Saturday, April 9, 2016

ভারত যাচ্ছেন উইলিয়াম ও কেট

উইলিয়াম ও কেট
ব্রিটিশ সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন আগামী রোববার ভারত সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বলিউড তারকাদের সঙ্গে দেখা করবেন। সময় কাটাবেন মুম্বাইয়ের বস্তির শিশুদের সঙ্গে। প্রথমবারের মতো এ উপমহাদেশে সরকারি সফর করছেন রাজদম্পতি। উইলিয়াম তাঁর প্রয়াত মা ডায়নার স্মৃতিবিজড়িত আগ্রার তাজমহলে যাবেন। ভারত থেকে ভুটানেও যাবেন রাজদম্পতি। সেখানে তাঁরা ভুটানের রাজা ও রানির সঙ্গে দেখা করবেন। হিমালয় অঞ্চল দেখবেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই একের পর এক বিভিন্ন দেশে সফর করছেন উইলিয়াম ও কেট। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন সফর করেন। কেনসিংটন প্যালেসের মুখপাত্র বলেন, ভারত ও ভুটানে এই রাজদম্পতির সফরের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। সফরে গিয়ে উইলিয়াম ও কেট ভারতের গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে চান। আগামী সোমবার উইলিয়াম ও কেট নয়াদিল্লি যাবেন। কেট বনজঙ্গল পছন্দ করেন। তাই তাঁরা মঙ্গল ও বুধবার আসামের কাজীরাঙা ন্যাশনাল পার্কের বনে যাবেন। ছেলেমেয়ে জর্জ ও শার্লটকে বাড়িতে রেখে সফরে যাচ্ছেন উইলিয়াম ও কেট।

কে বেশি যোগ্য, হিলারি না বার্নি?

হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স
নিউইয়র্কে প্রাইমারি নির্বাচন সামনে রেখে দুই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স তুমুল বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। দুজনই হাতের মখমলের দস্তানা খুলে হাওয়ায় কথা চালাচালি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কে বেশি যোগ্য, তা নিয়ে চলছে এই যুদ্ধ। কথাটা প্রথমে তুলেছিলেন হিলারি। বার্নি স্যান্ডার্স অযোগ্য—আক্ষরিকভাবে এ কথা তিনি বলেননি। তবে পরোক্ষভাবে হলেও তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত এক সপ্তাহে একাধিকবার আক্রমণের তির ছুড়েছেন। প্রথমে নিউইয়র্কে, পরে ফিলাডেলফিয়ার জনসভায় হিলারি প্রশ্ন তোলেন, স্যান্ডার্স নানা প্রস্তাব করেছেন বটে, কিন্তু তাঁর বেশির ভাগই বাস্তবসম্মত নয়। নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচন ১৯ এপ্রিল। এই নির্বাচন সামনে রেখে সেখানকার ডেইলি নিউজ পত্রিকায় গত সপ্তাহে বার্নি একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেন। এগুলোর জন্য হিলারির শিবির থেকে তাঁকে অস্বচ্ছ ও অগভীর বলে সমালোচনা করা হয়েছে। হিলারি বলেন, এসব কথা বলার আগে বার্নি ‘হোমওয়ার্ক’ করেননি। বার্নির ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হিলারি। তিনি বলেন, ভারমন্টের এই প্রবীণ সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সিনেটে ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও নিজেকে ‘স্বতন্ত্র’ ও ‘সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন। জবাবে পাল্টা আঘাত হেনে বার্নি প্রশ্ন করেন, তাঁকে অযোগ্য বলার আগে হিলারি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি না, ভাবা দরকার। তিনি বলেন, ওয়ালস্ট্রিট থেকে কোটি কোটি ডলার চাঁদা নেওয়ার পর হিলারি নিজেকে আর যোগ্য ভাবতে পারেন না। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বার্নির বিরোধিতা নিয়ে হিলারি বলেছেন, বেপরোয়া গুলিবর্ষণে যেসব স্কুলছাত্র মারা গেছে, তাদের মা-বাবার কাছে বার্নির ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাল্টা অভিযোগ তুলে বার্নি বলেন, ইরাক যুদ্ধে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল, হিলারির উচিত হবে তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি দাবি করেন, ইরাক যুদ্ধ প্রস্তাবে সমর্থন অথবা পানামা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সমর্থনের কারণে হিলারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। হিলারির যোগ্যতা নিয়ে বার্নির এই সমালোচনা হিলারির মিত্রদের কাছে ভালো লাগেনি। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ও মিসৌরির সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাককস্কাল কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর ‘সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন’। ক্লিনটনের সমর্থকেরা অবশ্য এ নিয়ে সচেতন যে স্যান্ডার্সকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলে তার উল্টো ফল হতে পারে। হিলারি নিউইয়র্কে জনমত জরিপে বার্নির চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে তিনি পিছিয়ে। জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ৪৬ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করে। ৫০ শতাংশ সমর্থন করে না। মেয়েদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করে না। হিলারি জাতীয় পর্যায়ে বার্নির চেয়ে এখন পর্যন্ত সামান্য এগিয়ে থাকলেও আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে বার্নির সমর্থন দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই স্বঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’–এর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হলে তার নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কা মাথায় রেখে হিলারি গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বার্নি যোগ্য নন, এ কথা তিনি মোটেই বলেননি। যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর জায়গায় বার্নিকে সর্বদাই সমর্থন করবেন বলে তিনি জানান। ডেলিগেট ও সুপার ডেলিগেট সংখ্যার হিসাবে হিলারি সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও বার্নি যে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াবেন না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তার প্রধান কারণ, গত আট রাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে সাতটিতে তিনি জিতেছেন। এর চেয়েও বড় কথা, গত তিন মাসে হিলারির চেয়ে অনেক বেশি চাঁদা তুলতে সক্ষম হয়েছেন বার্নি। যতক্ষণ তাঁর তহবিলে অর্থ আছে, ততক্ষণ রণে ভঙ্গ দেওয়ার কোনো চাপ তাঁর ওপরে নেই। অনেকেই মানেন, সুপার ডেলিগেটের কারণে জুলাই মাসের পার্টি কনভেনশনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হিলারিরই মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে বার্নি ডেমোক্রেটিক সুপার ডেলিগেটদের কাছে যুক্তি দেখানো শুরু করেছেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, একমাত্র তিনিই সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে সহজে পরাস্ত করতে সক্ষম। অতএব সুপার ডেলিগেটদের হিলারিকে নয়, তাঁকেই সমর্থন জানানো উচিত হবে। এখন পর্যন্ত কোনো সুপার ডেলিগেট মত বদলাননি। তবে অবস্থা বদলে যাবে, যদি বার্নি নিউইয়র্কে হিলারিকে হারিয়ে দিতে সক্ষম হন। এমনটা ঘটলে বার্নি দলের কাছে শুধু বেশি পছন্দেরই নয় রিপাবলিকানদের ঠেকাতে পারেন এমন প্রার্থী হিসেবেও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারবেন।
মোট ডেলিগেট
হিলারি ক্লিনটন (১৭৪৯), বার্নি স্যান্ডার্স (১০৬১)
মনোনয়নের জন্য প্রয়োজন ২ হাজার ৩৮৩ ডেলিগেট

