Friday, October 25, 2019
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিরাই বাংলাদেশিদের ক্ষতির কারণ! by মিজানুর রহমান

তবে পড়াশোনা ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে সাধারণ শ্রমিক থেকে ক্রমে দক্ষ শ্রমিকে রূপান্তর, ছোট, বড় ব্যবসা এবং পেশাদার বাংলাদেশিদের সংখ্যাও সামপ্রতিক সময়ে বাড়ছে। বেশ ক’দিন অবস্থান, রাত-দিন খবরের সন্ধানে ঘুরাঘুরি, দেশি- বিদেশিদের সঙ্গে আড্ডা এমনকি স্থানীয় পুলিশের বয়ানেও শোনা গেল বাংলাদেশিদের প্রশংসা। সিঙ্গাপুর প্রাচ্যের একমাত্র নগরী যেখানে পুরোপুরি পশ্চিমা ফ্লেভার রয়েছে। এখানে রাত- দিন সমান। পার্থক্য শুধু একটাই রাত পৌনে ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মেজর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অর্থাৎ মেট্রোরেল বা এমআরটি এবং সিটি বাস আর রাত ১০টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ব্র্যান্ডের দোকান ও মেগা শপিংমলগুলো বন্ধ থাকে। বাকি সব খোলা।
এমনকি বাংলাদেশিদের বহুল পরিচিত মোস্তাফা সেন্টার, সেভেন ইলেভেনও। নিরাপদ এই নগরীতে বাংলাদেশি নারী-পুরুষ নির্বিঘ্নে দিন-রাত কাজ করেন। তাদের কাজের প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা। সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়ার অবস্থান অনেকটাই পোক্ত। ওই দেশগুলোর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্কও সুদৃঢ়। দেশগুলো তাদের শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যবসায়িক সম্পর্ককে টুলস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। দেনদরবারও করার সুযোগ রয়েছে। এ দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের প্রয়াস রয়েছে। তবে এই ক’বছরে পেশাদার কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ে ঢাকা-সিঙ্গাপুর রাজনৈতিক সম্পর্ক বেশ ভালো বোঝাপড়ার মধ্যেই রয়েছে। যা শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর সুযোগ অবারিত করেছে। সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকরা তা-ই বলছিলেন। তাদের মতে, এখানে থাকা বেশির ভাগ বাংলাদেশিরই সফলতার বা গর্ব করে বলার মতো গল্প আছে। কিন্তু কতিপয় দুষ্কৃতকারী, যারা দালাল বা ভায়া মিডিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে আসে, কিংবা এখানে আসার পর অবৈধ বা শটকাট পথে অর্থ উপার্জনকারী স্বজাতির কুমন্ত্রণায় বা নিজে থেকে উৎসাহী হয়ে বাঁকা পথে অর্থ কামাইয়ের জন্য অস্থির হয়ে যায়; তারাই সাধারণ বাংলাদেশি তথা বাংলাদেশের বিপদ ডেকে আনছেন। তাদের ধান্ধা বহুমুখী। চুরি, লুট, জুয়া-ক্যাসিনো, লটারি, নারী কেলেঙ্কারি, স্বর্ণ ও মোবাইল চোরাচালান, মানবপাচার, হুন্ডি-মানিলন্ডারিংসহ গুরুতর অপরাধের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার প্রবণতায় প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সাধারণ বাংলাদেশিদের। বাজে কাজে বাংলাদেশিরা ধরা পড়লেও কনস্যুলার একসেস বা আইনি সহায়তা দিতে হয় হাইকমিশনকে। জেনেভা কনভেনশন মতে হোস্ট কান্ট্রির তরফে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। তখন ওই দেশের তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়, কনভেনশনে এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একজন বাংলাদেশির জন্য হলেও পেশাদার কূটনীতিককে তখন ছোট হতে হয়। যা সিঙ্গাপুরের মতো আইনের শাসনের কঠোর বাস্তবায়নকারী দেশে বড়ই লজ্জার!
বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে কথা বলতে যেয়ে এক কূটনীতিক বারবার বলছিলেন, এখানে যে পরিমাণ বাংলাদেশি রয়েছেন বা ভ্রমণ করেন, সেই তুলনায় অপরাধে ধরা পড়া বাংলাদেশির সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য, পয়েন্ট এক পারসেন্ট হবে। কিন্তু সিঙ্গাপুর এমন একটা দেশ এখানে সংখ্যা বা ঘটনা বিবেচ্য নয়, ভাবমূর্তিই আসল। ৩ বছর আগে ৮ জন বাংলাদেশি উগ্রবাদের মতাদর্শে প্রভাবিত হতে যাচ্ছেন সন্দেহে ধরা পড়েছেন। তাদের বিচার হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ওই ঘটনার কাছাকাছি সময়ে জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে দু’জন সিঙ্গাপুরিয়ানেরও জেল হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খাতায় কেবল ওই ৮ ব্যক্তি নয়, বাংলাদেশের নামও রয়ে গেছে। এ জন্য বহুদিন ভুগতে হবে। সিঙ্গাপুরে শ্রমিকদের স্বার্থ দেখভাল কাজে যুক্ত বাংলাদেশি জিয়া বলছিলেন, এখানে বাংলাদেশিদের সুনাম নানা কারণে। প্রথমত এরা বিশ্বস্ত, দ্বিতীয়ত এরা কর্মঠ। তৃতীয়ত তারা সরল এবং কষ্ট করে স্কেল বা উন্নতির পথে থাকে। কিন্তু কতিপয় বিভ্রান্ত মানুষ ওই সরল কর্মঠ বিশ্বাসীদের প্রতিনিয়ত প্ররোচনায় ব্যস্ত। তাদের আহ্বানে সাড়া দিলেই সর্বনাশ। কিন্তু এর মধ্যে সবাই ঠিক থাকতে পারে না। তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। অপরাধে যুক্ত হয়ে যায়, কিন্তু আবার ভালো পথে ফিরেও আসে। তাছাড়া বড় অপরাধে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত হাতেগোনা ঘটনা। যা হেড লাইন হয় বছরে ২-৩ বার! তার মতে, সিঙ্গাপুর সরকার এবং পুলিশও জানে বেশির ভাগ বাংলাদেশি সরল, নির্ভেজাল। নিরিবিলি জীবন ও কর্ম করতে চায়। আর কতিপয় দুষ্ট রয়েছে, এরা অতিমাত্রায় চালাক। ঘুরেফিরে তারাই ধড়া পড়ে, শাস্তি পায়, ফের অপরাধে যুক্ত হয়।
