Friday, June 17, 2011

জুলাইয়ে সরকারের কাছে দাবিনামা পেশ করবে উলফা

আসামের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সে রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সঙ্গে শান্তি-প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। সংগঠনটির সংলাপে ইচ্ছুক অংশটি আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটা হলে এর মধ্য দিয়ে উলফার সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ-প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সূত্র জানায়, অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বাধীন উলফার অংশটি সংলাপ সামনে রেখে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের দাবিনামা তৈরি করতে ব্যস্ত। সরকার আগামী মাসে উলফার দাবি-সংবলিত চিঠি পাওয়ার পর প্রস্তাবিত সংলাপের ধরন নির্ধারণ করা হবে।
সম্মিলিত জাতীয় অভিবর্তন (এসজেএ) নামে আসামের একটি সুশীল সংগঠন গত মাসে উলফার কাছে একটি খসড়া দাবিনামা হস্তান্তর করেছে। এসজেএর এই প্রস্তাবে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, রাজস্ব আদায় ও কর্মপরিকল্পনায় আসামের বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনসংখ্যাভিত্তিক ভারসাম্য আনার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এর বাইরে উলফা তাদের নিখোঁজ ‘কমান্ডারদের’ ব্যাপারে তথ্য চেয়ে সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারে। ২০০৩ সালে ভুটানের দক্ষিণাঞ্চলে উলফাবিরোধী অভিযান শুরু করার পর থেকে এসব কমান্ডার নিখোঁজ রয়েছেন।
উলফা ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে পারে। তবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ দাবি করেছেন, সংলাপের আগে উলফাকে অস্ত্রত্যাগ করতে হবে।
এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র বলেছে, ‘সরকার উলফার দাবিনামা গ্রহণ করলে এগুলো বিশ্লেষণের পর সংলাপের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
উলফার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করবেন পি সি হালদার। তিনিই উলফার রাজখোয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজখোয়ার নেতৃত্বে এই অংশটি গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটি ছিল ‘প্রাথমিক আলোচনা ও পরিচিতি পর্ব।’ এ সাক্ষাতের সময় শান্তি প্রক্রিয়ায় উলফার কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়ুয়াকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া এখন পর্যন্ত শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে by ফারুক মঈনউদ্দীন

পত্রিকার প্রথম পাতায় একটা ছবি দেখে এই লেখাটা শুরু করার একটা প্রসঙ্গ মিলে যায়। ছবিতে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা একটা ব্যানার হাতে দাঁড়ানো, ব্যানারের আংশিক ছবি দেখে অনুমান করা যায় যে তাঁরা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে সুদৃশ্য ব্যানার দেখে যে কেউ বুঝতে পারবেন যে বিক্ষোভ প্রদর্শন তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং পরিকল্পিত ও প্রস্তুতিসম্পন্ন। বছরের শুরু থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন এখন আর নতুন ঘটনা নয়। পাঁচ-ছয় মাস ধরে দৃশ্যটা মানুষের একরকম গা সওয়া হয়ে গেছে। সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, নিঃস্ব হয়েছেন, বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় তুলে নিয়েছেন—তাতে এই বিক্ষোভ তাঁদের অধিকার। বছরের প্রথম থেকে দেশের শেয়ারবাজারে ধস নামার পর থেকে একটা বিষয় লক্ষ করা যায় যে এসব বিক্ষোভের ফলে বাজারকে কৃত্রিমভাবে ফাঁপিয়ে তোলা এবং এর সুযোগে বিশাল অঙ্কের লাভ তুলে নিয়ে সটকে পড়ার যাঁরা মূল হোতা, তাঁরা দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছেন। ধসের জন্য সবার রোষ যেন কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। অথচ সবাই জানেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নামের প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নয়, শেয়ারবাজারের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে ২০১০-এর প্রথম দিকেই শেয়ারবাজারে বড় কোনো বিপর্যয়ের আভাস দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেহেতু শেয়ারবাজার একটা স্পর্শকাতর জায়গা, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে এক সেমিনারে আমন্ত্রণ করে ব্যাংকের পরিচালিত এক গবেষণা সমীক্ষাপত্রের তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশগুলো প্রকাশ করেছিল। বাজারের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে এমনকি এই সেমিনারের খবর সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে জানা গেছে, এই গবেষণায় বাজার যে অতিমূল্যায়িত, সেই সত্যও স্বীকার করতে আপত্তি ছিল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের। আমেরিকায় ১৯২৯ সালের মার্চে যখন একবার বাজারে ধসের লক্ষণসমূহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কিছু ব্যাংক মার্জিন ঋণ অব্যাহত রেখে সেই আসন্ন পতন ঠেকাতে চেয়েছিল, তবে শেষাবধি তা আর সম্ভব হয়নি। এ সময় কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি বাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে একটা বড় ধরনের বিপর্যয়ের আভাস দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও তেমন কিছুই ঘটে না। ফলে স্বভাবতই তাঁদের সাবধানবাণী উপেক্ষিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে সেই রুদ্ধদ্বার সেমিনারে শেয়ারবাজারের মতিগতি বিশ্লেষণ করে একটা ধসের পূর্বাভাস দিতে চেয়েছিল এবং স্পষ্টতই সেটা উপেক্ষিত হয়। ফলে মাত্র ১০ মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্যভাবে পতন ঘটে বাজারে।
তবে বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অন্য অংশীদারেরা এই গবেষণালব্ধ, অভিজ্ঞানলব্ধ পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজার-সম্পৃক্ততা বিষয়ে তদারকি আরও নিবিড় করেছিল। সেই নিবিড় তদারকির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারকেন্দ্রিক। পুঁজিবাজারের দ্রুত উত্থান ও আকস্মিক পতন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে যে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, সেটা নিরসন করা উচিত। কারণ এবারের বাজার ধসের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হয়েছে, এমনকি বাজার কারসাজির হোতা হিসেবে যাঁদের বিরুদ্ধে সন্দেহের আঙুল ওঠানো আছে, তাঁরাই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছেন। অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যেভাবে দোষারোপ করা হয়েছে, শেয়ারবাজার ধসের ঘটনায় এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। গত বিশ-ত্রিশের দশকে সহজলভ্য ঋণের টাকায় শেয়ারবাজার যাতে অতিমূল্যায়িত হয়ে না পড়ে, তার জন্য আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মুদ্রানীতি কঠোর করেছিল। ঠিক একই উদ্দেশ্যে ব্রোকার হাউসগুলোকে দেওয়া ব্যাংকঋণের সুদের হারও বাড়ানো হয়েছিল সে সময়। সে কারণে ১৯২৯ সালের মহাধসের পর আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও এ রকম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল কঠোর মুদ্রানীতি চালু করার জন্য। তাই ধসের পর থেকে বাজারে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভকে ক্রমে ক্রমে সুদের হার কমিয়ে আনতে হয়েছিল প্রায় দুই শতাংশ। এর ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বেড়ে যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আবারও স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের ঋণ দেওয়া শুরু করে। অতএব, কঠোর মুদ্রানীতির জন্য আমেরিকার মতো দেশে ৮০ বছর আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করা উচিত, যদি মানুষের হাতে বিনিয়োগ করার মতো যথেষ্ট কিংবা সহজলভ্য ঋণের টাকা থাকে, তাহলে মানুষ একটা উঠতি বাজারে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে; আর বাজারে যদি দ্রুত লোভের হাতছানি থাকে, তাহলে মানুষ পতঙ্গের মতো ছুটে যাবে সেই বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য। শেয়ারবাজারের এই প্রবণতা যুগে যুগে প্রত্যক্ষ করা গেছে। এ অবস্থায় মানুষ যখন হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পূর্বাপর বিবেচনা না করে কোম্পানির মৌল ভিত্তিগুলো উপেক্ষা করে কেবল অন্যের প্ররোচনায় কিংবা গুজবের সূত্র ধরে ক্রমাগত কিনতে থাকে, তখন বাজার চাঙা থেকে উত্তপ্ত হয়, সৃষ্টি হয় বুদ্বুদের। বাজারের এই প্রবণতা এবং মানুষের এ রকম আচরণ শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও ঘটতে দেখা গেছে। যদিও শেয়ারবাজার একটা বিশেষ ধরনের বাজার, তবু অর্থনীতির চাহিদা সরবরাহের নিয়মগুলো এখানে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বাজারে শেয়ারের দাম যখন কম থাকে, তখন ক্রেতাদের বেশি করে কিনতে আগ্রহী হওয়ার কথা, যাতে শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং মূল্যস্ফীতি ঘটে। এভাবে চাহিদার চাপে দাম বাড়তে বাড়তে বুদ্বুদ বড় হতে থাকে এবং একসময় বিস্ফোরিত হয়। বাজারের চাহিদা ও মূল্যতত্ত্বের সঙ্গে এখানে একটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে যে সাধারণত পণ্যবাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে চাহিদা কমে, কিন্তু শেয়ারবাজারে চাহিদাতত্ত্বের এই মূলনীতিটা লঙ্ঘিত হয়। বরং একটা চাঙা বাজারে শেয়ারের দাম যখন বাড়তে থাকে, তখন মানুষের চাহিদা না কমে বরং বেড়ে যায় এবং আরও বেশি দামে দ্রুত বিক্রি করে লাভের টাকা ঘরে তোলার লোভে মানুষ চাহিদাতত্ত্ব লঙ্ঘন করে। এমনকি বাজার যখন তুঙ্গে, যখন আর কেনার সময় নয়, তখনো মানুষ আরও লাভের আশায় সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কিনতে থাকে। এটা আমাদের দেশে ১৯৯৫-৯৬ সালে ঘটেছে এবং ঘটেছে ২০১০-এর শেষেও। বিশ্বের বড় বড় সব বাজার ধসের আগেও অর্থাৎ সেই সপ্তদশ শতাব্দীর টিউলিপ বিকারের সময় কিংবা অষ্টাদশ শতাব্দীর সাউথ সিজ বাবলের উন্মত্ততায়, ১৯২৯ সালের মহাধসের আগে অথবা ডটকম বাবল বা আমেরিকান হাউজিং বাবলের সময় ঠিক এ রকম আচরণই করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজারে লোভ ও আতঙ্ক দুটোই পরিহার্য বিষয়; অথচ দেশে দেশে কালে কালে মানুষ এই দুই আচরণ পরিহার না করে বাজারের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
আজ লাখ লাখ বিনিয়োগকারী অজ্ঞানতা কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে—যেভাবেই হোক বাজার করসাজির শিকার হয়ে প্রচুর লোকসানের মুখোমুখি। বাজারে যে কারসাজি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহও নেই। এই কারসাজি রোধ করার দায়িত্ব ছিল পুঁজিবাজারের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির, যাতে তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতা বলাও বোধকরি এখানে সঠিক হচ্ছে না; বরং বলা উচিত, কারসাজি রোধ করার জন্য সংস্থাটির কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ রকম পরিস্থিতিতে আর্থবাজারের আরেকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার অধীন প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংকগুলোকে স্বাভাবিক ও স্বীকৃত নিয়মানুযায়ী পুঁজিবাজারে সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু বেশ কয়েকটি ব্যাংকের তখন ছুঁচো গেলার অবস্থা। সেদিন যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারের সঙ্গে অতিঘনিষ্ঠতা থেকে বিরত না রাখত, তাহলে দেশের ব্যাংকিং খাতে যে বিপর্যয় নেমে আসত, তা কল্পনাতীত। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা লঙ্ঘনকারী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিংবা নিরুপায় হয়ে যখন বাজার থেকে হাত গুটিয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ সংকোচনের অমোঘ অস্ত্রটি প্রয়োগ করে, অর্থাৎ নগদ তারল্য সংরক্ষণের হার বাড়িয়ে দেয়, যাতে ব্যাংকগুলোর ঋণদানের ক্ষমতা কমে যায়। এই অস্ত্রটি অবশ্য প্রয়োগ করা হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য। কারণ মুদ্রাস্ফীতির রাশ টেনে ধরা যেমন সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা, তেমনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও দায়িত্ব মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেই অত্যাবশ্যকীয় কাজটি করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার কারসাজির মূল হোতাদের রোষানলে যেমন পড়েছে, তেমনি ভুল বোঝানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। অথচ বাজারের পতন ছিল অবশ্যম্ভাবী একটা বিষয়, কিছু বড় বিনিয়োগকারীর অতি তৎপরতায় সেটা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে মাত্র। বছর শেষে ব্যাংকসহ অন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আকাশচুম্বী বাজার থেকে লাভ তুলে নিয়ে হিসাব মেলাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
অতএব, বাজারের পতনের জন্য উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে না চাপিয়ে এখন সবার উচিত বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হওয়া। তবে কেউ যদি মনে করেন, স্বাভাবিক অবস্থার অর্থ বাজারের মূল্যসূচক আট হাজারের ঘরে গিয়ে পৌঁছা, সেটাও হবে অযৌক্তিক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তাই সবাই তাকিয়ে আছে পুনর্গঠিত এসইসির দিকে।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com

