Sunday, May 13, 2018

স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন চন্দ্রমহল by রবিউল ইসলাম

সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে যেমন স্থাপন করেছিলেন জগদ্বিখ্যাত আগ্রার তাজমহল। তেমনি বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী তার স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থাপন করেছে চন্দ্রমহল। রনজিৎপুর গ্রামে স্থাপিত চন্দ্রমহলটি এখন ইকোপার্ক হিসেবে দেশি বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখাতে প্রতিদিন বেড়াতে আসেন দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক। সুন্দরবনে যাওয়ার পথে খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ইকোপার্কটির অবস্থান। তাই সুন্দরবন ভ্রমণকারী দর্শনার্থীদের আরো বাড়তি আনন্দ যুক্ত করে এই চন্দ্রমহল।
রনজিৎপুর গ্রামে ৩৫ একর জমির ওপর এই চন্দ্রমহল তৈরি করা হয়েছে। দোতলা চন্দ্র মহলে প্রবেশ করতে হয় পানির নিচ দিয়ে তৈরি সুড়ঙ্গ পথে। ইকোপার্কে আরো আছে সারি সারি নারিকেল গাছ, নানা প্রজাতির গাছ, পিকনিক স্পট ও বেশ কয়েকটি পুকুর। আর পুকুরে রয়েছে ময়ূরপঙ্খী নৌকার উপর ভাসমান মঞ্চ, মহল জুড়ে রয়েছে নানা স্থাপত্যশৈলীসহ পূর্ব পুরুষের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ডাকটিকেট, মূদ্রা, তলোয়ারসহ আকর্ষণীয় অনেক মালপত্র। আরো রয়েছে হরিণ, কুমির, বানর ও পাখিসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য, বিলুপ্ত রূপসা-বাগেরহাট রেল লাইনের প্রতিকৃতি।

বাগেরহাট সদরের ঐতিহ্যবাহী হাকিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সৈয়দ আমানুল হুদা তার ৩৫ একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন চন্দ্রমহল নামের এই নয়নাভিরাম ইকো পার্ক। পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০১ সালে। তার স্ত্রীর চন্দ্রার নামে মূল ভবনটির নামকরণ করেন “চন্দ্রমহল”। এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০০৯ সালে। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের একটি নামকরা পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 মূল ভবনটি ছাড়াও পুরো এলাকাটি ফুল ও ফলজ বৃক্ষ দিয়ে চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া এখানে ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেশীয় সাংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সাজানো পুকুরে মাছ চাষ হয়। একটি মিনি চিড়িয়াখানাও রয়েছে। ভবনটির অভ্যান্তরে হুদা পরিবারের সংগ্রহীত বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রদর্শিত করা হয়েছে। এখানে গ্রাম্য মানুষের চরিত্র নিয়ে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি। আদি আসবাবপত্র আর তৈজশপত্র ছাড়াও কিছু স্থির ছবি রয়েছে এখানে। আরো রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, মাষ্টার দা সূর্য সেন, বেগম রোকেয়া, আতাউল গনি ওসমানী, মাদার তেরেসা, মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্য।
চন্দ্রমহলটি মূলত তাজমহলের আদলে তৈরি। মহলটির সৌন্দর্য দেখে যে কোনো পর্যটক মুগ্ধ হবেন। বিশেষ করে প্রখর রোদের আলো যখন মহলের উপরি সোনালী অংশে পড়ে তখন এটি আর চমৎকার দেখায়।
মহলের চারিপার্শ্বে স্বচ্ছ পানির লেক। পানির নিচে গ্লাস দ্বারা বেষ্টনি করা সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে মহলে প্রবেশ করতে হয়। এর দুই পার্শ্বের স্বচ্ছ পানির মধ্যে মাছের খেলা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মহল জুড়ে রয়েছে নানা স্থাপত্য শৈলী। বের হওয়ার জন্য বাঁশের পুল রয়েছে। যা কারুকার্য্য করা। যে কারণে অন্যান্য পার্কের তুলনায় চন্দ্র মহলে পর্যটকদের ভীড় কিছুটা বেশি। জেলে, কৃষক, ধোপা ইত্যাকার নানান পেশাজীবী গ্রামীন মানুষের মধ্যযুগের জীবনযাত্রা কেমন ছিল তার ধারণা দিতেই নির্মিত হয়েছে এখানে মাটির কারুকার্য্য সম্বলিত শিল্প। পানির উপর বাঁশের তৈরি রেস্তোরা। পুকুরের মধ্যে ইট-সিমেন্টের তৈরি কাঁকড়া ও ঝিনুক, পানসী নৌকা।
বন্য প্রাণীদের সাথে পরিচয় করানোর জন্য এখানে রয়েছে বানর, বনবিড়াল, হরিণ, তিতপাখি, তুর্কী মোরগ, সাদা বক, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর, ঈগল, মদন টাক পাখি, সাদা ঘুঘু, হাঁস, পেঁচা, বেজী, কবুতর, কোয়েল, কুমির ইত্যাদি।
চন্দ্রমহলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, মহলের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিম বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের সৈয়দ আনোয়ারুল হুদার বড় ছেলে তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। অষ্ট্রেলিয়ায় জাহাজে চাকুরির সুযোগ পান তিনি। পরে দেশে এসে ঢাকায় গার্মেন্টস্ ব্যবসার পাশাপাশি নিজ এলাকায় চন্দ্রমহল প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট বেলায় ফুফু শিরিনা বেগমের সাথে তাজমহল দর্শনের সুযোগ পান তিনি। সেখানে তাজমহল দর্শনের পর থেকে তার স্বপ্ন তাজমহলের আদলে একটি মহল তৈরি করার। পরে কর্মজীবনে এসে যখন সেই সুযোগ সৃষ্টি হয় তখন আর পেছনে ফিরে তাকাননি। স্বপ্ন পূরণে উঠে পড়ে লেগে যান। আর তাজ মহল নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রার নাম স্মরণীয় করে রাখতে গড়ে তোলেন চন্দ্রমহল।
চন্দ্রামহলের প্রবেশ মূল্য বর্তমানে ৫০ টাকা। এই মহল এখন দক্ষিণাঞ্চলে আগত হাজার হাজার পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

