Thursday, May 12, 2011

তালেবানকে আফগান সরকারের হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তানের সরকার গতকাল মঙ্গলবার তালেবান নেতাদের প্রতি শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় তাদেরও আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের মতো পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কাছ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণে এখনো আফগান বাহিনী প্রস্তুত নয়।
শান্তিপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে দুই দিনের এক সম্মেলন উদ্বোধনকালে গতকাল আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ করিম খালিলি বলেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং এর সদস্যদের পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা তাদের জন্য বড় ধরনের একটি সুযোগ। এই সুযোগ গ্রহণ না করলে তাদের সবাইকে ওসামার মতো ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে।
গত বছর আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তালেবানের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ‘হাই পিস কাউন্সিল’ গঠন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউন্সিলটি তেমন কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
এদিকে অক্সফামের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আফগান বাহিনীর আরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। যদি এখনই তাদের হাতে দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তবে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে।

নতুন মুখ দিল নতুন জীবন

রঙের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুরো মুখ পুড়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের যুবক ডালাস উইন্সের। চোখের দৃষ্টি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলেন। ২০০৮ সালের ঘটনা সেটি। স্বাভাবিক জীবনের আশাই ছেড়ে দেওয়া সেই উইন্সের মুখে হাসি ফুটেছে আবার। নতুন জীবনের নতুন আলোয় উদ্ভাসিত সেই বিকৃত মুখ।
ডালাস উইন্সকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে বোস্টনের ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল। এই হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকেরা দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন পেশি ও অন্যান্য অংশ যুক্ত করে পুরো মুখ প্রতিস্থাপন করেন। গত সোমবারের জটিল এই অস্ত্রোপচারের পর জনসমক্ষে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো চেহারা ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত উইন্স। ২৬ বছরের এই যুবক বলেন, ‘এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করব। আমার বয়স মাত্রই ২৬ বছর। এখনো অনেক কাজ বাকি।’
উইন্স বলেন, তাঁর মুখে স্বাভাবিক অনুভূতি, ঘ্রাণশক্তি ও নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা ফিরে এসেছে। তবে আগের মুখাবয়ব ফিরে পেলেও হারানো দৃষ্টি ফিরে পাননি। তাই রোদচশমা পরেই সবার সামনে হাজির হয়েছিলেন।
ঘ্রাণশক্তি ফিরে পাওয়াকে তাঁর সবচেয়ে বড় পাওনাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এ যুবক। উইন্স বলেন, একজন নার্স একগুচ্ছ হাইবিস্কাস ফুল নিয়ে কক্ষে এলে তিনি প্রথম ঘ্রাণশক্তি ফিরে পাওয়ার কথা বুঝতে পারেন।
চিকিৎসক জেফরি জেনিস বলেন, উইন্সের স্নায়ু ও পেশি এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। তবে তাঁর উন্নতি হবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। জেনিস বলেন, এই সাফল্য প্রতিস্থাপন চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় রচনা করল

বেন আলীর প্রাসাদ থেকে মাদকদ্রব্যসহ নানা সামগ্রী উদ্ধার

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বেন আলীর কার্থেজের প্রাসাদ থেকে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়।
গত জানুয়ারিতে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান বেন আলী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সেসবের তদন্ত করতে গঠিত হয় একটি জাতীয় কমিশন। তিন দিন আগে সেই কমিশন সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ থেকে ৪০ গ্রাম মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। এ ছাড়া অলংকার, কিছু মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি মেশিনগান ও ১৮ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়।

সিরিয়ায় নতুন করে বিক্ষোভের ডাক

সিরিয়াজুড়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সরকারবিরোধীরা। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে ইন্টারনেট-ভিত্তিক সরকারবিরোধী দল ‘সিরিয়ান রেভল্যুশন ২০১১’ এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। এ দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত সোমবার বলেছে, সিরিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা খুব শিগগির আরোপ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের ‘সিরিয়ান রেভল্যুশন ২০১১’ পেজে তারা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এখন থেকে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলবে। সিরিয়ার অপরাধী সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বন্দীদের প্রতি সংহতি জানাতে এ বিক্ষোভ ডাকা হলো।’
মানবাধিকারকর্মীরা জানান, হমস ও বানিয়াসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় করা হচ্ছে। এসব এলাকায় সেনা অভিযানও চলছে।
দুই সপ্তাহ ধরে দেরা শহর অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, দেরা শহরে মানবিক ত্রাণ পাঠাতে না পারার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।

মধুচন্দ্রিমায় গেছেন প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট

প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর নবপরিণীতা স্ত্রী কেট মিডলটন মধুচন্দ্রিমা উদ্যাপন করতে দেশের বাইরে গেছেন। সেন্ট জেমস প্যালেসের একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানান। বিয়ের সপ্তাহ খানেকেরও বেশি সময় পর রাজকীয় এ দম্পতি মধুচন্দ্রিমায় গেলেন। তবে তাঁরা কোথায় গেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার জানান, গত সোমবার নতুন ডিউক ও ডাচেস অব কেমব্র্রিজ মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশে রওনা হন। তবে তাঁরা কোথায় গেছেন, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত কিছু জানাচ্ছি না। শুধু জানাচ্ছি, তাঁরা মধুচন্দ্রিমায় গেছেন। এ সময় তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন ওই নবদম্পতি।
রাজপরিবারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য মিরর জানায়, হইচই এড়াতে নবদম্পতি চুপিচুপি দেশ ত্যাগ করেছেন। এরই মধ্যে তাঁরা ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবতরণ করেছেন। সেখানে তাঁরা দুই সপ্তাহ থাকবেন।

গাদ্দাফির বাসভবন লক্ষ্য করে আবার ন্যাটোর হামলা

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাসভবন চত্বর লক্ষ্য করে গতকাল মঙ্গলবার আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কার্যালয়ের কাছের সরকারি কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়।
জাতিসংঘের সহায়তাবিষয়ক প্রধান ভ্যালেরি অ্যামোস মানবিক বিপর্যয় এড়াতে লিবিয়ায় সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। বিদ্রোহীরা দাবি করে, গত সোমবার তারা মিসরাতার পশ্চিমাঞ্চলের একটি সড়ক দখল করে নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে ন্যাটোর কয়েকটি জেট বিমান থেকে ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাসভবন চত্বর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ত্রিপোলির ওপর দিয়ে জেট বিমান উড়ে যাওয়ার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে অন্তত আটটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।
লিবিয়ার কর্মকর্তারা জানান, ন্যাটো ত্রিপোলিতে রাতভর হামলা চালায়। হামলার কারণে ভবনের চূর্ণবিচূর্ণ কাচ ছুটে গিয়ে চার শিশু আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই দুজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
ন্যাটোর প্রধান ফগ রাসমুসেন বলেছেন, ‘গাদ্দাফির দ্রুত বোঝা উচিত, তাঁর এবং তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ বলতে আর কিছু নেই।’ রাসমুসেনের এই বক্তব্যের পর ত্রিপোলিতে এই হামলা চালানো হলো।
গত ৩১ মার্চ থেকে লিবিয়া অভিযানের নেতৃত্ব নেয় ন্যাটো। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় ন্যাটোর হামলায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখানোর জন্য ত্রিপোলিতে থাকা বিদেশি সাংবাদিকদের হামলাস্থলে নিয়ে যান লিবিয়ার কর্মকর্তারা। বিদেশি সাংবাদিকেরা দুটি স্থান পরিদর্শন করেন। প্রথম স্থানটিতে গিয়ে সাংবাদিকেরা দেখেন, সরকারি একটি ভবন পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল হামলায় এই ভবনটি বিধ্বস্ত হয়। অন্য স্থানে গিয়ে টেলিযোগাযোগের বিধ্বস্ত একটি টাওয়ার দেখা যায়। এটি মুঠোফোনের নেটওয়ার্কের টাওয়ার বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
লিবিয়ায় মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ভ্যালেরি অ্যামোস বলেন, মিসরাতার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সেখানে খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। লিবিয়া যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যাতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখায় এবং আইন মেনে চলে তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। অ্যামোস বলেন, যুদ্ধে গুচ্ছ বোমা, সাগর ও ভূমি মাইন ব্যবহার করা হচ্ছে, বিমান থেকে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব দেখে মনে হয়, সব পক্ষই বেসামরিক জনগণের ব্যাপারে উদাসীন।
রেডক্রসের একটি জাহাজ গত সোমবার মিসরাতায় পৌঁছেছে। জাহাজটিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, শিশুখাদ্য, বৈদ্যুতিক ও পানি সরবরাহের বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে।
লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একমাত্র মিসরাতা শহরটিই এখন পর্যন্ত দখলে রাখতে পেরেছে বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক জানান, সোমবার দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর মিসরাতার পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার একটি সড়ক দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা গাদ্দাফি বাহিনীকে মিসরাতা থেকে বের করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নৈতিক মনোবল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
৬০০ যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে জাহাজ
ত্রিপোলি বন্দর থেকে একটু দূরে ৬০০ যাত্রী নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে গেছে। মিসরাতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ওই জাহাজে ওঠে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় জাহাজটি ভেঙে গিয়ে ডুবে যায় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জানায়, সাগরে মানুষ ভেসে যেতে দেখা যায়। অনেকেই সাঁতরে তীরে ওঠেন। সংস্থাটির মুখপাত্র লাউরা বোলডিরিনি জানান, জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। গত শুক্রবার জাহাজটি ডুবে যায়।

ওসামার বিরুদ্ধে সফল অভিযান নিয়ে আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে পাকিস্তানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সফল অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত নভেম্বরে ওবামার ভারত সফরকালে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়, এর অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন তাঁরা। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আলাপকালে দুই নেতা প্রতিরক্ষা-বিষয়ক সহযোগিতাসহ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারের ব্যাপারে অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আসন্ন কয়েকটি বৈঠকের ব্যাপারে উৎসাহের কথা তাঁরা পরস্পরকে জানান। দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিষয়ও ছিল।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসলামাবাদকে মিত্র হিসেবে নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ব্যাপারে চরবৃত্তি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সেনাদের অভিযানে লাদেন নিহত হওয়ার পর চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। লাদেন গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে এত বছর কীভাবে পাকিস্তানে বাস করেছেন, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লাশ সাগরে ডুবিয়ে পরিবারকে অপমান করা হয়েছে

ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে লাশ সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর পরিবারকে ‘অপমান’ করেছে বলে তাঁর ছেলেরা অভিযোগ করেছেন। বিন লাদেনের বড় ছেলে ওমর বিন ওসামা বিন লাদেন তাঁর ভাইদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন। একটি জিহাদি ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি সন্নিবেশ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী ওয়েবসাইটগুলোর ওপর নজরদারি করার কাজে নিয়োজিত মার্কিন সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গতকাল মঙ্গলবার ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে ওমর বলেন, নিজ অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এমন একজন ব্যক্তির লাশ সাগরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া মানবিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর মাধ্যমে তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের অপমান ও অপদস্থ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোটি কোটি মুসলমানের মনে আঘাত দেওয়া হয়েছে।
ওমর বলেন, তাঁদের পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার যে তৎপরতা চলছে, তার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ‘আইনগতভাবে দায়ী’। তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা ওসামার অদৃষ্টে আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ও আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। তবে সত্যিই তাঁরা এই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাবেন কি না, তা তিনি বলেননি।
প্রসঙ্গত, ‘নাইন-ইলেভেন’ হামলার পর লাদেনের সন্তানদের বেশির ভাগই আত্মগোপনে রয়েছেন।

ওসামার স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারে পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকারের হেফাজতে থাকা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এটা হলে লাদেনকে হত্যার অভিযানের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে বলেছেন, লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অনুরোধের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ২ মে মার্কিন কমান্ডোদের গোপন অভিযানে লাদেন নিহত হওয়ার পর অ্যাবোটাবাদের বাড়িতে থাকা তাঁর তিন স্ত্রী ও নয় সন্তানকে হেফাজতে নেয় পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে। উত্তর মিলতে পারে লাদেনের আত্মগোপনে পাকিস্তান সরকারের কোনো মহলের হাত ছিল কি না সেই প্রশ্নেরও।
লাদেনের স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা টমাস ডনিলন।
লাদেন হত্যার অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে বলেছেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারে পাকিস্তান। শিগগিরই এ অনুমতি পাওয়া যাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।’ তবে এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত যেমন কিছু বলেননি, তেমনি হোয়াইট হাউসের তরফ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে যে খবর বেরিয়েছে তা নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা এখনো তাঁদের তদন্তকাজ শেষ করেননি। লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে চিন্তা করার সময় এখনো আসেনি।’
পাকিস্তান বলেছে, লাদেনের ইয়েমেন ও সৌদি বংশোদ্ভূত তিনজন স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ইসলামাবাদ। তবে সেসব দেশ লাদেনের স্ত্রী-সন্তানদের ফেরত নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও ওবামা প্রশাসন এবং মার্কিন আইন প্রণেতারা পাকিস্তানকে নিয়ে সন্দিহান। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে বিন লাদেনের আত্মগোপন পাকিস্তান সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস তৃণমূল জোটের জয়ের আভাস

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুথ-ফেরত সমীক্ষায় এ আভাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে কলকাতার তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল।
নির্বাচনে ছয় পর্বের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল। ভোট নেওয়া শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বুথ-ফেরত সমীক্ষা প্রচার করতে শুরু করে।
স্টার আনন্দ নেলসন তাদের সমীক্ষায় বলেছে, এবার বিধান সভার ২৯৪ আসনের মধ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট পাবে ২২১টি আসন। তৃণমূল একাই পাবে ১৮১টি আসন। কংগ্রেস পাবে ৪০টি আসন। অন্যদিকে বামফ্রন্ট পাবে ৬২টি আসন। বিজেপি দুটি ও অন্যরা নয়টি আসন পাবে।
মহুয়া টিভি তাদের সমীক্ষায় বলেছে, কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ১৮৭টি আসন পাবে। তৃণমূল ১৫২টি, শরিক এসইউসিআই দুটি এবং কংগ্রেস ৩৩টি আসন পাবে। বামফ্রন্ট পাবে ১০০টি। বিজেপি একটি ও অন্যরা ছয়টি আসন পাবে।
ইন্ডিয়া টিভি সমীক্ষায় বলেছে, কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ২২৭টি, বামফ্রন্ট ৫৮টি, বিজেপি দুটি ও অন্যরা সাতটি আসন পাবে।

গোপন চুক্তিমতো পাকিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র!

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে থাকলে তাঁকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে দেশটিতে অভিযান চালাতে পারবে। ১০ বছর আগেই এমন একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটন। গত সোমবার এ তথ্য ফাঁস করে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চুক্তিতে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময় ওসামা মার্কিন বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তোরাবোরা পর্বতের গুহা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ওই চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন মতে, চুক্তি অনুযায়ী আল-কায়েদার প্রধান ওসামা, তাঁর ডেপুটি আইমান আল-জাওয়াহিরি ও তাঁদের তৃতীয় প্রধান নেতাকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পাকিস্তানের মাটিতে অভিযান চালাতে পারবে। এ জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, এমন মার্কিন ঊর্ধ্বতন সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বুশ ও মোশাররফের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময় যদি জানতে পারে, ওসামা কোথায় আছেন, তাহলে সেখানে অভিযান চালাতে এবং তাঁকে আটক করতে পারবে।’ ওসামাকে হত্যার পর পাকিস্তানের প্রতিবাদ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটবে, এটা আগে থেকেই আমাদের জানা ছিল।’
পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, মোশাররফ ও বুশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি নবায়নও করা হয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ২০০৮ সালে চুক্তিটি নবায়ন করে। ওই সময় পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পাকিস্তানের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুরা ওই চুক্তি সম্পর্কে জানতেন, তাঁরা চুক্তিটির বাস্তবায়ন করেছেন মাত্র।’
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অদূরে অ্যাবোটাবাদে গত ২ মে মার্কিন অভিযানে নিহত হন ওসামা। ইসলামাবাদকে না জানিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে এ ধরনের মার্কিন অভিযানের বিরুদ্ধে দেশটিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন স্থানে মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ইসলামাবাদ পুরো শক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের অভিযান রুখে দেওয়ার অধিকার রাখে।’ সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এমন সময় ওই চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করল দ্য গার্ডিয়ান।
মোশাররফের অস্বীকার: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা অস্বীকার করেছেন মোশাররফ। পাকিস্তানের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার বলেন, এমন চুক্তি স্বাক্ষরের খবর একেবারেই ভিত্তিহীন। মোশাররফের আমলে এমন কোনো চুক্তি তো দূরের কথা, মৌখিক কোনো বোঝাপড়াও হয়নি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে অভিযান চালানোর ব্যাপারে মার্কিন অনুরোধ সব সময় নাকচ করে দিয়েছেন মোশাররফ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এসব কথা বলেন ফাওয়াদ চৌধুরী। মোশাররফ বর্তমানে দুবাইয়ে আছেন।

এসে গেছে নতুন মেসি!

নতুন ম্যারাডোনা’ খেতাব পেছনে ফেলে এসেছেন অনেক দিন। লিওনেল মেসি নিজেই এখন একটা মানদণ্ড। মাঠের পারফরম্যান্সে তো প্রমাণ আছেই। আরেকটা প্রমাণ দিলেন এমন একজন, যিনি নিজেই অনেকের কাছে সর্বকালের সেরা। এই তিনিটা পেলে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হাভিয়ের হার্নান্দেজের খেলায় মুগ্ধ পেলে তাঁকে বলছেন ‘পরবর্তী মেসি’!
ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালে ওঠা আর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে হার্নান্দেজের। গত পরশু চেলসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৬ সেকেন্ডেই। ইউনাইটেডে খেলা প্রথম মেক্সিকান ফুটবলারের সেটি ছিল মৌসুমে ২০তম গোল। ২০০১-০২ মৌসুমে রুদ ফন নিস্টলরয়ের পর এই প্রথম ২০ গোল করলেন কোনো অভিষিক্ত। সব খেলা দেখেননি পেলে, তবে যা দেখেছেন তাতেই মনে ধরেছে হার্নান্দেজকে। শুধু মেসি নয়, তুলনায় টেনে এনেছেন আরেক মেক্সিকান কিংবদন্তি হুগো সানচেজকেও, ‘কোনো সন্দেহই নেই যে হার্নান্দেজ প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার। ওর কয়েকটি খেলা আমি টিভিতে দেখেছি, অসাধারণ খেলেছে। ও-ই হতে পারে পরবর্তী মেসি। কারণ, ও দারুণ প্রতিভাবান। হুগো সানচেজের মতোই ও বড় এক বিস্ময়, কারণ হুগোর মতো হার্নান্দেজও অনেক গোল করে। চূড়ান্ত রায় দিতে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে, কারণ এখনো জানি না মেক্সিকোর হয়ে ও কেমন খেলবে...তবে ওর সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
স্বয়ং ‘ফুটবলের রাজা’ যখন বলেছেন, ‘চিচারিতো’-র সঙ্গে তাহলে এখন হার্নান্দেজকে ‘নতুন মেসি’ নামেও ডাকা যায়। পেলের এমন উপমায় হার্নান্দেজের সঙ্গে নতুন এক উচ্চতায় উঠলেন তো মেসিও। তবে মেসিকে কিন্তু এখনো সর্বকালের সেরাদের কাতারে রাখতে নারাজ পেলে। কারণ? ‘বার্সেলোনার মেসি আর আর্জেন্টিনার মেসির মাঝে বড় এক পার্থক্য আছে। জাতীয় দলে খেললে মেসি সেই একই খেলোয়াড় থাকে না’—পেলের উত্তর।

ফার্গির ফেবারিট ম্যানইউ

আজ লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলতে পারলে বার্সার মাথা থেকে একটা দুশ্চিন্তার বোঝাও সরে যায়। তখন ২৮ মে ওয়েম্বলির ফাইনাল নিয়েই পুরো মনোযোগ দিতে পারবেন কোচ। মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভিদের প্রয়োজনমতো বিশ্রামও দিতে পারবেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও চায় শনিবারই ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে। সেদিন ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই ফাইনালিস্টেরই লিগ শিরোপা জয় প্রায় নিশ্চিত। শুধু অপেক্ষা ‘নিশ্চিতে’র আগের ‘প্রায়’টিকে মুছে ফেলার। ফলে সবার মনোযোগ এখন ফাইনালটি ঘিরেই। এখনো আড়াই সপ্তাহ বাকি থাকলেও কথাবার্তাও শুরু হয়ে গেছে ফাইনালকেন্দ্রিক। অন্য সময় হলে হয়তো দুই কোচই বলতেন, আগে তো লিগ শিরোপা নিশ্চিত হোক, তারপর চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে কথা বলা যাবে। কিন্তু ফার্গুসন-গার্দিওলা দুজনই সাগ্রহে এ নিয়ে কথা বলছেন।
ফাইনাল নিয়ে কাজও এরই মধ্যে চলছে। গার্দিওলা নিজে ম্যানইউয়ের খেলা দেখে গেছেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসে। ফার্গুসনের ‘গুপ্তচর’ও বার্সা শিবিরের হালহকিকত নজরদারি করছে। যদিও দুই পক্ষ থেকে কথার লড়াইটা ঠিক জমে উঠছে না। ফার্গুসন সেই কবে থেকেই বলে আসছেন, ‘এই বার্সা অনন্যসাধারণ।’ এবার পাল্টা পিঠ চাপড়ে দিলেন গার্দিওলাও, ‘তাদের দুর্দান্ত একটা স্কোয়াড আছে। ওরা গ্রেট একটা দল, অসাধারণ। দেখুন, ওরা রিজার্ভ একটি দলকে নামিয়েও সেমিফাইনাল জিতল ৪-১ গোলে। এখান থেকেই তো বোঝা যায় ওদের মান কোন পর্যায়ে।’
কিন্তু এই ম্যানইউকেই তো হারিয়ে দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল বার্সা। ওই দলটার চেয়ে এই দলটা একদিক দিয়ে দুর্বলও—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে নেই। কিন্তু এই আলোচনায় গার্দিওলাকে টেনে আনা গেল না। আর গত ম্যাচে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগ শিরোপা থেকে মাত্র এক পয়েন্টের দূরত্বে চলে যাওয়ার পর অ্যালেক্স ফার্গুসনও মনে হচ্ছে আকাশে উড়ছেন।
ঠারে ঠোরে নিজেদের ফেবারিট বলেই দিলেন ম্যানইউ কোচ, ‘বার্সেলোনা কতটা দুর্দান্ত দল সেটা সবাই জানে। কিন্তু আমরাও তো আর এমনি এমনি ফাইনালে উঠে আসিনি। অনেকেই বলছেন, এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড না কি ভালো দল নয়। কিন্তু আমরা বাকি সবার চেয়ে বেশি গোল করেছি। নিজেদের মাঠে আমাদের রেকর্ড দুর্দান্ত। ইউরোপে আমরা অপরাজেয়। আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছি, লিগ শিরোপা থেকেও মাত্র এক পয়েন্ট দূরে।’
গতবার বার্সার কাছে হেরে যাওয়ার পেছনেও নিজেদের ভুলটাকেই বড় করে দেখালেন, ‘আমরা কিন্তু শুরুটা ভালোই করেছিলাম। এর পরই একটা গোল ওদের উপহার দিলাম। তখন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বার্সা নিয়ে ফেলেছিল।’
ফার্গুসন কি তবে কথার লড়াই শুরুর ইঙ্গিত দিলেন!

আবার রদ্রিগেজের হ্যাটট্রিক

তবে কি লিভারপুলের জন্য সুসময় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন কেনি ডালগ্লিশ? স্কটিশ এই কোচ গত জানুয়ারিতে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। একসময় পয়েন্ট টেবিলের ১৮-১৯-এ নেমে যাওয়া লিভারপুল উঠে এসেছে পাঁচে। পরশু ফুলহামকে ২-৫ গোলে হারিয়ে এখন স্বপ্ন দেখছে ইউরোপা লিগে খেলার।
শুধু ডালগ্লিশ নয়, লিভারপুলের রূপবদলের অন্যতম কারিগর ম্যাক্সি রদ্রিগেজের দুর্দান্ত ফর্ম। গত তিন ম্যাচে দুটো হ্যাটট্রিকসহ সাত গোল করেছেন এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। পরশু এলো দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি। রদ্রিগেজের ১, ৭ ও ৭০ মিনিটের তিনটি গোলের সঙ্গে ডার্ক কিউট (১৬ মিনিট) আর জানুয়ারিতে দলে আসা লুইস সুয়ারেজ (৭৫) গোল ফুলহামকে তাদের মাঠে ধরাশায়ী করেছে ‘অল রেড’রা।
এদিকে লিভারপুলের দুর্দান্ত রাতে ইতালিয়ান লিগে বড় ধাক্কা খেয়েছে জুভেন্টাস। শিয়েভোর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করায় আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের খেলার স্বপ্ন একরকম ভেঙেই গেছে। ৩৬ ম্যাচ শেষে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে জুভদের অবস্থান সাতে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে খেলতে হলেও কমপক্ষে চারে থাকতে হবে। জায়গাটি এখন ৬২ পয়েন্ট পাওয়া উদিনেসের দখলে।