Monday, August 16, 2010

রক্তাক্ত দৃশ্যপটের পশ্চাদ্ভূমি by সেরনিয়াবাত প্রিয়াংকা তাজ ও তাজ ইমন আহমদ

কনকনে শীতের রাত। নৌকায় চলছেন আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর এক সহযোদ্ধা। সেরনিয়াবাতের সহযাত্রী ইউনুস তালুকদারের কাছে শুনেছি সেই স্মৃতির কথা, শুনেছি তাঁর মানবিক গুণাবলির কথা, একজন নেতা হিসেবে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা। একসময়ে যেটা ছিল রব সেরনিয়াবাতের নির্বাচনী এলাকা (বাকেরগঞ্জ-১), সেখানকার বর্তমান সাংসদ তিনি। আমরা জানতে পেরেছি, রব সেরনিয়াবাত তাঁর সহযোদ্ধাদের কাছে কতটা কাছের ছিলেন।
পঁচাত্তর সালের ১৪ আগস্ট। আবদুর রব তখন ভূমি প্রশাসন, ভূমি সংস্কার ও ভূমি রাজস্ব ও বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে; দিনের কর্মসূচির তালিকা ছিল খুবই দীর্ঘ—অফিসের কাজ, বঙ্গভবনে যাওয়া, মায়ের মিলাদে—এত ঝড়-ঝামেলার পর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এসে বরিশাল থেকে আগত তরুণদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন। এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল বরিশালের গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গ। আবদুর রব সেরনিয়াবাত রাজনৈতিকভাবে আজীবন বাম ঘরানার লোক ছিলেন। বরিশালের পাঁচটি গ্রামকে নিয়ে একটি সমতার ভিত্তিতে কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অবিরাম কাজ করে চলছিলেন। তিনি ওই পাঁচটি গ্রামের জমি ও অন্যান্য সম্পদ যৌথতার ভিত্তিতে একীভূত করে একটি সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সমবেত তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি অপশাসনের সেই ভয়াবহ কালপর্বগুলো রব সেরনিয়াবাত পাড়ি দিয়েছেন নিরবচ্ছিন্ন লড়াই ও আত্মত্যাগ দেখে দেখে। সম্ভবত ওই সময়কার অনাচার, অবিচার, বৈষম্য, লুণ্ঠন—তাঁর মধ্যে ন্যায়বিচার বোধের জন্ম দিয়েছিল। সম্পদ ও সম্পত্তির সুষম বণ্টনের চেতনা তাঁর মধ্যে প্রোথিত হয়েছিল। তাঁর ন্যায়-চৈতন্যের অঙ্কুরের প্রকৃতি ও স্বভাব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে উদ্ভূত।
১৯৬৯ সালে—আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে—তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ও বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এই রাজনৈতিক দর্শন পরবর্তীকালে মন্ত্রী হিসেবে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলেছিল। ভূমিমন্ত্রী হিসেবে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানার পরিমাণ ১০০ বিঘায় সীমাবদ্ধ করার উদ্যোগের মধ্যে আমরা সেই ছায়াই দেখতে পাই। একজন আইনজীবী, ইসলামিয়া কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, সেরনিয়াবাত সমাজতন্ত্রের গুণকীর্তনে সব সময়েই অগ্রণী ছিলেন।
কলকাতার বেকার হোস্টেলের সেই একসঙ্গে থাকার দিনগুলো থেকেই তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছের বন্ধু, সুহূদ ও আস্থাজন। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত জীবন এবং শেখ মুজিবের মতো গগনস্পর্শী উদীয়মান রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই নিরাভরণ সারল্য এক আশ্চর্য গুণাবলি। তাঁদের সন্ধ্যাকালীন ভ্রমণের সময়, নিজেদের মধ্যে খুনসুটি, মজার মজার কথা বলতেন, তখন তাঁর মনের সৌন্দর্য ফুটে উঠত।
১৪ আগস্ট রাতে তিনি তাঁর এলাকার লোকদের সঙ্গে যখন আলাপ করছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘যদি মিঞা ভাইয়ের দ্বিতীয় বিপ্লব সফল হয়, দেশ বাঁচবে, আমরাও বেঁচে যাব...আর যদি তা ব্যর্থ হয়, আমাদের কেউই বাঁচবে না।’ আবদুর রব বুঝেছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের ঝুঁকির মাত্রা। জাতীয় পুনর্গঠন-প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গণতন্ত্রের মৌল উপাদানগুলোকে কাটছাঁট করা হয়েছিল। এ ধরনের র‌্যাডিকেল পরিবর্তন দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের মনঃপূত হয়নি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার মানসে আবদুর রব এর আগে শেখ মণির সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। অনেক বছর পরে এই দুজনই আগের মতোই দৃঢ়চিত্ত ও কর্তব্যে অবিচল—দ্বিতীয় বিপ্লবের পেছনে তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন।
১৪ আগস্টের গভীর রাতে শুরু হওয়া বরিশাল থেকে আগত তরুণদের এই বৈঠক ১৫ আগস্টের ভোর পর্যন্ত চলেছিল। মিটিং শেষে তাঁর ভাতিজা জাহাঙ্গীর সেরনিয়াবাত তাঁকে সিঁড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। জাহাঙ্গীর তখন বরিশালের তরুণ উদীয়মান নেতা। আবদুর রব জাহাঙ্গীরকে বরিশালের উন্নয়নে কাজ করে যেতে এবং বিশেষভাবে সংখ্যালঘুদের দেখভাল করার নির্দেশ দিলেন। জাহাঙ্গীর যখন বিদায় নিলেন তখন রাত তিনটা।
এসব বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার অশুভ পরিকল্পনা তাঁর চিন্তার মধ্যেও ছিল না। তাঁর পরিবারই ছিল তাঁর ঠাঁই এবং নিরাপদ স্বর্গসম। তাঁর প্রিয় স্ত্রী আমেনাকে তিনি এ জগতের সব অনুরাগ-সিক্ত আহ্লাদে ভরিয়ে দিতেন। কখনোই তাঁকে কোনো রকম কষ্ট সইতে দিতেন না। তাঁর ছেলেমেয়েরা যাতে নষ্ট হয়ে না যায়, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি যখন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন তাঁর সন্তানদের তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের ব্যবস্থা করে রেখেছি, আর কিছু আশা কোরো না। ধনসম্পদ ও সম্পত্তির পুঞ্জীভবনের বিপরীত দিকে ঝুঁকো না।’ বিদ্যাশিক্ষার ওপর তিনি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তাঁর সন্তানদের বোঝাতেন। রাজনীতিতে প্রবেশের প্রসঙ্গ এলে তিনি তাঁর সন্তানদের উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত—কোনোটাই করেননি। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে তিনি ছিলেন একেবারেই মৃদু স্বভাবের।
আবদুর রব তাঁর নয় সন্তানের মধ্যে তিনজনকে নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। তাঁর মেয়ে বেবী, ছেলে আরিফ আর আরজু তাঁর স্বামী শেখ মণির সঙ্গে মৃত্যুবরণ করলেন। আবদুর রবের নাতি সুকান্ত বাবু, রিন্টু (আমির হোসেন আমুর একজন আত্মীয়) এবং লক্ষ্মীর মাও (বাড়ির কাজের তত্ত্বাবধানকারী) আবদুর রবের সঙ্গে মারা যান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া তাঁর অনেক সন্তানই খুবই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল এবং চিরজীবনের মতো তাঁদের নিষ্পাপ চিত্ত যন্ত্রণায় ছটফট করে বোবা কান্নায় কিংবা কখনো ওই দৃশ্য, ওই মৃত্যুর মোকাবিলা তাদের জীবনকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে!
তাঁর বড় ছেলে হাসানাত, যিনি শেষ পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতে পেরেছিলেন, তিনি সবকিছুর সাক্ষী। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। চোখের সামনে তাঁর বাবা আর আত্মীয়-পরিজনের মরদেহ পুলিশ সরিয়ে নিচ্ছে। আবদুর রব তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালে তাঁর পিতৃপুরুষের ভিটেমাটির অংশীদার হিসেবে যা রেখে গেছেন, তা ছাড়া ব্যাংকে সঞ্চয় হিসেবে ৩১৪ ঢাকা পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের সেদিনের সেই কালো দিবসের ৩৫তম বার্ষিকীতে আমরা দেশপ্রেমিক ও শহীদের নাতি-নাতনিরা, আমাদের দেশের নাগরিকদের প্রতি এই আহ্বান জানাতে চাই, আসুন, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করি।
যখন আমরা আবদুর রব সেরনিয়াবাতের মতো মানুষের কথা বলি, তখন আমরা নিজেদের তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করতে সক্ষম করে তুলি; তাঁরা কেমন ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে আমরা রক্তাক্ত দৃশ্যপটের পশ্চাদ্ভূমির দিকে তাকাই।
সেরনিয়াবাত প্রিয়াংকা তাজ: আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতনি।
তাজ ইমন আহমদ: বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নাতি।