লিবিয়ায় বেসামরিক জনগণকে রক্ষায় মনোযোগ নেই ন্যাটোর

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা অভিযোগ করেছেন, সামরিক জোট ন্যাটো লিবিয়ার বেসামরিক জনগণকে রক্ষার চেয়ে দেশটির শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন আনা ও রাজনৈতিক হত্যার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় বন্ধুহীন লিবিয়ার কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের মধ্যে একটি হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টে জ্যাকব জুমা গত মঙ্গলবার বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়াবিষয়ক যে প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, ন্যাটো তা লঙ্ঘন করেছে। জুমা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান জাতিসংঘের ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাবের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে। আমরা বিশ্বাস করি, ওই প্রস্তাবের অপব্যবহার করে লিবিয়ায় শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও বিদেশি বাহিনীর আগ্রাসন চালানো হচ্ছে।’
গত মার্চে ন্যাটোর নেতৃত্বে লিবিয়া অভিযান শুরু হওয়ার পর দুবার লিবিয়া সফর করেন জুমা।

গ্রিসে ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে ধর্মঘট, সংঘর্ষ

গ্রিসে সরকারের নতুন ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে রাজধানী অ্যাথেন্সে ধর্মঘট চলাকালে গত বুধবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
অ্যাথেন্সে পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকটি গ্রুপের নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।
গ্রিস সরকার ২৮ বিলিয়ন ইউরো বাঁচাতে এ বছর কর বাড়ানো এবং সুযোগ-সুবিধা ভাতার পরিমাণ কমানোসহ বেশ কিছু ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।
এর প্রতিবাদে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সিন্টাগমা স্কয়ারে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। তারা ‘চোর ও ধোঁকাবাজ’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্টে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা।

মোল্লা ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানে সহিংসতা অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আফগান তালেবানের সাবেক মুখপাত্র আবদুল হাকিক। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকা গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
২০০৭ সালের জুনে হাকিককে আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ও আফগান গোয়েন্দারা। তিনি আফগান তালেবানের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ছিলেন। ২০০৫ সালের অক্টোবরে তালেবানের প্রধান মুখপাত্র আবদুল লতিফ হাকিমিকে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে তালেবানের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তালেবানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হওয়ার দাবি করেছে।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দাবি করেছে। কিন্তু ইসলামাবাদ ও কাবুল আলোচনাকে কখনো আস্থায় নেয়নি। খবরে প্রকাশ, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ অন্য রাজনৈতিক শক্তির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে তালেবান এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান হামিদ গুল বলেন, ‘এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা তালেবানের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের পদক্ষেপ আফগানিস্তানকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

‘শ্রীলঙ্কাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে’

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যালিসটেয়ার বার্ট বলেছেন, তামিল বিদ্রোহীদের দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ শ্রীলঙ্কাকে অবশ্যই তদন্ত করতে হবে।
ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর গত মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর হাতে তামিল বন্দীদের নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য প্রচারিত হওয়ার পর গতকাল তিনি এ কথা বলেন।
চ্যানেল ফোর ‘শ্রীলঙ্কাস কিলিং ফিল্ডস’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে। এতে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী হাত-পা ও চোখ বাঁধা এক নারীসহ তিনজন তামিল বন্দীকে গুলি করে হত্যা করছে—এমন দৃশ্য দেখানো হয়।
ওই তথ্যচিত্র প্রচারের পর অ্যালিসটেয়ার বার্ট গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, কলম্বো সরকার তামিল গেরিলা দমনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে ব্যর্থ হয়েছে। বার্ট বলেন, ‘তথ্যচিত্রের ওই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে আমি খুবই ব্যথিত।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও চ্যানেল ফোরে প্রচারিত বিশ্বাসযোগ্য প্রামাণ্যচিত্রে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই তথ্যপ্রমাণ খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেবে।’
তবে শ্রীলঙ্কা সরকার তামিল বিদ্রোহীদের দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ভিডিও ফুটেজগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আসছে শ্রীলঙ্কা।

সুদানে অস্ত্রবিরতির আহ্বান ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সুদানে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ কোরডোফান অঞ্চলে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আহ্বান জানালেন। গত সপ্তাহে দক্ষিণ সুদানে পৃথক সহিংসতায় ১০০ জন নিহত হয়েছে। গত সোমবার ওয়ারাপ রাজ্যে বিদ্রোহীদের হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছে।
দেশে আবারও গৃহযুদ্ধ প্রতিহত করতে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বশীলতা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। রেকর্ড করা এক অডিও বার্তায় তিনি বলেন, এখানে কোনো সামরিক সমাধান নেই। সুদান ও দক্ষিণ সুদানের নেতাদের অবশ্যই তাঁদের দায়িত্বশীলতা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকাসহ আকাশ থেকে বোমা হামলা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করার মাধ্যমে সুদান সরকারকে অবশ্যই সংকট তীব্রতর হওয়া রোধ করতে হবে।
কোরডোফান অঞ্চলে উত্তর সুদান ও দক্ষিণের সেনাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে লড়াই চলছে। সংঘাতের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে গেছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
আগামী ৯ জুলাই দক্ষিণ সুদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হবে। তবে তেল থেকে পাওয়া রাজস্ব ভাগাভাগিসহ বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি উত্তর ও দক্ষিণ।

সিবিআইয়ের তদন্তের দাবিতে সাংবাদিকদের অনশন শুরু

ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ্যোতির্ময় দে হত্যার ঘটনায় দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তের দাবিতে গতকাল বুধবার থেকে অনশন শুরু করেছেন সাংবাদিকেরা। মুম্বাই সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।
সাংবাদিক জ্যোতির্ময় হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত সোমবারও বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকেরা। জ্যোতির্ময় দে ট্যাবলয়েড মিড ডের অপরাধ বিটের প্রধান ছিলেন। গত শনিবার মুম্বাই শহরের একটি বিপণি কেন্দ্রের কাছে চারজন অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে তিনি নিহত হন। কে বা কারা এবং কেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।
মহারাষ্ট্র সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আইন করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সাংবাদিক জ্যোতির্ময় হত্যার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। মুম্বাই পুলিশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে এই খুনের তদন্ত করবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাতিলের পদত্যাগ বা রাজ্য পুলিশের প্রধান অরুপ পাটনায়েককে বরখাস্ত করার সাংবাদিকদের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
কিন্তু নিজেদের দাবিতে অনড় সাংবাদিকেরা আজাদ ময়দানের মারাঠি পতঙ্কর ভবনে গতকাল অনশন শুরু করেন।

