Thursday, April 21, 2016

টেন্ডুলকারের অনুরোধ

শচীন টেন্ডুলকার
স্বপ্নের পিছু ছোটার অধিকার প্রতিটি শিশুরই আছে। ওদের সুযোগ করে দিতে হবে’—শচীন টেন্ডুলকারের টুইটটি খুব ছোট, কিন্তু বার্তাটা অনেক বড়। শিশুশ্রমের বিপক্ষে নিজের মত জানাতে গিয়ে এই টুইট করেছেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি। যে বয়স নানা রঙের স্বপ্নে হারিয়ে যাওয়ার, সেই বয়সে রংপেনসিলের বদলে ছোট্ট হাত দুটিতে যেন হাতুড়ি তুলে নিতে না হয়। যেন বাস্তবের কঠিন আঘাতে ভেসে না যায় কল্পনায় আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়ানোর স্বপ্ন। শুধু টেন্ডুলকারই নন, ভারতীয় একটি বিমা কোম্পানির শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আয়োজিত টুইটার অভিযানে সাড়া দিয়েছেন ক্রীড়াজগৎ ও এর বাইরের আরও অনেক তারকা। ভারতজুড়ে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের প্রায় ৫৮ লাখ শিশুকে জীবিকার প্রয়োজনে নেমে পড়তে হয়েছে নানান কাজে। দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যেই এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিমা কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত এক দশকেই ভারতের শহরগুলোতে শিশুশ্রম বেড়ে গেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে টুইটারে এই আয়োজনে টেন্ডুলকারের সঙ্গী ভারতীয় দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দও। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন টুইট করেছেন, ‘জীবনটা দাবার মতো। প্রতিটি চালেই এটি বদলে যেতে পারে।

এবার ‘আইকন’ সাব্বির

সাব্বির রহমান
আইকনদের ডাক শুরু হবে বলে। ‘প্লেয়ার ড্রাফটে’ ভর করল টানটান উত্তেজনা। প্রথম নামটা কার? সাকিব, তামিম, মুশফিক না মাশরাফির? সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ডেকে নিল মাহমুদউল্লাহকে। পরের ডাকেও চমক। প্রাইম ব্যাংকে সাব্বির রহমান! মাহমুদউল্লাহ আগেও ‘আইকন’ ছিলেন। অভিজ্ঞতা আর সাম্প্রতিক ফর্ম তাঁর প্রতি ক্লাবগুলোকে আগ্রহী করতেই পারে। তবে সাব্বিরের প্রতি আগ্রহের কারণ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অতি অল্প সময়ে তাঁর বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠা। আইকন সাব্বির সেই সামর্থ্যের ছাপ রাখতে চান কাল থেকে শুরু প্রিমিয়ার লিগেও, ‘সারা বাংলাদেশের ছয়জন আইকন খেলোয়াড়ের মধ্যে আমি একজন। এতে খেলোয়াড় হিসেবে আমি যেমন নতুন উচ্চতায় উঠেছি, আমার দায়িত্বও বেড়েছে। শতভাগ দিয়ে হলেও চেষ্টা করব এই মর্যাদা রাখতে। যাতে অন্য তরুণ খেলোয়াড়েরা উৎসাহিত হয়।’ অলরাউন্ডার সাব্বির গত লিগে রান করেছেন ৪২১, উইকেট নিয়েছেন ৯টি। স্বাভাবিকভাবেই এবারের লক্ষ্যটা আরও বড়। শুরুতে ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই...লক্ষ্য থাকলে সেটা অর্জন করতে পারি না’ বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চাইলেও পরে তা প্রকাশই করে দিলেন সাব্বির, ‘এবার গতবারের চেয়ে দুই-তিন শ রান বেশি করতে চাই। উইকেটও পেতে চাই গোটা পাঁচেক বেশি।’ তবে প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দলের জন্য খেলা। জাতীয় দলের হয়েও শুরু থেকে তাই করে আসছেন। সে কারণেই তো তাঁর নাম উঠেছে ‘আইকন’দের দলে। আন্তর্জাতিক ওয়ানেডেতে ছয়-সাতে ব্যাট করলেও ২৬টি টি-টোয়েন্টির ১৯টিতেই ব্যাট করেছেন তিন নম্বরে। প্রিমিয়ার লিগেও তিন-চারেই থিতু হতে চান সাব্বির, ‘আমি তিন নম্বরেই ঠিক আছি আপাতত। প্র্যাকটিস ম্যাচে ভালো না করলেও আসল ম্যাচগুলোতে চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাব্বিরের ব্যাটে নির্ভরতা খুঁজে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংকও সেটা খুঁজে পেলে আসলেই আরও এক ধাপ ওপরে উঠে যাবেন সাব্বির রহমান। তারকা হয়ে ওঠার পর সাব্বিরের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ বলে এবার তাঁর কাছে প্রত্যাশাটাও বেশি থাকবে। সাব্বির নিজেও তা জানেন। তবে এটিকে চাপ হিসেবে না নিয়ে নিচ্ছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে, ‘একটা সময় ছিল যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে ভয়ে ভয়ে খেলতাম। পাঁচ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ খেললেও তাই কখনো খুব ভালো খেলিনি। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলে সাফল্য পেয়েছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাই খেলব। অনুশীলনে যেটা চেষ্টা করি, সেটাই কাজে লাগাতে চেষ্টা করব মাঠে।’ সাব্বির কি আসলেই পারবেন সত্যিকারের ‘আইকন’ হয়ে উঠতে?

আলোচনায় সেই আম্পায়ারিং

বৃষ্টির আশঙ্কায় প্রিমিয়ার লিগে এবার রিজার্ভ ডে থাকছে। তবে বিসিবির গ্রাউন্ডস ম্যানেজার সৈয়দ আবদুল বাতেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী, টানা বৃষ্টি না হলে রিজার্ভ ডেতে খেলা যাবেই না। লিগের তিন ভেন্যু মিরপুর, ফতুল্লা ও বিকেএসপির মাঠের পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা অত্যাধুনিক। দুই-তিন ঘণ্টা বৃষ্টি হলেও কর্তিত ওভারের ম্যাচে দিনের খেলা দিনেই শেষ করে ফেলতে সমস্যা হবে বলে মনে করেন না তিনি। উইকেট নিয়েও আবদুল বাতেন দারুণ রোমাঞ্চিত, ‘কাটা ঘাস নয়, এবার জীবিত ঘাস থাকবে। পুরো স্পোর্টিং উইকেট দেখবেন এবার।’ কাল থেকে শুরু প্রিমিয়ার লিগের জন্য সুখবরই বলতে হবে এটিকে। কিন্তু শুধু স্পোর্টিং উইকেট দিয়েই তো আর প্রিমিয়ার লিগের আবহ সুস্থ রাখা যাবে না, প্রয়োজন সবার ‘স্পোর্টিং’ মানসিকতাও। সেটা থাকবে তো? বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেই উঠছে প্রশ্নটা। আর এই প্রশ্নের কেন্দ্রে আম্পায়ারিং। বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের কারণে কয়েক বছর ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। আম্পায়ার মনোনয়ন নিয়েও বিতর্ক-সমালোচনা হয়েছে অনেক। বিসিবি সভাপতিসহ বোর্ড পরিচালকদের ভারে ভারী আবাহনীর ম্যাচগুলোতে ঘুরেফিরে মুখচেনা বিতর্কিত আম্পায়ারদের দেখা যাওয়াই এর বড় কারণ। বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান অবশ্য গত ১০ এপ্রিল ‘প্লেয়ার ড্রাফট’ শেষে এই অভিযোগ খণ্ডন করার চেষ্টা করে বলেছেন, গত দুই মৌসুমে লিগের ফলাফল দেখে মোটেই মনে হয় না যে আবাহনী-সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা প্রভাব বিস্তার করছেন। শঙ্কা তবু এবারও থাকছে এবং তার অন্যতম কারণ চলমান তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট ও আগেই শেষ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে বিতর্কিত আম্পায়ারিং। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ খুব বেশি না হলেও জানা গেছে, তৃতীয় বিভাগে বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভুক্তভোগী ক্লাবগুলোর ফোন পাচ্ছেন সিসিডিএম-প্রধান গাজী গোলাম মোর্তজা। এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধও তিনি। তবে কাল মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের প্রসঙ্গ অবশ্য এড়িয়ে গেলেন। শুধু বললেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ নামী আম্পায়ারদেরই করা উচিত। এটা দেশের প্রধান লিগ। আশা করি, যাঁদের নিয়ে সমালোচনা নেই, তাঁদের দিয়েই লিগ চালানো হবে।’ আম্পায়ারিং নিয়ে সিসিডিএম-প্রধানের অবশ্য প্রত্যাশা ছাড়া আর কিছু করারও নেই। লিগে কারা আম্পায়ারিং করবেন, কে কোন ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন, সেসব ঠিক করে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটি। বিতর্কিত ঘটনায় সিসিডিএমের কাজ শুধু ক্লাবগুলোর অভিযোগ আম্পায়ার্স কমিটির কাছে পাঠানো। তবে আম্পায়ার্স কমিটিও যে খুব স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নয়। বড় ক্লাবের চাপ সেখানে বিষম বাধা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক কর্মকর্তা তবু আশার কথা শোনালেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে এবার আগের মতো অত খারাপ আম্পায়ারিং হবে না। নিশ্চিত থাকুন।’ তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের কারণ জানতে চাইলে রহস্য করে বললেন, ‘যাঁরা চাপ সৃষ্টি করে, তাদের টিম তো এবার সবচেয়ে ভালো। আম্পায়ারদের সাহায্য অত দরকার হবে না।’ ইঙ্গিতটা সাকিব-তামিমকে নিয়ে শক্তিশালী দল গড়া আবাহনীর দিকেই। প্রিমিয়ার লিগের আম্পায়ারিং নিয়ে আম্পায়ার্স কমিটিকে এবার একটু বাড়তি সতর্কই মনে হচ্ছে। ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের লিগ-পূর্ব ব্রিফিংয়ে আজ সেই সতর্কবার্তাই জানিয়ে দেওয়ার কথা। দেশে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ হয় শুধু প্রিমিয়ার লিগে, বাজে আম্পায়ারিংয়ের কারণে যেন এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়—আম্পায়ার্স কমিটির বার্তাটা থাকবে এ রকমই। বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির সদস্যসচিব সয়লাব হোসেনও সে রকমই আভাস দিলেন, ‘বোর্ড সভাপতির কাছ থেকেই কঠোর নির্দেশ আছে, যেকোনো মূল্যে যেন এবার সুষ্ঠু আম্পায়ারিং হয়। চাকার ধরা আর আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে আমরাও কঠোর অবস্থানে আছি। আমার বিশ্বাস, আম্পায়ারদের নিয়ে এবার কেউ অভিযোগ তোলার সুযোগ পাবে না।’

আইপিএলে আগ্রহ হারাচ্ছে ভারতীয়রা?

