো। পরে সেই অভিযানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর হতে। ন্যাটোর অভিযানের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গতকাল সোমবার। তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু লোক হতাহত হলেও দৃশ্যত কোনো সাফল্য এখনো পায়নি ন্যাটো বাহিনী।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাব পাস হওয়ার পর পরই গত ১৯ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রথম হামলা চালায় ফ্রান্সের জঙ্গি বিমান। শুরু হয় অপারেশন ওডিসি ডন। কিন্তু এর কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযানের দায়িত্ব তুলে দেয় ন্যাটোর হাতে। তখন অভিযানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অপারেশন ইউনিফাইড প্রটেক্টর’।
এর পর থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ও এর আশপাশের এলাকা এবং পূর্বে ব্রেগা থেকে পশ্চিমে মিসরাতা পর্যন্ত এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারবার হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। অর্থাৎ গত ১০০ দিনে গড়ে প্রায় ৫০টি করে হামলা চালানো হয়েছে।
লিবিয়ার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষার জন্য সেখানে অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাবে। গাদ্দাফি বাহিনী যাতে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা না চালাতে পারে, সে জন্য লিবিয়ার ওপর নো-ফ্লাই জোন আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ন্যাটোকে।
কিন্তু গত ১০০ দিনের অভিযানে ন্যাটো বাহিনীর দৃশ্যত কোনো সাফল্য নেই, যদিও তারা সাফল্য দাবি করে। গাদ্দাফি বাহিনী এখনো যথারীতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষ সমানে লড়াই করে যাচ্ছে। এতে হতাহত হচ্ছে বেসামরিক লোকজন। একই সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ওপর হামলার কথা বলে ন্যাটো বাহিনী যেসব বিমান হামলা চালাচ্ছে, তাতেও মারা যাচ্ছে অনেক বেসামরিক নিরপরাধ মানুষ।
এর পরও ন্যাটো কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযানের সাফল্য দাবি করছে। সংস্থার মুখপাত্র ওয়ানা লুঙ্গেসকু বলেন, ‘তিন মাস আগে গাদ্দাফি বাহিনীর হামলার হুমকির মুখে ছিল বেনগাজি শহর। মিসরাতা শহর তারা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আর এখন সেখানে দেখুন, অবস্থার তুলনা করুন। গাদ্দাফি বাহিনী এখন আর ভয়াবহ কোনো হুমকি নয়, যদিও তারা টিকে আছে।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়ায় নিহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ এবং দেশের মধ্যেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত লিবিয়ায় সংঘাত বন্ধের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। আর এই দীর্ঘ অভিযান নিয়ে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতালিসহ কয়েকটি দেশ এখন চাইছে সেখানে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হোক।

আফগানিস্তানে রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গত রোববার অভিযোগ করেছেন, তাঁর দেশের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে তিন সপ্তাহে ৪৭০টি রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে ১২টি শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে।
তবে কারজাইয়ের এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত কোনো গোলা নিক্ষেপ করা হয়নি। সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস গতকাল সোমবার বলেছেন, আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলাকালে দুর্ঘটনাবশত আফগান ভূখণ্ডে কয়েকটি রকেট চলে যেতে পারে।
আফগানিস্তানের সীমান্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, কুনার ও নানগারহার প্রদেশে এ রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার পরিবার পালিয়ে গেছে।
সম্প্রতি ওই প্রদেশ দুটি থেকে ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই সুযোগে পাকিস্তানি তালেবানেরা সেখানকার বেসামরিক লোকজনের সঙ্গে মিশে গেছে। তাঁরা জানান, আফগান প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কারজাই বলেন, এই রকেট হামলার পেছনে পাকিস্তানের সরকারি বাহিনীর হাত রয়েছে। তাঁদের এক্ষুণি এটা বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আর যদি পাকিস্তান এটা করে না থাকে, তাহলে তাদের স্পষ্ট করা উচিত, কারা এই হামলার পেছনে দায়ী।’
আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানে গত শনিবার সন্ত্রাসবাদবিরোধী সম্মেলনে এই রকেট হামলা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জহির আজিমি এ হামলা প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং সতর্ক করে দেন যে আফগানিস্তান এর পাল্টা জবাব দেবে। আজিমিকে বরাত দিয়ে এপি বলেছে, পাকিস্তান সরকারের বোঝা উচিত, বেসামরিক লোকজনকে হত্যার পরিণতি ভালো নয়।
আফগান প্রেসিডেন্ট রকেট হামলার বিষয়টি নিয়ে আফগানিস্তানে নিযুক্ত ন্যাটো কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনবেরির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
তবে একজন আফগান কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁকে বলেছেন যে সীমান্ত এলাকায় তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লড়াই চলাকালে আফগান ভূখণ্ডে রকেট পড়েছে।
আফগান কর্মকর্তা আজিমি বলেন, পাকিস্তানের রকেট হামলার জবাবে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশ থেকে পাকিস্তানে গত শুক্রবার অন্তত দুই দফা গোলা নিক্ষেপ করেছে।
আফগানিস্তানের সীমান্তে নিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র ইদ্রিস মোহাম্মদ বলেছেন, ‘কুনার ও নানগাহারে ছোড়া রকেট পাকিস্তানের দিক থেকেই এসেছে। নিরীহ আফগানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আফগান পুলিশকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’
আজিমি জানান, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পাকিস্তান সরকারের প্রতি এ গোলা নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ২ মে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যাকাণ্ডের পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালেবানের হামলা বেড়ে গেছে।

এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে নগদ সহায়তা দাবি

দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প খাতের অন্যতম পশ্চাৎসংযোগ শিল্প এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে ১০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ করোগেটেড কার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিসিএএমইএ) সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়। অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতি বলেছে, আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি, ভৌত অবকাঠামোসহ উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাই এ বাজেট সঠিক সময়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিকের সূচনা হতে পারে।
বিসিসিএএমইএর নেতারা বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন না। আবার বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
এসব কারণে সরকার রপ্তানি-বাণিজ্যকে সুরক্ষা দিতে ও স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানিমুখী কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দিলেও এ খাত বঞ্চিত হয়েছে। অথচ এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত শতভাগ রপ্তানিমুখী।
সমিতি এ খাতের শিল্পকারখানার বাড়ি ভাড়ার ওপর আরোপিত ৯ শতাংশ মূসক প্রত্যাহারের এবং উৎসে দেড় শতাংশ হারে আয়কর কর্তনের বিধান রহিত করার প্রস্তাব করেছে। সমিতির নেতারা উৎসে কর কর্তনের হার কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মতো বন্ড-সুবিধা চেয়েছেন। একই সঙ্গে শতভাগ রপ্তানিমুখী কার্টন ও এক্সেসরিজ খাতের প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেলিভারি ভ্যান (পিকআপ) শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) যে পরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ৮৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ব্যাংকগুলো সামগ্রিকভাবে ১১ হাজার ২১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা কৃষিঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কৃষিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।
এ থেকে প্রতীয়মান হয়, কৃষিঋণ বিতরণের গতিময়তা খুব বাড়েনি। ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৭৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণের পর মার্চ মাসে তা বেড়ে হয় এক হাজার ১৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তবে এপ্রিল মাসে তা সামান্য কমে হয় এক হাজার ১২৬ কোটি টাকা। আর মে মাসে তা আরও কমে হয়েছে ৯২৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ হওয়ায় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শেষ মাসে বাকি ১১ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে। এবার কৃষিঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেহেতু অর্থবছরের শেষ মাসে এক হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে।
এ থেকে ধারণা করা যায় যে শেষ পর্যন্ত চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তবে মোট বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি থাকবে।
আবার চলতি অর্থবছর ১১ মাসে বিতরণ করা কৃষিঋণ গত অর্থবছরের বিতরণ করা ঋণের চেয়ে দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষিঋণ বাবদ ১১ হাজার ১১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। আর গত অর্থবছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে শুধু ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ডিসেম্বর মাসে, যার পরিমাণ এক হাজার ৫০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সবচেয়ে কম কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে আগস্ট মাসে, যার পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য অনেক দিন ধরেই নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কৃষকদের কাছে ব্যাংকিং সেবা সহজে পৌঁছে দিতে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯২০ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় করা বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৪১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে ২০ শতাংশ।
এই সময়কালের মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৬৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার বকেয়া কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে। আর জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৬১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে।

