Sunday, May 7, 2017

তাইপে-বেইজিং টানাপড়েন আরেক ধাপ বাড়ল

তাইওয়ানের উপকূল রক্ষীদের গুলিতে চীনের দুই জেলে আহত হয়েছেন। তাইওয়ানের পানিসীমায় অবৈধ ভাবে ঢোকার পর জেলে নৌকা লক্ষ্য করে গুলি চালালে এ দুই জেলে আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাইপে এবং বেইজিং’এর চলমান টানাপড়েন বাড়ল আরো এক ধাপ । শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে। চীনের গুয়াংদং প্রদেশের একটি জেলে নৌকাকে তাইওয়ানের পেংগু দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি দেখা যায়।
দ্বীপ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইলের চেয়েও কম দূরত্বে ছিল নৌকাটি। তাইওয়ানের উপকূল রক্ষীদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা বেতার মারফত হুঁশিয়ারি দেয়ার পরও নৌকাটি থামতে অস্বীকার করে বলে দাবি করা করা হয়। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের নৌকায় উঠতে বাঁধা দেয় চীনের জেলেরা। সে সময়ে উপকূল রক্ষীদের পক্ষ থেকে রাবারের বুলেট দিয়ে গুলি চালানো হয়। এতে দুই জেলে আহত হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে আটক করেছে তাইওয়ানের উপকূল রক্ষী। একে মারাত্মক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে এর তদন্তের দাবিও জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া, তাদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। পেংগু দ্বীপপুঞ্জ তাইওয়ানের প্রধান দ্বীপ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং চীনের উপকূল থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

হাওরে দুর্নীতি লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন : সেলিম

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম হাওর সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকৃতি-পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ-স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন উন্নয়নের প্রসব বেদনার নামে হাওরের স্বাভাবিক প্রকৃতি-পরিবেশ নষ্ট করা চলবে না। হাওরবাসির প্রতি সরকারের ক্রমাগত অবহেলা-দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আর এজন্য আগামী ২০ মে ঢাকায় হাওরবাসী জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও শ্রেণী-পেশার মানুষদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য হাওর কনভেনশন সফল করারও আহ্বান জানান তিনি। হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি ও হাওরবাসির বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য সিপিবি-বাসদের কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধি দল গত ২ ও ৩ মে সুনামগঞ্জের শনির হাওর ও হাইলের হাওর অঞ্চলে সফর করেন। সফরের অভিজ্ঞতা ও হাওরবাসীর বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য সিপিবি-বাসদ আজ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুজাহিুদুল ইসলাম সেলিম এসব কথা বলেন। তিনি হাওরের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে রাবার ড্যাম নির্মাণ, ডুবো রাস্তা নির্মাণ না করে আবুরা রাস্তা ও ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণ হাওর অঞ্চলকে আরো ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে নিপতিত করবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে খালেকুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরেই হাওরে ৫-৩০% ক্ষতি হয়। কিন্তু এবার প্রায় ৯০% হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলে বিষয়টিকে প্রতিবারের ন্যায় দেখার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা ২দিন হাওরবাসির মধ্যে ছিলাম। প্রত্যক্ষ করেছি তাদের ক্ষতির ভয়াবহতা।
যে কারনে আমরা হাওর অঞ্চলকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করার দাবি করছি। কিন্তু সরকারের কর্তাব্যক্তিরা, মন্ত্রী-এমপিরা জাতিকে নানা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন,‘ঐ এলাকার অর্ধেক মানুষ না মারা গেলে আমরা দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে পারি না’ এটা হাওরবাসির দুর্দশা নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও হাওর পরিদর্শন টিমের অন্যতম সদস্য কমরেড সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পরিদর্শন টিম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ কন্দ্রেীয় কমিটির সদস্য পরিদর্শন টিমের সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ও পরিদর্শন টিম সদস্য আব্দুল্লাহ-আল কাফি রতন, পরিদর্শন টিম সদস্য ও বাসদ নেতা কমরেড নিখিল দাস। আরোও উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহেদুল হক মিলু, রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি নেতা কাজী রুহুল আমিন, ক্ষেতমজুর নেতা অর্ণব সরকার, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, আঃ রাজ্জাক প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো বলা হয়, হাওর এর সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে আগামী ২০ মে “হাওর কনভেনশন” করে সবার মতামতের ভিত্তিতে সমস্যার কারণ ও প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরা হবে। বর্তমান সংকট মোকাবেলায় হাওরবাসিদের বাঁচাতে নি¤œলিখিত ৮ দফা পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়।

মমতাকে চীন সফরের অনুমতি দিল না ভারত সরকার

চীন সফরে ‌যাওয়া হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। ওই সফরের জন্য তাকে ছাড়পত্র দেয়নি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মমতা ব্যানার্জিকে কুনমিং ‌যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চীন সরকার। ভারত সরকার তাতে রাজিও হয়ে ‌যায়। কিন্তু বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশসহ একাধিক বিষয় নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারতের সংঘাত শুরু হয়েছে তার ফলেই ওই সফরের ব্যাপারে না করে দিল কেন্দ্র। ভারতের আইন অনু‌যায়ী দেশের কোনো মন্ত্রী, এমপি বা আমলা ‌যদি বিদেশ সফরে ‌যান তা হলে তার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগে। ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে এনিয়ে একটি আইন পাশ করা হয়। তার পর থেকেই কেন্দ্রে অনুমতি নিয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ আমলা, এমপিরা বিদেশ সফরে গেছেন। ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব ‌যথেষ্টই।
এবিপির খবর অনু‌যায়ী, ভারত-চীন সংঘাতের আবহে মমতাকে কোনো রকম ফাঁদে ফেলতে পারে চীন। তাই মমতার সফরের ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাত বড় আকার ধারণ করছে। এছাড়া চীন-পাকিস্তান আর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও ভারতের সঙ্গে চীনের তিক্ততা বেড়েছে। ফলে আগামী মাসে চিনে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড শীর্ষক মেগা প্রকাল্পের সম্মেলন বাতিল করেছে ভারত। এরকম এক অবস্থাতেই মমতার সফরে না করে দিল ভারত সরকার।

স্থুলকায় যাত্রীদের পাশে আসন! লাখ ডলারের মামলা

বিমানে অত্যধিক স্থুলকায় দুই সহযাত্রীর পাশে বসতে হয়েছিল। প্রায় ১৪ ঘণ্টার ফ্লাইট ছিল। দুই স্থুলকায় ব্যক্তির পাশে বসে চিঁড়েচ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলেন। অন্য আসনে বসার অনুমতি চেয়েও পাননি। সেই কারণে ওই বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন সংশ্লিষ্ট যাত্রী। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ দাবি করেছেন। এই যাত্রীর নাম মাইকেল অ্যান্টনি টেলর। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথওয়েলসের বাসিন্দা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিডনি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফ্লাইটে তাকে সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ। আদালতে মাইকেল জানিয়েছেন, তিনি ইকনমি ক্লাসে জানালার ধারের আসনে বসেছিলেন।
পাশের দুই সহযাত্রীই অত্যধিক স্থুলকায় ছিলেন। তাদের চাপে মাইকেলকে এক পাশে সরে যেতে হয়। গোটা ফ্লাইটেই তিনি স্বস্তিতে বসতে পারেননি। ১৪ ঘণ্টা এভাবে থাকার ফলে কোমর ও ঘাড়ে যন্ত্রণা শুরু হয়। বারবার বলা সত্ত্বেও তাকে অন্য আসনে বসতে দেয়া হয়নি। সেই কারণেই ওই মার্কিন বিমান সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গত বছরেও অস্ট্রেলিয়ার আদালতে এই ধরনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ইতালির এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের উড়ানে তাকে ৯ ঘণ্টা ধরে এক স্থুলকায় ব্যক্তির পাশে বসে থাকতে হয়েছিল। ফের একই ধরনের মামলা দায়ের করা হল। ওই মার্কিন বিমান সংস্থা জানিয়েছে, তারা মাইকেলের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানানো হবে।

ভোলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ভোলায় বিএনপির কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। সাবেক এমপি নাজিমউদ্দিন আলম ও যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব নুরুল ইসলাম নয়ন সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভোলা সদর রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত বিএনপির কর্মী সম্মেলনে প্রবেশের সময় সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী  চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়।
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর সম্মেলন শুরু হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি গোলামনবী আআলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব এড মজিবর রহমান সরোয়ার, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, নাজিমউদ্দিন আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঝিনাইদহে নিহত দুজন নব্য জেএমবি : ডিআইজি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় উগ্রবাদী আস্তানায় অভিযানে নিহত দুইজন নব্য জেএমবি বলে জানিয়েছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহম্মেদ। সন্দেহজনক উগ্রবাদী আস্তানা পরিদর্শন শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ডিআইজি বলেন, অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ঘরের বাইরে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত হয়। আরেকজন ঘরের ভেতরে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয়। নিহত দুজন নব্য জেএমবির সদস্য। তাদের মধ্যে একজনের নাম তুহিন বলে জানা গেছে।
দিদার বলেন, ঘরের ভেতরে বিস্ফোরকদ্রব্য থাকতে পারে। তাই ঢাকা থেকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল আসছে। এর আগে আজ রোববার ভোর থেকে উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নের বজ্রাপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় অভিযানে সন্দেহভাজন দুই উগ্রবাদী নিহত হওয়ার তথ্য জানায় পুলিশ। অভিযানকে কেন্দ্র করে আস্তানার আশপাশের এলাকায় আজ সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ৯ মে থেকে

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার এই নীতিমালা জারি করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তির জন্য অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ৯ মে থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। অনলাইনের জন্য www.xiclassadmission.gov.bd ঠিকানায় এবং টেলিটকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে ১৫০টাকা ফি দিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে হবে। আর এসএমএসের মাধ্যমে প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর একজন শিক্ষার্থী যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করবে, তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দেয়া হবে।
কলেজে ভর্তির জন্য প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ জুন। এরপর আরও দুই দফায় আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ে ভর্তির কাজ শেষ করে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে ১০ বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। এর মধ্যে আট বোর্ডের অধীন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৭ হাজার ৯৬৪ জন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপ আজ, কে জিতবেন?

