Monday, September 23, 2019

ইয়াংগুনে ৬ বছর ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ৮ মসজিদ

মিয়ানমারের ইয়াংগুনে গত ছয় বছর ধরে জোরপূর্বকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে আটটি মসজিদ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হলাইং ইয়াংগুনে একটি মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ওই অঞ্চলের স্থানীয় মুসলিমরা বন্ধ করে দেয়া আটটি মসজিদ পুনরায় খুলে দেয়ার আবেদন জানান।  এ খবর দিয়েছে দ্য সাউথ এশিয়ান মনিটর।
খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ইয়াংগুনের বৌদ্ধদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুরু করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল হ­াইং। এমনই এক সাক্ষাতের সময় মেকটিলা ও ইয়ামেথিন জনপদের মুসলিমরা বন্ধ করে রাখা মসজিদগুলো চালু করার জন্য অনুমতি চান। এছাড়া আঞ্চলিক মুসলিম দায়িত্বশীলরা দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অফিস, কমান্ডার-ইন-চিফ অফিস এবং সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও পুনরায় মসজিদ খুলে দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।
স্থানীয়রা সেনাপ্রধানের যোগাযোগের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সেনাপ্রধানের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য তারা জানেন না। আর মসজিদ খুলে দেয়ার বিষয়ে সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ সান উইন জানিয়েছেন, তারা এখনও এ চিঠিটি পাননি। তবে মিয়ানমারের ইসলামিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইউ মং মং জানান, তিনি সেনাপ্রধানকে মসজিদগুলো খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৪ সালে মিয়ানমারের মান্ডলে তীব্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে মেকটিলা ও ইয়ামেথিন জনপদের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি দেশটি।

সৌদি আরবে হামলার ঝুঁকি ইরান কেন নেবে? by কাসরা নাজি

সৌদি আরব বলছে, শনিবার সৌদি তেল শোধনাগারের ওপর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে যে ইরান রয়েছে সেই প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে: এ নিয়ে কী ঐ দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে?
যে মাত্রায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরব তা কোনমতেই এড়িয়ে যেতে পারবে না। এবং ইরানই যে ঐ হামলার জন্য দায়ী সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর সৌদি আরবকে একটা পাল্টা জবাব দিতেই হবে।
ঐ হামলার ঘটনাটি জাতিসংঘ এখন তদন্ত করে দেখছে। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি সরকার সম্ভবত অপেক্ষা করবে।
এর ফলে যে কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে সৌদি সরকার কিছুটা সময় হাতে পাবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে ইরানের বস্তুগত সাহায্য এবং নির্দেশনা ছাড়া ঐ হামলার ঘটনা ঘটানো অসম্ভব।

বাজির খেলায় ইরান

ইরানের তরফ থেকে ঐ হামলার দায়দায়িত্ব শুধু অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না।
সৌদি আরব এবং তার মিত্র দেশগুলো বিশ্বাস করে যে ইরান এই বিষয়ে তাদের বাজির মাত্রা বাড়াতে চায় এই লক্ষ্যে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, শনিবারের হামলা ছিল একটা যুদ্ধ ঘোষণা।
গত বছর ইরানের সাথে একটি পরমাণু চুক্তি মি. ট্রাম্প একতরফা-ভাবে প্রত্যাহার করেন এবং নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ইরানের নেতারা আশা করছেন, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়লে বিশ্ব নেতারা টের পাবেন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কতোটা বিপজ্জনক হতে পারে।
ইরানের নেতারা আশা করছিলেন, পরমাণু চুক্তি পালন করার মধ্য দিয়ে এবং ঐ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ না করার শর্তে, ইরান ফ্রান্সের কাছ থেকে ১৫০০ কোটি ডলার ঋণ সুবিধে পাবে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই পরিকল্পনায় সায় দেননি। শুধু তাই না, গত বুধবার মি. ট্রাম্প মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়া নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে, ইরান এই বাজিতে দৃশ্যত হেরে গেছে বলেই মনে হচ্ছে।
সৌদি আরবের ওপর যে মাত্রায় আঘাত হানা হয়েছে, তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনির অনুমোদন ছাড়া ঘটা অসম্ভব ছিল।
গত সপ্তাহে মি. খামেনি যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে হামলার কোন কথা কিংবা ঐ অঞ্চলে যে কোন মুহূর্তে লড়াই বেধে যাওয়ার সম্ভাবনার কথার লেশমাত্র ছিল না।
এর বদলে, ঐ ভাষণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে কোন পর্যায়ে আলোচনাকে তিনি খারিজ করে দেন।
তবে আজ হোক কাল হোক, আয়াতোল্লাহ খামেনিকে হয়তো তার অবস্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে হতে পারে, ইরানের নরমপন্থী নেতারা যেটা আশা করছেন।

ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি

ইরানের তেল রপ্তানি এখন শূন্যের কোঠায়। এর অর্থের মজুদ দ্রুত ফরিয়ে আসছে। এখন যা বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে তা দিয়ে মাত্র কয়েক মাস চলবে।
সৌদিরা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিক হিসেব করলে বোঝা যাবে সেটা ইয়েমেন থেকে আসতে পারে না।
ইরানি মুদ্রার মান কমে আসার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ৪০%। এর ফলে ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।
তাই, অনেক ইরানির জীবনযাত্রাই এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সৌদি সামরিক পদক্ষেপের বিপদ

তাহলে ইরানকে হটিয়ে দিতে সৌদি আরব কী সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে?
তেমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। ইরানের জনসংখ্যা এখন ৮ কোটি। অন্যদিকে সৌদি আরবের জনসংখ্যা ৩.৩ কোটি।
ইরান তার অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার মিসাইল মজুদ রেখেছে। সৌদি তেল-ক্ষেত্র, শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং জনবহুল শহরগুলো এর লক্ষবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তুলনামুলকভাবে সৌদি আরবের অস্ত্রভাণ্ডারে শত শত চীনা মিসাইল থাকলেও তাদের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ দুর্বল।
সৌদি বিমান বাহিনীতে জঙ্গি বিমানের সংখ্যা ইরানের প্রায় সমান। তবে সৌদি বিমানগুলো বেশ আধুনিক এবং কার্যকর। অন্যদিকে ইরানের বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো বেশ পুরনো এবং অদক্ষ।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের মিত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সৌদি আরবের শিয়া জনগোষ্ঠীর সমর্থনও ইরান পাবে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ইতোমধ্যেই এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের জন্য তার প্রচুর অর্থব্যয় হচ্ছে।
তবে যদি সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে কোন সরাসরি লড়াই শুরু হয়, তাহলে দু'পক্ষকেই নির্ভর করতে হবে বিমান বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির ওপর। কিন্তু ঐ যুদ্ধে কোন পক্ষেরই নিরঙ্কুশ বিজয় হবে না।

উপসাগর উত্তপ্ত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা, বিমান এবং নৌবহর মোতায়েন থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে নারাজ।
ড্রোন হামলায় জ্বলছে সৌদি আরবের আবকাইক তেল শোধনাগার
কারণ, লড়াই শুরু হলে মার্কিন সেনা-ঘাঁটি এবং নৌবহরগুলো ইরানি হামলার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
এছাড়া, বিশ্বের সর্বমোট তেল চাহিদার এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটিও তখন যুদ্ধের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

যুদ্ধের পটভূমিতে মার্কিন নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলে দাম হঠাৎ করে আকাশ-ছোঁয়া হয়ে গেলে মি. ট্রাম্পের আবার নির্বাচনে জেতার আশা কঠিন হয়ে পড়বে।
সৌদি আরবের জন্য মার্কিন সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মি. ট্রাম্প চাইছেন, এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হবে সৌদি আরবকে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যে ব্যয় হবে সৌদি সরকার সেটি পুষিয়ে দিলেই তিনি খুশি।
ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্নে সৌদি আরব তার দুই প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনকেও পাশে চায়।
ইরানের সাথে সৌদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার ইয়োরোপীয় মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সমর্থন চাইতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো ইয়োরোপীয় দেশগুলো মনে করে এখন ইরানকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তার সূত্রপাত ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে মি. ট্রাম্পের সরে আসার একক সিদ্ধান্ত।
ইরানের ভেতরে যার কট্টরপন্থী রয়েছেন তাদের এখনকার ভাবনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে পদক্ষেপ না নিয়ে দেশকে আরেকটা যুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল আসলে কতোটা সুবিবেচকের কাজ হবে।
হরমুজ প্রণালীতে চলছে তেলবাহী জাহাজের বহর