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডে অনুষ্ঠিত হবে।

আবারও পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি

পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্য-সংকট দূর করতে বন্ডের পাশাপাশি শেয়ারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের দাবি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতিরা এ দাবি করেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, ডিআরইউয়ের সভাপতি মোস্তাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্য-সংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ডের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’
শাকিল রিজভী আরও বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে এটা ঠিক। তবে প্রতিবছর বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সরকারকে কোনো মুনাফা ফেরত দিতে হবে না।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদও অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। তবে বাজার যাতে আবার অতি মূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, ‘প্রথমেই আমাদের একটি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সরকারের একটি নির্দিষ্ট নীতি থাকতে হবে, যা কমপক্ষে পাঁচ মেয়াদি হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন যাতে না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আমলে পুঁজিবাজারে ধস নামে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেই।’ তিনি বলেন, উত্থান-পতন শেয়ারবাজারের ধর্ম। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে বাড়তে বাজার অতি মূল্যায়িত হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দোষ নয়।
এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপমুক্ত বলে জানান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতিরা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে দুজনই বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।
সূচক ও লেনদেন: দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে সূচক। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকালের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
ডিএসইতে সাধারণ সূচক দিন শেষে ৯২ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৩৪ দশমিক ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৮৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২৫ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ২৬৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৩ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ৬০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩১ কোটি টাকা বেশি।

কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের লেনদেন স্থগিত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স ও ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের লেনদেন আজকের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আর লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগ লেনদেন স্থগিত করেছে। আজ মঙ্গলবার ডিএসই ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজও ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আজ দিনের লেনদেন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় বেড়েছে সূচক। তবে গতকালের চেয়ে লেনদেন কিছুটা কমেছে।
এ দিকে পুঁজিবাজারবান্ধব বাজেটের দাবিতে আজ বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি করেন। এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক মিজান উর রশীদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাকসহ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৩৬.৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৯৭০.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় সূচক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৮২ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমলেও দিন শেষে ৩৬.৩০ পয়েন্ট বাড়ে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৯১টির, কমেছে ৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৬০ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ইউসিবিএল, আফতাব অটো, ওয়ান ব্যাংক, এম আই সিমেন্ট, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, বেক্সিমকো, সিটি ব্যাংক, এনবিএল ও গ্রামীণফোন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ১৭১.১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৬,৬৮৪.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৩৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৯৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।

সাংবাদিকদের সঠিক জ্ঞান পুঁজিবাজার বিকাশে ভূমিকা রাখবে

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, সাংবাদিকদের সঠিক জ্ঞানার্জন পুঁজিবাজার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বিআইসিএম যৌথভাবে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত দুই মাসব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনকালে খায়রুল হোসেন এ কথা বলেন।
খায়রুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালা সাংবাদিকদের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কার্যক্রম কী হবে, তা জানতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে নতুন একটি কোম্পানি বাজারে আসার ক্ষেত্রে কোন কোন ধাপ পার করতে হবে, তাদের কী কী করণীয় রয়েছে, ইস্যুয়ারের কাজ কী প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। এ বিষয়গুলো জানা থাকলে একজন সাংবাদিক তাঁর লেখনির মাধ্যমে পুঁজিবাজার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি (সিএসই) ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, বিআইসিএমের নির্বাহী সভাপতি আবদুল হান্নান জোয়ার্দার, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোল্লা মনসুর আহমেদ, সিএমজেএফের সভাপতি জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শাকিল রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিআইসিএমের মতো একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। যার মাধ্যমে সাংবাদিক, বিনিয়োগকারীসহ শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষা নিয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার এখন অনেকটা স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। ইদানীং বাজার খুব বেশি বাড়ছে বা কমছে না, এটা একটি ভালো দিক। তিনি আরও বলেন, ‘বাজার আরও খারাপ হতে পারত। বাজার এ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা অনেকাংশে সহায়তা করেছেন।’

মেসির স্বপ্নে কোপা গৌরব

ক্লাব দল বার্সেলোনার হয়ে প্রায় সবকিছুই জিতেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তবে নিজ দেশের হয়েই কোনো কিছু না জেতার অপূর্ণতা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবল জাদুকরের। দেশের নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সিকে বলতে গেলে কিছুই ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এ আক্ষেপ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ এই সুপারস্টারের সামনে। সুযোগটা লাতিন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর প্রতিযোগিতা কোপা আমেরিকা।
১৯৯৩ সালে শেষবারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপরের ১৮ বছর আর্জেন্টিনা পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রাপ্তির দলে। বিশ্বের আলোচিত ও সেরা তারকারা দলে থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রাপ্তির ঘর সত্যিই শূন্য।
মেসি এই অবস্থাটিরই পরিবর্তন চান। এবং এখনই। তাঁর মতে, এবারের কোপা আমেরিকার শিরোপাটা জেতা তাই আর্জেন্টিনার জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।
বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ও জাদুকরী পারফরম্যান্স মেসিকে তুলে দিয়েছে অনেক ওপরে। অনেকই তাঁকে এখনই সর্বকালের সেরাদের দলে রাখা শুরু করে দিয়েছেন। তবে মেসি মানেন, কোনো প্রশংসা, কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তিই পূর্ণতা পাবে না যদি না দেশের হয়ে তিনি কিছু জিততে না পারেন।
মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকাপ। তেমন লক্ষ্যই বুকে লালন করে রাখেন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকারা। তবে তিনি এই মুহূর্তে কোপা আমেরিকার বাইরে কিছু ভাবতে রাজি নন। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে আগে কোপা জিতি তারপরে অন্যকিছু ভাবা যাবে। ১৮ বছর আর্জেন্টিনার জাতীয় দল যে কোনো শিরোপাই জেতেনি। অথচ প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই তারা মাঠে নামে ফেবারিট হিসেবে।
‘আমি আর্জেন্টিনার মানুষের কাছ থেকে এখন যে ধরনের ভালোবাসা পাচ্ছি, তা আগে কখনো পাইনি। এ ধরনের ভালোবাসা আমি স্পেনে পেয়ে থাকি। আমি বার্সেলোনাকে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছি। এবার বড় কিছু করেই মাতৃভূমির ঋণ কিছুটা পরিশোধ করতে চাই। আমি যেমন বার্সেলোনার মেসি, ঠিক তেমনি, আমি একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।’ মেসির কণ্ঠে কোপা জেতার প্রত্যয়।
মেসির মতে, আমরা সব সময়ই দেশের হয়ে খেলার আগে খুব অল্প সময় পেয়ে থাকি। প্রস্তুতিটা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। তবে এবারের ব্যাপার আলাদা। সবদিক দিয়ে প্রস্তুত হয়েই আমরা কোপা আমেরিকা খেলতে নামব।’
মেসির কোপা জেতার তাড়নাটার অন্যতম কারণ হয়তো, আর্জেন্টিনা এবারের কোপা আমেরিকার স্বাগতিক। নিজদেশের মাটিতে, সমর্থকদের গগনবিদারী চিত্কারের সামনে লাতিন ফুটবল গৌরবের ভাগীদার হতে তো তিনি চাইবেনই।
বলিভিয়ার বিপক্ষে আগামী ১ জুলাই ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা শুরু করবে কোপা অভিযাত্রা।

