Thursday, October 9, 2014

গ্রাম মেতেছে ঈদের আনন্দে : নগরী ফাঁকা by ওমর ফারুক

‘চিরচেনা সবুজের প্রতিটা বাঁকে, প্রিয়তমা প্রিয়জন সারাণ ডাকে’Ñ প্রিয়তমা আর প্রিয়জনের ডাকে শহরের কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক মানুষেরা ঈদের ছুটিতে ছুটে এসেছেন গ্রামে। মমতাময়ী মা, স্নেহময় বাবা, আদরের ভাই-বোন আর ছোটবেলার খেলার সঙ্গীদের প্রিয় সান্নিধ্যে। প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে তাই বাঁধভাঙা ঈদ আনন্দে মেতেছে গ্রাম। নিখাদ এ আনন্দের ঝলকানিতে রাতের আঁধারেও ফুটেছে রঙিন আলো। জেগে উঠেছে গ্রাম। গ্রামীণ জনপদে লেগেছে আনন্দের ছোঁয়া। স্বজনদের সম্মিলন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের প্রতিটি গ্রাম। ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে শহরবাসী কারো কারো স্বল্পকালীন উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট জীবনধারায় এনে দিয়েছে দ্যোতনা। শৈশবের স্মৃতিঋদ্ধ জনপদ স্বল্প সময়ের জন্য এনে দিয়েছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন চিত্র ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। খোলা ও ফাঁকা নগরীতে প্রাণখুলে চলতে পেরেছে নগরবাসী। কোথাও কোনো যানজট ও জনজট নেই। ছিল না লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। সর্বত্র ছিল মুক্ত হাওয়ার মুক্ত প্রাণের প্রতিধ্বনি।
গতকাল বুধবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে অফিস-আদালত খোলা ছিল; কিন্তু সুমসাম নীরবতা ছিল নগরজুড়ে। অফিস-আদালত খুললেও ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ পুরো নগরীর সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত হয়ে উঠতে আরো কয়েক দিন লাগতে পারে। ব্যতিক্রম রয়েছে বন্দর পরিস্থিতি। ঈদের ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরে পুরোদমে কাজ চলেছে। বন্দরের বিভিন্ন জাহাজে আমদানি-রফতানি পণ্যের কনটেইনার ওঠানামা করেছে। বন্দর থেকে ডেলিভারিও পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। ঈদের টানা চার দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটননগরী কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম। চার দিকে সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ।
প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার নানা অনৈক্যের বাতাবরণ ঝেড়ে ফেলে কোরবানির ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের গ্রামগুলো আনন্দে ছিল উদ্বেল। উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে গ্রামগুলো। স্বজনদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের সহপাঠী ও গ্রামের বন্ধুবান্ধব বহু দিন পর একসাথে হয়ে মেলে ধরেছে স্মৃতির ডালা। ইট-পাথরের গড়া নগরজীবনের নানা ভোগান্তি আর বুকে চাপা সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছে একে অপরের সাথে।
এ দিকে নগরীর অনেকের দুঃখ এ মুক্ত পরিবেশের স্থায়িত্ব না হওয়া নিয়ে। নগরে বেড়াতে আসা পটিয়ার ফরিদা আকতার ফারিন বললেন, এমন স্বাচ্ছন্দ্যময় নগরী কার না ভালো লাগে? কিন্তু এই নগরী তো আমাদের চেনা জানা পথ নয়। এই চিত্র তো অস্থায়ী। আর ক’দিন পরই তো কোলাহল বেড়ে যাবে নগরীতে। উবে যাবে নগরীর এই মুক্ত হাওয়ার মুক্ত প্রাণ। তবে প্রাণবন্ত আমেজের এই নগরীতে ভোগান্তি, দুর্ভোগ ও কষ্টের কমতি ছিল না। ফাঁকা নগরীতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা ঈদের দোহাই দিয়ে যেভাবে পারছে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। যাত্রীরাও একপ্রকার বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছে। এবারের কোরবানির ঈদে ভিন্ন চিত্র অবলোকন করা হয়েছে। দেশের অন্য জেলার অনেকেই এবার নিজেদের গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ঈদ করেছে চট্টগ্রামে। সড়কের বেহাল অবস্থা, ট্্েরনের টিকিট কালোবাজারে চলে যাওয়া, একইভাবে বেসরকারি বাসের টিকিটও ট্্েরনের টিকিটের মতো কালোবাজারি জেঁকে বসা, ঈদে বিআইডব্লিউটিসির লঞ্চের চরম স্বল্পতাসহ নানা কারণে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। এমনই একজন আশুগঞ্জের সাব্বির আহমদ। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, ১০ বছর যাবৎ ঈদুল আজহা করেছি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে, এবার সড়কের অবস্থা ভালো না থাকায় চট্টগ্রামেই ঈদ করেছি। আর্থিক অনটনের কারণেও অনেকে বাড়িতে না গিয়ে নগরে থেকে গেছেন বলে জানালেন একটি বেসরকারি অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম।
ঈদের একটানা চার দিনের ছুটির আমেজে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখনো উপচে পড়া ভিড়। টানা ছুটির ফলে ফাঁকা নগরীতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো নির্মল আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিশুপার্কগুলো শিশু-বুড়ো, তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে একাকার হয়ে গেছে। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে বিনোদন কেন্দ্রগুলো ফিরে পেয়েছে প্রাণ।

যার ইচ্ছা হরতাল ডাকো by সালাম সরকার

ইদানীং খুব অস্থিরতায় ভুগছি। কিভাবে হরতাল ডাকা যায়? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে হরতাল ডাকার ব্যাপারে কেমন উৎসাহবোধ করছি। বিরোধী দল, সরকারি দল, শরিক দল, অঙ্গসংগঠন থেকে শুরু করে যার ইচ্ছা সেই হরতাল ডাকতে পারে। ব্যাপার অনেকটাই এমনÑ ও পারলে আমিও পারি। এমন গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড দেখে সচেতন নাগরিক হিসেবে কিভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকি? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও হরতাল ডাকব।

প্রথমে হরতাল ডাকব পরিবারে। উদ্দেশ্য স্ত্রী, ছেলেমেয়েদের সতর্ক করা। তারা যখন যা ইচ্ছা হয় তাই করবে, নতুন নতুন আবদার করবেÑ তা হবে না। আমার কথা গুরুত্বসহকারে শ্রবণ করতে হবে এবং মানতে হবে। তা না হলে হরতাল ডাকব। পরিবারের সদস্যদের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদস্বরূপ ১২ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির আহ্বান করব। অবশ্য দাবি-দাওয়ার ওপর নির্ভর করে কত ঘণ্টার হবে কর্মসূচি। পরিবারের সদস্যরা হরতাল প্রতিরোধে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারবে। উভয় পক্ষের আলোচনার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কর্মসূচি বা করণীয় কী?
যদি আলোচনায় বসতে না চায় তাহলে পরবর্তী কর্মসূচি আরো কঠোর হবে। এতেও যদি আলোচনা ফলপ্রসূ না হয় তাহলে প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। সংসারে আগুন জ্বলবে দাউ দাউ করে। আসবাবপত্রে আগুন জ্বলবে অনবরত। এ আগুন থামবে না। হরতালের কর্মসূচি যদি শান্তিপূর্ণভাবে পালন হয় তাহলে পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা করব। সফল হলে জাতীয় পর্যায়ে হরতাল-অবরোধ ডাকার সম্ভাবনাও আছে।
‘নাম নাই দাম নাই সুন্দর আলীর ভাতিজা’ মার্কা লোকেরা যদি হরতাল-অবরোধ ডাকতে পারে, আমি কেন পারব না। আমি তো স্বীকৃত ‘সরকার’। সরকার বংশের ছেলে। দাদা-বাবার নামের পাশে ‘সরকার’ ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। এখন আমার নামের পাশেও সরকার উপাধি ব্যবহৃত হচ্ছে। উপাধির যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের জন্য হলেও হরতাল-অবরোধ ডাকা উচিত। জন্মের পর থেকে বংশের প্রভাব দেখে আসছি। আত্মস্বীকৃত বংশ। বংশের একটা পাওয়ার আছে না! এই পাওয়ার দেখালে অসুবিধা কোথায়?
পাওয়ারের কথা বলতেই মনে পড়ে গেল একটি গল্প। শোনা গল্প নিজের মতো করে বলছিÑ ঢাকায় বসবাসরত একজন লোক স্ত্রীকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন ঢাকা দেখার জন্য। অনেক ঘোরাঘুরির পর স্ত্রী বলল, তুমি এত দিন ধরে ঢাকায় থাকো, তোমার তো কোনো পাওয়ার দেখলাম না। স্ত্রীর এমন কথায় লোকটির সম্মানে আঘাত লাগল। পাওয়ার দেখানোর জন্য ত্ব্রিত রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে লাল গামছা দেখাল। লাল সঙ্কেত দেখে ড্রাইভার ট্রেন থামিয়ে দেন। স্ত্রী এমন কাণ্ড দেখে আশ্চর্য হলো, স্বামীর কত পাওয়ার? ড্রাইভার নেমে এসে প্রশ্ন করলেন, কেন লাল সঙ্কেত দেখাল। লোকটি বলল, এমনি। শুনে ড্রাইভার রাগে লোকটির গালে বড় একটি চড় বসিয়ে দিলেন। চোট সামলাতে না পেরে রাস্তায় পড়ে গেল। স্ত্রী হতবাক। প্রশ্ন করল স্বামীকে। এটা কী হলো। লোকটি গাল ধরে বলল, বউ, আমার পাওয়ার আমি দেখাইলাম, উনার পাওয়ার উনি দেখাইলেন।
পাওয়ারের বিষয় যখন উঠল, তখন না বললেই নয়। বর্তমানে দেশে পাওয়ারসর্বস্ব দলের সংখ্যা যে কত, গুনে বলা যাবে না। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আছে, যারা পাওয়ার খাটানোর জন্য হরতাল-অবরোধ এমনকি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। যার ইচ্ছা হয় সে নতুন দল গড়ে তোলে। গণতন্ত্র বলে কথা। গণতন্ত্রের জন্য সবাই উদগ্রীব।

অভিমত : গ্রহীতা দোষী হলে দাতা কেন নয় by রিন্টু আনোয়ার

তারা সম্মানে মহীয়ান। পদ-পদবিতে মহোদয়-মহাশয়। রাষ্ট্র তাদের এ সম্মানের আসন দিয়েছে। যোগ্যতা আছে বলেই তো তারা এমন আসন পেয়েছেন। প্রতিযোগিতামূলক কঠিন পরীার মাধ্যমে সরকারি উচ্চ শ্রেণীতে বসতে পেরেছেন; কিন্তু কার্যকলাপে তারা মাঝে মধ্যেই এই মেধা ও সততার চিহ্ন রাখছেন না। পেশাদার জালিয়াতদেরও হার মানিয়ে দিচ্ছেন। সর্বশেষ করলেন আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের অহঙ্কার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। চেতনার কী দশা তাদের! কী নমুনা নৈতিকতার! জালিয়াতির দৌড়ে তারা নির্ঘাত চ্যাম্পিয়নই হবেন বলা যায়। আবার লজ্জাহীনতায়ও শীর্ষত্ব পাবেন আশা করা যায়। তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি প্রমাণ হয়েছে। তাই পাঁচ সচিবের চারজনের সনদ বাতিল। একজনের করা হয়েছে স্থগিত। সিদ্ধান্তটি নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। এরপর দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। ভুয়া এই মুক্তিযোদ্ধা সচিবদের ছবিসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদটি ছাপা হয়েছে। গত ক’দিনে গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে ‘মহোদয়’দের নাম ও ছবি। কোনো রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মানে জাতির মেধাবী সুযোগ্য সন্তান। শিাজীবনে তারা ছিলেন কৃতী ছাত্র। সামাজিক জীবনে সম্মানের। পারিবারিক জীবনে গর্ব। অথচ কী মেধা এবং শীর্ষত্ব দেখালেন তারা জাতিকে। অভিযোগ ওঠার পরও তারা টলেননি। লজ্জাও পাননি। বহাল তবিয়তে আরামকেদারা অলঙ্কৃত করে রেখেছেন। সরকার থেকেও তাদের কোনো ভর্ৎসনা বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, এমন খবর পাওয়া যায়নি, বরং উৎসাহ ও সাহসই পেয়েছেন। এতে তাদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে। লজ্জাহীনতা হয়েছে আরো গাঢ়। তদন্ত চলতে থাকা অবস্থায়ও কেউ ভাব বা ভঙ্গি কোনোটাতেই কমতি দেখাননি। পদত্যাগ বা দুঃখপ্রকাশ করে শেষ আব্রুটুকুও রার চেষ্টা করেননি। একজন তো প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিউ ইয়র্ক সফরেও গেছেন। তাদের লজ্জা আসলেই ফরমালিন বা কোনো কেমিক্যাল মাখা। তাই মান-অপমানের ধার ধারেননি সর্বোচ্চ শ্রেণীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা একজন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়ে পদোন্নতি ও চাকরির বয়স বাড়ানোসহ সুযোগ সুবিধা নেবেন, এটা কেউ কল্পনা করতে পারে না। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, এমন ব্যক্তিদের কেমন শাস্তি হতে পারে? তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলই কি যথেষ্ট? এ ছাড়া জাল করা তো জালিয়াতিই। জাল সনদ বাতিল হওয়া, না হওয়াতে তেমন তফাত কোথায়? সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তার অপরাধের বিভাগীয় বিচারের ভার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের; কিন্তু এটি কি যেনতেন অপরাধ? তাদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে জালিয়াতদের নিন্দা বা খারাপ বলার নৈতিক অধিকার আর থাকবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের শেষ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি দেবে কি না বা দিতে পারবে কি না এ প্রশ্নও রয়েছে। কারণ অতীতে দেখেছি রাজনৈতিক কারণে এ দেশে বিশেষত প্রশাসনে বড় বড় অনেক অপরাধের বিচার হয় না। এখন অভিযুক্ত এই মহাশয়রা যে এই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে ব্যবহার করবেন না, এর কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? তাদের এত দূর আসার পেছনে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক কানেকশনই হয়তো বেশি প্রয়োগ হয়েছে। সরকার কেন এ ধরনের অসৎ ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে? তবে সরকারের কোনো ব্যক্তি এ রকম জালিয়াতির পেছনে প্রণোদনা জুগিয়ে থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। শোনা যায়, এ কাণ্ড ঘটানোর পেছনে ভিন্ন কিছু অবশ্যই রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি, ব্যবসায়, খবরদারি করার একটি মওকা এ দেশে প্রচলিত আছে বহু দিন ধরেই। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা না খেয়ে মরছেন। তারা রিকশা চালিয়ে, মুটে-কুলির কাজ করে জীবন সাঙ্গ করছেন, এমন খবরের সাথে আমরা পরিচিত। শেষমেশ প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পদবিধারী রাজকর্তা সচিবেরাও দেখালেন, তারা কত দূর যেতে পারেন। খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবই যখন এই অপরাধ ঘটালেন তখন দেশটির কী ভাবমূর্তি দাঁড়াল? মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই বা কী দশা হলো? অথচ এখন মতায় আসীন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তি।
জাতিগতভাবে আমাদের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। স্বর্ণের ক্রেস্ট দেয়ার নামেও মুক্তিযুদ্ধের সাথে প্রতারণা করা হলো। বিদেশী বন্ধুদের কাছে বাংলাদেশের সম্মান হানি ঘটল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকার কথা বলেও এ দেশে কম দুর্নীতি হয়নি। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করতে হচ্ছে, এর চেয়ে দুঃখজনক ও অবিশ্বাস্য আর কী হতে পারে? এক সরকার যাবে আরেক সরকার আসবে, আবার নিজেদের সুবিধামতো মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হবে? এ নিয়ে ধান্ধাবাণিজ্য আর কত? ক’দিন আগে খবর পাওয়া গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন-চারজন শিক্ষকেরও মুক্তিযোদ্ধা সনদ আছে, এ উসিলা দিয়ে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন। কর্তৃপ তাদের সেই সুযোগ-সুবিধা হাতানোর অনুকূল পরিবেশ করে দিয়েছে। অর্থ কী দাঁড়াল? এমন কাজ সচিবেরা করলে শিকেরাও পারেন। অথবা শিকেরা করলে সচিবেরাও পারেন। তাহলে বাকি থাকলেন কারা? এ রকম শিক ছাত্রদের কী শিা দেবেন, আর এ রকম শিকদের ছাত্ররা এক সময় প্রশাসনে ঢুকে চেয়ারে বসে কী-না করবেন।
প্রশাসনে অনেক সিনিয়র, সৎ, দ, যোগ্য কর্মকর্তা রয়েছেন যারা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত। তাদের অনেকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অথবা চাকরিচ্যুত। ওএসডির সংখ্যাও বেশুমার। এ েেত্র ‘যুক্তি’ হচ্ছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের পোষ্য-তোষ্য ছিলেন। তাই তাদের এমন শাস্তি। অর্থাৎ পোষ্য-ভোজ্য হতে হবে বর্তমান সরকারের। এই নিয়মে আগামী দিনে নতুন সরকার তার আগের সরকারের তোষ্যদের বিতাড়িত করবেÑ এটা নিয়মে পরিণত হতে বসেছে।
মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ ভুয়া বিভিন্ন সনদ ও দলবাজির গুণে পদ-পদবি বাগিয়ে সুবিধা হাসিলের নজির অনেক। সঠিক তদন্ত হলে ওই পাঁচ গুণধরের মতো আরো বহু নাম বেরিয়ে আসবে। এই ভুয়ারা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। একটি অন্যায় আরেকটি অন্যায়কে প্রলুব্ধ করে। তাই এ শ্রেণীর ভুয়াদের অপকাণ্ডে নতুন ভুয়া জন্মাবে, তা নিশ্চিত বলা যায়। এ রকম সনদ কর্তৃপ দিয়েছে এবং সনদের ছুতায় যারা সুবিধার ডেকচি খুলে দিচ্ছেন যারা তারাও কি এর দায়মুক্ত? গ্রহীতা দোষী হলে দাতা নির্দোষ হন কিভাবে?
রিন্টু আনোয়ার
rintuanowar@gmail.com

