Friday, July 26, 2019

‘মাকে ফোন দাও, চিপস আনবে’ by মানসুরা হোসাইন

তাসনিম মাহিরা তুবা
তাসনিম মাহিরা তুবার বয়স মাত্র চার বছর। তাকে সবাই তুবা নামেই ডাকে। তুবা জানে তার মা তাসলিমা বেগম চিপস আনতে নিচে গিয়েছেন, একটু পরেই ফিরে আসবেন। তাই খেলার ফাঁকে বলতে থাকে, মাকে ফোন দাও। চিপস আনবে।

তবে গত শনিবার থেকে ছয় দিন ধরে মা আসছেন না। তাই ছোট তুবার মেজাজও ভালো যাচ্ছে না। সবকিছু নিয়ে বায়না করছে, বায়না মেটানো না হলেই চিৎকার, কান্নাকাটি করছে। বাসায় যে আসে সে–ই তুবার ছবি তুলতে চায়, এটাও তার পছন্দ না। তাই ঘরে অপরিচিত কেউ ঢুকে মুঠোফোন হাতে নিলেই বলে, ‘আমি ছবি তুলব না।’

ছেলেধরা সন্দেহে শনিবার রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে তুবার মা তাসলিমা বেগমকে হত্যা করা হয়। তাসলিমা বেগমের ১১ বছর বয়সী ছেলে তাহসিন আল মাহির বুঝে গেছে তার মা আর ফিরবেন না। বাবা-মায়ের তালাকের পর থেকে দুই বছর ধরে মাহির মা ও বোন থেকে আলাদা থেকেছে। প্রথমে বাবার সঙ্গে এবং পরে তাকে বাবা গ্রামের একটি স্কুলে ভর্তি করে দিলে মা ও বোনের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়ে। তাই সেও তার বোনকে সেভাবে আগলে রাখতে পারছে না।

আজ বৃহস্পতিবার মহাখালীতে তাসলিমা বেগমের মায়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা সবাই তুবার মেজাজ সামলাতে ব্যস্ত। ওকে কিছু বলাও যাচ্ছে না। তাই যখন যেটা বলছে, বায়না করছে তাই সামনে হাজির করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাসলিমা বেগমের মা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা একমাত্র ভাই ও অন্য চার বোন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসলিমা বেগমের দুই ছেলেমেয়েকে তাঁদের কাছে রাখবেন, পড়াশোনা করাবেন। ওদের বাবা সামান্য খরচ দিতেন, তাসলিমার মৃত্যুর পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ছেলেমেয়েদের নিজের কাছে নিতেও চেয়েছেন। তবে আপাতত মামা, খালা ও নানির কাছেই থাকবে ওরা।

রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাসলিমাকে দাফন করা হয়েছে। মায়ের দাফন শেষে তাহসিন ও তাসনিম তুবা দুই ভাইবোন নানির বাসায় এসেছে। তুবা ও তার মা এই বাড়িতেই থাকতেন মায়ের সঙ্গে। তাই তুবার কাছে বাসার পরিবেশ অপরিচিত না লাগলেও চারপাশের মানুষের আচরণ পাল্টে গেছে, তা সে বুঝতে পারছে। তুবা রাতে তার খালা নাজমুন নাহারের সঙ্গে থাকছে।

তাসলিমার পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না। নিরপরাধ একজন মানুষকে কেউ পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে তা তাঁদের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকছে। মা সবুরা খাতুনের বাড়িতে থেকে বৃদ্ধ মায়ের দেখাশোনা করতেন তাসলিমা। মেয়ের এভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। শুধু বললেন, তিনি মেয়ের হত্যার বিচার চান।
তাসলিমা বেগমের বড় বোন জয়নব বেগম বারবার বলছিলেন, এটা কেমন কথা? একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। মেয়েকে স্কুলে ভর্তির খোঁজখবর নিয়ে বের হলো, আর ঘরে ফিরল না।
তাসলিমা বেগম আগে চাকরি করতেন, তবে ছেলেমেয়ের দেখাশোনার জন্যই চাকরি ছেড়ে দেন।

তাসলিমা বেগমের মৃত্যুর পর তাঁর ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে এ ঘটনা তার প্রমাণ। খালার একটি আঙুল নড়ছে, মানুষ সেই আঙুলে পেটাচ্ছে, আবার পা নড়ছে, সেখানে মারছে। সাপ বা অন্য কোনো প্রাণীকেও কেউ এভাবে মারতে পারে না। মানুষ যখন বুঝতে পেরেছে খালার কোনো অঙ্গ আর কাজ করছে না তখন তারা মার থামিয়েছে।’

সৈয়দ নাসির উদ্দিন বলেন, যে স্কুলে তাসলিমা বেগম হত্যার শিকার হলেন, সেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। ঘটনার পর বাড্ডা থানায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন, তিনি তাসলিমা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মানুষ ঢুকে গেলে তাঁকে আর আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। নিচে নামিয়ে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে সৈয়দ নাসির উদ্দিন বললেন, তাসলিমা বেগমের মৃত্যুর পর পুলিশ তৎপর হলেও তাঁকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানালেন সৈয়দ নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া র‍্যাব থেকেও ফোন করেছে।

তাসলিমা বেগম হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গ্রেপ্তারের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান।

আজ দুপুরে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল থাকায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আশপাশের জনগণের মধ্যে স্কুলটি ঘিরে কৌতূহল শেষ হয়নি। যাঁরা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না তাঁরা স্কুলটি দেখতে এসেছেন, উঁকি দিয়ে ভেতরে দেখার চেষ্টা করছেন। স্কুলের আশপাশের বিভিন্ন দোকান, মাদ্রাসা, মসজিদের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তাঁরাও ঘটনার আকস্মিকতায় মুষড়ে পড়েছেন। তবে সবার এক কথা, ছেলেধরা গুজব বন্ধ করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্কুলের আয়া জান্নাত বললেন, ‘ওই নারী আমার কাছে এসে বাচ্চার ভর্তির কথা জানতে চান। আমি বলি, এখন ভর্তি করা যাইব না। তারপর দেখি ওই নারীকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আপার রুমে নিয়া গেল কয়েকজন। এর মধ্যেই দেখি স্কুলের মাঠে সমানে মানুষ জড়ো হইতাছে। ওয়াল টপকাইয়্যা একেকজন ঢুকতাছে। তারপর স্কুলের কলাপসিবল গেটে তালা লাগাইয়্যা দিলাম। কিন্তু মানুষ তালা ভাইঙ্গা ওপরে গেল, ওই নারীরে নিচে নামাইয়্যা আনল, তারপর তো শুনি সব শেষ।’
তুবার ভাই তাহসিন আল মাহির, দুই ভাই-বোনের খুনসুটি। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমীন

বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চান মিন্নি

পুলিশ নির্যাতন করে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন মিন্নির পরিবার ও তার আইনজীবী। মিন্নি জবানবন্দি পরিবর্তন করতে চান বলেও জানান তারা। তবে এই জবানবন্দি পরিবর্তনের জন্য মিন্নিকে বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নির্যাতন বা জোর করে জবানবন্দি নেয়ার বিষয়টি আদালতে প্রমাণও করতে হবে।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জানান, বুধবার মিন্নির সঙ্গে দেখা করার সময় আমি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনপত্র নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেনি। তারা বলেছে, এ ধরনের আবেদনপত্র বাইরে থেকে দেয়ার কোনো উপায় নেই। এই আবেদন মিন্নিকে নিজ হাতে লিখতে হবে।
এজন্য তাকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজ ও কলম চাইতে হবে। আমি বলে এসেছি চাইতে। আমি মিন্নিকে সব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি কীভাবে আবেদন করতে হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত মিন্নি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজ-কলম চাননি। তবে তিনি যদি আবেদন করেন তবে কাগজ ও কলম সরবরাহ করা হবে। জবানবন্দি প্রত্যাহার ছাড়াও যেকোনো আবেদন আসামি যদি করতে চান, জেল সুপারের মাধ্যমেই করতে হবে। এটাই কারাবিধি। জেল কর্তৃপক্ষ সেটা কোর্টে পাঠাবে। আইনজীবীর কোনো ভূমিকা নেই। আর কোর্টে পাঠানোর আগে আমি চেক করবো আবেদন ঠিক আছে কিনা।

ঢাকা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী প্রকাশ বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, যদি আসামি কারাগারে থাকেন, সেক্ষেত্রে জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য তাকেই আবেদন করতে হবে। কারাবিধি অনুযায়ী এটাই নিয়ম। যদি আসামি লিখতে সমর্থ না হন, তাহলে আদালতের সম্মতি নিয়ে ও বিচারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আবেদন আদালতে গৃহীত হলেও বিচার শুরুর পর সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে প্রথম জবানবন্দি জোর করে নেয়া হয়েছিল।

গত ১৯শে জুলাই শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দাবি করেছেন, নির্যাতন ও জোর-জবরদস্তি করে তার মেয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। তার আইনজীবী মাহবুবুল বারীও বলেছেন, জেল সুপারের সামনে মিন্নি বলেছেন, তার সঙ্গে জোর-জবরদস্তি হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার মিন্নির জামিন আবেদন গ্রহণ করেছেন বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার বিচারক আসাদুজ্জামানের এজলাসে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি তলব করেন এবং আদেশ দেয়ার জন্য ৩০শে জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২রা জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তবে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনো চারজন গ্রেপ্তার হয়নি। তারা হচ্ছেন মুসা, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদার। আগামী ৩১শে জুলাই মামলার চার্জ গঠনের তারিখ ধার্য রয়েছে।

ভাড়া নিয়ে বাড়ি দখলের অন্যরকম প্রতারণা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