ইয়েমেনে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা সিআইএর

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইয়েমেনে আল-কায়েদার জঙ্গিদের হত্যার লক্ষ্যে গোপন মিশন চালানোর পরিকল্পনা করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া বুধবার এ খবর জানায়।
আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তানের আদলে ইয়েমেনেও চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দফা হামলার চেষ্টা চালায়। আরব উপত্যকায় আল-কায়েদার এই শক্তিশালী শাখাটি পরিচালনা করছেন মার্কিন বংশোদ্ভূত আনওয়ার আল-আওলাকি। ধারণা করা হচ্ছে, আওলাকিও ইয়েমেনেই অবস্থান করছেন।
২০০৯ সাল থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী সিআইএর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেনে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে আসছে। কিন্তু সিআইএ নিজেই এখন ইয়েমেনে পাকিস্তানের আদলে চালকবিহীন বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে। আর এটি হবে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যার অভিযান।
সালেহকে ক্ষমতা হস্তান্তরে নতুন প্রস্তাব জিসিসির
ইয়েমেনের উপসাগরীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করার জন্য বুধবার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সালেহকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় এক সম্মেলনের পর জিসিসির মহাসচিব আবদুল লতিফ আল-জায়ানি সাংবাদিকদের বলেন, ইয়েমেনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই জিসিসি এ প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের সরকারবিরোধী দলগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জিসিসির পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে।
উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো প্রেসিডেন্ট সালেহর ক্ষমতা ত্যাগের প্রস্তাব নিয়ে তিনবার সিরিয়া গেলেও আশাহত হয়ে ফিরে এসেছে।
তিন দফা মধ্যস্থতার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ও চলমান এ সংকটের কারণে ইয়েমেন আল-কায়েদার শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে বলে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো আশঙ্কা করছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ না করায় জিসিসির সদস্য কাতার গত মাসে এ আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়।
এর আগে ইয়েমেনে আদিবাসী নেতা শেখ সাদেক আল-আহমার জানান, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদিকে মধ্যবর্তী সরকারের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
সালেহর বিরুদ্ধে ইয়েমেনে কয়েক মাস ধরে প্রবল আন্দোলন-বিক্ষোভ চললেও ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিরোধীপক্ষের গোলার হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে সালেহ সৌদি আরবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এসিআইর ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (্এসিআই) লিমিটেড ২০১০ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান এম আনিস উদদৌলা সভাপতিত্ব করেন। এতে কোম্পানির পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ভূঁইয়া, মো. ফায়েকুজ্জামান, গোলাম মাইনুদ্দিন, নাজমা দৌলা, সীমা আবেদ রহমান, ওয়ালিউর রহমান ও সুস্মিতা আনিস সালাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, আগের বছরের তুলনায় ২০১০ সালে এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে জানানো হয়, ২০১০ সালে কোম্পানির ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ ও কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগ ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ ছাড়া ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এসিআই সল্টে ১৫ শতাংশ এবং এসিআই লাইভস্টক অ্যান্ড ফিশারিজের ২৫ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০১০ সালে দেশি ও বিদেশি বাজারে এসিআই ফুডসের বিক্রি যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর সংসদে বিলুপ্ত হলো কর ন্যায়পাল

ছয় বছর পর আইন পাস করে কর ন্যায়পাল বিলুপ্ত করে দেওয়া হলো। বিগত বিএনপি সরকারের শেষ দিকে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন করে দেশে কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
ওই সময় কর ন্যায়পাল বিল পাসের প্রস্তাব করে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমান বলেছিলেন, কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ কর নিয়ে বিদ্যমান ভীতি থেকে রক্ষা পাবে। মানুষ আরও বেশি করে কর দিতে উৎসাহিত হবে। কর আদায়ে হয়রানি রোধেও কর ন্যায়পাল ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ওই সময় পাস হওয়া আইনে বলা হয়েছিল।
এর ছয় বছর পর গতকাল বুধবার সংসদে কর ন্যায়পাল (রহিতকরণ) বিল, ২০১১ পাসের মাধ্যমে কর ন্যায়পাল পদ এবং এর সব কার্যক্রম রহিত করা হয়।
বিলটি পাসের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কর ন্যায়পাল কার্যালয়টি কর প্রশাসনের অপশাসন দূর করার পরিবর্তে একটি ব্যয়সাধ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অথর্ব ও ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার কর আদায়ে মানুষকে নানাভাবে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় এ ধরনের ব্যয়সাধ্য প্রতিষ্ঠানের আর প্রয়োজন নেই।
বুধবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় বিরোধী দল বিএনপির সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন।
কাকরাইলে কর ন্যায়পাল কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। এই কার্যালয়ে ২০০৬ সালে ১০টি, ২০০৭ সালে ১১৯টি, ২০০৮ সালে ২৪১টি ও ২০০৯ সালে ৩৫৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এসব অভিযোগ সম্পর্কে কর ন্যায়পালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিবেচনায় নেবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন একমাত্র স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম। পরে এগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
কর ন্যায়পাল বিল পাসের যৌক্তিকতা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগে মানুষ আয়কর বিভাগকে দেখে ভয় পেত। ভয়ে তারা কর দিতে কর অফিসে বা কর কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন না। কিন্তু বর্তমান সরকার গত দুই বছরে করমেলাসহ বিভিন্নভাবে মানুষকে কর সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে সম্ভব হয়েছে। আর এর সুফল হিসেবে গত দুই বছরে দুই লাখ করদাতা বেড়েছে।
বিলটিতে বলা হয়, কর ন্যায়পাল কার্যালয়ের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও গচ্ছিত অর্থ এবং অন্য সব সম্পদ, দলিল-দস্তাবেজ ইত্যাদি সরকারের অনুকূলে ন্যস্ত হবে। কর ন্যায়পাল কার্যালয়ের সব দায়দেনা সরকারের ওপর বর্তাবে। কার্যালয়ের অধীনে সব অনিষ্পন্ন অভিযোগ, তদন্ত ও সাক্ষ্য বাতিল হবে। আর কর ন্যায়পাল কার্যালয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মরত কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক আত্তীকৃত হবেন।
এর আগে গত ১৪ মার্চ এই বিলটি সংসদে আনেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারেই গতকাল বিলটি পাস করা হয়।
তবে কর ন্যায়পাল খায়রুজ্জামান চৌধুরীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বছরই কর ন্যায়পাল কার্যালয় কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর নিয়োগ-বরখাস্তে এসইসির অনুমতি লাগবে

পুঁজিবাজারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে এখন থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন লাগবে।
একই সঙ্গে এমডি ও সিইওর ক্ষমতার কী হবে, তা-ও এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ঠিক করতে হবে। গতকাল বুধবার কমিশন সভায় এ-সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তা এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি।
একই সভায় মিউচুয়াল ফান্ড-সংক্রান্ত দুটি আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফান্ড দুটি হলো এল আর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে গতকালের সভায় কমিশন এল আর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রসপেক্টাস এবং এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের আকার পুনর্নির্ধারণের অনুমোদন দেয়।
সভা শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও এসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এসইসির মুখপাত্র জানান, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার বিধিমালা ১৯৯৬-এর কিছু সংশোধনী কমিশন সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে কমিশনের অনুমোদন পাওয়া প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ১০ বছর মেয়াদি এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১-এর আকার হবে ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা, আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। বাকি ৫০ কোটি টাকার জোগান দেবে ফান্ডটির উদ্যোক্তারা। ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
গতকালের সভার অনুমোদনের ফলে বর্তমানে এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের পরিবর্তিত আকার দাঁড়াবে ১৫০ কোটি টাকা। এর আগে ফান্ডটির আকার ছিল ৩০০ কোটি টাকা। পরিবর্তিত আকার অনুযায়ী, প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের জন্য ৪৫ কোটি টাকা এবং আইপিওর জন্য বরাদ্দ থাকবে ৭৫ কোটি টাকা। বাকি ৩০ কোটি টাকা ফান্ডটির উদ্যোক্তারা দেবে।

পাঠকের মন্তব্য

ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় ঢাকার গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৩ জুন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৩৭.৪০ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৩৭৪.৯২ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১৫.০৭ টাকা।

শেষ দুই ঘণ্টার লেনদেনে দরপতন

শেষ দুই ঘণ্টার লেনদেনে দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। এ সময়ে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় সূচক কমে যায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। তবে এর আগ পর্যন্ত দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিনের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের ১৫ মিনিটের মাথায় সূচক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে কিছুটা কমে সূচক বাড়ে ২ পয়েন্ট। বেলা একটায় দেখা যায়, ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮.৬২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮২১.৪৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এর পর থেকে সূচক নিম্নগামী হতে শুরু করে, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৩৬.৬৪ পয়েন্ট কমে ৫,৭৭৬.১৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে আজ ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৪৮৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবিএল, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, পূবালী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও এনবিএল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ ৫৫.৪৮ পয়েন্ট কমে ১৬০৩৩.৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতেও আজ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা একটার পর থেকে সিএসইতে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়ে বাকি সময় অব্যাহত থাকে।
সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৬১টির, কমেছে ৯৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১০ কোটি টাকা কম।

কক্সবাজারের অপেক্ষায় ক্রিকেটাররা

বিকেএসপি পর্ব শেষ। কাল সকালে হালকা স্ট্রেচিং শেষে সেখান থেকে ঢাকা ফিরে এসেছেন ক্রিকেটাররা। আজ, কাল, পরশু বিশ্রাম। ১৯ জুন থেকে আবার শুরু হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। তবে অপেক্ষাটা এখন কক্সবাজারে যাওয়ারই।
কন্ডিশনিং ক্যাম্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটাই এখনো বাকি। ২৬ জুন ক্যাম্প চলে যাবে সমুদ্রশহর কক্সবাজারে। ক্রিকেটাররা সেখানে থাকবেন ৩০ জুন পর্যন্ত, কন্ডিশনিং ক্যাম্পের পর্দাও নামবে সেখানেই। এর আগে ১৯ থেকে ২৪ জুন ফিটনেস ট্রেনিং হবে ঢাকায়। ২৫ জুন, মানে কক্সবাজার যাওয়ার আগের দিন ছুটি। ছুটিটা ক্রিকেটারদের কাটবে সতীর্থ মাহমুদউল্লাহর বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে।
এদিকে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে ‘এ’ দলের মালয়েশিয়া সফর বাতিল হওয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্পের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর আগে শুধু জিম্বাবুয়ে সফরের প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের কক্সবাজার যাওয়ার কথা থাকলেও এখন যাবেন সবাই। কাল প্রধান নির্বাচক আকরাম খান জানালেন, কক্সবাজারে ক্যাম্প শেষ হলে আগামী মাসের শুরুতে জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রাথমিক দল ঘোষণা হবে।
কক্সবাজারে সবাই যাচ্ছেন বলে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের বাজেটও কিছু বেড়েছে। শুরুতে ২২ লাখ টাকা বাজেট থাকলেও এখন সেটা ২৫ লাখের মতো।