অধ্যাপনায় ফিরছেন মনমোহন সিং

মনমোহন সিং
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং আবার অধ্যাপনায় ফিরছেন। দীর্ঘ ১০ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৩ বছর।  মনমোহন সিং ১৯৫৪ সালে ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। পরে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন দপ্তরে ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি ভারতে এসে ১৯৮২ সালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হন। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি প্লানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হন। ১৯৯১ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতের রাজ্যসভার বিরোধী দলের নেতা। আর ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী।পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র মনমোহনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জওহরলাল নেহরু’ চেয়ার গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানালে তিনি তাতে সায় দেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণ কুমার গ্রোভার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে রাজি হয়েছেন। এই খবর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

নির্দলীয় অম্বিকেশের চাপে কোণঠাসা কলকাতার মেয়র

অ​িম্বকেশ মহাপাত্র
কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো শক্তিশালী প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের নিগ্রহের শিকার হওয়া এই অধ্যাপকই এবার মেয়রের আতঙ্ক। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলীয় দুই নেতার ছবির সঙ্গে ছোট্ট দুটি কথা দিয়ে একটি কার্টুন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করা হয়। আর সেটি পোস্ট হয় অম্বিকেশের নামে। ওই দিন তৃণমূলের একদল সমর্থক চড়াও হন তাঁর ওপর। তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে পাঠিয়ে দেয় কারাগারে। পরের দিন জামিনে মুক্তি পান ওই অধ্যাপক। এই ঘটনার পর গোটা রাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়। ধিক্কার জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। মানবাধিকারকর্মীরা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের শরণাপন্ন হওয়ার পর কমিশন অম্বিকেশকে হেনস্তা করার জন্য রাজ্য সরকারকে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সেই অর্থ দেয়নি অধ্যাপককে। এই ঘটনার রেশ ধরে কলকাতায় ‘আমরা আক্রান্ত’ নামের এটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মমতার আমলে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সদস্য হন। সেই সংগঠনের ডাকে এবার অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র প্রার্থী হন কলকাতার বেহালা পূর্ব আসন থেকে। আর অম্বিকেশকে সমর্থন জানিয়ে এবার এই আসনে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস-বাম জোট। ফলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন মেয়র। বৃহস্পতিবার সকালে অম্বিকেশ মহাপাত্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘“আমরা আক্রান্ত” আমাকে প্রার্থী করেছে। আমি কোনো দলের প্রার্থী নই। বামফ্রন্ট ও জাতীয় কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী না দিয়ে বরং আমাকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। আমার এলাকার মানুষজনও মনে করে, এই আসনের নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ এবং অবাধ হয়, তবে আমাকে আটকানো যাবে না।’সম্প্রতি নারদ কেলেঙ্কারিতে মেয়র শোভন দেবের অর্থ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে অম্বিকেশ বলেন, ‘মেয়রের ভিডিও দেখেছে কলকাতাবাসী। তারা নিশ্চয়ই বর্তমান মেয়রকে আর এই আসনে দেখতে চাইবে না।’ তবে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় আগেই বলেছেন, তাঁর জয়ের পথ কেউ আটকাতে পারবে না। তাঁর কাজ দেখে এলাকার মানুষই তাঁর জয়ের পথকে প্রশস্ত করে রেখেছে।

সু চির আবেদনে ছাত্রদের মুক্তি

মিয়ানমারের বাগো প্রদেশের থারাওদি কারাগার থেকে ছাড়া
পাওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবেগময় মুহূর্ত
মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় আটক ৬৯ জন ছাত্র গতকাল শুক্রবার মুক্তি পেয়েছেন। দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে তাঁর প্রথম কাজ হবে রাজনৈতিক বন্দী ও অধিকারকর্মীদের মুক্তি দেওয়া। ক্ষমতায় বসার পর সেই কথা রাখলেন তিনি। গতকাল মিয়ানমারের থারাওদি আদালত থেকে মুক্তি পান ৬৯ রাজনৈতিক ছাত্রকর্মী। গত বছরের মার্চ মাসে শিক্ষা আন্দোলনে এসব ছাত্রকে আটক করা হয়। আদালতের বিচারক চিট মিয়াত বলেন, ‘তোমরা সবাই এখন মুক্ত। তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’ মিয়ানমারে বহু রাজনৈতিক বন্দী আছেন। এখনো শত শত বন্দীর বিচার চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক শাসন কিছুটা শিথিল হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নিগ্রহ বন্ধ হয়নি।

ভোটের আগেই হিলারি ও স্যান্ডার্সের বাগ্যুদ্ধ

নিউইয়র্ক রাজ্যে ডেমোক্রেটিক (এবং রিপাবলিকান) পার্টির পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচন। এ পর্যন্ত রিপাবলিকান দলের ট্রাম্প ও তাঁর সহযোদ্ধারা একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ির জন্য পরিচিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঠিক ততটা নিচে না নামলেও দুই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স তুমুল বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। তর্কের মুখ্য বিষয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি কে যোগ্য। কথাটা প্রথমে তুলেছিলেন হিলারি। স্যান্ডার্স অযোগ্য, ঠিক আক্ষরিকভাবে এ কথা তিনি বলেননি, তবে পরোক্ষভাবে হলেও তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার আক্রমণের তির তিনি ছুড়েছেন। প্রথমে নিউইয়র্কে, পরে ফিলাডেলফিয়ার জনসভায় হিলারি প্রশ্ন তোলেন, স্যান্ডার্স নানা প্রস্তাব করেছেন বটে, কিন্তু তার অধিকাংশই বাস্তবসম্মত নয়। নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ পত্রিকায় গত সপ্তাহে স্যান্ডার্স একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেন, ক্লিনটন শিবির থেকে তাঁকে অস্বচ্ছ ও অগভীর বলে সমালোচনা করা হয়েছে। হিলারি নিজে বলেন, স্যান্ডার্স এসব কথা বলার আগে তাঁর ‘হোমওয়ার্ক’ করে ওঠেননি। হিলারির জবাবে স্যান্ডার্স পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, তাঁকে অযোগ্য বলার আগে হিলারি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি না, তা ভাবা দরকার। তিনি বলেন, ওয়াল স্ট্রিট থেকে কোটি কোটি ডলার চাঁদা গ্রহণের পর হিলারি নিজেকে আর যোগ্য ভাবতে পারেন না। হিলারির অভিযোগ, স্যান্ডার্স আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিরোধিতা করেছেন, অতএব বেপরোয়া গুলিবর্ষণে যেসব স্কুলছাত্র মারা গেছে, তাদের বাবা-মায়ের কাছে তাঁর উচিত হবে ক্ষমা চাওয়া। স্যান্ডার্সের জবাব, ‘আমি বলব, ইরাক যুদ্ধের ফলে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল, সেক্রেটারি ক্লিনটনের উচিত হবে তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ হিলারির যোগ্যতা নিয়ে স্যান্ডার্সের এ সমালোচনা হিলারির মিত্রদের কাছে ভালো লাগেনি। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ও মিসৌরির সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাক কস্কাল কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর ‘সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন।’ হিলারির সমর্থকেরা অবশ্য এ বিষয়ে সচেতন যে স্যান্ডার্সকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলে তার উল্টো ফল হতে পারে। নিউইয়র্কে জনমত জরিপে হিলারি স্যান্ডার্সের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে তিনি পিছিয়ে। জাতীয় পর্যায়ে তাঁকে সমর্থন করে—এমন লোকের সংখ্যা মাত্র ৪৬ শতাংশ। সমর্থন করে না—এমন লোকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ। শুধু মেয়েদের মধ্যে হিলারিকে সমর্থন করে না তাদের সংখ্যা ৫৮ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে হিলারির চেয়ে এখন পর্যন্ত সামান্য এগিয়ে থাকলেও আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে স্যান্ডার্সের সমর্থন দ্রুত বাড়ছে।