বেছে বেছে বাড়ি ভাড়া নেন তিনি। বৃদ্ধ, নিরীহ, নিঃসন্তান বাড়ির মালিকদের টার্গেট করেন প্রথমে। তাও আবার চার পাঁচ তলার বাড়ির মালিক। এসব বাড়ির মালিকদের সবকিছু খোঁজখবর নিয়ে বাড়ি ভাড়া নিতে যান আজিজুর রহমান সুমন। রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটারি কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবেই পরিচিত। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতারনায় নামেন সুমন। অভিযোগ রয়েছে বাড়ি ভাড়া নেয়ার প্রথম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন এই কলেজটিকে। বাড়ি ভাড়া নেন ওই কলেজের নামে, আবার কোনো বাড়ি ছাত্র বা ছাত্রীদের হোস্টেলের নামে।
বাড়ির মালিকদের আকর্ষন করার জন্য প্রথমেই হাতে ধরিয়ে দেন এক বা দুই বছরের আগাম বাড়ি ভাড়ার টাকা। ওই টাকা দেন চেকে। বাড়ির মালিকরা যখন সুমনের দেয়া চেক নিয়ে ব্যাংকে যান, তখন তার একাউন্টে কোনো টাকা পাওয়া যায় না। চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে বাড়ির মালিক এসে চেক প্রত্যাখানে কথা বললে তাদের কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন। আর পরে টাকা চাইতে গেলেই বাধে ঝামেলা। এসবের একপর্যায়ে ভাড়া না দিয়ে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে উল্টো ডাকাতি মামলাসহ নানা মামলায় জড়িয়ে দেন। খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় তার বাড়ি দখলের গল্পগুলো প্রায় একই রকম। এই এলাকায় প্রায় দশ থেকে বারোটি বাড়ি দখলে আছে কলেজটির এই কথিত এই চেয়াম্যানের কাছে।
খিলক্ষেত এলাকার এক বাড়ির মালিকের কাছ থেকে এমন অভিযোগ আসার পর অনুসন্ধানে নামেন এই প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে মিলে সুমনের নানান প্রতারনার গল্প। সুমন শুধু বাড়ি দখল নয়, নানাভাবে হুমকি ধমকি হয়রানি করে মামলা দেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব বাড়ি দখলে নিয়ে সেখানে দেহ ব্যবসা থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা করেন এই প্রতারক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া নেয়া হয় রেসিডেন্সিয়াল ল্যাবরেটরি কলেজ ও হোস্টেলের নাম দিয়ে। এই চক্রটির হোতা আজিজুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় বেশকটি মামলা ছাড়াও রয়েছে দশবারোটি সাধারণ ডায়েরি।
নিকুঞ্জ দুইয়ে দখলকৃত একটি বাড়ির মালিক পক্ষের স্বজন সৈয়দ আহাম্মেদ আলী বলেন, আমার মাম-মামী তার সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে থাকেন। সেই সুবাধে আমাদের কেউ থাকেন না এখানে। সুমন বাড়িটি ছাত্রী হোস্টেল করবে বলে ভাড়া নেন। কিন্তু প্রথম দুই একমাসের ভাড়া দিলেও পরের মাসে আর ভাড়া দেয়নি। ভাড়া চাইতে গেলেই খারাপ ব্যবহার করে। মামা মামীর অবর্তমানে বাড়িটি আমি দেখাশুনা করি। যার কারনে তার কাছে ভাড়া চাইতে যাই। কিন্তু সুমন ভাড়া না দিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে সে মামলা দিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা শুধু আমার সাথে নয় এই এলাকার সাত থেকে আটটি বাড়ি দখল করে রেখেছে। সবার বিরুদ্ধেই থানায় মামলা দিয়েছে। থানাও বিষয়টি বুঝতে পেরে তার দেয়া আর মামলা নেয় না । কিন্তু সে এখন মামলা করে আদালতে।
আরেক ভোক্তভোগী সৈয়দ ইয়াসমিন জায়েদী বলেন, বাড়ি ভাড়া নেয়ার পর সুমন এখন আর আমাদেরকেই বাড়িতে ঢুকতে দেয় না। সে আমাদের থেকে ভাড়া নিয়ে আমাদেরকেই বলছে ডাকাত। বাড়ির মালিক হয়েও আমরা বাড়িতে ঢুকতে পারব না।্থ এখন সে ভাড়াও ঠিকভাবে দিচ্ছে না। বাড়িও ছাড়ছে না বলে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী।
এদিকে খিলক্ষেত এক নম্বর রোডের বাসাটিতে ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে আশি বছর বয়সী বাড়ির মালিক বাদশা মিয়াকে মারধর করে সুমন। বাদশা মিয়াকে উদ্ধারের সময় পুলিশের ওপরও হামলা চালায় এই প্রতারক। পাওনা ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধের বদলে, আশি বছরের বৃদ্ধের নামে দেয়া হয় ডাকাতির মামলা। বাদশা মিয়া মানবজমিনকে বলেন, সুমনের কাছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পাওনা হলেও এখন সে টাকাও দিচ্ছে না উল্টো হয়রানি করছে আমাকে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ জাফর জায়েদী বলেন, সে প্রথম থেকেই ভাড়া দিতে ঝামেলা করত। এরপর ভাড়ার জন্য বার বার তাগাদা দিলে সে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আজিজুর রহমান সুমনের এই প্রতারনা চক্রে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ও কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী। মূলত আইনের ফাঁকফোকরকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।
এ ব্যাপারে খিলক্ষেত থানা বলছে , অনেক অভিযোগই তাদের কাছে এসেছে। তদন্ত করতে গিয়ে তাদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনেকবার। খিলক্ষেত থানার ওসি (তদন্ত) আদিল হোসেন বলেন, ্তুসুমনের বিরুদ্ধে থানায় আট থেকে দশটি জিডি রয়েছে। এছাড়া পুলিশকে হেনস্থা করার মামলাসহ দু’টি মামলা আছে। তার জন্য থানায় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তারাও অতিষ্ঠ। এমনকি পুলিশের ওপর হামলা করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই আইনি নোটিশ দেয় সুমন।
এদিকে থানায় যখন আর তার মামলা নেয়া হয় না তখনই সুমন মামলা করে সিএমএম কোর্টে । তবে বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া সুমনের দায়ের করা মামলা আদালত খারিজ করে দেন। নারাজির পর তা তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই)। বর্তমানে তার মামলাটি তদন্ত করছে সংস্থাটি। তবে এই সংস্থাটি এই পর্যন্ত তার কোনো মামলার সত্যতা পায়নি।
পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার বলেন , সে এমন সব বাড়িগুলো টার্গেট করে যে বাড়িগুলোর শক্তিশালি কোনো ওয়ারিশ নেই। এরপর সে দীর্ঘদিন ভাড়া দেয় না। ভাড়া দিতে টালবাহানা করে। তবে তিনি বলেন মামলাটি তদন্ত কাজ এখনো চলছে।
বিষয়টি নিয়ে আজিজুর রহমান সুমনকে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। বলেন পরে ফোন দিন। পরে ফোন দিলে আর রিসিভ করেন না।

ডেঙ্গুতে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু

রাজধানীতে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম  তানিয়া সুলতানা (২৮)। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ধানমন্ডিতে বেসরকারি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ডা. তানিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৭ ব্যাচের ছাত্রী। তার সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। 

নিহতের স্বামী ব্যবসায়ী আমিনুল বাহার হিমন জানান, তানিয়া সুলতানা গত ২২শে জুলাই থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।
২৪শে জুলাই তাকে রাজধানীর মগবাজারে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল তাকে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার আবদুল কাহার আকন্দের অধীনে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতরাত ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট তিনজন চিকিৎসক মারা গেলেন। এর আগে রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিগার নাহিদ দিপু নামে একজন নারী চিকিৎসক এবং গত কয়েকদিন আগে হবিগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন শাহাদাত  হোসেন হাজরা মারা যান। সরকারি হিসেব মতে, ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ৮ জন মারা গেছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা কয়েকগুন বেশি।

গণপিটুনিতে নিহত ৮ জনের কেউই ছেলেধরা ছিল না -পুলিশ প্রধান

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক
ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী
বাংলাদেশে পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে - এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতদের মধ্যে কেউ ছেলেধরা ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার রাজধানী ঢাকার পুলিশ হেডকোয়াটার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, "দুঃখজনক হলেও সত্যি, গণপিটুনির প্রতিটি ঘটনা আমরা বিশ্লেষণ করেছি। গণপিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের কেউই অপহরণকারী ছিল না, কেউই ছেলেধরা ছিল না।"
সাংবাদিকদের মি. পাটোয়ারী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টির মাধ্যমে গত কয়েকদিনে আট জনের প্রাণহানি হয়েছে। "এ ধরণের ঘটনা পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আসার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
তিনি বলেন, নেত্রকোনায় গত ১৮ তারিখে শিশু সজীবের কাটা মাথা যার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিলো সেই রবিন মাদকাসক্ত ছিল।
"সে এর আগেও তার স্ত্রীকে গলাকাটতে হামলে পড়েছিলো ব্লেড নিয়ে। যার কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।"
তাকে এর আগেও গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ।

'স্কুল-কলেজে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে'

পুলিশের এই মহাপরিদর্শক আরো জানান, গণপিটুনি প্রতিরোধে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে উপস্থিত থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য।
তিনি বলেন, অভিভাবকদের সাথে কিংবা দলবদ্ধভাবে যেন শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে সেবিষয়ে জনগণকে সচেতন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া প্রত্যেকটা স্কুল-কলেজের পাশে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও থাকবে, বলেন তিনি। "এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সিসিটিভির আওতাভুক্ত করা যায় কিনা তা স্কুল কর্তৃপক্ষকেও আমরা উদ্বুদ্ধ করছি।"
"তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যবস্থা নিতে," বলেন তিনি।

'৬০টি ফেসবুক আইডি, ২৫টি ইউটিউব লিংক, ১০ টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ'

বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে জনসচেতনতামূলক ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ ধরণের যেকোন পরিস্থিতিতে পুলিশের সহায়তা নেয়ার জন্য ৯৯৯ নম্বরে জন সাধারণের প্রতি যোগাযোগ করার আহ্বান করেছেন।
তিনি বলেন, "সন্দেহজনক ৬০টি ফেসবুক আইডি, ২৫টি ইউটিউব লিংক, ১০ টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দিয়েছি এধরণের গুজব ছড়ানোর জন্য। এছাড়া র‍্যাব গুজব রটনাকারী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেজ, চ্যানেল ও লিংক বন্ধ করে দিয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করছে।"
হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, লোকালয় বা জনসমাগম স্থানে জনগনকে অবহিত এবং জন সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য ছোট ছোট সভা করা হচ্ছে।
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে পুলিশ সদস্যদের সকালে অ্যাসেম্বিলিতে গিয়ে মত বিনিময় করতে এবং বিষয়টি যে একটি গুজব ছাড়া কিছু নয় তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশি ব্যবস্থাকে জোরদার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সভা করতে বলা হয়েছে।
"বুধবার থেকে এধরণের সচেতনতা কার্যক্রম আরো জোরদার হবে এবং অব্যাহত থাকবে।"

দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রিয়া সাহা -শিতাংশু গুহ

এক সাংবাদিক কল করে জানতে চান, ‘প্রিয়া সাহা কি কানাডা চলে যাচ্ছেন?’ বললাম, ‘প্রিয়া সাহা আমেরিকায় আছেন, দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই শুনছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ পেলে চলে যাবেন।’ ইতিমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন। বলেছেন, গ্রেপ্তার নয়, আমরা প্রিয়া সাহাকে সহায়তা দেবো। অন্য মন্ত্রীদের সুর নরম।
শেখ হাসিনা নির্দেশ দেয়ার আগ পর্যন্ত বড় বড় নেতারা স্রোতের টানে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের অনেকের কথাবার্তা ছিল চেয়ারের সঙ্গে বেমানান। এখন তারা ‘এবাউট টার্ন’ করছেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে একদা কথা বেরিয়েছিল যে, ভারতীয় পার্লামেন্টে শুধু একজন পুরুষ। একই কথা এখন বলা যায়, আমাদের সংসদে শুধু একজন পুরুষ।
তিনি শেখ হাসিনা। বুদ্ধিজীবীরা আবার প্রমাণ করেছেন, তারা উদার তো ননই, স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও নেই? ব্যতিক্রম আছেন, সেটা ততটা দৃশ্যমান নয়।
বরং ইয়ং কিছু ছেলেমেয়ে মুক্ত ফোরামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রিয়া ইস্যুতে এবার দেশের সাম্প্রদায়িক কুৎসিত চেহারাটি আবার বীভৎসভাবে দেখা গেছে। এমনিতে ক্রিকেট খেলার সময় সেটা দেখা যায়। তখন অনেকে বলেন, খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। এখন তারা কি বলবেন? বিভিন্ন সময়ে একেকটা ঘটনায় অনেকের ‘আসল চেহারা’ বেরিয়ে পড়ে। প্রিয়া সাহা অনেক বর্ণচোরা প্রোগ্রেসিভের আসল রূপ উন্মোচন করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ঘরানার একটি অংশ মৌলবাদীদের সুরে কথা বলেছেন। শফি হুজুর, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন প্রমুখ মৌলবাদী গ্রুপ প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি কোনো মন্তব্য করেনি।
দেশে ঐক্য পরিষদ প্রিয়া সাহাকে বরখাস্ত করেছে। এলাকার লোকজন বিক্ষোভ করেছে। তার এনজিও ‘শাড়ি’র পঁচিশ জন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। আবদুল গাফফার চৌধুরী ‘হতাশাব্যঞ্জক’ একটি কলাম লিখেছেন। ড. আবুল বারাকাত নিজের গবেষণার বিপক্ষে কথা বলেছেন। অর্থাৎ সবাই প্রিয়া সাহার সঙ্গে দূরত্ব রাখতে চেষ্টা করছেন। ঐক্য পরিষদে ক্যু হয়েছে সরকারকে খুশি করার জন্য। বিক্ষোভ বা পদত্যাগের ঘটনার পেছনে কারো ইন্ধন রয়েছে। আর মিডিয়ার একাংশ ‘নিউজের’ বদলে ‘গুজব’ প্রকাশ করছে। টিভি’র কয়েকটি ‘টকশো’র কথাবার্তা, ‘রাজা যত বলে, পারিষদ বলে তার শতগুণ?’
সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ভালো বলেছেন, ‘যেখানে অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি ঢুকতে পারেন না, সেখানে প্রিয়া সাহা ঢুকলেন কীভাবে?’ বিষয়টি সেখানেই? অনেকের গা-জ্বালার কারণ এটা। তারা জানেন প্রিয়া সাহা অসত্য কিছু বলেননি, রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধেও নন, এমনকি ঢালাওভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধেও নন, তিনি বলেছেন, ‘মৌলবাদী মুসলিমরা’ তার ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। প্রিয়া সাহা বললেন, মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে, অন্যরা ক্ষেপলেন কেন?
প্রিয়া সাহা তার অপ্রিয় সত্য কথার জন্য দেশে ব্যাপকভাবে নিন্দিত। একইভাবে সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি বাংলাদেশের দুই কোটি সংখ্যালঘু এবং বহির্বিশ্বে নন্দিত, অনেকে তার সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। প্রিয়া সাহা দুই কোটি সংখ্যালঘুর মনের কথা বলেছেন। এটি বুঝতে হবে, ‘যে হাত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করতে পারে, সেই হাতকে ততটা দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই।’ তিনি দেশপ্রেমিক, তাই দেশে থাকার আগ্রহের কথা বেশ জোরালোভাবেই প্রকাশ করেছেন।
প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশে- প্রবাসে সংখ্যালঘু আন্দোলনকে বেগবান করবে। দেশে সংখ্যালঘুদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে সরকার যত্নবান হবেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়, বিশ্ব এতকাল তা জানতো, মানতো না। হিন্দু বা অন্যান্য সংখ্যালঘু স্লো-জেনোসাইডের কথা বারবার উচ্চারিত হলেও প্রিয়া সাহার ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু ‘ডিসএপেয়ার’ শব্দটি এর সত্যতা নিশ্চিত করে দিয়েছে। প্রিয়া সাহা নিজে ‘ডিসএপেয়ার’ শব্দটি’র ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অনেকের মতে, এটি ‘মিসিং’ হতে পারতো? ঘটনা যাই হোক, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন আন্তর্জাতিকরণ হয়ে গেছে। মিসিং জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, সংখ্যালঘু ‘হারিয়ে যাচ্ছেন’ এই তত্ত্ব প্রিয়া সাহা প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন।
কলকাতার দৈনিক যুগশঙ্খ ২৩শে জুলাই ব্যানার হেডিং করেছে, ‘হারিয়ে যাওয়া ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ভারতেই আছেন।’ দেশে প্রবাসে কিছু মিডিয়া একটি ছবি দেখিয়ে প্রিয়া সাহার সঙ্গে ইসরাইলী লবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আবিষ্কার করে ফেলেছে। এর মধ্যে তারা মেহেন্দি সাফাদি’র যোগাযোগ টেনে বের করে নিয়ে আসে। ছবিতে দেখা যায়, ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, পেছনে বসে প্রিয়া সাহা। ভাগ্য ভালো, দৈনিক কালের কণ্ঠ বলে দিয়েছে যে, ছবিটি স্টেট ডিপার্টমেন্টের। তদুপরি, প্রিয়াকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যে পোশাকে দেখা করেছেন, ছবিতে একই পোশাক পরিহিতা ছিলেন। অর্থাৎ তিনি হয়তো তখন ওভাল অফিসে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন? সুতরাং, ইহুদী ষড়যন্ত্রটাও বুমেরাং হয়ে গেল! প্রিয়া সাহার কপালটাই ভালো, কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে দিচ্ছে না।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ঢাকার একটি হাসপাতালের চিত্র by সায়েদুল ইসলাম

রোগীতে সয়লাব হাসপাতাল
দিনাজপুরের গৃহবধূ মিশু আক্তার হাসপাতালে রয়েছেন সাতদিন ধরে।
তার ডেঙ্গু হয়নি, হয়েছে তার সদ্য ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণ ছেলের, যে ঢাকায় একটি হোস্টেলে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য কোচিং করছিল।
মিশু আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "ছেলের জ্বর হয়েছে শুনেই দিনাজপুর থেকে চলে এসেছি। তারপর পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু ধরা পড়লো। তারপর থেকে, গত সাতদিন ধরে এই হাসপাতালেই রয়েছি"।
এখানেই তার থাকা, খাওয়া আর ছেলের পাশে মেঝেতে ঘুমানো।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে অনেকগুলো খাটের ওপরে দেখা গেলো সাদা রঙের মশারি টাঙ্গানো।
সেবিকা তাসলিমা জানালেন, এরা সবাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলছেন, বিশটা বেড আছে, সবগুলোয় রোগী আছে।
বুধবার দুপুরে এই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখতে পেলাম একজনের মাথায় পানি ঢালছেন তার স্ত্রী।
মিরপুর থেকে আসা সোনিয়া আক্তার বলছেন, ১৮ তারিখে তার স্বামীর জ্বর শুরু হয়। একশো চার থেকে একশো পাঁচ ডিগ্রি জ্বর। পরে জ্বর ভালো হলেও শরীরে র‍্যাশ দেখা যায়। এরপর তারা নিজেরাই ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ডেঙ্গু হয়েছে দেখতে পান। তারপর এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তাদের সবার গল্পই অনেকটা একই রকম। কয়েকদিন জ্বর, গায়ে র‍্যাশ ওঠা, ব্যথা। পরীক্ষা করতে গিয়ে ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে, এরপর তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর থেকে কেউ চারদিন, কেউ পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন।
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের পাশাপাশি ডেঙ্গুর শিকার হয়েছে শিশুরাও।
দশ বছরের সুমির জ্বর পাঁচদিন ধরে। হাসপাতালে আসার পর ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। এখন তার সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছে তার মা, বাবা, খালাও।
বিছানায় রোগীর চারদিকে মশারি রয়েছে, তবে তাদের থাকতে হয় বিছানার পাশে মেঝেতে মাদুর পেতে।
হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলছেন, ''এখন কারো একদিন জ্বর হলেই সেও ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালে চলে আসছে। তবে আমরা কাউকে ফেরাচ্ছি না। বিছানা না থাকলেও যেভাবেই হোক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসা দিচ্ছি"।
সেই চিত্র দেখা গেলো হাসপাতালের প্রবেশ মুখেই। অনেকে সেখানে ফ্লোরে বিছানা পেতে শুয়ে আছেন। সবাই জ্বরের রোগী, কারো কারো হাতে স্যালাইন লাগানো।
জ্বর হওয়ার পর ডেঙ্গু আতঙ্কে তারা হাসপাতালে এসেছেন। এখানে আসার পর তাদের পরীক্ষানিরীক্ষা দেয়া হয়েছে, তবে তার ফলাফল এখনো আসেনি। তাই তারা অপেক্ষা করছেন।
সাভার থেকে আসা রাবেয়া আক্তার বলছেন, ''আমার স্বামীর তিনদিন ধরে জ্বর। একদিন বমির সাথে রক্ত দেখা যাওয়ার পরে তাড়াতাড়ি এখানে নিয়ে এসেছি। ডাক্তাররা বলেছেন, টেস্টের ফলাফল দেখে তারা ব্যবস্থা নেবেন।
মনোয়ার হোসেন বলছেন, ''আমার ভাইয়ের কিছুদিন আগে ডেঙ্গু হয়েছিল। এরপর আমার জ্বর হওয়ার আর দেরি করিনি। চলে এসেছি।''
বুধবার এই হাসপাতালে ১৩২জন রোগী ভর্তি ছিল।
চিকিৎসক সানজিদা আইরিন বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ তিনগুণ বলে মনে হচ্ছে। আর এবার বর্ষা মৌসুমটা শুরুও হয়েছে একটু আগে ভাগে। ফলে আমরা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকেই ডেঙ্গু রোগী পেতে শুরু করেছিলাম।
"সরকারি হাসপাতালে আমরা রোগী নিতে বাধ্য থাকি। তাই চাপ হলেও, বিছানা না থাকলেও রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে। তাই দেখতে পাচ্ছেন রোগীদের বারান্দাতে থাকতে দিতে হচ্ছে। আর ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি"।
তিনি বলছেন, ''এবার অনেক রোগী আতঙ্কে একদিনের জ্বর নিলেও চলে আসছেন।''
অন্যান্য রোগীদের তুলনায় ৪০/৫০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তবে চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, সাধারণত আমরা জ্বর হলে কয়েকদিন বাসায় বসে দেখি যে, এমনিতেই ভালো হয়ে যায় কিনা। কিন্তু এখন এই মৌসুমে সেটা করা ঠিক হবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়াই ভালো। না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলছেন, জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ, গায়ে ব্যথা, বমি ভাব ইত্যাদি হলে আর দেরি না করেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলছেন, "জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭৭৬৩জন মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৩জন"।
তাদের হিসাবে মারা গেছেন পাঁচজন। যদিও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ বছর মৃতের সংখ্যা বলা হচ্ছে অন্তত ২৬জন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
সচেতনতা তৈরি, মশার আবাস নষ্ট করা, ওষুধ ছিটানোর মধ্যেই এসব কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সেই সঙ্গে ঢাকার হাসপাতাল গুলোয় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড ছাপিয়ে তাদের বারান্দাতেও আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিত্র

ফরাসি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ছবি নিয়ে ঢাকায় প্রদর্শনী

আলোকচিত্রী শিবলী সিরাজ এ বছরের মার্চে তিন সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সে বেড়িয়েছেন। একটি গাড়ি ভাড়া করে মহাসড়ক ও গ্রামাঞ্চলের পথেঘাটে ঘুরেছেন তিনি। ফ্রান্স জুড়ে এই ভ্রমণে অনেক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে তার। সেগুলো নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে প্রদর্শনীর। এর শিরোনাম ‘ফ্রান্স, নৈসর্গিক ও অনন্ত: এক আলোকচিত্রীর অভিযাত্রা’।

আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শিবলী সিরাজের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হবে আজ ২৬ জুলাই। বিকেল সাড়ে ৫টায় এটি উদ্বোধন করবেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার।

