Showing posts with label নেত্রকোণা. Show all posts
Showing posts with label নেত্রকোণা. Show all posts

Wednesday, April 30, 2025

বন্ধুকে ছাত্রলীগ সাজিয়ে পুলিশে দিয়ে তার প্রেমিকাকে ধর্ষণ ছাত্রদল নেতার!

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বন্ধুর হবু বউকে (১৭) ধর্ষণের সময় ফয়সাল আহমেদ দুর্জয় (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ দুর্জয় দূর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাতে দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিরিশিরি এলাকার এক রিসোর্ট থেকে অনৈতিক কাজে (ধর্ষণ) লিপ্ত থাকা অবস্থায় দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রিসোর্টে দায়িত্বরত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর হবু স্বামী ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মো. মুন্না মিয়া ও ভুক্তভোগী সবাই থানা হেফাজতে আছেন।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগীর হবু স্বামী মুন্না মিয়া দূর্গাপুর ঘুরতে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলে বিরিশিরি রিসোর্টে রুম ভাড়া নিয়ে রাত্রযাপন করেন। মঙ্গলবার দুপুরে মুন্না ব্যক্তিগত কাজে শহরে যান। কিছুক্ষণ পর দরজায় শব্দ পেয়ে ভুক্তভোগী তার স্বামী এসেছেন ভেবে দরজা খুলেন। তখন তিনি ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়কে দেখতে পান। দুর্জয় তার হবু স্বামী মুন্নার বন্ধু হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিচিত ছিল। পরে কথা বলার জন্য তখন দুর্জয় রুমের ভেতরে যান। কথা বলার এক পর্যায়ে দুর্জয় তাকে ঝাপটে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ধর্ষণ ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে দুর্জয়কে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অনিক মাহবুব জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। 

অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত

Saturday, January 11, 2025

এক দিন কাজ না পেলে চুলায় ভাত বসে না তাঁদের by পল্লব চক্রবর্তী

আজ শুক্রবার সকাল আটটা। শীতের সকালে ঘন কুয়াশা। পূর্ব আকাশে সূর্য হালকা উঁকি দিচ্ছে। কাজের সন্ধানে জড়ো হচ্ছেন মানুষ। কাজ পেলে এসব মানুষের উনুন জ্বলবে, জুটবে ভাত। না পেলে পরিবার নিয়ে উপোস থাকতে হবে তাঁদের। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শ্রমিকের সংখ্যাও। কিন্তু শ্রমিক নিতে আসা মালিকের দেখা মেলা ভার। মাঝেমধ্যে কেউ এলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন সব শ্রমিক।

আজ এ দৃশ্যের দেখা মেলে নেত্রকোনা শহরের তেরিবাজার এলাকায় প্রধান ডাকঘরের সামনে। শত বছর ধরে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এখানে বসে দিনমজুরদের হাট। এখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পাশের ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের অনেক উপজেলা থেকে তিন শতাধিক শ্রমিক আসেন সারা দিনের জন্য শ্রম বিক্রি করতে। হাট থেকে মালিকেরা দরদাম মিটিয়ে তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়ে যান। আবার কেউ কাজ না পেয়ে বিষণ্ন মনে খালি হাতে ফিরে যান বাড়িতে।

সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের দুগিয়া গ্রাম থেকে ষাটোর্ধ্ব আবদুল আজিজ এসেছেন শ্রম বিক্রি করতে। সকাল নয়টা পর্যন্ত তিনি কোনো কাজ না পেয়ে বিষণ্ন মনে বসে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁর বয়স যখন ২০ বছর ছিল তখন থেকেই এ স্থানে এসে শ্রম বিক্রি করেন। ৪০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত শ্রম বিক্রি করছেন। এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কাজ করেন। কিন্তু যে টাকা পান তাতে সংসার চলে না। সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় এই টাকা চাল-ডাল ও সবজি কিনতেই শেষ হয়ে যায়। সপ্তাহে পাতে মাছ মেলানো ভার। অবশ্য বছর ত্রিশেক আগেও ৫০ থেকে ৮০ টাকা রোজ উপার্জন করলে তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যেত বলে জানান তিনি।