ফনসেকার এল সালভাদরের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

এল সালভাদরে মোসাক ফনসেকার কার্যালয়ে গতকাল
শুক্রবার অভিযান চালায় ন্যাশনাল সিভিল পুলিশ
পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এল সালভাদরের কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে বেশ কিছু কম্পিউটার ও দলিল-দস্তাবেজ জব্দ করেছে পুলিশ। কাউকে আটক করা হয়নি। সালভাদরের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া বার্তায় এ কথা জানিয়েছে।
পুলিশি অভিযান নিয়ে গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন
এল সালভাদরের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি ডগলাস মেলেন্দেজ
 দেশটির রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি ডগলাস মেলেন্দেজ গতকাল ফনসেকার কার্যালয়ে যান। তিনি বলেন, সেখান থেকে ২০টি কমপিউটার ও বিপুল পরিমাণ নথি জব্দ করা হয়েছে। সাতজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত বুধবার এল সালভাদর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, পানামা পেপারসের তালিকায় আসা ৩৩ জনের ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। সালভাদরের স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা এল ফারো এক খবরে জানায়, দেশটির নাগরিকেরা মোসাক ফনসেকাকে ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলারের লেনদেন করত।

৬০ বছর পর ‘আসল বাবার’ সন্ধান

ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি ও তাঁর আসল
বাবা স্যার অ্যান্টনি মনটেগ ব্রাউন (তরুণ বয়সে)।
৬০ বছর বয়সে নতুন বাবার খোঁজ পাওয়ার কথা মোটেও ভাবেননি ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি। হঠাৎ জানলেন, এত দিন যাঁকে বাবা ডাকতেন, তিনি তাঁর আসল বাবা নন। তিনি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের একসময়ের ব্যক্তিগত সহকারী স্যার অ্যান্টনি মনটেগ ব্রাউনের ঔরসজাত ‘অবৈধ সন্তান’। গতকাল শুক্রবার ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর্চবিশপের পিতৃপরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পত্রিকাটি। পরে ডিএনএ টেস্ট করে নতুন পরিচয় জানতে পারেন আর্চবিশপ। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চার্চিলের সহকারী ছিলেন মনটেগ। নতুন এই পরিচয় জেনে ভেঙে পড়েননি আর্চবিশপ। জানান, এতে তাঁর কিছু আসে-যায় না। অ্যাঙ্গলিকান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতা আর্চবিশপের মাও এ খবরে বিস্মিত। তিনি স্বীকার করেছেন, গ্যাভিন ওয়েলবির সঙ্গে বিয়ের আগে তাঁর অ্যান্টনি মনটেগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৭৭ সালে গ্যাভিন ওয়েলবি মারা যান। আর আর্চবিশপের আসল বাবা মনটেগ ২০১৩ সালে মারা যান।

সিপিএমের সঙ্গে জোটের ধাক্কায় বেসামাল কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে কংগ্রেস
নেতা সুদীপ বর্মন পদত্যাগ করেন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে জোটের ধাক্কায় বেসামাল ত্রিপুরার কংগ্রেস। দলের বিভিন্ন পদ ছাড়ার রীতিমতো হিড়িক পড়ে গেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের অনেক নেতাই তাঁদের ‘চিরশত্রু’ সিপিএমের সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় নেতাদের দহরম-মহরম মানতে পারছেন না। ফলে আপাতত দলীয় পদ ছাড়লেও ভবিষ্যতে দল ছাড়ারও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন তাঁরা। ত্রিপুরায় বড় ধরনের ফাটলের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি তথা রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা সুদীপ বর্মণ পদত্যাগ করেন। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে জানান, ‘সিপিএমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে দলের এই জোট মানতে পারছি না। তাই দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে বিরোধীদলীয় নেতা তথা কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস ছাড়িনি। তবে দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, সদলবলে সুদীপ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সমীররঞ্জন বর্মণের ছেলে তথা টানা চারবারের বিধায়ক সুদীপের পদত্যাগের পরই কংগ্রেসে ‘বিদ্রোহ’–এর হিড়িক পড়েছে। আজ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগপত্র দেন প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি আশিস সাহা, রাজ্য যুব কংগ্রেস প্রধান সুশান্ত চৌধুরীরা। তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেসের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতারাও পদত্যাগ করেন। তবে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে এখনো নীরব ‘বিদ্রোহী’রা। যুব কংগ্রেসের পদত্যাগী সভাপতি সুশান্ত মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তবে কোনো অবস্থাতেই সিপিএমের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতায় আমরা যাব না।’ একই বক্তব্য প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক সিনহার। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘সিপিএম জনগণের সর্বনাশ করছে। কংগ্রেসকেও শেষ করে দেবে। এটা দলের নেতারা না বুঝলে সেই দল করার মানে হয় না।’ দলের এই সম্ভাব্য ভাঙনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিত সিনহা। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কংগ্রেস আগেই বহুবার ভেঙেছে। নতুন কিছু নয়। পশ্চিমবঙ্গে যা–ই হোক, ত্রিপুরায় আমরা সিপিএমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে নামব।’ ত্রিপুরায় তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা সাবেক চেয়ারম্যান অরুণচন্দ্র ভৌমিক, সুদীপ বর্মণদের দলে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তাঁদের যোগদানে ত্রিপুরাতেও তৃণমূল শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি তিনি সিপিএম–বিরোধী সবাইকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলে শামিল হওয়ার ডাক দেন।

নিজামীর রিভিউ শুনানি কার্যতালিকায়

মতিউর রহমান নিজামী
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর করা আবেদন শুনানির জন্য আগামীকাল রোববার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চের কার্যতালিকার ১৯ নম্বরে আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর আগে ৩ এপ্রিল আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ছিল। ওই দিন নিজামীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান রিভিউ আবেদনের শুনানি মুলতবির আরজি জানান। পরে আদালত আদেশে বলেন, নট দিস উইক (এ সপ্তাহে নয়)। ২৯ মার্চ নিজামীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত বুধবার চেম্বার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ওই আদেশ অনুসারে এটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে গত ৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রায় আড়াই মাস পর ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই রাতেই পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। পরের দিন কাশিমপুর কারাগারে নিজামীকে রায় জানানো হয়। নিজামী আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করায় এর কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। আবেদন খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন সবশেষ সুযোগ হিসেবে নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে কিংবা আবেদন করার পর নাকচ হয়ে গেলে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ২৮ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ে নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন।

দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী​কে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ১০

ফরিদপুরে দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে (সুইপার) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে মামলা হয়েছে। নিহত মানিক জমাদারের স্ত্রী টুম্পা জমাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লার একটি সড়কে মানিক জমাদার (২৮) ও তাঁর শ্যালক ভরত জমাদারের (২২) মৃতদেহ পড়ে ছিল। মানিক ফরিদপুর শহরের আলীপুর মহল্লার বান্ধবপল্লির বাসিন্দা কিশোর জমাদারের ছেলে। তিনি ছিলেন জমাদার ফরিদপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আর ভরত নাটোরের পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত বুধবার ছোট বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ফরিদপুরে এলেই তিনি দুলাভাই মানিকের কাজে সাহায্য করতেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুজন রাস্তা ঝাড়ু দিতে বের হয়েছিলেন। ভোরে রাস্তায় তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত এ হত্যার বিষয়ে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গতকাল রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে। এদিকে গতকাল রাতেই অম্বিকাপুর শ্মশানে মানিক জমাদারের মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে। আর ভরতের মরদেহ নাটোরে নিজের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। মানিকের বাবা কিশোর জমাদার বলেন, গভীর রাতে ওই এলাকায় গিয়ে কাজ না করতে স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মানিককে শাসিয়ে গিয়েছিল। তাঁর ধারণা, ওই লোকেরাই এই খুনের সঙ্গে জড়িত।

রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধানের দাবিতে আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট চলছে। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের ডাকে এ ধর্মঘট চলছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই ধর্মঘট চলবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে রোগীদের সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধর্মঘটের কারণে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কাজে যোগ দেননি। তাঁরা তাঁদের নিরাপত্তা বিধানের দাবিতে সকাল ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এরপর পরিচালককে স্মারকলিপি দেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থিত ইন্টার্ন হলে ফিরতে মেডিকেল কলেজের শহীদ মিনারের পাশে ইন্টার্ন চিকিৎসক সুমন আলীকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে মুঠোফোন ও কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয়। অতি সম্প্রতি ওই একই এলাকায় সাতজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে একাধিকার স্মারকলিপি দিয়েছেন। তখন নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে এই লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বৈঠক করে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমান ওরফে রিফাত বলেন, ‘আমরা বারবার আমাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও আমাদের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক চলছে। সেখান থেকে পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চিকিৎসকনেতা, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্য চিকিৎসকেরা রয়েছেন।

কথা বলতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ​কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে গুলিতে চারজনের প্রাণহানি এবং ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম উদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ শনিবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন করতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উদ্বোধনের আগে স্থানীয় সাংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদলের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। বাঁশখালীতে গুলিতে চারজনের প্রাণহানির ঘটনা বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে কথা বলতে চাই না আমি। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রীর যদি কিছু বলার থাকে, তিনি বলবেন। এখানে পক্ষ-বিপক্ষের লোক রয়েছে বলে শুনেছি। বাঁশখালীতে অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ​কেন্দ্র হতে যাচ্ছিল। এটা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পক্ষেও বলছে, বিপক্ষেও বলছে।’ আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘এই গোলাগুলি কে করেছে, কার প্ররোচনায়, কার মাধ্যমে, কার ইঙ্গিতে হয়েছে, কার কী স্বার্থ ​ছিল—আমি মনে করি এগুলো তদন্তের আগে বলা উচিত নয়। কারও প্ররোচনায় হয়ে থাকলে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে-ই প্ররোচনা দিক, পেছন থেকে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করুক, নিরাপত্তা বাহিনী সঠিকভাবে তাদের চিহ্নিত করবে। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ​কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত আজকের মধ্যে বাতিল করা না হলে আগামীকাল রোববার উপজেলা কার্যালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী স্থানীয়রা। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেব না। যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নামে অরাজকতা সৃষ্টি হয়, যদি জানমালের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটে; জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রোটেকশন দেব।’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের আগে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। অনেকে দায় স্বীকার করে। আবার আমাদের তদন্তে অন্য কিছু বের হয়ে আসে। কে হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে, কিছু বলতে চাই না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, যত হত্যাকাণ্ড সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনী এবং বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত গোয়েন্দারা। চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় সবগুলো বিচারাধীন রয়েছে। কাজেই খুন করে কেউ পার পাবে না।’

লিখিত বক্তব্য দিলেন তনুর বাবার অফিসের কর্মকর্তা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্য দেন। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ওই বোর্ডের অফিস সহকারী পদে কর্মরত। লিখিত বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম কী উল্লেখ করেছেন, তা জানা যায়নি। আগামীকাল রোববার সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুব মহসিন কুমিল্লায় যাবেন। তিনি ঘটনাস্থল ও তনুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছি।’ সেখানে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ও তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান আবদুল কাহার আকন্দ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম উপস্থিত আছেন। গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের পাশের জঙ্গল থেকে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ গত ২০ দিনেও এ মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে।

উপজেলা শহরে ভাষার উৎসব

নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজ মাঠে
গতকাল ভাষা প্রতিযোগে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ
নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজে ভাষা প্রতিযোগের মঞ্চ। মঞ্চে উঠলেন উৎসবের সমন্বয়কারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিক মনজুর। জানালেন, ভাষা প্রতিযোগের দ্বাদশ আসরে এবারই প্রথম কোনো উপজেলা শহরে হচ্ছে এই উৎসব। এ ঘোষণায় আনন্দে আত্মহারা স্থানীয় লোকজন। সৈয়দপুরের এই কলেজে গতকাল শুক্রবার আয়োজন করা হয় এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগের। এতে রংপুর বিভাগের সাত জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সকাল সাড়ে নয়টায় প্রথম আলোর সৈয়দপুর বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা ও ভাষা প্রতিযোগের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। ভাষা প্রতিযোগের পতাকা উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। উদ্বোধনী পর্বে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ৩৫ মিনিটের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর বাংলা বানান নিয়ে ছিল আরও একটি পরীক্ষা। দুটি পরীক্ষার পর শুরু হয় তারিক মনজুরের সঞ্চালনায় মজার প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মোতমাইন্না হৃদির প্রশ্ন ছিল, ব্যঞ্জনবর্ণ স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হয় না। কিন্তু স্বরবর্ণ কেন ব্যঞ্জনবর্ণের সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হয়? জবাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বলেন, ‘যেহেতু স্বরবর্ণের উচ্চারণে বাতাস কোথাও বাধা পায় না, সেহেতু তা নিজেই উচ্চারিত হয়। অন্যের সাহায্য লাগে না।’ রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী প্রতীক ভাস্কর প্রশ্ন করে, রবীন্দ্র, নজরুল ও লালনের গানের বিকৃতি রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। এই প্রশ্নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি বলেন, যন্ত্রের আধিপত্য এবং সাধনা ছাড়া গান গাওয়ায় এসব গানের বিকৃতি ঘটছে। বিকৃতি রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের আরও জবাব দেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, সহকারী অধ্যাপক তারিক মনজুর ও ড্যাফোডিল ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিনয় বর্মণ। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাঝে রংপুরের দ্য মিলেনিয়াম স্টার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের খুদে শিক্ষার্থী আনান শাইয়ারার পরিবেশন করা ছড়া ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদের কণ্ঠে কবিতা ‘বনলতা সেন’ ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভেরনিক রোজারিওর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’ সবাইকে মুগ্ধ করে। এই পর্বের মাঝে বক্তব্য দেন পাখি নিয়ে বই লিখে বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শরীফ খান। তিনি বলেন, ‘পাখিদের কোনো আঞ্চলিক ভাষা নাই। তারা অঙ্ক জানে। পাখির বাচ্চারা কখনো বাবা-মায়ের অবাধ্য হয় না। পাখিরা কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকে না।’ প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বানান পরীক্ষায় বিজয়ী আটজনকে নিয়ে আরেকটি বানান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় রংপুর জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হাসান, দ্বিতীয় সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নুরুন্নবী ইসলাম ও তৃতীয় রংপুর জিলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুয়াযবিন সুলতান। উৎসবে দ্বিতীয় পর্বে গান শোনান ক্লোজআপ ওয়ানের তারকা রাশেদ। এরপর প্রথমা প্রকাশনের প্রধান সমন্বয়কারী জাফর আহমদ অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সৈয়দপুর প্রতিনিধি এম আর আলম। উৎসবের শেষ পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে ১৫ জন করে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। সেরাদের সেরা হয় রংপুর জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির নাজিম আল মুক্তাকিম। বিজয়ী ৬০ শিক্ষার্থী ঢাকায় জাতীয় উৎসবে অংশ নেবে।