শিবলী সিরাজ জানান, উত্তরের বেলাভূমি থেকে দক্ষিণে সমুদ্র থেকে পাহাড়ে বিশাল প্রকৃতির ছবি তুলেছেন তিনি। পাহাড়ি ঝরনায় ছুটে চলা নুড়ির চঞ্চলতা ধরা পড়েছে তার ক্যামেরায়। তিনি বিশ্বাস করেন, মানবের অস্তিত্বের গহীনে প্রকৃতির বসবাস অত্যাবশ্যকীয়। এই মন্ত্রই অনুসরণ করেছে তার প্রদর্শনী।
শিবলী সিরাজের ক্যামেরায় ফরাসি নৈসর্গিক সৌন্দর্য
‘ফ্রান্স, নৈসর্গিক ও অনন্ত: এক আলোকচিত্রীর অভিযাত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। সোম থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা। শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা। এই আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত।
শিবলী সিরাজের ক্যামেরায় ফরাসি সৌন্দর্য

ভয়াবহ রূপে ডেঙ্গু, ‘এডিস’ নিয়ন্ত্রণে আমদানি হচ্ছে ‘জিনোটাইপ’ মশা by জাকিয়া আহমেদ

ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর সংবাদও পাওয়া গেছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলো ভরে গেছে ডেঙ্গু রোগীতে। চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন ভিড় সামলাতে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অধিক। তারা একে ডেঙ্গু এপিডেমিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ইংরেজি ‘এপিডেমিক’ এর বাংলা অর্থ ‘মহামারি’।

একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, চলতি সপ্তাহেই ডেঙ্গুকে মহামারি হিসেবে উল্লেখ করতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ঢাকা প্রবলভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আর বর্তমানে যে অবস্থাটি রয়েছে, সেটিকে সরাসরি মহামারি না বললেও এর কাছাকাছি বলছেন তারা। তাদের ভাষ্যমতে, ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যা আক্রান্ত হবার তা হয়েছে, এখনও যদি প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে এর ব্যাপকতা কোথায় গিয়ে থামছে সে বিষয়ে চিন্তিত তারা। এদিকে, সিটি করপোরেশনকে মশা নিধনে সহযোগিতা করতে বিদেশ থেকে ‘জিনোটাইপ’ মশা আমদানির মাধ্যমে ডেঙ্গুবাহী ‘এডিস’ মশা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এক বছর আট মাস বয়সী সৌম্য বিশ্বাস। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) রাখা হলেও অবস্থা ছিল খুব ক্রিটিক্যাল। তাকে আরেকটি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এখানে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে (মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে) মারা যায়। এনিয়ে এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হলো।

গত শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বনশ্রীর আল-রাজি ইসলামিয়া হাসপাতালে মারা যায় ৩৪ দিনের শিশু মুসা মাহমুদ। শুধু এই দুই হাসপাতালেই পাঁচ শিশু মারা গেছে ডেঙ্গুতে।

এছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪০৬ জন। এছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালে ২১১ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৬৫ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩০ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৪২ জন এবং মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যুর সত্যতা পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোনও সিট খালি নেই। সিট না পেয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফ্লোরিং করছেন অনেক রোগী, অনেকেই অপেক্ষা করছেন সিটের আশায়। কোনও কোনও পরিবারের একাধিক সদস্য ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেবল ঢাকাতেই নয়,রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বরিশালেও।

স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা শহর এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ডেঙ্গুর যে প্রাদুর্ভাব, তাতে করে একটি কঠিন ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আমাদের দেশে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এবার আর্লি ব্রেকআউট হয়েছে বলেই এই সময়ে এতো বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তাই স্বাভাবিক যে নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে অধিদফতর ডেঙ্গুর জীবানুবাহী ‘এডিস’ মশা নিয়ন্ত্রণে ‘জিনোটাইপ’ মশা আমদানির কথা ভাবছে বলেও জানিয়েছেন ডা. আবুল কালাম আজাদ। মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আমরা তাদের জিনোটাইপ মশা আমদানি, বাংলাদেশে এর কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ে সহযোগিতার কথা বলেছি, তারাও আমাদের এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।’

‘জিনোটাইপ’ মশা কী করে ‘এডিস’ মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে জানতে চাইলে ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, এই মশা মূলত পুরুষ। এসব মশা ছেড়ে দেওয়া হলে তারা এডিস স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, সেই স্ত্রী এডিস মশা ডিম পারলেও সে মশা থেকে তখন লার্ভা হয় না। ধীরে ধীরে এভাবেই এডিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। এর আগে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে এভাবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

বৃটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় বরিস জনসনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নতুন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া উপলক্ষে আপনি আমার এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। বার্তায় বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, বৃটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ আপনার দেশকে ঐক্য, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্বে বৃটেনের জনগণের দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা ২০১৮ সালে আপনার সফরের কথা আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। আমরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা এবং পূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের পৈতৃক ভূমিতে আশু ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আপনার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার এবং বৃটেনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের আস্থা বজায় রাখছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অভিন্ন মূল্যবোধ এবং বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর কল্যাণের গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতা ও আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বৃটেনের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্যার এডোয়ার্ড হিথের সমর্থনের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সাগ্রহে ২০২১ সালে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও অব্যাহত সাফল্য এবং বৃটেনের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ডেঙ্গু রোগীদের ভিড় ঠাঁই নেই ঢামেকে: ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৭ ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে

রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ব্যাপকহারে রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিট না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তি করা যাচ্ছে না। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কোন কোন বেসরকারি হাসপাতালে আসন না থাকায় খালি হওয়া সাপেক্ষে রোগী ভর্তির সিরিয়াল দিয়ে রাখা হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ভর্তি করতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছে রোগী ও স্বজনরা। এদিকে অধিক সংখ্যক রোগী আসায় তাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে অন্য রোগী ও স্বজনরাও ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সরজমিন দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় উঠতেই সিঁড়ির সামনে ডানে বামে সর্বত্রই ডেঙ্গু রোগী।
পা ফেলার জায়গা নেই। ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে হাঁটার রাস্তা ঘেঁষে শুয়ে আছেন রোগী। পাশেই বসে আছেন স্বজন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ঢামেকে। রোগীর সঙ্গে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক পরিবারের সদস্যরা। ভিন্ন অসুখ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালে আসা অন্য রোগী ও স্বজনরা। ৫ম তলায় ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে ঠাঁই হয়েছে নারায়ণগঞ্জের নাজমার। বয়স ১৯ বছর। চেহারায় অনেকটা বিরক্তি নিয়ে রোগীর স্বামী সালাম জানান, স্থানীয় একটি গ্লাস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন তিনি। তাদের ঘরে ছোট একটি ছেলে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন নাজমা। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এখানে তার চিকিৎসা চললেও স্ত্রীর সঙ্গে থেকে নিজেও অনেকটা রোগী হওয়ার পথে। পর্যাপ্ত আলো বাতাস নেই। ৪ ছেলে মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে ঢাকার ওয়ারিতে থাকেন সাহিদা। তৃতীয় মেয়ে ১১ বছর বয়সী চাঁদ গত ৪দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। রোগীর মা জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে পরে ঢামেকে মেয়েকে ভর্তি করি। এখানে এতো রোগী ডাক্তার নার্স সবাই হিমশিম খাচ্ছেন। ঢামেক সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৪৫৬ জন। আর চলতি বছরে হাসপাতালটি থেকে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৮৬৫ জন।
এদিকে গতকালের সরকারি হিসাব মতে, প্রতি আড়াই মিনিট অন্তর একজন ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। বাকিরা সিট না পেয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সরকারি হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১১২ জন। আর এবছর আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৫৬ জন। আক্রান্ত বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ঢাকার বাইর থেকে ২২০ জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে, ডেঙ্গু ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ নেয়ায় জ্বর হলে ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঠাঁই মিলছে না অনেক রোগীর। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ২৮৪ জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবছর রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ২৫৬ জন। ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগে ৫৫ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৮১ জন, খুলনা ৪৯ জন, বরিশাল থেকে ৩৫ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২৫শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে চারজন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র  বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২৮ হবে। দু’জন চিকিৎসকও  মারা গেছেন। বেসরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা তিন থেকে চার লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালে বর্তমানে ১৯৯ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৭৩ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১৬৫ জন, বারডেম হাসপাতালে ২৭ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ৭৬ জন,  মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১৪০ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৫০ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২৩ জন, কুর্মিটোলায় ২৭ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৮০ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৫৪ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ৯০ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৫৪ জন, গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ১০ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ৭৮ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৯০ জন, খিদমা হাসপাতালে ৩২ জন,  সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১০৫ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৪৭ জন, আদ্ব-দীন হাসপাতালে ৪৪ জন, সালাউদ্দি হাসপাতালে ৪৪ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন,  ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৭২ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৭ জন, আজগর আলী হাসপাতালে ৪৯ জন, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জ্বর না কমা বা অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকা, বমি হওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ, মাথা ধরা, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া বা কম হওয়া, খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়া, নিদ্রাহীনতা ও আচরণের আকস্মিক পরিবর্তন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। অন্তঃসত্ত্বা, বৃদ্ধ, শিশু, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিভার ও কিডনির রোগীরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে -কলরেডির জরিপ

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ তার ওপর সন্তুষ্ট। এছাড়া ৭৩ শতাংশ মানুষ সরকারি কর্মকাণ্ডে খুশি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কলরেডি এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের জরিপের ফলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। সংস্থার মুখ্য গবেষক  অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে গত ৮ থেকে ১৪ই জুলাই পর্যন্ত মুঠোফোনের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৫ জনের কাছ থেকে মতামত নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ এবং ২৪ শতাংশ নারী।
সর্বশেষ নির্বাচনের আগে ও পরে দুইটি জরিপ পরিচালনা করে সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট থাকলেও দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। ধর্ষণ, খুনসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে, সরকারের মন্ত্রীদের কার কত জনপ্রিয়তা সেটাও এই জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে। এতে ৪১ শতাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর তারপরেই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি অবস্থান করছেন। ২৯ শতাংশ মানুষ এই মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে কলরেডির ওই জরিপ। এই জরিপে সকারের আরো ২০ মন্ত্রীর নামও উঠে এসেছে। তবে তাদের জনপ্রিয়তার হার কাদের ও দিপু মনির চেয়ে পিছিয়ে।
সরকার এ জরিপের ফল গুরুত্বের সঙ্গে নেবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, জনগণের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার নিরসনের চেষ্টা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের ফ্যাকাল্টি কাজী আহমেদ পারভেজ ও কলরেডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ আবুল কালাম।
টানা তৃতীয় মেয়াদের ছয় মাসে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারের সার্বিক বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ।

মৃত্যুর গুজব: জনসমক্ষে এলেন এরদোগান

নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার আবার প্রকাশ্যে এসেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। কয়েকটি আরব ও ইসরাইলি পত্রিকায় গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইন্তেকাল করেছেন।
এরদোগানকে তুরস্কের সুপ্রিম কোর্টের একজন নতুন বিচারকের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। এছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এমন ছবিও তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে কয়েকটি আরব ও ইসরাইলি পত্রিকা একে অপরের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশের পর তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এরদোগানের মৃত্যুর খবর নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। আরব ও ইসরাইলি পত্রিকাগুলো দাবি করেছিল যে, চলতি সপ্তাহে মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকে রজব তাইয়্যেব এরাদাগান মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছে।
তুর্কি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। প্রশ্ন তোলা হয়েছিল- তিনি মারা গেছেন, নাকি অসুস্থ, নাকি অবকাশ যাপনে রয়েছেন।
মাহাথির মুহাম্মাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এরদোগান (ডানে)

মায়ের শরীরের একাংশ আমি by মামুন অপু

আমার অস্তিত্বের অঙ্কুরোদগম হয়েছিল
এক মায়াবী নারীর গূঢ় কর্ষিত জঠরে
বাবার রক্ত থেকে মায়ের রক্তে মিশে
তৈরি হলো আমার শাঁস
দশ মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফল আমার জন্ম।

বটবৃক্ষের রক্ত শাদা, মায়ের দুধও...
এমন সাদা ও সুস্বাদু রক্তের তৃষ্ণায়
আমার কণ্ঠনালি ও বুক শুকালে
মা অনায়াসে পরম মমতায় মুখে ধরে বুক থেকে নিসৃত সাদা রক্ত।

হাঁটা ও উড়তে শিখলেই
সন্তানরা হয়ে যায় দ্রুতগামী রেলগাড়ি
যত দূরেই যাই ফিরে আসি ভালোবাসার স্টেশনে
তখন বারবার মনে হয় মায়ের শরীরের একাংশ আমি।

‘পাস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে’ পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী ইমরান

পাকিস্তানের প্রধামন্ত্রী ইমরান খান পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শর্তহীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনব্যাপী সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিস-এ বক্তব্যকালে খান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আস্থা, সমতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে একটি সম্পর্ক দেখতে চাই। আগের মতো তেমন কোন সম্পর্ক দেখতে চাই না যেখানে পাকিস্তান সাহায্য চাইবে আর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে দিতে বলা হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুশি মনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমাদের সম্পর্কটি এখন পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক, আর তা হলো আফগানিস্তানে শান্তি।

শুধু আমেরিকা নয়, যে কোন দেশের কাছেই সাহায্য চাওয়াকে তিনি ঘৃণা করেন উল্লেখ করে খান বলেন, কারণ এই সাহায্য আমার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপের কারণ হয়েছে। এটা করতে গিয়ে নির্ভরশীলতা রোগের সৃষ্টি হয়েছে।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি যখন সৌদি আরব থেকে ফিরলাম সবাই জিজ্ঞেস করলো কি নিয়ে এসেছি। যেন আমি সেখানে টাকা চাইতে গিয়েছি। এটা আমার দেশের জন্য অপমানজনক বলে আমি মনে করি। আত্ম-মর্যাদা, আত্ম-নির্ভরশীলতা থাকলেই একটি দেশ জেগে উঠতে পারে। টাকা ভিক্ষা করে কেউ দাঁড়াতে পারে না।

আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চাইবো, আমি কখনো আর এরকম অপমানকর অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। আমি আপনাদের বলছি যে একজন পাকিস্তানী হিসেবে আমি কখনো এমন অপমান বোধ করিনি যখন মার্কিন সেনারা পাকিস্তান থেকে ওসামা বিন লাদেনকে তুলে নিয়ে যায়।

আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই। বন্ধুত্বের মধ্যে একজন ধনী হবে আরেকজন গরীব হবে – তাতে কিছু আসে যায় না। এটা হবে মর্যাদার সম্পর্ক। আর এখানে সেটাই চাই আমি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতসহ নিকট প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কামনা করেন।

তিনি বলেন, গত বছর ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) সরকার মতবিরোধ দূর করতে এবং উন্নত বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রত্যেক প্রতিবেশী দেশের কাছে ছুটে গেছে।

আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী খান বলেন যে তিনি দেশে ফিরে তালেবানদের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা করবেন।

তিনি জানান যে কয়েক মাস আগে তালেবান প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেয়েছে কিন্তু আফগান সরকারের বিরোধিতার কারণে তা হয়নি। খান বলেন, এবার আমি তালেবানদের সঙ্গে সাক্ষাত করবো এবং তাদেরকে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি করানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করবো।

এই সমস্যা শুধু আলোচনার মাধ্যমেই নিরসন সম্ভব – এ কথা প্রথম দিন থেকে বলে আসার কারণে তিনি তালেবানদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন বলে খান জানান।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানরা চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটিতে পরিণত হতে না দেয়ার অঙ্গীকার করেছে তালেবানরা।

তবে তারা এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি’র সরকারের সঙ্গে বসতে রাজি হয়নি। এই সরকারকে মার্কিনীদের পুতুল বলে মনে করে তারা। তবে আফগান সমঝোতা এগিয়ে নিতে আফগান নাগরিকদের ৬০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কাতারে তালেবানদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী বৈঠক করেছে।

বরিস জনসন: ব্রিটেনের বিতর্কিত নতুন প্রধানমন্ত্রী

বরিস জনসন
একবছর আগেও তার সবচেয়ে কট্টর সমর্থকও যা স্বপ্নেও ভাবেননি, সেটাই অর্জন করেছেন বরিস জনসন।
গত মঙ্গলবার তিনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সুবাদে বুধবার তিনি হচ্ছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ছোটবেলায় পুরো পৃথিবীর রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বরিস জনসন। ৫৫ বছর বয়সে হয়েছেন ক্ষমতাসীন টোরি পার্টির রাজা। ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার জন্য উদগ্রীব যে জনগোষ্ঠী তারাই এখন তার অনুগত প্রজা।

অহমিকা আর ব্যক্তিত্বে মোড়া রাজনীতিক

ব্রিটেনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনীতিক কে?
এই প্রশ্নে ১০ জনের আট জনই হয়তো বলবেন - বরিস জনসন।
শুধুই যে বিতর্কিত তাই নয়, অনেক দিক থেকে ব্যতিক্রমীও বটে।
বাচনভঙ্গি, শব্দের ক্ষুরধার ব্যবহার, চাহনি, মজা করে কথা বলার অসামান্য ক্ষমতা, এলোমেলো চুল, ব্যক্তিগত জীবন - এসবের বিবেচনায় তিনি অন্য দশজন রাজনীতিকের থেকে আলাদা।
বিয়ে না করেই বসবাস করছেন তার থেকে প্রায় ২৫ বছরের বয়সে ছোটো এক বান্ধবীর সাথে।
বরিস জনসন এবং ক্যারি সিমন্ডস হবেন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের প্রথম অবিবাহিত দম্পতি।
বিবিসির রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক ল্যরা কুনসবার্গ বলছেন, "বরিস জনসন এমন একজন রাজনীতিক যাকে অবজ্ঞা করা অসম্ভব, তার অহমিকা মিশ্রিত ব্যক্তিত্বের সাথে পাল্লা দেওয়া কোনো রাজনীতিকের পক্ষে দুরূহ কাজ।"
২০০৮ সাল থেকে দু দফায় লন্ডনের মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৫ সালে বরিস জনসন যখন আবার টোরি পার্টির টিকেটে সংসদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, "আমি মাঠে আমার তারকা খেলোয়াড়দের চাই।"
অবশ্য পরে ব্রেক্সিট গণভোটের সময় বরিস জনসনই ডেভিড ক্যামেরনের পিঠে ছুরি মারেন। নেতার বিরুদ্ধে গিয়ে ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। ব্রেক্সিট শিবিরের নেতা হয়ে পড়েন।

মার্কিন নাগরিক

আলেকজান্ডার বরিস দ্য ফেফেল জনসনের জন্ম নিউ ইয়র্কে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব রেখে দিয়েছিলেন।
ব্রিটেনের অভিজাত সমাজের আদর্শ প্রতিনিধি তিনি।
বাবা ছিলেন কূটনীতিক। কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে ইউরোপীয় সংসদের সদস্যও হয়েছিলেন।
অত্যন্ত অভিজাত স্কুল ইটনে পড়ে গ্রাজুয়েশন করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও এখন তাকে কনজারভেটিভ পার্টির কট্টর ডানপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, ছাত্র জীবনে অল্প সময়ের জন্য বামধারার সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে যুক্ত হয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুনোর পর পেশা হিসাবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। দি টাইমস পত্রিকায় কাল্পনিক একটি উদ্ধৃতি ব্যবহারের জন্য চাকরি খুইয়েছিলেন।
তারপর আরো দুই একটি পত্রিকায় কাজ করার পর যোগ দেন বিখ্যাত দ্য টেলিগ্রাফে। ব্রাসেলসে ঐ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করতেন।
২০০১ সাল থেকে তৎকালীন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির টিকেটে এমপি নির্বাচিত হলেও তিনি কখনও ছায়া মন্ত্রিসভায় ঢোকেননি। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাকে তেমন পছন্দ করতেন না।
২০০৮ সালে সংসদের রাজনীতি ছেড়ে তিনি লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এবং তখনই ব্রিটেনের রাজনীতিতে ভিন্ন এক মাত্রা পেয়ে যান বরিস জনসন।

মুসলিম হেরিটেজ

বরিস জনসনের প্রপিতামহ অর্থাৎ তার দাদার বাবার নাম ছিল আলী কেমাল। জাতিতে তুর্কি মুসলিম।
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আলী কেমাল প্রথমে একজন সাংবাদিক ছিলেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। অটোম্যান মন্ত্রিসভায় খুব কম সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি।
১৯২০ এর দশকে আলী কেমাল গণপিটুনিতে নিহত হন।
বাবার সূত্রে তার বংশের ইতিহাস জানতে, স্বজনদের সাথে দেখা করতে বরিস জনসন একবার তুরস্কে গিয়ে বেশ কিছুদিন ছিলেন।
তার মুসলিম হেরিটেজের কথা মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেন বরিস জনসন। । তবে সম্প্রতি বোরকা পরা নারীদের নিয়ে তার এক কটু মন্তব্যের পর তাকে মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে অনেক গালমন্দ শুনতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীত্বের স্বপ্ন

২০১৬ সালে বেক্সিট গণভোটে হারার পর ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং দলের নেতৃত্ব ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় যোগ দেন বরিস জনসন।
তবে টেরিজা মের সাথে এঁটে উঠতে পারবেন না বুঝতে পেরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
পরে কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থীদের চাপে বরিস জনসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন টেরিজা মে।
কিন্তু যেভাবে টেরিজা মে ইউরোপীয় কমিশনের সাথে ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য মীমাংসা করছিলেন তাতে প্রচণ্ড নাখোশ ছিলেন বরিস জনসন। ২০১৮ সালের জুলাইতে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপর তার ব্রেক্সিট চুক্তিতে সংসদের অনুমোদন পেতে বার বার ব্যর্থ হওয়ার পর চাপের মুখে টেরিজা মে যখন দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নতুন সুযোগ লুফে নেন বরিস জনসন।
৩১শে অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনে কোনো চুক্তি ছাড়াই তিনি ব্রিটেনকে ইইউ জোট থেকে বের করে আনবেন - এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থী শিবিরের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি।
মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় কনজারভেটিভ পার্টির ৬৭ শতাংশ সদস্যের সমর্থন পেয়ে দলের নেতা হয়েছেন বরিস জনসন। বুধবার হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে ব্রেক্সিট নিয়ে তার দল, এবং পুরো ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে বিভেদ, মতানৈক্য চলছে, তাতে অক্টোবরের মধ্যে তিনি তার দেশকে ইইউ থেকে বের করে আনতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে বিরাট সন্দেহ রয়েছে।
যদি না পারেন, বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ খুবই সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর এই মাসে অর্থাৎ ২০২০ সালে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তা নিয়ে অনেক বাঘা বাঘা রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক বয়কট অবজ্ঞা করে মুসলিম পরিবারকে আশ্রয় দিলেন বাঙালি ব্রাহ্মণ পুরোহিত by সুবীর ভৌমিক

