Thursday, March 17, 2016

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনার সাতকাহন by জিলফুল মুরাদ শানু

মডেল: সাগর, ফারিহা, নয়ন, ঈনা ও বিজয়
ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার মান ও পরিবেশ অনেক ভালো। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করলে দেশের বাইরে যাওয়া অনেক সহজ...
বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাহিরে নতুন এক সংস্করণ ইংরেজি মাধ্যম। পড়াশোনার গুণগত মান ও বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইংরেজি মাধ্যম এখন অনেকেরই কাছে অধিকতর পছন্দনীয় শিক্ষা মাধ্যম। এর সনদপত্রের মান আন্তর্জাতিকভাবে একই হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য এ মাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি।
বাংলাদেশে সাধারণত ১৫-১৬ বছর বয়স পার করলে 'ও' লেভেল (অর্ডিনারি লেভেল) পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। 'এ' লেভেল (অ্যাডভান্স লেভেল) বা ও লেভেল-এর সকল পরীক্ষা দুটি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ ও ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন বা এডেক্সেল। দুটি বোর্ডেরই মান প্রায় এক। তবে সেশন ও পাঠ্যসূচি আলাদা। এডেক্সেলের সেশন শুরু হয় মে-জুন আর ক্যামব্রিজ-এর সেশন শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর ও মে-জুন মাসে। মে-জুন সেশনের জন্য জানুয়ারিতে ফর্ম নিতে হয়। বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যমের সকল পরীক্ষা ও ফলাফল বৃটিশ কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণ করে। 'ও' লেভেল শেষ হওয়ার পর 'এ' লেভেলের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।
বাংলাদেশে কিছু স্কুলে জিসিই (জেনারেল সার্টিফিকেট অব এডুকেশন) সিলেবাস অনুযায়ী 'ও লেভেলের' জন্য তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা করায়। শিক্ষার্থীরা দুই ভাবে এ মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারে। 'বৃটিশ কাউন্সিল অনুমোদিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা বৃটিশ কাউন্সিলে সরাসরি যোগাযোগ করে জিসিএসই সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। ব্যক্তিগত নিবন্ধনের জন্য একটি বিস্তারিত ফর্ম আছে যা ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসে পাওয়া যায় এবং সিলেটেও তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেও পাওয়া যায়।
প্রতি কোর্সের জন্য ব্যয় পরীক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হয়। সাধারণত প্রতি কোর্সের জন্য গড়ে প্রায় ৫০০০ টাকা দিতে হয়। এ সংক্রান্ত আরও বিবরণ নিবন্ধন ফরমে এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্যে বিস্তারিত দেয়া থাকে। পরীক্ষার ফি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের যে কোনো শাখায় জমা দিতে হয়। এক সেশনের ফি কখনও অন্য সেশনে গ্রহণযোগ্য হয় না।
ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা বাংলাদেশে খুব বেশিদিনের না হলেও এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এ বিষয়ে বৃটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ এর একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসার শোয়েব তানাকা বলেন, 'শুধু ঢাকাতেই প্রায় ১৫০ টিরও বেশি নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যারা বৃটিশ কাউন্সিলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করে যাচ্ছে। সারা দেশে 'ও' লেভেল এবং 'এ' লেভেলে ১৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং তারা প্রশংসনীয় ফলাফলও অর্জন করছে যা দেশের মেধাবী নেতৃত্ব তৈরি করছে। অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল-এর 'ও' লেভেলের শিক্ষার্থী রাইহান হাওলাদারের অভিভাবক মায়মুনা ঈশা বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার মান ও পরিবেশ অনেক ভালো। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করলে দেশের বাইরে যাওয়া অনেক সহজ এবং ছাত্রছাত্রীরাও অনেক অগ্রসর হয়।

মাচায় মাচায় শুঁটকি: জীবন-জীবিকায় হাজারো মানুষ by ফরহান অভি

 বাঁশের মাচায় ঝুলছে সারি সারি ছুরি মাছ। ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিশাল আকারের কোরাল। নারিকেল পাতার পাটিতে বিছানো লইট্টা। জালের ওপর রাখা হয়েছে ফাঁইস্যা। কদমনী, বাটি, পোয়া, চাপা, চামিলা, টেকচাঁদা, চিংড়ি, ফেরকি মাছ ধোয়া হচ্ছে লবণপানিতে। বাকলিয়া থানার বাস্তুহারা এলাকার কর্ণফুলী নদী পাড়ের দৃশ্য এটি। শুঁটকি শুকানোর এ মহাযজ্ঞ ঘিরে নদীপাড়ের ৫ হাজার বাস্তুহারা মানুষের জীবন-জীবিকা চলছে। এখানকার ১২০টি মাচা থেকে বছরে বিক্রি হয় প্রায় ১০ কোটি টাকার শুঁটকি।

আবরার হোসেন। দুই মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। পেশায় জেলে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙে বিলীন হয়েছে পৈতৃক জমি। গ্রামের এক বন্ধুর সহায়তায় পরিবারসহ চট্টগ্রামে আসা। কর্ণফুলীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে বাঁশ আর বেড়ার তৈরি ছোট কুঁড়েঘরই এখন তার মাথা গোঁজার একমাত্র জায়গা। নদী আর সাগর থেকে জেলেদের ধরে আনা মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি করেন শুঁটকি। বিনিময়ে দৈনিক পান ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ভিটেমাটি হারানো আবরারের এ টাকায় মিলে সংসারের ভরণ-পোষণ। শুধু আবরারই নয়, কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বাস্তুহারা এলাকায় গেলেই দেখা মিলবে এমন হাজারো আবরারের। জীবিকার তাগিদে শুঁটকি উৎপাদন করেন তারা।

কথা হয় শুঁটকি উৎপাদনকারী শ্রমিক শিল্পী রানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভিটেমাটি হারিয়েছি অনেক দিন আগে। নদীর পাড়ের কয়েক হাত জায়গায় বাঁশ-বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরই এখন একমাত্র ঠিকানা। শুঁটকি উৎপাদনের পদ্ধতি বিষয়েও কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, এখন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি উৎপাদন করা হয় এখানে। লবণপানিতে মাছ ধুয়ে রোদে শুকাতে দেয়া হয়। ব্যবহার করা হয় না কোনো ধরনের কীটনাশক। ছোট ছোট মাছ তিন থেকে চার দিনের কড়া রোদে শুঁটকি হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ছোট মাছগুলো বাঁশের মাচায় বিছিয়ে রোদে শুকানো যায়। ছুরি মাছ আর লইট্যা মাছগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে বেঁধে বাঁশে দুই পাশ থেকে ঝুলিয়ে দেয়া যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একেকটি মাচায় (শুঁটকি শুকানোর স্থান) প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন কাজ করেন। বড় বড় মাচায় কাজ করতে দেখা গেছে ৪০ থেকে ৫০ জনকেও। পানির জন্য প্রতিটি মাচার পাশেই রয়েছে পুকুর কিংবা টিউবওয়েল। সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে বড় বড় ড্রামে পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে মাছ ধোয়া হয়। ছুরি, লইট্যা, কদমনী, বাটা, পোয়া, চাপিলা, টেকচাঁদা, চিংড়িসহ নানা মাছের শুঁটকি তৈরি হয় এখানে।

শুঁটকি উৎপাদনের কাজে সম্পৃক্তরা মিলে এখানে একটি সমবায় সমিতিও গঠন করেছে। নাম শুঁটকি উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতি। কথা হয় এ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শফিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এ কর্ণফুলীর পাড়ে জেগে ওঠা এ চরে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। এখানকার ১২০টি মাচাংয়ে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই বাস্তুহারা। তিনি আরও জানান, প্রতি শনি ও মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের শুঁটকিপট্টিতে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এখানকার শুঁটকি। সেখানে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী শুঁটকি কিনতে আসেন। প্রতি টন শুঁটকির দাম পড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা। এখানকার ১২০টি মাচা থেকে বছরে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়ে থাকে।