মেসিকে পছন্দই করেন রোনালদো

‘লড়াই’টা তাঁদের মধ্যে চলে আসছে আগে থেকেই। এই মৌসুমে সেটি হয়েছে আরও জম্পেশ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লিওনেল মেসি যেন গোলের পাঞ্জাই লড়েছেন। মৌসুমে দুজনই গোল করেছেন ৫৩টি করে! মেসি বনাম রোনালদো বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে মজাদার তর্ক। কিন্তু মেসি যেমন বলেন, তেমনি রোনালদো। তাঁদের মধ্যে নাকি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নেই!
কথাটা রোনালদো আবারও বললেন। সুনির্দিষ্ট কোনো এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বৈরথে নামার চেয়ে তাঁর কাছে দলের জন্য ট্রফি জেতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘আমি মেসির সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি না। আমি লড়াইটা করি নিজের সঙ্গে এবং লিগের বাকি দলগুলোর সঙ্গেও।’ মেসির প্রতি বরং শ্রদ্ধাই প্রকাশ পেল তাঁর কথায়, ‘মেসি গ্রেট একজন খেলোয়াড়। খেলেও একটা গ্রেট দলে, যে দলে আরও অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। ওকে আমি ভীষণ পছন্দ করি। ও সেরা-ও হতে পারে, সেটি সে দেখিয়েও দিয়েছে।’
গোলসংখ্যায় সমতা থাকলেও ট্রফি জেতায় রোনালদোকে হারিয়ে দিয়েছেন মেসি। মেসির বার্সেলোনা যেখানে ৩টি ট্রফি জিতেছে, রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ মাত্র ১টি। কদিন আগের মতো আবারও বললেন, দলীয় সাফল্যের বিনিময়ে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্য বিসর্জন দিতে রাজি, ‘যদি বেছে নিতে বলা হয়, আমি এর অর্ধেক গোলও করব, বিনিময়ে দল লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতবে; আমি সেটিই বেছে নেব।’ কিন্তু দল নিশ্চয়ই চাইবে, রোনালদো এমন বেশি বেশি গোলই করুন, রিয়ালও শিরোপা জিতুক।
ভবিষ্যতে সেটাই ঘটবে বলে রোনালদোর ধারণা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে তিনি অনেক বেশি উজ্জ্বল। রোনালদো বলছেনও, ‘আগের বছরের তুলনায় এবার আমি অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে এটাই ছিল আমার সেরা মৌসুম।’ কোচ হোসে মরিনহোও দ্বিতীয় বছরে অনেকটা গুছিয়ে নেবেন বলে তাঁর ধারণা। রোনালদো তাই বার্সেলোনাকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখতে পারছেন, ‘ওরা এবার জিতেছে, কারণ ওরা সেরা দল ছিল। কিন্তু কোনো দলই অপরাজেয় নয়। বার্সা দুর্দান্ত একটা দল, দারুণ একজন কোচও আছে ওদের। কিন্তু আমরাও ব্যবধান কমিয়ে আনছি। আমরা তাদের হারাতে চাই। কঠিন চ্যালেঞ্জ কিন্তু একই সঙ্গে অন্য রকম তৃপ্তিও এনে দেয়।

মেসির বিকল্প হিগুয়েইন

মেসি না থাকলে জাভি-ইনিয়েস্তারাও বার্সেলোনাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনাকে চেনাই যায় না! সম্প্রতি নাইজেরিয়া ও পোল্যান্ডের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচেই হেরে গেছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। চেনাই যায়নি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তিকে।
নিজেদের দেশে ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া কোপা আমেরিকা অভিযানে আর্জেন্টিনা কোচ সার্জিও বাতিস্তার প্রধান অস্ত্র মেসি। চোট-টোট না থাকলে মেসি মাঠ আলো করে খেলবেনই। কিন্তু যদি চোট এসে ঝামেলা পাকায়?
চোট মেসিকে কেড়ে নিলেও আর্জেন্টিনাকে ‘মেসিবিহীন’ হতে দেবেন না বাতিস্তা। সেটা হবে মেসির বিকল্প তৈরি করে। পরশু আর্জেন্টিনার অনুশীলনে লক্ষ করা গেছে বিষয়টি। মেসির ভূমিকায় বাতিস্তা খেলিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনকে।
কোপা আমেরিকায় বাতিস্তার পরিকল্পনায় মেসি সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার। তাঁর ওই ভূমিকাটা কে নিতে পারেন, সেটাই দেখে নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ‘মেসির জায়গায় কে খেলতে পারে, সেটা দেখে নিতে চাই। হিগুয়েইনের মতো নয় নম্বর জার্সির একজন খেলোয়াড় আছে আমাদের। তাকে আমরা অনুশীলনে শুধু নয় নম্বর পজিশনে খেলাইনি। সে একই রকম হবে না। কারণ প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই আলাদা ধরন থাকে। কিন্তু আমি সবাইকে জানাতে চাই, মেসি না থাকলেও আমরা এভাবেই খেলব’—বলেছেন বাতিস্তা।
বাতিস্তা মেসির বিকল্প খুঁজছেন, আর নিউয়েল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের সভাপতি গিলের্মো লরেন্তো মেসিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল-জাদুকরের ক্যারিয়ার শেষ হবে তাঁর শৈশবের ক্লাবেই। লরেন্তে জানেন, এখন মেসিকে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে অন্তত যেন ঘরের ছেলেকে পান, বার্সেলোনাকে এই অনুরোধ জানাবেন লরেন্তে।

ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জি নিয়ে ঢিলেমি

প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়—আগামী বছর থেকে ঠিক সময়ে হয়ে যাবে বর্ষপঞ্জি। প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতিই থাকে। মৌসুম গড়িয়ে আরেক মৌসুম চলে এলেও তৈরি হয় না ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জি। এবারও ঘটনা সেটিই। ২০১১-১২ মৌসুমের জন্য বর্ষপঞ্জি তৈরির প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত যে অবস্থায়, তাতে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আগে সেটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহমেদ ১০ মে বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ডেকে বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব যার যার কমিটির বর্ষপঞ্জি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে জমা দিতে হবে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিসিডিএম আগামী মৌসুমে তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো কিছুই জানায়নি। উইমেন্স উইং জানিয়েছে কাল বিকেলে। এর আগে গত শনিবার গেম ডেভেলপমেন্ট ও গত পরশু টুর্নামেন্ট কমিটি বর্ষপঞ্জি জমা দিলেও টুর্নামেন্ট কমিটির বর্ষপঞ্জিতে এখনো কিছু জিনিস এদিক সেদিক হতে পারে।
এই বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা ঘরোয়া মৌসুম। রংপুর বিভাগ ও ঢাকা মহানগর যোগ হয়ে এবার জাতীয় লিগে দল হওয়ার কথা মোট ৮টি। পরিবর্তন আসতে পারে ফরম্যাটেও। তবে একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত, বর্ষপঞ্জিতে উল্লেখ থাকলেও ভেন্যু জটিলতা এবং সময়-সংকটের কারণে আসন্ন মৌসুমে জাতীয় লিগে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনার (এফটিপি) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি আগেই জানা থাকে। এর সঙ্গে সিসিডিএম, টুর্নামেন্ট কমিটি, গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও উইমেন্স উইংয়ের আওতাধীন খেলাগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ চূড়ান্ত করে ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সেই বর্ষপঞ্জি ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশ নিয়ে অনুমোদিত হতে হবে বোর্ড সভায়। ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক বাজেট তৈরির জন্যও নতুন আর্থিক বছরের আগে বর্ষপঞ্জি চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন। এবারও সেটা হচ্ছে না বলে অনেক বিভাগই তাদের বাজেট চূড়ান্ত করতে পারছে না বলেবোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
বর্ষপঞ্জি তৈরির কাজে ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদ বললেন, ‘আশা করি, আগস্ট মাসের মধ্যে এটা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’
অন্যান্য নিয়মিত আসরের সঙ্গে ঘরোয়া বর্ষপঞ্জিতে এবার থাকবে বিপিএল। সম্পূর্ণ পৃথক আয়োজক কমিটির তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা নতুন এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তবে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টটির সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ‘আগামী তিন বছর জানুয়ারি মাসে আমাদের কোনো আন্তর্জাতিক খেলা নেই। সে হিসেবে প্রথম তিন বছর এটা জানুয়ারিতে হতে পারে। তবে কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়’—বলেছেন প্রধান নির্বাহী।
আগামী তিন বছর যেমন জানুয়ারিতে খেলা নেই, তেমনি পরের দুই বছরও ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই বাংলাদেশ দলের। কিন্তু বিসিবির পরিকল্পনা টেলিভিশন সম্প্রচারসহ বিপিএলের অন্যান্য স্বত্ব্ব আগামী পাঁচ বছরের জন্য একবারে বিক্রি করে দেওয়া। সেজন্য প্রতিবছরই একটা নির্দিষ্ট সময়ে বিপিএল আয়োজন করা যায় কি না, সেটি খতিয়ে দেখছে বিসিবি। বিপিএলের দায়িত্বে থাকা বোর্ডের সহসভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলম জানিয়েছেন, এ মাসের মধ্যেই এসব চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

ফরাশগঞ্জে ধাক্কা মুক্তিযোদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধা ১: ১ ফরাশগঞ্জ
আরামবাগ ৪: ০ চট্ট. আবাহনী