আজব কাণ্ড ঘটিয়ে খবরের শিরোনাম: এক বাংলাদেশি আজব কাণ্ড ঘটিয়ে শিরোনাম হয়েছেন গত আগস্টে। স্টেইট টাইমসসহ গোটা পূর্ব এশিয়ায় খবরটি প্রচার পেয়েছে। হামিদ মাতব্বর চুন্নু নামের ওই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়াই গোপনে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর ছেড়ে যাচ্ছিলেন। তার এ কাজে সহযোগী ছিলেন দু’জন মালয়েশিয়ান নারী। একজন নারী প্রাইভেটকার ড্রাইভ করছিলেন, অন্যজন যাত্রী। চুন্নু ছিলেন গাড়ির পেছনের সিটের নিচে, পাপোশের নিচে। ইমিগ্রেশন পুলিশ গাড়িটি সার্চ করতে গিয়ে চুন্নুকে খুঁজে পায় এবং সহযোগীদেরসহ আটক করে। পাসপোর্ট দেখাতে না পারায় ইমিগ্রেশন আইনের ৩টি ধারায় চুন্নুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের বিদ্যমান আইনে চুন্নুর বিচার হবে এবং শাস্তি কার্যকর হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন- চুন্নুর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাতেনাতে প্রমাণিত। তার জেল-জরিমানা নিশ্চিত। দেখার বিষয় সিঙ্গাপুরের আইনে বৃটিশ আমল থেকে বেত্রাঘাতের শাস্তির যে বিধান চালু রয়েছে সেটা তার বেলায় হতে পারে। এমন কঠোর শাস্তি খুব কম বাংলাদেশি পেয়েছেন। সামপ্রতিককালে তো নয়ই। পুলিশি রেকর্ড মতে, ২৯ বছর বয়সী চুন্নু ২০১৬ সালে অপরাধের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তিনি এখানে নিষিদ্ধ ছিলেন।
ফলে অবৈধ পথেই তাকে দেশটিতে ঢুকতে হয়েছে এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। কাছাকাছি আরো দু’জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন এক সেক্সওয়ার্কারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। গেলানের একটি হোটেলের ওই ঘটনাটি পুলিশ অভিযুক্তদের ডরমিটরি থেকে আটক করেছে, তবে তাদের মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। আগস্টেই ইমিগ্রেশন আইন ভাঙার দায়ে ২ সিঙ্গাপুরের নাগরিকসহ ২২ বিদেশি আটক হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন।
হাইকমিশনার যা বললেন: এদিকে বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চাইলে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তুলনামূলক বাংলাদেশের জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজার স্থিতিশীল। কিছু ঘটনা বাদ দিলে বাংলাদেশিরা সুনামের সঙ্গেই আছেন। এখানে ন্যূনতম দৈনিক ১৮ ডলার মজুরিতে তারা কাজ করেন। তাদের ডরমিটরিতে থাকাসহ জীবনযাত্রা মোটামুটি ভালো। মিশনের প্রতিনিধিরা নিয়মিত ডরমিটরি ভিজিট করেন জানিয়ে হাইকমিশনার মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ পথে টাকা ইনকাম, রেমিটেন্স পাঠানো এবং সিঙ্গাপুরের আইন মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করা হয়। কাউন্সেলিং হয় নিয়মিত। কিন্তু তারপরেও দুষ্টরা অপরাধ করে গোটা দেশকে কালিমাযুক্ত করে দেয়। আমরা হই বিব্রত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

জি. ওয়েলস এর জবানবন্দির পূর্ণ তরজমা নিচে দেয়া হলো:
বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত।
তার সহিষ্ণুতা, বিচিত্রতা এবং সেইসঙ্গে একজন নারী সরকার প্রধান হিসেবে তার গর্ব রয়েছে। বিশ্বের অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত। উপরন্তু, অর্থনীতির উন্নয়নে এবং দারিদ্র্যবিমোচনে যথেষ্ট ভালো অগ্রগতি করেছে। এখন যদি গণতন্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন সম্ভব হয়, তাহলে তা তার উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষায় অবদান রাখবে।
গত এক দশকে বাংলাদেশ সমাজ স্বাস্থ্যবান এবং সমৃদ্ধতর হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটি তার এলডিসি মর্যাদা ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ৭ শতাংশের বেশি জিডিপির প্রবৃদ্ধি রক্ষা করতে পেরেছে এবং লিঙ্গ সাম্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। যদিও পাঁচজন বাংলাদেশির মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমায় বাস করেন। কিন্তু সেটাও গত দুই দশক আগে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর অবস্থা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য দারিদ্র্য হ্রাস নিশ্চিত করছে। এই সময়ে অন্য যেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে, তার মধ্যে রয়েছে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি ৫০ ভাগ বেড়ে যাওয়া।
আমরা অবশ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা অব্যাহতভাবে বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোকে কাজ করতে দেয়া, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে অবাধে তাদের মতামত প্রকাশ করতে দেয়া এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় রাজনৈতিকবিরোধী দলকে তার আইনসঙ্গত ভূমিকা রাখতে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। সংকুচিত হয়ে পড়া পরিবেশ এবং নিষেধাজ্ঞামূলক খসড়া নিয়ম-কানুনের কারণে সিভিল সোসাইটি হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এসবের কারণে এমনকি তারা রোহিঙ্গা সংকটের মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীসহ জনগণের কাছে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কারণে সাংবাদিকরা সেলফ সেন্সরশিপ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালে জারি করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের লক্ষ্য ছিল সাইবার অপরাধ দমন করা। কিন্তু এর মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা সংক্রান্ত কিছু বিষয় আইনানুগভাবে ক্রিমিনালাইজ বা দণ্ডনীয় করা হয়েছে।