আমরা এখানে যার কথা বলছি, তিনি ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচেয়ে ক্যারিশমেটিক নেতা সুভাষ চন্দ্র বসু নন। এই সুভাষ এক গরিব বাঙারি ব্রাহ্মণ। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এক মুসলিম নারী ও তার দুই সন্তানকে আশ্রয় প্রদান করার জন্য তার জীবিকা হারিয়েছেন।

সাকিনা বিবি ও তার সন্তানদের তাড়িয়ে না দিয়ে সুভাষ রায়চৌধুরী এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারতে যেখানে বিশেষ করে ২০১৯ সালের এপ্রিল-মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরার পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধ তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

পেশায় হিন্দু পুরোহিত সুভাষের আয় আসে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় তার পৈত্রিক গ্রাম চোওয়ায় হিন্দুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে।

চলতি বছরের প্রথম দিকে তার মেয়ে কাকলী (তিনি তালাকপ্রাপ্তা) সুভাষকে অনুরোধ করেন সাকিনা বিবি ও তার সন্তানদের আশ্রয় দিতে। স্বামীর তাড়িয়ে দেয়া সাকিনা ও তার সন্তানেরা তখন আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সুভাষ ও তার স্ত্রী ইলা তৎক্ষণাতই তাতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু সাথে সাথেই অন্যান্য গ্রামবাসী ঝামেলা সৃষ্টি করেন।

সাউথ এশিয়ান মনিটরকে সুভাষ রায়চৌধুরী বলেন, তারা আমাকে বলল, ঠাকুরমশাই, আমাদের পূজায় আর আপনাকে ডাকব না। আমি জানতাম যে এক মুসলিম নারী ও তার সন্তানদের আশ্রয় দেয়ায় তারা কষ্ট পেয়েছে। এই সময়ে ধর্ম অনেক আবেগ উস্কে দেয়। কিন্তু আমার কাছে গৃহহীন, অরক্ষিত এক নারীই আসল ধর্ম। সে মুসলিম না হিন্দু তা আমার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও মেয়েও সাকিনা বিবি ও তার সন্তানদের তাদের বাড়িতে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইলা বলেন, তারা এখন আমার পরিবারের সদস্য। আমরা যা পারি তা ভাগাভাগি করে নেই। অবশ্য গ্রামবাসীরা পূজা করতে না চাওয়ায় আমার স্বামী কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে।

সাকিনার প্রতি সুভাষ ও ইলা প্রবল অনুরাগ থাকার কারণ তাদের মেয়ে কাকলীও বিয়ে ভাঙার পর একই ধরনের দুর্ভোগে পড়েছিল।

সুভাষ বলেন, বিয়ে ভাঙার পর একটা মেয়ে কত দুর্ভোগে পড়ে, তা আমরা জানি। এ কারণে সাকিনা যত দিন কোনো আশ্রয় ও জীবিকা না পাবে, তত দিন আমরা তাকে আশ্রয় দেব।

সাকিনা বলেন, রায়চৌধুরীরা তার ধর্মকর্ম পালনে কোনো বাধা দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আমি রোজা রেখেছি। তারা এমনকি তাদের সামান্য আয় থেকেই আমার জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত সাহায্য নিয়ে কোনো রাজনীতিবিদ রায়চৌধুরীর কাছে যায়নি। কেবল হরিহর্পার (গ্রামটি এর আওতায়) ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার পূর্ণেন্দু সান্যাল সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সান্যাল বলেন, যে কাজ করেছে তারা তার জন্য আমি সব গ্রামবাসীকে সুভাষ ও তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বলেছি। তাদেরকে সুভাষ যাতে পূজা করা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে সুযোগ দিতেও তাদের বলেছি। পরিবারটি বিরলভাবে ঈশ্বরের সেবা করছে।

স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত রায়চৌধুরীদের ২৫ কেজি চাল ও অন্যান্য সামগ্রী এবং স্থানীয় একটি কলেজ দিয়েছে ৫ হাজার রুপি।

কোনো কোনো নেতা এই ঘটনার উল্লেখ করে বলছেন যে বাঙালি সমাজে সেক্যুলার ও উদার মূল্যবোধ যে কতটা গভীর, এটিই তার প্রমাণ।

বাংলা পক্ষের নেতা গর্গা চ্যাটার্জি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গেরুয়া আক্রমণ শানালেও বাংলা এখনো সামাজিক আধুনিকতার দিকে থেকে বাকি ভারত থেকে এগিয়ে রয়েছে।

বাঙ্গালী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ঘনঘন প্রাথমিক ব্রিটিশ শাসনের সময় সামাজিক গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লড়াইকারী ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে জনপ্রিয় সিরিয়াল প্রচার করছে।

বিশ্লেষক সুখোরঞ্জন দাসগুপ্ত বলেন, সিরিয়ালে যখন রাজা রামমোহন বা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে রক্ষণশীল পুরোহিতদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়, তখন ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বাংলার মহান ঐতিহ্যের সংগ্রামের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

তিনি এসএএমকে বলেন, এই লড়াইটি আবার এখন লড়তে হবে।

পায়েল রোহত্যাগির মতো গেরুয়া বা হিন্দুত্ববাদী সমর্থকেরা রাজা রামমোহনকে ব্রিটিশদের চামচা বলে গালি দিয়েছিলেন। এতে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

কলকাতায় বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের রোডশোয়ের সময় বিজেপি কর্মীদের কথিত বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটলে লোকসভার নির্বাচনের শেষ ধাপের ৯টি নগর আসনের সব কটিতেই বিজেপি হেরে যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মুসলিম এমপি নুসরাত জাহান হিন্দু ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রায় অংশ নিলে গেরুয়া সমর্থকেরা একদিকে যেমন স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক খেলা হিসেবেও অভিহিত করেছে। এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে বিয়ে করা নুসরাত জানিয়েছেন, তিনি শৈশব থেকেই তার বাবার সাথে রথযাত্রায় যেতেন, মেলা থেকে খেলনা কিনতেন, মিষ্টি কিনতেন।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, নুসরাতের রথযাত্রা যদি সেক্যুলার ঘটনা হয়ে থাকে, তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সমালোচনা কেন হয় ইফতার পার্টিতে যাওয়ার জন্য?

তিনি বলেন, আসল কথা হলো, বাংলার সংস্কৃতি হলো আন্তঃধর্মীয় ও সমন্বয়বাদী। বাকি দেশ যদি তা বুঝতে না পারে, তবে তা আমাদের সমস্যা নয়।

তিনি বলেন, বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উদযাপনে গঠিত অনেক কমিটির প্রধান থাকেন মুসলিম সামাজিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আবার ঈদ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন অনেক হিন্দু।

বিজেপি-আরএসএস পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ আনছে তীব্রভাবে। কিন্তু তিনি জোরালোভাবে তার কার্যক্রমকে সমর্থন করে যাচ্ছেন এই বলে যে তিনি বাংলার সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি বজায় রাখছেন।

আফগানিস্তানে নিজেদের ‘অবস্থানের’ অতিমূল্যায়ন করেছে ভারত! by ইয়াসমিন আফতাব আলী

আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হলো আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ১০-১১ জুন বেইজিংয়ে চার পক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে দুটো বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে।

প্রথমত, “চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আলোচনায় স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের বিশ্বাস যে পাকিস্তান আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে”।

দ্বিতীয় বিষয় হলো “চার পক্ষ আলোচনার এই অগ্রগতি ধরে রাখতে চায়, এবং মস্কোতে ২৫ এপ্রিল যে ত্রিপক্ষীয় ঐক্যমত হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোকেও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং যখন আফগান-অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হবে, তখন এই বর্ধিত গ্রুপ বৈঠকে বসবে”।

বৈঠকে জোর দিয়ে আরও বলা হয়েছে যে, শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল উপায়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে এবং সকলের অংশগ্রহণে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমন্বিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য চুক্তিতে বিশদ বিবরণ থাকতে হবে।

বৈঠকের একটা অন্যতম দিক হলো ভারতের অবস্থানকে গৌণ পর্যায়ে নামিয়ে আনা। চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার কোথাও ভারতের অবস্থান নেই। শিগগিরই শান্তি প্রক্রিয়ার কোথাও যে তারা অন্তর্ভুক্ত হবে, তেমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

ভারতের যে ‘টানেল নীতির’ কারণে তারা এই অবস্থায় পড়েছে, সেটাকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন এম. কে ভদ্রকুমার। তিনি বলেছেন, “মৌলিকভাবে, ভারতের নীতি ব্যর্থতার কারণ হলো আফগানিস্তানকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা। পাকিস্তানকে হারানোর মানসিকতার কারণে দিল্লী ভুলেই গেছে যে, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ন্যায্য স্বার্থ রয়েছে; নেপালে ভারতের যে স্বার্থ রয়েছে, তার চেয়ে কোন অংশে সেটা কম নয়, এবং সংস্কৃতি, উপজাতি ও জাতিগত মিল ও ভৌগলিক সহাবস্থান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণে আফগানিস্তান কখনই পাকিস্তানকে ছাড়া চলতে পারবে না”।

ভারত একই সাথে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপকে অর্থায়ন করছে বলেও কথিত রয়েছে।

মনে হচ্ছে যেন, আফগানিস্তানের নতুন বাস্তবতাটা এখনও বুঝতে পারেনি ভারত।

তাদের বোঝা উচিত ছিল।

২০০১ সালে তালেবানরা যত জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতো, এখন তার চেয়েও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। তালেবানরা নিরাপত্তা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের উপর হামলা করে আসছে এবং এতে বহু হতাহত হয়েছে। এটা কাবুল সরকারের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, যাদেরকে ভারত শক্ত সমর্থন দিয়ে আসছে। দুঃখজনক হলো আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা তাকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এইসব সিদ্ধান্তের কারণে বহু প্রভাবশালী নেতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; তিনি সিনিয়র উপদেষ্টা আহমেদ জিয়া মাসুদকে সরিয়ে দিয়েছেন, হাজারা নেতা মোহাম্মদ মোহাকিকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, এবং জেনারেল আব্দুর রশিদ দোস্তামকে এমন একটা পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছেন, যেখানে তিনি এক ধরনের স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন। এরপর ঘানি অপশতু নেতাদের সাথে মিত্রতা করেছেন। নিরাপত্তা উপদেষ্টা আতমারকে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং সেই সব সুযোগ ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়েছিলেন, যেগুলো শুধু ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

আমেরিকা শেষ পর্যন্ত এই অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, আফগানিস্তানে কোন শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে ছাড়া সম্ভব হবে না। আফগানিস্তানে অবকাঠামো খাতে ভারতের বিনিয়োগ থাকলেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার কোথাও ভারতের অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আফগানিস্তান থেকে ভারত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং যাতায়াত ব্যয়ও বহু বেড়ে যায়। তাই এখন আর কোন সন্দেহ নেই যে আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাটা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী মিসাইলের ঘাটতির কারণে এখনও ভুগছে ভারতীয় সেনাবাহিনী by ফ্রান্জ-স্টিফান গাডি

ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশান (ডিআরডিও) চলতি মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতের মরুভূমি প্রধান পোখরানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রেঞ্জে নাগ তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) সফলভাবে গ্রীষ্মকালীন পরীক্ষা করেছে।

৭ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত এই গ্রীষ্মকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয় বলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নাগ গ্রীষ্মকালিন ইউজার মহড়ার অংশ হিসেবে পোখরান রেঞ্জের চরম তামপাত্রায় ছয়টি মিশন পরিচালনা করা হয়েছে। সবগুলো মিসাইলই মিশনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী, সর্বনিম্ন পাল্লা, সর্বোচ্চ পাল্লা, সরাসরি হামলা এবং উপর থেকে হামলার পরীক্ষাগুলোতে সফলভাবে নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত হেনেছে”।

চলতি বছরের শুরুর দিকে নাগ এটিজিএমের শীতকালীন মহড়াও সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, “সেনাবাহিনীর একটি ইউজার টিম নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী এই পরীক্ষা চালিয়েছে। মিসাইল সিস্টেম ফেব্রুয়ারিতে এরই মধ্যে শীতকালিন মহড়াও সফলভাবে শেষ করেছে। শীতকালিন ও গ্রীষ্মকালিন মহড়ায় যে ১০টি মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছে, সবগুলোই সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে”।

ডিআরডিও প্রায় এক দশক ধরে নিজন্স প্রযুক্তিতে নাগ এটিজিএম তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নাগ সব ঋতুতে ব্যবহারের উপযোগী শীর্ষ অ্যাটাক এটিজিএম, যেটার কার্যক্ষমতার সীমা তিন থেকে সাত কিলোমিটার। এ যাবত স্থল থেকে যতগুলো এটিজিএম পরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর সবই করা হয়েছে সশস্ত্র সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে।

তবে এটা এখনও নিশ্চিত নয় যে, নাগ সেনাবাহিনীর সমস্ত অপারেশনাল শর্ত পূরণ করতে পারবে কি না। মূল্য উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে কমে আসার পরে একটা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ সেনাবাহিনী বারবার স্বল্পমূল্যের বিদেশী এটিজিএমের কথা বলে এসেছে। ভারত সরকার এর আগে ইসরাইলের রাফায়েল ডিফেন্স সিস্টেমের সাথে সম্পাদিক একটি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করেছে। ওই চুক্তির অধীনে ৩২১টি স্পাইক এটিজিএম সিস্টেম এবং ৮,৩৫৬ মিসাইল কেনার কথা ছিল।

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ হিসেব মতে, বাহিনীর বিভিন্ন ধরণের ৬৮,০০০ এটিজিএম এবং ৮৫০টি লঞ্চারের ঘাটতি রয়েছে। সেনাবাহিনীর কাছে এই মুহূর্তে যে সব এটিজিএম রয়েছে, সেগুলোর একটা বড় অংশ হলো দ্বিতীয় প্রজন্মের মিলান-২টি এবং কোনকুর্স এটিজিএম সিস্টেম, যেগুলোর রাতে ব্যবহার করা যায় না। বাহিনী দ্রুত সরকার পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ২,৫০০টি তৃতীয় প্রজন্মের এটিজিএম এবং ৯৬টি লঞ্চার কিনতে চাচ্ছে বলে জানা গেছে। জানুয়ারিতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফ্রান্সের তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের ৫০০০ মিলান এটিজিএম কেনার অনুমোদন দেয়।

নাগ এখন যেই পর্যায়ে রয়েছে, সেটা এই ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারে, সেটা এখন দেখার বিষয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের প্রস্তুতি খুব সামান্য: অস্ট্রেলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি মিয়ানমার। দেশটি যে ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে তা খুবই যৎসামান্য। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা এক নতুন প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। গত ২৪ জুলাই বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ক্যানবেরাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সাইবার পলিসি সেন্টার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট (এএসপিআই)।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘদিন পার হলেও এর আওতায় কোনও শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে যায়নি। মানবাধিকার গ্রুপগুলো দাবি করে আসছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে বসবাসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এবার অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এএসপিআই-প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার যৎসামান্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ‘ম্যাপিং কন্ডিশন্স ইন রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চলমান সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিঘ্ন ঘটা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যের স্বল্পতা থাকার কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’

২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত রাখাইনে প্রত্যাবাসনের এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে এএসপিআই। ২০১৭ সালের সহিংসতায় পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও ধ্বংস হয়ে গেছে-ইউএনওস্যাট কর্তৃক শনাক্তকৃত এমন ৩৯২টি রোহিঙ্গা বসতি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে এসব বসতির মধ্যে ৩২০টির বেশি বসতি পুনগর্ঠনের কোনও আলামত নেই। কমপক্ষে ৪৫টি ক্যাম্প নির্মাণ কিংবা বর্ধিতকরণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গা কিংবা দুই ধরনের মানুষের জন্যই ক্যাম্পগুলো তৈরি হয়েছে। এছাড়া সাবেক রোহিঙ্গা বসতির ওপর ছয়টি সন্দেহমূলক সামরিক ফ্যাসিলিটি নির্মাণ ও বর্ধিত করা হয়েছে।

এএসপিআই বলছে, ইউএনওস্যাট ডাটার পাশাপাশি তারা অন্তত ৫৮টি বসতি এলাকা শনাক্ত করেছে যেগুলো ২০১৮ সালে নতুন করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালেও অন্য কিছু বসতিতে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে।

এএসপিআই’র গবেষক নাথান রুসার বলেন, ‘আমাদের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ২০১৮ এবং ২০১৯ সাল জুড়ে জনবসতির এলাকায় অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞের আলামত পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।’

ইরানে আন্তঃমহাদেশীয় ড্রোন আছে, প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে: নৌ কমান্ডার

রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানজাদি
ইরানের নৌ কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানজাদি বলেছেন, তার দেশের হাতে আন্তঃমহাদেশীয় ড্রোন রয়েছে এবং যদি ভবিষ্যতে কোনো দীর্ঘ অভিযানে প্রয়োজন হয় তাহলে এগুলোকে ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার ইয়োং জার্নালিস্ট ক্লাব বা ওয়াইজেসি'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে খানজাদি ইরানের ড্রোন সক্ষমতা বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "তার দেশ পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। আমেরিকা এবং তার মিত্র বাহিনীর জাহাজগুলোর দৈনন্দিক চলাফেরা এবং প্রতি মুর্হূর্তের গতিবিধির সব ছবি ও চিত্র আমাদের আর্কাইভে রয়েছে।" তিনি বলেন, "আমরা অত্যন্ত জোরের সঙ্গেই ঘোষণা করছি যে শত্রুর সব জাহাজ বিশেষ করে আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজগুলো এ অঞ্চলে প্রবেশের আগ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তূ আমাদের কড়া নজরদারিতে আছে।" এ অঞ্চলে শত্রুদের কী ধরনের মিশন রয়েছে এবং তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য ইরানি সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এবং ভন্ডামিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে শত্রুর জাহাজগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন এডমিরাল খানজাদি।
আন্তঃমহাদেশীয় ড্রোন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জবাবে ইরানি নৌ প্রধান বলেন, "হ্যা আমাদের কাছে এখন এ ধরনের ড্রোন রয়েছে। প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করা হবে।" গত ৪ জুন জিব্রাল্টার প্রণালীতে ব্রিটিশ নৌ বাহিনী অবৈধভাবে ইরানি তেল ট্যাংকার আটক করায় খানজাদি এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, সমুদ্রে দস্যুতা চালানোর দিন শেষ। সব দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি এখন থেকে সম্মান দেখাতে হবে বলেও দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

সমগ্র ভারতে এনআরসি বাস্তবায়নে বিজেপির প্রতিশ্রুতি খুবই বিপজ্জনক by রোহান ভেঙ্কাটারামাকৃষ্ণা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
গত ১৭ জুলাই বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে পুরো ভারতে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই বিষাক্ত প্রক্রিয়াটি এই মুহূর্তে শুধু আসামেই সীমিত আছে। যারা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবে, কেবল তাদেরকেই তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে সেখানে। শাহ ঘোষণা দেন যে, “আমরা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গায় বসবাসরত সমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করবো এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের ফেরত পাঠাবো”।

এনআরসি সম্প্রসারণের এই প্রতিশ্রুতি শাহের এটাই প্রথম নয়। আসাম যেখানে তাদের তালিকা চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শাহের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বারবার বলে আসছে যে, পুরো ভারতে তারা এটা বাস্তবায়ন করবে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় শাহ “অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের” উঁইপোকা আখ্যা দিয়েছিলেন এবং প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কেন তাদেরকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলা হবে না। সেই সাথে বিজেপির ম্যানিফেস্টোতে প্রস্তাব করা হয় যে, “এনআরসি দেশের বাকি অংশেও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে”। পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেয়া প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দের বক্তৃতাতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, যে বক্তৃতাটি মূলত সরকার লিখে দেয়।

যদিও বহু মানুষ মনে করেন যে, ‘বাংলাদেশী’ শব্দটা আসলে বাঙালি মুসলিমের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, তবে বিজেপি নেতারা কাগজপত্রবিহীন অভিবাসনের জুজুর বিষয়টি উত্থাপন করতে পেরে খুশি এবং নিজেদের রাজ্যগুলোতে তারা এটা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উত্তর ভারতের অন্যান্য রাজ্য, দিল্লী, কর্নাটক থেকে এর দাবি তোলা হয়েছে এবং সেটা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

অসম্ভব প্রতিশ্রুতি

এই সবকিছুই গভীরভাবে শঠতাপূর্ণ ও বিপজ্জনক।

আসামে এনআরসি তৈরির প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে হয়নি। এমনিতেই এই প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার কোন স্থান নেই, এরপরও রাজ্যের ইতিহাসে কিছু আইন রয়েছে, যে কারণে এটা করা গেছে সেখানে। কিন্তু এরপরও এমনকি ন্যায় বিচার ও মানবিকতার বিষয়টি আপনি যদি বাদও দেন, এরপরও পুরো ভারতে এনআরসি তৈরি একটা অসম্ভব বিষয়।

ভারতের বিশাল অংশের মানুষ তাদের পিতৃপুরুষের পরিচয় প্রমাণের মতো কোন কাগজপত্র দেখাতে পারবে না। এই প্রক্রিয়া শুরু হলে নিশ্চিতভাবে সংখ্যালঘুরা আরও হয়রানির শিকার হবে, আর বিজেপি ঠিক সেটাই চায়। পুরো ভারতে এনারসি করতে হলে বিপুল অর্থও ব্যয় হবে।

সরকার এখন পর্যন্ত এটাই জানাতে পারেনি যে, আসামে তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নিয়ে তারা কি করবে, যে সংখ্যাটা কোটির দিকে যেতে পারে।

পুরো দেশে অভিবাসী জুজুর ভয় দেখালেও বিজেপি এখন পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেনি যে, কিভাবে পুরো ভারতে এনআরসি কাজ করবে। এর কারণ হলো এটা পুরোপুরিই একটা রাজনৈতিক বুলি। এটা যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করবে, সেটা সরকারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। বছরের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে সরকার জানিয়েছিল যে, তারা অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি সম্প্রসারণ করবে না।

এটা সেই সব বিপজ্জনক বিজেপির সিদ্ধান্তগুলোর একটি, যেটা ভারতীয়দের আতঙ্কিত করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন অবৈধ অভিবাসীর জুজুর বিষয়টি বিজেপির এমন একটা রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে, যেটার ব্যবহার তারা আর বন্ধ করতে পারছে না। এখন আসামকে এই সহায়তা করা দরকার যাতে তারা এই অসহ্য চর্চাটাকে যথাসম্ভব মানিবকতা বজায় রেখে শেষ করতে পারে, যদিও এই মুহূর্তে ব্যাপক বন্যার কারণে এর প্রক্রিয়া থমকে আছে। একটা আগুনঝড় উসকে দেয়া থেকে ক্ষমতাসীন দলকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

প্রথম-লঘু অপরাধে শাস্তি নয়, ‘শিক্ষানবিশ আইন’ চূড়ান্ত by এস এম আববাস

জীবনে প্রথম ও লঘু অপরাধের জন্য কাউকে শাস্তি না দিয়ে সংশোধনের ব্যবস্থা করতে ১৯৬০ সালের ‘প্রবেশন অর্ডিন্যান্স’কে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে ‘শিক্ষানবিশ আইন’ (Probation Act-2018)-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে জীবনে সংঘটিত প্রথম কিংবা লঘু অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালের ‘প্রবেশন অর্ডিন্যান্স’ যুগোপযোগী করে নতুন খসড়া আইন চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন করে এই আইনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিক্ষানবিশ আইন’। আইনটি চূড়ান্ত হলে অপরাধীদের সংশোধন কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে সমাজ সেবা অধিদফতরের উপপরিচালক (চিকিৎসা ও প্রবেশন) লাইমা ইয়াসমিন বলেন, ‘১৯৬০ সালের প্রবেশন অর্ডিন্যান্স যুগোপযোগী করে একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। খসড়াটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোও হয়েছে। জীবনে প্রথম ও লঘু অপরাধে কাউকে জেল না দিয়ে তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতেই আইনটি করা হচ্ছে। যেন অপরাধীরা সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে আসতে পারে।’

প্রবেশন বা শিক্ষানবিশ
লঘু ও প্রথম অপরাধী এবং অপরাধের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত করে তোলার জন্য পরিচালিত কার্যক্রম হচ্ছে প্রবেশন। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স-১৯৬০’ অনুযায়ী কারাদণ্ড পাওয়া নারীদের ‘বিশেষ সুবিধা আইন-২০০৬’ ও ‘শিশু আইন-২০১৩’ অনুসারে সমাজসেবা অধিদফতর প্রবেশন ও আফটার কেয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসব আইন ছাড়াও নতুন খসড়ায় ২০১৩ সালের ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা আইন’ অনুযায়ী শিক্ষানবিশ কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষানবিশ হিসেবে সুযোগ পাবেন যারা
যেসব অপরাধীর আগে কোনও আদালতে কোনও দণ্ড হয়নি, তারা নির্ধারিত শর্তে মুক্তি পাবেন। অপরাধীর বয়স, চরিত্র, প্রাক-পরিচয়, অপরাধের প্রকৃতি, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে যেকোনও বয়সের নারী-পুরুষকে শিক্ষানবিশ হিসেবে মুক্তি দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট আদালত।

অনূর্ধ্ব দুই বছরের সাজা পাওয়া কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে অপরাধীর বয়স, চরিত্র, প্রাক-পরিচয় অথবা শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শিক্ষানবিশ আদেশ দিতে পারবেন আদালত। অপরাধীর শারীরিক-মানসিক অবস্থা, অপরাধের প্রকৃতি ও অপরাধ লাঘবে তার সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট আদালত শিক্ষানবিশ আদেশ দেবেন বিচারক।

দণ্ডাদেশের পর দণ্ডিত ব্যক্তির আবেদন জানানোর পর নির্ধারিত আদালত এসব বিবেচনায় শিক্ষানবিশ হিসেবে আদেশ দেবেন।

যেসব আদালত শিক্ষানবিশ আদেশ দেবেন
সাজা পাওয়া কোনও আসামিকে শিক্ষানবিশ আদেশ পেতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালতে আবেদন জানাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ আদালত অথবা মহানগর দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত অথবা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত অথবা মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম অথবা অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম, সিনিয়র বিচারিক হাকিম অথবা মহানগর বিচারিক আদালত ও বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারিত হাকিম এই আদেশ দেবেন।

যেসব অপরাধে কোনও ব্যক্তি শিক্ষানবিশ আদেশের অযোগ্য হবেন
কোনও ব্যক্তির দণ্ডবিধির ২১৬-এ, ৩২৮, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৮৮, ৩৮৯, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০১, ৪০২, ৪৫৫ অথবা ৪৫৮ ধারার অপরাধে শাস্তি হলে অথবা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা হলে অপরাধী শিক্ষানবিশ আদেশের অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

উল্লিখিত ধারার অপরাধগুলো হলো, দস্যু বা ডাকাতকে আশ্রয় দেওয়া; হত্যার উদ্দেশ্যে বিষপ্রয়োগ; কাউকে হত্যা বা গুরুতর আঘাতের ভয় দেখিয়ে কোনও কিছু আদায় করা; কোনও কিছু আদায় করার উদ্দেশ্যে কাউকে খুন বা গুরুতর আঘাতের ভয় দেখানো; মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার মতো অপরাধের ভয় দেখিয়ে কোনও কিছু আদায় করা; কোনও কিছু আদায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত করার ভয় দেখানো, দস্যুতার উদ্যোগ নেওয়া; হত্যা বা গুরুতর আঘাতের উদ্দেশ্যসহ দস্যুতা বা ডাকাতি করা; মারাত্মক অস্ত্রসজ্জিত হয়ে দস্যুতা বা ডাকাতির উদ্যোগ নেওয়া; ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া; চোরের দলভুক্ত হওয়া; ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া; আঘাত-আক্রমণ বা অবৈধ আটকের প্রস্তুতি নেওয়ার পর গোপনে অনধিকার গৃহপ্রবেশ; কিংবা আঘাত-আক্রমণ বা অবৈধ আটকের প্রস্তুতি নেওয়ার পর রাতের বেলা গোপনে অনধিকার কারও ঘরে গৃহপ্রবেশের মতো অপরাধ।

এসব অপরাধ ছাড়া অন্য যেকোনও অপরাধে সাজা হলে ‘শিক্ষানবিশ’ আদেশের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে মৃত্যদণ্ড ছাড়া যেকোনও নারী অথবা প্রতিবন্ধী যদি কোনও অপরাধে সাজা হয়, তাহলে সাজা থেকে মুক্তি পেতে ‘শিক্ষানবিশ’ আদেশের জন্য নির্ধারিত আদলতে আবেদন করা যাবে।

যেসব শর্তে মুক্তি দেওয়া হবে
আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ে আর কোনও অপরাধ না করা, শান্তি বজায় রাখা, ভালো আচরণ করা, নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হওয়া ও শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকার শর্তে অঙ্গীকার করে মুচলেকা (অথবা জামিনদারসহ অথবা জরিমানা ছাড়া) দেওয়ার শর্তে আদালত ‘শিক্ষানবিশ’ আদেশ দিতে পারবেন। তবে অপরাধীর স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে তার অথবা তার কোনও জামিনদারের বসবাসের নির্দিষ্ট স্থান অথবা নিয়মিত জীবিকা থাকে এবং মুচলেকার সময় ওই স্থানে বসবাস করার অথবা জীবিকা নির্বাহ করার সম্ভাবনা থাকে এবং স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে মুচলেকার মেয়াদকালে বসবাস করার অথবা জীবিকা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ‘শিক্ষানবিশ’ আদেশ দেবেন আদালত। অর্থাৎ এসব বিষয়ে আদালত সন্তুষ্ট হলে সংশোধনের মাধ্যমে মুক্তি পাবেন অপরাধী। এসব শর্ত পূরণ না হলেও আদালত অপরাধীকে শিক্ষানবিশ হিসেবে তার অবস্থানের জন্য কোনও শিক্ষানবিশ আবাসস্থলে পাঠানোর আদেশ দিতে পারবেন। অপরাধীকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য মামলার বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে আদালত যেমন মনে করবেন, তেমন শর্ত মুচলেকায় যুক্ত করতে পারবেন।

শিক্ষানবিশ মঞ্জুরের আবেদন
আইনজীবী অথবা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা অন্য কোনোভাবে কোনও মামলা ও দণ্ড সম্পর্কে জেনে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে অপরাধীকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি অথবা শিক্ষানবিশ মঞ্জুরের জন্য বিচারিক আদলতে আবেদন করতে পারবেন। বিচারিক আদালত অপরাধীকে দেওয়া আদেশ বিবেচনা করে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি অথবা শিক্ষানবিশ মঞ্জুর করতে পারবেন। আদালত উপযুক্ত মনে করলে অপরাধীকে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা আহত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ এবং মামলার ব্যয় নির্বাহ করার আদেশ দিতে পারবেন।
মুচলেকার শর্ত পূরণের ব্যবস্থা হলে অপরাধী অথবা জামিনদারের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারবেন আদালত। শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত অপরাধীকে মূল অপরাধের জন্য দণ্ডিত করতে পারবেন।

শিক্ষানবিশ কার্যালয়
শিক্ষানবিশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য শিক্ষানবিশ অধিশাখা এবং ক্ষেত্রমতে প্রতি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার জনবলসহ শিক্ষানবিশ কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। জেলা ও মহানগর এলাকায় শিক্ষানবিশ কার্যালয় আদালত ভবনে হতে হবে।

শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা
প্রত্যেক জেলা উপজেলা এবং মহানগর এলাকায় এক বা একাধিক শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, যোগ্যতা ও চাকরির শর্ত নির্ধারিত থাকবে। শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সমাজ সেবা অফিসার শিক্ষানবিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

শিক্ষানবিশ পর্ষদ
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রধান করে জাতীয় শিক্ষানবিশ পর্ষদ থাকবে। শিক্ষানবিশ পর্যদে জাতীয় সংসদের স্পিকারের মনোনীত দুই জন সংসদ সদস্য (একজন সরকারদলীয় ও একজন বিরোধীদলীয়) থাকবেন। মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) অথবা তার মনোনীত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক সমমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্য থাকবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মনোনীত যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা সদস্য থাকবেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ মনোনীত একজন প্রতিনিধি, বার কাউন্সিল মনোনীত একজন প্রতিনিধি, কারা মহাপরিদর্শক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক, সরকার মনোনীত বেসরকারি সংস্থার একজন প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন। সমাজ সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক থাকবেন সদস্য সচিব।

জাতীয় শিক্ষানবিশ পর্যদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, নীতিমালা প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেবে। শিক্ষানবিশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পরিবীক্ষণ, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবে। বিভাগীয় শিক্ষানবিশ পর্ষদের কার্যক্রম সমন্বয়, অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও শহর শিক্ষানবিশ পর্ষদ থাকবে।

শিক্ষানবিশ আবাসস্থল
সরকার শিক্ষানবিশের আবাসন, সংশোধন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষানবিশ আবাসস্থল প্রতিষ্ঠা করবে। বেসরকারিভাবে শিক্ষানবিশ আবাস্থল শর্তসাপেক্ষে সরকারের অনুমতি নিয়ে করা যাবে।