Monday, August 24, 2015

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময়ের ভূমিকা স্পষ্ট করুন -ইনুর উদ্দেশে বিএনপি

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে বঙ্গবন্ধু হত্যার সময়ে তাঁর ভূমিকা ‘স্পষ্ট করতে’ বলেছে বিএনপি। অন্যথায় সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে দলটি। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার জবাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘শেখ হাসিনা তাঁর মন্ত্রিসভায় এমন লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন, যারা তাঁর পিতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল। এই ইনুরাই শেখ মুজিবের সরকারকে উৎখাত করতে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছে। এ দেশে সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। আজ তাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলে, এটা জাতির জন্য উপহাস।’
বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে রোববার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, হাসানুল হক ইনুকে ওই সময়ে তাঁর ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। অন্যথায় সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সন্ত্রাস ও হত্যার মধ্য দিয়ে যাঁদের রাজনীতি শুরু, তাঁদের কাছ থেকে যদি গণতন্ত্র শিখতে হয়; তার চেয়ে দুর্ভাগ্য জাতির জন্য আর কিছু নেই। তিনি বলেন, দুদিন আগে বিএনপির চেয়ারপারসন দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের একজন মন্ত্রী নিজের মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়ারপারসনের বক্তব্য খণ্ডন করে তাঁর স্বভাবসুলভ কটু কথা বলেছেন।
রিপন বলেন, ‘নিজেকে প্রচারে রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই ইনুর মতো মন্ত্রীরা এসব কথা বলেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, এএসএম আবদুল হালিম, দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

শফিউল্লাহ বেয়াদব, জাসদই বঙ্গবন্ধু হত্যার পথ পরিষ্কার করেছিল : শেখ ফজলুল করিম সেলিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, জাসদই বঙ্গবন্ধু হত্যার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করতো। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নামধারী জাসদ। কী বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র, কী বিপ্লব ঘটাবে তারা? যেহেতু জাসদের কর্মীরা মুজিববাহিনী, মুক্তিবাহিনী, গণবাহিনীতে ছিল, তাই বঙ্গবন্ধুর হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটা তো কোনো সেনা অভ্যুত্থান ছিল না। বিপথগামী সেনা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। যখন তারা অস্ত্র নেয়, তখনই তাদের কোর্ট মার্শাল হওয়া উচিত ছিল। তখনকার সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, উনি (কে এম শফিউল্লাহ) এগিয়ে আসলেন না। কীসের জন্য তিনি নীরব ছিলেন? শেখ মনি মারা যাওয়ার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। শফিউল্লাহ এখন মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু সবার কাছে ফোন করেছেন। কর্নেল শাফায়াত ছুটে এসেছিলেন। আর উনি বসে বসে বুড়ো আঙুল চুষেছেন। তিনি বলেন, উনি (কে এম শফিউল্লাহ) বঙ্গবন্ধুকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। কত বড় বেয়াদব! বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আর্মির ভয়ে বাসা থেকে পালান না, আর তার বানানো আর্মি দেখে উনি পালিয়ে যাবেন!
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মারা যাবার পরেই শফিউল্লাহ বিপথগামী সৈনিকদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে গেলেন। কেন তিনি আদেশ দিলেন না, যারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে গেছে, তারা আর ঢুকতে পারবে না। এরা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকলে এদের অ্যারেস্ট করা হবে। কিন্তু অ্যারেস্ট করা হলো না। তাকে (শফিউল্লাহ) নিয়ে আসল। ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমেদ, কলাবাগান থানার সভাপতি নাজমুল করিম, হাজারীবাগ থানার সভাপতি ইলিয়াছুর রহমান, নিউ মার্কেট থানার সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

জাপানে আগ্নেয়াস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণ

জাপানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রোববার দিবাগত রাতে আগ্নেয়াস্ত্রের একটি গুদামে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। সাগামিহারা শহরের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে আজ সোমবার নিশ্চিত করেছেন দেশটির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
সাগামিহারা শহরের স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল দিবাগত রাতে মার্কিন সেনাঘাঁটির আগ্নেয়াস্ত্রের একটি গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। এতে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে ওই গুদামের কাছাকাছি আর কোনো ভবন না থাকায় আগুন কোথাও ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। গুদামটিতে আসলে কী ধরনের পদার্থ ছিল এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন নৌ কমান্ডার বিল আরবান বলেন, সাগামিহারা শহরে মার্কিন সেনাঘাঁটির সাগামি ডিপোতে এই বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক ইমেইল বিবৃতিতে বিল আরবান বলেন, ‘এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার আগেই অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা তা নিভিয়ে ফেলেন।’
এর আগে সকালে জাপানের ব্রডকাস্টিং করপোরেশন জানিয়েছিল, মার্কিন সেনাঘাঁটির সাগামি ডিপোতে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ও গোলাবারুদ মজুত করে রাখা হতো।

গুজরাটে মুসলিম নেতা ও তার পুত্রকে গুলি করে হত্যা

ভারতের গুজরাটে বিজেপির সংখ্যালঘু মুসলিম নেতা ও তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। শনিবার রাতে ৫ মুখোশধারী দুষ্কৃতি বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জাতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলিয়াস খান পাঠান এবং তার ছেলে আসিফ খান পাঠানকে হত্যা করে। দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে ইলিয়াস খান পাঠানের অন্য ছেলে আকবর মারাত্মকভাবে আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইলিয়াসের ওপর হামলা হলে তার দুই ছেলে আসিফ এবং আকবর তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে গেলে তাদের উপরে গুলি চালায় হামলাকারীরা।
সূত্রে প্রকাশ, ৫ সশস্ত্র দুষ্কৃতি ইলিয়াস খান পাঠানের রাজকোটের বাড়িতে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে হামলা করে। হামলাকারীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ধারালো চাকু এবং লাঠি ছিল। হামলাকারীরা একটি গাড়িতে করে এসেছিল। ঘটনার পরে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস খান পাঠানের বাড়িতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। যদিও এ নিয়ে এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ অবশ্য কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
ইলিয়াস খান পাঠান আগে গুজরাট কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের যুব নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিজেপির সিনিয়র নেতা বেঙ্কইয়া নাইডু এবং অরুণ জেটলির উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন। সম্প্রতি তাকে হজ কমিটির মেম্বার করা হয়েছিল। গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তাকে বিজেপি’র সংখ্যালঘু শাখায় শামিল করা হয়।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান জানে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান আত্মরক্ষা করতে জানে বলে সরাসরি হুমকি ছুঁড়ে দিলেন সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সরতাজ আজিজ। ভারতের বিরুদ্ধে বড়ভাইসুলভ আচরণের অভিযোগ এনে এই হুমকি দিলেন আজিজ। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত এমন ভাব করছে যেন তারা এই অঞ্চলের সুপারপাওয়ার। আমরাও পরমাণু অস্ত্রে বলীয়ান। কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয় তা আমাদের জানা আছে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' পাকিস্তানে সন্ত্রাস ছড়ানোর কাজে জড়িত বলে অভিযোগ করে আজিজের দাবি এ ব্যাপারে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কথা বলে তা অপপ্রচার ছাড়া অন্য কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আজিজের কটাক্ষ, প্রমাণ দেয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচার করাই ভারতীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আজিজ বলেছেন, নিজেদের শর্তেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়। ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা চায় না। উল্লেখ্য, পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর ইস্যু ছাড়া আলোচনায় নারাজ। এ প্রসঙ্গে তার যুক্তি, কাশ্মীর যদি কোনও ইস্যুই না হয় তাহলে ভারত সেখানে ৭০ হাজার সেনা মোতায়েন রেখেছে কেন।
আজিজের দাবি, কাশ্মীরের মানুষকে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত। এ জন্য ভারতের উচিত সেখানে গণভোট করা।
উল্লেখ্য, ভারত-পাক জাতীয় নিরাপত্তা পর্যায়ের বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আজিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম থেকে ভারতের বোঝা উচিত তাদের কৌশল কাজ করছে না। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে ভারতকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।
কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনায় অনড় থেকে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার অনুমতি না পেয়ে পাকিস্তান রবিবার ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করে।
পাকিস্তানের ওই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানান, ভারত কোনো শর্ত আরোপই করেনি। পাকিস্তানের তরফে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

