Wednesday, August 12, 2015
গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের একটি একাডেমিক জবাব- প্রসঙ্গ: ‘আল্লাহর ৯৯ নাম দেবতাদের নাম থেকে এডাপ্ট’ by তাইছির মাহমুদ
তিন. হযরত নুহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবনের পর থেকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)- এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে মক্কা নগরীতে কোন মানুষের বসতি ছিলো না। বোখারী শরীফের ৮৩৩ নং হাদিসে এব্যাপারে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। হাদিসের সারসংক্ষেপ হচ্ছেÑ যখন ইব্রাহিম (আঃ)-এর স্ত্রী সারাহ ও হাজেরার মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন তিনি আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে নির্বাসনে পাঠাতে মক্কা নগরীতে নিয়ে গেলেন এবং বর্তমান জমজম কূপের পাশে জনমানবহীন ভূমিতে একা রেখে ফিরে গেলেন। তখন সেখানে কোন পানি ছিলো না। ইব্রাহিম (আঃ) তাঁদেরকে যে সামান্য খেজুর ও পানি দিয়েছিলেন তা কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। হাজেরা দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পানি পান করানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। সাফা ও মারওয়া পর্বত দুটোর উপরে উঠে সমতল ভূমির দিকে লক্ষ্য করে মানুষের খোঁজ করতে থাকেন। এভাবে তিনি সাফা ও মারওয়া পর্বতের একটি থেকে অপরটিতে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেন (এ জন্য পরবর্তী হজের সময় হাজীদের ৭ বার দৌড়ানো অপরিহার্য হয়ে যায়)। একসময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পান এবং একজন ফেরেশতা দেখতে পান। ঐ ফেরেশতা পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন। এতে করে কূপের সৃষ্টি হয় এবং মাটি ফেটে পানি বের হতে শুরু থাকে। এটাই হলো আজকের জমজম কূপ। পরবর্তীতে জমজম কূপ এলাকায় পাখির উড়াউড়ি দেখে দূর থেকে একদল লোক অনুমান করে সেখানে সম্ভবত পানি থাকতে পারে। তারা পানির অনুসন্ধানে সেখানে ছুটে আসে এবং পানি পেয়ে যায়। একসময় হাজেরার অনুমতি নিয়ে তাঁরা সেখানে বসবাস শুরু করে। ওরা ছিলো জুরহুম সম্প্রদায়ের লোক। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এভাবেই মক্কা নগরীতে মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) ফিরে আসেন। তিনি ও পুত্র ইসমাইল মিলে কাবাঘর নির্মাণ করেন। তিনি শরীয়তপ্রাপ্ত হন এবং আল্লাহর একাত্ববাদ প্রচার শুরু করেন। তখন মক্কা নগরীর মানুষ এক আল্লাহর উপাসনা করতো। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করতো না। কাবাঘরে কোন মূর্তি কিংবা দেবতা ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর অনেক অনুসারী ধর্মকে বিকৃত করে মূর্তিপূজা শুরু করে। তারা কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করে প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নামকরণ করে। আরবের বিভিন্ন স্থানে তারা লাত, ওজ্জা ও মানাত নামে তিনটি বড় দেবতা স্থাপন করে। কাফেররা বলতো এগুলো আল্লাহতায়ালার নাম। তাই আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনের ২৭ নং পারায় সূরা আল-নজমের ১৯, ২০ ও ২৩ নম্বর আয়াতে এই তিনটি মূর্তির কথা উল্লেখ করে ঘোষণা দেন এসব নামের সঙ্গে তাঁর ন্যূনতম কোন সম্পৃক্ততা নেই। আল্লাহতায়ালা উক্ত তিনটি আয়াতে বলেন “তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে এবং তৃতীয় আরেকটি (দেবী) মানাত সম্পর্কে? (মূলত) এগুলো কতিপয় (দেব-দেবীর) নাম ছাড়া কিছুই নয়, যা তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা ঠিক করে নিয়েছো। আল্লাহতায়ালা এর (নামে) সমর্থনে কোন রকম দলিল প্রমাণ নাজিল করেননি। সুতরাং, আল্লাহর গুণবাচক নাম আগে থেকেই ছিলো। কাফেররা মূর্তি তৈরি ও পূজা শুরু করে ইব্রাহিম (আঃ)-এর ইন্তিকালের অনেক পরে। সুতরাং দেবতার নাম থেকে আল্লাহর নামকরণের কোন সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহর নাম অনেক আগে, দেবতা তৈরি ও পূজা শুরু হয় অনেক পরে। আর হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত হয়, আরবি ভাষা ছিলো ঐ জুরহুম সম্প্রদায়ের ভাষা। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে ভাষা শিখেছিলেন। তাহলে আরবি কাফেরদের ভাষা ছিলো না, কাফেররা পরবর্তীতে এ ভাষায় কথা বলে। আর লাত, ওজ্জা ও মানাত সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তাফসীরে ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে, লাত নামে জাহিলিয়াত যুগে একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি হজ মওসুমে পানির সঙ্গে পাউডার মিশিয়ে হাজীদের পান করাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর লোকজন তাঁর কবরের সেবা শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার ইবাদত শুরু করে। এভাবেই তখনকার আরবে সৎ মানুষের নামে মূর্তি তৈরি করে লোকজন তাদের এবাদত (মূর্তিপূজা) করতো। চার. ইসলাম আসার আগে কি আরবে আল্লাহর গুণবাচক নামের ব্যবহার ছিলো? এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই দেখা দিতে পারে। হ্যাঁ, ইসলাম আসার আগেও আরবে আল্লাহর অনেক নামের ব্যবহার ছিলো। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগে আরও লক্ষাধিক নবী পৃথিবীতে এসেছেন। কেউ নতুন শরীয়ত পেয়েছেন, কেউ পুরাতন শরীয়ত প্রচার করেছেন। কারো উপরে বড় ধর্মগ্রন্থ, আবার কারো উপর ছোট ধর্মগ্রন্থ (সহিফা) নাজিল হয়েছে। এসব ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং আরবে এর প্রচলন ছিলো। এতো সাধারণ একটি বিষয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মতো একজন বিজ্ঞ সাংবাদিকের কাছে কেন পরিষ্কার নয়, এটা আমার বোধগম্য নয়। তবে ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে এই সাধারণ ভুলগুলো যে কারো ক্ষেত্রেই হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অতিসম্প্রতি যেমনটি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রেডিওকার্বন বিভাগের একদল গবেষক। বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবিষ্কৃত পবিত্র কোরআনের প্রাচীনতম পা-ুলিপিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁরা ৯৫ ভাগ নিশ্চয়তার সঙ্গে বলেছেন, এটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোন সময়ে লেখা। কিন্তু আমার মতে পা-ুলিপিটি যতই প্রাচীন হোক এটি ৬০৯ খ্রিস্টাব্দের আগে লিপিবদ্ধ করার কোন সুযোগই নেই। কারণ রাসুল (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। আর ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হন তখন নবুয়ত (কোরআন নাজিল শুরু হয়) লাভ করেন। অর্থাৎ ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরে (৬৩২ খ্রিস্টাব্দে) তা পরিপূর্ণ হয়। তাহলে বলতে হবে ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অথবা এরও অনেক পরে কোন এক সময় এই পা-ুলিপি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটা অতি সাধারণ একটি বিষয় হলেও পাশ্চাত্যের গবেষকদের তা বোধগম্য হচ্ছে না। কারণ হয়তো তাদের ইসলামবিষয়ক জ্ঞান একেবারেই সীমিত। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বেলায়ও এমনটি হতে পারে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে বিজ্ঞ হতে পারেন। তাঁর লেখার শত শত পাঠক থাকতে পারে। কিন্তু এজন্য তিনি যে সব বিষয়েই পারদর্শী হবেনÑএমন কথা বলা যাবে না। যে যে বিষয়ে পারদর্শী সে বিষয়েই কাজ করা উচিত। সারাবিশ্বে সাংবাদিকতায় বিট (নির্দিষ্ট বিভাগ) পদ্ধতি আছে। অর্থনীতি বিটের সাংবাদিককে যেমন পলিটিক্যাল বিটে রিপোর্টিংয়ে পাঠানো হয় না, তেমনি রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে কোন স্পোর্টস রিপোর্টারকে নিউজ লিখতে বলা হবে না। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একাডেমিক’ আলোচনায় কোরআন-হাদিস নিয়ে নাড়াচাড়া না করলেই পারতেন। কারণ এটি তার বিট-এর আওতায় নয়। আবু হোরায়রা ও আবু বকর নামের অর্থ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রাসুল (সাঃ)-এর সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নামের অর্থ ব্যাখ্যা করে এসব নাম কেন রাখা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মানুষ এসব নামের অর্থ না জেনে, না বুঝেই রাখে। আরবের মানুষ এই নামগুলো ব্যবহার করেন না। তিনি নামের অর্থ অনুবাদ করেছেন এভাবেÑ আবু হোরায়রা অর্থ বিড়ালের বাবা, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। এখানে তিনি কী ভুল করেছেন নিচের নামবিষয়ক আলোচনা থেকে পরিষ্কার হবে। প্রতিটি ভাষায় একটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। তেমনি আরবি ভাষায়ও একটি শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে। কোন কোন সময় একটি শব্দের ১০-১২টি অর্থও হয়। ‘আবু’ শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে পিতা। কিন্তু এর একাধিক অর্থ রয়েছে। আবু হোরায়রা নামের ক্ষেত্রে আবু শব্দটি ওয়ালা বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই আরবি ভাষাবিদরা অভিমত দিয়েছেন। আর হোরায়রা অর্থ বিড়াল। সুতরাং আবু হোরায়রা নামের অর্থ বিড়ালওয়ালা অথবা বিড়ালের মালিক। আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর প্রকৃত নাম ছিলো আবদুল্লাহ বা আবদুর রহমান। তিনি বিড়াল ও বিড়ালের বাচ্চা খুব বেশি পছন্দ করতেন। একদিন তিনি রাসুল (সাঃ)-এর সম্মুখে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ তার আস্তিন বা জামার ভেতর থেকে একটি বিড়ালের বাচ্চা বের হয়। এ দেখে রাসুল (সাঃ) তাঁকে মৃদু হেসে বলে উঠেন, হে আবু হোরায়রা। অর্থাৎ হে বিড়ালওয়ালা বা বিড়ালের মালিক। এখানে রাসুল তাঁকে বিড়ালের বাবা অর্থে সম্বোধন করেন নি। অনুরূপ আবু বকর নামটিরও সুন্দর অর্থ রয়েছে। বকর শব্দটি বুকরা থেকে নির্গত। বুকরা অর্থ প্রত্যুষ। আবু বকর অর্থ যিনি প্রত্যুষে বা সর্বাগ্রে চলেন। যিনি অগ্রগামী। আর আবু শব্দটি যেহেতু ওয়ালা অর্থে ব্যবহৃত হয় তাই আবু বকর অর্থ হচ্ছে যিনি আগে চলেন। শুদ্ধ বাংলায় বললে অর্থ দাঁড়াবে অগ্রপথিক। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে বকর শব্দটি যুবক উট অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে আবু বকর শব্দযুগলের অর্থ দাঁড়াবে উটওয়ালা বা উটের মালিক। কিন্তু আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কেন আবু বকর নামের অর্থ ছাগলের বাবা বললেন জানি না। সাধারণত বাংলাদেশে ছাগলকে বকরি বলা হয়। তিনি সম্ভবত বাংলাদেশী তরজমাটি গ্রহণ করে বলেছেন, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। তিনি আরও বলেছেন, এসব নামে আরবে কোন মানুষের নাম নেই। কিন্তু অনুসন্ধানে এই নামে শত শত মানুষ পাওয়া যাবে। আবু বকর আল রাজি, আবু বকর আল জাযায়েরী, আবু বকর আল জাস্সাস নামক শিক্ষক ও প-িত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে আরবে। আবু হোরায়রা ছিলেন রাসুল (সাঃ)-এর একজন বিশ্বস্ত সহচর। তিনি সার্বক্ষণিক রাসুল (সাঃ)-এর সাহচর্যে থাকতেন। চরম ক্ষুধায় ছটফট করলেও মসজিদে নববীতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)কে একা ফেলে তিনি কখনো ঘরে ফিরে যেতেন না। কারণ আল্লাহর রাসুল কখন কী বলেন, আর তিনি যদি না শুনেন তাহলে তা হয়তো পরবর্তীতে হাদিস হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে না, এই ভয়ে। তাইতো তিনি আজ বোখারী মুসলিমসহ সকল হাদিস গ্রন্থের শিরোমণি। সিংহভাগ হাদিসের শুরুতেই “আন আবি হোরায়রাতা (রাঃ) আনহু...” বলে হাদিস শুরু করতে হয়। অন্যদিকে হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। যে ১০ সাহাবা আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-এর কাছ থেকে বেহেশতের সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের মধ্যে আবু বকর হচ্ছেন একজন। সুতরাং নামের শাব্দিক অর্থ বিবেচনা না করে বরং মর্যাদার দিক বিবেচনা করে এই দুই নামে যদি কেউ নিজের সন্তানের নামকরণ করে থাকে, তাহলে মন্দের কিছু দেখি না। নাম দুটো নিয়ে উপহাসের ছলে কথা বলারও কোন কারণ দেখতে পাই না। বরং দুইজন বড় সাহাবী হিসেবে তাঁদের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করা উচিত ছিলো। গাফ্ফার চৌধুরী এই দুই সাহাবীর নাম নিয়ে কথা বলার সময় রাদিয়াল্লাহু আনহু (আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট) শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। তিনি বরং বলেছেন, রাসুল (সাঃ) ঠাট্টা করে আবু হোরায়রা বলেছেন। রাসুল (সাঃ) তো এভাবে কাউকে নিয়ে কখনো ঠাট্টা করেন নি। তিনি বরং আদর করেই প্রখ্যাত এই সাহাবীকে আবু হোরায়রা বলে সম্বোধন করেছিলেন। আর আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর কাছেও সেই সম্বোধনটি ছিলো খুব প্রিয়। তাই এই নামেই তিনি পরিচিত হতে পছন্দ করতেন। রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, “আল্লাহ নামতো আগে কাফেরদের দেবতার নাম ছিলো। তা না হলে রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? এটা তো মুসলমান নাম নয়।” আরবে কোথাও কোন দেবতার নাম আল্লাহ ছিলোÑএমন কোন দলিল- প্রমাণ নেই। তাছাড়া গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, রাহমান, রাহিম, গাফুর এগুলো দেবতার নাম ছিলো। কিন্তু এর পক্ষে তিনি কোন রেফারেন্স কিংবা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ধর্মীয় বিষয়ে হাদিস ও কোরআনের রেফারেন্স ছাড়া মনগড়া কোন ব্যাখ্যা দেয়া গর্হিত অন্যায়। আল্লাহ শব্দটি আল্লাহতায়ালার মূল নাম। আর আবদুন শব্দের অর্থ বান্দা বা দাস। সুতরাং আবদুল্লাহ নামের অর্থ আল্লাহর বান্দা। রাসুলের (সাঃ) পিতা যদি কাফেরও হয়ে থাকেন তাহলে তার নামটি তো কোরআনিক নাম। একজন কাফেরের ইসলামিক নাম হতেই পারে। যেমনÑ কোন নাস্তিক ব্যক্তির নাম যদি আহমদ শরীফ হয়, তাহলে তাঁর নামটি তো আর নাস্তিক বা কাফের হয়ে যায় না। আহমদ তো মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আরও একটি নাম ছিলো। এখানে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পিতা-মাতা সম্পর্কে একটি বর্ণনা দিতে চাই। রাসুলের জন্মের ছয় মাস আগে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তিকাল করেন। আর জন্মের ৬ মাস পরে ইন্তিকাল করেন তাঁর মা আমেনা। তাঁর পিতা-মাতার পরকালীন অবস্থা কী হতে পারেÑ তা দুটি হাদিস থেকে পরিষ্কার হওয়া যেতে পারে। মুসলিম শরীফের ২০৩ নং হাদিসে হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুল (সাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললোÑ হে আল্লাহর রাসুল আমার (মৃত) পিতা কোথায়? জবাবে রাসুল (সাঃ) বললেন, দোজখে। এ কথা শুনে লোকটি যখন বেরিয়ে যাচ্ছে তখন রাসুল (সাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আমার পিতা ও তোমার পিতা দোজখে। মুসলিম শরীফের ১৭৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একদিন রাসুল (সাঃ) তাঁর মা’র কবর জেয়ারত করতে গেলেন, তিনি সেখানে কাঁদলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও কাঁদলেন। এব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কাছে আমার মায়ের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে অনুমতি চেয়েছিলাম, আমাকে দোয়ার অনুমতির পরিবর্তে শুধু কবর জেয়ারত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে তোমরা কবর জেয়ারত করো, এতে তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে। এই হলো হাদিসের ভাষ্য। তবে এব্যাপারে অর্থাৎ রাসুলের পিতা-মাতা সম্পর্কে কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হিজাবের পরিবর্তে শাড়ি পরা ও কপালে টিপ দেয়া বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার জন্য হিজাব না পরে বরং শাড়ি এবং কপালে টিপ পরতে বলেছেন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। হিজাব হচ্ছে পর্দার একটি অনুষঙ্গ। ইসলাম আসার আগে আরবে মহিলারা পর্দাহীন চলাফেরা করতেন। এমনকি রাসুলের (সাঃ) স্ত্রীরাও পর্দা করতেন না। পঞ্চম অথবা ৬ষ্ঠ হিজরিতে পর্দার বিধান নাজিল হয়। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলছেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার মেয়েদেরকে ও বিশ্বাসীদের স্ত্রীদেরকে বলুন, ‘‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে করে তাঁদের চেনা সহজতর হবে (তাঁরা যে মুসলমান নারী) এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে মূলত মহিলারা নিজেদেরকে আবৃত বা পর্দা করতে শুরু করেন। পর্দা শরীয়তের একটি অর্ডার বা ফরজ বিধান। ফরজ কাজ ছাড়লে শাস্তি প্রাপ্য হয়। তবে কেউ কাফের বা অমুসলমান হয়ে যায় না। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহতায়ালার বিধানের ব্যাপারে সাংঘর্ষিক কোন বক্তব্য দেয় অর্থাৎ আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে বলে তখন প্রতীয়মান হয় তিনি ফরজকেই অস্বীকার করছেন। হজ কি কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত? আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও বলেছেন, হজও ইসলামের হজ নয়। এটাও ২ হাজার ৩ হাজার বছর আগে কাফেরদের প্রবর্তিত হজ। ইসলামে পূর্ণ হজরীতি ফরজ হয়েছে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু হজ তো মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর সময়েও ছিলো। আদম (আঃ) পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করে তওয়াফ চালু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন নবীর সময়ে বিভিন্ন নিয়মে হজের প্রচলন ছিলো। আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ) হজ পুনঃপ্রবর্তন করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হাজ্জ-এর ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন “হে ইব্রাহিম, মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও...।” কিন্তু তাঁর ইন্তিকালের পর ধর্মকে বিকৃত করে অনুসারীরা মূর্তিপূজা শুরু করে। চালু করে ভিন্ন প্রক্রিয়ার হজ। কাফেররা উলঙ্গ হয়ে কাবাঘর তওয়াফ করতো এবং সাফা ও মারওয়া পর্বতে দৌড়াতো। আল্লাহতায়ালাই মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর ওহি নাজিল করে হজের সঠিক পন্থা শিখিয়ে দেন। সুতরাং কাফেরদের হজ অনুসারে হজ প্রবর্তন হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। কোন প্রমাণাদিও নেই। কোরআন আল্লাহতায়ালার বাণী। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। জিবরাইল (আঃ) এসে রাসুল (সাঃ)কে বলেছেন। রাসুল (সাঃ) কথাগুলো মুখস্থ করেছেন। পরে তাঁর সঙ্গীদের জানিয়েছেন। মুসলমানরা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করেছেন। রাসুল (সাঃ) তাঁর মনগড়া কোন কিছু বলেন নি, করেন নি। এখন কেউ যদি বলেন, হজ কাফেরদের প্রবর্তিত। তাহলে প্রতীয়মান হবে কাফেরদের হজ থেকেই এই বিধান রাসুল (সাঃ) কোরআনে এডাপ্ট (সংযোজন) করেছেন। অর্থাৎ এটি আল্লাহতায়ালার বিধান নয়, মুহাম্মদ (সাঃ) কাফেরদের থেকে এটি প্রচলন করেছেন। আলোচনা আর দীর্ঘ করতে চাই না। অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে। আশাকরি এই আলোচনা বুঝতে সহায়তা করবে সাংবাদিক গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য কোরআন-হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না? পাদটীকা: যেহেতু লেখাটি অনেক অমুসলিমও পড়তে পারেন, যাদের কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ধারণা নেই তাদের জন্য একটি পাদটীকা সংযোজনের প্রয়োজন বোধ করছি। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে জিবরাইল আলাইহিস সালামের (ফেরেশতা বা দূতের নাম) মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা তাঁর কথাগুলো জানিয়ে দেন। ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দীর্ঘ ২৩ বছর সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য সামান্য করে ৩০ পারা কোরআন অবতীর্ণ হয়। আর হাদিস হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) তাঁর জীবনে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, যেসব কাজ করেছেন অথবা সমর্থন দিয়েছেন সেগুলোই হচ্ছে হাদিস। রাসুলের (সাঃ) জীবনের যাবতীয় কর্মকা- একাধিক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থ হচ্ছেÑ বোখারী, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, নাসাঈ। এই ছয়টির মধ্যে বোখারী ও মুসলিম হচ্ছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ। এ লেখায় আমি বোখারী ও মুসলিম শরীফের বিশুদ্ধ হাদিসগুলোই উল্লেখ করেছি। মুসলমান মাত্র কোরআন-হাদিসের সবগুলো কথা বা নির্দেশনার প্রতি অবশ্যই শতভাগ বিশ্বাস থাকতে হবে। এছাড়াও এ লেখায় কিছু আরবি বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। এব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। যেমন (সাঃ) শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর শান্তি প্রেরণ করুন।’ (সাঃ) বাক্যটি শুধুমাত্র রাসুলের নাম উচ্চারণের পর বলতে হয়। (রাঃ) শব্দটি রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সংক্ষিপ্ত রূপ। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট’। সাহাবা অর্থাৎ রাসুলের সঙ্গীদের (যেমন: আবু বকর, আবু হোরায়রা, ওমর) নাম উচ্চারণ করার পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করতে হয়। (রাহঃ) বাক্যটি রাহমাতুল্লাহ আলাইহি’র সংক্ষিপ্ত রূপ। বাক্যটির অর্থ তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সাধারণত এই বাক্যটি বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদদের (ইমাম আবু হানিফা, হযরত শাহজালাল, হযরত শাহপরান প্রমুখ) নাম উচ্চারণ করার পর বলতে হয়। আর (আঃ) বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে আলাইহিস সালাম থেকে। এই বাক্যের অর্থ আল্লাহ তাঁর উপর করুণা করুন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্যান্য নবী- রাসুলদের নামের পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করা হয় যেমন: ইব্রাহিম (আঃ), ইসা (আঃ), দাউদ (আঃ)। লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য
আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র এবং সেই শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হল, আমার দেশে যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে, তাতে যেসব provision করা হয়েছে, যাতে এ দেশের দুঃখী মানুষ protection পায়, তার জন্য বন্দোবস্ত আছে- ঐ শোষকেরা যাতে protection পায়, তার ব্যবস্থা নাই। -বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গণপরিষদের শেষ অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণ। আমরা হয়ত স্বীকার করতে চাই না যে মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কিন্তু সরকারের প্রয়োজনীয়তাই প্রমান করে যে তারা তা করে: মানুষ যদি ফেরেশতা হতো, তাহলে সরকারের কোনো প্রয়োজন হতো না। -ফেডারেলিস্ট পেপারস এ্যস্যে ৫১
ভূমিকা
চেকস এন্ড ব্যালেন্সেস বা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য যে কোনো কার্যকর (de facto) বা আইনসম্মত (de jure) রাজনৈতিক ব্যবস্থারই অপরিহার্য অংশ। যে কোনো সংবিধানেরও, লিখিতই হোক বা অলিখিত হোক, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য থাকলে, সরকারের প্রত্যেকটি বিভাগ - নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের ক্ষমতার সীমারেখা আরোপ করতে পারে। এর ফলে যেকোনো একটি বিভাগের পক্ষে অতি ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সম্ভবপর নয়। বরং এর মাধ্যমে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতা প্রয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যাতে পরস্পরের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য যাকে ক্ষমতার বিভাজনও (Separation of Power) বলা হয় একটি পুরাতন ধারণা, যার উৎস মূলত ফরাসি চিন্তাবিদ ব্যারোনেস মন্টেসকো। এই ব্যবস্থায় সরকারকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক বিভাগকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হলো কোনো বিভাগ যাতে অতি ক্ষমতাবান হয়ে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং নাগরিকের অধিকার হরণ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। আজকের এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য হলো এই রাজনৈতিক দর্শনের ও ব্যবস্থার মূল দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করা এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে একটি গঠনমূলক বিতর্ক উৎসাহিত করা। আমরা বিশ্বাস করি যে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে শুধুমাত্র খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই দৃশ্যত অসমাধানযোগ্য সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সম্পর্কে জাতি হিসেবে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব।
ফেডারেলিস্ট পেপারস
কীভাবে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য কাজ করে? ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য মার্কিন সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং ফেডারেলিস্ট পেপারস এ্যাসে (Essay) ৫১-তে জেমস মেডিসন এর ওপর আলোকপাত করেন। এ্যাসে ৫১-এর উদ্দেশ্য হলো সরকারের একটি
কাঠামো কীভাবে নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে তা ব্যাখ্যা করা। মেডিসনের মতে, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি এবং এ স্বাধীনতার জন্য নিশ্চিত করা দরকার যে, কোনো বিভাগই যেন অত্যধিক ক্ষমতাবান না হয়, যা ব্যবহার করে সেই বিভাগ অন্য বিভাগের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে পারে। এ্যাসে ৫১ অনুযায়ী, কোনো বিভাগে অত্যধিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া বন্ধ করতে এর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিধান হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ। সবার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজন ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ ও উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা।
ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও বিভাজনের বৈশিষ্ট্য
রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতিতে অপেক্ষাকৃত সহজে ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত, গঠিত, বিভাজিত ও ছড়িয়ে (diffuse) দেওয়া যায়। কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, সংসদীয় ব্যবস্থায় সেক্ষেত্রে অনেক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাহী বিভাগের উৎপত্তি হয় আইনসভা থেকে। রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় ব্যবস্থায় উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও বিভাজনের জন্য ভিনড়ব ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
যেমন, স্থায়ী কমিটি, বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর ও আইনসভার মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য।
বাংলাদেশের সংবিধানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কিত অনেকগুলো অনুচ্ছেদ রয়েছে। নিমেড়ব সংবিধানের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ-এর উল্লেখ করা হলো।
অনুচ্ছেদ ২২: রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
অনুচ্ছেদ ৪৮(১): বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
অনুচ্ছেদ ৪৮(৩): এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌও কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশেড়বর তদন্ত করিতে পারিবেন না।
অনুচ্ছেদ ৫১(১): এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটাইয়া বিধান করা হইতেছে যে, রাষ্ট্রপতি তাঁ হার দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করিয়া থাকিলে বা না করিয়া থাকিলে সেইজন্য তাঁহাকে কোন আদালতে জবাবদিহি করিতে হইবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ করিবে না।
(২) রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।
অনুচ্ছেদ ৫২(৪): অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করিয়া সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করিলে প্রস্তাব গৃহীত হইবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে।
অনুচ্ছেদ ৫৫(৩): মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
অনুচ্ছেদ ৫৬(৩): যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
অনুচ্ছেদ ৫৭(২): সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাঙ্গিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাঙ্গিয়া দিবেন।
অনুচ্ছেদ ৭০: কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন; (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দান করেন, তাহা হইলে তাঁহার আসন শূন্য হইবে...।
অনুচ্ছেদ ৭৭(২): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করিবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
অনুচ্ছেদ ৭৮(১): সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এইসকল ক্ষমতা প্রয়োগ-সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না।
(৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
অনুচ্ছেদ ১০২(২): হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন।-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশি−ষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনেরত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন;
অনুচ্ছেদ ১০৬: যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশড়ব উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরণের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।
অনুচ্ছেদ ১১২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করিবেন।
অনুচ্ছেদ ১১৬ক: এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিক পদ ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে নিয়োগ প্রাপ্তদেরকে অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, আমাদের সংবিধান প্রণেতাগণ সরকারের বিভিনড়ব বিভাগকে পৃক রাখার চেষ্টা করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও বিভাজনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে কিছু পর্যবেক্ষকের ধারণা যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল ব্যক্তিত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, সংবিধানের বিভিনড়ব বিধানের প্রয়োগ ছিলো অত্যন্ত অসন্তোষজনক এবং অনেক ক্ষেত্রে মূল সংবিধানের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়াও অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে, আমাদের সংবিধানের অনেকগুলো বিধান প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে, এগুলো সম্পর্কে নতুন করে ভাবা দরকার এবং এগুলোর সংস্কার জরুরি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যার প্রকৃষ্টতম উদাহরণ।
সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়
১. বৃহত্তর ইলেক্টোরাল কলেজ ব্যবহার করে সরাসরি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা এবং সংসদ বিলুপ্ত করার ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপতির ওপর অধিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা।
২. একই ব্যক্তির বহুবিধ ভূমিকা- প্রধানমন্ত্রী (প্রধান নির্বাহী), সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান।
৩. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে কিছু বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সংসদ সদস্যদেরকে ফ্লোর ক্রসিং করতে দেওয়া।
৪. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।
৫. সংসদের উপরের কক্ষের বিধান করে উপরের কক্ষের সদস্যদের সরাসরি নির্বাচনের আয়োজন করা।
৬. মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ (যেমন, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ, আইন, স্থানীয় সরকার), প্রধান বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিগণ, এবং স্বাধীন কমিশনের সদস্যদের (নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন) নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে খোলামেলা বিতর্ক, ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান এবং অনুমোদনের আয়োজন করা।
৭. সকল বৈদেশিক চুক্তি সংসদে উত্থাপন করা এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে যথাযথ বিতর্ক ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এগুলো অনুমোদনের বিধান করা। স্পর্শকাতর বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করা।
উপসংহার
সংবিধান কোনো পাথরে খোদাই করা দলিল নয় এবং সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোকে প্রাসঙ্গিক ও জনগণের প্রয়োজন মেটানোর স্বার্থে এর পর্যালোচনা করা আবশ্যক। একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সংবিধানের যাত্রা শুরু এবং এটি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেও, গত কয়েক দশকের অনেকগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও বিভাজনের কার্যকারিতা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে একটি পূর্ণ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন উৎসাহিত করার আমাদের পূর্বের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রবন্ধে কিছু প্রাথমিক সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কে এই সুন্দর পিচাই?
