Monday, March 31, 2025
মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ইরান : ভারত মহাসাগরে কী ঘটতে চলেছে?
এই পদক্ষেপটি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যম এপি এ তথ্য জানায় এবং পাশাপাশি ২৯ মার্চ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমান মার্কিন অস্ত্রাগারের অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত বিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই বিমানটি প্রচলিত এবং পারমাণবিক বোমা বহন করতে সক্ষম এবং এটি বিশেষভাবে প্রতিপক্ষের দেশের গভীরে প্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর স্টিলথ প্রযুক্তির কারণে এটি প্রচলিত শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় সহজে ধরা পড়ে না, যা বিমানের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
ডিয়েগো গার্সিয়াতে মোতায়েন করা বিমানগুলোর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান বা তার সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে, কারণ এই বিমানগুলো প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে থেকে ইরানকে আঘাত করতে সক্ষম। আর এটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার না করেও বিমানগুলো ব্যবহার করা যায়, ফলে তা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী বা অন্যান্য আক্রমণের আওতার বাইরেও থাকতে পারে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও খামেনির প্রতিক্রিয়া
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে উদ্দেশ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানকে তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বাতিল করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর ইরানের নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, মার্কিন চাপের কাছে তারা মাথা নত করবে না।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের দোরগোড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও তীব্র করে তুলছে।
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন
সম্প্রতি, ডিয়েগো গার্সিয়াতে ৩টি যুদ্ধবিমান দেখা গেছে এবং কান পাবলিক ব্রডকাস্টার উল্লেখ করেছে, এগুলো ইরানে আঘাত করার জন্য প্রস্তুত। বিমানগুলো এমন এক স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে থেকে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব। এটি বিমানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্ব মিডিয়ার রিপোর্ট ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি নিউজ জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এই দ্বীপে বি-টু বোম্বার ও সি-সেভেনটিন কার্গো বিমান মোতায়েন করেছে এবং বিমানগুলোর জ্বালানি জোগান দিতে ১৮টি রিফুয়েলিং ট্যাংকারও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানও মার্কিন এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেন, যখন সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন কোনো পার্থক্য করা হবে না- কোনো মার্কিন, ব্রিটিশ বা তুর্কি ঘাঁটি ব্যবহার করুক, ইরানে হামলার জন্য যে ঘাঁটি ব্যবহার হবে, সেটি লক্ষ্য করেই পাল্টা হামলা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্য পদক্ষেপ
তারও আগে বাইডেন প্রশাসন গত বছর ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে কনভেনশনাল বোমাসহ বি-টু বিমান ব্যবহার করেছিল। বর্তমানে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান ব্যবহার করে লোহিত সাগর থেকে হুতিদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে।
আরও উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইউএসএস কার্ল ভিনসন নামক একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান ডিয়েগো গার্সিয়াতে মোতায়েন এবং ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক প্রস্তুতির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন বিপর্যয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এটি শুধু ইরানকে নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থির করে তুলবে এবং এই সংকটের ভবিষ্যৎ পরিণতি পুরো বিশ্বকে উদ্বিগ্ন রাখবে।
![]() |
| ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়াতে ৪টি ‘স্টিলথ বি-টু স্পিরিট’ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোগল আমলে যেমন ছিল ঢাকার ঈদ by সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
ছবির সেই ঈদের মিছিলটি নিমতলী প্রাসাদ থেকে বের হয়ে হোসেনি দালান, বেগমবাজার, চকবাজার ঘুরে আবার নিমতলীতে গিয়ে শেষ হয়। জলরঙে আঁকা শিল্পী আলম মুসাওয়ারের এসব চিত্রকলায় ধরা আছে শত শত বছর ধরে পুরান ঢাকায় মোগল ঐতিহ্যের পরম্পরার কথা।
একই সময়ের মোগল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রের একটি দৃশ্য দেখা যাক। হাতি এনে বসানো হলো বাদশাহর সামনে। পাশে হাওদায় রাখা রত্নখচিত শৈল্পিক কেদারায় বসলেন বাদশাহ। কেদারা তুলে দেওয়া হলো হাতির পিঠে। হাতিযোগে বাদশাহ আর পদযোগে রাজকর্মচারীরা চললেন দিল্লির ঈদগাহ অভিমুখে নামাজ পড়তে। মোগল আমলের শেষ দিকের ঈদ মিছিলের এমন বর্ণনা পাওয়া যাবে মুন্সি ফাইজুদ্দিনের ‘বাজম-ই আখির’ নামের লেখা উর্দু কাব্যগ্রন্থে। সতেরো শতকে লেখা হয় এই কাব্যগ্রন্থ।
মূলত মোগলদের ঈদের দুই ধারার বর্ণনা পাওয়া যায়। রাজ্য বিজয়ের জন্য যখন ঘোড়ার খুরের সঙ্গে পথে পথে ছন্দ মেলাতে হতো অথবা শত্রুর আক্রমণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে হতো, তখন ঈদের উৎসব হতো না। কিন্তু যখন ঈদ উৎসব করতে চেয়েছেন, তখন তা হয়েছে শত শত বছর পরও স্মরণ করার মতোই জাঁকজমকপূর্ণ ইতিহাস। তবে এর সবই ছিল মোগল বাদশাহ, সুবেদার ও বিত্তবানদের জন্য। সাধারণ মানুষের জীবনে সে প্রভাব কমই পড়েছে মোগল আমলে। হোক দিল্লিতে অথবা ঢাকায়।
ঈদ গণমানুষের উৎসব ও অংশগ্রহণের হয়েছে ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর। তখন পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে আবার ফিরে এসেছে মোগলরীতির ঈদ ঐতিহ্য। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের পুরান ঢাকার ঈদে ছিল সেই ছাপ, যা এখনো বর্তমান এখানকার প্রবীণদের শৈশবস্মৃতিতে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজার ঈদের দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতো চাঁদ দেখা দিয়ে।
একই চাঁদ দিল্লি আর ঢাকার আকাশে
দিল্লির লালকেল্লায় চাঁদ দেখার খবর সম্রাটের কানে পৌঁছানোর পর ‘নাকাখানা’ থেকে তোপধ্বনি করার মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হতো শহরবাসীকে। তবে চাঁদটি যে কেল্লা থেকে দেখা যাবেই, এমন নিশ্চয়তা ছিল না। তাই মোগল বাদশাহরা নিশ্চিত হতে ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে দিতেন শহরের নানা দিকে। অশ্বারোহীরা দূরে দূরে বিভিন্ন টিলায় উঠে যেতেন চাঁদ দেখতে।
সত্যি চাঁদ দেখা গেছে কি না, এ জন্য আবার কাজিকে সাক্ষী মানতে হতো। সেই হুলুস্থুল ব্যাপার ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে ক্ষমতার পালাবদলে। একসময় খোদ বাহাদুর শাহ জাফরকে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে ইংরেজ শাসকদের নজরদারিতে। তবে মোগল বাদশাহর মতো এত জাঁকজমক না থাকলেও পুরান ঢাকার বিত্তবানদের শখও কম ছিল না চাঁদ দেখা নিয়ে।
এই আয়োজনের বর্ণনা পাওয়া যায় ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হেকিম হাবীবুর রাহমানের ‘ঢাকা পাচাস বারাস পাহ্লে’ গ্রন্থে। তিনি বলেছেন, ‘অতি শৌখিন লোকেরা নৌকার সাহায্যে মধ্য নদীতে গিয়ে চাঁদ দেখতেন। কিশোর ও যুবক সবাই যেত। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সী লোকেরা নিজের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করার জন্য অবশ্যই যেতেন...অবশেষে চাঁদ দেখা গেল। বন্দুকের গুলি ছোড়া হলো। তোপধ্বনি করা হলো। এমন সরব হলো যে বধিরও জানতে পারল যে চাঁদ উঠেছে।’