আইপিএলে আগ্রহ হারাচ্ছে ভারতীয় দর্শক?
এবারের আইপিএলের চেহারাটা যেন কেমন! বিশাল বিশাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে খাঁ খাঁ শূন্যতা! অথচ আইপিএলের আগের আসরগুলোতেই ছিল এবারের বিপরীত চিত্র। দিনে খেলা হোক কিংবা রাতে, গ্যালারিগুলো ঠাসা থাকত দর্শকে। ম্যাচের আগেই টিকিট নিয়ে চলত হাহাকার। কিন্তু এবার? সেধে, হাতে টিকিট ধরিয়ে দিয়েও নাকি দর্শকদের মাঠমুখী করানো যাচ্ছে না। হঠাৎ কী হলো আকর্ষণে বুঁদ এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার! ভারতীয়রা কি তবে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছে এই প্রতিযোগিতার ব্যাপারে! নাকি অন্য কিছু! আইপিএলের আয়োজক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বড় বড় কর্তার কপালেও ভাঁজ—এমন তো হওয়ার কথা নয়! টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট তো এমনিতেই জনপ্রিয়! তার ওপর সেই ২০০৮ সাল থেকে আইপিএলের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে সমর্থন-ভিত্তি। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে! কেউ কেউ সান্ত্বনা খুঁজছেন আবহাওয়ার উত্তাপে। মহারাষ্ট্র-হায়দরাবাদ থেকে শুরু করে ভারতের অনেক আইপিএল আয়োজক রাজ্যেই চলছে তীব্র গরমের সঙ্গে জনমানুষের লুকোচুরি। আবার খরায় ফেটে চৌচির এই রাজ্যগুলোর জমি। এমন দুর্ভোগক্লিষ্ট সময়ে টিকিট কেটে আইপিএল-বিনোদন উপভোগে বাধছে অনেকেরই। কিন্তু টেলিভিশন সম্প্রচার কর্তৃপক্ষও যে অন্য ধরনের কথা বলছে! যে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে তাবৎ সম্প্রচার সংস্থার মধ্যে কাড়াকাড়ি, সেই আইপিএলেরই ‘টিআরপি’ কম! ভাবা যায়! ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও এই ব্যাপার নিয়ে উদ্বেগ ধরা পড়ছে। পত্রিকাগুলোতে এমন অভিযোগও উঠেছে, টেলিভিশন চোখ রেখে আসলে আইপিএলের এবারের আসরের সঠিক হালচাল-চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। সম্প্রচার সংস্থা নিজেদের স্বার্থেই খেলা সম্প্রচারের সময় টেলিভিশন ক্যামেরা এমন জায়গায় ধরছে, যেখানে মানুষের মোটামুটি ভিড় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মাঠে যাঁরা প্রতিযোগিতাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বিভিন্ন দায়িত্বে, তাঁরা কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারছেন, আইপিএলের ‘অমৃতে অরুচি’ ধরেছে দর্শকদের। গ্যালারি এখনো মোটামুটি বেশ ভরাই। তবে দর্শক–আগ্রহে চোখে পড়ার মতো ঘাটতিও লক্ষ করা যাচ্ছে এবারের আসর ঘিরে। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণেই আইপিএলের এই অবস্থা। সবে তো দর্শকেরা একই মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখেছে। একটু সময় লাগবে। কেউ কেউ আবার বলছেন, টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় মানুষ আগ্রহ হারিয়েছে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা যে কী, নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউই। ভারতের পত্রপত্রিকাগুলো লিখেছে, টি-টোয়েন্টির অর্থ রোজগারের গরুটাকে কি একটু বেশিই দুইয়ে ফেলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড! ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছরের আয়োজন, একই দল, একই ফরম্যাট। পৃষ্ঠপোষকদের খেয়ে না–খেয়ে লড়াই, ক্রিকেটের চেয়ে বাণিজ্যের ব্যাপারটায় প্রচ্ছন্ন গুরুত্ব থেকে শুরু করে ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং-সংক্রান্ত ইস্যুগুলোও দর্শকদের মনে বিরূপ প্রভাব তৈরি করেছে, বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণাও আইপিএলের ব্যাপারে আগ্রহটাকে সীমিত করে তুলেছে। আইপিএলে দর্শক–আগ্রহের কমতির বিষয়ে কোনো কোনো পত্রিকা লিখেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের কথা। ২০১১ বিশ্বকাপের পরপরই অনুষ্ঠিত আইপিএলে দর্শক–আগ্রহ ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা। ভারত ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর সেবার মানুষ প্রচণ্ড আগ্রহী হয়েছিল ছোট ফরম্যাটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দেখার জন্য। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও মানুষ কিন্তু আইপিএল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকেই একের পর এক টি-টোয়েন্টি খেলে চলছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ, বাংলাদেশের এশিয়া কাপ। এরপর বিশ্বকাপ—এত এত খেলা দেখে দেখে ক্লান্ত মানুষের চোখ। বিরিয়ানিও তো রোজ দুই বেলা খাওয়া যায় না! এই প্রসঙ্গে এমন কথা আবারও উঠল, অতিরিক্ত ‘বিরিয়ানি’ কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো নয়। তবে এখনই এ ব্যাপারে উপসংহার টানতে নারাজ সবাই। আইপিএল শেষ না হওয়া পর্যন্ত দর্শক–আগ্রহ নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা ঠিকও হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, যেকোনো প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোতে থাকার সময় দর্শকদের আগ্রহও বেড়ে যেতে থাকে।

এখন মাঠে নামার অপেক্ষা

প্রস্তুতি ম্যাচেও ঝড় উঠল
আবাহনীর তামিমের ব্যাটে।
৮০ বলে ১৩৯! পাঁচ ছক্কা ও ১৮টি চার থেকেই ১০২। কিন্তু কে এই ব্যাটসম্যান, যাঁর ব্যাটে কাল এমন ঝড় তুলল? কোথায় উঠল সেই ঝড়? ব্যাটসম্যানের নাম তামিম ইকবাল এবং ভেন্যু ফতুল্লা স্টেডিয়াম। না, বিনা নোটিশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি কাল। প্রিমিয়ার লিগও হুট করে এগিয়ে আসেনি। তামিম তাহলে কোন ম্যাচে চালালেন এমন তাণ্ডব! আসলে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু লিগ সামনে রেখে গত দুই দিন নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে চারটি ক্লাব। পরশু ফতুল্লায় খেলল মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বর। কাল প্রাইম ব্যাংকের মুখোমুখি হয়েছে আবাহনী এবং সেই ম্যাচেই এই তামিম-ঝড়। লিগ শুরুর আগে আবাহনীর বাঁহাতি ওপেনার এটিকে নিচ্ছেন দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী হিসেবে, ‘যেকোনো ম্যাচেই এ রকম একটা ইনিংস আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। খুব ভালো লাগবে আমি যদি লিগেও এই খেলাটা খেলতে পারি।’ ৩২২ রান করে আবাহনী ম্যাচ জিতেছে ৭৫ রানে। প্রস্তুতি ম্যাচ দুই দিন ধরে হলেও ঢাকার ক্রিকেটে প্রিমিয়ার লিগের হাওয়া লেগেছে আরও আগেই। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা। মিরপুরের একাডেমি মাঠ ভাগ করে প্রতিদিন দুই বেলা অনুশীলন করছে দলগুলো। কাল তো প্রথম তিন রাউন্ডের সূচিও ঘোষণা হয়ে গেছে। এক দিন করে ‘রিজার্ভ ডে’, প্রতিদিন তিনটি ম্যাচ হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও বিকেএসপিতে। সুপার লিগে মিরপুর ও ফতুল্লার ম্যাচগুলো হবে দিবারাত্রির। মিরপুরের ম্যাচ সরাসরি দেখানো হতে পারে টেলিভিশনে। সব দলের কোচ-অধিনায়কদের নিয়ে বিসিবি কার্যালয়ে কাল হলো সিসিডিএমের বাইলজ সভাও। ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম বলে সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রিজার্ভ ডে ও কর্তিত ওভারের ম্যাচের প্রসঙ্গ। কোনো ম্যাচ যদি শুরুই হয় ২৫ বা তার কম ওভারের দৈর্ঘ্যের, তাহলে দুই প্রান্ত থেকে দুই নতুন বলের পরিবর্তে খেলা হবে এক বল দিয়ে। তবে খেলা শুরুর পর বৃষ্টির বাগড়ায় ওভার কাটা হলে দুই বলেই হবে বোলিং। রিজার্ভ ডের নিয়মটাও রাখা হয়েছে নমনীয়। ধরুন টস হয়ে গেল, ঘোষণা হয়ে গেল দুই দলের প্রথম একাদশ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদিন একটি বলও খেলা হলো না; সে ক্ষেত্রে পরদিন টস হবে নতুন করে। খেলোয়াড় তালিকা বদলানোরও সুযোগ থাকবে। ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়ে রিজার্ভ ডেতে গেলে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই থাকবে না। তবে একবার খেলা শুরু হয়ে গেলে রিজার্ভ ডের কথা না ভেবে লক্ষ্য থাকবে ওভার কমিয়ে হলেও ওই দিনই ম্যাচ শেষ করার। বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব না হলেই শুধু পরের দিনে গড়াবে খেলা।  সভায় ২২ এপ্রিলের মধ্যে সিসিডএমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে ক্লাবগুলোকে। চুক্তিপত্র ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। প্রতিটি দল লিগজুড়ে যতজন সম্ভব বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারবে। কিন্তু এক ম্যাচে খেলানো যাবে একজনকেই। অবশ্য কাল পর্যন্ত যে কয়টি দলের বিদেশি খেলোয়াড় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে, তাতে বড় নাম তেমন একটা নেই। দুই জিম্বাবুইয়ান শন উইলিয়ামস ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা খেলবেন ব্রাদার্স ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা মোহামেডানে, এহসান লাহিরু মালিনথা প্রাইম দোলেশ্বরে ও দিলশান মুনাবিরার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেটার্সে খেলা নিশ্চিত। প্রাইম ব্যাংক পরে আনতে পারে পাকিস্তানের শোয়েব মালিককেও। এবারের লিগে আরও­ দুজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের খেলা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে খেলবেন সাঈদ আনোয়ার জুনিয়র, কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিতে আসহার জাইদি। শ্রীলঙ্কার চামারা কাপুগেদারার সঙ্গে এখনো কথা চলছে আবাহনীর। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের রবি বোপারাকে আনতে।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সহজ জয়

রোহিতের দারুণ ব্যাটিংয়ে সহজ জয় মুম্বাইয়ের
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে। লক্ষ্যটা ২ ওভার ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেল মুম্বাই । মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পাত্তাই পাননি বেঙ্গালুরুর বোলাররা। টানা দুই ম্যাচে হারার পর জয়ে ফিরল মুম্বাই। পাঁচ ম্যাচে দলটির দ্বিতীয় জয় এটি। বেঙ্গালুরু হারল তিন ম্যাচের দুটিতে। টস হেরে ব্যাট করা বেঙ্গালুরু ৭ উইকেটে করেছিল ১৭০ রান। ২৪ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৭ রান অ​স্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডের। এ ছাড়া ৩০ বলে ৩৩ রান করেছেন বিরাট কোহলি। টানা চার টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি পর কালই ‘ব্যর্থ’ ভারতের টেস্ট অ​ধিনায়ক। জবাবে ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে পার্থিব প্যাটেলকে হারালেও দলকে বিপদে পড়তে দেননি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৪৪ বলের ৪ চার ও ৩ ছয়ে ৬২ রান করেছেন রোহিত। ১৯ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান কাইরন পোলার্ডের। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা।

