Friday, April 5, 2019

আসমা আজিজ ও পাকিস্তানে নারীদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ

স্বামী ও তার বন্ধুদের মনোরঞ্জনের জন্য নাচতে অস্বীকৃতি জানানোয় পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছে আসমা আজিজ নামে এক নারীর। শুধু তাই নয়। তাকে প্রহারও করা হয়েছে। ফলে পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
আসমা আজিজ লাহোরের বাসিন্দা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায় তার মাথার চুল কামানো। মুখমন্ডলে প্রহারের চিহ্ন।
এ নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হন তিনি। আসমা আজিকের স্বামী মিয়া ফয়সাল ও একজন গৃহভৃত্য বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে। আসমাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী ফয়সাল। ঘটনা যা-ই হোক, এর ফলে গৃহ নির্যাতন থেকে নারীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য আরো অনেক বেশি করার ডাক উঠেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজন সিস্টেমিক পরিবর্তন।
আসমা আজিজ তার ভিডিও পোস্ট করেন ২৬ শে মার্চ। এতে তাকে আবেগতাড়িত দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দু’দিন আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এর কারণ, তিনি তার স্বামী ও তার বন্ধুদের সামনে নাচতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। লাহোরে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি এলাকায় তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন ওইসব অতিথি।
আসমা আজিজ তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেছেন, সে তার চাকরের সামনে আমার পোশাক টেনে খুলে নিয়েছিল। তারপর তার চাকর আমাকে চেপে ধরে রাখে ও আমার স্বামী আমার চুল কেটে দিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলে। আমার পোশাক রক্তে ভিজে যায়। আমাকে বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। সে হুমকি দিয়েছিল, আমাকে নগ্ন করে ঝুলিয়ে দেবে।
আসমা বলেন, অভিযোগ নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা অভিযোগ গ্রহণ করতে গড়িমসি করে। তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ। তিনি পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পর পর একটি টিম পাঠানো হয় আসমার বাসভবনে। তারা দেখতে পায় বাসাটি তালাবদ্ধ। ওই আবাসিক এলাকার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ভবন চত্বরে প্রবেশে বাধা দিচ্ছিল তাদের। তবে উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেজেরিয়ার আফ্রিদির একটি নোটিশের পরই পুলিশ সক্রিয় হয়। ওই মন্ত্রী পুলিশকে অভিযোগ নিবন্ধন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মিয়া ফয়সাল ও তার ভৃত্য রশিদ আলীকে পরের দিন গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে আসমার শরীরে প্রহারের বেশ কিছু চিহ্ন পাওয়া যায়। তার বাহুতে, চিবুকে ও বাম চোখের চারপাশে অনেক স্থানে ফুলে ছিল। লাল হয়ে ছিল।
পরে আসমা আজিজের আইনজীবী এই মামলাটিকে প্রচলিত ফৌজদারি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কঠোর সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে বিচার করার আর্তি জানিয়েছেন। ওই আইনজীবী বুধবার লাহোর পুলিশের কাছে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাতে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এই ঘটনা সমাজে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওদিকে গত সপ্তাহে পুলিশের কাছে মিয়া ফয়সাল বলেছেন, মাদক ব্যবহারের জন্য তার স্ত্রী আগেই চুল কাটা শুরু করেছিলেন। তিনি নিজেও মাদক ব্যবহার করতেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা পাকিস্তানে গৃহে সহিংসতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী ও গায়িকা সনম সাঈদ। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে নারীদের অধিকার একটি বিতর্কের বিষয় বহু বছর ধরে। জাতিসংঘের ২০১৬ সালের লিঙ্গ সমতা সূচকে ১৮৮টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৭তম। এর কারণ, সেখানে নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অবস্থানের রেকর্ড বেশ নাজুক।
নারী ও বালিকাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি অত্যন্ত গুরুতর ইস্যু। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি হিসাবে এসব কথা বলা হয় না। অনেক ঘটনার রিপোর্ট হয় না। গত মাসে নারী দিবসের র‌্যালি থেকে কিছু রক্ষণশীল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। ওই র‌্যালির আয়োজকদের অনেককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা স্থানান্তর : ভাসানচর নিয়ে আরো তথ্যের অনুরোধ জাতিসংঘের

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের এ পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ভাসানচর নিয়ে আরো তথ্যের জন্য অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়টি জাতিসংঘকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। পরিবেশের ভারসাম্য ও স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনমান রক্ষায় জনঘনত্ব কমাতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চায় সরকার। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসবাসের জন্য বিকল্প স্থান সন্ধানে সরকারের এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানায় জাতিসংঘ।
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকতে চায় জাতিসংঘ। তাই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে সেখানে তাদের নিরাপদ ও টেকসই বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা, জীবনমানের সুরক্ষা এবং কার্যপরিচালনা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে জাতিসংঘ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভাসানচরে স্থানান্তর হতে রাজি হলে, সেখানে স্থানান্তরের কার্যপদ্ধতি, নিরাপদ পরিবেশ এবং যেসব মৌলিক অধিকার ও সেবা তারা পেতে পারে, তার বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই দ্বীপে প্রশাসন-সংক্রান্ত বিষয় এবং জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার কেমন হবে, এসব বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন। এছাড়া ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কার্যকারিতা ও মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই দ্বীপের কারিগরি সমীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মূল্যায়ন করা এবং সতর্ক পরিকল্পনার প্রয়োজন।
এতে আরো বলা হয়েছে, ভাসানচরে মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় কেমন প্রভাব পড়তে পারে, সেটাও যাচাই করছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সময়সীমা এবং ব্যয় নিয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সিনেমা হল (তৃতীয় পর্ব) ‘হাউজফুল’ লেখা সেই সব দিন by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল। দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে সিনেমা হলের সংখ্যা বেড়ে   চলা, এসবের উন্নয়ন, আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে দেশজুড়ে সিনেমা হলের অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর তৃতীয় পর্ব সিনেমা হলে ঝুলত ‘হাউজফুল’ লেখা বোর্ড
একটা সময় সারা দেশে নারী দর্শকদের সিনেমা হলে যাওয়া-আসা ছিল সবচেয়ে বেশি। স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন এমনকি পরিবারের অন্যরা এবং বন্ধু-বান্ধব মিলে সবাই একসঙ্গে সিনেমা হলে ভিড় করতে দেখা যেত। সোনালি সেই সময়ের সিনেমা হলগুলোর চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পোস্টার, ব্যানারের পাশাপাশি বিয়ে বাড়ির মতো সুন্দর মরিচা বাতি দিয়ে সাজানো হতো সিনেমা হলগুলোকে।
দূর থেকে দেখে সব বয়সি নারী-পুরুষের সিনেমা হলে যেতে মন চাইতো- রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, ববিতা, চম্পা, নূতন, ইলিয়াস কাঞ্চন কিংবা জসিমের ছবি দেখার জন্য। বিশেষ করে মধুমিতা, অভিসার, জোনাকী, বলাকা, সনি, চম্পাকলী, আলমাস, চিত্রা, আজাদ, মানসী, নেপচুন, গীত, পুনম, সংগীত, রাজমণি, রাজিয়া, পূরবী, সনি, সৈনিক ক্লাব, আনন্দ, ছন্দ ও শ্যামলীসহ দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হলে দর্শকরা দলবেঁধে ছবি দেখতে যেত। দর্শক বেশি হওয়ার কারণে সিনেমা হলে ঝুলত ‘হাউজফুল’ লেখা বোর্ড।
সিনেমা হলের ব্যবসা সত্তর-আশির দশকে ক্রমশ বাড়তে থাকলে ব্যবসায়ীরা একই জেলা শহরে বা থানায় নির্মাণ করতে শুরু করেন একের পর এক সিনেমা হল। এ বিষয়ে দেশের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হার্টবিট প্রোডাকশনের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ ও আইনবিষয়ক সম্পাদক তাপসী ফারুক বলেন, দেখতে দেখতে সিনেমা হলের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে একটা সময় সারা দেশে ১২শ’এ পৌঁছায়। এমনকি ২০০৮ সালে আমার প্রযোজিত ছবি ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’  যখন মুক্তি পায় তখনো দেশে ৭শ’-এর বেশি সিনেমা হল ছিল।
ওই সময়ে তো সপ্তাহে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি ছবি পর্যন্ত মুক্তি পেতো এবং সবকটি ছবিই ব্যবসা করতো। গ্রামে মাইকিং করে, ব্যান্ড পার্টি ভাড়া করে এবং সিনেমা হলে মরিচা বাতি দিয়ে লাইটিং করে ছবির প্রচারণা করা হতো। গ্রামের দর্শকরা মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমার নাম আগে থেকেই জানত। দর্শকের মনে তখন সিনেমা হলে নতুন ছবি মুক্তি পাওয়া নিয়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। সিনেমা হলে ব্যবসা যখন রমরমা হতে শুরু করলো তখন সারা দেশেই সিনেমা হল বাড়তে শুরু করে। আমার নিজের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় ১০টি সিনেমা হল ছিল। ব্যবসা ভালো হওয়ার কারণেই তো মূলত এই সিনেমা হলগুলো পরিচালনা করেছিলাম আমি।
মনে আছে, শুক্রবার হলেই সবাই মিলে ছবি দেখার ধূম লেগে যেত। তখন ইন্টারনেট হাতে ছিল না। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল সিনেমা। আমার প্রযোজনায় ‘প্রাণের প্রিয়া’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মনের জ্বালা’, ‘লাভ ম্যারেজ’সহ বেশকিছু ছবি একটানা কয়েক সপ্তাহ সিনেমা হলে চলেছে। এমনকি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক মাস চালানোর পর এক সিনেমা হলের কাছ থেকে আরেক সিনেমা হল ছবি ভাড়া করে নিয়ে যেত এবং সেখানেও দর্শক ছবি দেখার জন্য ভিড় জমাতো। এক ছবি পরিবারের অনেকে মিলে একাধিকবার সিনেমা হলে গিয়ে দেখতো।
এসব কারণেই দিন দিন বেড়ে চলে সিনেমা হলের সংখ্যা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামে চলচ্চিত্র চর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। বর্তমানে চট্টগ্রামে ‘আলমাস’ ও ‘সিনেমা প্যালেস’ নামে দুটি সিনেমা হল রয়েছে। ‘সিনেমা প্যালেস’ এর কর্ণধার ও চট্টগ্রাম প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ভালো ভালো ছবি দর্শকরা দেখতে পেতো বলেই চট্টগ্রামে একটা সময় সিনেমা হল বাড়তে থাকে। ‘সিনেমা প্যালেস’, ‘আলমাস’,  ‘সাগরিকা’, ‘গুলজার’, ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’, ‘ঝুমুর’, ‘লায়ন’, ‘বনানী’, ‘সানাই’, ‘সংগীত’, ‘নূপুর,’ ‘চাঁদনী’, ‘কর্ণফুলি’, ‘পূরবী’সহ অনেক সিনেমা হল একটা সময় চট্টগ্রামে তৈরি হয়। ‘অবুঝ মন’, ‘রুপবান’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা’সহ অসংখ্য ছবি বেশ ভালোভাবে চলেছে আমাদের ‘সিনেমা প্যালেস’ হলে। দর্শকদের সেসময় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ‘হাউজফুল’ সাইনবোর্ড ঝুলত।
সিনেমা ভালো ব্যবসা করার কারণে হল মালিকদের মনে ছিল আনন্দ। ১৯২৭ সালে ‘সিনেমা প্যালেস’ নির্মাণ হয়। আমাদের এ সিনেমা হলে মহিলাদের বসার জন্য আলাদা করে ৬০টি আসন রয়েছে। নারী-পুরুষ সবাই সিনেমা উপভোগ করতে আসে। এখন সময়টা মন্দা। তাই চট্টগ্রাম শহরে মাত্র দুটি সিনেমা হল টিকে আছে। তবে, একটা সময় ব্যবসা ভালো ছিল এবং সিনেমা হলের সংখ্যা চট্টগ্রামে বেশ বেড়েছিল। আমরা পুরনো সেই দিনটি আবার ফিরে পেতে চাই। বন্ধ না হয়ে আবারো সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে বাড়তে থাকুক এটাই প্রত্যাশা থাকবে আমাদের।