এসবের অবসানে, আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের উন্নয়নে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে একটি উত্তম ভারসাম্য সৃষ্টি করার জন্য কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং শ্রমনীতি বিষয়ে নিয়মিতভাবে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করা। আমরা বাংলাদেশে নেতৃবৃন্দের প্রতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাতে আহ্বান জানিয়েছি। একাধিক সমমনা অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ কিংবা সুষ্ঠু হয়নি। এবং আমরা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি যে, ওইসব নির্বাচনের আগে সিভিল সোসাইটি, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি পুলিশি নিপীড়ন এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা একইসঙ্গে সারা বাংলাদেশে যাতে শাসনগত উন্নয়ন ঘটে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়েছি। মানবপাচার রোধে যাতে বিশেষ আদালত গঠিত হয়, সেজন্য আমরা বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে উৎসাহিত করেছি।
বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন চাহিদা মেটানোয় টানাপড়েন সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের আগস্টে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর জন্য দেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের তরফে স্বীকৃতির দাবি রাখে। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয়দানের ঘটনায় বাংলাদেশের ওপর একটি প্রকৃত প্রভাব সৃষ্টি করেছে। কারণ বাংলাদেশ সব থেকে ঘনবসতিপূর্ণ দেশের অন্যতম। বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গারা ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু করে দিয়েছে। এখন দুজন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর বিপরীতে একজন স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশের ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মতো স্থানীয়দের ভবিষ্যৎও হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। তবে এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের পাশে পুরোভাগে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৬৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। আমরা যেহেতু ইতিমধ্যেই জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিয়েছি এবং আমরা একইসঙ্গে মনে করি যে, রোহিঙ্গাদের জন্য আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বার্মাকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের অধিকার দেয়া এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌনঃপুনিকভাবে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতে একটি অনুকূল সমাধান হিসেবে সমর্থিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে তাদের পাঠানো স্থগিত রাখার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানাই।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস দমন, দ্বিমুখী বাণিজ্য, উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ সাত লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দানের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এক মুখ্য অংশীদার হিসেবেই গণ্য করে। আমরা গুরুত্ব আরোপ করতে চাই যে, গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি পূর্ণমাত্রায় শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় উন্নতি করা সম্ভব হলে সেটা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ইচ্ছাপূরণে সরাসরি অবদান রাখবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা: ছাত্রলীগ ও যুবলীগে ‘টর্চার সেল’ নিয়ে যে উদ্বেগ by আবুল কালাম আজাদ
![]() |
| টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো এমন অভিযোগে সম্প্রতি বুয়েটের ছাত্রাবাসের একাধিক কক্ষ সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। |
![]() |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলে টর্চার সেল নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। |
![]() |
| বুয়েটের হলে থাকা এক ছাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাকেও শিবির সন্দেহে রাতভর দফায় দফায় পেটানো হয়েছিল। কিন্তু ভয়ে আতঙ্কে বিষয়টি গোপন করেছেন |
![]() |
| র্যাবের অভিযানে যুবলীগ নেতাদের অফিসে ইলেকট্রিক শক দেয়ার মেশিন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। |
![]() |
| বুয়েটে নির্যাতনের কারণে নিহত আবরারের বিচার দাবিতে গ্রাফিতি |
![]() |
| শিপা হাফিজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ ২০২৫ সালে, সাড়ে ১২ কোটি মানুষের প্রাণহানি: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| পরমাণু বোমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট ধোঁয়া |
দৃশ্য-কল্প ১:
দৃশ্য-কল্প ২:
কেন ২০২৫?
আসলেই কি ২০২৫ সালে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে?
কারণ কাশ্মীর?
অন্য কোথাও?
যুদ্ধ হলে কী হবে?
