Tuesday, November 30, 2010

জাপানে ৬ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ

জাপানি পার্লামেন্ট দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য ছয় হাজার ১০০ কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে।এ অর্থ দিয়ে জাপান সরকার দেশটিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে। এর পাশাপাশি প্রণোদনা অর্থ দিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে জাপান সরকার। তবে মন্দা অর্থনীতিকে পুনর্জাগরণের জন্য জাপান সরকার এর আগেও কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছিল।জাপানে গত ২০ মাস ধরেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত মন্থর। এর পাশাপাশি দেশটির মুদ্রার দাম বেড়ে যাওয়া ও ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতি জাপানের অর্থনীতিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত অক্টোবরে জাপানে ভোগ্যপণ্যের মূল্য শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে গেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মূলত মূদ্রাস্ফীতির কারণেই জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অনেকটাই কমে গেছেে।

সদস্য মার্জিন আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি ডিএসইর

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিদিনের লেনদেনের ওপর নিরাপত্তা জামানতের হার (মেম্বারস মার্জিন) আগের অবস্থায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নিরাপত্তা জামানতের হার পরিবর্তনের এসইসির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক মতামত জানানোর সময় আজ সোমবার ডিএসইর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বৃহস্পতিবার সদস্য মার্জিন আইনে সংশোধনী আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্রোকারেজ হাউসকে পাঁচ কোটি টাকার লেনদেনে সদস্য মার্জিন দিতে হয় না। তবে লেনদেন পাঁচ কোটি টাকার ওপরে এক কোটি অর্থাত্ মোট ছয় কোটি টাকা হলে ব্রোকারেজ হাউসকে অতিরিক্ত লেনদেনের ৪০ শতাংশ, অতিরিক্ত দুই কোটি টাকা লেনদেন হলে ৬০ শতাংশ, লেনদেন অতিরিক্ত দুই থেকে চার কোটি টাকার মধ্যে হলে ৮০ শতাংশ এবং অতিরিক্ত লেনদেন চার কোটি টাকার ওপরে হলে ১০০ শতাংশ স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা কর্পোরেট গ্যারান্টি থাকলেও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে এই টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ নগদ জমা দিতে হবে। আগে এই হার ছিল যথাক্রমে ২০, ৩০, ৫০ ও ১০০ শতাংশ। এ ছাড়া কোনো ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা বা কর্পোরেট গ্যারান্টি দিলে ব্রোকারেজ হাউসকে নগদ টাকা দিতে হতো না।
এসইসির নতুন এ আইন গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানো হয়।
এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, আগের সদস্য মার্জিনে যেহেতু কোনো প্রকার সমস্যা হচ্ছে না, তাই সদস্য মার্জিন আগের অবস্থায় বহাল রাখার ব্যাপারে আমরা এসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত জানিয়েছি। আর নতুন আইন কার্যকর হলে দেখা যাবে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নগদ অর্থ সমস্যার কারণে এক ঘণ্টা লেনদেন করে লেনদেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

আর্থিক খাতে চাঙাভাব

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন হলেও চাঙা রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। তবে বিমাসহ কয়েকটি খাতে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শেষে বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে তিনটির। তবে ব্যাংক খাতের ৩০টির মধ্যে ২২টির, সিমেন্ট খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে আটটির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ১৭টির, মিউচুয়াল ফান্ডের ৩১টির মধ্যে ২৪টির ও টেলিকমিউনিকেশন খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমেছে আজ।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম আজ ২১ টাকা ৩০ পয়সা বা ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুট স্পিনার্স, এইমস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, কেয়া ডিটারজেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং, কেয়া কসমেটিকস, রূপালী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স ও ফুওয়াং ফুড দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।

আমরা উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত

কাল মঙ্গলবার বিএনপি আহূত হরতালকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শান্তিকামী সব নাগরিকের সঙ্গে আমরাও উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। বিরোধী দল যত অজুহাতই দেখাক না কেন, হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালনের কোনো যুক্তি নেই। হরতালে সরকারের পতন হয় না, জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়, স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতির চাকা। মাত্র কয়েক দিন আগেই দলীয় চেয়ারপারসনকে বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’-এর প্রতিবাদে বিএনপি এক দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে। মাত্র ১৫-১৬ দিনের ব্যবধানে আবার হরতাল আহ্বান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধী দল যে দাবিতে হরতাল পালন করে, মিছিল-সমাবেশ ডেকে জানাতে চায়, সে দাবি কেন সংসদে গিয়ে জানায় না?
যেকোনো হরতাল সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। বিরোধী দল হরতালের পক্ষে এবং সরকার বিপক্ষে নানামুখী তৎপরতা চালায়। সেই সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এবারও হরতাল সামনে রেখে সারা দেশে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিরোধী দল রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশের বাধা এবং পাইকারি গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরতাল সামনে রেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি সর্বৈব সত্য নয়। বিরোধী দলের এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যদি আগে থেকেই মামলা থেকে থাকে, তাহলে এত িদন গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? এর পাশাপাশি সরকার ‘নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে’ আনসার ভিডিপি নামিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন ঢাকার সাংসদদের সঙ্গে। রাস্তায় আনসার ভিডিপি নামিয়ে হরতাল ঠেকানো যায় না। সাংসদদেরও এ ব্যাপারে তেমন কিছু করার নেই। বিরোধী দল যদি রাস্তায় গাড়ি পোড়ায়, ভাঙচুর করে, হরতাল পালনে জবরদস্তি চালায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অবশ্যই দমন করবে। তবে বাড়াবাড়ি কম্য নয়।
আমরা মনে করি, দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ হরতাল-অবরোধের বিরোধী। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী বিরোধী দলকে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি নেওয়ার জন্য বলেছেন। বিরোধী দল সেই আহ্বান আমলে নেয়নি। তারা ঘন ঘন হরতাল ডেকে জনগণের আস্থা ও সহানুভূতি হারিয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে বিরোধী দল আবারও হরতাল ডাকার সুযোগ পায়। অতএব সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। জনজীবনে শান্তি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয়ই কঠোর ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু কোনো আচরণ যাতে বিরোধী দলের প্রতি প্রতিহিংসামূলক না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী নৈরাজ্য বা বাড়াবাড়ি চায় না। তারা শান্তি চায়, অগ্রগতি চায়।

বক্তাবলী গণহত্যা ও প্রতিরোধ দিবস by রফিউর রাব্বি

১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বরের রাত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল ধলেশ্বরীর পাড় ধরে বক্তাবলীর ২২টি গ্রাম। বক্তাবলী ও আলীরটেক—এই দুটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে বক্তাবলী পরগনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের দিকে সরে যাওয়ার নিরাপদ যাত্রাপথটিও ছিল এই বক্তাবলী। বক্তাবলীর পূর্বে ও দক্ষিণে ধলেশ্বরী আর উত্তরে বুড়িগঙ্গা নদী। দক্ষিণ আমেরিকার আটলান্টিকের পারে লম্বা সরু দেশ চিলির মতো এই বক্তাবলী। দুই নদীর মাঝখানে বক্তাবলীর ২২টি গ্রাম যেন দুপুরের ঘাসের ওপর বিছিয়ে রাখা মায়ের ভেজা কাপড়।
মার্চের ২৭ তারিখেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারায়ণগঞ্জ শহরে ঢুকে যায়। যদিও সেখানেও প্রতিরোধ হয়েছে এবং কয়েকজন শহীদ হয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টিতেই নারায়ণগঞ্জ শহরে পাকিস্তানি হানাদারদের হত্যা-নির্যাতন অব্যাহত থেকেছে। পাকিস্তানি বাহিনী শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে হত্যা-নির্যাতন চালায়, কিন্তু বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরীতে নৌ-টহল দিলেও নভেম্বরের শেষাবধি তারা বক্তাবলীতে প্রবেশ করেনি; ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই এই বক্তাবলীতে আশ্রয় নেয়।
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত কয়েকজন রাজাকারের সহযোগিতায় ২৯ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে তিনটায় পাকিস্তানি বাহিনী তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গোটা বক্তাবলী। গানবোট নিয়ে ধলেশ্বরীর বুকে তারা অবস্থান নেয় এবং সুবেহসাদেকের সময় বক্তাবলীর চরে গানবোট ভিড়িয়ে নদীর পাড়ে নামতে থাকে তারা। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে তারা গ্রামে অগ্রসর হতে সাহস করে না। তখন মুক্তারকান্দি প্রাইমারি স্কুল ও কানাইনগর হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি ক্যাম্প ছিল। নদীর পাড়ে অবস্থিত ডিক্রিরচর মসজিদ ও বিভিন্ন বাড়িতে রাত কাটাতেন মুক্তিযোদ্ধারা; ফলে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি সঙ্গে সঙ্গেই টের পেয়ে যান এবং প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। কুয়াশা একটু কাটতে থাকলে কুঁড়ের পাড় অঞ্চলের নদীর কাছ থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। আর তখনই মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ শুরু করেন। সকাল তখন প্রায় সাড়ে সাতটা। উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমান পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রথম চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। প্রতিরোধের শুরুতেই পাঁচজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেন মুক্তিযোদ্ধারা এবং আহত হয় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। পাকিস্তানি সেনারা পাঁচটি লাশ ও আহত দুজনকে কাঁধে নিয়ে পিছু হটে যায়। এখানে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রতিরোধ যুদ্ধ চলে। এ দুই ঘণ্টা প্রতিরোধের কারণে বক্তাবলীর গ্রামগুলো থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মুন্সিগঞ্জ ও বিভিন্ন অঞ্চলে সরে যেতে সক্ষম হয়। এর পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামগুলোর ওপর। পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের মুখে মুক্তিবাহিনী বাধ্য হয়ে পিছু হটে। আর তখনই শুরু হয় পাকিস্তানি বাহিনীর তাণ্ডব। তারা ডিক্রিরচর নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একসঙ্গে হত্যা করে ৪০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে। লক্ষ্মীনগর কবরস্থানের কাছে খড়েরপাড়ার ভেতর আশ্রয় নেওয়া দলবদ্ধ সাধারণ মানুষকে আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা করে। রাজাপুরের হলুদ সরিষাখেত লাল হয়ে ওঠে, পড়ে থাকে লাশের পর লাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদুল্লাহ, মুনীরুজ্জামানসহ বহু ছাত্র আর সাধারণ কৃষককে হত্যা করে তারা। বক্তাবলীতে ওই দিন ১৩৯ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রাম গান পাউডার দিয়ে বিকেলের মধ্যেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেয় তারা।
দেশে যে কটি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, বক্তাবলী তার মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতিরোধ হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাদের হত্যা করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন। অথচ কী নির্মম আমাদের বাস্তবতা, আজ প্রায় ৪০ বছর পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ছাত্রদের তালিকায় যেমন এই বক্তাবলীর শহীদদের নাম নেই, স্থানীয় জেলা প্রশাসনের শহীদদের তালিকায়ও এই ১৩৯ জনের একজনেরও নাম নেই। অথচ এই একটি মাত্র অঞ্চল, যেখানে কোনো একজনও রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল না। এই ২২টি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির লোকজনই মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস নিজেরা খেয়ে না-খেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও আশ্রয় নেওয়া মানুষকে খাইয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন। এই গ্রামগুলোর ছাত্র, শিক্ষক, চাষাভুষা—প্রত্যেকেই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
সন্তানহারা, পিতাহারা, স্বজনহারা সেই শহীদ পরিবারগুলোতে এখনো আহাজারি, বুকফাটা আর্তনাদ। বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেও মানবেতর জীবন যাপন করছে শহীদ পরিবারগুলো।
এ কথা সত্য যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তেমন ভূমিকা নেই। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদগুলোতে আমরা দেখে আসছি বিএনপির শাসনামলে সংসদ কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি ঝুলিয়ে তাদের জিন্দাবাদ দিতে, স্বৈরশাসক এরশাদের সময় এরশাদের ছবি তুলে তাঁর গুণগান করতে, আজ আবার বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগিয়ে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। ছবি ওঠানো আর নামানোর রাজনীতি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তত বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির দায় বিএনপি, জামায়াত আর স্বাধীনতাবিরোধীদেরই শুধু নয়; এ দায় থেকে তারাও রেহাই পাবে না। প্রকৃত সত্য ও তথ্য তুলে ধরার ব্যর্থতার দায়ভারও তাদের ওপর।
প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর উদ্দেশে সরকারের এত প্রতিশ্রুতির জোয়ার উঠলেও সেই জোয়ারের ঢেউ প্রায় ৪০ বছরেও বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর পারের শহীদদের গ্রাম বক্তাবলীতে এসে আঘাত করেনি। এ সরকারের সময় এমনটি কারও কাম্য নয়।
রফিউর রাব্বি: সাংস্কৃতিক সংগঠক।

ডেপুটি মেয়রকে গুলি করে হত্যা

ফিলিপাইনে বন্দুকধারীদের গুলিতে ম্যাগুইনদাউ প্রদেশের বারিরা শহরের ডেপুটি মেয়র নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের আঞ্চলিক সদর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ডেপুটি মেয়র আলেকজান্ডার টমাসকে গতকাল দুই কিশোর গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ হামলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এএফপি।