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বিভ্রমের অবসান সৌদি আরবের? by রবার্ট এফ. ওর্থ

কিছুদিন আগে সৌদি আরবে যে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তাতে শুধু কয়েকটি তেলের ট্যাংকই ধ্বংস হয়নি। এমন একটি ধারণারও চূড়ান্ত মৃত্যু হয়েছে, যা অনেকদিন ধরে এমনিতেই মিইয়ে যাচ্ছিল। আর সেই ধারণা হলো, যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রেখেছে, যা কিনা তেল-সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের শত্রু, বিশেষ করে ইরানের কাছ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
এই পরিস্থিতিতে আসতে সহায়ক হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভুল কিছু হিসাবনিকাশ। কিন্তু বর্তমানে যে উপসাগরীয় সংকট চলছে তা কেবল এই মার্কিন প্রশাসনের বিষয় নয়, কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগে’র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের মধ্য দিয়ে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাচ্ছে। এর ফলে আমেরিকা এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর এতটাই কম নির্ভরশীল যে, দেশটির কোনো প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য অকাতরে সম্পদ আর রক্ত ব্যয় করার ঝুঁকি নেবে, এমনটা চিন্তা করাও কষ্টকর।
বহু দশক ধরেই উপসাগরীয় নেতারা দৃশ্যত বিশ্বাস করতেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আমেরিকান সমরাস্ত্র কেনায়, তারা প্রায় অভেদ্য হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিতই আমেরিকান কূটনীতিক ও জেনারেলদের বলে আসছেন, ইরানের ব্যাপারে আরও কঠোর হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ ২০০৮ সালে তো বলেই দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘সাপের মস্তক কেটে ফেলা’। অর্থাৎ, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ সৌদি আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে দখলকৃত কুয়েত থেকে চলে যেতে বাধ্য করে।
কিন্তু আমেরিকান শক্তির ওপর এই আস্থার পেছনে হারিয়ে গেছে অনেক অস্বস্তিকর সত্য। সেটা হলো, ইরানের জনসংখ্যা ও সামরিক শক্তির তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কিছুই নেই। আর যুক্তরাষ্ট্র ১০ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। যেকোনো যুদ্ধে উপসাগরীয় শহরগুলো হবে ইরানের প্রধান টার্গেট। আর ইরানের না হলেও, উপসাগরীয় দেশগুলোর শহরগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দুবাইয়ে যদি একবার বোমা হামলা হয়, তাহলে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও পর্যটনের নিরাপদ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দুবাইয়ের যে মর্যাদা, তা মুহূর্তেই চুরমার হয়ে যাবে।
এখন সেই দুঃস্বপ্নই দৃশ্যত সত্য হচ্ছে। গত শনিবার বেশ কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের ব্যয়বহুল আমেরিকান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই তেল স্থাপনায় আঘাত হানলো। আর বিশ্বজুড়ে তেলের দাম গেল বেড়ে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয়তো সীমিত ছিলো। তবে যে বার্তা এই হামলা দিয়েছে, তা কিন্তু ছোটোখাটো নয়। সেটা হলো, ইরান যেকোনো মুহূর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণভোমরায় হামলা চালাতে পারে।
কিন্তু এই ঘটনার পর যা ঘটেছে তা-ও রিয়াদের জন্য ভীতিকর। নিজের পরবর্তী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে চান না ট্রাম্প। ফলে তিনি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না। এ কারণেই হামলার পর হম্বিতম্বি করেই তিনি সেরেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যদিও বলেছেন, এই হামলা যুদ্ধের সমতুল্য। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন এই হামলার প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা সৌদি আরবকেই নিতে বলছে। আর সৌদিরা সেই দায়িত্ব নিতে কিছুটা নারাজ।
এর ফলে কী ঘটতে পারে, তা বলার মতো সময় এখন আসেনি। ইরানের উস্কানি যদি শেষ অবদি চূড়ান্ত যুদ্ধে রূপ না নেয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন বা উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কূটনীতিতে ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