ম্যাচ শেষ। মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরলেন খেলোয়াড়েরা। মুক্তিযোদ্ধার কোচ মারুফুল হক তখনো ডাগ-আউটের পাশে, গালে হাত দিয়ে একা দাঁড়িয়ে। চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। কালকের সন্ধ্যার আষাঢ়ে মেঘের মতোই অন্ধকার চেহারা। ফরাশগঞ্জের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপা স্বপ্ন যে ফিকে হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধার।
লিগ টেবিলে সবার ওপরে থাকা শেখ জামালের পয়েন্ট ৪৭। বাকি দুই ম্যাচ। এই দুই ম্যাচ শেখ জামাল জিতলে তারাই চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু শেখ জামাল হারলে সুযোগ থেকে যায় মুক্তিযোদ্ধার। কিন্তু প্রথম শর্ত ছিল, প্রতি ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া। স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন ফরাশগঞ্জের সঙ্গে ড্রটা এ কারণেই এমন পরাজয়ের সমান মনে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার কাছে। এই ড্রয়ে মুক্তিযোদ্ধার পয়েন্ট ২০ ম্যাচে ৪৪। ফরাশগঞ্জের পয়েন্ট হলো ১৯।
কাল মুক্তিযোদ্ধার খেলোয়াড়দের মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। উল্টো ফরাশগঞ্জকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন স্বাধীনতা কাপের সেই দল। খেলার ধারার বিপরীতে প্রথম গোল করে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাই। ৩৫ মিনিটে গোলটি করেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার বুকোলা (১-০)। ৪৫ মিনিটে কঙ্গোনিয়ার স্ট্রাইকার জুনাপিওর গোলে সমতায় ফরাশগঞ্জ (১-১)।
দ্বিতীয়ার্ধে অলআউট খেলেছে মুক্তিযোদ্ধা। জয়সূচক গোল করার দারুণ সুযোগও পেয়েছে। বক্সের ভেতরে আমাদি মোজেসের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৬টি) মগা বল তুলে দেন আকাশে। অন্তিমলগ্নে হঠাৎ করে বিপ্লব উঠে আসেন মাঝমাঠে, সেই সুযোগে মোজেস গোলে শট করলেও সেটা বাইরে যায়। দুর্ভাগ্যও সঙ্গী ছিল মুক্তিযোদ্ধার, নইলে ঠিক মিনিট খানেক পরই মিঠুনের হেড ক্রসবারে লাগবে কেন?
ড্র করে দারুণ খুশি ফরাশগঞ্জ কোচ কামাল বাবু, ‘ছেলেরা ভালো খেলেছে। আশা ছিল পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ব, সেটা করতে পেরে খুশি।’ মারুফুল হকের কথা, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের। ছেলেরা বেশি স্নায়ুচাপে ভুগছিল। পরিকল্পনামতো খেলতে পারেনি।’
আরামবাগের জয়: কমলাপুর স্টেডিয়ামে লাইবেরিয়ান কুপারের হ্যাটট্রিকে ৪-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়েছে আরামবাগ। অন্য গোলটি গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরার। ২০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আরামবাগ, সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট তলানিতে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর।

পেলেকে ছোঁয়ার পথে নেইমারের এক ধাপ?

তাঁকে বলা হয় ‘নতুন পেলে’। পেলে তো এমন এক শৃঙ্গ, এভারেস্টের চেয়েও যাঁর উচ্চতা বেশি। সেটি নেইমার ছুঁতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আজ পেলের এক কীর্তি ছোঁয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন সান্তোসের এই তারকা স্ট্রাইকার। আজ উরুগুয়ের ক্লাব পেনারলের বিপক্ষে কোপা লিবার্তাদোরেস ফাইনালের প্রথম লেগ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে সান্তোসকে কেউ হিসাবের মধ্যেই ধরেনি, নেইমার-জাদুতে তারাই এখন আধাশতাব্দী পর শিরোপা জয়ের সামনে। প্রথম লেগে নেইমার কি জাদুকরি কিছু করতে পেরেছেন?
ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে গেছে। হয়তো এতক্ষণে শেষও হয়ে গেছে। ফিরতি লেগ ২২ জুন, সেটি সাও পাওলোতে। দেখা যাক, সান্তোসকে তৃতীয় শিরোপাটি নেইমার এনে দিতে পারেন কি না।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ কোপা লিবার্তাদোরেস সান্তোস জিতেছে মাত্র দুবার। ১৯৬২ আর ১৯৬৩ সালে, ষাটের দশকে সান্তোসের স্বর্ণযুগে। পেলে-পরবর্তী যুগে শিরোপা তো দূরের কথা, টুর্নামেন্টের ফাইনালেই উঠতে পেরেছে মাত্র একবার (২০০৩ সালে)। এবার পেনারলের বিপক্ষে খেলা পড়ায় ফাইনালটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহও তৈরি হয়েছে। উরুগুয়ে-ব্রাজিলের ফুটবল রেষারেষি তো আর নতুন নয়!
১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে কোপা লিবার্তাদোরেস জেতার পর পেনারল টানা তৃতীয় শিরোপার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পথে বাদ সাধে পেলের সান্তোস। ইতিহাসের কারণেই দুই দল মানেই ক্লাসিক দ্বৈরথের নিশ্চয়তা। তা ছাড়া উরুগুয়ের সবচেয়ে সফল দল পেনারলও ১৯৮৭ সালের পর প্রথম এই শিরোপা জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে।
অপেক্ষাটা অবশ্য সান্তোসেরই বেশি তীব্র হওয়ার কথা। প্রায় আধাশতাব্দী, ঠিকঠাক হিসাব করলে ৪৮ বছর পরে আরও একবার কোপা লিবার্তাদোরেস জেতার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে পেলের কারণেই বিখ্যাত এই ক্লাব। ৫ গোল করে ১৯ বছর বয়সী নেইমারই এই অগ্রযাত্রায় রেখেছেন মুখ্য ভূমিকা। নেইমার আবার ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন, সান্তোসে খেলেই লিওনেল মেসিকে ছাপিয়ে যেতে চান। জিততে চান ফিফা-ব্যালন ডি’অর। এই তো সুযোগ তাঁর জন্য।
সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলার আগে নেইমারদের অনুপ্রাণিত করতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন খোদ পেলেই। জীবন্ত কিংবদন্তি নিজে গিয়ে খেলোয়াড়দের প্রেরণা জুগিয়ে এসেছেন। বলেছেন, ‘আমি সান্তোসকে ভালোবাসি। আমি চাই, ওরা চ্যাম্পিয়ন হোক।’ কিন্তু এও বলেছেন, এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা মানে ঝুঁকি, ‘এটা এমন একটা ম্যাচ, যেখানে কোনো ফেবারিট নেই। এখানে আছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।’
অনিশ্চয়তা যত বেশি থাকবে, ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চ থাকবে তত বেশি; জমে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে তত বেশি নাটক। আর সেই রঙ্গমঞ্চের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেইমার থাকবেন কি না, সেটি বলে দেবে সময়। তবে পেলে নেইমারকে উজ্জীবিত করার দারুণ এক অস্ত্র খুঁজে বের করেছেন। সবাই বলছে, নেইমারই নাকি ষাট-সত্তর দশকের পেলে, এবার পেলে তাঁর পুরোনো এক ছবি নিয়ে হাজির। যে ছবিতে পেলের চুলের কাটিংটা ঠিক এখনকার নেইমারের মতো ছিল। উহু, ভুল বলা হলো। এখনকার নেইমারের চুলের কাটিং ঠিক সেই সময়ের পেলের মতো। তবে নেইমার ভালো করেই জানেন, চুলের কাটিংয়ের মিলটাই শেষ কথা নয়; মাঠের খেলাটাই আসল!

আলোচনায় দুই অধিনায়ক

রোজ বোল টেস্ট এমনিতেই থাকত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সিরিজটা ইংল্যান্ড জিতবে, নাকি শ্রীলঙ্কা ড্র করবে, সেটার নিষ্পত্তি হবে আজ থেকে শুরু শেষ টেস্টে। ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা এই শেষ টেস্টটা আবার রোজ বোলের অভিষেক টেস্ট—মনোযোগ কাড়ার জন্য আর কী লাগে!
তবে আলোচনাটা আরও একটা কারণেও হচ্ছে। এত কিছুর সঙ্গে টেস্টের আগে আলোচনায় চলে আসছেন দুই দলের অধিনায়কও। বুড়ো আঙুলের চোট ছিটকে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশানকে। সেটা বড় সমস্যা ছিল না, কারণ দিলশানের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য লোক দলে আছেন। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা যে শুরুতে রাজিই হচ্ছিলেন না অধিনায়কত্ব করতে!
সাঙ্গাকারার ‘না’ শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ হয়েছে দলের কথা ভেবে, ‘প্রথমে যখন অধিনায়কত্ব করতে বলা হলো, আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ, কাজটা তো আমি ছেড়েই দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত দলের কথা ভেবে রাজি হয়েছি।’ ইংল্যান্ড সফরে কোনো সহ-অধিনায়ক নেই শ্রীলঙ্কা দলে। সাঙ্গাকারাকেই তাই ঢেঁকি গিলতে হলো অনুরোধে।
সাঙ্গাকারা কথা বলেছেন অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গেও। বিশ্বকাপের এক-দেড় মাস আগেই নাকি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন, টুর্নামেন্ট শেষ হলে সরে দাঁড়াবেন নেতৃত্ব থেকে। ‘শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্ব এমন একটা কাজ, যেটা বয়স বাড়িয়ে দেয়। এই কাজের সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ’—বলেছেন সাঙ্গাকারা।
শ্রীলঙ্কা যখন একজনকে অনেকটা জোর করেই অধিনায়ক বানাচ্ছে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস তখন অন্য দুশ্চিন্তায়। তিনি সুস্থ, দলে জায়গা হারানোর ভয়ও আপাতত নেই। কিন্তু ২০০৯-এর জুলাইয়ে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর গত প্রায় দুই বছরে মাত্র একটাই সেঞ্চুরি (গত বছর নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেনে) করেছেন টেস্টে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি সিরিজেও তিন ইনিংস খেলে করেছেন মাত্র ২৪ রান। লর্ডস টেস্টে তো দুই ইনিংসেই (৪, ০) হয়েছেন এলবিডব্লু! স্ট্রাউস যেন নিজের ওপর নিজেই অসন্তুষ্ট, ‘লর্ডসের পারফরম্যান্সে আমি হতাশ, তবে ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে এটা হতেই পারে। অনেক সময় শুরুতেই ভালো কিছু বল ধেয়ে আসতে পারে আপনার দিকে।’
রোজ বোলে নতুন যুগের শুরুতে স্ট্রাউসও নতুন শুরুর আশায় আছেন।

মেসিদের দেখতে হলে...