আজিজের পাশে থাকা উপজেলার চল্লিশা থেকে শ্রম বিক্রি করতে এসেছেন মো. সাইফুল ইসলাম (৩৭)। আর্থিক অনটনের মধ্যেই তিনি স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ২০১৪ সালে নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজ থেকে যখন বিএ পরীক্ষা দেন তখন তাঁর বাবা শামছুদ্দিন মারা যান। এর পর থেকে তিনি সংসারের হাল ধরেন। তিনি গাজীপুরে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন। কিন্তু করোনাকালে চাকরি হারিয়ে বাড়িতে এসে বেকার হন। বিভিন্ন স্থানে ‍ঘুরে কাজের সুযোগ না পেয়ে চার বছর ধরে তিনি নেত্রকোনা তেরিবাজার মোড়ে শ্রম বিক্রি করেন। এই রোজগার দিয়ে চলে তাঁর ছয় সদস্যের সংসার। ঘরে অসুস্থ মা হেলেনা আক্তারের (৬৬) ওষুধ, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া ছোট বোন ঋতুর লেখাপড়ার খরচ, তাঁর ছয় ও তিন বছরের দুই ছেলে এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ মেটাতে গিয়ে এখন নাভিশ্বাস অবস্থায় আছেন বলে জানান তিনি।

সাইফুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাই, লেখাপড়া করে কোনো চাকরি পাইলাম না। অনেক জায়গায় ঘুরেছি। অভাবের সংসার, ঘরে ছয়জন মানুষ। তাই মানসম্মান নিয়া বইসা না থাইক্কা কামলার বাজারে আইয়া শ্রম বিক্রি করি। এতে কাজ বুঝে কোনো দিন ৪৫০ টাকা, কোনো দিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পাই। এ দিয়াই কোনোরকমে সংসার চলাই। এক দিন কাম না পাইলে চুলাতে ভাত বসে না। না খেয়ে থাকতে হয়। তাই এক দিনের কামলা যাওয়ার জন্য কত যে মানুষের ব্যাকুলতা, এখানে কেউ না দাঁড়াইলে উপলব্ধি করতে পারত না।’

উলুয়াটি গ্রামের শ্রমিক মো. শামছু মিয়া (৫৯) জানান, তিনি ৪২ বছর ধরে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। দুই ছেলে, এক মেয়েসহ পরিবারে তাঁর সদস্যসংখ্যা সাতজন। এক দিন কাজ না পেলে সংসার চলে না। প্রতিদিন তেরিবাজারে এসে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হন তিনি। আগে কাজের জন্য এত হাহাকার ছিল না। হাটে শ্রমিকের সংখ্যাও কম ছিল, তাই তুলনামূলক দামও বেশি ছিল। করোনার পর থেকে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

পূর্বধলার শ্যামগঞ্জের শ্রমিক জিল্লুর রহমান (৫৫) জানান, ৩৫ বছর ধরে কামলা দিচ্ছেন। আগে নিজের কিছু জমি ছিল, অভাবের কারণে সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। কামলা দিয়ে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে স্কুল–মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাচ্ছেন। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন তিনি। যেদিন যে কাজ পান, সে কাজই করেন। এক দিন কাজ না পেলে ভাত জোটে না তাঁর ঘরে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বয়সের কারণে কাম করতে কষ্ট হয়। মানুষও আমারে কামে নিতে চায় না বয়স দেইক্খা।’

বর্তমান বাজারদরে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে জীবন কেমন চলছে, জিল্লুরের সঙ্গে যখন কথা চলছিল তখন পাশ থেকে মালনি এলাকার বরকত মিয়া, পুকুরিয়ার বিল্লাল শেখ, মাহমুদপুরের তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন বলছিলেন, ‘এক দিন কাম না পাইলে উপবাস থাকতে হয়।’

সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার শ্রমিক রহিম উদ্দিনকে দুর্ভাগ্যবশত আজ কেউ নেয়নি। তাই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, আমরার শ্রমের মজুরি কিন্তু বাড়ছে না। বরং কাজ কমছে, কামলা বাড়ছে। সপ্তাহে তিন-চার দিন কাম পাই। তা দিয়াই খুব কষ্টে দিন কাটাই। ১১০ টেহার পাঙাশ মাছ অহন ২০০ টেহায় কিনতে হয়। আগে দুপুরে হোটেলে ৪০ টেহা দিয়া ভাত খাওন যাইত। অহন ডিম দিয়া খাইলেও ৬০ টেহা লাগে।’

এক দিন কাজ না পেলে তাঁদের অনেকের কপালেই খাবার জোটে না। আজ শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা শহরের তেরিবাজার মোড় এলাকায়
এক দিন কাজ না পেলে তাঁদের অনেকের কপালেই খাবার জোটে না। আজ শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা শহরের তেরিবাজার মোড় এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

Sunday, November 18, 2018

ভালো নেই হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল by মজিবুর রহমান

নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ ভালো নেই। হুমায়ূনের নিজ গ্রাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তিন একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপীঠের বয়স একযুগ পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি পড়েনি। এতে অত্যন্ত দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে চলছে বিদ্যাপীঠটি। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
এ ছাড়া ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের ঢেউটিন ভেঙে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। তাই বর্ষাকালে বিঘ্নিত হয় পাঠদান কার্যক্রম।
হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নানা রকম আশ্বাস দিলেও বর্তমানে আর বিদ্যালয়টির খোঁজ নেন না কেউই।
এদিকে, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে যায়নি হুমায়ূনের রেখে যাওয়া স্বপ্নের স্কুলের কার্যক্রম। হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বিদ্যালয়টি পরিচালনার হাল ধরেন এবং তিনি নিজেই বিদ্যালয় পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর (বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মেহের আফরোজ শাওনের করা নকশা অনুযায়ী শুরু হয় ভবন নির্মাণের কাজ।
দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ শেষে ২০০৬ সালে মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের পাঠদানের পথচলা।
বিদ্যালয় ভবনে রয়েছে মোট ১৪টি কক্ষ। এর মধ্যে ১২টি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একটি কক্ষে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ নামে বিশাল পাঠাগার। এ ছাড়া অন্য একটি কক্ষ অফিস রুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছে ১৫ জন এবং কর্মচারী রয়েছে তিনজন।
বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১০ সালে আমি হুমায়ূন স্যারের হাত ধরে এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। স্যার বিদ্যালয়টি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আমাদের বলতেন, ‘তোমরা দেখে নিও, এ বিদ্যালয় একদিন সারা দেশে হইচই ফেলে দেবে। শহরের শিক্ষার্থীরাও একদিন এ স্কুলে লেখাপড়া করতে ছুটে আসবে।’ কিন্তু এরই মাঝে স্যার না ফেরার দেশে চলে যান। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি স্যারের সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য।
বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতভাগ ফলাফল অর্জন করে আসছে। ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ৬৫ জন  শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করে ৪০ জন। এ বছর (২০১৮) এসএসসি পরীক্ষায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয় এবং জিপিএ-৫ অর্জন করে ৯ জন। ভালো ফলাফল করতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজন। সময়মত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক চাকরি পেয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সব সময়ই শতভাগ রেজাল্ট করে আসছি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও  আমাদের প্রতিষ্ঠান বারবার শ্রেষ্ঠ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত হচ্ছে না। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ প্রতিবছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজন ফলাফল করছে। বিদ্যালয়টি এমপিভুক্তির জন্য সব ধরনের কার্যক্রম করা হচ্ছে।

