Thursday, August 25, 2011

শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। গতকাল বুধবার দেশটির চোসান ইলবো পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। সম্প্রতি চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরী সাগরে ভাসানোর ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়ে খবর প্রকাশিত হলো।
দক্ষিণ কোরিয়ার অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে তিন-চার বছর লাগবে। দেশটির এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্টে (এডিডি) কয়েক বছর ধরে পুরোদমে এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গবেষণা চলছে। নৌপথে উত্তর কোরিয়ার চেয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধব্যবস্থা জোরালো করতে দক্ষিণ কোরিয়া এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
এ ব্যাপারে এডিডি ও সিউলের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার ইয়াখন্ত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এটি পানির সামান্য উঁচু দিয়ে শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে।

মিয়ানমারে সংস্কারের আহ্বান জানালেন বান কি মুন

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মধ্যে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে সম্পর্কের উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মহাসচিব বলেন, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গত শুক্রবার নোবেলজয়ী নেত্রীর যে আলোচনা হয়েছে, তাতে তিনি উৎসাহিত বোধ করছেন। মহাসচিব আশা করেন, উচ্চপর্যায়ের ওই আলোচনার ফলে দেশটি জাতীয় ঐক্যের দিকে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সাত বছরের গৃহবন্দিত্ব থেকে গত নভেম্বরে মুক্তি পান সু চি। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট থেইন শেইনের সঙ্গে সু চির এ আলোচনা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে। তবে প্রায় দুই হাজার রাজবন্দীর মুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।
বান কি মুন তাঁর বিবৃতিতে মিয়ানমারের রাজবন্দীদের মুক্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
এক বছরের মধ্যে এই প্রথম জাতিসংঘের দূত টমাস ওজেয়া কুইনটানাকে মিয়ানমারে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এটি সরকারের নমনীয় অবস্থানের আরেকটি দৃষ্টান্ত।

সুনামির পর জাপানের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন বাইডেন

ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাত মোকাবিলায় জাপানের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন যুুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত সেন্দাই বিমানবন্দরে বাইডেন বলেন, ‘এ এলাকাটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়ে আমি সত্যি সম্মানিত বোধ করছি। এ এলাকা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আমি কাছে থেকে দেখতে পাচ্ছি।’ এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আপনারা যত দিন চাইবেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
গত ১১ মার্চ ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এ ছাড়া ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয় দেখা দেয়।
এ ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় মোকাবিলায় জাপানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের জানাতে চাই, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, আমি ও আমার দেশের মানুষ আপনাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি অনুরক্ত, আমরা আপনাদের শুভার্থী।’
বাইডেন গত সপ্তাহে এশিয়া সফর শুরু করেন। এ সফরের শেষ দিকে জাপানে রয়েছেন তিনি। বাইডেন ইতিমধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

করাচিতে সেনা মোতায়েনের দাবি

পাকিস্তানের করাচিতে গত এক সপ্তাহে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির নাগরিক, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা গতকাল মঙ্গলবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
দেশটির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বণিক সমিতির (এফপিসিসিআই) সহসভাপতি খালিদ তাওয়াব বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরীহ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শহরটির দায়িত্ব নিতে আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, সহিংসতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকির কারণে লোকজন বাজারে যেতে চাচ্ছে না।
জাতিগত সহিংসতায় গত এক সপ্তাহে করাচিতে ১০১ জন নিহত হয়েছে। এতে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে ১৬ বছরের মধ্যে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা রাস্তা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অপহূত ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করেছেন। সেখানে আরও সহিংসতা ঘটানোর হুমকির বার্তা লেখা ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি একজন কর্মকর্তা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোহাজির ও সংখ্যাগুরু উর্দুভাষীদের সংগঠন মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) এবং পশতুন অভিবাসীদের আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির মধ্যে জাতিগত এ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এমকিউএম এক দিনের ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করলে গতকাল করাচির বিপণীবিতানগুলো বন্ধ ছিল, রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা এবং অফিসে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম।