করাচিতে পণ্যবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ১২ জন নিহত

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে একটি পণ্যবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। নগরের একটি নির্মাণাধীন হাউজিং কমপ্লেক্সে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন বিমানের ক্রু। বাকি চারজন নির্মাণশ্রমিক।
পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র পারভেজ জর্জ জানিয়েছেন, পণ্যবাহী বিমানটি গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে দুইটার দিকে সুদানের রাজধানী খার্তুমের উদ্দেশে করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। কিন্তু উড্ডয়নের প্রায় দুই মিনিট পর আইএল-৭৬ বিমানটি বিধস্ত হয়। বিমানের আটজন ক্রুর সবাই ছিলেন রাশিয়ার। বিমানটি ত্রাণসামগ্রী বহন করছিল।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, উড্ডয়নের পরপরই বিমানের একটি ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এরপর এটি বিকট শব্দে ওই হাউজিং কমপ্লেক্সে বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বাড়িগুলোর বেশির ভাগই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাড়িগুলো ফাঁকা ছিল। পরে অগ্নিনির্বাপককর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ও নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনাস্থলের মাত্র ৫০০ মিটার দূরে জনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে বিধ্বস্ত হলে আরও অনেক মানুষ হতাহত হতো।
করাচি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে করাচিতে উড্ডয়নের পরপরই একটি ভাড়া করা যাত্রীবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হলে এর ২১ আরোহীর সবাই নিহত হয়।
এ ছাড়া গত জুলাইয়ে রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে বিমানের ১৫২ আরোহীর সবাই নিহত হয়।

নথি ফাঁস না করতে উইকিলিকসের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ

মার্কিন গোপন নথি ফাঁস না করার অনুরোধ জানিয়ে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোপন নথি ফাঁস করা বেআইনি। এ ছাড়া এসব নথি প্রকাশ করা হলে অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
বিভিন্ন দেশের সরকারের বিব্রতকর তথ্য ফাঁসের জন্য আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস সম্প্রতি ৩০ লাখ মার্কিন গোপন নথি প্রকাশের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে।
গত মাসে ইরাক যুদ্ধের প্রায় চার লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে ওয়েবসাইটটি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড কোহের ওই চিঠিতে বলা হয়, গোপন তথ্য প্রকাশ করা হলে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও ব্লগারসহ অসংখ্য মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক অভিযানও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এবারের নথিতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ইসরায়েল, রাশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোপন বিষয় প্রকাশ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কবে বা কখন এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব নথি সম্পাদনা করে প্রকাশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু হ্যারল্ড কোহের চিঠিতে সব নথি মার্কিন সরকারের কাছে ফেরত দিতে বলা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘উইকিলিকসের সঙ্গে আমরা কোনো আলোচনায় যাব না।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে রিওর মাদক কারবারিরা কোণঠাসা

ব্রাজিলের নিরাপত্তা বাহিনী রিও ডি জেনিরো নগরে মাদক চোরাকারবারিদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। নগরের একটি বস্তি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ৫০০ থেকে ৬০০ চোরাকারবারিকে ধরতে গতকাল রোববার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী অপরাধীরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করায় পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছিল।
কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাকারবারিদের ধরতে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষে গত শনিবার পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়। অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় চোরাকারবারিরা ফ্যাভেলা ডা গ্রোটা নামের একটি বস্তিতে আশ্রয় নিলে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। কমপ্লেক্স ডি আলেমাও নামের একটি বিশাল এলাকায় গড়ে ওঠা অনেকগুলো বস্তির মধ্যে ফ্যাভেলা ডা গ্রোটা অন্যতম। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা পুরো বস্তি ঘিরে ফেলেছেন। পুলিশকে সহায়তা করতে বিমান, নৌ ও এলিট ফোর্সের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। দুই হাজার ৬০০ নিরাপত্তাকর্মী এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযান চলাকালে প্রচুর গুলিবিনিময় হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেলসন জোবিম ১০টি সামরিক সাঁজোয়া যান, বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও অতিরিক্ত ৮০০ সেনা মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরো মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছেন পুলিশ বিভাগের সাড়ে ১৭ হাজার সদস্য। তবে এ মুহূর্তে ডি আলেমাও কমপ্লেক্সের অভিযানকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কমপ্লেক্সে প্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস। মাদকচক্রের দাপটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও এখানে ঢুকতে পারতেন না।

নারীদের বগিতে ওঠার শাস্তি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত শনিবার একটি ট্রেনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বগিতে ভ্রমণ করায় পুরুষদের কানে ধরে ওঠবস করিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নারীযাত্রীরা। স্থানীয় পত্রিকা সূত্রে এ খবর জানা গেছে। নয়াদিল্লিতে প্রতিটি মেট্রোরেলে কমপক্ষে একটি বগি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
দীর্ঘ দিন ধরেই নয়াদিল্লিতে গণপরিবহনে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় নারীবাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
পত্রিকার খবরে জানা গেছে, একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর গুরগাঁও এলাকার একটি স্টেশনে পুলিশ শনিবার অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান দেখেই নারীযাত্রীরা সাহসী হয়ে ওঠেন এবং সংরক্ষিত বগিতে ভ্রমণকারী পুরুষদের ওপর চড়াও হন। ওই পুরুষযাত্রীদের ২৫০ রুপি জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ক্ষুব্ধ নারীযাত্রীরা তাঁদের চড়-থাপড় মারেন এবং কানে ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেন।
গুরগাঁওয়ের পুলিশ কমিশনার এস দেসওয়াল পত্রিকাটিকে বলেন, ‘নারীদের জন্য সংরক্ষিত বগিতে আমরা অনেক পুরুষকে পেয়েছি। সেখানে নারীযাত্রীরা পুলিশদের দেখামাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ওই পুরুষদের ওপর চড়াও হন।’

মিসর, আইভরি কোস্ট ও হাইতির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

আফ্রিকার দেশ মিসর ও আইভরি কোস্ট এবং ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে গতকাল রোববার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, মিসরে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের দল এনডিপি আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কলেরা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশ হাইতিতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য দিকে আইভরি কোস্টে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।
মিসরের গণমাধ্যমকর্মী ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন এনডিপির জয় প্রায় নিশ্চিত। এনডিপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে মুসলিম ব্রাদারহুড দলের নেতারা তাঁদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন বলেও মনে করছেন তাঁরা। সরকারিভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার পর ওই দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
গতকাল ভোর ছয়টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল পাঁচটায়। মিসরের পার্লামেন্টে মোট ৫১৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৫০৮টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ১০টি আসনের প্রতিনিধিদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন।
আইভরি কোস্টে গতকাল ভোর সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। গত মাসে প্রথম দফার নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরা বাদ পড়ার পর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লরেন্ট জিবাগবো এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালাসানে কুয়াতারা চূড়ান্ত পর্বে উঠে আসেন।
হাইতিতে নির্বাচন শুরু হওয়ার পরপরই বহু প্রার্থী ভোট গ্রহণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আনেন। ১৯ জন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সম্প্রতি কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও দেশটিতে নির্বাচন দেওয়া হয়।

ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন সৌদি বাদশাহ!

নজরদারি ওয়েবসাইট উইকিলিকস এবার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোর পাঠানো গোপন প্রায় আড়াই লাখ তারবার্তা প্রকাশ করেছে। গতকাল রোববার এসব গোপন নথি প্রকাশ করা হয়। এতে মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গোপন ওই সব বার্তা থেকে জানা গেছে, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো পরমাণু কর্মসূচি থামাতে ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির সরঞ্জাম দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো এবং চীনের সরকারের কম্পিউটার হ্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য চুরির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রতিবেদনও প্রকাশ পেয়েছে এসব নথি থেকে।
মার্কিন দূতাবাসগুলোর লেনদেন করা এসব বার্তা থেকে অনেক ঘটনার নেপথ্য চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করা বেশির ভাগ বার্তাই গত তিন বছরের মধ্যে পাঠানো। নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছেও এসব গোপন বার্তা তুলে দিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। এর আগে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন মার্কিন দলিল প্রকাশ করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস।
উইকিলিকসে গতকাল প্রকাশিত হওয়া নথি থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর পতনের ব্যাপারে কী ধরনের চিন্তাভাবনা করছেন। এ ছাড়া আফগানিস্তান সরকারের দুর্নীতি, মেক্সিকোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বিরোধ, সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানো, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ সেখানকার অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে এসব বার্তায়।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসানজে বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ দায়ভার নিতে ভয় পাচ্ছে। এর আগে ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, তাদের ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালানো হয়েছে। উইকিলিকসের এসব তথ্য প্রকাশের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শচীন-ধোনির দাম দুই কোটি!

জানুয়ারিতে আইপিএলের চতুর্থ আসরের নিলাম। এবার নতুন করে সব খেলোয়াড়কেই নিলামে তোলা হচ্ছে। তাই নিলামে উঠছেন শচীন টেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনি, সৌরভ গাঙ্গুলীরাও। পাঁচটি ভাগে (ব্র্যাকেট) খেলোয়াড়দের ভাগ করে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সর্বনিম্ন দর (বেজ প্রাইস)। শচীন-ধোনিদের দলে রাখতে চাইলে দামই শুরু করতে হবে ১ কোটি ৮৪ লাখ রুপি থেকে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এঁদের নিলামে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ প্রতিটি দল তাদের আগের খেলোয়াড়দের মধ্যে চারজনকে রেখে দিতে পারবে, যাঁদের তিনজন ভারতীয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ছেড়ে টেন্ডুলকার আর চেন্নাই সুপার কিংস ছেড়ে ধোনির অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দ্বিতীয় ব্র্যাকেটের সর্বনিম্ন দর ১ কোটি ৩০ লাখ। এই ভাগে আছেন ইউসুফ পাঠান, জহির খান আর সুরেশ রায়না। সাবেক তিন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, অনিল কুম্বলে ও রাহুল দ্রাবিড় আছেন তৃতীয় ব্র্যাকেটে (৯৩ লাখ রুপি)। এঁদের সঙ্গে আছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ, গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলি, ইরফান পাঠান, রবিন উথাপ্পা, ইশান্ত শর্মারা। চতুর্থ (৪৬ লাখ) ও পঞ্চম ব্র্যাকেটে (২৩ লাখ) আছেন ভারতের বাকি ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। বিদেশি খেলোয়াড়দের নিলাম-তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফিরলেন আশরাফুল

নির্বাচকেরা দল নির্বাচন করে বোর্ডে জমা দিয়ে দিয়েছিলেন তিন-চার দিন আগেই। সেটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো কাল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় ওই সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন শাহরিয়ার নাফীস ও জহুরুল ইসলাম। মাশরাফি-নাজমুলের চোটের কারণে ডাক পাওয়া সৈয়দ রাসেল ও ডলার মাহমুদও বাদ পড়েছেন। নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া মাশরাফি ও নাজমুল দুজনই ফিরেছেন দলে। ফিরেছেন চোটের কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিস করা তামিম ইকবালও।
তবে বুধবার শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সেই অর্থে ফেরা শুধুই মোহাম্মদ আশরাফুলের। বাজে ফর্মের কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজে দর্শক হয়ে ছিলেন। জাতীয় লিগের ওয়ানডেতে ৭ ম্যাচে ৬৬.২০ গড়ে ৩৩১ রান করে টুর্নামেন্ট-সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার পর সাবেক অধিনায়কের ফেরাটা অনুমিতই ছিল। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমও আশরাফুলকে ফেরানোর এই ব্যাখ্যাই দিলেন, ‘বাজে ফর্মের কারণে ইংল্যান্ড সফরের পর দল থেকে বাদ পড়েছিল আশরাফুল। কিন্তু জাতীয় লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করে সে ফর্মে ফেরার প্রমাণ দিয়েছে।’ দুই দিন আগে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আশরাফুল দলে ফেরার খবর শুনেছেন চীনে বসেই। কাল দেশের উদ্দেশে আকাশে ওড়ার ঠিক আগে টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘ভালো পারফর্ম করে দলে ফিরেছি, ভালো তো লাগছেই। কিন্তু দলে ফিরলেই তো শুধু হবে না, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটাও ধরে রাখতে হবে। ভালো খেলে দলে জায়গা ধরে রাখাই হবে এখন আমার মূল লক্ষ্য।’
আশরাফুলের জন্য সময়টা উৎসবের হলেও দুর্ভাগ্য শাহরিয়ার নাফীসের। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিন ম্যাচে ২৯.৭৫ গড়ে ১১৯ রান করেও প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে খেলতে পারছেন না এই বাঁহাতি। শাহরিয়ারের সান্ত্বনা তাই প্রধান নির্বাচকের সহানুভূতিটুকুই, ‘প্রথমত আমি বলব ও আনলাকি। কম্বিনেশনের কারণেই দলে ওর জায়গা হয়নি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল অটোমেটিক চয়েজ। আর প্রায় এক বছর ধরে তিন নম্বরে ভালো খেলছে জুনায়েদ।’ জুনায়েদ না শাহরিয়ার—প্রশ্নে নির্বাচকেরা বোধ হয় একটু বেশিই অতীতে ফিরে গেলেন। নইলে গত নিউজিল্যান্ড সফরে জুনায়েদের চেয়ে অনেক ভালো পারফরম্যান্স শাহরিয়ারের। শাহরিয়ারের রান যেখানে ১১৯, জুনায়েদ করেছেন মাত্র ৭১! নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন শাহরিয়ার।
বাদ পড়ার প্রতিক্রিয়ায় সে আক্ষেপ পুরোপুরি লুকাতে পারেননি শাহরিয়ার, ‘কী আর করা! আমি মনে করি, সাম্প্রতিক সময়ে দলে থাকার মতো পারফরম্যান্সই ছিল আমার। তার পরও কেন বাদ পড়লাম, সেই উত্তর নির্বাচকেরাই ভালো দিতে পারবেন। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি তো সব সময়ই চাইব দলে থাকতে।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল থেকে যে চারজন বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে শাহরিয়ার নাফীস ছাড়া বাকি তিনজন কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগ পাননি। রাসেল-ডলার বিকল্প হিসেবে হঠাৎ ডাক পেয়েছিলেন বলে তাঁদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে জহুরুল ইসলামের বাদ পড়া একটু ব্যাখ্যা দাবি করে। যুক্তরাজ্য সফরে ভালো খেলেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলার সুযোগ না পেয়েও বাদ পড়ার কারণটা কী? প্রধান নির্বাচকের যুক্তি, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ও পারফর্ম করেনি। বলতে পারেন ফর্মে না থাকার কারণেই দলের বাইরে রাখা হয়েছে তাঁকে।’