দারিদ্র্যতা বাধা হতে পারেনি ওদের

অদম্য সবুজ
মধুপুর (টাঙ্গাইল): বাবা ভ্যান চালক। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে অদম্য মেধাবী আশরাফুল ইসলাম সবুজ। দরিদ্রতাকে পেরিয়ে পীড়িত পরিবারে সকলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সে। জিপিএ-৫ পাওয়ায় সবুজের বাবা-মার খুশি আর ধরে না। পিইসি পরীক্ষায় ধনবাড়ী পুষ্প প্রি-ক্যাডেট স্কুল থেকে জিপিএ-৫, ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং একই স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সবুজ জানায়, আমার বাবা মো. আবদুর রশিদ পেশায় ভ্যান চালক। সবুজের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় কয়ড়া পূর্বপাড়া গ্রামে। মা সুফিয়া বেগম। অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করেন। আর ছোট ভাই সজীব রায়হান ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। সেও লেখাপড়ায় খুব ভালো। তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে কাজ করতে চায় সে। জীবনে আমি কখনো প্রয়োজনীয় সব কিছু পাইনি। স্কুলে শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং সহপাঠীদের কাছ থেকে বই-খাতা নিয়ে লেখাপড়া করতাম। অনেক সময় বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে স্কুলে আসতে হতো। আমি এইচএসসিতে ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ কলেজে আমার পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছা। মা সুফিয়া বেগম জানান, কষ্টের সংসারে আমি সবুজকে পড়ালেখার ব্যাপারে উৎসাহ দেই। ও যে পর্যন্ত পড়ালেখা করতে চায় আমি শত কষ্টেও পড়ালেখা করাবো। সবুজের বাবা আবদুর রশিদ জানান, আমার সম্পত্তি বলতে ৭ শতক জমি। আর ২টা ছেলে সবুজ ও সজীব। আমি ছেলে ২টাকে অনেক কষ্টে লেখাপড়া করাচ্ছি। স্থানীয় এনজিও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার, সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস থেকে ৫০ হাজার টাকা ও আশা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এনজিওর কিস্তি, সংসারের খরচ ও ছেলেদের পড়ালেখা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্বপ্ন পূরণের পথে হেলেনা-রায়হান
মতিউল আলম, ময়মনসিংহ থেকে: জন্মগতভাবে দুই পা অচল। তবু দমে যায়নি হেলেনা খাতুনের স্বপ্ন। বুকভরা দম নিয়ে দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে নেমে পড়ে মাঠে। কখনো হামাগুড়ি দিয়ে আবার কখনো মায়ের সহযোগিতায় হুইল চেয়ারে নিয়মিত স্কুলের ক্লাস করেছেন। তার সুফলও পেয়েছে সে। গফরগঁাঁও উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হেলেনা খাতুন জিপিএ-৪.৮৯ পেয়েছে।
হেলেনার বাড়ি গফরাগাঁও উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে। আর দশটা শিশুর মতো সে হাঁটতে পারে না। হেলেনার মনে কষ্টের পাহাড়। সে সহপাঠীদের সঙ্গে একসঙ্গে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারেনি। দৌড়াতে পারে না। খেলতে পারে না। তার অন্য সব সহপাঠীরা যখন স্কুল মাঠে খেলা করে, সে তখন চেয়ে চেয়ে দেখে। তার চোখের কোণে তখন বিন্দু বিন্দু নোনাপানি এসে জমা হয়। তবু সে দমেনি।
হেলেনা জানায়, ছোট বেলা থেকেই তার পা দুটি অচল। বড় হওয়ার পরও শক্তি ফিরে আসেনি পায়ে। স্কুলের যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। শারীরিক অক্ষমতার জন্য পরিবার-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও হেলেনার কখনো মনে হয়নি সে পারবে না। বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে স্কুল। শুরুর দিকে মা ফজিলা খাতুন কোলে করে নিয়ে যেতেন। একটু বড় হওয়ার পর হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেয় পরিবার। হুইল চেয়ারে করে একা একা স্কুলে যাওয়ার বায়না করলেও মা কখনো একা ছাড়েনি। হুইল চেয়ারের হাতলে সব সময় থাকতো মায়ের হাত। হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হলেও দ্রুততার সঙ্গেই সব কাজ করতে পারে সে। অনেকেই তাকিয়ে দেখে অদম্য হেলেনার মনের জোর। সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ হেলেনার। নিজের জীবনের স্বপ্ন কি জানতে চাইলে অনেক মুখেটিপে হেসে হেসে বলে, ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা নিতে চাই। আর হেলেনার মা ফজিলা খাতুনের স্বপ্ন তার মেয়ে একদিন ডাক্তার হবে। আবার মায়ের শঙ্কাও হয়। প্রায় দুই বছর আগে মারা গেছেন হেলেনার বাবা। ছয় ভাই-বোনের সংসারে হেলেনার স্বপ্নপূরণের পথে কোনো বাধা তাই এই শঙ্কা মায়ের মনে। হেলেনার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, জেএসসি সে জিপিএ ৪. ৮৫ পেয়েছিল। এসএসসিতে ৪.৮৯ পেয়েছে। আমার বিশ্বাস হেলেনা একদিন শিক্ষক ও তার মায়ের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবে।
অপরদিকে জীবনে চরম দারিদ্র্যতা, আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি রায়হানের। পড়াশোনায় প্রচণ্ড ঝোক আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ঠেলে এবার এসএসসির ফলাফলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। জন্ম থেকে বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে না থাকা এ শিক্ষার্থী এবার আঠারদানা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২.৮৯ পেয়েছে। তার বন্ধুরা যখন ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ে অপেক্ষা করছিল তখনো সে রিকশা চালাচ্ছিল। সে জানায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাতে সে সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়েছে। সে কারণে খুব একটা ভালো ফলাফল করতে পারেনি। প্রতিবন্ধী রায়হান আঠারদানা গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে।
শঙ্কায় নাসিম ও ফারজানা
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): ট্রাক ড্রাইভার পিতার দুই সন্তানের বড় নাসিম আলী এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ পাঁচ অর্জনের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। পিএসসি ও জেএসসি-তে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলেও লেখাপড়ার জন্য টাকা উপার্জনের পিছে সময় দিতে গিয়ে এক বিষয়ের ব্যর্থতায় তার গোল্ডেন জিপিএ হাতছাড়া হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া এজে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা মেধাবী নাসিম আলী জানায় পিতার একার উপার্জনে সংসারের খরচ জোগানোর পর তার লেখাপড়ার টাকা হতো না। বাধ্য হয়ে মায়ের সঙ্গে সে দিনমজুরের কাজ করে গত দুই বছর ধরে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে এসেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিনা সম্মানীতে তাকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে সে এমন ফলাফল অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তবে বই আর কলম পেন্সিল কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে শ্রমিকের কাজে সময় নষ্টের কারণে আশানুরূপ ফল অর্জনে সক্ষম হয়নি বলে দাবি মেধাবী এ শিক্ষার্থীর। ভবিষ্যতে ইংরেজি বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা নাসিম আলী জানায়, ঢাকার কোনো ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ায় এখন তার প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ভালো কলেজে ভর্তি কিংবা ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণ নিয়ে ইতিমধ্যে সংশয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের এ মেধাবী ছাত্রের মা মোছা. নাসিমা বেগম ও পিতা আবু সিদ্দিক। তবে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে আরেক মেধাবী ফারজানা ইয়াসমিনের ক্ষেত্রে। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো কোনো সহায়-সম্পদ না থাকা বয়াতী (গায়ক) পিতা ফারুক হোসেনের সঙ্গে নিজেও বিভিন্ন স্থানে গান গাইতে যায় সে। পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণ জোগাতে ফারুক হোসেনের একার উপার্জন যথেষ্ট নয় বলে দাবি তার। একান্ত বাধ্য হয়ে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ফারজানা নিজে তার পেশায় সহায়তা করেন বলে দাবি ফারুকের। ফারজানা ইয়াসমিন জানায় এবছর সে ভুরুলিয়া সিরাজপুর কলেজিয়েট বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ পাঁচ অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়ার খরচ বেশি বিধায় বাধ্য হয়ে পিতার পেশায় নিজেকে জড়ানোর কথা জানায় সে। দুই ভাইবোনের মধ্যে বড় ফারজানা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে আগ্রহী উল্লেখ করে জানায় গানের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াতে হয়েছে তাকে। কিন্তু ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণ করতে উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ চায় সে।
বাজিমাত কমল চন্দ্র রায়ের
পঞ্চগড়: কমল চন্দ্র রায় নামের এক এতিম প্রতিবন্ধী এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। হাতের তালু দিয়ে লেখেই সে এ সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে। হাতের লেখা দেখে বুঝার উপায় নেই যে তার দুই হাতে কোনো আঙুল নেই। কম্পিউটারে টাইপের মতো পরিপাটি তার হাতের লেখা। অদম্য মেধাবী কমল শিশু শ্রেণি থেকেই ক্লাসে ছিল প্রথম। পিএসসিতে জিপিএ-৫ সহ বৃত্তি ও জেএসসিতেও জিপিএ-৪ দশমিক ৯৫ অর্জন করে। এসএসসি’র ফলাফলে তার উচ্চ শিক্ষার ইচ্চাশক্তি আরো বেড়ে গেছে। এখন তার স্বপ্ন একটাই। একদিন ডাক্তার হয়ে তার মতো অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণে বাধা আর্থিক সমস্যা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কমলসহ তার মা এবং স্কুল শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা। জন্ম থেকেই দুই হাতে কোনো আঙ্গুল ছিল না কমল চন্দ্র রায়ের। মাত্র দুই বছর বয়সে বজ্রপাতে মারা যান তার কৃষি শ্রমিক বাবা স্বরনার্থী রায়। সেই থেকে বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিবন্ধী কমলকে নিয়ে মা লিলি রায়ের সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা লিলি রায় তিন সন্তানকে দেখভাল করতেন। দিনমজুর বড় ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। প্রতিবন্ধী কমলসহ তার আরেক বড় ভাইকে নিয়ে মা লিলি রায় এখনো জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। সহায় সম্বল বলতে ৫ শতক ভিটেমাটি মাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি কমল মাঝে মধ্যে তার ওই বড় ভাইয়ের সঙ্গে অন্যের জমিতে চুক্তিভিত্তিক কৃষি শ্রমিক হয়ে কাজ করতো। কিন্তু এতো কিছুর মধ্যেও সে থেমে যায়নি। লেখাপড়ার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তিই তাকে আরো অদম্য মেধাবী করে তুলেছে। কমল চন্দ্রের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সাহাপাড়া গ্রামে। সে স্থানীয় গোবিন্দ আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে নিয়মিত স্কুলে যেত। এ জন্য শিক্ষকরাও তাকে বেশ স্নেহ করতেন। স্কুল ক্লাসের বাইরেও তারা নিজেদের মতো করে তাকে সহযোগিতা করতেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নন এমপিওভুক্ত এই স্কুল থেকে এবার ২৬ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ-৫ সহ ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। কমল চন্দ্র রায় কথা বলার একপর্যায়ে কেঁদে ফেলে।
মেধাবী আহম্মেদ আলীর গল্প
হাফিজ উদ্দিন, সাভার থেকে: আহম্মেদ আলী (২২) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি বিবিএ-র ছাত্র। থাকেন সাভার কলেজ ভবনের সিঁড়ির নিচে। সেখানে থেকেই চলে তার পড়ালেখা। আলী ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবারের হাল ধরতে চান। সাভার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্টাফ এবং সহপাঠীদের সহায়তায় চলছে তার দারিদ্র্য জয়ের সংগ্রাম। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। প্রতিবন্ধী হলেও সে পড়ালেখা শিখেই দারিদ্র্যকে হার মানাতে চান। সাাভার থানা রোডে চলার পথে আলাপচারিতায় আহম্মেদ আলী জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বদরগঞ্জের দলপাড়ায়। বাবা আবু হাসেম কৃষক। মা আছিয়া বেগম গৃহিণী। এক ভাই এক বোনের সংসারে বড় আম্মদ আলী। ছোটবোন হাসিনা আক্তার (১৬) এ বছর গ্রামের একটি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আলী বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে এবং আগ্রহ ছিল পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। দারিদ্র্যতা তাকে ঘিরে ধরলেও পরিবারের উৎসাহ এবং নিজের আগ্রহে গ্রামের স্কুল থেকে ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৩৮ এবং ২০১৬ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৩ পান তিনি। এরপর তার শহরের কলেজে পড়ালেখার আগ্রহ জাগে। সেই সুবাদে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি ভর্তি হন সাভার কলেজে বিবিএ। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্টাফরা মিলে তার চলাচলের জন্য একটি পুরানো মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছেন। এরপর সেই মোটরসাইকেলের পেছনে বাড়তি দুটি চাকা লাগিয়ে বিশেষভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারা। মোটরসাইকেলের জ্বালানির খরচ দেন তার সহপাঠীরা। আহম্মেদ আলী বলেন, সাভার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সকল স্টাফ তাকে আপন করে নিয়েছেন প্রথম দিন থেকেই। তাদের সাহায্যে বিনা পয়সায় করছেন পড়ালেখা। কলেজের সিঁড়ির নিচে স্টাফদের সঙ্গে তার থাকার সুযোগ হয়েছে। সেখানেই তিনি পড়ালেখা করেন। আলী নিজে পড়ালেখার পাশাপাপশি ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রকে প্রাইভেট পড়ান। মাসে পান এক হাজার টাকা। আলী জানান, সাভার কলেজের অদূরে প্রেস ক্লাবের বিপরীতে একটি মেসে তিনি রিকশাচালকদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে থাকেন। তিনবেলা মেসে খেলে তাকে কমপক্ষে ২১০০ টাকা গুনতে হয়। সে জন্য কোনো সকালে মুড়ি খেয়ে তার দিন চলে আবার টাকার অভাবে কোনো দিন দুপুরে তিনি অভুক্ত থাকেন। তবুও তিনি হার মানতে চান না। দারিদ্র্যতাকে জয়ের স্বপ্নে তিনি সবার দোয়া চান। গত ৫ই মে সাভারের একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা দেয়াও হয়েছে। আলী বলেন, তিনি বিবিএ শেষ করে এমবিএ পড়তে চান।
উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি ভালো একটা চাকরির স্বপ্ন দেখেন। দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্নে বিভোর আহম্মেদ আলী সামনে এখন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। তিনি বলেন, তাদের অভাব ও কষ্টের সংসার। এরমধ্যেও কোনো মাসে অনেক কষ্ট করে গ্রামের বাড়ি থেকে ৫০০-৭০০ টাকা পাঠায় তার বাবা কোনো কোনো মাসে আবার টাকা দিতেও পারে না। তবে অভাব ও কষ্টের মধ্যেও তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান। কারো কাছে হাত পেতে নয় বরং যদি কেউ স্বেচ্ছায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবেই তিনি সাড়া দেন বলে জানান। আলী বলেন, ঈদের সময় মা-বাবা ও বোনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি যান তিনি। এছাড়া যাওয়ার সুযোগ হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিককে আটকে দিল পাকিস্তান, পাসপোর্ট জব্দ