লিওনেল মেসিকে মাঠে বসে দেখতে চান? সেই সুযোগ যে আসছে, সেটি তো আপনি জানেনই। এবার জেনে নিন, তা দেখতে কত টাকা খরচ করতে হবে। কাল বাফুফের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় চূড়ান্ত হয়েছে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের টিকিটের দাম। সংবাদ সম্মেলন করে তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
বড় পর্দায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দর্শক আসনব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে বাফুফে সদস্য আনোয়ারুল হক জানালেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোট দর্শক আসন ২৫ হাজারের কিছু বেশি। টিকিট বিক্রি থেকে আসতে পারে ২০ কোটি টাকা। এই ম্যাচের জন্য খরচ হবে আনুমানিক ৩৪ কোটি টাকা।
পশ্চিম গ্যালারিতে ১২ হাজার টিকিট, প্রতিটি দাম ১০ হাজার টাকা করে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ করপোরেট হাউস ও বাকি ৩০ শতাংশ সাধারণ দর্শকের জন্য সংরক্ষিত। সাধারণ দর্শক সাড়া বেশি হলে করপোরেট টিকিট কমবে। পূর্ব গ্যালারির নয় হাজার টিকিটের প্রতিটি সাড়ে সাত হাজার টাকা।
স্পেশাল এনক্লোজারের (প্রেসবক্সের নিচে) ৪৮৬টি টিকিট ১৫ হাজার টাকা করে। ১২টি করপোরেট বক্সে আসন ২৪টি, প্রতিটি বক্সের দাম ১৫ লাখ টাকা। নতুন করে তৈরি এনক্লোজার বক্সের ২৩৫টি আসনের দাম ৩০ হাজার টাকা করে। প্রেসিডেন্টস বক্সে আসন ২২৪টি, টিকিটের দাম ৫০ হাজার টাকা।
ভিআইপি এনক্লোজারের ওপরের অংশের ৫৪০টি আসন, প্রতিটি ২০ হাজার টাকা। নিচে ১৩৫৪ আসনের প্রতিটি ১৫ হাজার টাকা। তবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ফুটবলার, স্বাধীন বাংলা দলের সদস্য, জেলা ফুটবল সংস্থা, বিভিন্ন ফেডারেশন, ফুটবল ক্লাব ৫ হাজার টাকায় কিনতে পারবে ভিআইপি এনক্লোজারের টিকিট।
করপোরেট হাউসগুলোর জন্য টিকিট বিক্রি শুরু ২০ জুন। তবে তাদের কমপক্ষে ১০০টি টিকিট নিতে হবে। সাধারণ দর্শকের জন্য টিকিট ছাড়া হবে ১৫ জুলাই।
দুই দল ঢাকা আসবে ৩ সেপ্টেম্বর। ম্যাচের আগে দুটি করে অনুশীলন সেশন হওয়ার কথা। একটি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, দর্শকবিহীন। অন্যটি দর্শনীর বিনিময়ে দেখতে পারবে দর্শক। এটির ভেন্যু হিসেবে ভাবা হচ্ছে মিরপুর, ফতুল্লা অথবা আর্মি স্টেডিয়ামকে।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কি এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত? বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কাল আবারও বললেন, ‘মাঠ নিয়ে সমস্যা হবে না। মাঠ থাকবে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের, আমরা এই আয়োজনটা সফলভাবে করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও অনেক ম্যাচ আনতে পারব ঢাকায়।’
মেসি আসবেনই—শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছে বাফুফে। কিন্তু ম্যাচটির ব্যবস্থাপক বুয়েনস এইরেসের প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইলেভেন একটি বার্তা সংস্থাকে বলেছে, মেসি আসবেই এমন কথা চুক্তিতে নেই।
সালাউদ্দিন অবশ্য নিশ্চিত করলেন আবারও, ‘অবশ্যই মেসি আসবে। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কাল (পরশু) ঢাকায় আমার সঙ্গে কথা বলেছে মেসির জাপানি এজেন্ট। তারা বরং এটা জানতে চেয়েছে, মেসিকে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে সেই সুযোগও আছে। মেসি না এলে তারা তো এই প্রস্তাব নিয়ে আসত না।’

রহমতগঞ্জ যখন বাফুফের কাঠগড়ায়

‘৫টা গোল খেয়েছি। এসব ব্যাপারে তারা আমার কাছে জানতে চেয়েছে। গোলের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছে। সবাই আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করছিল। এমনকি আমাকে দিয়ে কোরআন শরিফও ধরানো হয়েছে। আমার কাছে সত্য কথা জানতে চেয়েছে, আমি সত্য কথা বলেছি।’
রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক ইরান শেখ একনিঃশ্বাসে বলে গেলেন। গত শনিবার বাংলাদেশ লিগে শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচের তদন্তে নামা বাংলাদেশ লিগ কমিটির সামনে কাল সন্ধ্যায় জবানবন্দি দিয়েছেন আলোচিত এই গোলরক্ষক।
‘প্রথম ২০-২৫ মিনিট আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড় মাইকেল দুম্বা আহত ও শিমুল লাল কার্ড খাওয়ার পর আমাদের রক্ষণ ছিল না বললেই চলে। তাই আমরা এতগুলো গোল খেয়েছি’—কমিটির সামনে এভাবেই দুই গোল দিয়ে পাঁচ গোল খাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইরান।
গত পরশু রহমতগঞ্জ কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ায় বাফুফে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। রহমতগঞ্জের পুরো দল কাল নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই বাফুফে ভবনে হাজির।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে পাতানো খেলার অভিযোগ ওঠার পর কোনো দলকে তদন্ত কমিটির সামনে দাঁড় করানোর ঘটনা এটিই প্রথম। শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচ আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও অতীতের সব পাতানো ম্যাচের বিচারের দাবিও উঠছে। কিন্তু সেটি নিয়ে লিগ কমিটি আপাতত কিছু ভাবছে না। এ বছর লিগের কয়েকটি ম্যাচ নিয়েই তারা তদন্ত করবে। আগামী পরশু ডাকা হবে শেখ জামালকে। তারপর আরও কয়েকটি দলকেও, যাদের নাম অবশ্য প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ লিগ কমিটি।
কাল রহমতগঞ্জের ফুটবল সম্পাদক সালাউদ্দিন কালাকে রুদ্ধদ্বার কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। তারপর একে একে গোলরক্ষক ইরান শেখ, কোচ আলী আসগর নাসির, ডিফেন্ডার মাইকেল দুম্বা, লেফটব্যাক রনি ও সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানকে। সবশেষে সব খেলোয়াড়কে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদির কক্ষে নিয়ে ম্যাচের ৭টি গোল বড় পর্দায় দেখানো হয়।
কমিটির সামনে রহমতঞ্জের সবারই অভিন্ন বক্তব্য ছিল, ‘আমরা পাতানো ম্যাচ খেলিনি।’ তবে লিগ কমিটির একটি সূত্র জানিয়েছে, গোলগুলোর ভিডিও দেখানোর পর এই দাবি নাকি আর ততটা জোরালো থাকেনি।
সূত্র আরও জানিয়েছে, রহমতঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ম্যাচ দেখে বলেছেন, তাঁদের সন্দেহ হয়েছে কোনো খেলোয়াড় এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত করে তাঁরা এটা বের করবেন। গোটা প্রক্রিয়ার আগে-পরে রহমতঞ্জের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেছেন, ‘এভাবে কমিটির সামনে আসা আমাদের জন্য চরম বিব্রতকর।’
লিগ কমিটির সভাপতি সালাম মুর্শেদি ‘তদন্তের স্বার্থে’ সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তাঁর কথা, ‘আমাদের এক জায়গা থেকে শুরু করতেই হবে। ৪০ বছর পর দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। আমি মনে করি, অবশ্যই পাতানো খেলার শাস্তি হওয়া দরকার।’
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ফেডারেশনেই ছিলেন। রাত পৌনে নয়টায় ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় বলে গেলেন, ‘কমিটি কী করছে, আমি খবরই রাখছি না। তাদের বলে দিয়েছি, যেটা ভালো হয়, ফুটবলের স্বার্থে সেটিই যেন করা হয়। আমি হস্তক্ষেপ করব না। আমরা চাই, পাতানো খেলা বন্ধ হোক।’
লিগ কমিটির সভায় সভাপতি সালাম মুর্শেদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হারুনুর রশিদ, আনোয়ারুল হক হেলাল, হাসানুজ্জামান বাবলু ও গোলাম রব্বানী। রাত সাড়ে ৯টায় তাঁদের আড্ডায় ভেসে বেড়াল কয়েকটি মন্তব্য—‘পাতানো খেলা আজকের সমস্যা নয়। এবার ছাড় দিলে কোনো দিন এ দেশে পাতানো খেলা বন্ধ হবে না।’
দেরিতে হলেও বোধোদয় হয়েছে, এটাই বা কম কী!

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারতকে শেখাও

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন ‘ঝিকে মেরে বউকে শেখানো’র পক্ষে। এ ক্ষেত্রে ঝি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা আর বউ ভারত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড আসছে ওয়ানডের বিশ্বকাপ জেতা দলটি। আর হুসেইন মনে করেন, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা শুরু হওয়ার আগেই ইংল্যান্ড মানসিক দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের এই সিরিজে ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই ১-০ ম্যাচে এগিয়ে রয়েছে। নাসের হুসেইন বলেন, ‘তৃতীয় টেস্টে যদি ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে তা হবে ভারতের জন্য বিরাট এক সতর্কবার্তা।’
তাঁর মতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটা ইতিমধ্যেই সব আগ্রহ হারিয়ে বসেছে। শ্রীলঙ্কা দলটির অবস্থা ভালো নয়। তার পরেও শেষ টেস্টটা জিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে মানসিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে ইংল্যান্ডের সামনে।’