রডের পরিবর্তে বাঁশ, খোয়ার স্থলে সুরকি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণে
রডের পরিবর্তে বাঁশ ও খোয়ার বদলে সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও পরীক্ষাগার (অফিস কাম ল্যাবরেটরি) ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণাধীন ওই ভবনের লুপ ঢালাইয়ে রড না দিয়ে কাটা বাঁশ (কাবারি বা চটা) এবং খোয়ার পরিবর্তে পরিত্যক্ত সুরকিসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইটোসেনেটারি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালক (উইং) সৌমেন সাহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল শুক্রবার সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে প্রকল্পের সাইট প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ থেকে আসা কৃষিজাত পণ্যের মান ও রোগ-বালাই যাচাইয়ের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং এই ভবনটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে জয় ইন্টারন্যাশনাল নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণ করছে এবং ঢাকার শেওড়াপাড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট লিমিটেড (ইসিএল) কাজটি তদারকি করছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। ইসিএলের ঢাকা কার্যালয়ের প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভবনটির ভিত্তি, গ্রেড বিম, বিম ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ আমি নিজে তদারকি করেছি। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে ভবনের লুপ ঢালাইয়ের কাজটি সঠিক ডিজাইন অনুযায়ী হয়নি। লুপে চিপসের পরিবর্তে সুরকি ব্যবহার ঠিক হয়নি। সবাই মিলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রতিষ্ঠানটির উপসহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আমি ছুটিতে ছিলাম। ওই সময়ে মিস্ত্রিরা এই অনিয়ম করেছেন।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক নির্মল কুমার দে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রডের পরিবর্তে বাঁশের চটা ব্যবহারসহ অনিয়ম করা হয়েছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের গাফিলতি রয়েছে। মহাপরিচালককে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশে নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

নাটোরে ভাষা প্রতিযোগের আঞ্চলিক উৎসব চলছে

নাটোর অঞ্চলের ভাষা প্রতিযোগে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
ছবিটি আজ শনিবার সকালে নাটোর জেলার দিঘাপতিয়া
এম কে কলেজ থেকে তোলা
এইচএসবিসি-প্রথম আলোর উদ্যোগে নাটোরের দিঘাপতিয়া এম কে (অনার্স) কলেজ মাঠে ভাষা প্রতিযোগের আঞ্চলিক উৎসব শুরু হয়েছে। এতে রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান। আর ভাষা প্রতিযোগের পতাকা উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী, এইচএসবিসি করপোরেট সাসটেনাবিলিটি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল জুবায়ের, দিঘাপতিয়া এম কে (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রথম আলোর উপফিচার সম্পাদক জাহীদ রেজা নূর, প্রথমা প্রকাশনের প্রধান সমন্বয়কারী জাফর আহমদ প্রমুখ। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ৩৫ মিনিটের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বাংলা বানান নিয়ে আরও একটি পরীক্ষা। দুটি পরীক্ষার পর শুরু হয় তারিক মনজুরের সঞ্চালনায় মজার প্রশ্নোত্তর পর্ব। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন অর রশীদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিক মনজুর ও ড্যাফোডিল ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিনয় বর্মণ।

নৌমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনায় সুলতানা কামাল

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে আজ শনিবার সকালে ‘বেপরোয়া দখলে
বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা ও এর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা।
আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বেপরোয়া দখল নিয়ে এক আলোচনা সভায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি সুলতানা কামাল। সভায় দখল উচ্ছেদ ও নদী রক্ষায় কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের অসহায় বলে মন্তব্য করেন নৌমন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘যখন ক্ষমতাশালী মানুষ বা সরকারের কোনো মন্ত্রী নিজেদের অসহায় বলেন, আমরা সেটা মেনে নিতে পারি না।’ আজ শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে বাপা ‘বেপরোয়া দখলে বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা ও এর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘নদী রক্ষায় আমাদের অনেক চিন্তাভাবনা করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা অসহায়।’ তিনি আরও বলেন, যারা নদী দখল করে, তারা এ কালের রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধে যেমন রাজাকারদের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ সোচ্চার হয়েছিল, আজ এই দখলদারদের বিরুদ্ধে সে রকম সোচ্চার হতে হবে। অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনগত জটিলতার কারণে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারা যাচ্ছে না। বক্তব্যের পরে নৌমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে চলে যান। এরপর সেখানে বক্তব্য দেন বাপার সহসভাপতি ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তিনি নৌমন্ত্রী অনুষ্ঠানে থাকলে ভালো হতো উল্লেখ করে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সুলতানা কামাল বলেন, ঢাকা শহরে নির্মমভাবে বস্তি উচ্ছেদ করা যায়। অথচ নদী দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায় না। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার নদী রক্ষা প্রকল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় শাখাকে হাতিরঝিলের মতো দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চান তাঁরা। একদিকে কামরাঙ্গীর চর, অন্যদিকে মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, লালবাগ, আমলীগোলা নিয়ে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় শাখা বা আদি বুড়িগঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকৌশলীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতানা কামাল বলেন, ‘নদীকে আমরা ঝিল হিসেবে দেখতে চাই না।’
সভায় বক্তব্য দেন সুলতানা কামাল
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও নদীকে হাতির ঝিলে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আলোচনাসভায় স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইনস্টিটিউট অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল।