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
'আমার হৃদয়টা আমার মা ও বোনদের সাথে সেই কবরেই মারা গেছে': গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তির ন্যায়বিচারের দাবি
![]() |
| ১৯৮৮ সালে সাদ্দাম হোসেন বাহিনীর অভিযানে নিজ স্বজনদের হারান তৈমুর আবদুল্লা আহমেদ |
সচেতনতা নেই
![]() |
| তোপজায়া সামরিক ঘাঁটি। |
কুর্দি গণহত্যা
![]() |
| গণকবরে নিহতদের পরিচয় অনুসন্ধান করা হচ্ছে। |
বদলে গিয়েছিল গ্রামের মেজাজ
![]() |
| ওই গণহত্যায় তৈমুর একমাত্র ব্যক্তি যিনি বেঁচে ফিরেছিলেন |
পৃথকীকরণ
![]() |
| একটি সামরিক ঘাঁটিতে তৈমুর কে তার বাবার থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। সেটাই ছিল তাদের শেষ দেখা। |
গোলাগুলি
![]() |
| গণকবর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। |
অব্যাহতি
![]() |
| একটি বেদুইন পরিবার নিজেদের জীবন বাজি রেখে তৈমুরকে আশ্রয় দিয়েছিল। |
সংগ্রাম
কবর সন্ধান করা
![]() |
| আনফাল অভিযানে সাদ্দাম বাহিনী কুর্দিদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল |
![]() |
| কর্মকর্তারা জানান নিহতের ব্যক্তিগত জিনিষপত্র লাশের পরিচয় সনাক্তে কাজে আসে |
অসম্ভব কাজ
![]() |
| দক্ষিণ ইরাকে একটি গণকবর তোলার কাজ চলছে |
বিচার
![]() |
| গণকবরে অসংখ্য মানুষের লাশ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমি এখন এক আফগান’: আগ্রাসন চালানোর পর আর দেশে ফিরে যাননি যে সোভিয়েত সেনা
সেভমা’র ভাষায়, ‘সোভিয়েত আর্মির নির্যাতন’ থেকে পালাবো বলে ঠিক করেছিলাম। সামনে কি আছে জানি না।
ঘাঁটি ত্যাগ করার পর ইউক্রেনের সেনাটি সোজা মুজাহিদিনদের তাবুতে গিয়ে ঢোকেন। তখন সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছিলো এসব মার্কিন সহায়তাপুষ্ট মুজাহিদ।
১৯৮৯ সালে সেনা প্রত্যাহারের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন নিশ্চিত ছিলো যে তাদের সব সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে এসেছে। কিন্তু না, সেভমার মতো আরো ২২৬ জন পক্ষত্যাগকারী সেনা পেছনে থেকে যায়।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক ধরে চলা ওই যুদ্ধে দুই মিলিয়ন আফগান নাগরিক ও ১৫,০০০ সোভিয়েত সেনা প্রাণ হারায়। সেভমা বেঁচে যান। শুধু তা-ই নয়, নিজের অতীত জীবন কবরস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এক সময়ের নাস্তিক, ইউক্রেনের দনবাস এলাকা থেকে আসা সেভমার বয়স এখন ৫৫ বছর। তিনি এখন নিজেকে নিক মোহাম্মদ নামে পরিচয় দেন। তিনি চার সন্তানের জনক, দারি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। এটি ফার্সি মিশ্রিত আফগান উপভাষা। তিনি এখন একনিষ্ঠ মুসলমান।
নিজের বাড়িতে ঘরের বাইরে একটি খাটিয়ায় বসে তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন তার দুই নাতী অদূরেই খেলা করছে এবং তার মনযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছিলো।
দারি ভাষাতে তিনি বলেন, আমি এখানেই জীবন সাজিয়ে নিয়েছি, আমি এখন আফগান।
তার ভাষায় কোই ইউক্রেনিয় টান নেই।
মাঝে মধ্যে ঠাণ্ডা বিয়ার ছাড়া এখানে আর কিছুর টান তিনি অনুভব করেন না বলে জানান।
![]() |
| সাবেক সোভিয়েত সেনা গেন্নেদি সেভমা এখন মোহাম্মদ আলী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এই দারিভাষী আফগান |
তিনি বলেন, তারা আমাকে ভাষা ও নামাজ শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক দেয়। আমার স্ত্রী হিসেবে বিবি হাওয়াকে ঠিক করে। তখন তার বয়স ছিলো ১৪ বছর।
তিনি সাত বছর মুজাহিদিন দলে ছিলেন। পরে লরি চালকের কাজ নেন।
তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে। তাই আর ইউক্রেনে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করেনি মোহাম্মদ। রুশ দূতাবাস থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ২,০০০ ডলার ভাতাও দেয়া হয়েছে কিন্তু তিনি রাজি হননি।
তিনি স্মরণ করেন, ‘আমার ভয় হয়েছিলো, তাছাড়া তখন আফগানিস্তানে আমার পরিবার ছিলো।’
আট বছর আগে তিনি তার আফগান পাসপোর্ট নিয়ে দনবাস ঘুরে এসেছেন। এখন তার আফগান সরকারের আইডি কার্ড বা ‘তাসকিরা’ রয়েছে। সেটাই ছিলো তার প্রথম ও শেষ যাওয়া।
নিক মোহাম্মদ বলেন, আমার পিতামাতা গত হয়েছে। আমি আমার ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করি। আবেগঘন পরিবেশ ছিলো সেটা। আমরা জড়াজড়ি করে কান্নাকাটি করেছিলাম।
মোহাম্মদ দুই সপ্তাহ পর আফগানিস্তানে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। তাদেরকে সফরের ছবি দেখান, সন্তানদের কাছে গল্প বলেন। তিনি আর ইউক্রেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তবে মাঝে মধ্যে টিভি চ্যানেল ঘুরিয়ে ইউক্রেনের সংবাদ জানার চেষ্টা করেন।
২০১৪ সালে দনবাসে ইউক্রেনিয়ান বাহিনী ও সোভিয়েতপন্থী মিলিশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ তাকে ব্যথিত করে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর কখনো ইউক্রেন ফিরবেন না।
মোহাম্মদের ছেলে ফাইজালের বয়স ২৬ বছর। তার ইউক্রেন দেখার সখ থাকলেও অনেক দূরের পথ। তাছাড়া সে ইউক্রেনিয় শব্দও তেমন বোঝে না।
কন্দুজের একটি বড় মহল্লায় এই পরিবারের বাস। মাসে ৭,০০০ আফগানি ভাড়া গুণতে হয়। মোহাম্মদ এখন বাড়ির আঙ্গিনায় বসে বেড়ে ওঠা বাগান পরিচর্যা করে সময় কাটান। এখনো বিস্ফোরণের শব্দ অথবা আমেরিকান, আফগান বিমান হামলার শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
দশকের পর দশক যুদ্ধে এই লোকটির উপর অনেক ধকল গেছে। প্রকৃত বয়সের চেয়ে তাকে অনেক বুড়ো দেখায়। তালেবানরা কাছাকাছি চলে আসায় কন্দুজে যুদ্ধের ঘনঘটা বেড়ে গেছে। ২০১৫ সালে দুই সপ্তাহের জন্য নগরটি দখল করেছিলো তালেবান। পরে তারা চলে যায়।
![]() |
| পুরনো ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় ধ্বংসপ্রাপ্ত সোভিয়েত ট্যাংক |
তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে মোহাম্মদ বলেন, আমি এখানে একটি যুদ্ধে লড়তে এসেছিলাম কিন্তু এখন যুদ্ধই আমার সঙ্গে লড়াই করছে।