শোকাবহ ১৫ আগস্ট -স্বাধীনতার চেতনায় ফেরার ডাক

হাজার বছরের বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতার স্থপতির নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সাল থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন করাচিকেন্দ্রিক নব্য উপনিবেশের বিরুদ্ধে; ১৯৪৮ সালে কারারুদ্ধ হন রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে। প্রকৃতপক্ষে নিজের সারাটা জীবন তিনি উৎসর্গই করে দিয়েছিলেন এই দেশের মানুষের মুক্তি এবং তা অর্জনের প্রথম ধাপ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য। তিনি যে তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’—এটা কেবল কথার কথা নয়, এটা তিনি সারা জীবনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কর্ম ও নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন।
হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মতো তাঁর ছিল মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা। ১৯৪৯ সালে, যখন আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানী, তখনো সদ্য কারামুক্ত তরুণ শেখ মুজিবের ভাষণ শোনার জন্য আরমানিটোলার জনসভায় সমবেত জনতা ভাসানীর উপস্থিতিতেই অধীর হয়ে উঠেছিল। মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন, মানুষের ভালোবাসা পেয়েওছিলেন, সারা দেশ জাগিয়ে তুললেন ছয় দফা দিয়ে; তারপর সব দফা এসে মিলিত হলো একটিমাত্র দফায়—বাংলার স্বাধীনতা। কী অপূর্ব সুন্দরভাবে একদেহ একপ্রাণ হয়ে উঠেছিল পুরো জাতি, নক্ষত্রের আলোর মতো তাঁর উদ্যত তর্জনীর নির্দেশে—এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।
অন্তত দুবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানিরা। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে যখন আটক তিনি, তখন একবার। আরেকবার যখন তিনি একাত্তরে বন্দী পাকিস্তানের কারাগারে, তখন। কিন্তু পাকিস্তানিরা তাঁকে মারতে পারেনি। মারল যারা, ওই পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের হয়ে, তারা বাঙালিই ছিল। শুধু কি বঙ্গবন্ধু মুজিবকে; তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূদ্বয়, এমনকি শিশুপুত্র রাসেল, ভাই নাসের, আরও কত শিশু-নারী-পুরুষের রক্তে রঞ্জিত হলো সেদিন বাংলাদেশের মাটি! স্বাধীন দেশে নিহত হলেন স্বাধীনতার স্থপতি, যিনি কোনো দিনও বিশ্বাস করতে পারেননি কোনো বাঙালি তাঁকে হত্যা করতে পারে।
সেদিন শুধু যে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেন তা-ই নয়; ক্ষত-বিক্ষত হলো সাংবিধানিক শাসন, গণতন্ত্র; কক্ষচ্যুত হলো বাংলাদেশ তার জন্মের আদর্শ থেকে, মূলনীতি থেকে। ভূতের পায়ের মতোই উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ।
সেই উল্টোযাত্রা থেকে সোজা পথে, শুভ পথে রাষ্ট্রের ও স্বাধীনতার মূল চেতনার দিকে ফেরার ডাক নিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। এটা খুবই প্রণিধানযোগ্য যে জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে, সব নিয়মকানুন মেনে। বিচারের রায় আংশিক কার্যকর করা গেছে এবং সাজাপ্রাপ্ত যে আসামিরা পলাতক, তাদের দেশে এনে রায় কার্যকর করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। জাতির ওপর একটা কলঙ্কের বোঝা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ছিল, বিচারের রায় ঘোষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তা থেকে এ বছর আমরা মুক্ত।
তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এটা কেবল কথার কথা নয়। আজকে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, দেশের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করেই তা করতে হবে। সে জন্য দরকার হবে সুশাসন, দরকার হবে জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে একটা কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি। দরকার হবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, আইনের শাসন। দরকার হবে দূরদর্শিতা। দরকার হবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা হাতে নেওয়া মানে অনেক বড় দায়িত্ব নেওয়া, এই কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
১৫ আগস্টের সব শহীদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই আন্তরিকভাবে।

রাশিয়ার দাবানল মোকাবিলায় মার্কিন সহায়তা

দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনিরোধক কাপড়সহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার এসব উপকরণভর্তি তিনটি বিমান মস্কোয় অবতরণ করেছে।
রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর দুটি সি-১৩০ বিমান সকালে ভিনোবোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে গভর্নর আরনল্ড সোয়ার্জনেগারের নির্দেশে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি চার্টার্ড বিমান মস্কো এসে পৌঁছায়।
রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের উপপ্রধান ভেলেরি সুইকোভ বলেন, ‘খুবই কঠিন এক সময়ে আমাদের দিকে যেভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা তা সব সময় স্মরণ করব।’

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে একটি রেস্তোরাঁয় বিয়ের অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের গুলিতে চারজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। বিয়েতে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা জানা যায়নি।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অনুষ্ঠান চলার সময় হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। টমি ডেটস (৩৫) নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ করেই তিনি সবাইকে ছোটাছুটি করতে দেখলেন। প্রত্যেকে তখন আতঙ্কিত ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর রেস্তোরাঁর সামনে তিন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর অপর একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ হামলাকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে কিছু জানতে পারেনি।

তামিল অভিবাসীদের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে দেখছে কানাডা

শ্রীলঙ্কা থেকে গত শুক্রবার জাহাজে কানাডায় যাওয়া প্রায় ৫০০ তামিল আশ্রয়-প্রার্থীর খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
থাই পতাকাবাহী এমভি সান সি জাহাজটি কানাডার জলসীমায় প্রবেশের পর কানাডা নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট এটিকে আটক করে কানাডার বন্দরে নিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ এক এক করে ৪৯০ জন অভিবাসীকে জাহাজ থেকে বের করে আনে। এ সময় তাঁদের কালো ছাতা দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়। এরপর সশস্ত্র সেনা প্রহরায় বাসে করে তাঁদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির রব জনস্টন বলেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার নিতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। জননিরাপত্তা-বিষয়কমন্ত্রী ভিক টোয়েন সাংবাদিকদের জানান, ‘অপরাধী বা সন্ত্রাসীরা যাতে আমাদের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

পেন্টাগনের হুমকিকে ভয় পাই না: উইকিলিকস

আফগান যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন তথ্যের নথি প্রকাশকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ বলেছেন, আমরা পেন্টাগনের হুমকিতে ভয় পাই না। জুলিয়ান গতকাল শনিবার সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
জুলিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও মার্কিন সৈন্যদের আরও ১৫ হাজার গোপন তথ্যের নথি প্রকাশ করবে উইকিলিকস।
এদিকে, পেন্টাগন এই ওয়েবসাইটকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আফগান যুদ্ধসংক্রান্ত এসব গোপন তথ্যের নথি প্রকাশ করা নিরাপত্তার জন্য আরও ক্ষতিকর এবং উইকিলিকসের প্রকাশিত ৭৬ হাজার নথির চেয়েও এটা বেশি প্রাণঘাতী হবে।
সাংবাদিকদের কাছে জুলিয়ান বলেন, ‘আমরা পেন্টাগন অথবা অন্য কোনো সংগঠনের হুমকিতে ভয় পাই না। আমরা নিরাপদ ও সতর্কভাবে আরও নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘এখন নথিগুলোর প্রতিটি লাইন ধরে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। আশা করছি, এগুলো এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করা যাবে।’
গত মাসে উইকিলিকস আফগান যুদ্ধবিষয়ক ৭০ হাজারের বেশি নথি প্রকাশ করে। নয় বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধের ব্যাপারে যখন মার্কিন জনগণ ও কংগ্রেসের সমর্থন কমে আসছে, ঠিক সেই সময় এসব তথ্য প্রকাশ করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা। এতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও তাঁদের তথ্যদাতা ব্যক্তিরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জিওফ মোরেল এক বিবৃতিতে বলেন, আরও নতুন নথি প্রকাশ করলে তা উইকিলিকসের জন্য হবে চরম দায়িত্বহীন কাজ।