এ বর্ণনা ১৯৪৫ সালের আগের ঢাকার। কিন্তু এখন আর চাঁদ দেখতে না যেতে হয় ঘোড়া নিয়ে দূরের টিলায়, না যেতে হয় বুড়িগঙ্গায়। দিল্লি বা ঢাকা সব জায়গাতেই চাঁদ উঠলে দেখতে পারে সবাই। তবু কিন্তু চাঁদ দেখা গেল কি গেল না, তা নিয়ে উন্মাদনার কমতি ঘটেনি এখনো।
মোগল রীতির প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ স্থাপত্য, যার সাক্ষী হয়ে আছে এ অঞ্চলের কয়েকটি শাহি ঈদগাহ। যেখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়াই ঈদের সকালের প্রথম আনুষ্ঠানিকতা।
স্থাপনায় মোগল ইতিহাস
ঢাকার প্রথম শাহি ঈদগাহ নির্মাণের সময় বহু আগের। বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসার ৪৪ বছর পর ১৬৪০ সালে। সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজার প্রধান অমাত্য মীর কাশিম নির্মাণ করেছিলেন বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত পুরাকীর্তি ধানমন্ডির ঈদগাহটি। এখানে একসময় অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে আসতেন সুবা বাংলার সুবাদার, নায়েবে নাজিম ও তাঁদের পরিষদেরা। সাধারণ মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন অনেক পরে।
৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেটের শাহি ঈদগাহটিও মোগল আমলের। সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে এই ঈদগাহ নির্মিত হয়েছিল। ওই সময় সিলেটের ফৌজদার ছিলেন ফরহাদ খাঁ। তাঁরই তত্ত্বাবধানে ঈদগাহ নির্মিত হয় বলে জানা যায়। পরে অনেক রকম পরিবর্তন হয়েছে, তবে মূল স্থাপত্য নকশা আছে সেই সুপ্রাচীন আদলেই। ফলে এই ঈদগাহও মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন। সাধারণ মানুষের জীবনে সে আমলে ঈদের উৎসবের কথা সেভাবে জানা না গেলেও মোগলদের তৈরি বিভিন্ন স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঈদের স্মৃতি।
আরেকটি ছিল ঈদ মিছিল। তখন রাজনির্দেশেই আয়োজিত হতো ঈদের মিছিল। যার অনুকরণে ঢাকায়ও হয়েছে মিছিল, যার উদাহরণ রয়েছে পোস্টকার্ডে।
ঈদ মিছিলের আয়োজন
মুহম্মদ সাকি মুস্তক খান ও মির্জা মুহম্মদ কাজিম প্রণীত ‘মসির ই আলমগিরি’ নামে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের জীবনীতে উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁর অধিকাংশ বিজয় রোজার মাসে হয়েছে। প্রথম দিকে তাই এ মাসে শুরু হয়েছিল উদ্যাপন। সংযমের মাস বিবেচনায় পরে উৎসব সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ঈদের দিন সকাল থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত।
মোগল আমলের শেষ দিকের ঈদ বর্ণনা স্থান পেয়েছে ‘বাজম-ই আখির’ বইতে। বইটি উর্দু থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন ভারতের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা করা প্রখ্যাত লেখক রানা সাফভি। রানা সাফভির ‘হাউ দ্য বাদশাহস অব দিল্লি সেলিব্রেটেড ঈদ ডিউরিং দ্য ফাইনাল ইয়ারস অব দ্য মোগল এম্পায়ার’ প্রবন্ধে উল্লেখ পাওয়া যায়, ঈদ মিছিলের কথা। সেখানে উল্লেখ আছে বাহাদুর শাহ জাফর হাতির পিঠে ওঠার জন্য কেদারায় বসার পর তাঁর পাশে বসলেন বাদশাহর ছেলেরা। ঈদগাহ অভিমুখে ঈদের প্রথম জামাত আদায়ের সে যাত্রাই হতো ঈদ মিছিল। মোগল আমলের এই ঐতিহ্য ঢাকা শহরেও এসেছে মোগল আমলেই। প্রসঙ্গত, ঢাকার চকবাজারের শাহি মসজিদ আর দিল্লির জামা মসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৩০ বছরের মতো।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রকাশিত পোস্টকার্ডে সতেরো শতকের শুরুতে নায়েব নাজিমদের ঈদ উৎসব উদ্যাপন, ঈদ মিছিলের দৃশ্য আমরা আগেই বর্ণনা করেছি। তবে তখনো ঈদ শুধু বিত্তবানদের। রাজধানী ঢাকাতে সবাইকে নিয়ে ঈদ মিছিলের জমকালো আয়োজন আবার শুরু হয় দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলে। তবে সে মিছিল থেকে সামাজিক সচেতনতা, প্রশাসকদের ব্যর্থতা নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপের কথাও উঠে আসে। ফলে ঈদ মিছিল অনেকটা জড়িয়ে ছিল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সেই ঈদ মিছিলের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ঢাকা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আজিম বখশ প্রথম আলোকে বললেন, ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে ভাগ ছিল তখনো। আহলে হাদিসের অনুসারীরা ঈদের জামাত পড়তে যেতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। পুরান ঢাকার ঈদগাহতে নামাজ শেষে এলাকার বিশিষ্টজনেরা যেতেন পঞ্চায়েত সরদারের বাড়িতে। তখন নারীরা ঈদের নামাজ বাড়িতেই পড়তেন।
খাবারে মোগল প্রভাব
উর্দু রোডের বাসিন্দা লেখক হুমায়রা হুমা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘সুপারি কাটার সরতা দিয়ে চিকন করে কেটে রাখা হয় খুরমা। সেটা ভিজিয়ে রাখা হয় দুধের মধ্যে। বাড়ির মা-খালা, স্ত্রী কাজটি আগের রাতে করে রাখেন। পুরুষেরা সেই খাবার মুখে দিয়ে যান নামাজ পড়তে। এই প্রচলন বহুকালের।’
ঈদ উৎসবের মোগল ঐতিহ্যের অনেক কিছু হারিয়েছে এভাবে। তবু রয়েছে রসনাবিলাসের পরম্পরা। মোরগ পোলাও থেকে কাচ্চি বিরিয়ানি, কোরমা থেকে কোপ্তা—এর সবকিছুতে মোগলদের রসুইঘরের মতো পেস্তাবাদাম, দুধ, ঘি, জাফরানের ব্যবহার প্রাধান্য পায় পুরান ঢাকার ঈদের রান্নায়।
উর্দু রোড, আগামসি লেন, বংশালসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লার পুরুষেরা ঈদের সকালে নামাজ পড়তে যান দুধে ভেজানো খোরমা খেয়ে। এর নাম শির খোরমা। কোনো কোনো বাড়িতে সকালেই হয় দুধ সেমাই, জর্দা, লাচ্ছা সেমাই। ফিরে এসে খান পোলাও বা খিচুড়ির সঙ্গে নানা পদের মাংস। এই মিষ্টি মুখে দিয়ে নামাজে যাওয়া মোগল আমলের পরম্পরা।
বংশালের কয়েকজন ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা বললেন, তাঁদের ছোটবেলায় ঘরে পিতলের তৈরি সেমাইয়ের কল দিয়ে সেমাই বানানো হতো। এর নাম ছিল চুটকি। সেটাই রান্না করা হতো ঈদের দিন সকালে। পানি ঠান্ডা করার কায়দা ছিল কর্পূর, ফিটকিরি। ঈদের রান্নার মসলা করে রাখা হতো আগের রাতে। এখন এসব কল্পনা মনে হয়। সময় কোথায় মানুষের!
বংশালের এই বাসিন্দাদের অনেকের সন্তান এখন থাকেন বর্ধিত ঢাকায়। তাঁরা ঈদের দিন বংশালের বাড়িতে যান। তবে ঐতিহ্য রক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই তাঁদের দ্রুতগতির জীবনে। এখানকার বাসিন্দারা অভিযোগ করলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বলে অনেক কিছু চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এখন, যা আদতে পুরান ঢাকার নয়। যেমন চকবাজারের ইফতারের আইটেমের নাম বলে অনেক কিছু বিক্রি হয়। কিন্তু একসময় মানুষ কি কেনা খাবারের ওপর নির্ভরশীল ছিল?
ইতিহাসবিদ ও গবেষক হাশেম সূফী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরোনো হলেও বর্তমান পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্য মোগল আমল থেকে। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন শুরু হয়েছে পাকিস্তান আমলের শেষ সময় থেকে। এ সময় রেস্তোরাঁয় খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশের জন্মের অনেক পরে শুরু হয় হোটেলে বসে ইফতারের সুযোগ।’
![]() |
| ঢাকার নবাবদের আয়োজনে হতো বাহারি ঘোড়দৌড়। ঈদ উৎসব তখনও আমজনতার হয়নি। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঈদের দিনেও গাজায় হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৪

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পঞ্চান্ন বছর আগের ‘ঝিনুক’ ঈদসংখ্যা by হোসাইন মোহাম্মদ জাকি