ট্রেবলের হ্যাটট্রিক আর ‘১৮ সেকেন্ড’ জপছেন বোল্ট

রিওতেও উঠবে বোল্ট-ঝড়?
বেইজিংয়ের পর লন্ডন—দুই অলিম্পিকেই ১০০, ২০০ মিটারের পাশাপাশি রিলেতেও সোনা জিতেছেন। এই সাফল্য আসছে আগস্টে শুরু রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকেও ধরে রাখতে চান উসাইন বোল্ট। সেটি পারলে তৃতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’জয়ী ইতিহাসের প্রথম অ্যাথলেট হবেন জ্যামাইকান স্প্রিন্টার। অবসরে যাওয়ার আগে এটাই মূল লক্ষ্য ২৯ বছর বয়সী বোল্টের। অন্যসব অ্যাথলেট হলে ‘রেকর্ড-টেকর্ড নিয়ে ভাবছি না’ জাতীয় মন্তব্য করতেন হয়তো। কিন্তু নামটা যে বোল্ট। তাই সরাসরিই বললেন, ‘শিরোপা ধরে রাখা, ট্রেবল জেতা—এটাই আমার আসল লক্ষ্য, আমার মনোযোগটা মূলত সেদিকেই।’ এই লক্ষ্যের পথে আরও একটা লক্ষ্যপূরণ করতে চান বোল্ট। আর তা হলো ২০০ মিটার ১৯ সেকেন্ডের নিচে দৌড়ানো! অ্যাথলেটিকসের এই ইভেন্টে রেকর্ড টাইমিং ১৯.১৯ সেকেন্ড। যেটি বোল্টই গড়েছিলেন বার্ডস নেস্টে, আট বছর আগে বেইজিং অলিম্পিকে। এই ইভেন্টে ‘নতুন’ লক্ষ্যপূরণ কি সম্ভব? আশাবাদী বোল্ট বললেন, ‘এটা আমি সত্যিই করতে চাই। আশা করছি, সবকিছু ঠিক থাকবে এবং আমি তা করতে পারব।’ অবসরে যাওয়ার সময়টা অবশ্য আগাম বলতে নারাজ বোল্ট। রিও ডি অলিম্পিকে দৌড়াবেন, এরপর ২০১৭ সালে লন্ডন চ্যাম্পিয়নশিপ। শরীর কী রকম সাড়া দেয়, সেটা দেখেই এরপর নেবেন অবসরের সিদ্ধান্ত।

এই তাহলে বার্সার আসল সমস্যা?

এটিই এই মুহূর্তের বার্সার প্রতীকী ছবি হতে পারে
লুইস এনরিকে এখন হয়তো মনে মনে আন্তর্জাতিক বিরতিটাকে শাপ-শাপান্ত করছেন। বিরতি কাটিয়ে খেলোয়াড়েরা সুস্থভাবে ফিরে তো এসেছেন, কিন্তু পেছনে রেখে এসেছেন ফর্মটা। মেসি-নেইমার-সুয়ারেজে ভর করে অন্য গ্রহের ফুটবলের আমেজ নিতে থাকা বার্সেলোনাও এখন ভূপাতিত। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে ট্রেবলের আশা তো শেষই, কদিন আগেও প্রায় ‘নিশ্চিত’ লিগ সম্ভাবনা নিয়েও এখন আর জোর কণ্ঠে বলতে পারছে না বার্সা। এক ম্যাচেই পা ফসকালেই যে শেষ হয়ে যেতে পারে স্প্যানিশ লিগের স্বপ্নও। কিন্তু এমন হওয়ার কারণ কী? বার্সেলোনা সমর্থকদের চোখে সমস্যাটা মূল একাদশের বাইরে বেঞ্চ শক্তিশালী না হওয়া, কেউ তুলে আনছেন টানা ৩৯ জয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস একটু বেশিই ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা, আবার কেউ কেউ বলছেন এনরিকের কৌশলগত ভুলগুলোর কথা। কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের চোখে কারণটা ভিন্ন—ক্লান্তি। পরিসংখ্যানও ক্লান্তির পক্ষেই জোর সমর্থন দিচ্ছে। এই মৌসুমে বার্সা মোট ম্যাচ খেলেছে ৫৬টি, যা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৭টি বেশি, রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বেশি ১২টি। বলতে গেলে গত মৌসুমের সাফল্যই বার্সার এই মৌসুমের শেষ দিকে এভাবে বেপথু হওয়ার কারণ। ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ—এই ম্যাচগুলো তো বার্সাকে এবার বেশি খেলতে হয়েছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে দূরদুরান্ত ভ্রমণ। বার্সার মূল তিন ভরসাসহ রক্ষণের আসল সেনানী হাভিয়ের মাসচেরানো দক্ষিণ আমেরিকায় বাছাইপর্ব খেলতে গিয়েছিলেন। ইউরোপ টু দক্ষিণ আমেরিকা তো আছেই, এর আগে ইউরোপ টু এশিয়াও ঘুরতে হয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপ খেলতে। বার্সার কথা বললে পুরো দলের পাশাপাশি লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, নেইমারের কথা বলাটাও ‘নিয়ম’। বার্সার জয়রথ ছোটার সময়টাতে ‘এমএসএন’কে নিয়ে অনেক প্রশস্তিগাথা লেখা হয়েছে। এখন বিরূপ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার আঙুলও তাঁদের দিকেই বেশি যাচ্ছে। বার্সার পুরো দলের ক্লান্তি বোঝাতে স্প্যানিশ সংবাদপত্রগুলোও ‘উদাহরণ’ হিসেবে এই ত্রয়ীর ম্যাচের হিসেবও তুলে এনেছে। ক্লান্তিটা সবচেয়ে বেশি সুয়ারেজেরই হওয়ার কথা, এরই মধ্যে ৪৭টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। দুই মাস চোটে থাকার পরও মেসি ম্যাচ খেলেছেন নেইমারের সমান—৪৩টি। বার্সা কোচ এনরিকে যদিও ক্লান্তি, অবসন্নতার ব্যাপারগুলো স্বীকার করেন না। সর্বশেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে হারের পর ‘বার্সা খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত কি না’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নগুলো পাশ কাটিয়ে গেছেন এনরিকে। তবে এনরিকে স্বীকার করুন আর না করুন, পরিসংখ্যান হয়তো স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবিকেই সমর্থন দিচ্ছে। আর এটিই যদি বার্সার এমন হঠাৎ ধসের কারণ হয়, তবে আপাতত মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত মেসি-নেইমারদের জন্য ভরসা হতে পারে রবীন্দ্রসংগীত—ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু!

সালামকে মাঠ ছেড়ে দিলেন টুটুল

খেলোয়াড়ি জীবনে তাঁরা দুজন ছিলেন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। আবাহনীর ডিফেন্ডার শফিউল আরেফিন টুটুল খেলার মাঠে মোহামেডানের স্ট্রাইকার সালাম মুর্শেদীকে জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন—এমন ঘটনা ছিল অচিন্তনীয়ই। কিন্তু ফুটবল রাজনীতির মাঠে সালামকে ওয়াকওভার দিয়ে টুটুল সরে গেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চমক জাগিয়েই সিনিয়র সহসভাপতি পদে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় দল ও আবাহনীর সাবেক এই তারকা ফুটবলার। টুটুলের সঙ্গে আরও দুই প্রতিদ্বন্দ্বীও এই পদে নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আরও এক মেয়াদের জন্য বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি হতে চলেছেন সালাম। সিনিয়র সহসভাপতি পদে টুটুল ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন সালাউদ্দিনবিরোধী ‘ফুটবল বাঁচাও’ জোটের উদ্যোক্তা মনজুর কাদের। ছিলেন লোকমান হোসেন ভূঁইয়াও। এই দুজন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক। বাফুফেতে নির্বাচিত হলে সেই পদ তাঁদের ছাড়তে হতো। তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়াটা তাই প্রত্যাশিতই ছিল। কাদের-লোকমান শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলেই বিকল্প হিসেবে টুটুল এসেছিলেন দৃশ্যপটে। অথচ নাটকীয়ভাবে তিনিও সরে দাঁড়ানোয় সালাম মুর্শেদী নির্বাচনের আগে পুরো নির্ভার হয়ে গেলেন। বাফুফে নির্বাচন হবে ৩০ এপ্রিল।

রিকেটস-মামিচের অভিষেকে আবাহনীর ড্র

ড্র করল আবাহনী
স্বাধীনতা কাপে আবাহনীর সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচ। এ নিয়ে উত্তেজনা তো ছিলই, আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জের সঙ্গে ম্যাচটাতে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করল ঢাকার মাঠে রোহান রিকেটসের অভিষেক। আর্সেনাল একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই মিডফিল্ডার আজই প্রথম আবাহনীর হয়ে মাঠে নামলেন। নেমেই গোল! সাত মিনিটে তাঁর গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। কিন্তু সময় যত গড়াল, ততই যেন শুরুর ঔজ্জ্বল্য হারাতে থাকলেন রিকেটস। শুধু গোলটাই করলেন, ফিটনেসে ঘাটতি থাকায় সেভাবে আর চোখ কাড়তে পারেননি। তাঁর মতো করে রঙ হারাল আবাহনীও। এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত রহমতগঞ্জের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আকাশি-নীলরা। টানা দ্বিতীয় এই ড্রয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের স্বপ্নও পড়ে গেছে হুমকির মুখে। রিকেটসের সঙ্গে আবাহনীর হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে ক্রোয়াট কোচ দ্রাগো মামিচেরও। অভিষেকটা নিশ্চয়ই তিনিও জয় দিয়েই রাঙাতে চেয়েছিলেন। অবশ্য ফলাফল এর চেয়ে খারাপও হতে পারত। অমন সুন্দর শুরুর পর আবাহনীর ড্র-ও এক সময় কঠিন মনে হচ্ছিল। সেটি সম্ভব হয়েছে ৮৫ মিনিটে কামারার করা দলের দ্বিতীয় গোলে। সেনেগালের এই স্ট্রাইকারই একটা পয়েন্ট এনে দিলেন আবাহনীকে। রিকেটসের গোলে আবাহনী এগিয়ে পর ৩৮ মিনিটে রহমতগঞ্জকে ম্যাচে ফেরান জুনাপিউ। এরপর ৭১ মিনিটে নুরুল আফসার যখন রহমতগঞ্জের পক্ষে ২-১ করলেন, আবাহনীর নতুন কোচের চোখ মুখে অন্ধকার। কামরার গোলে তা দূর হলেও প্রতি আক্রমণে আবাহনী শিবিরে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছিল রহমতগঞ্জ। এই ড্রয়ের পর মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠাই আবাহনীর জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াল। শক্তিশালী শেখ রাসেলের সঙ্গে ২৩ এপ্রিলে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র চাই আকাশি নীলেদের। সেটি পারলে সাত পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর গোলগড়ে আবাহনী উঠবে স্বাধীনতা কাপের শেষ চারে। হারলে বিদায়।

ইউরোপের শীর্ষ লিগে লাতিনরা

সার্জিও আগুয়েরো কার্লোস তেভেজকে পেছনে ফেলেছিলেন গত নভেম্বরে। ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার আর্জেন্টাইন সতীর্থকে পেছনে ফেলেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দক্ষিণ আমেরিকান সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়। তেভেজের ৮৪ গোলকে টপকানোর পাঁচ মাস পর পরশু প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন আগুয়েরো। তাঁর এই কীর্তিতে একটা বৃত্তও পূরণ হলো। লা লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি আ, ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ—ইউরোপের এই শীর্ষ পাঁচ লিগেই দক্ষিণ আমেরিকানদের গোলের সেঞ্চুরি হয়ে গেল। এই পাঁচ লিগের দুটিতেই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা দুই দক্ষিণ আমেরিকান, লা লিগায় লিওনেল মেসি ও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে দেলিও ওনিস। দুজনই আর্জেন্টিনার।