Monday, March 5, 2018

হাওরের কৃষকরা আতঙ্কে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের কৃষকরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাঁধ সংস্কারের নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের সংস্কারের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ ছাড়া বাঁধ সংস্কার কাজে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে বাঁধ মেরামতের দাবিতে জেলা শহর থেকে শুরু করে হাওরপাড়ের মানুষ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদনসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা নিয়ে হাওরাঞ্চল গঠিত। বিশেষ করে ওইসব অঞ্চলে একমাত্র বোরো ফসলের ওপর এলাকার মানুষকে নির্ভর করে চলতে হয়। যথাসময়ে বাঁধ সংস্কার না করা এবং যেনতেনভাবে কাজ করায় প্রায় প্রতিবছর অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়। গত বছর মার্চের শেষের দিকে হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে ও অকাল বন্যার ফলে জেলার খালিয়াজুরীতে শতভাগ ফসল পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাছসহ অন্যান্য প্রাণিজ সম্পদ। মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, দুর্গাপুরসহ জেলার অন্য উপজেলায়ও বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবারও বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় না করে সড়ক ও জনপথ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ হাওরের কোনো কোনো এলাকায় সড়ক নির্মাণ করেছে। সেগুলো হাওরবাসীর কোনো কাজেই আসবে না। স্থানীয় প্রশাসন কাজের তদারকী করলেও কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। তবে কাজের বিল ঠিকই পরিশোধ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও জেলার মদনের মাখনা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহমেদ বলেন, হাওরে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ মোটামুটি হয়েছে। তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছে। এগুলো দেখে মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে হাওরে পানি আসতে শুরু করলে ফসল তলিয়ে যাবে। গত বছরের বন্যায় ধনু নদীতে ৫ থেকে ৬ ফুট পলি জমে।
এ কারণে কয়েকদিন আগে ধনু নদীর লেপসিয়া ও নাওটায় শত শত মালবোঝাই কার্গো আটকা পড়েছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত ধনু নদী পরিপূর্ণভাবে খনন করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতেই থাকবে। হাওরে বেড়িবাঁধ সংস্কার একটি সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র। পাহাড়ি ঢল এলে বেড়িবাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করবে। এ থেকে স্থায়ীভাবে পরিত্রাণ পেতে হলে নদী খনন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। খালিয়াজুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জব্বার বলেন, সঠিক নিয়মে প্রকল্প তৈরি করা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বেশিরভাগ কমিটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিজস্ব লোকজনদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসওর যোগসাজশে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা বাদ দিয়ে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। পানি আসতে শুরু করলে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসল তলিয়ে যাবে। নির্মিত এসব বাঁধ কোনো কাজেই আসবে না। নেত্রকোনা জেলার হাওর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি স্বাগত সরকার শুভ বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও অধিকাংশ বাঁধ মেরামতের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অধিকাংশ প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ায় এ অনিয়ম হয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আবদুল্লাহ আল-মামুন বাবু বলেন, প্রায় সব বাঁধেই মাটি ফেলানোর কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সংস্কারের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে বাঁধের মাটি লেবেল করার কাজ। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এখন আর কোনো বাঁধ নেই। অকাল বন্যায় ফসলহানির সম্ভাবনা কম। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। আর এখন কাজের তদারকি করে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্নিষ্ট এসও। তবে সংস্কার কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি। ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ হয়েছে।

Sunday, March 26, 2017

ভুলে ভরা শ্রদ্ধাঞ্জলি, দায়ভার কার?

দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতেও শহীদদের স্মরণে চলছে নানা আয়োজন। রোববার প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শুরু হয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জনারণ্যে ভরে ওঠে শহীদ বেদী। বরাবরের মতো এ বছরও শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা আসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে। এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে দেখা মেলে বৈচিত্রময় বানানের।
যার অনেকগুলোতেই বানান নীতির কোনো বালাই ছিল না। খালিয়াজুরী জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) লিখেছে- ‘শ্রদ্ধাঞ্জলী বিএনপি অজ্ঞ সংগঠন’। খালিয়াজুরী থানা লিখেছে- ‘শ্রদ্ধালঞ্জী খালিয়াজুরী থানা বাংলাদেশ পুলিশ’। আদৌ তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। খালিয়াজুরী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. চাঁন মিয়া চৌধুরী বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি এই স্বাধীনতা। এই ক্রটিপূর্ণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা এগোতে পারবো না। সেক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করি।