শ্রীলঙ্কায় সরকার গঠিত কমিশনের তদন্ত শুরু

শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষ এক বছরের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে সরকার গঠিত কমিশন দেশটির উত্তরাঞ্চলের ভাবুনিয়ায় গণশুনানির কাজ শুরু করেছে। কমিশনের সদস্য হিসেবে দেশের আট নাগরিককে নির্বাচন করেছে সরকার। কমিশনে এসে অথবা গোপনে সাক্ষ্য দিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি সরকার নাকচ করে দিয়েছে।
গত বছর তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ ৩৭ বছরের সংঘাতের অবসান হয়। জাতিসংঘ মনে করে, গৃহযুদ্ধের শেষ পাঁচ মাসে বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অভিযানে অন্তত সাত হাজার তামিল বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সরকার দেশটির সামরিক বাহিনীর হাতে এত বিপুল প্রাণহানির কথা অস্বীকার করেছে।
কমিশনের সদস্যরা ভাবুনিয়ায় সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। গৃহযুদ্ধের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষ এই ভাবুনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সাক্ষ্য দিতে আসা কারও ভয়ের কোনো কারণ নেই। তাঁদের নিরাপত্তা এবং তাঁরা চাইলে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। তবে চলতি সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি রিপোর্টে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা সরকারের সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশঙ্কা রয়েছে।
অনুমোদন: শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে সাবেক সেনাপ্রধানের সামরিক সম্মান কেড়ে নেওয়ার দণ্ড অনুমোদন করেছেন। গত শুক্রবার একটি সামরিক আদালত সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার জন্য জেনারেল ফনসেকাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর র‌্যাংক ও সামরিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার দণ্ড দেন।

৬০ কোটি ডলারের সীমান্ত বিলে সই ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে ৬০ কোটি ডলারের একটি বিলে সই করেছেন। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে বিলটি পাস হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েনের জন্য এক হাজার টহল এজেন্ট নিয়োগ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির কাজে ব্যবহূত প্রযুক্তিসহ আরও কিছু কাজে এই তহবিল ব্যয় হবে।
নতুন করে ২৫০ জন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এজেন্টের জন্যও এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।
বৃহস্পতিবার বিলটি পাসের পর এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, নতুন এই বিল মেক্সিকোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করবে এবং উভয় দেশের সীমান্তে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি জেনেট নেপোলিতানো সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তের জন্য নতুন করে টহল এজেন্ট নিয়োগ, তাঁদের প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনে আট মাস সময় লাগবে।

চীনে আবার ভূমিধস ৩২ জন নিখোঁজ

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে ভূমিধসে ৩২ জন নিখোঁজ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ায় আজ রোববার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। গতকাল শনিবার কর্তৃপক্ষ এ শোক পালনের ঘোষণা দেয়।
স্টেট কাউন্সিল গতকাল জানিয়েছে, ভূমিধসে হতাহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রোববার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং সব ধরনের বিনোদন আয়োজন বন্ধ থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারীবর্ষণ শনিবারও অব্যাহত থাকবে। এতে করে গানসু ও শিচুয়ান প্রদেশে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে এবং নতুন করে ভূমিধস হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বন্যা এবং ভূমিধসে এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রীয় হিসাব অনুযায়ী গত শুক্রবার পর্যন্ত মারা গেছে এক হাজার ১৫৬ জন।
এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েনচুয়ান কাউন্টিতে নতুন করে আবার ভূমিধস হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিধসে কেউ মারা গেছে কি না, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছে।

কাশ্মীরে কারফিউ জোরদার

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান কারফিউ গতকাল শনিবার আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে গত শুক্রবার বিদ্রোহীদের হাতে চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত শুক্রবার সংঘটিত এ সংঘর্ষে ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং ১০ জন নাগরিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন ছাত্র ও একজন বৃদ্ধ। এ ঘটনার পর পুলিশ শ্রীনগরে কারফিউ জোরদার এবং সংঘর্ষকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করে।
প্রধান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেরাজ কাকরু বলেন, ‘শ্রীনগরে আইন এবং নিয়মশৃংখলা বজায় রাখতে আমরা কারফিউ জোরদার করেছি।’ সেনারা কারফিউ জোরদার করতে গতকাল সকাল থেকে শ্রীনগরের রাস্তায় টহল দিতে শুরু করেছে। এমন সময় এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যখন সমগ্র ভারতে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।
গত দুই মাসে বিদ্রোহীদের হাতে এ অঞ্চলে প্রায় ৫৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই কিশোর ও যুবক। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই ‘সহিংসতার চক্র’ তৈরি করে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

পাকিস্তানে দুই কোটি লোক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত: গিলানি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় দুই কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ এরই মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরা-আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বন্যার কারণে দেশটিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রোগ-ব্যাধির কারণে দ্বিতীয় দফায় অনেক প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।
বন্যার কারণে গতকাল শনিবার স্বাধীনতা দিবসের অধিকাংশ সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীতানুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সামরিক কুচকাওয়াজও। দিনটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী গিলানি বলেন, ‘বন্যায় প্রায় দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে কোটি কোটি ডলার দামের খেতের উঠতি ফসল ও খাদ্যের মজুদ। বন্যায় জাতীয় অর্থনীতির বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী গিলানি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় গোটা জাতিকে সাহস দেখাতে হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, জাতি আবারও এই সংকট থেকে বিজয়ীর বেশে মাথা তুলে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা মারাত্মক হুমকি, যা ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বদলে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এই বাণীতে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বন্যাদুর্গত মানুষের সাহস ও বীরত্বকে আমি অভিবাদন জানাই। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, তাঁদের দুর্দশা কমাতে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে।’
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ৪৬ কোটি ডলার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অপ্রতুল। এরই মধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় কলেরা-আক্রান্ত এক রোগীকে শনাক্ত করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেন, মিঙ্গোরায় কমপক্ষে একজন কলেরা-আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় কমপক্ষে ৩৬ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, এই দুর্যোগে এক হাজার ৬০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এক হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অবকাঠামো ও অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি পাকিস্তানকে পিছিয়ে দিতে পারে।
বন্যায় ফসলের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কৃষি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা এখন কঠিন। আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য ক্রপস প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশন বলছে, শুধু তুলা চাষে ক্ষতি হয়েছে ১৮০ কোটি ডলারের। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৭ মিলিয়ন কৃষি জমি এখন পানির নিচে।

গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণে সমর্থন ওবামার



যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে টুইন টাওয়ার দুর্ঘটনাস্থল ‘গ্রাউন্ড জিরো’র কাছে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শুক্রবার রাতে ওবামা বলেন, ‘একজন নাগরিক এবং একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে দেশের অন্য ধর্মাবলম্বীদের মতো মুসলিমদেরও সমান অধিকার রয়েছে।’
গ্রাউন্ড জিরোতে এই মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন নাগরিকদের একটি অংশ এই মসজিদ নির্মাণ পরিকল্পনার বিরোধী। মসজিদ নির্মাণে বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পেলিন, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলীয় সাবেক স্পিকার নেওট জিংরিচের মতো রাজনীতিকেরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি-ডিফেমেশন নামের ইহুদিবাদী সংগঠন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে রমজান শুরু উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ‘এটা আমেরিকা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই অপরিবর্তিত থাকবে। সে অনুযায়ী লোয়ার ম্যানহাটনে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে একটি ধর্মীয় স্থাপনা ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মানের অধিকার রয়েছে।’
লোয়ার ম্যানহাটনে করডোবা হাউস নামের কমিউনিটি হল ও একটি মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ। ৩ আগস্ট নিউইয়র্কের সিটি কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে এই পরিকল্পনা অনুমোদন করলে একটি অংশ খুশি হয়ে ওঠে। কিন্তু আরেকটি অংশ এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়। এর আগে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিতর্কে কোনো মত দেয়নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছিলেন, এটি নিউইয়র্কের নিজস্ব ব্যাপার।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার স্থানের খুব কাছেই ১০ কোটি ডলারের এই ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওবামার শুক্রবারের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। কিন্তু নিউইয়র্কে রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য পিটার কিং বলেছেন, ‘ওবামা ভুল করছেন। এই মসজিদ নির্মাণ করা হলে টুইন টাওয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনুভূতিতে আঘাত লাগবে।’
সম্প্রতি সিএনএন পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই মসজিদ নির্মাণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। ডেমোক্র্যাট দলীয় রাজনীতিকদের একটি বড় অংশ বিতর্কিত এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী

আমদানিজনিত চাহিদায় গত সপ্তাহে স্থানীয় আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর কিঞ্চিৎ বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার ৬৯ টাকা ৪৪ পয়সায় কেনাবেচা হয়, যা সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় ৬৯ টাকা ৪৫ পয়সায় ওঠে যায় এবং সপ্তাহ শেষেও প্রায় একই হার বজায় থাকে।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলার গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সময় কাটিয়েছে গত সপ্তাহে (৭ থেকে ১৩ আগস্ট)। জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলার টানা ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে এই সপ্তাহ পার করে।
শুক্রবার ইতালির ঋণকোষ বিক্রি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা তথ্যের দুর্বলতার কারণে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ঝুঁকিবিমুখতা দেখা দেয়। এর ফলে মার্কিন অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এর আগে অবশ্য জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মুদ্রা ইয়েনের দর নিয়ন্ত্রণে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না—এমন খবরে মুদ্রাটির বিনিময় হার মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর বদৌলতে মঙ্গলবার ও বুধবার পরপর দুই দিন জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর কমে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এর মধ্যে গত বুধবার প্রতি ডলার ৮৫ দশমিক ৭২ ইয়েনে লেনদেন হয়।
গত সপ্তাহে একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতির দুর্বলতার তথ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ ছেড়ে দিতে থাকে। যে কারণে বেশি সুদের মুদ্রা ও শেয়ারবাজারগুলোতে নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। যা হোক, সপ্তাহ শেষে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ২৭৬৩ ডলার, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৫৬১১ ডলার এবং প্রতি ডলার ৮৬ দশমিক ৩০ ইয়েনে লেনদেন হয়েছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৯৭ ডলারে উন্নীত হয়। তবে চীনের আমদানি কমে যাওয়ার খবরে মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলের দর ৮১ ডলারে নেমে আসে। চীন গত জুলাই মাসে প্রতিদিন ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল করে মোট এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। এর আগের মাসে অবশ্য চীন প্রতিদিন ৫৪ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল চীন। এই দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয় ওই দিনের শেষে।
ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর মঙ্গলবার নাটকীয়ভাবে বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাইমেক্স সূচকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দর শূন্য দশমিক ২ ডলার পড়ে যায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের নাইমেক্স সূচক আরও কমে। সপ্তাহ শেষে অপরিশোধিত তেলের নাইমেক্স সূচক ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে স্বর্ণ ও রৌপ্য আউন্সপ্রতি যথাক্রমে এক হাজার ২১৪ দশমিক ৪০ ডলার এবং ১৮ দশমিক ১০ ডলারে কেনাবেচা হয়।
এদিকে বাংলাদেশের আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহের শুরুতে কলমানি মার্কেটের লেনদেনে কিছুটা চাহিদা দেখা গেলেও বেশির ভাগ লেনদেনই হয় পাঁচ শতাংশ সুদে। তবে সপ্তাহের শেষভাগে আন্তব্যাংক কলমানির বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়, যে কারণে কলমানির সুদের হার বেড়ে আট শতাংশে ওঠে যায়।
আলোচ্য সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৫ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার দরপত্রের বিপরীতে ১৪০ কোটি টাকার দরপত্র গৃহীত হয়। এই বন্ডের নিলামে অন্তর্নিহিত সুদের হার ০১ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ০৮ দশমিক ৮৬ শতাংশে নির্ধারিত হয়। সূত্র: সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশ।

রাজবাড়ীতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পাট পচানোর জন্য সরকারি সহায়তা

পরিবেশবান্ধব ‘রিবন রেটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পাট জাগ দেওয়া তথা পচানোর জন্য রাজবাড়ী জেলার চার উপজেলার ৩৪ হাজার কৃষককে সরকার ৬৮ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকেরা যাতে পাটের আঁশের মানোন্নয়ন, উৎপাদন খরচ হ্রাস, কাটিংজনিত আঁশের অপচয় রোধ করতে এবং পাটের উপযুক্ত মূল্য ও মানসম্মত পাটকাঠি পেতে সক্ষম হন, সে জন্য তাঁদের উৎসাহিত করতে এই নগদ আর্থিক-সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
চলতি পাট মৌসুমে রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৮৯ জন কৃষক সাত হাজার ২৩৮ হেক্টর, পাংশা উপজেলায় ৬১ হাজার ৬০০ জন কৃষক ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৫০ জন কৃষক আট হাজার ৭৭৫ হেক্টর এবং গোয়ালন্দ উপজেলার নয় হাজার ১৬৪ জন কৃষক দুই হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ হাজার কৃষককে ছোট পুকুর তৈরি ও পলিথিন শিট ক্রয় এবং অন্যান্য খরচ বাবদ উল্লিখিত পরিমাণ সরকারি আর্থিক-সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেক কৃষক নিজ এলাকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার পর যাচাই-বাছাই শেষে ২০০ টাকা করে পাবেন।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ফারুক আহাম্মেদ প্রথম আলোকে জানান, পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ৩৪ হাজার কৃষকের জন্য ইতিমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৭৬টি, পাংশায় ১৭০টি, বালিয়াকান্দিতে ৬৯টি ও গোয়ালন্দ উপজেলায় ২৫টি রিবন রেটিং মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যমুনা সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডে (জেএফসিএল) গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আবারও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটি, বার্ষিক যান্ত্রিক মেরামত ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ১১০ দিন সার উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত ১৬ জুলাই আবার সার উৎপাদন শুরু করা হয়। ১২ ঘণ্টায় ৫০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হওয়ার পর ১৭ জুলাই ইউরিয়া প্লান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ২১ জুলাই রাতে সার উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২২ দিন কারখানায় সার উৎপাদন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ফের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে গত ২৭ দিনে তিন দফা যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ হলো।
কারখানার একটি সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে সর্বশেষ যান্ত্রিক মেরামত করা হয়। প্রতি এক বছর পরপর যান্ত্রিক মেরামত করার কথা থাকলেও দুই বছর পর ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ দিনের যান্ত্রিক মেরামত শেষ হয়। তারপরই ২৭ দিনে তিন দফায় কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ থাকে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে উৎপাদন এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন থেকে ৮৫০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। এদিকে কারখানা এক দিন বন্ধ থাকলে প্রায় দুই কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়।
জেএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আহসানুজ্জামান গত শুক্রবার প্রথম আলোকে জানান, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ও গ্যাসের কমপ্রেসার কমে যাওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে সার উৎপাদনে যাওয়া যাবে।

বিদেশে ৪৪ মিশনের ২৬টির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যে ২৬টি বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। অন্যদিকে ১৮টি মিশন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে ১০টি মিশন গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেশি আয় করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আলোচ্য অর্থবছরে নয়াদিল্লি, ত্রিপলি, নাইরোবি, মানামা, মাসকাট, থিম্পু, হ্যানয়, টোকিও, হংকং, দোহা, বেইজিং, ইয়াংগুন, কলম্বো, ম্যানিলা, মস্কো, জাকার্তা, রাবাত, কায়রো, আম্মান, ব্রুনাই, স্টকহোম, সিঙ্গাপুর, আঙ্কারা, কুয়ালালামপুর, সিউল ও তেহরান লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।
অন্যদিকে হেগ, রোম, অটোয়া, ক্যানবেরা, রিয়াদ, কাঠমান্ডু, দুবাই, ইসলামাবাদ, লন্ডন ও প্যারিস লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে বেশি আয় করেছে। এ ছাড়া বার্লিন, প্রিটোরিয়া, তাসখন্দ, ওয়াশিংটন, ব্যাংকক, কুয়েত, ব্রাসেলস ও মাদ্রিদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে কম রপ্তানি আয় করেছে।
ইপিবি ইতিমধ্যে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে মিশনগুলোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর মধ্যে বার্লিন, লন্ডন, প্যারিস, ব্রাসেলস, রোম, মাদ্রিদ, হেগ ও অটোয়ার মিশনগুলোকে আগের অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বার্লিন মিশনের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ২৪৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের প্রকৃত আয় ২২৫ কোটি ডলারের তুলনায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেশি। লন্ডন মিশনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮৫ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের রপ্তানি আয় ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ডলারের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। প্যারিসের লক্ষ্যমাত্রা ১২২ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। ব্রাসেলসের লক্ষ্যমাত্রা ৫১ কোটি সাড়ে ১৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। রোমের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭২ কোটি ৭৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। হেগের লক্ষ্যমাত্রাও ১২ শতাংশ বাড়িয়ে ১২০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার করা হয়েছে।
ইপিবির তথ্যানুসারে অটোয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৭৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। মাদ্রিদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্টকহোমের লক্ষ্যমাত্রা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে বেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আঙ্কারার ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, ম্যানিলার পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ডলার, থিম্পুর ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার, নয়াদিল্লির ৩৮ কোটি ডলারের বেশি এবং ইসলামাবাদের নয় কোটি ৬৬ লাখ ডলার ধার্য করা হয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি সাড়ে ৪৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৭৬০ ডলারের চেয়ে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

