Tuesday, August 12, 2025

গাজায় একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে: জাতিসংঘ

গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির অনাহারে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ নিয়ে উপত্যকাটিতে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ২২২–এ পৌঁছাল, যাদের মধ্যে ১০১টি শিশু। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, অনাহারে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে গত তিন সপ্তাহে।

পরে ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা অনাহার ও অপুষ্টিতে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানায়। পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর নাম মোহাম্মদ জাকারিয়া খাদের। এই শিশুসহ গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ৬।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, অনাহার আর বোমাবর্ষণে গাজার শিশুরা মারা যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইউএনআরডব্লিউএ আরও বলেছে, ‘পুরো পরিবার, আশপাশের লোকজন এবং একটি প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতা এ অপরাধকাণ্ডে সহায়তা করছে। একটি যুদ্ধবিরতির জন্য কথাকে কাজে পরিণত করার এখনই সময়।’

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, গাজায় ক্ষুধা ও অপুষ্টির মাত্রা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছেন। আর ৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।

সংস্থাটি গাজায় আরও বড় মাত্রার বিপর্যয় এড়াতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যসহায়তা বৃদ্ধি করতে বলেছে।

এদিকে গতকাল সোমবার ভোর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ছয়জন ত্রাণপ্রত্যাশী রয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

আগের দিন রোববার ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয় ইসমাইল কন্দিলের ছেলে। আল-শিফা হাসপাতাল থেকে এই বাবা আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ছেলেকে যখন হত্যা করা হয়, তখন সে নিরস্ত্র ছিল এবং খাবারের সন্ধানে বের হয়েছিল।

ইসমাইল বলেন, ‘তার কাছে কোনো গুলি ছিল না, কোনো অস্ত্র ছিল না, যা দিয়ে সে গুলি করতে পারে। আমরা কী করেছি? আমাদের ওপর যা হচ্ছে, এমনটা হওয়ার মতো আমরা কী এমন করেছি? এ ক্ষুধা ও গণহত্যা আর নেওয়া যাচ্ছে না।’

সন্তানহারা এ বাবা আরও বলেন, ‘আমরা দুর্ভিক্ষের মধ্যে আছি। আমাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চলছে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমরা আমাদের সন্তানদের খাবার আনতে পাঠাই, আর তারা তাদের হত্যা করে। আমরা বিপ্লবী নই, কোনো আন্দোলনের সদস্য নই। আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি।’

৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৬১ হাজার ৪৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৭০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন।

আগে থেকেই অসুস্থ ইয়াজান আল-কাফারনার ছোট্ট শরীর অনাহারের ধাক্কা সামলাতে পারেনি। খাদ্যাভাবে মারাত্মক অপুষ্টি শিকার শিশুটিকে চিকিৎসা দিয়েও তাই বাঁচানো সম্ভব হয়নি
আগে থেকেই অসুস্থ ইয়াজান আল-কাফারনার ছোট্ট শরীর অনাহারের ধাক্কা সামলাতে পারেনি। খাদ্যাভাবে মারাত্মক অপুষ্টি শিকার শিশুটিকে চিকিৎসা দিয়েও তাই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প কেন ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করছেন, তাদের কাজ কী হবে

আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনারঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি অস্থায়ীভাবে ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। শহরটিতে ৮০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প বলছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে রক্ষা করতে এমন পদক্ষেপ জরুরি ছিল।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও তার পর থেকে তা দ্রুত কমছে।

ট্রাম্প কেন শহরটিতে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করলেন, তাঁদের কাজ কী, সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রয়োজন ছিল কি না, এ বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।

ট্রাম্প কী ঘোষণা দিয়েছেন

৭৮ মিনিটের এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ক্রমবর্ধমান অপরাধ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া (ডিসি) মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমাদের দেশের রাজধানীকে অপরাধ, রক্তপাত, বিশৃঙ্খলা, অসচ্ছলতা—এমনকি তার চেয়ে খারাপ অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিচ্ছি।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে শহরের পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনা করবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটা ডিসির স্বাধীনতা দিবস। আমরা আমাদের রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছি। আমরা এটিকে ফিরে পাচ্ছি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার যে ক্ষমতা আছে, তার আওতায় আমি ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া হোম রুল অ্যাক্টের ৭৪০ ধারা ব্যবহার করে ডিসি মেট্রোপলিটন এবং পুলিশ বিভাগকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছি।’

ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ওয়াশিংটন ডিসিতে আইন, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করছি এবং তাদের যথাযথভাবে কাজ করার অনুমতি দিতে যাচ্ছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি রাজধানীর গৃহহীন মানুষকে সরানোর পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু কীভাবে এটা করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি।

১৯৭৩ সালের হোম রুল অ্যাক্ট কী

১৯৭৩ সালের হোম রুল অ্যাক্ট হলো এমন একটি মার্কিন আইন, যা প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ডিসিকে স্বায়ত্তশাসনে চলার সুযোগ দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আসন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র শহর, যেটি ৫০টি অঙ্গরাজ্যের কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়। আর এ কারণে মার্কিন কংগ্রেসে ওয়াশিংটন ডিসির কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নেই।

১৯৭৩ সালের আগপর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর ধরে শহরটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন প্রেসিডেন্টের নিয়োগকৃত তিনজন কমিশনার। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হোম রুল অ্যাক্ট নামক আইনে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দারা নিজেদের মেয়র আর নগর পরিষদ নির্বাচিত করার সুযোগ পেলেন।

অবশ্য ওই আইনে বলা আছে, বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট চাইলে শহরের পুলিশ বাহিনীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবেন।

২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলার সময় ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনে ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করা যায়।

প্রেসিডেন্ট চাইলে ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ বাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি তিনি কংগ্রেসকে জানান, তাহলে ৩০ দিন পর্যন্ত পুলিশকে ব্যবহার করা যায়।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রথম ৪৮ ঘণ্টার পরও ডিসি পুলিশকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করতে চান এবং এ ব্যাপারে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মিউরিয়েল বাউসার বলছেন, পুলিশ এখনো নগর প্রশাসনের অধীনেই কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলছি, পামেলা স্মিথ মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের প্রধান এবং তাঁর নির্দেশনায় ৩ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য কাজ করেন।’

বাউসার আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নির্বাহী আদেশেও আলাদা কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ভবন ও জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে সুরক্ষার কাজ করবে।

ন্যাশনাল গার্ডের কাজ কী হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, যেকোনো মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য ১০০-২০০ ন্যাশনাল গার্ড সেনা প্রস্তুত থাকবে। প্রশাসনিক কাজ, জিনিসপত্র সরবরাহ এবং মাঠে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কাজ করবে তারা।

টাইটেল থার্টি টু স্ট্যাটাস অনুসারে ন্যাশনাল গার্ড পরিচালিত হয়; অর্থাৎ তারা স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে তাদের তহবিল জোগাবে কেন্দ্রীয় সরকার। এ ক্ষেত্রে তারা পসি কমিট্যাটাস আইন মেনে চলতে বাধ্য। এ আইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ন্যাশনাল গার্ডের সেনারা ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া শুরু করবেন।

সিএনএনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোতায়েন হওয়া সেনারা রাস্তায় টহল দেওয়ার সময় প্রকাশ্যে রাইফেল বহন করবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভবত, তাঁরা কাছাকাছি কোথাও তাঁদের অস্ত্র রাখবেন। যেমন তাঁরা তাঁদের ট্রাকে অস্ত্রগুলো রাখতে পারেন, যেন প্রয়োজন হলেই আত্মরক্ষার কাজে সেগুলো ব্যবহার করা যায়।

হেগসেথ বলেছেন, পেন্টাগন আরও কিছু ন্যাশনাল গার্ড ইউনিট ও অন্য বিশেষ ইউনিটকে আনতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলেননি।

শহর থেকে গৃহহীনদের সরানোর জন্য সেনারা সাহায্য করবেন কি না, জানতে চাইলে হেগসেথ বলেন, সেনারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে থাকা।’

ট্রাম্প কেন এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়েছে, রাজধানী শহরে বাড়তে থাকা সহিংসতার ঘটনা এখন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তা সরকারি কর্মচারী, সাধারণ মানুষ এবং পর্যটকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সুষ্ঠু কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়মিত প্রেসিডেন্টকে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় বিদ্যমান জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেবেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে সাম্প্রতিক এক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সূত্রপাত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড কোরিস্টিনের ওপর এ হামলা হয়। কোরিস্টিন হলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মাস্ক একসময় ডিওজিইর নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, ৩ আগস্ট ভোরে ১৯ বছর বয়সী কোরিস্টিন ও তাঁর সঙ্গীর ওপর ১০ কিশোর হামলা চালায়। পরে ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