ফ্রান্সে আ্জ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ আজ। ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং তার প্রতিদ্বন্ধী ম্যারি লে পেনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। ম্যাক্রঁর ইমেইল হ্যাকিংয়ের জটিল বিতর্কের মধ্যেই ভোট দিতে যাবেন ফরাসিরা। হ্যাকিং নিয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলান্দ বলেছেন, সম্ভাব্য বিজয়ী ইমানুয়েল ম্যাক্রন যে বড় ধরণের হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে সেটার জবাব দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের রাতে তিনি বলেন, সবায় জানতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা ঝুঁকির মধ্যে পরতে পারে। তিনি মূলত এসময় আমেরিকার নির্বাচনের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠে সেটাকে ইঙ্গিত করেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং তার প্রতিদ্বন্ধী ম্যারি লে পেন উভয় এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বিবিসির প্যারিস সংবাদদাতা বলছেন, এই হ্যাকিং-এর ঘটনা নির্বাচনের ফলাফলে খুব বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে না। এ বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ফাঁস হওয়া তথ্য নির্বাচনের প্রাক্কালে কেউ প্রচার করলে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলান্দ বলেছেন সম্ভাব্য বিজয়ী ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ যে বড় ধরণের হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে সেটার জবাব দেয়া হবে। তবে সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা বলছিলেন এই ঘটনা তাদেরকে একেবারেই বিস্মিত করেনি। এখানে একজন বলছেন আমরা জানি এখানে বিদেশি শক্তি কাজ করছে যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চায়। আরেকজন ব্যক্তি বলছেন এর আগেও এমনটা হয়েছে। এখন আমরা আধুনিক যুগে বাস করছি,
তাই ব্যাপারটা হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। ফ্রান্সের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে অংশ নেবেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। ২৩ তারিখের নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে, ২১.৪ শতাংশ ভোট পাওয়া উগ্র-ডানপন্থী এন এফ পার্টির নেতা মারি লে পেনের সাথে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২৩.৯ ভাগ ভোট পাওয়া ম্যাক্র। মিজ লে পেন ২০১১ সালে তার বাবার কাছ থেকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতৃত্ব নেন এবং এরপর থেকে দলের চরমপন্থি অতীত থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে ৩৯ বছর বয়সী সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার, ম্যাক্রঁ প্রেসিডেন্ট ওলাদের অধীনে অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। নির্বাচনের প্রধান একটি ইস্যু বেকারত্ব। দেশটিতে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ। ২৮ টি ইইউ-ভুক্ত দেশের মধ্যে বেকারত্বের দিক দিয়ে ফ্রান্সের অবস্থান অষ্টম। আরেকটি প্রধান ইস্যু নিরাপত্তা। ফ্রান্স এখনো জরুরী অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরাক এবং সিরিয়ায় যুদ্ধে যাওয়া শত-শত ফরাসী মুসলিম তরুণ হয়তো দেশে ফিরে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করবে। এখন যে প্রার্থী জয় লাভ করুন না কেন তার উপর অনান্য চ্যালেঞ্জের আগে এই দুই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। সূত্র : বিবিসি

হামাগুড়ি দিয়ে প্রশ্ন চুরির সময় হাতেনাতে ধরা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ। হেনরি লিঞ্চ নামের সেই ছাত্র জানতেন না যে, সেই শিক্ষক অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। পরবর্তীতে সেই ছাত্র এবং তার একজন সহযোগীকে বিস্মিত করে দিয়ে শিক্ষক চলে আসেন এবং দু'জনই ধরা পড়েন। তাদের আগামী মাসে বিচারকের মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র, জে ব্লান্টন বলেন, ২১ বছর বয়সী জৈব প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী লিঞ্চ ক্যাম্পাস ভবনের ছাদের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং হামাগুড়ি দিয়ে তার পরিসংখ্যান শিক্ষকের কক্ষের ওপরে পৌঁছায়। সেখান থেকেই সে কক্ষের ভেতরে ঝাঁপ দেয়। রাত আনুমানিক ২টার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ব্লান্টন। কিন্তু ছাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ পথে সে কীভাবে প্রবেশ করল, তা স্পষ্ট নয়। কক্ষে প্রবেশের পর সহযোগী ট্রয় কিপাথের জন্য সে দরজা খুলে দেয়। এরপর দরজা বন্ধ করে দু'জনেই পরীক্ষার খাতা খুঁজতে থাকে।
কিন্তু তারা জানত না যে তাদের শিক্ষক জন কেইন বাইরে খাবার খেতে গেছেন। এরই মধ্যে তিনি ফিরে আসেন। দরজা খোলার চেষ্টা করেও না পেরে তিনি বুঝতে পারেন যে ভেতরে কেউ আছে এবং চিৎকার করে বলেন যে, তিনি পুলিশ ডাকবেন। এর পরই ভেতর থেকে দু'জন দরজা খুলে দেয় এবং দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে লিঞ্চ স্বীকার করেন যে, তিনি দিনের বেলায়ও পরীক্ষার খাতা চুরি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। এর আগেও তিনি একইভাবে চুরি করেছিলেন। আগের সেমিস্টারেও তিনি প্রশ্নপত্র চুরি করেছেন, কিন্তু অন্য কোন সহপাঠীকে বিষয়টি জানাননি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা দফতরকে জানানো হয়। "কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতারণা বা চুরি করার মত এধরণের অপরাধ খুবই গুরুতর" বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মুখপাত্র। সূত্র : বিবিসি

'পরমাণু ফুটবল' রাখতে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করল পেন্টাগন

নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছে পেন্টাগন। 'পরমাণু ফুটবল' রাখার জন্য এটি ভাড়া করা হয়েছে। জরুরি অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গোপন সঙ্কেত সংরক্ষণকারী ব্রিফ কেসকে 'পরমাণু ফুটবল' বলা হয়। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেখানেই যান না কেনো তার সাথে নিরাপদে যোগাযোগ রক্ষার ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নিউইয়র্কে যাবেন তখন 'পরমাণু ফুটবল' এখানে রাখা হবে। অবশ্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেয়ায় ট্রাম্পের পরিবারের আর্থিক কোনো লাভ হবে না। কী শর্তে এটি ভাড়া নেয়া হয়েছে তাও প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন হাউজ আর্মড সার্ভিস এবং ইনটেলিজিন্স কমিটির কাছে লেখা প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তার চিঠি থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে। অবশ্য হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেছেন, ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। এ ছাড়া, ফ্লোরিডার পাম বিচ এবং নিউ জার্সির বেডমিনিস্টারের ট্রাম্প গলফ ক্লাবেও মাঝে মাঝে যান ট্রাম্প। সেখানে এ ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি।

মেক্সিকোয় সেনাবাহিনীর সাথে তেল চোর বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১

মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলীয় ভেরাক্রুজ রাজ্যে ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন সংঘবদ্ধ তেল চোর বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে এক সন্দেহভাজন অপরাধী নিহত হয়েছে। পুলিশের এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। ফেডারেল পুলিশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র অপরাধী চক্রটির সদস্যরা তাদের দুই সদস্যকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালালে এই সংঘর্ষ ঘটে।
একটি ট্রাকে করে চোরাই তেল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে, শনিবার সকালে পুলিশ ওই দু'জনকে গ্রেফতার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে। ভেরাক্রুজের দক্ষিণে সাইয়ুলা ডি আলেমান ও অ্যাকাযুকানের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটককারীদের অ্যাকায়ুকানে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গীরা পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জবাবে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে একজন অপরাধী মারা যান। পুলিশের আরো সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অপরাধীরা সায়ুলা ডি অ্যালেমান শহরের দিকে পালিয়ে যায়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোববার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী নেত্রী মেরিনা লে পেন ও তরুণ মধ্যপন্থী নেতা ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের মধ্যে মধ্যে লড়াই হচ্ছে। ফ্রান্সের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে অংশ নেবেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। ২৩ তারিখের নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যাচ্ছে, ২১.৪ শতাংশ ভোট পাওয়া উগ্র-ডানপন্থী এন এফ পার্টির নেতা মারি লে পেনের সাথে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২৩.৯ ভাগ ভোট পাওয়া ম্যাক্রন। লে পেন ২০১১ সালে তার বাবার কাছ থেকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতৃত্ব নেন এবং এরপর থেকে দলের চরমপন্থি অতীত থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে ৩৯ বছর বয়সী সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার, ম্যাক্রন প্রেসিডেন্ট ওলাদের অধীনে অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। নির্বাচনের প্রধান একটি ইস্যু বেকারত্ব। দেশটিতে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ। ২৮ টি ইইউ-ভুক্ত দেশের মধ্যে বেকারত্বের দিক দিয়ে ফ্রান্সের অবস্থান অষ্টম। আরেকটি প্রধান ইস্যু নিরাপত্তা। ফ্রান্স এখনো জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরাক এবং সিরিয়ায় যুদ্ধে যাওয়া শত-শত ফরাসী মুসলিম তরুণ হয়তো দেশে ফিরে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করবে। এখন যে প্রার্থী জয় লাভ করুন না কেন তার উপর অনান্য চ্যালেঞ্জের আগে এই দুই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। সূত্র : বিবিসি

পরীক্ষা দিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল শিশু শিক্ষার্থীরা

তাঞ্জানিয়ার উত্তরাঞ্চলে স্কুল বাস দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের অধিকাংশই শিশু। এদের মধ্যে দু’জন শিক্ষক ও চালকও রয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারাতু শহরের কাছের একটি খাদে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আরুশার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরেকটি স্কুলে মৌখিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুদের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি একে একটি ‘জাতীয় ট্রাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভিয়েতনামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ১০

ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলের গিয়া লাই প্রদেশে রোববার সকালে বাস ও ট্রাক্টর ট্রেইলারের মুখোমখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। প্রাদেশিক ট্রাফিক পুলিশ ব্যুরো জানায়, হো চি মিন রোডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় বাসটিতে ৩৬ আরোহী ছিল।
ট্রাক্টর ট্রেইলারে করে এর চালক ও তার সহকারী সার নিয়ে যাচ্ছিল। এতো জোরে সংঘর্ষ হয় যে দুটি গাড়িরই যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এতে চালক ও যাত্রীরা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে। স্থানীয়রা গাড়ির দরজা ও জানালা ভেঙ্গে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে।

‘সীমান্ত হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সীমান্ত হামলার তাৎক্ষণিক এবং উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। পাকিস্তানের আদম শুমারির দলকে লক্ষ্য করে আফগানিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি বর্ষণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হওয়ার একদিন পর এ মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে আফগানিস্তানের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপের সময়ে এ সব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে পাকিস্তান আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। অবশ্য পাকিস্তান গভীরভাবে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানান তিনি। খাজা আসিফ বলেন, ভৌগলিক সীমান্ত রক্ষায় পাকিস্তান প্রস্তুত। পাকিস্তান থেকে সফলভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তার দেশ বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে।

'কাশ্মিরে সেনা পরিচালিত স্কুলে ভুল শিক্ষা দেয়া হচ্ছে'

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের সেনা পরিচালিত স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের ভুল শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতাকামী জোট হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি এ কথা বলেছেন। কাশ্মিরের প্রচুর ছেলেমেয়ে সেনা পরিচালিত ওই সব স্কুলে যায়। আর সে কারণেই সেখানে তাদের যা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। গিলানি বলেন, এসব স্কুলে গেলে ধর্ম ও সংস্কৃতির পথ থেকে সরে যাবে কাশ্মিরের শিশু-কিশোরেরা।
উপত্যকায় অভিভাবকদের উদ্দেশে গিলানি জানিয়েছেন, তারা যেন তাদের সন্তানদের ওই সব স্কুলে না পাঠায়। তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এইভাবে হারাচ্ছি। সেনাদের এই ইনস্টিটিউট আমাদের ছেলেমেয়েদের ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করছে। বাবা-মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হয়।

মার্কিন বোমার নাম শুনে লজ্জা পেলেন পোপ

পোপ ফ্রাঁন্সিস মার্কিন সর্ববৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমার নাম রাখতে ‘মা’ শব্দ ব্যবহার করার কঠোর সমালোচনা করেছেন। ছাত্রদের সাথে কথা বলার সময় মার্কিন কথিত ‘সকল বোমার মা’ হিসেবে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডনেন্স এয়ার ব্ল্যাস্ট বা এমওএবি বোমার প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি। এ বোমাকে মোয়্যাবও বলা হয়। তিনি বলেন, এ বোমার নাম শুনে খুব লজ্জা পেয়েছি। মা জীবন দেন আর এ বোমা মৃত্যু ডেকে আনে।
অথচ এ বোমার নামে ‘মা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পোপ প্রশ্ন করেন, কী হচ্ছে বলুন তো? চলতি মাসের ১৩ তারিখে আফগানিস্তানের  পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে এ বোমা ফেলা হয়েছিল। আইএসের অবস্থানের ওপর এ বোমা ফেলা হয় বলে দাবি করেছিল আমেরিকা। এতে কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানান হয়েছে। অত্যন্ত শক্তিশালী এ বোমা হামলায় তুলনামূলক কম সংখ্যক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, আইএসের সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই বোমাটি ফেলেছে আমেরিকা।