থেকে যাওয়া সোভিয়েত সেনাদের মধ্যে আরেক ইউক্রেনিয় হাজি আহমেদ ছাড়া আর কাউকে মোহাম্মদ চেনেন না বলে জানিয়েছেন। মোহাম্মদের মতো একই বছর সেও পালায়। এখন সে ট্রাক চালিয়ে কন্দুজে মালামাল আনা নেয়ার কাজ করে।
আমাদের দেখা হলে আমরা দারিতেই বাতচিত করি, বললেন মোহাম্মদ। আহমেদের আসল নাম ছিলো আলেক্সান্ডার উরিভিচ। তিনিও পালিয়ে মুজাহিদিন দলে যোগ দেন। আহমেদ কখনো আর ইউক্রেন যাননি। তার সফর করার মতো সামর্থ্য নেই বলে জানান। এর বদলে তিনি টাকা জমিয়ে ছয় বছর আগে হজ্ব করে এসেছেন। আরেকবার হজ্বে যাওয়ার টাকা জমাচ্ছেন তিনি। এবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার আশা করছেন। তিনি যেখানে থাকেন সেই হযরত সুলতান গ্রামটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। তবে তালেবানরা তাকে সম্মান করে বলে আহমেদ জানিয়েছেন।
মোহাম্মদের মতো আহমদেকে একটি রাশিয়ান প্রতিনিধি দল ইউক্রেনে ফিরে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলো। তবে তিনি ওই অর্থ অন্য কাজে খরচ করেন।
আহমেদ জানান যে ইউক্রেন ফিরে যাওয়ার মতো তেমন কোন কারণ তার নেই। তার পিতামাতা ও ভাইবোন গত হয়েছেন। তিনিও অন্য আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি।
নতুন যাত্রী নিয়ে পরের গন্তব্যে রওয়ানা হওয়ার আগে আহমেদ বলেন, আমি ইউক্রেনকে মিস করবো না। আফগানিস্তানই আমার বাড়ি, এটাই আমার সংস্কৃতি। এখানে আমি খারাপ নেই, আমি সুখী।
![]() |
| আলেক্সান্ডার উরিভিচ এখন হাজি আহমেদ (৫৪), সাবেক এ সোভিয়েত সেনা এখন কন্দুজ শহরে ট্যাক্সি চালান |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দৃষ্টান্তমূলক রায় by নাজমুল হক শামীম

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের শাস্তির আওতায় আনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তারা আপিল করতে পারবেন। গত ৬ই এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত মাসের মাথায় গতকাল রায় ঘোষণার দিনে জনাকীর্ণ ছিল আদালত প্রাঙ্গণ। ভিকটিম ও আসামিদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষ আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন রায় শুনতে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে ফেনী জেলা কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মামলার ১৬ আসামিকে আদালতে আনা হয়। আদালতে আসামিদের তোলার সময় হাসতে হাসতে বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। ১১টা ৭ মিনিটে বিচারক আদালতে প্রবেশ করেন। এ সময় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ চলার সময় উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ, পিবিআই, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১১টা ৯ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। মূল রায়ের সারসংক্ষেপ (তিনপৃষ্ঠা) পড়ে শোনান তিনি। রায় পড়তে বিচারক সময় নেন ১২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো: সানাগাজীর চরকৃষ্ণজয়ের কলিম উল্যাহ সওদাগার বাড়ির কলিম উল্যার ছেলে এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মো. আহসান উল্যাহর ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রদলের কথিত সভাপতি নুর উদ্দিন (২০), চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজারে এলাকার নবাব আলী টেন্ডল বাড়ির মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রলীগের কথিক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সদ্য সাবেক) ও চরগণেশ গ্রামের পাণ্ডব বাড়ির আহসান উল্যাহ ছেলে মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০), উপজেলার পূর্ব তুলাতলী গ্রামের খায়েজ আহাম্মদ মোল্লা বাড়ির আবুল বাশারের সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সৈয়দ সালেহ আহাম্মদের বাড়ির রহমত উল্যাহ ছেলে জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), সফরপুর গ্রামের খান বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও উত্তর চারচান্দিয়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির ইবাদুল হকের ছেলে আবছার উদ্দিন (৩৩), চরগণেশ গ্রামের আজিজ বিডিআর বাড়ির আব্দুল আজিজের (পালক বাবা) মেয়ে কামরুন নাহার মনি (১৯), লক্ষ্মীপুর গ্রামের সফর আলী সর্দার বাড়ির শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের সোজা মিয়া চৌকিদার বাড়ির আব্দুল শুক্কুরের ছেলে আব্দুর রহিম শরীফ (২০), চরগণেশ গ্রামের হাজি ইমান আলীর বাড়ি ওরফে মালশা বাড়ির জামাল উদ্দিন জামালের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), চরগণেশ গ্রামের এনামুল হকের নতুন বাড়ির এনামুল হক ওরফে মফিজুল হকের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), তুলাতলী গ্রামের আলী জমাদ্দার বাড়ির সফি উল্যাহ ছেলে মোহাম্মদ শামীম (২০), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৫৫), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বোর্ড অফিস সংলগ্ন রুহুল আমিনের নতুন বাড়ির মো. রুহুল আমিনের ছেলে মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।