আফগানিস্তান থেকে সবেমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ বিমান এসে অবতরণ করেছে পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে। তাতে আরোহণ করার কথা পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক কর্নেল জোসেফ হলের। কিন্তু ওই বিমানে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাকে থামিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি ওই বিমানে উঠতে পারেন নি। পাকিস্তানের ডন’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়েছে, ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে এক মোটর সাইকেল আরোহীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাকিস্তান থেকে কর্নেল জোসেফ হলকে নিয়ে যেতে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে ইউএস এয়ার ফোর্স সি-১৩০ বিমান। আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে তা উড়ে আসে ইসলামাবাদে ওই বিমান ঘাঁটিতে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া এগারটায়। ডন তার রিপোর্টে বলেছে, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকের সঙ্গে ছিলেন আটজন মানুষ। তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্র তাকে থামিয়ে দেয় পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কর্মকর্তারা। সঙ্গে সঙ্গে তার পাসপোর্ট জব্দ করে। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ডন জানাচ্ছে, এ সময় ওই কূটনীতিক তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চান। কর্নেল হলকে পাকিস্তান ত্যাগের কোনো অনুমতি দেয়া হয় নি। ফলে ওই বিশেষ বিমানটি আবার আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ফিরে যায়। স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে ইসলামাবাদ ত্যাগ করে বিমানটি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিককে নিরেট দায়মুক্তি ভোগ করতে পারবেন না মর্মে একটি রায় পাস করেছে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট। এর পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলো। ইসলামাবাদ হাই কোর্ট ওই কূটনীতিকের নাম এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট বা দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তালিকায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৭ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিক কর্নেল হল ইসলামাবাদে ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলা অবস্থায় তিনি সিগন্যাল অতিক্রম করেন এবং একটি মোটর সাইকেলে থাকা দু’জন মানুষকে আঘাত করেন। এতে একজন মারা যান। নিহত ব্যক্তির পিতা এ বিষয়ে ইসলামাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি আর্জি জানান ওই কূটনীতিক যেন পাকিস্তান ছেড়ে যেতে না পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনা এতে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। ঘটনা এখন দাঁড়িয়েছে তেমন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের কূটনীতিকদের চলাচল সীমাবদ্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তার পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করেছে। দৃশ্যত আফগান যুদ্ধের সময় থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তালেবান বা আল কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান পাশে থেকেছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ জন্য পাকিস্তান কোটি কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নাখোশ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যথেষ্ট লড়াই করছে না। এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। তাই পাকিস্তানকে দেয়া প্রণোদনা কর্তন করে মার্কিন প্রশাসন।

পরমাণু সমঝোতায় ইরানের স্বার্থ নিশ্চিত করতে জারিফের সফর শুরু

ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর এ সমঝোতায় তেহরানের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ।
২০১৫ সালের বহুপক্ষীয় পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অন্যপক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার লক্ষ্যে মস্কো এবং ব্রাসেলসে যাওয়ার আগে আজ সকালে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেররিকা বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণার দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে জারিফ তার সফর শুরু করলেন। এছাড়া, ইরানের ওপর নতুন করে পরমাণু সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পরমাণু সমঝোতাকে মারাত্মক রকমের একপেশে বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, এর আগে কখনো এমন কোনো চুক্তি হয় নি।
ইরান বলেছে, আগামী সপ্তাহে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অন্যপক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এ সমঝোতার ভবিষ্যত নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা জেসিপিওএ'র প্রতি অবিচল থাকবে।  ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির নির্দেশে পরমাণু সমঝোতার ধারা সমুন্নত রাখার জন্য ইউরোপসহ অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে জারিফ এ সফর শুরু করেছেন।
ইরান চাই,  তেহরান যদি পরমাণু সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে তাহলে এ সমঝোতার ধারা মেনে চলার ব্যাপারে ইউরোপের পক্ষ থেকেও সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেয়া হোক।

৯০ বছর বয়সে ভিক্ষা করে সংসার চলছে যার by ওমর ফারুক সুমন

হালুয়াঘাটের ৯০ বছর বয়সের সময়ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে যেই লোকটি সংসার চালাতো সে এখন ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাচ্ছে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ায় ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশাকে এখন বেছে নিয়েছে সে। নাম হাইছু শেখ (৯২)। বাড়ি উপজেলার ৯নং ধারা ইউনিয়নের মকিমপুর বানিয়াকান্দা গ্রামে। বয়স একশ এর কাছাকাছি চলে এসেও চালিয়েছেন ঠেলাগাড়ি। শুক্রবার ভিক্ষারত অবস্থায় দেখা মিলে উপজেলার ধারা বাজারে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাবা কোন সাংবাদিক নাহি পরতিকায় আমার ফডো ছাপাইছিলো। আমার ব্যবস্থা অইবো। কিন্তু কিছুইতো অইলোনা! আমার কি কিছু অইতনা?’ এভাবেই কথাগুলো বললেন, বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধা। যে কিনা কয়েকমাস আগেও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন।
হাইছু শেখ কানে ঠিকমতো শুনতে পায় না। চোখেও দেখে কম। শরীরের চামড়া শুকিয়ে গেছে। হাড্ডিগুলোও বাহির থেকে গণনা করা যায়। চোখের পাতায় ক্লান্তির পরশ আচ্ছন্ন করে থাকলেও জীবন যুদ্ধে অবিচল ছিলেন তিনি। হাড় মানতে শিখেননি কখনো। আট দশটা যুবকের ন্যায় প্রাণচঞ্চল ব্যক্তি ছিলেন। নব্বই বছরে এসেও জীবন সংগ্রামে কর্মঠ পুরুষ ছিলেন। যার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন ছিলো ঠেলাগাড়ি। চল্লিশ বছর যাবৎ চালিয়েছেন তার এই জীবন যুদ্ধ। কিন্তু অবশেষে বিধির লীলায় হার মানতে বাধ্য হয়েছেন। ঠেলাগাড়ি চালকের জীবন ছেড়ে হয়েছেন এখন ভিক্ষুক। তার জন্ম ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী ৩রা এপ্রিল ১৯২৭ ইং। বৃদ্ধা বলেন, ভিক্ষা করে কোনদিন ২০ টেহা, কোনদিন ১৫ টেহা, কোনদিন ৪০ টেহা পাই। সংসার চলে না। একটা পুলা আছে, হে ঢাহা শহরে গার্মেন্টস এর চারহি কইরা হের দিন হেই-ই- দেহে। আমারে টেহা দেয় না। হেগর দিনই চলে না। আমারে দিবো কেমনে। ঈদের সময় অইলে কাপড় দেয়। বাবা আমি এহন ভিক্ষা করি। জমিজামা নাই, বাড়িতে মাত্র আড়াই শতাংশ জায়গা আছে। এক সময় ঠেলাগাড়ি চালিয়ে ফুলপুর, মুন্সিরহাট, ঘোষগাঁও, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট যাইতাম। অনেক দূরে ভাড়া নিয়ে যাইতাম। এহনতো আর পারি না। কি আর করমু, খাওনতো লাগবো। তাই ভিক্ষা করি। শুনেছি সরহার নাহি আমাগরে পুনরবাহন (পুনর্বাসন) কইরা দিবো। কবে দিবো আমারে? তিনি বলেন, বাড়িতে আমি আর আইনের চাচী থাহে। আইনের চাচীই রাইন্ধা দেয়। এভাবেই বর্ণনা দেন নব্বই বছরের বৃদ্ধা হাইছু শেখ। বয়স্ক ভাতা পান বলে স্বীকার করেন। তিনি সকলের সহযোগিতা চান।

বিএনপিকে ফের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন হাসিনা by অমিত সেনগুপ্ত

ঢাকা শহরজুড়ে যত পোস্টার আছে, সেখানে দু’জনের চেহারাই দেখা যায় বেশি। একটি হলো ১৯৭১ সালে গণহত্যার মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের। অপরটি তার কন্যা, শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের। বিরোধী দলীয় নেতাদের পোস্টার এখানে বেশ বিরল। আরও বিরল হলো বিরোধী নেতাদের দেওয়াল চিত্র বা গ্রাফিতি। এমনকি ডান-ঘরানার বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা বিভাগেও, দলটির বা দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার কোনো পোস্টার বা ব্যানার দেখতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বয়কট করার ৩৫০ আসন বিশিষ্ট জাতীয় সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
দুই বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের জন্য কারাদ- দেওয়া হয়। তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য সংস্থা থেকে আড়াই লাখ ডলার তছরুফ করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। কোনো ব্যক্তি দুই বছরের বেশি সাজা পেলে তার নির্বাচনে লড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এ কারণে তার এই কারাদ- তাকে আগামী নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে কার্যত অযোগ্য করে দিয়েছে। ৭২ বছর বয়সী খালেদা কারাগারে এখন বেশ অসুস্থ বলে খবরে এসেছে। বাংলাদেশে এই বছরের অক্টোবর ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বস্তুত হিসাবের বাইরে।
এটি এক অসম নির্বাচনী লড়াই। ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন, যেটি খুবই বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসনে একজনের বেশি প্রার্থীই ছিল না। লড়াই হয়নি যেসব আসনে, সেখানে আওয়ামী লীগ জিতেছে ৮৭টি। প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছে এমন ১৪৭টি আসনের ১০৫টি গেছে দলটির ঘরে।
সেই জাতীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহও যখন বাকি নেই, তখনও খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখেন হাসিনা। এটিই মূলত খালেদা জিয়াকে আন্দোলন চালানো থেকে বিরত রাখে।
বিরোধী দলের মধ্যে একমাত্র একটি দলই এখনও সরকারের রোষের শিকার হয়নি, সেটি হলো আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল, তথা ডানপন্থী রক্ষনশীল জাতীয় পার্টি (এরশাদ), যেটি গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, যিনি তিন দশক আগে এক ‘রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে’র মাধ্যমে নিজেকে দেশের দশম প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
নানাভাবে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে মিত্রতা করেছেন এরশাদ। তবে ১৯৯০ সালের শেষের দিকে তার ৯ বছর ব্যাপী শাসনামলের অবসান ঘটায় হাসিনা-খালেদার সমন্বিত বিরোধী দল। তখন এরশাদকে উৎখাতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমন্বিত প্রচেষ্টার সমর্থক ছিল বামপন্থীরাও। এদের মধ্যে ছিল কম্যুনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।
কিন্তু তখন থেকে ছোট আকারের (তবে আশ্চর্য্যজনকভাবে তেজী) বামপন্থী দলগুলো আড়ালে চলে গেছে। তাদের মধ্যে অল্প ক’টির এই পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব আছে। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির রয়েছে ৭টি আসন। জাসদের ৬টি। অথচ, ১৯৬৮-৬৯ সময়ে কৃষক-জনতার পক্ষে আন্দোলনের ডাক আসতো এই বাম দলগুলোর নেতৃত্বে বড় সভা থেকে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বামেরা এখনও শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনেও এর ফল আসতে পারে। এই এপ্রিলে চাকরির কোটা অপসারণের দাবিতে বিরাট ছাত্র আন্দোলনে এই শক্তিরই প্রতিফলন ছিল। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের যত ভাস্কর্য আছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই সোভিয়েত সমাজতন্ত্রী শিল্পের ছাপ আছে।
লোকবল ও অর্থ সংকট থাকলেও, বাংলাদেশের বামপন্থীরা হয়তো নিজেদেরকে ও দেশের গণতন্ত্রকে পুনর্জ্জীবিত করতে পারে বড় দুই দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিচক্ষণ জোটগঠনের মাধ্যমে। যদিও কম্যুনিস্ট পার্টি বিএনপির প্রতি নমনীয়, কিন্তু দলটি ১৮ দলীয় জোটে যোগ দেবে না জামায়াতে ইসলামির উপস্থিতি থাকায়।
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় বামপন্থী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আরিফুল ইসলাম সজীব বলেন, ‘বিএনপিকে প্রকাশ্যেই মৌলবাদীরা সমর্থন দেয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসলামপন্থীদের পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।’
আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির হলেও, আওয়ামী লীগ নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেকুলার ছিল না। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সন্নিবেশিত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি দলটি পুনরুদ্ধার করলেও, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ রেখে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, হাসিনা এমন এক অবস্থান নিয়েছেন যে, শরিয়া আইন পছন্দ না করলেও, যারা ‘ইসলাম অবমাননা’র চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি ছিল ইসলামিস্ট দলগুলোর দাবি। এর ফলে দেশ দ্বিখ-িত হয়ে গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে পার্থক্য এখন অস্পষ্ট। সেকুলার বুননকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক কিছু করেছে।’ উদাহরণ হিসেবে হেফাজতের কাছে আওয়ামী লীগের আত্মসমর্পন, পাঠক্রমে পরিবর্তন, সংখ্যালঘুদের জমি দখলকারীদের সুরক্ষা, ইসলামিস্টদের খুশি রাখতে বিরাট অংকের অর্থ বরাদ্দকে তুলে ধরেছেন তিনি।
হাসিনা এখন বিএনপিকে ফের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া প্রচার চালাতে না পারলে, বিএনপি মাঠ পর্যায়ে অনেক সমর্থন হারাতে পারে। তবে বিএনপি যদি ফের নির্বাচন বয়কট করে, তাহলে দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারাবে। ২০১৭ সালের মে মাসে জাতীয় পার্টি ৫৮ দল বিশিষ্ট একটি জোট প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলো সবই ইসলামি দল। এদের মধ্যে মাত্র দুইটি দল নিবন্ধিত ও নির্বাচনে লড়তে পারবে।
এসব ২০১৪ সালের মতো ফের আওয়ামী লীগের জন্য বিপুল প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন জয়ের দ্বার খুলে দিতে পারে। প্রতিবেশী ভারতের মতো এসব কার্যত এক-দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ইসলামিস্ট দলগুলোতে শেখ হাসিনার সমর্থন একেবারে অনুল্লেখযোগ্য নয়। বিএনপি-জামাত জোটে ফাটল ধরাতে এই ইসলামী দলগুলোর ‘ইসলাম প্রথমে’ নীতির সঙ্গে হাসিনা অনেকদিন ধরেই পাশাপাশি হাঁটছেন। দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পারবে না এমন সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
(অমিত সেনগুপ্ত ভারতীয় সাংবাদিক। দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত তার লেখাটির সংক্ষেপিত অনুবাদ)