বিদায়ের শঙ্কায় আবাহনী

ম্যাচ প্রায় শেষ, ১-২ গোলে পিছিয়ে আবাহনী। কপালে ভাঁজ দলের
ক্রোয়াট কোচ দ্রাগো মামিচ ও তাঁর সহকারী অমলেশ সেনের। এর
একটু পরেই গোল করে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে হার এড়িয়েছে আবাহনী
মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠাই আবাহনীর জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াল। আগামী শনিবার শক্তিশালী শেখ রাসেলের সঙ্গে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র চাই আকাশি নীলের। তা করতে পারলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর গোল গড়ে আবাহনী উঠবে স্বাধীনতা কাপের শেষ চারে। হারলে বিদায়। আবাহনীকে এই অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে টানা দুটি ড্র। ফেনী সকারের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বিজেএমসিকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৫-০ গোলে। তৃতীয় ম্যাচে আরামবাগের সঙ্গে ০-০। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জের সঙ্গে ২-২। সেটিও সম্ভব হয়েছে ৮৫ মিনিটে কামারার গোলে। সেনেগালের এই স্ট্রাইকার একটা মূল্যবান পয়েন্ট এনে দিলেন আবাহনীকে। এই ম্যাচেই আবাহনীর ডাগআউটে প্রথম দাঁড়িয়েছেন ক্রোয়াট কোচ দ্রাগো মামিচ। ঢাকার এসে কোনো অনুশীলন সেশন করা হয়নি তাঁর। শুধু রক্ষণে কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। কাল বুঝলেন সমস্যা শুধু রক্ষণে নয়, মাঝমাঠ ও আক্রমণেও। কাল আবার সহজ সুযোগ নষ্ট করার সঙ্গে আবাহনীর সামনে দুবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় পোস্ট। দলের হয়ে এদিন প্রথম খেলতে নামলেন আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার রোহান রিকেটস। ৭ মিনিটে তাঁর গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। তবে শুধু গোলটাই করলেন, ফিটনেসে ঘাটতি থাকায় সেভাবে চোখ কাড়তে পারেননি। ৩৮ মিনিটে জুনাপিউ রহমতগঞ্জকে ম্যাচে ফেরালে জমে ওঠে দুদলের লড়াই। ৭১ মিনিটে নুরুল আফসার যখন ২-১ করলেন, আবাহনীর নতুন কোচের চোখমুখে অন্ধকার। সমতাসূচক গোলেও যা পুরোপুরি কাটেনি। সেমিফাইনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা যে রয়েই গেল!

‘সেঞ্চুরি’ করেও আগুয়েরোর আক্ষেপ

মাইলফলক ছোঁয়া গোলের পর
সার্জিও আগুয়েরোর উল্লাস
সার্জিও আগুয়েরোর উচিত, সহকারী রেফারিকে একটা বড় ধন্যবাদ দেওয়া। নিউক্যাসলের সঙ্গে পরশু ১-১ গোলে ড্র ম্যাচটিতে গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। একটা বড় অর্জনও হয়েছে এই গোলে, এটি ছিল প্রিমিয়ার লিগে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের শততম গোল। কিন্তু এমন এক বিতর্কিত গোলে এই মাইলফলক, আগুয়েরো যতটা আলোচনায়, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনার কেন্দ্রে সহকারী রেফারি ডেভ ব্রায়ান! কেন? সেন্ট জেমস স্টেডিয়ামে পরশু ১৪ মিনিটে আলেক্সান্দার কোলারভের ফ্রি কিক থেকে সিটিকে এগিয়ে নেওয়া গোলটি করেন আগুয়েরো। কিন্তু ফ্রি কিক নেওয়ার সময়ে প্রায় দুই-তিন গজ অফসাইডে ছিলেন তিনি। পার্শ্বরেখায় দাঁড়ানো রেফারি ব্রায়ান কেন ‘আলোকবর্ষ’ এগিয়ে থাকা আগুয়েরোকে অফসাইড দিলেন না, ম্যাচশেষে সেটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। এটিই হয়তো খারাপ লাগতে পারে আগুয়েরোর, বিতর্ক নিয়ে নিশ্চয়ই এমন অর্জনে তিনি পৌঁছাতে চাননি। সিটির জার্সিতে ১৪৭তম ম্যাচে এসে এই দুর্দান্ত অর্জন ‘কুনে’র। প্রিমিয়ার লিগে এর চেয়ে কম ম্যাচে গোলের ‘সেঞ্চুরি’ করতে পেরেছেন শুধু অ্যালান শিয়ারার। নিউক্যাসল ও ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স স্ট্রাইকারের লেগেছিল ১২৪ ম্যাচ। গোলপ্রতি মিনিটের হিসাবে অবশ্য শিয়ারার তো বটেই, ‘সেঞ্চুরি’ ক্লাবের বাকি ২৩ জনও আগুয়েরোর পেছনে। গড়ে প্রতি ১০৮.৪ মিনিটে একটি গোল সিটি স্ট্রাইকারের। তারপরও আগুয়েরোকে নিজের অর্জনে উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না ম্যাচের ফল। দল যে জিততে পারেনি। তাঁর গোলের ১৭ মিনিট পর অবনমন এড়ানোর সংগ্রামে নামা নিউক্যাসলের হয়ে সমতা নিয়ে আসেন ভারনন আনিতা। ড্রয়ের হতাশা ফুটে উঠেছে আগুয়েরোর টুইটেও, ‘প্রিমিয়ার লিগে শততম গোলের রেকর্ডে অন্য ফলাফল দিয়ে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। সবার অভিবাদনের জন্য ধন্যবাদ। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’ এই ড্রয়ে লড়াইটা কঠিন হয়ে গেল আগুয়েরোদের। শিরোপার আশা তো অনেক আগেই শেষ, তিন নম্বরে লিগ শেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও এখন সংশয়ে। এই ম্যাচ শেষে ৩৪ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানেই ছিল সিটি, তবে সেখান থেকে আজই নেমে যেতে হতে পারে। ওয়েস্ট ব্রমের বিপক্ষে জিতলেই সিটির চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে তিনে উঠে যাবে আর্সেনাল।

আবার ‘ট্রেবল’ চান বোল্ট

তাঁরা দুজন : পরশু নিউইয়র্কে উবলোর প্রদর্শন ও বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন
অনুষ্ঠানে সুইস ঘড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দুই শুভেচ্ছাদূত ব্রাজিলের
ফুটবল সম্রাট পেলে ও ট্র্যাকের রাজা জ্যামাইকার উসাইন বোল্ট
গ্রেট ফুটবলার পেলের সঙ্গে কি কোনো মিল আছে ট্র্যাকের রাজা উসাইন বোল্টের? একটা মিল তো অবশ্যই আছে। পেলে যখন খেলতেন—তিনিই ছিলেন মাঠের রাজা। আর এখন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে রাজত্ব করছেন উসাইন বোল্ট! ফুটবল দলীয় খেলা হলেও মাঠে আপন আলোয় উদ্ভাসিত থাকতেন পেলে। আর ট্র্যাকের রাজা বোল্ট সম্পর্কে তো এই প্রজন্মের সবারই কমবেশি জানা। ভিন্ন প্রজন্মের, ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনের এই দুই ‘রাজা’কে আরও একটা জায়গায় মিলিয়ে দিয়েছে উবলো। পেলে ও উসাইন বোল্ট দুজনেই এই সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত। সেই সূত্রেই পরশু দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি দেখা। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে উবলোর প্রদর্শন ও বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি তাঁরা দুজন। ছোটবেলা থেকে যাঁর নাম শুনে এসেছেন, সেই ফুটবলের রাজার মুখোমুখি হওয়া—বোল্টের কাছে ব্যাপারটা যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো, ‘আজ (মঙ্গলবার) পেলের সঙ্গে দেখা হলো আমার। আমার জন্য এটা এক স্বপ্নপূরণের মতো। আমি সব সময় বলে এসেছি, আমি গ্রেটেস্ট হতে চাই। আমি পেলে, (মোহাম্মদ) আলীদের মতো হতে চাই।’ চাওয়ার সঙ্গে ট্র্যাকে নিজের লক্ষ্যটাও ঠিক করে নিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী বোল্ট। আসছে আগস্টে রিও ডি জেনিরো অলিম্পিক। আরেকটি অলিম্পিকে জিততে চান আরও একটি ‘ট্রেবল’। ২০০৮ বেইজিং ও ২০১২ লন্ডন—দুই অলিম্পিকেই ১০০, ২০০ মিটার এবং ৪*১০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতেছেন। পেলের দেশে এই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে অলিম্পিক ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’জয়ী প্রথম অ্যাথলেট হতে চান তিনি। অবসরে যাওয়ার আগে এখন এটাই মূল লক্ষ্য জ্যামাইকান বজ্রবিদ্যুতের, ‘শিরোপা ধরে রাখা, ট্রেবল জেতা—এটাই আমার আসল লক্ষ্য, আমার মনোযোগটা মূলত সেদিকেই।’ এই লক্ষ্যের পথে পূরণ করতে চান ১৯ সেকেন্ডের কম সময়ে ২০০ মিটার দৌড়ানোর স্বপ্নটাও। অ্যাথলেটিকসের এই ইভেন্টে রেকর্ড ১৯.১৯ সেকেন্ড টাইমিংটা তাঁরই। গড়েছিলেন বার্ডস নেস্টে, আট বছর আগে বেইজিং অলিম্পিকে। তৃতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’ জয় বোল্টের পক্ষে খুবই সম্ভব। তাই বলে ১৯ সেকেন্ডের নিচে ২০০ মিটার দৌড়ানো? ছয়টি অলিম্পিক সোনাজয়ী বোল্ট বলছেন সম্ভব, ‘এটা আমি সত্যিই করতে চাই। আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকবে এবং আমি তা করতে পারব। আমার জন্য এটা হবে বড় একটা অর্জন।’ আর এর জন্য তিনি প্রস্তুতও, ‘অলিম্পিকের আগে সেরা অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই নিজেকে। জাতীয় ট্রায়ালের আগে দুই মাস এবং অলিম্পিকের সাড়ে তিন মাসের মতো সময় আছে হাতে। আমি তৈরি হচ্ছি। আশা করছি সবকিছু ঠিকমতো হবে এবং অলিম্পিকের আগে আমি আমার সেরা অবস্থায় থাকতে পারব।’ অলিম্পিকের ট্র্যাকে সেরা ফর্মের বোল্টকে ট্র্যাকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া কে না দেখতে চায়! রয়টার্স।