ফ্যাব্রেগাস তুমি কার

সেস ফ্যাব্রেগাসকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। তিনি আর্সেনালে থাকবেন, নাকি বার্সেলোনায় ফিরে যাবেন। বার্সেলোনা তাঁর দিকে হাত বাড়িয়েই রেখেছে। আর্সেনালও তাঁকে ছাড়তে অপারগ। এমন অবস্থায় তাঁর সিদ্ধান্তটি কোন দিকে যায়, সেটার ওপরই আসলে নির্ভর করছে সবকিছু। তবে, নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেই রয়েছেন এ সুদর্শন স্প্যানিশ তারকা।
ফ্যাব্রেগাস নিজেও পুরো ব্যাপারটি নিয়ে বেশ বিব্রত। এ নিয়ে কথা বললেই কথা বাড়বে—এমন একটি মনোভাব নিয়ে তিনি আছেন। তবে, ব্রিটিশ একটি পত্রিকা খবর দিয়েছে, ফ্যাব্রেগাসের নাকি আর্সেনালে থাকার ইচ্ছে নেই। নিজে কাতালান হওয়ার কারণে তাঁর মন নাকি পড়ে রয়েছে বার্সেলোনায়। এদিকে, কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও নাকি আগামী মৌসুমে ফ্যাব্রেগাসকে বাদ দিয়েই দল গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন।
এসব নিয়ে প্রায়ই বিব্রত হতে হচ্ছে গানার্সদের অধিনায়ককে। তিনি বলেছেন, ‘আমি বর্তমানে আর্সেনালে খেলে খুশি। আশা করছি, এ কথার পর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে।’
তবে জল্পনার ব্যাপারটি কিন্তু ফ্যাব্রেগাস উসকে দিলেন তাঁর পরের কথাতেই। তিনি বলেছেন, ‘আর্সেনালে আমার একটাই সমস্যা। আমরা জিততে পারছি না। আমি কেবল জিততেই ভালোবাসি।’ এখন এ ‘জেতার’ জন্য যে তিনি বার্সেলোনাতে যেতে চান না, সেটা কে বলবে।
স্পেনের একটি ফুটবল ডেইলি খবর ছেপেছে। ফ্যাব্রেগাসের দলবদল বিষয়ে বার্সেলোনা ও আর্সেনাল প্রায় মতৈক্যে পৌঁছে গেছে। তারা আরও লিখেছে, ফ্যাব্রেগাস চান দুই ক্লাব যেন তাঁর দলবদলের ব্যাপারে একটি সুস্থ মতৈক্যে পৌঁছতে পারে। বার্সেলোনা আর্সেনালকে ফ্যাব্রেগাসের জন্য ৩০ মিলিয়ন ইউরো দিতে চায়। আর্সেনাল চায় ৪০ মিলিয়ন। এ ১০ মিলিয়নের মতৈক্য হলেই ফ্যাব্রেগাস বার্সার হয়ে যাবেন।
বার্সেলোনা নিয়ে ফ্যাব্রেগাসেরও অনেক আবেগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বার্সেলোনাকে ভালোবাসি। অনেক ঠোঁট থেকেই বার্সেলোনার জার্সির রংটা আমার খুব পছন্দ। আমি কাতালান। তবে এ মুহূর্তে আমার পরিচয়, আমি গানার। আমি গানারদের সঙ্গেই রয়েছি।’
দেখা যাক, ফ্যাব্রেগাস কত দিন গানারদের একজন হয়ে থাকেন !

দশ দলের বিশ্বকাপের পক্ষে হেইডেন

আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দলের তালিকা থেকে সহযোগী সদস্যদের ছেঁটে ফেলার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে আইসিসি। সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটের ‘ছোট দল’গুলোর পছন্দ না হলেও সিদ্ধান্তটি তাদের মেনে নিতেই হচ্ছে। কারণ, ‘ক্রিকেট এলিট’দের বেশির ভাগই যে আইসিসির এ সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছেন। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি শারদ পাওয়ার অবশ্য সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনা করে দেখার কথা বলেছেন। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সহযোগী সদস্যরা আগামী বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। তবে সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়বে বলেই জানিয়েছে আইসিসি।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১০ দলের হলে তাতে স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশই অংশগ্রহণ করবে। এতে সুযোগ হারাবে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা আয়ারল্যান্ড। তবে আয়ারল্যান্ডের মতো পারফর্মিং সহযোগী সদস্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন মনে করেন, ‘১০ দলের বিশ্বকাপের চিন্তা করে আইসিসি সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় বলি হবে আয়ারল্যান্ড। তারা এবারের বিশ্বকাপে সত্যিই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। তবে আমি মনে করি, বিশ্বকাপ অবশ্যই ক্রিকেটের প্রধান দলগুলোকে নিয়ে হওয়া উচিত।

ইন্টার ছাড়ছেন লিওনার্দো

কথাটা চাউর হয়েছিল বেশ আগেই। কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন ইতালীয় ও ফরাসি পত্রিকা বলে আসছিল লিওনার্দোর ইন্টার মিলান ছাড়ার কথা। আজ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা পুরো ব্যাপারটিই নিশ্চিত করেছে। ৪১ বছর বয়স্ক ইন্টারের এই ব্রাজিলিয়ান কোচ তাঁর দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি যোগ দিচ্ছেন ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে। বার্তা সংস্থাটির সূত্র জানিয়েছে, লিওনার্দোর নিয়োগের ব্যাপারে আসছে সপ্তাহেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, লিওনার্দো গত সপ্তাহে কাতারে গিয়েছিলেন এ নতুন চুক্তির ব্যাপারে। তাঁর কাতারে যাওয়ার কারণ দেশটির অন্যতম ধনকুবের ও আল-জাজিরারও মালিক নাসের আল খালিফির সঙ্গে আলোচনা করতে। খালিফি সম্প্রতি সেন্ট জার্মেইয়ের ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছেন।
লিওনার্দো ব্রাজিলের হয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দেশের হয়ে জিতেছেন ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ। তিনি ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে খেলেছিলেন।

গেইলের সব সম্ভাবনা শেষ!

মনে হচ্ছিল বরফ গলেছে। সুমতি ফিরে পেয়েছেন ক্রিস গেইল। অভিমান ভেঙে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছিল, এ বৈঠকেই গেইলের অভিমান ভাঙবে। ক্রিকেট প্রশাসকদের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। তিনি আবার ফিরে আসবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। কিন্তু, না। এ বৈঠক নাকি সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। ক্রিস গেইলের দলে ফেরার শেষ সম্ভাবনাটুকুও নাকি বিলীন হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার সব সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যেই গেইল বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীননাথ রামনারায়ণ ও সহসভাপতি ওয়েভাল হাইন্ডস। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ডাব্লুসিবির প্রধান নির্বাহী আর্নেস্ট হিলারে, ক্রিকেট পরিচালক টনি হাওয়ার্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচ ওটিস গিবসন ও ম্যানেজার রিচি রিচার্ডসন। গেইল উপস্থিত থাকলেও তাঁর হয়ে আলোচনাটা করছিলেন রামনারায়ণ। কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে সমাধান দূরে থাকুক, উল্টো সমস্যা নাকি বেড়েছে। দীননাথ রামনারায়ণ ও আর্নেস্ট হিলারের মধ্যে তর্কাতর্কি নাকি এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে রামনারায়ণ একপর্যায়ে হিলারেকে মারতে তেড়ে যান। উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড পুরো ব্যাপারটিকে বাজেভাবেই নিয়েছে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত দীননাথ রামনারায়ণের জন্যই ব্যাপারটি জটিলতর হয়েছে। এসব ব্যাপারে রামনারায়ণই নাকি গেইলের মূল পরামর্শদাতা।
বৈঠকের একটি সূত্র বলেছে, গেইল আইপিএলে খেলুক এটা নিয়ে নাকি ডাব্লুসিবির কোনো সমস্যা নেই। বোর্ডের সমস্যা কেবল, একটি রেডিও সাক্ষাত্কারে তিনি যেসব কথা বলেছিলেন—সেগুলো নিয়ে। তবে বৈঠকে বোর্ড কর্মকর্তারা গেইলের এসব মন্তব্যকে ব্যক্তিগত হিসেবে ধরে নিয়ে তাঁকে মৃদু তিরস্কার করেন। এসব কথাবার্তাকে অপেশাদারি আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এসব না বলারও আহ্বান জানান। এসবের একপর্যায়েই বৈঠকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গেইলের দলে ফেরার সব সম্ভাবনাও এক প্রকার শেষ হয়ে গেছে।

‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’র বিরুদ্ধে আদালতে গিগস

নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকাটির বিরুদ্ধে অভিযোগটা আগেই ছিল। তারা নাকি সেলিব্রেটিদের ই-মেইল, মুঠোফোন হ্যাক করে তাদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি ছাপার অক্ষরে চাউর করে দেয়। বিভিন্ন সময়ে এদের বিরুদ্ধে অনেকেই মামলা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং দ্বিগুণ উত্সাহে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়েই গেছে।
এ পত্রিকাটির বিরুদ্ধে এবার চটেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রাইয়ান গিগস। তিনি অভিযোগ করেছেন, পত্রিকাটি তাঁর মুঠোফোন হ্যাক করেছে। তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলাও ঠুকে দিয়েছেন।
অনেক দিন আগে থেকেই রাইয়ান গিগসের মুঠোফোন হ্যাক করা হচ্ছিল। সময়টা ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। গত মাসে গিগস আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ লাভ করেন, সেখানে গিগসের মুঠোফোন হ্যাকের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
গিগস মামলা করার পরপরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এ ব্যাপারে তাদের তদন্ত শুরু করেছে।
গিগসের টিমমেট ওয়েইন রুনি জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তিনি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে একটি ফোন পান। সেখানে গিগসের ব্যাপারটি নিয়ে তাঁকে কিছু প্রশ্ন করা হয়।
২০০৭ সালে একজন অভিনেত্রীর মুঠোফোন হ্যাকিংয়ের দায়ে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের দুজন সাংবাদিককে স্বল্পমেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পেলেকে ছোঁয়ার পথে নেইমারের এক ধাপ?