১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালে সংঘটিত হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোনের ক্ষত তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভোলার আপামর জনতা। তাইতো পত্রিকার শুরুতেই ‘আমাদের কথা’ শিরোনামে পুরো পৃষ্ঠা নিয়ে লেখা ছিল, ‘যার কেউ নেই, কিছু নেই, আপনি কি পারেন না তার কেউ হতে, তাকে কিছু দিতে? সর্বহারাদের সাহায্যে আপনার সাধ্যানুযায়ী দান আরো দানের অংকের সাথে যোগ হয়ে বিরাট আকার ধারণ করতে পারে। আপনার বাহুল্য ব্যয় সাময়িকভাবে পরিহার করলে কিছু আসবে যাবে না, কিন' ঐ অর্থ দ্বারা অন্তত একজন দুর্গত মানুষের অশেষ উপকার হবে। আপনার দৈনন্দিন ব্যয়-বরাদ্দ থেকে কিছু হলেও বাঁচিয়ে তা দুস' মানবতার সেবায় নিয়োজিত করুন। দক্ষিণ বঙ্গের উপকূলবর্তী সহায়-সম্বলহীন মানুষের জন্য মুক্তহস্তে দান করুন।’
ঈদ সংখ্যাটিতে মোট ৩১টি সাদাকালো ও রঙিন বিজ্ঞাপন স'ান পেয়েছে। পূর্ণ, অর্ধ ও সিকি পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল এসব বিজ্ঞাপন। তন্মধ্যে ছিল ‘মায়ার বাঁধন’, ‘বাংলার বধূ’, ‘বড় বউ’, ‘চৌধুরী বাড়ি’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘সামনের পৃথিবী’, ‘পলাশের রং’, ‘জল ছবি’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’ ও ‘দীপ নেভে নাই’ চলচ্চিত্র এবং বেঙ্গল মোশান পিকচার্স স্টুডিওজ লিঃ-এর বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপন দেখে সিনেমা শিল্পের জনপ্রিয়তা তখন কতোটা তুঙ্গে ছিল, তা বেশ অনুমান করা যায়। পাশাপাশি অনুধাবন করা যায়, কতোটা সুন্দর ও রুচিশীল নামের ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল সত্তর দশকে। তবে ষাটের দশকেই রচিত হয়েছিল সুন্দর সত্তরের ভিত্তি। আশির দশকেও তা বিরাজ করেছে। সত্তর দশকের ছবি শিখিয়েছে পারিবারিক মূল্যবোধ, শ্রেণিবৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা এবং সাহিত্যভিত্তিক ছবির গুরুত্বসহ আরও নানা দিক। ‘মায়ার বাঁধন’ এবং ‘বাংলার বধূ’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন শাবানা-উজ্জ্বল। ‘চৌধুরী বাড়ি’ ও ‘প্রিয়তমেষু’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন শাবানা-রাজ্জাক। এ ছাড়া রাজ্জাক-কবরী, ফারুক-কবরী, সুচন্দা-আজিম ছিলেন সেসময়ের বেশ জনপ্রিয় জুটি।
ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত পশ্চিম পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট দু’টি বিজ্ঞাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। একটি সেন্ট্রাল ডাইরেক্টরেট অব ন্যাশনাল সেভিংস ইসলামাবাদ কর্তৃক প্রচারিত ‘প্রাইজ বন্ডস’ এবং অপরটি কেন্দ্রীয় জাতীয় সঞ্চয় দপ্তর ইসলামাবাদ কর্তৃক প্রচারিত ‘ডিফেন্স সেভিংস সার্টিফিকেটস’। এ ছাড়া লালবাগ কেমিক্যাল এন্ড পারফিউমারী ওয়ার্কস-এর লক্ষ্মীবিলাস ভেষজ কেশ তৈল, এলিট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের এলিট পেইন্ট, ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ, দি গ্রেট ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং তিতাস গ্যাস-এর বিজ্ঞাপন ছিল উল্লেখযোগ্য। সাইক্লোন আক্রান্ত মানুষের জন্য পূর্ব পাকিস্তান শিল্পোন্নয়ন কর্পোরেশন-এর বিজ্ঞাপনের ভাষা পূর্ণতা পায় এভাবে, ‘গগনবিদারী শোকের পাথার কাঁপায় নিখিল ধরা/ভাষাও আজিকে মৌন নীরব হৃদয় আকুল করা!’ এতো গেল বিজ্ঞাপনের আলাপ। এবার প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র বিষয়ে পর্যালোচনা।
রূপ ও বাণীর প্রথম চিত্রার্ঘ্য ‘দীপ নেভে নাই’ ছবির নায়িকা কবরী ও নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে ছিল ঈদসংখ্যার প্রচ্ছদ বিন্যাস। যা আমাদের অনেকের নিকট এখন অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে। কারণ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে আমাদের বিনোদনের ধারা বদলে গেছে। বিনোদন মাধ্যম বলতে আজ আমরা বুঝি ওটিটি, ইউটিউব, স্পটিফাইয়ের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফরম। টেলিভিশন চ্যানেলও বুঝি পুরনো হয়ে গেছে। অথচ বেশিদিন আগের কথা না, সিনেমা প্রচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল রেডিও। ঘরে ঘরে তখনো টিভি এসে পৌঁছেনি। দুই ব্যান্ডের রেডিও ছিল কিছু মানুষের হাতে। কখনো বা সেথায় দুই বা ততোধিক শ্রোতাও থাকতো। সেই রেডিওর প্রধান আকর্ষণ ছিল মুক্তি আসন্ন সিনেমার প্রচারণা। শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে এই বিজ্ঞাপন শুনতো। বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দিয়ে নাজমুল হুসাইন এবং মাজহারুল ইসলাম নামের দু’জন তো একপ্রকার তারকা খ্যাতিই অর্জন করে ফেলেছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন নাজমুল হুসাইন। হ্যাঁ ভাই, আসিতেছে... আসিতেছে... আগামী শুক্রবার ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে...। ঈদ মানেই ছিল তখন নতুন সিনেমা। টিকিট ব্ল্যাক হওয়া ছিল সাধারণ বিষয়। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে ঈদ উপলক্ষে ‘দীপ নেভে নাই’ চলচ্চিত্রটি একযোগে শুভ মুক্তি পেয়েছিল ঢাকার বলাকা, মধুমিতা, স্টার, নিশাত, আনারকলি ও রাণীমহল, নারায়ণগঞ্জের গুলশান, চট্টগ্রামের আলমাস, খুলনার চিত্রালী ও পিকচার প্যালেস এবং বগুড়ার উত্তরায়। প্রযোজক ও পরিচালনায় ছিলেন ‘মিতা’ এবং সংগীতে ছিলেন ‘সত্য সাহা’। পরিণত বয়সীরা দল বেঁধে যেতেন সিনেমা হলগুলোতে। ঈদ উপলক্ষে রাতব্যাপী বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস'া হতো, যা খ্যাত ছিল ‘ফুল-সিরিয়াল’ হিসেবে।
সিনেমা হলে ছবি দেখা নিয়ে কি উন্মাদনাই না ছিল সেকালে! হলগুলোতে নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি পেলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা ফলাও করে জানান দেয়া হতো। ২৮ মার্চ ১৯৬৫ সালে দৈনিক আজাদ-এর শিরোনাম ছিল, ‘মহানগরের টিকিট ক্রয়ের জন্য নজিরবিহীন ভিড়, জনতার উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে ১৪১ জন আহত’। রাষ্ট্রপ্রধান একে ফজলুল হক বন্ধু-বান্ধব নিয়ে নিয়মিত সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখতেন। শুধু তাই নয়, দাপ্তরিক প্যাডে সেই মুভি (পুকার) সম্পর্কে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত মতামত প্রকাশ এবং প্রশংসা (২৬.০১.১৯৪০) করেছেন অকুণ্ঠ চিত্তে। সেসময় নারীদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই সিনেমা হল। এ বিষয়ে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, “সিনেমা হলে তখন মেনে চলা হতো কঠোর পর্দা প্রথা। সিনেমা হল থেকে রাস্তা পর্যন্ত দুইদিকে কালো পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। সিনেমা শুরু হওয়ার পর হল অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পরেই কেবল পর্দা সরিয়ে ফেলা হতো। নারীদের জন্য আসন ব্যবস'া ছিল পুরুষদের থেকে একেবারেই পৃথক। বিরতির সময় ঝি’রা (গৃহকর্মী) হাতে করে নিয়ে আসতো শাহী শরবতের গ্লাস, ফল বা বেকারী সামগ্রী। যারা এসব পাঠাতো তারা নাম বলে দিতেন। ঝি চড়া গলায় বলতো, কেঠা রহিমন নেছা আছো, কেঠা ভুবনেশ্বরী দাশ... দেখা যেতো রহিমন নেছা শরবত যখন খেয়ে সেরেছে, তখন দেখা গেল আরও একজন ছিল ঐ নামের। শরবতের মালিক ছিল সে।” তরুণ-তরুণীদের হাঁটাচলা এমনকি পোশাকেও ছিল চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের প্রতিচ্ছবি। নায়ক জাফর ইকবাল আর রাজ্জাক স্টাইলের ডিভাইডার প্যান্ট আর চুলগুলো আঁচড়ে এক পাশ করে রাখা, নায়িকা ববিতার মতো প্যাঁচিয়ে শাড়ি পরা আর সুচন্দার মতো গালে তিল আঁকা-এসবই ছিল সেকালের সিনে সংস্কৃতির সামাজিক বাস্তবতা।
প্রযোজক-পরিচালক মুস্তাফিজ-এর সাক্ষাৎকারের জবাবে ‘আলোচনা প্রসঙ্গে’ শিরোনামে জহির রায়হানের একটি অমূ্ল্য নিবন্ধ সংযুক্ত হয়েছে সূচিপত্রের প্রারম্ভেই। এই নিবন্ধ সেকালের চলচ্চিত্র পরিচালকদের সম্পর্কে অনেক মূল্যবান ও অজানা তথ্য জানার সুযোগ করে দিয়েছে। জহির রায়হান লিখেছেন, “এদেশে চলচ্চিত্র শিল্পের জনক আব্দুল জব্বার খান নিজে একজন নাট্যকার। এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে, বিশেষ করে মঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘদিন তিনি জড়িত ছিলেন। পরিচালক ফতেহ লোহানী, মহীউদ্দিন, সালাহউদ্দীন এঁরা উচ্চশিক্ষিত-প্রত্যেকের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবদান আছে। ফতেহ লোহানী ছবি পরিচালনার আগে সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। পরিচালক মহীউদ্দিন দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন এবং চলচ্চিত্রে যোগদানের আগে রেডিও পাকিস্তানের প্রোগ্রাম প্রোডিউসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরিচালক সালাহউদ্দীন বামপনি' রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এবং এদেশের নাট্যশিল্পের সঙ্গে তাঁর সক্রিয় যোগাযোগ ছিল। এদেশের চলচ্চিত্র-শিল্পের সূচনাতে উপরোল্লিখিত ব্যক্তিরা ছাড়া আরও দু’জন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। একজন খান আতাউর রহমান। দ্বিতীয়জন আমি। খান আতাউর রহমান চলচ্চিত্রে প্রবেশের আগে কবি, সমালোচক ও সংগীতজ্ঞ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। নিজের কথা বলবো না। শিক্ষিত রুচিবান সংস্কৃতিসেবীদের হাতে এদেশের চলচ্চিত্র-শিল্পের যখন সূচনা হয়, তখন দু’জন ঠিকাদার এসে এই শিল্পের অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একজন মুস্তাফিজ, আর একজন তাঁর ভ্রাতা এহতেশাম। এঁদের শিক্ষা-দীক্ষা কিংবা ঐতিহ্য বলতে কিছুই ছিল না। এদেশে চলচ্চিত্র-শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের হাতে। তাঁদের চিন্তা ছিল ভালো ছবি তৈরি করা।...বুদ্ধিজীবী পরিচালকেরা যখন ভালো ছবি তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তখন উল্লিখিত ভ্রাতৃদ্বয় সস্তা চটকদার ছবি বানিয়ে অর্থ উপার্জনের বাজার মাত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁদের এই সস্তা চটকদার ছবিগুলোর সঙ্গে ভালো ছবিগুলোর ব্যবসায়িক পাল্লা দেয়া স্বাভাবিক কারণেই সম্ভবপর হলো না। পরিবেশকরা চটকদার ছবির নির্মাতাদের নিজের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি চরিতার্থের প্রয়োজনে দু’হাতে আলিঙ্গন করে কাছে টেনে নিলেন এবং ভালো ছবির নির্মাতাদের অবহেলার সঙ্গে দূরে ঠেলে দিলেন। এই দুই চটকদার ছবি নির্মাতার দাপটে ‘আসিয়া’র মতো ভালো ছবি বানিয়েও ফতেহ লোহানী বেকার হয়ে গেল। পরিচালক মহীউদ্দিন আর সালাহউদ্দীন জীবন সংগ্রামের কঠিন ধাক্কায় জর্জরিত হলেন। চলচ্চিত্র-শিল্পের সূচনাতে যদি এঁদের আবির্ভাব না হতো, তাহলে এদেশের চলচ্চিত্র-শিল্পের গতি অন্যরকম হতো। তাহলে ‘আসিয়া’র পরিচালক ফতেহ লোহানীকে ‘সাতরং’ ছবি বানাতে হতো না। ‘মাটির পাহাড়’ আর ‘শীত বিকেলের’ পরিচালক মহীউদ্দিনকে ‘গাজী কালু চম্পাবতী’ বানাতে হতো না। ‘যে নদী মরুপথে’, ‘সূর্যস্নান’ আর ‘ধারাপাত’-এর পরিচালক সালাহউদ্দীনকে ‘রূপবান’ বানাতে হতো না। ‘সুতরাং’ আর ‘আয়না অবশিষ্ট’-এর পরিচালক সুভাষ দত্তকে ‘পালাবদল’ বানাতে হতো না। ‘অনেক দিনের চেনা’ আর ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’র পরিচালক খান আতাউর রহমানকে ‘সাত ভাই চম্পা’ বানাতে হতো না। ‘কখনো আসেনি’ আর ‘কাঁচের দেয়ালে’র পরিচালককেও ‘বেহুলা’ বানাতে হতো না। পরিচালক মুস্তাফিজ ও এহতেশাম ভ্রাতৃদ্বয় শুধু যে এদেশে ভালো ছবি তৈরির পথ রুদ্ধ করে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই নয়, একটার পর একটা চটকদার উর্দু ছবি নির্মাণ করে এদেশে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছিলেন...”।
সে আমলের প্রখ্যাত শিল্পী এবং চিত্র নায়ক-নায়িকাদের দুর্দান্ত সব ছবি স'ান করে নিয়েছে আলোচ্য সংখ্যাটিতে। ২৮৮ পৃষ্ঠার এই ঈদ সংখ্যায় চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংবাদিকদের নানামুখী চিন্তার খোরাক রয়েছে। প্রতি সংখ্যাতেই ছিল ঝিনুক শব্দ প্রতিযোগিতার আয়োজন। সমাধান পাঠানোর শেষ তারিখ ধার্য করা থাকতো। শব্দ প্রতিযোগিতার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তের উল্লেখ করা হতো। সঠিক উত্তর প্রদানের জন্য আর্থিক পুরস্কারেরও ব্যবস'া ছিল। ‘সচিত্র চিত্র-কাহিনী’ শিরোনামে ‘দীপ নেভে নাই’ চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি স'ান পেয়েছে কবরী, রাজ্জাক, রোজী, আনোয়ার হোসেন, মাস্টার ববি ও হাসমত-এর রঙিন ছবি। ববিতা, শাবানা, কবিতা ও শাহানা এই চারজনকে নিয়ে ‘আপন ভুবনে চার-কুমারী’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। পঞ্চান্ন বছর আগের এই ছবিগুলো পাঠক-পাঠিকাদের নিঃসন্দেহে স্মৃতিকাতর করে তুলবে। এ ছাড়া সূচিপত্রের প্রথম অংশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে- মেসবাহুল হকের একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস ‘নটীর মৃত্যু’, সা’দত হাসান মান্টোর বড় গল্প ‘পুস্তকের সারমর্ম’ (অনুবাদ: আখতার-উন-নবী), বুলবুল আজাদের ছোটগল্প ‘অন্ধকার ঘরে’, কুমার শচীন দেববর্মণের ধারাবাহিক আত্মকথা: ‘আমার জীবনে আমি’, মিয়া মতীনের ব্যক্তিগত আলেখ্য (ধারাবাহিক): ‘ফেলে-আসা দিনগুলো’, চিত্র সমালোচনা, পশ্চিম পাকিস্তানের চিত্র সংবাদ।
সূচিপত্রের প্রথম অংশে শিল্পী পরিচিতি শিরোনামে জাফর ইকবাল ও লায়লা আর্জুমান্দ বানু সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু তথ্য রয়েছে। জাফর ইকবাল সম্পর্কে শিল্পী পরিচিতিতে ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘নায়ক সমস্যার যুগে জাফর ইকবালের আগমন একটি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। পর পর দুটো ছবি মুক্তি পাবার পর আজ তার হাতে অনেক ছবি। একে নিয়ে বিভিন্ন নায়িকার সঙ্গে জুটি বাঁধবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন পরিচালক-প্রযোজকরা।’ অসামান্য ও বিরল প্রতিভার অধিকারী সংগীতশিল্পী লায়লা আর্জুমান্দ বানু। ঝিনুক ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত তাঁর ছবিটি বর্তমানে বেশ দুষ্প্রাপ্য। তাঁকে নিয়ে নানা তথ্যে সমৃদ্ধ এই নিবন্ধটি। পাঠক-পাঠিকাদের স্মৃতিরোমন'ন ও ভাবনার জাগরণে এর বিশেষ-বিশেষ অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো:
“প্রায় একশ’ বছর আগেকার কথা। সৈয়দ গোলাম মুস্তাফা ছিলেন তাঁর দাদার বাবা অর্থাৎ পরদাদা। টপ্পা গানের প্রতি তাঁর সাংঘাতিক ঝোঁক ছিল। তখনকার যুগে গান-বাজনার যে খুব একটা প্রচলন ছিল, তা নয়। তবে বড় বড় জমিদারদের বাড়ীতে শুধু গানের জলসা বসতো। অবসর সময়ে গ্রামের মানুষ পল্লীগীতি গাইতো। সেইসব গানের কোনো ধরাবাঁধা সুর ছিল না। তখন থেকেই তাঁদের বাড়ীতে সঙ্গীতের প্রবেশ। তারপর ধীরে ধীরে এলো বাবার যুগ। সৈয়দ তৈফুর তাঁর বাবা। তিনি ছিলেন সাব-রেজিষ্ট্রার। এই সৈয়দ বংশেই জন্মগ্রহণ করেন লায়লা আর্জুমান্দ বানু। তাঁরা তিন বোন। বড় বোন লুলু বিলকিস বানু বর্তমানে লণ্ডনে রয়েছেন। তিনি কিছুদিন ভিকারুননেসা নূন স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ছোট বোন মালেকা পারভিন বানুও ভালো গায়িকা। আর তিনি মেঝো। বাবা সৈয়দ তৈফুর সাহেব চেয়েছিলেন তাঁর বড় মেয়ে লুলু বিলকিস বানু ভালো গায়িকা হোক। কিন' গানের দিকে ঝোঁক ছিল না তাঁর। ঝোঁক ছিল লায়লা আর্জুমান্দ বানুর প্রবল। তখন তাঁর বয়স মাত্র চার। রমণীমোহন ভট্টাচার্যের কাছে বড় বোন গান শেখেন। আর বসে বসে তন্ময় হয়ে শুনতেন তিনি।...শেষ পর্যন্ত রমণীমোহন বাবু তাঁকেই গান শেখাতে শুরু করলেন।
...তেইশ বছর একনাগাড়ে শিখেছেন ওস্তাদ গোলাম মুহম্মদের কাছে।...১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সনের এক সন্ধ্যায় তাঁর গান প্রথম এ দেশবাসী বেতারে শুনতে পায়। সে দিনটি ছিল ঢাকা বেতারের ‘খেলাঘর’-এর উদ্বোধনী দিবস।...নজরুলের আর একটি গানও সেদিন তিনি গেয়েছিলেন-‘নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখিজল।’...‘খেলাঘর’-এ যতদিন গেয়েছেন, ততদিন বেতার কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেননি। তবে ১৯৪১ সনে বড়দের সাথে গান গাইবার সুযোগ যখন এলো, তখন তাঁকে পাঁচ টাকা করে পারিশ্রমিক দেয়া হতো।...তখন গানের প্রোডাকশনে জড়িত ছিলেন প্রভাত মুখার্জী ও নির্মল ভট্টাচার্যের মতো মানুষ। উৎপলা সেন, কল্যাণী মজুমদারের মতো মেয়েও তখন রেডিওতে গাইতেন। ১৯৪০ সালের কথা। ...নজরুল ইসলাম আর শচীন দেববর্মণ মিলে করলেন ‘পূর্বাণী’ বলে এক ‘মিউজিক্যাল স্কেচ’। সেই ‘পূর্বাণী’তে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন।
...বাংলাদেশে তখন বিত্তশালী পরিবারে গ্রামোফোন ছিল চিত্তবিনোদনের প্রধান সহায়ক। কলের গানের চোঙার চারপাশে শহর-গ্রামের লোক ভিড় জমাতো। সে যুগ ছিল ‘আবু হোসেন আলীবাবার’ রেকর্ড নাটকের যুগ। সে যুগ ছিল আশ্চর্যময়ী, বিনোদিনী দাসী, আঙ্গুরবালা ও ইন্দুবালা এবং কে. মল্লিকের যুগ। সে যুগে যে-সমস্ত মেয়ে গান রেকর্ড করতেন, তাঁরা ছিলেন সমাজের বাইরে। সমাজ তাঁদের গান শুনতো, আনন্দ উপভোগ করতো। কিন' সমাজে কখনও তাঁরা আসন পাননি। মুসলমানরা তখনও এগিয়ে আসেনি রেকর্ড করতে। কে. মল্লিক কাসেম মল্লিক বলে কোনও রেকর্ড প্রথম দিকে করেননি বলে মুসলমান সমাজ তাঁকে মুসলমান বলে জানতেই পারেনি। যেমন তালাত মাহমুদকে তপন কুমার নাম নিয়ে রেকর্ড করতে হয়েছিল। কারণ, মুসলমান সমাজ তাদেরকে সমাজচ্যুত করতো। কিন' ১৯৩৪ সালের দিকে বাংলাদেশের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মুসলমান মেয়ে কণ্ঠ দিয়েছিলেন গ্রামোফোন রেকর্ডে। মানিকগঞ্জ মহকুমার পারিল নওয়াধার মরহুম আলী আহমদ হামিদুল্লাহ সাহেবের কন্যা আশরাফী খানম। আমাদের অতি পরিচিত ও প্রখ্যাত সঙ্গীত-শিল্পী আফসারী খানমের বড় বোন। তারপর সুদীর্ঘ ৮ বছর আর কোনও বাঙালী মুসলমান মেয়ের রেকর্ড বের হয়নি। তাঁর নিজের কতোটি রেকর্ড আছে, এ প্রশ্নের জবাবে বললেন, খুব বেশি হলে ১৫ থেকে ২০টি রেকর্ড হবে। আজকের বায়তুল মোকাররমের পাশে যে ইসলামিক একাডেমী অবসি'ত, সেই ইসলামিক একাডেমী ছিল বিধবা আশ্রম। সেই বিধবা আশ্রমে একবার ‘এইচ. এম. ভি কোম্পানী’ উঠেছিলো। ১৯৪৬ সনের কথা। তখন চিন্ময় লাহিড়ীর পরিচালনায় তাঁর কয়েকটি গান রেকর্ড করা হয়েছিল। তারপর ১৯৪৮ সনে আবার যখন ‘এইচ. এম. ভি কোম্পানী’ এসেছিল, তখন কয়েকটি গান রেকর্ড করিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৫ সনে লাহোরের ‘কিসমৎ’ ছবির প্লে-ব্যাক করেছিলেন তিনি। এটিই হচ্ছে তাঁর জীবনের প্রথম নেপথ্যে কণ্ঠদান। ...১৯৪৯ সনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ. পাস করেছেন আর ১৯৬০ সনে বিয়ে করেছেন তৎকালীন বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক শামসুল হুদা চৌধুরীকে। ...১৯৫২ সনে তুরস্কে, ১৯৫৪ সনে আশুতোষ কলেজে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনে, ১৯৫৫ সনে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত সাউথ-ইষ্ট এশিয়া রিজিওনাল কনফারেন্সে, এরপর ১৯৬০ সনে ইরানে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো কনফারেন্সে, ১৯৬৩ সনে সোভিয়েট রাশিয়া, ১৯৬৬ সনে কাবুল, ইংল্যান্ড, ১৯৬৮ সনে ইরান প্রভৃতি দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। ...তিনি বাংলা, উর্দু, পার্শি ও রাশিয়ান ভাষায় গান গাইতে পারেন।...”
সূচীপত্রের দ্বিতীয় অংশে বিশেষ রচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-‘আমার চোখে ফিল্ম-ইন্ডাস্ট্রি:এবার বলেছেন মশিহুর রহমান’, ‘অন্তরঙ্গ আলোকে:ফতেহ লোহানী’, ‘আমার প্রতিবিম্বে আমি: রেশমা’, ‘আমার কথা: সুচন্দা’ এবং ‘মুস্তাফার প্রেম’। নিয়মিত বিভাগ ছাড়াও ‘ইতিহাস কথা কও’ এবং ‘বিশ্ব বিচিত্রা’ শিরোনামে দুটি অধ্যায় সংযুক্ত হয়েছে আলোচ্য ঈদসংখ্যায়। পঞ্চান্ন বছর পর আসিরুদ্দীন আহমদ সম্পাদিত ‘ঝিনুক’ ঈদসংখ্যাটি আপামর পাঠকের দৃষ্টিতে কিরূপে ধরা দিলো তার বিচার পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পানির বোতল কত দিন পরপর পরিষ্কার করা উচিত
তেমনই একটি গবেষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কার্ল বেহেনকে। নিজের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতলটি কতটা পরিষ্কার, তা নিয়ে ভাবনা থেকেই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। শুরুতে বোতলের ভেতরে কিছু টিস্যু পেপার ঢুকিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখেছিলেন বেহেনকে। এরপর যা দেখলেন, তাতে তিনি হতভম্ব হয়ে যান।
বেহেনকে বলেন, টিস্যুগুলো বের করে আনার আগপর্যন্ত এগুলো সাদা ছিল। তিনি বুঝতে পারেন, বোতলের ভেতরের গায়ে যে পিচ্ছিল ভাব মনে হচ্ছিল, তা বোতলের ধরনের কারণে নয়, বরং সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর কারণে এমন হয়েছে।
এরপর গবেষণার পরিকল্পনা তৈরি করেন বেহেনকে। এর অংশ হিসেবে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি করিডরে পথচারীদের থামাতে থাকেন এবং তাঁদের কাছ থেকে পানির বোতলগুলো চেয়ে নেন। বোতলগুলো কতটা পরিষ্কার, সেটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য এগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় যে বোতলগুলো ব্যাকটেরিয়ায় ভরপুর।
২০২৪ সালের হিসাব অনুসারে, বিশ্বব্যাপী পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতলের বাজারের আকার প্রায় এক হাজার কোটি ডলার। ইতালীয় স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁদের অর্ধেকই পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল ব্যবহার করেন। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫০ থেকে ৮১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বোতল ব্যবহার করেন।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতলে আসলে কী থাকে
যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক প্রিমরোজ ফ্রিস্টোন বলেন, রান্নাঘরের কল থেকে বোতলে পানি ভরে কয়েক দিন রেখে দিলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। তিনি বলেন, ঘরের তাপমাত্রায় (প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) যতক্ষণ পর্যন্ত একটি পানিভর্তি বোতলকে ফেলে রাখা হবে, তত বেশি ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে।
সিঙ্গাপুরে ফোটানো পানি নিয়েও একটি গবেষণা হয়েছিল। পানি ফোটানোর সময় বেশির ভাগ ব্যাকটেরিয়া মরে যাওয়ার কথা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দিনভর ব্যবহারের পর বোতলের ভেতর ফোটানো পানিতেও দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
গবেষকেরা দেখেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বোতলের ভেতরের পানিতে সকালের দিকে গড়ে প্রতি মিলিলিটারে প্রায় ৭৫ হাজার ব্যাকটেরিয়া ছিল, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি মিলিলিটারে ১০ থেকে ২০ লাখের বেশি হয়ে গেছে।
ফ্রিস্টোনের মতে, ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমানোর একটি উপায় হলো, বোতল থেকে পানি পানের মধ্যবর্তী বিরতিতে তা ফ্রিজে সংরক্ষণ করা। তবে এতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
পানির বোতলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর পেছনে ওই পানির কিছু দায় থাকলেও বেশির ভাগ দূষণ তৈরি হয় ব্যবহারকারীর মাধ্যমেই। ফ্রিস্টোন বলেন, কর্মস্থলে, ব্যায়ামাগারে, এমনকি বাড়িতে যেখানেই পানির বোতল নিয়ে যাওয়া হোক না কেন, বোতলের বাইরের অংশে অনেক জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু সহজেই বোতলের ভেতরে স্থানান্তরিত হয়। এ ছাড়া প্রতিবার চুমুক দিয়ে পানি পানের সময় ব্যবহারকারীর মুখ থেকে বোতলের পানিতে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।
পানির বোতল ব্যবহারকারীদের যাঁরা নিয়মিত হাত পরিষ্কার করেন না, তাঁদের বোতলে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে বলেও মত দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ।
ব্যাকটেরিয়া কী প্রভাব ফেলে?