জ্বলে উঠলেন সুয়ারেজ, ঝলসে উঠল বার্সেলোনা

বার্সার মুখে ফিরল হাসি!
বার্সেলোনা যেন শ্যাম্পেনের বোতল। তীব্র ঝাঁকুনিতে এত দিন ছিপির মুখে গিয়ে আটকে ছিল সব। এবার শেষ ধাক্কায় একেবারে ছিটকে বেরোল। যেন এত দিন জমিয়ে রাখা সব গোলও একসঙ্গে করে ফেলতে চাইলেন লুইস সুয়ারেজ। দেপোর্তিভো লা করুনিয়াকে কাল ৮-০ গোলে হারিয়ে কক্ষপথে ফিরল বার্সা। আট গোলের সাতটিতেই সুয়ারেজের নাম। নিজে চারটি গোল করেছেন, তিনটি করিয়েছেন। বার্সার বাকি চার গোলদাতার নাম ইভান রাকিতিচ, লিওনেল মেসি, মার্ক বার্ত্রা ও নেইমার।  দিনের অন্য দুই ম্যাচের মাদ্রিদের দুই ক্লাবও জয় তুলে নেওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে গা ঘেঁষাঘেঁষি অবশ্য চলছে। ফার্নান্দো তোরেসের একমাত্র গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো। বার্সার সমান পয়েন্ট নিয়েও মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে ডিয়েগো সিমিওনের দল। ওদিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে করিম বেনজেমা, লুকাস ভাসকুয়েজ ও লুকা মডরিচের গোলে ভিয়ারিয়ালকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। ১ পয়েন্ট পেছনে আছে জিদানের দল। লা লিগায় বাকি আর চার ম্যাচ। টানা তিন ম্যাচ হেরে, চার ম্যাচে ১১ পয়েন্ট খুইয়ে অবশেষে জয় পেল বার্সা। ১১, ২৪, ৫৩ ও ৬৪ মিনিটে গোলগুলো করেছেন সুয়ারেজ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বার্সার আট গোলে ছয়টিই দ্বিতীয়ার্ধে। দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে সুয়ারেজের ক্রস থেকে রাকিতিচের দুর্দান্ত ভলি ৩-০ করে দেয়। মেসির ডিফেন্স চেরা পাত থেকে ৫৩ মিনিটে এই মৌসুমে নিজের ষষ্ঠ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সুয়ারেজ। নিঃস্বার্থ নেইমার নিজে গোল না করে সুয়ারেজকে বল বাড়িয়ে দিলে মৌসুমে নিজের ৪৯তম গোলটিও করে ফেলেন এই উরুগুইয়ান। পরে ৭৩ ও ৮১ মিনিটে বন্ধু মেসি ও নেইমারকে গোল করিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকারও করেছেন সুয়ারেজ। এর মধ্যে ৭৯ মিনিটে বার্ত্রার গোল আরও একবার সমর্থকদের হাহাকার বাড়িয়ে দিল, রক্ষণে কেন আরও বেশি সুযোগ পেলেন না এই তরুণ ডিফেন্ডার! সাত গোলে এভাবে নাম লিখিয়ে অতিমানবীয় এক পারফরম্যান্সের পর সুয়ারেজ কিন্তু অতি জরুরি কথাটাই বললেন, ‘আমারও তো মানুষ, যন্ত্র নই। আমাদেরও ভুল হয়, আমরাও বাজে খেলি। তবে আজ আমরা দেখিয়ে দিয়েছি এই দল কতটা একতাবদ্ধ, লিগ জিততে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কতটা মরিয়া। সবকিছুই এখনো আমাদের হাতে আছে।’ তা হয়তো আছে। বড় দলগুলোর সাময়িক হোঁচট কাটিয়ে ছন্দে ফিরতে এমন ম্যাচই দরকার। যদিও মাদ্রিদের দুই দলও জানিয়ে দিয়েছে, কচ্ছপের কামড় আলগা হচ্ছে না। বিশেষ করে রিয়াল তো কাল রাতে খেলল দুর্দান্ত। কী পাস আর কী গতি! তবে কাল দুই মাদ্রিদই শুনেছে দুঃসংবাদ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর ডিয়েগো গডিন পড়েছেন ইনজুরিতে।

রোনালদোর ইনজুরি কতটা গুরুতর?

রোনালদোর ইনজুরি জিদানের জন্য দুঃসংবাদ।
জিনেদিন জিদানের এখন একটু আফসোসই হচ্ছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না দিয়ে কি তবে ভুলই করলেন! কাল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রোনালদো গোল না পেলেও দল জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে। কিন্তু এই জ​য়, লিগ শিরোপার আশা এখনো ধরে রাখার স্বস্তির পাশাপাশি একটা অস্বস্তির কাঁটাও বিঁধল রিয়ালকে। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন রোনালদো।  দুদিন বিরতি দিয়ে আগামী শনিবারই আবার মাঠে নামবে রিয়াল। লা লিগায় ৩৫তম ম্যাচে প্রতিপক্ষ রায়ো ভায়েকানো। খুব সম্ভবত এই ম্যাচে থাকছেন না রোনালদো। কারণ, এক দিন পরই যে আবার রিয়ালকে উড়ে যেতে হবে ইংল্যান্ডে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ​সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে রিয়াল। জিদান আশাবাদী, ওই ম্যাচে থাকবেন দলকে শেষ চারে তুলে আনার নায়ক রোনালদো। জিদান সমর্থকদের নির্ভার রাখতে চাইলেন এই বলে, ‘কিছুটা ভয় পাওয়ার মতো তো অবশ্যই, তবে আমার মনে হয় না ইনজুরিটা গুরুতর কিছু। ওর অবস্থা জানতে আগামীকাল (আজ) পরীক্ষা করা হবে। ও ওভাবে মাঠ ছাড়ার সময় যতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এখন সেই তুলনায় অনেকটা নির্ভারই আছি।’ এই মৌসুমে ৪৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন রোনালদো। ছিলেন লিগের প্রতিটি ম্যাচে। তাঁর মতো খেলোয়াড় পুরো ৯০ মিনিটই খেলতে ভালোবাসেন। তবে জিদানের মনে হচ্ছে, মৌসুমের লম্বা রেসের কথা ভেবে আরও হিসেব কষে তাঁকে ব্যবহার করা উচিত, ‘কোচ হিসেবে আপনি যখন রোনালদোর মতো একজন খেলোয়াড়কে পাবেন, আপনার কাজ হচ্ছে কখনো কখনো ওকে কোনো ম্যাচে না খেলিয়ে বা পুরো ম্যাচে না খে​লিয়ে বিশ্রাম দেওয়া।’ জিদান অবশ্য একটা সুখবর পেয়েছেন। গতকাল বুধবার পেশির চোটের কারণে খেলতে না পারা গ্যারেথ বেল শনিবার খেলবেন। আজ দলের অনুশীলনে যোগ​ও দেওয়ার কথা আছে বেলের। বার্সা কোচ অবশ্য এখনো দলের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে কথা বলতে নারাজ। লুইস এনরিকে মনে করেন না দলের খেলোয়াড়রা ক্লান্ত বলেই পথ হারিয়েছে। ফুটবলে ব্যাখ্যাতীত অনেক কিছু হয়, এটাই এর সৌন্দর্য। এনরিকের কাছে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ছয় ম্যাচে মাত্র এক ম্যাচ জেতা আর চার ম্যাচ হারার ওই সময়টার ব্যাখ্যা এটাই। গতকাল বার্সা কোচ এই দাবিও করলেন, ৮-০ গোলের এই জয়ের চেয়ে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ভ্যালেন্সিয়ার কাছে আগের ম্যাচেই ভালো খেলেছে দল, ‘এ ধরনের নানা কিছু ঘটে জন্যই তো ফুটবল এতটা স্পেশাল। ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচটির মতো আজও আমরা দারুণ খেলেছি। পার্থক্য হলো, আজ বলগুলো জালে ঢুকেছে। আমি তো মনে করি ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই আমরা বেশি সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কেবল সেগুলো থেকে গোল আদায় করে নিতে পারিনি। তবে আমরা দুর্দান্ত এক ফল অবশেষে পেলাম, আর সামনে অপেক্ষা আরও দুর্দান্ত এক চ্যালেঞ্জ।’ সেই চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন করে দিতে প্রস্তুত মাদ্রিদের দুই ক্লাবও। লা লিগার শেষ অঙ্কের জমজমাট নাটক তাই চলছেই। অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে অবশ্য শিষ্যদের সহজ সমীকরণ বুঝিয়ে দিলেন, ‘বার্সা যেভাবে ফিরে এল, সেটা ওদের জন্য দারুণ কিছু। তবে আমাদের জন্য কাজটা হলো বাকি চারটা ম্যাচই জেতা।’ সিমিওনের ভাঁজটাই কাল রাতে ছিল সবচেয়ে বেশি। কাল হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া দলের বড় ভর​সা ডিয়েগো গডিন লিগের পরের ম্যাচটা তো বটেই, সম্ভবত খেলতে পারছেন না চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগও।

কোপা আমেরিকায় থাকছেন না নেইমার

নেইমারকে কোপা আমেরিকায় পাচ্ছে না ব্রাজিল
লি ​ওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার। তিন বন্ধুর মুখোমু​খি লড়াই দেখা যাচ্ছে না কোপা আমেরিকায়। আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় শতবর্ষী বিশেষ এই আসরে খেলবেন না ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড। তবে আগামী আগস্টে রিও ​​অলিম্পিকে থাকবেন। গতকাল বুধবার বার্সেলোনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই তথ্য। শতবর্ষী কোপা আমেরিকার আসরটি শুধু ১০০ বছর পূর্তির জন্য নয়, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে এ জন্য যে এতে উত্তর আমেরিকার দলগুলো অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের আকার-আয়তন বাড়ছে। এই দুই আসরের জন্যই নেইমারকে চাইছিল ব্রাজিল। কিন্তু লম্বা একটা মৌসুম ​পার করে টানা দুটি বড় টুর্নামে​ন্ট খেলে আবারও নতুন মৌসুমে নেইমারকে নামিয়ে দেওয়া——এত ধকল দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে দিতে রাজি ছিল না বার্সা। অবশেষে দুই পক্ষের সমঝোতায় ঠিক হয়েছে, নেইমার শুধু অলিম্পিক ফুটবলে খেলবেন, কোপা আমেরিকার সময় পাবেন বিশ্রাম।  এর আগে আটবার কোপার শিরোপা জিতলেও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে এখনো অধরা অলিম্পিক ফুটবলের সোনা। এবারের অলিম্পিক তাদের দেশে বলেই এই বারমুডা-রহস্যের ইতি টেনে দিতে সেলেসাওরা মরিয়া। তাই ২৪ বছর বয়সী অধিনায়ককে অলিম্পিক দলে রাখা হচ্ছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দিতে বাধ্য। তবে অলিম্পিক ফিফার কোনো আয়োজন নয়। এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতিও পায় না। অলিম্পিকে খেলে মূলত অনূর্ধ্ব–২৩ দল। তবে একাদশে তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় থাকতে পারেন। নেইমার হবেন তাঁদের একজন। চার বছর আগে লন্ডন অলিম্পিকের দলেও ছিলেন নেইমার। সেবার অবশ্য ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হেরে গিয়েছিল তাঁর দল। ৩ থেকে ২১ আগস্ট হবে এবারে অলিম্পিক ফুটবলের আয়োজন। এর আগেই অবশ্য শুরু হয়ে যাবে বার্সার মৌসুম। ২১ আগস্ট যেমন আগামী লা লিগার প্রথম ম্যাচ।

পুয়োলও বুঝতে পারছেন না কেন এমন হচ্ছে

কার্লোস পুয়োলকে পাশে পাচ্ছেন নেইমার
সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না। বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন, গোল পাননি গত পাঁচ ম্যাচেও। বার্সেলোনার এই বিপর্যয়ে নেইমারের দিকেই সমালোচনার তির যেন বেশি। এর মধ্যে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে গত পরশুর ম্যাচে আবার ঘটিয়েছেন আরেক কাণ্ড। ভ্যালেন্সিয়ার আন্তোনিয়ো বারাগানকে চড় মারার অভিযোগে এখন শাস্তিও পেতে হতে পারে নেইমারকে। তবে নেইমার এই কঠিন সময়ে বার্সেলোনারই সাবেক অধিনায়ক কার্লোস পুয়োলকে পাশে পাচ্ছেন। শুধু নেইমার নয়, সময় খারাপ যাচ্ছে বার্সেলোনারও। শেষ ছয় ম্যাচের মাত্র একটিতে জয়! আরও একটি শিরোপাত্রয়ীর দিকে ছুটতে থাকা বার্সা যেন সবকিছুই হারাতে বসেছে। এত দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে, বার্সার মতো দলকে নেতৃত্ব দেওয়া পুয়োলও যেন বুঝতে পারছেন না, কেন এমনটা হচ্ছে। এ যে ব্যাখ্যার অতীত! দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের না থাকলেও নেইমারে নিয়ে ব্যাখ্যা আছে পুয়োলের। পরশুর ম্যাচের পর অনেকেই নেইমারের পেশাদারি মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে মেজাজ হারিয়ে বারাগানকে চড় মারায়। পুয়োল অবশ্য সে রকম মনে করেন না, ‘সব সময় তো আপনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারবেন না। নেইমার এখনো অনেক তরুণ। সে খুবই পেশাদার। আমাদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে, সব সময় এ রকম তুখোড় ফর্মে থাকতে পারবে না। আবার সে নিজেকে ফিরে পাবে।’ আর বল পায়ে নেইমার যেসব কারিকুরি করতে পারেন, সেসবের জন্যও পুয়োল তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন, ‘নেইমারের বাজে একটা ম্যাচেও অবিশ্বাস্য কিছু করে সেটাকে সে ভালো বানিয়ে ফেলতে পারে।’ কিন্তু লা লিগায় টানা তিন ম্যাচে হারের পর বার্সেলোনা পারবে ঘুরে দাঁড়াতে? পুয়োল এ রকম বিপর্যয়ের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে তাঁর এখনো পুরোপুরি আস্থা আছে মেসিদের ওপর, বার্সেলোনা এখনো বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক বিপর্যয়টা কেন হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারা কঠিন। এটা ঠিক স্বাভাবিক নয়। তবে এখনো তাদের দারুণ অনেক খেলোয়াড় আছে। এখনো তারা লা লিগা ও কোপা ডেল রে জিততে পারে।

ক্রমাগত চাপের মুখে বাংলাদেশি মিডিয়া

সুপরিচিত একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোববার বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। শফিক রেহমানকে (৮২) শনিবার তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যারা তাকে গ্রেপ্তার করে তারা প্রথমে নিজেদেরকে স্থানীয় একটি টেলিভিশন স্টেশনের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। বলেন, তারা তার একটি সাক্ষাতকার নিতে চান।
শফিক রেহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য নন। কিন্তু তিনি এ দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। সম্প্রতি তিনি দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে ‘গভীরভাবে রাজনৈতিকীকৃত’ ও ‘অকার্যকর’ বলে সমালোচনামুলক একটি রিপোর্ট প্রকাশের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অপরাধ দমনের চেয়ে বিরোধীদের টার্গেট করার দিকে তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে।
কিন্তু আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আল জাজিরাকে বলেন, শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হলো যদি কেউ বিরোধী দলের সদস্য হন তাহলে তাকে কি দেশের আইনী ব্যবস্থা থেকে দায়মুক্তি দিতে হবে? যদি (বিএনপির কোন সদস্য) অপরাধ সংঘটিত হরেন তাহলে কি তাকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিতে হবে? তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বলছে যে, শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা আছে। তিনি কি বিএনপিকে সমর্থন করেন কিনা তার চেয়ে এ মামলায় অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা তা দেখা এখন বেশি দরকার।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম শনিবার শফিক রেহমানকে জামিন দেয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শফিক রেহমান অনেক বছর বহুল প্রচারিত বাংলা পত্রিকা যায় যায় দিন-এর স¤পাদক। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মৌচাকে ঢিল নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক।
তার স্ত্রী তালেয়া রেহমানের মতে, শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন বৈশাখি টিভির সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা এ সময়ে তার স্বামীর একটি সাক্ষাতকার নিতে চান। তালেয়া রেহমান বেসরকারি সংগঠন ডেমোক্রেসি ওয়াচ পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, যখন আমার স্বামী প্রস্তুত হচ্ছিলেন সে সময়ে আমরা নিচতলায় বসা তিনজন ব্যক্তির জন্য চা ও নাস্তা পাঠিয়ে দিই। এরপর ওই তিন ব্যক্তি বাসার ওপরে উঠে আসেন এবং আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন। আমার স্বামী নিচে নেমে যান। তিনি ভেবেছিলেন তারা টেলিভিশনে তার সাক্ষাতকার নিতে এসেছেন। তখন তারা আমার স্বামীকে বলেন যে, তারা গোয়েন্দা শাখার লোক এবং তারা জোর করে তাকে নিয়ে যায়।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি গ্রেপ্তারের সময়ে কি ঘটেছিল তার প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। তিনি বলেন, অন্যরা এ বিষয়ে আমাকে বলেছে। বিষয়টিতে আমাকে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার পর ২০১৫ সালের আগস্টে একটি ষড়যন্ত্রের মামলা হয়। সজীব ওয়াজেদ ওই পোস্টে বিএনপির একজন নেতা সম্পর্কে একটি বার্তা দিয়েছিলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সজীব ওয়াজেদ এতে আরও বলেন, ‘বিএনপি আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে’।
এ অপরাধের সঙ্গে তার স্বামীর কোন সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তালেয়া রেহমান। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমার মনে হয় সরকার ভেবেছে এ রিপোর্ট তৈরির জন্য তথ্য সরবরাহ করেছেন আমার স্বামী। তাই তারা তাকে গ্রেপ্তার করেছে’।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে মিডিয়া রয়েছে ক্রমাগত চাপের মুখে। ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি ভাষার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১৭টি রাষ্ট্রদ্রোহের ও ৬২টি মানহানি মামলা করেছেন। প্রধানমনন্ত্রীর পুত্র ফেসবুকে দেয়া পোস্টে বলেন যে, তার মাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির খবর প্রকাশের কথা স্বীকার করেছেন মাহফুজ আনাম। এরপরই ওই মামলাগুলো হয়েছে। মাহফুজ আনামের পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টার ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রথম আলো’র বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। শফিক রেহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া।
(আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ)

‘অভি-অ্যাশ’-এর বিবাহবার্ষিকীতে ‘বিগ বি’র শুভাশিস

অভিষেক বচ্চন-ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
সময় কত দ্রুত পার হয়! বলিউডের অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে কত মাতামাতি, ভক্তদের কত উন্মাদনা। মনে হয়, এই তো কিছুদিন আগেই ঘটে গেল এসব ঘটনা। কিন্তু এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে নয়টি বছর। অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার ঘর আলো করে এসেছে মেয়ে আরাধ্য। আরাধ্যরও বয়স পাঁচ বছর হতে চলেছে। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল বিয়ে করেছিলেন ‘অভি-অ্যাশ’। পুত্র ও পুত্রবধূর নবম বিবাহবার্ষিকীতে অমিতাভ বচ্চন তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অমিতাভ বচ্চন তাঁর ব্লগে অভিষেক ও ঐশ্বরিয়াকে শুভকামনা জানিয়ে লিখেছেন, ‘আগামীকাল ভোর হলেই অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার বিয়ের নয় বছর পূর্ণ হবে। এই দিনটি শুধু ওদের দুজনের জন্যই আনন্দ ও সুখের নয়; এই বিয়ে আমাদের দুটি পরিবারকে এক করেছে।’ গতকাল মঙ্গলবার মাঝরাতে অমিতাভ তাঁর ব্লগে এই পোস্টটি করেন। ব্লগপোস্টে ‘বিগ বি’ আরও বলেছেন, ‘এই বন্ধন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চারিত হোক।’

শাহরুখ-সালমানকে নিয়ে ছবি বানাবেন আর বালকি

শাহরুখ খান ও সালমান খান
বলিউডের নির্মাতা আর বালকি সম্প্রতি জানিয়েছেন, বলিউডের তারকা অভিনেতা ‘কিং খান’খ্যাত শাহরুখ ও ‘বজরঙ্গি ভাইজান’খ্যাত তারকা অভিনেতা সালমান খানকে নিয়ে ছবি বানাতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে ‘কি অ্যান্ড কা’ নির্মাতা বালকি বলেন, ‘আমি তাঁদের (সালমান ও শাহরুখ খান) নিয়ে ছবি বানাতে চাই।’ এই নির্মাতা জানান, শাহরুখ খান ও সালমান খানকে নিয়ে ছবি বানানোর ক্ষেত্রে তিনি আগে তাঁদের সেই ছবিতে কীভাবে আনতে চান, সে সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে চাইছেন। এদিকে বর্তমানে আর বালকির স্ত্রী ‘ইংলিশ ভিংলিশ’খ্যাত নির্মাতা গৌরী সিন্ধে ব্যস্ত শাহরুখ ও আলিয়া ভাটকে নিয়ে তাঁর নতুন ছবি বানানোর কাজে। প্রসঙ্গত, শাহরুখ ও সালমান অভিনীত প্রথম ছবি ‘করন-অর্জুন’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৫ সালে। ছবি মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল ‘করন-অর্জুন’। সর্বশেষ ২০০২ সালে ‘হাম তুমহারে হ্যায় সোনম’ ছবিতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল শাহরুখ ও সালমানকে।

‘বেগমজান’-এর শুটিং শুরু জুনে

সৃজিত মুখার্জি
কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’ ছবির হিন্দি সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। এ ছবির হিন্দি সংস্করণের নাম ‘বেগমজান’। এই ছবিটিও সৃজিতই পরিচালনা করবেন। এখানে ‘বেগমজান’ চরিত্রে কাজ করবেন বলিউডের অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। পরিচালক সৃজিত মুখার্জি জানিয়েছেন, এ বছরের জুন মাসেই এই ছবির শুটিং শুরু হবে। ভারতের মুম্বাইয়ে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সৃজিত বলেন, আগামী ১০ জুন থেকে ‘বেগমজান’ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে। বাংলা ছবি ‘রাজকাহিনী’তে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত যে চরিত্রটি করেছিলেন, সেই চরিত্রে দেখা যাবে বিদ্যা বালানকে। ‘বেগমজান’ ছবিটি প্রযোজনা করছেন বলিউডের প্রযোজক ও নির্মাতা মহেশ ভাট। এখানে বিদ্যা বালানের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন তারকার অভিনয় করার কথা। তবে সব শিল্পীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

মেয়ে শোনাবে বাবার গান

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও তাঁর মেয়ে দিঠি আনোয়ার
বাবা গাজী মাজহারুল আনোয়ার একাধারে গীতিকার, সুরকার ও নির্মাতা। তাঁর মেয়ে দিঠি আনোয়ার গান করেন। অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তাঁর গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন অনেক সংগীতশিল্পী। এবার বাবা-মেয়ে একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন একটি টিভি অনুষ্ঠানে। বাংলাভিশনে আজ প্রচারিত হবে ফোনোলাইভ স্টুডিও কনসার্ট ‘মিউজিক ক্লাব’ নামের একটি নিয়মিত অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানেই অতিথি হয়ে আসবেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও তাঁর মেয়ে দিঠি আনোয়ার। বাংলাভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ অনুষ্ঠানে মাজহারুল আনোয়ারের কালজয়ী সব গান গাইবেন তাঁর মেয়ে দিঠি আনোয়ার। সরাসরি সম্প্রচারিত এ অনুষ্ঠানে দর্শকেরা ফোন করে অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি গানের অনুরোধ করতে পারবেন। গানের পাশাপাশি তাঁরা কথা বলবেন তাঁদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জানা–অজানা তথ্যসহ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে। অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে আজ রাত ১১টা ২৫ মিনিটে। ‘মিউজিক ক্লাব’ অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন নাহিদ আহমেদ।

বিয়ে নিয়ে তামান্না যা বললেন...