চিনির সিন্ডিকেটের সন্ধানে

দি সুগার সিন্ডিকেট নামে একটি স্পেশাল ব্র্যান্ড দুই বছর আগে শিকাগোতে সাড়া ফেলেছিল। ক্রেতার পছন্দমতো, দেয়ালঘড়ি, বাইবেল বা ইংরেজি বর্ণমালা—এমন হাজারও ডিজাইন ও ভিন্নস্বাদের কেক এবং বিস্কুট সরবরাহ করে আমেরিকানদের মন জয় করেছিলেন শেফ, ক্যাথি রাইহিল। ক্যাথি কি জানতেন চিনি সিন্ডিকেট বাংলাদেশে আতঙ্কের নাম?
সিন্ডিকেট সংবাদমাধ্যমের প্রিয় শব্দই নয়, বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যর্থতা ঢাকতে বাংলাদেশের মন্ত্রী-আমলাদের বক্তৃতারও প্রিয় অনুষঙ্গ।
ক্যামব্রিজ অভিধানে সিন্ডিকেট হলো গুটিকয়েক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন একটি নির্দিষ্ট ব্যবসার বিরাট তহবিল সংগঠনে একতাবদ্ধ হয়। মানবিক যোগাযোগ বিষয়ের এক বিখ্যাত পণ্ডিত বলেছিলেন শব্দের অর্থ থাকে না, যে অর্থ আরোপিত হয়, তাই তার অর্থ। সত্যিই তাত্ত্বিক পণ্যবাজারে সিন্ডিকেট নেই—বাংলাদেশে এটি বলতে যা বোঝায় তা সেখানে অলিগোপলি। অলিগোপলি হলো মুষ্টিমেয় বিক্রেতার বাজার, তারা পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে।
এমনকি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও এসব কথা এখন বললেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, ‘বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা যায়নি—চিনির সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র পাঁচজন, ভোজ্যতেলেও এমনই কয়েকজন।’ সিন্ডেকেটের প্রভাব সরকারের ভেতরেও—বলেছেন এই প্রভাবশালী মন্ত্রী। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন ভাঙা যায়নি সিন্ডিকেট? সিন্ডিকেটের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণের মতো অপকর্মগুলো কি তদন্ত করে প্রমাণসহ শনাক্ত করেছে সরকার?
২০০৩ সালে চিনি আমদানি উন্মুক্ত হয় বেসরকারি খাতে। যুক্তি ছিল—ক্রমবর্ধমান চাহিদা, অন্যদিকে সরকারি মিলগুলোতে ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন ও অস্থির বাজার। মনে করা হয়েছিল, বেসরকারি খাতের আমদানিতে সরবরাহ বাড়বে আর প্রতিযোগিতায় পণ্যটির দামও ভোক্তার অনুকূলে থাকবে।
চিনির বাজার এর পরই আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর বলা হলো, আমদানিকারকেরা বাজার নিয়ে খেলেন। ট্রেডার থেকে চিনির বাজার ইন্ডাস্ট্রির হাতে দিতে অপরিশোধিত চিনির উচ্চ আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনা হয়। আমদানিকারকদেরই কয়েকজন পরিশোধন কারখানা করলেন, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বাংলাদেশের চাহিদার কমপক্ষে চার গুণ।
তবে পরিশোধন কারখানাগুলো চোরাচালানি হয়ে আসা এবং ভর্তুকিমূল্যে আমদানি করা ভারতীয় চিনির সঙ্গে লড়াই করে দুই বছরেই অবস্থা কাহিল। একটি মিল উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, আরেকটি যন্ত্রপাতি স্থাপন করেও দুই বছর বসে থাকে। পরিস্থিতি পাল্টায় ২০০৮-এর শুরুতে ভারতে উৎপাদন মার খেয়ে চিনি চোরাচালান ও রপ্তানি বন্ধ হলে।
এরপর অবশ্য সারা দুনিয়ার চিনির বাজারই মাঝেমধ্যে অস্থির হতে থাকে। শীর্ষ রপ্তানিকারক ব্রাজিলে কিছু একটা সংকটের আঁচ দেখা দিলেই বিশ্ববাজার অস্থির। অস্থিরতায় ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি থাকে বেশি মুনাফার সম্ভাবনাও। তাই বিশ্বজুড়ে ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ঢুকে পড়ে চিনির বাজারে।
আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের চিনি পরিশোধনকারীরাও এই অধিক ঝুঁকি ও অধিক মুনাফার দুষ্টচক্রে ঢুকে পড়েছেন। তাঁরা কখনো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামাচ্ছেন, কখনো হারাচ্ছেন।
আবার মিলারদের নিজেদের মধ্যেও লড়াই হয়। একজনের স্টক কমলে আরেকজন দাম বাড়ান। কখনোবা আমদানি-মূল্যের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করে অন্যকে কাহিল করেন।
এমন বাজারে সরকার কী করবে? দেশের চিনির চাহিদা ১৪ লাখ টন আর সরকারি মিলগুলোর গতবারের মোট উৎপাদন ৬২ হাজার টন। অথচ গত দশকে বাৎসরিক উৎপাদন আড়াই লাখ টনও হয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তানেও সরকারি উৎপাদন ও মজুদ চাহিদার ১৫-২০ ভাগ। তার পরও বাজার সামলাতে নাকাল তারা। আর বাংলাদেশে প্রায় শূন্য মজুদ নিয়ে সরকার পার করছে বছরের পর বছর।
সিন্ডিকেট বুলির গোলকধাঁধায় ভোক্তা এখন বিরক্ত। বিএনপির মন্ত্রীরা একসময় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা বলেছেন, এখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বলছেন। কেউই সশরীরে সিন্ডিকেট ধরতে পারছেন না। যদি সত্যিই থেকে থাকে, তাহলে সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটিত হোক, নয়তো সরকার তার মজুদ শক্তি বাড়িয়ে পাইকারি বাজারে থাকুক।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম অংশের খসড়া তৈরি

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার বৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার কমানো, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতসহ আটটি লক্ষ্য সামনে রেখে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম অংশের খসড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। খাতভিত্তিক পরিকল্পনার দলিল অর্থাৎ দ্বিতীয় অংশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে আরও কিছুদিন পর।
সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্থাৎ নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ‘রূপকল্প ২০২১’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে এই পরিকল্পনা। ১৮ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় আরেক বৈঠকে দ্বিতীয় অংশের খসড়া উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এরপর মন্ত্রিসভায় পুরো দলিলের খসড়া উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় পর্যালোচনার পর অনুমোদন পেলে চূড়ান্ত খসড়াটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে তোলা হবে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে প্রধান করে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের ব্যাপারে সার্বিক পর্যবেক্ষণের জন্য অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের এক বৈঠকে পরিকল্পনার সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক অধ্যায়টি আটটি বিষয় নিয়ে সাজানোর জন্য একমত পোষণ করেছেন সদস্যরা।
প্যানেল-প্রধান ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কয়েকজন সদস্য এবং পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যে আটটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে: আগের অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করা; প্রবৃদ্ধির কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ; সামষ্টিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও আয়বৈষম্য কমিয়ে আনার কৌশল গ্রহণ; প্রতিবছর সামষ্টিক অর্থনীতির পরিকল্পনা গ্রহণ; সামাজিক সম্পদ ও কৌশল গ্রহণ; দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হবে শিল্পায়ন। পাশাপাশি থাকতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়ন। এতে আয়বৈষম্য দূর হবে, সমতাভিত্তিক অর্থনীতির বাস্তবায়ন হবে এবং সুসম উন্নয়নও সম্ভব হবে।
তাই বেকার যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। তাঁরা প্রয়োজনে সরকার-ঘোষিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং এই খাতের প্রয়োজনে শিক্ষাকেও অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের জন্য বিদ্যমান আড়াই শতাংশ বরাদ্দের পরিবর্তে সাড়ে তিন শতাংশ বরাদ্দ প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সবার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য গ্রামভিত্তিক নাকি নগরভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ প্রদানের সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে অর্থনীতিবিদেরা দেশের মুদ্রা বিনিময় হারের বিষয়ে একটি কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, এই বিনিময় হারের ওপর দেশের প্রবাসীসহ ব্যাপক মানুষ লাভ-লোকসানের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই যেনতেনভাবে বিনিময় হার আরোপ ঠিক নয় বলে মনে করেন তাঁরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে মূলত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়ে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দারিদ্র্য নিরসন, সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। স্বাভাবিক কারণেই এতে সরকারের রাজনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন থাকবে।
তবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম অংশের খসড়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।
মইনুল ইসলাম বলেন, ‘পরিকল্পনার খসড়ায় প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সেটাই চায়। ‘প্রবৃদ্ধি বাড়াও’ হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই নীতি-দর্শনে যে কারও কোনো লাভ হয় না, সেটা তো ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।’
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ভাবাদর্শের অনুসারী প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানের কোনো নীতি ও পরামর্শ গ্রহণ অন্তত আওয়ামী লীগের মতো সরকারের কাছ থেকে তিনি আশা করেন না বলে জানান।
মইনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাসের বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকা উচিত।’ আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের আশা পোষণ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পিআরআই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া প্রণয়নের কাজ করছে। তবে এ প্রসঙ্গে শামসুল আলম বলেন, পিআরআই গোটা দলিলের কিছু অংশের খসড়া প্রণয়নের কাজ করছে। বেশির ভাগ কাজই করছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