মানবিকতার কাছে হার মানল মেসিডোনিয়া

শেষ পর্যন্ত এক রকম বাধ্য হয়েই মানবিকতার সামনে পরাজয় মেনে নিল মেসিডোনিয়া। গ্রিস সীমান্ত দিয়ে হাজারেরও শরণার্থীকে প্রবেশ করতে দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির প্রশাসন। দ্বিতীয় দিনের মতো অস্ত্র ব্যবহার করেও শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত অনুমতিই দিয়েছে সেখানকার পুলিশ। রাতের আঁধারে গ্রিস থেকে সীমান্ত পার হয়ে মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করল প্রায় দেড় হাজার শরণার্থী। আলজাজিরা জানিয়েছে, গত দু’দিনে রাতের অন্ধকারে হাজারো শরণার্থী খোলা মাঠে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে লুকিয়ে মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করতে পারলেও অনেককেই আবার নিজ দেশে ফেরতও পাঠানো হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে গুলিও। বৃহস্পতিবার থেকেই বৃষ্টিস্নাত কয়েক হাজার শরণার্থী গ্রিস ও মেসিডোনিয়া সীমান্তে আটকা পড়েন। এ সংকট নিরসনে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গ্রিস শাখা জানিয়েছে, শরণার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের মতো আচরণ করেছে মেসিডোনীয় পুলিশ। দু’দিন ধরে শরণার্থীদের ফিরিয়ে দিতে মেসিডোনিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এতে বেশ কিছু শরণার্থী আহত হয়। এদিকে দু’দিনে গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী-শিশুরা সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে। মায়ের কোলে শিশু। বাবার কাঁধে শিশুসন্তান। কাঁটাতারের সীমান্ত ছিন্ন করে তারা পার হতে চায়। তাদের সামনে অজানা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের দায়িত্ব নিতে চায় না কেউ। সিরিয়ার ইদলিব থেকে আসা একজন সিরীয় শরণার্থী আহমেদ সাতাফ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের শুধু মেসিডোনিয়ার সীমান্ত পার হতে দেয়া হোক। আমরা সন্ত্রাসী নই। আমরা মানুষ। কোথায় মানবতা? কোথায় বিশ্ব?’ আহমেদ সাতাফ আরও বলেন, ‘আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমরা অর্থ চাই না। আমাদের সীমান্ত পার হতে দেয়া হোক। আমরা জার্মান যেতে চাই।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র গ্রিসে চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় জীবন নিয়ে শংকিত জনগণ শরণার্থী হিসেবে গ্রিস ছেড়ে সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য মেসিডোনিয়া সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পলায়নপর মানুষও রয়েছেন এ দলে।

সবজি বেচে হাসপাতাল গড়লেন সুভাষিণী

লোকের বাড়ি বাসন মেজেছেন, সবজি বিক্রি করেছেন, দিনমজুরি করেছেন, লোকের জুতা পালিশ করেছেন দিনের পর দিন। মাথানত করেছেন, সারা জীবন মাথা উঁচু করে বাঁচবেন বলে। অবশেষ সফল হলেন। নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে তিনি গড়ে ফেললেন একটি হাসপাতাল। অসাধারণ কীর্তিমান তিনি ভারতের অতি সাধারণ একজন নারী সুভাষিণী মিস্ত্রী। ১২ বছরে বিয়ে হয়ে যায় সুভাষিণীর। কোলে ৪ সন্তান। ২৩ বছরে মারা যান স্বামী। বিনা চিকিৎসায় স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাবেন, নাকি ৪ সন্তানকে মানুষ করবেন। তিনি লেখাপড়াও শেখেননি। ছোটখাটো চাকরি জুগিয়ে সংসার চালানোর পথও বন্ধ। কিছু একটা করতেই হবে... এমন স্থির করলেন!
চোখের সামনে আর কোনো ব্যক্তিকে যাতে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ খোয়াতে না হয়, এ জন্য নিজেকে নিজে কথা দিলেন সুভাষিণী দেবী। মনে মনে পণ করলেন হাসপাতাল গড়বেন। সেই হাসপাতালে গরিবের চিকিৎসা হবে বিনা পয়সায়। সবজি বেচে, আয়ার কাজ করে, জুতা পালিশ করে যা পেতেন, তা থেকেই জমাতেন। অল্প অল্প করেই জমে যায় এক লাখ ভারতীয় মুদ্রা। সেই টাকায় হংসপুকুরে এক একর জমি কিনলেন। নিজের মাথা গোঁজার জন্য নয়, গরিবের চিকিৎসার জন্য। বড় ছেলে ততদিনে øাতক হয়েছে। দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছিলেন না বলে মেজ ছেলে অজয়কে অনাথ আশ্রমে দিয়েছিলেন সুভাষিণী। অজয় ততদিনে ডাক্তার হয়েছে। সুভাষিণী অজয়কেই বললেন, ৪০ বছর ধরে লালন করে আসা স্বপ্নটির কথা। শুরু হল ছোট্ট একটা কুঁড়েঘরে গরিব রোগীদের চিকিৎসা। ১৯৯৬ সালে এর নাম দেয়া হয় হিউম্যানিটি হাসপাতাল।