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা সেনাপ্রধানের

থিন কিউ
মিয়ানমারের রাজনীতিতে প্রবল প্রভাব ধরে রাখা সেনাবাহিনীর প্রধান দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট থিন কিউকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী এনএলডির দুই প্রার্থী থিন কিউ ও হেনেরি ভ্যানথিওর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সেনাবাহিনী। এ নিয়ে সেনাবাহিনী এবং এনএলডির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তাই থিন কিউকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধান মিন অং লাইংয়ের শুভেচ্ছা জানানোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সেনাবাহিনী তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার থিন কিউ মিয়ানমারের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এনএলডির আরেক প্রার্থী হেনেরি ভ্যানথিওর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর আরেক প্রার্থী মিয়ে শোয়েও ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। এনএলডি গত বছরের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায়।
কিন্তু সাংবিধানিক বিধিনিষেধের কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি সু চি। সংবিধান সংশোধনের জন্য সু চি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সু চি তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু এবং বিশ্বাসভাজন থিন কিউকে দলের প্রার্থী করেন। তাঁকে সু চির ছায়া প্রেসিডেন্ট হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।সেনাপ্রধান মিন অং লাইং গতকাল বুধবার মিয়ানমারের ভাষাতে থিন কিউকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘মিয়ানমারের পার্লামেন্ট থিন কিউকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় সেনাবাহিনী তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। দেশের শান্তি, একতা ও উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন প্রেসিডেন্টকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনী সব সময় সচেষ্ট থাকবে।’ মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় সেনাপ্রধান মিন অং লাইং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে লাওসে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক দিন পর তিনি শুভেচ্ছা জানালেন।

১০ জনে ১ জন নিরাপদ পানি পায় না: জাতিসংঘ

কচি দুই হাতে টিউবওয়েলের হাতল চেপে পরিবারের জন্য খাবার
পানি সংগ্রহ করছে পাকিস্তানের পেশোয়ারের এই শিশুটি। রয়টার্স
বিশ্বের প্রায় ৬৫ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০ জনের ১ জন সুপেয় পানির অভাবে আছে। এ অবস্থা তাদের সংক্রামক ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দূষিত পানি ও দুর্বল স্যানিটেশন-ব্যবস্থা শিশুদের গুরুতর ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন এমন রোগে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৯০০ শিশু মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি দুই মিনিটে মারা যাচ্ছে একটি শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সুপেয় পানির অভাব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগ সংক্রমণের শিকার নবজাতকদের একজন প্রতি মিনিটে বিশ্বের কোথাও না কোথাও মারা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ পানি পানের সুবিধা ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সেবা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সময় ও খরচ বাঁচানো থেকে শুরু করে যাতায়াত, ভালো থাকা, মর্যাদাপূর্ণ অবস্থা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়াদির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান, পানি সরবরাহব্যবস্থা ও স্যানিটেশন সেবার উন্নয়নে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে কাজের ধরন অনুসারে ৪ থেকে ১২ ডলার মূল্যমানের সুবিধা অর্জিত হতে পারে। এ বছর জাতিসংঘের বিশ্ব পানি দিবস পালিত হবে ২২ মার্চ। এ দিনের প্রতিপাদ্যে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে পানি ও কর্মসংস্থানের ওপর। পানিসম্পদ কীভাবে পারিশ্রমিক ও শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং সতেজ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেই দিকে গুরুত্ব দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি পালন করা হবে।

কারাগার ভাড়া

নেদারল্যান্ড সরকার প্রথমবারের মতো বেলজিয়ামের কাছে তাদের খালি পড়ে থাকা কারাগার কক্ষ ভাড়া দিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টিলবার্গের কয়েদখানা বেশির ভাগ সময় এমনিতেই খালি পড়ে থাকে। তাই বেলজিয়ামের ৫০০ কয়েদিকে কারাগার কক্ষে নিতে রাজি হয়েছে নেদারল্যান্ড। তিন বছরের এ চুক্তি অনুযায়ী, ডাচ সরকার বেলজিয়ামের কাছ থেকে বছরে তিন কোটি ইউরো ভাড়া পাবে।
এত বেশি ভাড়া দিতে বেলজিয়ামও গররাজি নয়। তাদের কারাগারগুলোতে এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দী রয়েছে। সে কারণেই বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হারম্যান রম্পুই গত বছর এ ধরনের উদ্যোগ নিতে বাধ্য হন।