মাটি, বায়ু বা দেহ—আমাদের চারপাশেই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। তবে বেশির ভাগ ব্যাকটেরিয়াই ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। যে পানিতে ই. কোলাই–এর মতো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে, তা পান করলে ডায়রিয়া বা বমি হতে পারে। তবে সব সময়ই যে এমনটা ঘটবে, তা নয়। ই. কোলাই হলো এমন এক ব্যাকটেরিয়া, যা প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশে বিরাজমান। তবে মানুষের অন্ত্রেও এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে। এটি কেবল তখনই ঘটে, যখন ব্যাকটেরিয়া রোগজীবাণুতে পরিণত হয়।
ফ্রিস্টোন বলেন, বেশির ভাগ অণুজীবই মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। এ ছাড়া পেটে জীবাণুর সংক্রমণের কারণে অসুস্থ হলে কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন হতে পারে। তবে ফ্রিস্টোন মনে করেন যে পানির বোতলে থাকা ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে শরীরে কখনোই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না।
এ ছাড়া যেসব মানুষ সম্প্রতি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছেন এবং যা তাদের পেটের অণুজীবের ওপর প্রভাব ফেলেছে, তাদের শরীরেও বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তারা অন্য সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কীভাবে বোতল পরিষ্কার করতে হবে
পানি পানের সঙ্গে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শরীরে যেন প্রবেশ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত ও যথাযথভাবে বোতল পরিষ্কার করতে হবে।
ফ্রিস্টোন মনে করেন, ঠান্ডা পানি দিয়ে বোতল ধোয়াটা যথেষ্ট নয়। কারণ, এতে বোতলের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া দূর হয় না।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতলগুলো গরম পানি (৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) দিয়ে পরিষ্কার করার সুপারিশ করেছেন ফ্রিস্টোন। তাঁর মতে, বোতলগুলো তরল ডিশওয়াশার দিয়ে নাড়াচাড়া করে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর বোতলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানো ঠেকাতে এটিকে বাতাসে শুকিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। কারণ, অণুজীবগুলো আর্দ্র পরিবেশ পছন্দ করে।
ফ্রিস্টোন মনে করেন, প্রতিবার ব্যবহারের পরই এ প্রক্রিয়ায় বোতল পরিষ্কার করা উচিত। অন্ততপক্ষে সপ্তাহে কয়েকবার বোতল পরিষ্কার করতে হবে। বোতল থেকে দুর্গন্ধ বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ বিশেষজ্ঞের মতে, বোতল থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করার মানে হলো, এটি ফেলে দেওয়ার সময় এসে গেছে।
বোতল ধোয়া হলে এটি ধরার আগে হাত পরিষ্কার করার বিষয়টিও মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
![]() |
| পানির বোতল ব্যবহারকারীদের যাঁরা নিয়মিত হাত পরিষ্কার করেন না, তাঁদের বোতলে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অল্প বয়সেও কেন হার্ট অ্যাটাক হয় by ডা. আফলাতুন আকতার জাহান
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা
ধূমপান
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় কারণ ধূমপান। ধূমপানে রক্তনালিতে ক্ষত তৈরি হয় এবং রক্তনালির ভেতর চর্বি জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায়।
মাদকাসক্তি
হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি বড় কারণ মাদকাসক্তি। কোকেন, ইয়াবা, গাঁজা, ইন্ট্রাভেনাস অ্যাবিউজিং ড্রাগ হার্টের রক্তনালির ক্ষতি করে এবং হৃৎস্পন্দন এলোমেলো করে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ
অতিরিক্ত উদ্বেগ, মানসিক চাপ হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থূলতা
হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি বড় কারণ ওবেসিটি বা স্থূলতা। অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি জমা বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়াসহ অনেক ধরনের অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।
অপর্যাপ্ত ঘুম
দিনে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
অলস জীবনযাপন
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে হার্টের কাজ করার ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তের চর্বির পরিমাণও কমে। অলস জীবন যাপন করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
অস্বাস্থ্যকর খাবার
এখন অল্প বয়সীদের মধ্যে ঘরের বাইরে বা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার প্রবণতা বেশি। বাইরের খাবারে অস্বাস্থ্যকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি থাকে। এ খাবারগুলোর কারণে রক্তনালিতে চর্বি জমাট বাঁধাসহ হার্টের ক্ষতি হতে পারে।
বংশগত কারণ
পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে কম বয়সেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। তাই রোগীর পারিবারিক ইতিহাস জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাবা, বড় ভাই বা চাচাদের কেউ হার্টের অসুখে ভুগলে এর কারণ জানতে হবে এবং বংশগত কিছু আছে কি না দেখতে হবে।
ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিত...
* ধূমপান ও মাদকদ্রব্য পরিহার করতে হবে।
* নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে।
* স্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন ফলমূল, শাকসবজি ও মাছ খেতে হবে এবং চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন গরু ও খাসির মাংস, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি খাওয়া কমাতে হবে।
* পরিবারের হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
* মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন করা যেতে পারে।
ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, মেডিসিন স্পেশালিস্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।
![]() |
| হার্ট অ্যাটাক হলে হঠাৎ প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হয়, এই ধারণাটুকু কমবেশি সবারই আছে। মডেল: টুটুল। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রেড রোডে নামাজের মঞ্চ থেকে মুসলমানদের আশ্বস্ত করেছেন মমতা
প্রতিবারের মত এবারও রেড রোডের নামাজে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী জাভেদ খান। সোমবার নামাজের মঞ্চ থেকে দেওয়া ভাষণে মমতা রাজ্যের মুসলমানদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আপনাদের সাথে গোটা সরকার আছে। আমি আছি।
নিজের ভাষণে সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সব ধর্মের প্রতিই তিনি সমান শ্রদ্ধাশীল। উপস্থিত সকলকে সাবধান করে জানান, কেউ কেউ গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন। প্ররোচনায় যেন কেউ পা না-দেন।
এদিন রাখ ঢাক না করে প্রথম থেকেই নাম না করে হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন,আপনারা এটা ভাববেন না যে, আপনারা একা। আমরা সবাই সবরকমভাবে আপনাদের সাথে আছি। আপনারা কেউ ভাববেন না কোথাও কেউ বলল সেই নিষেধাজ্ঞা আপনাদের মেনে চলতে হবে।
বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে মমতা সিপিএম-বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লাল আর গেরুয়া এক হয়ে অশান্তি করছে। আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না। ধর্মের নামে ব্যবসা করে কিছু রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন , আমার জীবন দেশের জন্য উৎসর্গিত। সঙ্গে আমার জীবন সমস্ত ধর্ম - জাতির জন্য, সমস্ত সম্প্রদায়, সমস্ত পরিবারের জন্য। আপনারা ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকব।
এদিন মমতা স্পষ্ট করে দেন, মুসলিমদের সঙ্গে তিনি নিজে ও তাঁর গোটা সরকার আছে। তিনি বলেন, আমি দাঙ্গা চাই না। কেউ প্ররোচনা দিলে তার পায়ে পা লাগাবেন না। এটাই ওদের পরিকল্পনা। এটা ওদের প্ল্যান্টেড গেম। এই ফাঁদে পা দেবেন না। ওদের ছোঁয়াও উচিত নয়। ওরা আপনাকে কিছু বললে মনে রাখবেন দিদি আপনাদের সাঙ্গ আছেন। আপনাদের সঙ্গে গোটা সরকার আছে। আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনাদের কেউ কিছু করতে পারবে। যারা চিৎকার করে তাদের চিৎকার করতে দিন। কিন্তু ওদের ছোঁবেন না। ওদের ছুঁলে ওরা গুরুত্ব পেয়ে যায়।
ঈদ উপলক্ষে অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যের সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কলকাতার রেড রোডে ঈদের ঐতিহাসিক জামাত অনুষ্ঠিত
আজ সকালে কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন মুসল্লিদের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা।
মমতা তাঁর শুভেচ্ছা ভাষণে বলেন, ‘সকলে শান্তিতে থাকুন। ধর্মের নামে এখানে কাউকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সব ধর্ম রক্ষা করার জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘ধর্মের ব্যবসা করে এখানকার একটি রাজনৈতিক দল। প্ররোচনা দেয়। দাঙ্গার ওই সব প্ররোচনায় পা দেবেন না। আজ লাল-গেরুয়া এক হয়ে গেছে। আমরা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চাইলে মনে করবেন এই দিদি আপনাদের পাশে আছেন।’
মমতা বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য মাঠে নেমেছে। ওরা আজ দাঙ্গার প্ররোচনা দিচ্ছে। অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। কারও দাঙ্গার প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করি না।’
আজকের অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ রেড রোড ছাড়া কলকাতায় বেশ কয়েকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্ক সার্কাস ময়দান, টিপু সুলতান মসজিদ, মেটিয়াব্রুজ, খিদিরপুর, মল্লিক বাজার, রাজাবাজার, এন্টালি, বেলগাছিয়া, আনোয়ার শাহ রোডসহ শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে।
![]() |
| প্রতিবছরের মতো এবারও কলকাতার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর ধর্মতলার রেড রোডে। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি |
![]() |
| কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতের পর সেখানে উপস্থিত হয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের যত ‘বিতর্কিত সিদ্ধান্ত’: আদালতে একের পর এক হেরে চলেছেন
আরও খারাপ বিষয় হলো, দৃশ্যত এসব নিয়ে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, আগ্রহের সঙ্গেই নির্বাহী শাখার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন তাঁরা। নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না এবং অনেক করপোরেট নেতা ট্রাম্পের কাছে মাথা নোয়াচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের লাগাম টেনে ধরা যাবে না—এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নীতি আদালতে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে ফেডারেল বিচারকেরা তাঁর প্রশাসনের বিতর্কিত কার্যক্রমের কোনো কোনোটির বাস্তবায়ন হয় ব্যর্থ করে দিচ্ছেন, নয়তো অন্তত বিলম্বিত করছেন। কিছুটা আশ্চর্যজনক হলেও এসব কার্যক্রম নিয়ে দায়ের করা মামলার অনেকগুলোই যেখানে বিচারাধীন, সেই সুপ্রিম কোর্টও প্রেসিডেন্টের সব চাওয়া পূরণ করছেন না।