বিশ্বকাপে ‘ড্র’ থাকছে না

‘বদলে যাও, বদলে দাও’ স্লোগানটা বেশ জোরেশোরেই চলছে ফিফার মধ্যে। ফুটবলে রেফারিংয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস কদিন আগেই দিয়েছিলেন সেপ ব্ল্যাটার। ফিফা প্রধান এবার জানালেন, বিশ্বকাপের নিয়মেও পরিবর্তন আনতে চাইছেন তাঁরা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ‘ড্র’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ও তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে ফিফা। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ ড্র হলে বর্তমান নিয়মে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়। অনেক সময় এক পয়েন্ট হলেই চলে এমন ম্যাচে দলগুলো নেতিবাচক ফুটবল খেলে। এটি রুখতেই ফিফা চাইছে, ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শ্যুট আউটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করতে। এখনকার নিয়মে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতেই কেবল টাইব্রেকার হয়।
আরেকটি বিকল্প হিসেবে ‘গোল্ডেন গোল’ ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে ফিফা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এই নিয়মটি ছিল। যে নিয়মে অতিরিক্ত সময়ে কোনো দল গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই খেলা শেষ হয়ে যেত। বিতর্কের কারণে নিয়মটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচন যেন নির্বাসনে

নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন। বর্তমান সরকারের সময় নয় নয় করে এগারোটি ফেডারেশনে গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি। আগে থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি ছিল এক-দুটি ফেডারেশনে। সেগুলোয় এখনো নির্বাচন হয়নি। ফলে ক্রীড়াঙ্গনে আবার ‘অ্যাডহক’ সংস্কৃতির হাওয়া বইছে। এসব ফেডারেশনে নির্বাচন কবে হবে, কেউ জানে না।
২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারই ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে চালু করেছিল নির্বাচন-পদ্ধতি। সেই থেকে ফেডারেশনের ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল নির্বাচন। নির্বাচনের পদ্ধতিগত নানা ত্রুটি ছিল এবং আছে। তার পরও গণতান্ত্রিক সমাজে নির্বাচনের বিকল্প না থাকায় এর পক্ষেই জনমত।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ যেমন বলছেন, ‘নির্বাচন-প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক অনৈতিক কাজও হতে পারে, কিন্তু তার পরও নির্বাচনই হওয়া উচিত। এর পক্ষেই আমার অবস্থান।’
বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেয়নি। মেয়াদ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা হয়েছে টেনিস, দাবা, কাবাডি, উশু, ক্যারম, জিমন্যাস্টিকস, শরীর গঠন, রোইং, সাইক্লিং, হ্যান্ডবল ফেডারেশনে। কুস্তি ফেডারেশনে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি চলছে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে। এই সরকার এসেও আগের কমিটি বাতিল করে আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করেছে। এসব ফেডারেশনকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি কবে নির্বাচন করতে হবে।
টেনিস ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছিল গত বছর জুলাইয়ে। ১৩ মাস পার হয়েছে, এভাবে আর কত দিন? টেনিসের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার আমাদের এই কমিটি গঠন করে দিয়েছে। সরকার নির্বাচন দিলে নির্বাচন হবে। এখানে আমাদের কিছু করার বা বলার নেই।’
অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা নিয়ে আর সব ফেডারেশনে প্রতিবাদ না হলেও দাবা ফেডারেশন ছিল ব্যতিক্রম। শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু দাবাড়ু দাবা ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি মেনে নিতে পারেননি এবং তাঁদের বেশির ভাগই সেই থেকে এখন পর্যন্ত খেলা বর্জন করে চলেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরের দিকে দাবার ওই কমিটি করার পর বছরখানেক গড়াতে চলল। কিন্তু নির্বাচনের কোনো খবর নেই।
দাবা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘আমাদের তো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।’ তাহলে নির্বাচন হবে না? এবার বললেন, ‘আমাকে এভাবে জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারব না। নির্বাচনের সঙ্গে অনেক ফ্যাক্টর জড়িত আছে।’
অতিসম্প্রতি গঠিত হ্যান্ডবল ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনূর জানালেন, তাঁদের কমিটির সামনে কোনো সময়সীমা না দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে তাঁর ধারণা, ‘এ কমিটির মেয়াদ দীর্ঘায়িতই হবে মনে হচ্ছে।’ তাহলে নির্বাচন-প্রক্রিয়া থেকে সরকার বেরিয়ে আসছে? অভিজ্ঞ এই সংগঠক বলছেন, ‘নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তীকালীন দুই কমিটিতেই গলদ রয়েছে। কোনোটিকেই সমর্থন করতে পারছি না।’
ক্যারম ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা হয়েছে গত ১১ জুলাই। এই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘আমাদের সরকার বলে দিয়েছে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। ফেডারেশনের বেশির ভাগ কর্মকর্তাই নির্বাচন চান। তবে নির্বাচন কবে হবে বলতে পারব না।’
বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনে নির্বাচন দেবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় আছে। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিতে সত্যিকারের ক্রীড়াসংগঠকেরা এলে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে কোথাও কোথাও ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের লোকদের এনে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
এ ব্যাপারে বিওএর সহসভাপতি ও সাইক্লিং ফেডারেশনের সভাপতি মিজানুর রহমানের (মানু) অভিমত, ‘সরকার মনে করছে, ক্রীড়াঙ্গনে তার অবস্থান দুর্বল। তাই নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবেই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন বলে শুনেছি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
কী ভাবছে সরকার? অনেক চেষ্টা করেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কিংবা এনএসসির সচিবের বক্তব্য জানা যায়নি।

বার্সা-আতঙ্ক কাটাতে মরিনহো-দাওয়াই

সর্বশেষ চারটি ‘এল ক্লাসিকো’র প্রতিটিই হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনা তাদের কাছে এখন অলঙ্ঘনীয় এক বাধা। যেন চীনের মহাপ্রাচীর। সেই প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিতে চান হোসে মরিনহো। রিয়ালের নতুন কোচ জানিয়ে দিলেন, বার্সার সঙ্গে রিয়াল পারছে না এর কারণ যতটা না ফুটবলীয়, তার চেয়েও বেশি মানসিক। মাঠে নামার আগেই যে হেরে বসে রিয়ালের খেলোয়াড়েরা!
মরিনহোর কম্পিউটারে ধরা পড়েছে এই সমস্যাটাই, ‘আমি মনে করি, বার্সেলোনার বিপক্ষে না পারাটা অন্যকিছুর চেয়ে অনেক বেশি মানসিক সমস্যা। অনেক দল আছে যারা তাদের ভয় পায়। এই দলগুলো ভয় পায় বার্সেলোনার ওপর চড়াও হতে।’
হতে পারে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা বার্সেলোনাতেই খেলে। তবু বার্সেলোনাকে ভয়ের কিছু নেই বলেই মনে করেন মরিনহো। ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সেটি তিনি দেখিয়েও দিয়েছেন, ‘সবাই বার্সেলোনার বিপক্ষে আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচটার কথা টেনে বলে আমরা খুব রক্ষণাত্মক খেলেছি। কিন্তু তারা ভুলে যায় প্রথম লেগের কথা। যে ম্যাচে আমরা ওদের তিন গোল দিয়েছিলাম, গোলের সংখ্যা অনায়াসে চার-পাঁচটিও হতে পারত। এ কারণেই আমি বলি, সমস্যাটা মানসিক। প্রথম লেগ জেতার পর দ্বিতীয় লেগটা সুন্দর ফুটবল খেলার জন্য ছিল না, ছিল ইতিহাস গড়ার। আর আমরা ফাইনালে উঠে সেই ইতিহাসটাই গড়েছি।’ রিয়াল মাদ্রিদকেও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দিতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী মরিনহো।

অ্যাথলেট মাসুদের ক্যারিয়ার শেষ

দেশের সাবেক দ্রুততম মানব মাসুদুল করিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মাস তিনেক আগে অনুশীলনে কোমরে ব্যথা পান। সেই থেকে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে নেই। একেবারেই ট্র্যাকের বাইরে চলে গেলেন কি না, সেটা নিয়েই এখন সংশয়।
সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মাসুদুল করিম কাল ফোনে বলছিলেন, ‘আজ (কাল) সিএমএইচে ভর্তি হয়েছি। ডাক্তাররা এখনো কিছু বলেননি। তবে স্ক্যান রিপোর্টে ভালো কিছু আসেনি। কী যে হবে, বুঝতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া লাগতে পারে। জানি না, আবার খেলায় ফেরা সম্ভব কি না আমার পক্ষে।’

অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রঙিন পোশাক

অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রঙিন পোশাকে টেনিস! খেলোয়াড়দের কাছে এত দিন যা স্বপ্ন হয়েই ছিল, আগামী দুই বছরের মধ্যে সেটা ধরা দেবে বাস্তবতা হয়ে। তবে উইম্বলডনে নয়, ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী টেনিস কোর্টে রঙিন পোশাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে লন্ডন অলিম্পিকে। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সাদা-প্রীতি অনেক পুরোনো। উইম্বলডনই হোক কিংবা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট—১৪২ বছরের পুরোনো অল ইংল্যান্ড ক্লাবে ম্যাচ খেলার সময় সাদা পোশাক পরতে হয় প্রতিযোগীদের। ২০১২ অলিম্পিকে টেনিস খেলোয়াড়েরা নিজেদের পছন্দ মতো রঙিন পোশাক পরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন লন্ডন অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির ক্রীড়া পরিচালক ডেবি জেভান্স। তবে কোর্ট থাকবে সেই ঘাসেরই।

‘ত্রিমুখী ম্যাচে’ জয়ী ইন্টার

হোসে মরিনহো চলে গেলে কী হবে, ইন্টার মিলান এ বছরও সেরা! মৌসুম শুরুর আগেই ইন্টার নিজেদের ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ প্রমাণ করে দিল সিরি-আ শিরোপার বড় দুই দাবিদার এসি মিলান ও জুভেন্টাসের ওপর। এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে হলো না! শুক্রবার একটা ‘ত্রিমুখী ম্যাচ’ খেলে মিলান ও জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলে দিল ইন্টার!
ত্রিমুখী ম্যাচ মানে, এক মাঠে তিন দল একসঙ্গে পরস্পরের সঙ্গে লড়েছে। প্রতিটি খেলা হয়েছে ৪৫ মিনিট করে। ফলে তিন ম্যাচ শেষে প্রতিটি দলেরই ৯০ মিনিট করে খেলা হয়ে গেছে। বিচিত্র প্রক্রিয়ার এই ম্যাচ খেলে মৌসুম শুরুর আগে ‘টিআইএম ট্রফি’ জিতে নিল ইন্টার।
২০০১ সাল থেকে শুরু মৌসুম সূচক এই ত্রিমুখী টুর্নামেন্ট। ইন্টার, জুভেন্টাস ও মিলানই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে থাকে। এবার নিয়ে ছয়বার ট্রফি জিতল ইন্টার মিলান। তিনবার ট্রফি জিতে শিরোপা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে মিলান এবং গত মৌসুমে নিজেদের একমাত্র ট্রফিটি জিতেছে জুভেন্টাস।
যেহেতু ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মকানুন এই ম্যাচে অনুসরণ করা হয় না, তাই এটাকে স্বীকৃতি দেয় না ফিফা বা উয়েফা। সে স্বীকৃতি না দিলেও দলগুলোর মধ্যে এটা নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই।
দলগুলোর যে প্রবল উৎসাহ আছে, সেটা খেলোয়াড় তালিকার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। মোটামুটি সেরা দলই মাঠে নামিয়েছিল তিন দল। প্রথম ৪৫ মিনিটের ম্যাচে ইন্টার মিলান ওয়েসলি স্নাইডারের ২৫ মিনিটের গোলে হারিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসকে। যদিও স্যামুয়েল ইতো, ভিক্টর ওবিন্না, এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোরা গণ্ডায় গণ্ডায় মিস না করলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত রাফায়েল বেনিতেজের দল।
দ্বিতীয় ম্যাচে জুভেন্টাস এসি মিলানকে ১-১ গোলে আটকে দিয়েছিল। মিলানের গোলটি করেছেন ব্রাজিল তারকা রোনালদিনহো। জুভেন্টাসের গোলটি করেছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান, ডিয়েগো। পরে টাইব্রেকারে জিতেছে মিলান।
দুই মিলান প্রতিবেশীর গোলশূন্য ম্যাচও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায়। যেখানে লড়াই হয়েছে গোল মিসের। দুই দলের ৫ জন পেনাল্টি শট মিস করেছেন। এই মহড়ার মধ্যে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে ইন্টার।

দু-এক দিনের মধ্যে পিটারের সঙ্গে চুক্তি

দেড় বছর ধরে বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করলেও এখন পর্যন্ত হকি কোচ পিটার গেরহার্ডের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি হকি ফেডারেশন। ফেডারেশন থেকে আভাস দেওয়া হয়েছিল, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জার্মানি সফর শেষে চুক্তি হতে পারে। তবে এই জার্মান কোচের ওপর নিজেদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করছে না হকি ফেডারেশন। চুক্তিটা হয়ে যাচ্ছে দু-তিন দিনের মধ্যেই।
হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন গতকাল সে কথাই জানালেন, ‘চুক্তির খসড়া তৈরি। ২০ আগস্ট নাগাদ দল জার্মানি যাওয়ার আগেই চুক্তি করে ফেলব। সম্ভবত দু-তিন দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।’
পিটারের মাসিক বেতন হবে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ডলার। সঙ্গে থাকার খরচ। চুক্তিটা আপাতত চার মাসের। চার মাসের কেন? জামিল ব্যাখ্যা দিলেন, ‘নভেম্বরে এশিয়ান গেমস পর্যন্ত কোচের বেতন জোগানোর ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এরপর বেতন কে দেবে? এটাই বড় প্রশ্ন। তাই আপাতত চার মাসের জন্য চুক্তি করছি।’
চুক্তি ছাড়া এত দিন পিটার কাজ করে গেছেন কেন? প্রশ্ন বটে। আর্থিক অসচ্ছলতায় হকি ফেডারেশন চুক্তি করতে পারেনি, এটা ফেডারেশনের দুর্বলতা। যে কারণে পিটার নিজের খুশিমতো ঢাকায় এসেছেন আর দেশে গেছেন। ফেডারেশন তাঁকে জোর দিয়ে কিছু বলতে পারেনি। এবার যাতে ইউরোপে সফরে খেলোয়াড়েরা ঠিকভাবে সব সুযোগ-সুবিধা পান এবং পিটার দলের সঙ্গে থাকেন, সেটা চায় ফেডারেশন। সে জন্যই চুক্তির ব্যাপারে বেশ অগ্রগতি হয়েছে গত কয়েক দিনে।