সুনামির পর জাপানের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন বাইডেন

ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাত মোকাবিলায় জাপানের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন যুুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত সেন্দাই বিমানবন্দরে বাইডেন বলেন, ‘এ এলাকাটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়ে আমি সত্যি সম্মানিত বোধ করছি। এ এলাকা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আমি কাছে থেকে দেখতে পাচ্ছি।’ এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে বাইডেন বলেন, ‘আপনারা যত দিন চাইবেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
গত ১১ মার্চ ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এ ছাড়া ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয় দেখা দেয়।
এ ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় মোকাবিলায় জাপানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের জানাতে চাই, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, আমি ও আমার দেশের মানুষ আপনাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি অনুরক্ত, আমরা আপনাদের শুভার্থী।’
বাইডেন গত সপ্তাহে এশিয়া সফর শুরু করেন। এ সফরের শেষ দিকে জাপানে রয়েছেন তিনি। বাইডেন ইতিমধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রাশিয়া থেকে শুধু খাদ্য চান কিম?

ত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের রাশিয়া সফরের লক্ষ্য কী—দেশটির ব্যাপারে কৌতূহলী অনেকেরই এখন এ প্রশ্ন। কাউকে কিছু জানার সুযোগ না দিয়ে গত শনিবার হুট করে সাঁজোয়া ট্রেনে করে মস্কো গিয়ে হাজির কিম।
গত নয় বছরের মধ্যে সে দেশে এটাই তাঁর প্রথম সফর। তবে সফরের লক্ষ্য ও বিষয় নিয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। উত্তর কোরিয়া এখন অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানেই তিনি এ সফর করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি চীন সফর করেন কিম। গত এক বছরের মধ্যে সে দেশে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় সফর। ওই সফরের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি রাশিয়া সফরে গেলেন। টানা ১৭ বছরের শাসনামলে এমন ব্যস্ততার সঙ্গে বিদেশ সফর করেননি তিনি।
রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য চীন ও রাশিয়ার কাছে ঋণী উত্তর কোরিয়া। কয়েক দশক ধরে পিইংইয়ংয়ের প্রধান মিত্র হিসেবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে মস্কো। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারাই মূলত উত্তর কোরিয়াকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে এসেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের ক্ষমতাশালী প্রায় সব দেশের সঙ্গে এখন উত্তর কোরিয়ার বৈরিতা চলছে। সে ক্ষেত্রে মিত্র দেশ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কন্নোয়ন জরুরি। বর্ষীয়ান নেতা কিম শিগগির ছোট ছেলে জং উনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এ জন্য তিনি চীন ও রাশিয়ার জোরালো সমর্থন চান বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাশিয়া সফরে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের সঙ্গে কিমের বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ছয় জাতি আলোচনার বিষয়টি স্থান পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এই আলোচনা একসময় খুব জোরেশোরে শুরু হলেও দুই বছর আগে এতে অচলাবস্থা দেখা দেয়। কোরীয় সীমান্তে সম্প্রতি দুই দেশের সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ইদানীং প্রায়ই উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার যৌথ সামরিক মহড়া নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। এ পরিস্থিতিতে তারা চাইবে চীন ও রাশিয়া আবার শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক।
রাশিয়ার কাছে আরও যে দুটি জিনিস কিমের খুব করে চাওয়ার রয়েছে, তা হচ্ছে খাদ্য ও জ্বালানি সহায়তা। খরা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ভালো শস্য হয়নি উত্তর কোরিয়ায়। বিদেশি খাদ্য সহায়তাও নিষেধাজ্ঞার বিধিনিষেধে আটকে পড়েছে। এতে সে দেশে এখন চরম খাদ্য সংকট বিরাজ করছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে কিম বড় ধরনের খাদ্য সহায়তা চাইতে পারেন মেদভেদেভের কাছে।

কাশ্মীরে তিন হাজার বেওয়ারিশ লাশের কবর নিয়ে তদন্ত

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের উত্তরের ৩৮টি অঞ্চলে রয়েছে প্রায় তিন হাজার বেওয়ারিশ লাশের কবর। রাজ্য মানবাধিকার কমিশন স্বীকার করেছে, ওই ৩৮টি অঞ্চলে তারা দুই হাজার ৭৩০টি কবরের সন্ধান পেয়েছে। এখন রাজ্য মানবাধিকার কমিশন রাজ্যের নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ওই কবর শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার ১১ সদস্য নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে।
কমিশন বলেছে, তাদের কাছে উত্তর কাশ্মীরের ৩৮টি অঞ্চলে ওই কবরের সন্ধান তারা পেয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশের হাতে বা বিভিন্ন সংঘর্ষে এসব ব্যক্তি মারা গেলেও পরবর্তী সময়ে স্বজনদের পক্ষ থেকে এসব লাশ শনাক্ত করা হয়নি। এতে বেওয়ারিশ হিসেবেই এসব লাশ কবর দেওয়া হয় বলে মনে করছে কমিশন।
এদিকে এই বেওয়ারিশ কবর নিয়ে সংবাদমাধ্যম তৎপর হলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ব্যাপারে তদন্ত করার আহ্বান জানায়। এরপর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন তৎপর হয়ে ওই বেওয়ারিশ কবরের অনুসন্ধান শুরু করে। কমিশন দুই হাজার ৭৩০টি কবরের সন্ধান পায়। তবে এর মধ্যে ৫৭৪টি কবরের লাশ তাদের আত্মীয়স্বজনেরা শনাক্ত করেন।
কমিশন চাইছে, রাজ্যের নিখোঁজসংক্রান্ত মামলার নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই কবরের কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা তদন্ত করে বের করা। একই সঙ্গে কমিশন চাইছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের হদিস মিললে এর বিরুদ্ধে মামলা করতে।

মেদভেদেভ-কিম বৈঠক আজ

রাশিয়া সফররত উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল গতকাল মঙ্গলবার সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নগর উলান-উদেতে পৌঁছেছেন। আজ বুধবার মস্কো থেকে পাঁচ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার দূরের ওই শহরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এতে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি, খাদ্যসংকট ও জ্বালানির বিষয় থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সিরিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে জাতিসংঘের কমিশন

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে নতুন তদন্ত কমিশন গঠন করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)। রাশিয়া, চীন ও কিউবার আপত্তি সত্ত্বেও তদন্ত কমিশন গঠন করল জাতিসংঘ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব সহজেই ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মানবাধিকার কাউন্সিলে পাস হয়। তদন্ত কমিশন গঠনের পক্ষে ৩৩ এবং বিপক্ষে চার সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়। নয়টি রাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। এ বছরের শুরুতে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করায় তারা ভোট দিতে পারেনি।
ভোটদানের পর ইউএনএইচআরসির সভাপতি উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত লরা দুপুয়ে লাসেরি বলেন, ‘প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে।’
২২০০ সরকারবিরোধী নিহত: সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত দুই হাজার ২০০ জন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল জরুরি বৈঠক করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নভি পিল্লাই গত সোমবার কাউন্সিলকে জানান, ‘সিরিয়ায় গত মধ্য মার্চে গণবিক্ষোভ শুরুর পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সেখানে দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর সেখানে ৩৫০ জনের বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে।’
সিরিয়ার আন্দোলনকারীরা আল-জাজিরাকে বলেন, সোমবার হোমস শহরে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।

এনটিসির সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক

লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। চার দশকের বেশি সময় ধরে কঠোরভাবে লিবিয়া শাসন করেছেন তিনি। তাই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাঁর পতনের পর লিবিয়ার পরিস্থিতি কী হবে? কী হবে বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) অবস্থান?
গাদ্দাফির পতনের পর এনটিসির প্রধানকে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে তা হলো: লিবিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুদ্ধের ফলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন ও রাজনীতিকে পরিবর্তিত পর্যায়ে উত্তরণ। আর যারা স্বৈরশাসন হটাতে নিজেদের সবকিছু উৎসর্গ করছে, তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা।
গত ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর বিদ্রোহীদের অনেক কার্যক্রম ছিল বেশ গোছানো। এনটিসি গঠন করা, স্থানীয়ভাবে বিপ্লবী দল গড়ে তোলা—দারুণ সমন্বিতভাবে এবং নিয়মের মধ্য থেকে এসব করা হয়েছে। আবার এর উল্টো পিঠও দেখা গেছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে বিদ্রোহীদের মধ্যে মতবিরোধের কারণেই তাদের সামরিক শাখার নেতা জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ ইউনিসকে হত্যা করা হয়। অবশ্য তাঁকে হত্যার কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া গাদ্দাফিবিরোধী যুদ্ধে বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠী জড়িত রয়েছে। স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত একটি কৌশল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা করতে হবে স্থানীয় বিপ্লবী ও জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে।
মিসর বা তিউনিসিয়ার মতো উন্নত দেশ লিবিয়া নয়। তাই সব মিলিয়ে লিবিয়ার নতুন কোনো নেতা অদূর ভবিষ্যতে আঞ্চলিকভাবে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।
গাদ্দাফিকে কোণঠাসা করতে লিবিয়ায় সামরিক জোট ন্যাটোর হামলা অবশ্যই বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সহায়তা করেছে। আবার মিসর বা তিউনিসিয়ার মতোই লিবিয়াতেও জনগণ বিদ্রোহীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। বিদ্রোহীরা প্রথমেই জনগণের হূদয় জয় করে নিয়েছে।
লিবিয়ায় এই ‘সাফল্যে’র পর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ পাশ্চাত্য শক্তি কোন দিকে যাবে? ইয়েমেন ও সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে সিরিয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রয়োজন এই দেশটিকে সামরিক অভিযানমুক্ত রাখা।

কৃষক যখন বিজ্ঞানী

ব্যর্থতায় সাফল্যের সোপান’, ‘চেষ্টা করলে কি না হয়’—এসব প্রবাদ চীনা কৃষক স্যু মানসেংয়ের কাছেই মানায়। নিজের তৈরি যানে আকাশে ওড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। এ ইচ্ছার বাস্তব রূপ দিতে ঘরে বসেই দুবার জেট উড়োজাহাজ এবং একবার উড়ুক্কু সসার তৈরির প্রয়াসে ব্যর্থ হলেও চতুর্থবার তিনি সফলভাবে সসার তৈরি ও উড্ডয়নে সফল হন।
চীনের হুবেই প্রদেশের উয়াওহানের কৃষক স্যু মানসেং বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ফেলেন প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই। তবে তিনি উড়ুক্কু যান তৈরির জন্য মেকানিকস ও ইলেকট্রনিকস বিদ্যায় নিজেকে যথেষ্ট পারদর্শী করে গড়ে তোলেন।
প্রথম চেষ্টায় তৈরি জেট উড়োজাহাজটির একটি টায়ার উড্ডয়নের আগেই রানওয়েতে বিস্ফোরিত হলে তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আর দ্বিতীয় জেটটি নিয়ে আকাশে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মাথায় বিধ্বস্ত হয়।
দুবার জেট তৈরির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি মনোনিবেশ করেন উড়ুক্কু সসার তৈরিতে। প্রথম চেষ্টায় গত বছর এর পেছনে ব্যয় করেন ছয় হাজার ডলার। সে যাত্রায়ও ব্যর্থ হন স্যু। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ব্যর্থতাকে শক্তি ধরে নতুন উদ্যমে আবার শুরু করেন কাজ। চলতি বছর দ্বিতীয় মেয়াদে আর ব্যর্থ হননি তিনি। একটি প্রপেলারের সঙ্গে সংযুক্ত আটটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি সফল উড়ুক্কু সসার তৈরি করে ফেলেন তিনি। এমনকি নিজের তৈরি উড়ুক্কু যানে সফলভাবে দুই মিটার উচ্চতায় আকাশে উড়েছেনও তিনি।
নিজের সফলতায় উচ্ছ্বসিত স্যুর দৃষ্টি এখন আরও ওপরে। তিনি নিজের তৈরি উড়ুক্কু সসারটির আরও উন্নত ও পরিমার্জিত সংস্করণ বের করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। এর সঙ্গে তাঁর ইচ্ছা, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আগ্রহী শিশুদের জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

ভারতের জন্য মরতে প্রস্তুত আন্না হাজারে

একটি শক্তিশালী লোকপাল বিলের দাবিতে অনশনরত সমাজকর্মী আন্না হাজারে গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ভারতের জন্য তিনি মরতেও প্রস্তুত। এদিকে আন্না ও তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে অচলাবস্থা নিরসনে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। আজ বুধবার বিকেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা।
গতকাল নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার সমর্থকের সমাবেশে আন্না হাজারে বলেন, ‘দেশের জন্য মরতে পারা আমার জন্য হবে সৌভাগ্যের বিষয়। আমার দাবি কখনো বদলাবে না। আমার মাথা কেটে নিলেও আমি নত হব না।’
উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আজ বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় বৈঠক ডেকেছেন মনমোহন। সূত্র জানায়, আন্না হাজারে ও তাঁর সমর্থকদের কিছু দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে গতকাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মনমোহন। এতে আন্না হাজারেকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আন্নার অনশন ভারতবাসীর অনুভূতিতে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। এর জের ধরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের তোড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার এখন কোণঠাসা।
আট দিনের টানা অনশনে আন্নার ওজন প্রায় ছয় কেজি কমেছে। এর মধ্যে তাঁর স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আন্না হাজারের সহযোগী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কিরণ বেদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি ঘণ্টায় শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন।’ তবে তাঁর অবস্থা এখনো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র রাজীব প্রতাপ রুদি বলেন, আন্না হাজারের আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছে।
আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে জনসমর্থন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্নার এই আন্দোলন ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে তাদের ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে না পারলে ভবিষ্যতে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে।
এ ব্যাপারে কিরণ বেদি বলেন, ‘আমি তো দেখছি সরকার কেবল নিজেকে গোছানোর কাজে ব্যস্ত। এখন পর্যন্ত তাদের বাস্তব কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।’

চূড়ান্ত জয়ের আগেই স্বীকৃতি

গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত জয়ী হয়নি লিবিয়ার বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)। এর আগেই আরব লিগ, মিসর, মরক্কো ও ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন আরব দেশ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্যদিকে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে খোলামেলা আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে তিনি জয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত বিদ্রোহীদের সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, এটা এখন পরিষ্কার যে লিবিয়ায় গাদ্দাফি যুগ একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে এবং লিবিয়ার ভবিষ্যৎ এখন ওই দেশের জনগণের হাতে।
লিবিয়ার সংকটে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে দেশের রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়া প্রেসিডেন্ট ওবামা লিবিয়ার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন লিবিয়ার জনগণের পাশে বন্ধু ও সহযোগী হয়ে থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ত্রিপোলিতে অব্যাহত যুদ্ধ সত্ত্বেও ওবামা লিবিয়া-সংকট নিয়ে তাঁর অবস্থানে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তিনি বলেন, লিবিয়ার অবস্থা এখনো অস্থির। সেখানে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী এখনো সেখানে বড় ধরনের হুমকি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সমন্বয়ে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে বিশেষ লিবিয়া সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দ্রুত সংঘাত পরিহার করে ক্ষমতা পরিবর্তনের পথ মসৃণ করতে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বান কি মুন বলেন, এটা আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত, তবে সামনে এখনো অনেক ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সংগঠন এনটিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে গত সোমবার এক বিবৃতি দিয়েছে আরব দেশগুলোর সংগঠন আরব লিগ। বিবৃতিতে বলা হয়, এনটিসির নেতৃত্বে চলমান সব ধরনের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরাবি।
দেশজুড়ে অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বিরোধীদের ওপর গাদ্দাফি বাহিনীর দমন-নিপীড়ন শুরু হলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করে আরব লিগ। এ ছাড়া সংগঠনটি লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমাদের ঘোষণার প্রতিও সমর্থন জানায়।
এ ছাড়া লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন দিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ কামেল আমর এক বিবৃতিতে বলেন, লিবিয়ার এনটিসিকে দেশটির বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে মিসর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এমন একসময় মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণা এল, যখন আরব লিগে লিবিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব বিদ্রোহীদের সংগঠন এনটিসির কাছে হস্তান্তরের তোড়জোড় চলছে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষও এনটিসিকে গত সোমবার স্বীকৃতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএফএ। এ ছাড়া মরক্কো এনটিসিকে লিবিয়ার জনগণের ‘একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। চীনও গাদ্দাফির শাসন অবসানে লিবিয়ার জনগণের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। চীনা মুখপাত্র মা ঝাওসু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার সাম্প্রতিক পরিবর্তন লক্ষ করেছি এবং আমরা লিবিয়ার জনগণের পছন্দকে সম্মান করি।

উয়েফার কাছে আর্সেনালের আপিল

উয়েফার কাছে আপিল করেছে আর্সেনাল। কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতেই গতকাল আপিল করেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
আজই ইতালিয়ান ক্লাব উদিনেসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফের গুরুত্বপূর্ণ খেলা গানারদের। আর এই ম্যাচে যাতে ডাগ আউটে বসতে পারেন, সে জন্যই করা হয়েছে আপিল। এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে ডাগ আউটে থাকতে পারার কথা নয় ওয়েঙ্গারের।
গত সোমবার উয়েফার নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্য করার কারণেই আরও দুই ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল ওয়েঙ্গারের ওপর। আর্সেনালের মুখপাত্র মার্ক গোনেলা কাল ব্যাখ্যা করেছেন আপিলের কারণ, ‘আর্সেনাল ও উয়েফার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছিল, ম্যানেজার সহকারীকে নির্দেশনা দিতে পারবে। তাই সে ফোনে কথা বলেছে। আর এখন বলা হচ্ছে, কাজটা আইনবিরুদ্ধ হয়েছে। তাই এই আপিল।

অস্ট্রেলিয়ার কোচ হতে চান আর্থার

মিকি আর্থারের দৃষ্টি এবার অস্ট্রেলিয়া দলের দিকে। সুযোগ পেলে রিকি পন্টিংদের কোচ হতে চান সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। কোচ হিসেবে গত দশকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট এবং ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে তুলেছিলেন আর্থার। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ারই রাজ্যদল ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার (ডব্লুএ) কোচ হিসেবে। এখানে তাঁর চুক্তি আছে আরও দুই বছর।
তবে প্রস্তাব পেলে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান কোচ টিম নিলসনের উত্তরসূরি হতে প্রস্তুত ৪৩ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া। ‘এটা বিবেচনা না করলে আপনি হয়তো বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কিন্তু আমি বলেছি এবং আমি এটা সব সময়ই বলি, এই মুহূর্তে আমার কাজ নিয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। ডব্লুএর সঙ্গে কাজ করে আমি খুশি। এখানকার ক্রিকেট কাঠামোটাও খুব ভালো’, বলেছেন আর্থার।
এর পরই যোগ করেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত জীবনের সবকিছুই সময়মতো হয় না। যদি এ রকম কিছুর (অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে প্রস্তাব) সম্ভাবনা জাগেই, তখন এটাকে মনোযোগের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’

উদ্ভাসিত জয়ে উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ড

ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে কেভিন পিটারসেন বলেছিলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্সে আমরা নিজেরাই চমকে গেছি।’ শুধু কি নিজেরাই, পিটারসেনরা তো চমকে দিয়েছেন আসলে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকেই!
টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে ইংল্যান্ডকে সিরিজ জিততে হতো দুই টেস্টের ব্যবধানে। এবারের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ দুই সিরিজে হারেনি ভারত, ড্র করেছিল ২০০২ সালে, ২০০৭ সালে তো সিরিজ জিতেই ফিরেছিল দেশে। এবার ইংল্যান্ডে গিয়েছিল এক নম্বর দল হিসেবে। সিরিজ শুরুর আগে দুই টেস্টের ব্যবধানে ভারতকে হারানো মনে হচ্ছিল ভীষণ দুরূহ। সেই কঠিন কাজটি কী অনায়াসেই না করল ইংল্যান্ড! প্রথম তিন টেস্টে তো জয়ের ব্যবধান শুধু বেড়েছেই—লর্ডসে ১৯৬ রান, নটিংহামে ৩১৯ আর এজবাস্টনে ইনিংস ও ২৪২ রানে। ওভালে ইনিংস ও ৮ রানে জিতে পূর্ণতা পেয়েছে ইংল্যান্ডের শীর্ষে ওঠার উৎসব।
সিরিজ জয় ও এক নম্বরে ওঠা নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের প্রতিক্রিয়ায় তাই ছিল ওভালের জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস, ‘অসাধারণ দলীয় প্রচেষ্টার ফসল এই জয়। উইকেটে সাহায্য না থাকার পরও বোলাররা ভালো করেছে। ওদের ফলোঅন করাতে পেরেছি বোলারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। দ্বিতীয় ইনিংসে দল তাকিয়ে ছিল সোয়ানের দিকে এবং ও কী দারুণভাবেই না নিজেকে মেলে ধরল! তবে ইয়ান বেলের ইনিংসটার (২৩৫) কথা ভুলে গেলে চলবে না। ওকে এত ভালো খেলতে আর কখনো দেখিনি।’
ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরা হওয়া বেলের কণ্ঠে ছিল দলীয় সমঝোতার জয়গান, ‘দলে সুস্থ একটি প্রতিযোগিতা চলছে। একজন আরেকজনের চেয়ে ভালো করতে চায়। অসাধারণ একটি দল, অসাধারণ সব সতীর্থ। সবাই সব সময় আরও উন্নতি করতে চায়।’
সিরিজ শুরুর আগে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল যাঁর, সেই স্টুয়ার্ট ব্রডই সিরিজ-সেরা। ১৩.৮৪ গড়ে ২৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৬০.৬৬ গড়ে করেছেন ১৮২ রান। বেলের মতো তাঁর কণ্ঠেও দলের জয়গান, ‘এই সিরিজটার জন্য অনেক কষ্ট করেছিলাম। তার সুফল পেয়েছি। বোলাররা পরিকল্পনা করেছিলাম একটু ফুলার লেংথে বোলিং করব, সঙ্গে থাকবে বাউন্সের মিশ্রণ। সবাই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে। এই জয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত।’
জয়ের নেপথ্য নায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মনে পড়ে গেছে ২০০৯ অ্যাশেজ জয়ের কথা, ‘ওই সিরিজ জয়ের পরও এমন উৎসব হয়েছিল। অ্যাশেজ অবশ্যই বিশেষ কিছু, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মানুষের কাছে এর গুরুত্ব আলাদা। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে জয়টাও কম নয়।’
চার টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে ভারত। ‘বিশ্বসেরা’ ব্যাটিং লাইনআপের দল সিরিজের ৮ ইনিংসে ৩০০ ছুঁতে পেরেছে মোটে একবার। ইংল্যান্ডের উইকেট-প্রতি রান যেখানে ৫৯.৭৬, ভারতের সেখানে ২৫.৫৫! অধিনায়ক ধোনি তবু একে আত্মসমর্পণ বলতে নারাজ, ‘ইংল্যান্ডকে প্রাপ্য কৃতিত্বটা আমাদের দেওয়া উচিত, চার টেস্টেই ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। আমি আত্মসমর্পণে বিশ্বাস করি না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ সময়ে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ অনেকে আইপিএলের ক্লান্তিকেই এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলছেন। তবে এতে খুবই বিরক্ত ভারত অধিনায়ক, ‘এখানে আইপিএলের ব্যাপার নেই। সবকিছু আইপিএলের ওপর চাপাবেন না।’
ভারতের কোচ হিসেবে ডানকান ফ্লেচারের শুরুটা হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে কোনো রকমে পাওয়া জয় দিয়ে। এর পরই নিজের সাবেক দলের কাছে এই পরাজয়। ধোনি তবু ফ্লেচারের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না, ‘আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি, তাঁর নিশ্চয়ই খারাপ লাগছে। তবে আমি ও ডানকান মিলে অবশ্যই ভারতের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সামনেই ওয়ানডে সিরিজ। এই সংস্করণের আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আশা করি, ভালো করব।’
এক নম্বর দল হিসেবে এসে ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জা কি আর ওয়ানডে সিরিজের সাফল্য ঢাকতে পারবে!