স্মরণ : ড. আখতার হামিদ খান

কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ড. আখতার হামিদ খান ছিলেন একাধারে কবি, শিক্ষাবিদ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পত্রিকার সম্পাদক, সমাজবিজ্ঞানী, উন্নয়নকর্মী এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এ দেশের মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে স্মরণীয় হয়ে আছেন। সমবায় মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন অসংখ্য কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষকে। হতদরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক প্রয়োজনে সমবায়কে নতুন রূপ দিয়েছেন। সৃষ্টি করেছেন এমন একটি মডেল, যাতে সদস্যরা গণতান্ত্রিকভাবে ‘একজন এক ভোটে’র ভিত্তিতে আইনগতভাবে সংগঠিত হতে পারে। সঞ্চয়কে পুঁজিতে পরিণত করে নিজেদের প্রয়োজনেই বিনিয়োগ করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যার মাধ্যমে সমাজে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে পারে। উত্তর ভারতের আগ্রায় জন্মগ্রহণকারী এই মহান পুরুষ ১৯৩৪ সালে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। আইসিএস অফিসার হিসেবে কর্মজীবনের বেশি সময়ই তিনি পূর্ববাংলায় চাকরি করেন।
১৯৪৩-এর মহামন্বন্তরের সময় ইংরেজ শাসকদের উদাসীনতায় তিনি এতটাই ব্যথিত হন যে, সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি করাচি চলে যান এবং সেখান থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন। এই কলেজে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। এখানেই গ্রামের উন্নয়ন সম্পর্কে তার গভীর আগ্রহ এবং তৃণমূলপর্যায়ে উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈপ্লবিক ধারণার বিকাশ ঘটে। তিনি কৃষকসহ শ্রমজীবীদের সংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে।
১৯৫৮ সালে পল্লী উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য আমেরিকার মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গমন করেন। ফিরে এসে ১৯৫৯ সালে তিনি কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রতিষ্ঠা করেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ের এই মডেলটি তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করে এবং এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়ে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে আখতার হামিদ খানকে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করতে হয়। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এলে তার অসামান্য কাজের জন্য কুমিল্লা ফাউন্ডেশন তাকে স্বর্ণপদক দেয়। ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের       শাসনামলে তিনি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সত্তর দশকের শেষ দিকে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮০ সালে আখতার হামিদ খান পাকিস্তানের করাচির ওরাঙ্গি উপশহরে বাস্তুহারা কলোনির অধিবাসীদের কল্যাণে পাইলট প্রজেক্ট চালু করেন। এটা এশিয়ার একটি বৃহত্তম ‘এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে চালু রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ৮৫ বছর বয়সে এই মনীষীর জীবনাবসান হয়।

ঢাকার রাস্তাজুড়ে অবৈধ তোরণ by অরূপ দত্ত ও সামছুর রহমান

রাজপথ বা সড়কে গর্ত করে তোরণ তৈরি অবৈধ হলেও সরকারি দলের নেতারাই তা মানছেন না। ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি করপোরেশনও। অথচ এর ফলে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছে রাজধানীবাসী। এবারও ঈদ ও পূজা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রচুর তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো কোনো তোরণে ব্যানার টানিয়ে রাজনীতিবিদেরা এলাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেক তোরণে কোরবানির পশুর হাটের ব্যানার টানানো হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে ঘুরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৯টি তোরণ পাওয়া গেছে। এগুলোর কোনো অনুমোদন নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, তোরণ তৈরির বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে কখনোই অনুমোদন নেওয়া হয় না। করপোরেশনও কোনো অনুমতি দেয় না। তাই এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ।
আনছার আলী খান বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পর অবৈধ এসব তোরণ ভাঙার কাজ শুরু করা হবে। তিনি জানান, তোরণ তৈরি নিয়ে একটি আইন করার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। সংসদে আইনটি পাস হলে অবৈধ তোরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এ এনামুল হক বলেন, কোনো অনুমতি ছাড়া তোরণ নির্মাণ করে মানুষের সমস্যা বাড়ানো হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব তোরণ উচ্ছেদ করা হবে।
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ চৌরাস্তার মোড়ে বিশাল এক তোরণ করা হয়েছিল ঈদুল আজহার অনেক আগেই। সেখানে এখন ‘ঐতিহ্যবাহী ধোলাইখাল হাট’-এর ব্যানার টানানো আছে। ব্যানারে হাটের ইজারাদার হিসেবে নাম আছে মোহাম্মদ আলীর। মোহাম্মদ আলী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি। ব্যানারে হাট পরিচালনায় নাম আছে নিজাম উদ্দিন নিজামসহ ২৪ জনের। নিজাম উদ্দিন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। বাকিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা।
তোরণ তৈরির জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ইজারাদার মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, হাটের ইজারা পাওয়ার অর্থ হলো তোরণ তৈরিরও অনুমোদন পাওয়া। আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
গোপীবাগ বালুর মাঠের চারপাশে কোরবানির হাটের চারটি তোরণ করা হয়েছে। এর একটি মতিঝিল মধুমিতা সিনেমার পাশে, একটি ব্রাদার্স ক্লাবের পাশে এবং বাকি দুটি কমলাপুর প্রান্তে। গোপীবাগের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে কখনো ব্রাদার্স ক্লাব মাঠে হাটের গরু রাখা হয়নি। এবার মাঠে হাটের গরু রাখায় নামাজ আদায় করা যায়নি। এন এস নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই হাটের ইজারাদার। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নাসির দেশের বাইরে থাকেন। তাঁর পক্ষের কাউকে গতকাল পাওয়া যায়নি। আবার গত জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত খামারবাড়ি মোড়ে বানানো এক তোরণে বিভিন্ন উপলক্ষে শুধু লেখা বদলানো হয়েছিল। গত মাসের শুরুতে তোরণটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিন না যেতেই একই স্থানে গত মাসের শেষের দিকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশাল এক তোরণ বসানো হয়। গতকাল এতে দেখা যায় ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাসংবলিত ব্যানার। রঙিন কাপড়ে বানানো তোরণটিতে লেখা রয়েছে ‘সৌজন্যে: মনি সিং। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা’। গতকাল ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে এই এলাকার সাংসদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনি সিং এই এলাকায় ব্যবসা করে। সে এলাকাবাসীকে পূজা ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। আমি বলে দিব আজকের মধ্যে সরিয়ে নিতে।’
পলাশী মোড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অস্থায়ী বাজারের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে আরেকটি তোরণ। এখানে আরেকটি তোরণ প্রায় চার বছর ছিল। গত ২৫ আগস্ট প্রথম আলোতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নড়বড়ে তোরণটি ভেঙে ফেলে। নতুন করে তোরণটি বানানো হয়েছে গত মাসের শেষের দিকে। তোরণটি বসিয়েছেন হাটের ঠিকাদার শেখ মোহম্মদ আলমগীর।
ইডেন কলেজের মূল ফটকের সামনে আছে একটি তোরণ। এর বাশঁগুলো বাঁকা হয়ে আছে। লাগানো ব্যানারগুলো ছিন্নভিন্ন। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের চৌরাস্তার প্রতিটিতেই একটি করে তোরণ দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি হাটের তোরণ। বাকি তিনটিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নামে ব্যানার লাগানো রয়েছে। ১৫ আগস্ট শোক দিবসের বাণী এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের দাবি জানিয়ে লাগানো ব্যানারগুলো জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে গেছে।

রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক সাইদের বসানো তোরণটি স্থায়ী হয়ে গেছে। বিভিন্ন উপলক্ষে তোরণটির লেখা, ব্যানার পরিবর্তন করা হয়। গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, তোরণটিতে ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা পাশাপাশি লাগানো। তোরণটির কারণে রাস্তার প্রস্থ কমে যাওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ছে।
খিলগাঁও-গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী লেগুনার চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘এটা তো অনেক দিন ধইরা। কী লেখা থাকে তা তো দেখি না। এইটার জন্য গাড়ি এই রাস্তায় ঢুকাইতে সমস্যা হয়।’ গতকাল মমিনুল হক সাইদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বারবার। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।
জুরাইন রেলগেট-সংলগ্ন প্রধান সড়কের দুই পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নতুন ধরনের তোরণ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর হওয়ায় এটি ঝুঁকিপূর্ণও। ঈদুল আজহার আগে এখানে বিশাল ব্যানার টানানো হয়েছে। লেখা আছে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রিয় এলাকাবাসীকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’। অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংসদ এবং শ্যামপুর ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানজিদা খানম।
যোগাযোগ করা হলে গতকাল সাংসদ সানজিদা খানম প্রথম আলোকে বলেন, যে অর্থে তোরণ বলা হয়, এটা সে ধরনের তোরণ না। এটা রেলগেটের পাশে স্থায়ী একটি স্থাপনার মতো। আগে মাদারীপুরের চেয়ারম্যান এটা করেছিলেন। বিভিন্ন উপলক্ষে এখানে ব্যানার টানানো হয় এবং খুলে ফেলা হয়। তিনি বলেন, প্রতিবছরই বাঁশ দিয়ে আলাদা তোরণ করা হয়, এবার তিনি তা করেননি।
শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড, আদাবর থানার সামনে, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ের সামনে, কলেজ গেটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উল্টো পাশে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নামে একটি করে তোরণ বসানো রয়েছে।

দ্রুত ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ চায় এনডিএফ

পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে দ্রুত ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক জোট ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু।
বৃহস্পতিবার সিলেটের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নীলু জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে দিনি জোটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা এনপিপি, এনডিএ, ন্যাপ ভাসানী, লেবার পার্টি. ও ইসলামিক পার্টির একাংশসহ ১০টি দলকে নিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করে এনডিএফ।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান নীলু মতবিনিময় সভায় বলেন, “পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়া ঐতিহাসিক ভুল করেছেন। আগামীতে দেশের প্রতিটি নির্বাচনে এনডিএফ অংশ নেবে।”
এনডিএফ ‘সহিংসতার রাজনীতি’ করবে না জানিয়ে নীলু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনকে আখ্যায়িত করেন ‘লক্ষ্যবিহীন অভিযাত্রা’ হিসাবে।
“সে সময়ের হত্যা-নৈরাজ্যের জন্য আমিও আসামির কাঠগড়ায় একজন অপরাধী। কিন্তু আমাদের নেত্রী যিনি ছিলেন, তিনি প্রধান আসামি।”

রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, খুন ও ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান এনডিএফ চেয়ারম্যান।
অন্যদের মধ্যে এনডিপি চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার, মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোবাইদা কাদের চৌধুরী, মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, মহাসচিব হাসরাত খান ভাসানী, জাগো দলের চেয়ারম্যান আবদলু মালেক চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি, মহাসচিব আখতার হোসেন, ইসলামিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান, মহাসচিব আলী নুর মোহাম্মদ খান সাজু, এনপিপির মহাসচিব আবদুল হাই মণ্ডল, ভাসানী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মমতাজ চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির আবদুর রশীদ প্রধান, ইনসাফ পার্টির চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরী, তৃণমূল ন্যাপের চেয়ারম্যান পারভিন নাসের সুলতানা, সদস্য সচিব পরশ ভাসানী এ মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।

‘চাচা ওঠেন, আমরা ডাকাত’

‘ওরা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলল, “চাচা ওঠেন, আমরা ডাকাত।” আমি চোখ মেললে ওরা ঘরের আলো জ্বালল। আমি মুখ বাঁধা চারজনকে দেখলাম। তাঁদের হাতে আমার রান্নাঘরের দা আর বঁটি। তাঁরা আমার স্ত্রীকে ডেকে তুলতে বলল। আমার স্ত্রী স্ট্রোকের রোগী। আমি তাঁকে আস্তে ধাক্কা দিয়ে বললাম, ওঠো, বাসায় মেহমান আইছে।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে এভাবেই সাংবাদিকদের কাছে আগের রাতে নিজ বাড়িতে ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনা বর্ণনা করেন বাগেরহাটের মো. আবু সাঈদ মিঞা (৪৭)। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট শহরের সোনাতলা এপিএস ল্যাবরেটরিজের গলিতে।
আবু সাঈদ মিঞা বাগেরহাট জেলা কালেক্টরেটের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস)। তাঁর স্ত্রী জামিলা খাতুন একই কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (অফিস সহকারী)। গতকাল বুধবার গভীর রাতে একদল ডাকাত তাঁদের নির্মাণাধীন বাড়ির দোতলার জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। তারা পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, টাকাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
আজ সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আবু সাঈদ মিঞা পরিবারসহ নির্মাণাধীন বাড়ির দোতালায় থাকেন, নিচতলা ফাঁকা। দোতলার সামনের দিকের বারান্দা খোলা। এক পাশে দুটি বাঁশ দাঁড় করিয়ে রাখা। এই বাঁশ বেয়েই ডাকাতেরা দোতালায় উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ড্রয়িংরুমের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোতালায় ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য একটি বড় দরজা থাকলেও ভেতরের ঘরগুলোয় কোনো দরজা নেই। শোয়ার ঘরে স্টিলের একটি আলমারির দরজা ভাঙা। বিছানা ওলট-পালট। খবর পেয়ে আবু সাঈদ দম্পতির সহকর্মীরা সমবেদনা জানাতে এসেছেন। সকালে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই দম্পতির ভাষ্য, ডাকাতেরা তাঁদের আলমারিতে রাখা সোনার চেইন, আংটি, কানের দুলসহ প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ হাজার টাকা, একটি মুঠোফোন, ভাগনের ক্যামেরা ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এসবের আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আবু সাঈদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ডাকাতেরা বাড়ির সবাইকে ঘুম থেকে তুলে একটি ঘরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রাখে। মারধর করেনি, তবে রান্নাঘর থেকে দা ও বঁটি নিয়ে সেগুলো দিয়ে ভয় দেখিয়েছে। গুলি করার হুমকি দিয়েছে, কিন্তু অস্ত্র দেখায়নি। তারা আলমারির চাবি চায়নি, নিজেরাই আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
আবু সাঈদ বলেন, ‘ছোট চাকরি করি। অনেক কষ্টে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে বাড়িটা বানাচ্ছি। এখনো অনেক কাজ বাকি। ভাড়া বাড়িতে থাকার সামর্থ্য নেই, তাই কোনো প্রকারে দোতলা থাকার মতো করে উঠে পড়েছি। ভেতরের দরজাগুলোও বানাতে পারিনি। এই অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটল। কখনো চিন্তাই করিনি আমার এমন ক্ষতি হতে পারে।’
এ ঘটনায় মামলা করতে রাজি নন আবু সাঈদ। সহকর্মীরা মামলার পরামর্শ দিলে এই প্রতিবেদকের তিনি বলেন, ‘যা যাওয়ার গেছে। ডাকাতও ধরা পড়বে না, মালও পাব না। মামলা করতে গিয়ে পুলিশকে টাকা দিতে পারব না।’
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আযম খান বলেন, ‘সোনাতলা এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশ সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে মামলা করা হবে।’

জিএসপি পুনর্বহালে কর্মপরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের শ্রমিকদের সব ধরনের সুবিধা ও অধিকার সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ কর্মপরিকল্পনা-২০১৩’ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোমেন এ অভিমত দেন।

আজ বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বুধবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে রাষ্ট্রদূত দেখা করেন।
প্রসঙ্গত তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেন। জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশের জন্য ২০১৩ সালের জুলাইতে ১৬ দফার ‘বাংলাদেশ কর্মপরিকল্পনা ২০১৩’ ঘোষণা করে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
গত বুধবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে জিএসপি পর্যালোচনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়। জিএসপি পুনর্বহালের পূর্বশর্ত ‘বাংলাদেশ কর্মপরিকল্পনা ২০১৩’ সম্পর্কে জিয়াউদ্দিন বলেন, কর্মপরিকল্পনার অধিকাংশ শর্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিপালিত হয়েছে। অবশিষ্ট শর্তও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অল্প সময়ে বাংলাদেশের এ অগ্রগতির বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের জিএসপি পর্যালোচনায় বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতেও ইউএসটিআরকে অনুরোধ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
মাইকেল ফ্রোমেন নিজ দেশের আইনের আলোকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অনেকগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি শ্রমিকদের সব সুবিধা ও অধিকার সুরক্ষায় ‘কর্মপরিকল্পনা ২০১৩’-এর পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ন্যায্য শ্রম অধিকার চর্চার ওপরও গুরুত্ব প্রদান করেন।

পরকীয়া, প্রতারণা মামলা, অতঃপর পুরুষাঙ্গ কর্তন by মো.কামাল হোসেন

আমিনা বেগম। বয়স ২৮ বছর। গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের বন্ধ হাজিরা গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল জলিলের স্ত্রী। প্রায় ৬ বছর ধরে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন জলিল। বিবাহিত জীবনে ছয় ও দশ বছরের দু’টি ছেলে সন্তান রয়েছে জলিল ও আমিনার। স্বামী প্রবাসে থাকায় দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করতো আমিনা। চার বছর আগে আমিনার ওপর কুনজর পড়ে একই গ্রামের আফসার উদ্দিন আফসুর ছেলে এক সন্তানের জনক ফিরোজ আহম্মেদের। একই গ্রামে বসবাসের সুবাধে প্রায়ই দেখা সাক্ষাত হতো আমিনা-ফিরোজের। একপর্যায়ে আমিনাকে ফুঁসলিয়ে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে ফিরোজ। চলতে থাকে তাদের দৈহিক সম্পর্ক। নিজের সংসার ছেড়ে আমিনাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় ফিরোজ। এমনি প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসী স্বামী জলিলের পাঠানো টাকা তুলে দেয় ফিরোজের হাতে। গত তিন বছরে কৌশলে কয়েক দফায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ফিরোজ। মাস দুয়েক আগে ফিরোজকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় আমিনা। কিন্তু ফিরোজ তাতে রাজি না হয়ে কৌশলে আমিনাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে আমিনার মাঝে। দেড় মাস আগে আমিনা তার পাওনা টাকা দাবী করে ফিরোজের কাছে কিন্তু সে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে আমিনা বাদী হয়ে ফিরোজকে প্রধান আসামী করে ফিরোজের স্ত্রী মাবিয়া বেগম ও ভাই আক্তারের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। আর ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্বাস আলীর কাছে। চেয়ারম্যান আব্বাস আলী টাকা নেয়ার বিষয়ের সত্যতা পেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে মামলা করেই প্রতারণার ক্ষোভ মিটছিলনা আমিনার। তার মনের ক্ষোভ মিটানোর জন্য কৌশলে আবারও ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ফিরোজও সায় দেয় তাতে। গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর ফিরোজ দৈহিক সম্পর্ক চালানোর উদ্দেশে গভীর রাতে আমিনার ঘরে ঢুকে। আর এই সুযোগে ধারালো ব্লেড দিয়ে ফিরোজের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয় আমিনা। ফিরোজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার সরজমিনে গোপালপুর উপজেলার হাদিরা এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয়রা জানান, আমিনা ও ফিরোজের পরকীয়ার বিষয়টি এলাকার সবার মুখে মুখে ছিল। বেশ কয়েকবার তারা আপত্তিকর অবস্থায় ধরাও পড়েছে। এনিয়ে গ্রাম্য সালিশে তাদের সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু ফিরোজের কোন বিচার করা হয়নি। যার কারণে সাহস বেড়ে গিয়েছিল। এজন্য থেমে থাকেনি তাদের পরকীয়া। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ফিরোজের পক্ষে থাকায় এসব ঘটনা সে কেয়ারই করতোনা। আর গ্রামের লোকজন ভয়ে কখনোই  ফিরোজের এধরনের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
এব্যাপারে ফিরোজের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আমিনার সাথে কথা বলতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্বাস আলী জানান, আমিনা-ফিরোজের পরকীয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। তবে আমিনা ফিরোজের কাছে যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পায় এটা সত্যি। টাকা নেয়ার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও রয়েছে তার কাছে। টাকা দাবী করে আমিনা যে মামলা দয়ের করেছিল তদন্ত করে তার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন কোর্টে প্রেরণ করেছি।
এদিকে পুরুষাঙ্গ কর্তনের ঘটনায় ফিরোজ নিজেই বাদী হয়ে আমিনা বেগমকে প্রধান আসামী করে ইমাম আলী ও মিন্টু মিঞার বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  এ বিষয়ে গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম বলেন, পুরুষাঙ্গ কর্তনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। তবে পরকীয়ার ঘটনা তিনি জানেন না বলে জানান।

সাহিত্যে নোবেল পেলেন প্যাট্রিক মোদিয়ানো

মানুষে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রানবন্ত শব্দের বুননের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতলেন ফরাসি সাহিত্যিক প্যাট্রিক মোদিয়ানো। তিনি স্মৃতিশক্তিকে, সংবাদপত্রের খবর, সাক্ষাতকারকে মূল উপজীব্য হিসেবে ধরে রচনা করেছেন মানুষের উপলব্ধির বাইরের গন্তব্যকে। প্যাট্রিক মোদিয়ানোর জন্ম ১৯৪৫ সালের ৩০শে জুলাই প্যারিসের বোলোগনে-বিলানকোর্টে। তার পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। মা ছিলেন অভিনেত্রী। স্কুল ছেড়ে তিনি পড়াশোনা করেন প্যারিসের লিসি হেনরি- ফোর এ। সেখানে রেমন্ড কুইনিউ-এ কাছে তিনি শিক্ষা নেন জ্যামিতি। এই রেমন্ডই তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৮ সালে মোদিয়ানো ‘লা প্লেস ডি লেটোইলে’ উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ উপন্যাসটি ব্যাপক পাঠাকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে স্মৃতিশক্তি, বিস্মরণ, পরিচয় ও অপরাধ। তার কাহিনীতে নির্মিত হয়েছে আত্মজীবনী ধারায়। আবার কখনো তা রচিত হয়েছে জার্মান দখলদারিত্বের ওপর। সাক্ষাতকার, সংবাদপত্রের খবর, কখনও তার নিজস্ব নোটের ওপর ভিত্তি করে তিনি সাহিত্য রচনা করতেন। লেখক মোদিয়ানোর নিজ শহর ও তার ইতিহাস কখনও উঠে এসেছে তার রচনায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি রচনা করেছেন প্রমাণ্য চরিত্র ডোরা ব্রুদার (১৯৯৭; ডোরা ব্রুদার, ১৯৯৯)। এতে প্যারিসের ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ের সত্য কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এই মেয়েটি হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়। মোদিয়ানোর বেশ কিছু রচনা ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লেস বুলভার্ডস ডি সেঞ্চুরে’, ‘রিং রোডস: এ নোভেল’, ভিলা ত্রিসতি (১৯৭৫)’, ভিলা ত্রিসতি (১৯৭৭)’, ‘এ ট্রেস অব ম্যালিসে’, ‘ভয়েস ডি নোসেস (১৯৯০; হানিমুন, ১৯৯২)’। এছাড়াও তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য বই লিখেছেন। লিখেছেন চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট। চলচ্চিত্র পরিচালক লুইস মালের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি তৈরি করেছেন ফিচার ছবি ‘ল্যাকোমবে লুসিয়েন’।

