Sunday, November 22, 2009

বঙ্গবন্ধু হত্যার দায় আমাদের সকলের by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কথা আমাদের সকলের মনে থাকবে। সেদিন আমরা কে কোথায় ছিলাম এবং কখন এবং কী অবস্থায় আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের করুণ মৃত্যুর সংবাদটি শুনেছিলাম এইসব চিত্র, এইসব কথা আমাদের মনে গেঁথে আছে এবং যত দিন আমরা যারা আজ ৫০ পেরিয়ে এসেছি, বেচেঁ থাকলে আমাদের স্মরণে থাকবে। বঙ্গবন্ধুকে সব সময়ই আমাদের মনে পড়ে এবং এর প্রধান কারণ তিনি ইতিহাস তৈরি করে গেছেন। আজ এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর যে তাঁর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন হলো এই বাস্তবতাটি আমাদের মনে নতুন আশার সূচনা করে। এবং সেই আশাটি খুবই সামান্য ও পরিস্কার—এই বাংলাদেশে তথা পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো স্থানে যেন এই রকম নৃশংস হত্যাকাণ্ড না ঘটে এবং কোনো নেতা ও তাঁর পরিবার যেন এইভাবে এই অস্বাভাবিক উপায়ে মৃত্যুবরণ না করেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় হয়েছে। আমাদের সন্তুষ্টির যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা এবং তারা যে দেশেরই হোক না কেন, কোনো দিন সফল হয় না। হ্যাঁ, তারা বড় মাপের মানুষদের মেরে ফেলতে পারে। রাষ্ট্রকে বিকল করে দিতে পারে কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু তারা ইতিহাসে কখনো কোনো শীর্ষস্থান পায় না। জাতির জনকের হত্যাকারীরা আজ ঘৃণিত নামমাত্র। খন্দকার মোশতাকের কথা মানুষ মনে করে একজন হত্যাকারীর রূপে। যারা নভেম্বর ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করল তারা ওই খুনি হিসেবেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই জগতের ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে। এবং যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার ফায়দাটা লুটেছেন, তাঁরাও ধিকৃত মানুষ বলে গণ্য হবেন।
এই সবই সত্য। সবই বাস্তব। কিন্তু আরও বাস্তবতা রয়েছে। একটি হলো অতি সহজ একটা সত্য। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতি হিসেবে আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করেছিলাম? আজ আমরা হরহামেশাই বঙ্গবন্ধুর কথা বলি। এমন ব্যক্তিও আছেন যাঁদের কথা শুনলে মনে হয় তাঁরা কোনো একসময় বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের লোক ছিলেন। কে কত গভীরভাবে বঙ্গবন্ধুকে চিনেছে, কত গভীরভাবে তাঁর রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে, এই কথা প্রায়ই আমরা শুনে থাকি। বিশেষ করে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী মানুষের কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ওই সকল সাবেক কূটনীতিকের কথা, যাঁরা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বছরের পর বছর দেশের বিভিন্ন বঙ্গবন্ধুবিরোধী সরকারের চাকরি করেছেন এবং কতভাবে নিজেদের উন্নতি সাধন করা যায় তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অথচ তাঁদেরই কয়েকজন সম্বন্ধে আমরা অনেক কিছু শুনেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে তাঁদের কেউ কেউ ওই সকল কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয়েছেন, যাঁদের কাছে কখনো বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি পাওয়া গেছে। এমন রাষ্ট্রদূতও ছিলেন যাঁরা বিদেশে সফররত দেশি সামরিক শাসককে খুশি করার জন্য সেই শাসকের হোটেলের কক্ষের সম্মুখে সুইমিং পুলে সাঁতার কেটেছেন এবং সেই শাসকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আবার কোনো এক প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে বিদেশে তাঁর অবস্থানকালে তাঁর হোটেলকক্ষে জুতার দোকান সাজিয়ে বসেছেন। কেননা সেই প্রধানমন্ত্রী একজোড়া বিদেশি জুতা ক্রয় করার খায়েশ ব্যক্ত করেছিলেন।
এই ধরনের অনেক কথা, অনেক গল্প আপনি শুনতে পাবেন। যে সেনাপ্রধান বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারেননি, তিনিই আবার পরপর দুই সামরিক শাসকের আমলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তিনি বঙ্গবন্ধুর কথা সব সময়ই বলে থাকেন। জেনারেল ওসমানী, যিনি চতুর্থ সংশোধনীর প্রতিবাদ করে জাতীয় সংসদ ত্যাগ করেন এই বলে যে তিনি অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা মেনে নিতে পারেন না, সেই জেনারেল ওসমানিই খন্দকার মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হয়ে প্রায় তিন মাস বঙ্গভবনে কর্মরত ছিলেন। আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যাতে আমরা ধরে নিতে পারি, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পেরেছিলেন। কী কারণ ছিল ওসমানীর ওই খুনিদের সঙ্গে যাওয়ার? যে মোশতাকের আমন্ত্রন সরকারে যোগ দেয়ার জন্য ঘৃণা ভরে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সেই মোশতাকের সঙ্গে জেনারেল ওসমানী কেন যোগদান করলেন? দেশে তো সেই ১৫ আগস্টের পরও সাহসী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। মুজিবনগর সরকারের চার নেতা খুনিদের সামনে মাথা নত করেননি। তাঁদের কারাগারে নেওয়া হয়। কখনো কি ওসমানী মোশতাকের কাছে দাবি করেছিলেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হোক? ওই চারজন কারাগারে নিহত হলেন। কেউই তাঁদের রক্ষা করতে পারলেন না। সবচেয়ে অনুতাপের বিষয় হলো, এই জেনারেল ওসমানীই পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য অসাম্প্রদায়িক দলের পক্ষে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারতটি কি ১৫ আগস্টের অব্যবহিত পরপরই করা যেত না?
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। যে নেতার কথায় আমরা যুদ্ধে গিয়েছি, যাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য আমরা কোটি কোটি বাঙালি ১৯৭১-এ নামাজ পড়েছি, প্রার্থনা করেছি, সেই নেতা যখন নিহত হন, আমরা কেউ প্রতিবাদ করিনি, বাইরে এসে বিক্ষোভ করিনি। আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যাঁরা বঙ্গবন্ধুর গান গেয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন। অথচ পরবর্তীকালে এই ব্যক্তিরাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিরোধিতা করেছেন এবং তথাকথিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের শুনতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কু-রটনা। তিনি নাকি ২৫ মার্চ ১৯৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। যারা এই সব কথা বলে বেড়ায় তাদের অতীত পর্যবেক্ষণ করলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে। তারা পাকিস্তানকে ভুলতে পারেনি। যেমন, ওই বিএনপিভুক্ত প্রাগুক্ত সামরিক কর্মকর্তার কথাই ধরা যাক। তিনি নাকি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মানতে রাজি নন। তাতে আপনার-আমার কিছু যায়-আসে না। তবে ওই ব্যক্তির মনমানসিকতাটা আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। এবং এই শ্রেণীর মানুষই ১৯৭৫-এর পরবর্তী সময়ে এই বাংলাদেশে লাভবান হয়েছেন। যেমন লাভবান হয়েছেন ওই সকল বাঙালি, যাঁরা ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনে চাকরি করেছেন এবং পরে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ভক্ত হয়েছেন এবং আরও পরে শেখ হাসিনার কাছে ভিড়েছেন অনায়াসে।
কিন্তু তাঁদেরই বা আমরা দোষারোপ করব কেন? আমি, আপনি, আমরা সবাই তো একই অপরাধে অপরাধী। আমরা সবাই তো বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখেছি, তাঁর কথা শুনেছি, তাঁকে শ্রদ্ধা করেছি। সেই আমরাই কী করে ওই সব মানুষের পক্ষে কথা বলেছি, যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে? জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া—তাঁদের তো বঙ্গবন্ধুর সৃষ্ট দেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করার কথা। সেটা তাঁরা করেননি। তাঁরা জাতির পিতার হত্যাকারীদের সব সময় সর্বোতভাবে রক্ষা করেছেন। আজ যখন মওদুদ আহমদ পুলকিত হয়ে প্রশ্ন করেন যে ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর পরিণতি কী হয়েছিল, তখন তাঁকে কেউ পাল্টা প্রশ্ন করে না কেন যে সেই সংশোধনী তো আপনাদেরই মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষেরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়েছিল? আর সেই হত্যাযজ্ঞ তো আমাদের গোটা জীবনকে তছনছ করে রেখে দিল।
কথা শেষ হওয়ার নয়। আমরা কি ওই সাংবাদিকদের কথা বলি যারা আজ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে যান যত্রতত্র? একদা তো ওরাই বাকশালে যোগদান করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন। এমনও সাংবাদিক আছেন যাঁরা গভীর রাতে রাজধানীর বাইরে থেকে মুরগি বোঝাই ট্রাকে চেপে ঢাকায় এসেছেন বঙ্গবন্ধুকে দেখাতে যে তাঁরা তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের অনুসারী। তাঁরা আমাদের মাঝেই রয়েছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে ওঠা-বসা করি, এক টেবিলে বসে খাই। এই লজ্জা তো আমাদেরই। আর ওই যে সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৫-এর নভেম্বরে তাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, তিনি তো পরবর্তীকালে অনেক উন্নতি করেছেন, তাঁকে কি আমরা কখনো প্রশ্ন করেছি তাঁর সেই ভূমিকার বিষয়ে?
আজ আমাদের সকলের জন্য অনুতাপের দিন, প্রায়শ্চিত্ত করার দিন। পিতাকে হত্যা করে কোনো পরিবার প্রশান্তি লাভ করে না, জাতির মুক্তিদাতাকে সপরিবারে নিশ্চিহ্ন করলে জাতির জীবনে আঁধার কেবল ঘনীভূত হতে থাকে, এই সত্য মেনে নেওয়ার দিন আজ। আজ সৃষ্টিকর্তার কাছে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার সময় এসেছে।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক

আমরা অসহায় নই by কামাল হোসেন

১৯ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার যে রায় হয়েছে তা দেশের জন্য একটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা। একটা স্বাধীন দেশে এই রকম জঘন্য অপরাধের বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে আনতে ৩৪ বছর কেন লেগেছে? দেশে যদি সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন সঠিকভাবে চলত, তবে কোনোভাবেই এ বিচার এতদিন ঝুলতে পারত না। আমাদের জাতির জনক, যার নেতৃত্বে আমরা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করলাম, সেই নেতা তাঁর পরিবারসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। এই ঘটনার তদন্ত, বিচার, বিচার কার্যকরে এই দীর্ঘসুত্রিতা লজ্জার বিষয়। জাতি হিসেবে নিজেদের তো বোঝাতে হবে বিচার করতে আমাদের কেন এত সময় লাগল!
সাংবিধানিক শাসন হলো আমাদের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় পাওয়া। এর অর্থ হলো আমরা একটা রাষ্ট্র পেয়েছি যা সাংবিধানিক শাসনের অধীনে থাকবে; এখানে মানুষের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিশ্চিত করার মানে হলো আইনের আশ্রয়ে মানুষ থাকবে। কেউ যদি কারোর এই অধিকারের ওপর আঘাত দেয়, আক্রমণ করে, আইন তার ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নেবে। তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে কারা দায়ী, এর পেছনে কারা এবং সবাইকে আইনের আওতায় এনে কার্যকরভাবে বিচার করবে। সেই বিচারের ভিত্তিতে রায় হবে। রায়ের আপিল ঝুলিয়ে রাখা হবে না। বিশেষ করে এত বড় একটা ঘটনা, যেখানে একটা দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দেওয়া হয় যে এই ধরনের ঘটনাকে রাষ্ট্র, জাতি কোনো সময় ভালোভাবে নেবে না এবং শক্ত হাতে এটাকে দমন করবে, তাহলেই তো মানুষ নিরাপত্তা পায়।
গত ৩৪ বছরের পর্যালোচনা করলে আমরা দেখব, জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের পর সংবিধান আক্রমণের শিকার হলো, অস্বাভাবিক অবস্থা দেশে সৃষ্টি হলো। সাংবিধানিক শাসনের পরিবর্তে আমরা দেখলাম অসাংবিধানিক শাসন। যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তথাকথিত আইন করে তাদের ব্যাপারে তদন্ত, বিচার বন্ধ করে দেওয়া হলো। স্থগিত করে দেওয়া হলো আইনের শাসনকে, সংবিধানকে। এই বিচারপ্রক্রিয়াকে বন্ধ করার জন্য তথাকথিত আইন হলো, ইনডেমনিটি আইন। এই তথাকথিত আইন বিচারকে বাধা দিয়ে চলল।
জনগণের বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলাম। নব্বইয়ের আগে অপরাধীরা সেই তথাকথিত আইনের আশ্রয়ই শুধু পায়নি, তাদের মধ্যে একজন হত্যাকারীকে দেশে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হলো। তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। রাজনৈতিক দল গঠন করার সুযোগ দেওয়া হলো। যারা এসব করেছিল, সেই অশুভ শক্তিকে আমাদের আন্দোলনের পরিণতিতে নব্বইয়ে সরিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হলো।
১৯৯৬-এর নির্বাচনের পর সেই তথাকথিত আইনকে আমরা আদালতে নিয়ে গেলে আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেন। আমি সেখানে যে যুক্তি খাড়া করেছিলাম তা হলো, এটা শুধু অবৈধই নয়, এটাকে কোনো আইন হিসেবে গণ্য করা যায় না। কেননা এটা সংবিধানের ষোলো আনা পরিপন্থী। সংবিধান বলছে আইনের চোখে সবাই সমান, যে হত্যা করেছে তার বিচার হবে, বিচার অনুযায়ী রায় হবে, রায় কার্যকর করা হবে। সেখানে আইন দিয়ে একটা বাধা সৃষ্টি করে তাকে তথাকথিত ইনডেমনিটি দিয়ে দেওয়া যে কতখানি অসাংবিধানিক সেটা আমাদের সর্বোচ্চ আদালত রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন।
তারপরে ’৯৮ সালে বিচার শুরু হলো। বিচার শেষ হওয়ার পর আপিলের বিধানকে ভিত্তি করে আরও ১১ বছর এ ব্যাপারটা বিলম্বিত হলো। হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে এসে ঝুলতে থাকল প্রায় সাত বছর। অজুহাত দেওয়া হলো যে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে একটা বেঞ্চ গঠন করা যাচ্ছে না, কেননা বিচারপতিদের কেউ কেউ হাইকোর্টের বিচারে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটা খুবই খোড়া যুক্তি। কেননা আপিল বিভাগের স্পষ্ট বিধান রয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য হাইকোর্ট থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অ্যাডহক বিচারক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এটা কেন দেওয়া হলো না এবং যে দাবিগুলো করা হয়েছিল সেগুলো কেন উপেক্ষা করা হলো তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন করতে হবে।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটে। উভয় ঘটনায় একই রকমের অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। আমাদের জাতির বিজয়ে যারা পরাজিত হয়েছিল তারাই এই অশুভ শক্তি। সেই ৩ নভেম্বরের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। সে ব্যাপারে সাংবিধানিক কর্তব্য রাষ্ট্রকে পালন করতে হবে।
এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যাকাণ্ড, জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজদের ভয়াবহ আক্রমণ, এবং অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধ এবং জাতীয় অর্থনীতিকে গুরুতরভাবে আঘাত করার মতো বড় আকারের দুর্নীতির সঠিক তদন্ত শুরু করার পথে বিভিন্ন সময়ে নানা বাধা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের নানা রকমের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একেক সময় মনে হয় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকেরা অসহায় ও নীরব দর্শক, যারা অন্তর থেকে চায় এসব ব্যাপারে আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হোক। কিন্তু দেখা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের অর্থ এবং প্রভাব খাটিয়ে আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। আজ এ তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা দেরিতে ঘটলেও, যারা অপরাধী তাদের বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর হওয়ার পর্যায়ে এসেছে। এটি প্রমাণ করে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
অতীত থেকে আমাদের যে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার তা হলো, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রশাসন এবং তদন্তকারীকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকতে হয়।
আজ আমি মনে করি, সারা জাতির বিশ্বাস ফিরে আসা উচিত যে আমরা অসহায় নই। সংবিধান এবং আইনকে অবশ্যই কাজে লাগানো যায়। আইনের চোখে সবাই সমান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই কথাগুলো সত্যিকার অর্থে গ্রহণ করে আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, তাহলে অপরাধীদের কাছে আমরা এ বার্তা পৌঁছে দিতে পারব যে অপরাধ করে তারা জবাবদিহি থেকে মুক্ত হতে পারে না। সচেতন নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিচার করার শক্তি সঞ্চয় করে এবং এসব ব্যক্তির সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে।
ড. কামাল হোসেন: সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম

আটলান্টিকের এপারে বিশ্বের তাবত্ বাংলাদেশির মতো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় শোনার জন্য। মেঘ আর সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলছিল। আজ ছিল শীত (নিউইয়র্কে তখন ১৮ নভেম্বর, রাত ১১টা)। ঘড়ির কাঁটা যেন এগোতেই চাইছে না। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাঙালিদের মনেপ্রাণে উত্তেজনা আর উত্সাহের খবর আসতে লাগল মুঠোফোন মারফত। ‘বিশ্বের রাজধানী’ বলে খ্যাত নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য শহরের মতোই সমবেত হলো দলমতনির্বিশেষে অসংখ্য বাঙালি। ইতিহাসের কালের সাক্ষী হওয়ার জন্য স্থান-কাল-পাত্রভেদে যার যার সুবিধামতো জড়ো হলো বাঙালি-অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের গ্র্যান্ড সুইটস রেস্টুরেন্ট ও উডসাইডের ঢাকা ক্লাবে।
আমরা বাংলাদেশ সময় থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে থাকায় ১৮ তারিখ সন্ধ্যা থেকেই ভিড় বাড়তে লাগল এসব এলাকায়। সময় কাটিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো কোনো স্থানে গান ও কবিতা, আবার কোথাও কেউ কেউ জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে লাগল। সবার মনেই উত্তেজনা। রাত যত বাড়ছে, উত্তেজনা আর উত্সাহ যেন ততই উপচে পড়ছে। একই সঙ্গে ভিড়ও বেড়ে চলল, আর বিভিন্ন স্থান থেকে ফোনে কথা চালাচালি চলছে। যে যা শুনছে, তা-ই তাদের জানা মতে সর্বশেষ খবর হিসেবে অন্য সবাইকে অবহিত করছে। সবার দৃষ্টি টিভির পর্দায়। সময় গড়িয়ে চলছে, রাতও বাড়ছে। কিছুক্ষণ পর রায়ের কথা ভেসে উঠল টিভির পর্দায় (এটিএন বাংলা)। উপস্থিত সবাই ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল। তারপর মোনাজাত করে শোকরানা আদায় করল। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী সংগঠন সমর্থিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর অগণিত মানুষ দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রতীক্ষিত রায় শুনে আবেগে আপ্লুত হলো। এই রায়ের ধারাবাহিকতায় দেশে এক এক করে সব হত্যার বিচার হবে—এই আশায় বুক বাঁধল। বিশেষ করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অতিসত্বর সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মধ্যরাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যে যার মতো বুকের ভার লাঘব করে ঘরে ফিরল।
ফাহিম রেজা নূর
নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শিক্ষানীতি -বাস্তবায়ন ও অসংগতি by মোস্তফা তারিকুল আহসান

স্বাধীনতার পর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে পরিমাণ পরীক্ষা- নিরীক্ষা হয়েছে, অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তা করা হয়নি। বেশির ভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে থেকে গেছে, বাস্তবায়িত হয়নি। এসব নীতি এমন ছিল যে তা বাস্তবায়ন করা যেত না। আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বাধীনতার প্রায় ৪০ বছর অতিবাহিত হতে চললেও সে কারণে আমাদের শিক্ষা সত্যিকার অর্থে আলোর মুখ দেখতে পায়নি। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক—এসব নিরীক্ষার গিনিপিগে পরিণত হয়েছে। জাতিকে মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমার প্রায় এক যুগ শিক্ষকতার এবং তার অধিক শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা থেকে আমি মোটামুটি হতাশ।
তবু বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা শিক্ষামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় যে প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করছি। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে আমি এখনো খানিকটা সন্দিহান। কুদরাত-এ-খুদা কমিশনকে ঘষেমেজে যে নতুন শিক্ষা কমিশন করা হয়েছে, তা এক অর্থে উচ্চাভিলাষী। এটা এই সরকার তো বাস্তবায়ন করতে পারবেই না, কোন সরকার শেষ করতে পারবে, তা অনুমান আপাতত সম্ভব নয়।
প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্তরকে ভেঙে যে নতুন স্তর করার কথা এখানে বলা হয়েছে, তা আদৌ সম্ভব হবে কি না, ভেবে দেখা দরকার। প্রাথমিক স্তরকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করে কার্যত কোনো লাভ হবে কি না, তা ভাবতে হবে। নতুন শিক্ষক, অবকাঠামো, পুনর্বিন্যাস—এসব নিয়ে রয়েছে ভয়ঙ্কর জটিলতা। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়তো কষ্ট করে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতে পারবেন, কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কেউ এইচএসসি পর্যায়ে পড়াতে পারবেন না। আমার সঙ্গে হয়তো কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। তবে স্কুল-কলেজ বা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমাদের দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষক নেই। অন্য কথায়, যে সুযোগ-সুবিধা শিক্ষকেরা পান, তাতে কোনো মেধাবী ব্যক্তি শিক্ষকতার পেশায় আসতে পারেন না বা চান না।
ইংরেজি শিক্ষা কখন থেকে শুরু হবে, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল কীভাবে চলবে, সে সম্পর্কে এই কমিশন কার্যত কোনো মতামত দেয়নি। স্পষ্টত তাদের পক্ষপাত আছে ইংরেজি শিক্ষার দিকে। আমার মনে হয় না যে এই আধুনিক যুগে ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজন সামান্য। কিন্তু বারো ক্লাস পর্যন্ত কিংবা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে অথবা বর্তমানে এ-প্লাস পেয়েও যখন কেউ ইংরেজিতে একটি শুদ্ধ বাক্য লিখতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়, তখন বোঝা যায়, বড় ধরনের পদ্ধতিগত ত্রুটির ভেতর দিয়ে ছাত্ররা ইংরেজি শিখছে।
বস্তুত, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা হবে বলা হলেও বাস্তবতা হলো, এই নীতি কোনো বৈষম্য কমাতে পারবে না। এটাও গালভরা বুলি হয়ে থাকবে, যতক্ষণ না শিক্ষকতার পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। দ্বিতীয়ত, কোচিং সেন্টার, টিউশনি ও নোট বা গাইড বইয়ের ব্যাপক প্রসারের ফলে শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন। শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনা না হওয়ার কারণে বাবা-মা ছেলেমেয়ে নিয়ে কোচিং সেন্টারে বা মাস্টারের বাড়িতে ছুটছেন। মা-বাবার অবস্থা পাগলের মতো। হতে পারে, বেকার দেশে কিছু যুবক ছেলে কোচিং সেন্টারের ফলে সাময়িকভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটা চলতে দেয় কেন?
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার ফল দেশবাসী পাচ্ছে দুইভাবে। প্রথমত, ভুলভাবে ইংরেজি শেখায় বেশির ভাগ স্কুল। এরা না ইংরেজি শেখে, না বাংলা শেখে। তোতা পাখির মতো কিছু শব্দ ও ছড়া শিখে তারা কার্যত মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। জলের মাছ ডাঙায় তুললে যে অবস্থা হয়, এদের অবস্থা তার চেয়ে আরও খারাপ। মাছ তবু মরে গিয়ে রক্ষা পায়, এদের সে উপায় নেই। কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, নিজের মুখস্থ বিদ্যা জাহির করতে পারে না, বিদ্যার সঙ্গে কল্পনার সংযোগ না করতে পেরে হাঁসফাঁস করতে থাকে। দ্বিতীয়ত, যারা সত্যি সত্যি ঢাকা-চট্টগ্রামের ভালো ভালো স্কুলে পড়ছে, তারা কারা? তারা তথাকথিত ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণী, যাদের অঢেল টাকা আছে এবং যারা বাকিদের নমঃশূদ্র মনে করে। শিক্ষামন্ত্রী এই সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য মানতে চান কেন? তিনি তো বলেছিলেন, দেশে প্রচলিত বারো রকমের শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিন্ন করা হবে। সুবিধাবাদী বুর্জোয়া শ্রেণীকে ছাড় দেওয়ার জন্যই কি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু থাকবে? যারা দেশের বাইরে যাবে, তাদের জন্য তো আইইএলটিএস বা টোফেল-ব্যবস্থা আছে। আর উচ্চশিক্ষায় তো ইংরেজি বহাল থাকার কথা। তাহলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দরকারটা কী?
মাদ্রাসাশিক্ষার সমস্যা আরও ব্যাপক। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করা খুব জটিল বিষয়। তাদের শিক্ষকদেরও আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তাঁদের সুযোগ দিতে হবে সব সুযোগসহ বেড়ে ওঠার। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ক্ষমতাসীন দলের ভোটের রাজনীতির শিকার। শুধু ভোট ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আগাছার মতো অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনোভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলা যাবে না। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানায় নাকি ২৭টি কলেজ! ব্যাঙের ছাতার মতো এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কী ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত, তা শিক্ষামন্ত্রী জানেন কি? জেনে থাকলে ভালো। তবে জানলেও তাঁর কিছু করার নেই। বেকার যুবকদের বেকারত্বকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান কার্যত দেশের ভয়াবহ দুর্নীতির প্রতিফলন।
কাজেই শিক্ষানীতি করলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ইউরোপীয় ব্যবস্থার মতো হয়ে যাবে—এ রকম ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তবু আমরা আশাবাদী, অন্তত কিছুটা অভিন্ন, বাস্তবসম্মত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা চালু হলেই আমরা খুশি। কারণ এ কাজে সফল হওয়া সত্যি কঠিন।
মোস্তফা তারিকুল আহসান: সহযোগী অধ্যাপক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার করলেন কারজাই -দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণ

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দ্বিতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন। কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল সালাম আজিমি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে ৪০টিরও বেশি দেশের অতিথি উপস্থিত ছিলেন। খবর এএফপির।
নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি এবং সরকারের ভেতরে চরম দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই কারজাই দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন। শপথ শেষে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন এবং জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে তাঁর সরকারের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
কারজাইয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সামনে তালেবানের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া আফগান যুদ্ধে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পশ্চিমাদের আস্থা ধরে রাখা এবং ক্ষুণ্ন হওয়া সুনাম ধরে রাখার চেষ্টারও উদ্যোগ নিতে হবে কারজাই সরকারকে।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানী কাবুলজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সতর্কতাস্বরূপ সরকার গতকাল সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড এবং ভারত, ফ্রান্স ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে হামিদ কারজাই বলেন, ‘আফগানিস্তানে দুর্নীতি একটি মারাত্মক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে নতুন এবং কার্যকর উপায় খুঁজতে আমরা শিগগিরই কাবুলে আলোচনায় বসব।’ তিনি প্রধান বিরোধী নেতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে সরকারে এসে কাজ করার আহ্বান জানান। মাদক ব্যবসা দমন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
হামিদ কারজাই বলেন, ‘আমি পবিত্র ইসলাম ধর্ম মেনে চলা ও রক্ষা করা, আফগানিস্তানের সংবিধান ও অন্যান্য আইন মেনে চলা ও রক্ষা এবং তা বাস্তবায়নের দেখভালের শপথ নিচ্ছি।’
আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী টুপি এবং পোশাক পরে ৫১ বছরের কারজাই বলেন, ‘অতীতের ভুল এবং গত আট বছরের যুদ্ধের ব্যর্থতা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, তালেবানের বিরুদ্ধে আট বছরের যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্ব এখন কারজাই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।
হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘আফগানিস্তান সংকটপূর্ণ মুহূর্ত পার করছে। এ সংকটপূর্ণ মুহূর্ত পার করতে আফগান নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হামিদ কারজাই ও তাঁর সরকারের সামনে বিশাল সুযোগ এসেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হিলারির এটাই প্রথম আফগানিস্তান সফর।
হিলারি আরও বলেন, ওয়াশিংটন আফগানিস্তানের নতুন সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তবে তাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সরকারের কার্যকর ফল দেখতে চান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আফগানিস্তানে জবাবদিহিতামূলক ও স্বচ্ছ সরকারব্যবস্থা আশা করে। দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে আফগান সরকার কিছু কাজ করেছে, কিন্তু দুর্নীতি দমনে সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণে এটাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কবির সুমনকে বোঝাতে আসরে কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা

তৃণমূল কংগ্রেস দলের সাংসদ কবির সুমনকে বোঝাতে এবার আসরে নেমেছেন কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা। গত দুই দিনে সুমনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, কবি জয় গোস্বামী থেকে শুরু করে লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী পর্যন্ত। অবশ্য রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সুমনের ক্ষোভ-অভিমান ভাঙাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বুদ্ধিজীবীদের আসরে নামিয়েছেন। তবে যেসব বুদ্ধিজীবী সুমনের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের উদ্যোগেই সুমনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিশিষ্ট লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী সুমনকে তাঁর বাড়িতে ডেকে এনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। বুদ্ধিজীবীরা সবাই সুমনকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে দলের সাংসদ হয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কথা বললে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাই ২০১১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত যেন সুমন একটু মানিয়ে চলেন।
সুমন অবশ্য বলেছেন যে গ্রামবাংলায় তিনি পরিবর্তন দেখতে চান। মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তবে উন্নয়নের প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন, মমতার সঙ্গে তিনি কথা বলে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চান। তবে সুমন বুদ্ধিজীবীদের কথার ভিত্তিতে এ মুহূর্তে দল বা সাংসদ পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন।

সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান

সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করে পরমাণু জ্বালানি তৈরি করার বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দেওয়া প্রস্তাবটি বুধবার প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। খবর এএফপির।
ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) জানিয়েছে, আইএসএনএকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের সাড়ে ৩ শতাংশ জ্বালানি বিদেশে পাঠাব না। তবে ইরানের ভেতরে ওই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো চুক্তির প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি আছি আমরা।’ পাশাপাশি তাঁর দেশের ওপর আরও অবরোধ আরোপের বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন মোত্তাকি।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এক সংবাদ সম্মেলনে মোত্তাকি বলেন, তেহরান পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি। তবে শর্ত হচ্ছে, পরমাণু জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ব্যবস্থা ইরানেই রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রস্তাবে ইরানকে তার স্বল্প সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করে তা পরমাণু জ্বালানিতে রূপান্তর করতে ফ্রান্স ও রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

পেশোয়ারে বোমা হামলা, নিহত ১৯

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে আদালত ভবনের প্রধান ফটকের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৬ জন।
আদালত ভবনটি ব্যস্ত খাইবার সড়কে অবস্থিত। সকালে সাধারণত সেখানে প্রচুর জনসমাগম ঘটে। গত সপ্তাহে একই সড়কে অবস্থিত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়েও বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। খবর বিবিসির।
পেশোয়ারে সরকারি কর্মকর্তা সাহেবজাদা আনিস সাংবাদিকদের বলেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, আদালত ভবনের ফটকে একজন পুলিশ যখন ওই ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করছিলেন, তখন তিনি নিজেকে উড়িয়ে দেন। লেডি রিডিং হাসপাতালের প্রধান সাহেব গুল জানান, হাসপাতালে ১৯টি মৃতদেহ নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিদূত হতে চান ওসামা বিন লাদেনের ছেলে

জাতিসংঘের শান্তিদূত হতে চান সারা বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনের ছেলে ওমর বিন লাদেন। বামপন্থী রাজনৈতিক পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে তাঁর বাবার হাত ছিল বলে মনে করেন না ওমর।
ওমর বিন লাদেন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে আমি একজন ভালো রাজনীতিক হতে পারব। আমার সত্য বলার অভ্যাস রয়েছে, এমনকি সেটা যদি আমার বিপক্ষে যায় তখনো। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য আমি একটি অবস্থানে যেতে চাই। আমি মনে করি, জাতিসংঘ আমার জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে।’
ওমর বিন লাদেন বলেন, তিনি ২০০১ সালের এপ্রিল থেকে বাবা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা তাঁকে বলেছিলেন, ‘ইসলামের জন্য জীবন দেওয়া সম্মানের বিষয়। তিনি আমাকে কখনই আল-কায়েদায় যোগ দিতে বলেননি। তবে তিনি বলেছিলেন, তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু আমি যখন বলি, আমি এই জীবনের জন্য উপযুক্ত নই, তখন তিনি হতাশ হয়েছিলেন।’
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার দিনটিকে খুব দুঃখের দিন হিসেবে অভিহিত করলেও ওমরের বিশ্বাস, তাঁর বাবা ওই হামলার পেছনে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি কখনই ভাবতে পারি না, আমার বাবা এ ধরনের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারেন।

এক বছরে ভারতীয় কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে: ফোর্বস

এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে ওঠাই কোটিপতিদের তালিকায় ভারতীয়দের আধিক্যের কারণ। গত বছর ফোর্বস-এর কোটিপতিদের তালিকায় ভারতীয়দের সংখ্যা ছিল ২৭ জন। এ বছর তা বেড়ে ৫২-তে দাঁড়িয়েছে। ২০০৭ সালে ৫৪ জন ভারতীয় কোটিপতি ওই তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।
ফোর্বস-এর এশিয়া সংস্করণের ভারত-বিষয়ক সম্পাদক নাজনিন কারমালি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় ধনীদের সুসময় আবার ফিরে এসেছে। এ বছরের তালিকা থেকে আবারও দেখা যাচ্ছে, পুঁজিবাজার আর অর্থনীতি ঠিক পথে থাকলে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের তুলনায় দ্রুত কোটিপতি তৈরি করার সামর্থ্য রয়েছে ভারতের।’
ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় আবারও জায়গা করে নিয়েছেন মুকেশ আম্বানি। দেশটির সবচেয়ে বড় কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান তিনি। সাময়িকীটি জানিয়েছে, এখন তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তাল। তাঁর সম্পদ গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তৃতীয় অবস্থানে আছেন মুকেশের ভাই অনিল আম্বানি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২০০৮ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে এক হাজার সাড়ে ৭০০ কোটি ডলার। এ ছাড়া তালিকায় ভারতীয় ধনীদের মধ্যে নতুন হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দুই ভাই সুধীর ও সামির মেহতা। বিদ্যুত্ উত্পাদক প্রতিষ্ঠান টরেন্ট পাওয়ারের মালিক এ দুই ভাইয়ের সম্পদের পরিমাণ ২০২ কোটি ডলার। ভারতীয়দের মধ্যে তাঁদের অবস্থান ২৩তম।

ভারত নয় পাকিস্তানের বড় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র -জনমত জরিপে অভিমত

চিরশত্রু ভারত কিংবা জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে মনে করে অধিকাংশ পাকিস্তানি। সম্প্রতি গ্যালাপ পাকিস্তান নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
পাকিস্তানজুড়ে দুই হাজার ৭০০ মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ পাকিস্তানিই যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি বলে মনে করে। ভারতকে হুমকি হিসেবে দেখছে ১৮ শতাংশ মানুষ। আর জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানকে হুমকি মনে করে ১১ শতাংশ পাকিস্তানি।
গ্যালাপ পাকিস্তানের চেয়ারম্যান ইজাজ শফি গিলানি বলেন, জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, তালেবানের বিরুদ্ধে সোচ্চার কয়েকটি গোষ্ঠী সমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রেরও বিরোধিতা করেছে। কিছু পাকিস্তানি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জঙ্গিবাদ দমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে তাদের কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, যাতে পাকিস্তান ভারত সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোতায়েন করতে পারে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
গ্যালাপ জানায়, পাকিস্তানিদের সন্দেহ, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদের কৌশলগত সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। জরিপে দেখা যায়, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করে অধিকাংশ পাকিস্তানি। ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ওই অভিযানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। সেনা অভিযানের বিরোধিতা করেছে মাত্র ১৩ শতাংশ পাকিস্তানি। এ সম্পর্কে দোদুল্যমানতায় ভুগছে ৩৬ শতাংশ মানুষ।
অধিকাংশ পাকিস্তানি সেনা অভিযানকে সমর্থন করলেও অভিযানের জন্য তালেবানকে দায়ী করেছে ২৫ শতাংশ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ৩৫ শতাংশ পাকিস্তানি। আর এ জন্য পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করেছে ৩১ শতাংশ মানুষ।
৩৬ শতাংশ মানুষ মনে করে, সেনা অভিযানের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আর ৩৭ শতাংশ পাকিস্তানি মনে করে, এই অভিযানের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।

ওবামার সঙ্গে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য সাক্ষাত্ পেলেন সত্ভাই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীন সফরের শুরুর দিন গত সোমবার বিকেলে তাঁর সত্ভাই মার্ক এনদেসানজোর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। বহুল প্রতীক্ষিত ওই সাক্ষািট ছিল মাত্র পাঁচ মিনিটের। সংক্ষিপ্ত ওই সাক্ষাতের সময় মার্ক তাঁর চীনা স্ত্রীকে ওবামার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। গত বুধবার হোয়াইট হাউস সূত্র এ কথা বলে।
গত বুধবার মার্ক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘বড় ভাই ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তিনি যারপরনাই অভিভূত। ওবামা বিমান থেকে নেমে, কাপড়চোপড় বদলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চলে আসেন। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। আর এটা ছিল গভীর আবেগপ্রবণ একটি মুহূর্ত। আমি যেন হাতে চাঁদ পেলাম। আমার ও আমার স্ত্রীর সেই ঘোর এখনো কাটেনি।’
ওবামার ওই ভাইয়ের পুরো নাম মার্ক ওকোথ ওবামা এনদেসানজো। তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে বাস করছেন। সেখানেই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও মার্ক নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছিলেন। এ মাসের প্রথম দিকে হঠাত্ তিনি নিজের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস প্রকাশের উদ্যোগ নিয়ে সবার আলোচনায় আসেন। ওই উপন্যাসে তিনি তাঁর পরিবার ও কেনীয় বাবা সম্পর্কে নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাতে মার্ক লেখেন, তিনি ও তাঁর মা কীভাবে তাঁর বাবার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দ্বিতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন। কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল সালাম আজিমি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে ৪০টিরও বেশি দেশের অতিথি উপস্থিত ছিলেন। খবর এএফপির।
নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি এবং সরকারের ভেতরে চরম দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই কারজাই দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন। শপথ শেষে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন এবং জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে তাঁর সরকারের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
কারজাইয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সামনে তালেবানের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া আফগান যুদ্ধে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পশ্চিমাদের আস্থা ধরে রাখা এবং ক্ষুণ্ন হওয়া সুনাম ধরে রাখার চেষ্টারও উদ্যোগ নিতে হবে কারজাই সরকারকে।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানী কাবুলজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সতর্কতাস্বরূপ সরকার গতকাল সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড এবং ভারত, ফ্রান্স ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে হামিদ কারজাই বলেন, ‘আফগানিস্তানে দুর্নীতি একটি মারাত্মক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে নতুন এবং কার্যকর উপায় খুঁজতে আমরা শিগগিরই কাবুলে আলোচনায় বসব।’ তিনি প্রধান বিরোধী নেতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহকে সরকারে এসে কাজ করার আহ্বান জানান। মাদক ব্যবসা দমন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
হামিদ কারজাই বলেন, ‘আমি পবিত্র ইসলাম ধর্ম মেনে চলা ও রক্ষা করা, আফগানিস্তানের সংবিধান ও অন্যান্য আইন মেনে চলা ও রক্ষা এবং তা বাস্তবায়নের দেখভালের শপথ নিচ্ছি।’
আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী টুপি এবং পোশাক পরে ৫১ বছরের কারজাই বলেন, ‘অতীতের ভুল এবং গত আট বছরের যুদ্ধের ব্যর্থতা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, তালেবানের বিরুদ্ধে আট বছরের যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্ব এখন কারজাই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।
হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ‘আফগানিস্তান সংকটপূর্ণ মুহূর্ত পার করছে। এ সংকটপূর্ণ মুহূর্ত পার করতে আফগান নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হামিদ কারজাই ও তাঁর সরকারের সামনে বিশাল সুযোগ এসেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হিলারির এটাই প্রথম আফগানিস্তান সফর।
হিলারি আরও বলেন, ওয়াশিংটন আফগানিস্তানের নতুন সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তবে তাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সরকারের কার্যকর ফল দেখতে চান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আফগানিস্তানে জবাবদিহিতামূলক ও স্বচ্ছ সরকারব্যবস্থা আশা করে। দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে আফগান সরকার কিছু কাজ করেছে, কিন্তু দুর্নীতি দমনে সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণে এটাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সোমালিয়ায় এক নারীকে পাথর মেরে হত্যা

সোমালিয়ায় ব্যাভিচারের দায়ে এক নারীকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। শত শত লোকের সামনে কট্টরপন্থী মুসলিম নেতারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। জঙ্গি মুসলিম গোষ্ঠী আল-সাহাবের পক্ষের একজন বিচারক বলেছেন, অবিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে ওই তালাকপ্রাপ্তা নারীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন এবং পরে একটি মৃত সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।
সোমালিয়ায় মুসলিম চরমপন্থী গোষ্ঠী আল-সাহাবের বিচারে ব্যাভিচারের দায়ে এই নিয়ে দুজন নারীকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের অনেকটাই এই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তারা নিজেদের মতো করে ‘ইসলামি শাসন’ জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী মোগাদিসুর ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ওয়াজিদ শহরের একটি ছোট্ট গ্রামে গত মঙ্গলবার বিকেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত নারীকে একটি উন্মুক্ত ময়দানে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।
আল-সাহাবের বিচারক শেখ ইব্রাহিম আব্দি রহমান বলেন, একই ময়দানে তাঁর অবিবাহিত প্রেমিককেও ১০০টি বেত্রাঘাত করা হয়।
আল-সাহাবের শরিয়া আইন অনুযায়ী কোনো বিবাহিত অথবা তালাকপ্রাপ্তা নারী ব্যাভিচার করলে তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করার বিধান রয়েছে। আর কেউ বিয়ের আগে অবৈধ সম্পর্ক করলে তাঁকে ১০০টি বেত্রাঘাত করা হয়।

ওবামাকে উপহার

শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বারাক ওবামাকে একটি তায়কোয়ান্দোর পোশাক ও সম্মানসূচক ব্ল্যাক বেল্ট দিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক। প্রেসিডেন্ট লির মুখপাত্র পার্ক সান-কিউ জানান, কোরিয়ার মার্শাল আর্টের ব্যাপারে ওবামার অতীত আগ্রহের কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট লি নিজে এই উপহার পছন্দ করেছেন।
কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো। এতে দক্ষতার মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের বেল্ট দেওয়া হয়। সাদা রঙের বেল্ট দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সবচেয়ে দক্ষ ব্যক্তিরা পান কালো বেল্ট। লির মুখপাত্র জানান, সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ওবামা তায়কোয়ান্দো শিখতেন। কয়েক বছর অনুশীলন করে তিনি এতে মাঝারি পর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
সফরে ওবামার সঙ্গী হিসেবে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা উপস্থিত না থাকলেও তাঁর জন্য ইংরেজিতে অনুবাদ করা একটি কোরীয় রন্ধনশৈলীর বই উপহার দেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম ইয়ুন-ওক। গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া পৌঁছান ওবামা।

পিয়ংইয়ংকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানালেন ওবামা ও লি -ইরানকে বেশি সময় দেওয়া হবে না

উত্তর কোরিয়াকে উসকানিমূলক আচরণ বন্ধ করে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক। গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ আহ্বান জানান। এ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থার পরিণাম সম্পর্কে ইরানকে হুঁশিয়ার করে দেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি-বিষয়ক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও দুই প্রেসিডেন্ট একমত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট লি ও আমি দুজনই অতীতের সেই ধারা ভাঙার ব্যাপারে একমত হয়েছি, যেখানে উত্তর কোরিয়া উসকানিমূলক আচরণ করত, পরে আলোচনায় ফিরে আসার আগ্রহ দেখাত এবং আরও ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করত।’ তিনি জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ আগামী ৮ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া সফর করতে পারেন।
ইরান প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, ‘সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও (আমাদের) প্রস্তাবের ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয়নি ইরান। তাই এর পরিণতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আমরা আলোচনা শুরু করেছি।’ ইরানকে বেশি সময় দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বাদ দেওয়ার ব্যাপারে পিয়ংইয়ংকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার পুনরুল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও নতুন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে উত্তর কোরিয়া।’
এ ছাড়া বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক জটিলতা দূর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন দুই প্রেসিডেন্ট। এ ব্যাপারে লি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে আলোচনা করার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।’ দুই বছর আগে এ দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য-বিষয়ক চুক্তি হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া অক্টোবরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীকে সাহায্য করতে পুলিশ ও সেনাসদস্য পাঠানোর কথাও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর পর ওসানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন ওবামা। সেখানে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি।
সিউল থেকে গতকালই ওয়াশিংটনে ফিরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মাধ্যমে তাঁর এশিয়া সফর শেষ হলো। সপ্তাহব্যাপী এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি এর আগে জাপান, সিঙ্গাপুর ও চীনে যান।

ইসির স্থায়ী প্রেসিডেন্ট হলেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের (ইসি) স্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী হারম্যান ফন রোমপোইকে মনোনীত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। একই সঙ্গে ব্রিটেনের ব্যারোনেস ক্যাথারিনকে ইইউর বাণিজ্য কমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেন, ব্রাসেলসে শীর্ষ সম্মেলনে ২৭ জন ইইউ নেতা এ দুজনকে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন করেন।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, এর আগে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে ফের মনোনয়ন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
নিয়োগ পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ফন রোমপোই বলেন, প্রত্যেক দেশেরই উচিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৫৩ বছর বয়সী ব্যারনোস অ্যাশটন বলেন, ‘আমিই প্রথম নারী ব্রিটিশ কমিশনার ছিলাম, একই সঙ্গে প্রথম বাণিজ্য কমিশনার হচ্ছি। উচ্চপদে প্রথম মহিলা প্রতিনিধি হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত।’

অপরাহ উইনফ্রে শো শেষ হচ্ছে ২০১১ সালে

আগামী ২০১১ সালেই জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’ শেষ হতে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার অপরাহ উইনফ্রে এই ঘোষণা দিতে পারেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই টক শোর পর্দা নামবে ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। অপরাহের প্রোডাকশন হাউস হাপরোর প্রেসিডেন্ট টিম বেনেট এক চিঠিতে এ তথ্য জানান।
কোটিপতি প্রভাবশালী এই নারী ১৯৮৬ সাল থেকে জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে আসছেন। উইনফ্রের একজন মুখপাত্র জানান, ‘উইনফ্রে কেন আর এই শো করবেন না—সে ব্যাপারে কিছু বলেননি। কিন্তু আজ শুক্রবারের শোতে তিনি এ বিষয়ে তার সহকর্মী এবং দর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’-এর দর্শক গড়ে প্রায় ৭০ লাখ। এখনো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এ অনুষ্ঠানটি।

ঝাড়খণ্ডে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ২ আহত ৪৭

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পশ্চিম সিংভূম জেলায় টাটা-বিলাশপুর রেলপথে একটি ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৭ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মাওবাদীরা ওই রেলপথ উড়িয়ে দেওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান, ১০ বগির ট্রেনটির পাঁচটি লাইনচ্যুত হয় এবং ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি এগুলোর ওপর উঠে যায়। তিনি এ দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিনটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে জানা গেছে, মনোহর ও পোসোইটা রেলপথের মধ্যবর্তী পথে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর ২০ মিনিট পরই চালক ট্রেনটি নিয়ে ওই পথ দিয়ে যেতে গেলে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মমতা বলেন, মাওবাদীরা রেলপথের একটি অংশ উড়িয়ে দেওয়ায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। সেখানে তিন থেকে চারটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাঁচির এসপি (রেল) এ বি হোমকার জানান, রেলের কর্মী ও উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জটিলতা ও হয়রানি কমিয়ে দেশের মানুষকে কর প্রদানে উত্সাহিত করতে হবে - আইবিএফবির আলোচনা সভা

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে কর প্রদানে আগ্রহী করে তোলা উচিত। সেই সঙ্গে কর আইনের জটিলতা নিরসন এবং করদাতাদের ওপর কর কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
ঢাকায় আইবিএফবির সভাকক্ষে গত বুধবার ‘বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বিধিবিধান: কর প্রশাসনের ওপর একটি অধ্যয়ন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স বা কর দিতে ভয় পাই। ‘ট্যাক্স’ শব্দটি শুনলেই যেন আতঙ্কের মতো মনে হয়। কর আইনের জটিলতা ও কর কর্মকর্তারা হয়রানি করার কারণেই এমন হয়।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক সচিব কারার মাহমুদুল হাসান ও সফররাজ হোসাইন, ডেমক্রেসিওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রেহমান, মাইডাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, প্রগতির ডেপুটি চিফ অব পার্টি জেরেমি কান্থর এবং আইবিএফবির পরিচালক হাফিজুর রহমান ও সাজেদুর সিরাজ। এতে সভাপতিত্ব করেন আইবিএফবির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘কর কর্মকর্তাদের যে দুর্নীতি রয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ, আমরা এখনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারিনি এবং কেন দুর্নীতি হয়, সেটি অনুসন্ধানেও আমরা তদন্ত করি না।’

সিডিসি প্রতিনিধিদলের অ্যাপোলো হাসপাতাল পরিদর্শন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (সিডিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকার অ্যাপোলো হসপিটালস পরিদর্শন করে।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিডিসির চেয়ারম্যান রিচার্ড গিলিং ওয়াটার ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড লেইং। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাপোলো হসপিটালের পরিচালক মোহাম্মদ এ মইন ও নিসাঙ্কা ভিরা সেকারা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহজাহান মজুমদার।
সভায় ক্রমবর্ধমান রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ঢাকার হাসপাতালে বহির্বিভাগের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে রিচার্ড গিলিং ওয়াটার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া সভায় হাসপাতালের সুবিধা বাড়ানোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সংযোজনে আরও বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

রায়গঞ্জে বর্গাচাষিদের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ

অগ্রণী ব্যাংকের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী শাখা সম্প্রতি এলাকার বর্গাচাষিদের মধ্যে কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।
এই ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অগ্রণী ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহব্যবস্থাপক মো. নেজাবত আলী।
শাখা ব্যবস্থাপক মুকুল কৃষ্ণ ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সোনাখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন।

মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিল সিঙ্গাপুর

টানা দুই প্রান্তিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর সিঙ্গাপুর মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
সিঙ্গাপুর সরকার আরও পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০১০ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ শতাংশ।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে দেশটির মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ছিল ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ। আর তার আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এক সংবাদ সম্মেলনে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক স্থায়ী মন্ত্রী রবি মেনন বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের মন্দা শেষ। বিশ্বজুড়েই অর্থনীতি মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সিঙ্গাপুর এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অগ্রগতি থেকে লাভবান হয়েছে।
বার্ষিক ভিত্তিতে তৃতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৬০ শতাংশ, যেখানে যা তার আগের প্রান্তিকে অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছিল।

নাভানা ফার্নিচারের বিক্রয় কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ

নাভানা ফার্নিচারের ঢাকার ৬৪ গুলশান এভিনিউয়ের শো-রুমে সম্প্রতি ‘নববর্ষে বাম্পার ফলন’ শীর্ষক বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাভানা ফার্নিচারের পরিচালক এফ আর খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নাভানা ফার্নিচারের হিসাব ও প্রশাসন উপমহাব্যবস্থাপক সরদার মাজহার আলী, সহকারী উত্পাদন মহাব্যবস্থাপক শওকত কামাল, ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার শাহরিয়ার আফসার খান, উপব্যবস্থাপক সামস্ জেরিন সুরাইয়া ফেরদৌসী ও বিক্রয় উপব্যবস্থাপক মোস্তাক আহম্মেদ।
এ কার্যক্রমের প্রথম পুরস্কার বিজয়ী মিন্টু সাহাকে ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকার বিমানের টিকিট দেওয়া হয়। অন্য পুরস্কার বিজয়ীরা ল্যাপটপ কম্পিউটার, মোবাইল সেট (নকিয়া-এন সিরিজ), ডিজিটাল ক্যামেরা, আই-পড, সেলাই মেশিন (সিঙ্গার), ডিনার সেট, ইলেকট্রিক আয়রন, টি সেট ইত্যাদি পান।

ব্যাংকের কিছু সেবামাশুল আবার কমানো হলো

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোয় গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন ধরনের সেবামাশুল আরেক দফা হ্রাস করেছে। গত বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা সব ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের সেবামাশুলের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য অতিরিক্ত হারে কমিশন ও মাশুল আদায় করছে বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ আসার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নেয়।
নতুন নির্দেশনা অনুসারে ডেফার্ড (প্রলম্বিত) ঋণপত্র খোলার জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কমিশনের সর্বোচ্চ হার হবে দশমিক ৫০ শতাংশ। বর্তমানে এই হার দশমিক ৬০ শতাংশ।
ঋণপত্র নিশ্চিতকরণের জন্য সর্বোচ্চ মাশুলের হার হবে দশমিক ২০ শতাংশ। বর্তমানে এই হার আছে দশমিক ২৫ শতাংশ।
ঋণপত্র উপদেশনা, ঋণপত্র সংশোধন ও ঋণপত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার ৭৫০ টাকায় নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে। এত দিন এই হার ছিল এক হাজার টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় এফসিসি/ডাটা ম্যাক্স মাশুল ও কপি ডকুমেন্ট এনডোর্সমেন্ট মাশুল প্রথা বাতিল করা হয়েছে।
রপ্তানি বিল নেগোসিয়েশন কমিশন এবং রপ্তানি বিল সংগ্রহ কমিশন সর্বোচ্চ দশমিক ১৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এত দিন ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো এই হার নির্ধারণ করত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রপ্তানিনীতি ২০০৬-০৯ অনুসারে প্রত্যাহার অযোগ্য ঋণপত্রের অধীনে সাইট পেমেন্টের ভিত্তিতে যদি পণ্য রপ্তানি করা হয়, তাহলে রপ্তানিকারককে প্রয়োজনীয় রপ্তানি দলিলপত্র জমা দেওয়ার শর্তে বাণিজ্যিক ব্যাংক বকেয়া সুদ ধার্য করবে না।
এ ছাড়া রপ্তানি কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রদত্ত ঋণের সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে লন্ডন আন্তব্যাংক হারের (লাইবর) সঙ্গে সর্বোচ্চ এক শতাংশ যোগ করা যাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

সেমেনিয়ার দ্বিতীয় জয়

লিঙ্গ পরীক্ষা বলছে, কাস্টার সেমেনিয়া নারী নন। আইনের কথা, গত আগস্টে বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জেতা সোনাটি তাই ফেরত দিতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অ্যাথলেটকে। কিন্তু নিরেট আইন নয়, জয় হলো মানবিকতার। তাঁর লিঙ্গ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে যে অবর্ণনীয় মানসিক নির্যাতন সয়েছেন সেটি বিবেচনা করে সেমেনিয়ার সোনাটি কেড়ে নিচ্ছে না আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস সংস্থা (আইএএএফ)। বার্লিনে মেয়েদের ৮০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন তিনি।
সোনাটি তাঁর কাছে রাখা হবে না কেড়ে নেওয়া হবে—বিষয়টির সুরাহা করতে সম্প্রতি জোহানেসবার্গে বৈঠকে বসেছিল আইএএএফ, এএসএ আর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তিন পক্ষ একমত হয়, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা সেমেনিয়া জেনে-বুঝে কোনো অন্যায় করেননি। তাই সর্বসম্মতভাবে সোনাটি কেড়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেমেনিয়া পান ‘দ্বিতীয় জয়’।

অনূর্ধ্ব-১৯-এর আরেকটি জয়

প্রথম তিনটি ওয়ানডে জিতে সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কাল চতুর্থ ম্যাচেও জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৪৩ রানে হারিয়ে এখন সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার অপেক্ষায় তারা।
বগুড়া জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৮ উইকেটে তোলে ২৫০ রান। ১৫ রানে দুই ওপেনার এনামুল (৯) ও সৈকতকে (২) হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তাসামুল (৫৫) ও ম্যাচ সেরা মমিনুল (৭০)। তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ ১১৯ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। জবাবে ১২ বল বাকি থাকতে ২০৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দলটি। সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন ওপেনার ডেলি স্কট। আবুল হাসান ৪টি, আলাউদ্দিন ও নূর হোসেন ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। আজ একই ভেন্যুতে সিরিজের শেষ ওয়ানডে।

এঙ্কের স্মরণে খেলে জার্মানির ড্র

বেঁচে থাকলে হয়তো পরশু গোলপোস্টের নিচেই দাঁড়াতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইভরিকোস্টের বিপক্ষে জার্মানির প্রীতি ম্যাচটি হয়ে গেল সদ্য প্রয়াত গোলরক্ষক রবার্ট এঙ্কের স্মরণ-ম্যাচ। নিজেদের মাঠে জার্মানি জিততে পারেনি। কিন্তু লুকাস পোডলস্কির শেষ মুহূর্তের গোল তাদের পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছে (২-২)।
ছুটে চলা ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে আত্মাহুতি দেওয়া এঙ্কের স্মরণে এ মাসে নির্ধারিত প্রথম প্রীতি ম্যাচটা জার্মানি খেলেনি। শোককে পাথরচাপা দিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচটা খেলতে নেমেছিল শালকে-জিরোফোরের ভেলটিনস অ্যারেনায়। জার্মান ডাগআউটে টানিয়ে রাখা হয়েছিল এঙ্কের এক নম্বর জার্সিটা। গ্যালারিতেও ছিল এঙ্কে-স্মরণ।
ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জার্মানিকে এগিয়ে দেন পোডলস্কি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আইভরিকোস্ট দুটো গোল করে এগিয়ে যায়। একেবারে ৯৩ মিনিটে গোল শোধ করেন পোডলস্কি। এঙ্কের জন্য খেলা জার্মানিকে হারের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার তৃপ্তি ছিল পোডলস্কির কণ্ঠে, ‘শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পেরে খুশি। কারণ মাঠে নামার আগে মাথায় ছিল রবার্টের স্মৃতিই।’
শুধু পোডলস্কিই নয়, পুরো জার্মান দল গত সপ্তাহের দুর্ঘটনায় আচ্ছন্ন ছিল বলে জানিয়েছেন কোচ জোয়াকিম লো। মাঠের খেলাতেও এর ছাপ পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
পরশুর প্রীতি ম্যাচের পসরায় সবচেয়ে বড় জয়টা স্পেনের। অস্ট্রিয়াকে তাদের মাঠে ৫-১ গোলে হারিয়ে স্পেন আবারও জানিয়ে দিল, আগামী বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট তারা। সুইডেনের বিপক্ষে মার্সেলো লিপ্পি প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিলেন। তার পরও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি ১-০ গোলে হারিয়েছে সুইডেনকে। গোলশূন্য ড্র হয়েছে নেদারল্যান্ড-প্যারাগুয়ে ম্যাচটি।

অন্যায় সুবিধা পান পিস্টোরিয়াস

পা নেই। তার পরও দৌড়ান। শুধু তা-ই নয়, পা-বিহীন বিশ্বের দ্রততম মানব তিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণার ফল বলছে, ফাইবারের তৈরি যে কৃত্রিম পা লাগিয়ে অস্কার পিস্টোরিয়াস দৌড়ান, সেটি অন্যায় সুবিধা এনে দেয় তাঁকে। দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়বিদ শুধু ওই কার্বন ফাইবারের তৈরি পা জোড়ার কারণে ৪০০ মিটারে কমপক্ষে ১০ সেকেন্ড কম সময়ে দৌড় শেষ করতে পারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই অ্যাথলেটকে নিয়ে বিতর্ক আগেও ছিল। ওই পা জোড়া নিয়ে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে দৌড়ান তিনি। অংশ নিতে চেয়েছিলেন গত বেইজিং অলিম্পিকেও। কিন্তু অলিম্পিকের আগে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস সংস্থা (আইএএএফ) নিয়ম সংশোধন করায় কৃত্রিম পা নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগীদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারান পিস্টোরিয়াস। শেষ পর্যন্ত আইএএএফের এই নিয়মের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) গিয়ে মামলা জেতেন পিস্টোরিয়াস। অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার পথে কোনো বাধা না থাকলেও বাছাইপর্বে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কারণে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হন।
সিএএস তখন তাদের রায়ে বলেছিল, কৃত্রিম পা জোড়ার কারণে অস্কার বাড়তি সুবিধা পান এমন প্রমাণ আইএএএফ দিতে পারেনি। সেই প্রমাণটাই এবার হাজির করল যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। দৌড়ানোর সময় ইংরেজি ‘জে’ অক্ষরের মতো স্প্রিংয়ের হালকা, বাঁকানো যে কৃত্রিম পা জোড়া পিস্টোরিয়াস ব্যবহার করেন সেটি তাঁর দৌড়ের গতি ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন বলে জানিয়েছেন টেক্সাসের সাদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ম্যাথু বান্ডল। ১০০ মিটারে সর্বশেষ ছয় বিশ্ব রেকর্ডধারীর দৌড়ের সঙ্গে পিস্টোরিয়াসের দৌড় বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখতে পান, সুস্থদের তুলনায় ১৫ শতাংশ দ্রুত নিজের পায়ের পেশি নড়াচড়া করতে পারেন। ‘চিতাস’ নামের ওই পা জোড়া তাঁকে স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ শতাংশ কম শক্তি ব্যয়ে দৌড়াতে সাহায্য করে।
মার্কিন এই গবেষকদের পরীক্ষার ফলের পর আইএএএফ পিস্টোরিয়াসের দৌড় নিষিদ্ধ করবে কি না, এটি এখনো জানা যায়নি। জানা যায়নি পিস্টোরিয়াসের প্রতিক্রিয়াও, যিনি আগামী অলিম্পিকে দৌড়ানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন।

দ. আফ্রিকা বনাম ইনজুরি-কাতর ইংল্যান্ড

ভাগ্যগুণে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জেতা ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে গ্রায়েম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে জয় আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও ফিরিয়েছিল ইংল্যান্ডের। তবে মূল সিরিজের আগে আবারও বড় ধাক্কা খেতে হলো তাদের। প্রথম দুই ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার গ্রায়েম সোয়ান ও স্টুয়ার্ট ব্রড।
জোহানেসবার্গে আজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অনিশ্চিত পল কলিংউডও। তবে শেষ পর্যন্ত আজ মাঠে নামলে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ওয়ানডে খেলার রেকর্ডটি এককভাবে হয়ে যাবে তাঁর। দু দলের সর্বশেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড (বাকিটি পরিত্যক্ত)। তবে ইনজুরির পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে পিছিয়ে রাখছে সাম্প্রতিক ফর্মও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ম্যাচের সিরিজ ৬-১-এ হেরেছে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ২ নম্বরে, ইংল্যান্ড ছয়ে। ইংল্যান্ডকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করতে পারলে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গ্রায়েম স্মিথের দলের ব্যবধান কমে দাঁড়াবে ২। আর যদি হয় এর উল্টোটা, তাহলে তিনে উঠে যাবে ইংল্যান্ড।

কে ফোন করেছিলেন রাজ্জাককে

ফ্লাইট না পাওয়ায় পরশু আসতে না পারলেও কাল সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাকের। কিন্তু ঢাকা থেকে যাওয়া ‘রহস্যজনক’ এক টেলিফোন পেয়ে তিনি আর এলেন না। আজ মিরপুর স্টেডিয়ামে গাজী ট্যাংকের বিপক্ষে আবাহনীর বিদেশি খেলোয়াড় তাই ভারতের রেশমী রঞ্জন পারিদাই।
আবাহনী কর্মকর্তা জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ম্যাচপ্রতি সাড়ে তিন হাজার ডলারে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছিল রাজ্জাকের সঙ্গে। গালফ এয়ারলাইন্সের বিমানে পরশু রাতেই তাঁর লাহোর থেকে রওনা দেওয়ার কথা। বাহরাইন হয়ে জিএফ-২৪৮ ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছানোর কথা কাল সন্ধ্যা ৭টায়। কিন্তু পরশু রাতে রাজ্জাকের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে হতভম্ব হয়ে যান জালাল ইউনুস, ‘এজেন্টের মাধ্যমে কনফারেন্স লাইনে আমার রাজ্জাকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বলল, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আবাহনী থেকে নাকি তাকে কে ফোন করে বলেছে, ২০ তারিখের খেলা পিছিয়ে গেছে। অথচ আমাদের ক্লাব থেকে কেউ রাজ্জাককে ফোন করেনি।’ টেলিফোনে রাজ্জাককে যেকোনো উপায়ে কোনো একটা ফ্লাইট ধরে ঢাকায় চলে আসতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই সময়ে নাকি আর কোনো ফ্লাইট পাননি রাজ্জাক।
এ ঘটনাকে আবাহনীর বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র বলেই দেখছেন জালাল ইউনুস, ‘এটা খুবই রহস্যজনক, হাস্যকরও। একটা অজ্ঞাত ফোন পেয়েই ও সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল! আমরা যারা নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তাদের সঙ্গে কথা না বলেই সে খেলা পেছানোর ব্যাপারে নিশ্চিত হলো কী করে? আমাদের আশঙ্কা, আবাহনীর বিপক্ষে এটা কোনো ক্লাবের ষড়যন্ত্রও হতে পারে।’
রাজ্জাককে প্রথমে সই করিয়েছিল গাজী ট্যাংক। তবে তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলিয়ে ফেলায় তাঁকে আর খেলানো সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। সেই গাজী ট্যাংকই আজ আবার আবাহনীর প্রতিপক্ষ। আবাহনীর ইঙ্গিতটা কি তাহলে আজকের প্রতিপক্ষের দিকেই?
গাজী ট্যাংক ম্যানেজার এ কে এম কামরুজ্জামান অবশ্য এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে চাইলেন না, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

উরুগুয়ে ফিরছে ফেরা আলজেরিয়ারও

জন্ম নিয়েছেন ফ্রান্সে। ফুটবলে হাতেখড়ি ইন্টার মিলানের যুবদলে। কিন্তু খেলেন আলজেরিয়ার জাতীয় দলে। এমন বৈচিত্র্য আন্তার ইয়াহিয়ার খেলাতেও। খেলেন ডিফেন্ডারের ভূমিকায়, কিন্তু জার্মানির বোখাম ক্লাবের এই ফুটবলার মাঝেমধ্যেই আক্রমণভাগেও দেখা দেন ত্রাণকর্তার ভূমিকায়। আবারও ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হয়েছিলেন পরশু, এবার অবশ্য জাতীয় দলের জন্য। ৪০ মিনিটে করা তাঁর একমাত্র গোলেই মিসরকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল আলজেরিয়া।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচল আফ্রিকার দেশটির। আফ্রিকা মহাদেশে অনুষ্ঠেয় প্রথম বিশ্বকাপে অন্য ৫ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গী হলো তারা। পরশু সুদানের খার্তুমে অনুষ্ঠিত একমাত্র প্লে-অফটি নিয়ে আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা। নিশ্ছিদ্র পুলিশি পাহারায় ছিল যুদ্ধের আবহ। গত শনিবার মিসরের কায়রোতে দুই দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচটির আগে একদল মিসরীয় হামলা করেছিল আলজেরিয়া দলের ওপর। আহত হয়েছিলেন পাঁচ খেলোয়াড়। দুই হামলার পাল্টা জবাবও দিয়েছে আলজেরীয় সমর্থকেরা।
ম্যাচ চলার সময় বেশ কয়েকবার উত্তেজনার আভাস দেখা দিলেও কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে খেলা। অবশ্য বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার আনন্দ উদ্যাপন করতে গিয়ে ফ্রান্সে আলজেরীয় বংশোদ্ভূতদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে ইটপাটকেল নিক্ষেপ আর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আলজেরিয়ায় উত্সব চলছে। উত্সব উরুগুয়েতেও। প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ-ভাগ্য ঝুলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ায়। সেই স্বপ্ন তারা পুনরুদ্ধার করেছে পরশু কোস্টারিকার বিপক্ষে দুই লেগ মিলে ২-১ গোলে জিতে। প্রথম লেগটা ১-০ গোলে জিতে এসেছিল উরুগুয়ে। পরশু নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার পরও তাই বিশ্বকাপে উঠে যাওয়ার পথে কোনো বাধা রইল না তাদের। ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামার ৫ মিনিটের মাথায়ই গোল করেছিলেন ‘সুপার সাব’ সেবাস্তিয়ান অ্যাব্রু। ৭৪ মিনিটে সেন্টেনো গোল শোধ করে দিলেও জয় আর ছিনিয়ে নিতে পারেনি কোস্টারিকা। ৩২ নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ১৯৫০ সালে দ্বিতীয় শিরোপা জেতা উরুগুয়ে।

নিউজিল্যান্ড দলে ডাক পেলেন বন্ড

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজে নিউজিল্যান্ড দলে পুনরায় ডাক পেয়েছেন পেস বোলার শেন বন্ড। আজ শুক্রবার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এ কথা জানায়। গত বছর ভারতের বিতর্কিত ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) অংশ নেওয়া ও আঘাতের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন বন্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে দলে ডাক পেলেন তিনি।
আহত থাকায় ৩৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ২০০১ সালে অভিষেক হওয়ার পর মাত্র ১৭টি টেস্ট খেলেছেন। ২২.৩৯ গড়ে নিয়েছেন ৭৯ উইকেট।

বিশ্ব ফুটবল র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে স্পেন

সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হটিয়ে বিশ্ব ফুটবল র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে পৌঁছাল ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শীর্ষে গেল স্পেন। ব্রাজিল গত জুলাই থেকে এক নম্বরে ছিল। স্পেন একধাপ এগিয়ে গেলেও পিছিয়েছে ব্রাজিল। আজ শুক্রবার ফিফা এ কথা জানিয়েছে। ওয়েবসাইট।
ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নেদারল্যান্ড ও ইতালির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। নেদারল্যান্ড তৃতীয় ও ইতালি চতুর্থ। আর প্লে-অফ ম্যাচে বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা রোনালদোর পর্তুগাল রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো—
৬. জার্মানি
৭. ফ্রান্স
৮. আর্জেন্টিনা
৯. ইংল্যান্ড
১০. ক্রোয়েশিয়া