হামলার কয়েক দিন পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ডিসি যদি দ্রুত পরিস্থিতি সামাল না দেয়, তাহলে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। আমরা শহরটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব এবং যেমনভাবে শহরটি চালানো উচিত, তেমনভাবে চালাব।’

ওই পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্প কোরিস্টিনের একটি ছবিও যুক্ত করেন।

ছবি: রয়টার্স।ডিসিতে কি সত্যিই জরুরি পরিস্থিতিতে চলছে

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মিউরিয়েল বাউসার স্থানীয় আইন কার্যকরে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কৌঁসুলিদের জন্য বেশি তহবিল বরাদ্দ করা হলে আরও ফলপ্রসূ পরিবর্তন আসবে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাউসার বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কোভিড পরিস্থিতি চলার সময় শহরটির যে পরিস্থিতি ছিল, তার ভিত্তিতেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।

মিউরিয়েল বাউসার আরও বলেন, ‘এটা সত্যি যে তখন কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। কোভিড-পরবর্তী সময়ে আমরা অপরাধ বাড়তে দেখেছি। তবে আমরা দ্রুত আইন ও কৌশল প্রণয়ন করে সহিংস অপরাধীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুলিশকে আরও বেশি হাতিয়ার দিয়েছি।’

বাউসারের দাবি, বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

ওয়াশিংটন ডিসির অপরাধের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অভিযোগ আছে, কিছু সংখ্যা বদলে পরিস্থিতি ভালো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

বাউসার এসব তথ্য-উপাত্তের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প যেভাবে ওয়াশিংটন ডিসিকে ‘আইনশৃঙ্খলা’ ভেঙে পড়া শহর হিসেবে বর্ণনা করছেন, তা ভুল।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধ ৩৫ শতাংশ কমেছে।

ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ওই সময়ে সহিংস অপরাধের হার কমেছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক তথ্য বলছে, এই ধারা এখনো বহাল আছে।

চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, খুনের ঘটনা ১২ শতাংশ এবং বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ২০ শতাংশ কমেছে।

তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সহিংস অপরাধের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ক্যাপিটলের কাছে ইউনিয়ন স্টেশনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ১১ আগস্ট, ২০২৫
ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ক্যাপিটলের কাছে ইউনিয়ন স্টেশনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ১১ আগস্ট, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের হুঙ্কার: অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়লে আমরা অর্ধেক দুনিয়াকে নিয়ে ডুবে যাব

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ‘পরমাণু যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন। ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান যদি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে, তাহলে তারা ‘অর্ধেক পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলবে।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। খবরে বলা হয় পাকিস্তানি সেনাপ্রধান বলেছেন, আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি, তাহলে আমাদের সঙ্গে অর্ধেক দুনিয়াকে নিয়ে যাব। এটি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরমাণু হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মুনির এই মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী ও ট্যাম্পার সম্মানসূচক কনসাল আদনান আসাদের আয়োজিত এক নৈশভোজে। মুনির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি সিন্ধু নদে পানি প্রবাহ বন্ধ করার মতো কোনো অবকাঠামো তৈরি করে, পাকিস্তান তা ধ্বংস করে দেবে। তিনি দাবি করেন, পেহেলগাম হামলার পর এপ্রিল মাসে ভারত সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তার ভাষায়- আমরা অপেক্ষা করব ভারত বাঁধ তৈরি করুক, তারপর সেটাকে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দেব। সিন্ধু নদ ভারতীয়দের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো অভাব নেই।

মুনির ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক চার দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে, দিল্লি তাদের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, ভারতকে তার ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতে হবে। খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব একটি গুণ। পাকিস্তানও তাদের ক্ষতি প্রকাশ করবে যদি ভারত একই কাজ করে।

মুনির বলেন, আমরা শুরু করব ভারতের পূর্ব দিক থেকে, যেখানে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। তারপর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হব। হুমকির মাঝেই তিনি পাকিস্তানের বর্তমান দুরবস্থাও স্বীকার করেন। তার ভাষায়, ভারত হলো হাইওয়েতে দৌড়ানো এক ঝকঝকে মার্সিডিজ, আর পাকিস্তান হলো নুড়িপাথরে বোঝাই একটি ডাম্প ট্রাক। যদি ট্রাক গাড়িটিকে আঘাত করে, ক্ষতি কার হবে? পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যে তিনি বলেন, বলা হয় যুদ্ধ শুধু জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেয়া খুব গুরুতর বিষয়। কিন্তু রাজনীতিও কেবল রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেয়া খুব গুরুতর।

