Wednesday, January 18, 2023

১০১ বছর বেঁচে থাকার ৭টি উপায়

ঠিক মতো ঘুমানো খুব জরুরি
যুক্তরাজ্যে অত্যন্ত সুপরিচিত একজন চিকিৎসক ড. ডন হারপার। মানুষের স্বাস্থ্যের উপর টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি বই লিখেছেন। বাইটির নাম ১০১ বছর সুস্থ হয়ে বাঁচুন।
নীরোগ দীর্ঘ আয়ুর জন্যে এখানে তার দেওয়া সাতটি টিপস তুলে ধরা হলো:

১. ঠিক মতো ঘুমান

দিনে ঠিক কতোটুকু সময় ঘুমাচ্ছেন এবং সেই ঘুম কেমন হচ্ছে সেটা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি ঘুম যেমন খারাপ তেমনি খারাপ অল্প ঘুমও। ড. হারপার বলছেন, সেকারণে ঠিকঠাক মতো ঘুমাতে হবে।
ফলে আমরা যারা ঘুমের চাহিদা মিটিয়ে নিতে অল্প একটু সময় চোখ বন্ধ রেখে ভাবছি যে আমাদের ঘুম হয়ে গেছে, তাদেরকে একটু সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, "দিনের বেলা অল্প কিছুক্ষণের জন্যে ঘুমিয়ে নেওয়া, যেটাকে আমরা ক্যাটন্যাপ বলি, সেটার কথা আমরা জানি। তবে সেটা ঠিকঠাক মতো হতে হবে। যেমন একটা ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ দেওয়া হয়। আমরা যদি শুধু ক্যাটন্যাপ দিয়ে চালিয়ে নেবার চেষ্টা করি তাহলে সেটা স্বাভাবিক হবে না। রাতের বেলা আমরা বেশ কয়েকবার গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই।"

২. হাঁটাচলা করুন

আমাদের অনেকেই প্রচুর সময় বসে থেকে কাটাই। এবং এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো নয়। সুসংবাদ হচ্ছে যে এজন্যে আমাদের ম্যারাথন রানার হতে হবে না। যেটা করতে হবে সেটা হলো শরীরটাকে একটু নাড়ানো- মানে হাঁটাচলা করা।
ড. হারপার তার বই লিখতে গিয়ে এরকম বহু মানুষের সাথে কথা বলেছেন যারা এক শতাব্দী কাল ধরে বেঁচে আছেন। তিনি দেখেছেন, তাদের সবার মধ্যেই একটি জিনিসের মিল আছে। সেটা হলো তারা কিন্তু কোন অ্যারোবিকসের ক্লাসে যায়নি, কিম্বা স্কোয়াশ খেলতেও যায়নি, কিন্তু তারা প্রচুর হেঁটেছেন।"

৩. আপনার লিভারকে একটু বিশ্রাম দিন

এক গ্লাস রেড ওয়াইন হয়তো অনেকের কাছে খুব আনন্দের কিছু। কিন্তু ড. হারপার বলছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় পান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, "অবশ্যই প্রত্যেক রাতে পান করা যাবে না। আপনার লিভারকে একটু বিশ্রাম দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দু'দিন।"

৪. আপনার জিন সম্পর্কে জানুন

বিশেষ কোন অসুখে পড়ার প্রবণতা হয়তো আপনার মধ্যে বেশি থাকতে পারে। কিন্তু ড. হারপার বলছেন, আপনার পরিবারের বা বংশের অন্যান্য সদস্যদের অসুখ বিসুখের ইতিহাস জানা থাকলে সেটা আমাদেরকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, "জিন যে শরীরে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই মুহূর্তে হয়তো আমি আমার জিন নিয়ে বেশি কিছু করতে পারবো না। কিন্তু কোন কোন জিনের কারণে আমরা বিশেষ একটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছি সেটা জানলে আমাদের সুবিধা হবে। হৃদরোগের কথাই ধরুন। আমি তো আর আমার জীবন নিয়ে যন্ত্রণায় ভুগতে চাই না। কিন্তু আমি হয়তো এক্স এবং ওয়াই ক্রোমোজোম সম্পর্কে আরো একটু সচেতন হতে পারি।