তামান্না ভাটিয়া।
ভারতের সিনেমা জগতের শিল্পীদের বিয়ে করা না-করা নিয়ে সব সময় গুঞ্জন আর গুজবের অন্ত নেই। এই নায়িকা বিয়ে করছেন, অমুকের ঘর ভাঙছে—এমন নানা গল্পের মাঝে গুজব ছড়াল, চলতি বছরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ‘বাহুবলী: দ্য বিগিং’ তারকা দক্ষিণের সুপারস্টার তামান্না ভাটিয়া। শুধু এ খবর চাউর না, আরও বলা হচ্ছে, বিয়ের পর নাকি সিনেমাকে বিদায় জানাবেন তামান্না। তবে তামান্না বলেছেন বিয়ের খবরটি গুজব। যখনই বিয়ে করবেন, পুরো পৃথিবীকেই তা জানাবেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।  এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এক বিবৃতিতে বিয়ের খবর নাকচ করে দিয়েছেন তামান্না ভাটিয়া। তিনি বলেন, ‘এটা ভুয়া খবর। আমি এখনই বিয়েশাদি করছি না। যখনই আমি বিয়ের পিঁড়িতে বসব, আশা করি সারা বিশ্বকে প্রথমেই জানাব। আমি এখন প্রভু দেবার নতুন ছবিসহ কয়েকটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত।’  গুজব ছিল, তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে যার বিয়ে, তিনি নাকি সিনেমা জগতের মানুষ নন। তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। খবরে এ-ও বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরেই তাঁদের মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়ার কাজ চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই তামান্না নিজের বিয়ের ঘোষণা দেবেন।  বিয়ে নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু ভাবছেন না তামান্না। এখন তিনি ‘বাহুবলী’র দ্বিতীয় পার্ট ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এ ছাড়া বলিউডে রোহিত শেঠির পরিচালনায় রণবীর সিংয়ের সঙ্গে একটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা রয়েছে তামান্নার।  গত বছরটি তামিল এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে অন্যতম সফল একটি বছর। ‘বাহুবলী’তে অভিনয় করে বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বক্স অফিসেও দাপট দেখিয়েছে এস এস রাজামৌলি পরিচালিত প্রভাস-তামান্না ও আনুশকা শেঠির এই ছবিটি।

‘গেম অব থ্রোনস’ এবং জন স্নো!

গেম অব থ্রোনস-এর একটি পোস্টার
আপনি কী ভীত?’—শুরুটা হয়েছে এই প্রশ্ন দিয়েই। উত্তরটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে একটু পরেই—‘আপনার উচিত ভয় পাওয়া। কারণ, আপনি এখন বড় খেলাটিতে আছেন।’ বলছি জনপ্রিয় ‘গেম অব থ্রোনস’ টিভি সিরিজের ষষ্ঠ মৌসুমের (সিজন) প্রমোর কথা। যা দেখে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, বহুল প্রত্যাশিত ‘আয়রন থ্রোন’-এর জন্য লড়াইটা আরও জমবে এ মৌসুমে। ‘মার্চ ম্যাডনেস’ শিরোনামে ৩০ সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপটিতে রয়েছে আগের চেয়েও অনেক বেশি অ্যাকশন এবং রোমাঞ্চের ইঙ্গিত। সেখানে ‘ড্রাগনমাতা’ ড্যানেরিস টারগারিয়ানকে দেখা গেছে নতুন ‘খালাছার’ পরিবেষ্টিত অবস্থায় পাহাড়ঘেরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে। আগের মৌসুমে এক ‘খালাছার’ তাকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিল। নেড স্টার্কের বড় মেয়ে সানসা স্টার্ককে দেখা গেছে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় উইনটারফেলের বনের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালাতে।সানসার পাষণ্ড বর র‍্যামজে বল্টনকে দেখা গেছে ঘোড়সওয়ার হয়ে যুদ্ধের ময়দানে। জেমি ল্যানস্টারকেও যুদ্ধের ময়দানে দেখা গেছে। সানসার ছোট বোন আরিয়া স্টার্ক আছে সেই বহুমুখী ঈশ্বরের ওখানেই। সেখানেই ধীরে ধীরে প্রশিক্ষিত হয়ে বেড়ে উঠছে সে। আর রব স্টার্কের ভাই ব্রান স্টার্ক মুখোমুখি হয়েছে ভয়ংকর হোয়াইট ওয়াকারের! প্রমোতে ড্যানেরিসের ড্রাগনকেও একঝলক দেখা গেছে। ৩০ সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপটির শেষে বলা হয়েছে, ‘যেভাবেই হোক, হলঘরে একটি মুখ ঠিকই যুক্ত হবে।’ ‘হল অব ফেসেস’-এ নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার খবর নিশ্চয়ই আপনাকে শিহরিত করবে। ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত নয়টায় বিশ্বব্যাপী এইচবিও চ্যানেলে শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় ‘গেম অব থ্রোনস’ টিভি সিরিজের নতুন মৌসুমটি। দেখা যাবে এইচবিও ডটকমেও। ‘গেম অব থ্রোনস’কে তো এইচবিও চ্যানেলের গর্বই বলা যায়। কিন্তু এমন একটি তুমুল জনপ্রিয় এবং মানসম্মত টিভি সিরিজ বানাতে কেমন খরচ পড়ে, দর্শকদের তা জানা থাকা ভালো। সম্প্রতি ‘এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি’র একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ সম্পর্কিত তথ্য। জানা গেছে, সিরিজটির প্রতিটি পর্ব বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি ডলার। এ মৌসুমের মোট ১০টি পর্ব বানাতে খরচ হয়েছে ১০ কোটি ডলার! অথচ সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমের পর্বগুলো বানাতে খরচ হয়েছিল ৬০ লাখ ডলার। তবে, নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তের মুখে প্রশ্ন একটাই—জন স্নো কি সত্যিই মরে গেল? উত্তরটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখা হয়েছে। তবে সম্প্রতি টিভি অনুষ্ঠান ‘কোনান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যার ড্যাভোস সিওর্থ চরিত্র রূপদানকারী লিয়াম কানিংহ্যাম এই রহস্য কিছুটা উন্মোচন করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, জন স্নোর লাশ পাশে রেখে তার ঘাতকদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন স্যার ড্যাভোস এবং জনের কজন সঙ্গী। তবে, একটি পোস্টারে জন স্নোর চোখ সাদা দেখে কেউ কেউ ধারণা করেছেন, জন স্নো হয়তো হোয়াইট ওয়াকারও হয়ে যেতে পারেন! আসলে কী হবে জন স্নো চরিত্রটির, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

নতুনরূপে মোগলি আশিষ আচার্য্

দ্য জঙ্গল বুক
বাপ-মা-হারা মানবশিশু মোগলি। গহিন অরণ্যে এক নেকড়ে পরিবারে তার ঠাঁই। সেখানে প্রকৃতির কোলেই লালিত হয় ছেলেটি। তবে একসময় বুঝতে পারে, জঙ্গলটা তার জন্য আর অনুকূল নয়। ভয়ংকর বাঘ শেরে খান যাকে হুমকি মনে করবে, শেষ করে দেবে। মনে তার বেজায় ক্ষোভ। কারণ, গায়ে সে বয়ে বেড়ায় মানুষের আঘাতের ক্ষতচিহ্ন। অগত্যা মোগলিকে পথ দেখতে হয়। কিন্তু সে কি এত সহজে ছেড়ে দেবে নিজের একমাত্র আবাস? শুরু হয় মোগলির আত্ম-অনুসন্ধানের এক মনোমুগ্ধকর অভিযাত্রা। এতে দিকনির্দেশনা দেয় বাঘিরা নামের চিতা এবং মুক্ত আত্মার অধিকারী ভালুক বালু। এ যাত্রায় মোগলির দেখা হয় বুনো প্রাণিকুলের অনেকের সঙ্গে। তাদের মধ্যে যেমন আছে সম্মোহনী কণ্ঠের অধিকারী অজগর কা, তেমনি রয়েছে কিং লুই। তারা মোগলিকে আটকানোর চেষ্টা করে যেন সে ছলনাময়ী রক্ত পুষ্পকে (আগুন) ‘গোপন কথা’ বলে না দেয়। কাহিনি এগোয় এভাবেই। ইংরেজ সাহিত্যিক রুডিয়ার্ড কিপলিংয়ের এই গল্প নিয়ে ১৯৬৭ সালে প্রথম ছবি বানিয়েছিল ডিজনি। তারাই এবার নতুনরূপে নিয়ে এসেছে দ্য জঙ্গল বুক। এবারের ছবিতে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রযুক্তির পাশাপাশি যোগ হয়েছে কম্পিউটারনির্ভর নানা কল্পচিত্র, ব্যতিক্রমী সংগীত ও অন্যান্য উপাদান। পর্দায় একমাত্র মানব চরিত্র হিসেবে মোগলিকেই দেখা যাবে, বাকি সব পশুপাখি। এগুলো বানানো হয়েছে জটিল ডিজিটাল ইফেক্টের সাহায্যে, যার সঙ্গে লাইফ অব পাই ছবির মিল অনেক। পরিচালক আয়রন ম্যান ও অ্যাভেঞ্জারস ছবির জন ফাভ্রুর আশা, হলিউডের ইতিহাসে মাইলফলক হবে সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় এই অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। প্রধান চরিত্র মোগলির সঙ্গে ছবিতে রয়েছে জংলি অনেক জন্তু-জানোয়ার। তারাও এ ছবির চরিত্র। তবে এসব প্রাণীর কণ্ঠ দিয়েছেন হলিউডের নামী তারকা স্কারলেট জোহানসন, বিল মুর, বেন কিংসলে, ক্রিস্টোফার ওয়াকেন, ইদ্রিস এলবা, লুপিতা নিয়োঙ্গো প্রমুখ। মোগলির চরিত্রে অভিনয় করেছে নবাগত শিশুশিল্পী নিল শেঠি। ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি প্রযুক্তির চলচ্চিত্র দ্য জঙ্গল বুক মুক্তি পেয়েছে ১৫ এপ্রিল। ফাভ্রু মনে করেন, ১৯৬৭ সালের ছবিতে নারী চরিত্রের বড্ড ঘাটতি ছিল। এবার ছবিতে তাই স্ত্রী প্রাণীগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। আর মোগলি চরিত্রের জন্য তিনি প্রায় দুই হাজার শিশুর অডিশন নিয়েছেন। তারপর বেছে নেন নিল শেঠিকে। এখানে যেনতেন বালক দিয়ে তো আর কাজ চলে না! অরণ্যের আঙুরলতায় ঝুলে ঝুলে ক্ষিপ্রগতিতে মোগলিকে ছুটতে হয় আত্মরক্ষার জন্য। শারীরিক ব্যায়াম আর কসরতেও পটু হওয়া চাই তার। নিল অবশ্য এসব পরীক্ষায় উতরে গেছে। কেন পারবে না, তায়কোয়ান্দোতে ব্ল্যাক বেল্ট আছে যে তার। খুদে শিল্পীর ভাষ্য, ‘আগে কখনো ভাবিনি অভিনয় করব। নাচের শিক্ষকই খবরটা আমাকে দিয়েছিলেন। তারপর লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে অডিশন দিলাম। ব্যস, হয়ে গেল।’ অ্যানিমেশনকে আরও জীবন্ত রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় ডিজনির সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। বক্স অফিসে ইতিমধ্যে ভালো করেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে নির্মিত ম্যালেফিসেন্ট, সিন্ডারেলা এবং অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড। দ্য জঙ্গল বুক হয়তো সেগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। পরিচালক ফাভ্রু বলেন, তিনি ছবিটি এমনভাবে বানিয়েছেন যাতে সারা বিশ্বের শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সের, সব রকমের দর্শকেরই সেটা পছন্দ হয়। তবে এবারের ছবিতে মোগলির লড়াইকে আগের চেয়ে অনেক বেশি জীবন্ত রূপ দেওয়া হয়েছে।