উপসাগরীয় রাজপরিবারগুলোকে রক্ষা করার যে অঙ্গীকার আমেরিকার, তার মূল ১৯৪৫ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট সৌদি আরবের প্রথম বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। শীতল যুদ্ধের সময় এই সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। হ্যারি ট্রুম্যান থেকে জর্জ বুশ- সকল মার্কিন প্রেসিডেন্টই বিশ্বাস করতেন যে, সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র রক্ষা করা কম্যুনিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সম্পর্কে প্রথম আঘাত আসে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ৯/১১-এর আক্রমণের পর। সেবার ১৯ জন বিমান ছিনতাইকারীর ১৫ জনই ছিলেন সৌদি। এরপর দ্বিতীয় আঘাত আসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়। সেবার উপসাগরীয় নেতারা ভাবতে শুরু করেন, ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় ওবামা প্রশাসন তাদেরকে পরিত্যাগ করেছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আবার আগের মতো ঘনিষ্ঠ দেখাতে শুরু করে। সৌদি ও আমিরাতিরা প্রথমে ভেবেছিল যে, ট্রাম্প অন্তত ওবামার চেয়েও কঠোর হবেন। বিশেষ করে, ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলেন ও ইরানের ওপর ফের কড়া অবরোধ আরোপ করলেন, তখন যারপরনাই খুশি হয়েছিল সৌদি আরব ও  সংযুক্ত আরব আমিরাত।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে, ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর ও প্রকৃত পদক্ষেপের মধ্যে কোনো মিল দেখতে পাচ্ছেন না উপসাগরীয় নেতারা। ফলে তারা বেশ অস্বস্তিতে আছেন। জুনে, ট্রাম্প হুমকি দিলেন মনুষ্যবিহীন আমেরিকান ড্রোন ভূপাতিত করায় ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে। কিন্তু পরক্ষণেই প্রতিশোধ নেওয়া থেকে সরে আসেন। নিজের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বরখাস্ত করার যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তা এই ধারণার পালে হাওয়া দিয়েছে যে, ট্রাম্প কোনো যুদ্ধ চান না। তবে অনেকের আশঙ্কা দুর্ঘটনাবশত ঠিকই যুদ্ধে জড়াবেন ট্রাম্প।
আরব আমিরাতি নেতারা এখন নিজেরাই ভাবছেন আদৌ এই প্রেসিডেন্টের ওপর বিশ্বাস করা যায় কিনা। পারস্য উপসাগরে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলেও, আমিরাত সরাসরি ইরানকে দায়ী করা থেকে বিরত থেকেছে। এরপর সবার অলক্ষে ইরানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেন থেকে নিজেদের বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নিয়েছে আমিরাত।
সৌদি আরবও কি একই পদক্ষেপ নেবে? ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে তারা এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত। উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে শিক্ষা দেওয়া। সেই শিক্ষা এখন উল্টো তারাই পাচ্ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি মিলিশিয়ারা গত সপ্তাহে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় শিকার করেছে। কেউই এই দাবি অতটা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিচ্ছে না। কিন্তু এটিও সত্য হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দিকে ড্রোন ও মিশাইল হামলা ক্রমেই বাড়িয়েছে। সৌদিরা হয়তো এই উপলব্ধিতে আসতে বাধ্য হবে যে, কেবল কূটনীতির মাধ্যমেই এই যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে আসবে।
ট্রাম্প হয়তো এখনও উপসাগরীয় দেশগুলোর এই আশা পূরণ করতে পারেন যে, তিনি ইরানকে নমনীয় করতে পারবেন। কিন্তু ট্রাম্পের নিষ্ক্রিয়তার কারণে হয়তো তারা একেবারে ভিন্ন একটি উপলব্ধিতেও পৌঁছাবে। তা হলো, তাদেরকে অবশ্যই আমেরিকান সাহায্য ছাড়াই ইরানকে মোকাবিলা করতে শিখতে হবে।
>>>লেখক: রবার্ট এফ. ওর্থ মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাবেক প্রতিবেদক। তার এই নিবন্ধ নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

পরিবেশ দূষণ: আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে দূষণ করছে সিটি করপোরেশন?