৫. কার্বোহাইড্রেটের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে

ভাত ও রুটির মতো কার্ব পরিহার করা আজকালকার দিনে হয়তো একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ডা. হারপার বলছেন, ব্যালেন্সড ডায়েটের জন্যে আমাদেরকে এসবও খেতে হবে। খুব বেশি আনন্দিত হবার কিছু নেই। এখানেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
"আমি সবসময় রিফাইন বা মসৃণ কার্ব না খেয়ে বরং একটু জটিল ধরনের (মোটা আটার) কার্ব খাওয়ার কথা বলবো। যেমন বাদামী চাল, আস্ত শস্য দানা সমেত মোটা আটার রুটি।

৬. প্রতিদিন হাসুন

সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত আনন্দের- এটা মনে রাখতে হবে। এটাকে দৈনন্দিন টুকিটাকি কাজের অংশ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে মানসিকতার একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। ড. হারপার বলেন, "এজন্যে ইতিবাচক মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
বইটি লিখতে গিয়ে গবেষণা করার সময় তিনি একজন বিজ্ঞানীর করা একটি গবেষণা খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তিনি দীর্ঘ আয়ুর সাথে তিনি হাসিখুশির থাকার একটা সম্পর্কে খুঁজে পেয়েছেন।
"এমন কিছু করুণ যা প্রতিদিন আপনাকে হাসিখুশি রাখবে," বলেন তিনি।

৭. চাপমুক্ত থাকার রাস্তা খুঁজে বের করুন

আমাদের অনেকেই নানা রকমের স্ট্রেসের মধ্যে থাকি বা মানসিক চাপে ভুগি। এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর। সেটা শারীরিক ও মানসিক দু'ধরনের স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করে।
"আজকের দিনে নানা কারণে স্ট্রেসের সৃষ্টি হয়। সেটা কাজের কারণে হতে পারে, হতে পারে সম্পর্কের কারণেও। পারিবারিক কারণেও হয়। কিন্তু এসব চাপ থেকে কীভাবে মুক্ত থাকা যায় তার উপায় প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে খুঁজে নিতে হবে। কারণ একেকজনের বেলায় এটা একেকভাবে কাজ করে," বলেন ড. হারপার।
এজন্যে একজন চিকিৎসক কিম্বা এসংক্রান্ত অন্যান্য পেশাজীবীদের কাছ থেকেও সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
"এটা খুবই ব্যক্তিগত। একেকজনের বেলায় একেক রকমের। সেটা তার মতো করে করা দরকার। তবে আমরা সবাই মিলে কিছু একটা করতে পারি।"

বাড়িতে থাকুক একটি তুলসি গাছ

তুলসি গাছের উপকারিতার কথা বলে আর শেষ করা যাবে না। আগেকার দিনে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতেই একটি করে তুলসি গাছ ছিল। ফ্ল্যাট বাড়ির চলে বাড়িতে গাছের সংখ্যা এখন শূন্যের কোটায়। তবুও নিজের প্রয়োজনে গাছ লাগানোর চর্চা শুরু হয়েছে। সেই চর্চায় থাকুক একটু তুলসি গাছ। জেনে নিন গাছের যত্ন আর গাছের উপকারিতার কথা।
তুলসি গাছের যত্ন
১) তুলসি গাছে প্রতিদিন পানি দিতে হয়।
২) গাছের গোড়ায় রান্না ঘরের সবজির খোসা, চাপাতা, ডিমের খোসা দিন সপ্তাহে একদিন।
৩) ঘরে রোদ না এলে একদিন অন্তত গাছটিকে রোদে রাখুন।
তুলসি গাছের উপকারিতা
১) বমি কিংবা মাথা ঘোরা বন্ধে তুলসি পাতার রসের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
২) সকালবেলা খালি পেটে তুলসি পাতা চিবিয়ে রস পান করলে খাবার রুচি বাড়ে।
৩) ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসি পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘায়ের স্থানে লাগান, দ্রুত কমে যাবে।
৪) শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসির রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে।
৫) পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরার সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খেলেই পেট ঠিক হয়ে যাবে।

Sunday, January 15, 2023

গল্প- আহীর আলমের বাম পা by মনি হায়দার

------ক------

তুমি আবিদ রাজা! ঠিক বলিনি আমি?