বহুমুখী সম্পর্কে বিশ্বাসী চীন by কাফি কামাল

বাংলাদেশের সঙ্গে সামগ্রিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় চীন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। সফরে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক, সেমিনার ও সম্মান-সমাদরের মাধ্যমে সে বার্তা দিয়েছে অন্যতম প্রভাবশালী এ বন্ধু রাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিশ্বস্ত সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দেশটির বার্তা হচ্ছে- একমুখী নয়, বহুমুখী সম্পর্কে বিশ্বাসী চীন। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে দেশটি। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তা থেকে উত্তরণের জন্য ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি দৃশ্যমান সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে বিএনপি প্রতিনিধি দল। তারা বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যাতে অস্থিতিশীল না হয় সেজন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হলে চীনকে এখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।  বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে নিজেদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে তা থেকে উত্তরণে অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যের সঙ্গে আলাপে এমন তথ্য জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ছিল খুবই মজবুত। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেটা ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে চীনের কাছে খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে চায় দেশটি। বিশেষ করে কক্সবাজারের সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক কারণে সেখানে প্রতিবন্ধকের ভূমিকায় রয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও প্রভাবশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে সামগ্রিক সম্পর্কের রক্ষার বিকল্প নেই চীনের সামনে। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। এমন পরিস্থিতিতে দুইপক্ষকে বার্তা দিতেই চীন সফরে বিএনপি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানায় চীন। সূত্র জানায়, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন চীন। তাদের ৮ম কংগ্রেস পরবর্তী চতুর্থ প্লিনামের মূল আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আইনের শাসন’। চীনা সমাজের বর্তমান রূপান্তরের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সার্বিক বিষয় ক্রমশ দলীয় পর্যায়ে অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া ড. আবদুল মঈন খান বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে যে বিশ্বস্ত সম্পর্ক রয়েছে তা আরও জোরদার করাই ছিল এ সফরের উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আজকের সরকারি দল চীনের সঙ্গে যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিল তা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বর্তমানে উন্নয়নের যে সম্পর্ক বহমান তার মূল ভিত্তিই ছিল দুই দেশের মধ্যে ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত সে বন্ধুত্বের সংযোগ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভৌত, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেটা অতীতের হাজার বছরের চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ককে একটি সর্বাধুনিক সম্পর্কে রূপান্তরিত করেছে। তিনি বলেন, সপ্তম শতকে পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এবং ১০ শতকে অতীশ দীপঙ্কর যে পারস্পরিক গ্রন্থি রচনা করেছিলেন আজ তারই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হতে চলেছে খুনমিং-মান্দালয়-চট্টগ্রাম-ঢাকা-কলকাতা মডার্ন সিল্ক রুট। যা আগামী শতকগুলোতে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। চীন সফরকে ‘পার্টি টু পার্টি’ সম্পর্কের গভীরতার নিদর্শন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন দিগন্তের উন্মোচন হিসেবে দেখছে বিএনপি। এ সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর গভীরতা লাভ করেছে বলে দাবি করেছে চীন সফর করে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বলছেন, প্রতি বছরই বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। সে সব আমন্ত্রণে দলের চেয়ারপারসনসহ বিভিন্ন সারির বেশ কয়েকটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করেছে। তবে এবারের আমন্ত্রণটি ছিল ভিন্ন। এবারই প্রথম বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানায় তারা। সে বিবেচনায় দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের তিনজন সদস্যের সমন্বয়ে বাছাই করা একটি প্রতিনিধি দল সফরে পাঠায় বিএনপি।  তারা জানায়, সফরে একাধিক বৈঠক, সেমিনার ও বিভিন্ন  গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সমাদরের বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য জানান, মন্ত্রী হিসেবে চীন সফরের সময়েও অনেক সময় এমন সমাদর পাওয়া যায় না। পুরো সফরে প্রতিনিধি দলকে দেয়া হয়েছে ভিভিআইপি মর্যাদা। বিশেষ করে সরকার ও বিরোধী দলের বাইরে থাকলেও বিএনপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তাবিত মডার্ন সিল্ক রুট, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের কর্মপদ্ধতি এবং সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।  এছাড়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের কর্মপদ্ধতি, নেতৃত্বের বিকাশ ও দল এবং সরকারের সমন্বয় সম্পর্কে বহুমাত্রিক ধারণা দেয়া হয় প্রতিনিধি দলকে। বিষয়গুলো বিশেষ অর্থবহ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি, বিকাশ, পররাষ্ট্রনীতি ও সরকার এবং নেতৃত্বের সমন্বয় সম্পর্কে কার্যকর ধারণা পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক খ্যাত ‘এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ একাডেমি’র বিশেষজ্ঞরা বিষয়গুলো বিএনপি নেতাদের সামনে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে বৈঠক ও সেমিনারগুলোতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের কাছে বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা ও নানা তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন নেতারা। আন্তঃমহাদেশীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়েও সেখানে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ওপর কিছুটা হলেও মনস্তাত্বিক চাপ তৈরি করা গেছে। সফর নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা পররাষ্ট্র সচিবের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছে। ৯ দিনের ব্যস্ত সফর শেষে ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি। সফরের সার্বিক আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন প্রতিনিধি দলের নেতা  ড. আবদুল মঈন খান। সার্বিক বিবেচনায় সফরটিকে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
প্রতিটি সেমিনার ও বৈঠকে বিএনপি প্রতিনিধি দল প্রাসঙ্গিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর একটি অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় বসে আছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ প্রয়োজন। অথচ কার্যকর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক উত্তরণ না ঘটলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার গঠনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনের জনগণ বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে বলে আশা করেন প্রতিনিধি দল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আগামীতে ক্ষমতায় এলে চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির প্রতিনিধি দল।
সূত্র জানায়, বিদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন কখনও খোলামেলা বক্তব্য দেয় না। কিন্তু ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনেক প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছে। সরকার তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে ধরতে না পারলে ভুল করবে। কারণ চীন সফরে বিভিন্ন বৈঠকে সে দেশের নেতারা জানিয়েছেন, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন সম্পর্কে তারা অবহিত। তারা মনে করেন, পরিস্থিতির উত্তরণে সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বিএনপি প্রতিনিধি দলের এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকারও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীন যাওয়ার পথেই বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়েছিল বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাসপোর্টে জিডি নম্বর বসিয়ে বিমান ছাড়ার আগমুহূর্তে তাদের ছাড় দেয়া হয়। ফেরার পথেও একইভাবে জিডি নম্বর বসিয়ে তাদের দেশে ঢুকতে দেয়া হয়। ওদিকে বিএনপি প্রতিনিধি দলের চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। সে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারকে চাপে ফেলার অংশ হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়েছে।
বিশেষ করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির তৃণমূল নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি ও বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পেতে একটি ফিল্ড স্টাডিতে অংশ নেন প্রতিনিধি দল। বিএনপি নেতারা জানান, চীন সফরে প্রতিনিধি দলের মূল আগ্রহ ছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকার কিভাবে একসঙ্গে কাজ করে তা দেখা। কারণ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা একই সঙ্গে সে দেশের সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা কিভাবে সেটা সমন্বয় করেন তা জানার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল বিএনপি নেতাদের।
প্রতিনিধি দল জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন খুনমিং সিটিতে ইউননান প্রাদেশিক পার্টি কমিটির আয়োজনে ‘প্রস্তাবিত মডার্ন সিল্ক রুট’ ইস্যুতে বাংলাদেশ-চীন-ভারত ও মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বির্নিমাণ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশ নেন বিএনপি প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রস্তাবিত মডার্ন সিল্ক রুটের সম্ভাব্য পথ নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। বিএনপি প্রতিনিধি দল মডার্ন সিল্ক রুটের প্রস্তাবনা সমর্থন করলেও সম্ভাব্য পথ নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, মডার্ন সিল্ক রুট খুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-যশোর হয়ে কলকাতা হলে চারটি দেশের জন্যই যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং স্বল্প দূরত্বের। একই দিন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইউননান প্রাদেশিক শাখার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল চিউ হে’র সঙ্গে একটি বৈঠক করে বিএনপি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ওঠে আসে।
২১শে সেপ্টেম্বর ‘জেনারেল বিভিউ অব দি রিপাবলিক অব চায়না’ ও ‘গভর্নমেন্ট স্ট্রাকচার অ্যান্ড ডিসিশন মেকিং সিস্টেম ইন চায়না’ শীর্ষক দু’টি সেমিনারে অংশ নেন বিএনপি প্রতিনিধি দল। সেমিনারে সিলাপ-এর ডিডিজি হ্যারি চেন সা লিউ ও সিলাপ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পিপলস কংগ্রেসের সদস্য চিয়াং হাইসাম চীন সরকার ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নানা কর্মকৌশল তুলে ধরে বক্তব্য দেন। কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনের ইতিহাস এবং চীন সরকারের কার্যক্রমের বিশেষ চারটি বিষয় সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজার তত্ত্বাবধান,  জনস্বার্থের নিশ্চয়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ তুলে ধরেন। পরে ‘দ্য মেথড অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অব দ্য কমুনিস্ট পার্টি অব চায়না ইন স্ট্রেনদেনিং এ্যান্ড ইমপ্রেুাভিং দ্য পার্টিজ ওয়ার্ক স্টাইল’ শীর্ষক বিষয়ের উপর বক্তব্য দেন সিলাপ-এর প্রবীণ প্রফেসর লিউ চিয়ান। তিনি দল পরিচালনায় ৮টি রেগুলেশনের উল্লেখ করে বলেন, সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা হচ্ছে দল বিকাশের অন্তর্নিহিত শক্তি। সেমিনারে বিএনপি প্রতিনিধি দল চীনের প্রশংসা করে বলেন, নীতির ওপর ভিত্তি করেই চায়না কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চীনের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখে দুর্নীতিবাজ সরকাররা সমগ্র পদ্ধতিকে নষ্ট করে দেয়। যেমন বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে এরকমটিই ঘটছে।
২২শে সেপ্টেম্বর শাংহাই ফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড কমার্স (এসএফআইসি) ও শাংহাই চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি প্রতিনিধি দল। এসএফআইসি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও এসসিসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট চিন লিয়াং তার দলের নেতৃত্ব দেন। লিয়াং  বলেন, চীন নিজেদের শিল্পকে প্রসারিত করতে চায়, অন্য দেশে নিয়ে যেতে চায়। বিশেষভাবে বস্ত্রশিল্পকে দক্ষিণ এশিয়ায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। চীন চায়, বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি বর্ধিত হোক। বৈঠকে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, বর্তমান চাইনিজ প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প আরও বেশি গতিশীল হয়ে উঠবে এবং অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে। বাংলাদেশে নানা খাত আছে যেখানে চীন বিনিয়োগ করতে পারে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে চীনা বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে চীন দেশের জন্য স্বতন্ত্র ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করবে।
২৪শে সেপ্টেম্বর রাজধানী পেইচিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেয় বিএনপি প্রতিনিধি দল। সেমিনারে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল চাং সুইই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক ভিত্তিই নয়, দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ দুই দলই চারদেশীয় ইকোনমিক করিডোরসহ অন্যান্য অভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুইই বলেন, নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বাস করি। সেমিনারে বিএনপি প্রতিনিধিরা জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ৩০ বছরে চীন যে উন্নয়ন করেছে তা বিস্ময়কর। চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, অচিরেই চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রথমস্থান অধিকার করবে। বর্তমানে চার দেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের সামপ্রতিক অবস্থান স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। একই দিন ২৪শে সেপ্টেম্বর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত লি চুন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে ড. মঈন খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যাতে অস্থিতিশীল না হয় সেজন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হলে চীনকে এখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
২৫শে সেপ্টেম্বর পেইচিংয়ের মহাগণভবনে বিএনপি’র প্রতিনিধি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সচিবালয়ের সদস্য চাউ হংচু’র সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, চীনা কমিউনিষ্ট পার্টি বিএনপিকে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় মূল্যায়ন করে। কারন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও বিএনপি চীনের সঙ্গে একমত হয়েছে, বিশেষভাবে ওয়ান চায়না পলিসিতে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত সামপ্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গণমুখী রাজনৈতিক দল ছাড়া উন্নয়ন ধরে রাখা যায়না। বিএনপি প্রতিনিধি দল বৈঠকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ও চীন সরকারের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আশ্বস্ত করেন, আগামীতে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার আরও বেশি ঘনিষ্ঠভাবে চীনের সঙ্গে থাকবে।

দেড় কোটি চামড়া সংগ্রহ সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা by হামিদ বিশ্বাস

এবার কোরবানিতে কোটি টাকার চামড়া সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ সব চামড়ার একটি অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গরম ও গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের টার্গেট ছিল প্রায় দেড় কোটি পিস। এর মধ্যে গরু ও মহিষের ৪৫ থেকে ৫০ লাখ পিস। আর ছাগল ও ভেড়ার এক কোটি পিস। ইতিমধ্যে টার্গেট পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস এসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট আলী হোসেন। তিনি মানবজমিনকে জানান, অতীতের চেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় টার্গেট পূরণে সক্ষম হয়েছি। তবে কিছু চামড়া নষ্ট হতে পারে। নষ্ট হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসঙ্গে চামড়াবাহী শতাধিক ট্রাক রাজধানীতে ঢুকে লালবাগ ও হাজারীবাগের সরু রাস্তা দিয়ে আড়তে পৌঁছতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়ার ট্রাক হাজারীবাগে ঢোকার পর দিনের অর্ধেক সময় কাটে যানজটে। সে কারণে গরমের মধ্যে আড়তে পৌঁছতে এত সময় লাগায় এবার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হতে পারে বলে তার ধারণা। তরে এর আগে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে চামড়ায় পর্যাপ্ত লবণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায়ীরা যদি সে অনুযায়ী কাজ করে চামড়া নষ্টের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। ইতিমধ্যে নষ্ট চামড়া পেয়েছেন বলে একই সংগঠনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আফতাব আহমেদ দাবি করেছেন। এবার গরম পড়ায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যেই লবণ দেয়ার ব্যবস্থা না করলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে জানিয়ে ওই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে মওসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। একাধিক চামড়া সংগ্রহে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাদের গুদামে যেসব চামড়া আসছে তার মধ্যে অনেক নষ্ট চামড়া রয়েছে। মূলত গরমের কারণেই এসব চামড়া নষ্ট হয়েছে বলে জানান তারা। চামড়াবোঝাই যানবাহন যাতে সহজেই পোস্তা ও হাজারীবাগ এলাকায় ঢুকতে এবং সেখান থেকে বের হতে পারে সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যদিও পুলিশ বলছে, ট্রাক থেকে মাল নামাতে সময় নেয়ার কারণে এ যানজট দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স মালিক এসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট শাহীন আহমেদ বলেন, মালিকপক্ষ ৫% চামড়াও নিজেদের প্রতিনিধির মাধ্যমে কেনেনি। তারা ২-৩ দিন পর বিভিন্ন আড়তে গিয়ে চামড়া কেনা শুরু করবেন। গরমের কারণে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি নেই বলে মনে করছেন তিনি। এবার লবণের দাম আওতার মধ্যে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঠিক সময়ে ঠিকমতো চামড়ায় লবণ দিলে গরমে সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে জানান তিনি। এদিকে এ বছর ট্যানার্স এসোসিয়েশনের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে বলে মওসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা দাবি করেছেন। ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা পাড়া-মহল্লা থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে শুরু করায় এছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল না বলে দাবি করেন একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের দাবির সত্যতা পাওয়া যায় বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলী হোসেনের কথায়ও। তিনি বলেন, শুধু মওসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনছেন না। মওসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও ট্যানারি মালিকপক্ষও বেশি দামে চামড়া ক্রয় করছেন। প্রতিযোগিতা করে চামড়া কিনতে যাওয়ায় বেশি দাম দিতে হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। একজন মওসুমি ব্যবসায়ী বলেন, নয়াবাজার থেকে ১০-১২টি চামড়া সঠিক দামে কিনেছি। কিন্তু পরে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে আর কোন চামড়া কিনতে পারছি না। যে দাম বলেছি তার চেয়ে কয়েক শ’ টাকা বেশি দাম বলেছিলেন অন্য ক্রেতারা। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং চট্টগ্রামে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট মহিষের চামড়ার দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ধরে দেয় তারা। এদিকে ঢাকার অনেক জায়গায় ঈদের পরদিন মঙ্গলবারও পশু কোরবানি হওয়ায় ফড়িয়া ও মওসুমি ব্যবসায়ীদের পাড়া-মহল্লায় চামড়ার খোঁজ করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন জানায়, এবার ঈদের ঢাকায় প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ এবং সারা দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ গরু কোরবানি করা হয়।