ইগো কূটনীতি আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি

আবারও পণ্ড হল পাকিস্তান-ভারত আলোচনা। দৃশ্যপট একই। পারস্পরিক দোষারোপ, জেদাজেদি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রধান হয়ে উঠেছে দুই দেশের ‘ইগো’। কেউ কারও কাছে ছোট হতে রাজি না। তবে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে এমন ব্যর্থ কূটনীতি আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার পাক-ভারত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) স্তরের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রোববার দিল্লিতে আসার কথা ছিল পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজের। গত মাসে রাশিয়ার উফায় দুই প্রতিবেশী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নওয়াজ শরিফের বৈঠকে তৈরি হয়েছিল এ আলোচনার সুযোগ। তিক্ততা থেকে বেরিয়ে আসার খানিকটা সম্ভাবনা। কিন্তু তিক্ততার নাটকের মধ্য দিয়েই মিলিয়ে গেলে সেই সুযোগ। দিল্লিতে বৈঠকের আগে কাশ্মীরের হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গে বসার গোঁ ধরে থাকল পাকিস্তান। বৈঠকে তুলতে চাইল কাশ্মীর ইস্যু। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা শনিবার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এই দুটি পরিকল্পনা থেকে সরে এলে তবেই যেন সরতাজ আজিজ দিল্লিতে বৈঠক করতে আসেন। উফার বোঝা পড়া অনুযায়ী এ বৈঠক হবে সন্ত্রাস নিয়েই। রাতে ইসলামাবাদ জানিয়ে দেয়, বৈঠক হচ্ছে না।
ভারত যে ‘পূর্বশর্ত’ দিয়েছে, তা মানা সম্ভব নয়। আসলে এ ঘোষণাটুকুতেই যা দেরি হচ্ছিল। বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর চাপানের প্রক্রিয়াটাই চলছিল শুক্রবার থেকে। পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইকবাল সিমা বলেন, পাক-ভারত নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়া আঞ্চলিক শান্তির জন্য দুঃসংবাদ। নরেন্দ্র মোদি সরকার উফায় যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন, এটা তার স্পষ্ট লংঘন। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে কাশ্মীরি নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের পরামর্শ করতে চাওয়া মোটেই ভুল নয়।’ কাশ্মীর নেতা গিলানি ফের গৃহবন্দি : জম্মু-কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী হুরিয়াত নেতা সাঈদ আলি শাহ গিলানিকে আবারও গৃহবন্দি করল ভারতের পুলিশ। রোববার তার বাড়ির সামনে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাকে গৃহবন্দি করা হল। এদিন শ্রীনগরে এক সেমিনারে ভাষণ দেয়ার কথা ছিল এ হুরিয়াত নেতার। এদিকে গিলানিকে গৃহবন্দি করার প্রতিবাদে তার বাড়ির বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন গিলানি সমর্থকরা।

এসব ছিটমহলবাসীর কী হবে? by তুহিন ওয়াদুদ

ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে ছিটমহলবাসীর অনেক বড়
একটি অংশ এখন হতাশায় নিমজ্জিত
ছিটমহল বিনিময়-প্রক্রিয়া সামান্য ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে ছিটমহলবাসীর অনেক বড় একটি অংশ এখন হতাশায় নিমজ্জিত। ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময় হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের যারা ভারতের মূল ভূখণ্ডে যেতে চাইবে, আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তারা যেতে পারবে। যারা যাবে না, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ জরিপ হয়। সেই জরিপে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারাই কেবল কোন দেশে থাকবে, সেই মতামত নেওয়া হয়েছে ৬ থেকে ১৬ জুলাইয়ের পরিসংখ্যানে। যারা তখন অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি, তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাহলে জরিপে যারা বাদ পড়েছে, তারা ছিটের মানুষ বলে আপাতত স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ২০১১ সালের জরিপে বাদ পড়া ব্যক্তির সংখ্যা কত হবে, তা কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। অনেকের অনুমান, এই সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজারও হতে পারে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বৃহৎ ছিটমহল দাশিয়ার ছড়া। ২০১১ সালের জরিপে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বাস্তবতা বোঝার জন্য ঈদের আগের দিন গেলাম সেখানে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ী বাজার থেকে দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলে ঢুকেই ছোট কামাত এলাকায় এক বৃদ্ধকে দেখতে পেলাম। নাম মনমোহন রায়। জিজ্ঞাসা করলাম, ভারতে যাবেন, নাকি বাংলাদেশে থাকবেন? তিনি খুব হতাশ চিত্তে নাগরিকত্ব হারানোর কথা শোনালেন। তিনি জোর করে তাঁর বাড়ির ভেতরে আমাকে ডেকে নিলেন। অনেক পুরোনো কাগজপত্র ঘাঁটতে ঘাঁটতে তাঁর জমির দলিল বের করে এনে বললেন, ‘আমার বাবা ও তাঁর বাবা এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২০১১ সালের জরিপে আমাদের নাম নেই। আমরা এখন কোন দেশের তাহলে?’ মনমোহন রায়ের সঙ্গে কথা বলতেই তাঁর উঠানে আরও কয়েকজন উপস্থিত হলেন, যাঁদের নাম নেই ২০১১ সালের জরিপে। তাঁদের একজন সুদীপ রায় বলছিলেন, ‘আমরা এখন না ভারতের নাগরিক, না বাংলাদেশের নাগরিক।’ মনমোহন রায় ভারতে যেতে চেয়েছিলেন। পাশেই দাঁড়ানো কমলিনী রায়, শ্বশুরবাড়ি ভারতে। তাঁরও ইচ্ছা ভারতে যাওয়ার। ২০১১ সালের জরিপে তাঁর নাম না থাকার কারণে মনঃকষ্ট নিয়ে আছেন। তিনি এর সমাধান চান।
যাদের দেশ থেকেও নেই, তাদের দেশ দেওয়ার চেষ্টাতেই ছিটমহল বিনিময় হচ্ছে, কাউকে দেশহীন করার জন্য নয়। তাই যারা দেশহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে আছে, তারা কেউই যেন দেশহীন হয়ে না পড়ে।
কয়েক বাড়ি এগিয়ে গেলে বৃদ্ধা জাহানারার সঙ্গে কথা হলো। তিনিও জানালেন, অনেকেই বাদ পড়েছেন জনগণনা থেকে। তিনি বলছিলেন, ‘জরিপে বাদ পড়া লোকজন তো ইতিম হইল। তাদের এখন কোনো দেশ নাই। তবে একটু চেষ্টা করলেই এই ইতিমের মা-বাবা পাওয়া যাইবে। দুই দেশের সরকার যেন এদের মা-বাবাক আনি দেয়।’ আরও একটু এগিয়ে গেলে মোটরবাইক আর চালানো যায় না, এতটাই বেহাল দশা সড়কের। বাড়ির ভেতরের নারীর কাছে কণ্ঠ উঁচু করে জানতে চাইলাম, জরিপে এ বাড়ির কেউ বাদ পড়েছে নাকি? শরিফা নামের একজন এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমারই তো নাম নাই।’ মেয়েকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এরও নাম নাই।’ জানতে চাইলাম আশপাশে আর কারও নাম বাদ পড়েছে নাকি। তিনি জানান, পাশের বাড়ি রফিকুলের নাম বাদ পড়েছে। রফিকুলের বাড়ি গেলাম। সেখানে গিয়ে শুনলাম তাঁর পরিবার, তাঁর ভাইয়ের পরিবারসহ অনেকেরই নাম নেই ২০১১ সালের জরিপে।
মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনিও জানান, অনেকেই বাদ পড়েছেন জরিপ থেকে। তিনি আমাকে একটু পাশেই মহির নামের একজনের নাম বাদ পড়ার কথা জানালেন। মহিরের বাড়ির উঠানে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন বসে আছেন। তাঁদের অনেকেই বাদ পড়েছেন। মহিরের পরিবারের ১১ জনের কারও নাম নেই। জহুরুল, খালেকসহ অনেকেই বলছিলেন তাঁদের নাম না থাকার কথা। সেখানে সাইকেল চালিয়ে এসে দাঁড়ালেন আফসার আলী। কণ্ঠ থেকে গড় গড় করে ক্ষোভ ঝরে পড়ছে। তিনি দিল্লিতে চাকরি করেন। দিল্লি থেকে এসে দেখেন নাম নেই।
বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সরকারের প্রচেষ্টাই হচ্ছে ছিটমহলবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করা। সেখানে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সেটা যথাসময়ে দূর করাও ভীষণ প্রয়োজন। ২০১১ সালে যে জরিপ হয়েছে, তখন ভারতে যেতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৭৪৩ জন। এখন সেই সংখ্যা ৯৭৯ জন। ২০১১ সালের জরিপ যে সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করা হচ্ছে, তা-ও নয়। আবার সেই জরিপের পর নতুন করে জন্ম নেওয়া এবং বৈবাহিক সূত্রে অধিকারপ্রাপ্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাহলে যারা ২০১১ সালে বাদ পড়েছে, তারা কেন নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময়ে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদেরও অনেকেই বাদ পড়েছেন। ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে বাদ পড়া প্রকৃত ছিটমহলবাসীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।’ দািশয়ার ছড়ার স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত ২০০২-২০০৭ মেয়াদের পঞ্চায়েতপ্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপের কাজ করে বাদ পড়া বৈধ ছিটমহলবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’
কয়েক হাজার ছিটমহলবাসীর নাম বাদ পড়েছে ২০১১ সালের জরিপ থেকে। ৩১ জুলাইয়ের পর জরিপে বাদ পড়া ছিটমহলবাসীর অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা কম নয়। অবৈধ অভিবাসীদেরও নিজস্ব একটা দেশ থাকে। কিন্তু এরা হয়ে উঠবে দেশহীন। যাদের দেশ থেকেও নেই, তাদের দেশ দেওয়ার চেষ্টাতেই ছিটমহল বিনিময় হচ্ছে, কাউকে দেশহীন করার জন্য নয়। তাই যারা দেশহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে আছে, তারা কেউই যেন দেশহীন হয়ে না পড়ে; সেটাই আমরা বাংলাদেশ-ভারত উভয় রাষ্ট্রের কাছে আশা করি।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail. com