রোহিঙ্গাদের কারণে খাদ্য ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নাই -ফাও-এর প্রতিবেদন প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় by শফিকুল ইসলাম

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নাই। কারণ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় না। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমে তাদের খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে একই দিনে ফাও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার চাপে দানাদার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকারী দেশ হয়েও খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর এক প্রতিবেদনে কক্সবাজারের ১৫ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, সেখানকার ১৩ লাখ মানুষই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন।
এই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর জানায়, পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তাই ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে ফাও-এর প্রতিবেদন সরকার খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবেদনের বিষয়টি আমরা এখনও জানি না। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি, বিষয়টি কী?’
তিনি আরও জানান, খাদ্যশস্যের মজুদ সন্তোষজনক। মাসিক চাহিদা ও বিতরণ পরিকল্পনার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যশস্যের কোনও ঘাটতি নাই বা ঘাটতির কোনও সম্ভাবনাও নাই।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনটিতে যদি এমন মন্তব্য করে থাকে যে- রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে, তাহলে বিষয়টি সঠিক নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের খাদ্য ঝুঁকিতে পড়ার কোনও কারণ নাই। কেননা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খাবারের ব্যবস্থা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সহায়তায় রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা হচ্ছে। এখানে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত নয়।’ 
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, সরকার প্রতিবছর দেশের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে। যদি কোনও কারণে রোহিঙ্গাদের খাবারের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হতো, তাহলে সরকার নিশ্চয়ই বাড়তি সংগ্রহ করতো। যেহেতু সরকার বাড়তি সংগ্রহ করছে না, সেহেতু প্রতিবেদনের বক্তব্য সঠিক নয়।’    
খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আমন সংগ্রহ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৬ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ ২৯ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ২৪ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন ধানসহ মোট ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন বোরো চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত খাদ্যশস্যের সরকারি গুদামজাতকৃত মোট মজুদ ১৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক  টন। এরমধ্যে চাল ১২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এবং গম ১ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। এই মজুদ সন্তোষজনক, ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নাই।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশের চালের বাজারদর ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের পাইকারি মূল্য ২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা। প্রতি কেজি আটা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) এর ২০১৮ সালের খাদ্য উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধানের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে এখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আমন, আউশ ও বোরো মিলিয়ে বর্তমানে দেশে ধানের বার্ষিক ফলন ৩ কোটি ৬২ লাখ টনের বেশি। ভুট্টা উৎপাদন ছাড়িয়েছে ২৭ লাখ টন। আবহাওয়াগত কারণে গমের পাশাপাশি এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে দেশে। সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। সব মিলিয়ে দানাদার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
তবে গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস: জয়েন্ট অ্যানালাইসিস ফর বেটার ডিসিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এই অঞ্চলের বাকি তিনটি দেশ হলো- মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। এরপর থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই সংখ্যা প্রায় দশ লাখে পৌঁছেছে।

ট্রাক মাতাতে প্রস্তুত প্রথম সউদী নারী রেসার

সউদী আরবের প্রথম নারী রেসার হিসেবে ফর্মুলা ফোর ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়ন্সশিপে লড়তে যাচ্ছেন রিমা জাফালি। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ তাকে রেসিং ট্রাকে দেখা যাবে।
গতির ঝড় তুলতে ২৭ বছর বয়সী জাফালি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন ডাবল আর রেসিং-এর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লুইস ফস্টার ও সেবাস্তিয়ান আলভারেজকে।
নারী ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক মাস পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে রেসিংয়ে অভিষেক হয় জাফালির। তার মাস দুয়েক আগে লাইসেন্স প্রাপ্ত হন জেদ্দায় জন্ম দেওয়া এই নারী।
রেসিং ট্রাকে নামার জন্য তর সইছে না তার, ‘সউদী আরবের প্রতিনিধি হয়ে এমন কিছু করা আমার জন্য বিরাট ব্যাপার। এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের।’
ব্রিটিশ এফ-৪ ওয়েবসাইটে তিনি আরো বলেন, ‘তিন থেকে চার বছর আগে আমি রেসিংয়ে নামার চিন্তা শুরু করি। আজ এখানে আসতে পারা এবং এই অল্প সময়ের মধ্যে এটা করতে পারা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ ও খুশি।’
‘সউদীতে এমন কিছু করার জন্য এখন উৎকৃষ্ট সময় এবং এজন্য আমি সমর্থন পেয়েছি বন্ধু-বান্ধব, পরিবার এবং তারা যাদেরকে আমি চিনিও না। আর এগুলোই আমাকে আরো ভালো করার জন্য সামনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
‘ব্র্যান্ড হ্যাচ মোটোস্পোর্টের হৃদপিন্ড। এমন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় লড়তে যাওয়া খুবই কঠিন তবে আমি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’
সউদী আরবে ফেরার আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করেন জাফালি। মার্চে তিনি ডাবল আর রেসিংয়ে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন এবং ব্রিটিশ দলের সঙ্গে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘ডাবল আর রেসিং চ্যাম্পিয়ন্সশিপ বিজয়ী দল যাদের দারুণ একটা ইতিহাস রয়েছে সেই দলে যোগ দিতে পেরে আমি খুশি।’
দলীয় প্রধান অ্যান্থনি হিয়েট বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ ফর্মুলা ফোরে রিমার সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি এবং ডাবল আর-এ যে কোন লেবেলে পুরো মৌসুমের জন্য সে যোগ দেয়ায় আমরা আনন্দিত।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি তাকে এখনো অনেক শিখতে হবে- গাড়ি, স্টাইল এবং অসাধারণ বৃটিশ ট্রাকস সম্পর্কে। তবে রিমা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে সে এটা করতে প্রস্তুত।’
গত অক্টোবরে আবু ধাবিতে টিআরডি৮৬ কাপে প্রতিযোগিতার জন্য প্রথম সউদী নারী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন জাফারি।

হেলিকপ্টার আগুন নেভাতে কতটা কার্যকর? by রুদ্র মিজান

একের পর এক ঘটছে অগ্নিকাণ্ড। ঘটছে প্রাণহানি। বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুননির্বাপণে ব্যবহার করা হয় হেলিকপ্টার। ঘটনাস্থলে পানিভরা ‘বাম্ভি বাকেট’ নিয়ে উড়তে দেখা যায় হেলিকপ্টারকে। আগুন নেভাতে পানি ঢালা হয়। কখনো ভবনের ছাদ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হয় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। তবে ভবনে অগ্নিনির্বাপণে হেলিকপ্টার কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হেলিকপ্টার আগুন নির্বাপণের চেয়ে আগুন ছড়াতে সহায়তা করে।
তবে উদ্ধারে এর সহায়তা নেয়া যেতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মধ্যে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ওই চিঠিতে অগ্নিকাণ্ডে হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, হেলিকপ্টারের পাখা থেকে ঘণ্টায় ৬৯ থেকে ১১৫ মাইল বেগে বাতাস ছড়ায়। তীব্র বাতাসে আগুন নেভার পরিবর্তে ছড়িয়ে যায়। এতে আশপাশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হেলিকপ্টারে উৎপন্ন বাতাসে উদ্ধার কাজে বিঘ্ন ঘটে। এমনকি উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত লেডারের এঙ্গেল পরিবর্তন হয়ে উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া লেডার লক হয়ে যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের ওই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা পানি যথাযথ স্থানে পড়ে না। ফলে ওই পানিও আগুন নেভাতে তেমন কোনো কাজে আসে না। তবে উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে করার অনুরোধ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)’র লে. কর্নেল জায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কাজে বিমান বাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। সেখানে উদ্ধার করার মতো সুযোগ ছিল না, তবু একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে ছোট হেলিকপ্টারে রেকি করা হয়। ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে- এরকম নিশ্চিত হয়েই অভিযান শুরু করা হয়। বনানীর অগ্নিকাণ্ডেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টারের ব্যবহার প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান মানবজমিনকে বলেন, সাধারণত এসব অগ্নিকাণ্ডে হেলিকপ্টারের প্রয়োজন নেই। হেলিকপ্টারে প্রবল বাতাস সৃষ্টি হয়। এতে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে সমস্যা হয়। অগ্নিনির্বাপণে সমন্বয় করে কাজ করলে এসব সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়াও আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আরো লেডার প্রয়োজন। একইভাবে প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত পানি জরুরি এক্সিট ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক বলে মনে করেন তিনি।

গেট আউট -মোকাব্বিরকে ড. কামাল

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সদ্য শপথ নেয়া গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানকে গেট আউট বলে নিজের চেম্বার থেকে বের করে দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন,  বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর মোকাব্বির খান ও গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আমিন আহমেদ আফসারি গিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে। উনারা চেম্বারের প্রবেশের সময় আগে থেকেই ওখানে দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল হুদা মিলু চৌধুরী ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বসা ছিলেন। এসময় মোকাব্বির খান চেম্বারে প্রবেশ করে ড. কামাল হোসেনকে সালাম দিয়ে কী যেন বলতে গিয়েছিলেন। তখন ড. কামাল হোসেন মোকাব্বির খানকে দেখামাত্রই বলেন, গেট আউট। তুমি আমার অফিসে জীবনেও আসবা না।
তুমি আমার বিরুদ্ধে বদনাম করে বেড়াচ্ছো। আমি নাকি তোমাকে শপথ গ্রহণের পারমিশন দিয়েছি। কে তোমাকে পারমিশন দিয়েছে? কবে, কখন তোমাকে পারমিশন দিয়েছি? এসময় ক্ষুব্ধ কামাল নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে দুইজনকেই চেম্বার থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া সমন্বয়কারী লতিফুল বারী হামিম মানবজমিনকে বলেন,  বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে মোকাব্বির খান ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে প্রবেশ করেন। এসময় ড. কামাল হোসেনকে তিনি বলেন, স্যার আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিল। তখন ড. কামাল বলেন, আপনার সঙ্গে আবার কিসের কথা। আপনি আমার দলের সম্মান নষ্ট করছেন। আমার সম্মান নষ্ট করছেন। আমার দল আপনাকে শপথ গ্রহণ করার কথা বলেছে? কে বলেছে আপনাকে? কোথায় পেয়েছেন এটা? আপনি আর আমার অফিসে আসবেন না। আপনাকে যেন না দেখি। আপনার মতো বেঈমানকে আমার অফিসে দেখতে চাইনা। এই মুহূর্তে বেরিয়ে যান। এসময় ড. কামাল হেসেনের পিএস শাজাহানসহ অন্যদের ডেকে বলেন, ওদেরকে এই মুহূর্তে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও। এরা যেন আমার বাসায় কোনোদিন না আসে। এই চেম্বারেও কোনোদিন না আসে। সব সিকিউরিটিকেও বলে দাও।
এর পর ড. কামাল হোসেন দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে টেলিফোন করে বলেন, মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

