Monday, January 6, 2014
ইংলিশ লজ্জা!
সকালে সিরিজের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছেন ক্রিস রজার্স (১১৯)। সবাই ভালো বোলিং করলেও ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল স্টক বরউইক। ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই ধস। তবে আবারও প্রথম ইনিংসের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সফল হয়েছেন ৯ নম্বরে নামা স্টুয়ার্ট ব্রড (৪২)। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ ও সিরিজ প্রায় শেষ। আর শেষটা এত দ্রুত এনে দিয়েছেন রায়ান হ্যারিস ও মিচেল জনসন। হ্যারিস ২৫ রানে পঞ্চমবারের মতো নিয়েছেন ৫ উইকেট। ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা। আর ইংলিশ-ত্রাস জনসন ৩ উইকেট নিয়ে সিরিজে শিকারসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ৩৭। সিরিজটাকে চাইলে জনসন বনাম ইংল্যান্ডও বলা যায়! সিরিজসেরা জনসনেই তো সর্বাধিক ধরাশায়ী ইংলিশরা!
অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত এই অ্যাশেজটা আদতেই পরিণত হলো 'দ্য অসি অ্যাশেজে'। ২০০৭ সালের পর অস্ট্রেলিয়া শুধু ভস্মাধার পুনরুদ্ধারই করেনি, একেবারে ভূপতিত করে ছেড়েছে ইংলিশদের। তার প্রমাণ হয়ে দেখা দিল এই টেস্ট। এই টেস্ট সিরিজ। পন্টিংয়ের ২০০৬-০৭ মৌসুমের অ্যাশেজ জিততে লেগেছিল ২২ দিন। আর্মস্ট্রংয়ের ২৪ দিন। আর ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়ার সময় লাগল ২১ দিন। ইংল্যান্ড একেবারে ক্লিন বোল্ড! সেই ১৮৮২ সালের মতো ব্রিটিশ মিডিয়া না আবার লেখে বসে 'দ্য ইংলিশ ক্রিকেট ডাইড...'!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া : ৩২৬ ও ২৭৬। রজার্স ১১৯; বরউইক ৩৩/৩
ইংল্যান্ড : ১৫৫ ও ১৬৬। কারবেরি ৩৩; হ্যারিস ২৫/৫, জনসন ৪০/৩
ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ২৮১ রান ও সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : রায়ান হ্যারিস। সিরিজসেরা : মিচেল জনসন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জয় দিয়ে বছর শুরু বার্সার
বাংলাদেশ সময় রোববার রাতের এই জয়ে আবারো গোল ব্যবধানে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হটিয়ে লীগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে কাতালানরা।
এখন ১৮ ম্যাচে বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের সংগ্রহ সমান ৪৯ পয়েন্ট। আগামী সপ্তাহে এ মৌসুমে প্রথমবারের মত ভিসেন্টে ক্যালডেরনে মুখোমুখি হবে দুই দল।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বার্সা তারকা লিয়নেল মেসি এ ম্যাচেও মাঠের বাইরে ছিলেন। আর বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে সদ্য ব্রাজিল থেকে ফেরা নেইমার ছিলেন বিশ্রামে। তবে এই দুই তারকার অনুপস্থিতি মোটেই টের পেতে দেননি সানচেজ ও পেড্রো রডরিগুয়েজ। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই দু'জন গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য জাভি হার্নান্দেজ পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পেড্রোর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সানচেজ। ম্যাচের ২১ মিনিট বাকি থাকতে এই চিলিয়ান স্ট্রাইকার ফ্রি-কিক থেকে ক্লাবের পক্ষে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
বার্সা এখন রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে। কিন্তু সোমবার সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে জয় দিয়ে এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ রয়েছে রিয়ালের সামনে।
ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো বলেছেন, "আমরা সত্যিই খুব ভাল ফুটবল খেলেছি। আমাদের খেলার মধ্যে বৈচিত্র্য ছিল, বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণও আমাদের কাছেই ছিল।"
খেলা শুরুর ৭ মিনিটের মধ্যেই বছরের প্রথম গোলের দেখা পায় বার্সা। বামদিক থেকে জোর্ডি আলবার ক্রস থেকে সানচেজের নিখুঁত শট এলচের জালে আঘাত হানে।
বিরতির ৪ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে কাতলানরা। গোল এরিয়ার মধ্যে ফ্যাব্রেগাসকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টি বাঁশি বাজালেও ক্রিস্টিয়ান সাপুনারুকে লাল কার্ড না দেখানোয় উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু জার্ভির স্পট কিক লক্ষভ্রষ্ট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সফরকারীরা।
অবশেষে ৬৩ মিনিটে বার্সেলোনার পক্ষে তৃতীয় গোল করেন সানচেজ। পেড্রোর দারুণ একটি পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই চিলিয়ান তারকা। এর ৬ মিনিট পর ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক কার্লিং ফ্রি-কিক থেকে মৌসুমের প্রথম হ্যাটট্রিকসহ ১১ গোল পূর্ণ করেন সানচেজ।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গিনেস বুকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকার স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ
গিনেস অনুমোদিত একটি প্রতিনিধি দল এটি দেখে রিপোর্ট দেয়ার পর কর্র্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বীকৃতি প্রদান করার খবরটি তাদের ওয়েবসাইটে এবং ফেসবুক ও টুইটারে একযোগে প্রকাশ করে। সর্বশেষ সবচেয়ে বড় মানব পতাকার রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের দখলে। ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর লাহোরের জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব ইয়থ উৎসবে এ রেকর্ডটি করেছিল ২৪ হাজার ২০০ জন মানুষ। রবি মানুষের ভেতরের শক্তিতে বিশ্বাস করে। জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে স্লোগান নিয়ে রবি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনশক্তি রফতানি কমেছে ৩২ শতাংশ by কিসমত খোন্দকার
ড. জাফর আহমদ খান বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসহ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা থাকায় তা মোট জনশক্তি রফতানির ওপর প্রভাব ফেলেছে। দুবাইয়ে রফতানি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে এই বড় বাজারটি বন্ধ ছিল। সৌদি আরবে অবৈধ অবস্থানকারী বিদেশি কর্মীদের বৈধতা নেওয়ার সময় আরও দুই মাস বেড়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া আবার শুরু হয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে এ বছর জনশক্তি রফতানি বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
গত বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার কর্মী রফতানি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরোর (বিএমইটি) নভেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩ সালে মোট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৭ জন কর্মী রফতানি হয়েছে।
বিএমইটির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার, ২০১০ সালে ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং ২০১১ সালে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কর্মী রফতানি হয়েছে।
বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন ওমানে। এর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬৩। এরপর সিঙ্গাপুরে ৫৫ হাজার ৪৪৯, কাতারে ৫২ হাজার ৬১১, বাহরাইনে ২৩ হাজার ৫০৬, জর্ডানে ১৯ হাজার ৬৫৫ ও লেবাননে ১৩ হাজার ৭৬৯ জন। রফতানির বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ হাজার ৬২৬, সৌদি আরবে ১২ হাজার ৫৬৯, লিবিয়ায় ৬ হাজার ৯০৩ এবং ইরাকে ৬ হাজার ৪৩৮ কর্মী রফতানি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশেও ২০১২ সালের চেয়ে কম কর্মী কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
জনশক্তি রফতনির বড় বাজার সৌদি আরবে গত ২০০৮ সালের পর থেকেই ক্রমাগত কমছে। ২০১২ সালে ২ লাখ ১ হাজার ২৩২ জনের বিপরীতে ২০১৩ সালে তা কমে ১২ হাজার ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১২ সালে যান ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৫২ জন। গত বছর সেখানে গেছেন মাত্র ১২ হাজার ৬২৬ জন। কুয়েতে গত কয়েক বছর ধরেই জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় রফতানি হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য 'ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০' এর বিশাল আয়োজন উপলক্ষে কর্মী পাঠানোর সুযোগ এখনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কাতারে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ-২০২২ কে কেন্দ্র করে দেশটিতে রফতানির সুযোগ কাজে লাগাতেও জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের দুটি আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এর মধ্যেই নিজেদের জনশক্তি রফতানির বিষয় নিশ্চিত করছে। সরকারি পর্যায়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে এ দেশ দুটিতে বিপুলসংখ্যক কর্মী রফতানি সম্ভব হবে বলে রফতানিকারক এজেন্সির কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উৎসবের নির্বাচন হয়নি by শামস রাশীদ জয়
মেহেদী হাসান সুমন
কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট কারে দিমু সেই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সেই সিদ্ধান্ত প্রয়োগের কোনো সুযোগই পাইলাম না। আজ (গতকাল) সারাদেশে ভোট হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন প্রতিবেশীর বাড়িতে পিকনিক হচ্ছে।
সুব্রত দেবনাথ
এই নির্বাচন হয়তো সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সেটা ঠেকানোর জন্য যে জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছে, সেটা গ্রহণযোগ্য তো নয়ই, বরং ঘৃণ্য ছাড়া আর কোনো শব্দ মাথায় আসে না।
নুরুদ্দীন আহমেদ বাপ্পী
শেখ ফজলে নূর তাপস আমার এলাকা থেকে আবার নির্বাচিত হলেন। অভিনন্দন। এ জন্য আপনাকে বিন্দুমাত্রও কষ্ট করতে হয়নি! গত ৫ বছরে যেমন এলাকার কাজে কোনো কষ্ট করতে হয়নি, তেমনি জয়ী হতেও কষ্ট করতে হয়নি। এই যে আপনার সম্পদের পরিমাণ ৯১ গুণ হয়ে গেল, এটাও তো তারই ইচ্ছা। আপনার এলাকার একজন আম আদমি হিসেবে খুশি হলাম। এলাকার উন্নতি হয়নি তো কী হয়েছে? এলাকার অন্তত একটা পরিবারের তো আয় বাড়ছে!
একুশ তপাদার
আমি সিলেট-১ আসনের ভোটার। অর্থমন্ত্রী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। ভোট দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দরকার না থাকায় আফসোস হচ্ছে। যে ১৫৩ আসনে নির্বাচনের দরকার হচ্ছে না_ সহজ চিন্তা যদি করি, তাহলে দায় কার? যারা নির্বাচনে এসেছে তাদের? নাকি যারা আসেনি তাদের? যারা নির্বাচনে আসেনি তারা এলেই তো আর একতরফা হতো না।
শেরিফ আল সায়ার
বিএনপি টিভি দেখতেছে আর হাসতেছে। আওয়ামী লীগও হাসতেছে। জনগণ 'হাঁ' হয়ে তামাশা দেখতাছে। আর বিদেশিরা ঘটনা অবজারভ করতেছে। জামায়াত তাদের রশি ছাইড়া লোহার শিকল রেডি করতেছে। পল্গ্যান করতেছে কেমনে আরও শক্ত কইরা বিএনপিরে বাইন্ধা রাখা যায়।
আরিফ আর হোসেন
'তান্ত্রিক নির্বাচন'। 'গণ' তো বাসাতেই বসে আছে।
সাইফুল ওয়াদেদ হেলাল
সালটা '৭৭ কিনা মনে নেই, খুবই ছোট ছিলাম। জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ/না ভোট। জীবনে প্রথম নিজ হাতে দুইখান ভোট দিছিলাম! আদমজী জুট মিলের এক নম্বর ক্যান্টিনের ভোটকেন্দ্রে ভোট হইছিল। ভোটকেন্দ্রের কাছে গিয়ে দারোয়ান কিসিমের একজনের কাছে গিয়ে ভোট দেওয়ার আবদার ধরলাম। কতক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করার পর ধমক দিয়ে হাতে ব্যালট ধরিয়ে দিয়ে বলল, যা যা তাড়াতাড়ি দিয়ে আয়। ছালার চট দিয়ে ঘেরা বুথের ভেতরটা দেখতে কেমন সেটাই আবিষ্কার করা ছিল উদ্দেশ্য। ভোট ছিল হ্যাঁ/না; কিন্তু বাক্স ছিল একটা, আরেকটা বাক্সা খুঁজে পাইনি। একবার ভোট দেওয়ার পর কতক্ষণ ঘুরেটুরে আরও কয়েক বন্ধু মিলে আবারও ভোট দিতে গেলাম।
আমাদের ছোটবেলায় ভোট ছিল ঈদের মতো আনন্দের। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হতো বিটিভিতে ননস্টপ ভোটের অনুষ্ঠান। আহা কী যে আনন্দ! প্রায় তিন দিন ধরে ডাবল দৈর্ঘ্যের ছায়াছন্দ, দুই দুইটা বাংলা সিনেমা, ইংরেজি সিনেমা, ভোট উপলক্ষে পূর্ণ দৈর্ঘ্য বিশেষ নাটক, আধুনিক গান, ব্যান্ড শো ও বাচ্চাদের বিশেষ অনুষ্ঠান। হায়রে মজার ভোট! মনে আছে, এ ধরনের বেশ কয়েকটা ভোটের অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে আমাদের শৈশব আনন্দময় হয়ে উঠেছিল। বড় হয়ে জানলাম, ভোট আসলেই বাঙালির জীবনে উৎসবের মতো। পুরনো সেই ভোটের কথা বলব কিরে ভাই, সেই রাত জেগে টিভি দেখা সে কি ভোলা যায়।
সবাইকে ভোটের দিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। মনের আনন্দে সবাই ভোটকেন্দ্রে যান আর দুই হাতে ভোট দিয়ে আসুন। ভোট আনন্দে একে অন্যকে আলিঙ্গন করুন। মনে রাখবেন, দল যার তার ভোট সবার। সবাইকে প্রাণঢালা (জানি না কার প্রাণ যাবে আর কারটা থাকবে!) ভোট মোবারক!
আরাফাত শান্ত
একদলীয় ভোট আমাদের দেশে নতুন না, কমবেশি সবাই করেছে নানা উছিলায়। খালেদা জিয়ার চাটুকাররাও তার নামের আগে বলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, মইন ইউরা না এলে হতো চারবার। এখন শেখ হাসিনাও দানে দানে তিনবার! তবে অনেক দিন পর টিভি দেখে বুঝলাম এবার সাচ্চা আওয়ামী লীগের ভোটার ও কর্মীরাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। দল হিসেবে এটাই আওয়ামী লীগের বড় ব্যর্থতা!
নুরুন্নবী চৌধুরী হাছিব
আজকে থাকার কথা ছিল গ্রামের বাড়িতে. উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। হলো না। আমার জেলা চাঁদপুরের কোনো আসনেই নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। ভাগ্যিস সব আসনে অন্তত একজন করে প্রার্থী ছিলেন. যদি অন্তত একজনও না থাকতেন? কী যে হতো. বলা হতো অমুক আসনে কোনো প্রার্থীই নেই।
এইচ এম বাবুল চৌধুরী
হাজারো বাধা সৃষ্টি করেও নির্বাচন ঠেকানো গেল না_ এটাই শেষ কথা। কে বা কারা ভোটদানে বাধা দিয়েছে জনগণ দেখেছে। তারপরও নির্বাচন হচ্ছে এটাই সরকারের বড় জয়।
প্রবীর শিকদার
বিচ্ছিন্ন সহিংসতার মধ্যেও মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন। এই মানুষগুলো যেন একেকজন যোদ্ধা। স্যালুট ওই মহান মানুষদের।
গোলাম মুর্তজা
বিএনপির নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা কতটুকু আছে, সেটা তো বোঝাই গেল। আবার এই ক্ষমতা দিয়েই ভোটারশূন্য এবং কিছুটা রক্তাক্ত নির্বাচন করতে বাধ্য হলো সরকার। নির্বাচনটিকে সত্যিকার অর্থে হাস্যকর করে দিলেন আসলে এরশাদ। জাতীয় পার্টি যদি নাটক ছাড়া নির্বাচনে থাকত, তবে এতটা হাস্যকর হতো না নির্বাচন। এরশাদ সাহেব হাসপাতালের ফাইভ স্টার মানের ভিভিআইপি কেবিনে অবসরযাপন করছেন। আছে বিনোদনের সব ব্যবস্থা। গলফ খেলছেন নিয়মিত। তিনি নিজে কমপক্ষে একশ' কোটি টাকা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। তারপরও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে তাকে রাজি করানো গেল না। তার মাঠের নেতারা যারা এখনও প্রার্থী আছেন, একেকজন ২৫ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পেয়েছেন। ভোট নেই, ভোটার নেই, আছে শুধু টাকা। বেশ ভালো নির্বাচনই করল আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকল। বিএনপি প্রমাণ করল, ভোট থাকলেও আন্দোলনে তার অবস্থা বড়ই করুণ। জামায়াত যে সন্ত্রাসী শক্তি, সেটা আর একবার প্রমাণ হলো।
যে কোনো সময়, যে কোনো দিকে যাওয়ার পথ খোলা রেখে, আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে, স্বৈরাচার এরশাদ তার গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বাড়িয়ে নিলেন আওয়ামী লীগের কাঁধে বন্দুক রেখে। হায়! ২০০৮-এর সেই আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪'র এই আওয়ামী লীগ!
জিয়াউদ্দিন সরকার
আমার ভোট আমার অধিকার, যাকে খুশি তাকে দেব! কিন্তু... গতবার 'না' ভোট দিয়েছিলাম যোগ্য প্রার্থীর অভাবে আর এবার সেই কষ্টটুকুও করতে হয়নি।
হাসিবুল হাসান শারদ
বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, এক হিসেবে ভালোই হয়েছে: দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্বার্থের বিবেচনায় দলটি অবাঞ্ছিতই। এই দলটি নির্বাচনে এলে নির্বোধদের ভোটে জিতে যেত খুব সম্ভবত, যা দেশের ভালো বয়ে আনত না, বরং অনেক বেশি খারাপির কারণ হতো। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে জামায়াতসহ মৌলবাদী জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো দেশ এবং আহমদ শফী-জাতীয় লোকজনও হয়ে যেত দেশের নীতিনির্ধারক স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, যা কোনোমতেই ভালো হতো না। বিশেষত দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যেখানে নারী, সেখানে শফীদের উত্থান নারীর জন্য যারপরনাই ভয়ঙ্কর হতো। বিএনপি বলেছিল, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা তারা বাস্তবায়ন করবে। যদি মধ্যযুগীয় ওই ১৩ দফা বাস্তবায়ন করে বসার সুযোগ পেত তারা, দেশ কত বছর পেছাত জানতে আসিফ নজরুল হওয়া লাগে না। আর মোল্লাতন্ত্রের বলি হতো আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও সৃজনশীল সব শিল্পকলা। সংস্কৃতি ও শিল্পকলা ধ্বংসে এবং সব পাঠ্যপুস্তক থেকে বাঙালির ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে দিতে বিএনপি একটুও কুণ্ঠিত হতো না। হেফাজতের চাপে হয়তো দেশের অসংখ্য শহীদ মিনার ও ভাস্কর্য ভাংচুর হতো এবং পাকিস্তানপন্থি নানা উদ্ভট, আপত্তিকর ও স্বাধীনতাবিরোধী কথাবার্তায় ছেয়ে যেত মোল্লাদের মাইক। দল বেঁধে বেরিয়ে আসত একেকটি জঙ্গিচক্র, যুদ্ধাপরাধী চক্র এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হতেন দেশের অসংখ্য মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী।
মাইনুদ্দিন ফিরোজ
আমি একটি শব্দ খুঁজছিলাম, যা সবকিছুকে সংজ্ঞায়িত করে। উন্মুক্ত রাস্তায় একটি গাড়ি হাতের কাছে পেয়ে হঠাৎ করে নিজেকে মহাবীর একিলিস মনে করা, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে ট্রাকচালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ব্যাপারগুলো তখন ঘটে, যখন মানুষের আর কোনো চক্ষুলজ্জা অবশিষ্ট থাকে না। আমরা যথেষ্ট বেশরম হয়ে পড়েছি প্রতিটি গোষ্ঠী, প্রতিটি শ্রেণী এবং প্রায় প্রতিটি মানুষ। আগামীতে হয়তো নির্লজ্জতা মানে হবে বিরোধী দলের কোনো কাণ্ড। অথবা এ কথাটি খালেদা জিয়ার বক্তব্যের নিচে লিখলে নির্লজ্জতার মানে হতো ইংরেজি না জানা। কিন্তু ৫ জানুয়ারি বলে নির্লজ্জতা শব্দটা নির্বাচনকে সংজ্ঞায়ন করে ফেলে। হয়তো আমিও নিরপেক্ষ নই বলেই বেছে বেছে ৫ জানুয়ারি দুপুরেই কথাটা লিখেছি। যতই আড়াল করতে চাই, একচক্ষুবিশিষ্ট চরিত্র আমাদের জাহান্নামে নিয়ে ছাড়বে।
মাসুদা ভাট্টি
নির্বাচন বর্জন করেছি, নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি, এখন সকলে মিলে নির্বাচনের ছিদ্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি_ সন্ধ্যার সময় রায় দেব, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি! আমরা বিএনপি-জামায়াত, আমরা সুশীল, আমরা বিদেশি পর্যবেক্ষক, আমরা কূটনীতিক।
মশিউর রহমান
নওগাঁ শান্তিপ্রিয় একটি রাজনৈতিক এলাকা, এখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নেই বললেই চলে আর এই শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক চর্চার গুরু প্রয়াত জননেতা আ. জলিল। নওগাঁ সদর আসনে প্রয়াত জননেতা আ. জলিলের দুই শিষ্যের মধ্যে লড়াই চলছে। নওগাঁ সদর আসনে ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি ভোট দিয়ে এলাম।
প্রশান্ত রায়
পাবনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সন্ত্রাসী বাহিনীর ফিল্মি স্টাইলে ভোট ছিনতাই। এ ধরনের নির্বাচনেও ফিল্মি স্টাইলের দরকার হয়?
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চার স্থানে ৪ আ'লীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কর্তন
বরিশাল ব্যুরো জানায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গতকাল ভোট দেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে স্থানীয় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমানকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মতিয়ারের স্বজনরা জানান, গতকাল জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ভোট দেওয়ায় তার দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কর্তন করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নাসির উদ্দিন, হাবিবুল ইসলাম ও কালামসহ ৫-৬ জন উপজেলার চালিতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে আসার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মতিয়ারের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শ্রীবরদী উপজেলার পোড়াগড় ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি বিল্লাল হোসেনের দু'পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে পোড়াগড় এলাকায় জামায়াত-শিবিরের ১৫-২০ কর্মী হামলা চালিয়ে তার দু'পায়ের রগ কেটে দেয়।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাত ৯টায় মোগরা নামক স্থানে সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খাজা নুর উদ্দিনকে গুলি করে একদল দুর্বৃত্ত। এতে নুর উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পায়ের রগ কর্তন করে। তাকে ফেনী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভোট দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা নাটিমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অলিয়ার রহমানেরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নোয়ানীপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহেশপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পীরগাছায় সংঘর্ষে জামায়াত শিবিরের দুই নেতা নিহত
শনিবার গভীর রাতে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্রে ও গাড়িতে অগি্নসংযোগ, পুলিশ, আনসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর হামলার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
পীরগাছার দেউতি বাজার এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী জড়ো হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে আসা জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। এরপর রাতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা এবং দেশি অস্ত্র নিয়ে দেউতি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ এবং ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে তারা পিছু হটে যায়। পরে তারা ফের সংগঠিত হয়ে রাত ২টার দিকে ৪০-৫০টি ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটিয়ে আবারও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই তারা কেন্দ্রে থাকা পুলিশসহ সবাইকে মারধর শুরু করে। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ও কয়েকটি ভটভটিতে আগুন দেয় তারা। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পীরগাছা উপজেলার দেউতি গুঞ্জরখাঁ এলাকার মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে মেরাজুল ইসলাম ও বিরাহিমপুর এলাকার ওজায়ের মিয়ার ছেলে হাদিউজ্জামান মারা যান। আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার মনোয়ার হোসেন, এসআই জুলফিকার আলী, এএসআই বিধান চন্দ্র, কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক এবং জামায়াত-শিবিরকর্মী ইছাহাক আলী, রোকন, সামু, কবির, লেবু, মোস্তাক, কবিরসহ ২৫ জন।
দেউতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের আহত প্রিসাইডিং অফিসার মনোয়ার হোসেন জানান, যত লোক এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে তাতে আমাদের বেঁচে থাকার কথা নয়। পুলিশ সদস্যরা গুলি চালানোর পর তারা একটু শান্ত হয়।
নিহত মেরাজুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, লোকমুখে শুনতে পান তার স্বামী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে সকাল ১০টায় ওই বাড়িতে গিয়ে কোনো লাশ দেখা যায়নি। পরে বিকেলে লাশ দাফন করা হয়েছে। পীরগাছা থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি ক্যাডারদের হামলায় দেউতিতে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর পীরগাছা উপজেলার ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টিতে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি। তারা ব্যালট পেপার এবং ব্যালট বাক্সে অগি্নসংযোগ করে। এ কারণে পীরগাছায় ৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিয়া ফেরদৌসী জানান, নিরাপত্তা ও ঘন কুয়াশার কারণে বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
রংপুর-৪ পীরগাছা-কাউনিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি ও জাপার করিম উদ্দিন ভরসা। তবে করিম উদ্দিন মাঠে নেই।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিষ্ঠান পোড়ে, পোড়ে না বিবেক!
![]() |
| শিক্ষাঙ্গনে আগুন |
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হায়রে নির্বাচন! হায়রে দেশ!
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই বেয়াইয়ের অবাক কাণ্ড
তবে তার আগে বলি সার্বিক নির্বাচনী আঁচ গতকাল কীভাবে গায়ে লাগল। লাল সিরামিকের ভবনটিতে তখন সন্ধ্যা। আধা ভুতুড়ে, আধা নিস্তরঙ্গ পরিবেশ। তবে হ্যাঁ, প্রার্থী ও ভোটারের আকাল পড়লেও মিডিয়া কর্মীদের ভোট কাভারের প্রস্তুতি ছিল অভূতপূর্ব। বেসরকারি ফলাফল টানানোর কাঠ বোর্ডে শিট লাগল সাড়ে ছয়টায়। দেখি প্রথমেই জেনারেল এরশাদের নাম। সংসদীয় গণতন্ত্র, তাই তাঁকে বলতে পারি ছায়া প্রধানমন্ত্রী। ফলাফলের ফিতা কাটার জন্য একদম উপযুক্ত ব্যক্তি। দেখি রংপুর-৩ আসনের ১০ কেন্দ্রের ফল। এক হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রাণঘাতী প্রাণহীন নির্বাচনে ভোটার অনুপস্থিতির ভয়ানক দুরবস্থার কারণ খুঁজলাম। ১. প্রতিদ্বন্দ্বিহীনতাই মূল। সহিংসতাও এতটা হতো না। ১৯৯৬-এর চেয়েও খারাপ হতো না। যদি একতরফা ভোট ৩০০ আসনেই হতো। ২. বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ধরনা দেওয়া হয়নি। তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে টাকাপয়সাও কম খরচ হয়েছে। ৩. আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটার স্লিপ পর্যন্ত দেননি। ভোটাররা এ জন্য দারুণ বিপাকে পড়েছেন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যা হলো তা মুখ রক্ষার নির্বাচন
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা হবে সুষ্ঠু ও সুষম: কেরি
![]() |
| মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিশেলকে ব্যতিক্রমী উপহার ওবামার
![]() |
| বারাক ওবামা তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মমতার পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘দুঃস্বপ্ন’
![]() |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশ-মুরসিপন্থী সংঘর্ষ, নিহত ১৭
![]() |
| মিসরের নসর সিটিতে পুলিশ ও মুরসিপন্থীদের মধ্যে শুক্রবার সংঘর্ষের একপর্যায়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় যাত্রীরা দৌড়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই আটকা
![]() |
| অ্যান্টার্কটিকায় বরফে আটকে পড়া রুশ জাহাজ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডুপ্লেক্স বাড়ি নিলেন না মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল
![]() |
| অরবিন্দ কেজরিওয়াল |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্কুল পোড়ানোর বিশ্বরেকর্ড এখন আমাদের! by শেখ রোকন
জয় যে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাস করেন, সেখানে এভাবে স্কুলে আগুন দেওয়ার কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারে না কেউ। তিনি ঢাকায় ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে এসে রাজনীতির 'বিস্ময়কর' চেহারা দেখে ফেলেছেন। রাজনৈতিক সংঘাত বিবেচনায় স্বাগতিকরা নিরাপত্তা নিয়ে তাকে সতর্কও করেছে। কিন্তু স্কুলে যে এভাবে আগুন দেওয়াও রাজনীতির অংশ হতে পারে, সেই আভাস কেউ তাকে দেয়নি। একই কর্মসূচির আওতায় আমি নিজেও গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। জয়ের সংবাদপত্রে 'কর্মরত' ছিলাম মাসখানেক। আমার আগ্রহের বিষয় ছিল সেখানকার সংবাদপত্র কীভাবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকীয় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। ওকলাহোমার পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যু, রিপোর্টিং, নাগরিক সংগঠন প্রভৃতি সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছি। জয় হ্যাম্পটন এ সংক্রান্ত এসাইনমেন্টে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এর বাইরে সেখানকার একটি 'গ্রিন স্কুল' দেখতেও গিয়েছিলাম দু'জনে। এক কর্তা ব্যক্তি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমাদের দেখাচ্ছিলেন, স্কুলের ডিজাইন কতটা পরিবেশ ও শিক্ষার্থীবান্ধব। কোনদিক দিয়ে কীভাবে আলো আসে, হাওয়া আসে; স্কুলের বাইরের অনভিপ্রেত আবহ যাতে শিক্ষার্থীদের মনোজগতে বিরূপ প্রভাব না ফেলে সেজন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আমি কৌতুক করে বলেছিলাম_ আমাদের দেশের স্কুলগুলো গরক্লেশেই 'গ্রিন'। অনেক স্কুলেই দরজা-জানালা-বেড়ার দুরবস্থার কারণে আলো-হাওয়া প্রবেশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। চারপাশ ও যাতায়াত ব্যবস্থাও যথেষ্ট 'প্রাকৃতিক'। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে আমরা কতটা সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, সেই কথাও অবশ্য তাদের জানিয়েছিলাম।
কেবল ওই স্কুলে নয়; আমেরিকান 'হার্টল্যান্ডের' এই জনপদের, যাদের অধিকাংশের কাছে বাংলাদেশ বিশ্বমানচিত্রে দেখা একটি নামমাত্র, যেখানেই গেছি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য, সম্প্রীতির সমাজ ও শান্ত-সহিষুষ্ণ জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরতে চেয়েছি। জানিয়েছে বাংলাদেশ যদিও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' পলিসির ফাঁদে পড়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ২৩ বছর কাটিয়েছে; এই দেশের মাটি ও মানুষ পাকিস্তানিদের মতো নয়। এক রবীন্দ্রনাথই পাকিস্তানি ও বাঙালি মুসলমানের মধ্যে গৌরবজনক ভেদরেখা এঁকে দিয়েছেন। যদিও আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা একই দক্ষিণ এশিয়া বা সার্কের অংশ; সেখানকার গেরুয়া প্রকৃতির ধর্মীয় চরমপন্থা সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলায় এসে কীভাবে মিইয়ে যায়। এখানেও ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে চেয়েছে বটে, শান্তিপ্রিয় সমাজের চাপে কোণঠাসা হতে সময় লাগেনি। কিন্তু এখন জয় হ্যাম্পটন নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন, আফগানিস্তানের মতো আমরাও কীভাবে বিদ্যালয়ে আগুন লাগাচ্ছি। প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে জাতির মেরুদণ্ড বিবেচিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান অবকাঠামো স্কুলই পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছি!
এখানেই শেষ নয়; দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় যেভাবে আমরা শতাধিক বিদ্যালয় পুড়িয়ে দিলাম, সেই 'রেকর্ড' আফগানিস্তানেরও আছে কি? সানডে টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দেখেছিলাম, তালেবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় দুই শতাধিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে দিয়েছিল। অবশ্য এ জন্য তারা সময় নিয়েছিল দুই বছর, ২০০৭-০৮। এর আগে-পরে আফগানিস্তানে আরও স্কুল নিশ্চয়ই জ্বালানো হয়েছে, পশ্চিমা মিডিয়ায় এমন 'শকিঙ' খবর এখনও দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় শতাধিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়ার 'রেকর্ড' বোধহয় বাংলাদেশই প্রতিষ্ঠা করতে পারল। এমন আশঙ্কাও অমূলক নয় যে, যদি সরকার দ্রুততম সময়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ১৮ হাজারের বেশি স্কুল-মাদ্রাসা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কড়া প্রহরা না বসাত, তাহলে এই সংখ্যা গাণিতিক হারে বাড়তে পারত। এসব অঘটনের পরও যদি আমরা দাবি করি যে বাংলাদেশে চরমপন্থি তালেবানসুলভ প্রপঞ্চ নেই, কেউ বিশ্বাস করবে?
নির্মম পরিহাস হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এবং জনসাধারণের মধ্যে তীক্ষষ্ট বিভাজন নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এতটাই মগ্ন যে, শিক্ষা অবকাঠামো ধ্বংসের এত বড় কাণ্ড হয়তো নজরেই পড়বে না। আফগানিস্তানে বিভিন্ন সময়ে স্কুল পোড়ানোর ঘটনা কিংবা মিসরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্কুলে আগুন দেওয়া ও বোমা মারার ঘটনা কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নাড়িয়ে দিয়েছে, ওয়াকিবহালরা জানেন। এ বিষয়ে ১৯৯৮ সালেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজুলেশন গ্রহণ করেছিল যে স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্থাপনাকে বিবদমান সব পক্ষকে 'সেফ হ্যাভেন' বিবেচনা করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই এগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা যাবে না। যারা এ ধরনের স্থাপনায় হামলা চালাবে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে এতগুলো বিদ্যালয় যারা পুড়িয়ে ফেলল, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওই রেজুলেশনবলে তাদের এখন আন্তর্জাতিক বিচারের সম্মুখীন করা যায় না?
বিদ্যালয় পোড়ানোর বিষয়টি কিন্তু ফৌজদারি অপরাধের তুলনায়ও অনেক বেশি গুরুতর। এর বিরূপ প্রভাব বহুমাত্রিক হতে বাধ্য। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে স্কুল ভবন ও তার আসবাবপত্র কতটা কষ্ট ও অপেক্ষার পর বরাদ্দ বা সংগৃহীত হয় কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। আমরা দেখতে পাই, ঝড়ে ভেঙে পড়া কিংবা নদীভাঙনের কবলে পড়া স্কুল ভবন পুনর্নির্মাণে বছরের পর বছর লেগে যায়। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা গাছের তলায় শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। হয়তো ভবন আছে; কিন্তু চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ না থাকায় মেঝেতে ক্লাস পরিচালনার খবর ও চিত্রও এই একুশ শতকের বাংলাদেশে এসেও সংবাদপত্র থেকে বিদায় নেয়নি। ভোটের আগুনে পুড়ে যাওয়া এসব স্কুল শিক্ষা অবকাঠামোর বিবর্ণ চিত্র আরও ধূসরই করে তুলবে, সন্দেহ নেই।
যে দেশে অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা এখনও সুলভ নয়, সেখানে রাজনৈতিক কারণে এভাবে স্কুল পোড়ানো উচিত হয়েছে কি-না, যুযুধান 'নির্বাচনবিরোধী' গোষ্ঠীর কাছে সেই প্রশ্ন তোলা অবান্তর। যারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারে, নির্বিচারে গাছের গোড়ায় করাত চালাতে পারে, তাদের কাছে শিক্ষার মূল্য ও সম্ভাবনা নিয়ে সুবিবেচনা আশা করা মূঢ়তা। কিন্তু সরকার কি এগুলো রক্ষা করতে পারত না। প্রধান বিরোধীদলীয় জোট যেখানে আগে থেকেই নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিল, বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহিংস বাধা প্রদান করছিল; সেখানে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত স্কুল, মাদ্রাসা বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নিরাপত্তাহীন রাখা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। দেখা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির পর কোনো বিদ্যালয় কাম পোলিং বুথে নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।
যাই হোক, এখন সরকারের উচিত হচ্ছে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পুড়ে যাওয়া ভবনগুলো সংস্কার এবং আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা। বিদ্যালয় ভবনে পুড়ে যাওয়া বই ও নথিপত্র আর পাওয়া যাবে না, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর কর্তব্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নথির অভাবে যাতে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বিঘি্নত না হয়, সেদিকে আন্তরিক নজর রাখা। প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয় পুড়তে দেখে মানসিক হোঁচট খাওয়া শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাময়ের দায়িত্ব নিতে হবে সমাজের সবাইকে। যারা রাজনৈতিক উন্মত্ততায় বিদ্যালয় পোড়ানোর সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছিলেন, তারাও সংস্কার প্রক্রিয়া ও স্বাভাবিককরণ কাজে যুক্ত হয়ে পাপের খানিকটা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন বৈকি! তবে যারা প্রত্যক্ষভাবে এই সভ্যতা ও মানবতাবিরোধী অপকর্মে যুক্ত, তাদের বিচার করতেই হবে। রাজনৈতিক কারণে এভাবে যে জাতীয় ও সামাজিক সম্পদে আগুন দেওয়া যায় না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া সেই বোধ তারা অর্জন করতে পারবেন বলে মনে হয় না। যারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সম্পৃক্ততা বিভিন্ন সময়েই কামনা করে এসেছেন, তাদের উচিত হচ্ছে বিদ্যালয় পোড়ানোর হোতাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনটি কাজে লাগানোর চেষ্টা চালানো।
শেখ রোকন : সাংবাদিক ও গবেষক
skrokon@gmail.com
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিকারি ও নেকড়ে এবং একটি বাঘ by অজয় দাশগুপ্ত
৫ জানুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের মিত্র দলগুলো নির্বাচন বর্জনের আহ্বানের পাশাপাশি প্রতিহতেরও ডাক দিয়েছিল। নির্বাচনের পর ভোটার উপস্থিতি কম_ এ বিষয়টিকেই তারা বেশি করে সামনে আনবে_ সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, সরকারপক্ষ বলবে_ বিরোধীদের নির্বাচন প্রতিহত করার আহ্বানে সাড়া মেলেনি। তারা কেবল নাশকতা-সহিংসতা সৃষ্টি করে গুটি কয়েক স্থানে ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে পেরেছে। দুই পক্ষের এই বাগ্যুদ্ধে নাগরিক সমাজও জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু কেবলই কি আলোচনা, নাকি সমাধান-সূত্রও আমাদের খুঁজে পেতে হবে? শনিবার রাজধানীতে অর্থনীতি সমিতির আলোচনায় অনেকের কণ্ঠে আহ্বান এসেছে। 'জামায়াতকে বর্জন করে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য আলোচনায় বসুন।' বিএনপি কিংবা তার সমর্থকদের এটা আদৌ পছন্দ হবে না। বিএনপির জনসমর্থন যথেষ্ট_ তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আন্দোলন মোকাবেলায় সরকার কঠোর মনোভাব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন পরিচালনায় তারা পুরোপুরি নির্ভর করেছে জামায়াতে ইসলামীর ওপর। এ দলটি একদিকে সভা-সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক নিয়ে আসতে পেরেছে; অন্যদিকে নাশকতার কাজেও দেখাতে পেরেছে দারুণ দক্ষতা। বেশ কিছু মাদ্রাসার বিপুল জমায়েত ক্ষমতার কারণে হেফাজতে ইসলামও বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত বছর ৬ এপ্রিল ও ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে তারা বড় ধরনের সমাবেশ ঘটাতে পেরেছিল। গত বছরে আলোচিত ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হওয়ার পর হেফাজতে ইসলাম বলতে শুরু করে, তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি এবং ভোটের হাওয়া কোন দিকে যাবে সেটা তারা নির্ধারণ করে দিতে পারে।
কিন্তু সবকিছুর পরও এটাই বাস্তব যে, বিএনপি এবং তার মিত্ররা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলেও ভণ্ডুল করতে পারেনি। অপরদিকে, সরকারপক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নিতে পারলেও ভোটারদের মোটামুটি সংখ্যায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। এমন অবস্থায় দুই পক্ষ নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন কীভাবে করবে? তারা কি যা করেছি, ঠিক করেছি_ এমন অবস্থান থেকেই শুরু করবে, নাকি ভুলভ্রান্তি নির্ণয়ের চেষ্টা করবে এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ওপরে স্থান দিতে সচেষ্ট হবে? বিএনপির জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই বলতে থাকেন, একাত্তরের দোসররাই এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। নির্বাচনের পর তারা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীকে তেমন কাছে টানেনি। কিন্তু হঠাৎ সামনে চলে এলো জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্ররাই কেবল করতে পারে_ এমন আস্থা দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণ বয়সীরা পর্যন্ত করেছে এবং সেটা যথার্থভাবেই। গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে অনেকে মনে করেছে জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি থেকে দূরে সরিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগের আপসের কৌশল হিসেবে। শাহবাগে ওই সন্ধ্যায় যে কয়েকশ' তরুণ সমবেত হয়েছিল, সেটা এই ধারণা থেকেই। এর পরের দুই সপ্তাহ সারাদেশে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বেশির ভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশন যুদ্ধাপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পক্ষ নেয়। জামায়াতে ইসলামী মরিয়া হয়ে ওঠে অস্তিত্বের শঙ্কা থেকে। বিএনপি পড়ে যায় উভয় সংকটে। তারা প্রথমে বলে, তরুণদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির পাশাপাশি শেখ হাসিনার সরকারের ব্যর্থতার দাবিও তুলতে হবে। এ অবস্থান ছিল যৌক্তিক। কিন্তু হঠাৎ বেগম খালেদা জিয়া তরুণ প্রজন্মের এ আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের 'নাস্তিক' আখ্যায়িত করলেন। বিএনপি সমর্থক পত্রিকা 'আমার দেশ' এবং জামায়াতে ইসলামীর দিগন্ত টেলিভিশন 'নাস্তিক' ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসে এবং কুৎসা রটনার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তাদের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। তাদের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া তার দলের নেতাকর্মী এবং ঢাকাবাসীদের প্রতি আবেদন জানান। এতে বিন্দুমাত্র সাড়া মেলেনি। কিন্তু ওই রাতে সমাবেশ ভেঙে দেওয়ার কঠোর পদক্ষেপকে ইস্যু করে বিএনপি এবং তাদের ধর্মান্ধ সহযোগীরা ফের অপপ্রচারে নামে এবং তাতে আপাতভাবে সফলও হয়। আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে পড়তে থাকে। বিএনপি এই ধর্মান্ধ শক্তির উত্থানকে পুঁজি করেই আন্দোলন সফল এবং নির্বাচন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করে।
মাত্র ৫ বছর আগেই তরুণ প্রজন্ম দলে দলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটিকে মুখ্য করে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে। এ প্রজন্মই ছিল শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রধান শক্তি। এরা তো বাংলাদেশের সমাজেরই অংশ এবং তাদের শক্তিকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। আওয়ামী লীগ যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে যে কোনো বাধা মোকাবেলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে পেরেছে, তার পেছনে কাজ করেছে এই শক্তির সমর্থন। এই তরুণদের জামায়াতে ইসলামীর মতো অর্থবিত্ত নেই। মাদ্রাসা থেকে যেমন 'বড় হুজুর-ছোট হুজুরদের' কথায় দলে দলে ছাত্ররা বের হয়ে এসে সমাবেশকে বড় করে তোলে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। শাহবাগসহ দেশের সর্বত্র তাদের জমায়েত ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। সমাজের অভ্যন্তরে অবস্থান করা এ শক্তিকে উপেক্ষা করলে বিএনপি আবারও ভুল করবে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণ যে শক্তিকে 'অপশক্তি' হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের ওপর কেন বেগম খালেদা জিয়া এতটাই নির্ভর করতে গেলেন_ সে মূল্যায়ন এখন তাদের করতেই হবে। এ শক্তির অর্থবিত্তের এত দাপট কীভাবে, সেটাও কিন্তু আলোচনায় আসতে হবে। নাশকতা পরিচালনায় সাংগঠনিক শক্তি যেমন অপরিহার্য, তেমনি চাই অর্থের জোর। জামায়াতে ইসলামী সেটা দেখাতে পেরেছে। ১৯৭১ সালের প্রত্যক্ষদর্শীরা এখন বলতে পারেন_ এটাই গোলাম আযম-মতিউর রহমান নিজামীর আসল চেহারা। বর্তমান তরুণ প্রজন্মও তাদের কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্ট ধারণা পেল_ জামায়াতে ইসলামী কী ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক একটি রাজনৈতিক শক্তি! বিএনপিকে তাদের এভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া এবং আন্দোলন ও নির্বাচনে তাদের ওপর এ নির্ভরতার অবসান ঘটাতেই হবে।
তবে এ কাজটি মোটেই সহজ নয়। বিএনপি তাদের স্ট্রাইক ফোর্সকে হারাতে চাইবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জনসমর্থন মোটামুটি সমানে সমান। জামায়াতে ইসলামীর ভোট তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও কর্মী বাহিনী উল্লেখযোগ্য এবং আর্থিক ক্ষমতা বিপুল। আর যেখানে সহিংসতার প্রয়োজন, সেখানে এ শক্তি যথেষ্ট কার্যকর। এখন বিএনপি কী করবে?
আওয়ামী লীগের আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন পড়বে অনেক বেশি। তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অনেক সফল। অর্থনীতির অঙ্গনে তাদের পারফর্ম্যান্স যে কোনো সরকারের জন্য ঈর্ষণীয় হতে পারে। হায়! তারা যদি পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারত! তারা যদি শেয়ারবাজারের 'দুষ্টুদের' শায়েস্তা করতে পারত!
তারা 'সুশীল সমাজের' অনেককে অপছন্দ করছে এবং সেটা বলছে প্রকাশ্যে। এ বিচ্ছিন্নতা কীভাবে কাটাবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক সমাজেও তাদের বিস্তর কাজ করার রয়েছে। তারা এই দুই অঙ্গনে যথেষ্ট বিচ্ছিন্ন হয়েছে_ এটাই নিষ্ঠুর বাস্তব। যুক্তরাষ্ট্রে সেই ১৯৭১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের বিরোধী এবং বিএনপি তাদের অপেক্ষাকৃত পছন্দের দল। জামায়াতে ইসলামীকেও তারা গ্রহণ করে নিতে আগ্রহী। যে দলটি এত সহিংস রাজনীতি করছে, তাদের নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে রাখা হলে আরও হিংসার পথে চলবে_ এটা বলে তারা কি ব্ল্যাকমেইল করতে চায়_ এ প্রশ্ন যৌক্তিক মনে হতে পারে। শেখ হাসিনা 'চমকের মন্ত্রিসভা' (অনেকের কাছে কচিকাঁচার দল) দিয়েও এত সফলতা পেয়েছেন বলে আত্মতৃপ্ত থাকার লোকও মিলবে অনেক। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে উঠবে এবারের নির্বাচনের প্রশ্ন। দেশ-বিদেশে সবাই বলবে_ এটা আদৌ গ্রহণযোগ্য হয়নি। অতএব, তাগিদ আসবে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগের অতিউৎসাহী কোনো কোনো নেতা বলছেন, 'পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন নয়।' এসব বাহুল্য কথা। দলকে আরও বিব্রত করার কথা। আওয়ামী লীগকে দেশ-বিদেশের বিচ্ছিন্নতা কাটাতে হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পথে যেতে হবে।
দুটি দলকে একটি মৌলিক প্রশ্নেও সমঝোতায় আসতে হবে_ নির্বাচনকালীন সরকার। কেবল ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনেই কোনো সমস্যা হয়নি। সেবার আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে বিচারপতি লতিফুর রহমানের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিল। অন্যথায় গত প্রায় দুই দশকে প্রতিটি নির্বাচনেই এ সরকার নিয়ে ফ্যাসাদ হয়েছে। নতুন একটি নির্বাচন দ্রুত হোক_ সেটা প্রায় সবাই বলছেন। কিন্তু তার আগে নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে অবশ্যই ফয়সালা হতে হবে এবং সেটা হতে হবে অনেক বছরের জন্য। কিংবা আরও ভালোভাবে বলতে পারি, এটা হতে হবে 'সব সময়ের' জন্য। এ সময়ে বিএনপি এবং তার মিত্ররা সরকারের ওপর চাপ রাখার জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক কৌশল নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। তাদের হরতাল-অবরোধের রাজনীতি এতদিন জনগণকে উৎসাহিত করতে পারেনি। নির্বাচনের পরপরই পারবে_ সেটাও মনে হয় না। তাদের আন্দোলনের যে কোনো কর্মসূচি এখন 'শিথিল ও ঢিলেঢালা' হতে বাধ্য। এর পরিবর্তে তারা যদি গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে দেশবাসীর কাছে বক্তব্য রাখতে থাকে, সেটা বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মধ্যে যারা ১৯৭১ সালে সরাসরি হত্যা-লুণ্ঠন ও অন্যান্য ধরনের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিচার প্রশ্নেও চাই সমঝোতা। বিএনপির জন্য সবচেয়ে বিব্রতকর ইস্যু ছিল_ ক্ষমতায় এলে কি বিচার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে? গোলাম আযম-নিজামীদের কি ছেড়ে দিয়ে ফের মন্ত্রী বানানো হবে? তবে আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্রদের এটাও মনে রাখা চাই যে, জামায়াত-হেফাজত সমাজেই রয়েছে এবং তাদের হীনবল করার জন্য দমন-পীড়ন কৌশল খুব একটা কার্যকর নয়। এজন্য বেশি প্রয়োজন সমাজের অভ্যন্তরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়া এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ প্রদান। সব সময় এ সংগ্রাম রাজপথে হবে না। এজন্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যেতে হবে, কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে যেতে হবে। কৃষক-দিনমজুরদের কাছে যেতে হবে। গত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে এ কাজটি নিতান্তই গৌণ হয়ে পড়েছিল। তারা মনোযোগী ছিল সরকারি কাজের ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি ও দখলের কাজে। আগামী পাঁচ বছর বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত তারা 'নির্বিঘ্নে' দেশ পরিচালনা করে যাবে_ সে ভাবনাতে মশগুল হয়ে থাকলে তার চেয়ে বড় ভুল আর কিছু হবে না। অতি সহজে যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তারা 'যত দ্রুত পারি কামিয়ে নিই'_ এ মনোভাব নিয়ে থাকলে সেটাও হবে শেখ হাসিনার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিএনপি নির্বাচন ভণ্ডুল করতে পারেনি। এখন তারা 'অবৈধ' সরকার বাতিলের আন্দোলনে যাবে। কিন্তু কৌশল কি সেই হরতাল-অবরোধ এবং নাশকতা-হিংসাত্মক উন্মত্ততা প্রদর্শন? এ থেকে তারা সরে না এলে দেশের পরিণতি আরও খারাপ হবে। আওয়ামী লীগ সমঝোতা-সূত্র খুঁজতে উৎসাহ না দেখালে এবং দমন-পীড়ন কৌশল অনুসরণ করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে নিজেদের বিচ্ছিন্নতাই শুধু বাড়াবে না, আরও বিপর্যয়ের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপসংহারে আমরা সেই গল্পের কথা স্মরণ করতে পারি। এক নেকড়ে ও এক শিকারি লড়েছে হাতাহাতি, প্রাণপণে। দু'জনেই ক্লান্ত-বিপর্যস্ত। এক পর্যায়ে এমন শক্তিহীন তারা যে, কেউ কাউকে একেবারে শেষ করে দেওয়ার মতো আঘাতটি করতে পারছে না। এ সময়ে এক বাঘ এগিয়ে এলো এবং শিকারি ও নেকড়ে উভয়কেই বিনা বাধায় তার ডেরায় টেনে নিয়ে গেল নিশ্চিন্তে আহারের জন্য।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিশ্চয়ই এমনটি চাইবে না।
ajoydg@gmail.com
সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটের দিনে বর্জনের ঘোষণা ৩১ প্রার্থীর
ঢাকা :দুপুরে নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়ে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন ঢাকা-১৫ (কাজীপাড়া, সেনপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলার একটি অংশ ও ইব্রাহীমপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এখলাস উদ্দিন মোল্লা। সরকার সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েও তা করতে না পারা এবং সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র দখল করেছে বলে অভিযোগ করেন এখলাস।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান শহীদ। তিনি জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মীরা নির্বাচন প্রভাবিত করছে অভিযোগ করে এ বর্জনের ঘোষণা দেন শহীদ।
বরিশাল :জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুই আসনের দুই প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আখতার দুপুরে উজিরপুর
উপজেলা চত্বরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান ও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। বিকেল ৩টায় একই অভিযোগ তুলে বাবুগঞ্জের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বরিশাল-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি।
গাইবান্ধা :স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ভোট ছিনতাই ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন গাইবান্ধা-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। এদিকে ভোট কারচুপি ও আগেই সিল মেরে ভোট বাক্স ভর্তির অভিযোগ এনে গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাসদ নেতা এসএম খাদেমুল ইসলাম দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া :ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী ফরিদ আহমেদ সকাল ১০টার দিকে শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এর পরই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ভোট কারচুপির একটা সীমা আছে, এখন যেভাবে হচ্ছে, তা ভাবা যায় না।
জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের রেজোয়ান আহমেদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী মামুনুর রশিদ ভোট কারচুপি ও পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার একই ধরনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
মুন্সীগঞ্জ :মুন্সীগঞ্জের দুটি আসনে তিনজন প্রার্থী মাঝপথে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী নুর মোহাম্মদ এবং এর কিছুক্ষণ পর স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাসিরুজ্জামান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুর ১টার দিকে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে জাসদের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
শেরপুর :শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে এজেন্টদের বের করে দিয়ে ৫০টি কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তারই এক সময়ের সহযোগী স্বতন্ত্র প্রার্থী বদিউজ্জামান বাদশা।
নারায়ণগঞ্জ :ভোট শুরু হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত আলী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর সমর্থকরা অর্ধশতাধিক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর :ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ উদ্দিন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহর সমর্থকরা ২৫টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। একই অভিযোগে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সমর্থকদের নিয়ে রামগতি উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
সিরাজগঞ্জ :সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালি) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মজিদ ম লের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান রতন। বেলকুচির সোহাগপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘোষণার সময় তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ এনেছেন তিনি।
বরগুনা :দুপুরে বরগুনা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন শিকদার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তার অভিযোগ, দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও তার সমর্থকরা পাথরঘাটা উপজেলার ৫১টি ও বামনা উপজেলার দুটি কেন্দ্র দখল করে তার নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লালমনিরহাট :ভোট কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা) আসনের জাসদের (ইনু) প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তিনি।
চট্টগ্রাম :দুপুর সোয়া ১টায় চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও বিকেল ৩টায় জাল ভোটের অভিযোগে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদ হাসান নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দেন।
জামালপুর :আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে সিল মেরে ভোট নেওয়া ও এজেন্টদের মারধরের অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামালপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজ আহমেদ হাসান, জামালপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান এবং জামালপুর-৫ আসনের জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী বাবর আলী খান। দুপুরের দিকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এ বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।
মানিকগঞ্জ :৬০ কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনে জাসদের প্রার্থী আফজাল হোসেন খান জকি।
নোয়াখালী :দুপুরে ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম।
ঝিনাইদহ :ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নায়েব আলী জোয়ার্দার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিকেল ৩টায়।
সিলেট :নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের দুই আসনের স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। গতকাল দুপুরে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর) আসনের প্রার্থী মুহিবুর রহমান ও সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ফারুক আহমদ।
খুলনা :বিকেল ৩টার দিকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খুলনা-২ আসনের জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী রাশিদা করিম ও খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান খান খোকন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ
নিহত ১২ :ভোটার উপস্থিতি কম'। একই সঙ্গে 'বাংলাদেশ অ্যাপিয়ার্স হেডেড ফর পলিটিক্যাল ইনসটেবিলিটি' শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদনও ছিল টাইমস ইন্ডিয়া অনলাইনে। ইন্দ্রানী বাগচির লেখা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিএনপির বর্জন এবং
জামায়াতের সহিংসতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্বাচন করছেন। কিন্তু দৃশ্যত, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে একটা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে।
এতে আরও বলা হয়, ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন নির্বাচিত হওয়ায় এ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটের দিনও বিরোধীদলীয় নেতারা নিরাপত্তা হেফাজতে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের যে কোনো অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য হতে পারে দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ থেকে যে নিরাপত্তাজনিত হুমকি ভারতের প্রতি ছিল, তা মোকাবেলায় ভারত গত পাঁচ বছর হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। বিএনপি-জামায়াত সরকার হলে সম্ভবত ভারতের দুশ্চিন্তা ততটা সহানুভূতি পাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটা এখন বিতর্কের বিষয় যে, অস্থিতিশীল বাংলাদেশ ভারতের জন্য ভালো হবে কি-না।
সময়ের ব্যবধানে নির্বাচনের আপডেট নিউজ প্রকাশের পাশাপাশি বার্তা সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণ :'আনরেস্ট থ্রেটেন বাংলাদেশ হার্ড ওন প্রগ্রেস' বা অস্থিতিশীলতায় হুমকির মুখে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত অগ্রগতি। এতে বলা হয়, নির্বাচনের পরও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্যাহত হতে পারে দেশটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি। এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম হলেও গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। এ সময়ে দারিদ্র্য কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। একসময়ের তলাহীন ঝুড়ি বাংলাদেশের পরিচয় এখন এশিয়ার উদীয়মান বাঘ বা ইমার্জিং টাইগার হিসেবে। কিন্তু এখন বিরোধী দলের বর্জনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
'পোলিং স্টেশন অ্যান্ড পুলিশ অ্যাটাকড অ্যাজ বাংলাদেশ ভোটস' শিরোনামে নির্বাচনের আপডেট এক খবরে এএফপির মন্তব্য, 'এই নির্বাচন সহিংসতাকে আরও উস্কে দিতে পারে_ গত বছরজুড়েই যে সহিংসতা অব্যাহত ছিল'। পাকিস্তানের 'ডন'সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এই সংবাদ হুবহু প্রকাশ করেছে।
'ভায়োলেন্স মারস কন্ট্রোভার্সিয়াল বাংলাদেশ পোলস' শিরোনামে আলজাজিরা অনলাইনের বিশ্লেষণ :নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ভোটের পর আরও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান দুই দলের দ্বন্দ্ব এই আশঙ্কার পাশাপাশি একটা অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে বলেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, গত কয়েক মাসে আমরা যে অচলাবস্থা দেখছি এ নির্বাচন কোনোভাবেই তার সুরাহা করবে না। 'ক্ল্ল্যাসেজ অ্যান্ড বয়কট মারড বাংলাদেশ ইলেকশন' শিরোনামে ভোটের খবর প্রকাশ করে বিবিসি অনলাইন। বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা বলেন, (আজ) ৬ জানুয়ারি সকালে এটা বড় প্রশ্ন হবে না যে ভোটে কে জিতেছে, বরং বড় প্রশ্ন হবে এরপর কী ঘটতে যাচ্ছে? বিবিসির মাহফুজ সিদ্দিক তার বিশ্লেষণে বলেন, নির্বাচনের পর শাসক দলের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে দেশ-বিদেশে আইনগত বৈধতার বিষয়টি। আর রাজনৈতিক সংকট থেকে যাবে সেই তিমিরেই। একমাত্র স্বস্তির কারণ হতে পারে প্রধান দুই দলের সম্ভাব্য সংলাপ।
'বাংলাদেশ ইলেকশন মারড বাই অপজিশন বয়কট, ভায়োলেন্স' শিরোনামে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দুই প্রধান দলের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনের কোনো ইঙ্গিত নেই। ফলে প্রশ্নের মুখে নির্বাচনের আইনগত বৈধতা। আর আশঙ্কা রয়েছে আরও সহিংসতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হওয়ার। 'বাংলাদেশ ভোটস অ্যামিড ভায়োলেন্স, অপজিশন বয়কট' শিরোনামে সিএনএনের বিশ্লেষণ : নির্বাচনী অস্থিতিশীলতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির মৌলিক সমস্যাটাই সামনে নিয়ে এসেছে। এমনিতেই যে দেশটি মোকাবেলা করছে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ। ভারতের ডিজিটাল নিউজ এজেন্সি ডিএনএর বিশ্লেষণ : 'বাংলাদেশ ইলেকশনস : আওয়ামী লীগ উইনস ডেমোক্রেসি লসেজ'। অর্থাৎ বাংলাদেশের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলেও পরাজয় ঘটবে গণতন্ত্রের। 'বাংলাদেশ ইলেকশনস : ১২ কিলড, ২০০ পোলিং স্টেশনস সেট অ্যাবলেজ ইন ভায়োলেন্স' শিরোনামে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় ফিরে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সমস্যাটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমাদেশ এ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিলি্লতে এখন যে আশঙ্কাটা কাজ করছে তা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশ শেখ হাসিনা সরকারকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। যার অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশটির ওপর। ১৯৯৬ সালে এমনটা হয়েছিল খালেদা জিয়া সরকারের। কিন্তু ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতন হয়েছিল। 'ফাইট ফর বাংলাদেশ : কান্ট্রি সিকস টু রিটেইন ইটস আইডেনটিটি অ্যামিড গ্রোয়িং ইসলামিক ইনফ্লুয়েন্স' (বাংলাদেশের জন্য লড়াই : ইসলামী প্রভাব বৃদ্ধির মধ্যে নিজের আসল পরিচয় বহাল রাখতে চাচ্ছে দেশটি) শিরোনামে আরেকটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, এই নির্বাচনে শুধু দুর্নীতি, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলার মতো সাধারণ বিষয়গুলোই ইস্যু নয়। বরং বাংলাদেশের মূল চেতনাটাই এখানে মূল ইস্যু। বাংলাদেশ কি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক না ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
January
(1176)
-
▼
Jan 06
(32)
- ইংলিশ লজ্জা!
- জয় দিয়ে বছর শুরু বার্সার
- গিনেস বুকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকার স্বীকৃতি ...
- জনশক্তি রফতানি কমেছে ৩২ শতাংশ by কিসমত খোন্দকার
- উৎসবের নির্বাচন হয়নি by শামস রাশীদ জয়
- চার স্থানে ৪ আ'লীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কর্তন
- পীরগাছায় সংঘর্ষে জামায়াত শিবিরের দুই নেতা নিহত
- প্রতিষ্ঠান পোড়ে, পোড়ে না বিবেক!
- হায়রে নির্বাচন! হায়রে দেশ!
- দুই বেয়াইয়ের অবাক কাণ্ড
- যা হলো তা মুখ রক্ষার নির্বাচন
- মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা হবে সুষ্ঠু ও সুষম: কেরি
- মিশেলকে ব্যতিক্রমী উপহার ওবামার
- মমতার পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘দুঃস্বপ্ন’
- পুলিশ-মুরসিপন্থী সংঘর্ষ, নিহত ১৭
- উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই আটকা
- ডুপ্লেক্স বাড়ি নিলেন না মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল
- স্কুল পোড়ানোর বিশ্বরেকর্ড এখন আমাদের! by শেখ রোকন
- শিকারি ও নেকড়ে এবং একটি বাঘ by অজয় দাশগুপ্ত
- ভোটের দিনে বর্জনের ঘোষণা ৩১ প্রার্থীর
- দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ
- একটিও ভোট পড়েনি ৪২ কেন্দ্রে!
- নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল আওয়ামী লীগ
- ভোটার কম :সহিংসতায় নিহত ২২
- দেশজুড়ে ব্যাপক বোমাবাজি ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ভাংচুর
- বিএনপি-জামায়াতের ৩৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার
- উৎসবের চেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল বেশি
- কোটচাঁদপুরে ৩ পুলিশ ও আনসারকে কুপিয়ে জখম
- গাইবান্ধায় ২০৯ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত, জামায়াত কর্মী ...
- মনিরামপুরের অর্ধশত কেন্দ্রে তাণ্ডব :জামায়াত কর্মী ...
- গুলি বোমা ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যেই ভোট হলো চট্টগ্রামে
- বরিশাল খুলনা রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে জাল ভোটের অভ...
-
▼
Jan 06
(32)
-
▼
January
(1176)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