দুই ইনিংসের ওয়ানডে নিয়ে হইচই

এক দিনের ক্রিকেটকে গতিশীল করতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দুই ইনিংসের ওয়ানডের অনুমোদন দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কিন্তু খেলবেন যাঁরা, সেই ক্রিকেটাররাই সন্তুষ্ট নন নতুন আদলের ম্যাচে। তাঁদের ধারণা, এটি ওয়ানডেকে আরও বিরক্তিকর করে তুলতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) দাবি, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করবে নতুন এই উদ্ভাবন, অনেক দিন ধরেই দুই ইনিংসের ওয়ানডের দাবি জানিয়ে আসা শচীন টেন্ডুলকার আবার স্বাগত জানিয়েছেন সিএর এই সিদ্ধান্তকে। আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকার ধারণা, খেলতে খেলতেই এই ফরম্যাটের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন ক্রিকেটাররা।
ওয়ানডের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার পর করণীয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি জরিপ করেছিল সিএ। সেই জরিপের সুপারিশ অনুযায়ী এ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৫ ওভারের ওয়ানডে চালু করা হচ্ছে, যেখানে ২০ ও ২৫ ওভারের দুটি ইনিংস খেলবে প্রতি দল। সিএর যুক্তি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মাঝের ওভারগুলো বড্ড ধীরগতির হয়ে পড়ে, দর্শকের জন্য খুব বিরক্তিকর হয়ে যায়। দুই ইনিংসের ওয়ানডে হলে খেলা ঝুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
দুই ইনিংসের ওয়ানডে চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তের পরই ক্রিকেটারদের নিয়েও জরিপ করেছিল সিএ। ৭৮ শতাংশ ক্রিকেটারই এর বিপক্ষে মত দিয়েছে। এসিএর দাবি, দুই ইনিংসের ওয়ানডের জন্য যে ফরম্যাট দিয়েছে সিএ, এতেও খেলা ঝুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে না। খেলা দুই ইনিংসের হলেও প্রতিটি দলের উইকেট ওই ১০টিই, ২০টি নয়। ফলে এখানেও শুরুতে উইকেট ধরে রেখে পরে আক্রমণের পথ বেছে নিতে পারে দলগুলো। গত বছর কাউন্টির দ্বিতীয় বিভাগেও দুই ইনিংসের ওয়ানডে চালু করেছিল ইংল্যান্ড। সেখানে দেখা গেছে প্রথম ইনিংসের শেষ দিকে আর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে অনেকটাই ঝিমিয়ে যায় ইনিংস। এসিএর প্রধান পল মার্শ ক্রিকেটারদের হয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন, ‘ক্রিকেটাররা জানে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ওয়ানডে ক্রিকেট এবং সবাই একসঙ্গে মিলেই এটার সমাধান করতে চায়। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে দুই ইনিংসের ওয়ানডেই সেরা সমাধান নয়। এই পদ্ধতি বুঝে ওঠাই কঠিন, ক্রিকেটাররা ভীষণ হতাশ।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সভায় সামনাসামনিই এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিং। গত বছর কাউন্টিতে যাঁরা দুই ইনিংসের ওয়ানডে খেলেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ভিক্টোরিয়া লেগ স্পিনার ব্রাইস ম্যাকগেইনের উপলব্ধি, ‘কাউন্টিতেও শুরুতে উইকেট ধরে রেখে সবাই শেষ পাঁচ-ছয় ওভারেই মারতে চাইত। আরেকটা ঝামেলা আছে, প্রথম ইনিংসের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানকে দ্বিতীয় ইনিংসে আবার নতুন করে সেট হতে হয়। এতেও গতি নষ্ট হয়।’
নতুন ফরম্যাটে একটা প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করেছিল সিএ। সাউথ অস্ট্রেলিয়া রেডব্যাকস ও তাসমানিয়ান টাইগার্সের ওই ম্যাচে খেলা উইকেটকিপার গ্রাহাম ম্যানু ‘টুইটারে’ লিখেছেন, ‘দুই ইনিংসের ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য ও দর্শকের জন্য কতটা ভালো হবে, এটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’ নাথান ব্রাকেন লিখেছেন, ‘মোটেও এটির ভক্ত নই, কোনো দলের সূচনা খারাপ হলেও খেলা চরম বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।’ জুলাইয়ে যখন এসব নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছিল, তখনই মাইক হাসি বলেছিলেন, বিশ্বকাপের আগে আগে দুই ইনিংসের ওয়ানডে চালু করায় বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বাধা পেতে পারে।
তবে ব্যাটিং কিংবদন্তি টেন্ডুলকারের ধারণা, এই ফরম্যাট ভবিষ্যতে সুফলই বয়ে আনবে, ‘এখন টসের পরই ৭৫ শতাংশ ম্যাচের ফলাফল বলে দেওয়া যায়। দুই ইনিংসের ওয়ানডে হলে টস আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না। দিবারাত্রির ম্যাচেও কোনো দল বাড়তি সুবিধা পাবে না, কারণ দুই দলকেই রাতে ব্যাটিং করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় এটা চালু হওয়ায় আমি সত্যিই খুশি। আমার ধারণা, কিছুদিন খেলার পরই ক্রিকেটাররা এর উপযোগিতা বুঝতে পারবে।’ ওয়েবসাইট।

যে নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডে
 ২০ ও ২৫ ওভারের দুটি ইনিংস খেলবে প্রতিটি দল।
 একজন বোলার সর্বোচ্চ ১২ ওভার বোলিং করতে পারবেন।
 প্রতিটি দলে খেলবেন ১২ জন, তবে উইকেট ১০টি-ই। ব্যাটিং করবেন ১২ জনের ১১ জন, ফিল্ডিংয়ের সময়ও নামবেন ১১ জন।
 এক ওভারে দুটি বাউন্সার দেওয়া যাবে।
 প্রতি ইনিংসের দুই প্রান্তে দুটি নতুন বল দিয়ে ইনিংস শুরু হবে। এরপর আর বল পরিবর্তন করা যাবে না।
 কোনো পাওয়ার প্লে নেই
 ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা: ১-৫ ওভার ও ২১-২৫ ওভার—বৃত্তের বাইরে দুজন, ৬-২০ ওভার ও ২৬-৪৫ ওভার—বাইরে ৪ জন।

বেকহামের ওপর ক্যাপেলোর প্রতিশোধ

একসময় যে ইংলিশ মিডিয়া তাঁর নাম দিয়েছিল ‘গোল্ডেন বয়’, এখন তারাই লিখছে, ‘ওল্ডেন বয়’। ডেভিড বেকহাম সত্যিই বুড়ো হয়ে গেছেন! কেউ কেউ আবার এককাঠি বেশি সরেস। বেন্ড ইট লাইক বেকহাম ভেংচিয়ে লেখা হচ্ছে, ‘এন্ড ইট লাইক বেকহাম’। বেকহামের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ‘এন্ড’টা যে হলো অপ্রত্যাশিত। ওয়েবসাইট।
ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো কেন বেকহামকে আগে না জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রথম দিলেন তাঁকে ছেঁটে ফেলার খবর? প্রশ্নটার উত্তর দিতে গিয়ে আরেকটি বোমা ফাটিয়েছে দ্য সান। ইংলিশ ট্যাবলয়েডটি জানিয়েছে, ক্যাপেলো নাকি স্রেফ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়েই এ কাজটি করেছেন! বেকহামকে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, ‘তুমি তোমার চৌহদ্দির মধ্যেই থাকো। সীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করো না।’
তা বেকহামের ওপর কেন এত চটলেন তিনি? কারণ বেকহাম তাঁর বাড়া ভাতে ছাই ছিটানোর ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ভরাডুবির পর ক্যাপেলোকে সরিয়ে বেকহামকে কোচ বানানোর ব্যাপারে একটা জনমতই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বেকহামও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে এক দিন জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সতীর্থদের ওপরও বেকহামের প্রভাব অন্যরকম। বিশ্বকাপে ব্যাকরুম স্টাফের একজন হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া বেকহাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃত্বের প্রশ্নে এগিয়ে ছিলেন ক্যাপেলোর চেয়েও! বেকহামের সঙ্গে তাঁর অহংবোধের লড়াই আরও পুরোনো। ২০০৭ সালেই বেকহাম রিয়াল মাদ্রিদে খেলতেন যখন, ক্লাবের কোচ ছিলেন এই ক্যাপেলোই। তখনই দুজনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। সেই সম্পর্ক মেরামত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ক্ষতটা আসলে পুরোপুরি শুকায়নি।
বিশ্বকাপের পর দলের ওপর নিয়ন্ত্রণের রশিটা আলগা হয়ে যাচ্ছিল ক্যাপেলোর। আর সেটা বুঝতে পেরেই ‘হু ইজ দ্য বস’ বুঝিয়ে দিতে নাকি তিনি এই কঠিন পথে হেঁটেছেন। বেকহামকে ছেঁটে ফেলে রুনিদের বার্তা দেওয়া, ‘সাবধান!’
৩৫ বছর বয়সী বেকহাম জাতীয় দলে খেলার জন্য এত মরিয়া কেন? এতসব হাঙ্গামা করার চেয়ে তাঁর সরে যাওয়াই তো ভালো। এ কি স্রেফ জাতীয় দলের প্রতি আনুগত্য আর ভালোবাসার টান? নিন্দুকেরা হিসাব কষে দেখিয়ে দিচ্ছেন, ভালোবাসা থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার আকূলতার পেছনে আছে ব্যবসায়িক হিসাবও। ইংল্যান্ড দলে না খেলা মানে ইংলিশ সমর্থকদের আড়ালে চলে যাওয়া। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বেকহাম যে ডজনখানেক পণ্যের দূত, সেগুলোর ওপর।

ধোনির ‘ওয়াকআউট’

রানের হিসাবে নিজেদের ইতিহাসের চতুর্থ বৃহত্তম পরাজয়ের পরই মহেন্দ্র সিং ধোনি উইকেট নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এবার সেই ডাম্বুলার উইকেটের কারণে রাগে অনুশীলন বর্জন করে বেরিয়ে গেলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, গতকাল ডাম্বুলার অনুশীলন উইকেটেও অননুমিতভাবে লাফালাফি করছিল বল। ও রকমই লাফিয়ে ওঠা একটা বলে হাতে চোটও পেয়েছেন ওপেনার দিনেশ কার্তিক। এমনকি এই চোট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামীকালকের ম্যাচে নাকি অনিশ্চিতও করে ফেলেছে কার্তিককে। ওয়েবসাইট।
আর এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের চোটে ভীষণ চটেছেন ধোনি। ঘটনার পরপরই রেগেমেগে অনুশীলন ছেড়ে হোটেলে চলে গেছেন ভারতের অন্যতম সফল এই অধিনায়ক।
কিন্তু পুরো ব্যাপারটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ভারতীয় দলের ম্যানেজার রঞ্জীব বিসওয়াল। কার্তিকের ইনজুরি বা ধোনির ‘ওয়াকআউট’ নিয়ে কথা বলেননি তিনি। তবে তিনি উইকেট নিয়ে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন, ‘স্টেডিয়ামে অনুশীলন সুবিধা খারাপ নয়। তবে উইকেট অনুশীলনের জন্য আদর্শ নয়। উইকেটের জন্য আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’