জয় দিয়ে শুরু ভারতের

সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলিই শেষে জিতেছেন। তবে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ৩৫তম ওভারেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ নিয়ে ধারাভাষ্যকক্ষের তুমুল আলোচনায় কোহলির সঙ্গে ৪২ রানের সঙ্গে ৩ উইকেট পাওয়া যুবরাজের পক্ষেও বাজি ছিল। ম্যাচে উত্তেজনার লেশমাত্র যে ছিল না তখন! ২৭৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৬৯ রানেই ৮ উইকেট নেই নিউজিল্যান্ডের, ভারতের জয় তো নিশ্চিতই।
ক্রিকেটের মজাটাই এখানে, শেষের আগেই শেষ বলে দেওয়া কঠিন। গুয়াহাটির ওয়ানডেতে শেষ পর্যন্ত ৪০ রানের বড় ব্যবধানেই জিতেছে ভারত, তবে নাথান ম্যাককালাম ও কাইল মিলসের ৫৪ বলে ৬৭ রানের নবম উইকেট জুটিতে একটু অনিশ্চিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। অধিনায়কত্বের অভিষেকে বলের পেছন দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন গৌতম গম্ভীর, পরের বলেই কিউই ইনিংস শেষ করে দিয়েছেন শ্রীশান্ত।
ভারতের এক গাদা তারকাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল আগেই। ছোটখাটো চোট সমস্যায় নিউজিল্যান্ড দলে ছিলেন না ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। টস জিতে রস টেলর ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সকাল সাড়ে আটটায় শুরুর সুবিধাটা কাজে লাগাতে। তবে টেলরের আশা পূরণ হয়নি, ভারতকে ৭ ওভারে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন গম্ভীর-বিজয়। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়েছেন কোহলি-যুবরাজ। প্রথমে ব্যাট করে প্রথম টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরিটা ছুঁয়েছেন বিরাট কোহলি ১০০ বলে। শেষ ৩১ বলে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোয় তিন শ হয়নি ভারতের। নিউজিল্যান্ড উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। শেষের ওই নাটকের আগে মাঝে একা লড়েছেন টেলর (৬৯ বলে ৬৬)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ৪৯ ওভারে ২৭৬ (কোহলি ১০৫, যুবরাজ ৪২, গম্ভীর ৩৮, বিজয় ২৯, পাঠান ২৯; ম্যাকাই ৪/৬২, মিলস ৩/৪২, টাফি ২/৫৬)। নিউজিল্যান্ড: ৪৫.২ ওভারে ২৩৬ (টেলর ৬৬, নাথান ম্যাককালাম ৩৫, মিলস ৩২, গাপটিল ৩০, উইলিয়ামসন ২৫; শ্রীশান্ত ৩/৩০, যুবরাজ ৩/৪৩, অশ্বিন ৩/৫০, নেহরা ১/৪৪)।

অনেক নাটকের পর সেই সাকিব

সিরিজের সময় এমন ম্যাড়মেড়ে দিন কমই আসে। জিম্বাবুয়ের অনুশীলন নিয়ে আগ্রহ থাকার কোনো কারণ নেই। আর বাংলাদেশ দলের তো কাল অনুশীলনই ছিল না। কিন্তু কে জানত, এমন ম্যাড়মেড়ে দিনটাই রূপ বদলে চরম নাটকীয় হয়ে উঠবে সন্ধ্যা নাগাদ!
দুপুরে গৎবাঁধা সংবাদ সম্মেলন করে এলটন চিগুম্বুরার দল হোটেলে ফেরার পর থেকেই নাটকীয় হয়ে উঠতে শুরু করে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের আবহ। দল ঘোষণা নিয়ে গুঞ্জন ছিল, তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুটুকু দখল করে নেয় অন্য দুটি প্রশ্ন—কে হচ্ছেন অধিনায়ক? শুধু কি জিম্বাবুয়ে সিরিজ, নাকি বিশ্বকাপ পর্যন্তই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে কাউকে?
শীতের সন্ধ্যায় এই নাটক আর রোমাঞ্চের শেষ দৃশ্যটা মঞ্চস্থ হলো বোর্ড সভাপতির কক্ষে। মিলল সেই দুটি প্রশ্নের উত্তরও। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের নাম সাকিব আল হাসান। তবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নয়, আপাতত শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজ। সহ-অধিনায়ক নেই দলে। বিশেষ প্রয়োজনে মাঠ ছাড়তে হলে সাকিবই কাউকে দায়িত্ব দিয়ে আসবেন।
সন্ধ্যায় বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের এই ঘোষণার আগে নাটকের একটার পর একটা পর্ব চলেছে বিসিবি কার্যালয়ে। প্রথমে দুই নির্বাচক রফিকুল আলম ও আকরাম খান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহমেদের সঙ্গে বোর্ড সভাপতির দীর্ঘ আলোচনা। বিকেলে সাংবাদিকদের বোর্ড সভাপতি জানালেন, দল ও অধিনায়কের নাম সন্ধ্যার মধ্যেই জানা যাবে। সম্ভাব্য অধিনায়কদের বোর্ড অফিসে জরুরি তলব করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা।
এর মধ্যেই কে একজন খবর দিয়ে গেলেন, ‘মাশরাফি এসেছে।’ সভাপতির সঙ্গে মিনিট বিশেক আলোচনার পর হাসিমুখে বেরোলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তখন কোনো কথা বলতে রাজি হননি মাশরাফি।
সভাপতি অবশ্য মাশরাফির বিদায়ের পরপরই সাংবাদিকদের ডেকে সব কৌতূহল মেটালেন, ‘আমরা আপাতত জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য অধিনায়ক দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর বিশ্বকাপের জন্য অধিনায়ক মনোনীত করা হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে অধিনায়কত্ব করবে সাকিব।’
অধিনায়ক যে সাকিব বা মাশরাফির মধ্যেই কেউ হচ্ছেন, সেটা জানা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিবকেই বেছে নেওয়ার কারণ কী? মাশরাফির নেতৃত্ব সাকিবের হাতে গেছে তো মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ায়! ইনজুরি কাটিয়ে আবার তিনি দলে ফেরার পরও কেন সাকিবই অধিনায়ক? সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘মাশরাফির ইনজুরিটাই আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে আমরা পুরোপুরি পাইনি। এর মধ্যে সে কোথাও খেলেওনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাই আর ঝুঁকি নিলাম না আমরা। মাশরাফি যদি ফিট হয়, তারপর দেখা যাবে। তা ছাড়া সাকিবের অধিনায়কত্ব প্রমাণিত। তার ওপরই আমাদের আস্থা বেশি।’ সঙ্গে তিনি এটাও জানালেন, মাশরাফি তাঁদের সিদ্ধান্ত হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন।
বোর্ড সভাপতি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন, কিন্তু নাটকের ক্লাইম্যাক্স তখনো বাকি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়ই যে সাকিব বলে রেখেছিলেন এরপর অধিনায়কত্ব করলে সেটি বিশ্বকাপের পরই করতে চান। তিনি কি সিদ্ধান্ত বদলাবেন?
জরুরি তলব পেয়ে ততক্ষণে সাকিবও হাজির সভাপতির কক্ষে। সভাপতি তাঁর হাতে খেলোয়াড় তালিকা ধরিয়ে দিয়ে রসিকতা করলেন, ‘এটা তোমার দল। দেখো, ওদের চেনো কি না।’ পরিস্থিতি বুঝে সাকিব বললেন, ‘...কিন্তু আপনার সঙ্গে যে আমার কিছু কথা আছে।’
বোর্ড সভাপতির সঙ্গে সাকিবের দীর্ঘ সেই আলোচনার ফলাফল—সাকিব জিম্বাবুয়ে সিরিজের অধিনায়কত্ব করতে রাজি। কিন্তু মতবদলের কারণ? সাকিবের কথা শুনে মনে হলো অনুরোধেই ঢেঁকি গিলেছেন তিনি, ‘আমি আসলে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না এমন কিছুর জন্য। আমার কাছে মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব না করাটাই আমার ও দলের জন্য ভালো হবে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়ই সেটা বলে দিয়েছিলাম।’ সাকিবের জন্য অবশ্য অভিজ্ঞতাটা নতুন নয়, এর আগেও এভাবে অধিনায়কত্ব চেপেছে তাঁর কাঁধে। আবারও তাঁকে বলতে হলো, ‘অধিনায়কত্ব করতে হবে, এটাই কথা। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নেব।’ রাতে মাশরাফিও অভিনন্দন জানালেন সাকিবকে, ‘অধিনায়কত্ব না পাওয়াটা আমার জন্য কোনো সমস্যা না। আর অধিনায়ক সাকিবেরই হওয়া উচিত। বোর্ড খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাকিবের কোনো সহযোগিতা লাগলে আমি অবশ্যই তা করব।’
যাক, অধিনায়কত্বের ‘লড়াই’য়ের পরও অপ্রীতিকর হচ্ছে না দুজনের সম্পর্ক! কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র আড়াই মাস আগেও কেন কেবল জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্যই অধিনায়ক বেছে নেওয়া হলো, সেটা কোটি টাকার প্রশ্ন। লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দিলেই যে ভালো, সেটা মেনেও বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল উল্টো পথে হাঁটার যে ব্যাখ্যাটা দিলেন, সেটি একটু অদ্ভুতই, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি ১১ জন খেলোয়াড়কে নিয়মিতভাবে আমরা খুব কমই পাচ্ছি। অন্যান্য দলে কিন্তু বোঝা যায়, কোন ১১ জন খেলবে। কোনো কারণে একজন ইনজুরিতে পড়লেই আরেকজন আসে। আমাদের এ রকম নেই।’

সুন্দর ফুটবলের প্রত্যাশায় গার্দিওলা

স্প্যানিশ লিগে বছরে দুবার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের দ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ফুটবলপ্রেমীরা। নান্দনিক ফুটবলের ছন্দে মুগ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। শুধু দর্শকেরাই নয়, এমন প্রত্যাশা এবার বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলারও। স্প্যানিশ লিগে তুখোড় ফর্মে থাকা দুই দলই এবারের ‘এল ক্লাসিকো’তে সুন্দর ফুটবলের অনবদ্য প্রদর্শনী উপহার দেবে বলেই আশা করছেন গার্দিওলা। তবে নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার উত্তেজনাটা অবশ্য কাটাতে পারছেন না তিনি। আর ঐতিহ্যবাহী এ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছেন বার্সেলোনার অন্যতম সফল এই কোচ।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে টানা দুই মৌসুমে চারটি ম্যাচেই জয় ছিনিয়ে এনেছেন গার্দিওলা। এবারও মেসি, জাভি, পুয়োল, ইনিয়েস্তাদের ওপর ভর করে এল ক্লাসিকোয় জয়ের ধারা অব্যাহতই রাখতে চাইবেন তিনি। তবে এবার রিয়ালের বিপক্ষে জয় পেতে যে বার্সাকে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে তা খুব ভালোমতোই টের পাচ্ছেন গার্দিওলা। মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো ১৯টি ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি তারা। মরিনহোর সঙ্গে এর আগের মুখোমুখি লড়াইয়েও জিততে পারেননি গার্দিওলা। যদিও মরিনহো সেবার ছিলেন ইন্টার মিলানের ডাগ আউটে। এবারও জয় পাওয়াটা খুব কঠিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদকে চারবার হারিয়েছি, কিন্তু আমি জানি যে একসময় না-একসময় আমাদের হারতে হবে। যদি দুই দলই তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচটা ড্র হবে। বার্সেলোনাকে আপনি রিয়ালের চেয়ে ভালো দল বলতে পারেন না। এটা ঠিক হবে না। রিয়াল মাদ্রিদ খুবই শক্তিশালী দল।’
তবে প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ বলে নিজেদের খেলার ধরনটা পাল্টে ফেলতে চান না গার্দিওলা। রিয়াল মাদ্রিদ আচমকা পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পাওয়ার চেষ্টা করবে বলেই অনুমান করছেন তিনি। কিন্তু তার পরও বেশি রক্ষণাত্মক মনোভাব না দেখিয়ে স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক খেলাই চালিয়ে যেতে চান গার্দিওলা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো কিছুই পাল্টাতে চাই না। আমরা অবশ্যই নিজেদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করব, কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা একেবারেই খোলসের মধ্যে ঢুকে যাব। সচরাচর যেভাবে খেলি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
লা লিগায় ১২ ম্যাচ পরে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই আছে বার্সেলোনা। অনেকেই রিয়াল-বার্সার এই দ্বৈরথকে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা নির্ধারক ম্যাচ বলে আখ্যায়িত করলেও গার্দিওলা এটাকে সেভাবে দেখতে চান না। ‘এই ম্যাচটা অবশ্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি এটাকে লিগের শিরোপা নির্ধারক বলে মনে করি না। এখনো এই মৌসুমের অনেক পথ বাকি। এর মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।’ গার্দিওলার সাফ কথা। তবে শিরোপা নির্ধারক না হলেও নিজেদের মাঠে ম্যাচটা জিতে ‘এল ক্লাসিকো’ জয়ের ধারাটা নিশ্চয়ই অব্যাহত রাখতে চাইবেন বার্সার এই ক্যারিশমাটিক কোচ।

কৌশল পরিবর্তন করবেন না মরিনহো

২০০৫ সালে চেলসির বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা। এ বছরই চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের কাছে তারা হেরেছিল ৩-১ গোলে। দুবারই প্রতিপক্ষের ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে বার্সা-বধের কৌশল সাজিয়েছিলেন হোসে মরিনহো। এবার ‘এল ক্লাসিকো’য় বার্সেলোনার টানা পাঁচ ম্যাচের জয়যাত্রা রুখে দেওয়ার মিশন নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে দাঁড়াবেন এই স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’। তবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির ঐতিহ্যবাহী লড়াইকে আলাদা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না মরিনহো। বার্সেলোনার জন্য বিশেষ কোনো কৌশলের পরিকল্পনাও তাঁর মাথায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য মাদ্রিদ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেছেন, ‘লা লিগায় বার্সেলোনা হয়তো অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো দল, কিন্তু আমরা সবাইকেই শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আমরা বার্সেলোনা বা অন্য কারও জন্যই আমাদের কৌশল পরিবর্তন করব না।’ অনেকেই ধারণা করছিল যে বার্সেলোনার বিপক্ষে মরিনহো হয়তো প্লেমেকার মেসুত ওজিলের বদলে একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারকে মাঠে নামাবেন। কিন্তু সে ধরনের সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে জানিয়েছেন মরিনহো। স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন আর মিডফিল্ডার সামি খেদিরা চোট কাটিয়ে ফিরে আসায় বার্সার বিপক্ষে নিয়মিত প্রথম একাদশ নিয়েই মাঠে নামবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচেও হারেননি মরিনহো। এবার বার্সেলোনার বিপক্ষেও তিনি নিশ্চয়ই রিয়ালের গায়ে এ অপরাজিত ব্যানারটা লাগিয়েই রাখতে চাইবেন। অন্যদিকে বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলাও চাইবেন এল ক্লাসিকোর গৌরবের লড়াইয়ে নিজের চার ম্যাচের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে। শেষ হাসিটা কে হাসবেন, সেটা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

হার দিয়ে সফর শুরু জিম্বাবুয়ের

হার দিয়ে বাংলাদেশ সফর শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়ের। আজ সাভারে সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের কাছে ২৯ রানে হারে সফরকারীরা। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২৩ রান তুলে বিসিবি। জবাবে ৪৬.১ ওভারে ১৯৪ রান তুলে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
বিসিবি একাদশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয়। ৩৯ রানে তিন উইকেট, আর ৯৫ রানে চলে যায় পাঁচ উইকেট! তার পরও বিসিবি একাদশের ইনিংস অল্প রানে গুটিয়ে যেতে দেয়নি সগির হোসেন ও আসিফ আহমেদের ব্যাট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সগির। আর সাজঘরে ফেরার আগে আসিফ করেন ৪৬ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে কিগান ম্যাথ চারটি ও ক্রিস্টোফার পোফু তিনটি উইকেট শিকার করেন।
জয়ের জন্য ২২৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে প্রথম ধাক্কাটা খায় ইনিংসের প্রথম ওভারেই। ১০৭ রানে চলে যায় সাত উইকেট। বিসিবি একাদশের বোলারদের তোপে পড়ে একপর্যায়ে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৯৪। দলের হয়ে ৩২ রান করেন উইকেটরক্ষক টাইবু। বাংলাদেশের হয়ে নূর হোসেন তিনটি ও আসিফ আহমেদ দুটি উইকেট লাভ করেন।

গল্পালোচনা- 'যেভাবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়!' by আলী হাবিব

'কী করিলে কী হয়' এমন অনেক উদাহরণ আমাদের আছে। কপাল পুড়ে খাক হয়! চোখের জলে সাগর হয়। আবার চোখ জ্বলে আগুনের মতো। মানুষের নানা অঙ্গ এমন নানাভাবে নানা উপমায় এসে পড়ে। যেমন, কারো মাটিতে পা পড়ে না। মাটিতে পা না পড়লে মানুষ হাঁটে কেমন করে? চলাচল করে কেমন করে? কিন্তু তার পরও তো মাটিতে পা পড়ে না। কখন? যখন অহংকার হয়। এসব কি সম্ভব? মাটিতে পা না-পড়া কিংবা আগুনের মতো চোখ জ্বলা ইত্যাদি কি সম্ভব? আরো কত অসম্ভব সম্ভব হয়।

জলবায়ু সম্মেলনঃ আমি কেন কানকুনে যাচ্ছি? by মেরি রবিনসন

বিশ্ব এখন চরম উৎকণ্ঠার সঙ্গে মেক্সিকোর কানকুনে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও জলবায়ুজনিত চরম মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই প্রশ্ন তুলছেন। তার পরও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আমাদের সবাইকে এই ফোরামের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন। কিন্তু আমি তাঁদের ভুল ভাঙাতে চাই এই বলে, কোনো উদ্যোগেরই রাতারাতি পরিবর্তন এনে দেওয়া সম্ভব নয়। আর এখন এসব বিতর্কের চেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো।

ভ্রমণ- 'মেঘনায় যায় মেঘনা রানী' by সালেক খোকন

সাদা গাংচিলের দল পিছু নিল আমাদের। শুশুকের ডুবসাঁতারে চোখ ভেসে গেল, প্রাণ জুড়ানো বাতাসে হারিয়ে গেল মন। ঢাকার সদরঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ধলেশ্বরী ছাড়িয়ে শীতলক্ষ্যার প্রান্ত ছুঁয়ে লঞ্চটি চলছে মেঘনায়। বন্ধু সুহান ফোন করেছিল আগের দিন। বলে, চল চাঁদপুর ঘাটে ইলিশ খেয়ে দিনে দিনে ফিরে আসব। রাজি না হয়ে উপায় থাকল না। সকাল সকালই পেঁৗছে গিয়েছিলাম সদরঘাট। চার নম্বর গ্যাংওয়েতে গিয়ে মেঘনা রানীকে অপেক্ষা করতে দেখলাম।

ভ্রমণ- 'গন্তব্য নাফাখুম' by জাকারিয়া সবুজ

ঠিক করলাম, এবার যাব থানচি হয়ে নাফাখুম। নাফাখুম কিছুটা দুর্গম, কিন্তু আমাদের ঠেকায় কে? ফেইসবুকে আমাদের গ্রুপ 'বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার'-এ পোস্ট দেওয়া শুরু করলাম। দলনেতা শাহীন আর শরীফ ভাইকেও পটিয়ে ফেললাম। দেখতে দেখতে ১৩ জন জুটে গেল। আমরা তিনজন ছাড়াও দলে আরো থাকল নুর, এনাম, আবীর, রাসেল, অহন, জিমি, সিদ্দিক, মহসিন, সাদিক আর ফাহিম। এর আগেও আমরা পাহাড়ে গেছি, হাঁটতে পারি, তাঁবুও বাঁধতে জানি। রওনা দিলাম ১৪ অক্টোবর রাতে। সকালে গাইড মং সিং উ বান্দরবান শহর থেকে আমাদের দলে ভিড়ল। সে আগে থেকেই চাঁদের গাড়ি, নৌকা_সব ঠিক করে রেখেছিল।

আলোচনা- 'এখনো একটি গ্রেট গেইম অস্বস্তিকরভাবে প্রাসঙ্গিক' by এম আবদুল আজিজ

নবিংশ শতাব্দীতে হিমালয় অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার ক্ষুদ্ররাজ্য পুণ্ড্র তাদের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব দিয়ে তৎকালীন তিনটি সাম্রাজ্যকে প্রচণ্ডভাবে আকর্ষণ করেছিল। ওই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্রিটিশ এবং রুশরা তখন গ্রেট গেইম নামে অভিহিত এক রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠে। বলা হয়ে থাকে যে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আর্থার কোনালি গ্রেট গেইম অভিধার উদ্ভাবক, যদিও পরবর্তী সময়ে তা রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর 'কিম' শীর্ষক উপন্যাসে অমরত্ব পেয়েছিল।

গল্পসল্প- জীবন ঢেকে যাচ্ছে বালুতে (কালের কণ্ঠ থেকে)

জায়গাটা খুব সুন্দর। মেঘালয় পাহাড়ের নিচে, জাদুকাটা নদীর পাড়ে, নাম রাজাই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার অন্তর্গত। সুনামগঞ্জ থেকে সুরমা পার হয়ে অলির বাজার এসে মোটরসাইকেলে চাপতে হয়। দেড় ঘণ্টা পেরোলে শাহ আরেফিনের মাজারের কাছে তিন পাহাড়ের মুখ বেয়ে নেমে এসেছে জাদুকাটা। জাদুকাটা পার হলে বারেকের টিলা। টিলা থেকে নামলে রাজাই গ্রাম। বারেকের টিলা থেকে রাজাই হয়ে চানপুর বাজার পর্যন্ত গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস। কয়েক ঘর খাসিয়া আছে। খাসিয়া রাজা উইকলিফ সিম ছিলেন পশ্চিম খাসি হিলে।

প্রকৃতি- কোপেনহেগেন থেকে কানকুনঃ সময় এসেছে মুহূর্তটিকে কাজে লাগানোর by জেমস এফ মরিয়ার্টি

বিশ্বজুড়ে আমরা ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব প্রত্যক্ষ করছি, যার প্রভাবে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, হিমবাহ গলনাঙ্কের নিচে নামা থেকে শুরু করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়িত খরা মৌসুম উল্লেখযোগ্য। আমাদের এ গ্রহে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আরো ত্বরান্বিত হবে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এ সমস্যা মোকাবিলার জন্য জোর তৎপরতা না দেখায়। মেঙ্েিকাতে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন একটি সুযোগ এনে দিচ্ছে এ ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করার, আমাদের অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত। এই বৈশ্বিক পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং আমাদের অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

আলোচনা- দরিদ্র মানুষের পাঁজরের ওপর দুর্দান্ত পাজেরো by লুৎফর রহমান রনো

পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সচেতন মানুষ বাংলাদেশ নামের দেশটিকে জানে অতিদরিদ্র মানুষের দেশ হিসেবে। আরো জানে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত একটি ছোট ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ। ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উচ্চারিত হচ্ছে, তা যদি সত্য হয়, তবে পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের জনবসতির চেয়ে বিপজ্জনক জীবনযাপন করছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। আর এই সত্য উপলব্ধি করে বিশ্ব উষ্ণায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য পাওয়ার আশ্বাস পেতে যথেষ্ট খাটুনি পোহাচ্ছে আমাদের সরকার।

Monday, November 29, 2010

দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকার শেয়ারবাজারের গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৫৩৪ পয়েন্ট। তার মানে এ সময় প্রতিদিন গড়ে সূচক বেড়েছে ১০৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট হারে। আর এর প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার-মূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মোট বাজার-মূলধন তিন লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২টির দাম। এই সপ্তাহে ডিএসইতে ১৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩১১ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেশি। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়ে আট হাজার ৭২১ পয়েন্ট হয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে নতুন শেয়ারের ভূমিকা খুবই সামান্য। তালিকাভুক্ত বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিই এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৬ ভাগেরই দাম বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের লাগাম ধরে রাখতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সপ্তাহের শুরুতে ঋণসুবিধা আরও এক দফা কমানো হয়। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংস্থাটি। গত সোমবার থেকেই নিয়মটি কার্যকর হয়।
কিন্তু এতেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; বরং ঋণসুবিধা-বহির্ভূত শেয়ারের দাম উল্টো বাড়তে শুরু করে। অবস্থা এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে যে লেনদেনের একপর্যায়ে এ ধরনের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। আরও দাম বাড়তে পারে—এ আশায় বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার হাতছাড়া করতে চাননি।
শেষ পর্যন্ত পর পর দুই দফায় মোট ১৫টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সিদ্ধান্তে বাজার আবারও অপেক্ষাকৃত ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তবে সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে বাজারের অবস্থা ছিল কিছুটা মিশ্র। সপ্তাহের প্রথম ও শেষ ভাগে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বেড়েছে। মাঝখানে দুই দিন বাজারে ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দাপট।
গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেয়ার বিক্রিতে তাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে। এ বৈঠকে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম।

দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকার শেয়ারবাজারের গত সপ্তাহে সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৫৩৪ পয়েন্ট। তার মানে এ সময় প্রতিদিন গড়ে সূচক বেড়েছে ১০৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট হারে। আর এর প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার-মূলধন ১৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মোট বাজার-মূলধন তিন লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৪৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২টির দাম। এই সপ্তাহে ডিএসইতে ১৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। এ হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩১১ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেশি। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়ে আট হাজার ৭২১ পয়েন্ট হয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে নতুন শেয়ারের ভূমিকা খুবই সামান্য। তালিকাভুক্ত বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিই এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৬ ভাগেরই দাম বেড়েছে। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের লাগাম ধরে রাখতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সপ্তাহের শুরুতে ঋণসুবিধা আরও এক দফা কমানো হয়। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংস্থাটি। গত সোমবার থেকেই নিয়মটি কার্যকর হয়।
কিন্তু এতেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; বরং ঋণসুবিধা-বহির্ভূত শেয়ারের দাম উল্টো বাড়তে শুরু করে। অবস্থা এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে যে লেনদেনের একপর্যায়ে এ ধরনের ২৬টি কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। আরও দাম বাড়তে পারে—এ আশায় বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার হাতছাড়া করতে চাননি।
শেষ পর্যন্ত পর পর দুই দফায় মোট ১৫টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সিদ্ধান্তে বাজার আবারও অপেক্ষাকৃত ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তবে সব মিলিয়ে গত সপ্তাহে বাজারের অবস্থা ছিল কিছুটা মিশ্র। সপ্তাহের প্রথম ও শেষ ভাগে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম বেড়েছে। মাঝখানে দুই দিন বাজারে ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর দাপট।
গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেয়ার বিক্রিতে তাদের আরও কিছুটা সময় লাগবে। এ বৈঠকে সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন থেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বৃদ্ধি

আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে সদস্য মার্জিন (মেম্বারস মার্জিন) আইন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার সদস্য মার্জিন কার্যকরের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার এসইসি সদস্য মার্জিন আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনে, যা আজ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে এর কার্যকারিতা ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।

বরেন্দ্রভূমির কৃষকের বীজবিদ্রোহ by পাভেল পার্থ

আবারও বাংলাদেশে করপোরেট বীজ-প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। করপোরেট সিনজেন্টা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো বীজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রাজশাহীর কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে সংগঠিত করছেন জন-আন্দোলন। বরেন্দ্রভূমির কৃষকদের অভিনন্দন, যাঁরা সিনজেন্টার মতো এক ডাকসাইটে করপোরেটের বিরুদ্ধে বীজের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন।
২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর নোভার্টিস ও এসট্রা জেনেকা মিলে তৈরি করে সিনজেন্টা। এর আগে ১৯৯৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি এসট্রা এবি ও ব্রিটিশ কোম্পানি জেনেকা মিলে তৈরি হয়েছিল এসট্রা জেনেকা। যে নভেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেল শহরের রাইন নদীর তীরে সিনজেন্টার জন্ম, মাত্র ১০ বছর পরে সেই মাসেই বাংলাদেশের পদ্মাপাড়ের প্রতারিত কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাজারো কৃষক সিনজেন্টার হাইব্রিড টমেটো বীজ কিনে নিঃস্ব, প্রতারিত ও রক্তাক্ত হয়েছেন।
চলতি শীত মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য স্থানীয় কৃষকেরা সিনজেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেডের স্থানীয় ডিলার থেকে সবল এফ-১ হাইব্রিড টমেটো বীজ কিনে জমিতে লাগানোর পর গাছে কোনো ফল ধরেনি এখন পর্যন্ত। একেই বলে, কৃষকের মাথায় হাত। কৃষকেরা ‘গোদাগাড়ী কৃষি উন্নয়ন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ২৩ নভেম্বর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী পশুর হাটে বিক্ষোভ সমাবেশে সিনজেন্টার এই টমেটো বীজে প্রতারণার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সিনজেন্টার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনগণ এলাকায় সিনজেন্টাকে বয়কটের ঘোষণা করেছে। কৃষকদের এই ন্যায্য দাবির সঙ্গে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজ একাত্ম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন, যার অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিসচিব ও কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদেরও দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে কৃষকেরা জানিয়েছেন, ২০ গ্রাম টমেটো বীজ লাগে এক বিঘা জমির জন্য। সিনজেন্টার সবল এফ-১ হাইব্রিড টমেটো বীজ ২০ গ্রামের দাম ৮৫০ টাকা থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্তও দাম নেওয়া হয়েছে। এক বিঘা জমি চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এখনো জমিতে কোনো টমেটোগাছেই ফল হয়নি। সিনজেন্টার টমেটো বীজ ব্যবহার করে গোদাগাড়ীর কৃষকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা, দেশের সব প্রান্তের মানুষ এই করপোরেট বীজে প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
সিনজেন্টাই দুনিয়ার প্রথম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যারা কেবল কৃষি বাণিজ্যকেই সরাসরি বাণিজ্যের কেন্দ্র করে আটঘাট বেঁধে জুম-জমিনে নেমেছিল। গ্রিক শব্দ ‘Syn’ মানে সংশ্লেষণ ও সমন্বয় এবং ল্যাটিন শব্দ ‘Gens’ মানে জনগণ থেকেই নাকি ‘Syngenta’ শব্দটি তৈরি হয়েছে। সিনজেন্টার ভাষ্যমতে, সিনজেন্টার মানে হলো ‘Bringing people together’। কিন্তু রাজশাহীতে সিনজেন্টার এই বীজ-প্রতারণা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাসহ গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে অভিঘাত তৈরি করার ভেতর দিয়ে জনগণের সঙ্গে তাদের মতো করপোরেট কোম্পানিগুলোর সাংঘর্ষিক সম্পর্ককেই আবারও সত্যে পরিণত করেছে। মনসান্টো, ডুপন্ট, সিনজেন্টা, গ্রুপই লিমাগ্রেইন, ল্যান্ড ও লেকস, বায়ার, কেডব্লিউএস এজি, সাকাটা, ডিএলএফ-ট্রাইফলিয়াম ও টাকিল—এই শীর্ষ ১০ করপোরেট কোম্পানিই সারা দুনিয়ার কৃষি বীজ বাজারের প্রায় ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০০৭ সালে সিনজেন্টার বীজ-বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২,০১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর পর এখন পর্যন্ত বছরভিত্তিক সিনজেন্টা কী ফসলের কত বীজ, কতটুকু বিক্রি করে কতটুকু লাভ বা লোকসান করেছে এর কোনো খতিয়ান বারবার সিনজেন্টার কাছে চেয়েও পাওয়া যায়নি। আশা করি, করপোরেট বীজ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিম্নবর্গের এই আন্দোলন কৃষকের বীজে কৃষকের আপন অধিকার নিশ্চিতকরণের লড়াইকে আরও মজবুত করবে। বাতিল করবে বীজ ও প্রাণসম্পদে সিনজেন্টার মতো প্রতারক সব করপোরেট কোম্পানির একতরফা নিয়ন্ত্রণ ও দখল।
প্রথম আলো সিনজেন্টার এই সাম্প্র্রতিক বীজ-প্রতারণার খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত চার কৃষক সিনজেন্টা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পরিবেশক রবিউল ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৮ নভেম্বর রাজশাহীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে যে মামলা করেছিলেন তার তদন্তভার কৃষি কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে (২৪/১১/২০১০)। কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৩ সালে বিজ্ঞপ্তি আকারে জাতীয় বীজনীতি ঘোষণা করে। এর আগে বাংলাদেশে জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ-১৯৭৭, বীজ (সংশোধন) আইন-১৯৯৭, জাতীয় বীজ বিধিমালা-১৯৯৮ গৃহীত হয়। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে ‘উদ্ভিদজাত ও কৃষক অধিকার সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০০৭’ নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশে কৃষকদের পক্ষে বীজসম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা না থাকায় বারবার সিনজেন্টার মতো করপোরেট কোম্পানিগুলো দেশের কৃষকদের সঙ্গে একটির পর একটি বীজ-প্রতারণা করে চলেছে। যদিও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী বীজ কিনে কৃষক প্রতারিত হলে কোম্পানিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে নানা সময়ে উত্থাপন করেছেন। কিন্তু এর জন্য একটি সুস্পষ্ট আইন ও নীতিমালা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘ বন্যার পর বাংলাদেশ বীজ বোর্ড এসিআই, গ্যাঞ্জেস, ম্যাকডোনাল্ড, মল্লিকা সিড কোম্পানিকে কিছু শর্তসাপেক্ষে হাইব্রিড বীজ আমদানির অনুমোদন দেয়। যেহেতু সেসব হাইব্রিড বীজের নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও সুস্পষ্ট কোনো কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ছিল না, তাই আজ বাংলাদেশের ধান বাদে সবজি বীজের বাজার প্রায়ই দখল করে নিয়েছে নানা করপোরেট কোম্পানি। জাতীয় বীজনীতিতে বীজ আমদানি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া বীজ আমদানির ক্ষেত্রে অন্য সব নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হবে (অনুচ্ছেদ-৮.১)। তার মানে কি সিনজেন্টার মতো করপোরেট সব কোম্পানির হাইব্রিড বীজ আমদানির ক্ষেত্রে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ তুলে ফেলা হয়েছে? এর ফলেই কি যা-তা বীজ কৃষকের হাতে গছিয়ে দেওয়ার সাহস করছে এসব কোম্পানি?
আশা করি, সাম্প্র্রতিক রাজশাহীর বীজ-আন্দোলন আমাদের সঠিক কৃষি ও কৃষকবান্ধব নয়া বীজনীতি গ্রহণে বাধ্য করবে। রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁর দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, সিনজেন্টার সাম্প্রতিক বীজ-প্রতারণার ঘটনাটি আসন্ন সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করবেন বলে আশা করি। দেশের প্রাণভোমরা কৃষি আর কৃষিবীজ। টমেটোকে অনেক বাঙালি অঞ্চলের কৃষকেরা বিলাতি বাইগনও বলেন। আমাদেরও আছে কতগুলো দেশীয় বিলাতি বাইগনের জাত। বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর রয়েছে পুরোনো কাপড় কি গামছায়, ঘরের বেড়ায় কি মাটির দেয়ালে বা ছাই দিয়ে লেপটে টমেটো বীজ সংরক্ষণের এক প্রতিরোধী ইতিহাস। সিনজেন্টা কেন, কোনো করপোরেট কোম্পানিরই সাধ্য নেই নিম্নবর্গের সেই প্রতিরোধ দমিয়ে রাখে। সিনজেন্টার বীজ-প্রতারণার বিরুদ্ধে বরেন্দ্রর সাম্প্রতিক দ্রোহ বীজ ইতিহাসের সেই সত্যকেই জানান দিচ্ছে।
গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
animistbangla@yahoo.com

যুক্তরাজ্যে ব্যাপক তুষারপাত জীবনযাত্রা ব্যাহত

তুষারে ঢেকে গেছে বাকিংহামশায়ার
ব্যাপক তুষারপাতে যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৭ বছরের মধ্যে দেশটিতে মৌসুমের অনেক আগেই এত বেশি তুষার পড়েনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে আরও বেশি তুষার পড়তে পারে।
তুষারপাতের কারণে গত শুক্রবার অনেক স্থানে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানের ফ্লাইটগুলোও ঠিকমতো চলাচল করতে পারেনি। আজ রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্যের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পশ্চিম ওয়েলসের ট্রাসকোয়েডে (মাইনাস ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এ ছাড়া হাইল্যান্ডেসের ডানহুইনিতে মাইনাস ৮ দশমিক ২ ও বাকিংহামশায়ারের চেশ্যামে মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছিল।আবহাওয়ার সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের অংশবিশেষ এবং উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং মিডল্যান্ড এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২ থেকে ৮ সেন্টিমিটার তুষার পড়তে পারে। এ ছাড়া উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসেও ব্যাপক তুষারপাত হতে পারে।

সৌদি আরবে আট মাসে গ্রেপ্তার ১৪৯

আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে গত আট মাসে ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৪ জন সৌদি আরবের এবং বাকি ২৫ জন আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যানসোর তুর্কি গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তুর্কি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওই সব সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের আল-কায়েদার সঙ্গে সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে থাকা ২২ লাখ ৪০ হাজার রিয়্যাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।তুর্কি আরও জানান, জঙ্গিরা সৌদি আরবে হজ পালনের সময় হাজিদের কাছে তাদের ভাবাদর্শ প্রচার করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করত। তারা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে তেল স্থাপনাগুলো এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না সে সম্পর্কে তিনি কিছুই বলেননি। গত শুক্রবার একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার জঙ্গিদের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ফের সুড়ঙ্গের সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তে আধা মাইল দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই সুড়ঙ্গ থেকে ২০ টনেরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে আটজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের তিনজন মার্কিন নাগরিক।মার্কিন সীমান্ত বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সান ডিয়েগোর ওটে মেসা বাণিজ্যিক এলাকায় একটি গুদামের সামনে তারা একটি ট্রাক্টর দেখতে পান। পরে ট্রাক্টরের গতিবিধি অনুসরণ করে ওই সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় সুড়ঙ্গ থেকে ২৬ হাজার ৬০০ পাউন্ড গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ওটে মেসায় সুড়ঙ্গের দুটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ওই সুড়ঙ্গের আরেকটি প্রবেশ পথের সন্ধান পাওয়া যায়। মেক্সিকোর নিরাপত্তাবাহিনী সুড়ঙ্গের কাছে একটি খামার থেকে চার টন গাঁজা উদ্ধার করে। এ ছাড়া সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও ছয় হাজার পাউন্ড গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে মাদক চোরাচালানের জন্য ব্যবহূত একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ পায় নিরাপত্তাবাহিনী। এই সুড়ঙ্গের ৬৫০ ফুট দক্ষিণে নতুন সুড়ঙ্গটির সন্ধান পাওয়া যায়।

নিহতদের শেষবিদায় জানালেন স্বজনেরা

নিউজিল্যান্ডের পাইক রিভার খনিতে বিস্ফোরণে নিহত ২৯ শ্রমিককে শেষবিদায় জানিয়েছেন তাঁদের স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার খনি এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট খনি কোম্পানি এর আয়োজন করে।সাউথ আইল্যান্ডের গ্রেমাউথ এলাকার পাইক রিভার কয়লাখনিতে ১৯ নভেম্বর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্য শ্রমিকেরা বেরিয়ে আসতে পারলেও ওই ২৯ শ্রমিক নিখোঁজ হন। তাঁদের অবস্থানও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার খনির ভেতরে দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকেরা নিহত হয়েছেন বলে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ২৪ জন নিউজিল্যান্ডের, দুজন অস্ট্রেলিয়ার, দুজন যুক্তরাজ্যের ও একজন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।খনি বিস্ফোরণের আট দিন পর গতকাল গ্রেমাউথ শহর থেকে কয়েকটি বাসে করে নিহত শ্রমিকদের অন্তত ৫০০ স্বজন ও বন্ধুকে খনি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিয়জনকে শেষবিদায় জানাতে স্বজনেরা অনেকেই ছবি ও ফুল নিয়ে যান। স্বজনদের খনির মূল ফটকের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে সেখানে একটি দেয়ালের মধ্যে নিহত শ্রমিকদের নাম লিখে রাখা হয়েছে। তা সবাইকে দেখানো হয়। পরে সবাইকে গ্রেমাউথের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।নিহত শ্রমিক জেনের বাবা লরি ড্রেউ গিয়েছিলেন ছেলেকে শেষবিদায় জানাতে। তিনি বলেন, ‘জেনের মা ও ভাইয়েরাও এসেছেন। এখানে ভাইয়েরা জেনের প্রতি তাদের টান বুঝতে পারবে।’ জেনের মা লিজা ভেরোভেন বলেন, ‘ছেলেকে শেষবিদায় জানাতে পারছি। এখন এটাই সান্ত্বনা।’

আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ভুয়া তালেবান নেতা!

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের চিফ অব স্টাফ অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় একজন ভুয়া তালেবান কমান্ডারকে আনা হয়েছে। আর এ প্রতারণার কাজটি করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। তবে কাবুলে ব্রিটিশ দূতাবাস এ অভিযোগের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ উমর দাউদজাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় মোল্লা মনসুর নামের একজন ছদ্মবেশী তালেবান নেতাকে হাজির করা হয়েছিল। ন্যাটো জোটের একটি বিমানে করে তাঁকে কাবুলে উড়িয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে ওই ব্যক্তি কোনো তালেবান নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন আফগান দোকানি, যিনি পাকিস্তানে বসবাস করতেন।এদিকে ব্রিটিশ সরকারের একাধিক সূত্র বলেছে, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাই ওই ব্যক্তিকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আফগানদের সঙ্গে আফগানদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল সামান্যই।বিভিন্ন গণমাধ্যম বলেছে, তালেবান নেতার ভূমিকার জন্য ওই ব্যক্তিকে হাজার হাজার ডলার দেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার পর থেকে তিনি উধাও। ওই ব্যক্তি অন্তত তিনবার আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এ অভিযোগের ব্যাপারে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্রিটিশ করদাতাদের কোনো অর্থই ভুয়া আলোচকের পেছনে ব্যয় করা হয়নি। তাঁরা বলেন, ওই ব্যক্তির পেছনে যত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা ছিল আফগান সরকারেরই। তবে তাঁরা ওই ব্যক্তির অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য, মোল্লা মনসুরকে চেনেন এমন এক ব্যক্তি বৈঠকে অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয়ের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সত্যিকারের মোল্লা মনসুর তালেবান শাসনামলে বেসামরিক বিমানচলাচলমন্ত্রী ছিলেন।মোহাম্মদ উমর দাউদজাই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ব্রিটিশ কূটনীতিকেরা গত জুলাই অথবা আগস্টে ওই ব্যক্তিকে আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নিয়ে এসেছিলেন।দ্য টাইমস পত্রিকা বলেছে, আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্স এ বছরের মে মাস থেকে ওই ব্যক্তিকে অর্থসহায়তা দিয়ে আসছে।

ইরানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু

ইরান বলেছে, তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার আগে এই কার্যক্রম শুরু হলো। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগর বুশেহরে অবস্থিত।ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্স গতকাল শনিবার জানায়, কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী এক অথবা দুই মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। তবে কখন কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।১৯৭০-এর দশকে বুশেহর কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সেই থেকে তেহরান বলে আসছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে তারা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে। তবে পশ্চিমাদের ধারণা, বিদ্যুতের কথা বলে তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ইরান এমন একটা সময় তাদের পরমাণুকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ঘোষণা দিল, যখন দেশটির বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থগিত আন্তর্জাতিক আলোচনা ফের শুরু হওয়ার পথে। আগামী ৫ ডিসেম্বর জেনেভায় এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন বলেছেন, এই আলোচনার তারিখ ও স্থানের ব্যাপারে ইরানের কাছ থেকে তিনি ‘অনানুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ আলোচনার ব্যাপারে আমি আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা চাই।’ ২০০৯ সালের পর এই প্রথম ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি ফের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসছে। বিশ্ব নেতারা বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে হবে। তবে তেহরান বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ না করায় ইরানের বিরুদ্ধে চার দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের আশঙ্কা, সংবেদনশীল ইউরেনিয়াম কর্মসূচির মাধ্যমে পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন করে আণবিক বোমা তৈরি করতে পারে ইরান।ইরান গত মাসে বলেছিল, বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের চুল্লিতে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। রাশিয়া থেকে আনা এই জ্বালানি ২১ আগস্ট বুশেহর কেন্দ্রে স্থানান্তর শুরু হয়। মূলত তখনই ওই কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রমের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়। ৪ অক্টোবর সালেহি বলেছিলেন, জানুয়ারির মধ্যে বুশেহর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

সিয়াওবোর জন্য চেয়ার খালি রাখা হবে

২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিউ সিয়াওবো বা তাঁর স্ত্রী লিউ সিয়াকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া না হলে সেখানে একটি চেয়ার খালি রাখা হবে। সিয়াওবোর বন্ধু ও ভিন্নমতাবলম্বী নেতা ইয়াং জিয়ানলি গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। জিয়ানলি চীনের ভিন্নমতাবলম্বী ও নোবেল কমিটির মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।আগামী ১০ ডিসেম্বর নওয়ের রাজধানী অসলোয় নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে। লিউকে গত বছরের ডিসেম্বরে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন চীনের একটি আদালত। ২০০৮ সালের ‘চার্টার ২০০৮’ শিরোনামে একটি মেনিফেস্টো প্রকাশ করার দায়ে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। তিনি সেই কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রী লিউ সিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াং জিয়ানলি জানান, গৃহবন্দী লিউ সিয়াকে অসলোয় যাওয়ার অনুমতি দিতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে নোবেল কমিটি অনুষ্ঠানস্থলে খালি চেয়ার রাখবে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চীন অভিযোগ করে আসছে, সিয়াওবো একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। তাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘অপরাধীদের’ সম্মান জানোনো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাইকেল স্টিফেন বাউডেন (৭৮)।
সম্প্রতি সাউথ ক্যারোলাইনার ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকের এক নার্সকে বাউডেন বলেন, ‘আমি ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে গুলি করার চিন্তাভাবনা করছি। কারণ, আফ্রো-আমেরিকানদের সহায়তা করার জন্য তিনি তেমন কোনো কাজ করছেন না।’ এ ছাড়া আত্মঘাতী হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন কি না, নার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে বাউডেন ‘হ্যাঁ’ বলেন। পরে ১৬ নভেম্বর মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবেও বাউডেন বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে ওবামাকে আমি নিজ হাতে গুলি করব।’ এরপর বাউডেনের বাড়ি তল্লাশি করে গুলিভর্তি তিনটি আধা স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান, একটি আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও একটি গুলিভর্তি শটগান উদ্ধার করা হয়।
বাউডেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে চার বছর চাকরি করেন। এরপর তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বাউডেন নিউইয়র্কের দমকল বাহিনীতে ১৮ বছর ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েছে এক তরুণ।সে দেশের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার অভিযোগে সোমালি বংশোদ্ভূত ওই মার্কিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।এফবিআইয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা ওই তরুণের নাম মোহাম্মদ ওসমান মোহামুদ (১৯)। বড়দিন সামনে রেখে অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডের উপশহরে ‘ক্রিসমাস ট্রি’তে আলোকসজ্জার এক অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের সরবরাহ করা নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকভর্তি একটি ভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টার সময় মোহামুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার করা মোহামুদ করভ্যালিস শহরের বাসিন্দা। তিনি গত বছরের আগস্টে দেশের বাইরের কোনো একজনের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে এএফবিআই নিশ্চিত হয়, তিনি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।ছদ্মপরিচয়ে এফবিআই মোহামুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই বছরের ডিসেম্বরে জিহাদে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।একাধিকবার যোগাযোগ করলে মোহামুদ এফবিআইকে জানান, তিনি ১৫ বছর বয়স থেকে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদি হামলার স্বপ্ন দেখে আসছেন। তাঁর ওই হামলার হুমকির সত্যতা যাচাই করতে এফবিআই গত শুক্রবার নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকভর্তি ওই ভ্যান সরবরাহ করে। এফবিআই তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, এ ধরনের হামলায় নারী ও শিশুরা নিহত হবে। কিন্তু এতেও মোহামুদ তাঁর পরিকল্পনা থেকে সরে না আসার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
এফবিআইয়ের অরেগন অঙ্গরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা আর্তুর বালিজান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, মোহামুদ বড় ধরনের নাশকতার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তাই তাঁকে ফাঁদ পেতে গ্রেপ্তার করা হয়।

জোকোভিচকে পেলেন ফেদেরার

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে সেমিফাইনালের টিকিট আগের দিনই জোগাড় করে রেখেছিলেন রজার ফেদেরার। অপেক্ষা ছিল শুধু প্রতিপক্ষের নাম জানার। অপেক্ষার পালা শেষ। রাফায়েল নাদাল কিংবা টমাস বার্ডিচ নন, এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের সেমিফাইনালে ফেদেরারের প্রতিপক্ষ নোভাক জোকোভিচ। ওয়েবসাইট।
অন্য সেমিফাইনালে অ্যান্ডি মারের সামনে বিশ্বের এক নম্বর রাফায়েল নাদাল। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় অ্যান্ডি রডিকের কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। বিপরীতে শেষ চারে নাম লেখাতে জোকোভিচের জয়ই প্রয়োজন ছিল। রডিককে ৬-২, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়ে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন এই সার্বিয়ান। অন্য ম্যাচে ৭-৬ (৭-৩), ৬-১ গেমে জিতে টমাস বার্ডিচের সেমিফাইনাল স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন নাদাল। ফেদেরারের মতো নাদালও সেমিফাইনালে পা রাখলেন গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জিতেই।
এটিপি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের শিরোপা চারবার ঘরে তুলেছেন ফেদেরার। বছরটি যতই খারাপ যাক, নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করা ফেদেরার এই টুর্নামেন্টে ধরা দিয়েছেন সেরা রূপে। মারে-ফেরারের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও রবিন সোদারলিংকে সরাসরি সেটে (৭-৬, ৬-৩) হারিয়ে ফেদেরার সেমিফাইনালে পা রেখেছেন ফেবারিটের মতোই। কোর্টের পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেছেন সমালোচকদেরও। তবে ফেদেরার নিজে বলছেন, টুর্নামেন্টের কঠিন লড়াই কেবল শুরু, ‘এখনো আমি দুই ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে (শিরোপা থেকে)। দুটি ম্যাচই কঠিন।’

‘উ. কোরিয়ার হামলার পাল্টা জবাব দিতে হবে’

উত্তর কোরিয়ার হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্যকরেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল কিম কোয়ান জিন। দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ করা হয়। দেশটির সরকার আগামী দিনগুলোয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ে নিহত দক্ষিণ কোরিয়ার দুই মেরিন সেনার শেষকৃত্য গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিশিষ্টজনেরা দুই সেনার মরদেহ রাখা বেদিতে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা না চালাতে পিয়ং ইয়ংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। দেশটি উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন, সিউল ও পিয়ং ইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীন অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নিজেদের উপকূলে তারা যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করবে।
আজ রোববার থেকে পীতসাগরে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ওই মহড়ায় পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের অংশ নেওয়ার কথা। ওই জাহাজে ৭৫টি যুদ্ধবিমান ও ছয় হাজারেরও বেশি ক্রু রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পীতসাগরে যৌথ মহড়ার পরিণতি কী হবে—তা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল কিম বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার হামলার জবাব দিতে আমাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উত্তরের অনেক আঘাত আমরা সহ্য করেছি। এবার এসবের পাল্টা জবাব দেওয়া প্রয়োজন।’ চসুন ইলবো পত্রিকায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
দ্য কোরিয়া ইকোনমিক ডেইলির প্রতিবেদনে আগামী বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্বয়ংক্রিয় কামান ও জঙ্গি বিমান কেনার জন্য গতবারের চেয়ে দুই হাজার ৭০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজন হলে পার্লামেন্ট এর চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে।
গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। এর বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং বাক শক্ত অবস্থান নেননি—এই অভিযোগে দেশটির আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ঘটনায় দায় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়ং পদত্যাগ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কাছে সিয়ংনাম সামরিক হাসপাতালে দুই সেনা সিও জেওং উ ও মুন কং উকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কিম হং সিক, বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ শত শত মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ নৌ-মহড়ার কঠোর সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া বলেছে, যৌথ মহড়া এই অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গত সপ্তাহে দুই কোরিয়ার গোলাবিনিময়ের আগে থেকেই এই মহড়ার সময় নির্ধারিত ছিল। আর এটা উত্তর কোরিয়ার জন্য জবাব।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি দেশটিতে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি।

ম্যারাডোনা তাহলে রিয়ালের দিকে?

প্রিয় শিষ্যকে ছেড়ে বন্ধুর দিকেই ঝুঁকে পড়লেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা! না হলে এল ক্লাসিকোর আগে মেসির বার্সেলোনা বাদ দিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা কেন প্রশংসা করবেন মরিনহোর রিয়ালকে নিয়ে। বরাবরই হোসে মরিনহোর গুণমুগ্ধ ম্যারাডোনা জানালেন, এই পর্তুগিজ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সুতোয় গেঁথে বদলে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে।
‘আমি মাদ্রিদের সব খেলাই দেখি। মরিনহো যে উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাচ্ছেন, সেটা আমার খুবই পছন্দের। ও যেভাবে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করে, পুরো দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সত্যিই অসাধারণ’—কালকের এল ক্লাসিকোর আগে মরিনহো সম্পর্কে ম্যারাডোনার মুগ্ধতা।
তবে সবাই মরিনহোয় মুগ্ধ নন। বার্সেলোনা শিবিরের কেউ তো নয়ই। সার্জিও বুসকেটস তো বলেই বসলেন, মরিনহো বড্ড বেশি কথা বলেন। এ কদিন বার্সা শিবিরের দিকে যেসব কথার তোপ মরিনহো দেগেছেন, এর সব জবাবই বুসকেটসরা দিতে চান মাঠে।
বার্সা মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘মরিনহো সব সময়ই কথা বলেন। তবে মাদ্রিদ থেকে কী বলা হলো না-হলো এটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। ওঁর অধীনে থেকে মাদ্রিদ উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছে, ওরা জিতছেও। এর আগেও ওরা ভালো দল ছিল, কিন্তু এই উচ্চাভিলাষী ছিল না।’
কালকের ম্যাচে বুসকেটসের নিজেরও একটা লক্ষ্য আছে, ‘আমি মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করার স্বপ্ন দেখি। করতে পারলে সেটি হবে অবিস্মরণীয় একটি গোল।’
বুসকেটসরাও বাইরে থেকে সমর্থন পাচ্ছেন। একেবারে বাইরেও বলা চলে না। সেস ফ্যাব্রিগাস তো আর্সেনালে গিয়েও একরকম বার্সার হয়েই আছেন। কালকের ম্যাচে আর্সেনাল অধিনায়ক কাকে সমর্থন দেবেন সেটা না বলে দিলেও চলত, ‘আমি অবশ্যই চাই বার্সেলোনা জিতুক। গত কয়েকটি এল ক্লাসিকোতে বার্সা জিতেছে। যদিও এবার ম্যাচটি কঠিন হবে। আর বার্সার প্রতি আমার এই আবেগ তো গোপন কিছু নয়। আমার পরিবারের সবাই বার্সার অন্ধ সমর্থক। আমি নিজেও বেড়ে উঠেছি লা ম্যাসিয়ায় (বার্সার যুব প্রকল্প)। তাই এটাই বলতে চাই, বার্সা জিতুক।’
ফ্যাব্রিগাসের চাওয়া পূরণ করতে হলে আবারও ম্যাজিক দেখাতে হবে তাঁরই বন্ধু মেসিকে। টানা ১০ ম্যাচে গোল করা, সর্বশেষ ৬৭ ম্যাচে ৬৭ গোল—এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে মেসি কেমন ফর্মে আছেন। মরিনহো কাল তাঁর পায়ে শেকল পরাতে ব্যবহার করবে অভিজ্ঞ সেনানী রিকার্ডো কারভালহোকে। বয়সে দুজনের মধ্যে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধান। দেখা যাক, মেসি-কারভালহো লড়াইয়ে কে জেতেন।
স্প্যানিশ লিগে কালও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়েছিল এসপানিওলের। আজ ম্যাচ আছে আরও ছয়টি। কিন্তু স্পেনও যে উন্মুখ হয়ে আছে সোমবারের দিকে। তাকিয়ে আছে আসলে ফুটবল-বিশ্বই।
মরিনহো তাই বলছেন, ‘দুই দলের কোচ, খেলোয়াড়, রেফারি—আমাদের সবার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দেওয়া। বিশ্বকেই আমাদের একটা সুপার ম্যাচ উপহার দিতে হবে।’

বিশ্বকাপের ‘অডিশন’

টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় আলোচনাটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাদা পোশাক ছেড়ে নিউজিল্যান্ড আবার যে-ই তাদের কালো পোশাক চড়াতে যাচ্ছে গায়ে, অমনি ফিরে আসছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। আসারই কথা, সর্বশেষ ছয় ওয়ানডেতেই হেরেছে নিউজিল্যান্ড, চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি আজ গুয়াহাটিতে। এর আগে নাথান ম্যাককালামকে দিতে হলো এমন উত্তর, ‘বাংলাদেশ সিরিজটি আমাদের জন্য আসলেই বিরাট হতাশার ছিল। তবে আমরা সামনে তাকাচ্ছি। আশা করছি, এই সিরিজে আমরা দারুণ কিছু করব।’
দারুণ কিছু করাটা নিউজিল্যান্ডের জন্য আসলে জরুরিও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের পারফরম্যান্স মোটেও সুবিধার নয়। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে হার তো আছেই, ফল হওয়া সর্বশেষ ১১ ওয়ানডের নয়টিতেই নিউজিল্যান্ড।
নতুন করে যাত্রা শুরু করার প্রত্যয় নিয়ে নিউজিল্যান্ড আজ মুখোমুখি হচ্ছে ‘নতুন’ ভারতের। নতুনই। এই ভারতের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। বোলিং আক্রমণে আশিস নেহরা সবচেয়ে অভিজ্ঞ। নেহরার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন দুটো করে ম্যাচ খেলা পেসার বিনয় কুমার ও অফ স্পিনার রবীচন্দ্রণ অশ্বিন। দলে আছেন মাত্র এক ম্যাচ খেলা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌরভ তিওয়ারি। উইকেটের পেছনে থাকবেন ঋদ্ধিমান সাহা।
শচীন টেন্ডুলকার তো বিশ্বকাপের জন্য শক্তি সঞ্চয় করছেন বলে ভারতের সর্বশেষ ১৭টি ওয়ানডের দলেই ছিলেন না। বিশ্রাম নিয়েছেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। হরভজন সিং, জহির খান, ইশান্ত শর্মারা দলে নেই। বলা যায়, ভারত বিশ্বকাপ-পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তরুণদের জন্য এটা একটা সুযোগ।

হাসি-হাডিনে পিষ্ট ইংল্যান্ড

বল ডাইভ দেওয়া মিডঅফ ফিল্ডারকে ছাড়িয়ে যেতেই মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুড়লেন বাতাসে। গ্যালারি-ভর্তি দর্শকের হর্ষধ্বনির মধ্যেও শোনা যাচ্ছিল তাঁর চিৎকার। সঙ্গী ব্র্যাড হাডিনকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে ঝিঁঝি ধরা চিৎকার করলেন।
আনন্দ, আবেগ, স্বস্তি—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল মাইক হাসির সেঞ্চুরি উদ্যাপনে। গ্যালারি থেকে হাসিকে অভিনন্দন জানালেন স্ত্রী অ্যামি, মায়ের কোলে হাসছে তিন বছরের মেয়ে মলিও! পাশে সমানে লাফিয়ে যাচ্ছে সাড়ে চার বছরের ছেলে উইলিয়াম। মাঠের ভেতরে-বাইরের এই উদ্যাপনই বলে দিচ্ছিল, হাসি পরিবারের কাছে এই সেঞ্চুরি কতটা মূল্যবান।
হাসির মতো দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। তবে চাপ ছিল হাডিনের ওপরও। কনুইয়ের চোটের কারণে গত মার্চ থেকে দলের বাইরে। সুযোগ পেয়ে দলে জায়গা পাকা করার মতোই খেলেছেন টিম পেইন। তবু চোট কাটানোর পর হাডিনকে সরাসরি দলে নিতে দ্বিধা করেননি নির্বাচকেরা। এই আস্থার প্রতিদান দেওয়াটাও তো একটা বড় চাপ! ১৩৬ রানের এই ইনিংসটার চেয়েও বড় ইনিংস আছে হাডিনের। কিন্তু কালকের ইনিংসটার মাহাত্ম্য এমনই যে, সাবেক অধিনায়ক ও বর্ষীয়ান ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে হাডিনের সেরা অবদান!’
দুজনের এই অবিস্মরণীয় ব্যাটিং গড়েছে ইতিহাস গড়া জুটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৫ উইকেট পড়েছে ১৪৩ রানে, শেষ পাঁচটি ৩১ রানে। কিন্তু মাঝে এই দুজনের ৩০৭ রানের জুটিটা এমন ব্যবধান গড়ে দিয়েছে যে, ম্যাচ বাঁচাতে ইংল্যান্ডকে করতে হবে দারুণ কিছু। ব্র্যাডম্যান-হ্যাসেটের ২৭৬ রানের জুটিকে পেছনে ফেলে গ্যাবায় এটাই এখন যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি, ষষ্ঠ উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ। দাঁতে দাঁত চেপে ১৫টি ওভার কাটিয়ে দিয়েছেন ইংলিশ ওপেনাররা। প্রথম বলেই অবশ্য জোরালো এলবিডব্লুর আবেদন থেকে বেঁচে যান স্ট্রাউস। ইংলিশদের জন্য দুঃসহ দিনেও স্টিভেন ফিনের আছে দারুণ প্রাপ্তি। অ্যাশেজ অভিষেকে ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
উইকেট ফিন বেশি পেলেও ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে জেমস অ্যান্ডারসন। দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে নতুন বলটা হাতে পেলেও বোলিং করতে পারেননি আলোকস্বল্পতায়। কাল সকালে সেই বল হাতে তাঁর প্রথম স্পেল ৮-২-১৪-০, ভাগ্য সামান্য সহায়তা করলেও ২ বা ৩ উইকেট পেতে পারতেন। এ সময়ই একবার ভাগ্য আর একবার প্রযুক্তি বাঁচিয়েছে হাসিকে। ৮২ রানে তাঁকে এলবিডব্লু দিয়েছিলেন আলিম দার, বেঁচে যান রেফারেল নিয়ে। ৮৫ রানে নিশ্চিত এলবিডব্লু দেননি দার, দুটি রেফারেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু করার ছিল না ইংলিশদের।
হাসি-হাডিনের কৃতিত্ব, এই সময়টায় মুখ গুঁজে পড়ে ছিলেন উইকেটে। দিনের প্রথম ১০ ওভারে রান এসেছে ১৪, প্রথম বাউন্ডারি এসেছে ৫০ মিনিট পর! সময়মতো অবশ্য হাত খুলেছেন দুজনেই। ব্রডকে চার মেরে হাসির ১২তম সেঞ্চুরি এসেছে ১৯৭ বলে। হাডিনের প্রথম ফিফটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারে শ্লথতম, ১৩৪ বলে। ৯৪ থেকে সোয়ানকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে তৃতীয় সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ২২২ বলে। ৬৩ ও ১১৩ রানে বেঁচে যান কঠিন দুটি ক্যাচ দিয়ে। সোয়ানের বলে স্লিপে কলিংউডের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয়েছে হাডিনের ইনিংস। পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত সব পুল খেলা হাসি আউট হয়েছেন পুল করতে গিয়েই, টেস্টে আগের সর্বোচ্চ ১৮২ ছাড়িয়ে গেলেও ৫ রানের জন্য হয়নি দ্বিশতক। ৯.৪ ওভারের টানা স্পেলে হাসিরটিসহ শেষ চার উইকেট নিয়েছেন ফিন।

বিফলে সাঙ্গাকারার শেষ চেষ্টাও

ওপেনার থারাঙ্গা পারানাভিতানাকে নিয়ে যখন মাঠ ছেড়ে আসছেন কুমার সাঙ্গাকারা, ধন্দে পড়ে গেলেন ধারাভাষ্যকারেরাও। প্রথমে মনে হয়েছিল আলোকস্বল্পতায় বুঝি বন্ধ হলো খেলা। একটু পর পরিষ্কার হলো সবকিছু, প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১৪৪ রানের লিডের সঙ্গে আর ৫৭ যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। উদ্দেশ্য, মরা ম্যাচে যদি কিছুটা প্রাণ ফেরানো যায়!
সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের চেষ্টা। জয়ের জন্য ২২ ওভারে ২০২ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ভীষণ কঠিন, কিন্তু গেইল-বারাথা-ব্রাভো ভাইদের মতো স্ট্রোক প্লেয়ারসমৃদ্ধ দলের জন্য অসম্ভবও ছিল না। কিন্তু টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চ টানেনি ক্যারিবিয়ানদের, টানলেও খুব একটা লাভ হতো কিনা সন্দেহ। ওই ২২ ওভারের অর্ধেক হতেই আবারও আলোকস্বল্পতায় শেষ হয়েছে খেলা। প্রথমটির মতো দ্বিতীয় টেস্টও নিষ্প্রাণ ড্র। পাল্লেকেলের নতুন স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টেস্ট শুরু ১ ডিসেম্বর।
বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিন মাঠে গড়ায়নি একটি বলও। কাল বৃষ্টি না হলেও আগের দিনের বৃষ্টিতেই মাঠ অনুপযুক্ত থাকায় খেলা শুরু হলো লাঞ্চের পর। ৫ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা ক্যারিবিয়ানদের শুরুটা মন্দ হয়নি। রঙ্গনা হেরাথের বলে ডোয়াইন ব্রাভোর স্টাম্পিংয়ে শুরু হয় মড়ক। পরের দুই ওভারে ‘বড়’ ব্রাভোকে অনুসরণ করেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ও সুলিমান বেন। প্রথম টেস্ট ফিফটির ৬ বছর পর উইকেটকিপার কার্লটন বাফের দ্বিতীয় ফিফটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে যায় ২৪৩ পর্যন্ত।

ড্রয়ের পথে ব্রিসবেন টেস্ট

আগের দিন মাইক হাসি ও ব্রাড হাডিনের ব্যাট বিপাকে ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে হাসি-হাডিনের চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়ে ইংল্যান্ডকে খেলায় ফিরিয়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক। এ দুজনের সেঞ্চুরিতে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ এক উইকেটে ৩০৯ রান। প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হওয়া ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ৮৮ রানে এগিয়ে ৮৮ রানে। হাতে রয়েছে আরও নয়টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৪৮১ রান করা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস বাকি রয়েছে বলে কাল শেষ দিনে ড্র দিয়েই সমাপ্তি হতে যাচ্ছে অ্যাশেজের প্রথম লড়াই।
উদ্বোধনী জুটিতে স্ট্রাউস ও কুক ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ১৮৮ রান। ব্যক্তিগত ১১০ রানে মার্কাস নর্থের শিকার স্ট্রাউস। শুধু নর্থের নয়, চতুর্থ দিনে পুরো অস্ট্রেলিয়া দলের প্রাপ্তি বলতে এই একটি উইকেট। দীর্ঘক্ষণের সঙ্গী স্ট্রাউস চলে গেলেও আগের মতোই ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যালিস্টার কুক। আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের একটু আগে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত ছিলেন ১৩২ রানে। সঙ্গে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন জোনাথন ট্রট।

খবর কালের কণ্ঠের- বিএনপির মিছিলে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের পিটুনি

রতালের সমর্থনে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে মারমুখী হয়ে উঠেছে পুলিশ। বিএনপিকে মাঠে নামতে বাধা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও। গতকাল রবিবার বরিশালে বিএনপির দুটি পক্ষ আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের লাঠিপেটা ও ছাত্রলীগের হামলায় দুই পক্ষের কর্মসূচিই পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের হাতে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার লাঞ্ছিত এবং বিএনপির অন্তত ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। খুলনায় মহানগর বিএনপি হরতালের পক্ষে এবং স্থানীয় যুবলীগ হরতালের বিপক্ষে মিছিল বের করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

খবর কালের কন্ঠের- হরতালের ধরপাকড় চলছেইঃ অহেতুক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না -স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির ডাকা ৩০ নভেম্বরের হরতালকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে ধরপাকড় চলছেই। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া পুলিশি অভিযান শনিবার রাতেও অব্যাহত থাকে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেল ও বস্তিতে 'ব্লক রেইড' চালানো হয়। বিএনপি নেতা-কর্মী ছাড়াও টাকার বিনিময়ে হরতালে পিকেটিং করে এ রকম সন্দেহজনক ব্যক্তিদেরও পুলিশ টার্গেট করেছে। হরতালের আগের রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

খবর- খুনের মামলা প্রত্যাহার, শীর্ষ সন্ত্রাসীর অব্যাহতি by নজরুল ইসলাম

কটি আলোচিত খুনের মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন, খোরশেদ আলমসহ ১৯ সন্ত্রাসী এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। মিরপুরের ব্যবসায়ী আফতাব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৫ সালে এ মামলা হয়েছিল। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছিল র‌্যাব। ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের গঠিত কমিটি মামলাটি প্রত্যাহারে আদালতে সুপারিশ পাঠায়। পরে আদালত তা প্রত্যাহারের আদেশ দেন। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই কমিটির সভাপতি।

প্রকৃতি- চট্টগ্রামে ঐতিহ্যের পাহাড় কেটে বহুতল ভবনঃ সুরক্ষার পরিকল্পনা ধ্বংসের অনুমোদন by ভূঁইয়া নজরুল

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে অবস্থিত প্রবর্তক সংঘের মালিকানাধীন পাহাড়কে 'সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই পাহাড়েই ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভবন নির্মিত হলে ধ্বংস হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী প্রবর্তকের বিশাল পাহাড়ের একাংশ। সিডিএর তৈরি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে বলা হয়েছে, সরকার প্রবর্তক পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এই পাহাড় ও তদসংলগ্ন মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত পরিসর ও প্রাকৃতিক পরিবেশের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে সিডিএ। বিপণিবিতান বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হবে না এতে।

প্রকৃতি খবর- জলবায়ু সম্মেলন আজ শুরু সুত্র কালের কন্ঠ

লবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই বিশ্বে ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে মেঙ্েিকার কানকুনে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক সম্মেলন-২০১০ (এইএনএফসিসিসি)। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত, নায্য ও আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পেঁৗছানোর লক্ষ্যে বিশ্বের ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন এ সম্মেলনে। বাংলাদেশ থেকেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ১০ দিনের এ সম্মেলনকে সংক্ষেপে উল্লেখ কারা হচ্ছে কোপ-১৬ নামে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'পুলিশই কি হরতাল সফল করে দেয়' by আবেদ খান

কোনো হরতাল সফল করতে পুলিশের ভূমিকার বিকল্প নেই। এই কাজটি পুলিশ সব আমলেই খুব নিপুণভাবে করে এসেছে এবং এখনো আসছে। কী দরকার ছিল এই বেপরোয়া ধরপাকড়ের? কী দরকার ছিল অহেতুক সন্দেহবাতিকে ভোগার? এমনিতেই তো হরতালের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কোনো সায় নেই। সায় নেই গরিব রিকশাওয়ালা-ফেরিওয়ালাদের, সায় নেই ব্যবসায়ীদের। এর পরও হরতাল ডাকা হয় এবং হরতাল আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলো চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও অনায়াসে হরতাল হয়ে যায়।

আইন কানুন- 'বাহাত্তরের সংবিধান ফিরছে না' by আহমেদ দীপু

চ্চ আদালতের নির্দেশে সংবিধান পুনর্মুদ্রণের পরও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফেরা হচ্ছে না। বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় ও পাঁচটি সামরিক ফরমান বহাল থাকায় এবং পঞ্চম সংশোধনী ছাড়া অন্য সংশোধনীগুলো অবিকৃত থাকায় পুনর্মুদ্রণের পর সংবিধান নতুন রূপ লাভ করবে। আগামী সপ্তাহেই সংবিধান পুনর্মুদ্রণের জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠানো হবে। সংবিধান পুনর্মুদ্রণের পর প্রস্তাবনার কিছু অংশসহ ১৯ অনুচ্ছেদ, এসব অনুচ্ছেদের দফা এবং উপদফা পুনর্বহাল হচ্ছে।

আইরিন খান বললেন,'নারীর মানবাধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় হতে হবে' সুত্র প্রথম আলো

ন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী আইরিন খান বলেছেন, ‘নারীর মানবাধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।’ গতকাল শনিবার বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত মুস্তাফিজুর রহমান খান অ্যান্ড সালেহা খানম ট্রাস্ট ফান্ড বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। (ছবিঃ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে গতকাল মুস্তাফিজুর রহমান খান অ্যান্ড সালেহা খানম ট্রাস্ট ফান্ড বক্তৃতায় অংশ নেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান)

আইন কানুন- চাই বিরোধের বিকল্প নিষ্পত্তি by রোমেল রহমান

প্রাজ্ঞ বিচারক যখন বিচারকর্মে আসন গ্রহণ করেন, তখন বিরোধ যত জটিলই হোক না কেন, তার খুব সহজ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো হয় প্রাণবন্ত, জীবনস্পর্শী ও গতিশীল। একটি সিদ্ধান্ত আলোকবর্তিকা হিসেবে অন্যান্য বিচারপ্রার্থীকে দিকনির্দেশনা দেয়। সে ক্ষেত্রে বিবদমান মানুষকে আর আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষ যখন আপসহীনভাবে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন আদালতে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। জেদের কারণে যেসব মামলা হয়, সহজে তার শেষ হতে চায় না। একটা শেষ হয় তো আরও দশটা দায়ের হয়।

আইন কানুন- ভরণপোষণ একটি আইনি অধিকার by মাসূমা তাসনীম

বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে একজন নারী ও পুরুষের পারস্পরিক আস্থা, নির্ভরতা, ভালোবাসা ও জীবনসঙ্গী হিসেবে উভয়ে উভয়ের প্রতি মানবিক, নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের যে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তা আমৃত্যু বহাল থাকুক এটাই সবার কাম্য। এ কারণে হিন্দু বিবাহকে পবিত্র স্বর্গীয় (Sacrament) বন্ধন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ‘যদিদং হূদয়ং তব, তদিদং হূদং মম’ এটাই হিন্দু বিবাহের অন্যতম মূলমন্ত্র। দুটি হূদয় এক হূদয়ে রূপান্তরিত হয়ে অভিন্ন হূদয়ে অভিন্ন সত্তায় বিলীন হয়ে অপূর্ব ও প্রেমময়ী আবেগে একজন আরেকজনের সঙ্গে সারা জীবনের জন্য এক অটুট বন্ধন গড়ে তোলে।

আইন কানুন- অর্থঋণ আদালত আইনে অনেক গলদ by এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম

র্থিক প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য ১৯৯০ সালে প্রথম অর্থঋণ আদালত আইন নামে একটি বিশেষ আইন প্রবর্তিত হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় এ-সংক্রান্ত বিশেষ আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের মতো আর্থিক তথা অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আইনের প্রয়োগ, কার্যকারিতা, উপকারিতা, অপকারিতা, সুবিধা, অসুবিধার ওপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আইন যত সতর্কতার সঙ্গে প্রণীত হোক না কেন, বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সময় এর ফাঁকফোকর বের হতে শুরু করে। অর্থঋণ আদালত আইনের ক্ষেত্রেও এই ধারাবাহিকতার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।

আইন কানুন- গাড়ি আটক হলে মালিকের করণীয় by মো. রাশেদ খান

কালাম সাহেবের সাত বছরের ছেলে সাদনান ও পাঁচ বছরের মেয়ে হিয়ার আনন্দে পুরো পরিবারে খুশির বন্যা বইছে। এবার তারা নিজেদের গাড়িতে করে নোয়াখালীর সেনবাগে বেড়াতে যাবে । আর বাসের লাইনে দাঁড়াতে হবে না, ভিড় সইতে হবে না। আনন্দে দাদাবাড়ি যাওয়া যাবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কালাম সাহেব ছেলেমেয়ে ও শিক্ষিকা স্ত্রীকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য অফিসের লোন ও সঞ্চিত টাকায় একটি টয়োটা গাড়ি কিনেছেন মাস ছয়েক আগে। গাড়ি কেনার পরপরই এক বন্ধুর ড্রাইভারের সুপারিশে নিয়োগ দিয়েছেন হানিফকে।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'আমাদের রাজনীতিতে বখাটেপনা' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

বরের কাগজে এখন প্রায় প্রতিদিন দেশের নানা জায়গায় ঘটা ‘ইভ টিজিং’-এর খবর বেরোয়। অথচ এ কাজটি যৌন হয়রানি এবং মেয়েদের অধিকার হরণের মতো গুরুতর অপরাধ। যারা এসব অপরাধ করে, পত্রপত্রিকা তাদের ‘বখাটে’ বলে উল্লেখ করে, যদিও তারা বড় ধরনের অপরাধী। কিন্তু একবার বাজারে কোনো নামে কিছু চালু হয়ে গেলে সেই নাম বদলে ফেলাটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাই ইভ টিজিং এবং বখাটে শব্দ দুটি আমাদের ব্যবহার করতে হয়। কী আর করা। আজকাল অবশ্য বখাটেদের কাজটা কিছুটা কঠিন হয়েছে, কোনো কোনো জায়গায়। মানুষ প্রতিরোধ গড়ছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসছেন, তাদের সাত দিন থেকে এক বছর মেয়াদি কারাবাসের সাজা হচ্ছে। সেদিন এক মফস্বল শহরে দুই বখাটেকে গণপিটুনি দেওয়ার খবর বেরোল।

স্মরণ- 'আমরা তো কাঁদছিই' by নেয়ামতউল্যাহ

কোকো-৪ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছিল গত বছর ২৭ নভেম্বর। ২৭ ও ২৮ নভেম্বর লালমোহনবাসী শোক পালন করছে। করছে মানববন্ধন। লালমোহন উপজেলার চর ছকিনা গ্রামে নাজিরপুর খালের তীরে জয়চড়িয়াবাড়ী। চারদিকে সোনালি খেত। জলে পাতিহাঁস দল বেঁধে ডুবসাঁতারে খোঁজে খাবার। এ খালের তীরে শুয়ে আছেন নবদম্পতি নুরে আলম সোহাগ ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন।

চিত্রকলা- এক পরিবারের বৃক্ষ ও শেকড় সুত্র প্রথম আলো

নেক মাধ্যমের কাজ। তাতে যেমন আছে ক্যানভাসে-কাগজে আঁকা চিত্রকর্ম, তেমনই আছে আলোকচিত্র, স্থাপনা, চলচ্চিত্র ইত্যাদি। মাধ্যম ও বিষয়-বৈচিত্র্য যেমন বহুমাত্রিক, তেমনই প্রদর্শনীর অন্য বৈশিষ্ট্য হলো—যৌথ এই প্রদর্শনীর সব শিল্পীই এক পরিবারের। বাবা-মা আর তাদের দুই ছেলে-মেয়ে। প্রদর্শনীর নামটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে, ‘বৃক্ষ ও শেকড়’। (ছবিঃ ঢাকা আর্ট সেন্টারে আয়োজিত শিল্পী ও অন্যান্য অতিথি নিয়ে ‘বৃক্ষ ও শিকড়’ শিরোনামের প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস)

গল্পসল্প- 'ঢাকা নয়, অন্য কোথা অন্য কোনোখানে' by উম্মে মুসলিমা

পৃথিবীর সব দেশের রাজধানী বা মেগাসিটির চরিত্র কমবেশি এক রকম। খুশবন্ত সিংয়ের ‘দিল্লি’ এর অন্যতম উদাহরণ। রাজধানী কারও নিজস্ব নয়। রাজধানীতে প্রায় সবাই উদ্বাস্তু। নিজের শেকড় গ্রামগঞ্জে, মফস্বলে। ঈদ-পার্বণের ছুটিছাটায় ঢাকার চেহারা দেখলেই ঢাকায় বসবাসরত মানুষের আসল রূপ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। একবার যুব মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ভারত থেকে একটি যুবদল এসেছিল কোরবানি ঈদের মধ্যে। ঢাকা তখন ফাঁকা। ঢাকার পরিচ্ছন্ন জনবাহুল্যহীন স্বল্প যানবাহনের শব্দহীন পরিবেশ ওদের মুগ্ধ করেছিল।

Sunday, November 28, 2010

কৃষি আলোচনা- 'বরেন্দ্রভূমির কৃষকের বীজবিদ্রোহ' by পাভেল পার্থ

বারও বাংলাদেশে করপোরেট বীজ-প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। করপোরেট সিনজেন্টা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো বীজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রাজশাহীর কৃষকেরা সিনজেন্টার বিরুদ্ধে সংগঠিত করছেন জন-আন্দোলন। বরেন্দ্রভূমির কৃষকদের অভিনন্দন, যাঁরা সিনজেন্টার মতো এক ডাকসাইটে করপোরেটের বিরুদ্ধে বীজের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর নোভার্টিস ও এসট্রা জেনেকা মিলে তৈরি করে সিনজেন্টা। এর আগে ১৯৯৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি এসট্রা এবি ও ব্রিটিশ কোম্পানি জেনেকা মিলে তৈরি হয়েছিল এসট্রা জেনেকা।

খবর- ৩০ নভেম্বরের হরতালের আগেই মারমুখী পুলিশ

রতালের আগেই মারমুখী হয়ে উঠেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মীকে। বরিশাল ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু প্রথম আলোকে বলেন, ধরপাকড় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দুই দিন পরে হরতাল থাকায় যাঁদের নামে মামলা ও পরোয়ানা আছে, তাঁদেরই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (এই খবর'টি দৈনিক প্রথম আলোর)