বিতর্কে নাজিম জয় by শুভ্র দেব

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় রীতিমতো নায়ক হয়ে উঠে শিশু নাঈম ইসলাম। অগ্নিকাণ্ডের দিন ফায়ার সার্ভিসের একটি লিকেজ পাইপে পলিথিন পেঁচিয়ে তাতে পা দিয়ে চেপে  পানি আটকে মানুষের বিবেক জাগ্রত করেছিল। এমন দৃশ্যের ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় নেট দুনিয়ায়।
সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসতে থাকে ৮ বছর বয়সী নাঈম। তার পরের ঘটনাগুলো শিশু নাঈম আর তার পরিবারের জন্য অনেকটা বিব্রতকর। অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় নাঈমের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক। ওই সাক্ষাৎকার প্রচার করে জয় নিজেই ফেঁসে গেছেন। সাক্ষাৎকারে নাঈমের কাছে অভিনেতা জয় জানতে চান, তাকে অনেকেই পুরস্কার দিতে চাইছে।
পুরস্কারের টাকা সে কি করবে? জবাবে নাঈম জানায়, টাকা সে এতিমখানায় দিয়ে দেবে। নাঈম এও বলে যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা লুট করেছেন।
এ সাক্ষাৎকার প্রচারের পর অপর একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই সাক্ষাৎকারে নাঈম জানায়, এমন জবাব দিতে তাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ভিডিও প্রচারের পর থেকে সমালোচনার কেন্দ্রে শাহরিয়ার নাজিম হয়। সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আক্রমনের শিকার হয়ে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডিও করেছেন অভিনেতা জয়। এছাড়া অন্য একটি আইডি থেকে শাহরিয়ার নাজিম জয় ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন। বলেন, এখন আমি আপনাদের কিছু কথা বলব। কথাগুলো অত্যন্ত জরুরি। কারণ আপনারা সবাই আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আমাকে আপনারা ফোন দিচ্ছেন, থ্রেট দিচ্ছেন, আমার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে, আমাকে গালাগালি করছেন। আমি একটা কথা আপনাদের খুব দৃঢ়ভাবে বলতে চাই নাঈম ছেলেটির আমি যে ইন্টারভিউ নিয়েছি। আমি সব সময় ইন্টারভিউ প্রোগ্রাম করি। কিন্তু আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আমি কোন কথা তাকে শিখিয়ে দেই নাই। নাঈম যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা সে কোথা থেকে শিখে এসে দিয়েছে সেটা আমি জানি না।
আমার অনুষ্ঠানে এসে নিজের দায়িত্বে এসব বলেছে। তিনি বলেন, কোন জাতীয় নেতা নিয়ে মন্তব্য করার সাহস আমার নাই। এবং আমি করতেও চাই না। কারন সবাই সম্মানিত। জাতীয় নেতা যারা, একসময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন বা এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সবাই সম্মানিত। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ তাদের নিয়ে আলোচনা সাজে না। জয় বলেন, হ্যাঁ আমি কোন বিশেষ দলের সমর্থক হতে পারি। কিন্তু আমি অন্য দল নিয়ে বা অন্য দলের নেতা নিয়ে কটুক্তি করার অধিকার রাখি না। আমি সেটা করিওনা। নাঈম যেটি বলেছে সেটি আমি নিজে শুনেও হতবাক হয়েছি।
আমি তাকে দ্বিতীয় বার জিজ্ঞাসা করেছি। আমার ইন্টারভিউতে এ রকমভাবে উত্তর আশা করি নাই।  কিন্তু উত্তর হয়ে গেছে। আমি একটি দায়িত্ব নিতে পারি কেন আমি সেটা প্রচার করেছি। কিন্তু আমি মানুষ যা বলে সবকিছু দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। আপনারা যারা আমাকে ভুল বুঝছেন তাদের কাছে আমি একটা রিকুয়েস্ট করতে পারি আপনারা আমাকে মিছি মিছি ভুল বুঝছেন। আমার ফেসবুক হ্যাকড করেছেন, আমাকে অপমান করছেন, থ্রেট দিচ্ছেন আমার জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন।  কিন্তু আমি বলব আমি এটার জন্য দায়ী না।
জয় বলেন, যদি কখনও কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি তাকে শিখিয়ে দিয়েছি তবে আমি আর কোন দিন উপস্থাপনা করব না। আপনারা না চাইলে আমি উপস্থাপনা ছেড়ে দিব। আপনারা আমাকে অপমান অপদস্ত থ্রেট দিবেন না। আমি বাঁচতে চাই, কাজ করতে চাই, আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ আমার ক্ষতি করবেন না।
পুরো বিষয়টি জানতে গতকাল করাইল বস্তিতে কথা হয় নাঈমের মা নাজমা বেগমের সঙ্গে। এর আগে টেলিফোনে দেখা করার কথা বলতেই নাজমা বলেন নাঈম অসুস্থ। সে তার নানা বাড়ি সাভার চলে গেছে। দুই সপ্তাহ পরে আসবে। কিন্তু নাঈমদের কড়াইল বস্তির বাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে নাঈমের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের কাছে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তারা অনেকটা চাপের মধ্যে আছেন। আগে সচরাচর সবার সঙ্গে কথা বললেও এখন এড়িয়ে যান। স্থানীয়রা মনে করছেন কোন মহল থেকে তাদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে দুরে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নাঈম ও তার মা নাজমা বেগমের সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্য তাদের বাসায় গেলে।
বাসায় তাদের খোঁজ নিতেই নাঈমের ছোট বোন কাজল জানায় তার মা নাঈমকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন। পরে নাজমা বেগমের কাছে ফোন দিলে জানান, তিনি অনেক দুরে আছেন বাসায় আসতে অনেক দেরি হবে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কথা বলেন নাঈমের মা নাজমা বেগমের সঙ্গে। তাদের অনুরোধে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নাঈম ও তার মা। নাজমা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত। জয় ভাইয়ের ইন্টারভিউতে আমার ছেলে একটা কথা বলে ফেলছে। এই কথাটা তাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি। সে নিজে থেকে এই কথাটা বলছে।
এজন্য মা হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী, খালেদা জিয়া ও  দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি। সবাই যেন আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেয়। আবার নাঈমও খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমা  চেয়েছে। সে বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে সে বুঝে উঠতে পারে নাই।  সে যা বলেছে ভুল বলেছে। এটা বলা তার ঠিক হয়নি।

বহুতল ভবনে পদে পদে জালিয়াতি by দীন ইসলাম

বহুতল ভবনের নকশা যাচাই করতে গিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)- এর কর্মকর্তাদের চোখ কপালে। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে ভবনের কোনো মিল পাচ্ছে না রাজউকের টিমগুলো। ৯৯ ভাগ ভবনেই নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ডেভিয়েশন করা হয়েছে। বেশির ভাগ হাইরাইজ ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রাখা হয়নি। ৯৯ ভাগ ভবনই অকুপেন্সি সার্টিফিকেট (ভবন ব্যবহারের সনদ) দেখাতে পারেনি। গুলশান, বনানী, মহাখালী ও   মতিঝিলের হাইরাইজ ভবনগুলোর নকশা দেখতে গিয়ে এমন অবস্থা দেখছেন রাজউকের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ছিল রাজউকের উঁচু ভবন পরিদর্শনের তৃতীয় দিন। রাজউকের আটটি অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের  নেতৃত্বে গঠিত ২৪টি দল এই পরিদর্শনের কাজ করছে।
দলগুলো নকশানুযায়ী ভবনের বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করছে। কোনো কোনো অঞ্চলে পরিদর্শন চলছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে কিনা এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকভাবে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রাজউকের টিমগুলো। পরিদর্শনের সময় বেশিরভাগ ভবনে রাজউক অনুমোদিত নকশার গরমিল এবং অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থায় দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন পরিদর্শনকারীরা।  গুলশান ও বনানী এলাকার ভবনগুলো নির্মাণে সবচেয়ে বেশি ডেভিয়েশন করা হয়েছে। এছাড়া এসব ভবন রক্ষণাবেক্ষণে নানা ক্রটি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমি এখনও হাইরাইজ ভবনগুলোর অবস্থা সর্ম্পকে জানি না। ১৫ দিন পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন টিমগুলো রিপোর্ট করলে বাস্তব চিত্র জানতে পারবো।
এর আগে বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর হাইরাইজ ভবন পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৫ দিনের মধ্যে রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ১০ তলার ওপরের ভবনগুলোর পরিদর্শনকাজ শেষ করতে বলা হয়। জোন-৫ সূত্রে জানা গেছে, গতকালও তারা ধানমন্ডি এলাকার বহুতল ভবন পরিদর্শন করেছেন। এ পর্যন্ত ৩০ টি ভবন পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় তারা ভবনগুলোর ক্রটি’র তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি কোন ভবনে কি ব্যত্যয় ঘটেছে তা ছক আকারে লিপিবদ্ধ করেন। জোন-৫ এর একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, আপাতত আমরা ভবনের ক্রটিগুলো চিহ্নিত করছি। ক্রুটি পাওয়া ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে রাজউক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য ভবনগুলোতে আমরা নির্দেশনা দিয়ে আসছি।
তবে বড় সমস্যাগুলোর জন্য রাজউক কি ব্যবস্থা নেবে তা পরে ঠিক করবেন নীতি নির্ধারকরা। ধানমন্ডির বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে ব্যাংক, রেঁস্তোরা ও ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবনে রেস্টুরেন্ট ছাড়া কিছু নেই। এসব রেস্টুরেন্টে সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে। অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থাও ঠিকভাবে রাখা হয়নি। বিভিন্ন ভবনে পার্কিংয়ের জায়গায় জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। অনেক পার্কিংয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা আছে। এছাড়া বিভিন্ন অব্যবহৃত কাঁচের পণ্য, চেয়ার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। জোন-৩-এ গতকাল তিনটি দলে ভাগ হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিবি রোড, নিতাইগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা কালীবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। রাজউক অনুমোদিত নকশা মিলিয়ে বেসমেন্ট পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা, র‌্যাম্পের খারাপ অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না রাখাসহ বেশ কিছু ভবনের ব্যত্যয় পায় রাজউক। এদিকে জোন-২ গত তিন দিনে ২৯ টি হাইরাইজ ভবনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে তিনটি নির্মানাধীন বহুতল ভবন রয়েছে।
৯৮ সালে অনুমোদিত নকশায় গরমিল দেখতে পেয়েছে এসব টিম। জোন-২/১ এর অথরাইজ অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, হাইরাইজ ভবনের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। এগুলো একসঙ্গে করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের টিমগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে আলোচিত এফআর টাওয়ারের পাশের ভবনগুলোর নকশা অনুমোদন নিয়ে নানা ঘাপলা রয়েছে। গতকাল বনানীতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. এইচবিএম ইকবাল- এর মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টার পরিদর্শন করে রাজউকের টিম।
তারা দেখতে পায় ইকবাল সেন্টারটি ২৩ তলা। রাজউকের অনুমোদিত নকশায় ভবনটি ১৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের বৈধতা রয়েছে। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আরো অতিরিক্ত ৫তলা বানানো হয়। গতকাল রাজউকের টিম সরজমিনে দেখতে পায়, রাজউক ১৮তলার নকশা অনুমোদন দিয়েছে। তারা নকশার নির্দেশনা মানেনি। অতিরিক্ত ৫ তলার জন্য ২০১৫ সালে রাজউক বরাবর অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন করা হয়। যেটি বাতিল করে দেয় রাজউক। পরে তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবেই ভবনটির এসব তলা পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া ভবনটিতে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। অগ্নি-নিরাপত্তা সিঁড়ি তৈরি করা হয়নি। নেই ভবনের সামনে পিছনে ফুটপাথের জন্য খালি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা। রাজউকের এ টিমটি ভবন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দ্রুত অপসারণ করতে বলেছে।
বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রাজউক নড়েচরে বসে। আটটি জোনের অধীনে ২৪ টিম রাজধানীর ১০তলার উপরের বহুতল ভবন পরিদর্শনে নামে। এফআর টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী ভবনগুলো পরিদর্শন করে রাজউকের অঞ্চল-৪ এর অধীনে একটি টিম। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন অঞ্চল-৪ এর পরিচালক মামুন মিয়া। তার নেতৃত্বেই গতকাল এফআর টাওয়ারের পাশের আউয়াল সেন্টার থেকে পরিদর্শন শুরু করে। এ ভবনটিতে মঙ্গলবারও রাজউকের টিমটি পরিদর্শনে যায়। তখন তারা ভবনের নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়। গতকালও তারা নকশা দেখাতে পারেনি। এ ভবনটির উচ্চতা ২৩ তলা। যা রাজউকের অনুমোদন বহির্ভূত। পরিদর্শন শেষ হলেই রাজউক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানায়।
এরপাশের ভবন ডেলটা ডালিয়া। উচ্চতা ১৬ তলা। উপরের কয়েকটি তলা আবাসিকের অনুমতি নিয়ে সেখানেও পরিচালনা করছে বাণিজ্যিক। নেই কোনো অগ্নি নিরাপত্তা সিঁড়ি। নকশায় ভবনের নিচের তলা খোলা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। ভবনের সামনে রয়েছে ব্যাংকের বুথ। যেটি নকশায় নেই।
পাশের ব্লু ওশেন ভবন। বহুতল এ ভবনটির উচ্চতা ২১ তলা। ভবনের সামনে ফুটপাথ থেকে খালি রাখার জায়গা থাকার কথা থাকলেও তা নেই। নকশার সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিঁড়ির স্থানে লিফট আর লিফটের স্থানে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। ভবনটিতে অগ্নিনির্গমন সিড়িও নেই। এছাড়া ভবনটির ২০ ও ২১ তলায় আবাসিক অনুমোদন থাকলেও ওই তলা গুলোও বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা হচ্ছে। যদিও রাজউক বলছে বনানী-গুলশান এলাকায় ১৮/১৯ তলার উপরে বহুতল ভবনের অনুমোদন নেই।
রাজউকের টিমটি বনানী সুপার মার্কেট সংলগ্ন সুইট ড্রিমস ভবন পরিদর্শন করে। এ ভবনটিতে পরিচালনা করা হচ্ছে সুইট ড্রিমস হোটেল। রাজউক ভবনটির ১৬ তলার নকশার অনুমোদন দেয়।
কিন্তু ভবনটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ তলা। ভবনটির চূড়ার দুই তলা তৈরি করা হয়েছে কাঠ ও টিন দিয়ে। ভবনের ছাদে উঠার সিঁড়ির জন্য প্রশস্থ জায়গা নেই। এছাড়া ভবনে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। নকশায় অগ্নিনির্গমন পথ নেই। প্রথম তলা খোলা জায়গা থাকার কথা থাকলেও সেটা রাখা হয়নি, ভবনের সামনে রয়েছে দু’টি ব্যাংকের বুথ।