আদালতের বক্তব্য: রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘সোনাগাজী ইসলিামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারেরও অধিক ছাত্র-ছাত্রী তথায় অধ্যয়নরত। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকোজ্জ্বল ভূমিকায় কালিমালিপ্তকারী এ ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহার রাফি তেজদীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতিমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ অমরত্ব চিরকালে অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য। এরই প্রেক্ষিতে বিচার্য বিষয়ত্রয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক, আসামিবৃন্দকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অত্র মামলায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফিকে বিগত ০৬/০৪/২০১৯ সকাল ৯.৪৫-৯.৫০ মিনিটের মধ্যে ফেনীস্থ সোনাগাজী ইসলিামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ৩য় তলার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত/০৩) এর ৪ (১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সকল আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রায়ে আরো বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা ও জরিমানার অর্থ আইন মোতাবেক আদায় করে ভিকটিমের বাবা-মা বরাবরে প্রদান করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফেনীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। মামলার জব্দকৃত সকল আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আলামত হিসেবে জব্দকৃত জেলখানার দর্শনার্থী রেজিস্ট্রার ফেনী জেলখানায় প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। জব্দকৃত আলামত ছাই বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হোক। মৃত্যুদণ্ডাদেশের অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে সত্বর প্রেরণ কার নির্দেশ দেয়া হয়। আসামিদের সাজা পরোয়ানা ইস্যু করার পাশাপাশি রায়ের অনুলিপি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেল সুপারকে প্রেরণ করার জন্য বলা হয়েছে।
রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া: রায় ঘোষণা শেষে ১১টা ৩০ মিনিট থেকে একে একে আসামিদের এজলাস থেকে বের করা হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে আসামিরা। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে। ১১টা ৪৫ মিনিট সকল আসামিকে প্রিজনভ্যানে তুলে কারাগারে দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রিজনভ্যান। এ সময় ভ্যানের দু’পাশে আসামিদের স্বজনরা কথা বলার চেষ্টা করে। অনেক স্বজনকে ভ্যানের পাশে ঝুলতেও দেখা যায়। একপর্যায়ে প্রিজনভ্যানটি চলা শুরু করলে আসামির স্বজনরা ভ্যানের পেছন পেছন ছুটতে থাকে।
রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি ও যুক্তিতর্কের বিজ্ঞ আইনজীবী আকরামুজ্জামন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামিরা নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সবমিলিয়ে আসামিদের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় সাজা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোশ প্রকাশ করছে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু রায়কে দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে বলেন, ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।
নুসরাতের ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আসামিরা আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে আমাদের হুমকি দিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। অতীতের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সেই দাবিও জানান নোমান। এদিকে রায় ঘোষণার সময় কিংবা রায় ঘোষণার পরও আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খাঁন নয়নকে।
আসামিদের কার কী ভূমিকা :
১. সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ না নিলেও, তার চেয়েও বেশি করেছেন। নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, তাতে কাজ না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখানো এবং পরে নুসরাতকে হত্যার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।
২. নূর উদ্দিন নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার আগে রেকি করা ছিল তার দায়িত্ব। আর ভবনের ছাদে আগুন দেয়ার সময় নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকি করা ছিল তার দায়িত্ব।
৩. শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। সেজন্য ছিল তার ক্ষোভ। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে কার কী ভূমিকা হবে সেই পরিকল্পনা সাজান শামীম। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তার বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সময় তিনি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন ঢালতে ব্যবহৃত গ্লাসটি উদ্ধার করে পিবিআই।
৪. সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা গ্রেপ্তার হলে ২৮শে মার্চ তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন। বোরখা ও কেরোসিন কেনার জন্য তিনিই ১০ হাজার টাকা দেন। পিবিআই বলছে, পুরো ঘটনার আগাগোড়াই তিনি জানতেন।
৫. সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের বোরখা ও হাতমোজা পরে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় জোবায়ের। নুসরাতের ওড়না ছিঁড়ে দুই ভাগ করে পা বাঁধা এবং কেরোসিন ঢালার পর ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরানোর কাজটি সে করে।
৬. জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ বোরখা পরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। পা বাঁধা হলে পলিথিন থেকে কেরোসিন গ্লাসে ঢেলে সে নুসরাতের গায়ে ছিটিয়ে দেয়। সব কাজ শেষে বোরখা খুলে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়।
৭. হাফেজ আব্দুল কাদের নুসরাতের ভাই নোমানের বন্ধু কাদের সেদিন মাদ্রাসার মূল ফটকে পাহারায় ছিল। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়া হলে দুই মিনিট পরে সে ফোন করে নোমানকে বলে, তার বোন গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
৮. আবছার উদ্দিন ঘটনার সময় গেটে পাহারায় ছিল। মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়াও তার দায়িত্ব ছিল।
৯. কামরুন নাহার মনি আসামি শামীমের দূর সম্পর্কের ভাগ্নি। মনি ২ হাজার টাকা নিয়ে দুটি বোরকা ও হাতমোজা কেনে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। ছাদের ওপর নুসরাতের হাত বাঁধা হলে তাকে শুইয়ে ফেলে বুকের ওপর চেপে ধরে মনি। আগুন দেয়া হলে নিচে নেমে এসে আলিম পরীক্ষায় বসে।