ট্রেনের ভাড়াই বাড়ে, যাত্রীসেবা নড়ে না by নজরুল ইসলাম

ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও যাত্রীসেবা আগের মতোই
দুই বছরের মধ্যে দুই দফা ভাড়া বাড়ানো হলেও যাত্রীসেবা বাড়েনি। আগের মতোই আছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব, টিকিট পেতে সমস্যা, কালোবাজার থেকে বেশি দামে টিকিট কেনা, অপর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, ট্রেনের ভেতরের বাথরুম নোংরা, হকার ও ভিক্ষুকদের উৎপাতকে যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় বলে মনে করছেন রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা। যাত্রীরা বলছেন, আগের তুলনায় ট্রেন সময়সূচি বেশি মানছে। ২০১২ সালে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর কথা বলে ৫ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন রুটে ৭ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ বছর ভাড়া বেড়েছে ২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন—এমন অর্ধশত যাত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর পর যাত্রীসেবার মান বেড়েছে কি না। উত্তরে যাত্রীরা বলেছেন, ভাড়া বাড়ার পর সেবার মানে উন্নতি হয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়নি। সবকিছু আগের মতোই আছে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষÿযেসব ট্রেন (কর্ণফুলী, তিতাস, বলাকা, কমিউটার, মহুয়া ইত্যাদি) ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা দিয়েছে, সেসব ট্রেনের যাত্রীরা সেবার ক্ষেত্রে মোটামুটি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ট্রেনের চেয়ে ওই ট্রেনগুলোর পরিবেশ নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন।  কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের সীমিত সম্পদে এই অধিক যাত্রীর পরিপূর্ণ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের যতটুকু সম্ভব, ততটুকু করছি।’ কালোবাজারে টিকিটের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাউন্টারে যথেষ্ট টিকিট আছে এবং আমরা অনলাইনেও টিকিট কাটার ব্যবস্থা করেছি। এখন কেউ যদি কালোবাজারির কাছ থেকে টিকিট কেনে, তাহলে আমাদের কী করার আছে।’ কাজী রিফাত বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। যাচ্ছেন রাজশাহী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভাড়া বাড়ানোর পরও সেবার মান আগের মতোই। আর অনলাইনে টিকিট কাটতে কোনো ঝামেলা হয় কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বললেন, অনেকেই তো অনলাইন সম্পর্কে জানেন না। সিলেটগামী ট্রেনের যাত্রী মোরশেদ আলম, রুমানা আক্তার ও মো. হারুনুর রশিদের অভিযোগ, যে পরিমাণ লোক টিকিট কেটে ওঠে, তার ঠিক সমপরিমাণ লোক টিকিট ছাড়াই ওঠে। তার ওপর হকার ও ভিক্ষুকদের অতিরিক্ত চাপ। এসব কারণে টয়লেটে পর্যন্ত যাওয়া যায় না। হারুনুর রশিদ বললেন, টিকিট অ্যাটেন্ডার ও পুলিশ অনেক সময় যাত্রীদের বলে, টিকিট কাটা লাগবে না। এ কারণে অতিরিক্ত যাত্রী থাকে। ময়মনসিংহগামী ট্রেনের যাত্রী সামিউলসহ অনেকেই বললেন, কাউন্টারে গেলে বলে টিকিট নেই, কিন্তু যখন তাদের ১০-২০ টাকা বেশি দেওয়া হয়, তখন টিকিট দেন। এটা অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। তাঁদের অভিযোগ, এটা জেলা শহর থেকে ঢাকার আসার পথে কাউন্টারগুলোতে হয়। চট্টগ্রামগামী ট্রেনের যাত্রী কামার জেবিন বললেন, কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে কালোবাজার থেকে দুটি টিকিট করেন তিনি। এসি বার্থের দুটি টিকিটের দাম দুই হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু তাঁকে ৬০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। নীল রতন সরকার এসেছেন মোহনগঞ্জ থেকে। কমলাপুর নামার পর জানতে চাই তাঁর ট্রেন যথা সময়ে এসেছে কি না? তিনি বলেন, ট্রেন আসার কথা ছিল দুইটায়, ঢাকায় নামলাম সাড়ে তিনটায়। ট্রেন খুবই ধীরগতিতে চলছে। কমলাপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মূল বিষয়গুলো দেখবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, তাঁরা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলো দেখভাল করেন। তাঁর দাবি, তিন বছর আগে কমলাপুর স্টেশনের যে অবস্থা ছিল, এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে যাত্রীরা স্টেশনে নামলে তাদের মালামালের নিরাপত্তা ছিল খুবই কম। কিন্তু এখন যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছে; দু-একটা ঘটনা ছাড়া। স্টেশনমাস্টার নিপেদ্র সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ভাড়া বাড়ার সঙ্গে সেবার কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা সাধ্যমতো যাত্রীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুন নতুন কোচ আমদানি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ট্রেনের শিডিউল ঠিক থাকছে প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে। আর বিনা টিকিটে যারা ওঠে, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ জরিমানা করাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন রুটে কত টাকা ভাড়া বেড়েছে: ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ২৬৫ টাকা থেকে ২৮৫ টাকা করা হয়েছে। চেয়ার কোচ ৩৫৫ টাকা থেকে ৩৮০, এসি চেয়ার ৬১০ টাকা থেকে ৬৫৬, এসি সিট ৭৩০ টাকা থেকে ৭৯০, এসি বার্থে ১ হাজার ৯০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৯০ টাকা করা হয়েছে। ঢাকা-খুলনা রুটে শোভন ৩৯০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ৪৬৫ টাকা থেকে ৫০৫, এসি চেয়ার ৮৯০ টাকা থেকে ৯৬০, এসি সিট ১ হাজার ৭০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫৫ এবং এসি বার্থের ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭৩০ টাকা করা হয়েছে। ঢাকা-রাজশাহী রুটে ভাড়া বাড়ানোর পর শোভন ২৮৫ টাকা, শোভন চেয়ার কোচ ৩৪০, এসি চেয়ার ৬৫৫, এসি সিট ৭৮০, এসি বার্থের ১ হাজার ৭০ টাকা করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট রুটে শোভন ২৪০ টাকা, শোভন চেয়ার ৩২০, এসি চেয়ার ৬১০, এসি সিট ৭৩৫ এবং এসি বার্থে ১ হাজার ১০০ টাকা করা হয়েছে।