আমি বনফুল গো by ইকবাল মতিন

কানন দেবীর সঙ্গে লেখক
কিংবদন্তি নায়িকা ও গায়িকা, বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার কুইন কানন দেবীর জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হবে কাল ২২ এপ্রিল। ১৯১৬ সালের এই দিনে তাঁর জন্ম। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে আসার। তাঁর কাছ থেকে সন্তানতুল্য ভালোবাসা আমি পেয়েছিলাম। মৃত্যুর ২ বছর আগে ১৯৯০ সালের ১৬ মে কলকাতার ১ নম্বর রিজেন্ট গ্রোভের ‘শ্রীমতি’ বাড়িটিতে তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। বাড়িতে ঢুকতেই পাশে নিয়ে বসিয়েছিলেন। বুলা বৌদিকে ডেকে বলেছিলেন, ‘মা, বাংলাদেশ থেকে আমার ছেলে ইকবাল এসেছে, তার জন্য জলখাবার নিয়ে এসো।’ তিনি বারান্দায় বসে তরকারি কুটছিলেন। বললাম, ‘মাসিমা আপনি এই বয়সে তরকারি কুটতে পারেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আরে তোমাদের বয়সী মেয়েদের আমার সঙ্গে লাগিয়ে দাও না, দেখি কে আগে পারে!’ আমি পুরোনো দিনের গ্রামোফোন রেকর্ড সংগ্রহ করি। কানন দেবীরও গাওয়া বেশ কিছু রেকর্ড আমার কাছে আছে। বললাম, আপনার গাওয়া প্রায় ৫০-৬০ খানা গান আমি আমার সংগ্রহে রেখেছি। শুনে হেসে বললেন, ‘আরে পাগল ছেলে, কত বড় বড় শিল্পী আছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে আমার গান কষ্ট করে সংগ্রহ করে কী করবে?’
তাঁর দিকে তাকাই আর ভাবি, অতি সাধারণ বাঙালি এক বালিকা, যার নাম ছিল কাননবালা দাস, পরবর্তী সময়ে তাঁর কানন দেবীতে উত্তরণ এক কল্পকাহিনির মতো। রূপ, ব্যক্তিত্ব আর গুণের এমন ত্রিবেণী সঙ্গম খুব কম ভারতীয় অভিনেত্রীর মধ্যেই দেখা গেছে। তাঁকে একটু ছোঁয়ার জন্য প্রেক্ষাগৃহে পর্দার দিকে দর্শক ছুটে গিয়েছে, যে রাস্তা দিয়ে তিনি ফিটন গাড়িতে চড়ে যেতেন সে রাস্তার ধারে তাঁকে এক পলক দেখার জন্য কাতারে কাতারে লোক দাঁড়িয়ে থেকেছে।
কানন দেবী
কানন দেবীর বাবা রতন চন্দ্র দাস মেয়েকে গান শেখাতে চেয়েছিলেন। কানন দেবীরও সাধ ছিল গায়িকা হওয়ার। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর নিষ্ঠুর নিয়তি কানন দেবী আর তাঁর বিধবা মাকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে নিক্ষেপ করল। জীবনে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন তিনি কখনো দেখেননি। বাঁচার অবলম্বন হিসেবে যখন অভিনয়কে বেছে নিতে হলো, তখন অভিনয়কেই তিনি তাঁর জীবন, জীবিকা, ধ্যান ও জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তবে গানকে তিনি অবহেলা করেননি।
তুলসী বন্দ্যোপাধ্যায়কে কানন দেবী কাকাবাবু বলে ডাকতেন। তিনিই তাঁকে মাত্র দশ বছর বয়সে ম্যাডান কোম্পানিতে নিয়ে আসেন। জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত নির্বাক ছবি জয়দেব-এ রাধার ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে কানন দেবীর শিল্পীজীবন শুরু হলো। ১৯২৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর ১৯২৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইন্ডিয়ান সিনেমা আর্টস’ প্রযোজিত এবং কালীপ্রসাদ ঘোষ পরিচালিত নির্বাক ছবি শঙ্করাচার্য ছবিতে বালিকা কানন অভিনয় করেন। ১৯৩১ সালে প্রথম সবাক বাংলা ছায়াছবি জামাইষষ্ঠী মুক্তি পেল। ‘ম্যাডান থিয়েটার’-এর দ্বিতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য সবাক ছবি জোরবরাত-এর জন্য সুন্দরী ও সুকণ্ঠী নায়িকার প্রয়োজন। ছবির পরিচালক জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় কাননকে ডেকে পাঠালেন। কানন দাস নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করলেন মিস কাননবালা নামে। এরপর ১৯৩১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঋষির প্রেম, প্রহ্লাদ এবং ১৯৩২ সালে বিষ্ণুমায়া ছবিতে অভিনয় ও গান করেন। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়া। ১৯৪১ সালে নীতিন বসু পরিচালিত পরিচয় ও এই ছবির হিন্দি সংস্করণ লগন-এ নায়িকা চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য বিএফজেএ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৬৮ সালে চলচ্চিত্রশিল্পে অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে সম্মানিত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার পান। ১৯৯০ সালে তিনি সিনে সেন্ট্রাল কর্তৃক হীরালাল সেন পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯১ সালে কানন দেবী ইন্দিরা গান্ধী স্মৃতি পুরস্কার পান। কানন দেবীর গাওয়া ‘আমি বনফুল গো‘, ‘তুফান মেল’ অথবা রবীন্দ্রসংগীত ‘আজ সবার রঙ্গে’ বা ‘তার বিদায়বেলার মালাখানি’ গান একবার যাঁরা শুনেছেন তাঁরা অনায়াসে বুঝবেন যে গায়িকা হিসেবে তিনি কত উঁচুদরের শিল্পী ছিলেন। ১৯৯২ সালের ১৭ জুলাই তিনি আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন। কিন্তু আমাদের অন্তরে তিনি পেয়েছেন চিরস্থায়ী আসন।

এখন না কব কথা by রাসেল মাহমুদ

অতঃপর কৌতুক অভিনেতার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেল সুকণ্ঠী গায়িকার। অথচ কী মহাসমারোহে ধুমধাম করে ভারতীয় রীতিতে বিয়েটা হয়েছিল। বিয়েতে হাতি-ঘোড়া-উট ছিল। ছিল বাজিগর, সাপুড়ে, নর্তকী আর গান-বাদ্য। একেবারে সেই পৌরাণিক কাহিনির মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন আয়ত-নয়না কেটি পেরি। এখানকার রীতি ও লোকাচারে মুগ্ধ হয়ে দুজনে সিদ্ধান্ত নেন বিয়েতে এগুলোর সবই থাকা চাই। ২০১০ সালের সেই বিয়ে পরের বছরের শেষেই ভেঙে গেল। গত সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে শোরগোল। পশ্চিমা গণমাধ্যমের ক্যামেরায় অরল্যান্ডো ব্লুমকে বাহুবন্দী করে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা উৎসবে। শিল্পকর্ম ও সংগীতের এই উৎসবে শিল্পী কেটি পেরি গান করেছেন কি না তারও থেকে বড় খবর ছিল সেটি। তবে ৩১ বছরের এই তরুণী ইতিমধ্যে সংগীত জগতের খবর হয়েছেন বহুবার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াকালীন কেটির শিক্ষিকা ক্লাসে একটি বোর্ড বানিয়ে আনতে বলেছিলেন। বড় হয়ে যে যা হতে চায়, তারই একটা প্রতিচ্ছবি থাকবে সেই বোর্ডে। বিভিন্ন ম্যাগাজিন কেটে ‘জীবনের লক্ষ্য’ বোর্ডটি বানিয়েছিল কেটি। সেই বোর্ডে ছিল গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড হাতে লাতিন গায়িকা সেলেনার ছবি। এ ঘটনার ঠিক ১৫ বছর পরের কথা। সেরা নারী পপ গায়িকা হিসেবে গ্র্যামির জন্য মনোনয়ন পান কেটি পেরি। বিশ্বব্যাপী তখন লোকের কানে বাজছে তাঁর গান ‘আই কিস্ড আ গার্ল’। কেটির ওয়ান অব দ্য বয়েজ অ্যালবামের ওই গানটি ছাড়াও ‘ইউআর সো গে’ গানটিও দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এমনকি ম্যাডোনার মতো শিল্পী গানটির প্রশংসা করেছেন। ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে ছিলেন কেটি পেরি। এমটিভির মতো চ্যানেলগুলো দেখা তো দূরের কথা, রক ও জনপ্রিয় ধারার গান শোনাও বারণ ছিল ঘরে। বড়জোর ‘সিস্টার অ্যাক্ট’ ঘরানার গান শুনলে বাবা-মা কিছু বলতেন না। অথচ সেই মেয়ে লিখে ফেললেন ব্যতিক্রম যৌনানুসন্ধানী এক গান। পরে অবশ্য সমপ্রেমী অধিকার আন্দোলনেও জড়িয়েছেন এই শিল্পী। যদিও তিনি সমপ্রেমী নন। কেটির প্রথম একক গান ‘আই কিস্ড আ গার্ল’ তাঁকে এনে দেয় খ্যাতির মুকুট। প্রকাশের পর টানা সাত সপ্তাহ বিলবোর্ডের এক শ গানের তালিকার ১ নম্বরে ছিল গানটি। সারা বিশ্বে ছয় মিলিয়নেরও বেশি বিক্রি হয় এই একটি গান। গানটির ভিডিওর জন্য এমটিভির সেরা নবাগত শিল্পীর পুরস্কার, ২০০৯ সালে জনপ্রিয় পপ গান হিসেবে ‘পিপল চয়েস’ পুরস্কার জেতেন কেটি। ২০০৮ সালে মাইস্পেসে সর্বাধিক দেখা ভিডিও এটি। এ ছাড়া এই গান তাঁকে এনে দেয় বহু পুরস্কার, সম্মাননা ও পরিচিতি। একই সঙ্গে রূপবতী, আবেদনময়ী ও সুকণ্ঠী বলে কেটি পেরি চট করেই সবার নজরে পড়ে যান। আর নিরীক্ষাধর্মী সাজপোশাক তাঁকে মঞ্চে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। নয় বছর বয়স থেকে গান ও তেরো বছর বয়সে গিটার শিখতে শুরু করেন তিনি। সংগীতে ক্যারিয়ার করার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি তিনি। ২০০১ সালে কেটি হাডসন নামে একটি অ্যালবাম করেন এবং ব্যর্থ হন। অ্যালবামটি নিয়ে এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে তিনি বলেছিলেন, বড়জোর শ খানেক লোকের হাতে পৌঁছায় সেটি। তারপর ওই লেবেল কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায়। পরে নাম বদলে তিনি হয়ে যান কেটি পেরি। ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্ল’, ‘ডার্ক হর্স’, ‘আম স্টিল ব্রেদিং’, ‘রোয়ার’-এর মতো গানগুলোর আগ পর্যন্ত ভীষণ চড়াই-উতরাই পেরোতে হয় তাঁকে। ১৭ বছর বয়সে প্রযোজক ও গীতিকার গ্লেন ব্যালার্ডের সঙ্গে কাজ করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। সেখানকার পাঁচটি বছরের বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘টাকাপয়সার ভীষণ টানাটানি যাচ্ছিল। বাসাভাড়া দেওয়ার জন্য কখনো টাকা ধার করেছি, কখনো নিজের জামা বিক্রি করে দিয়েছি। গানগুলো বাজারে আনতে একটা রেকর্ড কোম্পানি খুঁজে পাইনি সেদিন।’ ২০০৭ সালে ক্যাপিটল-এর সঙ্গে চুক্তির পর কষ্টের দিন শেষ হয় তাঁর। এখন রেকর্ড কোম্পানিকে তিনি বলেন, এখন না কব কথা। তাদের দেওয়ার মতো সময় আছে নাকি?