যেভাবে ঈদ কেটেছে ভিআইপি বন্দিদের

মানবতাবিরোধী মামলায় দণ্ডিত এবং বিভিন্ন মামলায় বন্দি থাকা জামায়াত ও বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার এবারও ঈদ কেটেছে কাশিমপুর কারাগারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, দিগন্ত মিডিয়ার  চেয়ারম্যান মীর কাশেম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও খন্দকার মো. মোশারফ হোসেন, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। ঈদের দিন এদের সঙ্গে তাদের কোন স্বজন দেখা করতে কারাগারে যাননি, তবে পরদিন কারও  কারও স্বজন দেখা করতে গেছেন বলে জানিয়েছেন কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারাগারে ঈদের নামাজের আয়োজন ছাড়াও ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়া কারাগারের ইউনিট ২-এর বন্দিদের অংশগ্রহণে স্বল্প পরিসরে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১-এর জেলার আমজাদ হোসেন ডন জানান, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৮০ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঈদুল আজহা কেটেছে ওই কারাগারে। এছাড়াও এ কারাগারে ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মো. মোশারফ হোসেনসহ চারজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির  ঈদ কেটেছে ওই কারাগারের এই ইউনিটে। এ কারাগারে এবার তিনটি ঈদের জামাত হয়েছে।
কারাগারের পার্ট ২-এ ঈদের পাঁচটি জামাত  হয়েছে বলে তিনি জানান। এর সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, তার কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানসহ ১০০ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ঈদ পালন করেছেন। এই কারাগারে ১৯৫০ জন বন্দির মধ্যে রয়েছেন ডিভিশনপ্রাপ্ত আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, কর্নেল এহসান, মেজর মুকিত, জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, মীর কাশিম আলী প্রমুখ।
কারাগারের হাই সিকিউরিটি ইউনিটের সুপার মিজানুর রহমান জানান, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলার আসামি জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীসহ ৫৭০ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির এবার ঈদ কেটেছে এ ইউনিটে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও কারাগারে বিশেষ খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়া কারাগার ২-এর বন্দিদের অংশগ্রহণে স্বল্প পরিসরে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।
ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি মেজর জাকির হোসেন, ব্যারিস্টার মো. ফখরুলসহ দেড় হাজারের মতো বন্দির ঈদও কেটেছে ওই কারাগারে। এ সেখানে ঈদের দু’টি জামাত হয়েছে। এই কারগারেই অবশ্য বন্দি রয়েছেন ভারতীয় ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)-এর নেতা অনুপ চেটিয়া। কারাগারের মহিলা ইউনিটেও  ৮জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সঙ্গে ঈদ কেটেছে প্রায় ২৫০’ মহিলা বন্দির।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও কারাগারে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ খাবারের মধ্যে ছিল সকালে পায়েস ও মুড়ি, দুপুরে সাদা ভাত, মাছ, আলুর দম এবং রাতে পোলাও-মাংস, ডিম, মিষ্টি, কোমল পানীয় সালাদ ও পান-সুপারি। এছাড়া কারাগারের ইউনিট ২-এর বন্দিদের অংশগ্রহণে স্বল্প পরিসরে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।
কাশিমপুর কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে এবার ঈদ করছেন সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ সাবেক ১৬ ভিআইপি। এর মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের ৪ জন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ  পর্যায়ের ১১ নেতা রয়েছেন। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তারা বন্দি রয়েছেন কারাগারে। বিএনপির নেতাদের মধ্যে যাদের ঈদ কারাগারে কেটেছে তারা হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। বিভিন্ন কারাগারে ঈদ কেটেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহান, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলী, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর সাবেক এমপি শামসুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল হালিম। চতুর্থবারের কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলের মতো ঈদ করেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৯০ বছরের কারদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের ঈদ কেটেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ঈদ কেটেছে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের কনডেম সেলে।

বাংলা-ভারত কানেকটিভিটি সাবরুমে সেতু আখাউড়ায় বন্দর তৈরি করবে দিল্লি

চট্টগ্রাম বন্দর ও আখাউড়া বন্দরকে আগরতলার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত করেছে ভারত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে আগরতলার ট্রানজিট রুটের অগ্রগতি পরিদর্শনে বর্তমানে ত্রিপুরা সফর করছেন। অন্যদিকে ওয়াপকোস (ওয়াটার পাওয়ার কনসালটেন্সি সার্ভিসেস) নামের একটি ভারতীয় সরকারি সংস্থা আখাউড়া বন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে ডিটেইল্ড প্রজেক্ট (ডিপিআর) রিপোর্ট প্রস্তুত করছে। তারা শিগগিরই রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন সন্দীপ চক্রবর্তী। গত ৮ই অক্টোবর নয়া দিল্লি ভিত্তিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ন্ড-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়, মি. চক্রবর্তী গত বুধবার আগরতলায় সাংবাদিকদের বলেন, মেঘনা নদীর ওপর আশুগঞ্জ বন্দর নির্মিত হলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। তবে এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ফেনী নদী। আর প্রস্তাবিত ট্রানজিটকে কার্যকর করতে বর্তমানে ফেনী নদীর ওপর ৭০ কোটি রুপি ব্যয়ে তৈরি করা হবে একটি সেতু। ত্রিপুরা সরকার ইতিমধ্যে দিল্লি ভিত্তিক একটি সংস্থাকে ডিপিআর প্রস্তুত করতে অনুরোধ করেছে। এই সেতু বাস্তবায়নে বর্তমানে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। আর এই সেতুর সাইট দেখতেই মি. চক্রবর্তী দক্ষিণ ত্রিপুরায় অবস্থিত সাবরুমে যাবেন। গতকাল আগরতলা থেকে সিএনএন-আইবিএন লাইভে এই খবর সম্প্রচার করা হয়েছে।
ওই খবরে আরও বলা হয়, মি. চক্রবর্তী তার সফরকালে আগরতলা শহর থেকে মাত্র দু’ কিমি দূরবর্তী আখাউড়া সফর  করবেন। রেলপথে আগরতলাকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে  ১৫ কিমি দীর্ঘ আগরতলা- আখাউড়া রেললিঙ্ক স্থাপনের কাজ আগামী বছর শুরু হবে বলে গতকাল ভারতীয় কূটনীতিক আগরতলার সাংবাদিকদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে পশ্চিম ত্রিপুরার বদজুনগরে স্থাপন করা হবে বাংলাদেশী মালিকানাধীন গার্মেন্ট কারখানা। সেখানে উৎপাদিত পোশাক বিক্রি হবে ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে। এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি মনে করেন, তার এই ইচ্ছাপূরণ হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ওপর। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি শিগগিরই ঢাকা সফর করতে চান।
গতকাল আগরতলায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের আরও বলেন, মি. মানিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তম বোঝাপড়া রয়েছে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ত্রিপুরায় গার্মেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এই লক্ষ্য অর্জনে ভূমিসহ অন্যান্য লজিস্টিকস সুবিধা দেবে।
মি. সন্দীপ চক্রবর্তী বর্তমানে চারদিনের এক সরকারি সফরে আগরতলায় রয়েছেন। তিনি গতকাল বলেন, আমি ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবো। তাদের কাছে মানিক সরকারের পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় পৌঁছে দেবো। আমি আশাবাদী যে, আগরতলা তাদের কাছে একটি নতুন বাণিজ্য গন্তব্য হতে আদর্শ স্থানীয় শহর হিসেবেই গণ্য হবে। কারণ আগরতলায় রয়েছে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। উল্লেখ্য, আগরতলা থেকে ৬০ কিমি দূরে পালাটানায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি তাদের ৯০০০ কোটি রুপি ব্যয়সাপেক্ষ বৃহত্তম ৭২৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অপর সংস্থা নর্থ ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন আগরতলা থেকে ৭০ কিমি দূরে পশ্চিম ত্রিপুরার মোনারচকে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে এটি মাত্র আট কিমি দূরে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি চালু হতে পারে।

গর্ভপাত থেকে সমকামী বিয়ে, কথা চান পোপ

সমকামী সম্পর্ক থেকে গর্ভপাত ধর্মের অনুশাসন যে সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বারণ করে, তেমন সব বিতর্কিত বিষয়ে এবার মন খুলে কথা বলার আহ্বান জানালেন পোপ ফ্রান্সিস। ভ্যাটিকানে শুরু হওয়া দু’সপ্তাহব্যাপী এক সম্মেলনে গর্ভপাত, সমকামী সম্পর্ক, গর্ভনিরোধ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলি নিয়ে পোপ কথা বলবেন বিশ্বের প্রায় ২০০ জন ক্যাথলিক যাজকের সঙ্গে। ক্যাথলিক অনুশাসন এক দিন যে বিষয়গুলিকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে,  সেগুলি নিয়েই প্রশ্ন তোলা এবং সার্বিক ভাবে সাধারণ মানুষের মনোভাব জানতে চেয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন। আজ সম্মলেনের শুরুতেই পোপ বলেন, সামাজিক প্রতিষ্ঠা এবং ভয়ের বাইরে বেরিয়ে এসে আমাদের মনের কথা খুলে বলতে হবে। মনে মনে যেটা ভাবছি, ঈশ্বরের কথা ভেবেই  সেটা সামনে আনতে হবে। পাশাপাশি, উপস্থিত যাজক ও ধর্মীয় প্রধানদের পোপের অনুরোধ, মানবতার খাতিরে আলোচনা করুন। আপনার পাশের জন কী বলছে, তা মন দিয়ে শুনুন। খোলা মনে বিচার করুন।

সম্মেলন শুরুর প্রথম থেকেই এই বিষয়গুলি নিয়ে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। বিবাহবিচ্ছেদ এবং পুনর্বিবাহকে ক্যাথলিক অনুশাসনের আওতাভুক্ত করার অনুরোধ জানান অনেকে। যদিও এর তীব্র বিরোধিতা করে কট্টরপন্থীদের দাবি, এমনটা কার্যকর হলে বিয়ের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে  ভেঙে পড়বে। সামনে আসে সমকামী সম্পর্ক এবং সমকামী বিয়ের প্রসঙ্গও। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে পোপ বলেন, আমি  তো বিচার করার কেউ নই। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আর্জেন্টিনা সফরে গিয়ে এক সমকামী দম্পতির পুত্রসন্তানকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষা দিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই  নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। আজ গির্জার কাছে তার অনুরোধ, যে সব মানুষ বিয়ে না করেই এক সঙ্গে থাকেন, বা সামাজিক রীতি না মেনে জীবন কাটাচ্ছেন, তাদের প্রতি সংবেদনশীল হোক যাজকেরা। ধর্মের অনুশাসনের বাইরে বেরনোর ডাক অনেক আগেই দিয়েছেন  পোপ। প্রতি পদে নিজেও ধর্মের উপরে মানবতাকে  রেখেছেন। তবে আচমকা এই সম্মেলনের আয়োজন কেন?  পোপ জানালেন, এক যাজক তাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, যাজকেরা যা বিশ্বাস করেন বা যে ভাবে জীবনযাপন করেন, তা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না অনেকেই। এটা লজ্জাজনক। তারা পোপের কাছেও নিজেদের মনের কথা বলেন না কেন? সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই দু’সপ্তাহের এই সম্মেলনের ডাক দেন পোপ ফ্রান্সিস।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ধর্মের গোঁড়া অনুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং আলোচনা করার এই সম্মেলনের খবর যাতে সংবাদমাধ্যমের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য এই সম্মেলনকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ভ্যাটিকান। তবে কিছু যাজকেরা নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই সম্মেলনের কথা জানাচ্ছেন। আর পোপ ফ্রান্সিসও এই নিয়ে রাখঢাক করেননি।

মোদির আমেরিকা সফর কি ফপ? by মাসুম বিল্লাহ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরু ১৯৪৯ সালে যখন আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন তিনি তখন কয়েক সপ্তাহ নিয়ে দেশটির এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত সফর করেন। তখন তিনি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে দেখা করেন। আমেরিকার সব কিছু বাণিজ্যিকীকরণ দেখে তিনি বেশ হতাশ হন। তখন তিনি কৌতুক করে বলেছিলেন, ‘কারোই প্রথমবার আমেরিকা সফর করা উচিত নয়।’

ভারতীয় রাজনীতির নতুন জায়ান্ট নরেন্দ্র মোদির প্রথম আমেরিকা সফরে নেহরুর মতো তেমন কোনো বৈচিত্র্য ছিল না। জাতিসঙ্ঘের নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচির বাইরে তিনি কেবল কয়েকজন রাজনীতিক ও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে সাক্ষাৎ করেন। অবশ্য এর আগে তিনি ওয়ালস্ট্রিটের কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা ও নিউ ইয়র্কের মেডিসন গার্ডেনে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয়ের অংশগ্রহণে একটি সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশটি অবশ্য ছিল বেশ জমকালো। বিশাল স্ক্রিনে প্রদর্শন, ফুরেসেন্ট পোশাকে সজ্জিত নর্তক-নর্তকী দলের রকগান ‘বর্ন ইন ইউএসএ’। ভারতীয়দের আয়োজনে এসব পরিবেশনা আমেরিকানরা একটি ব্যঙ্গ টেলিভিশন শোর উপস্থাপক জন স্টুয়ার্টকে বেশ মুগ্ধ করে। তার ভাষায়, ‘সম্ভবত বার্লুসকোনির বুঙ্গা-বুঙ্গা পার্টি ছাড়া বিশ্বের আর কোনো নেতা এত বেশিসংখ্যক আমেরিকানকে আর কোনো কিছুর জন্য এতটা আকৃষ্ট করতে পারেননি।’
নেহরুর সময় থেকেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক কখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল না। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোদির প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পর মোদির বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওই দাঙ্গায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগ ছিল মুসলমান। মোদি তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেয়া ও দাঙ্গা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ ওঠে। এটা ছিল মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন। এখন মোদি রাষ্ট্রপ্রধান। তাই তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার আইন কার্যকর হবে না।
গত ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবজানিকে গ্রেফতার নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। গত জুলাইয়ে ভারত নতুন বিশ্ববাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকার করে। ওই চুক্তির পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হলেও রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে মোদির সফর এবং এ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ভারতে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। এই সফর পরিকল্পনার বড় অংশ ছিল আমেরিকার রাজনীতিকদের মধ্যে তার সুনামকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। মোদি যুক্তরাষ্ট্রে তার ক্যারিশমা দেখানোর চেষ্টা করেন নানাভাবে। তাই তিনি নিউ ইয়র্কের সমাবেশে বলেন, ‘আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন। এ ধরনের ভালোবাসা আগে কোনো ভারতীয় নেতার কপালে জোটেনি।’
তবে অনেকের মধ্যে অন্তত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসেবে মোদিকে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তারা দু’জন একসাথে ক্যাপিটল হিলে মার্টিন লুথার কিংয়ের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনে যান। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেই এ ধরনের ঘটনা কল্পনাও করা যেত না। একজন বাণিজ্যবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে রিপাবলিকানদের কাছেও মোদি কম সমাদৃত নন।
ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার যে মিশন নিয়ে মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান, সেটা কতটা সফল হয়েছে তা অন্য বিষয়। কিন্তু সফরকালে বড় ধরনের কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ভারতের শ্রমঘন শিল্পগুলোকে সাহায্য করার মতো তেমন কিছুই নেই মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর। অথচ লাখ লাখ ভারতীয় তরুণের কর্মসংস্থানের জন্য এখানকার শিল্প খাতের উন্নয়ন জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির জন্য হয়তো ভারত বিনিয়োগের ক্ষেত্র হতে পারে, মোদি সম্ভবত এই বিশেষ ক্ষেত্রটিকে উপেক্ষা করছেন। এশিয়ার এমন একটি প্রতিষ্ঠান যাদের হাজার হাজার কর্মী ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে, তার কর্তাব্যক্তিটি মোদির সাথে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানান।
এখন পর্যন্ত মোদির দর্শন হলো, দোদুল্যমান মন নিয়ে গগনচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের জন্য এগিয়ে যাওয়া। এর বিপদ অনেক। ১৯৪৯ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় নেহরু এ ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘দরিদ্রের প্রত্যাশা পূরণ করা না হলে হতাশার বিস্তার ঘটে অথবা শুরু হয় বিপ্লবের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া।’
(ইকোনমিস্ট থেকে)

শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীর পূণমিলনী অনুষ্টানে বক্তব্য রাখছেন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীর পূণমিলনী অনুষ্টানে বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

ইয়েমেনে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৪৩

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৩ জন নিহত এবং বহুসংখ্যক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আল-তাহরির চত্বরের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের ভাষ্য, বিদ্রোহীদের সমর্থকেরা আল-তাহরিরে প্রতিবাদ বিক্ষোভের জন্য মঞ্চ তৈরির সময় চালানো হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী পুলিশ হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকদের ডাকা হয়েছে।

ভাষামতিনের মরদেহ ঢামেকে হস্তান্তর by ঊর্মি মাহবুব ও আবাদুজ্জামান শিমুল

ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ভাষামতিনের মরদেহ ঢামেক উপাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল খানের কাছে হস্তান্তর করেন তার স্ত্রী গুলবদন নেসা মনিকা। এ সময় ঢামেক অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামীম আরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর দুপুর সোয়া দুইটায় ঢামেক অ্যানাটমি বিভাগে ভাষা সৈনিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মরদেহ গাড়িবহরে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘর থেকে সর্ব সাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়।
বুধবার সকাল নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) মৃত্যুবরণ করেন এই সর্বজন শ্রদ্ধেয় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামীম আরা বাংলানিউজকে বলেন, সবার শ্রদ্ধা শেষে এই মহান ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের মরদেহ অ্যানাটমি বিভাগে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাষা মতিনের পরিবারের সম্মতিতে তার মরদেহ প্রিজার্ভ (সংরক্ষণ) করা হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই এই সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে এবং সাত থেকে আট দিন সময় লাগবে এ কাজ শেষ হতে। অধ্যাপক শামীম আরা বলেন,  পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই মাসে লেগে যাবে। এরপর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য তা ব্যবহৃত হবে।
তিনি জানান, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানবকল্যাণে সন্ধানীকে মরণোত্তর চোখ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেহদান করেন। সে মোতাবেক বুধবার সন্ধানী তার চোখ সংগ্রহ করে এবং  বৃহস্পতিবার শহীদ মিনারে সর্বজনের শ্রদ্ধা শেষে মরদেহ ঢামেক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন স্ত্রী গুলবদন নেসা মনিকা।

গার্ড অব অনার পেলেন না ভাষা সৈনিক
সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শহীদ মিনারে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনকে সর্বজন শ্রদ্ধা জানানোর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসন গার্ড অব অনার প্রদান করবে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে জানান, প্রটোকলের অভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া গেল না। ভাষাসৈনিক হওয়া সত্ত্বেও কেন আব্দুল মতিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি, এ প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অভাব ছিল।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া না হলেও প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয়েছে।
নাসিম বলেন, ভাষাসৈনিক মতিন রাষ্ট্রের সম্পদ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে মতিনের অবদান রাষ্ট্র ও জনগণ ভুলবে না।
গত ১৮ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন ভাষামতিন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নগরীর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হলে গেলে চলতি মাসের ৪ তারিখে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয় ভাষামতিনকে।
বিএসএমএমইউ’র ১০ তলায় সম্প্রসারিত আধুনিক আইসিইউ কক্ষের ৯ নম্বর বেডে শিফট অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা দেখভাল করেন ডাক্তাররা।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও সংগ্রামী আব্দুল মতিনের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলায় এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তিনি ছিলেন তাদের প্রথম সন্তান।
১৯৩০ সালে গ্রামের বাড়ী যমুনায় বিলীন হলে আব্দুল জলিল জীবিকার সন্ধানে সপরিবারে ভারতের দার্জিলিংয়ে চলে যান। সেখানে জালাপাহারের ক্যান্টনমেন্টে সুপারভাইজ স্টাফ হিসেবে চাকরি পান।
১৯৩২ সালে দার্জিলিং-এর বাংলা মিডিয়াম স্কুল মহারাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হন। শুরু হয় তার শিক্ষাজীবন। ১৯৩৩ সালে আব্দুল মতিনের বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখন তার মায়ের মৃত্যু হয় অ্যাকলামশিয়া রোগে।
মহারানী গার্লস স্কুলে ৪র্থ শ্রেণি পাস করে ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন মতিন। ১৯৪৩ সালে এন্ট্রান্স (Secondary Certificate Examination) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

ছেলে দার্জিলিংয়ে ভাল কোনো কলেজে ভর্তি হোক বাবা তা চাইলেও আব্দুল মতিন ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ২ বছর পর ১৯৪৫ সালে তিনি এইচ এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আব্দুল মতিন ব্রিটিশ আর্মির কমিশন্ড র‌্যাঙ্কে ভর্তিপরীক্ষা দেন।
দৈহিক আকৃতি, উচ্চতা, আত্মবিশ্বাস আর সাহসিকতার বলে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশন পান। এরপর তিনি কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর যান। কিন্তু ততদিনে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে তিনি একটি সার্টিফিকেট নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন।
দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস (পাস কোর্স) এ ভর্তি হন। ফজলুল হক হলে তাঁর সিট হয়। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস বিভাগ থেকে।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলায় তার অবদান অন্যতম। ১৯৫২ সালে  আব্দুল মতিনসহ অন্যরা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। তারই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারা বাংলার জন্য আন্দোলনের নানা কর্মসূচি।
তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ইমেজের অধিকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
আব্দুল মতিন বেশ ক’টি বইও রচনা করেন। এগুলো হলো-‘ইউরোপের দেশে দেশে’ (১৯৬০), ‘কাস্তে’ (১৯৮৭), ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রবাসী বাঙালি’ (১৯৮৯), ‘প্রবাসীর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ’ (১৯৯১), ‘শামসুদ্দিন আবুল কালাম ও তার পত্রাবলী’ (১৯৯৮), ‘শেখ হাসিনা: একটি রাজনৈতিক আলেখ্য’ (১৯৯২), আত্মজীবনী ‘স্মৃতিচারণ পাঁচ অধ্যায়’ (১৯৯৫), ‘জীবনস্মৃতি: একটি বিশেষ অধ্যায়’ (২০১২), রাজনীতি বিষয়ক ‘জেনেভায় বঙ্গবন্ধু’ (১৯৮৪), ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়’ (১৯৯৩), ‘খালেদা জিয়ার শাসনকাল: একটি পর্যালোচনা’ (১৯৯৭), ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: মুক্তিযুদ্ধের পর’ (১৯৯৯), ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: কয়েকটি ঐতিহাসিক দলিল’ (২০০৮), ‘বিজয় দিবসের পর: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ (২০০৯), ইতিহাস বিষয়ক ‘রোমের উত্থান ও পতন’ (১৯৯৫), ‘মহানগরী লন্ডন’ (১৯৯৬), ‘ক্লিওপেট্রা’ (২০০০), ‘দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষবৃক্ষ’ (২০০১), ‘ভলতেয়ার: একটি অনন্য জীবনকাহিনী’ (২০০২), ‘কামাল আতাতুর্ক: আধুনিক তুরস্কের জনক’ (২০০৩), ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি: যুক্তরাজ্য’ (২০০৫), ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৫); ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৭), ‘ইউরোপের কথা ও কাহিনী’ (২০০৯)।

অভিনয়ে দুর্বল কাটরিনা!

কাটরিনা অভিনীত বেশিরভাগ ছবিই এখন পর্যন্ত ব্যবসা সফল। এমনকি বলিউডের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি ‘ধূম-৩’-এর প্রধান নারী চরিত্রটিতেও তিনি অভিনয় করেছেন। বলিউডে এসেই নিজের আবেদনময়ী উপস্থাপনা ও পারফরমেন্সের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অগণিত দর্শকের হৃদয় জয় করেন এ অভিনেত্রী। কিন্তু সে সময় থেকেই তার হিন্দি উচ্চারণে সমস্যা ছিল। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও কম হয়নি। তবে এবার কাটরিনার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক’দিন আগেই ঈদ ও পূজা উপলক্ষে মুক্তি পায় হৃতিক-কাটরিনা অভিনীত নতুন ছবি ‘ব্যাং ব্যাং’। এ ছবিটি চারদিনেই ব্যবসা সফলতায় ১৫০ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে। তাই সেদিক থেকে আবারও সফল কাটরিনা। তিনি এখানে একাধিক গানে পারফরম করেছেন। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, পুরো ছবিটিকেই টেনে নিয়ে গেছেন হৃতিক একাই, যেমনটা আমির ‘ধূম-৩’-কে টেনে নিয়েছিলেন। এখানে কাটরিনাকে রাখার জন্য রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বলিউডের অনেক পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীও কাটরিনার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কথা বলেছেন সরাসরি। কেউ আবার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কাটরিনার অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গুণী পরিচালক মধুর ভান্ডারকার তার টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যাং ব্যাং’ নিঃসন্দেহে একটি ভাল ছবি। অনেক এক্সাইটমেন্ট রয়েছে ছবিতে। হৃতিক বরাবরের মতো দুর্দান্ত পারফরম করেছেন। কাটরিনা ডাল। অভিনয়ে জিরো। আরও ভাল করে অভিনয় শেখা উচিত তার। মধুর ভান্ডারকারের এই পোস্টের পর আরও ক’জন তারকা কাটরিনার অভিনয় নিয়ে কথা বলেছেন। ‘এক হাসিনা থি খ্যাত’ অভিনেত্রী কিশার মারচেন্ট টুইটারে লিখেছেন, কাটরিনা অভিনয়ের কিছুই জানেন না। তার উচিত আইটেম নাম্বার করা। ‘ব্যাং ব্যাং’ দেখে আমার এটাই মনে হয়েছে। এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিলম তার টুইটারে লিখেছেন, ‘ব্যাং ব্যাং’ আর হৃতিক দুর্দান্ত। কাটরিনা সুপার ডাল। এরকম করেই আরও ক’জন পরিচালক ও অভিনয় শিল্পীসহ সাধারণ অনেক দর্শকও ‘ব্যাং ব্যাং’-এ কাটরিনার অভিনয় দুর্বলতার কথা লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কাটরিনার পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্রসফায়ার খুলনায় একদিনে নিহত ১৩ by রাশিদুল ইসলাম

সুন্দরবনে পুলিশের সঙ্গে দুই দফায় বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু কাশেম বাহিনীর ১৩ সদস্য নিহত হয়েছে। গত রোববার ভোরে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটির জিরবুনিয়া গ্রামে ২ জন এবং দুপুর ২টার দিকে কালাবগি সংলগ্ন সুন্দরবনের গহিনে হড্ডায় ১১ জন নিহত হয়। এ ২টি এলাকা থেকে পুলিশ ১৭টি বন্দুক ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় নিহতদের বিরুদ্ধে তিনটি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়েছে। এর আগে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্দুকযুদ্ধে একসঙ্গে এত সংখ্যক নিহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে নিহতদের লাশ বহন ও উদ্ধার করা নিয়ে গত তিন ধরে খুলনাজুড়ে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে নিহতদের মৃতদেহ গুলি যেভাবে ট্রলারে ওঠানো আর নছিমনে উঠিয়ে দড়ি দিয়ে বাধা হয়েছিল তা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