এবার খিলগাঁওয়ে আগুনের হানা- পুড়লো ৪০ দোকান

ঈদ সামনে রেখে সাজানো দোকান লণ্ডভণ্ড হয়েছে আগুনে। পুড়ে যাবার পর নিজের হাতে গড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিনতে পারছেন না দোকানিরা। চিনবেন কি করে, আগের দিন পরম যত্নে রেখে যাওয়া দোকানগুলো পুড়ে ছাই হয়েছে আগুনে। প্রায় ৫০ ফুট উপরে থাকা ফ্লাইওভারের সাদা কংক্রিটের পিলার ও  কাঠামো ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। গত বুধবার রাতে খিলগাঁও রেলওয়ে গেটের পাশের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে গেছে অন্তত ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
রাতের বেলা দোকানে থাকতেন এমন জনা বিশেক মানুষ আগুন লাগার পর প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজ চোখে পুড়ে যেতে দেখেছেন একেকটি দোকান। গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়েও পাওয়া যায় আগুনের উত্তাপ।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অন্তত তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ভোরে আগুন নিভে গেলেও ধোঁয়া আর তাপ ছড়াচ্ছে তখনো। খিলগাঁও রেলওয়ে গেটের পাশে ডিএনসিসি মার্কেটের একেবারে ভেতরের দিকের অংশে বুধবার রাত পৌনে তিনটার দিকে আগুন লাগে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এই অংশের বেশিরভাগ দোকানে কাপড়, প্লাস্টিক, ইলেকট্রিক ও হার্ডওয়ার পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মতে, মার্কেটের শেষের দিকে থাকা কামার পট্টির কোন দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন মার্কেটের উপর দিয়ে চলে যাওয়া ফ্লাইওভার থেকে ফেলে দেয়া সিগারেট থেকে আগুন লেগেছে।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে বিতর্কের মাঝেই হা-হুতাশ করতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। মজিবর ক্রোকারীজের মালিক হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে জানান, আগুনে তার দোকানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। প্লাস্টিক পণ্য ও নানা ধরনের গিফট আইটেম ছিল এসবের মধ্যে। ঈদ সামনে রেখে গতকাল বুধবার রাতে আরো ৬০ হাজার টাকার মালামাল আনেন হাবিবুর রহমান। তাড়াহুড়োর কারণে দোকানে সাজাতেও পারেননি। বাক্সবন্দি থাকা ক্রোকারিজ পণ্যগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। নিজের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে গিয়ে বারে বারে কান্নায় জড়িয়ে যাচ্ছিলেন হাবিবুর। বুধবার রাতে বাসায় যাবার পর ভোরের দিকে আগুনের কথা জানতে পারেন তিনি। সাথে সাথে মার্কেটে গিয়ে দেখেন ততক্ষণে সব শেষ। কয়েক বছর ধরে গড়ে তোলা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিনে নিতেই কষ্ট হচ্ছে তার।
মার্কেটের পুড়ে যাওয়া অংশের বেশিরভাগ দোকানে ছিল শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, মশারী, প্লাস্টিক ও ক্রোকারীজ পণ্য, বৈদ্যুতিক তারসহ নানা ইলেকট্রিক পণ্য। পাশাপাশি ছিল কয়েকটি ভাঙ্গারি ও কামারশালার দোকান। তবে আগুনে এগুলোর খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুনের রাতে কামারপট্টির একটি দোকানে ঘুমুচ্ছিলেন জয়ন্ত কর্মকার (২৭)। রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন লেগেছে বলে পাশের আরেকটি দোকানের কয়েকজনের চিৎকার শুনতে পান। পরে, মার্কেটের চাল বেয়ে উপরে উঠে নিরাপদ দুরত্বে চলে যান জয়ন্ত। মার্কেটের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন নিরাপদে বের হতে পারলেও টিনের চালে একজনের পা ও হাতের অংশ কেটে যায়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান জয়ন্ত কর্মকার। মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী আবুল হাশেম জানান, আগুন লাগার পর পর ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মশারী, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়। তবে ঘটনার ৩০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস চলে আসায় ভোর ছয়টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। নাম প্রকাশ করতে চান না এমন একজন ব্যবসায়ী জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কেটটিতে আগুন নেভানোর কোন ব্যবস্থা ছিলো না।
মার্কেটে প্রবেশের গলিপথ এত সরু যে দু’জন মানুষ একসাথে চলতে গেলে আটকে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করতে গিয়ে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। প্রথমে গলির ভেতরে পানি ভরে ফেলা হয়। প্রায় হাঁটু পানি হবার পর সেখান থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানো হয় বলে জানান হাজী জুয়েলার্সের কর্মী মোহাম্মদ আলী। আগুনের রাতে তিনিও মার্কেটের ভেতরে ছিলেন। তবে তাড়াতাড়ি টের পাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সোনা মিয়া কয়েক মাস আগে নিজের দুই কাঠা জমি মোট ৫২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেখান থেকে ছয় লাখ টাকা দিয়ে দেনা শোধ করেন। বাকি টাকা দিয়ে ভাড়ায় থাকা দোকান ও আরেকটি দোকান নিজের নামে কিনে নেন। নানা হার্ডওয়ার ইলেকট্রনিক পণ্যে সাজান দোকান দুটিকে। অথচ আগুন তার সহায়-সম্বল কেড়ে নিয়ে গেছে। মার্কেটে নিজের দোকানের সামনে বিলাপ করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে তার। মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান জানান, ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুর্নবাসনে সিটি করপোরশেনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানবিকতা!

মানবিকতার এক উজ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের মিজোরামের এক শিশু। কতই বা হবে তার বয়স! বড়জোর পাঁচ বছর। কিন্তু তার মধ্যে যে মানবতাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা, ভালবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে তাতে আপ্লুত মানুষ। এত্তটুকুন একটি শিশু শিখিয়ে দিয়েছে মানুষের অনুভূতি কেমন হতে হয়। কি কারণে মানুষ হয়ে উঠেছে মানুষ, আর পশুরা পশু।
ওই শিশুটি বাইসাইকেল চালানোর সময় অকস্মাৎ তার প্রতিবেশীর পালা একটি মুরগির ছানার ওপর উঠিয়ে দিয়েছিল। এতে অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করে। নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছিল না।
উপায় খুঁজতে থাকে সে। সঙ্গে সঙ্গে ঘরে গিয়ে নিজের কাছে যেটুকু অর্থ ছিল তাই নিয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে। সঙ্গে নিয়ে যায় ওই মুরগির ছানাটিকে। ডাক্তারদের কাছে করুণ আর্তি জানায়, ছানাটিকে সুস্থ করে দিতে। তাকে বাঁচিয়ে তুলতে। এমন অনুভূতি, মানবিকতার ডাক অনেককে অভিভূত করেছে।
ওই শিশুটির একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছে সাঙ্গা সায়স নামে একটি একাউন্ট ব্যবহারকারী। তবে তার নাম পরিচয় জানা যায় নি। ক্যাপশনে ওই পোস্টদাতা লিখেছেন, মিজোরামের সাইরাংয়ের এই শিশু ছেলেটি দুর্ঘটনাবশত তার প্রতিবেশীর একটি মুরগির বাচ্চার ওপর সাইকেল উঠিয়ে দিয়েছিল। তারপর তার কাছে যেটুকু অর্থ জমানো ছিল তার সবটা সহ মুরগির ছানাটিকে নিয়ে যায় নিকটবর্তী হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তারদের সহায়তা চায় সে। ক্যাপশনে তিনি আরো লিখেছেন, তার কা- দেখে আমি হেসেছি। আবার কেঁদেছি সারাক্ষণ।
এই পোস্টটি দিতে যা দেরি, অমনি মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে এর ওপর। এতে লাইক পড়েছে ১ লাখ ২১ হাজার। কমেন্ট করেছেন ১০ হাজার মানুষ। আর শেয়ার হয়েছে ৮৪ হাজার বার।
মন্তব্যে একজন লিখেছেন, মানুষ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, মানবতা হলো একজন মানুষের সম্পত্তি। মানবতায় ধন্য হওয়া ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ। এখনই উত্তম সময় এই শিশুটির কাছ থেকে দয়ার বিষয়ে শিক্ষা নেয়া।
রিতউইক শরণ নামে একজন লিখেছেন, এটা হলো আমাদের সবার জন্য মানবতার এক শিক্ষা।
নিমরাটক নামে একজন টুইটে লিখেছেন, এই শিশুটির ওপর আশীর্বাদ বর্ষণ করুণ সৃষ্টিকর্তা। ‘বেটা’ তুমি আমাদেরকে একটা শিক্ষা দিয়েছো, মানবতার শিক্ষা। 
গ্লাডউইন রাজা নামে একজন মন্তব্য করেছেন, একটি ছোট্ট ছেলের ভালবাসায় ভরা হৃদয়। সে একটি মুরগির বাচ্চাকে বাঁচাতে কি ভালবাসাই না প্রদর্শন করেছে। গুড বয়।
র‌্যানডম গাই নামে একজন লিখেছে, এমন করেই একটি শিশু একজন নেতা হয়ে ওঠেন। তার মনে যা ধারণ করে, তার প্রকাশ পেয়েছে। অন্যের সহায়তার জন্য সে সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত।
চৌকিদার নামে এক টুইটে বলা হয়েছে, এত্ত নিষ্পাপ বাচ্চা!  আরেকজন লিখেছেন, তার এই কর্মকান্ড তাকে তাকে এই বিশ্বে আমাদের চেয়ে আরো বেশি পরিক্বতা দান করেছে।