তারায় তারায় শুধু বোবা অন্ধকার... ব্য জুনান নাশিত

রুমানার দুই চোখে অন্ধকার। কোনোকালে সেখানে আলো ফুটবে কি না, তা ভবিতব্যই বলতে পারে। কিন্তু এখন ‘চিরজীবনের মোর ধ্রুবতারা-সম/ চিরপরিচয়-ভরা ঐ কালো চোখে’ যে বোবা অন্ধকার, তার ভার এত বেশি শুধু রুমানার জন্যই নয়, আমাদেরও বয়ে বেড়ানো ভীষণ দুঃসাধ্য। যে চোখ নিয়ে হাজারো কাব্য, সাহিত্য সে চোখ যখন মানুষরূপী হায়েনার হিংস্র ছোবলে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে, তখন এ বেদনা, এ কষ্ট, এ দুঃখ আর ক্ষোভ রাখার জায়গা কোথায়? আমার অন্তত জানা নেই।
রুমানা মনজুর চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে বিপুল বেদনা আর হতাশা সঙ্গে নিয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। ডাক্তাররা তাঁর চোখ নিয়ে তেমন কোনো আশার আলো দেখাতে পারেননি। তাঁর বিশ্ব এখন আলোহীন গহিন অন্ধকারে ডুবে গেছে। কিন্তু কেন? কেন এমনটা হবে? কেন এমনটা হয়?
একবিংশ শতাব্দীর এ সভ্য দুনিয়ায় জীবনের পাল উড়িয়ে এ দেশের নারীরা যখন সব দিক জয়ে ব্যস্ত, তখন রুমানার ওপর চালানো বর্বরতার ব্যাখ্যা দেওয়া সত্যিই দুঃসাধ্য। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, রুমানার ওপর নির্দয় অত্যাচারের কাহিনি প্রকাশ পাওয়ার প্রথম দিকে কেউ কেউ এর যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। বিশেষ করে, রুমানার স্বামী সাইদের আটকের পরপরই তিনি যে সহজ ও চিরাচরিত কাজটি করে বসলেন, তাতে অতি উৎসাহী কিছু লোক বলেই বসেছিলেন, ‘দেখেছেন, বলেছিলাম না? এ রকম কিছু না থাকলে কি আর স্বামী ও রকম করে?’ নির্বোধদের ভোঁতা আক্রমণে শুধু ক্ষত বাড়ে না, গায়ে জ্বালা ধরে। রি রি করে। আরে, এ তো এক অতি সস্তা আলাপন!
আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি কেবল এবারই প্রথম নয়, সাইদ রুমানার গায়ে বরাবরই হাত তুলতেন। ৫ জুনের জঘন্য এ ঘটনার দিন কয়েক আগেও তিরি রড দিয়ে রুমানাকে পিটিয়েছিলেন। এখন প্রশ্ন, রুমানা একজন উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও স্বাবলম্বী হয়েও কেন নিজেকে রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হলেন? কেন তিনি দিনের পর দিন এ অসভ্য আচরণ সহ্য করলেন? কেন তিনি অনেক আগেই অসহনীয় এ দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এলেন না? কেন তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না? কেন তাঁর মতো আত্মমর্যাদাশীল নারীকেও শিউরে ওঠার মতো দুর্বোধ্য হামলার শিকার হতে হয়? কেন তিনি স্বামী-সংসারকেই চরম বলে ভেবে নিজের জীবনকে তার বেদিতলে সঁপে দিলেন? (চোখ যাওয়া জীবন যাওয়ারই সমার্থক)। কেন তিনি ছিলেন তথাকথিত ‘ভালো স্ত্রী’ আর জীবনে ‘সুখী দাম্পত্যের সিল’ আঁটাতে এত তন্ময়?
এই অনেকগুলো কেনর উত্তরে বলতে হয়, আমাদের প্রচলিত সমাজ ও পরিবারই এ জন্য মূলত দায়ী। সমাজ ও পরিবারের এক অদৃশ্য শৃঙ্খল ও চাপ শিক্ষিত, অশিক্ষিত, স্বাবলম্বী কিংবা সহায়হীন সব নারীকেই কমবেশি সহ্য করতে হয়। বলা যায়, করতে তাঁরা বাধ্য হন। কারণ একজন নারী তাঁর সংসার থেকে বেরিয়ে এসে সমাজে কোনো রকম মর্যাদা নিয়েই বাঁচতে পারেন না। তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবারও কোনোভাবেই চায় না মেয়ে তার স্বামীর সংসার থেকে বেরিয়ে আসুক। সে রুমানার মতো উচ্চশিক্ষিতই হোক আর সহায়-সম্বলহীন প্রান্তিক কোনো নারীই হোক। উভয়কে নিয়ে সমাজ ও পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য খুব একটা নজরে আসে না। তাই সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রুমানার মতো নারীদেরও পারিবারিক সম্মান, মর্যাদা আর প্রিয় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের টালমাটাল পরিস্থিতির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত স্বামী-সংসারের তথাকথিত ঘেরাটোপকেই মেনে নিতে হয়। যেমনটা নিয়েছিলেন রুমানাও।
দেশে নারীশিক্ষার হার বেড়েছে। নারীরা এখন কর্মে নিযুক্ত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দিন দিনই তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে নারী সম্পর্কে সমাজ ও পরিবারে নানা ধরনের যে ট্যাবু প্রচলিত ছিল, তা আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছে। বদলায়নি এতটুকু। বাহ্যিক একটা পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ করা গেলেও অন্তঃস্রোতে বয়ে চলেছে প্রথাগত সেই প্রাচীন ধারা। ফলে পরিস্থিতি দিন দিনই সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় অবশ্যই কাউকে না কাউকে ভাবতে হবে।
লেখাটি শুরু করেছিলাম রুমানার দুটি চোখ নিয়ে। কারণ দিনের যাবতীয় কাজের ভিড়ে কেবলি রুমানার চোখ দুটির কথাই বেশি মনে পড়ে। ভারত থেকে ফিরে চোখে কালো চশমার রুমানা সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। আমরা তা দেখেছি টিভিতে, পরদিনের পত্রপত্রিকায়।
শরীরের যেকোনো অঙ্গহানিই জীবনের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে আসে। কিন্তু চোখ? চোখ হারানোর মতো পীড়াদায়ক কিছু আছে বলে মনে হয় না। শরীরের প্রতিটি অঙ্গই অত্যন্ত মূল্যবান, সন্দেহ নেই। কিন্তু চোখের অস্তিত্ব আমার কাছে আরও বেশি গুরুত্ববহ। শরীরের কোনো কোনো অঙ্গের অভাব পূরণে বিকল্পের সাহায্য নিতে পারি। কিন্তু চোখের বিকল্প কী? জানা আছে কারও?
চোখের ব্যবহারিক ভূমিকার কথা বাদই দিলাম, তার যে অপরিসীম অন্তর্গত অবদান আমাদের প্রতি মুহূর্তের বেঁচে থাকায়, তা ভুলে যাই কী করে? রুমানা সম্ভবত আর কোনো দিনই দেখতে পাবেন না এই পৃথিবী আর প্রকৃতিকে, তার আপন সন্তানকে, বাবা, মা, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবকে। দেখার গভীর আনন্দ থেকে তিনি হয়তো সারা জীবনের মতোই বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। এই রুমানার জন্য আমাদের কোনো সমবেদনাই কি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে? হবে না জানি। কিন্তু এটুকু অন্তত গভীরভাবে প্রয়োজন, হাসান সাইদের এমন কোনো শাস্তি, যাতে দ্বিতীয় কোনো পুরুষ স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার আগে অন্তত একবার ভাববে। আর রুমানার ভেতরের গুমরে ওঠা কান্নার দমকে বিদীর্ণ হতে হতে আমরাও কিছু হলেও সান্ত্বনা কিংবা স্বস্তি পাব।
জুনান নাশিত: কবি ও সাংবাদিক।
nashit_junan@yahoo.com

ক্রিস্টিনার রানিংমেটের নাম ঘোষণা

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কিরচনার আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমাদো বুদুর নাম ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন আগে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন ফার্নান্দেজ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সহজে জয় পেতে যাচ্ছেন ফার্নান্দেজ। তিনি বামপন্থী নীতি আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর স্বামী ও দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেস্তর কিরচনার আট বছর আগে ওই নীতি গ্রহণ করেন। নেস্তর কিরচনার গত বছর মারা যান।

ক্রিস্টিনার রানিংমেটের নাম ঘোষণা

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কিরচনার আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমাদো বুদুর নাম ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন আগে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন ফার্নান্দেজ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সহজে জয় পেতে যাচ্ছেন ফার্নান্দেজ। তিনি বামপন্থী নীতি আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর স্বামী ও দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেস্তর কিরচনার আট বছর আগে ওই নীতি গ্রহণ করেন। নেস্তর কিরচনার গত বছর মারা যান।

আইন প্রণয়নে সুশীল সমাজকে আর জড়ানো হবে না

ভারত সরকার বলেছে, ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের কাজে সুশীল সমাজকে আর জড়ানো হবে না। মানবাধিকারকর্মী আন্না হাজারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথভাবে লোকপাল বিলের খসড়া তৈরির কাজের কিছুটা তিক্ত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এ বক্তব্য এল।
মানবসম্পদ উন্নয়ন (এইচআরডি) মন্ত্রী ও খসড়া প্রণয়ন যৌথ কমিটির অন্যতম সদস্য কপিল সিবাল গতকাল রোববার এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিলের খসড়ায় পরিবর্তন আনা হবে।
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিবাল আরও বলেন, ‘আমি একে নজির বলছি না। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এটা করতে হয়েছে। আমি মনে করি না, একে একটি নজির হিসেবে ধরা যেতে পারে। আমরা খোলা চোখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আন্না হাজারের পথ ধরে অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীর আন্দোলনের আশ্রয় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমিও তা ভাবছি।’
উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারির জন্য লোকপাল পদ সৃষ্টি করতে আইন প্রণয়নের জন্য মানবাধিকারকর্মী আন্না হাজারে অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন।
আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আন্না হাজারে আবারও আমরণ অনশনে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি সিবাল।
এদিকে আন্না হাজারে ভারতের উচ্চ আদালত ও প্রধানমন্ত্রীকে লোকপালের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি জে এস ভার্মা। তিনি বলেছেন, এটা হবে সংবিধান পরিপন্থী। হাজারের আমরণ অনশন কর্মসূচির হুমকিকে তিনি ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

