Wednesday, April 21, 2010

সুদানে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পেছাতে পারে

সুদানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা কয়েক দিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান হাদি মোহাম্মদ আহমেদ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান। আজ মঙ্গলবার ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল।
হাদি মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ফলাফল ঘোষণার কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করতে পারছি না। কারণ, ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া অনেক জটিল। মঙ্গলবারের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল। পরে আমরা বুধবারের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমরা ততটা প্রস্তুত নই।’
সরকারি সংবাদ সংস্থা এসইউএনএ জানায়, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির এগিয়ে রয়েছেন। তিনি ১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন।

ধীরেই চলছে ব্রিক

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন—এই চার জাতির উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকের সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রাজিল সম্মেলন কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এটি ছিল সংস্থাটির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন।
সম্মেলন শেষে সংগঠনটির এক যৌথ ঘোষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে তাদের নীতিমালায় সংস্কার আনতে বলা হয়েছে। যদিও ব্রিকের কাছ থেকে আসা এ ঘোষণায় কোনো নতুনত্ব নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনটির নেতাদের অস্পষ্ট যৌথ ঘোষণা থেকে এটাই প্রতীয়মান যে শক্তিশালী চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন এ সংস্থাটি তাদের কাজ ও ঐকমত্যের ব্যাপারে খুব একটা সংহত নয়।
ব্রিকের যৌথ ঘোষণায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে প্রচলিত কোটা প্রথায় সংস্কার আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনের আগেই প্রচলিত কোটা প্রথায় সংস্কার আনার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সংগঠনটি।
এ আহ্বানের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে এ নতুন সংগঠনটি তেমন কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো চুক্তিতেও উপনীত হতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ দাঁড়ায় চার জাতির এই অর্থনৈতিক জোটকে নিয়ে যতটা আশা করছেন, তারা তেমনটা এগিয়ে যেতে পারেনি। ব্রাজিলের বিশ্লেষক অ্যান্থনি স্পানাকোস বলেছেন, যৌথ ঘোষণা দেখে মনে হচ্ছে, এ সংগঠনটি নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারছে না। আলোচনা আর আদর্শ গঠন ছাড়া এ সম্মেলনের মাধ্যমে তেমন কিছুই অর্জিত হয়নি।
চীনের বিশ্লেষক মাইকেল গ্লেসনির মতে, ব্রিক তাদের যৌথ ঘোষণায় জি-২০ কে মন্দা-পরবর্তী বিশ্ব গড়তে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং তারাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। এর বাইরে ওই সম্মেলনে আর কোনো অগ্রগতির দিক লক্ষ করা যায়নি। গ্লেসনির মতে, বিশ্ব অর্থনীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করাটাই আসলে বড় বিষয়। সে ক্ষেত্রে ব্রিকের ভূমিকা এখনো ততটা জোরালো নয়।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, এ মাসে জি-২০ অর্থমন্ত্রী-পর্যায়ের সম্মেলন ও নভেম্বরে আইএমএফের সম্মেলনকে সামনে রেখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি তাদের নীতিমালা সংস্কারের জন্য ব্রিকস যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তা তাদের আত্মবল ও ঐক্য বৃদ্ধিরই লক্ষণ।
বিশ্লেষক মাইকেল গ্লেসনির মতে, কোটা সংস্কারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়াটা চাপ সৃষ্টি করার একটি পন্থা এবং এটা ব্রিকের জন্য একটি বিজয়েরও কারণ হতে পারে। কারণ, তারা বলতে পারবে, আমরা চাপ তৈরি করেছি বলেই এটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
ব্রিকভুক্ত রাষ্ট্রগুলো বিশ্ব অর্থনীতির ২০ শতাংশের যোগানদাতা। সংগঠনটি তাদের নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা ইত্যাদি স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