mzamin

ঝুলে আছে জুলাই সনদের ভাগ্য by আরিফুল ইসলাম

আগামী ১৫ই আগস্ট শেষ হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ। এখনো চূড়ান্ত হয়নি জুলাই সনদ। এ নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কমিশনগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। ২৮শে জুলাই প্রাথমিক সনদের খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। এরপরই শুরু হয় মতবিরোধ। আইনি কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশন। ৬৮ দিনের সংলাপ ও আলোচনার পরও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারেনি কমিশন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সনদ চূড়ান্ত না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্ট জানিয়েছে- সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ছাড়া তারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন না। তাদের যুক্তি, কাগজে কলমে প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; আইনি ভিত্তি দিতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে আগামীর জাতীয় নির্বাচন। কোনোভাবেই এই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আগামী সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। বিএনপি বলছে, জুলাই সনদের খসড়ার কিছু শব্দ-বাক্যগত বিষয় তারা সংশোধনের জন্য বলেছেন। আগামী সরকার ২ বছরের মধ্যে এই সনদ বাস্তবায়ন করার যে কথা খসড়ায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে একমত দলটি।

রোববার তৃতীয় দফার বৈঠকে ছয়জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনায় সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করে কমিশন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণভোট, সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স মতামত গ্রহণ, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন।
অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। অনেকের মতে, সরকার চাইলে এখনই কিছু সুপারিশ অধ্যাদেশে বাস্তবায়ন করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী সরকার সংসদে অনুমোদন না দিলে এসব কার্যকারিতা হারাবে। তাই সনদকে আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথম পর্বে (২০শে মার্চ-১৯শে মে) ৩৩টি দলের সঙ্গে আলোচনায় ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়। দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি রাজনৈতিক দল (৩রা জুন-৩১শে জুলাই) বাকি ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে ১১টিতে ঐকমত্য এবং ৯টিতে নোট অব ডিসেন্টসহ সিদ্ধান্ত হয়। এখন এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে আলোচনা চলছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, প্রাথমিক একটা খসড়া দেয়া হয়েছে সবাইকে, সে খসড়া অনুযায়ী তারা মন্তব্য করেছেন। খসড়া থেকে এসব মন্তব্যের ভিত্তিতে ‘সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ খসড়া’ আবার পাঠাবো আগামী দুদিনের মধ্যে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সবাই একমত হয় স্বাক্ষরের দিন-তারিখ ঠিক করা যাবে।

কবে নাগাদ জুলাই সনদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনার তৃতীয় পর্বে, বিশেষত বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর। আমরা যেটা বলেছি, কমিশনের মেয়াদ নির্ধারণ করবে সরকার। সরকার যদি মনে কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সরকার সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সময়ের চাপ ও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ: প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের মধ্যদিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আগস্টের ১৫ তারিখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সনদ চূড়ান্ত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই সনদ এখন কেবল রাজনৈতিক নথি নয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি হয়ে পড়েছে। এর বাস্তবায়নও জরুরি।

২০২৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় মাসের জন্য কাজ শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। স্বভাবতই কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৫ই আগস্ট। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য ছিল, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু তা হয়নি, মেয়াদের একদম দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে কমিশন। এখন যদি ঐকমত্যে পৌঁছে চূড়ান্ত সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর করা সম্ভব না হয়, তখন সনদের ভাগ্যে কী থাকছে, এই আলোচনাও উঠবে রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচন-ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মানবজমিনকে বলেন, জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, এর আইনি বাধ্যবাধকতা কী হবে, এটার সমাধান খুঁজতেছি। সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন কী করতে হবে। আমরা ভাবিনি এই প্রশ্নগুলোর সুরাহা করতে হবে আমাদের।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মানবজমিনকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে সনদের মধ্যে যে ঘাটতিগুলো রয়েছে- সেগুলো পূরণ করতে হবে। শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলে হবে না। এই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের এখনকার প্রক্রিয়া ধীরগতির। কমিশন সময় রক্ষা করতে পারছেন না। আমরা যতদ্রুত সম্ভব জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চাই। ভালো কাজের জন্য কমিশনের মেয়াদ যদি চলতি মাস বাড়ানো হয়, তাহলে ঠিক আছে। তবে এই যাত্রাকে প্রলম্বিত না করাই ভালো। 