![]() |
| গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই। ছবি: এএফপি |
গতকাল বুধবার এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১০ আগস্ট সোমবার মাত্র ৪৩ বছর বয়সী সুন্দর পিচাইকে গুগলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। গুগল সম্প্রতি অ্যালফাবেট নামের একটি মূল প্রতিষ্ঠান তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। গুগল থাকবে অ্যালফাবেটের অধীনে। সুন্দর পিচাইকে গুগলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব দিয়ে ওই পদ থেকে সরে গেছেন ল্যারি পেজ। তিনি অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহীর পদে দায়িত্ব নিয়েছেন। অ্যালফাবেটের অধীনে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সামলাবেন পিচাই। গুগলের নামটি গুগলই থাকছে। গুগলের অধীনে সার্চ ইঞ্জিন, বিজ্ঞাপন, ম্যাপ, অ্যাপ, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মতো সেবাগুলো পরিচালিত হবে।
গুগলের প্রধান নির্বাহী হওয়ার আগে গুগলের পণ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন পিচাই। নতুন দায়িত্ব দেওয়ার আগে পিচাইয়ের প্রশংসা করে ল্যারি বলেন, ‘তাঁর মতো প্রতিভাবান একজনকে পেয়ে আমি ভাগ্যবান। তিনি এখন থেকে ছোটখাট একটা গুগলের দায়িত্বে থাকবেন। এতে আমার সময় অনেক বেঁচে যাবে। তিনি আমাদের প্রত্যাশাকে আরও সামনে নিয়ে যাবেন।’
২০০৪ সাল থেকে গুগলে কাজ করছেন পিচাই। ল্যারি পেজ পিচাইয়ের প্রশংসা করে এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘গুগলের উন্নতি ও এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি পিচাইয়ের আন্তরিকতা দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। আমি তাকে সহযোগিতা করে যাব। আমি তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছি এবং তাকে সাধ্যমতো সাহায্য করেছি এটা চালিয়ে যাব।’
প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়ে পিচাই এখন গুগলের পণ্য ব্যবস্থাপনা, গুগল পণ্য ও প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নে গবেষণা ও প্রকৌশল প্রভৃতি বিষয়গুলো দেখবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে জানিয়েছে গুগল।
যেভাবে উঠে এলেন পিচাই
বিজনেস ইনসাইডার ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে গুগলের যে দলটি ক্রোম ব্রাউজার নিয়ে কাজ করছিল, সে দলের সদস্য ছিলেন পিচাই। এ সময় তিনি গুগল টুলবার, ডেস্কটপ সার্চ, গ্যাজেটস, গুগল গিয়ার অ্যান্ড গ্যাজেটসের মতো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন সংক্রান্ত পণ্য নিয়ে কাজ করেছিলেন। ২০০৪ সালে পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুগলে যোগ দেওয়ার আগে অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস নামের একটি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকেনসি অ্যান্ড কোম্পানিতেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক দিন ধরে ল্যারি পেজের সহযোগী হিসেবে কাজ করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুন্দর পিচাইকে বিনয়ী, স্বল্পভাষী, স্বল্পপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সুন্দর পিচাইয়ের জন্ম ভারতের তামিলনাড়ুতে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) খড়গপুর থেকে প্রযুক্তিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ করেন।
গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বলেন, আগামীতে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও পণ্য প্রসারে কাজ চালিয়ে যাবে গুগল। গুগলের জাহাজের হাল ধরে রাখবেন পিচাই। গুগল নিজেই এখন অনেক পণ্য তৈরি করছে। আমি মনে করি পিচাই তাঁরা উদ্ভাবনী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে।
এক নজরে সুন্দর পিচাই
নাম: পিচাই সুন্দারারাজন (সুন্দর পিচাই)
জন্ম: ১২ জুলাই ১৯৭২, তামিলনাড়ু, মাদ্রাজ, ভারত
শিক্ষা: বিটেক (ভারত), এমএস (ইউএসএ), এমবিএ (ইউএসএ)
পদ: গুগলের সিইও
স্ত্রী: অঞ্জলি পিচাই
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন নতুন সংকটে গ্রামীণ ব্যাংক by ফখরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর শাহ
![]() |
| গ্রামীণ ব্যাংক |
নোবেল বিজয়ী এ প্রতিষ্ঠানে ১০ মাস ধরে পর্ষদ সভা হয় না। চেয়ারম্যান নিয়েও আছে বিভ্রান্তি। চার বছর ধরে এ ব্যাংকে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নেই। এমডি নিয়োগ দেওয়ার জন্য পর্ষদও নেই।
পর্ষদের নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ হলেও নির্বাচন করা যাচ্ছে না। ব্যাংকটিকে নিজের কবজায় নিতে সরকার আইনকানুন বদলালেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না কিছুই। একেকবার একেক পদক্ষেপ নিয়ে তা থেকে আবার সরে আসছে। ১০ মাস ধরে সরকার একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজই খুঁজে পাচ্ছে না, যিনি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন করে দেওয়ার জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান হতে রাজি আছেন।
এত সব সংকট কীভাবে কাটবে এবং নির্বাচনই বা হবে কবে—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন করে দেবে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজের নেতৃত্বাধীন একটি কমিশন।’ মাসের পর মাস চেষ্টা করা হলেও কোনো জেলা জজ তো রাজি হচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাই নাকি? জানি না তো!’
এত সব সংকটের মধ্যেও গত এপ্রিলে পুরোনো সদস্যদের নিয়ে পর্ষদ সভা ডেকেছিলেন ব্যাংকটির সরকারের নিয়োগ দেওয়া চেয়ারম্যান (যিনি পদত্যাগ করলেও সরকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি) খন্দকার মোজাম্মেল হক। পর্ষদের নয়জন নারী সদস্যসহ সব সদস্যকে সভায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি। এ খবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে সভা অনুষ্ঠানের আগের সপ্তাহে চিঠি দিয়ে বাতিল করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু পর্ষদ সদস্য বা নির্বাচিত পরিচালকদের মেয়াদ তিন বছর পার হয়ে গেছে, তাই পর্ষদ সভা অনুষ্ঠানের কোনো কার্যকারিতা নেই। এরপরই সভাটি বাতিল করেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
এ অবস্থায় আরেকটি সংকটে পড়তে যাচ্ছে ব্যাংকটি। আগামী অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এস এম মহিউদ্দিন নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন। তার আগে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ দিতে হবে। আর এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে ব্যাংকের পর্ষদকে।
২০১১ সালের ১১ মে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমডির পদ থেকে সরে যান। চার বছরের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়েই চলছে গ্রামীণ ব্যাংক।
এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে ভারপ্রাপ্ত এমডি এ এস এম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে পর্ষদ সভা আহ্বান করা হলেও তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে বাতিল করার কথা জানান।
পুরোনো সংকটগুলোও কাটছে না গ্রামীণ ব্যাংকের। পর্ষদের নির্বাচিত সদস্য বা পরিচালকদের মেয়াদ শেষ হয়েছে পাঁচ মাস আগে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁরা তিন বছর মেয়াদ শেষ করেন। কিন্তু নতুন পরিচালক নির্বাচন করতে গেলে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, সেটাই গঠন করতে পারছে না সরকার।
যোগাযোগ করলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের উদ্যোগগুলোতে একের পর এক সমস্যাই বেড়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত।
মেয়াদ নিয়ে দুই রকম কথা: পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্য বা পরিচালকদের মেয়াদ নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আইন এবং গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালার মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থানও রয়েছে।
অধ্যাদেশের আওতায় ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। অধ্যাদেশের ১১(২) ধারা অনুযায়ী, একজন পর্ষদ সদস্যের মেয়াদকাল হবে তিন বছর এবং পরবর্তী সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।
কিন্তু ২০১৩ সালে সামরিক সরকারের আমলের প্রণীত দেশের সব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আইনও প্রণয়ন করা হয়। সেখানে কিছু পরিবর্তনও আনা হয়। আইনের ১১(১) ধারায় বলা হয়েছে, সদস্যদের মেয়াদকাল হবে তিন বছর। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় সদস্যদের মেয়াদকাল শেষ হবে, তা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিধিমালার ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, পরিচালক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শূন্য হবে। এর মানে হলো, যত দিন তফসিল ঘোষণা না হবে, তত দিন আগের পরিচালকেরা বহাল থাকবেন।
সুতরাং সর্বশেষ পর্ষদ সদস্যদের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলেও আইনমতে তাঁরা সদস্য নন, কিন্তু বিধিমতে সদস্য আছেন।wwww
গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের পদ বহাল রাখা নিয়ে গত এপ্রিল মাসে একটি রিট করেন পর্ষদ সদস্য তাহসিনা খাতুন। সেই রিটের এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাহসিনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু নতুন পর্ষদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি, তাই এখনো আমরাই সদস্য আছি।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি এ এস এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকে সব সময় নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হয়েছে। এত দিন নতুন পর্ষদ সদস্য নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পুরোনোরাই সদস্য থাকতেন।’
গ্রামীণ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পর্ষদের নয়জন নারী সদস্যের কাছে এখনো প্রতি মাসের হিসাবসহ যাবতীয় তথ্যের প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
জেলা জজ খুঁজে পাচ্ছে না: গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের জন্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ গত ১০ মাসেও খুঁজে পায়নি সরকার। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্বাচন করার দায়িত্ব দিয়ে বিধিমালা জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানায়। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালক নির্বাচন করার সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এরপর সেই দায়িত্ব জেলা জজকে দিয়ে আবারও বিধিমালা সংশোধন করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিধিমালাটি সংশোধন করলেও তা ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়।
সংশোধনীতে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ। প্রজ্ঞাপনটিতে এবার কিছুটা কৌশল অবলম্বন করা হয়। বলা হয়, নির্বাচন হবে ‘বিধিমালার অধীন কমিশন গঠনের এক বছরের মধ্যে।’ অর্থাৎ, কমিশন গঠন করার আগ পর্যন্ত নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার পর্যন্ত সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারেনি। কারণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে কোনো অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজই রাজি হচ্ছেন না।
আবার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজকে সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় না আইন মন্ত্রণালয় করবে, তা স্পষ্ট বলা নেই। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অবশ্য জানান, ‘আমরাই নিয়োগ করব।’ কোনো অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজই তো রাজি হচ্ছেন না, তাহলে কী দাঁড়াবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
সরকার গঠিত গ্রামীণ ব্যাংক-সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সদস্য আজমালুল হোসেন কিউসি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিচালক নির্বাচন করতে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরার দরকার ছিল না। আমাদের নির্বাচন কমিশনকে দিয়েই এ নির্বাচন করা সম্ভব। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রতিবেদনে এ রকম একটি সুপারিশও আমরা করেছিলাম।’
পরিচালক নির্বাচন করে দিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন—এ প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘আমার মনে হয় সরকার এ ব্যাপারে সিরিয়াস নয়। আর একান্তই কাউকে না পাওয়া গেলে আবার আইন সংশোধন করতে হবে। এভাবে তো চলতে পারে না।’
এত বিপত্তির পরও গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ভালো চলছে, ভালো মুনাফাও হচ্ছে, কীভাবে—আবারও জানতে চাইলে মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘এ জন্য ড. ইউনূসকে কৃতিত্ব দিতে হয়। তিনি এমন পদ্ধতি দাঁড় করিয়েছেন যে তাঁর অনুপস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠানটি নুয়ে তো পড়ছেই না, উল্টো মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়ে আছে।’
নির্বাচিতদের ছাড়াই কোরাম: গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওই মাসেই অর্থ মন্ত্রণালয় তিনজন মনোনীত সদস্য নিয়োগ দেয়। তাঁরা হলেন চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক, তৎকালীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ এ সারোয়ার। তাঁরাও এ পর্যন্ত কোনো সভা করতে পারেননি।
নির্বাচিত পরিচালকদের ছাড়াই কোরাম পূর্ণ করতে ২০১৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনের ১৭(৩) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শূন্য হলে পরিচালক নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও সরকার মনোনীত অপর দুজন সদস্য উপস্থিত থাকলেই সভার কোরাম হবে।
এর মানে হলো, সরকার চাইলে নির্বাচিত পরিচালক ছাড়াই গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ চালাতে পারবে। যেকোনো সিদ্ধান্তও পর্ষদ নিতে পারবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুকুশিমার পর প্রথম পারমাণবিক চুল্লি চালু জাপানের
![]() |
| জাপানের কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের সেনদাইতে অবস্থিত পারমাণবিক চুল্লিটি গতকাল আবার চালু করে। এর প্রতিবাদে ফটকের বাইরে গণসমাবেশ করা হয় |
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর জাপানে পরমাণুবিরোধী চরম মনোভাব সৃষ্টি হয়। গতকাল সেন্দাই চুল্লি পুনরায় চালুর সময়ও তা পরিষ্কার হয়েছে। টেলিভিশনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ওই চুল্লির সামনে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করছেন। গতকাল সেখানে কমবেশি ২০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যার মধ্যে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরমাণুবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
‘সবার আগে নিরাপত্তা ’: জাপান বিশ্বের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে তারা দরিদ্র। একটা সময় তারা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-চতুর্থাংশ পূরণে নির্ভরশীল ছিল পারমাণবিক চুল্লিগুলোর ওপরে। সব চুল্লি বন্ধ থাকায় বিপদ শুরু হয়।
ফুকুশিমার মতো বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি এড়াতে জাপান বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা, বাড়তি প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সুনামির ঢেউ ঠেকাতে কিছু এলাকায় সুউচ্চ দেয়াল তৈরি। দেশটির শিল্পমন্ত্রী ইয়োইশি মিইয়াজাওয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উষ্ণতাবিরোধী পদক্ষেপগুলোর পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় একটা একটা করে চুল্লিগুলো আবার চালু করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব সময়ই নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথম বিবেচ্য।’ আবার যদি পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সরকার তা ‘দায়িত্ব নিয়ে মোকাবিলা’ করবে বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লক্ষণ তো দেখতেই পাচ্ছি কিন্তু কারণটা যেন না ভুলি by সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
![]() |
| পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বখাটেরা উত্ত্যক্ত করায় অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী দোলা খাতুন (১৩) |
সভার কার্যপত্রে ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকরণের ব্যাপারটার মাত্রা কতটা যে বেড়েছে তা চিহ্নিত করে যা বলা হয়েছে তা উদ্ধৃতিযোগ্য। ‘স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রীরা শিক্ষালয়ে যাওয়ার পথে বখাটেদের অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। এর জন্য কেউ কেউ লেখাপড়া বন্ধ করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বখাটেদের অত্যাচার এমন প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়াতে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। বখাটেদের অত্যাচারে শিক্ষার পরিবেশ হয়ে উঠেছে দূষণময়। তাছাড়াও দেখা যাচ্ছে যে, নবম শ্রেণীতে ওঠার পর অনেক ছাত্রী শিক্ষাজীবন বন্ধ করে দিচ্ছে, যার কারণে শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বখাটেদের উৎপাত। এই বখাটেদের উৎপাত নারী নির্যাতনের একটি প্রবণতা এবং এর ভয়াবহতা মেয়েদের অভিভাবকদের মনে এক আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের পাঠিয়ে দিয়ে অভিভাবকরা মেয়েটি ঘরে না ফেরা পর্যন্ত যারপরনাই অস্থির হয়ে থাকেন।’
বলা বাহুল্য, এই বিবরণ সংবাদপত্রের নয়, সরকারি দফতরের এবং এতে বিন্দুমাত্র অতিশয়োক্তি নেই। বখাটেদের এই উৎপাত যে নারী নির্যাতনেরই একটি রূপ সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত, সেটি খেয়াল না করলে উৎপাতের চরিত্রটি অস্পষ্ট থেকে যেত। পরে আলোচনায় অবশ্য এটাও দেখানো হয়েছে যে, হয়রানি করার ব্যাপারটি যে কেবল পথেঘাটে ঘটে তা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরও ঘটে থাকে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা নতুন কোনো ব্যাপার নয়, এটা অতিশয় পুরাতন বটে। কিন্তু এর মাত্রা এখন দুঃসহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে এবং ঘটনা যে শুধু যাতায়াতের পথে ঘটে তা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেও ঘটছে। এমন হারে ঘটছে আগের কালে যা ছিল অকল্পনীয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। কেবল যে সহপাঠীদের হাতে তা নয়, শিক্ষকদের হাতেও। অধঃপতন আর কাকে বলে। বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবস্থায় সত্যি সত্যি যদি কোনো দিন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে তবে এসব তথ্য সে দিন মানুষকে বিস্মিত করবে এবং সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলা দরকার যে, পরিবর্তন এসেছে কিনা সেটা মাপার একটি নিরিখও হবে ওই বিস্ময়। প্রসঙ্গ এসেছিল সহশিক্ষার। সবাই একমত হলেন যে, সহশিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। পরস্পরের পাশাপাশি থেকে, এক সঙ্গে পড়াশোনা করে ছেলেমেয়েরা পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করতে শিখবে, তাদের সম্পর্ক হয়ে উঠবে স্বাভাবিক। আমার মনে পড়ল, জামায়াতে ইসলামীর কথা। এখন কী বলে জানি না, কিন্তু এক সময়ে তারা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও সহশিক্ষার বিরোধী ছিল, তাদের দাবি ছিল মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় থাকা চাই। স্বাভাবিককে অস্বাভাবিক করে তোলাটাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিশ্বস্ত পুঁজি বটে।
লক্ষণ তো দেখতেই পাচ্ছি কিন্তু কারণটা যেন না ভুলিমেয়েদের একটি কলেজের অধ্যক্ষ বললেন, তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে আসতে মেয়েদের কোনো অসুবিধা হয় না, কেননা তিনি তার কলেজের চারশ’ গজের মধ্যে কোনো ধরনের দোকানপাট রাখতে দেন না, কেউ যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকবে কিংবা চায়ের দোকানে আড্ডার নামে মেয়েদের যাতায়াতের ওপর চোখ রাখবে এমনটা সেখানে সম্ভব নয়। তিনি অবশ্য নিজেই স্বীকার করলেন যে, চারশ’ গজের বাইরে কী ঘটে সেটার ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু ওই চারশ’ গজ ফাঁকা জায়গাই বা ব্যস্ত শহরে কোথায় পাওয়া যাবে, এ প্রশ্ন উঠল এবং জবাব পাওয়া গেল না। রাস্তাঘাটের অবস্থা সম্পর্কে অন্য একজন শিক্ষাবিদ তার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। মফস্বল শহরে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে দেখেন কলেজপড়–য়া দুটি কিশোরী গায়ে বোরখা চাপাচ্ছে, ঘটনা কী জিজ্ঞাসা করায় বিস্ময় ও কৌতুকের সঙ্গে জানতে পারলেন যে, তারা কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাভাবিক পোশাকে যাতায়াত করা নাকি বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সাবধানের মার নেই।
যেমনটা প্রত্যাশিত ছিল তেমনিভাবে আইনকে কঠোর করার প্রস্তাব এলো। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কোনো কোনো রাজ্যে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাকে জামিনের অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়, তেমনটা আমাদের এখানেও করা যেতে পারে। সাদা পোশাকে পুলিশ প্রহরার প্রস্তাব এলো। কিন্তু কথা তো থাকে এবং রইলও, বললেনও কেউ কেউ যে আইনের প্রয়োগ নিয়েই তো মস্ত সমস্যা বিদ্যমান। বখাটেরা গ্রেফতার হয়, তারপর বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং যোগাযোগের দরুন তারা সাফল্যের সঙ্গে বের হয়ে আসে, অনেক ক্ষেত্রে এমনকি জামিন বা মুচলেকারও দরকার পড়ে না এবং বেরিয়ে আসতে পারলে তাদের তৎপরতা সুদে-আসলে মিলে অন্তত দ্বিগুণ হয়। আদালতে হাজির করলেও দুর্বৃত্তরা জামিন পেয়ে যায় এবং যাবে যে সেটা পুলিশ জানে। তাই গা করে না। গা করলে পুরস্কার পাওয়া দূরের কথা পরিণতি যে ভালো হবে না, এটাও তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে। বদলি করে দেয়া হতে পারে, এমনও ঘটা সম্ভব যে প্রাণটিই চলে যাবে, যেমনটি গৌতম রায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, এই রাজধানীতেই। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের তল্লাশি করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন। সামাল দিয়ে চলা, পারতপক্ষে তৎপর না হওয়া, এই শিক্ষাটা পুলিশের লোকেরা বাস্তব অভিজ্ঞতার ভেতর থেকেই পেয়ে যান, বইপত্র পড়তে হয় না। তাছাড়া যে ব্যাধি সমাজের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও কি তার নাগালের বাইরে? সেটা কী করে সম্ভব? তাদের মধ্যে এমন বুদ্ধিমান সদস্যরা রয়েছেন যারা দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন এবং তাতে তাদের বৈষয়িক উন্নতি ঘটে। তাদের দৃষ্টান্তে অন্যরা যদি অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েন তবে দোষ দেব কাকে?
বখাটেদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের অত্যাবশ্যকতার বিষয়টি সভার কার্যপত্রে ছিল এবং আলোচকরাও তার সুপারিশ করতে ভোলেননি। সে ক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকে। সামাজিক প্রতিরোধ তো ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়, সেটিকেও সামাজিক হতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে বাধা দিতে গেলে জীবন বিপন্ন হবে, যার দৃষ্টান্ত সহজলভ্য। পুলিশ অফিসারই যেখানে প্রাণ হারান সেখানে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসবে কোন সাহসে, শুনি? সামাজিক প্রতিরোধের জন্য সামাজিক সংগঠন দরকার। আর সে ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারেন স্থানীয় সরকারের প্রধানরা। কিন্তু সেটা যে সম্ভব হবে না, তার নিশ্চিত লক্ষণ তো এটা যে, স্থানীয় সরকারকে মোটেই জোরদার করা হচ্ছে না, উল্টো তাদের ক্ষমতা যেটুকু পাওয়ার কথা ছিল নির্মমভাবে তা হরণ করা হচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান চলে গেছেন উপদেষ্টা এমপি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অধীনে; একদিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সরকার দাঁড়াবে কেমন করে?
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা খুবই জরুরি। কথাটা চকিতে উঠেছিলও। রাষ্ট্র যদি দৃঢ় অবস্থান না নেয়, যদি দল নিরপেক্ষভাবে বখাটেদের শায়েস্তা করার প্রশাসনকে সেভাবে নির্দেশ না দেয় এবং সর্বোপরি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনে উপজেলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ও স্থানীয় নেতৃত্ব গঠন করার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করতে না দেয় তাহলে বখাটেদের প্রতিরোধ করা দুঃসাধ্য হবে বৈকি।
আলোচনায় আমার কথা বলার পালা যখন এলো তখন আমি অস্পষ্টভাবে ও চকিতে উপস্থাপিত রাজনৈতিক প্রশ্নটিতে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। বিশদভাবে বলার সময় ছিল না; তাই শুধু এটাই বললাম যে, এই যে এত বড় একটা সামাজিক সমস্যা, এ নিয়ে আমাদের প্রধান যে দুই রাজনৈতিক দল তাদের ভেতর তো কোনো উদ্বেগ দেখি না, তারা যে একত্র হয়ে এর চিকিৎসা করবেন তার তো কোনো লক্ষণ নেই। এমপি সাহেবরা অনেক বিষয়ে বলেন, কিন্তু এ বিষয়ে বলতে চান না। সরকারি এবং সরকারবিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলই নারী নির্যাতন রোধের ব্যাপারে এগিয়ে আসে না। বরং নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের তারা প্রশ্রয় ও আশ্রয় দিয়ে থাকে; বখাটেদের তারা ব্যবহার করে, দলীয় কাজে। কিন্তু যে কথাটি আমার বিশেষভাবে বলার ছিল সেটা হলো এই যে, বখাটেপনা একটা সমস্যা বটে, অসুখও বলা যায়। কিন্তু এটা মূল ব্যাধি নয়, মূল ব্যাধি রয়েছে অন্যত্র; যেটি এক ও অভিন্ন, যার প্রবাহ সর্বত্র বিস্তৃত হয়েছে। সেটি হলো পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য। আলোচনা সভার কার্যপত্রে
বখাটেদের উৎপাতকে যে নারী নির্যাতন প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে সেটা অত্যন্ত সঠিক বৈকি। নারী আজো ঘরে-বাইরে, সমাজে-সংসারে, কর্মস্থলে-শিক্ষায়তনে, পথে-ঘাটে সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছে, শিকার হচ্ছে সহিংসতার, বাধ্য হচ্ছে আত্মহননে। এটা হলো সেই বৈষম্য যা পুঁজিবাদ সৃষ্টি করে। পুঁজিবাদ বৈষম্য সৃষ্টি করেই যে শান্ত থাকে তা নয়, সে সঙ্গে দুর্বলকে নানাভাবে পীড়ন করে।
![]() |
| সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী |
লেখক : শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাহজালাল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে পণ্য ছিনতাই by কমল জোহা খান
বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই দুটি ঘটনায় মামলা হলেও প্রায়ই ছোটখাটো এমন অনেক ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে অবৈধ পণ্য সরিয়ে নিতে এটা করছে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিমানবন্দর ও থানা সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১০ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের কাস্টমের কার্গো কমপ্লেক্সের কুরিয়ার ইউনিটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তিনটি ট্রলিতে করে ১৫ কার্টন পণ্য ছিনিয়ে নেয়। হামলার নেতৃত্ব দেন এসএমআই কুরিয়ার সার্ভিসের মালিক বদরুল আলম ওরফে শ্যামল। শ্যামল নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। ওই হামলায় তাঁর ভাই ফখরুল আলম ওরফে প্রিন্সও অংশ নেন।
বিমানবন্দরের ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার রিয়াদুল ইসলাম, পাঁচজন সহকারী রাজস্ব কমর্কতা মোজাম্মেল হক, শাহজাহান আলী, মোস্তফা জামাল, মাহবুবুর রহমান ও আব্দুল সেলিম ভূঁইয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। শ্যামলের ভাই ফখরুল প্রথমে হামলা শুরু করেন। সর্বশেষ শ্যামল হামলা চালান সহকারী কমিশনার রিয়াদুল ইসলামের ওপর। কুরিয়ার গেটের অন্য পাশে শুল্ক কর্মকর্তা মোজাম্মেলের ওপর হামলা করেন ফখরুল। হামলা শেষে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে সব বাধা অতিক্রম করে তাঁরা বেরিয়ে যান।
বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের সূত্র জানায়, ওই দিন বিকেলেই বিমানবন্দর থানা-পুলিশ শ্যামলের উত্তরার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে শুল্ক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছিনতাই করা মালামাল জব্দ করে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ এনে মামলা করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজাহান আলী। মামলায় আলামত হিসেবে থানায় মামলার ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়া হয়।
শুল্ক বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানায়, এসএমআই এক্সপ্রেস নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান আছে শ্যামলের। এর সূত্র ধরে কুরিয়ার ও কার্গোর মতো সংরক্ষিত এলাকায় অবাধে যাতায়াত করেন তিনি ও তাঁর লোকেরা। শ্যামল আগে ছাত্রদল করতেন। এখন নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রী ও যুবলীগের চেয়ারম্যানের ছবি ব্যবহার করে তিনি পোস্টার ছাপিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় সাঁটিয়ে রেখেছেন।
তবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বদরুল আলম শ্যামল নামে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো নেতা নেই। ঢাকার অন্য কমিটিতেও এই নামে কেউ আছে বলে তাঁর জানা নেই।
বদরুল আলম ওরফে শ্যামল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন। কিন্তু তিনি হামলায় অংশ নেননি। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা তিনি জানেন না। আর ছিনিয়ে নেওয়া পণ্যগুলোও তাঁর না।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামল বলেন, ‘আমি কখনো বিএনপির রাজনীতি করিনি। ছাত্রলীগ করতাম। এখন যুবলীগ করি। কুরিয়ার সার্ভিস ছাড়া আমার গাড়ির ব্যবসাও রয়েছে।’
গতকাল দায়ের করা মামলায় শ্যামল ও তাঁর ভাই ফখরুলসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটজনের বাকিরা হলেন শহীদুল ইসলাম, আসাদ, হাদিস উল্লাহ, ইয়াসিন, সুমন ও মোহাম্মদ আলম।
ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বদরুল আলম শ্যামলের কথা আমি শুনেছি। কিন্তু তাকে দেখিনি। এর আগে একবার তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। এবারও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।’
এর আগে গত ১৮ মে একইভাবে বিমানবন্দরের কুরিয়ার সার্ভিস এলাকা থেকে এক কোটি টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও সাড়ে সাত কোটি টাকার ওষুধের চালান আটক করায় শ্যামলের সহযোগী আসাদ ও লেলিন দলবল নিয়ে সহকারী কমিশনার শহীদুজ্জামান সরকারের ওপর হামলা চালান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। শ্যামলকেও আসামি করা হয়। তখন পুলিশ আসাদ ও লেলিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। ওই সময় সহকারী কমিশনার শহীদুজ্জামানের বাসায় কাফনের কাপড়ও পাঠানো হয়। তবে তিন মাস চলে গেলেও ওই মামলায় এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আগের মামলার তদন্ত চলছে। খুব শিগগির চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শ্যামলসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০৬ -বাঘ গণনা জরিপ ২০১৫ by ইফতেখার মাহমুদ
![]() |
| জরিপকালে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সুন্দরবনে ক্যামেরাবন্দী হয় বাঘ দুটি l ছবি: সংগৃহীত |
এ জরিপের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় অন্যতম হুমকি মানুষের তৎপরতা। বাংলাদেশ অংশে জীববৈচিত্র্য ও খাবারের ভিত্তিতে কমপক্ষে ২০০ বাঘ থাকার কথা। কিন্তু চোরা শিকারিদের বাঘ শিকার, বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল এবং বনের পাশে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যামেরায় ছবি তুলে, খালে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে ও তার গতিবিধির অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ব্যাখ্যা করে এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে বন বিভাগ। এই জরিপে বন বিভাগকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউট। এতে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রোববার বন বিভাগ জরিপের এই ফলাফল চূড়ান্ত করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল। এতে বাঘের সংখ্যা এসেছিল ৪৪০টি। এ বছর নতুন এই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের ওই জরিপটি যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হয়নি। ফলে আগের ওই বাঘের সংখ্যা সঠিক নয়।
তবে ক্যামেরায় ছবি তুলে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় সুন্দরবনে বাঘ গণনা জরিপ করেন। তাতে বাঘের সংখ্যা ছিল ২০০টি। সেই হিসাবে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা গত নয় বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া ২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে। এতে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৪৫০টি বলে উল্লেখ করা হয়।
বাঘ গণনা জরিপ-২০১৫-এর প্রধান পরামর্শক ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউটের প্রধান রাজভেন্দর ঝালা গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া বাঘের প্রধান খাবার হরিণের সংখ্যাও সেখানে কম। কিন্তু আমাদের জরিপে দেখা গেছে, ভারতীয় সুন্দরবনে বাঘ বিচরণ এলাকায় প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে চারটি ও বাংলাদেশ অংশে দুটি বাঘ রয়েছে। এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশ অংশে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
রাজভেন্দর বাংলাদেশ অংশে বাঘ রক্ষার উদ্যোগে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্যালা নদীতে নৌপথ চালু থাকার ফলে বনটি অবস্থাদৃষ্টে দুই ভাগ হয়ে গেছে। এতে বাঘের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার বনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিশাল স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এসব তৎপরতা বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে ফেলবে। বাঘ রক্ষা করতে হলে এসব বাধা দূর করতে হবে।
সুন্দরবনে মোট ৩৮টি পূর্ণবয়স্ক ও চারটি বাঘের বাচ্চার ছবি তুলতে পেরেছে বন বিভাগের জরিপ দল। বাকি ৬৮টি বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে খালে তাদের পায়ের ছাপ গুনে ও বিচরণের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। ক্যামেরাবন্দী হওয়া ৩৮টি বাঘের ৩০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিগুলো নারী।

জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘ বিচরণ করে। এদের বিচরণের প্রধান ক্ষেত্র বাগেরহাটের কটকা, কচিখালী ও সুপতি; সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ, দোবেকি ও কৈখালী এবং খুলনার নীলকমল, পাটকোষ্টা ও গেওয়াখালী। এই তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে ওই জরিপটি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে ১৭টি, সাতক্ষীরায় ১৩টি ও খুলনায় আটটি বাঘের ছবি ধারণ করা হয়েছে।
বাঘের ছবি তোলার জন্য বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ৭১টি করে এবং খুলনায় ১৩২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বন বিভাগের ৩০ জন কর্মী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এ জরিপটি করে। এই সময়ে প্রতি দুই দিন পর পর ওই ক্যামেরা পরীক্ষা করে বাঘের ছবি দেখা হয়। এই তিনটি এলাকার মধ্যে বাগেরহাটে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৩ দশমিক ৭টি, সাতক্ষীরায় ২ দশমিক ৭৭ ও খুলনায় ১ দশমিক ০৮টি করে গড়ে বাঘ বিচরণ করতে দেখা গেছে।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ৫২টি বাঘ গ্রামবাসী, চোরা শিকারি ও বিভিন্ন ধরনের অপঘাতে মারা গেছে। এ ছাড়া গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে র্যাব ছয়টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চারটি চামড়াই পাওয়া গেছে গত ডিসেম্বরে সুন্দরবনের ভেতরে তেলবাহী জাহাজডুবির পর। তবে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৪ মাসে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের হাতে ১০টি বাঘ ও ৮১টি হরিণ মারা পড়েছে।
বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বাঘ গণনা জরিপের প্রধান জাহিদুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বাঘের এই নতুন গণনাকে ভিত্তি ধরে আমরা সামনের দিনগুলোতে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করব।
২০০৯ সালে সরকার টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে। ২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ওই ঘোষণায় স্বাক্ষরও করেছে। এতে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশ প্রতি দুই বছর পর পর বাঘ গণনা করবে। বাংলাদেশ ওই ঘোষণার পাঁচ বছর পর বাঘগণনা শেষ করেছে। ভারত ২০১৩ সালে ও নেপাল ২০১৪ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শেষ করে।
ভারতের বন বিভাগের হিসাবে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশটিতে বাঘের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাঘ রক্ষায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বাঘ রক্ষায় অবকাঠামো তৈরি, টহল বাড়ানো, জনবল নিয়োগের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই পূরণ হয়নি।
এ বিষয়ে বাঘ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে, এটা বোঝাই যাচ্ছে। চোরা শিকারিদের তৎপরতা, নৌযান চলাচল বাঘের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে আনার কথা আমরা শুনছি। এটা আরও ঝুঁকিতে ফেলবে। যে বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণী, আমাদের গর্ব, ক্রিকেট দলের লোগো, সেই বাঘকে বাঁচাতে হলে আমাদের জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান ধারায় চললে সুন্দরবনে যে কটি বাঘ আছে, তাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’
আগের জরিপে বাঘের সংখ্যা
২০০৪ সাল
বন বিভাগ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করেছিল ৪৪০
২০০৬ সাল
ক্যামেরা পদ্ধতিতে অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান ব্রিটিশ জুয়োলজিক্যাল সোসাইটির সহায়তায় বাঘ গণনা করেন ২০০
২০১০ সাল
বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি জরিপ করে ৪০০–৪৫০
তথ্যসূত্র: বন বিভাগ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মনে হচ্ছে তিনি আজ এখানে আমার সঙ্গে আছেন -সালমা সোবহানের জন্মজয়ন্তীতে রেহমান সোবহান
![]() |
| ছায়ানট মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক সালমা সোবহানের ৭৮তম জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অতিথিরা |
ব্যারিস্টার সালমা সোবহানের ৭৮তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান বললেন, ‘তাঁর জন্মদিন উদ্যাপনের এই অনুষ্ঠানে বসে মনে হচ্ছে তিনি আজ এখানে, আমার সঙ্গে আছেন। এভাবে স্মরণ করা হলে তিনি চিরদিনই আমাদের মধ্যে থাকবেন।’
গতকাল ছায়ানট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ছিলেন সালমা সোবহান। দীর্ঘ ১৫ বছর বিনা বেতনে কাজ করেছেন। অনেক চরাই-উতরাই পার করে রচনা করেছেন একটি শক্ত ভিত্তি। সেই ভিত্তির ওপর ডালাপালা মেলে আজ প্রায় মহীরুহ হয়ে উঠেছে আসক। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠার বড় কারণ বোধ হয় নাচ-গান-আবৃত্তি। এ সবই করেছে আসকের ‘ড্রপ ইন সেন্টার’-এর ‘যখন-তখন বিদ্যালয়’-এর শিশুরা। বিদ্যালয়গুলো চালু হয়েছে আসক প্রতিষ্ঠার সময়ই, সংস্থাটির শিশু অধিকার ইউনিটের আওতায়।
অনুষ্ঠান শুরু হয় সালমা সোবহান সম্পর্কে আসকের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দিলরুবা হক পাপিয়া রচিত পঙ্ক্তিমালা পাঠ ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে। প্রদীপ প্রজ্বালন করেন উপস্থিত আসক সদস্যরা, নার্গিস আক্তার ও সালমা সোবহানের সন্তান জাফর সোবহান।
এরপর স্মৃতিচারণার ফাঁকে ফাঁকে চলে গান, নাচ, আবৃত্তি। শুরুতে স্মৃতিচারণা করেন আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সালমা সোবহানের মতো কোনো মানুষ যখন জন্মান, তখনই একটা করে নতুন দুয়ার খুলে যায়। সেই দুয়ার দিয়ে অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আলো এসে পৃথিবীতে পড়ে। শুরু হয় সেই আলোর পথে যাত্রা।
সুলতানা কামাল বলেন, দেশ এখন এক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সালমা সোবহান বলতেন, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রত্যেক মানুষকে ক্রোধান্বিত হতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবে সহ্য করা যাবে না। আসক সেই পথেই চলছে। সেই পথেই চলতে হবে।
আসকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হামিদা হোসেনের স্মৃতিচারণায় সালমা সোবহান জীবন্ত উপস্থাপিত হন। সালমা সোবহানের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, দুজনেরই বাংলাদেশে আসা এবং আসকে একসঙ্গে কাজ করার অনেক অজানা কথা সবিস্তারে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সালমা আসককে শিশুর মতো আগলে রেখেছেন। তার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছেন। সংস্থার মধ্যে গণতন্ত্রচর্চা, সবাইকে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে ঝাঁপিয়ে পড়া—এগুলো ছিল তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য।
সালমা সোবহানের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়েছিল আসক। প্রথম দিন গত সোমবার তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গতকালের অনুষ্ঠানে সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ শিশুকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ছয়জনকে আগের রাতেই আটক করে পুলিশ!
তবে পুলিশের দাবি, খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী এলাকা থেকে শনিবার রাতে শুধু মজিদ গাজীকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে নিয়ে পরদিন সকালে পুলিশ সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া খাল এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মজিদসহ ছয়জন নিহত হন। নিহতরা বনদস্যু ইলিয়াস-জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য।
নিহতরা হলেন আপন দুই ভাই শফিকুল ইসলাম (৩৮) ও মামুন গাজী (২৮); মামুনের শ্বশুর মজিদ গাজী (৩৫); আনসার সানা (৫৫) ও তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সানা (৪২) এবং বাপ্পী হোসেন (২২)। গত সোমবার সবার লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বজনেরা লাশ দাফন করেন।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরমুখা ও জোড়সিং গ্রামে ঘুরে এলাকার মানুষের সঙ্গে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় বাঘের চামড়া কেনার কথা বলে জোড়সিং গ্রামের মজিদকে কে বা কারা বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। রাতে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশ তাঁকে চাপ দিলে আরও চামড়া আছে বলে তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ এ সময় মজিদকে দিয়ে তাঁর মেয়ে শফিকুলের স্ত্রী নাজমা খাতুনকে চামড়া আনতে বলে। এ সময় রাস্তাতেই নাজমাকে বাঘের চামড়াসহ আটক করা হয়। এরপর তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চরমুখা গ্রামের আনসার সানা ও সিদ্দিক সানার বাড়ি থেকে দুটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে পুলিশ। এই অভিযানেরই একে একে নিহত অন্যদেরও আটক করে পুলিশ। তাঁদের কয়রা থানায় নেওয়া হয়।
সিদ্দিক সানার বাবা সৈয়দ আলী সানা দাবি করেন, রাত তিনটার দিকে সাদাপোশাকে কয়েকজন লোক এসে সিদ্দিককে ডাকতে থাকে। এ সময় তাঁরা বেরিয়ে আসার আগেই দরজা ভেঙে সিদ্দিককে আটক করে বেদম প্রহার করা হয়। বাঘের চামড়া আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। পরে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি তাঁর বাড়ি থেকে কোনো চামড়া উদ্ধার হয়নি বলে দাবি করেন।
মজিদ গাজীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, তাঁর স্বামীকে কে বা কারা রাত আটটার দিকে মুঠোফোনে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারেন, তাঁর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শফিকুল ইসলামের মেয়ে সুমি বেগম জানান, রাত তিনটার দিকে কয়েকজন লোক বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কিছু জানেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতিবেশীরা জানান, রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যেই মূলত সবাইকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকেই তিনটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
কয়রা সদরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, ওই ছয়জনকে ভোরের দিকে থানায় নেওয়া হয়। পরদিন রোববার সকাল ১০টার দিকে ছয়জনকে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরে বিকেল চারটার দিকে শুনতে পান, সবাই বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন শুধু মজিদকেই আটক করা হয়। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সুন্দরবনে অভিযান চালানো হলে অন্যরা বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর তথ্য দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী ক্ষোভ থেকেই এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।
মামলা ও গ্রেপ্তার: বন্দুকযুদ্ধ ও বাঘের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার রাতে কয়রা থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা তিনটি করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় নিহত শফিকুলের স্ত্রী নাজমা বেগম, সিদ্দিক সানার বড় ভাই নজরুল সানা ও একই গ্রামের সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে নাজমাকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্র নাথ সরকার প্রথম আলোকে জানান, গ্রেপ্তার সবাইকে আজ বুধবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তদন্ত কমিটি: বাঘের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার বন বিভাগ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে সুন্দরবন সাতক্ষীরা অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক শোয়েব খানকে। দুই দিনের মধ্যে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোয়েব খান প্রথম আলোকে জানান, আজ বুধবার বিভাগীয় প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে তিনি আর কিছু জানাতে চাননি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫ কারণে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল খারাপ by শরিফুজ্জামান ও মোশতাক আহমেদ
কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে এবং ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইংরেজিতে সাড়ে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া, প্রথম চালু হওয়া তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ১৩ শতাংশের মতো ছাত্রছাত্রী উত্তীর্ণ না হতে পারা, সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে জটিলতা, মাতৃভাষা বাংলায় তুলনামূলক খারাপ করা এবং যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয় সামগ্রিকভাবে ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গতকাল রোববার প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, আট বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৫ দশমিক ৭৪। এবার পৌনে নয় লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন পৌনে ছয় লাখ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৪ হাজার ৭২১, যা গতবারের চেয়ে ২৩ হাজার ৬৮ জন কম। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৭৮৯।
তথ্যপ্রযুক্তিতে হোঁচট: এ বছর থেকে ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু হয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি। কিন্তু প্রথমবারই ফল খারাপ হয়েছে। ছয়টি বাধ্যতামূলক বিষয়ের পাসের হার উল্লেখ করা হলেও নতুন চালু হওয়া এ বিষয়টিতে পাসের চিত্র তুলে ধরা হয়নি।
তবে আটটি শিক্ষা বোর্ডে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে জানা যায়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে পাসের হার সন্তোষজনক নয়। এর কারণ সম্পর্কে জানা যায়, এ বিষয়টি চালু হলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শিক্ষা-উপকরণ নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ বিষয়ে শিক্ষকের অভাব প্রকট।
বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়টির কারণে সারা দেশে গড় পাসের হার ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে। ঢাকা বোর্ডে এ বিষয়ে প্রায় ৮৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৫ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে পাস করেছেন।
শিক্ষকদের অনেকেই বলছেন, পৌরনীতিতে ৯৫, বাংলায় ৯৩, রসায়নে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও তথ্যপ্রযুক্তিতে পাসের হার তুলনামূলক কম, যার কিছুটা প্রভাব পড়েছে গড় পাসের হারের ওপর।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ধারণা, গ্রামে শিক্ষক-সংকট বেশি, এ জন্য সরকারকে এখন থেকে বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। কারণ, গ্রামের ছেলেমেয়েরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে বৈষম্য আরও বাড়বে।’
ইংরেজির ফল ভালো নয়: পাসের হার কমে যাওয়ার মূল নিয়ামক হয়ে ওঠে ইংরেজি। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বাদে ছয় বোর্ডের ফল গতবারের চেয়ে খারাপ। শুধু যশোর বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। গতবার ওই বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ছিল ৬৫, এবার ৫০ দশমিক ৯১ শতাংশ।
ঢাকা বোর্ডেও ইংরেজিতে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এই বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী বেশি থাকায় সার্বিক ফলে বেশি প্রভাব পড়েছে। ইংরেজিতে পাস করেছে ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কুমিল্লায় ইংরেজিতে পাসের হার কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। রাজশাহী, সিলেট ও দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার কমেছে ৩ শতাংশ পর্যন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিজের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজি বুঝতেই পারে না, লেখা বা বলা তো দূরের কথা। এর মধ্যে সৃজনশীল হওয়ায় অনেক শিক্ষকও ইংরেজি পড়ানোর বিষয়টি ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেননি।
প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব থাকার কথা উল্লেখ করে মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ জন্য প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকর্ষণ করতে হলে বেতন-ভাতা ও সম্মান বাড়াতে হবে।
মাতৃভাষায় খারাপ ফল: ফল খারাপের পেছনে মাতৃভাষা বাংলায় পরীক্ষার্থীদের খারাপ করাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা। বাংলায় গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করা ছাড়াও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এ বিষয়টি। আবার জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের অনেকেই বাংলায় এ প্লাস (৮০ নম্বরের ওপরে) পাননি।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলা বিষয়ে প্রায় প্রতিটি বোর্ডের ফল গতবারের চেয়ে খারাপ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডে বাংলায় পাসের হার প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। এই বোর্ডে বাংলা বিষয়ে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। গতবার ছিল ৯৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ বিষয়ে রাজশাহী বোর্ডে প্রায় ৩, যশোরে ৪ ও বরিশাল বোর্ডে ৫ শতাংশ পাসের হার কমেছে।
ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেমেয়েরা বাংলা ও ইংরেজিতে খারাপ করায় তিনি দুঃখ পেয়েছেন।
সৃজনশীলের আলাদা প্রশ্নপত্রের প্রভাব: এবার ১২টি বিষয়ের ২৩টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সৃজনশীল বিষয়গুলোর প্রশ্নপত্র সব বোর্ডে অভিন্ন হতো। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবার প্রথমবারের মতো বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছে। আগে আন্তবোর্ড মিলে চার সেট প্রশ্ন করত। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে এক সেট বাছাই করে পরীক্ষা নেওয়া হতো। এবার প্রতিটি বোর্ডের জন্য চারটি করে মোট ৩২ সেট প্রশ্নপত্র করা হয়। সেখান থেকে লটারি করে বোর্ডগুলো আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক বছর ধরে সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, সে বিষয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার হঠাৎ করে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা কিছুটা সমস্যায় পড়ে। সার্বিক ফল খারাপের জন্য এটাও বড় কারণ।
যশোরের প্রভাব সার্বিক ফলে: আট বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৪ হলেও যশোরে পাসের হার মাত্র ৪৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই বোর্ডে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে, যা সার্বিক ফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই বোর্ড ছাড়া বাকি সাত বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ শতাংশ।
এই বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, এটা ঠিক যে এই বোর্ডের খারাপ ফলের কারণে গড় হারে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু এই বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র ৫০ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর কারণ, এই বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র খুব কঠিন হয়েছিল।
প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ার প্রভাব: গতবার ইংরেজি, পদার্থ, রসায়ন ও গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। গতবার ইংরেজিতে পাসের হারও অনেক বেশি ছিল। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আগের বছরগুলোর তুলনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বড় ধরনের অভিযোগ ছিল না। পরীক্ষার পাস-ফেলের ক্ষেত্রে এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।
অধ্যাপক কায়কোবাদ বলেন, পাস-ফেল কিছু বেশি বা কম হতে পারে। কিন্তু এবার যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, সেটি ইতিবাচক দিক।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র এবার ফাঁস হয়নি, ভবিষ্যতেও যাতে না হয় সেই চেষ্টা থাকবে। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সহিংসতা ছিল, তবে তা পরীক্ষার আগে: ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে বিরোধী দলের জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতাকে দায়ী করেন। কিন্তু ১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের এসব কর্মকাণ্ড থেমে যায়।
হইচই কমেছে, প্রযুক্তির জয়জয়কার: ফল প্রকাশে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, সময়মতো ফল প্রকাশ ও সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা উঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তরের সময় শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান শিক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল তুলে ধরার পাশাপাশি এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা নেই: সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ না করার পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। তবে রাজধানীর ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাকছুদউদ্দিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত তিনি সমর্থন করেন না। বিষয়টিকে তিনি চোরের ভয়ে ভালো কাজ করা বন্ধের সঙ্গে তুলনা করেন।
ঢাকা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী মনজুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, জিপিএ পদ্ধতি চালুর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করা।
এ বছর পরীক্ষার কাগজবিহীন ফল প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ই-মেইলের মাধ্যমে ফল পৌঁছে গেছে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন, পরীক্ষাকেন্দ্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তরের সময় বিকল্প হিসেবে এক সেট ছাপা ফলাফল থাকলেও তাঁর কাছে ডিজিটাল ফল হস্তান্তর করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী আইপ্যাডে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ফল দেখেছেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোও ই-মেইলের মাধ্যমে ফল পাঠিয়েছে।
৮ বোর্ডে পাসের হার
রাজশাহী ৭৭.৫৪
সিলেট ৭৪.৫৭
দিনাজপুর ৭০.৪৩
বরিশাল ৭০.০৬
ঢাকা ৬৮.১৬
চট্টগ্রাম ৬৩.৪৯
কুমিল্লা ৫৯.৮
যশোর ৪৬.৪৫
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 12
(26)
- গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের একটি একাডেমিক জবাব- প্রস...
- পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য
- কে এই সুন্দর পিচাই?
- নতুন নতুন সংকটে গ্রামীণ ব্যাংক by ফখরুল ইসলাম ও জা...
- ফুকুশিমার পর প্রথম পারমাণবিক চুল্লি চালু জাপানের
- লক্ষণ তো দেখতেই পাচ্ছি কিন্তু কারণটা যেন না ভুলি b...
- শাহজালাল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে পণ্য ছিনতাই by ক...
- সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০৬ -বাঘ গণনা জরিপ ২০...
- মনে হচ্ছে তিনি আজ এখানে আমার সঙ্গে আছেন -সালমা সোব...
- সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ছয়জনকে আগের রাতেই আট...
- ৫ কারণে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল খারাপ by শরি...
- বিচারহীনতায় বাড়ছে শিশু নির্যাতন
- আতঙ্কে দিন কাটছে ব্লগারদের
- মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কি: বাস্তবায়নের পথ খু...
- মরা মৌমাছি দিয়ে ‘ওষুধ’ তৈরি!
- এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আনন্দে–উৎকণ্ঠায় স...
- নেতা কর্মীদের ‘খাই খাই’ ছাড়তে বললেন আশরাফ
- রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাস উধাও! by কমল জোহা খান
- খালেদার লন্ডন সফর সুখকর হবে না -যুক্তরাজ্য আ.লীগের...
- রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের ন...
- ‘মা তুমি শুধু কাঁদো কেন?’ by মানসুরা হোসাইন
- ‘যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক-কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশের যৌক্ত...
- নীলাদ্রি হত্যার তদন্তে অগ্রগতি নেই, কেউ গ্রেপ্তার ...
- কামরুলকে পলাতক দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগপত্র
- প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা আবার পুলিশের কাছে
- আজও প্রথম আলোতে আগুন, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভা
-
▼
Aug 12
(26)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