১১৯ বছর পর নামাজ হলো যে মসজিদে

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় এলাজিগ প্রদেশে অবস্থিত এক মসজিদে দীর্ঘ ১১৯ বছর পর নামাজ আদায় করা হলো। অটোমান সাম্রাজ্য তথা উসমানীয় খিলাফতের সময়কার এই মসজিদটিতে বুধবার প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করা হয়। খবর ডেইলি সাবাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হারপুত জেলার দাবাখান মসজিদটি ৪৫০ বছর আগের। স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি মসজিদটি ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
হারপুত জেলার মেয়র মুকাহিত ইয়ামলমাজ নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, তারা একটি ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। হারপুত জেলা চার হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মেয়র বলেন, ‘১১৯ বছর পর দাবাখান মসজিদ পুনরায় চালু হওয়ায় আমরা গর্বিত।’
খবরে বলা হয়েছে, হারপুত দুর্গের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। ২৫ বর্গফুটের মসজিদটি সপ্তদশ শতকের ওসমানীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। ঐতিহাসিক সিল্ক রুট ব্যবহারকারী পথিকরা মসজিদটি ব্যবহার করতেন বলে মনে করা হয়।
তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় এলাজিগ প্রদেশে অবস্থিত এক মসজিদে দীর্ঘ ১১৯ বছর পর নামাজ আদায় করা হলো। অটোমান সাম্রাজ্য তথা উসমানীয় খিলাফতের সময়কার এই মসজিদটিতে বুধবার প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করা হয়। খবর ডেইলি সাবাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হারপুত জেলার দাবাখান মসজিদটি ৪৫০ বছর আগের। স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি মসজিদটি ব্যাপকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
হারপুত জেলার মেয়র মুকাহিত ইয়ামলমাজ নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, তারা একটি ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। হারপুত জেলা চার হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মেয়র বলেন, ‘১১৯ বছর পর দাবাখান মসজিদ পুনরায় চালু হওয়ায় আমরা গর্বিত।’
খবরে বলা হয়েছে, হারপুত দুর্গের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। ২৫ বর্গফুটের মসজিদটি সপ্তদশ শতকের ওসমানীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। ঐতিহাসিক সিল্ক রুট ব্যবহারকারী পথিকরা মসজিদটি ব্যবহার করতেন বলে মনে করা হয়।

ব্রুনেইয়ে কঠোর ইসলামি শরিয়াহ আইন কার্যকর

বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও এশিয়ার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনেইতে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক একাধিক কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ওই সব আইন কার্যকর হয়। আইনগুলোর একটিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও সমকামিতার জন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রয়েছে।
বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ব্রুনেইয়ের এক পাশে মালয়েশিয়া ও অপর প্রান্তে দক্ষিণ চীন সাগর। প্রাকৃতিক সম্পদশালী এই দেশটির বেশির ভাগ মানুষই মুসলমান। দেশটির সব ক্ষমতার অধিকারী সুলতান হাসান-আল বলকিয়াহ। কয়েক বছর ধরেই দেশটিতে ইসলামি শরিয়াহ আইন প্রণয়নের কথাবার্তা হচ্ছিল। তখন থেকেই বিশ্বের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, তারকা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই রকম আইনের বিরোধিতা করে তা প্রণয়ন না করতে ব্রুনেই কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। অবশেষে গতকাল ওই সব আইন কার্যকরের ঘোষণা দেন ব্রুনেইয়ের সরকারি কর্মকর্তারা।
নতুন আইনের দণ্ডবিধিতে চুরির অপরাধে অঙ্গচ্ছেদের (হাত-পা কেটে নেওয়া) বিধান রয়েছে। ধর্ষণ ও ডাকাতির সাজা মৃত্যুদণ্ড। আইনগুলোর আরেকটিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এটা মুসলমান বা অমুসলমান উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে এই রকম শরিয়াহ আইন বলবৎ থাকলেও পূর্ব অথবা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্রুনেইতেই প্রথম।
ব্রুনেইতে শরিয়াহ আইন কার্যকরের আগেই তা নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্কের ঝড় ওঠে। জাতিসংঘ এই আইনকে ‘নিষ্ঠুর’ ও ‘অমানবিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা জর্জ ক্লুনি, পপ তারকা এলটন জনসহ বিশ্বের প্রথম সারির তারকাও শরিয়াহ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার সহকারী পরিচালক ফিল রবার্টসন এই আইনকে পুরোপুরি ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দেন। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, এই আইন নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রও এ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেছেন, শরিয়াহ আইনের দণ্ডবিধির ২ ও ৩ নম্বর ধারা বাস্তবায়নে ব্রুনেইয়ের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইনের একেবারেই বিপরীত।
তবে পাঁচ দশক ধরে সিংহাসনে থাকা সুলতান হাসান-আল বলকিয়াহ এই শরিয়াহ আইনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গতকাল পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে রাজধানীর বন্দর সেরি বেগওয়ান থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে তিনি দেশটিতে ইসলামিক অনুশাসন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

কেমন আছে রাজীবের দুই ভাই by মরিয়ম চম্পা

দুই বাসের চাপায় প্রথমে হাত হারানো ও পরে নিহত রাজীবের সেই ঘটনার এক বছর আজ। গত বছর ৩রা এপ্রিল দুপুর। প্রতি দিনের মতো বিআরটিসি বাসে চড়ে কলেজে যাচ্ছিলেন রাজীব হোসেন। মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন রাজীব। বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়ানো রাজীবের হাতটি বেরিয়ে ছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎ করেই পেছন থেকে স্বজন পরিবহন নামের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিকে গা ঘেঁষে চাপা দেয়। এসময় কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীরা দ্রুত তাঁকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সাময়িক উন্নতির পর তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৬ এপ্রিল রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর পটুয়াখালীর বাউফলের ছেলে রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই খালা-মামাদের তত্ত্বাবধানেই বেড়ে ওঠেন।
রাজীবের পরে একই বছর ডান হাত হারান বাসের কন্ডাক্টর হৃদয়, পা হারান গৃহপরিচারিকা রোজিনা ও গাড়িচালক রাসেলসহ অনেকেই। দুর্ঘটনার কাতারে যুক্ত হয় আহত ও নিহতদের অসংখ্য তালিকা। যেন প্রচন্ড অভিমান নিয়ে সবাইকে দোষী এবং অপরাধী করে চলে যায় রাজীব ও রোজিনা। রাজীবের দুর্ঘটনার ১ বছর। মাস গড়িয়ে বছর হলেও কেউ মনে রাখেনি রাজীবদের। শুরুতে রাজীবের এতিম দুই ভাইয়ের দায়ীত্ব নেয়ার কথা বলে মিডিয়ায় আলোচনা আসেন অনেকেই। প্রতিশ্রুতি দেন এলাকায় তার নামে রাস্তা, মাদ্রাসা ও টিউবওয়েলসহ অনেক কিছু তৈরি করার। এদের তালিকায় চিত্র নায়ক অনন্ত জলিল থেকে শুরু করে ছিলেন তৎকালিন সরকারের অনেক কর্তা ব্যক্তিরা। ছিলো বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।
মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রাজীবের ছোট খালা খাদিজা বেগম লিপি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বলেন, আজকের দিনেই ঘাতক বাস প্রথমে রাজীবের হাত এরপর তার জীবনটাই কেড়ে নেয়। অনেকে অনেক কিছু বলেছে। দিয়েছে প্রতিশ্রুতি। কোর্ট বলেছে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে। রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেয়া হবে। কোনো কিছুই হয়নি। সব আগের মতোই আছে। এখন পর্যন্ত মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং ঘাতক চালকের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। রাজীবের লাশ মাটি দেয়ার জন্য এলাকায় নিয়ে গেলে ওখানকার উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছিল তার নামে এলাকায় একটি সড়ক পাকা করে দেয়া হবে। যার নাম হবে রাজীব সড়ক। সেটাও করেনি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছে বাড়িতে রাজীবের নামে একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দিবেন। যেটা থেকে এলাকার লোকেরা পানি খাবেন। সেটাও দেয়া হয়নি। পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাজীবের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে বলেছেন রাজীবের নামে এলাকায় একটি মাদ্রাসা করে দিবেন। কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। গত ৬ মাস ধরে ক্ষতিপূরনের রিট মামলার শুনানি হচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর শুধু দু’বার শুনানি হয়েছে। ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টের রিটের কার্যক্রমও স্থবির। ঘাতক বাস চালকের সাজা হলে আমরা অন্তত মানসিকভাবে শান্তি পাবো। মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত পরিপূর্ণ বিচার আমরা পাবো না।
তিনি বলেন, অনেকেই বলেছে রাজীবের দুই ভাইয়ের যাবতীয় খরচ বহন করবে। কেউই তা করেনি। ওদের দুজনের সকল খরচ আমরা মামা খালারাই চালাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি আদালত যদি ক্ষতিপূরণের রিটটি দ্রুত নিস্পত্তি করে তাহলে ক্ষতিপূরণ স্বরূপ যে টাকাটা পাওয়া যাবে সেটা দিয়ে ওদের পড়ালেখা এবং ভবিষ্যত ভালোভাবে নিশ্চিত করা যাবে। যাত্রাবাড়ি তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় রাজীবের মেজো ভাই মেহেদী হাসান অষ্টম শ্রেণীতে ও ছোট ভাই আব্দুল্লাহ সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। মাদ্রাসার হোস্টেলেই তারা থাকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের যথাযথ পদেক্ষপ এবং চালকের সচেতনতা ব্যতিত সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। রাজীবের দুর্ঘটনাটি ছিল দুই বাসের রেসারেসি এবং চালকের পুরোপুরি ইচ্ছাকৃত। সে গাড়ির ভেতরে ছিল। রাস্তায় ছিল না। গাড়ির ভেতরে থাকাবস্থায় রাজীব হাত হারিয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গাড়ির মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলবে। আমরা চাই রাজীবের মতো আর কোনো মায়ের বুক যেনো খালি না হয়। আমাদের মতো কোনো রাজীবকে যেন তাদের হারাতে না হয়। দুর থেকে অনেকেই সমবেদনা জানালেও আমরা সারা জীবনের জন্য হৃদয়ের ধন রাজীবকে হারিয়েছি। এখনো প্রতিটি মূহুর্ত ওর কথা, ওর চেহারা, ওর হাঁসি মনে করে কাঁদি। একটি ভালো খাবার বিশেষ করে ওর পছন্দের কোনো খাবার রান্না করলে মুখে তুলতে পারি না। ভাবি আজ রাজীব বেঁচে থাকলে ওকে ফোন করে ডাকতাম। ও এসে খেত। কিন্তু ও তো আর আমাদের কাছে কোনো দিন আসবে না। ওর সেই লাজুক ও মধুর হাঁসিটা আমরা কোনো দিন ভুলবো না।