১০. উম্মে সুলতানা ওরফে পপি অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগ্নি। সেদিন নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে যায়। পরে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। তাতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের ওড়না দিয়ে তার হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলে। নুসরাতকে ছাদে শুইয়ে চেপে ধরেন পা। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়া হয়ে গেলে পপিও নিচে নেমে পরীক্ষার হলে বসে।
১১. আবদুর রহিম শরীফ ঘটনার সময় মাদ্রাসার ফটকে পাহারায় ছিল। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।
১২. ইফতেখার উদ্দিন রানা মাদ্রাসার মূল গেটের পাশে পাহারায় ছিল।
১৩. ইমরান হোসেন ওরফে মামুন মাদ্রাসার মূল গেটের পাশে পাহারায় ছিলো।
১৪. মোহাম্মদ শামীম সাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিল।
১৫. মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। রুহুল আমীন শুরু থেকেই এ হত্যা পরিকল্পনায় ছিল। ঘটনার পর পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে। ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টাতেও তার ভূমিকা ছিল।
১৬. মহিউদ্দিন শাকিল ঘটনার সময় সাইক্লোন সেন্টারের সিঁড়ির সামনে পাহারায় ছিল।
সেদিন যা ঘটেছিল: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার হলে তার অনুগত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। ১লা এপ্রিল শাহাদাত হোসেন শামীম, নূরু উদ্দিন, ইমরান, হাফেজ আবদুল কাদের ও রানা জেলখানায় গিয়ে সিরাজের সঙ্গে দেখা করে। তখনই অধ্যক্ষ সিরাজ তার মুক্তির চেষ্টা চালাতে এবং মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে বলে।
হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরও মামলা না তোলায় আসামিরা আলোচনা করে ‘প্রয়োজনে যে কোনো কিছু’ করার পরিকল্পনা করে। কাউন্সিলর মাকসুদ এ কাজে শাহাদাত হোসেনকে ১০ হাজার টাকা দেয়। এর মধ্যে দুই হাজার টাকা দিয়ে মনি দুটি বোরকা ও চার জোড়া হাতমোজা কেনে।
৩রা এপ্রিল শামীম, নূর উদ্দিন, আবদুল কাদেরসহ কয়েকজন কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে দেখা করে। সিরাজ তখন নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রয়োজনে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর নির্দেশ দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩রা এপ্রিল বিকালে মাদ্রাসার পাশে টিনশেড কক্ষে শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর উদ্দিন, জোবায়ের, জাবেদ, পপি ও মনিসহ কয়েকজন বৈঠক করে। সেখানে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
৪ঠা এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার ছাত্র হোস্টেলে বসে আবারো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে আসামিরা। পরদিন ভূঁইয়া বাজার থেকে এক লিটার কেরোসিন কিনে নিজের কাছে রেখে দেয় শাহাদাত হোসেন শামীম।
৬ই এপ্রিল সকাল ৭টার পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে চলে যায় শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর উদ্দিন ও হাফেজ আবদুল কাদের। সোয়া ৯টার মধ্যে আসামিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী যার যার অবস্থানে চলে যায়। শাহাদাত হোসেন শামীম পলিথিনে করে আনা কেরোসিন অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে থেকে একটি কাচের গ্লাস নিয়ে ছাদের বাথরুমের পাশে রেখে দেয়। মনির কেনা দুটি এবং বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটি বোরকা এবং চার জোড়া হাতমোজা নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় রাখা হয়। শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের সাড়ে ৯টার দিকে বোরকা ও হাতমোজা পরে তৃতীয় তলায় অবস্থান নেয়। নুসরাত পরীক্ষা দিতে এলে পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি তাকে মিথ্যা কথা বলে ছাদে নিয়ে আসে। নুসরাত ছাদে যাওয়ার সময় পপি তাকে ‘হুজুরের’ বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত তাতে রাজি না হয়ে ছাদে উঠে যায়। মনি, শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের, ও জাবেদও তখন নুসরাতের পিছু পিছু ছাদে যায়।
ছাদে তারা নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় এবং কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে। নুসরাত স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম বাঁ হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরে এবং ডান হাত দিয়ে নুসরাতের হাত পেছনে নিয়ে আসে। উম্মে সুলতানা পপি তখন নুসরাতের ওড়না খুলে জোবায়েরকে দেন। জোবায়ের ওড়না দুই ভাগ করে ফেলে। পপি ও মনি এক অংশ দিয়ে নুসরাতের হাত পেছন দিকে বেঁধে ফেলে। অন্য অংশ দিয়ে নুসরাতের পা বেঁধে ফেলে জোবায়ের। জাবেদ পায়ে গিঁট দেয়। সবাই মিলে নুসরাতকে ছাদের ওপর শুইয়ে ফেলে। শাহাদাত তখন নুসরাতের মুখ ও গলা চেপে রাখে। নুসরাতের বুকের ওপর চাপ দিয়ে ধরে মনি। পপি ও জোবায়ের পা চেপে ধরে। জাবেদ বাথরুমে লুকানো গ্লাস নিয়ে এসে কেরোসিন ঢেলে দেয় নুসরাতের গায়ে। শাহাদাতের ইশারায় জোবায়ের ম্যাচ জ্বেলে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরানোর পর প্রথমে ছাদ থেকে নামে জোবায়ের। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মনি ‘ওরফে চম্পা/শম্পা’ বলে ডেকে পপিকে নিচে নিয়ে যায়। তারা নিচে নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। জাবেদ ও শাহাদাত হোসেন শামীম সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় গিয়ে বোরকা খুলে ফেলে। তারপর জাবেদও পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। শাহাদাত হোসেন শামীম তার বোরকা ফেলে দেয় মাদ্রাসার পুকুরে। জোবায়ের মাদ্রাসার মূল গেট দিয়ে বের হয়ে যায় এবং বোরকা ও হাতমোজা ফেলে দেয় সোনাগাজী কলেজের ডাঙ্গি খালে।