এ অবস্থায় কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প আদালতের আদেশ অমান্য করতে পারেন, সেই আশঙ্কা বাড়ছে (যদিও তাঁর দাবি, এমন কিছু করবেন না)। অবশ্য এখন পর্যন্ত আদালত ট্রাম্প সরকারের নির্বাহী শাখার যা ইচ্ছা, তা করার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কাছে যেসব বড় ধাক্কা খেয়েছে, তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো:
ফেডারেল কর্মীদের চাকরিতে ফেরত
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ‘দ্য অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’ মার্কিন ফেডারেল সংস্থাগুলো থেকে হাজার হাজার প্রবেশনারি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দেন।
পরে ১৩ মার্চ দুজন ফেডারেল বিচারক কৃষি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ ১৯টি সরকারি সংস্থাকে ‘অবিলম্বে’ বরখাস্ত ওই কর্মীদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। সরকারের নির্বাহী শাখার তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশের পর প্রায় ২৪ হাজার ফেডারেল কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে।
এ দুজনের একজন নর্দান ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারক উইলিয়াম অ্যালসুপ। কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর দায়ের করা মামলার পক্ষ নেন তিনি। বলেন, দুর্বল কর্মদক্ষতার কথা বলে প্রবেশনারি কর্মীদের গণহারে ছাঁটাই করা বেআইনি।
বিচারক অ্যালসুপ বলেন, ‘সরকার ভালো কর্মীদের বরখাস্ত করবে আর বলবে, এটা তাঁদের অদক্ষতার কারণে করা হয়েছে—এটা শোনা দুঃখজনক। কেননা তাঁরা ভালো করেই জানেন, এটা মিথ্যা।’
একই দিন ডিস্ট্রিক্ট অব মেরিল্যান্ডের বিচারক জেমস ব্রেডার একই রকমের আদেশ দেন। ১৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা একটি মামলায় তিনি এ আদেশ দেন।
দুই বিচারকের এ আদেশে সাময়িকভাবে স্বস্তিতে আছেন ফেডারেল কর্মীরা। কেননা কোনো বিচারকই চূড়ান্ত রায় দেননি। কর্মীদের যেভাবে চাকরিতে ফেরানো হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনো ব্যাপকভাবে তাদের কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারবে, সে ক্ষেত্রে শুধু আইন অনুসরণ করতে হবে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরুর প্রথম দিনই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী মা-বাবার সে দেশে জন্মগ্রহণ করা সন্তানের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়। তবে শর্তে বলা হয়, এমন সন্তানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে তার অভিভাবকদের অন্তত একজনকে হয় স্থায়ী মার্কিন নাগরিক, নয় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
ট্রাম্পের এ আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি। ফেডারেল আদালতে একাধিকবার এটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক এ আদেশের ওপর প্রাথমিক স্থগিতাদেশ দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর লঙ্ঘন। পরে ওয়াশিংটন, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিচারকেরাও একই ধরনের পদক্ষেপ নেন।
আদালতের এসব আদেশের বিরুদ্ধে কয়েক দফায় ব্যর্থ আপিল চেষ্টার পর ১৩ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। ট্রাম্পের শিবির এতে সফল হলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা দ্রুতই কার্যকর হতে পারে। তবে ট্রাম্পের ওই নীতি নিয়ে বিচারপতিরা স্বেচ্ছায় আদেশ দিচ্ছেন না। পলিটিকো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাহিদামাফিক সুপ্রিম কোর্ট কোনো আদেশ দিলে তা এ প্রশাসনের সব নীতি আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতগুলোর কর্তৃত্ব খর্ব করতে পারে।
অনেকে ধারণা করেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হলে ট্রাম্প প্রশাসন হারবে। কেননা তাঁর এ আদেশ পুরোপুরি অসাংবিধানিক।
ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন বন্ধের পদক্ষেপ স্থগিত
গত জানুয়ারিতে ‘অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট’ একটি চিঠিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের সব অনুদান ও ঋণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। বলা হয়, এসব সহায়তা নিয়ে পর্যালোচনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। এতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কয়েক দিনের মধ্যে চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এটি এখনো কার্যকর আছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক লরেন আলিখান এ সহায়তা বন্ধের আদেশ আটকে দেন। ট্রাম্পের এ-সংক্রান্ত উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার অল্প সময় আগে আদালত এ স্থগিতাদেশ দেন। বিভিন্ন সংগঠনের জোটের পক্ষ থেকে একটি চ্যালেঞ্জ দাখিলের প্রেক্ষাপটে এ স্থগিতাদেশ দেন আদালত।
আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া (কারিগরি) পুনর্বহাল
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প ‘ইউএস রিফিউজি অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম’ স্থগিত করা এবং এই কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন বন্ধে এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
এ আদেশের ওপর ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জামাল হোয়াইটহেড ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি প্রাথমিক স্থগিতাদেশ জারি করেন। এতে সরকারকে রিফিউজি অ্যাডমিশন আবার শুরু করা ও আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারক হোয়াইটহেড বলেন, কয়েক দশক ধরে চলা এ কর্মসূচি একতরফা বন্ধ করে দেওয়ার কর্তৃত্ব দৃশ্যত ট্রাম্প প্রশাসনের নেই।
আটকে গেল ফিলিস্তিনি কর্মী মাহমুদ খলিলের প্রত্যর্পণ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিলিস্তিনি কর্মী মাহমুদ খলিলকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি দেশটির বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই স্নাতক শিক্ষার্থী গত বছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ আয়োজনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
৮ মার্চ খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্প বলেছেন, ‘তাঁকে দিয়ে প্রথম শুরু করা হলো, সামনে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হবে।’ খলিল ও ফিলিস্তিনপন্থী অন্য বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসের সমর্থক, ইহুদিবিরোধী ও মার্কিনবিরোধী তৎপরতায়’ যুক্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আটকের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন খলিল। তাঁর আবেদনের ওপর আদালত কর্তৃক পরবর্তী পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তাঁকে প্রত্যর্পণ সাময়িকভাবে আটকে দেন ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জেসি ফারম্যান। ১৯ মার্চ খলিলের মামলাটি নিউ জার্সির আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বিচারক। নতুন রায় না আসা পর্যন্ত এই ফিলিস্তিনি লুইজিয়ানায় থাকবেন।
ইউএসএআইডির বিল পরিশোধের নির্দেশ
হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেওয়ার অল্প পরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সব মানবিক ও উন্নয়নকাজে তহবিলের জোগান দেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ধনকুবের ইলন মাস্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডিওজিই)’ ইউএসএআইডিকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়া শুরু করে। উন্নয়ন সংস্থাটির জন্য আর্থিক সহায়তা বন্ধ ছাড়াও প্রযুক্তিগতভাবে কর্মীদের অফিস থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে কর্মীরা ওয়াশিংটনে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইউএসএআইডিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর হাতে ন্যস্ত করেন। পরে সংস্থার ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বন্ধ করার ঘোষণা দেন রুবিও। বাকি কর্মসূচি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
এ পদক্ষেপের ওপর ১০ মার্চ প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক আমির আলী। তিনি রায় দেন, কংগ্রেস অনুমোদিত বিদেশি সহায়তা তহবিলের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের ওপর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ওই সংস্থার ১৩ ফেব্রুয়ারির আগে সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য সরকারকে অর্থ দিতে হবে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এতে বিচারক আমির আলীর দেওয়া আদেশ বহাল রইল। এ ছাড়া ১৮ মার্চ আরেকজন ফেডারেল বিচারক থিওডর চুয়াং রায় দেন যে ডিওজিইর ইউএসএআইডি ভেঙে দেওয়ার পদক্ষেপ নানাভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে থাকতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুসলিম বিশ্বে ঈদ আসে, গাজায় ঈদ আসে না
মুসলিম বিশ্ব যখন উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন ফিলিস্তিনের গাজায় ঈদের কোনো আনন্দ নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেঁচে থাকা।
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গাজা
প্রায় দেড় বছর ধরে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজা পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ৯২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজারেরও বেশি, আর আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ১৪ হাজারে।
গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঈদের খুশি যেন এক মরীচীকা। ঈদ মানে নতুন পোশাক, মিষ্টি খাবার, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু গাজার মানুষের কাছে এসব এখন বিলাসিতা।
‘আমাদের ঈদ নেই’
গাজার বাসিন্দা মোহামেদ আল সারকা বলছিলেন, ঈদ আমাদের জন্য নয়। আমাদের শিশুদের জন্যও নয়। তাদের জন্য একটি নতুন কাপড়ও কিনতে পারিনি। যেখানে খাবার জোটানোই দুষ্কর, সেখানে ঈদের আয়োজনের কথা ভাবাই অসম্ভব।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি হামলায় তার তিন সন্তান নিহত হয়েছে। এখন বেঁচে থাকা চার সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