নগরপিতা একটু ভাববেন কি? by সজল চৌধুরী

নিউইয়র্ক শহর। একদল তরুণ স্থপতি অতি উচ্চ স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন একটি দিনের স্বপ্ন দেখছেন। ২০১২ সাল থেকে তাঁরা এই স্বপ্নকে লালন করে চলেছেন এবং সফল করার জন্য নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। শুধু এই ভেবে যে হয়তো কিছুদিনের মধ্যে তাঁরা শহরের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথ কিংবা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা অথবা পরিত্যক্ত জায়গাগুলোকে সবুজের সমারোহে ভরিয়ে দিতে পারবেন, তৈরি করতে পারবেন ‘অন্ধ ভূমিগর্ভে সূর্যের আহ্বান’ আর লোকারণ্য শহরকে দিতে পারবেন আরও কিছু নতুন সবুজকেন্দ্র, যা এত দিন মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তরুণ প্রজন্মের এই দলটির নাম লো-লাইন। যেখানে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মাটির নিচের জায়গাগুলোতে দিনের সূর্যালোক প্রবেশ করিয়ে সবুজ বাগান করতে।
আমাদের দেশের আজকের তরুণ প্রজন্মও কিন্তু থেমে নেই—থেমে নেই তাদের চিন্তাচেতনা। সদ্য পাস করা স্থপতি-পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, সবাই কোনো না কোনোভাবে তাঁদের নকশা করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবুজের সমারোহ ঘটাচ্ছেন, পরিবেশ নিয়ে চিন্তা করছেন। স্থাপনার অভ্যন্তরে তাপমাত্রা ও শক্তির অপচয় কমানোর জন্য চিন্তা করছেন, গবেষণা করছেন; এমনকি সচরাচর এমনও দেখা যাচ্ছে, আমাদের নবীন স্থপতি-পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবিত নকশা দেশে-বিদেশে স্থান করে নিচ্ছে, প্রশংসিত হচ্ছে অতি উচ্চপর্যায়ে। অথচ সেদিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ নেই আমাদের।
এবার একটু ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়া যাক। যখন কোনো স্থাপত্য-পরিকল্পনার ছাত্রছাত্রীকে নকশা প্রণয়ন কিংবা নগর সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া হয়—প্রথম শেখানো হয় বিন্যাস, ছন্দ, বৈচিত্র্য, ব্যাপকতা সম্পর্কে। যেমন ধরা যাক, আমাদের মানব শরীর যেখানে হাত-পা কিংবা কোনো অঙ্গ ছাড়া যেমন পরিপূর্ণ মানব শরীরের কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি একটি পরিপূর্ণ শহরকে ভাবা যায় না—সেখানকার সবুজ প্রাচীন আর নতুনের সহাবস্থান ব্যতিরেকে। আর যেকোনো একটির অভাবই যেকোনো শহরকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে, যার প্রতিটির মূল্য অপরিসীম। অথচ আমাদের দেশে কিছুদিন পরপরই খবর আসে নতুন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর ধ্বংসাত্মক মনোভাবের। আজ যখন উন্নত বিশ্বের একজন গবেষক ও অধ্যাপক অনেকের ভিড়ে শুধু বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেন, স্থপতি লুই আই কানের মহান স্থাপত্যকর্ম আমাদের মহান জাতীয় সংসদ ভবনকে দেখিয়ে বলে ওঠেন, ‘এই হচ্ছে বাংলাদেশ এবং স্থপতি লুই আই কানের মহান স্থাপত্যকীর্তি, যা কিনা স্থাপত্যের গর্ব সমস্ত বিশ্বের জন্য’, তখন একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্বিত হই। আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, সারা বিশ্বে যখন স্থাপত্য-পরিকল্পনা নিয়ে পড়ানো হয়, তখন বাংলাদেশের সংসদ ভবন এবং পুরোনো কিছু স্থাপত্য উদাহরণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। দুঃখ হয় এমনি সময়ে যখন দেশের সংবাদপত্রগুলোয় শিরোনাম হয় সংসদ ভবনের চারপাশে সুউচ্চ প্রাচীর তোলার পরিকল্পনা কিংবা অপরিকল্পিত মেট্রোরেল বা নদী দখলের খবর। কিছুদিন আগে হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো এক সেমিনারে দেখানো হয়েছিল ৩০০ বছরের পুরোনো লালবাগ কেল্লার স্থাপনা। এরপর খবর পেলাম পুরোনো প্রাচীর ভেঙে সেখানে গাড়ির পার্কিং করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়, অথচ আমরা বুঝতে শিখি না এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোই নীরবে দাঁড়িয়ে আমাদের বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখাচ্ছে। বুঝতে শিখি না দিনের পর দিন কী দিয়ে যাচ্ছে আমাদের আর বিশ্বের সামনে কী বলতে চাইছে ইট কংক্রিটের জঞ্জালে বেড়ে ওঠা এই শহরকে।
জানা গেছে, লালবাগের কেল্লার দেয়াল ভেঙে বাগান নষ্ট করে সেখানে যে পার্কিংয়ের জায়গা করা হচ্ছিল, সে কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে খোদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। বিভিন্ন সেমিনারে, সভায় প্রদর্শিত হওয়া বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো যখন বিশ্বের কাছে আবেগতাড়িত হয়, যখন কোনো অধ্যাপক স্থপতি-পরিকল্পনাবিদ ডেকে বলেন, ‘আমি তোমাদের বাংলাদেশ দেখতে চাই, তোমাদের স্থাপত্যগুলোকে উপলব্ধি করতে চাই’, ঠিক তখন আমাদের মাঠে নামতে হয় এসব মহামূল্যবান স্থাপত্যকে আমাদের নিজেদেরই হাত থেকে রক্ষার জন্য। আর এই লজ্জা রাখার জায়গা কোথায়? অথচ জাপানে দেখছি কী পরম মমতায় তারা রক্ষা করে চলছে সুপ্রাচীন গাছের গুঁড়ি থেকে শুরু করে শহরের প্রাচীন প্রতিটি ইট এমনকি প্রাচীন স্থাপত্যগুলোকে রক্ষার জন্য তারা তৈরি করেছে নিজস্ব কিছু আইন। কারণ, তারা জানে ও বিশ্বাস করে, মূলকে ভুলে গেলে নতুনকে বরণ করবে কীভাবে?
একটি সমুন্নত নগর গঠন করতে আসলে কী দরকার হয় প্রথম? গঠনমূলক ইচ্ছা ও সুপরিকল্পনা। আমরা অনেকেই জানি না, প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থাপত্য-পরিকল্পনা বিভাগগুলোতে ছাত্রছাত্রীরা তাদের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে নগর স্থাপত্য এবং পরিকল্পনাকেন্দ্রিক বিভিন্ন নকশা প্রণয়ন করে থাকে, যেখানে ওই বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরাসরি তত্ত্বাবধান করে থাকেন। আমাদের দেশের নগর কর্তৃপক্ষ সেসব প্রকল্প থেকে খুব সহজে অন্তত নগর উন্নয়নকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ সব ধারণা পেতে পারেন। এমনকি শ্রেণি প্রজেক্ট হিসেবেও বিশেষ বিশেষ প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে, সেখান থেকে আর কিছু না হলেও অকারণে অপরিকল্পিতভাবে কোনো স্থাপনা যেমন শহরের বুকে গড়ে উঠবে না, ঠিক তেমনি নির্বুদ্ধিতার জন্য সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার কোনো অংশ ভেঙে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের মতো অপরাধ ও অপরিকল্পনার কথা মাথায়ও আসবে না। আমাদের প্রয়োজন আমাদেরই বুঝতে হবে। আর এই সত্যটি আমাদের নবনির্বাচিত নগরপিতারা বুঝতে পারবেন কি?
সজল চৌধুরী: (বর্তমানে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিউম্যান এনভায়রনমেন্টাল সিস্টেমের ওপর গবেষণারত); সহকারী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
sajal_c@yahoo.com