ছাই উদিগরণ কমে এসেছে, বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা

আইসল্যান্ডের এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি থেকে গতকাল সোমবার আরেক দফা লাভা উদিগরণ শুরু হলেও ছাইয়ের উেক্ষপণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে। সে দেশের ভূকম্পনবিশারদেরা বলেছেন, গতকাল দ্বিতীয় দফায় আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার উদিগরণ শুরু হলেও লাভার সঙ্গে ছাইভস্মের পরিমাণ কম ছিল। ফলে দু-এক দিনের মধ্যে ইউরোপে স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ইতিমধ্যে সীমিত আকারে কয়েকটি এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট চালু করেছে। তবে ইউরোপভিত্তিক প্রধান প্রধান বিমানবন্দর গতকালও বন্ধ ছিল। চলমান ফ্লাইট-সংকট পর্যালোচনার জন্য গতকাল ইউরোপের দেশগুলোর পরিবহনমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। অন্যদিকে বিশ্ব বিমান পরিবহনবিষয়ক সংস্থা আইএটিএ চলমান সংকটের জন্য ইউরোপের দেশগুলোকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে তারা এ সংকটকে ‘ইউরোপসৃষ্ট বিশৃঙ্খলা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এখনো বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে হাজার হাজার যাত্রী আটকে আছেন। বিশেষ করে মিসরে প্রায় ১৭ হাজার পর্যটক আটকা পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। আগামীকাল বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমান চলাচলে বিপর্যয়ের কারণে ওই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি অনলাইনের।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গতকাল নতুন করে উদিগরণ হলেও লাভার রং ছিল ধূসর। এ ছাড়া তাতে কিছুটা সাদা রঙের মিশ্রণও দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ওই লাভায় ছাইয়ের পরিমাণ কমে এসেছে। লাভায় বাষ্পের আধিক্য থাকায় মাঝে মাঝে সাদাটে রং চোখে পড়ছে।
ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ডের ভূকম্পনবিশারদ ব্রিন্ডিস ব্রান্ডসেডাটির বলেছেন, জ্বালামুখের ঊর্ধ্বমুখী ভস্মপ্রবাহের উচ্চতা দুই কিলোমিটারে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে অগ্ন্যুৎপাত শুরুর সময় এর উচ্চতা ছিল ১১ কিলোমিটার।
ইউরোপের ৩৮টি দেশের বিমানপথের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোকন্ট্রোল বলেছে, ইউরোপে স্বাভাবিক অবস্থায় যেখানে প্রতিদিন ২৮ হাজার ফ্লাইট চালু থাকে, সেখানে গতকাল মাত্র আট হাজার চালু ছিল। লন্ডনের হিথ্রো, প্যারিসের চার্লস ডি গাউলে, আমস্টার্ডমের শিফল বিমানবন্দর গতকাল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা হলেও পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রোম ও মাদ্রিদের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত আকারে বিমান ওঠানামা করেছে।
বিশ্ব বিমান পরিবহন-শিল্পের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান জিওভানি বিসিগনানি বিবিসিকে বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলোর খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে এ বিপর্যয় হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারগুলো বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে এবং তাঁদের সঙ্গে কোনো রকম সমন্বয় না করেই অনুমাননির্ভর আশঙ্কা থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ তারা যে পরিমাণ ঝুঁকির কথা বলছে, বাস্তবে বিমান উড্ডয়নে মোটেও ততটা ঝুঁকি নেই। তিনি বলেছেন, তাদের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণেই বিমান কোম্পানিগুলোর কোটি কোটি ডলারের গচ্চা দিতে হয়েছে।

টি-টোয়েন্টির গুল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উমর গুলকে হারানোটা যে কত বড় ক্ষতি, এটা শহীদ আফ্রিদির চেয়ে ভালো আর কারও বোঝার কথা নয়। রেকর্ড বইয়ের দিকে তাকালে পাকিস্তান অধিনায়কের দুঃখটা বুঝতে পারবেন আপনিও। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪৩), ম্যাচে সেরা বোলিং (৬/৫), পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিনবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ, এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি ১৯ উইকেটের রেকর্ড (২০০৯ সালে, রেকর্ডে সঙ্গী সাঈদ আজমল) তাঁর। টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট পাওয়া তিন বোলারের একজন তিনি, এ ছাড়া চার উইকেট পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি তিনবার। সবচেয়ে বেশি ২০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন এমন বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং গড় (১২.৮১), সেরা স্ট্রাইক রেট (প্রতি ১৩ বলে উইকেট) আর তৃতীয় সেরা ইকোনমি রেট (৫.৯০)। টেস্ট-ওয়ানডেতেও ভালো, কিন্তু টি-টোয়েন্টির গুল সত্যিই অসাধারণ

তাঁরাও হকির প্রাথমিক দল

ক্লাব কাপ হকি শুরুর আগে দল না পেয়ে অভিমানে জাতীয় দল থেকে অবসরে গিয়েছিলেন ছয় হকি খেলোয়াড় মশিউর রহমান (বিপ্লব), আবদুস সাজ্জাদ (জন), মোশারফ হোসেন (কুটি), জাহিদ বিন তালিব (শুভ), রিমন কুমার ঘোষ ও খন্দকার হাসান। তবে আসন্ন এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের প্রাথমিক দলে হাসান ছাড়া ডাক পেয়েছেন বাকি সবাই। আজ শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের জন্য ২৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় কোচ বরকতউল্লাহ ও আবদুল্লাহ পিরুর কাছে রিপোর্ট করতে হবে তাঁদের। আগামী ৭ মে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বাছাইপর্ব।
প্রাথমিক দল: মেহরাব হোসেন (কিরণ), জাহিদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, ইশা মিয়া, আসাদুজ্জামান (চন্দন), মশিউর রহমান (বিপ্লব), মামুনুর রহমান (চয়ন), ইমরান হাসান (পিন্টু), তাপস বর্মণ, ইরফানুল হক, আল মশিউর, রাসেল মাহমুদ (জিমি), শেখ মোহাম্মদ (নান্নু), কামরুজ্জামান (রানা), মুসা মিয়া, আবদুস সাজ্জাদ (জন), পুষ্কর খীসা (মিমো), গোলাম মোস্তফা (মানিক), হাসান যুবায়ের (নিলয়), কৃষ্ণ কুমার, শামসুল আলম, রিয়াজ আহমেদ, মাকসুদুল আলম (হাবুল), মোশারফ হোসেন (কুটি) ও জাহিদ বিন তালিব (শুভ)।

বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল

বার্সেলোনার দুর্দান্ত গতিতে রাশ টেনে দিল এসপানিওল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্সার ঠিক ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরশু ভ্যালেন্সিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার চেয়ে এক পয়েন্ট পেছনে দাঁড়িয়ে এখন ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে লািসওকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এএস রোমা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হটস্পারের কাছে চেলসির হার ব্যবধান কমানোর একটা সুযোগ করে দিয়েছিল শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বীদের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও পারেনি আর্সেনাল। উইগান অ্যাথলেটিকের কাছে ২-৩ গোলে হেরে বরং শিরোপা লড়াই থেকে মোটামুটি ছিটকেই পড়েছে গানাররা।
সেই ছিটকে পড়াটা হয়েছে বড় মর্মান্তিক। ৪৮ মিনিটের মধ্যে ওয়ালকট ও সিলভেস্ত্রের গোলে ২-০-তে এগিয়ে গিয়েছিল ‘গানার’রা। কিন্তু তাদের শিরোপা লড়াইয়ে ফেরার স্বপ্নটাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় শেষ ১০ মিনিটের ঝড়। ওয়াটসন (৮০), ব্রাম্বল (৮৯) ও এন’জগবিয়ার (৯০) তিনটি গোল ছিনিয়ে নেয় আর্সেনালের জয়। হকচকিত আর্সেন ওয়েঙ্গার আর কী বলবেন! শিরোপা-স্বপ্নের মৃত্যু একরকম মেনে নিয়ে নতুন লক্ষ্য ঠিক করেছেন—বাকি তিনটি ম্যাচ জেতা।
আর্সেনালের স্বপ্নের মৃত্যু, আর রিয়ালের স্বপ্নে লেগেছে নতুন রং। চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ হয়ে গেছে আগেই। বার্সেলোনার কাছে ‘এল ক্লাসিকো’ হেরে লিগ শিরোপার স্বপ্নটাও হয়ে গিয়েছিল ঝাপসা। কিন্তু পরশু সেটা আবার ফিরে এল গঞ্জালো হিগুয়েইন আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুটি গোলে। ২৫ মিনিটে হিগুয়েইন স্প্যানিশ লিগে তাঁর ২৫তম গোলটি করে এগিয়ে দেন রিয়ালকে। ৭৮ মিনিটে লিগে রোনালদোর ২০তম গোল নিশ্চিত করেছে ৩৩ ম্যাচে রিয়ালের ২৭তম জয়।
এল ক্লাসিকোতে পরাজয়ের পর রিয়ালের সামনে সমীকরণটা খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। নিজেদের সব ম্যাচ জিততে হবে, সঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে বার্সার পা হড়কানোর। এসপানিওলের বিপক্ষে পা হড়কেছে বার্সার, রিয়ালও তাদের করণীয়টা ঠিকই করেছে। তৃপ্তিটা একটু বেশিই হওয়ার কথা, কারণ ভ্যালেন্সিয়া এখন পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে। ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়াল একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত করে ফেলে ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণদুর্গ। ভ্যালেন্সিয়াও অবশ্য ভালো কিছু প্রতি-আক্রমণে মাঝেমধ্যেই ভড়কে দিয়েছে রিয়ালকে। দ্বিতীয়ার্ধে একবার তো গোলের খুব কাছাকাছিও এসেছিল ভ্যালেন্সিয়া। ৬৩ মিনিটে ডেভিড সিলভার শট গোলপোস্টে লেগে না ফিরলে ম্যাচে সমতা এসে যেত।
৩৩টি করে ম্যাচ খেলার পর ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সা, রিয়ালের পয়েন্ট ৮৩। আর একটা দিকেও এগিয়ে আছে বার্সা। মুখোমুখি লড়াইয়ের দুটি ম্যাচেই জিতেছে কাতালানরা। দুদলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে শিরোপা তুলে দেওয়া হবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা দলকেই।
সিরি ‘আ’র শীর্ষ দুটি দলের মধ্যেও ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টের। ৩৪ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রোমা, ইন্টারের পয়েন্ট ৭০। সিরি ‘আ’র শিরোপা লড়াইয়ের নিয়মকানুনও স্প্যানিশ লিগের মতোই। পয়েন্ট সমান হলে বিবেচিত হবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলই। আর এ ক্ষেত্রে স্বস্তিতে আছে রোমা। রোমা-ইন্টার দুটি ম্যাচের একটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে, অন্যটিতে ২-১ গোলে জিতেছে রোমা। পরশু লািসওর বিপক্ষে ইন্টারের জয়ও ২-১ গোলে। রচ্চির ১৪ মিনিটের গোলে অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল রোমা। ১০ মিনিটের (৫৩ ও ৬৩) মধ্যে মির্কো ভুচিনিচের দুই গোল জিতিয়েছে রোমাকে।
শিরোপা লড়াইটা রোমা-ইন্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কারণ তৃতীয় স্থানে থাকা এসি মিলান এ দিন ২-১ গোলে হেরে গেছে সাম্পদোরিয়ার কাছে। রোমা যেখানে পিছিয়ে পড়ার পর জিতেছে, মিলান হেরেছে এগিয়ে যাওয়ার পর। ২০ মিনিটে বরিয়েল্লির গোল, ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা আনেন কাসানো। ৯০ মিনিটে পাজ্জিনির গোল জিতিয়ে দেয় সাম্পদোরিয়াকে। হেরেও তৃতীয় স্থানেই আছে মিলান, তবে রোমার চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল তারা।

সেমিতেই আবাহনী-মোহামেডান

মেয়েদের ক্লাব কাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালেই দেখা হয়ে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের। শেষ চারের অন্য ম্যাচে আনসারের প্রতিপক্ষ বিকেএসপি।
গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে কাল ইন্দিরা রোডকে (১৯.১ ওভারে ৪৪) ৮ উইকেটে হারিয়েছে বিকেএসপি (১০.১ ওভারে ৪৫/২)। ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অন্য খেলায় আনসার (৪০ ওভারে ১৮৬/৪) ৮৬ রানে হারিয়েছে আজাদ স্পোর্টিংকে (৩৯.৩ ওবারে ১০০)।