mzamin

যেসব আসনে লড়তে চান জামায়াতের শীর্ষ নেতারা by আহমেদ জামাল

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো ইতিমধ্যে ঘোষিত রোডম্যাপে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। সেইসঙ্গে শুরু করেছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ কয়েকটি ইসলামী ও সমমনা দল নির্বাচনের ঘোষিত সময়সীমাকে ইতিবাচক বললেও তফসিল ঘোষণার আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতির নির্বাচন, দৃশ্যমান সংস্কার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে রয়েছে সোচ্চার। গোলটেবিল বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভাসহ নানা ফোরামের এসব ইস্যুতে সরব রয়েছে তারা। তবে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে থেমে নেই তারাও। বিশেষ করে জামায়াতের প্রায় ৩০০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সরবে-নীরবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ৩০০ আসনে প্রার্থী দিলেও শীর্ষ নেতাদের ১৫-২০ আসনের প্রতি দৃষ্টি দেশবাসীর। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ একটি। রাজধানীর কাফরুল-মিরপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনে আগামী নির্বাচনে লড়বেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তার আগে ১৯৯১, ‘৯৬ সালে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচন করেন। দলটির নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহী-১  (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন থেকে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারো ওই আসনে তার প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ২০০১ সালে নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি এই আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বর্তমান জামায়াতের অন্যতম নীতিনির্ধারক। একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে এই আসনে দৃষ্টি নিবন্ধিত থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। খুলনার ফুলতলা-ডুমুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসন। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। আগামী নির্বাচনেও তিনি এই আসনে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে লড়বেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া- মহেশখালী) আসন থেকে নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনে এ আসনে তার প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমান আযাদ একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। বর্তমান জামায়াতের প্রথম সারির অন্যতম নীতিনির্ধারক। তার এই আসন নিয়েও আগামী নির্বাচনে যথেষ্ট কৌতূহল থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
অবিভক্ত ঢাকা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বর্তমান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়বেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানা যায়। তিনিও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে দৃষ্টিতে থাকবেন পর্যবেক্ষক মহলের। ফাঁসির মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরে আসা জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সিনিয়র সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী। প্রায় সাড়ে ১৪ বছর কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি তিনি ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাস পান। এর পর থেকেই নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের বর্ষীয়ান এই নেতা। নানা কারণে আগামী নির্বাচনে রংপুর-২ আসনেও দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি বুলবুলও নির্বাচনী মাঠে শক্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তরুণ এবং আলোচিত প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে দেখা যাবে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে এডভোকেট শিশির মনির, পিরোজপুর-১ মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ শামীম সাঈদী, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কুষ্টিয়া-৩ (কুষ্টিয়া সদর) আসনে মুফতি আমীর হামযাকে।

mzamin

যুদ্ধ বন্ধের আশায় ট্রাম্পের দুঃসাহসী জুয়া by পিটার নিকোলাস

আগামী শুক্রবার আলাস্কায় অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম ‘বড় জুয়া’র মতো একটি পদক্ষেপ বলা যেতে পারে। এটা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটার প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়ের হাতেই রয়েছে দর-কষাকষির ক্ষমতা। ট্রাম্প–পুতিনের এই বৈঠক নিয়ে এই লেখা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজ, লিখেছেন পিটার নিকোলাস

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির এক অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হলো—তিনি এক ধাপের কূটনৈতিক সাফল্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করবেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন। চাপ সৃষ্টি করেছেন। তবু বোমা পড়া বন্ধ হয়নি, হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।

এখন ট্রাম্প বাজি ধরেছেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক সেই অধরা অগ্রগতি বয়ে আনবে এবং সম্ভবত যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও কমাবে।

২.

শুক্রবার আলাস্কার রিপাবলিকান–শাসিত অঙ্গরাজ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় দুঃসাহসী পদক্ষেপ। বৈঠকের আয়োজন যুদ্ধ থামানোর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের সামনে ফাঁদও রয়েছে—পুতিন এই বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড–সংক্রান্ত ইস্যুতে অভিজ্ঞ এবং তাঁর হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব রয়েছে। ইউক্রেনের স্বাধীনতা বজায় রেখে একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ট্রাম্পের আত্মপ্রশংসিত চুক্তি করার দক্ষতাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে রাশিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন মাইকেল ম্যাকফল। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রস্তুতি ছাড়া বৈঠকে যান, পুতিন আপনাকে চাপে ফেলে দেবেন। সম্মেলন এমন একটি উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য হয়, যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেয়। এগুলো হলো কোনো লক্ষ্য পূরণের মাধ্যম, কিন্তু মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় ট্রাম্প মনে করেন বৈঠকটাই আসল লক্ষ্য।’