৪৭ বছর বয়সী নোয়া আবু হানি যুদ্ধের কারণে উদ্বাস্তু হয়েছেন। তিনি আগে জাবালিয়া ক্যাম্পে ছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় ক্যাম্প বিধ্বস্ত হওয়ায় এখন আশ্রয় নিয়েছেন উনরোয়া ক্যাম্পে।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আগে ঈদের সময় কা’ক (ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী কুকিজ) তৈরি করতাম। সেগুলো বিক্রি করতাম রোজার শেষ দিনে, রাস্তার পাশে ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু এখন কিচ্ছু নেই। শুধু বেঁচে থাকার লড়াই।
ফিলিস্তিনি শিশুরাও ভুলে গেছে ঈদের আনন্দ
সাত বছরের হানিন তার পোড়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। কারণ জিজ্ঞেস করতেই সে বলল, ‘আমার জামা নেই, পুতুল নেই, আমাদের ঘরও নেই। আমি ঈদ পছন্দ করি না।’
শুধু হানিন নয়, গাজার শত শত শিশুর মুখে হাসি নেই। তারা জানেই না ঈদের খুশি কেমন হতে পারে। খাদ্য সংকটের কারণে তাদের ঈদের দিনে বিশেষ কিছু খাওয়ার সুযোগও নেই।
যুদ্ধের মধ্যে সামান্য আনন্দের চেষ্টা
উম্মে মোহামেদ নামের এক ফিলিস্তিনি মা তার সন্তানদের জন্য সামান্য কিছু কুকিজ বানানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, বাচ্চাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে চাচ্ছি। ঈদ নেই, কিন্তু ঈদের কথা ভুলিয়ে দিতে পারি না।
গাজার পরিস্থিতি এমন যে ঈদের দিনও মানুষ খাবার-পানির সংস্থানের জন্য সংগ্রাম করছে। নতুন পোশাকের পরিবর্তে এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি।
গাজার ঈদ : বেঁচে থাকার সংগ্রাম
গাজার প্রতিটি পরিবার আজ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, আশ্রয়ের অভাব চরমে। ঈদ তাই এখন গাজার মানুষের জন্য আরেকটি কঠিন দিন, যেখানে আনন্দের বদলে বুকভরা বেদনা আর বেঁচে থাকার যুদ্ধই একমাত্র বাস্তবতা।
‘ঈদ আসে, ঈদ যায়। কিন্তু গাজায় ঈদ আসে না।’—এভাবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন গাজার এক বাসিন্দা, যেন তার কথায় ফুটে ওঠে পুরো ফিলিস্তিনের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর ও গালফ নিউজ
যুদ্ধের মাঝে ‘বেঁচে থাকাটাই’ ফিলিস্তিনিদের ঈদ আনন্দ
মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে, তবে অন্যান্য দেশের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না ফিলিস্তিনিরা। এবারও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ঈদ উদযাপন করবে। তবে, এই ঈদ তাদের কাছে আলাদা—তারা স্বজনদের লাশ কাঁধে বয়ে ঈদ উদযাপন করবে, এমনকি অনেকের কাছে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য ঈদের আনন্দ কতটুকু থাকবে, সেই প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
এদিকে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ঈদ উপলক্ষে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। ফলে ফিলিস্তিনিরা ঈদ উদযাপনে আর কিছু ভাবতে পারছে না।
ঈদে সাধারণত যে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়, সেই খাওয়ার চিন্তা এখন ফিলিস্তিনিদের জন্য অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য উপকরণ থাকলেও সেগুলো রান্না করার পরিস্থিতি নেই। গাজায় বিদ্যুৎ বন্ধ, জ্বালানি সংকট এবং যুদ্ধের কারণে কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ফলে খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈদের সকালে ফিলিস্তিনিরা ঐতিহ্যবাহী সুম্মাকিয়া রান্না করে থাকে—যেখানে ভেড়ার মাংস, গরুর মাংস, তিল, ছোলা এবং শাক দিয়ে একটি বিশেষ ঝোল তৈরি করা হয়। তবে এই খাবারটি তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এখন গাজার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
যখন তাদের মাতৃভূমি থেকে নির্মূল হওয়ার চেষ্টা চলছে, তখন ফিলিস্তিনিরা তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। প্রতিদিনই তারা তাদের স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা হারাতে দেখছে। তারপরও, এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।
ঈদের দিন, গাজার ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো অনেক কষ্টের মধ্যে তাদের ছোট ছোট সন্তানদের জন্য ঈদের আনন্দ তৈরি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু, অধিকাংশ শিশু এক বেলা খেয়েই ঈদের দিন কাটাবে। খাদ্য সংকট এবং যুদ্ধের কারণে তাদের আনন্দের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধু বেঁচে থাকা, আর তাই তাদের জন্য এবারের ঈদ কোনো প্রীতিভোজ নয়, বরং জীবন বাঁচানোর এবং শোক প্রকাশের দিন।
সূত্র : আল জাজিরা
![]() |
| ঈদের জামাতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঁদতে কাঁদতে গাজার বাসিন্দা বললেন, ‘আমরা তো সব হারিয়েছি, ঈদটা কষ্টের’
দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা হামলায় গাজায় আর কোনো মসজিদ অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। রোববার তাই উপত্যকাটির বাসিন্দাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের বাইরে। আগের দিনে গাজার যেসব শিশু নতুন পোশাক পরে আনন্দ করত, তারা এখন ক্ষুধায়-আতঙ্কে কাতর। ঈদ উপলক্ষে নেই তেমন রান্নার আয়োজন।
ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজার ফিলিস্তিনিরা ঈদের সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্যাপন করতেন। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। বহু গাজাবাসী তাঁদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। রোববার অনেককে দেখা যায় প্রিয়জনের কবরের পাশে। অনেকে হাজির হন হাসপাতালের মর্গে—শেষবারের মতো কাছের মানুষের মরদেহটি দেখতে।
ইসরায়েলের হামলায় গাজার বাসিন্দা আদেল আল-শায়ের তাঁর পরিবারের ২০ সদস্যকে হারিয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘এই ঈদটা কষ্টের। আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে হারিয়েছি। আমাদের সন্তান, আমাদের জীবন, আমাদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু... আমরা তো সব হারিয়েছি।’
রোববার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন গাজার আরেক বাসিন্দা সায়েদ আল-কুর্দ। তিনি বলেন, ‘এখানে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সবাই ক্ষুধার্ত। আমাদের অবরোধ করে রাখা হয়েছে। শিশুদের খুশি করার জন্য শুধু আমরা বাইরে বেরিয়েছি। তবে ঈদের আনন্দের কথা বলতে গেলে—এখানে কোনো ঈদ নেই।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের নৃশংসতা শুরুর পর থেকে গাজার ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিগত ১৭ মাসে উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৭ জন। আহত ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ।
এরই মধ্যে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপর কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন সেখানকার ফিলিস্তিনিরা। কথা ছিল ১ মার্চ যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে। তবে এ নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইসরায়েল ও হামাস। পরে পবিত্র রমজান ও ইহুদিদের পাসওভার উৎসবের কারণে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করে ইসরায়েল।
তবে ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তখন থেকে প্রতিদিন নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ঈদের দিনও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ফিলিস্তিনিদের তাঁবু ও বাসাবাড়ি। স্থানীয় চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। সংখ্যাটা আরও বাড়ছে।
ঈদের দিন ভোরের আলো ফোটার আগে খান ইউনিসে ইসরায়েলের হামলার বর্ণনা দিচ্ছিলেন ওমর আল-কাদি। তিনি বলেন, ‘কখন ভোর হবে, ঈদ উদ্যাপন শুরু হবে, সেই অপেক্ষায় ছিল শিশুরা। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিরাপরাধ-শান্তিপ্রিয় বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাঁবুতে শত্রুদের যুদ্ধবিমান হামলা চালায়।’
খান ইউনিসের আরেক বাসিন্দা আহমাদ আল-নাজ্জার কাছে এবারের ঈদুল ফিতরকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে ‘মর্মান্তিক’ সময় বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, খান ইউনিসের শিশুরা ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের জন্য তাঁদের সবচেয়ে সুন্দর পোশাকগুলো খুঁজে বের করছিল। তবে কিন্তু এই বোমাবর্ষণের কারণে অনেকেই সেগুলো পরার সুযোগ পাবে না।’
এদিকে গত ২ মার্চ থেকে গাজার ক্রসিংগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে কোনো ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গাজায় যে খাবারের মজুত ছিল তা প্রায় শেষের পথে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, তাদের কাছে খাবারের যে মজুত আছে, তা আর মাত্র ১০ দিনের মতো চলতে পারে।
খাদ্যের পাশাপাশি গাজায় পানির সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় মজুত থাকা পানি শেষ হয়ে গেছে। সেখানকার বাসিন্দা ইনশিরাহ হানোউনেহ বলেন, ‘আজ ঈদ। তবে এই তিক্ত জীবনের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কষ্টে রয়েছে। এই দিন তাদের জন্য খুশি আনেনি... গত রাত থেকে পানি নেই। পান করার মতো এক ফোটা পানিও পাইনি..যথেষ্ট্ঠ যুদ্ধ হয়েছে। শান্তি চাই।’
রোববার যখন গাজায় ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছিল, তখনো ভেসে আসছিল কামানের গোলার শব্দ। আকাশে ধেয়ে আসছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ড্রোন। খান ইউনিসের ২৮ বছর বয়সী মা নাহলা আবু মাতার বলেন, ‘এক সময় ঈদ ছিল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এবং বেড়াতে যাওয়ার একটি দিন। তবে এখন তা শেষ বিদায়ের এবং নিহতদের দাফন-কাফনের দিনে পরিণত হয়েছে।’
| ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করছেন উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স |
| ঈদ, তাই খেলায় মেতেছে দুই শিশু। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1422)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 31
(11)
- মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ইরান : ভারত মহাসাগরে কী ঘটত...
- মোগল আমলে যেমন ছিল ঢাকার ঈদ by সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
- ঈদের দিনেও গাজায় হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৪
- পঞ্চান্ন বছর আগের ‘ঝিনুক’ ঈদসংখ্যা by হোসাইন মোহাম...
- পানির বোতল কত দিন পরপর পরিষ্কার করা উচিত
- অল্প বয়সেও কেন হার্ট অ্যাটাক হয় by ডা. আফলাতুন আকত...
- রেড রোডে নামাজের মঞ্চ থেকে মুসলমানদের আশ্বস্ত করেছ...
- কলকাতার রেড রোডে ঈদের ঐতিহাসিক জামাত অনুষ্ঠিত
- ট্রাম্পের যত ‘বিতর্কিত সিদ্ধান্ত’: আদালতে একের পর ...
- মুসলিম বিশ্বে ঈদ আসে, গাজায় ঈদ আসে না
- কাঁদতে কাঁদতে গাজার বাসিন্দা বললেন, ‘আমরা তো সব হা...
-
▼
Mar 31
(11)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