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী নিহত

রংপুর মহানগরীর নিসবেতগঞ্জ এলাকায় বাসের চাকায় পিস্ট হয়ে ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় রংপুর-বদরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসি। এ ঘটনায় ওই রুটে ৪ ঘন্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এলাকাবাসি জানান, সকালে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বাড়ী থেকে বের হয়ে ওষুধ আনতে যাওয়ার সময় নিসবেতগঞ্জ শতরঞ্জির মোড়ে রংপুর থেকে পাবর্তীপুরগামী রিমারিসি নামের মিনিবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এসময় বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি বাসটিকে আটক করে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকাবসি। তারা রংপুর-বদরগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে বেলা সাড়ে ১২ টায় দোষিদের শাস্তির আশ^াস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

মিঠাপুকুরে ডিসি অফিসে আবেদন ছাড়াই চলছে ১৭ ইটভাটা

রংপুরের মিঠাপুকুরে ডিসির অনুমোদন তো দুরের কথা, ডিসি অফিসে আবেদনটুকুও না করে গত পাঁচ বছর ধরে চলছে এমআরবিসহ ১৭টি ইটভাটার কার্যক্রম। প্রতিবছরই অনুমোদনবিহীন এই ইটভাটার আগুনে নস্ট হচ্ছে পার্শ্ববতি বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। ভুক্তভোগিরা ডিসি বরাবরে আবেদন করেও কোন সুরাহা মেলে নি। বরং ইটভাটার মালিক প্রভাবখাটিয়ে ডিসি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে চালাচ্ছে ইট বিক্রির কার্যক্রম। রংপুর ডিসি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ডিসি অফিসে মিঠাপুকুর উপজেলায় মোট ২৮ টি ইটভাটার তালিকা আছে। এরমধ্যে আটটির লাইসেন্স আছে এবং তিনটি ইটভাটা আবেদন করেছে লাইসেন্সের জন্য। আর এমআরবিসহ ১৭ টি ইটভাটা আজ পর্যন্ত লাইসেন্সের জন্য আবেদনই করে নি। রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি আখতারুজ্জান টুকু জানান, এমআরবি নামে কোন ইটভাটা মিঠাপুকুরে আছে বলে আমাদের কাছে কোন তথ্য নাই। তাদের কোন ফাইলপত্রও নেই আমাদের অফিসে। এমআরবি ইটভাটার মালিক রাশেদুল হক মিঠুন জানান, আমার সকল কাগজপত্র আছে। কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি একবার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে লোনের জন্য দেয়া আছে। আরেকবার বলেন সব বগুড়ায় আছে। তিনি আরও বলেন, ডিসি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই ভাটা পরিচালনা করছি। রাজস্ব দিচ্ছি। ডিসি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যখন এই বক্তব্য তখন সরেজমিনে পাওয়া গেলে ভিন্ন তথ্য। ডিসির কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিন অনুসন্ধান দেখা গেছে উপজেলার ছড়ান শালিকাদহ গ্রামের রাশেদুল হক মিঠুন ডিসি অফিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে অন্ধকারে রেখে গুটিবাড়ি বাজার এলাকায় ৫ বছর আগে মেসার্স মাস্টার এয়ার ফ্রিক্স ফিল্ড-এমআরবি নামে এই ন্যুনতম অনুমোদনবিহীন ভাটা প্রতিষ্ঠা করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী ১২০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন চিমনি নির্মাণ করার কথা থাকলেও সেখানে নাম মাত্র একটি চিমনি তৈরি করা হয়েছে। কয়লা ছাড়াই কাঠ ও মটরযানের টায়ার জ্বালিয়ে ইটপোড়ানোর কাজ করা হয় ভাটাটিতে। ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় প্রতিবছরই আশেপাশের ফসলের মাঠে আঘাত হেনে জমির ফসল পুড়ে যায়। প্রতি বছরই মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলেন কিন্তু জমির মালিকদের তা দেন না। এবার এই ইটভাটার আগুনে পুড়ে গেছে অনেক উঠতি ভুট্রাক্ষেতসহ কৃষকের ফসল। ইটভাটার পাশের জমির মালিক গুটিবাড়ী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম (৪৫) ও রবিউল ইসলাম (৩৬) জানান, প্রথমেক একটু একটু করে পোড়া দাগ দেখা যাচ্ছিল। এখন পুরোটাই ছাই হয়ে গেছে। এভাবে আশেপাশের ২৫ বিঘা জমির ভুট্রা ও ধানের জমি পুড়ে গেছে। গুটিবাড়ি এলাকার কৃষক এমদাদুল হক জানান, ইটভাটার ধোয়ায় পুড়ে গেছে আমার ১৩ কাঠার বোরো এবং ১৬ কাঠার ভুট্রা ক্ষেত। মালিক আমাদের ক্ষতিপুরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু আমরা ডিসি অফিসে আবেদন করায় এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি বলায় আমাদের আর ক্ষতিপুরন দেন নি। এবার আমাদের মওসুমটাই নস্ট হয়ে গেছে। আমরা ইটভাটাটি বন্ধ এবং মালিকের বিচার চাই। মোছলমারী গ্রামের মহসিন আলী (৩৮) ও গাওসুল আজম (৫৫) জানান, ইটভাটার তাপে আমাদের জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ আমরা ভাটার মালিককে মোবাইল ফোনে অবগত করেছি। এমনকি আমরা সকল কৃষক ভাটায় উপস্থিত হয়ে তাকে বিষয়টি জানানোর পরেও তিনি আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ দাখিল করেছি। মোছলমারী গ্রামের অপর কৃষক মোর্শেদুল (৩০) জানান, চলতি মৌসুমে গ্রামের পার্শ্বে তার পঁচিশ শতাংশ উঁচু জমিতে রোপন করেছিলাম উন্নত জাতের ভুট্রা। নিয়মিত ক্ষেত পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে লকলক করে বেড়ে উঠেছে ভুট্রার গাছ। ক’দিন পরেই গাছে আসতে শুরু করবে সবুজ মোচায় ভুট্রার সোনালী দানা। কিন্তু ইটভাটার এমআরবি ইটভাটার উত্তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভুট্রাক্ষেত নস্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি যখন ভাটার মালিককে বলি তখন তিনি ক্ষতিপুরণ দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণও দেন নি। এমআরবি ইটভাটার মালিক রাশেদুল হক মিঠুন জানান, আমার জিকজ্যাগ ইটভাটার কারণে নয় বরং আবহাওয়া অনকুলে না থাকার কারণে এখানকার কৃষকদের ফসলহানী হয়েছে। তবুও আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেছি। তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়ার কথা হয়েছে।

পিরোজপুরে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা গ্রামে এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হয়েছে। নিহত সাকিব হাওলাদার (১৮) কদমতলা গ্রামের মৃত পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের ছেলে। রোববার ভোর চারটায় আহত ওই ছাত্র ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায়। সাকিব কদমতলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং পিরোজপুর ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র। কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হানিফ খান জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাকিব ও তার দুই বন্ধু কামরুল হাসান সিয়াম (১৯) ও সাজ্জাদুর রহমান (১৭) মোটরসাইকেল যোগে জুজখোলা গ্রাম থেকে কদমতলা বাজারে আসছিল। তারা কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি পৌছার পর পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় মামুন ও ছায়েদ সহ ৬-৭ জন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় তারা রাস্তার উপর পড়ে গেলে, হামলাকারীরা সাকিবকে এলোপাতারি পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় । পরে স্থানীয়রা তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাকিবের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গোপালগঞ্জ এলাকায় পৌছার পর সাকিব মারা যায়। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে সাকিব খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ হত্যাকারীদের আটকের চেষ্টা করছে । উল্লেখ্য গত এক সপ্তাহ আগে পিরোজপুর শহরে দিবালোকে দলীয় লোকদের হাতে খুন হন যুবলীগ নেতা মোঃ রাসেল শেখ।

জীর্ণ কুঠিরে আশার আলো

শিশুকাল থেকেই বাবার আদর স্নেহে বঞ্চিত আশা। নেই নিজেদের ভিটেমাটিও। সঙ্গতকারণে ঠাঁই হয়েছে মামাবাড়িতে। তবুও জীবনযুদ্ধে হেরে যায়নি আশা খাতুন। সবার মুখ উজ্জ্বল করে চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে আশার আলো। নড়াইলের তুলারামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিজ্ঞান শাখায় পেয়েছে জিপিএ-৫। তবে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয়ে আশা ও তার পরিবার। নড়াইল সদরের চাঁচড়া গ্রামে ছোট্ট একটি ভাঙ্গা ঘরে আশা, তার মা ও ছোট ভাইয়ের বসবাস। পাটকাঠি ও কাঠের বেড়ার ঘরে টিনের চালা। তবে, টিনের চালার বেশির ভাগ ভাঙ্গাচেরা ও অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় রোদ এবং বৃষ্টি তাদের নিত্যসঙ্গী ! আর এ ধরণের ভাঙ্গাচেরা এবং নড়বড়ে ঘরেই আশাদের বসবাস। এক্ষেত্রে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতার নড়বড়ে ঘরের কথাই মনে পড়ে যায়। আশাদের ঘরে নেই বিদ্যুতের আলোও। তাই বেশির ভাগ দিনের বেলায় পড়ালেখা করেছে সে। আশা জানায়, প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পড়ালেখা করত। পড়ার ফাঁকে নবম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে টিউশনি করিয়ে মাসিক সম্মানী পেত মাত্র ৮০০ টাকা। এ টাকা দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ যোগানোর চেষ্টা করত। মূল বইয়ের পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে সহায়ক বই, খাতা-কলম ও স্কুলড্রেস পেয়েছে সে। পদার্থ ও রসায়ন ছাড়া কখনো প্রাইভেট পড়ার সৌভাগ্য হয়নি তার। আশা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চায়। তবে, গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়ায় অনেক দুঃখ তার। ইংরেজি বিষয়ে এ গ্রেড হওয়ায় ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের মাধ্যমে গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভের আশায় বুক বেঁধেছে আশা। আশার মা জোবেদা বেগম জানান, তার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।
আশার বয়স যখন তিন বছর, তখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। মানসিক যন্ত্রণা ও নির্যাতনের কারণে কুমিল্লা থেকে বাবার বাড়ি নড়াইলের চাঁচড়া গ্রামে চলে আসেন তিনি। বাবার বাড়িতে ভিটেমাটি ছাড়া তেমন কিছু না থাকায় নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধ। কাঠোর পরিশ্রম করেও সন্তানদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটাতে অনেক বেগ পেতে হয় জোবেদা বেগমকে। তবুও সন্তানদের পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার নিরন্তর চেষ্টা তার। প্রায় দুই বছর আগে বড় মেয়ে সামিয়া জামানকে শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় বিয়ে দিলেও পড়ালেখা থেমে থাকেনি। সামিয়া এ বছর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স শেষবর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন। এদিকে, আশার পাশাপাশি ছোট ভাই সৌরভ হোসেন পড়ছে স্থানীয় দারুল উলুম আলিম মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণিতে। পড়ালেখার পাশাপাশি সৌরভও বিভিন্ন কাজ করে। বড় মেয়ে সামিয়া জামান বলেন, বাবা মারা গেছেন; না জীবিত আছেন তা আর জানা হয়নি। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁচড়া গ্রামের লামিয়া খাতুন জানায়, শত বাঁধা পেরিয়ে আশা আপু আমাদের মাঝে আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এলাকার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। প্রতিবেশিরা জানান, আশা খুব কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। মামাবাড়ির ভিটায় জরাজীর্ণ টিনের খুপড়ি ঘর ছাড়া কিছু নেই আশাদের। তাদের রান্নার কাজটিও করতে হয় উঠোনের একপ্রান্তে খোলা জায়গায়। আশার দুই মামার আলাদা সংসার। আর নানা থাকেন এক খালার সঙ্গে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি খাতুন বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে আশা অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারবে। আশা জেএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তিনি জানান, এ বছর তাদের বিদ্যালয় থেকে একমাত্র আশা খাতুনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সাভারে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

