Monday, June 11, 2018

সাইবার ক্রাইমের ফাঁদে তরুণীরা by মরিয়ম চম্পা

মেয়েটির কাছে বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়। যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন, ভালোবেসেছিলেন সে আসলে প্রতারক। দিদার মুন্সীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মেয়েটির। কৌশলে বন্ধুত্ব, প্রেম। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও চিত্র ধারণ। মেয়েটির তা বুঝতে অনেক সময় লেগে যায়। ভিডিও ভাইরালের হুমকি দেয় প্রতারক প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি আশ্রয় নেয় সাইবার ক্রাইম ইউনিটের। গ্রেপ্তার করা হয় দিদার মুন্সীকে। শুধু এই মেয়েটিই নয়, দিদার মুন্সীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন আরো অনেকে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বখতিয়ারের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া এক ছাত্রীর। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ওই ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের এক পর্যায়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে সে। ওই ছাত্রীকে দিয়েই তার নগ্ন ছবি তোলায় বখতিয়ার। পরে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১২ ভরি স্বর্ণ। ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বখতিয়ারকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার ল্যাপটপ থেকে এরকম একাধিক মেয়ের নগ্ন ছবি উদ্ধার করা হয়।
বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর গত ৩ মাস আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয় মেয়েটির। আগে থেকেই ফেসবুকে একটি একাউন্ট ছিল। বিয়ের এক সপ্তাহ পর মেয়েটির নামে আরেকটি একাউন্ট খুলে নানা ধরনের অশ্লীল ছবি পোস্ট করা শুরু হয়। পরিচিতদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় সংসার। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে স্বামীকে কোনোভাবে রাজি করিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। দেড় মাসেরও বেশি সময় চেষ্টা করে পুলিশ ভুয়া আইডি বানানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। তিনি ওই মেয়েটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। এসব করার কারণ হিসেবে তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাকে অনেক পছন্দ করে, কখনো বলতে পারেনি। কিন্তু বিয়ে হওয়ার খবর জানার পর সে মেনে নিতে পারছে না। তাই সে বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করছিল।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে নারীরা শিকার হচ্ছেন এমন অসংখ্য সাইবার ক্রাইমের। যার একটি বড় অংশই প্রকাশ্যে আসছে না। ২০১৭ সালে রাজধানীতে সাইবার অপরাধের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪৬টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২১; ২০১৫ সালে ১৬৯টি। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোয় এই অপরাধের প্রবণতা বেশি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। সাইবার অপরাধের শিকার হওয়াদের ৪৪ শতাংশই মনে করেন-সাইবার অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেয়া গেলে দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। বাকিদের মধ্যে ২৯ শতাংশের পরামর্শ হলো আইনের প্রয়োগ বড়ানো। ২৭ শতাংশ সচেতনতা গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সাইবার অপরাধের শিকার প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা নেন না। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ বছর ধরে ব্যক্তি পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে দক্ষ পর্যালোচনা এবং তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে ১৩৩ জন ভুক্তভোগীকে ৯টি প্রশ্ন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ ব্যবহার করে থাকেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ১৫ ভাগ। এই ব্যবহারকারীদের বিশাল অংশ তরুণ, যাদের বয়স ১৮-২৪ বছর। ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২৪ শতাংশ নারী। তবে অসচেতনতার কারণে সাম্প্রতি এই মাধ্যমটি ব্যবহারকারীদের সাবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ফলে এদের একটি বড় অংশ সহজেই দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সাইবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ বছরের কম ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ, ১৮ থেকে ৩০ বছরের কম ৭৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪৫ বছর ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৪৫ বছরের বেশি ৩ শতাংশ। অ্যাকাউন্ট জাল ও হ্যাক করে তথ্য চুরির মাধ্যমে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ বাংলাদেশের নারীরা। অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ পুরুষ। গবেষণা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নালিশ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ২৩ শতাংশ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে উল্টো হয়রানির ভয়ে পুরো বিষয়টিই চেপে যান। অন্যদিকে সামাজিক ভাব মর্যাদা রক্ষায় পুরো বিষয়টি গোপন রাখেন ১৭ শতাংশ এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে নিশ্চুপ থাকেন ৫ শতাংশ ভুক্তভোগী। তবে শঙ্কার কথা হচ্ছে অভিযোগ করেও আশানুরূপ ফল পাননি ৫৪ শতাংশ ভুক্তভোগী। অবশ্য ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী ফল পেলেও ৩৯ শতাংশই এ বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন। আর ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী প্রতিকারের জন্য প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইন সাম্পর্কে জানেনই না। গবেষণায় বলা হয়, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এই ধরনের অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। সাইবার অপরাধের ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের সামাজিক দক্ষতা বড়ানো গেলে এ ধরণের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক ফাহমিদুল হক বলেন, সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত পুরুষদের সাধারণ টার্গেট হয় ২০ বা তার আগে থেকে শুরু করে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। এই বয়সী অধিকাংশ নারীরা ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে নারীরা যে ভুলটি করে থাকে সেটা হচ্ছে তারা ফেসবুকের যে কোন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের প্রোফাইল ভালোমতো চেকআউট না করে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করে থাকে। আইডিটা রিয়েল নাকি ফেইক সেটা তারা যাচাই বাচাই করার প্রয়োজন মনে করে না। কারণ, তাদের টার্গেট ৫ হাজার ফেসবুক ফ্রেন্ড পূরণ করতে হবে। না হলে তাদের প্রেস্ট্রিজ থাকে না। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহারকারী অধিকাংশ নারীই তাদের ফেসবুক বা ব্যক্তিগত ইমেলের প্রাইভেসি বা সিকিউরিটির বিষয়ে খুব একটা সচেতন না। ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারী কোনো পুরুষ চাইলেই তার ছবি ডাউনলোড করে ওই ছবি দিয়ে নানান ধরনে অপরাধমূলক কাজ করতে পারে। এছাড়া ফেসবুক এখন অনেকটা ওপেন বুকের মতো। ফলে ওপেন বুক পেলে সবাই যেমন কাটাকুটি করতে চায়। একইভাবে ওপেন বা কম প্রাইভেসি সম্পন্ন ফেসবুক পেলে যে কেউ সেটাতে ঢুঁ মারতে চাইবে। কাজেই ভার্চুয়াল প্রেস্ট্রিজের কথা না ভেবে, অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাকে নির্ভরযোগ্য মনে হবে কেবল তাকেই বন্ধু হিসেবে রিসিভ করতে হবে। সাইবার ক্রাইম রোধে বিটিআরসি, সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ সরকারকে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, মেয়েরা ফেসবুকে কে আসল কে নকল সেটা যাচাই বাচাই না করে খুব বেশি খোলামেলা ভাবে ভার্চুয়ালি মিশে থাকে। এভাবেই একটু একটু করে তারা ফাদে পা দেয়। একজন টিনএজার গার্মেন্ট কর্মীও আজকাল স্মার্ট ফোন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। অথচ ফেসবুকের সিকিউরিটি বা প্রাইভেসির বিষয়ে সে কিন্তু মোটেও সচেতন নয়। একই সঙ্গে বর্তমান যুগের বাবা মা এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে তাদের সন্তান কি করছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও অতি আহলাদের জায়গা থেকে সন্তানদের হাতে এই বয়সেই একটি আইফোন ধরিয়ে দিয়ে দায় মুক্ত হয়। অথচ ১৮ বছর বয়সের নিচে সন্তানের হাতে যে ফোন দেয়া ঠিক না সেটা তারা একবারও ভেবে দেখে না। এক্ষেত্রে মা বাবাকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে সাইবার ক্রাইমের শিকার নারীরা কোথায় মামলা করতে বা অভিযোগ করতে হবে সেটাও জানে না। ফলে তারা থানা, পুলিশ সর্বত্রই হয়রানির শিকার হয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মেয়েদের আরও বেশি সাবধান ও সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পর্যায়ে সচেতনা তৈরি করতে হবে।
লিগ্যাল এইড সার্ভিস (ব্লাস্ট) এ কর্মরত আইনজীবী শারমিন আক্তার বলেন, এই বয়সের মেয়েদের পরিপক্বতা কম থাকায় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে ইমোশনালি ফেক আইডির ট্রাপে পড়ে যায়। তারা যুগের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিওসহ অনেক কিছুই না বুঝেই শেয়ার করে থাকে। এমনকি তারা ফেসবুক, টুইটার বা ই-মেইলের প্রপার সিকিউরিটি সম্পর্কে জানে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাবা মাকে বেশি সচেতন হতে হবে। প্রত্যেক বাবা মা কে তার নিজ সন্তানের প্রতি অনেক বেশি শেয়ারিং এবং কেয়ারিং হতে হবে।

একে একে মুখোশ উন্মোচিত হবে: সোহেল তাজ

ক্ষমতাসীন ‘আওয়ামী লীগের ভেতর একটি কুচক্রী মহল’ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের পরিবারকে ‘রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়’ বলে অভিযোগ করেছেন তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। একইসঙ্গে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ‘নোংরা টাকার অপরাজনীতি হচ্ছে‘ উল্লেখ করে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘একে একে মুখোশ উন্মোচিত হবে’। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় রোববার এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সোহেল তাজের ভাষ্য, ওই ‘কুচক্রী মহলের ‘প্রভাব দলের ভেতরে’ এমনকি ‘প্রশাসনের সর্বস্তরে’ রয়েছে।
একইসঙ্গে, নিজ এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়াতে কোন অপরাজনীতি না হতে দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
সোহেল তাজ তার ওই লেখার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দিন আহমেদের একটি ছবি পোস্ট করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজার মানুষ পোস্টটিতে রিঅ্যাক্ট করেছেন। কমেন্ট এসেছে ৮২৩টি আর শেয়ার হয়েছে হাজার বারের বেশি।
এর আগে গেল ৩১শে মে আরেকটি পোস্টে সোহেল তাজ লিখেছিলেন, অনেক দিন ধরেই মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে দেশের যুব সমাজের জন্য ভালো কিছু করার কথা ভাবছি। তেমন একটি আইডিয়াও পেয়ে গেছেন উল্লেখ করে সোহেল তাজ জানান, ঈদের পরে তা প্রকাশ করবেন।  
এই পোস্টটিতে রিঅ‌্যাক্ট করেছেন ৪২ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী। এতে মন্তব্য রয়েছে প্রায় সাত হাজার আর শেয়ার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩শ বারের বেশি। পোস্টে দেয়া মন্তব্যে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সোহেল তাজের ফেসবুক ফলোয়াররা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এমন কোন উদ্যেগে তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, তাজউদ্দিন পুত্র সোহেল তাজ ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে, মন্ত্রীত্ব পাওয়ার ছ’মাস পরই ৩১শেমে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে ২০১২ সালের ২৩শে এপ্রিল কাপাসিয়া আসনের আইনপ্রণেতার পদ থেকেও সরে দাড়ান। ঘোষণা দেন সক্রিয় রাজনীতিতে আর যুক্ত হবেন না।

বিএনপি-ভারত সম্পর্ক

ভারত বিরোধিতার প্রশ্ন নাকচ করে দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে ভারতের কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীর আশ্রয় হবে না। এখানে তাদের কোনো অস্থিত্বই থাকবে না। তিনি এটিও বলেছেনÑ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক বিশেষ করে তারা সরকারে গেলে কী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে দিল্লিকে তারা লিখিত জানিয়ে দিয়েছেন। ভারত সফরকারী দলটির প্রতিনিধিদলের মাধ্যমেই বিএনপির এ বার্তা দিল্লির নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ফখরুল। বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে মির্জা ফখরুল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি দিল্লির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন।
এদিকে ওই সম্পর্কের বিষয়ে বিবিসি বাংলা তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানী রিপোর্টও প্রকাশ করেছে। তাতে বিএনপিকে নিয়ে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনোভাবের প্রতিফলন উঠে এসেছে। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগই ভারতের পছন্দের দল, ভারত কোনাভাবে চায় না বিএনপি ক্ষমতায় ফিরুকÑ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি শক্ত ধারণা রয়েছে। বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপে ভারতীয় সাবেক কূটনীতিক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এ ‘ধারণা’র সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির আমলে ঢাকায় দায়িত্বপালনকারী ভারতীয় কূটনীতিক বিনা সিক্রি সরাসরি তা নাকচ করেন। তিনি মনে করেনÑ প্রতিবেশী অগ্রাধিকার প্রশ্নে দিল্লির যে বিদেশ নীতি রয়েছে তাতে শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চায় ভারত। বিনা সিক্রি এটা স্বীকার করেন যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে ভারত যে কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তারা কথা বলতে প্রস্তুত। তবে তাদেরকে (বাংলাদেশের ওই রাজনৈতিক শক্তিকে) অবশ্যই দুই দেশের মধ্যে শন্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কেবল বিনা সিক্রিই নয়Ñ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাদের আরো অনেকের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলা তাদের যে বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে তাতে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় ওঠে এসেছে। তা হলোÑ ভারতের নীতি নির্ধারকরা বিএনপিকে নিয়ে নতুন আগ্রহ দেখছেন এতে কোনো দ্বিমত বা ভিন্নমত নেই। তবে সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক তা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ হতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে এটিও বলা হয়েছেÑ বিএনপি এখনও বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল। তারা যে কোনো সময় আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে। ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি এ ধারণাই পেয়েছে বলে তাদের রিপোর্টে প্রচার করা হয়।
ভারতীয় সাংবাদিক, লেখক এসএনএম অবদিং নামকরা সাময়িকী আউটলুকের সাবেক ডেপুটি এডিটর। তার মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো আওয়ামী লীগ সরকারই যেন ক্ষমতায় ফিরে আসে। তিনি আবার এটাও বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ভারত একটি বিকল্প দৃশ্যপটের জন্য তৈরি। তার মতে, সেই বিকল্প দৃশ্যপট মাথায় রেখে বিএনপি, এরশাদ এমনকি জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের সঙ্গেও কিন্তু ভারত যোগাযোগ রক্ষা করে। একটা প্রভাবশালী ভারতীয় মেইনস্ট্রিম উইকলিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি লেখা লিখেছেন ভারতীয় দুজন বিশ্লেষক অপরূপা ভট্টাচার্য এবং সৌরিন। এতে তারা এ লেখায় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যদি বিএনপি নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরে আসে তখন ভারত কি করবে? তাদের মত হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও ভারতের উচিত হবে না বাংলাদেশের ক্ষমতার লড়াইয়ে খালেদা জিয়ার বিএনপিকে এখনই খরচের খাতায় লিখে ফেলা।
বিএনপির প্রতিনিধিদল যে ভারতে গিয়েছে সেটা কতটা বিএনপির আগ্রহে বা ভারতের আগ্রহে সেটা ঠিক স্পষ্ট নয়। তবে এটি যে, বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে মোটামুটি খোঁজখবর রাখেন এমন একজন ভারতীয় সাংবাদিক বলেছেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের একটি বড় প্রতিনিধিদল ভারতে গিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র আমন্ত্রণে। তখন বিএনপি আমন্ত্রণ পায়নি। তবে এখন বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ভারতে গিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। তিনি বলছেন, এটা ভারসাম্য রক্ষার একটা চেষ্টা হিসেবে। ভারতের সঙ্গে যে বিএনপির সম্পর্কে দৃশ্যত উন্নতি ঘটছে, তার কিছু উদাহরণও তিনি দিয়েছেন। তার মতে, একদিকে যেমন বিএনপির ভারতীয় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে, তেমনি বিএনপিও গত দু’বছরে তাদের ভারতবিরোধী কথাবার্তা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে।
বিবিসি: নির্বাচনের ব্যাপারে ভারতের কাছে ঠিক কী ধরনের সাহায্য চাইছেন আপনারা?
ফখরুল: আমরা যেটা চাই ভারতের কাছে, বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভারত যেন সহায়তা করে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী, প্রভাবশালী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, ঘনিষ্ঠ। তাদের যথেষ্ট যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। সেখানে অবশ্যই ভারতের একটা ভূমিকা আছে।
বিবিসি: কিন্তু কিভাবে ভারত সহায়তা করবে?
ফখরুল: যেকোনো দেশ যদি বড় হয় এবং তাদের যদি একটা ইনফ্লুয়েন্স থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে, সেক্ষেত্রে তারা অবশ্যই বলতে পারে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা তোমরা করো। আমরা কোনো সাহায্য চাচ্ছি না। আমরা একটা অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন চাচ্ছি, যেখানে সবাই ভোট দিতে পারে।
বিবিসি: ভারতের যদি বাংলাদেশের ওপর এরকম একটা প্রভাব থাকেও, তারা কেন সেটা করবে? বিশেষ করে যখন বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের এত ভালো সম্পর্ক এবং বিএনপির ব্যাপারে ভারতে অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে?
ফখরুল: এই সন্দেহ অনেকটাই অমূলক। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি সরকার কখনোই ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেছে বলে আমার জানা নেই। আর দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটা সরকার ভারতের জন্যই খুব প্রয়োজনীয়। আর ভারতের সঙ্গে বিএনপির বৈরী সম্পর্ক যেগুলো প্রচার করা হয়, সেটা ঠিক নয়।
বিবিসি: কিন্তু বিভিন্ন দ্বিক্ষীয় বৈঠকে ভারত তো এমন অভিযোগ করে যে বিএনপির আমলে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীরা বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছে। দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানের মতো বিষয় ঘটেছে, যেটা ভারতের কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়।
ফখরুল: এ ঘটনাগুলো কতটা সত্যি, কতটা তৈরি করা, তা কিন্তু এখনো পরিপূর্ণভাবে আমরা জানি না।
বিসিসি: কিন্তু ভারতের মধ্যে বিএনপির ব্যাপারে যে সন্দেহ, সেটা দূর করতে বিএনপির কোনো কৌশল কী আছে?
ফখরুল: অবশ্যই, আমরা তো সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক হবে, সে সম্পর্কে আমরা একটা পেপারও দিয়েছি। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, উই উইল হ্যাভ জিরো টলারেন্স এবাউট এনি ইনসারজেন্সি ইনসাইড বাংলাদেশ। তাদেরকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। স্পেস থাকবে না। এটা আমরা যদি সরকারে যাই, এটা আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করবো।
বিবিসি: বাংলাদেশে বিএনপির ভাবমূর্তি একটি ভারতবিরোধী দল হিসেবে। এখন মানুষ যদি দেখে বিএনপিও ভারতের দ্বারস্থ হচ্ছে, সেটা কি বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করবে না?
ফখরুল: আপনারা এটাকে এমনভাবে দেখছেন কেন। আপনারা যেভাবে বলছেন তাতে এটা দাঁড়ায় যে এটা একটা প্রতিষ্ঠিত ইমেজ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্নটা সেখানে নয়। বিএনপি যেটা বিশ্বাস করে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আর বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখতে হবে। সেই স্বার্থ দেখতে গিয়ে কেউ যদি বলে যে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছি সেটা কিন্তু সঠিক একটা অ্যানালিসিস নয় বলে আমি মনে করি। আমি মনে করি পারস্পরিক মর্যাদাবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ এটা খুব জরুরি। ভারতের তো এটা দায়িত্ব যেন বাংলাদেশে তাদের বিরোধী মনোভাব বা ধারণা তৈরি না হয়। যেটা কিনা তাদের জন্যও ক্ষতিকর, আমাদের জন্যও ক্ষতিকর।
বিবিসি: দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কি না?
ফখরুল: এটা নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপর। খালেদা জিয়ার মুক্তি আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি, তবে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। খালেদা জিয়াকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করে। এবং এ কারণেই তাকে নির্বাচন থেকে, রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রচেষ্টা সবসময়ই নেওয়া হচ্ছে। ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলেও এই একই চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের চাপে তারা তখন সফল হতে পারেনি। আজকে আবার দুঃখজনকভাবে সেদিন যারা ‘মায়নাস টু’ তত্ত্বের শিকার হয়েছিল তারাই আবার চেষ্টা করছে ‘মায়নাস ওয়ান’ অর্থাৎ খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেয়ার জন্য।
বিবিসি: খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না?
ফখরুল: নির্বাচনে যাবো কি যাবো না, সেটা সম্পূর্ণ রূপে নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপরে। নির্ভর করবে দেশের মানুষের আচরণের ওপরে। সুতরাং এবিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ আসেনি। দেশে যদি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়, জনগণের ভোট দেয়ার অবস্থা তৈরি হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেয়া হয় তখন বিএনপি এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে। বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। সরকারকে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সকল দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। এসব তো শুধু আমাদের কথা নয়। সবাই বলছে। সকল রাজনৈতিক দলের কথা। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না যারা আমাদের সঙ্গে জোটে নেই তারাও এই প্রস্তাবের কথা বলছেন। এবং মাঝে মাঝে তাদের লোক এরশাদ সাহেবও এ কথাগুলো বলছেন।

ইতিহাসে এই প্রথম: ওরা পেরেছে

সাকিব-তামিমদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ক্ষতে মলম দিলেন সালমা-রুমানারা। ঘোচালেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অতৃপ্তি। ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। মাশরাফি-সাকিবরা যা পারেননি তা করে দেখালেন সালমা-রুমানারা। এবারই প্রথম কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ নারী দল। আর প্রথম দফায়ই সালমা-রুমানাদের বাজিমাত। গতকাল নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে সালমাবাহিনী। বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল এখনও কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপার দেখা পায়নি। গতকাল কুয়ালালামপুরে কিনরারা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা খাতুন। ১১২/৯ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে ভারত। বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন রুমানা আহমেদ ও খাদিজাতুল কোবরা। জবাবে ৩ উইকেট হাতে রেখে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন নিগার সুলতানা। আসরে এটি ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়। ২০০৪-এ প্রথমবার মাঠে গড়ায় নারী এশিয়া কাপ আসর। আর আসরের আগের ছয়বারই ফাইনাল শেষে শিরোপা উৎসব করে ভারতীয়রা। এর আগে চারবার ফাইনালে পৌঁছে স্বপ্ন ভাঙে লঙ্কানদের। ফাইনালে দুবার হার দেখে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এবারের নারী এশিয়া কাপে সালমা-রুমানাদের নৈপুণ্যটা চমকের। আসরে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে মাত্র ৬৩ রানে গুঁড়িয়ে মলিন হার দেখে সালমা বাহিনী। তবে পরের গল্পটা ভিন্ন। আসরে টানা পাঁচ জয় নিয়ে শিরোপা হাতে তোলেন সালমা-রুমানারা। প্রথম পর্বে টানা চার ম্যাচে পাকিস্তান, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় দেখে বাংলাদেশ নারী দল। প্রথম পর্বে বাংলাদেশের কাছে হার দেখার আগে এশিয়া কাপে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত ছিল ভারত। ওই ম্যাচে সালমাবাহিনী ভারতের দেয়া ১৪২ রানের টার্গেট টপকে যায় ৭ বল হাতে রেখেই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ নারী দলের এটি দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
কুয়ালালামপুরে ফাইনালে ব্যাট হাতে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া। ওপেনিংয়ে ৪০ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন আয়শা রহমান শুকতারা ও শামিমা সুলতানা। তবে সপ্তম ওভারে ভারতীয় লেগস্পিনার পুনম যাদবের টানা দুই ডেলিভারিতে উইকেট খোয়াল আয়শা (১৭) ও শামিমা (১৬)। বাংলাদেশের ইনিংসের শীর্ষ চার ব্যাটারকেই সাজঘরে ফেরান পুনম। ফারজানা হক ১১ ও নিগার সুলতানা সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৯ রানের। ওভারের শুরুর তিন বলে ৬ রান তুলে নেন রুমানা ও সানজিদা ইসলাম। শেষ তিন বলে প্রয়োজন ৩ রান। কিন্তু চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান সানজিদা।
পঞ্চমবলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট ইনফর্ম খেলোয়াড় রুমানা আহমেদ। বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ২ রান। হারমানপ্রীত কাউরের বলে ২ রান তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে উল্লাসে মাতান জাহানারা আলম। এর আগে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ইনিংসের মাত্র চতুর্থ ওভারেই সাফল্য পায় টাইগ্রেসরা। এবারের বর্ষসেরা ভারতীয় নারী ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধনাকে (৭) রানআউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে আটকে রাখে বাংলাদেশ। শুরুর ৫ ওভারের মধ্যে ডটবল ছিল ২৩টি । চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মার (৪) উইকেট হারায় ভারত। দীপ্তিকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২৬/২। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরো দুই উইকেট তুলে নেন মেয়েরা। সাত, আট ও নয় এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত। দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজের উইকেট (১১) তুলে নেন খাদিজা। আর ম্যাচের লাগাম টেনে নেয় সালমা বাহিনী। আর অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরের (৫৬) দৃঢ়তায় দলীয় একশ’ রানের কোঠায় পৌঁছে ভরাত। বাংলাদেশের বল হাতে ৪ ওভারের স্পেলে লেগস্পিনার রুমানা ২২ ও অফস্পিনার খাদিজা ২৩ রানে নেন সমান দুই উইকেট। নিয়ন্ত্রিত বোলিং নৈপুণ্য দেখান অপর দুই স্পিনার নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুনও।
১ উইকেট নেয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দেন। আর উইকেট না পেলেও নাহিদার ছিল ১৬টি ডট বল। ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১২ রান দেন টাইগ্রেস বাঁ-হাতি স্পিনার। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে রুমানা আহমেদের হাতে। আর আসর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউর। এর আগে আইসিসি ও এসিসি ট্রফিতে শিরোপার গৌরব কুড়ায় বাংলাদেশ। তবে সেগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্জন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোনো শিরোপা জয়ের কাছাকাছি গিয়েছে দুবার। ২০১২ সালের এশিয়া কাপ আর ২০১৮’র নিদাহাস ট্রফি। ফাইনালে দুবারই হার দেখেন টাইগাররা।