ফ্রান্সে ট্রেনে জঙ্গি হামলা রুখে দিলেন দুই মার্কিন

স্পেনসার স্টোন, অ্যালেক স্কারলাটোস
ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলেছেন ট্রেনটির যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিক। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসে যাওয়ার পথে গত শুক্রবার বিকেলে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের অ্যারাঁসের কাছে হাইস্পিড ট্রেন সার্ভিস থ্যালিসে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির। ওই ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের সশস্ত্র ব্যক্তিকে ধরে ফেলা ওই দুই মার্কিন নাগরিক সাবেক সেনাসদস্য। ট্রেনের টয়লেটে বন্দুকধারীর আগ্নেয়াস্ত্র লোড করার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন তাঁরা দুজন। বন্দুকধারী টয়লেট থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন ওই দুই যাত্রী। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ২৬ বছর বয়সী সশস্ত্র ওই ব্যক্তি মরক্কোর নাগরিক অথবা মরক্কো বংশোদ্ভূত। ফরাসি শহর আরাঁসে ট্রেনটি থামানোর পর ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই ব্যক্তির কাছে একটি কালাশনিকভ, একটি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। সশস্ত্র ব্যক্তিকে ধরে ফেলা দুই মার্কিন নাগরিক হলেন স্পেনসার স্টোন ও অ্যালেক স্কারলাটোস। তাঁদের সঙ্গের ভ্রমণসঙ্গী অ্যান্থনি স্যাডলার ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন, ‘লোকটি গুলি করার চেষ্টা করলে অ্যালেক চেঁচিয়ে ওঠে, স্পেনসার যাও। আর তা শুনে স্পেনসার প্রথমে লোকটিকে ধরে ফেলে। অ্যালেক অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। একটি ছুরি দিয়ে বন্দুকধারী স্পেনসারকে আঘাত করে। লোকটি অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত আমরা ওকে পেটাতে থাকি।’ যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সশস্ত্র লোকটিকে ধরে ফেলার ফলে একটি ভয়াবহ বিপদ এড়ানো গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সশস্ত্র ব্যক্তিকে ধরে ফেলায় দুজনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সশস্ত্র ব্যক্তির সম্ভাব্য হামলার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারীরা তাঁকে জেরা করছে। প্যারিসে গত জানুয়ারি মাসে ১৭ জন নিহত হওয়ার পর ফ্রান্সে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপে সংকটে শরণার্থীরা