সাভারে অজ্ঞাতপরিচয় (৩০) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে সাভার থানা পুলিশ। রোববার ভোরে সাভারে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখে পথচারিরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

ঝিনাইদহে উগ্রবাদী আস্তানায় অভিযান, নিহত ২

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় সন্দেহভাজন উগ্রবাদীদের এক আস্তানা ঘিরে পুলিশের অভিযানের মধ্যে দু'জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। এখনো মুর্হূমুর্হূ গুলিবর্ষণ চলছে। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। পুলিশ ্এক তলা ওই বাড়ির ২০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান,
জেলা পুলিশ ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা শনিবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার বজ্রাপুর গ্রামের একটি বাড়ি উগ্রাবাদী আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে গুলি করা হয়। এতে এডিশনাল এসপি নামজুল হাসান, এএসআই মহসিন, এসআই মুজিবর রহমান মারাত্মকভাবে আহত হন। তাদেরকে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, জসিমউদ্দিন এবঙ আলম।

বিএনপির তিন টার্গেট

জাতীয় নির্বাচনে মনোযাগ দিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলটি সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার উদ্যোগ যেমন নিয়েছে, তেমনি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতা না হলে কার্যকর আন্দোলনের ওপর জোর দিয়ে সামনে এগোচ্ছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারকেরা মনে করছেন, সরকার চেষ্টা করলেও আরেকটি একতরফা নির্বাচন করতে পারবে না। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় তাদের পৌঁছতেই হবে। নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ীÑ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন নিজেদের প্রস্তুত করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী মাঠের বিরোধী দল বিএনপি আগামী নির্বাচন নিয়ে কট্টর কোনো অবস্থানে নেই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণ না হওয়ায় ওই নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নেমেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। জানা গেছে, বিএনপি আগামী নির্বাচন নিয়ে অন্যসব বিকল্পের চেয়ে বেশি পক্ষপাতি আলোচনার। বিএনপি আলোচনার টেবিলে যে দু’টি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় তা হচ্ছেÑ নির্বাচনকালীন সরকার এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন জরুরি। বিএনপির দাবিই তা। কিভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন হতে পারে, সেজন্য আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা আলোচনা চাই। জানা গেছে, নির্বাচনের পথে বিএনপির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবেই আগামী ১০ মে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ভিশন-২০৩০’ তুলে ধরবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এতে তুলে ধরবেন বিএনপি প্রধান। এ ছাড়া রোজার ঈদের পরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফর্মুলাও তুলে ধরবে বিএনপি। জানা গেছে, নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দল পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছে বিএনপি। সারা দেশে পুরোদমে চলছে দল গোছানোর কাজ। বিএনপি নেতাদের মতে, দল গোছানোর প্রায় ৭০ ভাগ কাজ তারা সেরে ফেলেছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দল গোছানোর অংশ হিসেবে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপির ৫০টি টিম মাঠে নেমেছে। পক্ষকালব্যাপী এ সফরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলীয় কোন্দল মিটিয়ে ফেলার পাশাপাশি আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল শনিবার খুলনায় এক কর্মিসভায় বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে দলটি দ্বিতীয়ত গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর দিকে। দলের হাইকমান্ডের উপলব্ধি-বিগত সময়ে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের কিছু দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপির দাবির পক্ষে সমর্থন আদায়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। দায়িত্বের বাইরে যাতে কেউ অযাচিত কোনো কর্মকাণ্ড না করতে পারেন সেই বিষয়টিও হাইকমান্ড তদারকি করছে। কূটনৈতিক তৎপরতার সাথে যুক্ত দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার বহির্বিশ্বে ভুল মেসেজ দিয়ে নিজেদের পক্ষে কিছুটা সমর্থন আদায় করলেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাদের অবস্থান পাল্টায়নি। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্র মনে করে শক্তিশালী গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া উচিত। এ নেতার বক্তব্য অনুযায়ীÑ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর বেশ চাপ রয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এই চাপ তত বাড়বে। বিএনপির সূত্র মতে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে আন্দোলনকে হাতে রেখেছে বিএনপি। তবে সেই আন্দোলনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে বিএনপি। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া হুট করে বড় ধরনের আন্দোলনে যাবে না তারা। তৃণমূল থেকে শীর্ষ প্রতিটি পর্যায়ে আলোচনা করে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, ২০১৫ সালে সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে বিএনপি। এর প্রধান কারণ ছিলÑ কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে আন্দোলনের ঘোষণা চলে আসা। সিনিয়র এবং মধ্য সারির নেতারা আন্দোলনের বিষয়ে তখন খুব একটা অবগত ছিলেন না। পরিকল্পনাহীন আন্দোলন এবং পরে সরকারি জুলুম নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় ওই আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। এবার আর সেই ভুল হবে না। আন্দোলনের মতো আন্দোলন হলে মাত্র ৭ দিনেই সফল হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ওই নেতা।

৫৮ দল নিয়ে এরশাদের নতুন জোট ঘোষণা

৫৮ দল নিয়ে জাতীয় পার্টির নতুন জোট ঘোষণা করেছেন এরশাদ। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নতুন জোটের ঘোষণা দেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ জোট ঘোষণা করা হয়। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে নতুন জোটের নাম দেয়া হয়েছে ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (ইউএনএ) বা ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’। এতে ৫৯টি রাজনৈতিক দল শামিল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই এরশাদ নবগঠিত জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে জোটের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান। জোটের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এরশাদ বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দুটি রাজনৈতিক দল ও দুটি জোট—এই চার শরিক নিয়ে আমরা বৃহত্তর একটি জোট গঠন করেছি। আরো দুটি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে আমাদের কয়েক দফা কথা হয়েছে।
তারাও আমাদের প্রাথমিক আলোচনায় আসার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাদের সুবিধামতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানালে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ এর মধ্যে জাতীয় ইসলামী মহাজোটে আছে ৩৫টি দল এবং বাংলাদেশ জাতীয় জোটে আছে ২২টি দল। দুই জোটভুক্ত ৫৭ দল আর জাতীয় পার্টি ও ইসলামিক ফ্রন্ট নিয়ে মোট ৫৯টি নিয়ে ইউএনএ গঠন করা হয়েছে। এরশাদ বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার চেতনা, ইসলামী মূল্যবোধ তথা সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আদর্শের অনুসারী এবং ধারক ও বাহক। আমাদের অঙ্গীকারে আছে, এই জোটে কোনো স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা হবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নান, জাতীয় ইসলামিক মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, বাংলাদেশ জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি।

শাহজালালে ১৯ লাখ টাকার সিগারেটসহ আটক ৩

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭২৪ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট সহ তিন যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, আখতার হোসেন, ওমর ফারুক ও জামাল উদ্দিন।শনিবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়। কাষ্টমস কতৃপক্ষ জানান, এয়ার এরাবিয়ার জি ৯৫১৩ নম্বর ফ্লাইটে আখতার হোসেন ও ওমর ফারুক এবং কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে জামাল উদ্দিন পৃথক সময়ে ঢাকায় পৌঁছান।
এয়ারপোর্টের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাদের ব্যাগেজ স্ক্যান করলে ৩ জনের ব্যাগেজে সিগারেট পাওয়া যায়। তল্লাশি করে ৭২৪ কার্টন বিদেশি মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। এরমধ্যে আখতারের কাছে ২২৮ কার্টন, ফারুকের কাছে ২২১ কার্টন ও জামালের কাছ থেকে ২৭৫ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দ সিগারেটের বাজার মূল্য ১৯ লাখ টাকা।

কাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আগামীকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার আজ এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ইস্যু এবং বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

২৭ বছরে ৩০৮৬ মৃত্যু : চলতি মাসে ব্যাপক বজ্রপাতের শঙ্কা

বজ্রপাতে মরছে মানুষ, হচ্ছে মারাত্মকভাবে আহত। সারা দেশে গত ২৭ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে তিন হাজার ৮৬ জন। আর আহত হয়েছে দুই হাজার ৪৫০ জন। গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ১১৪ জন বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা শুরুর আগে দেশে বজ্রপাত বেড়ে যায়। চলতি মাসে এ জন্য ব্যাপক বজ্রপাতের আশঙ্কা করছেন তারা। তাই খোলা জায়গা, মাঠ জলাশয়ে চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে। এসব তথ্য জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান এবং ঢাবি ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: ফারুক হোসেনের যৌথ গবেষণায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমেরিকার মেট্রোলজিক্যাল সোসাইটির সেমিনারে এটি উপস্থাপিত হয়। লাইটিনিং ফ্যাটালিটিজ ইন বাংলাদেশ ফ্রম ১৯৯০ থেকে ২০১৬ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্ষা শুরুর আগে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হচ্ছে প্রাক-বর্ষা মওসুম। গত ২৬ বছরে এ সময়ে সারা দেশে এক হাজার ৯১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে বজ্রপাতে। অপর দিকে ভরা বর্ষা মওসুম অর্থাৎ জুন-জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরে বজ্রপাত বেশি হয়। ১৯৯০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভরা মওসুমে বজ্রপাতে ৯৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর বর্ষার শেষের দিকে গত ২৬ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ হরায় ১২৭ জন। শীতেও বজ্রপাত রেহাই দিচ্ছে না। দেখা গেছে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। কেন এ বজ্রপাত? বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ ও আর্দ্রতার বিশ্লেষণ জলবায়ুর তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে পড়েছে। তাই ভৌগোলিক কারণে এসব অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয়ে থাকে। খুলনার পশ্চিম-উত্তরের কিছু এলাকা, যশোর-কুষ্টিয়ার পশ্চিম ভাগের সঙ্কীর্ণাংশ, রাজশাহী ও দিনাজপুরের পশ্চিমাংশের বেশকিছু এলাকা ক্রান্তীয় উপক্রান্তীয় শুষ্কপ্রায় জলবায়ুর মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশের এ অঞ্চল সর্বাপরি উষ্ণ ও শুষ্ক। কোনো কোনো সময় মে মাসের তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সাধারণভাবে এক ৪০০ মিলিমিটারের কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা বজ্রপাতের জন্য সহায়ক আবহাওয়া পরিবেশ। বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার বলেন, বজ্রঝড় এক ধরনের ঝড় যার মধ্যে প্রচণ্ড বায়ুর অস্থিরতা এবং বজ্রপাত সংঘটিত হয়। সাধারণত এতে অতি বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি দেখা দেয়। বজ্রঝড়ে যে মেঘ দিয়ে তৈরি হয় তারা নাম হচ্ছে কিউমুলোনিমবাস বা ঘন কালো মেঘ। এটা ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ৪৫০ থেকে ৬০০ মিটারে তৈরি হয় এবং উচ্চতায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। আমাদের দেশে বর্ষা শুরুর আগে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বজ্রঝড় হয় বলে একে কালবৈশাখী হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। এ সময়ে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব থেকে গভীর শুষ্ক ও গরম বাতাস এবং বঙ্গোপসাগর থেকে অগভীর বাতাস মিলিত হয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা বজ্রঝড় তৈরিতে সহায়ক। যেহেতু মেঘের আকৃতি বেশ বড় হয় সে জন্য এর মধ্যে তুষার-কণা, শিলাকণা, অতিমাত্রায় ঠাণ্ডা পানি সহাবস্থান করে। এরা মেঘের মধ্যে চলমান অবস্থায় থাকে। উপরে থাকা শিলাকণাগুলো যখন ভারী হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিক নিয়মে সেগুলো নিচে দ্রুত বেগে নামতে শুরু করে। এর সাথে তুষারকণার সংঘর্ষের কারণে শিলাকলাগুলো ঋণাত্মক চাপে রূপান্তরিত হয়ে মেঘের নিচের অংশে চলে আসে। অপর দিকে তুষারকণা ধনাত্মক চার্জ প্রাপ্ত হয়ে মেঘের ওপরে অবস্থান করে, যা অনেকটা ব্যাটারির মতো।
এ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জের জন্য বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য পরিবেশের আর্দ্র বাতাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এ আর্দ্র বাতাস বজ্রঝড়কে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলে বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বলে ড. নাসরীন আক্তার অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে এ নিয়ে আরো গবেষণার দরকার বলে তিনি মত দেন। তবে অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, বাংলাদেশে ভূমি সমতল বেশি। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় অতিরিক্ত জ্বলীয়বাষ্পের উৎপত্তি ঘটেছে, এবং বায়ুমণ্ডল কর্তৃক এ জ্বলীয়বাষ্প গৃহীত হচ্ছে। ঊর্ধ্বমুখী এবং নি¤œমুখী চাপও বেড়ে যাচ্ছে এতে। দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাচ্ছে সাথে সাথে। এ ছাড়া পানি বাষ্পীভূতের হারও বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে বর্জপাত সংঘটিত হচ্ছে। কারা প্রাণ হারাচ্ছে? অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান ও মো: ফারুক হোসেনের গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিল এমন ব্যক্তিদের মধ্যে গত ২৭ বছরে এক হাজার ২২৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। ঘরের ভেতরে ছিল এমন ব্যক্তিদেরও বজ্রপাতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। গত ২৬ বছরে ঘরের মধ্যে অবস্থান করেও বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে ৭৩৭ জন। বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৩২ জন। অপর দিকে মাছ ধরার সময় গত ২৬ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ হরায় ২৩৩ জন। একই সময়ে গরু বা ছাগল চরানোর সময় প্রাণ হারায় ১১০ জন। ফুটবল খেলার সময় গত ২৬ বছরে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে ৭১ জন। গাড়ির ভেতরে থেকেও বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় ৪৭ জন। এমনকি স্কুল ঘরে অবস্থান করে প্রাণ হরায় ৩২ জন। গাছের নিচে অবস্থান করে বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় ২৮ জন। বজ্রপাতে আক্রান্তদের বয়স গবেষণায় দেখা গেছে, বজ্রপাতে মৃত্যু হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কমবয়সী ও কর্মক্ষমরাই। গত ২৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে বেশি। বজ্রপাতে গত ২৬ বছরে এ বয়সের মারা গেছে ৪৫০ জন। অপর দিকে গত ২৬ বছরে ৩১ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত এ বয়সে বজ্রপাতে মারা গেছে ৪০০ জন।

এনপিপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন নিলুর ইন্তেকাল

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন বলে তার ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন জানিয়েছেন। শওকত হোসেন নীলুর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দশম সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক জোট ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ গড়েছিলেন শওকত হোসেন নীলু।
এই জোটের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। পাতলা পায়খানায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিন দিন আগে নীলুকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় বলে আল আমিন জানান। “পরে স্যারের হার্ট অ্যাটাক হয়। দুই দিন ধরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।” অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত নীলুর বড় মেয়ে দেশে এলে সোমবার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে আল আমিন জানান।

বেঁধে দেয়া হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার

ক্রেডিট কার্ডের নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে। কমানো হচ্ছে গলাকাটা সার্ভিস চার্জ। ইতোমধ্যে এ নীতিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালা সংশোধন হলে কোনো ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে এসএমই ঋণের সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশের বেশি আদায় করতে পারবে না। জানা গেছে, দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে বাহারি ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে ছাড়ছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান মতে, ইতোমধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর এ কার্ডের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে জামানতবিহীন এই ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতের জন্য অনেক েেত্রই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণ অন্যান্য ঋণের তুলনায় বেশি খেলাপি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও এই ঋণ বিতরণে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়মনীতি সঠিকভাবে পালন করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ ভুয়া স্যালারি সার্টিফিকেট দিয়ে এবং ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ঋণ নিয়ে পালিয়ে আছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেসব ভুয়া গ্রাহককে খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেশী এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এই কার্ড ব্যবহার করার জন্য গ্রাহকদের একই কার্ড অথবা দুই ধরনের কার্ড দিয়ে আসছে। এসব কার্ডের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনেক ব্যাংক সর্বোচ্চ শতকরা ৩০-৪০ ভাগ পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকের হাতেই অতিরিক্ত তহবিল রয়েছে। আমানতের সুদ হার কমিয়ে তলানিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর পরেও ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় কমছে না। এ পরিস্থিতিতে বছর শেষে নিশ্চিত লোকসানের হাত থেকে ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ব্যাংকিং শুরু করেছে। অনেকে প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে এসে ক্রেডিট কার্ড, ভোক্তাঋণের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণসীমা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ভোক্তাদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, জামানতবিহীন ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ছে ব্যাংক খাতে। কেননা এমনিতেই ব্যাংকের বড় বড় ঋণের বিপরীতে জামানত নিয়েও আদায় হয় না সেসব ঋণ। হলমার্ক, বিসমিল্লাহসহ বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ধকল ব্যাংক খাতকে এখনো ভোগাচ্ছে।
এর বাইরে জামানতবিহীন ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, যা ঝুঁকির পরিমাণ আরো বাড়াচ্ছে এ খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বেশি ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ শ্রেণী বিভাজন করা যাচ্ছে না। এর ফলে পরিদর্শন করতে গিয়ে নানা বিপত্তির মুখে পড়ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকেরা। গ্রাহকদের সমতা না থাকা সত্ত্বেও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণসীমা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সাধারণ গ্রহকদের এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসীমা দেয়া হচ্ছে। জামানতবিহীন ঋণ দেয়ার মাধ্যমে ঋণঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলছে ব্যাংকিং খাতকে। পরিস্থিতি সীমার বাইরে যাওয়ার আগেই সতর্কতামূলক পদপে নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ক্রেডিট কার্ডের ঝুঁকি হ্রাস, ক্রেডিট কার্ডের গুণগত মান বৃদ্ধিসহ সার্ভিস চার্জের সীমা নামিয়ে আনা হচ্ছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদিত হলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে ইচ্ছে মতো সুদ আদায় করতে পারবে না। এ জন্য ঋণের সুদহার বেঁধে দেয়া হচ্ছে। যেসব ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করবে ওই সব ব্যাংক তাদের এসএমই ঋণে যে সুদ আদায় করে তার সাথে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সুদ আদায় করতে পারবে। অর্থাৎ এখন এসএমই ঋণের গড় সুদ হার ১৫ শতাংশ রয়েছে। এ নীতিমালা অনুমোদন হলে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সুদ আদায় করা যাবে ২০ শতাংশ, যা বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নেয়া হচ্ছে।

ভেনিজুয়েলায় বিক্ষোভ দমনে অস্বীকৃতি নিরাপত্তা বাহিনীর

ভেনিজুয়েলায় সরকারবিরোধীদের ওপর নিপীড়ন চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব সদস্যকে বন্দি করা হচ্ছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ ও সিএনএনের সমাজতান্ত্রিক দেশটিতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীসহ সারা দেশ অচল করে দিয়েছে। আন্দোলন দমন করতে নির্মম নিপীড়ন চালাচ্ছে মাদুরো সরকার। এতে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৭১৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অর্ধেকই মারা গেছে কারাকাসে। নিহতদের মধ্যে চারজন কিশোরও রয়েছেন। কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে ১৫২ জনকে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হেনরিক ক্যাপ্রিলেস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালাতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৫ সদস্যকে বন্দি করা হয়েছে। তিনি জানান, বন্দিদের স্বজনরা তাকে এ তথ্য দিয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এ তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশটিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করছেন। গত সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনী এক তরুণ বিক্ষোভকারীর ওপর সাঁজোয়া যান উঠিয়ে দেন।
ভাগ্যগুণে বেঁচে যান তিনি। শনিবার রাজপথে নারীদের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এদিকে ভেনিজুয়েলার শিল্প শহর ভ্যালেন্সিয়ায় ব্যাপক লুটতরাজ চলছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। গুঁড়িয়ে দেয়া হল হুগো শ্যাভেজের মূর্তি : রয়টার্স জানায়, তেলসমৃদ্ধ জুুলিয়া রাজ্যে শুক্রবার সকালে একদল তরুণ বিক্ষোভকারী দেশটির প্রয়াত নেতা হুগো শ্যাভেজের প্রতিমূর্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায় সালামরত এবং উত্তরীয় পরিহিত শ্যাভেজের মূর্তিটি উল্লাস সহকারে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়। পথচারীরা এ সময় নির্বাক দৃষ্টিতে এ দৃশ্য দেখছিলেন। বিরোধী দলের এমপি কার্লোস ভ্যালেরো এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ছাত্ররা ঠিকই করেছেন। তারা বলছেন, শ্যাভেজ তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছেন। ২০১৩ সালে ক্যান্সারে মারা যান শ্যাভেজ।

ফরাসি নির্বাচনে ইতিহাসের কালো ছায়া

‘এটা এমন এক অতীত, যা অতিক্রম করা যায় না’- ফরাসি ইতিহাসবিদ হেনরি রুসো এই বাক্যটি প্রথম বলেছিলেন। ফ্রান্সের এমন কিছু কালো ইতিহাস আছে, যা চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না। এই প্রবাদটি আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি নিধনযজ্ঞ হলোকাস্টে ফ্রান্সের সহযোগিতা আর ঔপনিবেশিক অপরাধ- এই দুই জঘন্য ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বর্তমানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। রোববারের নির্বাচনে ভোটাররা বেছে নেবেন ইতিহাসের বিকৃতিকারী ও নৃশংসতার অস্বীকারকারীকে ক্ষমতায় পাঠাবেন কিনা। এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও মেরিন লি পেন চূড়ান্ত পর্বের রানঅফ ভোটে প্রার্থী। ম্যাক্রোঁ একজন সাবেক ব্যাংকার ও একাডেমিক এলিট। রাজনীতিতে নবাগত এই নেতা ইউরোপঘেঁষা মধ্যপন্থী দর্শনে বিশ্বাসী। অপরজন লি পেন উগ্র ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী। তিনি অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদ ও সীমান্ত বন্ধে বিশ্বাস করেন। এই দুই প্রার্থী তাদের দীর্ঘ ও তিক্ত নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্রান্সের কালো ইতিহাস নিয়ে পরস্পরের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মেরিন লি পেনের বাবা জ্যঁ ম্যারি লি পেন একজন হলোকাস্ট অস্বীকারকারী।
তিনি অনেকবারই বলেছেন, নাৎসিরা ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে হত্যা করেনি। তার মেয়ে লি পেনের মতে, ওই ইতিহাস নিয়ে ফ্রান্সের লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। গত মাসেই টেলিভিশন বক্তব্যে প্রকাশ্যে লি পেন বলেছেন, হলোকাস্টের সময়কার কুখ্যাত কাজে ফ্রান্সের কোনো দায় নেই। অথচ সে সময় ফরাসি সরকার ১৩ হাজার ইহুদিকে আটক করে নাৎসিদের গ্যাস চেম্বারে মৃত্যুর মুখে পাঠিয়েছিলেন। ইতিহাস বলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ৭৬ হাজার ইহুদিকে নাৎসি ক্যাম্পে পাঠিয়েছিল, যারা আর কখনোই ফিরে আসেনি। লি পেন বলেন, ওই ঘটনায় যদি কারও দায় থেকে থাকে, তবে সে সময় যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের। এটা নিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা যাবে না। ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হলোকাস্ট অস্বীকারের নতুন নতুন ভার্সন সামনে এসেছে। শুধু লি পেনই নন, তার দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের অনেক নেতাই একই বক্তব্য রেখেছেন। অন্যদিকে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও কালো ইতিহাসের নিন্দাই জানাচ্ছেন। বিশেষ করে ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের ইতিহাস নিয়ে সমালোচনা করছেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি আলজেরিয়ায় গিয়েছিলেন। আলজেরিয়া ফরাসি উপনিবেশ ছিল ১৩২ বছর। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফরাসি বাহিনী বর্বর নিপীড়ন চালিয়েছিল। ম্যাক্রোঁ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেসব অপরাধ ও বর্বরতা আজকের যুগে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে গণ্য হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় লি পেন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ম্যাক্রোঁ ফরাসি জনগণকে অপমান করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট।

বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ দিল্লির ৩০০ শিক্ষার্থী

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি সরকারি স্কুলের কাছে গ্যাসের কনটেইনার লিকের ঘটনায় গ্যাসে আক্রান্ত হায়েছে স্কুলটির ৩০০ শিক্ষার্থী। তাদের শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দক্ষিণ দিল্লির তুঘলকাবাদ এলাকার রানি ঝাঁসি সর্বদয়া কন্যা বিদ্যালয়ের পাশের এক কনটেইনার ডেপোতে গ্যাস লিকের ওই ঘটনা ঘটে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, শিশু সবাই আশঙ্কামুক্ত। এনডিটিভি জানায়, ঘটনার পর রেলওয়ে কলোনিতে অবস্থিত স্কুলটির সব শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেয়া হয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ঘটনাস্থলে ভারতের ন্যাশনাল ডিজস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। লিক করা গ্যাসটি ক্লোরোমিথাইল প্যারিডিন নামের একটি রাসায়নিক এবং এটি কীটনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বার্তা সংস্থা এএনআইকে স্কুলটির ভাইস প্রিন্সিপাল বলেছেন, কনটেইনার লিকের পর কিছু শিক্ষার্থী চোখ ও ঠোঁট জ্বালাপোড়া করছে বলে অভিযোগ করে।
লিকের সময় স্কুলটিতে ক্লাস চলছিল এবং অনেক শিক্ষার্থী শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করে। এরপর শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক উদ্বিগ্ন অভিভাবক তাদের শিশুদের কাঁধে করে নিজেরাই হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে দিল্লি দমকল গ্যাসের কনটেইনার লিকের অভিযোগ পায়। দমকল বাহিনী জানিয়েছে, লিকের উৎস চিহ্নিত করার আগেই ঘটনাস্থলে তাদের সাতটি টিম পাঠানো হয়। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মনিষ সিসোদিয়া জানিয়েছেন, তিনি ফোনে হাসপাতালে ভর্তি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরে হাসপাতালে তাদের দেখতে যাবেন। শিক্ষার্থীদের দেখতে এরই মধ্যে হাসপাতালে গিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল এবং বিজেপি নেতা ভিজেন্দর গুপ্ত।

খাওয়া ভবন তৈরিতে 'ভিশন ২০৩০' দিচ্ছে বিএনপি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হাওয়া ভবনের মতো খাওয়া ভবন তৈরি করতেই 'ভিশন ২০৩০' ঘোষণা করছে বিএনপি। এটা তাদের একটি পলিটিকাল স্ট্যান্ডবাজি। রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন। এ সময় 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সংসদ সদস্যদের করণীয়' শীর্ষক ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় নতুন একাউন্ট তৈরি, কনটেন্ট তৈরি করে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে কার্যকরি দ্বিমুখী যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, একাউন্ট ভেরিফাইড করা, অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অন্যান্য বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কর্মশালায় ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের ভিশন ২০২১, আমাদের ভিশন ২০৪১। এখন আমাদের দেখাদেখি পাল্টাপাল্টি লোক দেখানো একটা ভিশনের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। সেটা নাকি ভিশন ২০৩০।' তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ কিছু করলে সেটার পাল্টাপাল্টি কিছু করতে হবে। তাই এটাকে আমি বলব- একটা পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডবাজি। এই স্ট্যান্ডবাজি বাংলাদেশের লোক ভালই বোঝে।' এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ডিজিটাল বলতে বাংলাদেশের লোক জয়কে চেনে। এ জন্য জয়কে তারা ভয় পায়, তার মেধাকে তারা ভয় পায়। সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কোনো হাওয়া ভবন নেই, খাওয়া ভবন নেই। কোনো খোয়াব ভবনও নেই।' এই কর্মশালার মাধ্যমে আগামী ৮ ও ৯ মে আরও ১০০ জন সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

কলেজে ভর্তির নীতিমালা জারি

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির নীতিমাল জারি করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে আগামী ৯ মে থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন নেয়া হবে ২৬ মে পর্যন্ত। রোববার এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, অনলাইনের জন্য www.xiclassadmission.gov.bd ঠিকানায় এবং টেলিটক থেকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পাবে শিক্ষার্থীরা।প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা এবং টেলিটকে ১২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ভর্তির এই নীতিমালায় আরও বলা হয়, একজন শিক্ষার্থী যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করবে, সেখান থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দেয়া হবে। কলেজে ভর্তির জন্য প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ জুন। এরপর আরও দুই দফায় আবেদন গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ে ভর্তির কাজ শেষ করা হবে। আর ১ জুলাই থেকে শুরু হবে ক্লাস। এর আগে বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৮টি সাধারণ বোর্ড, একটি মাদ্রাসা ও একটি কারিগরি বোর্ডসহ মোট ১০ বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।

লালমনিরহাটে ৫০ টাকার জন্য প্রাণ গেল যুবকের

লালমনিরহাটে চলছে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট আইপিএল খেলা নিয়ে জমজমাট জুয়ার আসর। আর সেই জুয়ার আসরে মাত্র ৫০ টাকার জন্য প্রাণ গেল সন্তোষ চন্দ্র সরকার (৩২) নামের এক যুবকের। তিনি একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সন্তোষ সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ভোলারচওড়া কদমতলা এলাকার কালীদাস চন্দ্রের ছেলে। ২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশে একটি দোকানে টিভি সেটের সামনে ক্রিকেট খেলা দেখছিল সন্তোষ। এ সময় তার তলপেটে লাথি মারে বাজিতে হেরে যাওয়া নুরুজ্জামান নামের এক মাদ্রাসাছাত্র। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নিহতের স্ত্রী সাধনা রানী। বাবা হারা তিন সন্তানকে নিয়ে কিভাবে সংসার চলবে সেই দুশ্চিন্তায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে নওদাবাস গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষের বড় ভাই কার্তিক চন্দ্রের মুদি দোকানে প্রতিদিনের মতো আইপিএল খেলা দেখছিল স্থানীয়রা।
বরাবরের মতোই সেখানে চলছিল আইপিএল খেলার বল ও ওভারপ্রতি বাজি ধরা নিয়ে জুয়ার আসর। সে আসরে প্রতিবেশী নাজির হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় ভোলার চর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র নুরুজ্জামান এক বলে ছক্কার বাজি ধরে দিনমজুর সন্তোষ চন্দ্রের সঙ্গে। আর সেই বাজিতে জয়ী হয় সন্তোষ। কিন্তু নুরুজ্জামান ওই বাজির ৫০ টাকা দিতে অস্বীকার করলে উভয়ের মাঝে কথাকাটিকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুরুজ্জামান সজোরে সন্তোষের তলপেটে লাথি মারে। এতে আহত সন্তোষকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর সন্তোষের বড় ভাই কার্তিকও তার মুদি দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েছেন। মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়া খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

দাউদকান্দিতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. আমির হোসেন রাজনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় দাউদকান্দির পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদা খাল) মসজিদের সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে চাপাতির উপর্যুপরি কোপে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দির গৌরীপুর হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। নিহত আমির হোসেন রাজন দাউদকান্দি পৌরসভার কাজিরকোনা গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) জানান, তদন্তসাপেক্ষে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ মেলেনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের

খোঁজ মেলেনি আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবিএম সোহেল উদদৌলার। দু’দিন পরও খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে তার পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। পুলিশ বলছে, নিখোঁজ শিক্ষকের ফোন বন্ধ। তবে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, তার সর্বশেষ অবস্থান রাজধানীর রমনা থানা এলাকায়। এ ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবিএম সোহেল উদদৌলা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার বিকালে তেজগাঁও থানায় জিডি করেন তার ভাই শফিক উদদৌলা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় হওয়ায় শনিবার দুপুরে নতুন করে ওই থানায় আরও একটি জিডি করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান রাশেদ যুগান্তরকে বলেন, নিখোঁজ শিক্ষকের ভাই জিডি করেছেন। পুলিশ কাজ শুরু করেছে। জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যাম্পাস থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর পল্লবী বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজের পর থেকে তার মোবাইল-০১৭৬০২৫১৭৪৭ নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর আবদুল গফুর যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। ক্লাসও নিয়েছেন। বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। তিনি নিখোঁজ শিক্ষককে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্দেহজনক কোনো কিছু নজরে আসেনি।
তবে কার মনে কি? সেটা তো বলতে পারব না। কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী দুর্জয়ের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, স্যারকে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে দেখেছি। তবে ওই দিন আমাদের সঙ্গে স্যারের কোনো ক্লাস ছিল না। তবে স্যার খুব মজা করে পড়াতেন। নিয়মিত নামাজ পড়তেন। একাডেমিক বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এবিএম সোহেল উদদৌলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাস করেন। ৩ বছর ধরে তিনি আহসানউল্লাহয় শিক্ষকতা করছেন। তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজনীতি করেন না তিনি। নিখোঁজের বড় ভাই এবিএম শফিক উদদৌলা যুগান্তরকে বলেন, বৃদ্ধ বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন। পরিবার তার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমার ভাই ধর্ম-কর্ম করতেন। দাড়ি ছিল, পাঞ্জাবি পরতেন। কিন্তু সন্দেহজনক কোনো কিছু তার মধ্যে ছিল না। থানায় জিডি করেছি। র‌্যাবকেও জানিয়েছি।

সূর্যের জন্য ফটোগ্রাফার!

সূর্যের নানা অবস্থার ছবি তুলতে সাউন্ড রকেট পাঠিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ যেন ‘স্পেশাল ফটোগ্রাফার’ নিয়োগ করল তারা। শুক্রবার নাসার আর্থিক সহায়তায় তৈরি ‘রাইস’ (দ্য র‌্যাপিড অ্যাকিউজিশন ইমেজিং স্পেক্ট্রেগ্রাফ এক্সপেরিমেন্ট)-এর সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। টেক্সাসের সাউথ-ওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষক ডন হ্যাসলার জানান, সূর্যকে পর্যবেক্ষণের জন্য বানানো এ রকেট পাঠানোর সময় যাবতীয় তথ্য-উপাত্তই ঠিকঠাক ছিল। আর সেটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়। খবর আনন্দবাজার। কী এই ‘রাইস’? ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পাঠানো হয় রকেটটি।
তার কাজ হল সূর্যের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখা। অর্থাৎ, সূর্যকে সব সময়ের জন্য ক্যামেরাবন্দি করে রাখবে মহাকাশযানটি। পাঁচ মিনিটে দেড় হাজার ছবি তুলতে পারবে ‘রাইস’। নাসা জানাচ্ছে, সূর্যের বিকিরণের যেসব সক্রিয় জায়গা (অ্যাকটিভ এরিয়া) রয়েছে, তার তীব্রতা, চুম্বকক্ষেত্রের শক্তির তারতম্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি তুলবে ‘রাইস’। সূর্যকে নিয়ে গবেষণায় ইতিমধ্যে কাজ করে চলেছে নাসার সোলার ডায়নামিক অবজারভেটরি (এসডিও) এবং সোলার টেরেস্ট্রিয়াল রিলেশন্স অবজারভেটরি (এসটিইআরইও বা স্টিরিও)। কিন্তু সূর্যের বেশকিছু জায়গায় দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সেটা কেন হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, তা জানতেই ‘রাইস’-কে পাঠানো হল মহাকাশে।

কক্সবাজারে নামবে বোয়িং-৭৭৭

সৈকতের রানী কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হচ্ছে। কার্যত বর্তমান এয়ারপোর্টই আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত হচ্ছে। ফলে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে সারা বিশ্বের। এয়ারপোর্টে থাকবে শামুক আকৃতির টার্মিনাল, যা এর সৌন্দর্যকে শতগুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলে পাল্টে যাবে শহরের চিত্র। দেশের পর্যটন খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভবান হবে সরকার। আগামী বছরের শুরু থেকে এখানে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআরসহ বিশ্বের সব ধরনের বাণিজ্যিক এয়ারক্রাফট নামতে পারবে। ইতিমধ্যে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ অবতরণ শুরু হয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ উড়োজাহাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বাকি কাজ। এর মধ্যে আছে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সম্প্রসারণ, শোল্ডার নির্মাণ, গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট ও বাঁধ নির্মাণ অন্যতম। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে। শামুক আকৃতির এ টার্মিনালটি কক্সবাজার বিমানবন্দরের সৌন্দর্য শতগুণ বাড়িয়ে দেবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যুগান্তরকে বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে ২০১৮ সালের মধ্যেই কক্সবাজার বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত হবে।
তখন এ বিমানবন্দরে নামবে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ ছাড়াও বিশ্বের সব ধরনের বাণিজ্যিক এয়ারক্রাফট। বিদেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি নামতে পারবেন কক্সবাজারে। আবার কক্সবাজার থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চলবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব বলেন, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পুরোদমে উন্নয়ন কাজ চলছে। দুই শিফটে শ্রমিকরা কাজ করছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মূল বিমানবন্দরের কাজ শেষ হবে এবং প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রানওয়ের কাজ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, রানওয়ের পিসিএন (পেভমেন্ট ক্লাসিফিকেশন নম্বর) বৃদ্ধির ফলে ৩৫০ টনের বেশি ওজনের বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে। বর্তমানে যেখানে ৫৪ টনের বেশি ওজনের বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়া হয় না। এক কথায় আন্তর্জাতিক মানের ও স্বপ্নের বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। ব্রিজ নির্মাণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণসহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮০৩ কোটি এবং সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৩৯২ কোটি টাকা জোগান দেয়া হবে। অপরদিকে টার্মিনাল নির্মাণে ব্যায় হবে ৩৫০ কোটি টাকা। সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এ টাকা ব্যয় করা হবে। সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হাসিব যুগান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট, চওড়া ১২৫ ফুট থেকে ১৪৭ ফুট, রানওয়ের উভয় পাশে ২৫ ফুট চওড়া ১৯ হাজার ২৪ ফুট শোল্ডার নির্মাণ করা হবে। ৫০০ মিলিমিটার (২০ ইঞ্চি) পুরুত্বের এসফল্ট কংক্রিট দিয়ে রানওয়ের পিসিএন শক্তি (পেভমেন্ট ক্লাসিফিকেশন নম্বর) ১৯ হতে ৯০ তে উন্নীত করা হবে।
বিদ্যমান গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট ও বাঁধের রক্ষা কাজ হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫ বর্গফুট। এছাড়া এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম, ড্রেনেজ সিস্টেম, ফায়ার ফাইটিং যন্ত্রপাতি ক্রয়, সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা ফেন্সিং নির্মাণ, যানবাহন ক্রয়, আইএলএস, এজিএ এবং ডিভিওআর স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য মাটি ভরাট ও ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাত-দিন শ্রমিকরা কাজ করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসাইন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মানিক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রায় ৫০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মীর আক্তার ছাড়াও এ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কোরিয়ান কোম্পানি ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন, ইলশিন লিমিটেড, ডিডিসি (বাংলাদেশ) জেভি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান হাল্লা কর্পোরেশন, সিয়োকওয়াং লিমিটেড (কোরিয়া) জেভি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের হলে এখানে পর্যটনের প্রসার ঘটবে। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর ছাড়াও এ এলাকায় বর্তমান সরকারের চলমান যেসব উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, তার মধ্যে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল ও সমুদ্রবন্দর এবং টেকনাফের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কাজ শেষ হলে প্রচুর বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। এ কারণে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুত্ব পাবে। তার মতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে যে পর্যটন সম্ভাবনা আছে, তার সব কিছুই নির্ভর করছে বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। কারণ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অনেক পর্যটক সরাসরি কক্সবাজারে আসবেন। এতে করে দেশের পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান শুধু দিনে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারে। রাতে বিমান উঠানামার জন্য কোনো ধরনের লাইটিং ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি নেই। আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ বিমানবন্দরে ভিওআর, ডিএমই, ৯০০ মিটার অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এতে দিনের মতো রাতেও বিমান অবতরণ করবে। উন্নত প্রযুক্তির এসব যন্ত্রপাতি ফ্রান্স,
জার্মানি এবং লাইটিং সিস্টেমের সর্বশেষ প্রযুক্তি ইতালি থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা হয়েছে এসফল্ট কার্পেট। বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফায়ার ফাইটিং ভেহিক্যাল কেনা হবে। বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে ৮ হাজার ৩৯০ বর্গমিটার নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ। প্রকল্পের জন্য ১১২ একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। একই প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩.৮৭ কিলোমিটার সুরক্ষা বাঁধ ও এলজিইডির ৫৯৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কাজ রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরের কাজ শেষ হলে এখানে ৭৭৭-৩০০ বোয়িং বিমান উঠানামা করতে পারবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজার আসতে আবার এখান থেকে চলে যেতে পারবেন। এখন ঢাকা হয়ে আসতে হয় কক্সবাজার আর তখন পর্যটকদের আগ্রহের কারণে কক্সবাজার হয়ে ঢাকা যাবে বিমান। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো পর্যটকরা সরাসরি আসতে পারবেন। পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে বিমানবন্দরকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণকে ঘিরে ইতিমধ্যে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিমানের পাশাপাশি ইউএস বাংলা, রিজেন্ট, নভোএয়ার যাত্রী পরিবহন শুরু করছে। প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ নামানোরও চিন্তাভাবনা করছে।

গজারিয়ায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ার টেংগারচর ইউপির কামাল মেম্বারের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সোহেল (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অসহায় গরিব লোক ভিজিডি কার্ড না পাওয়ায় সোহেল প্রতিবাদ করেছিল। শুক্রবার রাতে সোহেলকে তার ঢাকার বাসা থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গজারিয়ায় একটি ভুট্টাক্ষেতে কুপিয়ে হত্যা করে ওই মেম্বারের লোকজন। সোহেল টেংগারচর গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে। সোহেলের মা সুফিয়া বেগম (৫০) বলেন, ‘৪-৫ দিন আগে গ্রামের কয়েকজন অসহায় গরিব লোক ভিজিডি কার্ড না পাওয়ায় কামাল মেম্বারকে চোর বলে প্রতিবাদ করে। এ কারণে কামাল মেম্বার ও মোতালেব মেম্বার লোক দিয়ে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।’ সুফিয়া বেগম জানান, সোহেল ডিস ব্যবসা করে গ্রামে। আগে একাধিকবার বর্তমান মেম্বার কামালের আপন ভাই রাসেল চাঁদা দাবি করে তার কাছে। কিন্তু চাঁদা না পেয়ে সোহেলের মোবাইল সেট ও টাকা ছিনতাই করে রাসেল। অনেকদিন আগে সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় কামাল মেম্বার ও মোতালেব মেম্বারের লোকজন। তার ছেলে সোহেল সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীর পক্ষের লোক। সোহেলের স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, ঢাকার মিরপুর নিউ সি-ব্লকের ১৯নং রোডের ভাড়া বাসা থেকে রাত ৯টায় তার স্বামীকে জাবেদ নামে এক লোক মোবাইলে ডেকে নেয়।
পরে মিরপুর-১ নম্বর থেকে দ্রুত বাসায় ফেরার কথা জানান স্বামী সোহেল। ১৫ মিনিট পর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সোহেলের চাচাতো ভাই দেলোয়ার জানান, একই গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে জাবেদ ঢাকার বাসা থেকে সোহেলকে ডেকে গাড়িতে করে গজারিয়ার জামালদী স্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখানে স্কুয়ার কারখানার কাছে ভুট্টাক্ষেতে টেংগারচর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে জামাল, বিল্লাল ও তাদের চাচাতো ভাই মহসীনসহ আরও কয়েকজন মিলে সোহেলকে কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। গজারিয়া থানার এসআই সুব্রত জানান, শুক্রবার রাত ২টায় পেট্রোল ডিউটির সময় জামালদী এলাকায় ব্র্যাক অফিসের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সোহেলকে। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওসি হেদায়াতুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

তাঞ্জানিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ৩২ স্কুলছাত্র নিহত

তাঞ্জানিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় পর্যটন এলাকায় একটি স্কুলবাস গিরিসঙ্কটে পড়ে ৩৫ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে আরুশা এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন স্কুলশিশু, দুই শিক্ষক ও বাসটির চালক রয়েছেন। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের। আরুশার পুলিশ কমিশনার চার্লস মকুবো জানিয়েছেন, বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে না চালকের ভুলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারাতু জেলার কারাতু শহরের কাছের এ দুর্ঘটনায় নিহত সব শিক্ষার্থী ক্লাস সেভেনের ছাত্র এবং তাদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে বলে জানান তিনি।
মকুবো আরও জানান, পরীক্ষার সিট পড়ায় লাকি ভিনসেন্ট স্কুলের এই শিক্ষার্থীরা অপর একটি স্কুলে যাচ্ছিল। এক বিবৃতিতে তাঞ্জানিয়ার প্রেসিডেন্ট জন ম্যাগুফুলি এই দুর্ঘটনাকে 'জাতীয় দুর্যোগ' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'এই দুর্ঘটনা সব স্বপ্নকে ধূলিস্মাৎ করে দিয়েছে। এই শিশুরা জাতীকে সেবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই দুর্ঘটনা নিহতদের পরিবার, বন্ধু এবং সর্বপরি জাতীর জন্য অনেক দুঃখের।'