‘তাল চারার দরকার নাই, আমরার আর্জেন্ট দরকার ঠাডার খুঁটি’ by হিমাদ্রি শেখর ভদ্র

‘আমরা হুনছি সরকার ঠাডা ফিরাইবার লাইগা হাওরে তাল গাছের চারা লাগাইতো।  তাল গাছ আমরার পইর দাদা লাগাইয়া খাইতো পারছে না। এই তাল তাইলে আমরা ক্যামনে খাইয়াম। তাল চারার দরকার নাই, আমরার আর্জেন্ট দরকার ঠাডার খুঁটির ( বজ্র নিরোধদণ্ড ), আমরা হেইডা চাই। মানুষ ঠাডা পইড়া মরতাছে এই তাল গাছ কোন দিন বড় অইবো আর কুনদিন আমরা বাঁচবাম? ঠাডায় মরা আর সহ্য হয় না।’ বজ্রপাত রোধে তাল গাছের চারা লাগানোর বিষয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের গড়েরগাঁও গ্রামের রুবেল মিয়া।
হাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশিহাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি
বজ্রপাত রোধে তাল গাছ লাগানোর সরকারি উদ্যোগের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না সুনামগঞ্জের কৃষকরা। তাদের ভাষ্য,  তাল গাছ বড় হতে অনেক সময় লাগে। এর মধ্যে অনেকে মারা যাবেন। এজন্য তারা গাছের পরিবর্তে বজ্র নিরোধক দণ্ড লাগানোর দাবি জানিয়েছেন।
বাগবের গ্রামের তৌফিক উল্লাহ বলেন, ‘বর্ষায় হাওরে ফানি (পানি) আর ফানি। এই ফানির  তলে কি ছোডছোড তালের চারা বাঁচবো। আমরা অখন ক্ষেত ধান কাডি (কেটে) পুরা বাইশা আইলে জাল দড়ি লইয়া হাওরে মাছ ধরতে যাইয়াম। ধান কাটলে ঠাডা পড়ে, মাছ ধরলেও ঠাডা পড়ে। আমরা যে কিমুন (কেমন) একটা মুছিব্বতে পরছি আল্লা ছাড়া আর কেউ কইতে পারে না। হাওরে তালের চারা বড় অইতে অইতে মানুষ মইরা সাফ হইয়া যাইবো।  আমরার সরহারের (সরকার) কাছে ইডাওই আবেদন ঠাডা ফিরাইতে হাওরে ঠাডা খুঁটি লাগানো হোক।’
হাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশিহাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের ওসমান আলী বলেন, ‘একটা তালের চারা বড় গাছ হইতে কমপক্ষে ২০-৩০ বছর সময় লাগে। এই সময় কি মাইনসের উপরে ঠাডা পরতো না? ইডা কি বাঁচনের না মরণের প্রকল্প অইলো হিডাইতো বুঝলাম না।’
বাঘবের গ্রামের হযরত আলী বলেন, ‘সরকারে কইতাছে হাওরে তাল গাছের চারা লাগাইতো। একটা তাল গাছের চারা লাগাইলে তিরিশ বছর পরে বুলে বড়ো হয়। বাপে লাগাই থুইলে পুতে (ছেলে) খাইতো পারে না, নাইতে (নাতি) খায়। অনে এই তালগাছ লাগাইয়া আমরা বাছাম ক্যামনে? কুন বালা বড়ো অইবো আর কুনবালা ঠাডা ফিরাইবো ইডার লাইগা কী আমরা বার চাইয়া বইয়া থাকলে অইবো। এর লাইগা আমরার ঠাডার খুঁটি জরুরি দরকার।’
হাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশিহাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গুরিব (গবির) মানুষ। আমরা আর ঠাডা পইরা মরতে চাই না। গেরামের (গ্রাম) মানুষ জঙ্গল বরাবর চলাফেরা করে কুনদিন তালগাছ বড়ো অইবো আর কুনদিন আমরা বাছাম।’
রাধানগর গ্রামের এমদাদ উল্লাহ বলেন, ‘বড়ো লোকরা ঠাডা পইরা মরে না গবির মরে। ধান কাটতে, মাছ ধরতে, আঙিনায় ধান শুকাইতে ঠাডা পইরা মানুষ মরে। আমরা গরিবরা ও মানুষ আমরারও বাঁচনের অধিকার আছে।’
একই গ্রামের রহমত আলী বলেন, ‘ইডা কেমন বিষয় যে, তালের চারা বড়ো হইলে হাওরের ঠাডা ফিরাইবো। গরিব মাইনসের জান লইয়া সরকার কী শুরু করছে?’
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত  বজ্রাঘাতে ২০ জন লোক মারা গেছেন। তবে বেসরকারি হিসাবে বজ্রাঘাতে ২১ জন ধান কাটার শ্রমিক, একজন ছাত্রী, তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশিহাওরে গাছ না থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি
হাওরে ধান কাটার শ্রমিকরা জানান, একটি তালগাছ বড়ো হতে অনেক সময় লাগে। এছাড়া বছরের ৬-৮ মাস হাওরে পানিতে ভরপুর থাকে। তাই হাওরের সর্বত্র তালগাছ লাগানো সম্ভব নয়। তাদের দাবি, হাওরে বজ্র নিরোধক দণ্ড লাগানোর।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাওরে বজ্রাঘাতে আকস্মিক মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য হাওরে বজ্রনিরোধক দণ্ড বসাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য বিগত এক বছরে তালগাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪২ হাজার ৫০০টি তাল গাছ রোপণ করা হয়েছে। তালগাছগুলো বড় হলে বজ্রাঘাতে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তা সময় সাপেক্ষ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, হাওরে বজ্রপাত রোধে সাড়ে ৪২ হাজার তাল গাছ লাগানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বজ্রনিরোধ দণ্ড স্থাপনের জন্য চিঠি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকার কৃষকদের বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষিবিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাঠ দিবসের কর্মসূচিতে বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন উপলক্ষে সেনা মোতায়েন দ্বিগুন করছে ইসরাইল

অধিকৃত ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে সামনে রেখে গাজা সীমান্ত ও পশ্চিম তীরে সেনা মোতায়েন দ্বিগুণ করার কথা ঘোষণা করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গতকাল (শনিবার) জানিয়েছেন, পদাতিক বাহিনীর বাড়তি তিন ব্রিগেড সেনা মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে দুই ব্রিগেড গাজা সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। 
তিনি জানান, বর্তমানে যে সেনা মোতায়েন রয়েছে বাড়তি সেনা মোতায়েনের পর তা দ্বিগুণ হবে। তবে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মোতায়েন করা সেনার সংখ্যা বাড়ানো হবে না কারণ সেখানে বিক্ষোভ মোকাবেলার দায়িত্ব পুলিশের হাতে রয়েছে। আগামীকাল বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে কিন্তু সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তার মেয়ে ইভানকা ও জামাই জারেড কুশনার উপস্থিত থাকবেন। মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের প্রতিবাদে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন উপক্ষো করে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এ শহরে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন।

মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ

ইউরোপের অধিকাংশ দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করবে। এরইমধ্যে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, মাল্টা, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি ও সুইডেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, মেক্সিকো ও মিশর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা করেছে।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ  জানিয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চার দিন আগেই সেদেশে অবস্থিত ৮৬টি দূতাবাসে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি দেশের রাষ্ট্রদূত আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। 
আগামীকাল বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে কিন্তু সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তার মেয়ে ইভানকা ও জামাই জারেড কুশনার উপস্থিত থাকবেন। মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের প্রতিবাদে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এ শহরে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন।

৭ বছরে ৪৫ হাজার মাদকাসক্ত ও বিক্রেতার কারাদণ্ড by মহিউদ্দিন অদুল

মাদকে সয়লাব দেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী ও আসক্তরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। যাচ্ছে কারাগারে। কিন্তু হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও আদালতে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অর্ধেকের বেশি আসামি। অন্যদিকে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্টের চিত্র ভিন্ন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যসহ ধরা পড়ার পর দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক বিচারে সাজা পাচ্ছে প্রায় সব অভিযুক্ত। গত সাত বছরের কিছু বেশি সময়ে মোবাইল কোর্টে প্রায় ৪৫ হাজার মাদকাসক্ত ও বিক্রেতার কারাদণ্ড হয়েছে। তবে, বর্তমানে যে পরিমাণ মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হচ্ছে মাদকের ব্যাপকতার বিপরীতে তা যথেষ্ট অপ্রতুল বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, খোলা বাজারে অভিযানের মতো করে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হয়। তবে, মোবাইল কোর্টে দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক বিচারে হাতেনাতে ধরা পড়া প্রায় সব আসামিরই কারাদণ্ড বা সাজা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও মামলায় জনহতাশা থেকেই তৎক্ষণাৎ ও দৃশ্যমান বিচারের জন্য মাদকবিরোধী আইন মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত হয়। সারা দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাজধানী, বিভাগ, জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে প্রায় সময় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এ আইনে মোবাইল কোর্ট। হাতেনাতে মাদকসহ ধরা পড়ার পর তৎক্ষণাৎ অপরাধ অনুযায়ী একদিন থেকে শুরু করে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সাত বছর তিন মাসে সারা দেশে ৮৪ হাজার ৩৮৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। এতে মামলা হয়েছে ৪৩ হাজার ১৬৫টি। গ্রেপ্তার দেখানো হয় ৪৪ হাজার ৮৫৯ জনকে। মোবাইল কোর্টে এর মধ্যে মাত্র পাঁচ জন নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন। বাকি ৪৪ হাজার ৮৫৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১১ সালে ছয় হাজার ৯৩৯টি মোবাইল কোর্ট অভিযান চালায়। তাতে মাদকসহ হাতেনাতে ধরাপড়া তিন হাজার ৯৯৪ জনের কারাদণ্ড হয়। পরের বছর ৯ হাজার ৩৪০ অভিযানে চার হাজার ৮৭১ মামলায় গ্রেপ্তার হয় পাঁচ হাজার ১৬২ আসামি। তাদের সবাইকে কারাগারে যেতে হয়। ২০১৩ সালে পরিচালিত হয় ৯ হাজার ৬৭৯টি অভিযান। তাতে মামলা হয় পাঁচ হাজার ২৪৪টি। গ্রেপ্তার হয়ে কারান্তরীণ হয় পাঁচ হাজার ৪৪৫ জন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। পরের বছর ২০১৪ সালে অভিযান, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজাপ্রাপ্তের সংখ্যা সবই বাড়ে। ওই বছর সারা দেশে পরিচালিত হয় ১৪ হাজার ৮১৫টি মোবাইল কোর্ট অভিযান। এতে মামলা হয় সাত হাজার ৯৪৮। গ্রেপ্তার হয় আট হাজার ৩২০ জন। তবে, ওই বছর মাদক পাওয়া না যাওয়ায় দুই জন খালাস পায়। বাকি সাত হাজার ৩১৮ জনের সাজা হয়েছে। ২০১৫ সালে ১৪ হাজার ৯৩৭ অভিযানে সাত হাজার ৪৮৭ মামলায় গ্রেপ্তার হয় সাত হাজার ৮২৩ জন। ওই বছরও দুই জন খালাস পেলে কারাদণ্ডের আদেশ পায় সাত হাজার ৮২১ জন। পরের বছর ২০১৬ সালে অভিযান, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজার সবক্ষেত্রেই সহস্রাধিক কমেছে। ১৩ হাজার ৫৪১ মোবাইল কোর্ট অভিযানে ছয় হাজার ৪৩০ মামলায় ছয় হাজার ৫৯২ জন গ্রেপ্তার হয়। ছাড়া পায় ১ জন। আর গত বছর পরিচালিত ১২ হাজার ২১২ অভিযানে পাঁচ হাজার ৯৯১ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছে ছয় হাজার ৪৪ জন মাদকাসক্ত ও বিক্রেতা। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম তিন মাস জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে দুই হাজার ৯২৪টি মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৭০টি। তাতে কারাগারে গেছে ১ হাজার ৪৭৯ জন মাদকাসক্ত ও বিক্রেতা।
তবে, মাদকবিরোধী ওই মোবাইল কোর্ট যথেষ্ট নয় বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও সাধারণ মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হয়ে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাদকের ব্যাপকতার বিপরীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্টের পরিধি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। মোবাইল কোর্ট জোরদার করলে আরো বেশি সফলতা পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন তিনি।

শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ by আসাদুজ্জামান রিপন

নরসিংদীর শিবপুরে বিদেশি ফল রাম্বুটান ও মাল্টা চাষে সাড়া ফেলার পর নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে মেক্সিকান ড্রাগন ফল। প্রথমবারের মতো সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে শিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলছেন ড্রাগন ফলের বাগান। উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামে গড়ে তোলা এ বাগানে ড্রাগন চারার সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে রোপন করা এই বাগানে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে ড্রাগন ফুল। চলতি মে মাসেই আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সৌখিন কৃষক উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নরসিংদীর আবহাওয়া ও মাটি ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় যে কেউ ড্রাগন চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন।
ড্রাগন ফল চাষি আরিফুল ইসলাম মৃধা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উন্নত ফল উদ্ভাবনে জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প, খামারবাড়ি ঢাকার আওতায় এবং নাটোর হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ড্রাগন ফলের তিন হাজারেরও বেশি চারা সংগ্রহ করেন তিনি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এসব চারা দিয়ে সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন ড্রাগন বাগান। সাদা ও লালসহ মোট তিন ধরণের ড্রাগন ফলের চারা রোপন করা হয়েছে বাগানটিতে। শ্রমিকের মজুরি, গোবর সার প্রয়োগ, ড্রাগন চারা বেড়ে উঠার জন্য সিমেন্টের খুঁটি, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, বাগানে তারের বেড়া ও ফুল পরাগায়নের জন্য বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বাগানে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক টাকা ব্যয় হয়েছে শ্রমিক মজুরি হিসেবে।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে বাগান তৈরি করতে এককালীন খরচ একটু বেশি মনে হলেও নিয়মিত খরচ খুব বেশি নয়। বছরের ৭ থেকে ৮ মাসই ড্রাগনের ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি ফল যদি ওজনে ৫ শত গ্রামের ওপরে হয় তাহলে ৫ শত টাকা কেজি ধরে বাগানেই এই ফল বিক্রি করা যায়। ৫ শত গ্রামের নিচে হলে তিন থেকে চারশত টাকায় বিক্রি করা যায়।’ বছরের বেশিরভাগ সময়ই ফল পাওয়া যাওয়ায় ড্রাগন চাষে সফলতা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
কৃষি কর্মকতাদের দেওয়া তথ্য মতে, সাধারণত চারার বয়স এক বছর না হলে ড্রাগন ফলের ফলন পাওয়া যায় না। আট মাসের মাথায় আরিফুল ইসলাম মৃধার বাগানের ড্রাগনের প্রায় প্রতিটি চারায় ফুল আসতে শুরু করায় সন্তোষজনক ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া ও মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
আরিফুল ইসলাম মৃধা আরও বলেন, ‘বাগান তৈরির পর থেকে স্থানীয় মানুষের উৎসুক দৃষ্টি ছিল বাগানের প্রতি। ফুল ধরার পর থেকে মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। প্রায় প্রতিদিনই শিবপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকেও আগ্রহী মানুষ ড্রাগন বাগান পরিদর্শন, ব্যয় ও রোপণ পদ্ধতি জানতে ছুটে আসছেন। চারা উৎপাদন হলে আগামীতে ড্রাগনের বাগান আরও সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা আছে।’
ব্যস্ত একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলায় আগ্রহী হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যুবকরা লেখাপড়ার পর চাকরি না পেলে বসে বসে বেকার সময় পার করেন। কৃষিকাজে নামতে লজ্জাবোধ করেন। ড্রাগন চাষ সৌখিন কৃষি কাজ ও লাভজনক নিঃসন্দেহে। আমার বাগান দেখে কোনও বেকার যুবক যদি ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয় তাহলে আমার বাগান করা স্বার্থক হবে বলে মনে করি। বাকি জীবনটা কৃষি কাজ নিয়ে কাটাতে চাই। তাই ড্রাগনসহ অন্যান্য ফসল ও ফল চাষের প্রতি মনোযোগ দিয়েছি।
শিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদশিবপুরে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক আবাদ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. লতাফত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে এই প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাগন ফল বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যেকোনও ফলের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায়  বিদেশি এই ফল চাষ করে সফলতা অর্জন সম্ভব। এজন্য অনেকেই এখন ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। আগ্রহী চাষিদের ড্রাগন চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 
ড্রাগন চারা একটানা ২৫ বছর ধরে ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ফল ও চারা বিক্রি সম্ভব।’

ঢাকায় বেপরোয়া যন্ত্রদানব by রুদ্র মিজান

ঢাকার রাস্তায় বেপরোয়া যন্ত্রদানব। দিনের তীব্র যানজটে ও রাতের ফাঁকা রাস্তায় মরণখেলায় মেতে উঠে যানবাহনগুলো। দিনের গণপরিবহনের গতির প্রতিযোগিতা, আইন ভঙ্গ করে চলে লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা এমনকি কোথাও কোথাও পিকআপ ভ্যান। রাতে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা হলেও জীবনের ঝুঁকি কমে না মোটেও। বরং রাতের ঢাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে বিলাসী জীবনযাত্রায় অভ্যস্তদের প্রাইভেট গাড়িগুলো। উচ্চশব্দে মিউজিক, হর্ন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে রাজপথ কাঁপিয়ে ছুটে চলে তাদের গাড়ি।
অনেকেই মাতাল হয়ে ধরেন গাড়ির স্টিয়ারিং। ঘটে দুর্ঘটনা। পঙ্গু হচ্ছেন অনেকে। এমনকি জীবন দিতে হয় অনেককেই। প্রভাবশালী গাড়ির মালিকদের বেপরোয়া আচরণের ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রেই মামলা হয় না।
সারা দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পর্যন্ত প্রায় দুই সহস্রাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে এক হাজার ৮৪১ জনের প্রাণহানি এবং পাঁচ হাজার ৪৭৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সারাজীবনের মতো পঙ্গু হয়েছেন ২৮৮ জন।
রাত বাড়ার সঙ্গে কমে ঢাকার যানজট। ফাঁকা রাস্তায় তখন অন্যরকম দৃশ্যপট। গতির প্রতিযোগিতায় নামে যানবাহন। বিশেষ করে এক শ্রেণির বিত্তশালীর ছেলেরা মেতে উঠে দ্রুত গতির প্রতিযোগিতায়। বিলাস বহুল গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামে তারা। গাড়িতে উচ্চ শব্দে বাজে গান। কখনও কখনও গাড়ির গ্লাস খুলে রাস্তায় ফেলে যায় বিয়ারের খালি ক্যান। মদে-বিয়ারে মাতাল গাড়ির তরুণ চালকসহ ভেতরে থাকা তরুণ-তরুণী। বেপরোয়া এসব গাড়ির চাপায়-ধাক্কায় প্রায় প্রাণ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিহতের ঘটনা ঘটলেই তা থানা পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছায়। নতুবা প্রতি রাতের আহত হওয়ার ঘটনা থেকে যায় আড়ালে। গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে উত্তরা জসিমউদ্দিন মোড় এলাকায় আহত হন মেহেদি হাসান নামে এক যুবক। দ্রুত গতির একটি প্রাইভেট কার তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত আব্দুল্লাহপুরের দিকে চলে যায়। মেহেদি জানান, গাড়িটি উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দ্রুত যাচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির নম্বরটি দেখার সুযোগ হয়নি।
চলতি বছরের ৩রা ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিতে বিএমডাব্লিউ গাড়ির চাপায় নিহত হয়েছেন প্রবাসী আব্দুল মোতালেব ডাবুল (৫৫)। রাত দেড়টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর হোয়াইট হল কমিউনিটি সেন্টারের সামনের সড়কে (ঢাকা মেট্টো-গ-৩৩-০০৬৫) উল্টো পথে গিয়ে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিলে মোতালেব মারা যান। ঘটনার দিন গাড়ির মালিক যুবক আল আমিন তার বন্ধু সানি ও সানির স্ত্রী জারাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। তারা তিনজনই মাদকসেবী। মোহাম্মদপুর থেকে চারটি ইয়াবাও কিনেছিলেন আল আমিন। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পথে আরও দুটি গাড়িকে ধাক্কা দেয় নাজমুল হুদা আল আমিনের বিএমডাব্লিউ গাড়িটি। এ ঘটনায় আল আমিন ও সানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিগগিরই এই মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হবে বলে জানান ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ।
সম্প্রতি যাত্রীবাহী দুই বাসের চাপায় হাত হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। একইভাবে বাসের চাপায় পা হারান রোজিনা। এই রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৪ঠা মে মালিবাগে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আহত হয়েছেন পোশাক শ্রমিক নিলুফা ইয়াসমিন। ছয় নম্বর বাস থেকে মালিবাগে যানজটের মধ্যে নামতেই যানজট কমে যায়। তাড়াহুড়া করে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিলুফার ডান পায়ের ওপর বাসের চাকা তুলে দেন চালক। তার ছেলে আশিক জানিয়েছেন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে দুইবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে নিলুফার। পায়ের চারটি আঙুল কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবু তার পা সুস্থ হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি। নিলুফা ইয়াসমিন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার নিজামকান্দি গ্রামের আজিজুল কাজীর স্ত্রী। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
একইভাবে বেপরোয়া প্রাইভেট কারের ধাক্কায় হাত-পা ভেঙে গেছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মেডিকেলের ডাক্তার শাওন আনোয়ারের। শাওন জানান, ১৪ই মার্চ দুপুরের দিকে মোটরসাইকেলযোগে খামার বাড়ি মোড় পেরিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ঢুকার সময় ঘটে ঘটনাটি। পেছন থেকে একটি প্রিমিও প্রাইভেট কার তার বাইককে ধাক্কা দেয়। এতে পড়ে যান তিনি। শাওনকে ওই কারের বাম্পারে আটকিয়ে টিএন্ডটি অফিস পর্যন্ত নিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। বাম হাতের কব্জি, বাম হাঁটুর নিচে অন্তত তিনটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। হাত-পা ভেঙে যায়। এমনকি হাঁটুর দুটি লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। আরও তিন মাস পর তা অপারেশন করতে হবে। ডা. শাওন আনোয়ার জানান, দুর্ঘটনার পরপর গাড়ি আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশ কোনো মামলা করলো না। গাড়ি ছেড়ে দিল। এমনকি সাত দিন পরে ওই গাড়ির কাগজপত্রও তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আনিস। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসআই আনিস বলেন, ‘দুপক্ষকে ডেকেছিলাম। আহত ডাক্তার শাওন আনোয়ার আসেননি তাই ঊর্ধ্বতন অফিসারের পরামর্শে কাগজপত্র মালিকের কাছে দিয়ে দিয়েছি।
গত ৪ঠা মে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ শাওন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ওই দিন সকালে আরামবাগ জমিদারবাড়ি রাস্তা পারাপারের সময় একটি পিকআপ শাওনকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। প্রতিদিনই এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। যানজটের মধ্যে, ফাঁকা রাস্তায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাত্র ১৬ লাখ চালকের লাইসেন্স রয়েছে। অথচ চালক রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ। আবার অনেক অদক্ষ চালকদেরও রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে এই লাইসেন্স সংগ্রহ করে তারা। এই চালকরাই সড়কে হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর। মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠে তাদের যানবাহন। একইভাবে মাতাল ও বেপরোয়া চালকদের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলেন, ট্রাফিক আইনের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে। এতে অনেক দুর্ঘটনা কমে যাবে। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ করা আবশ্যক। কোনোভাবেই অবৈধভাবে চালকদের লাইসেন্স দেয়া যাবে না। একইভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা মদ্যপ অবস্থায় কেউ যেন গাড়ি না চালায়, তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একটি দুর্ঘটনা অনেক মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। অনেক সংসারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সমাজবিজ্ঞানী।

যুক্তরাজ্যে মৌলভীবাজারের পাঁচ কাউন্সিলর নির্বাচিত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন ওদের নিয়ে সরব। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় তাদের জানানো হচ্ছে উষ্ণ অভিনন্দন। ওরা সবাই এখন যুক্তরাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। সবার পরিচয় বাঙালি ও বাংলাদেশি। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় তাদের গ্রামের বাড়ি। লেখাপড়া, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনের তাগিদে তাদের পূর্বপুরুষ ও তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, পরিশ্রম ও ভালো ব্যবহার দিয়ে জয় করেছেন স্থানীয়দের মন। অনেকে কাজের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতেও। প্রথমে বাঙালি কমিউনিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে যুক্ত হয়েছেন ওই দেশের জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে। ওরা পাল্লা দিয়ে রাজনীতি ও সমাজ সেবায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘ দিন থেকে। গেল ৪ঠা মে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের ওই ৫ কৃতী সন্তান প্রার্থী হয়েছিলেন। ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভোট যুদ্ধে নেমে তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন একাধিকবারও জয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন তাদের মেধা, মনন, যোগ্যতা ও ব্যবহার দিয়ে। গেল ৪ঠা মে ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশের পর দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বাঙালিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ এ নিয়ে ছিল সরব। এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজয়ীদের জানানো হচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও অভিবাদন। জানা যায়, যুক্তরাজ্যের ইনফিল্ডের এডমন্ড এলাকা থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুল বারীর ছেলে মাহতাব উদ্দিন। মেইদা ভেলী থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের কুইন্স পার্ক বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাফুল মিয়ার বোন রিতা বেগম। এ নিয়ে রিতা ধারাবাহিক দু’বার লেবার পার্টি’র পক্ষে বিজয়ী হন। সেন্ট আলবাস ও লন্ডন কলোনির প্যারিস কাউন্সিলের উপ-নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামের বাসিন্দা মৃত নওয়াব উল্যার ছেলে মোহাম্মদ মর্তুজা মিয়া। টাওয়ার হ্যামলেট থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ফারুক আলী (সুন্দর) এর মেয়ে সাবিনা আক্তার। ইতিপূর্বে সাবিনা টাওয়ার হ্যামলেটের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইজলিংটন এলাকা থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন গোলাম জিলানী চৌধুরী। তিনি এ নিয়ে টানা পাঁচবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। একে এম গোলাম জিলানী চৌধুরী সদর উপজেলার শাহাবন্দর এলাকার মরহুম আবদুল গফুর চৌধুরীর ছেলে।

এএফসি ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপ: শিরোপা জিতল ইরানি নারীরা

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসি ফুসটল চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ইরানের জাতীয় মহিলা দল।
শনিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের হুয়ামার্ক ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাপানকে ৫-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইরান। খেলার ২৮ মিনিটে ইরানের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন সারা শিরবেগি। এর দুই মিনিট পর গোল করেন ফেরেশতে কারিমি। ৩১ ও ৩২তম মিনিটে আবার গোল করেন সারা শিরবেগি। ৩৬তম মিনিটে ইরানের পক্ষে ৫ম গোলটি করেন ফাহিমে জরেয়ী।
জাপানের পক্ষে ৩৬তম মিনিটে মিকা ইগুচি এবং ৩৯তম মিনেটে আন্না আমিশিরো দুটি গোল পরিশোধ করেন।
শক্তিশালী জাপানের বিপক্ষে এই জয়ের পর ইরানি নারী ফুটসল দলকে আলাদা বিবৃতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ড. আলী লারিজানি, ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ও প্রধান কোচ কার্লোস কুইরেজ। 

এছাড়া, এএফসির চেয়ারম্যান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ইরানি নারী ফুটসল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গত ২ মে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ৯টি গোল করে 'গোল মেশিন' উপাধি পেয়েছেন ইরানের ফাতেমেহ এতেদাদি।
ইরান এর আগে ২০১৫ সালে জাপানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি শিরোনামে ঘরে তুলেছিলেন ইরানি নারীরা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পেয়েছে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন by ইকবাল আহমদ সরকার

সদ্য উৎক্ষেপণ হওয়া বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন প্রাথমিক সিগন্যাল গ্রহণ করেছে। স্যাটেলাইটটি স্বাভাবিক গতিতেই তার গন্তব্যে যাচ্ছে। কক্ষপথে এটা পৌঁছতে আরো সাত থেকে নয়দিন লেগে যাবে। গাজীপুর গ্রাউন্ড থেকে স্যাটেলাইটটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। গাজীপুর গ্রাউন্ড-এর স্যাটেলাইট অপারেটর প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম জানান, উৎক্ষেপণের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন প্রাথমিক সিগনাল পেয়েছেন। প্রথমে তারা কানে এবং পরে ইন্টারনেটে সিগন্যালটি পেয়েছেন। কক্ষপথে এটা পৌঁছতে আরো সাত থেকে নয়দিন লেগে যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই, স্যাটেলাইটটি সুন্দরভাবে ও স্বাভাবিক গতিতেই তার গন্তব্যে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সব ধরনের সার্বিক কার্যক্রম গ্রহণে তিন মাস সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, তাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই স্যাটেলাইটটির সুবিধাদি পেতে আরো সময় লাগবে। আর এতে আমরা টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং, ব্রডব্যান্ড সুবিধা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরাও এর সার্ভিস পেয়ে যাব। কমিউনিকেশনসহ আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই অনেক উন্নতি ঘটবে এর মাধ্যমে।
গাজীপুর সিটির জয়দেবপুরের টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের পাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। দেশের এ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশনটি রয়েছে ব্যাকআপ স্টেশন হিসেবে। মূলত কাজ হবে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই। গাজীপুর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনে সিগন্যাল আদান-প্রদানে ১০ টন ওজনের দুটি অ্যান্টেনা ইনস্টলেশন করা হয়েছে। স্টেশনে বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ছয়টি বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ। এ গ্রাউন্ড স্টেশনটি হচ্ছে দেশের পুরো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ব্রেইন।
মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এ কোম্পানিতে কারিগরি লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। ১৮ জন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিটিআরসি থেকে আরো জনবল নিয়ে প্রাথমিকভাবে ৩০ জনের একটি দল গাজীপুরের স্টেশনে কাজ করবে। থ্যালাস এলিনিয়া প্রথম তিন বছর বাংলাদেশের সঙ্গেই স্যাটেলাইটটি পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। এ সময়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরি হয়ে গেলে তারা এর দেখাশোনার পুরো দায়িত্বভার বাংলাদেশের ওপরই ছেড়ে দেবে।
স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার আধা ঘণ্টা পর পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে।

আবদুস ছালামের ভয়ঙ্কর খাদ by জাবেদ রহিম বিজন

কোনো প্রলয় হয়নি। হয়নি ভূমিকম্প। কিন্তু চরম সর্বনাশ হয়েছে আলী মিয়ার। তার ভিটে বাড়ি বিলীন হচ্ছে ভয়ঙ্কর এক খাদে। আর এই খাদ পরিকল্পিত। আলীর অভিযোগ এলাকার প্রভাবশালী আবদুস ছালাম তার ভিটেবাড়ি গ্রাসে এই খাদ করেছেন। এই খাদে ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে অনেক গাছপালা, দুটি ঘর। মাটি ফাটলের রেখা ভিটেবাড়ির অনেক ভেতরে দৃশ্যমান। গোটা বাড়ি বিলীন হওয়া যে সময়ের ব্যাপার মাত্র, তা যে কেউ বুঝতে পারবেন ওই বাড়িতে গেলে। প্রতিদিন এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন এলাকার শত শত মানুষ। করছেন আফসোস। আলী আর তার ভাইয়েরা ছুটছেন এর-ওর কাছে। সহায়তা মিলছে না তাদের। আবদুস ছালামের ক্ষমতার কাছে অসহায় এই পরিবারটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের তেলিনগরের এই ঘটনা হয়ে উঠেছে যেন অমানবিকতার আরেক উদহারণ। আবদুস ছালাম সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তেলিনগর গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে মো. আলী মিয়া গত ২৫শে মার্চ সদর মডেল থানায় আবদুস ছালামের বিরুদ্ধে জোর করে তার জায়গা থেকে মাটি কেটে নেয়ার একটি অভিযোগ দেন। ২০ ফুট গভীর করে ওই জায়গা থেকে ৩ লাখ টাকার মাটি কেটে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। আবদুস ছালাম মাটি কেটে নেয়ার এই জায়গা তার নিজের বলেই দাবি করছেন। এমনকি আলী মিয়া ও তার অন্য ভাইদের বসতবাড়ির মালিকানাও তার বলে দাবি করেন। তবে আলী মিয়া বলছেন, যে জায়গা থেকে মাটি কেটে খাদ করা হয়েছে সেটি তাদের নিজের জায়গা। পৈত্রিক ওয়ারিশ ও ক্রয়সূত্রে তারা এসব জায়গার মালিক। ১৯৯৮ সালের ২১শে জুন তিনি ও তার অন্যান্য ভাইয়েরা আবদুস ছালামের মা রাবিয়া খাতুনের কাছ থেকে ক্রয় করেন ৫ শতক জায়গা। আবদুল ছালামের উপস্থিতিতেই ওই জায়গা ক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রি হয়। জায়গার নামজারিও হয় তাদের নামে। জায়গা ক্রয়ের পর থেকেই ঘরবাড়ি নির্মাণ করে তারা সেখানে বসবাস করছেন। এ বছরের এপ্রিলে আবদুল ছালাম তাদের নামজারী ও জমা খারিজের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে আপিল মোকদ্দমা করেন। তখনই তারা জানতে পারেন তাদের কাছে বিক্রির দু-বছর আগে ’৯৬ সালের ২৫শে এপ্রিল এই জায়গাটি রাবেয়া খাতুন তার ছেলে আবদুস ছালামের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এরপরই তারা রাবেয়া খাতুন ও তার ছেলে আবদুস ছালামের বিরুদ্ধে সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার মামলা করেন। অন্যদিকে আবদুস ছালাম আলী মিয়া ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গত ২২শে এপ্রিল সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। যাতে তেলিনগর মৌজার ৭০৭২ দাগের ১৫ শতকের মধ্যে ৫.৫২ শতাংশ এবং সাবেক ২১২২ দাগের আন্দরে ২ শতক ৩৩ পয়েন্ট জায়গা বিক্রি করা বাবদ ৯ লাখ টাকা তারা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
একটি রশিদপত্রও প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন আবদুস ছালাম। এই মামলার অভিযোগে বলা হয় ৩ মাসের মধ্যে সাফ কবলা দলিল করে দেবেন বলে আলী মিয়া তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু তারা দলিল না করে দিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন ছালাম। কিন্তু আলী মিয়া ও তার ভাইদের নামে করা রশিদপত্রটি ভুয়া বলে দাবি করেন আলী মিয়া। তিনি বলেন, একটি সাদা কাগজে আবদুস ছালাম স্ট্যাম্প লাগিয়ে এটি নিজেই তৈরি করেছেন। এতে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তার অন্য ভাইয়েরা লেখাপড়া না জানলেও সেখানে তাদের সবার স্বাক্ষর রয়েছে। এই রশিদপত্র ভুয়া বলে আদালতকে অবহিত করলে আদালত এর বিশেষজ্ঞ মতামত জানতে চেয়েছেন বলে জানান আলী। সরজমিন ওই গ্রামে গেলে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান শত শত মানুষ। তাদের অনেকেই জানান দীর্ঘদিন ধরেই আবদুস ছালাম আর আলী মিয়ার মধ্যে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। ২০০৮ সাল থেকে তেলিনগর মৌজার বিভিন্ন দাগে জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয় এ দু-পক্ষের। এর মধ্যেই ন্যায্য বিচার পেতে এলাকার চেয়ারম্যান আর সর্দার-মাতব্বরদের কাছে ছুটে যান আলী মিয়া। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ সাড়া দেননি তার আবেদনে। বিষয়টি মীমাংসায় হার মানেন সবাই। বাড়ি ভাঙন এখন দিশাহারা করে তুলেছে তাদের। আবদুস ছালাম বলেন, এই সম্পত্তি তার বাবা ও মায়ের নামে কেনা। নিজের জায়গাতেই আমি পুকুর করেছি। নিজ বাড়িতে বসে কথা বলার সময় প্রভাবশালী অনেকেই যে তার ঘনিষ্ঠ সেটাও জানাতে থাকেন। প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তার বড় সাইজের একটি ছবি এনে দেখান। লেমিন্যাটিং করে রাখা একজনের ভিজিটিং কার্ড এনেও দেখান। থানার ওসি সব জানে বলেও জানান। তালশহর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ওছমান বলেন, এখানে একটা ঘটনা আছে- এটা সত্য।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ, নিহত ১৯

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো দুডজন মানুষ। শনিবার সকালে দেশটির সান প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। কয়েক বছর ধরেই প্রদেশটির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যুদ্ধ করে আসছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, শনিবার সান প্রদেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেনাবাহিনী বলেছে, সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই ডজন মানুষ আহত হয়েছে। স্থানীয় এনজিও কর্মী থাং তুন বলেন, নিহতদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্য, এক বিদ্রোহী যোদ্ধা, সরকার সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর ৪ সদস্য ও দুজন বেসামরিক মহিলা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সংঘর্ষস্থলে বেশ কয়েকটি যানবাহন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। টিএনএলএ’র মুখপাত্র মেজর মাই আইক খাও বলেন, সান প্রদেশে সেনাবাহিনী ও মিলিশয়ার একটি তল্লাশি চৌকিতে আক্রমণ করে বিদ্রোহীরা। কাচিন প্রদেশে স্বাধীনতাকামীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সেখানকার স্বাধীনতাকামী সংগঠন কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির মিত্র টিএনএলএ। উল্লেখ্য, সান ও কাচিন উভয় প্রদেশেই বিদ্রোহীরা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যুদ্ধ করছে। কাচিন প্রদেশে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালায় সেনাবাহিনী।
সান প্রদেশে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে টিএনএলএ অন্যতম। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি যখন রাখাইনে, তখন এ বছরে শুরু থেকে চীনা সীমান্তবর্তী সান প্রদেশে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমঝোতা চুক্তি ছিল। কিন্তু ২০১১ সালে সে চুক্তি ভঙ্গ করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে সেনাবাহিনী। এতে গৃহহারা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। এসব মানুষের বেশিরভাগই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। তারা অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছে। অনেকে আবার গির্জায় আশ্রয় নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, গৃহহারা এসব মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী। কিন্তু ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশটিতে শাসন করছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশটির গণতন্ত্রকামী নেতা অং সান সুচি বলেছিলেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘাত বন্ধ করার বিষয়টিকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসা সেনাবাহিনীও তার ক্ষমতার অংশীদার। দুই বছর অতিবাহিত হলেও জাতিগত সংঘাত বন্ধের ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি সুচি।

রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাচ্ছে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান by নূর মোহাম্মদ

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও রাজনৈতিক বিবেচনায় আরো প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। পুরোপুরি গোপনে এ কাজটি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার এ তালিকা চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। চাপ সামলাতে নতুন কৌশল নেয়া হয়েছে। অনুমোদন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। আজ কালের মধ্যে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তারা কোনো কথা বলতে চান না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আফসারুল আমিন মানবজমিনকে বলেন, এবার নির্বাচনী বছর, সেজন্য নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য এলাকার একটা চাপ আমাদের ওপর আছে। বিষয়টি একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান অনুমোদন আর এমপিওভুক্তি এক জিনিস না। তাই অনুমতি দিলেই যে এমপিও দিতে হবে সেটার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিতেই পারে। একাধিক এমপির সঙ্গে কথা বলে স্কুল-কলেজে অনুমোদনের চাপের বিষয়টি জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের নতুন করে কোনো স্কুল-কলেজের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব অনুমোদন বন্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপিদের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে নতুন স্কুল-কলেজ। আর বিষয়টি অতিগোপনে শিক্ষা মন্ত্রালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তালিকা করেছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড়-২ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম সুজন তার নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার হাজির হাট নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনকে তার কক্ষে এসে চাপ প্রয়োগ করেন। অপরদিকে ওই এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সচিবকে ফোন করে বলেছেন, একটি রাস্তা শেখ রাসেল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাজির হাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দূরত্ব গড়ে তুলেছে। নতুন স্কুলের অনুমোদন দিলে উভয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নতুন স্কুলের অনুমোদন দেয়নি। তার পরও চাপ দেন এমপি। বিষয়টি স্বীকার করে নুরুল ইসলাম সুজন মানবজমিনকে বলেন, সচিবকে চাপ দেইনি। বুঝানোর চেষ্টা করেছি। অনেক দিন হয়েছে এ স্কুলটির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি। জনগণের কথা শুনতে হয়। এখানে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গত বছর ৩১শে ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি, অতিরিক্ত শ্রেণি, নতুন বিষয়-বিভাগ খোলা সংক্রান্ত কমিটির সভা হয়। কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) জাবেদ আহমেদ সভাপতিত্বে সভায় ৪৯৬টি স্কুল ও কলেজ পাঠদানের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এরই মধ্যে বিগত দিনে একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি না করায় আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। হাজার হাজার শিক্ষক শীতের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের আন্দোলনে বিব্রত হয় সরকার। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যায় শিক্ষকরা। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। তবে থেমে থাকেননি মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী নেতা ও আমলারা। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অব্যাহত চাপ দিতে থাকেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার একজন যুগ্ম সচিবের কক্ষে কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে এ তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তাতে অন্তত ২০০ স্কুল ও কলেজের নাম রয়েছে। তালিকাটি ওই দিন শেষ বিকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে জমা দেয়া হলে তিনি অনুমতি দিয়েছেন। বিগত দিনে স্কুল-কলেজের অনুমতির চিঠি মন্ত্রালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হলেও এবার তা দেয়া হবে না। যাদের স্কুল-কলেজ বাদ পড়েছে তাদের চাপ সামলাতে এ কৌশল নেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
১৯৯৭ সালের বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও স্বীকৃতি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি আট হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের (৬ষ্ঠ-৮ম), ১০ হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল বা মাদরাসা) এবং ৭৫ হাজার জনসংখ্যার জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের (কলেজ-আলিম মাদরাসা) প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়ার কথা। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্বের শর্ত অনুযায়ী নিম্ন মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় এক কিলোমিটার ও মফস্বল এলাকায় ছয় কিলোমিটার। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে মফস্বল এলাকায় চার কিলোমিটার আর উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় দুই কিলোমিটার আর মফস্বল এলাকায় ছয় কিলোমিটার শর্ত রয়েছে। পুরনো এই নীতিমালার কারণে একদিকে প্রতিষ্ঠানে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ঠিক থাকে না বিধায় শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার বাস্তব প্রয়োজনের কারণে প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

কোটি মানুষের আনন্দের রাত

মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যখন মহাকাশের দিকে ছোটে তখন বাংলাদেশের কোটি মানুষে চোখ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে। ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশের দিকে উড়ার সময় আনন্দে ঝিলিক দিয়ে উঠে কোটি মানুষের চোখ। কেনেডি স্পেস সেন্টারে জড়ো হওয়া বাংলাদেশিরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন ঐতিহাসিক এ মুহূর্তে। আগের দিন রাতে শেষ মিনিটে ত্রুটি ধরা পড়ায় আকাশে না উড়লেও শুক্রবার রাতে প্রথম চেষ্টাতেই মহাকাশ পানে ছুটে ১৬ কোটি মানুষের গর্বের স্যাটেলাইট। এর সঙ্গে স্যাটেলাইট এলিট ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। মহাকাশ জয়ের রাতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সারা দেশে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় বঙ্গবন্ধু-১। এর মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠালো বাংলাদেশ। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ সফলভাবে মহাকাশে পাঠানোর জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছন। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বাণীতে বলেছেন, দেশের অব্যাহত অগ্রগতির পথে এটি একটি নতুন মাইলফলক যোগ করবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, অত্যন্ত সফলভাবে ও নির্দিষ্ট সময়েই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের খবর। তিনি আরও বলেন, অরবিটাল স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে স্যাটেলাইটটির ১০-১২দিন সময় লাগতে পারে। অরবিটাল স্লটে সেট হওয়ার পর তা সিগন্যাল পাঠানো শুরু করবে। এখন আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই। এদিকে শুক্রবার রাতেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার দেখতে জেগে ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশিও এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার ও ওয়েবকাস্ট প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। ফ্লোরিডার স্বচ্ছ আকাশে প্রায় সাত মিনিট স্যাটেলাইটটি দেখা যায়। এরপরই সজীব ওয়াজেদ জয়ের মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায়। এ সময় জয় মোবাইলের ভিডিওকলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উৎক্ষেপণস্থলে উপস্থিত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস দেখান। এ সময় কেউ কেউ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ আর অনেককে দেখা গেছে চোখের জল মুছতে। সবমিলিয়ে উপস্থিত বাংলাদেশিরা ওইসময় আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশ থেকে কাভার করতে যাওয়া কয়েক সাংবাদিক মানবজমিনকে বলেন, স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পরপরই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মহাকাশে আজ উড়লো বাংলাদেশের পতাকা। আজ থেকে আমরাও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। উৎক্ষেপণের মুহূর্তটি স্পেসএক্সের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সমপ্রচার করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি বাংলাদেশি নির্ঘুম চোখে তা প্রত্যক্ষ করেন। ঘটনাস্থল কেনেডি স্পেস সেন্টারে সমবেত বাঙালিরা সমবেত কণ্ঠে ধরেন জাতীয় সংগীত, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। উৎক্ষেপণস্থল থেকে ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষও তখন গেয়ে ওঠেন একই সংগীত। শুরু হয় চিৎকার, হর্ষধ্বনি ও আনন্দাশ্রুর বান। উৎক্ষেপণের পর ৩ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটটির বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯ সোজা আকাশে উঠে যায়। মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে যেতে এটিকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষকারী আইসিটি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, আমি আজকের দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করতে চাই, যিনি ১৯৭৪ সালে দেশের সর্ব প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে মহাকাশ যুগে প্রবেশের কার্যক্রমের সূচনা করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উত্তরণের দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে ২৬টি ?কু-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার ও ১৪টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি সক্রিয় হলে দেশের টেলিভিশন ও ব্রডব্যান্ড যোগাযোগে উন্নতি ঘটবে। এ স্যাটেলাইটের কারণে তিন ধরনের সেবা ও ৪০ ধরনের সুফল পাবে দেশবাসী। শুক্রবার রাতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলেও প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তা উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরে নতুন তারিখ ঠিক হয় এ বছরের ১লা মার্চ। আবারও পরিবর্তন হয় সম্ভাব্য তারিখ। নতুন তারিখ ধরা হয় মার্চের শেষ সপ্তাহ বা ২৬-৩১ মার্চের মধ্যে যে কোনো দিন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও মহাকাশে ওড়েনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বেশ কয়েকবার তারিখ নির্ধারণের পরও স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করতে দেরি হচ্ছিল। সর্বশেষ গত ১০ই মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আটকে যায় উৎক্ষেপণ। কারিগরি জটিলতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছিল মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিটিআরসি জানিয়েছে, দু’টি পর্যায়ে এ উৎক্ষেপণে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে ১০ দিন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ দিনের মতো সময় লাগবে। এসব প্রক্রিয়া শেষে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশনে এর সংযোগ পেতে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন হবে। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় থেকে উপগ্রহটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং পর্যবেক্ষণে দেশের সক্ষমতা সম্প্রসারিত করবে। উপগ্রহটি থেকে সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ এর সুযোগ নিতে পারবে। বঙ্গবন্ধু-১ এর ফলে ডাইরেক্ট-টু-হো (ডিটিএইচ) ভিডিও সার্ভিস, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষিখাতসহ দুর্যোগ উদ্ধারে ভয়েস সার্ভিসের জন্য সেলুলার নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এবং এসসিএডিএ, এওএইচও এর ডাটা সার্ভিসের পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস (ভিসেট) পরিচালনায় আরো সহজতর করবে।
যেভাবে কক্ষপথে লাল-সবুজের নিশানা
উৎক্ষেপণের পর নির্ধারিত ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পৌঁছে যায়। রকেট উৎক্ষেপণ সংস্থা স্পেসএক্স টুইটারে জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে (জিটিও) স্যাটেলাইটটির অবতরণ নিশ্চিত করে। স্যাটেলাইটটি বহন করে নিয়ে যায় স্পেসএক্স কোম্পানির সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রকেট ফ্যালকন-৯ এর ব্লক-৫ সংস্করণ। সাড়ে তিন হাজার কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইট। রকেটটি মহাকাশে বাংলাদেশের ভাড়া নেয়া অরবিটাল স্লট ১১৯.১ ডিগ্রিতে নিয়ে যাবে স্যাটেলাইটটিকে। স্পেসএক্স’র দেয়া তথ্য অনুসারে, পুরো উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপটি কাউন্ট ডাউন এবং দ্বিতীয় ধাপটি হচ্ছে লঞ্চ, ল্যান্ডিং ও স্যাটেলাইট ডেপলয়মেন্ট। প্রথম ধাপে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুরু পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপটিতে রয়েছে উৎক্ষেপণের পর অবতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া। সংস্থাটি জানায়, উৎক্ষেপণের ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড পর রকেট ম্যাক্স কিউতে পৌঁছায়। ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ধাপে মেইন ইঞ্জিন আলাদা হয়। ২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দ্বিতীয় ধাপে ইঞ্জিন চালু হয়। ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে ঘটে ফেয়ারিং ডেপলয়মেন্ট। ৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর প্রথম পর্বের এন্ট্রি বার্ন হয়। ৮ মিনিট ১০ সেকেন্ড পর প্রথম পর্বের অবতরণ, ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় পর্বের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন (এসইসিও-১) হয়। ২৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে দ্বিতীয় পর্যায়ের ইঞ্জিন চালু হওয়ার পর ২৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে দ্বিতীয় ধাপে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন (এসইসিও-২) হয়। এরপর ৩৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে স্যাটেলাইটটি অরবিটে বা কক্ষপথে অবতরণ করে। স্যাটেলাইটটি অরবিটাল স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে অবস্থান করবে। এই অবস্থানে পৌঁছাতে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘অরবিটাল স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছে সেট হওয়ার পর সিগন্যাল পাঠাতে স্যাটেলাইটটির ১০-১২দিন সময় লাগতে পারে। এখন আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশের অগ্রগতিতে একটি নতুন মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ সফলভাবে মহাকাশে পাঠানোর জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, দেশের অব্যাহত অগ্রগতির পথে এটি একটি নতুন মাইলফলক যোগ করবে। সফলভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর গতকাল এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকা মহাকাশে উড্ডয়ন করায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইন ক্লাবের গর্বিত সদস্য হিসেবে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, এই নতুন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তাজাকিস্তান ও কাজাকিস্তানসহ গোটা অঞ্চলের যোগাযোগ সুবিধা দিতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেছিলেন যে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ বজায় রাখা ছাড়া দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্যই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ১৯৭৪ সালে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তথ্য ও ডাটা বিনিময়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন-১ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এদিকে বিশ্বের ৫৭তম রাষ্ট্র হিসেবে মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ছাত্রসংসদ নির্বাচন থাকলে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না -

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, কোটার সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন হয়েছে তা থেকেই দেখা যায় ছাত্ররা এখনো জেগে উঠলে সবকিছুই করেত পারে। ছাত্র রাজনীতি এখনো মারা যায়নি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বই ‘বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি, অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’-এর ওপর আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বি. চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব থেকে বড় অপরাধ হলো তারা বলেন বেশি লেখেন কম। আমাদের রাজনীতিবিদদের বেশি বেশি লিখতে হবে। তাদের কথাগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ও নেই যেটা দুর্নীতিমুক্ত। তারা বলতে পারবে না দুর্নীতি করেনি। বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়। যেকোনো চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হয়। মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ দুর্নীতির কারণে নিজ দলের বিরুদ্ধে লড়ে ৯২ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দুুর্নীতির জন্য তাকে
রাজনীতিতে ফিরে এসে আবার ঐক্য গড়তে হয়েছে। আজ দেশের কী অবস্থা, সারা দেশে রাতের আঁধারে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। কত মায়ের বুক খালি হয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে হবে আমরা আর কোনো দিন সন্ত্রাস করবো না, দুর্নীতি করবো না। জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, জনগণকে বলতে হবে অতীতের ভুল ক্ষমা করে দিন। শপথ নিতে হবে। যেখানে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়া হয়, সেখানে কীভাবে ভালো নেতা বের হয়ে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে নির্বাচন দিয়ে আদর্শ নেতা বের করে আনতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশন খুলনায় নির্বাচনে একজন রিটার্নিং অফিসার থাকা অবস্থায় কী করে আরেকজন অফিসার নিয়োগ দিলো? আমাদের তো এখানে প্রতিবাদ করার কথা ছিল। কিন্তু তা আমরা করছি না।
তিনি আরও বলেন, একের পর এক ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে। কত বড় নির্লজ্জ বিষয়, যারা এরকম ব্যাংকগুলো লুট করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, ব্যবস্থা নেই। দুই কোটি টাকার মামলায় তেহাত্তর বছর বয়সের এক নেত্রীকে দুদিন মাটিতে শুইয়ে রেখে তার পরে জামিনও বন্ধ করে রেখেছে। অথচ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, তাদের নামে মামলার কোনো উদ্যোগ নেই। কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়নি। কোনো বিচার করা হয়নি। তাহ?লে কীভাবে বল?বো দে?শে গণতন্ত্র আ?ছে?
‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়’। এটাকেই আমি আমার বইয়ে সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছি। আজ কোটা সমস্যা, ভ্যাট সমস্যা তার চেয়ে আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে গণতন্ত্র সমস্যা। সেই সমস্যার কথা বলতে হবে, যেটা বললে সব সমস্যার সমাধান হবে। এখন দরকার হচ্ছে একটাই, তাহলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। দুর্নীতি মানে অর্থ নয়, এই যে ভোট চুরি করে সেটাও দুর্নীতি। আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।