এদিকে অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জীবন বাঁচাতে দৌড়ে নিচে নেমে এলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ও নাইটগার্ড তার গায়ের আগুন নেভায়। নূর উদ্দিনও ওই সময় নুসরাতের গায়ে পানি দেয়। আর হাফেজ আবদুল কাদের ফোন করে নুসরাতের ভাই নোমানকে বলে, তার বোন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন নুসরাত। সেখানেও গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনা তিনি একইভাবে বর্ণনা করেন বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
নুসরাত হত্যা হামলার কার্যক্রম: গত ৮ই এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়। এর আগে গত ৭ই এপ্রিল দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি (ডায়িং ডিক্লেরেশন) দেন। নুসরাত হত্যার মামলাটি তদন্ত প্রথমে করছিলেন সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন। কিন্তু ওই থানার ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সময় গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তদন্তভার আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। ১০ই এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার পিবিআই গ্রহণ করে। ঘটনার পর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ও দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মামলায় এজাহার নামীয় ৮ জনসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই মামলা তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার ৩৩ কার্যদিবস শেষে (মোট ৫০ দিনের মধ্যে) গত ২৯শে মে ফেনীর সিনিয়র বিচারিক হাকিম (আমলী আদালত সোনাগাজী) মো. জাকির হোসেনের আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম। ৮০৮ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ৯২ জনকে। এদের মধ্যে কার্যবিধির ১৬১ ধারায় ৬৯ জনকে সাক্ষী করা হয়। ৭ জন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিমূলক সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রের সারমর্ম বিচারকের কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, হত্যার সময়কালীন ঘটনার ডিজিটাল স্কেচও আদালতে তুলে ধরেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পিবিআই অভিযোগপত্রে ১৬ আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছিল।
গত ৩০শে মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১০ই জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চার্জগঠনের জন্য ২০শে জুন ধার্য করে। অভিযোগপত্রে নাম না থাকায় ওই সময় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। নুসরাত হত্যা মামলার ৭২ দিনের মধ্যে গত ২০শে জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭শে জুন নির্ধারণ করে। গত ২৭শে জুন মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য নেয়ার মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর টানা ৩৭ কর্মদিবসে নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে বাদীসহ ৮৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে। গত ২৭শে আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হলে গত ১১ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ ও বাদী পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করে। এদিকে, অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি নেয়ার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে আলাদা মামলা হয়েছে। এ মামলায় তিনি কারাগারে আছেন। এ ছাড়া ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ আরো দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বই পড়া কি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে?
![]() |
| চিন্তায় শৃঙ্খলা আনতে সাহায্য করে বই |
মানসিক চাপ কমিয়ে পুনর্জীবিত করে তোলে:
পালিয়ে যাওয়া
অগোছালো জীবন শৃঙ্খলায় আনুন
হতাশ মনকে প্রবোধ দেয়
পুনরাবৃত্তির আনন্দ
![]() |
| বই আপনার মেজাজ ঠিক করতে আর মনের ব্যাটারি রিচার্জে সাহায্য করে। |
তরুণদের মনকে সহায়তা করছে
![]() |
| বিবিসির সঙ্গে কয়েকজন লেখক |
![]() |
| লেখালেখি আপনাকে আবেগের রোলারকোস্টারে ঘোরাতে থাকে। |
![]() |
| কিশোর কিশোরীরা সংকোচের কারণে যেসব কথা সবার সঙ্গে বলতে পারেনা সেটা তারা বইয়ের মাধ্যমে পড়ে নিতে পারে নিঃসংকোচে। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
October
(602)
-
▼
Oct 25
(17)
- সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিরাই বাংলাদেশিদের ক্ষতির কারণ! ...
- বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরা...
- বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা: ছাত্রলীগ ও যুবলীগে ‘টর্চ...
- পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ ২০২৫ সালে, স...
- 'আমার হৃদয়টা আমার মা ও বোনদের সাথে সেই কবরেই মারা...
- ‘আমি এখন এক আফগান’: আগ্রাসন চালানোর পর আর দেশে ফির...
- দৃষ্টান্তমূলক রায় by নাজমুল হক শামীম
- বই পড়া কি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে?
- ঐতিহ্যবাহী সোহাতা আদি জামে মসজিদ by মো. মোশারফ হোসেন
- মানুষের নতুন প্রজাতির সন্ধান
- অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান...
- ওমর বশির: যেভাবে সুদানের ৩০ বছরের শাসকের উত্থান ও পতন
- বঙ্গবাজারের বহুভাষী গাইডদের দিন কি ফুরিয়ে আসছে? by...
- রোহিঙ্গা হলো এশিয়ান সঙ্কট by বেট্রিস লাউ
- ডাকটিকিটের কূটনীতি by শফিক রহমান
- অবশেষে মঙ্গল গ্রহে মিলল পানির সন্ধান!
- ত্রিশ বছর ঘুরে বেড়ানো ববিতাকে নিয়ে কৌতূহল by এবিএম...
-
▼
Oct 25
(17)
-
▼
October
(602)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

