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় আইদোমেনি শহরের কাছাকাছি রেললাইন
ধরে হাঁটছে একটি পরিবার। সীমান্ত পেরিয়ে মেসিডোনিয়ায়
যেতে চাইলেও তাদের বাধা দেয় সে দেশের পুলিশ। ওই
সীমান্তে হাজারো শরণার্থী ও অভিবাসী খোলা আকাশের
নিচে গত শুক্রবার রাত কাটিয়েছে।। এএফপি
ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে চলমান সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে জায়গা দেওয়ার ব্যাপারে সমঝোতা হলেও কয়েকটি দেশের অভিযোগ, তাদের কাঁধে তুলনামূলক বেশি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিবাসী সমস্যা মোকাবিলায় মেসিডোনিয়ার সরকার গত বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। আর স্লোভেনিয়া মুসলিম শরণার্থীদের নিতে চাইছে না। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসির। বার্তা সংস্থাগুলো জানায়, গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তে অভিবাসীদের উপস্থিতি বেড়েই চলেছে। পশ্চিম ইউরোপে প্রবেশের লক্ষ্যে গতকাল শনিবারও অন্তত দুই হাজার শরণার্থী মেসিডোনিয়া সীমান্তে পৌঁছায়। তাদের প্রবেশে মেসিডোনিয়ার পুলিশ ও সেনারা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে শুক্রবার রাতে হাজারো মানুষ ওই সীমান্তে প্রবল বৃষ্টি ও ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাতে বাধ্য হয়।
তাদের অধিকাংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাগরিক। বিবিসির খবরে বলা হয়, মেসিডোনিয়ার সীমান্তে অভিবাসীদের লাঠিপেটা করা হলেও দেশটির সরকার তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওই কাজের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। সেখানে আশ্রয়প্রার্থীরা যে রকম আচরণ পেয়েছে, তা সাধারণত দাঙ্গাবাজেরাই পেয়ে থাকে বলে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে। কিন্তু মেসিডোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা পোপোস্কি গতকাল বলেন, প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রবেশ করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার বাধ্য হয়েছে। তবে কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ইউরোপে আশ্রয়ের সন্ধানে বিপজ্জনক উপায়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস ও ইতালির উপকূলে যাচ্ছে। গন্তব্য হিসেবে তাদের প্রথম পছন্দ ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জার্মান সরকার চলতি বছর সাড়ে সাত লাখ মানুষের কাছ থেকে আশ্রয়ের আবেদন পাবে বলে ধারণা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তবিষয়ক সংস্থা ফ্রন্টেক্স গত মঙ্গলবার জানায়, গত মাসে ইইউ সীমান্তে এক লাখ সাত হাজার অভিবাসী পৌঁছানোর রেকর্ড হয়েছে। কেবল গত সপ্তাহেই গ্রিস উপকূলে পা রেখেছে ২০ হাজার ৮০০ শরণার্থী। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেরনাদ ক্যাজনভ বৃহস্পতিবার বলেছেন, এত বেশি অভিবাসীর ইউরোপে প্রবেশের বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী অক্টোবরে আলোচনায় বসবেন।
অভিবাসী না শরণার্থী: কাতারভিত্তিক টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদ প্রতিষ্ঠান আল-জাজিরা বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের উপস্থাপক ও লেখকেরা গ্রিস উপকূলে আশ্রয়প্রার্থী মানুষের খবর পরিবেশনের সময় এখন থেকে আর ‘অভিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করবেন না। এ ক্ষেত্রে ‘শরণার্থী’ শব্দটিই বেশি উপযোগী। কারণ, এসব শরণার্থীর বেশির ভাগই নিজ দেশে চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে ইউরোপমুখী হচ্ছে। ‘অভিবাসী’ শব্দটির সাধারণ অর্থ: মৌসুমি কাজের খোঁজে বা উন্নততর জীবনযাত্রার সন্ধানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ। অন্যদিকে জাতিসংঘ নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘শরণার্থী’ শব্দটির অর্থ: বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা এবং কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সংগঠনের বা মতাদর্শের অনুসারী হওয়ার কারণে দেশান্তরি ব্যক্তি।

আর্কাইভস আইন: সময়ের চাকা উল্টো দিকে ঘোরানো নয় by মুহাম্মদ লুৎফুল হক

তথ্য হচ্ছে উন্নত বিশ্বের একটি অপরিহার্য সম্পদ। তথ্য ব্যতিরেকে, না সরকার না নাগরিক, কেউই যথাযথভাবে দায়িত্ব নির্বাহ করতে পারে না। তথ্যের পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করে দেশের সফলতা ও ব্যর্থতা। প্রচলিতভাবে নথি এবং আর্কাইভস হচ্ছে তথ্যের মূল উৎস। নথি ও আর্কাইভস সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণে সহায়তা করে। একইভাবে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্যও এর প্রয়োজন হয়। আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করার জন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বিভিন্ন নামে এক বা একাধিক আর্কাইভস আইন প্রণীত হয়েছে। যেমন: ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে পাবলিক রেকর্ডস অ্যাক্ট, সাউথ কোরিয়ায় পাবলিক রেকর্ডস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, জাপানে পাবলিক রেকর্ডস অ্যান্ড আর্কাইভস ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ওমানে রেকর্ডস অ্যান্ড আর্কাইভস ল এবং অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ায় ন্যাশনাল আর্কাইভস অ্যাক্ট নামে এই আইন প্রচলিত আছে। আইনের নামকরণ যাই হোক না কেন, বিশেষজ্ঞদের মতে আইনের উদ্দেশ্য হতে হবে:
সুষ্ঠু নথি ব্যবস্থাপনার সাহায্যে সব সরকারি কার্যালয়কে সরকারের কাছে দায়বদ্ধ করা, একই সঙ্গে সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করা, সরকারি নথির প্রতি জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা, দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করা, জাতীয় আর্কাইভসকে দেশের নথি ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে নির্ধারণ করে একে উপযুক্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা প্রদান করা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই আইনের একটি ‘চূড়ান্ত খসড়া’ আমাদের নজরে এসেছে। খসড়ায় লক্ষ করেছি যে আইনটি এককভাবে জাতীয় আর্কাইভস প্রশাসন ও দেশের নথি ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট হচ্ছে না। একই অধিদপ্তরের আওতাধীন হওয়ায় এর সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থাগারকেও সংযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সর্বোচ্চ সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আর্কাইভসের (আইসিএ) নির্দেশাবলিতে উল্লেখ আছে, ‘নথি ও আর্কাইভস সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি দেশ এক বা একাধিক আইন প্রণয়ন করতে পারে তবে আইনের ধারা হতে হবে স্বচ্ছ ও সংগতিপূর্ণ।’ আমরা একই আইনে আর্কাইভস প্রশাসন, নথি ব্যবস্থাপনা ও গ্রন্থাগার প্রশাসনকে যুক্ত করলে তা যৌক্তিক হবে না বরং সময়ের চাকাকে উল্টো দিকে ঘোরানোর নজির সৃষ্টি হবে।
খসড়া আইনের আর্কাইভস অংশটি পর্যালোচনা করলে মনে হয় যে এটি তৈরিতে যে পরিমাণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। এও মনে হয়নি যে এটির প্রস্তুতিতে আন্তর্জাতিক নির্দেশাবলি বা মান অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শঙ্কা হয় যে আইনটি বর্তমান অবস্থায় গৃহীত হলে আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সফল নাও হতে পারে।
খসড়া আইনটিতে মূলত জাতীয় আর্কাইভসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সারা দেশের নথি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশেষ কিছু উল্লেখ নেই। লাটভিয়ার আর্কাইভস আইনে নথি সৃষ্টিকারী সংস্থার জন্য প্রযোজ্য বাধ্যবাধকতার লম্বা তালিকা দেওয়া আছে। ভারতীয় আর্কাইভস আইনে প্রতিটি নথি সৃষ্টিকারী সংস্থায় একজন করে রেকর্ডস অফিসার নিয়োগ বাধ্যতামূলক। আইনে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত আছে। এই অফিসার সংস্থার নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য জাতীয় আর্কাইভসের প্রধানের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। জাতীয় আর্কাইভস নথি সৃষ্টিকারী সংস্থা ও রেকর্ডস অফিসারদের নেতৃত্বদানের মাধ্যমে সারা দেশের আর্কাইভস ও নথি ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব দিতে পারে। আইসিএর নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে, ‘সারা দেশের নথি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি ও নেটওয়ার্কের উন্নয়ন সহজতর করার জন্য জাতীয় আর্কাইভসকে সরকারের ভেতর ও বাইরের আর্কাইভস সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে নেতৃত্বে দিতে হবে।’
সাধারণভাবে এই আইন সরকারি, আধা সরকারি ও সরকারি অর্থে পরিচালিত সংস্থাসমূহের জন্য প্রযোজ্য হয়। তবে বেসরকারি ও সামাজিক সংস্থার ক্ষেত্রে এই আইনের কতটুকু প্রযোজ্য হবে তারও উল্লেখ থাকে। আইসিএর নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে, ‘আর্কাইভস আইনের পরিধি অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি সংস্থা ছাড়াও জনসম্পৃক্ততা আছে এমন সব সংস্থাকে এই আইনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে।’ আমাদের দেশে তথ্য অধিকার আইন প্রচলিত আছে। সরকারি কার্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাসমূহে উন্নত নথি ব্যবস্থাপনা না থাকলে জনগণের তথ্য অধিকার কার্যত ব্যর্থ হবে। তাই আর্কাইভস আইনে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আইনে দেশের আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কে হবে এবং তার দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা ইত্যাদি কেমন হবে, তা উল্লেখ থাকে। বেশির ভাগ দেশেই জাতীয় আর্কাইভস নথি ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়। তবে কোনো কোনো দেশে এ বিষয়ে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে।
জাতীয় আর্কাইভস, দেশের নথি ব্যবস্থাপনা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর উন্নয়নের জন্য আর্কাইভস আইনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিধান আছে। ইউনেসকোর নির্দেশাবলিতে উল্লেখ আছে, ‘নথির উৎসের অনন্য চরিত্র এবং বৈচিত্র্যের কারণে [আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনায়] একটি সংগঠন থাকা জরুরি, যার পরামর্শ প্রদান, সমন্বয় সাধন, তত্ত্বাবধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে। প্রয়োজনে এটি আর্কাইভসসমূহে ব্যবহারোপযোগী কর্মপদ্ধতির সাধারণ মানদণ্ড সূত্রবদ্ধ করতে সক্ষম হবে। এর আইনগত পরিধি জাতীয় আর্কাইভসের সংগঠন, কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করে এমন সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।’ প্রণিতব্য আইনে এ ধরনের উপযুক্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং তাকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান থাকতে হবে। আইসিএ এবং ইন্টারন্যাশনাল রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট ট্রাস্ট (আইআরএমটি)-এর নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আদর্শিকভাবে পরিষদের সদস্যসংখ্যা কম হবে এবং তাদের যোগ্যতা ও আগ্রহের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।
এই আইনটি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিনীতভাবে অনুরোধ করব যে আপনাদের প্রচেষ্টাটি যাতে সর্বাত্মকভাবে সফল হয়, এ জন্য আপনারা এ বিষয়ে ইউনেসকো, আইসিএ, আইআরএমটি এবং অন্যান্য উন্নত দেশের নির্দেশাবলিগুলো অনুসরণ করুন। ভারতের আর্কাইভস আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত পরিষদের কর্মকাণ্ড আপনাদের সাহায্যে আসতে পারে বিবেচনায় নিচে সংক্ষিপ্ত একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করলাম। তাদের কার্যকালে তারা ১২টি স্টেট ভ্রমণ করেছিল, এর জন্য তাদের ১০ হাজার মাইল পথ পরিক্রম করতে হয়। তারা প্রতি স্টেটে সংশ্লিষ্ট ১০-১২ জন করে মোট ১৩৬ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। তারা ১১টি মন্ত্রণালয় এবং এদের অধীন ২৫৩টি সংস্থা পরিদর্শন করে। দেশের আর্কাইভস প্রশাসন ও নথি ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য ৭৫টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালা প্রচার করে। পরিষদ ১৭ বার সভায় মিলিত হয় এবং শেষে ১২৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নথি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংকের জরিপে উল্লেখ আছে, ‘বাংলাদেশে নথি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বের দিক থেকে খুব নিম্নে। এতে সরকারের কর্ম সম্পাদন ও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে এবং টেকসই আইসিটি পদক্ষেপ গ্রহণে দুর্বলতা থাকছে।’ পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক আর্কাইভস আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে নথি ব্যবস্থাপনার দৈন্যদশা থেকে উত্তরণের পথ।
মুহাম্মদ লুৎফুল হক: গবেষক।
lutful55@gmail.com

হার্ডড্রাইভের জায়গা নেবে ডিএনএ?

ডিএনএতে হাজারো বছর ধরে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়
ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ডিএনএতে সংরক্ষিত দরকারি জ্ঞান হাজার বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব বলেই তাঁদের মত। আজ ডেইলি টেলিগ্রাফের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএনএতে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকেরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএতে সংরক্ষিত তথ্য ডাউনলোড করার একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে এক বিন্দু তরলের ওপর ভাসমান ডিএনএ তন্তু থেকে তথ্য খুঁজে বের করে আনার পদ্ধতি বের করা।
প্রধান গবেষক রবার্ট গ্র্যাস বলেন. কম্পিউটারের যেমন বাইনারি ভাষা আছে, তেমনি ডিএনএর একটি পৃথক ভাষা আছে। ডিএনএর ভাষা বাইনারি ভাষার চেয়ে পৃথক। কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ মূলত তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ওয়ান ও জিরো কোড হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু ডিএনএর কোড লেথা হয় চারটি রাসায়নিক নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের ওপর। নিউক্লিওটাইড এক ধরনের জৈবিক অণু যা মনোমার এবং ডিএনএ ও আরএনএর সাব ইউনিট হিসেবে কাজ করে। নিউক্লিওটাইড কোষে শক্তির প্যাকেট নিয়ে যায় নিউক্লিওসাইড ট্রাইফসফেটের (এটিপি, জিটিপি, সিটিপি এবং ইউটিপি) আকারে যা বিপাকীয় প্রক্রিয়াতে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে।
গবেষকেদের দাবি, ক্ষুদ্র পরিসরে অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে ডিএনএ। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল-স্থায়িত্ব।
গবেষক গ্র্যাস বলেন, তত্ত্ব অনুযায়ী, এক আউন্সের চেয়েও কম ডিএনএতে তিন লাখ টেরাবাইটের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়। গবেষকেরা বলেন, হাজারো বছরের পুরোনো ডিএনএ আজও পরীক্ষা করে তথ্য বের করা যায়।

বান্দরবানে প্রতিবছর পাহাড়ধসে মৃত্যু: ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানোর উদ্যোগ নেই by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা

বান্দরবান জেলা শহরের নিউ গুলশান এলাকায় পাহাড়ের
পাদদেশে বসতঘর। গত বৃহস্পতিবার এই ঘরের ওপর
পাহাড় ধসে পড়ে মারা যায় এক শিশু :প্রথম আলো
বান্দরবানে পাহাড়ধসে প্রতিবছর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ছয় বছরে মারা গেছে ৬৫ জন, আহত হয়েছে শতাধিক। তারপরও পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। সর্বশেষ ২০ আগস্ট জেলা শহরের নিউগ গুলশান এলাকায় পাহাড়ধসে এক শিশু নিহত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ইসলামপুর, কাশেমপাড়া, নিউ গুলশান, বনরূপা, সিদ্দিকনগর ও লাঙ্গিপাড়ায় পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাস করছে কয়েক শ পরিবার। বেড়া আর টিনের ছাউনির দেওয়া ঘরগুলোর কিছু পাহাড়ের পাদদেশে, কিছু খাঁজে। এসব ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছে নিম্নআয়ের লোকজন।
সিদ্দিকনগরে পাহাড়ে ঝুঁকিতে বাস করা রবিউল আলম ও আবু হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমরা জানি, এখানে ঝুঁকি আছে। কিন্তু কী করব? আমরা গরিব মানুষ। আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’
বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি বিভাজিকা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি পরিবেশে লাগসই বসতি গড়ে না তোলা, নির্বিচারে বন কেটে ভূমিতে চাষাবাদ করে মাটি ক্ষয় করা, পাহাড় কাটা, অধিকসংখ্যক অবৈধ ইটভাটায় মাটি ও বন কেটে জ্বালানি ব্যবহার, পানির উৎস থেকে প্রাকৃতিক পাথর সরিয়ে ফেলার কারণে পাহাড়ধস হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসনের করা এক জরিপে বলা হয়েছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ২ হাজার ৩৩৪ পরিবারের ১২ হাজার ৭২৭ জন মারাত্মক ঝঁুকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাস করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বসবাসকারী লামা উপজেলায়—১ হাজার ৪২২ পরিবার। এ ছাড়া আলীকদমে ৩৪০, রুমায় ২৩২ ও বান্দরবান সদরে ১৪৭ পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের জরিপের চেয়েও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ জন্য লামায় ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনার পর পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে ঝঁুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করার জন্য সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বান্দরবানে ব্যাপক আকারে পাহাড়ধস শুরু হয়েছে ১৯৯৯ সাল থেকে। ওই বছর আগস্টে আজিজ নগরে চিউরতলী এলাকায় এক রাতে শতাধিক পাহাড়ধসে পড়ে। সেখানে তিনজন নিহত ও ১২ জন আহত হন। তবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে ২০০৯ সাল থেকে। ওই বছর আজিজনগরে তিন পরিবারের ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে লামা ফাইতং ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩৭ জন নিহত হন। এ ছাড়া ২০১১ ও ২০১৩ সালে দুজন করে ও ২০১৪ সালে তিনজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সিদ্দিকনগরে একজন, জুনে বনরূপায় দুই শিশু ও ৩১ জুলাই লামায় ছয়জনের মৃত্যু হয়।
লামার ইউএনও খালেদ মাহমুদ বলেন, বৃষ্টি হলেই ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়। এরপরও না সরলে উপজেলা প্রশসনের দল গিয়ে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসে। কিন্তু দিনে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এলেও রাতে তারা আবার ঘরে ফিরে যায়। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনসুরুর রহমান বলেন, ২০১২ সালে ৩৭ জনের মৃত্যুর পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পাহাড়ে বসতি স্থাপন বন্ধ করা, পাহাড়ি পরিবেশে লাগসই ঘরবাড়ি নির্মাণ, ইটভাটার সংখ্যা কমিয়ে আনা, ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া, পাহাড় কাটা বন্ধ করে বনায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৈরি করা এ সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রশাসন থেকেই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, পাহাড় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের তালিকা পাওয়া গেলে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

এনকেফালাইটিস ভাইরাস ঝুঁকিতে উপকূলের শিশুরা by প্রণব বল

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা এনকেফালাইটিস ভাইরাস ঝুঁকিতে রয়েছে। গত চার বছরে এ ভাইরাস সংক্রমণের শিকার শিশুদের অর্ধেকের বেশি মারা গেছে। বেঁচে যাওয়া শিশুদেরও বড় একটি অংশ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলে এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্ত চিকিৎসকেরা এটিকে মহামারি পর্যায়ের রোগ বলে উল্লেখ করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ জার্নাল অব চাইল্ড হেলথে গত বছর প্রকাশ করা হয়। চট্টগ্রামের ছয়জন চিকিৎসক এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের পাঁচজন এবং চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসটিসি) রোগতত্ত্ব বিভাগের একজন চিকিৎসক রয়েছেন।
গবেষণায় যুক্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, এনকেফালাইটিস ভাইরাস সংক্রমণের শিশুদের প্রতি দুজনের একজন মারা যাচ্ছে। তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না উপকূলীয় এলাকায় ঠিক কী কারণে শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হলে শিশুদের জ্বর ও খিঁচুনি হয়। মাঝে মাঝে তারা অচেতন হয়ে পড়ে। কোনো শিশুর এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা এ রোগ থেকে সুস্থ হলেও তাদের মধ্যে কিছু স্থায়ী সমস্যা দেখা দেয়। কানে কম শোনা, চোখে কম দেখাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি, এপ্রিল এবং অক্টোবর মাসে শিশুদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে এনকেফালাইটিস ভাইরাস সংক্রমণের শিকার ৬৬৬টি শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৪২১টি গ্রামের ও ১৪৪টি শহরের। ২০০৯ সালে ভর্তি হওয়া ৩১২টি শিশুর মধ্যে ৪৬ শতাংশ এবং ২০১০ সালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪টি শিশুর মধ্যে ৫৬ শতাংশই মারা যায়। চিকিৎসকেরা জানান, গত বছর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনকেফালাইটিস ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়া ৮৪টি শিশু মারা গেছে।
গবেষণায় যুক্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ১২ মাস থেকে ৬০ মাস বয়সী শিশুরা এনকেফালাইটিস ভাইরাসে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশির ভাগই আসছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজার থেকে। তিনি জানান, এ ভাইরাসের টিকা বাজারে পাওয়া যায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, সরকার চাইলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোনো উপজেলায় বিনা মূল্যে এনকেফালাইটিস ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে পারে।
গবেষণায় যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, সহযোগী অধ্যাপক সনৎ কুমার বড়ুয়া এবং ইউএসটিসির রোগতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

শওকত মাহমুদকে ৮০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদকে ৮০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। আগামীকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শওকত মাহমুদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, রোববার ঢাকা সিএমএম আদালতে শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে পল্টনের পাঁচ মামলা ও মতিঝিলের তিন মামলায় ১০ দিন করে মোট ৮০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দিকে বিএনপির হরতাল-অবরোধ চলাকালে পল্টন ও মতিঝিল থানায় ওই মামলাগুলো দায়ের করা হয়। তবে বিএনপি এবং সাংবাদিক নেতারা এসব মামলাকে সরকারের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে।
গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথের একটি কনভেনশন সেন্টার থেকে শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রমনা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম ওয়ায়েজ কুরুনী খান চৌধুরি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে।