Wednesday, February 4, 2026
ভারতে বসে বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগের সদস্যরা
১৬ মাসের বেশি সময় আগে বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান তাঁকে নাটকীয়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের প্রবল স্রোত তাঁর বাসভবনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকায় তিনি ভারতের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে উঠে পড়েন। যেসব রাস্তা তিনি পেছনে ফেলে গিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল রক্তে রঞ্জিত।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়নে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর তাঁর দলের হাজার হাজার সদস্যও পালিয়ে যান। আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ‘মব ভায়োলেন্স’ এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধে সংশ্লিষ্টতার জন্য ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েছেন, যার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
আওয়ামী লীগের ছয় শর বেশি নেতা-কর্মী বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের শহর কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তাঁরা তখন থেকেই আত্মগোপন করে আছেন। তাঁদের দলীয় কর্মকাণ্ড ও সংগঠনকে চালিয়ে নিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে।
গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনমতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। এরপর দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে হত্যা, দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের ঘটনায় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার শুরু করে। হাসিনার পতনের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও দলটির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের শেষের দিকে হাসিনাকে তাঁর শাসনামলের শেষ পর্যায়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপরও নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি দেখা থেকে অনেক দূরে থাকা হাসিনা এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে নাকচ করেছেন এবং অসংকোচে ভারত থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন, যার মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটাতে হাজার হাজার সমর্থককে সংগঠিত করার বিষয়ও রয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির এক সুরক্ষিত ও গোপন আস্তানা থেকে হাসিনা দিনের বড় একটা সময় বাংলাদেশে থাকা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দলীয় সভা ও ফোনালাপে ব্যয় করেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালিত হয় ভারত সরকারের সতর্ক নজরদারিতে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ভারত। তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধও এড়িয়ে গেছে দেশটি।
দলীয় কৌশল নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার জন্য গত এক বছরে সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমাদের লোকজনের সঙ্গে—আমাদের কর্মী-সমর্থক, দলের নেতা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতা এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য তিনি দলকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন।’
ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করছেন। সাদ্দাম বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) কখনো কখনো দিনে ১৫ বা ১৬ ঘণ্টা ফোন কল ও বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন। আমাদের নেত্রী খুবই আশাবাদী, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা বীরের বেশে ফিরবেন।’
শেখ হাসিনার অধীনে গত দুটি নির্বাচন ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
তবে আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়ায় গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরাগ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। তাঁকে একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ অধ্যাপক ইউনূসকে তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থে লিপ্ত একজন ‘খল চরিত্র’ বলে অভিযোগ করছে। তবে অধ্যাপক ইউনূস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রীদের একজন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। নানক বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মীদের সব ধরনের নির্বাচনকেন্দ্রিক সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকতে, প্রচার ও ভোট বর্জন করতে এবং মোটের ওপর এই প্রহসনের প্রক্রিয়ার অংশ না হতে বলছি।’
বাংলাদেশে যাঁরা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক ও দুর্নীতিপরায়ণ শাসনের অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের কাছে হঠাৎ করে দলটির গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, হাসিনার সরকার নিয়মিতভাবে তাদের সমালোচক ও বিরোধীদের দমন করেছে। হাজার হাজার মানুষকে গুম, নির্যাতন এবং গোপন কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই কেবল হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রকাশ্যে এসেছেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনগুলোকে সাজানো প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল।
তবে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে একটি নতুন গণতান্ত্রিক পথে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের বিরুদ্ধেও নির্যাতন-নিপীড়নের পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া ট্রাইব্যুনালও আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মব ভায়োলেন্স (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ সহিংসতা) দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে শেখ হাসিনার শাসনামলের কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ ও বদলার কথা বলে ন্যায্যতা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের শত শত কর্মীর ওপর হামলা করেছে, হত্যা করেছে বা জামিন ছাড়াই তাঁদের কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী-সমর্থক এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কারাগারে যেতে হবে, সেই ভয়ে কলকাতায় থাকছি তা নয়। আমরা এখানে আছি কারণ দেশে ফিরলে আমাদের হত্যা করা হবে।’
ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন
কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের ভূমি থেকে একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া এবং বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ রাজনৈতিক পলাতকদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। কলকাতায় অবস্থান করা আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ভারত থেকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে—এ নিয়ে তাঁদের কোনো ভয় নেই।
সম্প্রতি এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র মাত্রা নেয়, যখন শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক জনাকীর্ণ সভায় প্রথম জনসমক্ষে ভাষণ দেন। তাঁর গোপন বাসস্থান থেকে ধারণ করা একটি অডিও বার্তায় তিনি আসন্ন নির্বাচনের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, ‘ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যাকারী হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক ভাষণের সুযোগ করে দেওয়া...এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি সুস্পষ্ট অবমাননা।’ ভারত সরকার এর কোনো জবাব দেয়নি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কলকাতায় আরামদায়ক বাসভবনে থাকা দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রায় কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ দেখা যায়নি। অধিকাংশ নেতাই তাঁদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা আন্দোলনকে একটি জনগণের বিদ্রোহ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন; বরং তাঁরা একে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন।
কলকাতার উপকণ্ঠে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একটি বিলাসবহুল ভবনে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ওটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব ছিল না, এটা ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য সন্ত্রাসীদের ক্ষমতা দখল।’ তিনি যে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হেসে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা, মিথ্যা, মিথ্যা।’
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্বাসিত এসব নেতার প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তাঁদের দাবি, এই নির্বাচন দেশে কোনো স্থিতিশীলতা বা শান্তি বয়ে আনবে না এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কলকাতায় বসবাস করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। দলটির যাঁরা অতীতের ‘ভুল’ স্বীকার করছেন, হাতে গোনা সেই ব্যক্তিদের একজন তিনি। জয় বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি যে আমরা সাধু ছিলাম না। আমরা কর্তৃত্ববাদী ছিলাম। আমরা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলাম না। আমি একমত যে ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি ঠিকমতো হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, সেটি আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে পারত। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়ে জয়ের স্বীকারোক্তি, ‘অবশ্যই অনিয়ম ছিল। এমন কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যেগুলো হওয়া উচিত ছিল না এবং এর দায় আমাদের নিতে হবে।’ তবে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
কলকাতায় অবস্থানরত অন্যদের মতো জয়ও জোর দিয়ে বলেন, ভারতে তাঁর এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও তিনি মেনে নিয়েছেন—শেষমেশ দেশে ফিরলে তাঁর জন্য হয়তো কারাগারই অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের জন্য সবকিছু খুব খারাপ। কিন্তু মনে করি না যে বেশি দিন এমন থাকবে।’
| ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনাকে ছাড়িয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগোনো উচিত: মির্জা ফখরুল
আর মাত্র কয়েক দিন দূরে নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোট নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
বাংলাদেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। প্রায় ১৫ বছর ধরে নাগরিকরা কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী একটি পুরো প্রজন্ম আছে, যারা কখনো সত্যিকারের ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতা পায়নি। ফলে ভোটারদের মধ্যে সেই অধিকার প্রয়োগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমার বিশ্বাস ভোটার উপস্থিতি ভালোই হবে। বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা বা গুরুতর প্রতিবন্ধকতা হবে বলে আমি মনে করি না, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। সরকারও নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে। আমাদের উপমহাদেশে নির্বাচনী প্রচারের সময় কিছু সমস্যা থাকেই। কিন্তু সেগুলো এমন নয় যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে, সবকিছুই ভোটের জন্য প্রস্তুত।
নির্বাচনের আগে বা পরে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের জোট নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
১৫ বছর ধরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমরা বাম ও ডান- উভয় ধারার বেশ কয়েকটি সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে তুলেছিলাম। মোটামুটি ২০ থেকে ২৪টি রাজনৈতিক দল সেই আন্দোলনে বিএনপির পাশে ছিল। আমরা যখন আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করি, তখনই স্পষ্ট করে বলেছিলাম- সরকার গঠন করতে পারলে সেই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি ঐকমত্যভিত্তিক সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এর মধ্যে কি জামায়াতে ইসলামিও রয়েছে?