মোবাইলের ওপাশে কাঠফাটা চিৎকার। সেই হাসির তরঙ্গের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দিয়ে হাসে সিলভিয়া আখতার,

হাসছো কেন? বলো আমি তোমাকে চিনেছি কি না!

চিনতে হবে কেন? আমার নম্বর সেভ নেই তোমার সেটে?

না, তোমার নম্বর আমার মোবাইল সেটে নেই। কণ্ঠস্বরে চিনেছি। একটু থেমে সিলভিয়া প্রশ্ন করে, রাজা এতদিন পর আমাকে মনে পড়ল?

তোমাকে আমার সব সময়ে মনে পড়ে।

হাসে সিলভিয়া। হাসতে হাসতে একটু বিরতি নেয়, কণ্ঠে এক ধরনের মাদকতা। সুখের শিস বাজে, তুমি আমার মোবাইল নম্বর পেলে কোথায়? কার কাছ থেকে?

সিলভি?

বলো।

তোমার নাম্বার আমার মোবাইলেই ছিল। মনে আছে, বছর আটেক আগে নিউমার্কেটে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল।

রাইট, আমার মনে পড়ছে। তো সেই আট বছর পর আজ আমাকে ফোন দিলে রাজা? গলায় ভেজা অভিমান সিলভিয়া আখতারের।

শোনো সিলভি, একসময়ে তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম, তুমি জানো। আহা কী উন্মাতাল সময় কেটেছে তোমার আমার। কিন্তু আমরা এখন সংসারের ট্রেনে। তোমার  স্বামী-সংসার আছে, আমারও আছে।

তাই বলে তুমি আমাকে একটা ফোন করবে না?

আবিদ রাজা গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করে, এই যে এখন করলাম।

আট বছর পর! এই আমাকে ভালোবাসো?

ওপাশের উত্তর শুনতে পারে না আহীর আলম, কেবল দেখতে পায় সিলভিয়া আখতারের রিনিক-ঝিনিক হাসি। হাসতে হাসতে দেয়ালের সঙ্গে হেলান দেয় সিলভিয়া। দেয়ালে তেরছা হেলান দিয়ে কথা বলা সিলভিয়ার একটি প্রিয় তরঙ্গ। যখন মুডে থাকে, খুশিতে ডগবগ করে, তখন দেয়ালে শরীর ঠেস দিয়ে বঙ্কিম-গ্রীবায় দাঁড়ায় ও। অনেক অনেক দিন পর দেখল সিলভিয়ার এই বঙ্কিম-শরীর, তাও আড়াল থেকে, লুকিয়ে।

--------খ-------

প্রতিদিনের মতো সকালের দিকে বের হয়েছিল আহীর আলম। বাঁ পা প্রায় অবশ। নিজেরই বাঁ পা, যে-পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে চলাফেরা করে, সেই পায়ের কা- দেখে অবাক। লবণ এবং বাটা লাল
মরিচ-মাখানো থেঁতলানো কষ্ট বাঁ পায়ের ভেতরের কোষে কোষে সিদ্ধ করছে। কেবল নিজেই টের পায়। ধীরে ধীরে পায়ের পাতা অবশ হয়ে হয়ে ওপরের দিকে উঠছে। নিজেরই পা আহীর আলমের, টের পাচ্ছে নিঃশব্দ সর্বনাশ; কিন্তু কারো কাছে বলা যাচ্ছে না। কেউ গুরুত্বও দিচ্ছে না। ডাক্তারের কাছে গেলে চিরাচরিত নিয়ম মেনে বলে, ‘আপনার বাঁ পায়ের রগ এলোমেলো হয়ে গেছে।’

‘কিন্তু যখন অপারেশন করলেন আমার কোমরে, তখন তো বলেননি আমার বাম পায়ের রগ এলোমেলো হয়ে যাবে?’ পরিচিত ডাক্তার আহীর আলমের দিকে কড়া চোখে তাকায়, ‘ডাক্তারের কাজ রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসা করা। আমি সেটা করেছি। চিকিৎসার পর শরীরের কাঠামো অনুসারে অনেক প্রকারের চেঞ্চ আসে। আপনার সেই চেঞ্চ হয়েছে …’

আহীর আলমের ইচ্ছে হয় ডাক্তারের মাথাটা এক কোপে শরীর থেকে নামিয়ে দিতে। ডাক্তার নিজের পজিশন বুঝে মুহূর্তে কথা পরিবর্তন করে। অবশ্য ডাক্তার অনেকগুলো নিয়ম বলেছিল অপারেশনের পর, ‘আপনি ছয় মাস পর্যন্ত কোমরে বেল্ট পরে হাঁটবেন। পারলে এক বছর। সব সময়ে সোজা হয়ে বসবেন। নুয়ে কোনো কিছু তুলবেন না। কোনো ওজন বহন করবেন না।’

বাসায় এসে কোমরে বেল্ট পরার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু বেল্ট পরে প্যান্ট পরলে কোমরটা বেঢপ মোটা হয়ে যায়। পথের লোকজন অবাক চোখে তাকায়। ওপর-নিচ ঠিক মাঝখানে হঠাৎ মোটা, এটা মানুষ না নতুন জন্তু, অবাক প্রশ্ন নিয়ে তাকায় রাস্তার লোকজন। অফিসের লোকজনও বিশ্রী মন্তব্য করে। এবং সকলের চোখ থাকে আহীর আলমের মুখ নয়, বেঢপ কোমরের ওপর। আবার যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার মোটা বেল্ট বাদ দিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা দামি কিন্তু পাতলা একটা বেল্ট দেয়। নতুন বেল্ট শার্ট-প্যান্টের নিচে পরলে কেউ বুঝতে পারে না। আনন্দের সঙ্গেই বেল্ট পরে আহীর আলম; কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় দুপুরের দিকে। দুপুরের দিকে ঘামে বেল্ট ভিজে গেলে শুরু হয় চুলকানি। কোমরের ওপর প্রবল চুলকাচ্ছে, বেল্টের ওপর দিয়ে হাত দিয়ে চুলকালে মুহূর্তের জন্য চুলকানি থামে; কিন্তু হাতের চুলকানি বন্ধ হলে আবার শুরু হয়। ইচ্ছে হয় প্যান্ট শার্ট জাঙ্গিয়া খুলে চুলকায় …। বাধ্য হয়ে অস্ট্রেলিয়ার পাতলা বেল্ট রেখে দেয়। মোটা বেল্টও …। সব সময়ে সোজা হয়ে বসবেন। সব সময়ে সোজা হয়ে বসা যায়? জীবনে কখনো কি সোজা হয়ে বসেছিল? কেবল স্কুলে পিটি করার সময়ে সেই যে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হতো কয়েক মিনিট …। কিন্তু পিটি স্যার কখনো সোজা হয়ে বসতে বলেননি। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই বসেছে আজীবন। কিন্তু যখন সচেতন হয়ে বসতে যায়, মেরুদণ্ড সোজা করে, কয়েক মিনিট পর গোটা শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়, ব্যথা বাড়ে মেরুদণ্ড। এক ব্যথা রিমুভ করতে গিয়ে আরেক ব্যথা ডেকে আনবে? নিজেরই ওপর ভয়ানক বিরক্ত আহীর আলম, কেন এই বিষণ্ণ বিপন্ন জীবন আমার? নুয়ে কোনো কিছু তুলবেন না। বললেই হলো, সংসারে কে আছে সবসময়ে মাটিতে রাখা জুতো পরিয়ে দেবে? বাথরুমের বদনা এগিয়ে দেবে? পকেট থেকে টাকা পড়ে গেলে কে তুলবে? কেউ তখন পাশে থাকে না। বাধ্য হয়ে নিজেকেই তুলতে হয় … এসব ডাক্তার বুঝবে? অন্ত নিপীড়নের এই খেলা থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। ফলে, বাঁ পা আহীর আলমের সর্বনাশের প্রতীক হয়ে দেখা দিচ্ছে।

বাসায় নিজেই একটা যন্ত্রণার যন্ত্র! সব সময়ে মেজাজ থাকে তিরিক্ষে। ছোট ছোট ঘটনাও বড় করে দেখার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মেয়েটা গতকাল বাইরে থেকে এসে ব্যাগটা রেখেছিল টেবিলের ওপর। আধা ঘণ্টা হয়ে যায় মেয়েটা ব্যাগ নেয় না। আহীর আলমের মনে হলো, এটা আমাকে অপমান করার জন্য করা হয়েছে। রেগেমেগে চিৎকার করে বাসার মধ্যে কুরুক্ষেত্র বানিয়ে ফেলল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। মেয়েটা মাফ চেয়ে ব্যাগটা নিয়ে যাওয়ার পর স্ত্রী সিলভিয়া আখতারের মুখোশ প্রকট আকারে প্রকাশ হয়ে যায়।

তুমি কী পেয়েছ? ঘর ছেড়ে চলে যাবো? সারাদিন অপদার্থের মতো বাসার মধ্যে বসে থাকো। কোনো কাজ করো না, অফিসে যাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছ, বসে বসে সংসারের মানুষের হাগামুতা দেখলে চলবে? তুমি আর বাসায় থাকবে না। বের হও বাসা থেকে … কান্না জুড়ে দেয় সিলভিয়া।

হতভম্ব আহীর আলম, আমি এই সংসারের জঞ্জাল? আমি এই সংসারের কেউ না? আমি অপ্রয়োজনীয় বোঝা?

সত্যি সত্যি বের হয়ে যায় আহীর আলম। রাগে ক্ষোভে দুঃখে বের হওয়ার সময় খেয়ালও থাকে না, পরনে লুঙ্গি আর গায়ে পুরনো রংচটা ফতুয়া। বাসা থেকে বের হয়ে অলিগলি শেষে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। হাজার হাজার গাড়ি বাস রিকশা এবং মানুষ ছুটে চলেছে। এই ছুটে চলার পথে আমি আহীর আলম কতটুকু? একটি বিন্দু? বিন্দুরও বিন্দু? বিশাল সংসারজগতে আমার কি কোনো অবস্থান আছে? আমি হাঁটতে পারি না, আমারই শরীরের বাঁ পা আমার বিরুদ্ধে খেলছে। আমাকে কাঁদাচ্ছে, আমাকে ভোগাচ্ছে …। রাস্তা ধরে, ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকে আহীর আলম। হাঁটার সময় বাঁ পাটাকে মাটির সঙ্গে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে ডান পায়ের ওপর দিয়ে হাঁটে। অনেকক্ষণ হাঁটার পর একটা বাড়ির কার্নিশের নিচে ছায়া দেখে দাঁড়ায়। হাঁপাচ্ছে। শরীর নুয়ে আসছে, শরীর ভেঙে যাচ্ছে। বাঁ পা কাঁপছে থরথর …। বসে পড়ে আহীর আলম, বাঁ পা জুড়ে বুকের সঙ্গে জাপটে ধরে, হায় মানুষ, হায় জীবন, তুমি আমাকে কোন তীর্থবাসনায় নিয়ে যাচছ? দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করছে আহীর আলম।

বন্ধ চোখের ওপর ছায়া পড়ে আহীর আলমের। বুকের সঙ্গে বাঁ পা চেপে ধরেই দৃষ্টি মেলে, সামনে দাঁড়িয়ে এক যুবক। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে আহীর আলমকে। বোঝার চেষ্টা করছে লোকটা এখানে কী করছে! অথবা জ্ঞান হারিয়েছে কি না! চোখ মেলে তাকালে যুবকের চোখেমুখে স্বস্তি দেখা যায়। পকেটে হাত দিয়ে খুচরো টাকা বের করে দুহাতের তালুতে আঙুলে টাকা বেছে একটা বিশ টাকার নোট আহীর আলমের পায়ের কাছে রেখে দ্রুতপায়ে হেঁটে চলে যায়।

ঘটনাটা প্রথম কয়েক মুহূর্ত বুঝতেই পারে না আহীর আলম। অবাক চোখে যুবকের চলে যাওয়া দেখে। যুবক চোখের আড়ালে গেলে ফিরে আসে দৃষ্টি পায়ের কাছে। চকচক করছে নতুন বিশ টাকার নোট। বাতাসে একটু একটু নড়ছে সবুজ নতুন নোটটা লকলকে জিহবা তুলে। নোটটা মিটিমিটি হাসছে, এই বাঁ পা লুলা আহীর আলম হারামজাদা, শিগগির আমারে পকেটে রাখ। কেউ দ্যাখলে ছোঁ মাইরা লইয়া যাইবে।

আর তখনই মনে পড়ে আহীর আলমের, আরে ওই যুবক তো বিশ টাকার নোট আমাকে ভিক্ষুক মনে করে দিয়েছে। চট করে দাঁড়ায় কিন্তু বাঁ পা যথারীতি বিট্রে করে। দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে বাঁ পায়ের গোড়ালি থেকে একটা চিনচিনে ব্যথা উঠে এসে কোমরের মাঝখানে চুমু খাচ্ছে, চুমুতে ভয়ানক বিষ।

মা গো! আহীর আলম আবার বসে বাড়ির ছায়ায়। বাঁ পা টেনে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে, আর ডান পাটা সামনের দিকে ছড়িয়ে রাখে। বুঝতে পারে, মানুষ এভাবে ভিক্ষুক হয়। অনেকক্ষণ বাড়ির ছায়ায় থাকতে থাকতে আহীর আলমের চোখে ঘুম নেমে আসে। প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘুমানোর পর ঘুম ভাঙে আহীর আলমের। মাথার ওপরের রোদের ছায়া কাত হয়ে ঝুলে পড়েছে। এবং পেটে প্রচণ্ড খিদে অনুভব করে। কিন্তু কোথায় যাবে? বাসায় আর ফিরতে ইচ্ছে করছে না। অবাক কাণ্ড, সেই সবুজ বিশ টাকার নোট এখনো পড়ে আছে। কেমন একটা মায়া জন্মে টাকাটার প্রতি। এতো লোক আসা-যাওয়া করলো কেউ টাকাটা নিল না? ভালো করে তাকিয়ে দেখে বিশ টাকার সঙ্গে আরো কয়েকটি এক টাকা, দুই টাকা পাঁচ টাকার নোট ঝিমাচ্ছে পায়ের আশপাশে। সঙ্গে সঙ্গে বিকট হাসিতে ফেটে পড়ে আহীর আলম। রিকশা চালিয়ে যেতে যেতে রিকশাঅলা বলল, হালায় পাগল অইয়া গেছে গা।

কানে তোলে না রিকশাঅলাকে আহীর আলম। টাকাগুলো হাতে নিয়ে গুনতে শুরু করে, আটত্রিশ টাকা। টাকাটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, ব্যথাটা অনেকটা কমে এসেছে। বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপর বাঁ হাতের ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করে। পেটের ভেতরে খিদেটা বুভুক্ষু কুকুরের মতো হামলে হামলে উঠছে …। ছোট রাস্তা পার হয়ে বড় রাস্তায় ওঠে …। বড় রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকান। বসে দোকানের বেঞ্চে।

আমাকে একটা চা আর টোস্ট দিন।

দোকানদার চা আর দুটি টোস্ট দিলে গরম চায়ে ডুবিয়ে টোস্ট খেতে শুরু করে আহীর আলম। চায়ে চুবানো নরম টোস্ট মুখে দিলে অমৃতের স্বাদ লাগে। জীবনে কতবারই তো চায়ে ডুবিয়ে টোস্ট খেয়েছে; কিন্তু এমন স্বাদ তো লাগেনি। ভিক্ষার টাকায় খাচ্ছে … সঙ্গে সঙ্গে আহীর আলমের বুকের গভীর থেকে একধরনের মৃত মানুষের গলিত লাভা এসে মুখ ভরে যায়। খক-খক খ-ক-ক-খ বমি করতে থাকে। দোকানদার আর পাশের মানুষেরা বিরক্ত। বমি করে আহীর আলম দাঁড়ায়। হাঁ করে শবাস নেয়। ভিক্ষার টাকা থেকে হিসাব করে ষোলো টাকা দিয়ে এক গস্নাস পানি খেয়ে আবার বাঁ পায়ের ওপর বাঁ হাতের ভর রেখে ধীর ধীরে হাঁটতে থাকে। কোথায় যাবে আহীর আলম? বাসায়? যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে পরাজিত কুকুরের বাসনায় বাসার দিকে হাঁটে। বাসার কাছে এসে থমকে দাঁড়ায়। যাবে? নিজের সঙ্গে লড়তে শুরু করে।

না, যাবো না বাসায়।

গাধা নাকি! নিজের বাসা। নিজের কামাইয়ের টাকায় বাসার ভাড়া দাও, যাবে না কেন?

সংসারের কেউ আমাকে চায় না।

Monday, January 9, 2023

ভারতের যেসব নববধুদের কুমারীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়

কুমারীত্ব পরীক্ষার নামে চরম অবমাননা
হিন্দুদের পুরাণ 'রামায়ণ'-এ সীতাকে অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছিল।
অনেক সীতাকে এখনও দিতে হয় অনেকটা সেইরকমই 'অগ্নি পরীক্ষা'।
সীতাদের নাম হয়তো বদলে গিয়ে কোথাও হয়েছে অনিতা বা অন্য কিছু।
ঘটনাও 'রামরাজ্য' অযোধ্যার পরিবর্তে হয়েছে মহারাষ্ট্রের কঞ্জরভাট নামে আদিবাসীদের সমাজ।
ওই সমাজের সদ্য বিবাহিত নারীদের পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ের দিন পর্যন্ত তাঁদের কৌমার্য বজায় আছে।
নবদম্পতির বিছানায় পাতা সাদা চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই পাওয়া যায় প্রমাণ। তবেই সমাজ মেনে নেয় যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আর নিজের কৌমার্য প্রমাণে ব্যর্থ হলে নববধূর কপালে জোটে জুতোপেটা, অথবা বের করে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে।
"আমি তখন বেশ ছোট। বছর ১২ বোধহয় বয়স। একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেছিলাম যে নববধূকে অনেক লোকে মিলে জুতো পেটা করছে। বুঝতেই পারি নি কেন মারছে সবাই মিলে ওই নতুন বউকে। কিছুটা বড় হয়ে গোটা বিষয়টা পরিষ্কার হয় আমার কাছে। সদ্য বিবাহিতা ওই নারী আসলে কৌমার্যের পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন নি," বিবিসিকে বলছিলেন মারাঠি যুবক বিবেক তামাইচিকার।
আর যাতে কোনও নববধূকে বিয়ের পরেই কৌমার্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জুতোপেটা না খেতে হয়, তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে বিবেক আর তাঁর কয়েকজন বন্ধু নিজেরাই মার খেয়ে এসেছেন।
এই প্রথা বন্ধের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বিবেক। 'স্টপ দা ভি রিচুয়াল' নামে একটা হোয়াটস্ অ্যাপ গ্রুপও হয়েছে, যেটির ৬০ জন সদস্যের অর্ধেকই নারী। 'ভি রিচুয়াল' অর্থ ভার্জিনিটি রিচুয়াল, বা কৌমার্য পরীক্ষা।
পুণে শহরে একটা বিয়েবাড়িতে বিবেক আর তাঁর কয়েকজন বন্ধু এই কৌমার্য পরীক্ষা বন্ধের স্বপক্ষে প্রচার চালাতে গিয়েছিলেন।
সেখানেই কঞ্জরভাট সম্প্রদায়ের মানুষজন মারধর করেন। পুলিশ সেখান থেকে চল্লিশ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে।
ছোট আকারে প্রকাশিত সেই সংবাদটা দেখেই খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা গেল যে কৌমার্য পরীক্ষার মতো একটা মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা এখনও চলছে।
কীভাবে নেওয়া হয় কৌমার্যের পরীক্ষা?
বিয়ের ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ শেষ হওয়ার পরে নববিবাহিত দম্পতিকে একটা হোটেলের ঘরে পাঠানো হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় একটা সাদা চাদর।
যদি হোটেলের ভাড়া দিতে নববিবাহিত দম্পতির পরিবার অক্ষম হয়, তাহলে পঞ্চায়েতই এগিয়ে এসে সেই ভাড়া মিটিয়ে দেয়।
ঘরের বাইরে অপেক্ষায় থাকেন দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা।
বিবেক তামাইচিকার বলছিলেন, "অনেক সময়ে ঘরের ভেতরে পাঠানোর আগে বরকে শিক্ষিত করে তোলার নাম করে মদ খাওয়ানো হয় আর পর্ণোগ্রাফি দেখানো হয়।"
শারীরিক মিলনের শেষে যখন নবদম্পতি বাইরে আসেন, তখন দেখা হয় যে ওই সাদা চাদরে নববধূর রক্তের দাগ লেগেছে কী না।
দাগ থাকলে নববধূ যে বিয়ের সময় পর্যন্ত কুমারী-ই ছিলেন, সেটাই মনে করা হয়। তবেই পঞ্চায়েত ওই বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়।
আর যদি সদ্য বিবাহিতা নারী সেই পরীক্ষায় ফেল করেন, তাহলে তার পরিণাম ভোগার জন্য তাঁকে তৈরি থাকতে হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া নায়েক বিবিসিকে বলছিলেন, "প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের সময়ে যে নারীর দেহ থেকে রক্ত বেরবেই, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অনেক সময়ে প্রথমবার শারীরিক মিলন হলেও কুমারী মেয়েদের শরীর থেকে রক্ত নাও বেরোতে পারে। এর অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু রক্ত না বেরনো মানেই যে কোনও নারী কুমারী নন, এটা বলা অবৈজ্ঞানিক।"
'কুমারী না হওয়ার অপরাধে" নববধূকে বেইজ্জত তো করাই হয়, এমনকি পেটানোও হতে পারে। আর স্বামীটি পেয়ে যায় সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগ করার অধিকার।
কৌমার্যের পরীক্ষায় ফেল করে গিয়েছিলেন অনিতা। [পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করা হল]
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, "বিয়ের আগেই হবু স্বামীর সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। তাই আমার স্বামীর একটা ভয় ছিল যে আমি হয়তো ভার্জিনিটির পরীক্ষায় পাশ করতে পারব না। ভেবেছিলাম আমার স্বামী পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু সেই রাতে যা ঘটল, তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না একদমই। "
'পরীক্ষা' দিয়ে বেরনোর পরে সকলের সামনে পঞ্চায়েত বসিয়ে তাঁর স্বামীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে অনিতা 'পবিত্র' না 'অপবিত্র'।
"আমার স্বামী, নির্দ্বিধায় আঙ্গুল তুলে রক্তের দাগহীন সাদা চাদরটা দেখিয়ে দিল। অথচ তার কথাতেই রাজী হয়ে আমি বিয়ের মাস ছয়েক আগে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলাম। আর ওই কঠিন সময়ে সে আমাকেই অপবিত্র বলে দিতে একবারও দ্বিধা করল না! পঞ্চায়েত আমাকেই 'ফেক' বলে দিল," বলছিলেন অনিতা।
পুলিশ আর স্থানীয় সামাজিক আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় অনিতার সঙ্গে থাকতে রাজী হয়েছিলেন তার স্বামী।
তবে স্বামীর ঘর করাটা দিনকে দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল অনিতার কাছে। প্রতিদিনই মারধর করত অনিতার স্বামী। আবার পঞ্চায়েতও বেইজ্জত করত তাঁকে। কোনও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে দেওয়া হত না।
"আমি গর্ভবতী হওয়ার পরেও অবস্থা পাল্টায় নি। আমার স্বামী আমাকে সবসময়ে জিজ্ঞাসা করত যে পেটের বাচ্চাটার বাবা কে! সে তো জানত কার সন্তান রয়েছে আমার গর্ভে! শুধু স্বামী নয়, পঞ্চায়েতের লোকেরাও ওইসব বলত," জানাচ্ছিলেন অনিতা।
সন্তান প্রসবের দুই মাসের মধ্যে সদ্যোজাত সহ অনিতাকে তাড়িয়ে দেয় তাঁর স্বামী।
অনিতা এখন নিজের বাবা-মায়ের কাছে থাকেন।
আর তাঁকে যেহেতু পঞ্চায়েত 'অপবিত্র' বলে রায় দিয়েছে, তাই অনিতার দুই বোনের বিয়ে দিতেও সমস্যা হচ্ছে।
"আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে এবছরের শেষে। কিন্তু আমি তো পঞ্চায়েতকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি যে আমার স্ত্রী কোনওমতেই ওই কৌমার্যের পরীক্ষা দেবে না। কিন্তু শুধু আমি বা আমাদের গ্রুপের সদস্যরা বললে তো হবে না। এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বাকি অংশকেও," বলছিলেন বিবেক তামাইচিকার।
কুমারীত্ব পরীক্ষার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