আইপিএলের বলিমন্ত্রী

কূটনীতি থেকে রাজনীতির ময়দানে এসেও তরতর করে এগোচ্ছিলেন শশী থারুর। ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রিত্ব পর্যন্ত পেয়েছিলেন। কিন্তু থারুর অবশেষে বুঝতে পারলেন, ক্রিকেট-রাজনীতিতে পাকা খেলোয়াড় হতে পারেননি। রাজনৈতিক চাপে ইনিংসের শুরুতেই তিনি ‘আউট’। আইপিএলের নতুন দুই দলের একটি কোচির মালিকানা নিয়ে গত কয়েক দিনের অব্যাহত বিতর্কে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। মালিকানায় যাঁর অংশীদারি নিয়ে মূল বিতর্ক, থারুরের সেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুনন্দা পুষ্কর ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁর অংশীদারি। তার পরও থারুর বাঁচাতে পারলেন না মন্ত্রিত্ব।
বিতর্কের সূত্রপাত গত ১১ এপ্রিল। আইপিএল কমিশনার লোলিত মোদি তাঁর টুইটার আপডেটে কোচি দলের শেয়ারধারীদের নাম প্রকাশ করেন। সেই সূত্রেই অভিযোগ ওঠে থারুর প্রভাব খাটিয়ে বান্ধবী সুনন্দা পুষ্করকে ‘ফ্রি ইক্যুইটি’ শেয়ার পাইয়ে দিয়েছেন, যার মূল্য ৭০ কোটি রুপি। শুধু তা-ই নয়, সুনন্দা নাকি উপলক্ষ মাত্র, শেয়ারের আসল মালিক থারুর নিজেই। কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক সুনন্দা থাকেন দুবাইয়ে। এমনও খবর আছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ৫৪ বছর বয়সী থারুর সুনন্দাকেই বিয়ে করতে চলেছেন।
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অস্বীকার করে আসছিলেন থারুর। মোদির সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগ্যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৪ এপ্রিল কোচির প্রধান নির্বাহী সত্যজিৎ গায়কোয়াড় অভিযোগ করেন, মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোদি নাকি তাঁদের ৫০ মিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিলেন। কোনো প্রমাণ অবশ্য দেখাতে পারেননি তাঁরা। এই বিতর্কের রেশ ধরে আইপিএলের আর্থিক অনিয়মও প্রকাশ্যে চলে আসে। তৎপর হয়ে ওঠে আয়কর ও গোয়েন্দা বিভাগ।
এর পরই থারুরের বিরুদ্ধে তুরুপের তাস ছাড়েন মোদি। নিলামের আগে মোদিকে থারুরের করা এসএমএসগুলো আয়কর কর্মকর্তা, গোয়েন্দা ও বিসিসিআই কর্তাদের দেখান। অসহায় হয়ে পড়েন থারুর। তাঁকে নিয়ে বিব্রত বোধ করে ক্ষমতাসীন দলও। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নির্দেশে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন থারুর। থারুর অবশ্য বলেছেন কোনো চাপে নয়, পদত্যাগ করেছেন স্বেচ্ছায়, ‘আমি নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছি। আমি দলকে বিব্রত করতে চাই না। আমি চাইনি সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হোক, এ জন্যই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
থারুর ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় যোগ দেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে। ২০০৭ সালে অবশ্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ভারতীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। ১১টির মতো বই লিখেছেন থারুর, পেয়েছেন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও। তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি বই, দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান নভেল, ইন্ডিয়া: ফ্রম মিডনাইট টু দ্য মিলেনিয়াম।
এমন ঝা-চকচকে ব্যক্তিত্ব থারুরের বিরুদ্ধে আপাতত মোদিকেই জয়ী মনে হচ্ছে। আইসিসির সভায় যোগ দিতে এখন দুবাইয়ে থাকা মোদি সেখানেই কোচির নতুন চেয়ারম্যান হারশাদ মেহতার সঙ্গে দেখা করে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। তার পরও মোদির স্বস্তিতে থাকার কারণ নেই। গোয়েন্দা ও আয়কর বিভাগ সূত্রে খবর, তাদের পরবর্তী কার্যক্রমে কোনো ফাঁক না রাখতেই থারুরকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। আইপিএলের তহবিলে সন্ধান পাওয়া অনেক অবৈধ অর্থের তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও। সব মিলে আইপিএলের জন্য তারকাখ্যাতি পাওয়া মোদির জন্য কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে।