অন্য দেশের টিভি চ্যানেলে মেতে ওঠা ক্ষতিকর: মাহবুব

বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী অপতৎপরতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব চ্যানেল দেখতে ভুলে গেছি। অন্য দেশের চ্যানেল নিয়ে আমরা মেতে উঠি, যা আমাদের সংস্কৃতির জন্য খুবই ক্ষতিকর।’ আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে ‘সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা: বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহবুব এসব কথা বলেন। সংগঠনটির পাঠানোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমাদের নানা সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু স্বাধীনতার আগে আমাদের সংস্কৃতির যত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ছিল, ধীরে ধীরে তা ম্লান হতে চলেছে। প্রতিবছর বৈশাখ এলেই আমরা দেখতে পাই আমাদের মা-বোনেরা বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হন। কোনো দেশকে ধ্বংস করতে হলে তার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করলেই সেই দেশ দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের রিজার্ভ চুরি হয়ে গেছে। আজও পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, এ বিষয়ে অন্য দেশের কোনো হাত নেই। তাহলে কারা এই রিজার্ভ চুরি করল? শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, প্রতিটি ব্যাংকে সীমাহীন লুটপাট ও নৈরাজ্য চলছে।’ তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিতে আপাদমস্তক ছেয়ে গেছে। দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে যখন দুর্নীতি শুরু হয়, তখন সাধারণ মানুষ কীভাবে পথ চলবে? ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, দুই দফা নির্বাচনে চারদিকে লাশ আর লাশ রক্তের হোলি খেলা চলছে। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যেতে পারেননি। যাঁরা সাহস করে ভোট দিতে গিয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই তালিকা থেকে শিশু, সাংবাদিকও বাদ যায়নি। এভাবে একটি নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন যখন হয়, তখন সব দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি)। সিইসিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ গুলি করেছে। পুলিশ কার অধীনে তখন ছিল? সুপার পাওয়ার নিয়ে তিনি নির্বিকার হয়ে বসে আছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে না পারলে বন্ধ করে দিন। অযোগ্যতা নিয়ে বসে থাকার কোনো মানে হয় না।’ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবুল আহমেদ প্রমুখ।

রেমিট্যান্সের আশায় নারীদের আমরা কোথায় পাঠাচ্ছি! by রোকেয়া রহমান

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে অভাবের কারণে গত বছরের ২৫ জুন সৌদি আরবে যান রংপুরের এক নারী। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানকার গৃহকর্তা তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। বাইরে থেকে আসা পুরুষেরাও নির্যাতন করত। প্রতিবাদ করায় তাঁর গায়ে আগুন দেওয়া হয়। যশোরের এক নারীকে গত বছরের ৫ নভেম্বর সৌদি আরবে পাঠায় ফাতেমা ওভারসিজ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। ওই নারী যে বাসায় কাজ করতেন, সেই বাসার গৃহকর্তা, তাঁর ছেলে ও ছেলের বন্ধুরা তাঁকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছেন। কুমিল্লার এক নারী নির্যাতন সইতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে সৌদি নিয়োগকর্তার কাছে যান। কিন্তু নিয়োগকর্তা তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন না। ওপরে যে কটি ঘটনার কথা উল্লেখ করলাম, এগুলো সবই আজকের প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘মধ্যপ্রাচ্যে নির্মম নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি মেয়েরা’। কিন্তু কথা হচ্ছে, এ ধরনের শিরোনাম আমরা আর কত দিন দেখব। কিছুদিন বিরতির পর পত্রিকাগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু এসব নির্যাতন প্রতিরোধে বা নির্যাতনের শিকার নারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। কোনো কোনো ভাগ্যবতী অবশ্য দেশে ফিরতে পেরেছেন। কিন্তু বেশির ভাগেরই কোনো খবর নেই। তাঁরা আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা কারও জানা নেই। সংসারে একটু সচ্ছলতা আসবে—এই আশায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার নারী সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরির জন্য যাচ্ছেন। কেউ কেউ ভালো থাকলেও বেশির ভাগই প্রতারণার শিকার হন। যে সচ্ছলতার আশায় তাঁদের এই বিদেশ পাড়ি, সেই সচ্ছলতার মুখ তাঁরা কোনো দিনই দেখতে পান না। গৃহশ্রমিক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজের জন্য আকর্ষণীয় বেতন দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নারীদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁদের মূলত দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে। যাঁরা গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ পান, তাঁদের ওপরও চলে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন। দিনের পর দিন তাঁদের না খাইয়ে রাখা হয়। বেতনও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। প্রতিবাদ করলে মেলে আরও নির্যাতন। অনেকেরই সেখানে বন্দী অবস্থায় দিন কাটছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী নির্যাতন নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অনেক দিন ধরেই বিষয়টি তুলে ধরছে। নির্যাতনের কারণে ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সবকিছু জানার পরও বাংলাদেশ দুই-তিন বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক গৃহকর্মী পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে গত বছর থেকে নারী কর্মীরা যাচ্ছেন। আর সেখানেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
বোঝা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার কারণেই ইন্দোনেশিয়া বা ফিলিপাইনের মতো দেশ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশ নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা আগ্রহ প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি আমাদের নারীদের এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেব? বিশেষ করে এখন যখন আমাদের সামনে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে সে দেশে আমাদের নারীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের আশায় আমরা আমাদের নারীদের কোথায় পাঠাচ্ছি! এই পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।
তবে শুধু সৌদি আরবই নয়, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননেও বাংলাদেশি নারীরা কাজের জন্য যাচ্ছেন। কিন্তু সেসব দেশেও তাঁদের অবস্থা তথৈবচ। দেশের কয়েক লাখ নারী শ্রমিক বিদেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মহলের উদাসীনতা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ অপর্যাপ্ত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। হয় বিদেশে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন, নয় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনুন, আর নয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিন। দেশের ভেতরে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন, যাতে দুটো পয়সার জন্য তাঁরা বিদেশমুখী না হন।
রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক

বিভিন্ন নফল নামাজের পরিচয় ও ফজিলত by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