তাঁকে বলা হয় ‘নতুন পেলে’। পেলে তো এমন এক শৃঙ্গ, এভারেস্টের চেয়েও যাঁর উচ্চতা বেশি। সেটি নেইমার ছুঁতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আজ পেলের এক কীর্তি ছোঁয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন সান্তোসের এই তারকা স্ট্রাইকার। আজ উরুগুয়ের ক্লাব পেনারলের বিপক্ষে কোপা লিবার্তাদোরেস ফাইনালের প্রথম লেগ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে সান্তোসকে কেউ হিসাবের মধ্যেই ধরেনি, নেইমার-জাদুতে তারাই এখন আধাশতাব্দী পর শিরোপা জয়ের সামনে। প্রথম লেগে নেইমার কি জাদুকরি কিছু করতে পেরেছেন?
ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে গেছে। হয়তো এতক্ষণে শেষও হয়ে গেছে। ফিরতি লেগ ২২ জুন, সেটি সাও পাওলোতে। দেখা যাক, সান্তোসকে তৃতীয় শিরোপাটি নেইমার এনে দিতে পারেন কি না।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ কোপা লিবার্তাদোরেস সান্তোস জিতেছে মাত্র দুবার। ১৯৬২ আর ১৯৬৩ সালে, ষাটের দশকে সান্তোসের স্বর্ণযুগে। পেলে-পরবর্তী যুগে শিরোপা তো দূরের কথা, টুর্নামেন্টের ফাইনালেই উঠতে পেরেছে মাত্র একবার (২০০৩ সালে)। এবার পেনারলের বিপক্ষে খেলা পড়ায় ফাইনালটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহও তৈরি হয়েছে। উরুগুয়ে-ব্রাজিলের ফুটবল রেষারেষি তো আর নতুন নয়!
১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে কোপা লিবার্তাদোরেস জেতার পর পেনারল টানা তৃতীয় শিরোপার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পথে বাদ সাধে পেলের সান্তোস। ইতিহাসের কারণেই দুই দল মানেই ক্লাসিক দ্বৈরথের নিশ্চয়তা। তা ছাড়া উরুগুয়ের সবচেয়ে সফল দল পেনারলও ১৯৮৭ সালের পর প্রথম এই শিরোপা জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে।
অপেক্ষাটা অবশ্য সান্তোসেরই বেশি তীব্র হওয়ার কথা। প্রায় আধাশতাব্দী, ঠিকঠাক হিসাব করলে ৪৮ বছর পরে আরও একবার কোপা লিবার্তাদোরেস জেতার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে পেলের কারণেই বিখ্যাত এই ক্লাব। ৫ গোল করে ১৯ বছর বয়সী নেইমারই এই অগ্রযাত্রায় রেখেছেন মুখ্য ভূমিকা। নেইমার আবার ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন, সান্তোসে খেলেই লিওনেল মেসিকে ছাপিয়ে যেতে চান। জিততে চান ফিফা-ব্যালন ডি’অর। এই তো সুযোগ তাঁর জন্য।
সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলার আগে নেইমারদের অনুপ্রাণিত করতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন খোদ পেলেই। জীবন্ত কিংবদন্তি নিজে গিয়ে খেলোয়াড়দের প্রেরণা জুগিয়ে এসেছেন। বলেছেন, ‘আমি সান্তোসকে ভালোবাসি। আমি চাই, ওরা চ্যাম্পিয়ন হোক।’ কিন্তু এও বলেছেন, এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা মানে ঝুঁকি, ‘এটা এমন একটা ম্যাচ, যেখানে কোনো ফেবারিট নেই। এখানে আছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।’
অনিশ্চয়তা যত বেশি থাকবে, ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চ থাকবে তত বেশি; জমে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে তত বেশি নাটক। আর সেই রঙ্গমঞ্চের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেইমার থাকবেন কি না, সেটি বলে দেবে সময়। তবে পেলে নেইমারকে উজ্জীবিত করার দারুণ এক অস্ত্র খুঁজে বের করেছেন। সবাই বলছে, নেইমারই নাকি ষাট-সত্তর দশকের পেলে, এবার পেলে তাঁর পুরোনো এক ছবি নিয়ে হাজির। যে ছবিতে পেলের চুলের কাটিংটা ঠিক এখনকার নেইমারের মতো ছিল। উহু, ভুল বলা হলো। এখনকার নেইমারের চুলের কাটিং ঠিক সেই সময়ের পেলের মতো। তবে নেইমার ভালো করেই জানেন, চুলের কাটিংয়ের মিলটাই শেষ কথা নয়; মাঠের খেলাটাই আসল!

মেসির বিকল্প হিগুয়েইন?

মেসি না থাকলে জাভি-ইনিয়েস্তারাও বার্সেলোনাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনাকে চেনাই যায় না! সম্প্রতি নাইজেরিয়া ও পোল্যান্ডের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচেই হেরে গেছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। চেনাই যায়নি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তিকে।
নিজেদের দেশে ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া কোপা আমেরিকা অভিযানে আর্জেন্টিনা কোচ সার্জিও বাতিস্তার প্রধান অস্ত্র মেসি। চোট-টোট না থাকলে মেসি মাঠ আলো করে খেলবেনই। কিন্তু যদি চোট এসে ঝামেলা পাকায়?
চোট মেসিকে কেড়ে নিলেও আর্জেন্টিনাকে ‘মেসিবিহীন’ হতে দেবেন না বাতিস্তা। সেটা হবে মেসির বিকল্প তৈরি করে। পরশু আর্জেন্টিনার অনুশীলনে লক্ষ করা গেছে বিষয়টি। মেসির ভূমিকায় বাতিস্তা খেলিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনকে।
কোপা আমেরিকায় বাতিস্তার পরিকল্পনায় মেসি সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার। তাঁর ওই ভূমিকাটা কে নিতে পারেন, সেটাই দেখে নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ‘মেসির জায়গায় কে খেলতে পারে, সেটা দেখে নিতে চাই। হিগুয়েইনের মতো নয় নম্বর জার্সির একজন খেলোয়াড় আছে আমাদের। তাকে আমরা অনুশীলনে শুধু নয় নম্বর পজিশনে খেলাইনি। সে একই রকম হবে না। কারণ প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই আলাদা ধরন থাকে। কিন্তু আমি সবাইকে জানাতে চাই, মেসি না থাকলেও আমরা এভাবেই খেলব’—বলেছেন বাতিস্তা।
বাতিস্তা মেসির বিকল্প খুঁজছেন, আর নিউয়েল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের সভাপতি গিলের্মো লরেন্তো মেসিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল-জাদুকরের ক্যারিয়ার শেষ হবে তাঁর শৈশবের ক্লাবেই। লরেন্তে জানেন, এখন মেসিকে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে অন্তত যেন ঘরের ছেলেকে পান, বার্সেলোনাকে এই অনুরোধ জানাবেন লরেন্তে

দশ দলের বিশ্বকাপের পক্ষে হেইডেন

আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দলের তালিকা থেকে সহযোগী সদস্যদের ছেঁটে ফেলার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে আইসিসি। সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটের ‘ছোট দল’গুলোর পছন্দ না হলেও সিদ্ধান্তটি তাদের মেনে নিতেই হচ্ছে। কারণ, ‘ক্রিকেট এলিট’দের বেশির ভাগই যে আইসিসির এ সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছেন। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি শারদ পাওয়ার অবশ্য সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনা করে দেখার কথা বলেছেন। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সহযোগী সদস্যরা আগামী বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। তবে সে ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়বে বলেই জানিয়েছে আইসিসি।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১০ দলের হলে তাতে স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশই অংশগ্রহণ করবে। এতে সুযোগ হারাবে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা আয়ারল্যান্ড। তবে আয়ারল্যান্ডের মতো পারফর্মিং সহযোগী সদস্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন মনে করেন, ‘১০ দলের বিশ্বকাপের চিন্তা করে আইসিসি সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় বলি হবে আয়ারল্যান্ড। তারা এবারের বিশ্বকাপে সত্যিই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। তবে আমি মনে করি, বিশ্বকাপ অবশ্যই ক্রিকেটের প্রধান দলগুলোকে নিয়ে হওয়া উচিত।’

ইন্টার ছাড়ছেন লিওনার্দো

কথাটা চাউর হয়েছিল বেশ আগেই। কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন ইতালীয় ও ফরাসি পত্রিকা বলে আসছিল লিওনার্দোর ইন্টার মিলান ছাড়ার কথা। আজ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা পুরো ব্যাপারটিই নিশ্চিত করেছে। ৪১ বছর বয়স্ক ইন্টারের এই ব্রাজিলিয়ান কোচ তাঁর দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি যোগ দিচ্ছেন ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে। বার্তা সংস্থাটির সূত্র জানিয়েছে, লিওনার্দোর নিয়োগের ব্যাপারে আসছে সপ্তাহেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, লিওনার্দো গত সপ্তাহে কাতারে গিয়েছিলেন এ নতুন চুক্তির ব্যাপারে। তাঁর কাতারে যাওয়ার কারণ দেশটির অন্যতম ধনকুবের ও আল-জাজিরারও মালিক নাসের আল খালিফির সঙ্গে আলোচনা করতে। খালিফি সম্প্রতি সেন্ট জার্মেইয়ের ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছেন।
লিওনার্দো ব্রাজিলের হয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দেশের হয়ে জিতেছেন ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ। তিনি ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে খেলেছিলেন।

গেইলের সব সম্ভাবনা শেষ!

মনে হচ্ছিল বরফ গলেছে। সুমতি ফিরে পেয়েছেন ক্রিস গেইল। অভিমান ভেঙে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছিল, এ বৈঠকেই গেইলের অভিমান ভাঙবে। ক্রিকেট প্রশাসকদের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। তিনি আবার ফিরে আসবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। কিন্তু, না। এ বৈঠক নাকি সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। ক্রিস গেইলের দলে ফেরার শেষ সম্ভাবনাটুকুও নাকি বিলীন হয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার সব সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যেই গেইল বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীননাথ রামনারায়ণ ও সহসভাপতি ওয়েভাল হাইন্ডস। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ডাব্লুসিবির প্রধান নির্বাহী আর্নেস্ট হিলারে, ক্রিকেট পরিচালক টনি হাওয়ার্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচ ওটিস গিবসন ও ম্যানেজার রিচি রিচার্ডসন। গেইল উপস্থিত থাকলেও তাঁর হয়ে আলোচনাটা করছিলেন রামনারায়ণ। কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে সমাধান দূরে থাকুক, উল্টো সমস্যা নাকি বেড়েছে। দীননাথ রামনারায়ণ ও আর্নেস্ট হিলারের মধ্যে তর্কাতর্কি নাকি এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে রামনারায়ণ একপর্যায়ে হিলারেকে মারতে তেড়ে যান। উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড পুরো ব্যাপারটিকে বাজেভাবেই নিয়েছে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত দীননাথ রামনারায়ণের জন্যই ব্যাপারটি জটিলতর হয়েছে। এসব ব্যাপারে রামনারায়ণই নাকি গেইলের মূল পরামর্শদাতা।
বৈঠকের একটি সূত্র বলেছে, গেইল আইপিএলে খেলুক এটা নিয়ে নাকি ডাব্লুসিবির কোনো সমস্যা নেই। বোর্ডের সমস্যা কেবল, একটি রেডিও সাক্ষাত্কারে তিনি যেসব কথা বলেছিলেন—সেগুলো নিয়ে। তবে বৈঠকে বোর্ড কর্মকর্তারা গেইলের এসব মন্তব্যকে ব্যক্তিগত হিসেবে ধরে নিয়ে তাঁকে মৃদু তিরস্কার করেন। এসব কথাবার্তাকে অপেশাদারি আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এসব না বলারও আহ্বান জানান। এসবের একপর্যায়েই বৈঠকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গেইলের দলে ফেরার সব সম্ভাবনাও এক প্রকার শেষ হয়ে গেছে।