উজ্জ্বল সূর্যকিরণ চারদিকে।

উজ্জ্বল সূর্যকিরণ চারদিকে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বৈশাখের ছন্দময় গান। রুক্ষ-শুষ্ক-জীর্ণ বেশ ছুড়ে ফেলে নতুন রঙে নিজেকে সাজিয়ে নিতে ব্যস্ত প্রকৃতি। চেনা-অচেনা বৃক্ষরাজির শাখায় শাখায় নবীন পাতার উচ্ছলতা। অকৃত্রিম সেই উচ্ছলতার জোয়ার স্পর্শ করেছে বাতাসকে। সমস্ত পিছুটান অগ্রাহ্য করে বাতাস তাই ছুটে বেড়াচ্ছে বল্গাহীন ঘোড়ার মতো, কেশর ফুলিয়ে দিগন্ত দাপিয়ে। অসাধারণ, উপভোগ্য মুহূর্তের কি নান্দনিক উপস্থাপন! স্বর্গীয় সময়ের কী মনোমুগ্ধকর সংযোজন! আচ্ছা, অলৌকিক কোনো মন্ত্রবলে স্থির করে কি ধরে রাখা যায় না এই স্বর্গীয় সময়কে? ধূসর অতীত হওয়ার হাত থেকে কি রক্ষা করা যায় না বর্তমানের এই সুখচ্ছবিকে? না, যায় না। ভাবনার অতল থেকে নেতিবাচক উত্তর উঠে আসে অবলীলায়। কারণ, নশ্বর মানুষের সাধ্য নেই সময়কে স্থির করে ধরে রাখার! সাধ্য নেই বর্তমানের সুখচ্ছবিকে অতীত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার! মহাজাগতিক নিয়মে ঘটমান বর্তমান বিলীন হবেই অতীতের গর্ভে। তবে চিত্রাঙ্কন কিংবা আলোকচিত্র গ্রহণের মতো কিছু প্রতিষ্ঠিত কলাকৌশলে, স্মৃতিবিজড়িত স্মারক সংগ্রহের মতো কিছু উদ্যোগ-আয়োজনের মাধ্যমে কালের বিস্মৃতিপ্রবণ অঞ্চল থেকে স্মৃতিকে তুলে এনে অতীত অনুসন্ধানের চেষ্টায় প্রবৃত্ত হতে পারে বর্তমান সময়ে বসবাসকারী মানুষ। চিত্রে-আলোকচিত্রে চোখ বুলিয়ে, সংগৃহীত স্মৃতিস্মারকে দৃষ্টি রেখে ইচ্ছে করলেই তারা হারিয়ে যেতে পারে পুরোনো দিনে, অন্তর্দৃষ্টি একটু প্রসারিত করলেই তারা ফিরে যেতে পারে ফেলে আসা প্রাচীন প্রহরে—আর এ কাজে মানুষের দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে দিতে প্রস্তুত ‘জাদুঘর’।
ময়মনসিংহ সদরে পৌঁছে তাই রিকশায় চেপে বসলাম প্রথমেই। গন্তব্য ‘ময়মনসিংহ জাদুঘর’। শহরের পৌর ভবনের কাছেই অমৃত বাবু সড়ক। অপ্রশস্ত এই সড়কের একপ্রান্তে দেয়ালঘেরা একটি স্থানের মধ্যবর্তী অংশে প্রবেশপথ। মোটা গ্রিলে তৈরি সেই প্রবেশপথের দুই কোনায় দুটো পাখি আকৃতির অমসৃণ দেয়াল মিশে গেছে সীমানা দেয়ালের সঙ্গে। দ্বাররক্ষীর বাড়াবাড়িহীন প্রবেশপথ নিশ্চিন্তে অতিক্রম করলাম আমরা। শান বাঁধানো সরু পথ আমাদের পায়ের নিচে। হাতের ডান দিকে প্রাণোচ্ছল কাঁঠালিচাপা গাছ। বাঁ দিকে গোলাপসমৃদ্ধ সাজানো বাগান এবং একটু সামনেই একটি বিবর্ণ হলুদ রঙের একতলা ভবন। আগে এই ভবনটি ছিল জমিদার মদনমোহন বাবুর বাগানবাড়ি। দেশভাগের পর বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বেশ কিছুদিন। ১৯৬৯ সালের ১ আগস্ট মদনমোহন বাবুর এই বাগানবাড়িতে স্থাপন করা হয় ‘মোমেনশাহী জাদুঘর’। সে সময় জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পিত হয় ময়মনসিংহ পৌরসভার ওপর। ১৯৮৯ সালে জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর।
পুরোনো এই জাদুঘর ভবনের সামনের দিকে প্রায় অর্ধবৃত্তাকার একটি কক্ষ। সুউচ্চ বহু জানালাবিশিষ্ট কক্ষটির কেন্দ্রভাগে মাঝারি আকৃতির প্রবেশদ্বার। আলোর প্রাচুর্যময় এ কক্ষটির অভ্যন্তরে দুটি হাতির মাথার কঙ্কাল সংরক্ষিত। অবিশ্বাস্য বিশালাকৃতির এই কঙ্কাল দুটো মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি থেকে সংগৃহীত। কক্ষের দুই পাশের বর্ধিতাংশের চার কোনায় চারটি মূল্যবান কাঠের শোকেস এবং একপাশে সিমেন্ট ও ঝিনুক দিয়ে নির্মিত একটি রাজহাঁসের প্রতিকৃতি বিদ্যমান। ‘জাদুঘরের কক্ষসংখ্যা সর্বমোট ১১। অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কক্ষ ব্যতীত অন্য কক্ষগুলো বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে সংগৃহীত প্রত্নতাত্ত্বিকসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য’—জানালেন জাদুঘরের পরিচালক মো. আসলাম উদ্দিন খান।
ময়মনসিংহ জাদুঘরের সংগৃহীত প্রত্নসামগ্রীর সুবিশাল অংশই বহন করছে মুক্তাগাছার বিখ্যাত জমিদারদের স্মৃতি। অফিসসংলগ্ন কক্ষটিতে বিভিন্ন আকৃতির দেবদেবীর মূর্তির পাশাপাশি নৃত্যরত মহাশ্রীধর বিগ্রহটির উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাদুঘরের সবচেয়ে বড় কক্ষটিতে রয়েছে মহিষের শিংয়ের সুরা-পানপাত্র, হুক্কা, ধোবাউড়া থেকে সংগৃহীত শিবলিঙ্গ বেদি, আঠারবাড়ী জমিদারবাড়ি থেকে প্রাপ্ত মার্বেল পাথরের গোলটেবিল, গৌরীপুর জমিদারবাড়ি থেকে সংগৃহীত শ্বেতপাথরের টেবিল ছাড়াও সুখস্মৃতিপূর্ণ অতীতের নানা উপাদান। কিন্তু অতীত কি শুধুই সুখস্মৃতিপূর্ণ? না, অতীতের অধিকাংশ অধ্যায়ই ভীষণ বেদনাদায়ক। কিন্তু ইতিহাস সংরক্ষণের প্রচলিত নিয়মে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পায় শাসকশ্রেণীর ভোগবিলাসী জীবন ও তাঁদের জীবনোপকরণসামগ্রী। বিপরীতে সাধারণ প্রজাদের যাপিত জীবনের বেদনাদায়ক দিকগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, অনুল্লেখ্য থাকে শাসক কর্তৃক প্রজা নিপীড়নের উপাত্ত-প্রমাণগুলো। বিষয়টি শুধু ময়মনসিংহ জাদুঘরের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য জাদুঘরের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তবু ময়মনসিংহ জাদুঘরের প্রাচীন অস্ত্রে সজ্জিত তিনটি শোকেসের এককোনায় অবহেলায় পড়ে থাকা হাত কাটার যন্ত্রটি অতীতের সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের একটি নির্মম চিত্র ফুটিয়ে তোলে আমাদের সামনে। মুক্তাগাছা থেকে প্রাপ্ত এই যন্ত্রটি দিয়ে অবাধ্য প্রজাদের শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করতেন জমিদাররা। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে শাসকগোষ্ঠী আর কী ধরনের অত্যাচার চালাতেন প্রজাদের ওপর? সে ইতিহাস জানা কতটুকুই বা সম্ভব আজ? বিষণ্ন মনে ভাবতে থাকি আমরা। অতীত অনুসন্ধানের সহজ চেষ্টায় সহসাই ছেদ টেনে বেরিয়ে আসি জাদুঘরের বাইরে। মাথার অনেক ওপরে আকাশ দেখি, দেখি জলভরা মেঘ, হঠাৎ পাল্টে যাওয়া প্রকৃতি, বিবর্ণ সময়।

সাত বছর পর বাস্কেটবল লিগ

ধানমন্ডি ইনডোরে কাল ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাকার বেশ কয়েকটি স্কুলের বাস্কেটবল খেলোয়াড়েরা ছিলেন এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে। উপলক্ষ, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল, যেটি হচ্ছে সাত বছর বিরতির পর!
নতুন দুটি দল (বকশীবাজার ও মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ক্লাব) খেলছে এই লিগে। আগে ছিল ১৩টি দল, এবার ১৫টি। প্রথম দিনে ম্যাচ হয়েছে একটি। ২০০৩ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত লিগের চ্যাম্পিয়ন ইউরোপা ইয়ুথ ৭৬-৩০ স্কোরে হারিয়েছে বকশীবাজারকে।

‘এ’ দলের অধিনায়ক জুনায়েদ সিদ্দিক

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচের জন্য ১৪ সদস্যের ‘এ’ দলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ দুটি শুরু হবে ২২ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ঢাকা পৌঁছাবে আজ।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল: জুনায়েদ সিদ্দিক (অধিনায়ক), শামসুর রহমান (সহ-অধিনায়ক), শাহরিয়ার নাফীস, মেহরাব হোসেন, ফরহাদ হোসেন, ফয়সাল হোসেন, রকিবুল হাসান, নাজিম উদ্দিন, সগীর হোসেন, এনামুল হক, নূর হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মাহবুবুল আলম ও রকিবুল ইসলাম। স্ট্যান্ডবাই: তালহা যুবায়ের, মার্শাল আইয়ুব, নাবিল সামাদ ও নাজমুল হোসেন।