লিবিয়ার শহরে পানির জন্য হাহাকার

লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জিনতান শহরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শত শত নীল রঙের পাইপের দেখা মেলে। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’ বিপ্লবে এই শহরের বিশ্বের বৃহত্তম জলসেচ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে এখানকার মানুষ পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। পানির অভাবে এখন তারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
এএফপির খবরে জানানো হয়, আল-সিদ চানতা নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ‘জিনতান শহরে আমাদের কিছুই নেই।’ পাইপগুলো অকেজো থাকায় তাঁকে দিনে আটবার একই এলাকায় পানি সরবরাহ করতে হয়। শুধু মানুষের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণে তিনি কাজটি করছেন। তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসে অন্তত ৪০ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারি সেবার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জিনতান আগে লিবিয়ার গ্রেট ম্যান-মেড রিভার প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশ্বের বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পে সাহারা মরুভূমির গভীর থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। ২০১১ সালে স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে ওই এলাকার মানুষ সেকেলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
জিনতান শহরের নাফুসা পাহাড়তলির জলাশয় থেকে ট্রাকে করে খুব কষ্ট করে সাধারণ মানুষের কাছে পানি পৌঁছানো হয়। এভাবে যেটুকু পানি সরবরাহ করা হয়, তা স্থানীয় ৬০ হাজার মানুষের পানির চাহিদার অর্ধেকেরও কম। শহরের সব বাসায় পানি পৌঁছায় না। যেসব নাগরিকের বাসায় পানি পৌঁছায়, তা তাঁদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এ জন্য ট্রাকভাড়া বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়ে যায়।
সিটি হলের পানি বিভাগের পরিচালক আবদুল্লাহ আল-রাম্মাহ পানির ‘তীব্র সংকটের’ কথা স্বীকার করে বলেন, পানি বিতরণ ব্যবস্থা এখনো সত্তরের দশকেই পড়ে আছে। পাহাড়ের আশপাশের অন্যান্য অঞ্চলেও এভাবেই পানি সরবরাহ করা হয়। জিনতানের জনসাধারণের জন্য পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই। সাধারণ মানুষ ব্যবহারের পর ময়লা পানি সেপটিক ট্যাংকের ভিতর ফেলে, যা ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে। পরে ওই দূষিত পানি তুলে পুনরায় ব্যবহার করে। এর ফলে অনেক মানুষ বিশেষ করে শিশুরা হেপাটাইটিস সি–এর সংক্রামণে আক্রান্ত হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অঞ্চলের একজন চিকিৎসক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
শহরের মেয়র মুস্তফা আল-বেরুনি বলেন, তাঁর শহরের সঙ্গে ‘অন্যায়’ আচরণ করা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে কোণঠাসা করে রাখ হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু শহরে কিছু মৌলিক সেবা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তা, বন্দর বা চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য সবে কিছুই নেই।

জাপায় অস্থিরতা: জাপায় হঠাৎ রদবদলের নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে হঠাৎ রদবদল ও অস্থিরতার নেপথ্যে দুটি সামাজিক অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের যোগদান ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। আর এটাকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে জ্যেষ্ঠ নেতাদের একাংশ। তাঁরা সরকারি মহলের সায় নিয়ে এরশাদকে দিয়েই কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা পদ থেকে জি এম কাদেরকে সরিয়ে দেন।
দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদ বেশ অসুস্থ থাকায় ওই জ্যেষ্ঠ নেতারা দলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে আগের মতো এবারও এরশাদপত্নী রওশনকে সামনে রেখেছেন তাঁরা।
জাপাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, যে দুটি অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের যোগদানকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির উদ্ভব, তাতে বিএনপির মহাসচিব এবং এবার মন্ত্রিত্ব না পাওয়া আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের একাধিক নেতাও ছিলেন। যেটাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক’ হিসেবে সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাপার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ রাতে জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হয়। তার আগের দুই দিন তিনি দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর একটি ছিল গুলশানে বিএনপির এক নেতার বাসায়। সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সম্মানে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। জি এম কাদের আমন্ত্রিত হিসেবে যোগ দেন। ওই অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকে ছিলেন। আওয়ামী লীগের একজন সাংসদও ছিলেন, যিনি গতবার মন্ত্রিসভায় থাকলেও এবার নেই।
পরদিন সোনারগাঁও হোটেলে একটি সেমিনারে পাশাপাশি বসেছিলেন মির্জা ফখরুল ও জি এম কাদের। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ সফরকারী চীনের একজন মন্ত্রী এবং জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাসহ বামপন্থী অনেকেই। এর আয়োজক ছিলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই দুই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে জি এম কাদেরের বসা ও কথাবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে সরকারি একটি মহল, যা রওশনপন্থী জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য সহায়ক হয়।
এ বিষয়ে জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, গুলশানের ওই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি জাপার চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। তাঁর সম্মতি নিয়েই সেখানে যান। আর সোনারগাঁও হোটেলের সেমিনারে বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি বসিয়েছেন আয়োজকেরা। এ দুটি কারণেই তাঁকে পদ হারাতে হয়েছে, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। আবার হঠাৎ এমন কী ঘটল যে তাঁকে দুটি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলো, সেটাও তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ গত ১ জানুয়ারি ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলে তাঁর উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। তাঁকে সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার দায়িত্বও দেন। এরপর ২১ মার্চ রাতে ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যর্থতা’ ও ‘দলে বিভেদ’ তৈরির কথা উল্লেখ করে আকস্মিকভাবেই কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। পরদিন এক ‘সাংগঠনিক নির্দেশে’ তাঁকে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও অপসারণ করেন। ওই দিনই উপনেতার পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন রওশন এরশাদকে। এ নিয়ে দলটিতে আবার অস্থিরতা শুরু হয়।
হঠাৎ এই রদবদলের নেপথ্যে রওশন এরশাদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় একটি অংশের ভূমিকা ছিল বলে দলের ভেতরে–বাইরে আলোচনা আছে। কারণ, সাংগঠনিক দায়িত্ব ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার পদ পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে জি এম কাদেরকে এড়িয়ে চলছিলেন।
আবার তাঁকে দুটি পদ থেকে সরানোর এক সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার এক মঞ্চে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে দেখা গেছে। অনেক দিন পর দলীয় অনুষ্ঠানে দেখা গেছে জ্যেষ্ঠ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদকেও। জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রওশন ও কাদের—দুজনই দলের ঐক্যের কথা বলেছেন।
এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ পাওয়া রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বিধাবিভক্তি নেই। কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় পার্টির সবাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছেন।
জি এম কাদের গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি হচ্ছে দেশের ইতিবাচক রাজনীতির নিয়ামক শক্তি। আর জাতীয় পার্টির মূল শক্তি হচ্ছে জাতীয় যুব সংহতি। আমাদের এখন একতাবদ্ধ থাকতে হবে।’
এদিকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হিসেবে দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে, তা মানতে রাজি নন জি এম কাদের। তিনি দলের কো–চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংসদে উপনেতা—এ তিনটি পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, ‘তিন বছর হলো আমাকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আমার ওপরে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আছেন। সঙ্গে দুজন মহাসচিবও আছেন। আগে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার, তিন মাস ধরে আছেন মসিউর রহমান। ব্যর্থ হলে কী কারণে আমি এককভাবে দায়ী হব।’ তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান বিদেশে থাকলে বা তাঁর অবর্তমানে আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মেয়াদ ছিল মাত্র ১৪ দিন। এর মধ্যে চার দিন ছিলাম চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে। বাকি ১০ দিনে আমি কোন কাজে ব্যর্থ হলাম?’
জি এম কাদেরের দাবি, বর্তমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের অবর্তমানে তিনি উপনেতা হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদে তাঁর সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল এবং সংসদে প্রারম্ভিক ও সমাপনী বক্তব্য সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। জাপার সংসদীয় দলের বৈঠক করে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারে দিকনির্দেশনাও নেওয়া হয়েছে। যদিও কেউ কেউ নানা অজুহাতে বৈঠকে যোগ দেননি।
এ বিষয়ে জাপার একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জি এম কাদেরকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘ব্যর্থ’ এবং দলে ‘বিভেদ’ তৈরির অভিযোগ করেছেন স্বয়ং তাঁর ভাই ও দলের চেয়ারম্যান। এতে কার কী বলার আছে। তা ছাড়া, চেয়ারম্যান এ পর্যন্ত দলে যতজনকে পদস্থ বা অপদস্থ—যা-ই করেছেন, সবাই তা বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছেন।

অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সোহেল রানা by রুদ্র মিজান

ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ১৬৮ ঘণ্টা। পেরিয়ে গেছে সাত দিন। জ্ঞান ফিরেনি ফায়ারম্যান সোহেল রানার। অন্যদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষিরা মনে করেন দেশের বাইরে  উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো দ্রুত সুস্থ হতেন তিনি। কিন্তু সেই সাধ্য নেই দরিদ্র কৃষক পরিবারের। তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে কে? এই সংকটাপন্ন অবস্থায় সরকারের দিকে তাকিয়ে সোহেল রানার পরিবার।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ২৮শে মার্চ। সেদিন দুপুরে আগুন লাগে বনানীর এফ আর টাওয়ারে। কল পাওয়া মাত্রই ফায়ার  সার্ভিসের কুর্মিটোলা স্টেশন থেকে দ্রুত তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। একটি ইউনিটে ছিলেন ফায়ারম্যান সোহেল রানা। বহুতল ভবনে তখন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কাঁচের ভাঙ্গা জানাল দিয়ে হাত নেড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন আটকে পড়ে মানুষ। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছেন তারা। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন। সেই যুদ্ধে অংশ নেন সোহেল রানা। একপর্যায়ে ল্যাডার (উঁচু মই) দিয়ে বহুতল ভবন থেকে আটকে পড়া নর-নারীদের উদ্ধার করতে থাকেন তিনি। একে একে চার জনকে উদ্ধার করেন সফলভাবে। তারপরই ঘটে দুর্ঘটনাটি। ল্যাডারের বাস্কেটে তখন উদ্ধারকরা পাঁচ-ছয় জন। তাদের নামাতে যাবেন। ঠিক তখনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ল্যাডারটি বন্ধ হয়ে যায়। ‘মাগো’ বলে একটা চিৎকার করেন সোহেল রানা। তার পা আটকে যায় ল্যাডারে। কিছু বুঝে উঠার আগেই ভেঙ্গে কয়েক টুকরো হয়ে যায় ডান পা। টান পড়ে কোমড়ে বাঁধা তার সেফটি হুকে। নাড়িভুড়ি যেন বের হয়ে যাচ্ছিলো। অজ্ঞান হয়ে যান সোহেল রানা। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
কুর্মিটোল ফায়ার স্টেশনের  সিনিয়র স্টেশন অফিসার সুশান্ত মন্ডল জানান, ল্যাডার নিয়ে আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিচে নামাচ্ছিলো সোহেল রানা। কিন্তু ল্যাডারে সবার জায়গা হচ্ছিল না। আটকে পড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা ল্যাডারের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলো। কিন্তু ল্যাডারটি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে আসছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্লোজ হয়ে যাচ্ছিলো। তখনই হঠাৎ করে সোহেল রানার পা ল্যাডারের ভেতরে আটকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপর সহকর্মীরা তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। সিএমএইচের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাকে।
খবর পেয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসেন সোহেল রানার মা-বাবা, ভাই-বোন। সোহেল রানার ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিন মানবজমিনকে জানান, আহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনে কল দিয়ে সোহেল বলেছিলেন, ‘দুলা ভাই আমি শেষ।’ তারপরই সংজ্ঞা হারান তিনি। চিকিৎসকরা গতকাল জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর আগে উন্নতির কথা বললেও সেই কথা আর শোনাচ্ছেন না চিকিৎসকরা। জসিম উদ্দিন বলেন, সোহেল রানা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবে। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ তাকে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হোক।
সোহেল রানার সহকর্মীরা জানান, সিএমএইচে সোহেল রানার শরীরে দু’টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অপারেশনের পর থেকে এ পর্যন্ত সোহেল রানাকে ২১ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। রক্ত দিতে সবসময় প্রস্তুত তার সহকর্মীরা। তারা আশা করছেন প্রিয় সহকর্মীটি আবার সুস্থ হয়ে ফিরবে।
সোহেল রান্নার ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিন জানান,  কৃষক পরিবারের সন্তান সোহেল রানা। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। বড়  এবং একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। ছোট তিন ভাই লেখাপড়া করছেন। বিবিএ অধ্যয়ণরত উজ্জ্বল, একাদশ শ্রেণির ছাত্র রুবেল ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত দেলোয়ার। বাবা নুরুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক, মা গৃহিনী হালিমা আক্তার। হাওর অঞ্চলের এই দরিদ্র কৃষক পরিবারের হাল ধরেছিলেন সোহেল রানা। কিশোরগঞ্জের ইটনার চৌগাংগা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপরই ২০১৫ সালে ফায়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে। গত বছর থেকেই পরিবার থেকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিলো তাকে। কিন্তু সোহেল রানা জানান, এখন বিয়ে করবেন না। এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন জানান, সোহেল অল্প টাকা বেতন পান।
এই বেতনে মা-বাবা ও ভাইদের খাবার, লেখাপড়ার ব্যয় বহন করাই কঠিন। বিয়ে করলে নিজের সংসার চালাতে গিয়ে মা-বাবার সেবা করা হবে না। মা-বাবাকে আর্থিক কষ্ট দিতে চান না তিনি। তাই বিয়ের পরিকল্পনা থেকে দুরে ছিলেন। সোহেল রানা ছোটবেলা থেকেই অন্যের বিপদে সহযোগিতা করতে ভালোবাসতেন। তাই পেশা হিসেবে বেছে নেন গতি, সেবা ও ত্যাগের সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারম্যান। সেবাদিতে গিয়ে, মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে এখন নিজেই লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে। গুরুতর আহত সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার কেওরালা গ্রামে।

মোদি-মমতার তরজায় পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার জমজমাট

পশ্চিমবঙ্গে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার দুপুরে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এবং বিকালে কলকাতায় দুটি জনসভার মাধ্যমে এই প্রচার অভিযান শুরু করেছেন তিনি। একই দিনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন কোচবিহারের দিনহাটায় এক জনসভা করে মোদির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। মোদি ও মমতার তরজায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গকে অনেক  বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
রাজ্য থেকে যত বেশি সম্ভব আসন নিজেদের দখলে আনার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। বিজেপির দুটি জনসভাতেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে মোদি আপ্লুত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই জনসমাগমই বুঝিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে দিদির নৌকা ডুবতে চলেছে।
তিনি নিজে শুধু চৌকিদার নন, সকলেই যে চৌকিদার সে কথাও সকলকে দিয়ে কবুল করিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনহাটার সভায় মোদিকে এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করে বলেছেন, আগে  তোমাকে বধ করবো। তোমরা বিনাশকারীর দল। চিটিংবাজের দল। ডাকাতের দল। নোটবন্দির দল।  তোমরা আমাদের শেখাবে? মনে রাখবেন ইলেকশনটা দিল্লির, এটা বাংলার ইলেকশন নয়। ৪২-৪২ জিতবে বাংলা। মোদির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারেরও তোপ দেগেছেন মমতা। মমতার মতে, বিজেপি যদি ফের ক্ষমতায় আসে তাহলে আপনার, আমার, তফসিলি, আদিবাসী, শিখ, খ্রিষ্টান কারও অধিকার থাকবে না। দেশে আর নির্বাচন হবে না।
আর গণতন্ত্র থাকবে না। দেশটাকে দখল করে নেবে ভয় দেখিয়ে। তবে বিজেপির জনসভায় মোদি এদিন অভিযোগ করেছেন, দিদি গরিবদের লুট করছেন। দিদি গরিবের পক্ষে নেই। গরিবি খতম হলে দিদির রাজনীতি  শেষ হয়ে যাবে। মোদির মতে, পিসি আর ভাইপো বাংলাকে লুট করছে। বিজেপিকে ভোট দিয়ে বাংলায় পরিবারতন্ত্র শেষ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে দিদি বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও স্লোগান দিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন, মোদিকে দিল্লিতে বধ করবে বাংলাই। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি  দুটি ভাষণের প্রায় পুরোটাতেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শিলিগুড়ির সভায় তিনি বলেছেন, রাজ্যে দিদিই উন্নয়নের পথে স্পিডব্রেকার। তিনি বলেছেন, যে গতিতে  দেশের অন্য রাজ্যে কাজ করেছি, এ রাজ্যে সেই গতিতে কাজ হয়নি। এর কারণ কি জানেন? পশ্চিমবঙ্গে এক স্পিডব্রেকার আছে। এখানকার লোক তাকে দিদি বলে জানেন। আপনাদের উন্নয়নের স্পিডব্রেকার হচ্ছেন দিদি।
কেন্দ্রীয় সরকারের সব উন্নয়ন প্রকল্পে দিদি বাধা দিচ্ছেন। এর সঙ্গে তিনি বলেছেন, আপনাদের ভালোবাসা দিদির ঘুম ছুটিয়ে  দেবে। বাংলার মানুষ আমাকে ভালোবাসা দিয়েছে, আমি মাথা নত করে প্রণাম করি। মোদি এদিন অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলার পর তিনি বলেছেন, এই  চৌকিদার পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে চায়। জানিয়েছেন, আপনাদের চা-ওয়ালা উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আপনাদের  চৌকিদার, আপনাদের স্বপ্নপূরণে বদ্ধপরিকর। এদিন বিকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় তিনি বলেছেন, রাজনীতির জমি টলে গিয়েছে বলেই দেশবিরোধী কথা বলছেন দিদি। সেই সঙ্গে তিনি বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে হানা দেয়া নিয়ে বিরোধীরা যে সব কথা বলেছেন তারও তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই সভা থেকে কংগ্রেসেরও প্রবল সমালোচনা করে মোদি বলেছেন, কংগ্রেস যা করছে, তাতে আমাদের জওয়ানদের মনোবল নষ্ট করছে। 
ভোটব্যাংকের জন্য কংগ্রেস সবসময় সন্ত্রাসবাদের প্রতি নরম থেকেছে। মোদির অভিযোগ, কিছু লোক মোদির বিরোধিতা করতে করতে ভারত মায়ের বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। মোদি অবশ্য জনতার উদ্দেশে এদিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক, মহাকাশে স্ট্রাইক কিংবা কলকাতা  থেকে বারানসী পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করাই হোক, এগুলো কার জন্য সম্ভব হয়েছে? পাঁচ বছরে এসব কে করেছে? উত্তরটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিজেই দিয়েছেন। বলেছেন, এই মোদিই করেছেন।