আফ্রিকায় ঘটনাবহুল সফর শেষে ফিরলেন মিশেল ওবামা

দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় ছয় দিনের সফর শেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা গতকাল রোববার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই সফরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিকারের জন্য সংরক্ষিত এলাকাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখেন।
মিশেল ওবামা প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পরে বতসোয়ানা সফর করেন। মা মারিয়ান রবিনসন, দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা এবং তাদের দুই চাচাতো ভাইবোন মিশেলের সঙ্গে ছিল। ম্যান্ডেলা ছাড়াও মিশেল দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক নেতা নোবেলবিজয়ীডেসমন্ড টুটুর সঙ্গে দেখা করেন। সফরের সময় মিশেল তাঁর মেয়েদের নিয়ে মাঠে ফুটবল খেলেছেন। ঘুরতে বেরিয়ে গ্রামে রাস্তার পাশের রেস্তোরাঁয় তাঁরা খেয়েছেন। সফরের সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণীদের সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য উৎসাহ দেন।
বতসোয়ানার রাজধানী গ্যাবোরনের বিমানবন্দর থেকে গতকাল ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বতসোয়ানায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল গ্যাভিন তাঁকে বিদায় জানান। দেশটির সহকারী অর্থমন্ত্রী গ্লোরিয়া সোমোলেকায়েও মিশেলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিশেলের এই সফর বতসোয়ানাকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছে।

তুরস্ক ও লেবানন সীমান্তে সিরীয় সেনাদের অভিযান

সিরিয়া কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে তুরস্ক ও লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও সেনা পাঠিয়েছে। সেনারা গতকাল রোববার তুরস্কের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম এবং লেবাননের সীমান্তবর্তী একটি শহরে অভিযান চালিয়েছে।
সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জানান, সেনারা ট্যাংক নিয়ে তুরস্কের সীমান্তবর্তী আল-নাজিয়া গ্রাম এবং লেবাননের সীমান্তবর্তী কাসির শহরে হামলা চালিয়েছে। সেখানে তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। হামলার মুখে শত শত মানুষ লেবাননে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
আল-নাজিয়া গ্রামটির অবস্থান সিরিয়ার জিসার আল-শুগুর শহরের কাছাকাছি। ওই শহরে চলতি মাসেই বন্দুকধারীদের গুলিতে ১২০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর সেখানে সেনাবাহিনী পাঠায় সরকার।
গত কয়েক সপ্তাহে ওই এলাকা থেকে প্রায় ১২ হাজার মানুষ তুরস্কে পালিয়ে গেছে। সম্প্রতি সিরিয়া কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং পালিয়ে যাওয়া লোকজনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই এলাকার বাসিন্দারা ফিরে আসছে না।
এর আগে শনিবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের ওপর হামলা এবং একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে গুলিবর্ষণ করলে অন্তত চারজন বেসামরিক লোক নিহত হয়।
লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ার একটি মানবাধিকারগোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত কিসওয়াহ শহরে শনিবার ওই দাফন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুজন নিহত হয়। এ ছাড়া কাসির শহরে অপর দুই বেসামরিক লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে আরও দক্ষিণে অবস্থিত কুসেইর শহরে শুক্রবার একটি বড় ধরনের বিক্ষোভে হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারপন্থী আধা সামরিক বাহিনীর লোকজন। গত শনিবার সেখান থেকে শত শত লোক লেবাননে পালিয়ে যায়।
এদিকে কীভাবে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে আজ সোমবার বিদ্রোহীরা একটি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে সিরিয়ায়।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সরকারের অভিযানে এক হাজার ৩৪২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৪২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রাদেশিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ কাশ্মীর’-এ প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল পরিষদের ৪১টি আসনের মধ্যে ৩৮টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও ভুয়া ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ ওঠার পর তিনটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও মুসলিম কনফারেন্সের (এমসি) মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের আগের নির্বাচনগুলোতে মূলত পিপিপি ও এমসির মধ্যে লড়াই হয়েছে। সম্প্রতি এখানে পিএমএল-এনের কার্যক্রম শুরু হয়। পিএমএল-এনের কার্যক্রম শুরুর পর নির্বাচনী লড়াই ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নেয়।
এদিকে তিনটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করার প্রতিবাদে গতকাল মুজাফফরাবাদ, অ্যাবোটাবাদ ও করাচিতে বিক্ষোভ করেন মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) কর্মীরা।
নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ ইউনুস মুঘল জানান, পাঁচ হাজার ৫৬৬টি ভোটকেন্দ্রে আট হাজার ৩৯১টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।

ভারতজুড়ে বিক্ষোভ চলছেই

ডিজেল, রান্নার গ্যাস ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিজেপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বামফ্রন্ট আজ সোমবার ত্রিপুরায় অর্ধদিবস বন্ধ্ ডেকেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাসের ওপর রাজ্য সরকারের আরোপিত ১৬ রুপি বিক্রয় কর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে এখানে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারপ্রতি মূল্য বেড়েছে ৩৪ রুপি।
এদিকে বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি ও ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। কলকাতার বাস ও ট্যাক্সির মালিকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, ২ জুলাইয়ের মধ্যে ভাড়া বাড়ানো না হলে তাঁরা বাস, মিনিবাস ও ট্যাক্সি সড়ক থেকে তুলে নেবেন।
গত শুক্রবার রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জয়পাল রেড্ডি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি, কেরোসিনে দুই রুপি ও রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ রুপি বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। শুক্রবার গভীর রাত থেকেই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়।
তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে কলকাতায় বিক্ষোভ করছে বামফ্রন্ট।

গাদ্দাফি দেশ ছাড়বেন না, আবারও ভোটের প্রস্তাব

লিবিয়া-সংকট নিরসনে নতুন করে ভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছে মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকার। গাদ্দাফি ক্ষমতায় থাকবেন কি থাকবেন না, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে তা নির্ধারণই এ ভোটের লক্ষ্য। তবে এ প্রস্তাবে গাদ্দাফিবিরোধীরা উৎসাহিত না হলেও তা ন্যাটো জোটে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গাদ্দাফি প্রশাসনের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম গতকাল রোববার ত্রিপোলিতে সাংবাদিকদের বলেন, সরকার জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণসহ জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) তত্ত্বাবধানে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চায়।
ইব্রাহিম বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণ গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলে তিনি সরে দাঁড়াবেন। আর জনগণ তাঁকে ক্ষমতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি থাকবেন।’ তবে তিনি বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন গাদ্দাফি নির্বাসনে যাবেন না। তিনি দেশেই থাকবেন। দেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না।’ ভোটের এ প্রস্তাবে গাদ্দাফিবিদ্রোহীদের আগ্রহ না থাকলেও তা জোটে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, লিবিয়ায় তিন মাস ধরে অভিযান চালিয়েও গাদ্দাফির পতন ঘটাতে ব্যর্থতার কারণে লিবিয়া-সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার জন্য জোটের মধ্য থেকেই ন্যাটোর ওপর চাপ বাড়ছে।
এর আগে গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম এ মাসের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

আলোচনার বাইরে থাকতে রাজি গাদ্দাফি

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি দেশটিতে চার মাসব্যাপী সংঘাত নিরসনে আলোচনার বাইরে থাকতে রাজি হয়েছেন। আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) নেতারা দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ায় গতকাল রোববার এক বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন।
লিবিয়ায় গাদ্দাফির বাহিনী ও তাঁর শাসনের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের অবসানের লক্ষ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কঙ্গো, মালি, মৌরিতানিয়া ও উগান্ডার রাষ্ট্রপ্রধানেরা বৈঠকে অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এইউ নেতারা বলেন, এইউর উচ্চপর্যায়ের অ্যাডহক কমিটি সমঝোতা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকতে রাজি হওয়ায় গাদ্দাফিকে অভিনন্দন জানায়।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেছেন, সামরিক জোট ন্যাটো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কথা বলে লিবিয়ায় হামলাকে জায়েজ করতে চাইছে। কিন্তু ওই প্রস্তাবে লিবিয়ায় ‘সরকার পরিবর্তন বা গাদ্দাফিকে হত্যার’ কথা বলা হয়নি।
গতকাল রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট জুমা। চার মাস ধরে চলা লিবিয়া-সংকটের সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে প্রিটোরিয়ায় আলোচনা করেন আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) নেতারা।
এর আগে লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতারা জানান, তাঁরা আশা করছেন, গাদ্দাফি চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ‘শিগগিরই’ নতুন প্রস্তাব পাঠাবেন।
ফ্রান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যস্থতায় বিরোধীদের কাছে একটি নতুন সমঝোতা প্রস্তাব পাঠানোর কথা রয়েছে গাদ্দাফির। তবে এতে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি থাকবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট জুমা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ছাড় দেওয়ার জন্য লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফি এবং বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধে লিবিয়ার বেসামরিক জনগণ নিহত হচ্ছে, অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এইউ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় প্রেসিডেন্ট জুমা আরও বলেন, লিবিয়া-সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে এবং এটা লিবিয়ার জনগণের হাতেই রয়েছে। লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ও এনটিসিকে আরও সাহসী হয়ে কাজ করতে হবে। সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, লিবিয়ার জনগণ যত দ্রুত সম্ভব এ দ্বন্দ্বের শেষ দেখতে চায়। তারা দেখতে চায়, গণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়ার সূচনা।
ন্যাটো ও এর মিত্র দেশগুলোর লিবিয়া অভিযানের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট জুমা বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে লিবিয়ার বেসামরিক জনগণকে রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোনোভাবেই লিবিয়ার সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক হত্যার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
গত শনিবার এনটিসির ভাইস চেয়ারম্যান আবদেল হাফিজ ঘোগা বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার জনগণের জীবন রক্ষা করতে চাই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বর্তমান সংকটের সমাধান চাই।
সেনা-বিদ্রোহীসংঘর্ষ: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়াফরেন শহরে গতকালগাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী সেনাদের সংঘর্ষ হয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে এবার বাজেটের প্রভাব পড়েনি

এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ওপর বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হলেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রবণতা এবার দেখা যায়নি।
গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানানো হয়। সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি এ বি এম আবুল কাসেম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এর আগে কমিটির সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, টিপু মুনশি ও রুমানা মাহমুদ যোগ দেন। বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) শক্তিশালী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠিত উপকমিটির প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে টিসিবির স্থায়ী সম্পদ বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।
সভায় ভঙ্গুর টিসিবি শক্তিশালী করতে এর পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, টিসিবির জনবল বৃদ্ধিতে কমিটি যে সুপারিশ করেছিল তা মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে।
কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বাজার পরিদর্শনকালে কমিটি দেখেছে, কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। আসন্ন রমজান মাসেও পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। এর আগে ১৫ জুন রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে এ সংসদীয় কমিটি।’
আবুল কাসেম বলেন, ‘আসন্ন রমজান সামনে রেখে কমিটি যে বাজার পরিদর্শন করেছিল, তার প্রতিবেদন বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ করে যা দেখলাম, তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণত লাফ দিয়ে বাড়ে। কিন্তু এবার তা হয়নি। সরবরাহ কম থাকায় কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে।’
আবুল কাসেম বলেন, বাজার পরিস্থিতি পরিদর্শন ও সরবরাহ বাড়ানোর পর আসন্ন রমজানে দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর বাজার পরিদর্শন নিয়ে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি প্রতিবেদনে।

আইন সংশোধনে নয় দফা সুপারিশ

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়করসংক্রান্ত আইনের কিছু ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আয়কর আইনজীবীরা। তাঁরা বলছেন, প্রস্তাবিত নতুন আইনের ১৬৫বি ধারার কারণে করদাতারা কর কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হবেন। তাই এ ধারা বাতিল করা প্রয়োজন।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ট্যাক্স ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে। এতে আয়কর আইন সংশোধনের জন্য নয় দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্যাক্স ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সারোয়ার ও মহাসচিব কামরুল আলম চৌধুরী, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রস্তাবিত আইনের কিছু ধারা অমানবিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ। আইন প্রার্থিতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কোনো সভ্য সমাজের কাম্য নয়। প্রস্তাবিত আইনে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেতে গেলে দাবিকৃত করের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিয়ে আপিল করতে হবে।
কর আইনজীবীদের মতে, বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত সব অর্থ মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা জরুরি। তাঁরা শর্ত সাপেক্ষে উৎপাদনমুখী বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন খাতে বিনিয়োগে সুযোগের মাধ্যমে এই অর্থ মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেছেন। তবে অবৈধভাবে আয় করলে তাঁদের প্রচলিত ফৌজদারি আইন থেকে অব্যাহতি না দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন। কর আইনজীবীদের মতে, ১০ শতাংশ কর প্রদান করে সরকারি বন্ড ক্রয় দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। তাই এটা বাতিল করার সুপারিশ করেছে।
সমিতির নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ আইনে কর অবকাশের মেয়াদ ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এই কর অবকাশের মেয়াদ ২০১৫ পর্যন্ত বর্ধিত করার পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণশিল্পের ন্যায় সম্ভাবনাময় শিল্প খাতকে এর আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব করেন।

সপ্তাহের প্রথম দিন দুই বাজারে লেনদেন হ্রাস

সপ্তাহের প্রথম দিন গতকাল রোববার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেন কমে গেছে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচক কমে গেলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বেড়েছে। তবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন ২০১১-১২ বাজেটকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। অনেক বিনিয়োগকারী বাজেটে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা পর্যবেক্ষণ করার কারণে বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকাল ডিএসইতে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের আধা ঘণ্টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এর পর থেকে সূচক কমতে থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৪১ দশমিক ২৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে গতকাল ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৪৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৫০৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১০ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, এবি ব্যাংক ও ইউনাইটেড এয়ার।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ২৪৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৪৫টির, কমেছে ১২৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে এমজেএল: অবশেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড। আর গতকাল রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে।
গতকাল সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এমজেএলের লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসইর পক্ষে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুহাম্মাদ উল্লাহ ও এমজেএলের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সানাউল হক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরী, ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতিপতী মৈত্রসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন হবে। ডিএসই ট্রেড কোড ‘এমজেএলবিডি’ ও কোম্পানি কোড ১৫৩১৪। সিএসইতেও ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন হবে। এ ক্ষেত্রে স্ক্রিপ আইডি ২০০১২ ও স্ক্রিপ কোড ‘এমজেএলবিডি’।

পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

দেশের পুঁজিবাজারে আজ সোমবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে সূচক। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকালের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে—এমন খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। এই খবরে অনেক বিনিয়োগকারী আবার লেনদেনে সক্রিয় হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৯২.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৯৩৪.১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। ১১ মিনিটের দিকে সূচক ৪১ পয়েন্ট বাড়ে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে সূচক বাড়ে ৬৬ পয়েন্ট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূচক বাড়ার এ হার আরও বাড়তে থাকে। এভাবেই দিনভর ডিএসইতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৮৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩২৫ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক, ইউসিবিএল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, এনবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ও লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ ২৬৬.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ১৬৫১৩.৩৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ৬০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩১ কোটি টাকা বেশি।

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে ডিএসই ও সিএসই

পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকট দূর করতে বন্ডের পাশাপাশি অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে আবারও মত দিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতিরা। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা এই মত দেন।
রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, ডিআরইউর সভাপতি মোস্তাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্যসংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্যসংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ডের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’
শাকিল রিজভী বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে এটা ঠিক। তবে প্রতিবছর বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সরকারকে কোনো মুনাফা ফেরত দিতে হবে না।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদও অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। তবে বাজার যাতে আবার অতি মূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার কী ভূমিকা রাখতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং সরকার যদি শেয়ারবাজারকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।’
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের একটি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সরকারের একটি নির্দিষ্ট পলিসি থাকতে হবে, যা কমপক্ষে পাঁচ মেয়াদি হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাতে না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আমলে পুঁজিবাজারে ধস নামে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেই।’ তিনি বলেন, উত্থানপতন শেয়ারবাজারের ধর্ম। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে বাড়তে বাজার অতি মূল্যায়িত হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দোষ নয়। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপমুক্ত বলে জানান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএসই ও সিএসই সভাপতিরা বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে বাজারে ভীতি ছড়ানো ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন তাঁরা।

তিন ধাপ দূরেই নাদাল-ফেদেরার ফাইনাল

চতুর্থ রাউন্ডেই রাফায়েল নাদালের সামনে পাহাড়-বাধা। পাহাড় নয়তো কী? হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোর উচ্চতা যে ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি! ২০০৯ ইউএস ওপেনে নাদালকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিলেন এই আর্জেন্টাইন। ফাইনালে হারিয়ে দিয়েছিলেন রজার ফেদেরারকেও। ফলে পরের বছর শুরুতেই তাঁর র‌্যাঙ্কিং ছিল চারে।
কবজির চোটের কারণে গত বছরের প্রায় পুরোটাই কোর্টের বাইরে ছিলেন। ফলে দেল পোত্রো আর এগোতে পারেননি। বরং কেবলই পিছিয়ে পড়েছেন। চলতি উইম্বলডনে যেমন অংশ নিচ্ছেন ২৪তম বাছাই হিসেবে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছেন বিস্তর ঘাম ঝরিয়ে। তৃতীয় রাউন্ডে দেল পোত্রো সরাসরি সেটে জিতলেও দুটি সেটই গিয়েছিল টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৭-৬ (১০/৮), ৭-৬ (৭/৫), ৭-৫ গেমে। তার পরও আজ নাদালের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত এই ২২ বছর বয়সী। বলছেন, নাদাল-বধের অস্ত্র তাঁর জানা আছে। ২০০৯ সালের ইউএস ওপেনের দিকেই ইঙ্গিত করলেন কি?
বাকি সাতটি ম্যাচের চেয়ে পুরুষ এককে নাদাল-দেল পোত্রো ম্যাচটি নিয়ে তাই আগ্রহ বেশি। অন্যদিকে অ্যান্ডি মারে খেলবেন রিচার্ড গ্যাসকুয়েটের সঙ্গে। মুখোমুখি হচ্ছেন মার্ডি ফিশ আর টমাস বার্ডিচ, লুকাজ কুবট-ফেলিসিয়ানো লোপেজ, বার্নার্ড টমিচ-হাভিয়ের মালিসে, নোভাক জোকোভিচ-মাইকেল লোরদা, ডেভিড ফেরার আর জো-উইলফ্রায়েড সোঙ্গা। রজার ফেদেরারের খেলা পড়েছে রাশিয়ার ১৮ নম্বর বাছাই মিখাইল ইয়ুঝনির সঙ্গে।
নিজ নিজ খেলায় নাদাল-ফেদেরার জিততে পারলে এই ‘জুটি’র চতুর্থ উইম্বলডন ফাইনালের সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে। ২০০৮ সালে এই উইম্বলডনেই হয়েছিল নাদাল-ফেদেরারের ৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াই। বাকি সবার মতো এই দ্বৈরথের জন্য যেন তাঁরা দুজনও অপেক্ষা করেন। নাদাল তো বলেই দিলেন, তিনি নেটের ওপাশে সব সময় ফেদেরারকেই চান, ‘ওর সঙ্গে আমার ম্যাচ হলে দারুণ জমে। ওর সঙ্গে এখানে সেই দুর্দান্ত ফাইনালটি খেলেছি যেটা আমার কাছে স্পেশাল কিছু মনে হয়। মানুষও তাই মনে করে। আমি সব সময়ই ফেদেরারকে পছন্দ করি। আমরা জয়-পরাজয় দুটিই সহজভাবে মেনে নিতে জানি। আর ও তো নিপাট ভদ্রলোক।’
নাদাল-ফেদেরার দ্বৈরথের মতোই এই কিছুদিন আগে মেয়েদের কোর্টে পরম প্রার্থিত দ্বৈরথ ছিল উইলিয়ামস বোনদের লড়াই। উইম্বলডনেই দুই বোন মুখোমুখি হয়েছেন চারটি ফাইনালে। তিনটি সেরেনা জিতেছেন আরেকটি ভেনাস। সেমিফাইনালেও একবার মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। সেরেনা-ভেনাস দুজনই শেষ ষোলোতে উঠে আসায় সম্ভাবনা জেগেছে আরেকটি ‘অল-উইলিয়ামস ফাইনাল’-এর। সেরেনা খেলবেন মারিয়ন বারতোলির বিপক্ষে, ভেনাসের প্রতিপক্ষ সভেতানা পিরঙ্কোভা। অন্য ম্যাচগুলোয় মুখোমুখি হবেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি-ডমিনিকা চিবুলকোভা, মারিয়া শারাপোভা-পেং সুয়াই, স্যাবাইন লিসিস্কি-পেত্রা চেৎকোভস্কা, তামিরা পাসেক-কেসেনিয়া পারভাক, নাদিয়া পেত্রোভা-ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা এবং পেত্রা ভাইতোভা-ইয়ানিনা উইকমেয়ার।

সহ-অধিনায়কই বাদ

ক্রিস গেইলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লুআইসিবি) ‘দ্বিতীয় সভা’ এখনো হয়নি। বাঁহাতি ওপেনার যে তাই দলে ফিরছেন না, জানাই ছিল। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে একটা চমক ঠিকই আছে। সহ-অধিনায়ক ব্রেন্ডন ন্যাশেরই জায়গা হয়নি দলে।
টেস্ট দলে স্যামির ডেপুটি হওয়ার পর থেকেই ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যাটসম্যানের। সর্বশেষ ৬ ইনিংসে রান ৫৩, পাঁচটিতে দুই অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। ন্যাশের পরিবর্তে দলে ঢুকেছেন কার্ক এডওয়ার্ডস। তবে কেমার রোচের সঙ্গে সম্ভবত একাদশের বাইরেই থাকতে হবে এডওয়ার্ডসকে। খেলার সম্ভাবনা বেশি মারলন স্যামুয়েলসের। বারবাডোজে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামীকাল।

তেভেজকে নিয়েই বাতিস্তার ২৩

মাস খানেক আগে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকার পরিকল্পনাতেই ছিলেন না কার্লোস তেভেজ। কিন্তু কোপার মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোল করা ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ককে আর্জেন্টিনার কোচ অবজ্ঞা করেন কীভাবে?
আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকার চূড়ান্ত দলে ঠিকই জায়গা পেয়েছেন তেভেজ। আলবেনিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের পাঁচ দিন পর ঘোষিত সার্জিও বাতিস্তার ২৩ সদস্যের দলে মেসি, হিগুয়েইনদের সঙ্গে তেভেজের নামও আছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাতিস্তার দলে কোনো চমক নেই। দলে গোলরক্ষক হুয়ান পাবলো ক্যারিজোই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এই মৌসুমে খেলেছেন আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে, ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিও থেকে তিনি ধারে খেলেছেন রিভার প্লেটে।
কোচ বাতিস্তার পরিকল্পনায় না থাকায় গত বছর কাতারে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি তেভেজ। যে ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছিল মেসির গোলে। পরে বাতিস্তা-তেভেজের দ্বন্দ্বটা প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বাতিস্তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তেভেজের জন্য যে কোপার দরজা খুলছে, ইঙ্গিত মেলে গত ১ জুন। নমনীয় হয়ে তেভেজকে ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্ত করেন বাতিস্তা।
বিপুল জনপ্রিয় ম্যান সিটির অধিনায়ককে দলে নেওয়ার দাবি তোলে সমর্থকেরাও। আর্জেন্টিনাকে যে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে এটা আলবেনিয়া ম্যাচেই প্রমাণ করেছেন ২৭ বছর বয়সী তেভেজ। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দলের চতুর্থ গোলটি করেছিলেন তিনিই। ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচের ৪-৩-৩ ছকে মেসি ছিলেন মুক্ত স্ট্রাইকার।
আগামী শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে ফেবারিট আর্জেন্টিনা, লা প্লাটায় তাদের মুখোমুখি বলিভিয়া।

সাকিবের ৪ উইকেট

মৌসুমের প্রথম ম্যাচে রিচ পাইরাহর বলে আউট হয়েছিলেন। কাল ফ্রেন্ডস টি-টোয়েন্টিতে ৫ রান করে সেই পাইরাহর বলেই আবারও আউট সাকিব আল হাসান, তবে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে সাকিবের দল উস্টারশায়ার তুলেছে মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৩ রান। ব্যাটে ব্যর্থ সাকিব ঠিকই জ্বলে উঠেছেন বোলিংয়ে। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছেন দুটি, পরের দুই ওভারে আরও দুটি। দলও জিতেছে ৪১ রানে। এটি উস্টারের চতুর্থ জয়। চারটিই সাকিব আসার পর।
মিডলসেক্সের বিপক্ষে কাল সেঞ্চুরি করেছেন গ্লস্টারশায়ারের দুই ওপেনার কেভিন ও’ব্রায়েন (৫২ বলে ১১৯) ও হামিশ মার্শাল (৫৪ বলে ১০২)। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি এই প্রথম। দুজনের ১৯২ উদ্বোধনী জুটিতেও রেকর্ড, সব জুটি মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০ ওভারে ২৫৪ করেছে গ্লস্টার, টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে বড় ইনিংস আছে একটিই—কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ২৬০।

চট্টগ্রামে ফুটবল-হতাশা

মোহামেডান—প্রথম ‘বি’ লিগে ষষ্ঠ, দ্বিতীয়বার পঞ্চম, ২০০৯ সালের তৃতীয় আসরে নবম স্থান।
আবাহনী—প্রথম দুই আসরে নবম ও তৃতীয় আসরে একাদশ স্থানে থেকে কোনোক্রমে অস্তিত্ব রক্ষা।
ক্রমেই নিচে নামতে থাকা চট্টগ্রামের এই দল দুটি এবার বাংলাদেশ লিগ থেকে অবনমিত। দাপটের সঙ্গে ‘বি’ লিগ শুরু করার পর চতুর্থ আসরেই চট্টগ্রামের মুছে যাওয়া দেখে হতাশ স্থানীয় ফুটবল অঙ্গন। কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা ঢেলে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাবেক কোচ নজরুল ইসলাম (লেদু) বললেন, ‘এখানে কোচের চেয়ে কর্মকর্তা বড়।’ দলটির বর্তমান অধিনায়ক ফরহাদেরই যেন প্রতিধ্বনি।
নজরুল ইসলাম ২০০৩ সাল থেকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন করে তোলেন। ‘বি’ লিগে দুই বছর সাফল্যের সঙ্গেই দলকে টেনে নিয়ে তৃতীয় আসরের শুরুতে হন বরখাস্ত।
তিনি বলেন, ‘ চট্টগ্রামের ফুটবল ঐতিহ্য হারিয়ে ঘরে ফিরে এসেছে। স্থানীয় লিগে খেলা খেলোয়াড়েরা ঢাকার ক্লাবের দৃষ্টি কাড়তে পারবে না। ফলে জাতীয় দলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে।’
বর্তমানে মামুন ও ইউসুফ জাতীয় দলে চট্টগ্রামের ঝান্ডা কোনো রকম টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ এঁদের পূর্বসূরিদের মিছিলটা ছিল বড় ও উজ্জ্বল আরমান আজিজ, জাহিদ পারভেজ, আসাদ, মতিউর মুন্না, ফরহাদ, টিপু , খসরু, মান্নান, এফ আই কামাল, পান্না নন্দী। সবচেয়ে ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন আশীষ ভদ্র।
এবারের ফলাফলে আশীষও হতাশ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘চট্টগ্রামের ফুটবল আরও খারাপ হবে। যোগ্য লোক নেই। চেয়ার দখলে রাখা লোকেদের ফুটবলের উন্নয়নে মন নেই। যেনতেনভাবে একটি লিগ শেষ করার চিন্তা সবার মধ্যে। এভাবে ফুটবলার উঠবে না।’
বড় দুই দলের এই হতাশার মধ্যে আজ থেকেই চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে নতুন ফুটবল মৌসুম। শুরু দ্বিতীয় বিভাগ দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে চলবে দ্বিতীয় বিভাগ সুপার লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু দলগুলো কতটা প্রস্তুত হয়ে নামছে? বাংলাদেশ লিগে খেলা আবাহনী ও মোহামেডানের মতো নয়তো!
এবার বাংলাদেশ লিগের শুরু থেকেই দল দুটির সংকট চলছিল। আবাহনীর নিয়মিত কোচ আবুল কাশেম মাঝপথে ইস্তফা দেন। মোহামেডানের অনুশীলনও ছিল অনিয়মিত।
মোহামেডানের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বিষয়টি অস্বীকার করেননি, ‘আমাদের টাকার সমস্যা ছিল। কর্মকর্তারা আগের মতো উদ্যমী ছিলেন না। আমি আর শামীম ভাই (সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন শামীম) ছাড়া আর কেউ মাঠে ছিল না। টাকার কারণে প্র্যাকটিসও ঠিকমতো হয়নি।’
পেশাদার লিগে আগের আসরগুলোয় চট্টগ্রামের দুই দল বিশেষ করে মোহামেডানকে ঘিরে কর্মকর্তা ও সমর্থকদের ভিড় থাকত। কিন্তু এবার ছিল ভিন্ন চেহারা। তবে ইউসুফ তাদের কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় ও লিগের পাতানো খেলাকেও দুষেছেন।
আবাহনীর পরবর্তী কোচ সাইফুল আলম মনে করেন, ফুটবল কমিটির দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে দলের অবনমন হয়েছে।

সাবেক হকি তারকা চুন্নুর লড়াই

রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে বিষণ্ন চেহারায় বসে আছেন জাতীয় হকি খেলোয়াড় আবদুস সাজ্জাদ (জন)। তাঁর বাবা সাবেক হকি তারকা আবদুল মালেক চুন্নু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি ও হূদ্যন্ত্রের সমস্যায় ভোগা চুন্নুর হঠাৎ করেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চুন্নুর লিভারে পানি জমেছে, কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দুবার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। চিকিৎসক মাশহুদ জিয়া চৌধুরী ও সারোয়ারের ইকবালের চিকিৎসাধীন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড়। ১৯৭৪-এ ক্যারিয়ার শুরু করা চুন্নু একাধিকবার ছিলেন আবাহনীর অধিনায়ক। ২০০২-এ সাধারণ বীমার হয়ে অবসর নেন। খেলা ছাড়ার আগেই যুক্ত হন কোচিংয়ে। গত এশিয়া কাপ ও এসএ গেমসে জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

রিয়াল-বার্সা বৈরিতা নিয়ে চিন্তায় বস্ক

ভিসেন্তে দেল বস্কের দুশ্চিন্তায় পড়ারই কথা। ক্লাব-বৈরিতায় যে স্পেন জাতীয় দলের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা! রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার মধ্যে চরম বৈরিতা স্পেন জাতীয় দলের কোচের জন্য সব সময়ই একটা মাথাব্যথার কারণ। দলের বেশির ভাগ ফুটবলার থাকে এই দুই ক্লাবের, সারা বছরের তিক্ততা ভুলিয়ে তাদের একতাবদ্ধ করার ঝক্কি তো কম নয়। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে যা হলো, দুই ‘দৈত্য’র সম্পর্কের এতটা অবনতি সাম্প্রতিক অতীতে আর হয়নি। সেই তিক্ততার রেশ তাই এখনো থাকার কথা। দেল বস্কের দুশ্চিন্তা এটা নিয়েই।
মৌসুমের শেষ দিকে ১৮ দিনের মধ্যে এল ক্লাসিকো হয়েছে চারটি। এ সময় মাঠের লড়াই ছড়িয়েছে মাঠের বাইরেও। কথার লড়াই, কাদা ছোড়াছুড়ি কী হয়নি! বার্সেলোনাভিত্তিক দৈনিক লা ভ্যানগার্দিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দেল বস্ক বলেছেন, ক্লাব লড়াইয়ের ঝাঁজ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে, ‘যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতগুলো আমাদের সারাতে হবে। ওই লড়াইয়ের রেশ এখনো আছে, কারণ রিয়াল-বার্সার বৈরিতাকে কাজে লাগিয়ে দলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার লোক অনেক আছে। আমাদের এর সমাধান খুঁজতে হবে।’
সমাধান কেন জরুরি, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ, ‘আশা করি, এতসব ম্যাচের বৈরিতা দলের পরিবেশকে দূষিত করতে পারবে না, কারণ এটা হবে বড় একটা ভুল। কোনো টুর্নামেন্টের সময় ঝামেলা হতেই পারে, কিন্তু কখনোই পারস্পরিক শ্রদ্ধা হারানো উচিত নয়। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে, সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে হলে দলের পরিবেশ ভালো রাখা জরুরি।’

‘শক্ত’ রিপোর্ট দিচ্ছে কমিটি?

বাংলাদেশ লিগ কমিটির দিকে এখন গোটা ফুটবল অঙ্গনের চোখ। শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচ পাতানো অভিযোগের তদন্ত শেষে কী রিপোর্ট দিচ্ছে কমিটি?
লিগ কমিটির এক সদস্য কাল সকালে বলছিলেন, ‘রিপোর্ট তৈরি করার জন্য ফেডারেশনের কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই আশা করি রিপোর্ট পৌঁছে যাবে ফেডারেশন সভাপতির কাছে।’
তখনো ওই কর্মকর্তা জানতেন না মারুফুল হক কী বোমা ফাটিয়েছেন! মুক্তিযোদ্ধা কোচ পরশু বলেছেন, ‘শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচের বিরতির সময় আমার ফোনে ভুল করে ফোন করেন রহমতগঞ্জের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন কালা ভাই। তখন তিনি শেখ জামালের কর্মকর্তা ভেবে আমাকে বলেন, ‘ডিফেন্ডার উঠাইয়া লইছি, এবার আপনারা যত পারেন গোল দেন...।’
এ ব্যাপারে কাল সালাউদ্দিন কালার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিরক্তির সুরে তিনি বললেন, ‘ভাইজান, এই ব্যাপারটা নিয়া আমারে আর জ্বালাইয়েন না।’ পরে বললেন, ‘আমি তো মারুফকে ফোন করিনি। ফোন করেছি আমাগো সেক্রেটারিরে। মাইকেল দুম্বারে উঠাইয়া নেওয়ার কথা তারে বলছি। ও-ই সেদিন ম্যাচে আমাদের দুই গোলে লিডের সময় মারুফ আমাকে ফোন করে বলল, কালা ভাই, লিডটা ধইরা রাখেন। আমার পকেটে সাড়ে তিন লাখ টাকা আছে নিয়া যাইয়েন...।’
মারুফ বিষয়টা খোলাসা করেছেন, ‘ওদিন রহমতগঞ্জ দুই গোলে এগিয়ে আছে শুনে আমি কালা ভাইকে ফোন করে বলেছি, লিডটা ধরে রাখেন। তখন তিনি আগের একটা প্রসঙ্গ টেনে হাসতে হাসতে মিষ্টি খেতে চেয়েছেন। টাকা নিয়ে তো কোনো কথাই হয়নি। তিনি পরে ভুলে আমাকে ফোন করে পাতানোর ব্যাপারে কথাগুলো বলেন।’
অবস্থা যখন এই, আজই বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লিগ কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে মারুফ ও সালাউদ্দিন কালাকে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী কারণটাও জানালেন, ‘মারুফের দেওয়া তথ্য তদন্তকাজে সহায়তা করবে। বিষয়টা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি আমরা।’
আগ্রহীদের আরও আগে ডাকল না কেন তদন্ত কমিটি? প্রশ্নটা সবার। মারুফই তা সামনে নিয়ে এসেছেন, ‘ফেডারেশন সবাইকে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানিয়ে তথ্য চাইতে পারত। কিন্তু তারা চায়নি। চাওয়া উচিত ছিল।’
মারুফের দাবি নাকচ করে লিগ কমিটির এক সদস্য যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘ম্যাচটা পাতানো হয়েছে কি হয়নি এটা নিয়ে দ্বিধা থাকলেই তো আমরা বাইরের সাহায্য নিতাম। কিন্তু আমরা যখন বুঝতে পেরেছি, এটি আসলেই পাতানো, তখন বাইরের কাউকে ডাকার দরকারই ছিল না।’
সালাম মুর্শেদী জানাচ্ছেন, ‘রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেডারেশন সভাপতিকে একটা রিপোর্ট এবং সুপারিশ দেব। সিদ্ধান্ত নেবেন সভাপতি সাহেব।’ রিপোর্টে কী থাকছে, ‘অন রেকর্ড’ কিছু বলতে চাননি সালাম। শুধু এটুকুই বললেন, ‘আমরা একটা শক্ত রিপোর্টই দেব, এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
লিগ কমিটির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রিপোর্টে বলা হবে ম্যাচ দেখে কমিটির মনে হয়েছে ম্যাচটি পাতানো ছিল এবং অধিকতর তদন্তের জন্য ফেডারেশন পুলিশের সাহায্য নিতে পারে। কমিটির সবাই একমত হয়েই তাতে স্বাক্ষর করবে।

মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবল

জয় দিয়েই বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। কাল স্বাগতিকেরা ২-১ গোলে হারিয়েছে কানাডাকে। দুবারের চ্যাম্পিয়নরা প্রথমার্ধেই এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতেছে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।

মেক্সিকো আসছে

২৩ মিনিটেই শিরোপা জয়ের উৎসবের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। রোজ বোল স্টেডিয়ামের ৯৩ হাজার দর্শকের সিংহভাগই জয়ধ্বনি দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু মাইকেল ব্র্যাডলি আর ল্যানডন ডনোভানের দুটো গোলে ২-০-তে এগিয়ে যাওয়া স্বাগতিকেরা ২০০৭ সালের পর আরেকটি শিরোপার কাছে গিয়েও ফিরে এসেছে খালি হাতে। পাবলো ব্যারেরা ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো প্রথমার্ধেই সমতা ফিরিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে ব্যারেরার দ্বিতীয় আর ৭৬ মিনিটে জিওভানি দস সান্তোসের গোলে শেষ পর্যন্ত জিতেছে মেক্সিকো (৪-২ গোলে)।
নিজেদের টানা দ্বিতীয় আর সব মিলে ষষ্ঠ গোল্ডকাপ (পূর্বতন কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হিসেবে নিলে নবম শিরোপা) জেতার পথে সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে হাভিয়ের হার্নান্দেজের দল। ‘চিচারিতো’ নিজে এদিন গোল পাননি। তবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের দুটি পুরস্কারই পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় দস সান্তোস। রাইট উইংয়ে মার্কিনদের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন ব্যারেরা। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকেই প্রাথমিক ডোপ পরীক্ষায় পাঁচ খেলোয়াড়ের সাময়িক নিষিদ্ধ হওয়ার ধাক্কাও ভালোই সামলে নিয়েছে তারা। তরুণ প্রতিভার আধিক্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আলো দেখাচ্ছে মেক্সিকানদের।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তারকা ডনোভানই করলেন এই প্রত্যয়ন, ‘আমি যেসব মেক্সিকান দলের বিপক্ষে খেলেছি, এর মধ্যে এরাই সবচেয়ে দুর্দান্ত। ওদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা চোখের পলকে ম্যাচের চেহারাই পাল্টে দিতে পারে। তাদের স্পেশাল কিছু খেলোয়াড় আছে যারা রীতিমতো বিস্ফোরক। সামান্য জায়গা দিলেও সেটার মাশুল ওরা তুলতে জানে।’
১৯৭০ আর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা মেক্সিকো নতুন এই প্রজন্মকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে আগামী বিশ্বকাপের জন্য। ভবিষ্যতে সেই স্বপ্নের পতাকা যিনি বয়ে নেবেন সেই হার্নান্দেজ পুরো দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘জিওভানিসহ পুরো দলই আজ দুর্দান্ত খেলেছে। কেউ কেউ বলে আমিই নাকি এই দলের আদর্শ বা হিরো। কিন্তু এই দলে আলাদা কেউ নায়ক বা রকস্টার নেই। ২০ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকে নিজেকে উজাড় করে দিতে চেয়েছে।’
আর এ কারণেই আগে থেকে বানিয়ে আনা ‘চ্যাম্পিয়নেস’ লেখাওয়ালা টি-শার্টটি শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়নি। নিজেদের কালো রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরেই ম্যাচটি খেলেছে তারা। কিন্তু ম্যাচ শেষেই সেই চিরচেনা সবুজ রঙের টি-শার্ট চাপিয়ে নিয়েছে ওপরে। শুধু টি-শার্টের বুকেই নয়, ‘চ্যাম্পিয়ন’ শব্দটি এই দলের হূদয়েও এখন আঁকা!

স্পেনের আরেকটি শিরোপা

ইউরো ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবার জিতে নিল ইউরো অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপ। পরশু ডেনমার্কের আরহুসে হওয়া ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। অ্যাথলেটিক বিলবাও মিডফিল্ডার অ্যান্ডার হেরেরার হেড প্রথমার্ধে এগিয়ে দেয় স্প্যানিশদের। ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে জয় নিশ্চিত করেন বার্সা মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারা। এই নিয়ে তিনবার এই টুর্নামেন্ট জিতল স্পেন।

আজই আসছে পাকিস্তান

বাংলাদেশের ফুটবলে কালকের দিনটি একটু দাগ না রেখেই পারে না। নিকোলা ইলিয়েভস্কির হাত ধরে নতুন যুগে প্রবেশের মুহূর্ত স্মরণীয়ই হওয়ার কথা। কোচ নিয়ে গত কিছুদিনের নাটকের পরিসমাপ্তি হলো। নতুন কোচ দল নিয়ে কালই নেমে পড়েছেন অনুশীলনে।
বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ের দুটি ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ যখন অনুশীলন শুরু করল, ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ আজ দুপুরে ঢাকায় আসছে পাকিস্তান।
আগামী পরশু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ছয়টায়। দুই দলের ফিরতি ম্যাচ ৩ জুলাই লাহোরে। বাংলাদেশ দল লাহোর যেতে আপত্তি করলেও ফিফার নির্দেশে যেতেই হচ্ছে। খেলা যেখানেই হোক, প্রাক-বাছাই জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান একসময় সহজ প্রতিপক্ষই ছিল। এখন সেই পাকিস্তানও কঠিন দল। তবে ঘরে-বাইরে নানা সংকটে জেরবার ফুটবল দল চাইছে যে করেই হোক পরের রাউন্ডে যেতে।
নতুন কোচের হাতে সময় কম। খেলোয়াড় চিনতে চিনতেই তাঁর এই কটা দিন পার হয়ে যাবে। পরশু বিকেএসপিতে এসেই উচ্চ রক্তচাপে শয্যা নেওয়া মেসিডোনিয়ান কাল সুস্থ ছিলেন। মেঘলা আবহাওয়ায় বিকেলে ঘণ্টা দুয়েক অনুশীলন করিয়েছেন।
বল নিয়েই বেশি কাজ করেছেন। খেলোয়াড়দের ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে বলে অনুশীলন করিয়েছেন। ছোট পাসের ওপরই গুরুত্ব দিলেন বেশি।
ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৪ খেলোয়াড়ই ছিলেন। নতুন কোচকে কেমন দেখলেন? আমিনুল হক অবসর নেওয়ায় জাতীয় দলে সবচেয়ে সিনিয়র বিপ্লব ভট্টাচার্য বললেন, ‘জর্জেভিচের মতোই এই কোচের স্টাইল। তাঁকে সময় দিলে আশা করি, আমরা অনেক কিছু শিখতে পারব এবং ভালো করব।’