বার্সার বাধা প্রকৃতি আর ইন্টার

আরেকটি শিরোপা থেকে বার্সেলোনার দূরত্ব মাত্র তিনটি ম্যাচ। সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচ আর ফাইনাল। কিন্তু সেমিফাইনালের প্রথম লেগটাই এখন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য যোজন যোজন দূরের পথ।
বিষয়টা মানচিত্রের বাস্তবতার সঙ্গেই মিলে গেছে। ১০০০ কিলোমিটার দূরত্বের সঙ্গে ভ্রমণক্লান্তি মিলিয়ে দেখুন চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগটা বার্সেলোনার জন্য কী কঠিন এক বাধা। তিনটি দেশ পেরিয়ে এই দূরপথ বার্সেলোনা পাড়ি দিয়েছে বাসে। বিমানে উঠে এই দূরত্ব তারা কয়েক ঘণ্টায় পাড়ি দিতে পারেনি শূন্যে। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত আকাশে কালো মেঘ ছড়িয়ে দেওয়ায় গোটা ইউরোপের বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ঘরে ফেরা পর্যটকদের চাপে ট্রেনে ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। বাধ্য হয়েই ইন্টার মিলানের মাঠে ম্যাচ খেলার জন্য বার্সেলোনাকে বেছে নিতে হয়েছে দুই দিনের বাসযাত্রা। আজ যদি সান সিরোতে ইন্টার মিলান বিজয়ের হাসি হাসে, তাহলে তারা প্রকৃতিকেও নতমস্তকে জানাতে পারে অভিবাদন। মাঠের লড়াইয়ের আগে বার্সেলোনাকে তো প্রকৃতির বিরুদ্ধেও লড়তে হলো এক প্রস্থ!
তবে প্রকৃতির বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর শাণিয়ে বসে নেই বার্সেলোনা। তারা সব কষ্ট জয় করে ম্যাচ জিতেই হাসতে চায় সাফল্যের হাসি। বার্সা স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ যেমন বলেছেন, ‘মিলানে আসার এই ঝক্কি আমাদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলেছে সেটি দেখব পরে, তবে আমাদের দলটি সত্যিই এই লড়াইটার জন্য প্রস্তুত। কেনই-বা তা না হবে? এটি একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল।’ এই মৌসুমেই মিলান ছেড়ে বার্সেলোনার হওয়া এই সুইডিশ স্ট্রাইকার এই কথা বলেছেন রোববার রাতে দক্ষিণ ফ্রান্সের কানে পৌঁছে। বার্সেলোনা থেকে কানের দূরত্ব ৬৩৪ কিলোমিটার। আর কানে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে সকালে আবার যাত্রা শুরু করে আরও ৩৫১ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কাল সন্ধ্যায় তাদের মিলানে অনুশীলন করার কথা। রোববার স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় বার্সেলোনার যাত্রা শুরু হয়েছে এই ম্যাচটির জন্য, যেটির শেষ দুই দিন পর রাত পৌনে নয়টায়! কষ্টকর এই ভ্রমণটাকে মনের মধ্যে একেবারেই ঠাঁই দিতে নারাজ বার্সেলোনার মাঝমাঠের সেনাপতি জাভি, ‘এসব একেবারে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে আমাদের। আরেকটি ফাইনালে ওঠার সুযোগ এখন আমাদের সামনে এবং আমরা তা ছুড়ে ফেলে দিতে চাই না।’
‘সুযোগ ছুড়ে ফেলানো’ কথাটার মধ্যে একটা অহংবোধ লুকিয়ে থাকে! ইন্টার চার বছর ধরে ইতালির সিরি ‘আ’ চ্যাম্পিয়ন, মাত্রই বছর দশক আগেও সিরি ‘আ’র গায়ে থাকত ইউরোপের সেরা লিগের তকমা। এবার রোমার চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও টানা পঞ্চম স্কুডেট্টো জয়ের সম্ভাবনা আছেই। শুধু স্কুডেট্টো কেন, গতবার এই বার্সেলোনা যেমন ট্রেবল জিতে ইতিহাস গড়েছে, এবার তারাও তা জিততে পারে। কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে উঠেছে মরিনহোর দল, সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগটাও তো হাতছানি দেয় শিরোপাত্রয়ী জয়ের। এমন দলের বিপক্ষে সুযোগ ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথার মধ্যে একটু আত্মম্ভরিতা আপনি দেখতেই পারেন। কিন্তু ঘটনা হলো এই চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বেই এবার ইন্টারের বাধা টপকে বার্সেলোনা সেমিফাইনালে। প্রথম লেগে সান সিরো থেকে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরলেও নিজেদের মাঠে ইন্টারকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা অনবদ্য ফুটবল খেলে।
এই বার্সেলোনা যতই দুঃসহ এক ভ্রমণক্লান্তি নিয়ে মাঠে নামুক, তাদের বিপক্ষে পেরে ওঠা সহজ কথা নয়। এটা ভালো জানেন স্যামুয়েল ইতো, এ মৌসুমেই যে স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে অদলবদল করে চলে এসেছেন ইন্টার মিলানে। ‘বার্সেলোনার সঙ্গে খেলতে হলে কীভাবে প্রস্তুত হতে হবে আপনাকে? ঠান্ডা মাথায়। ম্যাচ শুরুর আগেই আমাদের মাথাটা খাটাতে হবে, কারণ এই ধরনের খেলা পায়ের চেয়ে মস্তিষ্ক দিয়েই খেলতে হয় বেশি’—বলেছেন ইন্টারের ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন, ইতো এবার ইন্টারের জার্সি গায়েও ইতিহাস গড়তে চান, ‘ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন বুনছি আমরা। বার্সেলোনা এই মুহূর্তে শ্রেষ্ঠ দল। তবে প্রতিটি ম্যাচেরই নিজস্ব ইতিহাস থাকে এবং আমরা বার্সেলোনার বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখতে চাই।’
ইতিহাসের হাতছানি ইন্টার দেখতেই পারে। তবে সেটি দূরেও মিলিয়ে যেতে পারে সহসাই যদি মেসি-জাভি-ইব্রাহিমোভিচদের বার্সেলোনা তাদের ছন্দে খেলতে পারেন!