সূত্র মতে, নিহতরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার মাগুরা দেলুটির সবুর মোড়ল (৪০), দাকোপ কালাবগীর মো. হানিফ গাজী (৩৪), মংলার চিকনের দেওয়ান এলাকার আলিম মোল্যা (২৭), ডুমুরিয়ার টিপনা এলাকার আখিরুল শেখ (২৬) ও আফজাল শেখ (২৫), একই উপজেলার স্বরাপপুর এলাকার মাহাবুব মোল্যা (৩০) ও মফিজুল মোল্যা, টিপনা এলাকার শফিকুল শেখ (৪১), নাসরুল শেখ (২৪), গোলনা গ্রামের রুবেল শেখ (২০), জুনায়েদ খান (৩৫), ডুমুরিয়া থানার পেছনের এলাকার কারিমুল (৪৫) ও তেলিখালী গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০)। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় ওসি সিকদার আক্কাছ আলী, এসআই জালাল উদ্দিন, এএসআই সোহেল রানা, কনস্টেবল সেলিম, তৈমুল হাসান ও সুমন আহত হয়েছেন।
খুলনার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রোববার ভোররাতে বনদস্যু কাশেম বাহিনী চাঁদার দাবিতে দেলুটির জিরবুনিয়া গ্রামের কলেজশিক্ষক প্রশান্ত কুমার ঢালীকে অপহরণ করে। এ সময় জনতা ও পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গণপিটুনি ও পুলিশের গুলিতে করিমুল ও আজিবুর নামে দুই বনদস্যু নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে জনতার সহায়তায় ১১ ডাকাতকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সুন্দরবনের গহিনে গাংরকির চরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে দুপুর ২টার দিকে কাশেম বাহিনীর অন্য সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এরই এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আটক ১১ বনদস্যু মারা যায়।
সাংবাদিকরা পাইকগাছা গিয়ে নিশ্চিত হন নিহত দু’জনকে নিয়ে এ অভিযানে পাইকগাছায় আসেন ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক আনিস মাহমুদ, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। সন্ধ্যায় কিছু পর ১৩টি মৃতদেহ একটি ট্রলারে স্তূপ করে নিয়ে আসা হয়। বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ ট্রলার থেকে নছিমনে ওঠানো হয়। এ সময় পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান স্বীকার করেন, নিহত ১৩ জনের নামে পাইকগাছা থানায় কোন মামলা নেই। ডিআইজি মনিরুজ্জামান জানান, মৃত ১৩ আসামির নামে বর্তমানে ৫টি করে মামলা হবে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার আক্কাস আলী বলেন, আটকের পর বনদস্যুরা স্বীকার করে সুন্দরবনের গহিনে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। সে অনুযায়ী দুপুরে পুলিশ অভিযান চালায়। সকালের ঘটনার পর দস্যুদের কাছ থেকে ৯টি বন্দুক, ৩২ রাউন্ড গুলি ও একটি ট্রলার এবং দুপুরের ঘটনায় আরও ৮টি বন্দুক ও ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহতদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, অপহরণ ও অস্ত্র আইনে পৃথক তিনটি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহত ১১ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর দু’জন আলিম মোল্যা ও আখিরুল শেখের লাশ পরিবারের গ্রহণ না করায় মঙ্গলবার আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স ম বাবর আলী জানান, লাশগুলো টেনেহিঁচড়ে যেভাবে তোলা হয়ে তা অমানবিক। তিনি নিহতদের সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। বলেন, তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। আর তা ছাড়া নিহতদের একজন পাইকগাছার, দু’জন কয়রা, আর ১০ জন ডুমুরিয়ার। স ম বাবার আলী বলেন, বনদস্যুদের উৎপাত বেড়ে গিয়েছিল। তবে তিনি বেআইনিভাবে কিছু করতে রাজি নন।
ডুমুরিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান খান আলী মুনছুর জানান, নিহত দু’জনকে তিনি চেনেন ডাকাত হিসেবে। তাদের নামে কোন অভিযোগও তিনি পাননি বা শোনেননি। ১৩ জন মানুষ ক্রসফায়ারে দেয়ার আগে তাদের আরও ভাল করে যাচাই করা উচিত ছিল।

কৌশলী হাসিনা অপেক্ষায় খালেদা by সাজেদুল হক

কি কারণে নির্বাসনের পথে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সে প্রশ্ন আলাদা। তিনি সুচিন্তিত ভাবেই বিতর্ক তৈরি করেছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব কিছু সামলিয়েছেন চমৎকারভাবেই। এ ইস্যুতে যেন কোন আন্দোলন তৈরি হতে না পারে কৌশলীভাবেই তিনি তা নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনেও পরিষ্কার করেছেন দায় লতিফ সিদ্দিকীকেই নিতে হবে, সরকার কোন দায় নেবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দৃশ্যত ঘরে-বাইরে পরিস্থিতি এখন পুরোটাই তার নিয়ন্ত্রণে। যদিও রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থেমে নেই। অন্যদিকে, বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনও রয়েছেন অপেক্ষায়। একের পর এক ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছেন তিনি। যদিও স্পষ্টত বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আসলে এখনও আন্দোলনের কোন রোডম্যাপই তৈরি করতে পারেননি। আওয়ামী লীগের নতুন জমানায় বিএনপি কিছু কর্মসূচি পালন করেছে। যদিও এসব কর্মসূচি নতুন নির্বাচনের দাবিতে নয়। বেগম খালেদা জিয়া আবারও সভা-সমাবেশের মতো কর্মসূচি শুরু করছেন। তবে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত কোন পরিণতি পায় কিনা তা দেখতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ৫ই জানুয়ারির পরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অবশ্যই ভিন্ন। নতুন কিসিমের গণতন্ত্র। আপস এবং নিয়ন্ত্রণের ফর্মুলা অনুসরণ করা হচ্ছে। কড়ি আর হুমকির বিনিময়ে সমঝোতা করেছে হেফাজত। জামায়াত ইসলামী অবশ্য এখনও রহস্যঘেরা। দলটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় অবশ্য জামায়াত ও সরকার উভয়ের জন্যই স্বস্তি নিয়ে এসেছে। নির্বাচনের পরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দল গুছিয়ে আন্দোলনের কথা বলেছিলেন। যদিও সে সময় বিএনপির একটি অংশ আন্দোলন অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। এর আগে আন্দোলনে বিএনপির অনেক নেতার ভূমিকাই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। লন্ডন থেকে শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনকথনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পালানোর কৌশল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তারেক রহমান। ২৯শে ডিসেম্বরের কর্মসূচি বিএনপি নেতাদের ভূমিকার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় এলেও কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা প্রকাশ্য হতে পারেননি। এ নেতারা অবশ্য এখনও বিএনপির নীতিনির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। দল গোছানো বলতে ১০ মাসে ঢাকা মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। তবে এ কমিটি পূর্ণাঙ্গ নয়। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হতে আর কত সময় লাগবে তা খোলাসা করে বলতে পারছেন না কেউই। ছাত্রদলের কমিটি চূড়ান্ত করে শেষ পর্যায়ে এসে সে কমিটি আর ঘোষণা করেননি খালেদা জিয়া। একসময় আন্দোলন-সংগ্রামে প্রধান ভূমিকা পালনকারী ছাত্রসংগঠনটি এখন বয়োবৃদ্ধ নেতাদের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মূলত সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ধীরে চলছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। স্পষ্টভাবে দলটি এখন পর্যন্ত সরকারের পদত্যাগও দাবি করেনি। আন্দোলন কৌশল নিয়ে বিএনপিতে দুই ধরনের মত রয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। এর জন্য তেমন কোন আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। আগামী বছরের শুরুর দিকে সে নির্বাচন হতে পারে বলে তাদের ধারণা। কিছুদিন আগে জোট নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে খালেদা জিয়া শরীকদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। অন্যদিকে, নীতিনির্ধারকদের আরেকটি অংশ মনে করেন কঠোর আন্দোলন ছাড়া সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার বিকল্প কোন উপায় নেই। তবে বর্তমান সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বড় কোন আন্দোলন গড়ে তোলা যাবে কিনা সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন। চলমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া অপেক্ষার নীতিই অনুসরণ করছেন। জনসংযোগের মতো ঠাণ্ডা কর্মসূচি নিয়েই আপাতত এগোতে চাইছেন তিনি। তবে অপেক্ষার এ নীতি সবসময় ফল না-ও দিতে পারে। কারণ কৌশলী পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সঙ্কট মোকাবেলার পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতিই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুও সরকার সামলাচ্ছে কৌশলগতভাবে। গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে তিন টুকরো করা হয়েছে। হেফাজত নিয়ন্ত্রণে। জামায়াত ধবংসপ্রায়। গণমাধ্যমও এখন সক্রিয় নেই অতীতের মতো। চলমান পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতাদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দিকেই সর্বোচ্চ নজর দিয়েছে সরকার। সহিংসতার মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমপক্ষে ৭২৯ ‘রাজনৈতিক মামলায়’ এরই মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এসব মামলার বড় অংশের চার্জগঠনও সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা কেউই মামলার বাইরে নেই। আদালতের বারান্দায়ই বেশির ভাগ সময় কাটছে বিএনপি নেতাদের। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুই মামলায় এরই মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আলীয়া মাদরাসায় এজন্য আদালতও বসানো হয়েছে। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে। দৃশ্যত বাংলাদেশের রাজনীতি এখন একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিপরীতে বিরোধীরা রয়েছেন অপেক্ষা আর আশায়।

কোরবানির পশুর চামড়া কেনা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা by আবুল হাসনাত

বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে বেশি দামে এবার কোরবানির পশুর চামড়া কিনেছেন মৌসুিম ব্যবসায়ীরা। আড়তদারদেরও সেই চামড়া চড়া দামেই কিনতে হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকেরা এ দামে তাঁদের কাছ থেকে চামড়া কিনবেন কি না, সেই শঙ্কায় আছেন তাঁরা।
অবশ্য বিশ্ববাজারে দরপতনের অজুহাত দেখিয়ে চামড়ার দর গত বছরের চেয়ে কম নির্ধারণ করে চামড়া-সংশ্লিষ্ট তিন ব্যবসায়ী সংগঠন। প্রতিবছরই বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে বেশি দামে খুচরা পর্যায়ে চামড়ার বেচাকেনা হয় বলে এবার ১৫ থেকে ২০ টাকা হাতে রেখেই দাম ঠিক করেন ব্যবসায়ীরা।
ফলে মাঠপর্যায় থেকে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ হওয়ায় ট্যানারি মালিকেরা লোকসানের যে আশঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত তা হবে না বলেই মন্তব্য আড়তদারদের। তবে ট্যানারি মালিকেরা বলছেন, এত দাম দিয়ে তাঁরা চামড়া কিনবেন না। দাম কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
বাংলাদেশ প্রস্তুত চামড়া, চামড়াপণ্য ও জুতা রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। ট্যানারি মালিকেরা তো এত দাম দিতে পারবেন না। তাঁরা এখন লোকসান দেবেন।’
তবে চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘কিছু টাকা হাতে রেখেই এবার চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাই বেশি দামে চামড়ার বেচাকেনা হলেও লোকসানের আশঙ্কা নেই। তবে লাভ কম হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঈদের আগমুহূর্তে ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ বিএফএলএলএফইএ ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন চামড়ার দর নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম ঢাকায় ৭০ থেকে ৭৫, ঢাকার বাইরে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মহিষের চামড়া ৩৫ থেকে ৪০, খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ এবং বকরির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

রাজধানীতে চামড়ার বড় আড়ত লালবাগের পোস্তায় ঈদের দিন বিকেল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া আসতে থাকে। ওই দিন সেখানে চামড়া বিক্রি হয় প্রতি বর্গফুট ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আড়তদারেরা বলছেন, ঈদের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত পোস্তায় সাড়ে তিন লাখ গরুর চামড়া এসেছে।
আড়তদারেরা জানান, কোরবানিতে সবচেয়ে ভালো গরুটা জবাই করা হয়। সে কারণে চামড়াটাও ভালো হয়। তাই বেশি দাম দিয়ে তা কিনলেও সমস্যা হয় না। চড়া দামে চামড়া কেনায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সমালোচনাও করেন তাঁরা।
তবে মৌসুমি ব্যবসায়ী আবদুস সোবহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা দামটা নির্ধারণ করে তারা তো আর মাঠে আসে না; এলে বুঝতে পারত কেন বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনতে হয়।’ ঈদের দিন তিনি বনশ্রী এলাকার চামড়া সংগ্রহ করেছেন।
পোস্তার একজন আড়তমালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্যানারি মালিকেরা তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় পর্যন্ত কিনেছেন। কিন্তু আমাদের বলেন, আপনারা বেশি দামে চামড়া কেনেন কেন? ওই চামড়া কিনব না। তাঁরা আমাদের জিম্মি করে নিজেদের মুনাফা বাড়াতে চান।’
এ বিষয়ে ট্যানারি মালিকদের বড় সংগঠন বিটিএর মহাসচিব মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘না পোষালে তো আমরা বেশি দামে চামড়া কিনব না। চামড়া যেহেতু কিনতেই হবে, তাই প্রয়োজনে আমরা অপেক্ষা করব। চামড়ার দামও একসময় কমে আসবে। তখন কিনব।’
কম দামে চামড়া কেনার পেছনে এর রপ্তানিমূল্য কমে যাওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন ট্যানারি মালিকেরা। তবে আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স মুন্ডির ওয়েবসাইট বলছে, বিশ্ববাজারে গত জুলাইতে প্রতি পাউন্ড চামড়ার দাম যেখানে ছিল এক ডলার সাত সেন্ট, সেটা আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক ডলার ১১ সেন্টে।
নষ্ট হওয়ার শঙ্কা: আড়তদার সমিতির মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, গ্রীষ্মকালে চামড়া ভালোভাবে সংরক্ষণ না করলে তা নষ্ট হয়ে যায়। গত বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবারও মোট চামড়ার ১০ শতাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
ট্যানারি মালিকদের হিসাবে, ঢাকায় এবার ১০ থেকে ১২ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে। সারা দেশে গবাদিপশুর কোরবানির সংখ্যা ৮০ থেকে ৮৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এক বালকের আত্মঘাতী হয়ে ওঠা

‘আমার ভাইয়ের চমৎকার জীবন ছিল। অর্থ ছিল। মার্সিডিজ গাড়ি ছিল না বটে, তবে একটা অপেল ছিল। সব মিলিয়ে আমরা সুখী পরিবার ছিলাম। আমি বুঝতে পারছি না, কেন সে এমন করল।’
আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ভাই ব্লেরিম হেটার ছোটবেলার ছবিগুলো হাতে নিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে কথাগুলো বলছিলেন বড় বোন এরিয়েটা। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘দেখেন, তার চোখগুলো কত নিষ্পাপ!’
এরপর একে একে এরিয়েটা বলতে থাকেন পুরোনো কথা। ব্লেরিম ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট কসোভো ছাড়েন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। এর দুদিন পর তিনি বোনকে ফোনে বার্তা পাঠান, তিনি তুরস্কে আছেন।
এ কথা শুনে বোন আর তেমন ভাবেননি। কারণ, ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে ইমামদের বয়ান শুনতে ভাই প্রায়ই এখানে-সেখানে যান। এরপর বোন এরিয়েটা ভাইকে ফোন করেন। সঙ্গে সঙ্গে ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠে, ‘সিরিয়ায় স্বাগত’।
স্কাইপেতে ভাইবোনের যখন কথা হচ্ছিল, তখন বোন এরিয়েটা ভাই ব্লেরিমের কাছে তাঁর সিরিয়ায় থাকার বিষয়টি জানতে চাইলেন। তখন আর তিনি তা স্বীকার করলেন না। বারবারই তিনি বলছিলেন, তিনি তুরস্কে আছেন। এখানে আরবি শিখছেন আর বিয়ের জন্য পর্দানশিন পাত্রী খুঁজছেন। ভাইয়ের কথা বিশ্বাস করলেন বোন।

কিন্তু মা ছেলের ঘর থেকে একটি পোস্টকার্ড পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হতে থাকে। পোস্টকার্ডে লেখা, তিনি আর ফিরবেন না।
কসোভোর অধিকাংশ পরিবার মুসলিম। মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে ব্লেরিম নিয়মিত মসজিদে যেতেন। কসোভোর বিভিন্ন শহর ও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেসিডোনিয়ার বিভিন্ন মসজিদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর।
কীভাবে ভাই এমন পথে গেলেন, এ ব্যাপারে বলতে গিয়ে এরিয়েটা বললেন, ‘একজন বিশেষ তরুণের কথা মনে আছে। আমি তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই দেখতাম। তিনি ছিলেন এমন একজন, যিনি আমার ভাইকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি আমার ভাইকে সিরিয়া যাওয়ার টিকিট কেটে দেয়নি ঠিকই, কিন্তু তাঁর মাথায় ঢুকিয়েছে জিহাদ ভালো।’
বাড়ি ছাড়ার আগের দিনগুলোয় বেশ বদলে গিয়েছিলেন ব্লেরিম হেটা। দাড়ি রেখেছিল, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলমানের মতো পায়জামাটা একটু উঁচু করে পরতেন, ইউটিউবে ইমামদের বয়ান শুনতেন।
স্কাইপেতে মাঝেমধ্যে ভাইবোনের কথা হতো। বোন এরিয়েটাকে তিনি বলেছিলেন, তিনি তাঁর ধর্মের জন্য যুদ্ধ করছেন। তিনি আল্লাহর জন্য মরতে চান। এমনটা হলে তা হবে তাঁর জন্য পরম তৃপ্তির। বোন বললেন, ‘আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষকে ও নিজেকে হত্যার কথা তুমি ধর্মের কোথায় পেলে? তখন সে উত্তর দিল, তুমি এভাবে বললে আমি আর কখনো তোমাকে কল করব না।’
জিহাদের টানে ব্লেরিমের মতোই ঘর ছেড়েছেন কসোভোর আরেক নাগরিক আরবেন। কাউকে কিছু না জানিয়ে সঙ্গে নিয়ে গেছেন তাঁর আট বছর বয়সী ছেলে এরিয়ন আবাজিকে। ১০ জুলাই স্ত্রী প্রাভেরার কাছে আরবেন বার্তা পাঠান, তিনি সিরিয়ায় আছেন।
প্রাভেরার ভাই সউদ সাদুল্লাহি জানান, ছেলেকে নিয়ে পাহাড়ে যাওয়ার কথা বলে ৭ জুলাই বাড়ি থেকে বের হন আরবেন। তারপর ছেলেকে নিয়ে আলবেনিয়ায় গিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তুরস্কে চলে যান তিনি।
কসোভোর কর্তৃপক্ষ বলছে, কসোভোর ২০০ নাগরিক সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর পক্ষে কাজ করছে। তবে সৌদ সাদুল্লাহির মতে, এই সংখ্যাটা আরও বেশি।
এমন অবস্থায় কসভো সরকার জিহাদিদের ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। আইএসের উগ্রপন্থীদের দলে ছেলে যোগ দিলে বাবাকে চাকরিচ্যুত করার মতো কঠোর অবস্থানে আছে দেশটি। ইসলামী উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য পুলিশ ৭০ জনকে আটক করেছে।
এ বছরের ২৪ মার্চ ব্লেরিম কসোভোতে তাঁর পরিবারের কাছে ফোন করেছিলেন। বাড়ি কবে আসবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ বা কাল আল্লাহর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে।’ পরদিন তিনি ইরাকে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালান, এতে তিনিসহ ৫৩ জন নিহত হন।
বোন জানান, ‘ব্লেরিম যখন কসোভোতে ছিল, তখন বলত আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা মুসলিম নয়। কিন্তু সে যখন সিরিয়ায় ছিল, আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করতাম, মানুষ হত্যা কি ভালো? উত্তরে সে বলেছিল, তারা যদি মুসলিম না হয়, উত্তরটা হবে “হ্যাঁ”।’

তিন মেয়েসহ মাকে পুড়িয়ে হত্যায়- জাহাঙ্গীর এখনো গ্রেপ্তার হননি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তিন মেয়েসহ মাকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের ভাষ্য, জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে এলাকায় চিরুনি অভিযান চলছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে নতুন করে আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, জাহাঙ্গীরের খালাতো ভাই বাদশা ও বন্ধু সুশান্তকে গতকাল বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই হানিফ মিয়াকে (২২) আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে। গত মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুরের ইন্নত খাঁ চালা গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে এলাকায় চিরুনি অভিযান চলছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পেট্রল আনার কাজে ব্যবহৃত রিকশাটির চালক আলী হোসেন ও জাহাঙ্গীরের চাচি নাছিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে।

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন গত সোমবার রাতে মির্জাপুরের সোহাগপুর গ্রামে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় মালয়েশিয়াপ্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম (৩৫) এবং তাঁর তিন মেয়ে উপজেলার সোহাগপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার (১৪), বাকপ্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১০) ও স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মলি আক্তারকে (৭)।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাতে মেয়েদের নিয়ে একতলা বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন হাসনা বেগম। দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে প্রতিবেশীরা হাসনাদের বাড়ির বারান্দায় আগুন জ্বলতে দেখে। আগুন নেভানোর পর দেখা যায়, তিন মেয়েসহ হাসনা বেগম যে কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেটার দরজা ভেতর ও বাইরে থেকে লাগানো। এলাকাবাসী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখে, বিছানার ওপর পড়ে আছে চারজনের পুড়ে যাওয়া লাশ। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করেন।
হাসনা বেগমের পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা আক্তারকে একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ প্রস্তাবে রাজি হননি মনিরার মা। এতে ক্ষুব্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ জাহাঙ্গীর আলম সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় হাসনা বেগমের ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে জাহাঙ্গীর ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক। তাঁর চার চাচার ঘরও তালাবদ্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়িগুলোয় পুলিশের পাহারা বসানো হয়।

তিন মেয়েসহ মাকে পুড়িয়ে হত্যা -বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বখাটের আক্রোশ!

‘বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে ঘর থেকে ছুটে গিয়ে দেখি, ওই বাড়ির বারান্দায় আগুন জ্বলছে। অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভাতে লেগে যাই। কিন্তু পানি দিতেই আরও জ্বলে ওঠে। বালু ফেলে আগুন নেভানোর পর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি, বিছানার ওপর চারটি পোড়া লাশ।’
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তিন মেয়েসহ এক মাকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার একটি দৃশ্যের এ রকম বর্ণনাই দেন মো. মনিরসহ আরও কয়েকজন প্রতিবেশী। মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় এক বখাটের ক্ষোভের আগুনে এভাবেই প্রাণ দিতে হলো একই পরিবারের চার সদস্যকে। ঘরের ভেতর পেট্রলের আগুনে ঘুমন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মেরেছে সে।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন গত সোমবার দিবাগত রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে উপজেলার সোহাগপাড়া গ্রামে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম (৩৫) এবং তাঁর তিন মেয়ে উপজেলার সোহাগপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার (১৪), বাক্প্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১০) ও স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মলি আক্তার (৭)।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, সোমবার দিবাগত রাতে মেয়েদের নিয়ে একতলা বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন হাসনা বেগম। রাত সাড়ে তিনটার দিকে এক বিকট শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। যে যাঁর মতো বাইরে বেরিয়ে দেখেন হাসনাদের বাড়ির বারান্দায় আগুন জ্বলছে। যে কক্ষের সামনে আগুন জ্বলছিল, সেটির পাশেই আরেক কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন মজিবর রহমানের বাবা চান মিয়া ফকির (৭০) ও মা জবা খাতুন (৬০)। বিকট শব্দ আর এর পরপরই দরজার নিচ দিয়ে নিজেদের কক্ষে আগুন ঢুকতে দেখে তাঁরাও বাইরে বেরিয়ে আসেন। বেঁচে যান প্রাণে। ছুটে আসেন আশপাশের অনেকে। পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভান তাঁরা।

>>এই খাটেই ঘুমিয়ে ছিলেন তিন সন্তানসহ মা হাসনা বেগম। গতকাল সকালে তোলা ছবি l প্রথম আলো
আগুন নেভার পর দেখা যায়, হাসনা বেগম ও তাঁর মেয়েরা যে কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেটার দরজা ভেতর ও বাইরে থেকে লাগানো। এতে এলাকাবাসী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, বিছানার ওপর পড়ে আছে চারজনের পুড়ে যাওয়া লাশ। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করেন।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আদিলুর রহমান ও নিহত হাসনা বেগমের মামা হায়দার আলী বলেন, আগুন লাগানোর আগে সংশ্লিষ্ট কক্ষের দরজার সামনে কাদামাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে বেড়ার মতো তৈরি করা হয়েছিল। এরপর কক্ষের ভেতর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।
হত্যার নেপথ্যে: নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিরা আক্তারকে একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ প্রস্তাবে রাজি হননি মনিরার মা। এতে ক্ষুব্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে জাহাঙ্গীর আলম সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
নিহত হাসনার শ্বশুর চান মিয়া ফকির বলেন, তাঁর নাতনি মনিরার বয়স যখন সাত বছর, তখন জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা হয়েছিল। দুজনের মধ্যে আংটিও বদল হয়। তবে প্রায় দেড় বছর আগে জাহাঙ্গীর বিদেশে থাকাকালীন মনিরা গ্রামের একটি গানের অনুষ্ঠান দেখতে যায়। ওই খবরে সে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে ফোন করে বকাঝকা করে। এ ঘটনায় বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আর না এগিয়ে বরং ভেঙে যায়। ১০ মাস আগে জাহাঙ্গীর দেশে ফিরলে বসে গ্রাম্য সালিস। তাতে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মনিরার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর জাহাঙ্গীর সিঙ্গাপুর গিয়ে দুই মাস পর আবার দেশে ফেরে। আবারও মনিরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সে। কিন্তু তাতে মনিরার মা রাজি না হলে জাহাঙ্গীর পরিবারটির ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার শুরু করে।
প্রতিবেশী আবদুস ছবুর ও মনির হোসেন বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে জাহাঙ্গীর মনিরার মায়ের গলা চেপে ধরেছিল।
মনিরার মামা মো. মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীর মনিরাকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। তাই মনিরাকে একই গ্রামে নানার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে মনিরা দাদার বাড়ি এসেছিল। আর এ আসাই সবার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছিল জাহাঙ্গীর: টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) পংকজ চন্দ্র রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর সোমবার রাত নয়টার দিকে একটি পেট্রলপাম্প থেকে দুটি কনটেইনারে দাহ্য পদার্থ নেয়। এগুলো বহনে সে ২০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে। ঘটনাস্থল থেকে কনটেইনারের দুটি ঢাকনা ও জাহাঙ্গীরদের বাড়ির রান্নাঘর থেকে আরও দুটি কনটেইনার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১, আটক ২: হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই হানিফ মিয়াকে (২২) গত মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুরের ইন্নত খাঁ চালা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া পেট্রল আনার কাজে ব্যবহৃত রিকশাটির চালক আলী হোসেন ছাড়াও জাহাঙ্গীরের চাচি নাছিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে নিহত হাসনা বেগমের ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এলাকায় শোকের ছায়া: হত্যার ঘটনাটিতে সোহাগপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল বুধবারও অনেককে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে দেখা যায়। তাঁরা সান্ত্বনা দিচ্ছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে হারিয়ে মজিবর শোকে পাথর হয়ে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়েরা অসুস্থ—এ কথা বলে তাঁকে দেশে আনা হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। রাত দুইটার দিকে গ্রামের বাড়ি এসে স্ত্রী-সন্তানদের নিহত হওয়ার খবর পেয়েই তিনি জ্ঞান হারান।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, দুপুরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
পলাতক জাহাঙ্গীরের পুরো পরিবার: ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা। তাঁর চার চাচার ঘরও তালাবদ্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়িগুলোতে বসানো হয়েছে পুলিশের পাহারা।
ওদিকে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার দত্ত জানান, নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জানাজা শেষে বাড়ির পাশেই তাঁদের দাফন করা হয়েছে।