ধর্ম
নফল নামাজের পরিচয় ও প্রকারভেদ
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্তে সতেরো রাকাত ফরজ নামাজ, তিন রাকাত ওয়াজিব বিতির নামাজ, চার ওয়াক্তে বারো রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ, দুই ওয়াক্তে আট রাকাত সুন্নতে জায়েদা নামাজ ছাড়া অন্যান্য নামাজ হলো নফল নামাজ। নফল নামাজের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত হলো নির্ধারিত নফল নামাজ; যথা: তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাক নামাজ, চাশত নামাজ, জাওয়াল নামাজ, আউওয়াবিন নামাজ। এ ছাড়া রয়েছে আরও কিছু অনির্ধারিত নফল নামাজ। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ ছাড়া বাকি সব নামাজকেই নফল নামাজ বলা হয়। (কিতাবুস সালাত)।
নফল নামাজের নিষিদ্ধ সময়
সূর্যোদয়ের সময় সব নামাজ নিষিদ্ধ, সূর্য মাথার ওপর স্থির থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি, সূর্যাস্তের সময় চলমান আসর ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ বৈধ নয়। এ ছাড়া ফজর নামাজের ওয়াক্ত হলে তখন থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর ওয়াক্তে ফরজ নামাজ পড়া হলে তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের নফল নামাজ পড়া নিষেধ। এই পাঁচটি সময় বাদে অন্য যেকোনো সময় নফল নামাজ পড়া যায়। (আওকাতুস সালাত)।
নফল নামাজের নিয়ত
নফল নামাজগুলো অধিকাংশই সুন্নত। তাই নিয়তে সুন্নত বলা যাবে, নফল বললেও হবে; সুন্নত–নফল কোনো কিছু না বলে শুধু তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে আরম্ভ করলেও হয়ে যাবে। দুই রাকাতের বেশি নফল নামাজের নিয়ত করে তা ছেড়ে দিলে বা যেকোনো জোড় সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পর বিজোড় সংখ্যায় নফল নামাজ ভেঙে গেলে; পরে এ জন্য শুধু দুই রাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে। (হিদায়া)
 নফল নামাজের সূরা কিরাআত
নফল নামাজ যেকোনো সূরা বা আয়াত দিয়ে পড়া যায়। নফল নামাজে সূরার তারতিব বা ধারাক্রম জরুরি নয়। নফল নামাজের সূরা কিরাআত নীরবে পড়তে হয়; তবে রাতের নফল নামাজ ইচ্ছা করলে সরবেও পড়া যায়। বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন নফল নামাজের বিভিন্ন সূরা কিরাআত ও বিশেষ বিশেষ নিয়ম বর্ণিত আছে। সম্ভব হলে তা অনুসরণ করা উত্তম; তবে জরুরি নয়। নফল নামাজে যত ইচ্ছা তত দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করা যায়। এতে রাকাত দীর্ঘ করার জন্য এবং তিলাওয়াতের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য একই রাকাতে বিভিন্ন সূরা ও বিভিন্ন আয়াত পড়া যায় এবং একই রাকাতে একই সূরা বারবার পড়া যায়। নফল নামাজে কিরাআতে তিলাওয়াতের তারতিব বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। নফল নামাজে রুকু, সিজদাসহ প্রতিটি রুকন বা পর্ব দীর্ঘায়িত করা সুন্নত ও মোস্তাহাব। এ জন্য রুকু ও সিজদায় তাসবিহ অনেকবার পড়া যায় এবং অন্যান্য পর্বে বেশি পরিমাণে বিভিন্ন দোয়া (যা কোরআন-হাদিসে আছে) পাঠ করা যায়। (কানজ)
তাহিয়্যাতুল অজুর নামাজ
অজু করার পরপরই এই নামাজ দুই রাকাত পড়তে হয়। ওয়াক্ত মাকরুহ হলে, মাকরুহ ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করে দুই রাকাত নামাজ ইখলাসের সঙ্গে পড়বে, তার বেহেশত লাভ হওয়া অবধারিত।’ (মুসলিম ও আবু দাউদ)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি অজু ভাঙার পর অজু করল না, সে আমাকে অবজ্ঞা করল; আর যে ব্যক্তি অজু করার পর দুই রাকাত (নফল) নামাজ পড়ল না, সেও আমাকে অবহেলা করল। (হাদিসে কুদসি)।
দুখুলিল মাসজিদের নামাজ
মসজিদে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে, বসার আগেই দুই রাকাত দুখুলিল মাসজিদ নামাজ পড়তে হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন বসার আগেই তার দুই রাকাত নামাজ পড়া উচিত।’ (হাদিস)। তবে যদি মাকরুহ ওয়াক্ত হয়, তাহলে মাকরুহ ওয়াক্ত শেষ হলে পড়বে। এ জন্য বসে অপেক্ষা করতে পারবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।
সালাতুস সফর এবং দুখুলিল মানজিল ও
খুরুজুল মানজিলের নামাজ
বাড়ি থেকে সফরে বের হওয়ার আগে চার রাকাত নফল নামাজ পড়া অতীব বরকতময়। এই নামাজকে সালাতুস সফর বা সফরের নামাজ বলা হয়। সফর থেকে বাড়ি ফিরলে বা সফরে গন্তব্যে পৌঁছালে অথবা সফরে কোথাও অবস্থান করলে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে। এই নামাজকে সালাতু দুখুলিল মানজিল বা মঞ্জিলে প্রবেশের নামাজ বলে। একইভাবে বাড়ি থেকে সফরে বের হওয়ার সময় কিংবা সফর থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় বা সফরের মাঝে অবস্থান থেকে রওনা দেওয়ার সময় দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। এই নামাজকে সালাতুল খুরুজিল মানজিল বা মঞ্জিল থেকে প্রত্যাবর্তনের নামাজ বলে। (তান্বিহুল গাফিলিন)।
সালাতুল হাজাত
সালাতুল হাজাত প্রসঙ্গটি বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাতসহ বহু হাদিস গ্রন্থে রয়েছে। পাক-পবিত্র হয়ে দোয়া, ইস্তিগফার ও কয়েকবার দরুদ শরিফ পড়ে একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে ১১ বার ‘ইয়া কাজিয়াল হাজাত’ (হে প্রয়োজন পূর্ণকারী) পড়বে এবং আরও কয়েকবার দরুদ শরিফ পড়ে ভক্তি ও মহব্বতের সঙ্গে উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে।
সালাতু কাজায়িদ দাঈন বা ঋণ পরিশোধের নামাজ
হজরত আবু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার ঋণ আছে; কিন্তু তা পরিশোধ করার ক্ষমতা নেই। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি দুই রাকাত করে চার রাকাত নামাজ আদায় করো; ইনশা আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে।
সালাতুল ফাকা
হজরত হুসাঈন (রা.) পুত্র আলী (রা.) কে বলেন, বত্স! শোনো, যখন তোমার ওপর কোনো বালা-মুসিবত আপতিত হয় অথবা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে। আলী ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি এই নামাজ পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার বিপদ ও অভাব দূর করবেন।
সালাতুস শোকর
মনের কোনো আশা বা ইচ্ছা পূর্ণ হলে অথবা কোনো বিপদাপদ বা বালা-মুসিবত দূর হলে এবং আল্লাহর তরফ থেকে কোনো নিয়ামতপ্রাপ্ত হলে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করতে হয়। একে সালাতুস শোকর বা কৃতজ্ঞতার নামাজ বলে।
সালাতুত তাওবা
সালাতুত তাওবা বিষয়টি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদসহ অনেক গ্রন্থেই রয়েছে। কোনো গোনাহ হয়ে গেলে; দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে, তাওবা ইস্তিগফার করে, দরুদ শরিফ পড়ে কান্নাকাটিসহ আল্লাহর কাছে দোয়া ও মোনাজাত করলে আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন। এই নামাজকে সালাতুত তাওবা বা তাওবার নামাজ বলা হয়।
সালাতুল মাতার
হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আকাশে মেঘ দেখে যদি কোনো ব্যক্তি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে; আল্লাহ তাকে বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায় ১০টি করে নেকি দান করবেন। বৃষ্টির পানিতে গাছপালায় ও তৃণলতায় যত পাতা গজাবে প্রতি পাতার বিনিময়ে তাকে আরও ১০টি করে নেকি দেওয়া হবে।
সালাতুল নাউম
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শোয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তা তার জন্য এক হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও এক হাজার জামাকাপড় (পোশাক) দান করার চেয়ে উত্তম।
সালাতুল সাকরাতুল মউত
হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মাঝখানে দুই রাকাত নামাজ পড়বে; তার মৃত্যুযন্ত্রণা কম হবে। (সূত্র: ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, খাজিনাতুল আসরার, নফল সালাতের ফজিলত)।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক: আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।
smusmangonee@gmail.com