হামাসের নতুন প্রধান ইসমাইল

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ইসমাইল হানিয়ে। ৫৪ বছর বয়সী ইসমাইল হানিয়ে খালিদ মিশালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মিশাল দুই মেয়াদে এই পদে ছিলেন। খবর বিবিসি, আনাদুলুর। গাজা সিটি এবং দোহায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হামাসের প্রধান নির্বাচনের ভোটাভুটি হয়। রাফাহ সীমান্তের ক্রসিং বন্ধ থাকায় ইসমাইল হানিয়ে গাজার বাইরে যেতে পারেননি। তিনিই হলেন হামাসের প্রথম নেতা যিনি ফিলিস্তিনি এলাকার ভেতরে অবস্থান করছেন। এতদিন হামাসের সার্বিক নেতা ছিলেন খালেদ মিশাল। আর বিগত ১০ বছর ইসমাইল হানিয়ে গাজায় হামাস আন্দোলনের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ২০০৬ সালে ইসমাইল হানিয়ে ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তাকে পরের বছর জুনেই বরখাস্ত করেন। এরপর হামাস গাজা এলাকার শাসনভার নেয়। সে সময় মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ গ্রুপের সঙ্গে হামাস দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। ইসমাইল হানিয়েকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়। দায়িত্ব নিয়ে তিনি হয়তো হামাসের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি হামাস তার নীতিমালা সংক্রান্ত একটি নতুন দলিল প্রকাশ করেছে। একে অনেকেই দেখছেন হামাসের ভাবমূর্তি কিছুটা নরম করার একটা চেষ্টা হিসেবে।

ধরায় এলো শরণার্থী ট্রুডো

শরণার্থীদের পক্ষে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু্ নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন তিনি শরণার্থীদের তার দেশে আশ্রয় দিয়ে চলেছেন। এমনই এক শরণার্থী দম্পতি মুহাম্মদ ও আফরা বিলান গতবছর কানাডায় আশ্রয় পান। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্কের এই দম্পতি মেয়ে নায়া ও ছেলে নায়েলকে নিয়ে কানাডার মন্ট্রিলের শরণার্থী ক্যাম্পে নতুন জীবন শুরু করেন। অন্যান্য শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে জাস্টিন ট্রুডো স্বয়ং বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। মুহাম্মদ-আফরা দম্পতির বেলায় সেটা ঘটেনি। তাতে কী, আশ্রয় দিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এই দম্পতির মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। এরই সম্মানস্বরূপ দ্বিতীয় ছেলে দুনিয়ার মুখ দেখলে তার নাম রেখেছেন জাস্টিন ট্রুডো। গত বৃহস্পতিবার ক্যালগরি শহরে আফরার এই সন্তান ভূমিষ্ট হয়। তার পুরো নাম জাস্টিন ট্রুডো আদম বিলান। নামের প্রথম অংশ শুধু জাস্টিন নয়, জাস্টিনট্রুডো। ২৯ বছর বয়সী মুহাম্মদ দামেস্কে নাপিতের কাজ করতেন। সিরিয়ার সেনাবাহিনী তাকে আটক করেছিল। মুক্তি পাওয়ার পর কাজের সন্ধান করতে গিয়ে তিনি আবারও আটক হন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শরণার্থী নেয়ার ঘোষণা দিলে মুহাম্মদ সুযোগ কাজে লাগান।
পাঁচ বছরের যুদ্ধের ভয়াবহতা পেছনে ফেলে সপরিবারে রওনা দেন কানাডায়। মন্ট্রিলে কিছুদিন থাকার পর তারা আলবার্টার ক্যালগরিতে যান। কানাডার জীবন সম্পর্কে আফরা বিলান বিবিসিকে বলেন, 'এদেশ অনেক নিরাপদ, এখানে যুদ্ধ নেই। সবকিছুই ব্যতিক্রম, ভালো। সিরিয়ার মতো নয়।' শুরুতে তীব্র শীতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আফরার বেশ সমস্যা হয়েছিল। তবে এখন এসব অঅর তার কাছে কোনো সমস্যা না। স্বামী মুহাম্মদ এবং তিনি নিজে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। একটি মুদি দোকানে পার্টটাইম কাজ করছেন। সব মিলে ভালো আছেন। এই দম্পতির প্রত্যাশা, একদিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাদের ছেলে আরেক জাস্টিনট্রুডোকে দেখতে আসবেন। আফরা বলেন, 'তিনি (জাস্টিন ট্রুডো) খুবই ভালো মানুষ। অনেক সহায়তা করেন। কানাডায় আসার সুযোগ করে দেয়ায় তাকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে আমরা কানাডার সব নাগরিককে ধন্যবাদ জানাই।' ২০১৫ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন তরুণ জাস্টিন ট্রুডো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ৪০ হাজার শরণার্থী নেয়ার ঘোষণা দেন। এদের মধ্যে এক হাজার শরণার্থীকে ক্যালগরি শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সে সময়ে জাস্টিন ট্রুডো ঘোষণা দেন, এসব দেশের নাগরিকরা তার দেশে এলে তিনি স্বাগত জানাবেন।

ট্রাম্পের সৌদি সফরের নেপথ্যে মুসলিম ইস্যু, অস্ত্র বিক্রি?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরের স্থান হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন। ট্রাম্পের এক সমর্থক বলছেন, এর মাধ্যমে মুসলিমবিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে সন্ত্রাসবাদ দমনে তার কঠোর ভূমিকার ইঙ্গিত মিলছে। শুক্রবার পাকিস্তান বংশোদ্ভূত এক মার্কিনি সাজিদ তারার পিটিআইকে বলেন, সৌদি আরবে ট্রাম্পের প্রথম বিদেশি সফরের ঘোষণায় এটার আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে তিনি ইসলামবিরোধী নন, কিন্তু জঙ্গিবাদের ঘোর বিরোধী। মুসলিম আমেরিকান ফর ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠাতা সাজিদ আরও বলেন, সৌদিতে তার প্রথম সফরের মধ্যে অনেক কিছুই লুকায়িত রয়েছে। তিনি মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়তে চান বলেও ইঙ্গিত মিলছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর কর কমানোর বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সৌদি সফরের ঘোষণা দেন। ওই অনুষ্ঠানে মুসলিম নেতাদের মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন সাজিদ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত যে ট্রাম্প তার প্রথম সফর সৌদি আরব থেকে শুরু করবেন।
এরপর ইসরাইল যাবেন, সেখান থেকে তিনি ভ্যাটিকান সিটিতে সফর করবেন। এর মাধ্যমে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যকে পরিবর্তন করে দেয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটছে।’ সাজিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের নেতারা কট্টর ইসলামিক জঙ্গিবাদ দমনে তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কী ঘটছে? এ ইস্যুটি ইয়েমেন ও ইরানের মতো দেশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অথচ উভয় দেশই সৌদি আরবের ঘোর শত্রু।’ মার্কিন নির্বাচনে প্রচারণার সময় থেকে প্রথম কোনো মুসলিম নেতা হিসেবে সাজিদ তারার ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইসলামের বিরুদ্ধে নন। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে তিনি বারবার বলে এসেছেন, তিনি ধর্মবিরোধী নন। অথচ বিগত মার্কিন প্রশাসন ৮ বছরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে দোটানায় ছিল। চলতি মাসের শেষদিকে ট্রাম্প তার প্রথম সফরে সৌদি আরব, ইসরাইল ও রোমে যাবেন। আগামী ২৫ মে ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলন এবং ২৬-২৭ মে ইতালির সিসিলিতে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেয়ার মাধ্যমে তিনি তার সফর শেষ করবেন। এর আগে ২৪ মে ভ্যাটিকানে যাত্রা বিরতি করবেন ট্রাম্প। সেখানে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে।
সৌদির কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র : ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন সৌদি আরব সফরে হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি ১০০ কোটি ডলার মূল্যের থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চুক্তির ব্যাপারে দরকষাকষি করবেন। চুক্তিতে যুদ্ধ কমান্ড, কন্ট্রোল এবং কমিউনিকেশনের জন্য সি২বিএমসি সফটওয়্যার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে চারটি মাল্টি-মিশন যুদ্ধ জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার মূল্যের চুক্তিও স্বাক্ষর করবে। এ চুক্তিটি ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসন অনুমোদন দেয়।
কিন্তু দুই দেশের মতবিরোধের কারণে এখনও তা কার্যকর হয়নি। এছাড়া ট্রাম্প সৌদির কাছে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের রাইথিওয়ান কোম্পানির তৈরি লেজার বোমা বিক্রি করবে। এ ধরনের বোমা সৌদি সরকার ইয়েমেনে ব্যবহার করে আসছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র সৌদিতে সরবরাহ করে। তবে ২০১৫ সালে ওবামা সৌদিতে লেজার বোমা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে। বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরান ও ছয় রাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় নাখোশ ছিল সৌদি আরব। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস গত মাসে তার সৌদি সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সৌদির কাছে হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সাগরে এবার কৃত্রিম দ্বীপ বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

চীনের পর এবার সমুদ্রে কৃত্রিম দ্বীপ বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির উপকূলসংলগ্ন পীত সাগরে এ দ্বীপ নির্মাণের কাজ চলছে। এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ কৌশলগত বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। ওই এলাকার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে এ খবর জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ সংক্রান্ত কাজে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত টানা সম্ভব হচ্ছে না। কোরীয় উপদ্বীপে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে এ সামরিক ঘাঁটির খোঁজ পাওয়া গেল। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের পিয়ংইয়ং থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পীত সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের কাজ চলছে। উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু না বললেও বিশেষজ্ঞরা ওই দ্বীপের নাম দিয়েছেন ‘সোহে আইল্যান্ডস’। পীত সাগরের উত্তরের অংশটি কোরিয়া উপসাগর নামে পরিচিত। এখানে বিদ্যমান দ্বীপের আয়তন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পীত সাগর বলতে পূর্ব চীন সাগরের উত্তর অংশটিকে বোঝায়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর। সাগরটি চীনের মূল ভূখণ্ড এবং কোরীয় উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত। আর এ কারণে সাগরটির গুরুত্ব ব্যাপক। পীত সাগরসংলগ্ন অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সেখানেই নতুন করে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির খোঁজ পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণাধীন কৃত্রিম দ্বীপে সামরিক স্থাপনা স্থাপনের লক্ষণ দেখা গেছে। সেখানে চওড়া রাস্তা ও ভবন নির্মাণ করতে দেখা যাচ্ছে। ওই এলাকার নিকটবর্তী স্থানে রয়েছে সোহাই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। এছাড়া সোহাই এলাকায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে রকেটের পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছরের শুরুতে সেখানে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালানো হয়। স্ট্রাটেজিক সেনশিনেলের ভূ-রাজনীতিবিষয়ক একজন গবেষক দ্য ডিপ্লোম্যাটে লিখেছেন, যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা খুব সীমিত। এর ভিত্তিতে সঠিক উপসংহার টানা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃত্রিম দ্বীপাঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানোর কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তার মতে, ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণের মতো অবকাঠামোর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কৌশলগত স্থাপনা সম্পর্কে আঁচ করা যায়। এসব স্থাপনা সামরিক ও বেসামরিক দু’ধরনের ব্যবহারের উদ্দেশে হতে পারে।
স্ট্রাটেজিক সেনশিনেলের নির্বাহী প্রধান লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পর্যবেক্ষণের জন্য ওই এলাকা ব্যবহার করা হতে পারে। দেশটি যখনই কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে, কিম জং উন তা নিজে পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করেন। এর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করে সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়েছে বেইজিং। এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিসর বাড়ানোর প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে ৪১৯-১ ভোটে পাস হয়। কংগ্রেসের উভয়কক্ষে বিলটি পাসের পর এখন সেটিতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। উত্তর কোরীয় জাহাজ শিল্প ও বিভিন্ন কোম্পানিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মার্কিন অবরোধ আরোপের বিষয়ে উত্তর কোরিয়া খুব একটা চিন্তিত না হলেও কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ওয়াশিংটকে এ অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে বেইজিং। আর এ কারণে চীনের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তোলে উত্তর কোরিয়া। তবে নরম সুরেই কথা বলছে চীন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চীন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।