মোহামেডানকে জেতালেন বুকোলা

এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে বাংলাদেশ লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা প্রায় শেষ হয়ে যেত ঢাকা মোহামেডানের। সাদা-কালোদের জন্য সুখবরই—পুরো পয়েন্ট নিয়ে তারা ঢাকা ফিরছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে এই জয় এসেছে ৩-১ গোলে।
আগের দুবারও চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় আবাহনীকে হারিয়েছিল ঢাকা মোহামেডান। ব্যবধানও ছিল বড়। সর্বশেষ জয়ে তিন গোলের দুটি ছিল বুকোলার। এই ম্যাচেও তাই।
৩৬ মিনিটে বক্সের ভেতরে বাঁ প্রান্ত থেকে বুকোলা বল ঠেলেন জাহিদ হাসানকে (এমিলি)। আগের ম্যাচে ৫ গোল করে গোলের রাস্তাটা আবার যখন চিনতে শুরু করেছেন এমিলি, এই সুযোগ আর নষ্ট করেননি তিনি! তাঁর প্লেসিংয়ে ১-০।
মোহামেডান গোল করার আগেই অবশ্য গোল পেতে পারত আবাহনী। ২৮ মিনিটে থ্রু পাসে বল পেয়ে মিঠুন বক্সে ঢুকে পড়েন। গোলরক্ষক আমিনুল পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কোনো রকমে মিঠুনের শটটি আটকে দেন। ফিরতি বলে মিঠুন আবারও শট নিলে গোললাইন থেকে আরিফ বাঁচিয়ে দেন কর্নারের বিনিময়ে।
প্রথমার্ধের মিনিটখানেক আগে ওয়ালি ফয়সালের ফ্রি-কিক বুকোলার মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ালে মোহামেডান শিবির কিছুটা ভারমুক্ত হয় (২-০)। ৬৫ মিনিটে বুকোলার হেডে মোহামেডানের তৃতীয় গোল। তবে তাতে যত না বুকোলার কৃতিত্ব তার চেয়েও বেশি বোকামি ছিল আবাহনীর গোলরক্ষক খালেদ আজম বিপ্লবের। পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে তিনি বলের নাগাল হারিয়ে ফেলেন।
সে যা-ই হোক, মোহামেডানের জন্য স্বস্তির ব্যাপার, এমিলি-বুকোলা জুটি গোলে ফিরেছে। মাঝে তাঁরা গোল-খরায় ভুগেছেন। যার ফলে দলকে পয়েন্ট হারাতে হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান কমিয়ে এনেছিল আবাহনী। ৫৩ মিনিটে মিঠুনের পাস থেকে শাখাওয়াত হোসেন প্লেসিং শটে আবাহনীর একমাত্র গোলটি করেন।
১৭ ম্যাচে মোহামেডানের পয়েন্ট হলো ৪৫। সমান ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর ৪৯, চট্টগ্রাম আবাহনীর

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও প্রশ্ন

‘উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ভ্যাঙ্কুভারে প্যারা অলিম্পিক শীতকালীন গেমস ১২-২১ মার্চ ২০১০-এ বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছে কি না সে সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. ওবায়দুল হক ৭ এপ্রিল এ চিঠি লিখেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও সিইও কর্নেল (অব.) ওয়ালীউল্লাহকে। উত্তরে ওয়ালীউল্লাহ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রতিনিধি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে গিয়েছেন কি না, বিওএর তা জানা নেই; বিওএর মাধ্যমে যাওয়ার কথাও নয়। এটা প্যারা অলিম্পিক কমিটির ব্যাপার।
তাহলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কোন অভিযোগে এ চিঠি দিয়েছে বিওএকে? জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের কথা, ‘অন্য একটা ফাইল সম্পর্কে জানতেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ সম্পূরক প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘অফিশিয়াল সিক্রেট ব্যাপার। অভিযোগ পেয়েছি, পাঠিয়ে দিয়েছি।’ পাশাপাশি বলেছেন, ‘শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকে বাংলাদেশ থেকে কেউ যাওয়ার কথা নয়।’
কথা নয়, কারণ—ভ্যাঙ্কুভারে যে পাঁচটি খেলা হয়েছে (আল্পাইন স্কিইং, আইস স্লেজ, বায়াথন, ক্রস কান্ট্রি স্কিইং ও হুইল চেয়ার কার্লিং), এ খেলাগুলো বাংলাদেশে হয় না। হলেও বাংলাদেশে কোনো অনুমোদিত প্যারা অলিম্পিক কমিটি নেই, যারা গেমসে দল পাঠাতে পারে। তাহলে গেমসে দল গেল কি না, সে ব্যাপারে কেন জানতে চাইল মন্ত্রণালয়? প্রশ্নটা ঘুরেফিরে আসছেই।
জানা গেছে, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ২৩ সদস্যের ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ নামে একটি প্রস্তাবিত নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা পড়েছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় পরিষদ এখনো ওই কমিটি অনুমোদন করেনি। প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) ইয়াদ আলী ফকির বলেন, ‘প্যারা অলিম্পিকে কেউ গিয়েছেন কি না, আমার জানা নেই।’
তবে ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন, শীতকালীন প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার নামে বাংলাদেশ থেকে একটি দল গেছে। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে লোক পাঠিয়ে একটি মহল বিরাট অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনকে ব্যবহার করে ‘আদম পাচারের’ আরেকটি উদাহরণ হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।

তামিমের জন্য আশার আলো

হাতের উল্টো পিঠে হাড়ের চিড়টা আরও বড় হয়েছে বলে আশঙ্কা করেছিলেন চিকিৎসকেরা। তবে কাল পাওয়া এমআরআই আর স্ক্যান রিপোর্ট সুসংবাদই শোনাচ্ছে তামিম ইকবালকে। চোটটা তেমন গুরুতর নয়। ডাক্তার ও ফিজিও আশাবাদী, দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেরে যাবে তা।
এনসিএল টি-টোয়েন্টির শেষ ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ হাতের তালুর উল্টো দিকে চোট পেয়েছিলেন তামিম। পরশু আঘাতের স্থানে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করানো হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, পুরোনো হেয়ার ফ্র্যাকচারটাই বুঝি আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। সেটা হলে তিন থেকে চার সপ্তাহের জন্য বিশ্রামে চলে যেতে হতো তামিমকে। কিন্তু কাল রিপোর্ট পাওয়ার পর আনন্দিত শোনাল প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের কণ্ঠস্বর, ‘রিপোর্ট বলছে, আগের চিড়টা বড় হয়নি। তবে বাঁ হাতের কবজির ওপরের দিকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডাক্তার ও ফিজিও আশাবাদী, দুই-তিন দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে এটা।’
তার পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে আগামীকাল আরও একবার পরীক্ষা করে দেখা হবে তামিমের বাঁ হাতের ইনজুরি।