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, শান্তিচুক্তি করা সহজ হবে না। যুদ্ধের একটি পক্ষ টেবিলে উপস্থিত থাকবেন না: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যিনি অবৈধভাবে রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

গোপনীয়তার শর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো অগ্রগতি হবে কি না, আমরা দেখব। শেষ পর্যন্ত পুতিন ও জেলেনস্কির মৌলিক কিছু বিষয়ে একমত হতে হবে। তৃতীয় পক্ষ যা খুশি করতে পারে। কিন্তু এই দুই ব্যক্তিকেই আসল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।’

পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুতিনের মতো একজন অভিজ্ঞ আলোচকের সঙ্গে একই ঘরে বসে ট্রাম্প এমন একটি শান্তিচুক্তিতে সমর্থন দিতে প্রলুব্ধ হতে পারেন, যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলবে।

ম্যাকফল বলেন, ‘আমি চিন্তিত যে শান্তিকামী হিসেবে নিজেকে দেখানোর আগ্রহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো বলবেন, “হ্যাঁ, এটা আমার কাছে ভালো ধারণা মনে হচ্ছে।” পুতিন বলবেন, “দোনেৎস্ক (ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের একটি শহর) সব সময় রাশিয়ার অংশ ছিল।” আর ট্রাম্প বলবেন, “আপনি ঠিক বলেছেন।”’

ম্যাকফল আরও বলেন, ‘পুতিন এসব গল্প বলতে পারদর্শী। তিনি ইতিহাস ভালো জানেন ও নিজের বর্ণনায় মানুষকে আকর্ষণ করতে পারেন। এ ধরনের কথোপকথনের জন্য প্রেসিডেন্টকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং তাঁর টিমকে তাঁকে প্রস্তুত করে তুলতে হবে।’

এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আরেকটি সম্ভাবনা হলো, পুতিন প্রেসিডেন্টকে আরও সময়ক্ষেপণের দিকে ঠেলে দিতে পারেন—এমন কিছু ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, যা তিনি আদৌ বাস্তবায়নের কোনো ইচ্ছা রাখেন না, কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অর্জন মজবুত করার জন্য।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইউক্রেনে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য আফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইলিয়াম টেইলর বলেন, ‘পুতিন হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধ থামানো ও যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাধা দিতে পারেন, ভবিষ্যতে কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে; তারপর পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন এবং ইউক্রেনীয়দের হত্যা করে যাবেন।’

ফলাফল যা–ই হোক না কেন, পুতিন অন্তত একটি প্রতীকী বিজয় পেয়ে যাবেন: আন্তর্জাতিকভাবে তিনি যখন একজন অচ্ছুত, তখন তিনি একটি বড় ও উজ্জ্বল মঞ্চ পাচ্ছেন। দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এই পরোয়ানা দুই নেতার সম্ভাব্য সাক্ষাতের স্থানগুলোকে অনেক সীমিত করে দিয়েছিল।

ম্যাকফল বলেন, ‘শুধু পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েই যিনি গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে এক অবাধ্য, সাম্রাজ্যবাদী একনায়ক—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে বৈধতা দিচ্ছেন।’

৩.

আসন্ন এই শীর্ষ বৈঠকের সঙ্গে ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের তুলনা অবশ্যম্ভাবীভাবে টানা হবে। সেই বছর পুতিনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এমনভাবে উপস্থিত হন, যেন তিনি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বহু বছরের শীতল সম্পর্কের পর একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্‌গ্রীব।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ অস্বীকার করে পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ‘আমি দেখছি না কেন এটা রাশিয়া হবে।’ (পরে তিনি দাবি করেন যে তিনি ভুল বলেছিলেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তকে বিশ্বাস করেন যে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ হয়েছিল, তবে এটিও যোগ করেন যে ‘অন্য কেউ’ ২০১৬ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে।)

এবার ট্রাম্প আরও অভিজ্ঞ এবং পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প পুতিন বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছেন এবং তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার চালানো ধ্বংসযজ্ঞের কথা।