মাদকের জমজমাট ব্যবসা

মাদকের ছোবলে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে সারা দেশ। পাহাড়ি পল্লী  থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়েছে এর প্রভাব। তবে বসে  নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দিনরাত অভিযান চালাচ্ছে। তারই কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো।
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ার পৌরসভার মাদকপাড়া খ্যাত ‘৮ নং ও ৯ নং ওয়ার্ডের’ শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা এখনো অধরা রয়ে গেছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মুখেও ওইসব ইয়াবা কারবারিরা আড়ালে চলে গেলেও বন্ধ হয়নি তাদের ইয়াবার ব্যবসা। মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশলে রুট বদল করে বীরবেশে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রায় সময় র‌্যাব ও পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে। চকরিয়ার ইয়াবা ব্যবসার নেপথ্যে কারা তাদের পাকড়াও করতে পুলিশের অভিযানও অব্যাহত  রেখেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে চকরিয়ায় ইয়াবা কারবারিদের আইনের জালে আটকানোর দাবি জানান সচেতন মহল। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত আছেন। তাদের একবিন্দু ছাড় দেয়া হবে না। আইনের আওতায় পাকড়াও করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে পুলিশ ও র‌্যাব’র মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিরা নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে। এদের সবাই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। তেমনি চকরিয়া  পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আস্তানা রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখ এলাকায় কয়েকটি সিন্ডিকেটের ইয়াবা গডফাদাররা মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান এলাকাবাসী। তাদের সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য বিভিন্ন সময় ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছে।
ওই সিন্ডিকেটের একজন মাদক কারবারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শীর্ষ গডফাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত। মূলত পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকাটি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ‘আড়ত ঘর’ হিসেবে চিহ্নিত। কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসে। এরপর সড়ক, সাগর, আকাশপথ ও পাহাড়ি পথে ইয়াবা চালান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ কারণে কক্সবাজারের প্রবেশমুখ চকরিয়া হয়ে বিভিন্ন জায়গা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ইয়াবা কারবারিরা বেছে নিয়েছে। টেকনাফের ইয়াবা গডফাদারদের মতো চকরিয়ায় কয়েকজন শীর্ষ গডফাদার রয়েছে। এদের মূল আস্তানা এখন ভাঙ্গারমুখ। চিরিংগায় কয়েকটি এলাকা আগে মাদকপাড়া হিসেবে খ্যাত থাকলেও, তারা এখন পুলিশি অভিযান এড়াতে পাশর্^বর্তী ৯ নং ওয়ার্ডকে বেছে নিয়েছে।
চকরিয়ায় ইয়াবা ব্যবসা করে অনেক মাদক ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের অনেক ইয়াবা কারবারি গাড়ি-বাড়ি কোটি কোটি মালিক বনে গেছেন। আলিশান বাড়িও নির্মাণ করেছে। এমন কথা এখন পুরো চকরিয়া জুড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অভিব্যক্তি তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষের আলাপচারিতায় উঠে আসছে অল্প সময়ে এত টাকা মালিত বনে যাওয়ার উৎস কোথায়! আরো নানা কথা। তাদের সম্পদের বিষয়ে তদন্তে নামার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
সাধারণ মানুষের দাবি, যারা মাদকের বিস্তার ছড়িয়ে দেশ ও যুব সমাজকে ধ্বংস করছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। চকরিয়ার ভাঙ্গারমুখ, খুঁটাখালী ও বদরখালীসহ আরো কয়েকটি পয়েন্টে ইয়াবার চালান হাতবদল হয়। চকরিয়ায় বসে কয়েকজন গডফাদার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এসব ইয়াবা কারবারিদের অনেকে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকবার তাদের বাড়িতেও অভিযান চালায়।
সূত্র জানায়, চকরিয়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শীর্ষ গডফাদাররা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ওই গডফাদারের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। তারা ফেরারি আসামিও। ওই ইয়াবা গডফাদারদের সঙ্গে সব সময় বন্দুকধারী থাকায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে না পারায় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা প্রশ্ন তুলছে।
তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে চকরিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি হিসেবে নাম উঠে এসেছে। কয়েকজন গডফাদারের নামও আছে ওই তালিকায়। সংস্থাগুলোর তালিকায় তাদের অনেক সহযোগীদের নামও রয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের প্রসার ও বেচাকেনা ঠেকাতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশের মতো চকরিয়ায়ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে থানা পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃড়খলা বাহিনী দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি অভিযানে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গঠিত টাস্ক ফোর্স। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্স মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে (২ এপ্রিল) নগরীর দারোগাপাড়া ও মরিয়মপাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১১৩ বোতল ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, বিয়ার, একটি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, রিভলবারের ১৩ পিস গুলি ও শর্টগানের ১৭ পিস গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৫শ’ টাকা ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আর ওয়ান মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী মা মনিকা সরকার (৪৫) ও ছেলে রূপক সরকার (২৫) ও মুদি দোকানদার আব্দুল হামিদ (৪৫) কে আটক করা হয়। অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হওয়ায় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছেন। অভিযানের সময় খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিঃ পরিচালক আবুল হোসেন, উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দণি) মোহাম্মদ এহশান শাহ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান খান, খুলনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিরিন আক্তার, গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক পারভীন আক্তার, ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক মোহাম্মদ হাওলাদার সিরাজুল ইসলাম, ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান রানাসহ গঠিত টাস্ক ফোসের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই এলাকায় বাসিন্দা মৃৃত সৈয়দ আলীর ছেলে হামিদ স্টোরের দোকানের মালিক আব্দুল হামিদকে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হামিদ মুদি দোকানের আড়ালে ফেনসিডিল বিক্রি করে আসছিলেন। এরপর ৫৮ নং খানজাহান আলী রোডে মরিয়ম পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা এ্যানোটনি সরকারের স্ত্রী মনিকা সরকার ও তার ছেলে রূপক সরকারকে ৬৩ বোতল ফেনসিডিল, এক বোতল বিদেশি মদ, বিয়ার, একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, রিভলবারের ১৩ পিস ও সর্টগানের ১৭ পিস গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিক্রেতার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। আটক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের আইনের মামলা দায়ের করা হবে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক পারভীন আক্তার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে আমরা নিরস্ত্রভাবে অভিযান পরিচালনা করি। বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকে। অভিযানে গেলে যদি কোনো মাদক বিক্রেতা আমাদের ওপর হামলা চালায় আমাদের তখন করণীয় কিছুই থাকে না, কারণ আমার নিরস্ত্র অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করি। তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ অভিযানে আমাদের যেতে হচ্ছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথভাবে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স এর একটি টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকের চালান ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
আটক মাদক ব্যবসায়ী রূপক সরকার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, যশোরে কসমেটিক ব্যবসায়ী আয়েশা নামে এক পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রেতার কাছ থেকে এই ফেনসিডিল চালানটি খুলনায় আনা হয়েছে। মরিয়মপাড়া এলাকার বাসিন্দা জানান, হিমো নামে জনৈক ব্যক্তি এই এলাকায় মাদকের নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত রয়েছে। সে এই এলাকায় তার সহযোগিদের দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ব্যবসার পরিচালনা করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জনৈক হিমু তার সহযোগীদের মাধ্যমে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মাদকের ছোবল এখন কুলাউড়ার আদিবাসী পল্লীগুলোতে। সমতলে মাদকের ক্রমবর্ধমান অবাধ ছড়াছড়ি থাকলেও বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলার আদিবাসী অধ্যুষিত পাহাড়ি পল্লী (পুঞ্জি) গুলোতে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা অতিসহজেই পুঞ্জিগুলোতে মাদকের রমরমা ব্যবসা নির্ভয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার নিয়ে আদিবাসী পুঞ্জির এক হেডম্যান কুলাউড়া থানায় লিখিত একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকসামগ্রী অতি সহজেই আসছে। যা কুলাউড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। কুলাউড়ার ৩১টি আদিবাসী পুঞ্জিতে খাসিয়া-গারো সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস দীর্ঘদিন থেকে। কিছুদিন থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা এসব মাদকসামগ্রী পাহাড়ে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে মাদক সেবন করে আদিবাসী পুঞ্জিগুলোতে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্কুলপড়–য়া শিক্ষার্থীরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। মাদক সেবন করে অনেকে মাতলামি করে, আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। যারফলে তাদের পারিবারিক বন্ধনেও প্রভাব ফেলছে। তবে সচেতন আদিবাসীরা পুঞ্জিগুলোতে মাদক নিরসনে গণস্বাক্ষর সংবলিত লিখিত অভিযোগ কুলাউড়া থানাসহ প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে দিয়েছেন। এসব অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের সাহেব টিলাপুঞ্জির বাসিন্দা জেনেন স্নাল (৫০) দীর্ঘদিন থেকে প্রকাশ্যে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক সামগ্রী বিক্রি করে আসছে। চা-বাগানের চিহ্নিত এক মদ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আঁতাত করে তার পুঞ্জিতে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন। এতে কেউ প্রতিবাদ করলে জেনেন স্নাল হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আমুলী পুঞ্জির হেডম্যান  ও আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন (কুবরাজ) এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আশাক্রা বলেন, মাদক থেকে আমাদের প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের সম্প্রদায়ের দু’-একজন মাদক বিক্রয়ে পাহাড়ি এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করছেন। মাদক নির্মূলে আমুলী, পুঁটিছড়া, নূনছড়া ও ভালাইমা পুঞ্জির দেড় শতাধিক আদিবাসীর গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছি। আমরা পাহাড়ে মাদকের ছোবল চাই না।
অভিযোগের বিষয়ে সাহেব টিলা পুঞ্জির জেনেন স্নাল প্রথমে বলেন, মদ বিক্রির বৈধ কাগজপত্র আছে। পরে কথা পাল্টে বলেন, এগারো জনের একটা পারমিট রাঙ্গিছড়া চা-বাগানের নরসামলু রাজভরের কাছ থেকে নিয়ে ১৯৯৯ সাল থেকে মদ বিক্রি করে আসছি। আমি নিজে মদ খাই এবং মানুষদের মদ খাওয়াই।
কর্মধা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, কুলাউড়া থানার এসআই সানাউল্ল্যাহ বলেন, পাহাড়ি গহীন এলাকা হওয়ায় সেখানে যেতে পারিনি। তবে নরসামলু রাজভরের ছেলে একটা কাগজ দিয়ে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ফটোগ্রাফি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তার হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চার শতাধিক নেতৃস্থানীয় আলোকচিত্রশিল্পীর উপস্থিতিতে ম্যানহাটানের জিগফেল্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় ৩৫তম ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। আলোকচিত্রের ক্ষেত্রে এটি দুনিয়ার শীর্ষ মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসাবে বিবেচিত হয়। শহিদুল আলমকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে স্পেশাল প্রেজেন্টেশন ক্যাটাগরিতে। অনুষ্ঠানে তার  ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এতে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন প্রদান, অতঃপর গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গটিও রয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শহিদুল আলম বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সে ব্যাপারে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
যেকোনো অবস্থায় ক্যামেরা হাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে সেই প্রতিবাদ তিনি চালিয়ে যাবেন। পৃথক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। তাই আমার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের জন্য গ্রহণ করেছি এই অ্যাওয়ার্ড। আমাদের বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, আমরা যে সংগ্রামী এবং স্বাধীনচেতা সেটারই স্বীকৃতি এই অ্যাওয়ার্ড। তাছাড়া আলোকচিত্রশিল্পে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি ও অর্জন তার প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড দেয়ার মধ্যদিয়ে।
এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও চারজন আলোকচিত্রীকে ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় প্রখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী মিজ রোজালিন্ড ফক্স সলোমনকে।
৩৫তম ইনফিনিটি অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকায় শহিদুল আলম সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৮ সালের টাইম ম্যাগাজিন পারসন অব দ্য ইয়ার শহিদুল একজন আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করেন। ১৯৮৪ সালে দেশে ফিরে ফটোগ্রাফি শুরু করার আগে তিনি জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রচারণায় অংশ নেন। পরবর্তীকালে তিনি দৃক নামে একটি স্বনামখ্যাত আলোকচিত্র লাইব্রেরি এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি প্রবর্তন করেন ছবিমেলা নামে একটি আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসবের। তিনি বিভিন্ন সময় দুনিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, কেমব্রিজ ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর এবং রয়েল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সম্মানীয় ফেলো। ২০১৮ সালে তিনি সরকারি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে কারারুদ্ধ এবং নির্যাতিত হন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

রংপুরের তারাগঞ্জ: রাস্তার পাশে পুকুর খনন করে বালুর ব্যবসা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট-ঘোনপাড়া রাস্তার পাশে পুকুর খনন করে বালু তুলছেন এক ব্যক্তি। এসব বালু আবার ট্রাক ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এতে ধুলা ওড়ায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ছয়টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পাশাপাশি বালু তোলায় গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাস্তাটি রক্ষা এবং নিজেদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ওই ছয় গ্রামের ৬৩ জন বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ২৮ মার্চ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই বিষয়ে ইউএনও আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বৈদ্যনাথপুর, রঘুনাথপুর, পূর্ব রহিমাপুর, খানপাড়, বাঙালিপুর, ঘোনপাড়াসহ ছয়টি গ্রাম। গ্রামগুলোর ভেতর দিয়ে চলে গেছে বুড়িরহাট-ঘোনপাড়া কাঁচা রাস্তা। ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন ছাড়াও ছয়টি গ্রামের মানুষ বুড়িরহাট বাজার ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। কিন্তু ১৫ দিন ধরে রহিমাপুর গ্রামে যাদু মিয়া তাঁর বাড়ির পাশে তিন একর জমিতে ওই রাস্তার গা ঘেঁষে পুকুর খনন করে বালু তুলে ট্রাক ও ট্রলিতে করে ওই রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া বেপরোয়াভাবে ট্রাক-ট্রলিগুলো চলাচল করায় ধুলায় ছেয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। ধুলার কারণে রহিমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ওই ছয় গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ঘোনপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান অভিযোগ করেন, ‘ওই রাস্তা দিয়ে দিনরাত ৩০-৩৫টি ট্রাক-ট্রলি খোলা অবস্থায় বালু বহন করছে। এতে ওই আট গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে বাইসাইকেল-রিকশা তো দূরের কথা, হেঁটেও ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। ধুলোয় পুরো শরীর সাদা হয়ে যায়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বালু বহন করায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ও দেবে গেছে। রাস্তার পাশে খনন করা হচ্ছে পুকুর। মাটি ভর্তি ট্রাক ও ট্রলিগুলো ওই রাস্তা দিয়ে চলছে। ট্রাক ও ট্রলি চলাচল করায় ধুলা উড়ছে। ধুলা থেকে রক্ষা পেতে পথচারীরা চোখ, মুখ ও নাক ঢেকে চলাচল করছে।
কুর্শা কাজীপাড়া মহিলা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আনিছুল হক অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় রাস্তার পাশে পুকুর খননের নিয়ম না থাকলেও রহিমাপুর গ্রামের যাদু মিয়া পুকুর খনন করছেন। বাধা দেওয়ার পরেও তিনি শুনছেন না। এতে ওই রাস্তাসহ তাঁর দুই একরের লিচুবাগান ও গ্রামের আরও অনেকের জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা ও লিচুবাগান ওই পুকুরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রহিমাপুর গ্রামের বাসিন্দা মনমোহন রায় বলেন, ‘পুকুরটি আমার বসতঘরের ১০০ গজ সামনে খনন করা হচ্ছে। ট্রাক ও ট্রলির শব্দে রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পর থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত লোকজন আমাকে নানা রকম হুমকি দিচ্ছেন।’
পূর্ব রহিমাপুর গ্রামের নুরুজ্জামান বলেন, রাস্তার ধারে যাদের বাড়ি, ধুলার কারণে তারা ঘরের জানালা খুলতে পারে না। জানালা খুললে ঘরের কাপড়চোপড় ও আসবাব ধুলায় নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, বুড়িরহাট-ঘোনপাড়া কাঁচা রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। দিনরাত মাটি-বালু বোঝাই ট্রাক-ট্রলি চলাচল করায় রাস্তা বেহাল হয়ে গেছে। পাঁচ দিন আগে ওই ছয় গ্রামের অর্ধশতাধিক বাসিন্দা তাঁর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি ইউএনও ও পুলিশকে জানিয়েছেন।