না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা নেই এবং আমি জামায়াতকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে দেখছি না।
ছাত্রদের গড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি কেন জোট করল না?
আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এনসিপি বিপুল সংখ্যক আসন দাবি করেছিল, যা বাস্তবসম্মত ছিল না। আমরা নিশ্চিত যে আমাদের প্রার্থীরা ওই আসনগুলোতে জিততে পারবেন। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপির প্রার্থীরা জিততে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক।
এই নির্বাচন ভিন্ন রকম, কারণ আওয়ামী লীগ এতে অংশ নিচ্ছে না।
আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। তবে এটুকু জানি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আগে যুক্ত ছিলেন এমন কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, শেখ হাসিনা নিজেই তার দলকে নির্বাচনে অংশ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিতে প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না। আদর্শগতভাবে তাদের নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে ফিরে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এখন আর সেই সুযোগও নেই। কারণ শেখ হাসিনা দলের ভেতরে বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ দেন না।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এতে বিশাল উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তার প্রত্যাবর্তনে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রকৃত উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। তার প্রথম ভাষণেই তিনি মানব উন্নয়নকেন্দ্রিক একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রস্তাবিত ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উপকরণের ন্যায্য মূল্য এবং উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থান তৈরির অঙ্গীকার করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের পথ নকশাও তুলে ধরেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তার আরেকটি মূল প্রতিশ্রুতি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরোপুরি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। শিক্ষা সংস্কারে প্রয়োজনভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। একটি কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কোন কোন বিষয় দ্রুত সমাধান প্রয়োজন?
প্রথমত, শুধু আলোচনা নয়, পানিবণ্টন সমস্যার আন্তরিক সমাধান হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। কোনো সভ্য সমাজে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো ন্যায্যভাবে পরিচালিত হতে হবে। সাম্প্রতিক ক্রিকেটসংক্রান্ত ঘটনাটি দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় ছিল, যা দুই পক্ষেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয় সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। বেগম খালেদা জিয়ার শোকের সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সফর একটি ইতিবাচক উদ্যোগ ছিল।
ভবিষ্যতে, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে?
তিনি একটি ফ্যাক্টর, কিন্তু অপ্রতিরোধ্য নন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে এই সংকট শেখ হাসিনাই তৈরি করেছেন। দীর্ঘমেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক তার বাইরেও এবং তাকে ছাড়িয়েও এগোতে পারে। এগোনো উচিত।
সবশেষে, ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কি বাংলাদেশ পাকিস্তানের ব্যাপারে নরম অবস্থান নিয়েছে?
পাকিস্তানকে অবশ্যই ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে- এটাই আমাদের অবস্থান। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের স্বার্থে সব প্রতিবেশী দেশের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি? কোন যুদ্ধবিরতি? by শকাত আদম
দুই বছর ধরে দৃশ্য একই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখে সহিংসতার নিন্দা করে, কিন্তু কাজে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনে না। এই প্রতিক্রিয়া দুর্বল, ফাঁপা এবং পুরোপুরি অনুমেয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ২৬০টির বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলায় মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে, ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, কৃষিশ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে, জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—সবই ফসল তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
এই সহিংসতা আকস্মিক নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজার ৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে ২২৯ জন শিশু। একই সঙ্গে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ। ২০২৫ সালের শুরুতে উত্তর–পশ্চিম তীরে ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযানে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষকে জোরপূর্বক ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়—১৯৬৭ সালের পর একসঙ্গে এত বড় উচ্ছেদের নজির নেই।
এ সময় আমি দখলকৃত পশ্চিম তীরে সফরের সুযোগ পাই। ব্রিটিশ এমপি অ্যান্ড্রু জর্জ ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়ানসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে জেরুজালেম থেকে তুলকারেমে যাই। ৫০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে আমাদের লাগে তিন ঘণ্টার বেশি। চেকপোস্ট ও ঘুরপথে চলাচলই ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
তুলকারেমে আমরা দেখি ভাঙা রাস্তা, গুঁড়িয়ে দেওয়া ঘরবাড়ি। জানুয়ারি থেকে ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযানে তুলকারেম ও নুর শামস শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছয় কক্ষের একটি বাড়িতে প্রায় ৫০ জন উচ্ছেদ হওয়া মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি অভিযানের চিহ্ন—দেয়ালে গুলির দাগ—এখনো স্পষ্ট। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আমাদের জানায়, তাকে একটি গর্তে ফেলে সামরিক কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সে এখন আর টিভি দেখতে পারে না—ভাঙা টেলিভিশনের দিকে ইশারা করেই কথাটি বলে।
আমার সফরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তবু আমাদের সরকার কার্যকর কোনো অবস্থান নেয়নি।
অনেকে বলেন, ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আলাদা। বাস্তবে তা নয়। আমি নিজে দেখেছি—মাসাফের ইয়াত্তা থেকে জেরুজালেম পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীরা রাইফেল হাতে ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখাচ্ছে, আর সেনারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কোথাও কোথাও সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, একই সামরিক পোশাক ও অস্ত্রসহ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এই দৃশ্যই দুইয়ের অখণ্ড সম্পর্ক স্পষ্ট করে।
গত মাসে জেনিনে ২৬ বছর বয়সী আল-মুনতাসির আবদুল্লাহ ও ৩৭ বছর বয়সী ইউসুফ আসাসাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার খবর সেই অভিজ্ঞতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হলেও যুক্তরাজ্য সরকার আবারও কেবল ‘উদ্বেগ’ জানিয়েছে।
এই সহিংসতা একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে ইসরায়েল ‘ই-১’ এলাকায় তিন হাজারের বেশি নতুন বসতি ইউনিট অনুমোদন দেয়, যা পশ্চিম তীরকে কার্যত দ্বিখণ্ডিত করবে। আন্তর্জাতিক মহল একে বহুদিন ধরেই ‘রেড লাইন’ বললেও যুক্তরাজ্য এখানেও কথার বাইরে যায়নি।
এখানেই মূল সমস্যা। বলা হয়, যুক্তরাজ্যের নাকি বড় ‘প্রভাব’ আছে। কিন্তু সেই প্রভাব কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন আমরা তা কখনো ব্যবহার করি না। এর ফলে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি, তৈরি হয়েছে অজুহাতের নাটক। যদি ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ভয়াবহ সহিংসতা ঠেকাতে আমরা আমাদের প্রভাব ব্যবহার না করি, তাহলে সেই প্রভাবের মানে কী?
স্পষ্ট করে বলতে হয়, ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে জীবনের মতো মৌলিক মানবাধিকারকেও কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দেখছি জীবিকা ধ্বংস করা হচ্ছে, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে, অবৈধ বসতি নির্মাণ করা হচ্ছে ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন পরিষ্কার বলছে, সমষ্টিগত শাস্তি, দখলকৃত জমিতে বসতি স্থাপন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও বলেছেন, পুরো দখলদারিই অবৈধ। তাহলে আমাদের সরকারের সীমারেখা কোথায়?
যুক্তরাজ্য সরকার সম্ভবত চায় বিশ্ব ফিলিস্তিনিদের কথা ভুলে যাক। গাজায় গণহত্যায় নিজেদের ভূমিকার কারণে তারা এই তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’কে দায় এড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে। কিন্তু শুধু ‘উদ্বেগ’ জানানোই যথেষ্ট নয়।
ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাজ্যের সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে হবে, অবৈধ দখলদারিকে সমর্থনকারী ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ জবাবদিহির প্রক্রিয়াগুলোকে সমর্থন করতে হবে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ন্যায়বিচার শুধু কথায় আসে না, এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব ও শক্ত পদক্ষেপ। আর সেই পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।
* শকাত আদম, স্বতন্ত্র এমপি, লেস্টার সাউথ, যুক্তরাজ্য
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত
![]() |
| পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম বাজরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধ্বংস করে দেওয়া একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর পতাকা হাতে এক কিশোর। এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন এপস্টেইন, অভিযোগ আরেক নারীর
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১০ সালে অ্যান্ড্রুর বাসভবন রয়েল লজে ঘটেছে। ওই নারী ব্রিটিশ নাগরিক নন এবং ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল বিশের কোঠায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনি সংস্থা এডওয়ার্ডস হেন্ডারসনের আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস ওই নারীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। সেই নারীর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর আইনজীবী বলেছেন, অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটানোর পর তাঁকে (অভিযোগকারী নারী) বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল। সেখানে চা-আপ্যায়নও করা হয়।
আইনজীবী আরও বলেন, ‘আমরা অন্তত এমন একজন নারীর কথা বলছি, যাঁকে জেফরি এপস্টেইন অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। অ্যান্ড্রুর সঙ্গে একটি রাত কাটানোর পর তাঁকে বাকিংহাম প্যালেস ঘুরে দেখার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি নিউজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলেননি।
বাকিংহাম প্যালেসে সাধারণত ভ্রমণকারীদের নামের তালিকা রাখা হয়। তবে বিবিসির পক্ষে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ না করে তাঁর সেখানে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এডওয়ার্ডস বিশ্বজুড়ে এপস্টেইনের হাতে নিগৃহীত দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। তিনি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আরেক নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের আইনজীবীও ছিলেন। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, ২০০১ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাঁকে লন্ডনে আনা হয়েছিল। ওই সময় জিউফ্রের বয়স ছিল ১৭ বছর।
জিউফ্রের দাবি, ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে তাঁকে আরও দুবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে একবার নিউইয়র্কে এবং আরেকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত ক্যারিবীয় দ্বীপে দুজনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে এপস্টেইনকে ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তিনি ২০১০ সালের জুলাইয়ে তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ করেন। বিচার চলাকালে ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান এপস্টেইন।
ফ্লোরিডাভিত্তিক আইনজীবী এডওয়ার্ডস বিবিসিকে বলেন, একসঙ্গে রাত কাটানোর আগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তাঁর মক্কেলের যোগাযোগ হয়েছিল।
এডওয়ার্ডস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। তবে অ্যান্ড্রু তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে খুব একটা সম্পৃক্ত নন বলে মনে হয়েছে। আইনজীবী বলেছেন, রাজা চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ড্রুর ‘খেতাব, উপাধি ও মর্যাদা’ বাতিল করার পর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
জিউফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশের পর গত বছর অক্টোবর মাসে অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হয়। বলা হয়, তিনি এখন থেকে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর হিসেবে পরিচিত হবেন। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, তাঁকে উইন্ডসর এস্টেটের রয়েল লজ বাসভবন ছাড়তে হবে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতায় বিষয়টি নিষ্পন্ন করা হয়। জিউফ্রে গত বছর আত্মহত্যা করেন।
অ্যান্ড্রু বরাবরই জিউফ্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
![]() |
| অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে পারেন আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ’
গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।
নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন ও আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির মধ্যে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথোপকথন হয়েছে।
জামাল খাসোগিকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশ খাসোগিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তদন্তের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপসংহারে পৌঁছায় যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
খাসোগি খুন হওয়ার কয়েক দিনের ভেতর এ ঘটনা একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়। ১২ অক্টোবরের মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগি খুনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর তারিখের একটি বার্তায় আল রশিদ সাংবাদিক খাসোগি খুনের ঘটনাকে ‘বীভৎস...খুবই বীভৎস’ বলে বর্ণনা করেন।
এর জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এর পেছনে বড় কিছু আছে। যদি বের হয়, এমবিজেড তাঁকে (মোহাম্মদ বিন সালমানের) ফাঁসিয়ে দিয়েছেন; তবে আমি একেবারেই অবাক হব না।’
এখানে এমবিজেড বলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এপস্টেইনের এ বার্তার জবাবে আল রশিদের উত্তর, ‘হুমমমম’।
এপস্টেইন এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আল রশিদ লেখেন, ‘এ তথ্যগুলো (খাসোগি হত্যায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত) খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ফাঁস করা হয়েছে এমনটা বলা কঠিন এবং…দ্রুত…খুব দ্রুত...।’
আল রশিদ সতর্ক করে আরও লিখেছিলেন, এ সংকট এখন একটি কূটনৈতিক লড়াইতে পরিণত হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘এটি এখন একটি গণমাধ্যম যুদ্ধ। সৌদিরা যদি নিজেদের রক্ষায় কাজ শুরু না করেন, তাঁরা ট্রাম্পকে (সমর্থন) হারাতে যাচ্ছেন। আর আমার মতে, নিজেদের পক্ষে সাফাই দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, সত্য বলা, তা যত খারাপ হোক।’
প্রকাশিত নথিতে থাকা আরেকটি ফলোআপ ই–মেইলে দেখা গেছে, এপস্টেইন লিখেছেন, একটি ‘পরোক্ষ সূত্র’ তাঁকে বলেছেন, খাসোগি হত্যা অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পরে ফোনটি হ্যাক করে তৃতীয় পক্ষ ওই ভিডিও ফুটেজটি হাতে পায়।
কে বা কারা ফোনটি হ্যাক করেছে বা করতে পারে, সে বিষয়ে ই–মেইলে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর এপস্টেইন আরেকটি কথোপকথনে এ প্রসঙ্গে আরও প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, খাসোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি না। তিনি খাসোগি খুনের ঘটনাকে একটি ‘ব্যর্থ গোপন অভিযান’ বা কারও জন্য ‘ফাঁদ পাতার’ ঘটনা হিসেবে উত্থাপনের সম্ভাবনা আছে কি না, সেটিও জানতে চান। এসব কথোপকথনে তিনি আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম বারবার উল্লেখ করেন।
নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ওই দিন রাতেই এপস্টেইন আরও একজন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পান; যাঁর নাম নথিতে ঢেকে দেওয়া রয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছিল, মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন। পরদিন সকালেই ওই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার এপস্টেইন–সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। দেশটির নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইন অনুসারে এসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে; যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম আবার উঠে এসেছে।
এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতেও এই ব্যক্তিদের নাম দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়া সর্বশেষ নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে।
| (বাঁ থেকে) সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও প্রয়াত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। ছবি: কোলাজ/রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম নিহত
লিবিয়ায় দায়িত্বরত আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা জানান, গত এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে বা কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
পাশ্চাত্যে শিক্ষিত ও সুবক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি তাঁর বাবার শাসনামলে লিবিয়ার দমনমূলক শাসনের একটি প্রগতিশীল মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সাইফ ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিশ্ব শাসনের সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের আগে সাইফ আল-ইসলামকে দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে বিদ্রোহীরা গাদ্দাফিকে হত্যার পর সাইফ জিনতানে বন্দী হন। পরে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ২০১৭ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরেও তিনি জিনতান এলাকাতেই বসবাস করছিলেন। লিবিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত এই নেতার মৃত্যু দেশটির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
![]() |
| সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। ছবিটি ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে তোলা। রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, দুই মাসের মধ্যেই মা-বাবার সহযোগিতায় স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী
হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে, একটি মাফলার দিয়ে দেহ জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিতেন্দ্রর শ্যালকের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশ জানায়, জ্যোতি ও জিতেন্দ্র কুমার যাদব গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিয়ে করেন। তাদের প্রেমের সম্পর্কের বয়স ছিল প্রায় নয় বছর, যা শুরু হয়েছিল ছাত্রজীবনে। হিন্দু রীতি অনুযায়ী এবং দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়েটি হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে মূলত টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যোতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন জিতেন্দ্র। এই ক্ষতি থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয় এবং তা ক্রমেই তীব্র আকার নেয়।
২৬ জানুয়ারি জ্যোতি স্বামীর কাছে ওই টাকার হিসাব চাইলে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। যা একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। তখন জ্যোতি তার মা-বাবা ও ভাইকে ফোন করে ভাড়া বাড়িতে ডেকে আনেন। এই দম্পতি বিয়ের পর থেকে ইজ্জতনগরের গির্জা শঙ্কর কলোনির ওই ভাড়া বাড়িতেই থাকতেন। জিতেন্দ্রের বাড়ি ছিল ইটাওয়া জেলার ভাবুপুরা গ্রামে।
পুলিশ জানায়, জ্যোতির বাবা কালিচরণ, মা চামেলি এবং ভাই দীপক ফোন পেয়ে ওই বাড়িতে আসেন। এরপর যে সংঘর্ষ হয়, তাতে পুলিশ দাবি করছে- বাবা, মা ও ভাই মিলে জিতেন্দ্রের হাত-পা চেপে ধরে রাখেন। সেই সুযোগে জ্যোতি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। জিতেন্দ্র নিস্তেজ হয়ে পড়ার পর, হত্যার আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ বলছে, একটি মাফলার দিয়ে দেহ বেঁধে জানালা বা ভেন্টিলেটরের গ্রিলে ঝুলিয়ে দেয়া হয়, যেন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। এরপর প্রতিবেশীদের ডেকে বলা হয়, জামাই আত্মহত্যা করেছে।
২৬ জানুয়ারি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিষয়টি প্রথমে সন্দেহজনক আত্মহত্যা হিসেবেই দেখা হয়। ভাড়া বাড়ির ভেতরেই জিতেন্দ্রর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আত্মহত্যার দাবি খণ্ডন করার মতো কিছু চোখে পড়েনি। তবে জিতেন্দ্রর ভাই অজয় কুমার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জ্যোতি ও আরও তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয় জিতেন্দ্রর মৃত্যু ঝুলে পড়ার কারণে নয়, শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে। এর ফলে আত্মহত্যার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।
এরপর পুলিশ মামলার ধারা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা রুজু করে এবং তদন্ত জোরদার করে। জ্যোতির ভাই দীপককেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা জ্যোতি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি তদন্তকারীদের জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তার ও জিতেন্দ্রর পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানায়, জিতেন্দ্র বেরেলিতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। জ্যোতি কাজ করতেন উত্তরপ্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক বাস কন্ডাক্টর হিসেবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই আর্থিক বিষয় নিয়ে ঘনঘন ঝগড়া হচ্ছিল, যা সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলে। ঘটনার দিন সেই ঝগড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি পরিবারকে ফোন করেন।
পুলিশের অভিযোগ এরপর যে সংঘর্ষ হয়, তাতে তার মা-বাবা ও ভাই জিতেন্দ্রকে ধরে রাখেন এবং রাগের বশে জ্যোতি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যুর পর সবাই মিলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবার হামলা হলে মরণকামড় দেবে ইরান by সাইয়েদ হোসেইন মুসাভিয়ান
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারপাশে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে। অতিরিক্ত নৌবহর, যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের কাছাকাছি সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তুতি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে। তেহরান এ নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তাও দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে ‘শাসন পরিবর্তন’-কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করেছেন।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল একটি নাটকীয় সামরিক অভিযান চালায়। এ কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ওপরে আঘাত, নিচে গণবিদ্রোহ’। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকারীরা ধরে নিয়েছিলেন, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক, নিরাপত্তা ও পারমাণবিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামবে। একই সঙ্গে তারা মনে করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–সক্ষমতা ধ্বংস করা গেলে পাল্টা আক্রমণও ঠেকানো যাবে।
ওই অভিযানে ইরানের ডজনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। কিন্তু প্রত্যাশার বিপরীতে সাধারণ মানুষ সরকারের পাশেই দাঁড়ায়। শুধু তা-ই নয়, ইরান ইসরায়েলের ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই বাস্তবতাই ২০২৫ সালের ওই অভিযানের ব্যর্থতার প্রধান কারণ। এরপর ট্রাম্প ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দেন। এতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। এর পরপরই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলকে আরও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করা।
কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইরানের ভেতরে অর্থনৈতিক ক্ষোভ নতুন করে বিস্ফোরিত হয়। তেহরানের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসেন মুদ্রার দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে। দ্রুতই এই আন্দোলন অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’-এর চেষ্টা
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘প্ল্যান বি’ বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজে পায়। এই কৌশলের সারকথা—‘নিচ থেকে বিদ্রোহ, ওপর থেকে সামরিক আঘাত’।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে নাশকতা, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও সহিংসতা চালিয়েছে, যাতে সংঘর্ষ বাড়ে এবং প্রাণহানি ঘটে। ট্রাম্পও ইঙ্গিত দেন, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের যুক্তি পাবে। এ দফায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের হতাহতের সংখ্যা আগের আন্দোলনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত এই কৌশলও ব্যর্থ হয়। সহিংস অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে কয়েক লাখ মানুষ সরকার-সমর্থিত সমাবেশে অংশ নেয়, যেখানে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনী অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং হাজারো মানুষকে আটক করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসে।
পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সরানোর চেষ্টা করতে পারে, যার সঙ্গে সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলার ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরানোর সময় এসেছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম একে নাৎসি শাসনের পতনের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের দেশের মহান নেতার ওপর আঘাত মানে পুরো ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী প্রস্তাব দিয়েছে, সরাসরি আগ্রাসনের বদলে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখল করা যেতে পারে। এই টার্মিনাল দিয়েই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। উদ্দেশ্য—অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে পঙ্গু করা।
অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি
আগামী দিনগুলোতে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। প্রথমত, অভ্যন্তরীণ শাসন ও সামাজিক সংহতি। বেকারত্ব, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক বৈষম্যই মূল ক্ষোভের কারণ। সরকার আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও অসন্তোষ পুরোপুরি দূর হয়নি। চারটি প্রধান রাজনৈতিক ধারার মধ্যে বিভাজন জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শাসন পরিবর্তনের চাপ। দীর্ঘদিনের শত্রুতার মধ্যে ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি শুধু ইরানের নিরাপত্তার জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও বিপজ্জনক। তৃতীয়ত, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর ভূমিকা।
সৌদি আরব, মিসর, ওমান ও কাতার ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করছে। তারা বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। চতুর্থত, ইরানের পূর্বমুখী কৌশল। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ইরান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসে যোগ দিয়েছে। এটি পশ্চিমা চাপ মোকাবিলায় এক নতুন জোট গঠনের চেষ্টা।
সবশেষে, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান। হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে তারা চুপ থাকবে না। অর্থাৎ নতুন সংঘাত মানেই হতে পারে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধ। কয়েকজন মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ট্রাম্প নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন।
এ মুহূর্ত যেন এক ‘রক্তাক্ত বিরতি’। সামনে রয়েছে ‘আঞ্চলিক বিস্ফোরণের’ আশঙ্কা। ইরানের জন্য আরেকটি হামলা হবে অস্তিত্বের প্রশ্ন। তখন আর সংযমের কোনো জায়গা থাকবে না।
এ বিপর্যয় এড়াতে হলে ট্রাম্পকে ‘আত্মসমর্পণ না হলে যুদ্ধ’ কৌশল থেকে সরে এসে একটি সম্মানজনক, পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমঝোতার পথে যেতে হবে। নইলে ৪৭ বছরের সংঘাত শেষ না হয়ে গোটা অঞ্চলকে ঠেলে দেবে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধে।
* সাইয়েদ হোসেইন মুসাভিয়ান, ইরানি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
- মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ। তেহরান, ইরান, ২২ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1406)
-
▼
February
(244)
-
▼
Feb 04
(8)
- ভারতে বসে বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন নির্ব...
- শেখ হাসিনাকে ছাড়িয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগোনো উচ...
- ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি? কোন যুদ্ধবিরতি? by শকাত আদম
- ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম...
- ‘খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে পারেন আমিরাতে...
- মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম নিহত
- ৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, দুই মাসের মধ্যেই মা-বাবার স...
- আবার হামলা হলে মরণকামড় দেবে ইরান by সাইয়েদ হোসেইন ...
-
▼
Feb 04
(8)
-
▼
February
(244)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