অন্যদিকে পুতিন এখন অনেকটাই দুর্বল। এই গ্রীষ্ম নাগাদ রাশিয়ায় হতাহতের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছিল। চাইলে ট্রাম্প যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য রাশিয়াকে শাস্তি দিতে রাশিয়ান জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন, যে পদক্ষেপের হুমকি তিনি আগেও দিয়েছেন।

টেইলর বলেন, ‘এবার ট্রাম্প আগের বৈঠকের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যান এবং তাঁর হাতে থাকা রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব যথাযথভাবে প্রয়োগ করেন, তাহলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।’

তবে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনে যাচ্ছেন। জেফ্রি এপস্টিন মামলায় নিজের সমর্থকদের ক্ষোভ থামাতে হিমশিম খাচ্ছে তাঁর প্রশাসন। গত সপ্তাহে দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্প শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন।

ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৮ শতাংশ—যা এপ্রিলের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। ওই জরিপের পরিচালক আলেকজান্ডার থিওডোরিডিস। তিনি বলেন, এই মেরুকৃত সময়ে জনসমর্থনের তাত্ত্বিক নিম্নসীমার কাছাকাছি চলে এসেছেন ট্রাম্প।

থিওডোরিডিসের মতে, ট্রাম্পপন্থীদের মধ্যে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর প্রতি সমর্থন ছিল ৬৪ শতাংশ, যা অন্যান্য বিষয়ে তাঁর প্রতি সমর্থনের তুলনায় অনেক কম। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের ভোটারদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ তাঁর অভিবাসন নীতি, ৭৮ শতাংশ চাকরিবিষয়ক কর্মদক্ষতা ও ৭১ শতাংশ শুল্ক আরোপের পক্ষে ছিলেন।

৪.

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের মাধ্যমে দেশে নিজেদের অবস্থান উন্নত করে থাকেন। পররাষ্ট্রনীতি গঠনে রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাধীনতা অভ্যন্তরীণ নীতির তুলনায় অনেক বেশি।

পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য ও ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ‘যদি ট্রাম্প সত্যিই পুতিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইউক্রেনের জন্য ন্যায্য শান্তি দাবি করেন, তবে এই শীর্ষ সম্মেলন তাঁর জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।’

ক্রিস কুনস আরও বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক ভিন্নমুখী সাফল্য হবে। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে, যদি এই সম্মেলন মূলত দেশীয় সংকট যেমন শুল্ক বা এপস্টিন ইস্যু থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা হয় এবং তবু তিনি দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হন।’

ট্রাম্পের জন্য এই সংঘাত শেষ করার আরেকটি বাড়তি প্রণোদনা হতে পারে এমন একটি পুরস্কার, যা তিনি পেতে আগ্রহী বলে মনে হয়। হোয়াইট হাউস যেন পদ্ধতিগতভাবে একটি ভিত্তি গড়ে তুলছে, যাতে প্রতীয়মান হয় তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য এবং বিশ্বব্যাপী উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর জন্য গৃহীত বিভিন্ন প্রচেষ্টার দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছেন।

২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়নের শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি। ওই বছরের অক্টোবরে নোবেল বাছাই কমিটি বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

৫.

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংঘাতের অবসান ঘটানো এক চুক্তি উদ্‌যাপনের জন্য গত শুক্রবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উভয় দেশের নেতারা ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রার্থিতা সমর্থন করেন, যে পুরস্কার এর আগে তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন। বারাক ওবামা সর্বশেষ এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, ২০০৯ সালে।

তবে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তিচুক্তি, ইউক্রেন ও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়ার মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটানোর তুলনায় ট্রাম্পের জন্য অনেক ছোট্ট কৃতিত্বের ঘটনা।

টেইলর বলেন, ‘পুতিন নিঃসন্দেহে এখন দুর্বল অবস্থানে আছেন। ইউক্রেন আক্রমণ তাঁর জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। আর এবার ট্রাম্পের হাতে সব তাস আছে। তাঁর হাতে রয়েছে প্রভাব, অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস। তিনি এই সমস্যার সমাধান করতে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে উদ্গ্রীব। তিনি বুঝতে পারছেন যে সমস্যার মূল পুতিন। পুতিনই তাঁর এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।’

* পিটার নিকোলাস, এনবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক।
- এনবিসি নিউজ থেকে নেওয়া
- অনুবাদ: মনজুরুল ইসলাম

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-03-17%2F2pqkuwef%2FTrump-Putin.jpg?rect=2%2C0%2C617%2C411&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি