Tuesday, August 13, 2019

কাশ্মীর: কারফিউর মধ্যে ঈদ, বড় মসজিদ-ঈদগাহ বন্ধ by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় শ্রীনগরসহ গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় আজ (সোমবার) কোরবানির ঈদ পালিত হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর কঠোর কারফিউর মধ্যে।
শ্রীনগরের বড় কোন মসজিদে বা প্রধান রাস্তায় ঈদের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
শহরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য, মোবাইল-ল্যান্ডলাইন বা ইন্টারনেট পরিষেবাও এখনও চালু হয়নি।
এদিকে বাকি ভারতের যেসব অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীরে গিয়ে কাজ করতেন, অগ্নিগর্ভ উপত্যকা থেকে তারাও দলে দলে ফিরে আসছেন - কিন্তু ঈদের আগে তারা হাতে যে কিছু টাকা-পয়সা পাবেন বলে ভেবেছিলেন সে সব কিছুই তাদের জোটেনি।
শ্রীনগর থেকে সোমবার সকালে বিবিসির ইউগিতা লিমায়ে জানাচ্ছিলেন, গত দুদিন ধরে শহরে কারফিউ যে অল্প কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, তা ঈদের দিন সকাল থেকেই ফের উধাও।

কেন কারফিউ, জবাব নেই

কিন্তু কেন আবার নতুন করে এই কড়াকড়ি, সরকারি কর্মকর্তারা তার কোন জবাব দিচ্ছেন না। তারা দাবি করছেন কোন কারফিউ নেই, শুধু নিয়মটা হল চারজনের বেশি লোক একসঙ্গে এক জায়গায় জড়ো হতে পারবেন না।
অথচ রাস্তায় দেখা যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি মাইকিং করে বেড়াচ্ছে, কেউ যেন কারফিউতে বাড়ি থেকে না-বেরোয়। ইউগিতা লিমায়ের কথায়, সব মিলিয়ে যেন একটা পরস্পরবিরোধী বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
কাঁটাতার বসিয়ে বড় রাস্তায় বেরুনোর পথ বন্ধ করা হয়েছে। শ্রীনগরে বড় সব মসজিদ, ঈদগাহ বন্ধ রাখা হয়।
কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিবিসির অন্য সংবাদদাতারাও জানাচ্ছেন, জামিয়া মসজিদ বা হজরতবালের মতো প্রধান মসজিদগুলোতে কোন বড় ঈদ জামাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মানুষকে বলা হয়েছে, নিজেদের মহল্লাতে স্থানীয় ছোট মসজিদেই যেন তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ শ্রীনগরের একটি মসজিদের ভেতর ঈদের নামাজ পড়ছেন, তবে সেখানেও বড়জোর ৭০ বা ৮০ জনের মতো ছিলেন।

ঈদের দিনেও গুলি

এর মধ্যে খবর এসেছে, পুলিশের পেলেট গান বা ছররা বন্দুকের গুলিতে আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে - যদিও সরকার সে কথা অস্বীকার করছে।
গুলিতে জখম হয়ে হাসপাতালে কেউ ভর্তি আছেন কি না, বিবিসির এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেন পুলিশ এখনও পর্যন্ত একটা বুলেটও চালায়নি।
দিল্লিতে কাশ্মীরিদের সাথে ঈদের খাবার খাচ্ছেন লেখক, মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতি রয়
এদিকে কাশ্মীরে সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট ঈদের দিনেও অব্যাহত, আজ অন্তত মানুষ টেলিফোনে প্রিয়জনদের সঙ্গে একটু কথা বলতে পারবেন তাদের সেই আশাও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যে দলে দলে অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীর ছেড়ে বাসে বা ভাড়া গাড়িতে পালাতে শুরু করেছেন।
শ্রীনগরে শহরের লালচক এলাকার কাছে জনাকয়েক কাশ্মীরি বিবিসিকে বলেন, বাংলা-বিহার-দিল্লি থেকে বহু শ্রমিক রোজগারের আশায় এখানে আসেন। কাশ্মীরে মজুরির জন্য তারা যে পয়সা পান ভারতের কোথাও তা পাওয়া যায় না, উল্টো মালিক এখানে দুবেলা তাদের খেতেও দেয়। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তে এই বিহারি বা হিন্দুদেরও এখন পালাতে হচ্ছে, অর্থাৎ সব ধর্মের লোকেরাই এর ফল ভুগছে।
উপত্যকা ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেক বহিরাগত
ঈদের আগে টাকা-পয়সা হাতে পেবেন ভেবে যে শ্রমিকরা আশায় আশায় ছিলেন, গত এক সপ্তাহের পরিস্থিতি তাদের ভীষণ নিরাশ করেছে - ফলে তারা এখন জম্মুর বাসের টিকিট খুঁজছেন।
শ্রীনগরে ঈদের দিনে সুনসান রাস্তা। বড় কোনো মসজিদেই ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এমনই একজন বিজনৌরের বিকাশ কুমার, যিনি শ্রীনগরে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি বলেন, "কাজকর্ম সব বন্ধ, পয়সাই পাচ্ছি না। এখানে থেকে আর কী করব, বলুন? মালিকও তো মুশকিলে আছে দেখতে পাচ্ছি। খুব সমস্যায় পড়েছি, পয়সা ছাড়া চলবে কী করে?"
পশ্চিমবঙ্গের মালদা থেকে কাশ্মীরে কাজ করতে আসা জাহাঙ্গীর আলমও বৌ-ছেলেমেয়ে নিয়ে মহা বিপদে পড়েছেন।
"কাশ্মীরের লোকজন কিন্তু ভীষণ ভালো। আমরা সেই ২০১২ সাল থেকে এখানে কাজ করছি, আগেও কত হরতাল-বনধ হয়েছে, কেউ আমাদের গায়ে এতটুকু হাতও দেয়নি। ঠিকঠাক কাজ করেছি, ভালো পয়সা পেয়েছি - কখনও অসুবিধে হয়নি। কিন্তু এখন এই যে দুম করে কাজটা করল - দশ-বারো দিন সময় দিয়ে করলে তবু লোকগুলো হাতে পয়সাটা পেত। এখন তো ভুখা মরার দশা! সবাই কান্নাকাটি করছে, কীভাবে যাবে, মেয়েছেলে নিয়ে কোথায় যাবে বল?"
ফলে এবারের কোরবানির ঈদে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে শুধুই দমবন্ধ আতঙ্ক, উত্তেজনা আর হতাশারই ছবি। তা সে কাশ্মীরের ভূমিপুত্রদের জন্য যেমন, তেমনি বহিরাগতদের জন্যও।
কাশ্মীর উপত্যকা ছাড়ছেন ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে আসা শ্রমিকরা

কাশ্মীর: কী করতে পারে পাকিস্তান, ক্ষমতা কতদূর by শাকিল আনোয়ার

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়াতে একের পর তীব্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মোদী সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে হিটলার এবং নাৎসিদের তুলনা করছেন।
সোমবার টুইটারে ইমরান লিখেছেন, "কারফিউ, কঠোর বিধিনিষেধ, এবং ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে আসন্ন গণহত্যা আরএসএস-এর (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং-সেবক সংঘ) আদর্শ, যে আদর্শ নাৎসিদের আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত। জাতিগত শুদ্ধির মাধ্যমে কাশ্মীরের জনসংখ্যার অনুপাত বদলের চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, মিউনিখে হিটলারকে যেভাবে তোষণ করা হয়েছিল, বিশ্ব কী এবারও তেমনই ভূমিকা নেবে?"
তার আগে আরেকটি টুইটে ইমরান খান লেখেন, "আরএসএস-এর হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদের আদর্শ নিয়ে আমি শঙ্কিত, কারণ এটা নাৎসিদের আদর্শের মত।"
"ভারত শাসিত কাশ্মীরে এই আদর্শ প্রতিহত করতে হবে। না হলে ভারতে মুসলিম নির্যাতন বাড়বে এবং একসময় পাকিস্তানকেও টার্গেট করা হবে। হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদ হিটলার-শাহিরই একটি সংস্করণ।"
আরএসএস ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক সংগঠন।

নাৎসিদের সাথে তুলনা

বোঝাই যায়, ভারতের সরকারি দলের সাথে হিটলার এবং নাৎসিবাদের সাথে তুলনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন ইমরান খান।
ফেব্রুয়ারিতে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের সাথে যুদ্ধ প্রায় প্রায় বেধে গিয়েছিল।
ক'মাস যেতে না যেতেই কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বিলোপের ভারতের এই অকস্মাৎ সিদ্ধান্তের প্রচণ্ড এক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে তাকে।
মিডিয়া রিপোর্ট এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য থেকে এটা কম-বেশি স্পষ্ট যে, সোমবার যেভাবে ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন অবসান করে, তাতে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেহমুদ কোরেশি সেদিনই জিও টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে কার্যত স্বীকার করেন, তিনি ভারতের এই পদক্ষেপে তিনি হোঁচট খেয়েছেন।
পরপরই পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে একের এক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।

কূটনীতিই কি পাকিস্তানের একমাত্র পথ

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দফায় দফায় সরকারী মন্ত্রী এবং সেনা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে দিল্লিতে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে এনেছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সোমবারই এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের মানুষের প্রতি দায়বোধ পালনে তারা যে কোনো পথ নিতে প্রস্তুত।
কিন্তু কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সাথে আরেকটি যুদ্ধের মতো চরম কোনো পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা পাকিস্তানের?
এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মহল থেকে কার্যত সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে।
সামরিক পথে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের দূত মালিহা লোধী।
শুক্রবার সিএনএন সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক পথে এগুনোর বহু রাস্তা পাকিস্তানের সামনে খোলা, এবং সেই পথেই তারা এগুবে।
দক্ষিণ এশিয়া নিরাপত্তা বিষয়ের বিশ্লেষক ড সৈয়দ মাহমুদ আলী বিবিসিকে বলেন, কাশ্মীরের সর্ব-সাম্প্রতিক এই ইস্যুটিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যাওয়া ছাড়া পাকিস্তানের সামনে এখন তেমন কোনো বিকল্প নেই।
"জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিনটি প্রস্তাব রয়েছে। ভারতের সিদ্ধান্তে ঐ সব প্রস্তাব অকার্যকর হয়ে যায়নি। জাতিসংঘ এবং একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেতে হবে পাকিস্তানকে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের কতটা গুরুত্ব দিতে পারে

ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য উন্মুখ এবং সেজন্য তালেবানের সাথে তারা একটি শান্তি মীমাংসা করছে। এই প্রচেষ্টায় সাফল্যের পাকিস্তানের সহযোগিতা আমেরিকার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ড. আলী বলেন, ইমরান খান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ভালো - যেটা হয়তো পাকিস্তান কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। "ট্রাম্প ও ইমরানের সম্পর্ক বহুদিনের, ২৫ বছর ধরে তারা পরস্পরকে চেনেন, যোগাযোগ আছে।"
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দি ডেইল টাইমস পত্রিকা এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, আমেরিকা এবং নেটো যদি জাতিসংঘ প্রস্তাব মেনে চলার জন্য ভারতের ওপর চাপ তৈরি না করে, তাহলে পাকিস্তানের উচিৎ আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া।
আফগানিস্তান-ভারতের বাণিজ্য পথ এবং পাকিস্তানের আকাশ ভারতের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করছেন পাকিস্তানের কেউ কেউ।
চীনের ওপরও চাপ তৈরির কথা লিখেছে ডেইলি টাইমস - "চীন যদি চায় চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি নিরবিচ্ছিনভাবে চলুক, তাহলে চীনকে পাকিস্তানের সাথে কাঁধ মেলাতে হবে।"
পাকিস্তানের সাবেক একজন কূটনীতিক এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শামসাদ আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, পাকিস্তানের সরকারের উচিৎ প্রভাবশালী দেশেগুলোতে গিয়ে গিয়ে বলা যে ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের কত বড় হুমকি তৈরি হয়েছে।
"প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন কাশ্মীর প্রসঙ্গে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব করলেন, পরপরই ভারত কাশ্মীরে এই কাণ্ড করলো..এখানে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকাই নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানকে এই বিষয়টিকেই বোঝাতে হবে।"
পাকিস্তানের আরেক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নাজমুদ্দিন শেখ বলেন, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াকে কাজে লাগাতে পারে পাকিস্তান, তবে কোনো ভাবেই পাকিস্তানের উচিৎ হবেনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিষয়টিকে শর্ত হিসাবে তুলে ধরা।
"পাকিস্তানের এখন উচিৎ হবে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্রদের কাছে গিয়ে বলা যে, আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতার সার্থে পাকিস্তান এবং ভারতের সংঘাতের সমাধান হওয়া প্রয়োজন।। কিন্তু আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করা একবারেই ঠিক হবেনা।"
কাশ্মীরে বিদ্রোহে অস্ত্র বা অন্য কোনো উপায়ে সরাসরি মাথা গলানোর কোনো চেষ্টা থেকেও পাকিস্তানের বিরত থাকা উচিৎ বলেও মনে করেন নাজিমুদ্দিন শেখ।
"ভারত সবসময় দেখাতে চায় পাকিস্তান কাশ্মীর পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারাই সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঢুকিয়ে দেয় কাশ্মীরে। সুতরাং এখন এমন কিছু করা পাকিস্তানের জন্য ঠিক হবেনা যাতে ভারত কোনো অজুহাত পেতে পারে।"
এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত - পাকিস্তান সেই পথেই যাচ্ছে।
ইমরান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং টুইটগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি কাশ্মীরের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পথই নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কোরেশি জেদ্দায় গিয়ে ইসলামি ঐক্য সংস্থা বা ওআইসির কাছে গিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। শুক্রবার তিনি চীনে গেছেন।

চীন কতটুকু এগুতে পারে?

শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে।
পরে পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে চীন।
লাদাখের কিছু কিছু এলাকার মালিকানা দাবি করে চীন, ফলে ইতিমধ্যেই তারা লাদাখকে ভারতের কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিয়েছে। চীনা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
তবে শিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা সামলাতে হচ্ছে বেইজিংকে। ফলে কাশ্মীরিদের ব্যাপারে তারা পাকিস্তানকে কতটা জোরালো সমর্থন জোগাবে, তা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞেরই সন্দেহ রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের অন্য স্থায়ী সদস্যদের পক্ষ থেকেও ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে শোনা যায়নি।

গরুর দুধে যদি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, তাহলে এর মাংস খাওয়া কতোটা নিরাপদ? by সানজানা চৌধুরী

সম্প্রতি গরুর দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় এখন গরুর মাংসের মান নিয়েও ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। যেহেতু গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত হয়েছে, তাহলে গরুর মাংস কতোটা নিরাপদ - এমন প্রশ্ন এখন বেশিরভাগ ভোক্তার।
ঢাকার বাসিন্দা কুলসুমা বেগম সপ্তাহে অন্তত দুইবার গরুর মাংস খেয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যেন কোন কিছুতেই ভরসা পাচ্ছেন না।
বিবিসি বাংলাকে মিসেস কুলসুমা আক্ষেপ করে বলেন, "যেখানে গরুর দুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, তাহলে ওই গরুর মাংসেও তো অ্যান্টিবায়োটিক থাকবে। ওই শরীরটা থেকেই তো দুধটা আসে।"
"আমরা এই দূষিত মাংস কিভাবে খাব? মাংস তো আর নিষিদ্ধ করা যাবেনা।"

অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া গরুর মাংস কি নিরাপদ?

সম্প্রতি সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাতে গরুর দুধের পাশাপাশি, এর মাংসেও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।
এ ব্যাপারে পশু চিকিৎসকরা বলছেন, গরু যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এর শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।
বহু মানুষের পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে গরুর মাংসের তরকারি।
কিন্তু পশুর অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মর্জিনা আক্তার।
"এখানে যেটা সমস্যা হচ্ছে যে, গরু বাছুরকে কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই না হলে হাতুড়ে ডাক্তারের মাধ্যমে একটা ওষুধ লিখিয়ে পশুগুলোকে খাইয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কোর্স কমপ্লিট করছেনা। এক কথায় নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করছে না কেউ।"
গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হলে, তাহলে সেটার রেসিডিউটা গরুর শরীরে ওষুধ ভেদে ৭ থেকে ১৫ দিন থেকে যায় বলে জানান মিজ আক্তার।
এই সময়কে গরুর রেস্টিং পিরিয়ড বা উইথড্রয়াল পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে।
এখন এই রেস্টিং পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গরুর দুধ বা মাংস খেলে কোন ঝুঁকি থাকে না।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে কি করছে সরকার?

অ্যান্টিবায়োটিকের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
সেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবেনা বলে উল্লেখ করা হয়।
তারই প্রেক্ষিতে প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জেলা উপজেলার প্রতিটি ওষুধের দোকানে তদারকি শুরু করেছে বলে জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক।
বাংলাদেশে যে পদ্ধতিতে গরুর মাংস রান্না হয় তাতে ব্যাকটেরিয়া বাঁচেনা।
সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে গরুর মাংসের মান পরীক্ষার কথা জানান তিনি।
"আমরা আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের খামারগুলোয় নিয়মিত তদারকিতে নিয়োজিত করেছি। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পশু এবং মানুষ উভয়ের শরীরে ব্যবহৃত হয়। সেগুলোকে অ্যাভয়েড করার কথা বলছি।"
"অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করা আর ওষুধ খাওয়ানো শেষে এটি বিক্রির আগে ৭ থেকে ১৫ দিন রেস্টে থাকার বিষয়টিও প্রচার করছি। এছাড়া ফার্মেসিগুলোয় চেষ্টা করছি মনিটরিং করার।"
তবে জনবলের অভাব থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান মি. ভৌমিক।
"আমার একটা উপজেলাতে পশু ডাক্তার মাত্র একজন। এখন এই একজন ডাক্তার দিয়ে উপজেলার সব প্রাণীকুলের চিকিৎসা দেয়া রীতিমত অসম্ভব ব্যাপার। এই স্বল্পতার কারণেই মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে যাচ্ছে।"
তবে নতুন জনবল সৃষ্টির জন্য একটা প্রস্তাবনা এরইমধ্যে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান মি. ভৌমিক।
তাদের সেই প্রস্তাবনা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।
সেটা পাস হলে সমস্যাগুলো অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া গরুর মাংস খাওয়া যাবে কিভাবে?

গরুর মাংসে যে অ্যান্টেবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সেটা যদি মানবদেহে প্রবেশ করে তাহলে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম।
কাঁচা গরুর মাংস কাটার সময় হাতে গ্লভস পরে নিতে হবে।
তবে নিয়ম মেনে গরুর মাংস রান্না করলে বা সংরক্ষণ করলে সেই ঝুঁকি থাকেনা।
যেহেতু বাইরে থেকে গরুর মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা সেটা বোঝার উপায় নেই। এমন অবস্থায় ভোক্তাদের সচেতন হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন মিজ তাসনিম।
"আমাদের দেশে যেভাবে গরুর মাংস রান্না করা হয়, ওই তাপে অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব মাংসে আর থাকেনা। কিন্তু মাংসটাকে যখন কাটা হচ্ছে, ধোয়া হচ্ছে তখন এটা ছড়াতে পারে।"
এজন্য কাঁচা মাংস নিয়ে কাজ করার সময় হাতে গ্লাভস পরার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া রান্নার আগে বা ফ্রিজে সংরক্ষণের আগে মাংস খুব ভালভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, যেন রক্তের কোন চিহ্ন না থাকে।

সতর্কতা:

কেউ যদি আধা কাঁচা মাংস বা স্টেক, মাংসের কিমা অথবা মাংস সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন তাহলে মিট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসকের মতে, দুষিত মাংস খাওয়ার ফলে ভয়াবহ ফুড পয়জনিং এমনকি রক্তের সংক্রামক রোগ সেপ্টিসেমিয়া হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
তাই বলে আতঙ্কিত হয়ে গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়ার কোন কারণ নেই।
শুধুমাত্র সচেতন হলেই এ ধরণের ঝুঁকি শতভাগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আধা কাঁচা মাংস খেলে মিট পয়জনিংয়ের আশঙ্কা থাকে।

ফ্রিজ ছাড়া মাংস সংরক্ষণ করা যাবে কীভাবে? জেনে নিন কিছু বিকল্প উপায়

কুরবানির ঈদে মাংস কাটা এবং বিতরণের পর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এতগুলো মাংস একসাথে সংরক্ষণের বিষয়টি।
মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সেটাকে রেফ্রিজারেট করে রাখা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলেও বিকল্প আরও নানা পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা যায়।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম জানিয়েছেন, মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে ছয় ঘণ্টা পর পর মাংসটি জ্বাল দিতে হবে, নাহলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভাল থাকে।
এছাড়া ঢাকার কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মাংস সংরক্ষণের বিকল্প অন্যান্য পদ্ধতি।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম মাংস রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন।
এজন্য তিনি মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে পরিষ্কার পানিতে ভালভাবে ধুয়ে নেন। এই মাংসের সাথে কোন অবস্থাতেই চর্বি রাখা যাবেনা।
মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সেটাকে রেফ্রিজারেট করে রাখা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায়।
এরপর মাংসের পানি নিংড়ে নিয়ে তাতে যথেষ্ট পরিমাণে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে নেন, এবং ডুবো পানিতে সেই মাংস কিছুক্ষণ সেদ্ধ করেন মিসেস মাহমুদা।
মাংস আধা সেদ্ধ হলে অর্থাৎ কাঁচা মাংসের গন্ধ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটা চুলা থেকে নামিয়ে তিনি পুরো পানি ছেঁকে ফেলেন।
তারপর মাংসের টুকরোগুলো শিকে গেঁথে রোদে দিয়ে রাখেন।
এভাবে মাংস শুকাতে একটানা চার থেকে সাত তিন সময় লাগে।
বাইরের ধুলোবালি থেকে মাংসগুলোকে বাঁচাতে পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে দিতে পারেন।
মাংসের সব পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে গেলে যেকোনো এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখতে হবে।
শুকনা এই মাংসটি হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর স্বাভাবিক নিয়মে রান্না করা যাবে।
এছাড়া সরাসরি তেলে ভেজেও খেতে পারবেন।
পানিতে মাংস সেদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
এভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা নরমাল ফ্রিজে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়।
এক্ষেত্রে কন্টেইনারের গায়ে মাংস সংরক্ষণের তারিখটি লিখে রাখা ভাল।
তবে বাইরে রোদ না থাকলে এ পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ কঠিন হয়ে যায়।
সেক্ষেত্রে চুলার সাহায্যে মাংস শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে।
এজন্য মাংসগুলো একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিয়ে পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
মিরপুরের বাসিন্দা শারমিন কাজী লেবু ও লবণের সাহায্যে মাংস সংরক্ষণ করেন।
এজন্য তিনি মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে হালকাভাবে ছেঁচে নেন। এরপর লবণ ও লেবুর রসে ঘণ্টা-খানেক ডুবিয়ে রাখেন, যেন মাংসের ভেতরে ভেতরে সেটা পৌঁছায়। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভাল রাখা যায়।
এছাড়া মাংস ভেজেও তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেন।
মাছের শুটকির মতো গরুর মাংস সম্পূর্ণ শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।
এজন্য তিনি মাংস কেটে পরিষ্কার করে আদা বাটা, রসুন বাটা পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাংসটি কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করে রাখেন।
এরপর গরম ডুবো তেলে মসলাসহ মাংসগুলো ভেজে নেন এবং তেল ছেঁকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করেন।
এর পর একদিন অন্তত অন্তত মাংসগুলো উচ্চতাপে গরম করতে হবে। এভাবে মাংস ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত ভাল থাকে।
এছাড়া মশলা ছাড়াই শুধুমাত্র ডুবো তেলে মাংস সেদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য হাঁড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে তেল গরম করে মাংস ডুবিয়ে পুরোপুরি সিদ্ধ করতে হবে।
দু-এক দিন পর পর তেলে ডোবানো মাংস গরম করে নিতে হবে। এভাবে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করা যায়।
এছাড়া লবণ, সোডিয়াম নাইট্রেট ও সোডিয়াম ল্যাকটেট দিয়ে মাংস পুরো একদিন মেরিনেট করে রাখলে সেটা ফ্রিজে ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
এই পদ্ধতিতে মাংসের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
ডুবো তেলে মাংস সেদ্ধ করলে সেটা অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন খর্ব করলেন ভারতের প্রেসিডেন্ট by পি কে বালাচন্দ্রন

পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার তাদের প্রধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো হাসিলের জন্য যেন ব্যাপক তাড়াহুড়ার মধ্যে রয়েছে।

সর্বসাম্প্রতিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্টের আদেশ, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগুরু জম্মু ও কাশ্মীর (জেঅ্যান্ডকে) রাজ্যের স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট সোমবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পার্লামেন্টে যেহেতু সরকারের সার্বিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং যেহেতু তারা দক্ষতার সাথে পার্লামেন্ট ব্যবস্থাপনা আয়ত্ব করেছে, তাই আগেই যেন বোঝা গিয়েছিল যে প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুমোদিত হবে।

রাজ্য হারানো

কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়ার পর শাহ ঘোষণা দেন যে, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মর্যাদা হারিয়েছে এবং এখন থেকে এটা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ইউনিয়ন অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের স্বায়ত্বশাসনের মাত্রা থাকবে খুবই সীমিত। জম্মু ও কাশ্মীর দুটো ভাগে বিভক্ত হবে। একটি অংশে থাকবে জম্মু জেলা ও কাশ্মীর উপত্যকা, অন্য অংশে থাকবে লাদাখ।

কাশ্মীরী নেতাদের গ্রেফতার এবং সেখানে ৩০,০০০ সেনা মোতায়েনের পর এই অঞ্চলটিতে আগাম রাজ্য নির্বাচন – যেটা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হবে বলে মনে করা হয়েছিল, সেটার সম্ভাবনা কমে গেছে। এই রাজ্য বর্তমানে কেন্দ্রের অধীন এবং এখানে গভর্নরের শাসন চলছে।

অনুচ্ছেদ ৩৭০

অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারতের সাথে জম্মু ও কাশ্মীর যুক্ত হওয়ার পর থেকে এটা জরুরি ছিল যাতে এই রাজ্যের স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে কিছু ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশান’ সংক্রান্ত বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। যখন মূলত ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়, তখন একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগুরু রাজ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীর এবং সে কারণে রাজ্যটি মূলত আংশিকভাবে ভারতের সাথে যুক্ত হয়েছে।

ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশান অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর শুধুমাত্র তিনটি বিষয় ভারত সরকারের কাছে সমর্পণ করেছে। সেগুলো হলো প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক। কাশ্মীরের জন্য আলাদা সংবিধানের প্রসঙ্গ ছিল এবং ওই সংবিধান প্রণয়নের জন্য আলাদা অ্যাসেম্বলি গঠনের কথা ছিল।

সেই অনুযায়ী সাংবিধানিক অ্যাসেম্বলি গঠন করে আলাদা সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। কাশ্মীরের সংবিধান প্রণয়নের পর, ওই কন্সটিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বিলুপ্ত করা হয়।

ভারত ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশান গ্রহণ করার পর গভর্নর জেনারেল লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন বলেছিলেন: “আমাদের সরকারের ইচ্ছা হলো কাশ্মীরের আইন শৃঙ্খলা বহাল হওয়া মাত্রই, কাশ্মীরের মাটি হামলাকারীদের (পাকিস্তানি উপজাতী) হাত থেকে মুক্ত হওয়া মাত্রই রাজ্যের সংযোজনের বিষয়টি জনগণের গণভোটের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে”।

মাউন্টব্যাটেন গণভোটের যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেটা ভারতের নেতারা পার্লামেন্টে বেশ কয়েকবার উত্থাপন করেছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও ছিলেন।

ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশানকে ভারতীয় সংবিধানের অংশ ঘোষণা করা হয় যাতে ভারত সরকার ও ভারতীয় পার্লামেন্টের সাথে সাথে কাশ্মীরের ক্ষমতাও পরিস্কারভাবে চিহ্নিত করা থাকে। ৩৭০ অনুচ্ছেদে দুই পক্ষের বিতর্কিত অধিকার ও বাধ্যবাধকতাগুলোর প্রতিফলন ঘটেছে বলে যুক্তি দেন হায়দ্রাবাদের নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল’-এর ফায়জান মুস্তাফা।

অস্থায়ী না কি স্থায়ী?

৩৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে এই সংযোজন অস্থায়ী এবং অন্তর্বর্তীকালীন। তবে প্রফেসর মুস্তাফার মতে, এটা অস্থায়ী কারণ সংযোজনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা ছিল।

প্রফেসর মুস্তাফা যুক্তি দেন যে, সংবিধানের একটা অনুচ্ছেদকে ‘অস্থায়ী’ বলার অর্থ এই নয় যে, সেটা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেভাবেই থাকতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রিজার্ভেশান ফর দ্য শিডিউল কাস্টস আর উপজাতীদের বিষয়টিও অস্থায়ী হিসেবে বর্ণনা করা ছিল। একই রকম ছিল অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহারের বিষয়টিও। কিন্তু দুটোই পরে অব্যাহত থেকেছে।

কেন্দ্রের আইন জম্মু ও কাশ্মীরে প্রয়োগের বিষয়টিও ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের ‘কনসালটেশান’ এবং ‘কনকারেন্স’কে একত্রিত করা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরকে সংবিধানে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এ ধরনের মর্যাদাপ্রাপ্ত রাজ্য আরও রয়েছে।

“৩৭১এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগাল্যান্ডের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং পার্লামেন্টের কোন বিলই নাগাল্যান্ডের আইনসভায় অনুমোদিত না হলে সেটা ওই রাজ্যে প্রযোজ্য হবে না। এ ধরনের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়, নাগাদের সামাজিক আচার, নাগা ঐতিহ্যগত আইন এবং আচরণবিধি, এখানকার জমি ও সম্পদের মালিকানা ও হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়গুলো। এমনকি নাগাল্যান্ডের সিভিল ও অপরাধ বিচার প্রশাসনও ভারতীয় আইনের আওতামুক্ত। তাই, ভারতের পেনাল কোড, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ইত্যাদি আইনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগাল্যান্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়”।

“একইভাবে ৩৭১ অনুচ্ছেদের অধীনে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের জন্যও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রেসিডেন্ট (মহারাষ্ট্রের) বিদর্ভা ও মারাথওয়াদা এবং (গুজরাটের) সাউরাষ্ট্র ও কুচের জন্য আলাদা বোর্ড গঠনের জন্য, এই এলাকাগুলোতে সমমাত্রায় তহবিল বিতরণের জন্য দুই রাজ্যের গভর্নরদের বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারেন”।

মুস্তাফা আরও উল্লেখ করেন, “আরও বহু রাজ্যের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আসাম (অনুচ্ছেদ ৩৭১বি), মনিপুর (অনুচ্ছেদ ৩৭১সি), অন্ধ্র প্রদেশ (অনুচ্ছেদ ৩৭১ ডি ও ই), মিজোরাম (অনুচ্ছেদ ৩৭১জি), অরুণাচল প্রদেশ (অনুচ্ছেদ ৩৭১ এইচ) এবং গোয়া (অনুচ্ছেদ ৩৭১আই)। সিকিমের ক্ষেত্রে এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আদেশ নিষেধের কার্যকারিতা পর্যন্ত সীমিত করা আছে”।

অব্যাহত ক্ষয়প্রাপ্তি

চুক্তির বিশুদ্ধতা লঙ্ঘন করে ভারত সরকার অব্যাহতভাবে প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে ৩৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন করে গেছে।

মুস্তাফা বলেন, “১৯৫৪ সালে প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যে প্রায় পুরো সংবিধানই (অধিকাংশ সাংবিধানিক সংশোধনীসহ) জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন লিস্টের ৯৭টি পয়েন্টের মধ্যে ৯৪টিই এখন জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য প্রযোজ্য। সংবিধানের ৩৯৫টি অনুচ্ছেদের মধ্যে ২৬০টি অনুচ্ছেদই এই রাজ্যের জন্য এখন প্রযোজ্য। একইভাবে ভারতীয় সংবিধানের ১২টি শিডিউলের মধ্যে সাতটি এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে”।

৩৫এ অনুচ্ছেদ কি?

১৯৫৪ সালে প্রেসিডেন্টের আদেশের মধ্য দিয়ে সংবিধানে ৩৫এ অনুচ্ছেদটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের বিশেষ অধিকার ও সুবিধা দেয়া হয়েছে। এটাকে ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ৩৫এ অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যকে অভিবাসী থেকে মুক্ত রাখা এবং বাইরের ক্রেতারা যাতে এখানকার চাকরি এবং অন্যান্য সুবিধা দখল করতে না পারে এবং এখানকার জাতিগত ও ধর্মীয় পরিস্থিতি যাতে বদলে দিতে না পারে।

সে কারণে ৩৫এ অনুচ্ছেদে কোন নারী বাইরের কোন পুরুষকে বিয়ে করলে তাকে রাজ্যের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। এই নিয়মটির অধীনে এই ধরনের নারীরা রাজ্যে অধিকার হারাবে এবং তাদের উত্তরাধীকারীরাও ওই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

এই অনুচ্ছেদ অনুসারে বাইরের কোন ব্যক্তি রাজ্য থেকে স্থানান্তর অযোগ্য কোন সম্পত্তি কিনতে পারবে না, সেখানে স্থায়ী বসতি গড়তে পারবে না, বা সেখানে রাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত কোন স্কলারশিপ সুবিধা পাবে না। এই আইনের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার বাইরে থেকে জনবলও ভাড়া করতে পারবে না, যারা এখানকার অধিবাসী নয়।

আপত্তি

৩৫এ অনুচ্ছেদ নিয়ে দুটো আপত্তি রয়েছে। একটি হলো এটা বৈষম্যমূলক এবং অন্যটি হলো এটা পার্লামেন্টের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়নি বরং প্রেসিডেন্টের আদেশের মধ্য দিয়ে হয়েছে।

৩৫এ একমাত্র অনুচ্ছেদ নয়, যেটা প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়েছে এবং যেটা পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়নি। প্রফেসর মুস্তাফা উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্টের আদেশ ব্যবহারের কারণে ৩৭০ অনুচ্ছেদ অব্যাহতভাবে ক্ষয়ে গেছে।

১৯৫৪ সালে প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যে প্রায় পুরো সংবিধানই (অধিকাংশ সাংবিধানিক সংশোধনীসহ) জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন লিস্টের ৯৭টি পয়েন্টের মধ্যে ৯৪টিই এখন জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য প্রযোজ্য। সংবিধানের ৩৯৫টি অনুচ্ছেদের মধ্যে ২৬০টি অনুচ্ছেদই এই রাজ্যের জন্য এখন প্রযোজ্য। একইভাবে ভারতীয় সংবিধানের ১২টি শিডিউলের মধ্যে সাতটি এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে যখন অধিকার মনে করা হচ্ছে, সে অবস্থায় প্রেসিডেন্টের আদেশে ৩৫এ অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্তিকে কোনভাবেই ভুল বলা যাবে না।

দমনাভিযানের মধ্যে ঐক্য

এদিকে দিল্লি যখন কাশ্মিরের প্রধান দলগুলোর নেতাদের উপর দমন অভিযান জোরদার করেছে তখন তারা রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা রাক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালানোর অঙ্গীকার করেছেন। সরকার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের নোটিশ পাঠিয়েছে।

কার্ফু দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় আতংক দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর প্রধানরা তাদের স্টাফদের জন্য কার্ফু পাস চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সিনিয়র অফিসারদের জন্য স্যাটেলাইট ফোন বরাদ্দের কারণে আশংকা করা হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ইন্টানেটের উপর নজিরবিহীন ব্লাকআউট আসছে।

রাজ্যের নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী অর্থায়নের অভিযোগে দমন অভিযানের কারণে নেতৃত্ব কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ছে। ভারত-পন্থী নেতাদেরও দমনে নেমেছে সরকার। রোববার মেহবুবা মুফতি ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ ওই তালিকায় যুক্ত হয়।

রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরো মেহবুবার আমলে জম্মু-কাশ্মির ব্যাংকে কথিত অবৈধ নিয়োগের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজিন্সি রশিদকে দিল্লি ডেকে পাঠিয়েছে।

মেহবুবা অভিযোগ করেন যে মূল ধারার নেতাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তারা সম্মিলিতভাবে কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারেন।

এরই মাঝে মূলধারার সব নেতা এক হয়ে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে: যেকোন আক্রমণ, হামলার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মিরের পরিচয়, স্বায়ত্তশাসন এবং বিশেষ মর্যাদা রক্ষা ও সমর্থনের ব্যাপারে সকল দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

রোববার এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট ফারুক আব্দুল্লাহ। এতে যোগ দেন ওমর আব্দুল্লাহ, মেহবুবা, পিপলস কনফারেন্সে নেতা সাজ্জাদ লোন, সিপিএমের ইউসুফ তারিগামি, আইএএস টপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া শাহ ফয়সাল ও কংগ্রেস নেতারা।

দলগুলো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেয়েছে।

প্রবল বাধার মুখে নতুন শ্রীলংকা-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চুক্তি সইয়ের প্রচেষ্টা by আনা পারারাজাসিঙ্গম

ভারত মহাসাগরে কৌশলগত অবস্থানের আলোকে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের কাছে আকষর্ণীয় স্থান শ্রীলংকা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ে ভারত মহাসাগরে তাদের অবস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করার প্রেক্ষাপটে শ্রীলংকা হয়ে পড়েছে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন শ্রীলংকার সাথে স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট (সোফা) চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে চাইছে। শ্রীলংকার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৫ সালে প্রথমে যখন এই চুক্তিতে সই করেছিল, তখন দৃশ্যপটে চীন ছিল না।

তবে এখন সোফা চুক্তি নিয়ে শ্রীলংকায় তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এর ফলে দ্বীপদেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এতে করে দেশের সার্বভৌমত্বের সাথে আপস করা হবে। সোফা সই নিয়ে স্থানীয় বিরোধিতার কারণেই ২৭ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর শ্রীলংকা সফর বাতিল হয়। মধ্যপন্থী শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির সভাপতি শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা তার দেশে আমেরিকান সৈন্যের উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শ্রীলংকার বর্তমান সেনাবাহিনীর কমান্ডার মহেশ সেনানায়েকের অবস্থানও একই। তিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, তিনি সোফা সই করবেন না। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা সচিব জেনারেল (অব.) শান্ত কোটেগোড়াও সোফার বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করে বলেছেন, শ্রীলংকায় বিদেশী সৈন্যের প্রয়োজন নেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসার এসএলপিপির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সিংহলি উগ্র জাতীয়তাবাদী দল এমইপি ও মার্কসবাদী জনতা বিমুক্তি পেরামুনাও সোফার বিরোধিতা করছে।

ডানপন্থী ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রধান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিঙ্গেই শুধু সোফা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চাচ্ছেন। ১০ জুলাই তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা পার্লামেন্টে তিনি বলেন, সোফা কোনো সামরিক চুক্তি নয়, এটি মার্কিন সৈন্যদের কিছু অধিকার ও সুবিধা দেয়ার চুক্তি।

তিনি বলেন, সোফা একটি শান্তিকালীন নথি। তিনি পার্লামেন্টকে আশ্বস্ত করে বলেন, শ্রীলংকার সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে, এমন কোনো চুক্তিকে তিনিও সমর্থন করবেন না।

অবশ্য সানডে টাইমসে ৩০ জুন ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তিতে সেনা সদস্য, সামরিক জাহাজ ও বিমানকে অবাধে শ্রীলংকায় চলাচল করতে দেয়ার অনুমতি রয়েছে। তাছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য শ্র্রীলঙ্কায় অপরাধ করলে তার বিচার করতে পারবে না শ্রীলংকা। সোফা চুক্তিতে আবদ্ধ অন্যান্য দেশের নজির এক্ষেত্রে সামনে আসছে। বিশেষ করে হাইতিতে মার্কিন সৈন্যরা শিশুদের পতিতাবৃত্তির একটি চক্র পরিচালনা করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ ওই সৈন্যদের বিচার করতে পারেনি। ফলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, মার্কিন সৈন্যরা কোনো অপরাধ করলেও পার পেয়ে যেতে পারে।

আর সোফা নিয়ে আশঙ্কা প্রশমন করতে শ্রীলংকায় মার্কিন মিশন চুক্তিটির পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছে। শ্রীলংকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যালাইনা টেপলিজ স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কিছুটা হ্রাস করার ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রীলংকায় মার্কিন ঘাঁটি করার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। কিন্তু তার মন্তব্য শ্রীলংকার জনগণের ভয় প্রশমিত করতে পারেনি।

শ্রীলংকায় চীনা উপস্থিতিতে ভীত হয়েই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে অনেক শ্রীলংকান মনে করে।

সোফা নিয়ে প্রবল উন্মাদনা সৃষ্টি হওয়ায় এবং রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য তা প্রশমিত করতে না পারায় বিক্রমাসিঙ্গের বেশ কষ্ট হচ্ছে তার অনুসারীদের বোঝাতে। ফলে সোফা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে সমস্যা হচ্ছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে শ্রীলংকার তাৎপর্য অনুধাবন করে যুক্তরাষ্ট্র সোফা চুক্তির আশা ছেড়ে দেবে, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শান্তি প্রক্রিয়া বিনষ্ট করছে যারা by ড. জাফর নওয়াজ জসপাল

আমেরিকানরা যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তান থেকে তাদের সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নিতে চায়। পাকিস্তান নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আফগানিস্তানের সব পক্ষের সাথে একটা বোঝাপড়ার সম্পর্ক এবং কাবুলের সাথে একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তাছাড়া, রাশিয়া ও চীন উভয়েই আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। এত সব উৎসাহব্যঞ্জক খবর সত্বেও আফগানিস্তানের শান্তির বিষয়টি এখনও সুদূর পরাহতই রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান সঙ্কটের দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তিনি আফগানিস্তান থেকে পুরো মার্কিন সেনা বা এর একটা বড় অংশকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চান। ২৯ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জোর দিয়ে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তানের অন্তহীন যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চান।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন চায় যাতে আফগানরা তাদের দেশকে ফেরত নেয় এবং আমাদের দিক থেকে বছরে সেখানে বহু বিলিয়ন ডলার ব্যয় যেন সাশ্রয় হয়। সে কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে আফগানিস্তান সমস্যা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বিনিময় শুরু করেছেন।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি তালেবানদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন যাতে তারা অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় এবং কাবুল সরকারের ব্যাপারে তাদের অবস্থান বদল করে। তিনি জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তালেবানদের সাথে বৈঠক করবেন এবং তাদের বোঝাবেন যে আলোচনায় আফগানিস্তান সঙ্কটের একমাত্র সমাধান।

তবে, আফগানিস্তান শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে যারা সচেষ্ট, তাদেরকে অবজ্ঞা করারও সুযোগ নেই। দোহাতে আন্ত:আফগান আলোচনায় এই আশা দেখা দিয়েছে যে, ঘানি সরকারের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার ব্যাপারে আফগান তালেবানরা তাদের অবস্থানের পরিবর্তন করছে। তারা এরই মধ্যে সাক্ষাত করেছে। তবে, সরকারের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগতভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, আফগান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।

রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যে, পরবর্তী দফা আন্ত:আফগান সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে। তাছাড়া, ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের সমস্ত রাজনৈতিক পক্ষ এবং জাতিগত গ্রুপগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে। জুনের শেষ সপ্তাহে ইসলামাবাদে আফগান রাজনৈতিক দল এবং জাতিগত গ্রুপগুলোর প্রতিনিধিদের ভুরবামে এক সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পরে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ঘানিও ইসলামাবাদ সফর করেন।

তবে, দেশে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় সমস্ত ইতিবাচক প্রচেষ্টাকেই অকার্যকর মনে হচ্ছে। ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ঘানির রানিং মেট এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আমরুল্লাহ সালেহ’র কাবুল অফিসে হামলা হয়। বোমার স্প্লিন্টারে সালেহ আহত হন, ২০ জন নিহত হয়, আহত হয় পঞ্চাশের বেশি।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধীরা পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কারণ আফগানিস্তানে শান্তি কায়েম হলে সেটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য ভালো হবে না এবং পাকিস্তান-বিরোধী শক্তিগুলোর জন্যও ভালো হবে না।

৩০ জুলাই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি দাবি করেন যে, “আমরা বলছি যে, সীমান্তের অন্য পাশে সন্ত্রাসীদের আস্তানা রয়েছে। সেখান (আফগানিস্তান) থেকে মানুষ এসে পাকিস্তানের ভেতরে (সন্ত্রাসী) তৎপরতা চালাচ্ছে”।

তাই উপসংহারে বলতে হয়, শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান শুধু আফগানদের জন্যই জরুরি নয়, বরং পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও এটা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব কিছুর উর্ধ্বে আন্ত:আফগান সংলাপের ধারাবাহিকতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শান্তি আনার ব্যাপারে একটা আশা তৈরি করেছে।

>>>ড. জাফর নওয়াজ জসপাল ইসলামাবাদের কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পলিটিক্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশান্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

বিরোধী দলগুলোর জোট আছে, ঐক্য নেই by সালমান তারেক শাকিল

দেশের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নামে বা সংখ্যার বিবেচনায় রাজনৈতিক ঐক্য দৃশ্যমান থাকলেও কার্যত শরিকগুলোর সম্পর্ক নড়বড়ে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোটগত ঐক্য তৈরি হলেও তাদের মধ্যে এখন দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। কোনও কোনও জোটের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে অনুজোট। বন্যা ও ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ে দলগুলোর যৌথ কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত ছয় মাসে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
বিরোধী দলগুলোর বাইরে সরকারঘেঁষা অন্তত দুটি জোট আছে, যারা এখন অকার্যকর। ঘরোয়াভাবে কর্মসূচি পালন করলেও মাঠে-ঘাটে বা রাজপথে নিষ্ক্রিয় রয়েছে বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট। কোনও কার্যক্রম নেই জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। গত নির্বাচনের সময় প্রায় ১৪টি দল সক্রিয় ছিল। বিদ্যমান জোটগুলোতে  নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের সংখ্যা প্রায় ১৫২টি। জোটগুলো হচ্ছে— ১৪ দলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট, সম্মিলিত জাতীয় জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, জাতীয় ইসলামী মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ, গণতান্ত্রিক জোট, প্রগতিশীল জোট, হুদা জোট ও বিজেপি।
‘বিএনপির কারণে ঐক্যফ্রন্ট নিষ্ক্রিয়’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের পর দুই জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বিএনপি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ঐক্যফ্রন্টকে কেন্দ্র করে দলটিতে তিনটি ধারা সৃষ্টি হয়েছে। এই মুহূর্তে দলটির প্রধান চিন্তা কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। জোট ও ফ্রন্টের নেতারা ধারণা করছেন— সরকার আইনি পথে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিরুদ্ধে। সরকারের তরফে তার প্যারোল নিয়ে নমনীয়তা রয়েছে।  এ কারণে কোনও আন্দোলনে না গিয়ে খালেদা জিয়াকে সমঝোতার মধ্যদিয়ে মুক্ত করতে চাইছে বিএনপি।
২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরিক দলের নেতারা
২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরিক দলের নেতারা
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রভাবশালী এক নেতার ভাষ্য, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করে আন্দোলনের সূচনা করে। কথা ছিল নির্বাচনের পরও আন্দোলনের প্রসঙ্গটি থাকবে। কিন্তু ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে নীরবতা পালন করেন। বিএনপিও আগ্রহ দেখায়নি। বরং বারবার ন্যূনতম কর্মসূচির কথা বলা হলেও অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রসঙ্গত, ফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের দিনে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, আজ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নব সূচনার দিন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১০ জুন ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত ছিল পরে বৈঠক হবে, কামাল হোসেন দেশে আসার পর। কিন্তু এরপর বিএনপি আর মিটিং ডাকেনি। আর দৃশ্যত মনে হচ্ছে, বিএনপি ফ্রন্টকে সক্রিয় রাখতে চাইছে না। ফলে শরিক দলগুলো নিজেদের উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব কাজ করছে। এ ছাড়া, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপির মধ্যে তিনটি ধারা রয়েছে। একেকটি ধারা একেক রকম মত পোষণ করে।’
এক মঞ্চে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
এক মঞ্চে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি আপাতত কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। কারণ, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা করে চিন্তা করছে। ন্যূনতম ঐক্যের জায়গা কী হওয়া উচিৎ তা নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেই। সুতরাং যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকবে বলে মনে করি।’
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল পক্ষ জানিয়েছে, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বাস্তবতা ছিল। নির্বাচনের পর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি থেকে বেরুতে হলে ফ্রন্টকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। বিশেষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একটি জায়গায় আনতে হবে।’
এ বিষয়ে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি তাদের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তারা বড় দল, তারা নিজেদের গুছিয়ে আনার পর ফ্রন্টকে সক্রিয় করা হবে।’
২০ দলীয় জোটের ভেতরে জোট!
২০ বছরের জোট ২০ দলীয় জোট। সময়ের পরিক্রমায় চার দলীয় জোট, ১৮ দলীয় জোট হয়ে এখন ২০ দলীয় জোট। গত ২৭ জুন নতুন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নতুন সংগঠনের ঘোষণা দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ। এই মঞ্চে কল্যাণ পার্টি, জাগপা, খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তব্য রাখছেন কর্নেল অব. অলি আহমদ
বক্তব্য রাখছেন কর্নেল অব. অলি আহমদ
অলি আহমদ ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক।  এই মঞ্চ গঠনের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তার। এলডিপির নেতাদের অভিযোগ— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে যোগদানের মধ্যদিয়ে বিএনপির নেতারা কার্যত বিরোধী দলের মর্যাদা হারিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ব্যর্থ। এসব কারণে অলি আহমদ দেশি-বিদেশি প্রভাবশালী মহলের ইঙ্গিতে সক্রিয় হয়েছেন। যদিও শুরু থেকেই অলি আহমদ জামায়াতের পাশে থেকেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে মঞ্চের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনুষ্ঠানে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অলি আহমদ এটাও বলেছেন, ৭১ আর এখনকার জামায়াত এক নয়, এখনকার জামায়াত দেশপ্রেমিক।
বিএনপির সাড়া না পেয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন অলি আহমদ। গত মাসের শেষদিকে যোগাযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে। তবে সেখানেও তিনি খুব একটা সাড়া পাননি।
২০ দলীয় জোটের সঙ্গে শুরু থেকেই আছে খেলাফত মজলিস। দলটির মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোট তো হয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। আমাদের দেশে নির্বাচনের পরও জোট ক্রিয়াশীল থাকে। কিন্তু এর কোনও কারণ নেই।  দুনিয়াব্যাপী যে জোট হয়, তা নির্বাচনকেন্দ্রিকই হয়। বাংলাদেশে জোটের একটা বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে এখন যে ২০ দলীয় জোট আছে, সেটা কিন্তু কার্যক্রমে নেই। তার কারণ হচ্ছে— জোটের প্রধান নিয়ামকশক্তি যারা, তারা যদি জোটকে সক্রিয় করতে না চায়, তাহলে অন্য দলগুলোর কিছু করার থাকে না। এ কারণে বড় দলগুলো যখন সক্রিয় হবে, জোটগুলোও তখন সক্রিয় হবে।’
২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যেও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা আছে। সংসদে যোগ দেওয়ার ঘটনায় এরইমধ্যে জোট ছেড়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
জোটের সাবেক এক নেতা মনে করেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সরকারের স্ট্র্যাটেজিক ব্যাপার। সরকার যদি মনে করে তাকে এখন ছেড়ে দিয়ে পরে আবার কোর্টের পথে রাখবে, সেটি হতে পারে। আবার যদি মনে করে, এখন ছেড়ে দেবে, পরে নির্বাচনের সময় আবার ধরে নিয়ে যাবে; এই বাস্তবতায় বিএনপির করণীয় কিছু নেই।’
বি চৌধুরীর জোট প্রেস রিলিজে!
গত বছরের ১৪ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রাই শুরু হয়েছিল বিভক্তি দিয়ে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে না এসে বিকল্প ধারার সভাপতি বি চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, ‘বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্রে নেই বিকল্প ধারা।’
পরে এই বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য করে। তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী এখন দলটির দুজন এমপির একজন।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর আ স ম আবদুর রবের বাসায় বি চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে ঘোষণা হয়েছিল যুক্তফ্রন্টের।
বাজেট নিয়ে যুক্তফ্রন্টের আলোচনা সভা
বাজেট নিয়ে যুক্তফ্রন্টের আলোচনা সভা
ওই সময় যুক্তফ্রন্টে জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থাকলেও পরে তারা এ জোট ছেড়ে আসেন। এরপর ২০১৮ সালে কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের জোট গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিএনপি যুক্ত হয়। পরে কামাল হোসেনসহ বাকি তিনটি দলের মধ্যে দুটোকে যুক্ত করে গঠন হয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপর বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টে যোগ দেন বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিসহ আরও কয়েকটি ছোট নাম না জানা দলের নেতারা। এই দলগুলো হচ্ছে— বিএলডিপি, এনডিপি, জাতীয় জনতা পার্টি, বাংলাদেশ জনদল, বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্ট ও লেবার পার্টি একাংশ।
যুক্তফ্রন্টের ঘরোয়া প্রোগ্রাম হয় মাঝে মাঝে। বি চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজ দিয়ে অনুষ্ঠানের খবর পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। যুক্তফ্রন্ট গঠনে অন্যতম উদ্যোক্তা মাহী বি চৌধুরীও এখন আর ফ্রন্টের মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন না। এছাড়া, ফ্রন্টের অভ্যন্তরে নীতি বিষয়ক সমস্যা আছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রক্রিয়ায় বি চৌধুরী স্বাগত জানালেও জেবেল রহমান তা প্রত্যাখ্যান করেন।
কিছু জোট হাওয়া
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ছয়টি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় জোট (বিএনএ) লাপাত্তা। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এর কো-চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল এ প্রতিবেদককে তাদের জোট দলে রূপান্তর হবে— এমন তথ্য দিলেও গত কয়েক মাসে এর কোনও বাস্তবতা মেলেনি। এ ছাড়া, আয়কর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রগতিশীল জোট, শেখ ছালাউদ্দিন ছালুর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক জোটগুলোর কোনও কার্যক্রম নেই।
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স
জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট এখন নেই। জোটের সমন্বয়ক সুনীল শুভরায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের জোট হয়েছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এখন নির্বাচন নেই, তাই জোটও নেই। তবে নতুনভাবে শুরু করবো কিনা, এ নিয়ে দল কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
২০১৭ সালে ২০ সেপ্টেম্বর জনৈক মিঠুন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জনতা পার্টি—বিজেপি গঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও সমমনা অর্ধ-শতাধিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজেপি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন মিঠুন চৌধুরী। নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় দলটির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও যুব শাখার প্রধান অজিত কুমার দাসকে। এই জোটের কোনও কার্যক্রম নেই।
ব্যতিক্রম বাম গণতান্ত্রিক জোট
বাম দলগুলোর আরও দুটি জোট রয়েছে। সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা মিলে গঠন করা হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটের দুটি উপজোট রয়েছে। সেগুলো হলো— সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চা। বাম মোর্চার শরিক সংগঠনগুলো হলো— বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী)।
বাম গণতান্ত্রিক জোট
বাম গণতান্ত্রিক জোট
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন—এই তিন দল নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় মুক্তি জোট। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন বদরুদ্দীন উমর।
বাম গণতান্ত্রিক জোট গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো ৭ জুলাই দেশব্যাপী আধাবেলা হরতাল পালন করে। এ ছাড়া, নিয়মিতভাবে রাজপথে সক্রিয় থাকে এ জোট।
বামমোর্চা ও গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্যতম নেতা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বামপন্থীদের নানা সমস্যার মধ্যেদিয়ে যেতে হয়। শাসকশ্রেণির বাধা, লুটপাটের রাজনীতি, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাম আন্দোলন বিকাশের প্রধান বাধা। এরপরও জনগণের কাছে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য বামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ধীরে ধীরে।’

রাশিয়া-ভারত-পাকিস্তান: পরিবর্তিত সমীকরণ

রাশিয়া যখন আফগানিস্তান দখল করেছিল, ভারত তখন ছিল সমাজবাদী ক্যাম্পে এবং আফগানিস্তানে তখন তারা প্রবেশের চেষ্টা করেছিল; এখন যুক্তরাষ্ট্র যখন আবার দেশটি দখল করেছে, ভারত তখন পুঁজিবাদী ক্যাম্পে। দুইবারই ভারতকে ডুবন্ত পক্ষের সাথে যুক্ত হতে হয়েছে।
কিন্তু আফগানিস্তানে প্রবেশের এই চেষ্টা করতে গিয়ে রাশিয়ার মতো বাস্তববাদী অংশীদারকে হারিয়েছে ভারত। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের যে গভীর সম্পর্ক ছিল, সেখানে উভয়েরই একটা সমাজবাদী বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। ট্যাঙ্ক থেকে নিয়ে জঙ্গি বিমান – ভারতকে সব রকমের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছিল তারা। ১৯৭১ সালে ভারত-সোভিয়েত চুক্তির কারণেই বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের সাহস পেয়েছিল ভারত। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল সময়কালে ভারতে নিজেদের একটি কে-৪৩ পারমাণবিক শক্তি চালিত ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনও মোতায়েন রেখেছিল রাশিয়া, যেটা ছিল দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের একটা উজ্জ্বল উদাহরণ। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের সাথে সাথেই ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা চীনের সামনে নিজেকে দুর্বল ভাবতে শুরু করলো ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানের সাথেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইউ-টার্ন নিলো ভারত।
এই বাঁক বদলের কারণে নব্বইয়ের দশকে ইন্দো-রাশিয়ান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুরো ভেঙ্গে পড়লো। সামরিক ও প্রযুক্তিগত সমঝোতাও ধসে গেলো। আজ যদিও সামরিক সরঞ্জাম কেনার মাত্রা বাড়িয়েছে ভারত, কিন্তু সম্পর্কের সেই মাত্রাটা আর ফিরে আসেনি।
এই পরিবর্তিত ভূ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। তারা এখন একে অন্যের উদ্বেগে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। যেমন, পুতিন ২০১৬ সালে চীনে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে বলেছিলেন যে, দক্ষিণ চীন সাগরে বাইরের হস্তক্ষেপে শুধু ক্ষতিই বাড়বে। আর অন্যদিকে, চীনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো রাশিয়ার বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোকে পশ্চিমা শক্তিগুলোর বিবেচনায় নেয়া উচিত।
আবার আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সফল হলে সেটা রাশিয়ার জন্য নেতিবাচক হতো। তালেবান ও পাকিস্তানে তাদের সমর্থকদের জন্যও সেটা ভালো হতো না। রাশিয়া এখানে এমন একটা পথ বেছে নিয়েছে, সেটা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের মধ্যে তাদের স্বার্থ হাসিল করবে। ফলে দক্ষিণ এশিয়াকে ভারতের দৃষ্টিতে না দেখে, আফগান প্রিজমের ভেতর দিয়ে এ অঞ্চলকে দেখার কৌশল নিয়েছে রাশিয়া। ফলে রাশিয়া এখানে ২০১৬ সালে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে এবং আফগান শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, যেটাকে তারা বলছে ‘মস্কো প্রসেস’।
মজার ব্যাপার হলো প্রথম বৈঠকে রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান অংশ নিয়েছিল। পরে অনেক উত্থান পতনের পর ২০১৭ সালে এসে আফগান সরকার, ভারত ও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশ এতে যুক্ত হয়। পরের বছর তালেবানদেরও সমমানের পক্ষ হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, এবং সে কারণে কাবুল বৈঠক বয়কট করে।
আফগানিস্তানের ব্যাপারে রাশিয়া-পাকিস্তান সহযোগিতার অর্থ হলো সেখান থেকে ভারতের স্বার্থকে দূর করে দেয়া। এখানে ভারত নিজেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, কারণ তারাই একমাত্র দেশ যারা তালেবানদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করেনি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ও ইরান সবাই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। নাকি তালেবানরাই ভারতের সাথে আলোচনায় আগ্রহী নয়?
আফগান-ইরান সমাধানের ব্যাপারে ভারতের যে একতরফা অবস্থান, সেখানে আঞ্চলিক পক্ষগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তা উদ্বেগকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সে কারণে তারা এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সবকিছু যদি এভাবেই চলতে থাকে, এবং যতক্ষণ না ভারত আফগানিস্তানের ব্যাপারে তাদের বিচ্ছিন্নতার নীতি পরিত্যাগ করতে রাজি হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরস্পরের কাছাকাছি আসার সুযোগ রয়েছে, আর তাদের সাথে থাকবে চীন ও রাশিয়া। আর রাশিয়া যেহেতু পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরাসরি প্রতিবেশী, আর তাদের মাঝখানে বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্য এশিয়ার দেশগুলো রয়েছে, সে কারণে এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটি স্থলপথে ভারতের রাশিয়ায় যাওয়াকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। ভারতের জন্য রাশিয়ায় পৌঁছার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পথ হলো সেখানে দক্ষিণ চীন সাগর এবং নর্দার্ন সি রুট।

‘এশিয়ান যুগ’ এবং চীন ও ভারতের ভূমিকা by রবি বুথথালিঙ্গম

কিছু সভ্যতা বা জাতি কেন বিকশিত হয় এবং অন্যরা কেন ম্লান হয়ে পড়ে? এর একটি জবাব আছে অধ্যাপক যোশেফ নিধামের কাছে। চীনের বিজ্ঞান ও সভ্যতা নিয়ে ব্যাপক গবেষণার কারণে চীনা লোকজনের কাছে তিনি বেশ সুপরিচিত। বিশ্বখ্যাত চীনবিদ হওয়ার আগে তিনি ছিলেন বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দীর্ঘ মেয়াদে বিবর্তন যুক্তি মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করবে। চীনা ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণাই তাকে সভ্যতাগত সফলতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাকে চিহ্নিত করার দিকে পরিচালিত করে। যেসব জাতি ও সাম্রাজ্য এ ধরনের ভারসাম্য অর্জন করেছে, তাদের প্রতিবেশীরা (ও এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বীরাও) গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে: খুব বেশি প্রতিযোগিতা ধ্বংসকর, খুব কম বিরোধ সৃষ্টিশীল। একইভাবে খুব বেশি সহযোগিতা নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে, আর খুব সামান্য নির্ভরতা সৃষ্টি করে বিচ্ছিন্নতা। ফলে নিধামের দূরদৃষ্টি কিভাবে ভারত-চীন সম্পর্কে প্রয়োগ করা যায়?

প্রথমত কোনো জাতিকে বিকশিত হতে হলে এর নেতাদের অবশ্যই তাদের দেশের জন্য উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ভিশন থাকতে হবে। এটা চীন ও ভারতের উভয়ের মধ্যেই স্পষ্টভাবে বিদ্যমান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের ‘চীনা স্বপ্ন’ দর্শন ও চীনা জাতীয় নব-উদ্দীপনা চীনা জনগণকে আলোড়িত করেছে। ভারতে সদ্য পুনঃনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘নয়া ভারত’ বিষয়ক তার দর্শন ইতোমধ্যেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। আর তার দেশের ৫০ ভাগের বেশি লোকের বয়স ২৫ বছরের নিচে।

দ্বিতীয়ত, মৌলিকভাবে চীন ও ভারতের ভিশন একে অপরের সাথে সঙ্ঘাতমূলক নয়। উভয়ের ভিশনেই তাদের জনগণের সমৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণের দিকে নজর দেয়া হয়েছে। উভয় জাতিই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তি ও পারস্পরিক সমঝোতার ভাষায় কথা বলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীন-ভারত সহযোগিতার জন্য শক্তিশালী উদ্দীপক হলো উভয় দেশের প্রতি জোরালো বহিরাগত হুমকির অস্তিত্ব।

এসব হুমকি ভূ-রাজনৈতিক নয়, বরং সেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী রোগের মতো অস্তিত্বগত। উভয়টিই বিপুল সংখ্যায় বিশ্বের জনসংখ্যা হ্রাস করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মোট জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ।

ভারত ও চীনের ভিশন সঙ্ঘাতমূলক না হলেও দুই দেশ কি তাদের নিজ নিজ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ কি গ্রহণ করবে যার ফলে তাদের মধ্যে সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয়? বস্তুত এমনটা হয়েছে, এ ধরনের সমস্যার অনেক উদাহরণ রয়েছে। এসব ইস্যু সত্যিই ব্যবস্থাপনাযোগ্য। আর অস্তিত্বগত হুমকিকে পরাজিত করার জন্য মূল লক্ষ্যের দিকে তাকানো ছাড়াই তারা তা করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় অর্থনৈতিক শক্তি ও চরম বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন।

এ কারণে মারাত্মক মতপার্থক্য এড়িয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা/সহযোগিতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দিকেই মনোযোগী হতে হবে চীন ও ভারতকে। আফ্রিকার একটি প্রবাদবাক্য আছে: দরজায় যখন ঝড় আঘাত হানছে, তখন কোনো পারিবারিক কলহ নয়।

তৃতীয়ত, ভারত ও চীন কিভাবে এ ধরনের অর্থনৈতিক পেশীশক্তি ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন নির্মাণ করতে পারে? শুরুতে বিশ্বের প্রথম ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশের প্রয়োজন বিশ্বব্যাংকের ভাষায় পিপিপির আলোকে ব্যাপক ও গভীর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা। এ ব্যাপারে ভারত আছে সুবিধাজনক অবস্থায়। দেশটির অর্থনীতির চীনের এক-পঞ্চমাংশ। তারা উন্নয়ন রেখায় এক দশক পিছিয়ে আছে। ফলে চীনা বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও প্রযুক্তি থেকে ভারত উপকৃত হতে পারে। আবার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে ভারতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে চীন কিভাবে লাভবান হতে পারে, তার ৫টি ক্ষেত্র এখানে উল্লেখ করছি।

প্রথমত, চীনা প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উচ্চাভিলাষী, এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। তবে এটি চীনের সার্বিক ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে দ্রুত। চীনের অভ্যন্তরীণ ঋণ, অতিরিক্ত সামর্থ্য ও উচ্চ মূলধনের ফলাফল অনুপাত বিশ্লেষণ করলে এর মানে হবে এই যে চীনের ভবিষ্যত বিনিয়োগ অবশ্যই হবে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও অনেক বেশি মুনাফামূলক। ভারত এসব শর্ত পূরণ করতে পারবে। ভারত অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারবে, রাজনৈতিকভাবে সে স্থিতিশীল। দেশটির আর্থিকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত, আইনগত কাঠামোর ফলে এখানে বিনিয়োগে ঝুঁকি কম। ভারতের বিশাল বাজারও লাভজনক বিবেচিত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, চীন একটি জটিল দেশ এবং অন্য দিক থেকে ভারতও তাই। তবে চীনা শিল্প, বিশেষ করে টেলিকম ও ই-কমার্স দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কিভাবে চীনের জন্য লাভজনক হতে পারে। চীনও ভারতে উৎপাদিত সামগ্রী থেকে ফায়দা হাসিল করতে পারে।

তৃতীয়ত, আঞ্চলিক পর্যায়ে রিজিওন্যাল কমপ্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) চীন, ভারত, জাপান ও আসিয়ান দেশগুলোর জন্য ভালো সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এই অঞ্চল ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম গতির প্রবৃদ্ধি সৃষ্টি করেছে।

চতুর্থত, আঞ্চলিক পর্যায়ে চীন ও ভারতের কানেকটিভিটি ও অবকাঠামো অনেক কম ব্যয়ে অর্জন করতে পারে। তখন প্রতিবেশী দেশগুলো দেখবে যে এই দুই দেশ সহযোগিতা যেমন করতে পারে, প্রতিযোগিতাও করতে পারে। এটা হবে সবার জন্য মূল্যবান ও নতুন অভিজ্ঞতা।

সবশেষে আসে আধুনিক বিজ্ঞানের কথা। নিধামের ইতিহাসের মতো এটিই আমাদের একই শিক্ষা দেয়। জেন মেশিন নামের বইতে নোবেল পুরস্কারজয়ী রসায়নবিদ অধ্যাপক বেনকি রামকৃষ্ণান বলেছেন, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য খুব একটা পরিষ্কার নয়। এমনকি বিজ্ঞানীরা যখন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তখন আসলে তারা একজনে অপরজনের আবিষ্কারের সহায়তা গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে তারা একে অপরকে সাহায্য করে।

অর্থাৎ পানির দুষ্প্রাপ্যতা, বিশৃঙ্খলাপূর্ণ নগরায়ন, রোগের বোঝা, বয়স/জেন্ডার ভারসাম্যহীনতাসহ নানা অভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় চীন ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিপুল ক্ষেত্র রয়ে গেছে। কেবল বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনই ওইসব অস্তিত্বগত সমস্যা মোকাবিলার জন্য অভিন্ন ও ব্যয় সাশ্রয়ী সমাধানের ব্যবস্থা করতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধের প্রবল উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যদি মহাকাশবিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, তবে ভারত ও চীন কেন এ ধরনের সহযোগিতায় ইতস্ততা করবে?

আশা করা যায়, দুই নেতা দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা/সহযোগিতার ভারসাম্য পুনঃনির্ধারণ করতে পারে, চীন-ভারত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও সৃষ্টিশীল আইডিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

>>>লেখক: কোষাধ্যাক্ষ, অনারারি ফেলো, ইনস্টিটিউট অব চায়নিজ স্টাডিজ, দিল্লি

নেটফ্লিক্সে মজবে আরব বিশ্ব? by অর্ণব সান্যাল

মধ্যপ্রাচ্য বা আরব বিশ্বে অনেক আগেই যাত্রা শুরু করেছে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। তবে এত দিন তাতে ছিল শুধুই বিদেশি ছবি ও সিরিজের জয়গান। এবার আরব বিশ্বের জনগণকে আকৃষ্ট করতে স্থানীয়ভাবে তৈরি কনটেন্টের প্রচার শুরু করেছে নেটফ্লিক্স। লক্ষ্য একটাই, আরব অঞ্চলের বাজার দখল করা।
চলতি মাসের ১৩ তারিখ আরবি ভাষায় ‘জিন’ নামের একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনাধর্মী সিরিজের প্রচার শুরু করেছে নেটফ্লিক্স। ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটটি এত দিন ইংরেজি বা অন্যান্য বিদেশি ভাষার ছবি ও সিরিজ দিয়ে আরব অঞ্চলে গ্রাহক টানার চেষ্টা করেছিল। এবার স্থানীয় গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে দেশি কনটেন্ট। অর্থাৎ আরব অঞ্চলের পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ছবি তৈরি করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য, স্থানীয় গ্রাহকদের আকর্ষণ করা। আরব অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বাজার দখল করতে চাইছে নেটফ্লিক্স।
আইএইচএস মারকিট নামের একটি গবেষণা সংস্থা জানাচ্ছে, আরব বিশ্বে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ব্যবসা। বর্তমানে আরব অঞ্চলে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটগুলোর গ্রাহক প্রায় ১৮ লাখ। তবে গত বছর গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের মোট জনসংখ্যার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ টেলিভিশনেই বিনোদন খোঁজেন। আর ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটের গ্রাহক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। ২০১৬ সাল থেকে নেটফ্লিক্স চালু আছে এই অঞ্চলে। এবার প্রতিষ্ঠানটি এই বাজার দখল করতে স্থানীয় ছবি ও সিরিজ তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। নিজেদের প্রকৃত গ্রাহকসংখ্যা না জানালেও এর মাধ্যমে নিজেদের বাজার অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারবে বলে মনে করে নেটফ্লিক্স।
আরব বিশ্বের জনগণকে আকৃষ্ট করতে স্থানীয়ভাবে তৈরি কনটেন্টের প্রচার শুরু করেছে নেটফ্লিক্স। লক্ষ্য একটাই, আরব অঞ্চলের বাজার দখল করা। ছবি: রয়টার্স
তবে নেটফ্লিক্সের খালি মাঠে গোল দেওয়ার উপায় নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, নেটফ্লিক্সের মূল প্রতিযোগী হিসেবে আছে স্টারজ প্লে ও ওয়্যাভো নামের দুটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে স্টারজ প্লে আছে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। এর আংশিক মালিকানা মার্কিন প্রতিষ্ঠান লায়নসগেটের। এই অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটের আছে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক। বর্তমানে হলিউডের ছবি ও সিরিজ দিয়েই দর্শক টানছে স্টারজ প্লে। তবে শিগগিরই আরবি ভাষায় তৈরি ছবি ও বলিউডের কনটেন্ট আনতে চলেছে এটি। স্টারজ প্লের মূল লক্ষ্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার দখলে নেওয়া। ওদিকে সৌদি মালিকানাধীন এমবিসি গ্রুপ নিজেদের ‘শহিদ’ ও ‘শহিদ প্লাস’ নামের ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে নেটফ্লিক্সকে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, নেটফ্লিক্স এখন নিত্যনতুন স্থানীয় কনটেন্ট তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মিসরে মোবাইল ফোনে ব্যবহার উপযোগী সাশ্রয়ী প্যাকেজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে নেটফ্লিক্সের অবস্থা ততটা সুবিধার নয়। সেখানে স্টারজ প্লে রমরমা। এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে নেটফ্লিক্স।
আরবি ভাষায় ‘জিন’ নামের একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনাধর্মী সিরিজের প্রচার শুরু করেছে নেটফ্লিক্স। ছবি: সংগৃহীত
অবশ্য এরই মধ্যে ‘জিন’ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে নেটফ্লিক্স। জর্ডানে এই সিরিজটি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এটি নাকি জর্ডানের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধবিরোধী। দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি একে ‘নৈতিক অবক্ষয়’-এর বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। জর্ডানের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাও এই সিরিজের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এমনকি নেটফ্লিক্স থেকে এই সিরিজ তুলে নেওয়ার দাবিও উঠে গেছে।
সংবাদমাধ্যম ফরচুন বলছে, সিরিজটিতে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মদ্যপান ও কিশোর-কিশোরীদের চুমু খাওয়ার দৃশ্য নিয়েই আপত্তি উঠেছে। যদিও নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, জর্ডানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিবিরোধী কিছু দেখানোর উদ্দেশ্য তাদের নেই এবং এই সিরিজের মধ্য দিয়ে আরব অঞ্চলের তরুণ সম্প্রদায়ের জীবনের একটি রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এতে প্রতিবাদের আগুন নিভছে না। জর্ডানের গণমাধ্যম বিশ্লেষক সাদ হাতার বলছেন, আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আধুনিক চিন্তাভাবনায় নিজেদের কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখে জর্ডান। তবে আদতে পরিস্থিতি তেমন নয়। দেশটিতে প্রচারিত হলিউডের অনেক ছবিতেই এসব বিষয় দেখানো হয়ে থাকে। কিন্তু যখন তা স্থানীয়ভাবে তৈরি সিরিজে দেখানো হচ্ছে, তখনই প্রতিবাদের ঝড় উঠছে।
‘জিন’ সিরিজের কলাকুশলীরা। ছবি: সংগৃহীত
অবশ্য প্রতিবাদের তোড়ে পিছু হঠতে চাইছে না নেটফ্লিক্স। খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেটফ্লিক্স এরই মধ্যে আরবি ভাষায় আরও দুটি ছবি বা সিরিজ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ‘আল-রাওয়াবি স্কুল ফর গার্লস’ তৈরি হচ্ছে আরব অঞ্চলের নারীদের জীবনকে উপজীব্য করে। এ ছাড়া ‘প্যারানরমাল’ নামের আরেকটি আধিভৌতিক সিরিজ তৈরিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
রক্ষণশীল আরব সমাজের বিক্ষোভ ঠেলে নেটফ্লিক্স কতটুকু এগোতে পারবে, তা বলা মুশকিল। এটি ঠিক যে আরব বিশ্বের বাজার পুরোপুরি দখল করতে পারলে আখেরে নেটফ্লিক্সেরই লাভ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে আপসও করতে হতে পারে। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলায় এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সকে ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট উইথ হাসান মিনহাজ’ নামের জনপ্রিয় কমেডি শোয়ের একটি পর্ব সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সৌদি আরব রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। তাতেই আত্মসমর্পণ করে নেটফ্লিক্স।
সামনের দিনগুলোয় এমন আপত্তি যে আরও বাড়বে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? কারণ, এসব সমস্যা এক দিনে সমাধান হওয়ার নয়।

বৌদ্ধ মতবাদের আঘাতে রক্তাক্ত শ্রীলংকার মুসলিমরা by আনা পারারাজাসিঙ্গম

ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর শ্রীলংকা আরও ভঙ্গুর, ক্ষতবিক্ষত ও মেরুকরণের শিকার হয়েছে কারণ দেশের মুসলিমদের উপর এখন হামলা হচ্ছে আর তারা সংখ্যাগুরু সিংহলী বৌদ্ধদের সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
যদিও ইস্টার সানডেতে হামলার শিকার হয়েছিল খ্রিস্টানরা, কিন্তু এখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে হামলা ও সহিংসতা চলছে, সেখানে সবার সামনে রয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে যারা মুসলিম বিরোধী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছিল, তারা এখন ইস্টার সানডের কারণে মুসলিম বিরোধী সহিংসতা চালানোর ক্ষেত্রে বড় একটা অজুহাত পেয়ে গেছে।
মুসলিম-বিরোধী সহিংসতা দমনে নজর দিচ্ছে না রাষ্ট্র
ইস্টার সানডে হামলার পর প্রিভেনশান অব টেররিজম অ্যাক্টের অধীনে শত শত মুসলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আইনে ওয়ারেন্ট বা তথ্য প্রমাণ ছাড়াই গ্রেফতার ও বন্দি করে রাখার অধিকার দেয়া হয়েছে পুলিশকে। ২৩ মে সিংহলী বৌদ্ধপন্থী পত্রিকা হিসেবে পরিচিত দিভাইনা তাদের প্রথম পাতায় একটি রিপোর্ট ছাপে যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একজন মুসলিম চিকিৎসক ৪০০০ বৌদ্ধ নারীকে বন্ধ্যা করে দিয়েছেন। দুই দিন পর, এই অভিযোগের কোন প্রমাণ না পাওয়া সত্বেও সেগু শিহাবদিন মোহাম্মদ শাফি নামের ওই ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশ তখন অভিযোগের তথ্য প্রমাণ সরবরাহের আহ্বান জানায়।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় যখন উত্তেজিত জনতা বেশ কিছু মুসলিমের সম্পত্তি ধ্বংস করে।
প্রথমবারের মতো মুসলিম নেতারা সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের মন্ত্রীদের পদ থেকে এবং দুই প্রদেশের গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তারা। ক্যাবিনেটের সিনিয়র সদস্য ও শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেসের (এসএলএমএম) নেতা রাউফ হাকিম জানিয়েছেন যে, উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দমনে সরকার কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সরকারকে চাপ দেয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা পদত্যাগ করেছেন।
সহিংসতা দমনে সরকারের অনীহার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে, যখন চলমান মুসলিম-বিরোধী সহিংসতার মধ্যেই গত ২৩ মে বিবিএসের প্রধান গালাগোদা আত্থে নানাসারা থেরোকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেন। মুসলিম বিরোধী সহিংসতা উসকে দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিংহলী বৌদ্ধদের আধিপত্য
রাউফ হাকিমের দাবি হলো উগ্র জাতীয়তাবাদীদের নিয়ন্ত্রণের কোন চেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং সে কারণের সংখ্যালঘুদের ক্ষতি বাড়বে এবং সেটা বিরোধীদের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। এর কারণ হলো শ্রীলংকার উত্তর-ঔপনিবেশিক ইতিহাস এমন আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে যে, সেখানে সিংহলী বৌদ্ধদের আধিপত্যকে সমর্থন করা হয়েছে। এবং যে দলই এই আদর্শের প্রতি ‘দুর্বলতা’ দেখিয়েছে, পরের নির্বাচনে তারা অসুবিধায় পড়ে গেছে।
সিংহলীদের আধিপত্য
সিংহলী বৌদ্ধদের আধিপত্যের কারণে অসুবিধায় থাকা শ্রীলংকান মুসলিমরা তাদের অধিকারের দাবি না জানিয়ে বরং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে। সিংহলী-প্রধান দুই রাজনৈতিক দল মধ্য বামপন্থী শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) এবং ডান-ঘেঁষা ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) উভয়ের কাছেই এই অবস্থানটা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। মুসলিম নেতারা এই দলগুলোকে মুসলিম ভোটারদের ভোটগুলো পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং প্রতিদানে তারা সরকারে অংশ নিয়েছে। পরে, এই ভোট ব্যাংকগুলো আগের দলগুলোর সাথে থাকেনি বরং নিজেদের একটা মুসলিম দল শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেসের (এসএলএমএম) সাথে চলে এসেছে। যে দল এসএলএমএমকে বেশি সুবিধা দেবে, তাদেরকে সরকার গঠনে সহায়তা করেছে এসএলএমএম। কোন বামপন্থী, মধ্যমপন্থী বা ডানপন্থী আদর্শের কাছে দায়বদ্ধ থাকেনি তারা। শ্রীলংকা রাষ্ট্র ও তামিল জনগণের মধ্যে যুদ্ধের সময় মুসলিম সম্প্রদায় সিংহলী প্রধান রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের এ কৌশল তাদেরকে যুদ্ধের সময় টিকে থাকতে সহায়তা করে এবং তাদের বিকাশেও সহায়তা করে।
বৌদ্ধদের বিজয়াকাঙ্ক্ষা
শ্রীলংকা রাষ্ট্রের তামিল-বিরোধী পদক্ষেপ – যার মধ্যে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ রয়েছে, এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হলো পাবলিক সার্ভিস ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব আনুপাতিক হারে হয়নি। অন্যদিকে মুসলিম-বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠার কারণ হলো সিংহলী বৌদ্ধদের চেয়ে মুসলিমদের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং এ কারণে সিংহলী বৌদ্ধরা তাদের আধিপত্য হারাতে পারে। সেই সাথে, এটাও মনে করা হয় যে, জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করেছে মুসলিমরা এবং তারা মানুষকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে, এবং তারা একটা বিচ্ছিন্ন গ্রুপ যারা শ্রীলংকার মূলধারার সংস্কৃতির সাথে মিশতে পারেনি।
আধিপত্য, অলীক ধারণা এবং বিজয়ের আকাঙ্ক্ষার কারণে শ্রীলংকার বৌদ্ধরা হয়তো মুসলিমদের বিরুদ্ধে আরও সহিংসতাকে উসকে দেবে, যেটা শ্রীলংকার ভঙ্গুর রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে হয়তো আরও দুর্বল করে দিতে পারে।