সাভারের আমিনবাজারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিল বা বর্জ্য ফেলার জায়গাটির পরিবেশ ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালে। ডাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সর্বোচ্চ জরিমানা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের অভিযোগ,পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই এখানে বর্জ্য ফেলছে ডিএনসিসি।
২০০৭ সাল থেকে সাভারের আমিনবাজারের এ জলাভূমিকে ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন উত্তর সিটির ৫৪ টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩২০০ টন বর্জ্য ফেলা হয়।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিল: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে পরিবেশ দূষণ?
৫০ একর জায়গা জুড়ে এখানে ময়লা ফেলবার কথা থাকলেও বাস্তবে ময়লা ফেলা হচ্ছে আরো বেশি জায়গায়। ল্যান্ডফিল থেকে ময়লা উপচে পড়ছে এখানকার পানিতেও।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের পাশেই বলিয়ারপুর এলাকা। বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন। অর্থনৈতিকভাবেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
ডাম্পিং স্টেশন হওয়ার আগে এখানে নিয়মিত মাছ ধরতেন বলিয়াপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হামিদা ও তার স্বামী।
হামিদা বলেন, ''এখানে ময়লা ফেলার স্টেশন করার পর থেকে এ পানির মাছ আর খাওয়া যায় না। মাছে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ।''
আরেক বাসিন্দা হাসেরা জানান, ''আমি ফসল বুনি কিন্তু পানিতে ময়লার কারণে এখন আর ফসল হয় না। আমিনবাজারের যত ময়লা আছে সব পানিতে ভেসে ক্ষেতের ভেতরে গিয়ে ঢোকে।''
বলিয়ারপুরের নৌকার মাঝি ছিলেন হোসেন মিয়া। একসময় এখানে পর্যটকেরা নৌকায় চড়তে আসত।তবে এখন দুর্গন্ধের কারণে এখানে কেউ আসে না। ফলে দুই সন্তানের এই জনককে এখন মাঝির কাজ ছেড়ে দিয়ে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে হয়।
মি. মিয়া বলেন, ''আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এত অসুখ বিসুখ হতো না। এখন বাচ্চাদের প্রতি সপ্তাহে ডায়রিয়া-আমাশয় লেগেই থাকে।''

পানিতে ময়লা ফেলে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব?

মাটি, পানি ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে আমিনবাজারে ময়লা ফেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। তবে তৎকালীন অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস পরেই ঐ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আপিল বিভাগ।
আমিনবাজারের বর্জ্যের স্তুপ উচ্চতায় নয় মিটার যা প্রায় একটি দোতলা বাড়ির সমান
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দাবি, 'পরিবেশসম্মতভাবেই' এখানে বর্জ্য ফেলছেন তারা। দূষণ এড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান ডিএনসিসি'র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুর রহমান ।
মি. রহমান বলেন, ''ভূগর্ভের পানি যেন দূষিত না হয় সেজন্য আমিনবাজারে দুটি লিচেট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে।বায়ু দূষণ রোধে সয়েল কাভারের কাজ করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কেন আমাদেরকে দূষণের দায়ে অভিযুক্ত করছে - তা তারাই বলতে পারবে।''
তবে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতি (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি মনে করেন, পানিতে ময়লা ফেলে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অসম্ভব ব্যাপার।
এ ল্যান্ডফিল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর তীব্র বিরোধীতা করে আসছে তাঁর সংগঠন 'বেলা'।
১২ বছর আগে এ ল্যান্ডফিলের বিরুদ্ধে বেলা'র করা মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''সিটি করপোরেশন তখন কতগুলো বিষয় কোর্টে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল। বলা হয়েছিল সাংঘাতিক পরিবেশসম্মত করে ফেলা হবে।"
"নিচে কংক্রিট ঢালাই দেয়া হবে, কোনো রকম লিচিং হবে না। সেই যুক্তির ১২ বছর পার হয়েছে, একটা ইটও তারা সেখানে গাড়তে পারেনি।''

বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে দুই সিটি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে শুধুমাত্র ঢাকা উত্তর সিটিতেই বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে ২১.৯৩ ভাগ।
ল্যান্ডফিল থেকে ময়লা উপচে পড়ছে এখানকার পানিতেও
ক্রমবর্ধমান বর্জ্যের হারের কথা মাথায় রেখে আরো দুটি ল্যান্ডফিল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আমিনবাজারের এ ল্যান্ডফিলটি সম্প্রসারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও চেয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে ল্যান্ডফিল স্থাপনের কোনো আইনি নির্দেশনা নেই। তবে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দর, মহাসড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ল্যান্ডফিল স্থাপন করতে হবে। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের ক্ষেত্রে এ মানদণ্ডের কোনটিই অনুসরণ করা হয়নি।
রাষ্ট্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট দর্শন থাকা জরুরী বলে মনে করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ''সিটি করপোরেশনের কাজ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এক জায়গা থেকে ময়লা নিয়ে আরেক জায়গায় ফেলা নয়।''
পরিবেশ নিয়ে বহুদিন ধরে সোচ্চার থাকা এই আইনজীবী মনে করেন পরিবেশসম্মত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে নাগরিকদের কম বর্জ্য উৎপাদনে সচেতন করতে হবে। না হয় ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
লন্ডন ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এ বছরের তালিকা অনুযায়ী বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর গুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।
এ তালিকায় অর্ন্তভুক্তির পেছনে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও পরিবেশ দূষণের দায়ও কম নয় বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতি (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সমুদ্রপৃষ্ঠে উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জীবনযাত্রাকে অসম্ভব করে তুলছে

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রথাগত জীবনযাত্রাকে অসম্ভব করে তুলছে। গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারীরা জীবন টিকিয়ে রাখতে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উদ্ভাবন, নমনীয়তা ও স্থিতিস্থাপকতার সমন্বয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন বন্যাপ্রবণ এই দেশের মানুষ। কিন্তু পরিবেশ এখন তাদেরকে এমন এক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে যে, তা যেকারো ধৈর্য্যরে বাইরে চলে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন যতই ত্বরান্বিত হচ্ছে ততই গ্রামে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের ওপর চাপ তীব্র হচ্ছে। এর আগে ভয়াবহ মৌসুমী বন্যার সময়ে মানুষ সরে যেতে সক্ষত হতো। এখন নিয়মিত জলাবদ্ধতা সেখানে।
এতে কৃষিকাজ অসম্ভব হয়ে উঠেছে। লবণাক্ত পানির সঙ্গে বিভিন্ন রকম শস্য বা ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কৃষকদের পেশা পরিবর্তন করার সুযোগও সীমিত।
তাহলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য কি করা যেতে পারে; যারা বাংলাদেশের গ্রামে বসবাসকারী ধান উৎপাদনকারী কৃষক?
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশী মানুষ কাজ করেন মৌসুমি বন্যার আগে-পরে। বছরের  নির্দিষ্ট কিছু সময় তারা কৃষিকাজ করেন। পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে আবার তারা জমিজমা থেকে সরে আসেন। আর জমিগুলো অকেজো হয়ে পড়ার কারণে তারা শহরমুখী হন কাজের সন্ধানে।
এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১.৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উঠানামার সঙ্গে সঙ্গে এতে মৌসুমী কার্যক্রম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন প্রতি দশকে একবার বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ঝড় ও অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাস হয়। কিন্তু ২১০০ সাল নাগাদ এ ঘটনা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে তিন থেকে ১৫ বার ঘটতে পারে। এর ফল হিসেবে গ্রামে বসবাসকারী মানুষকে পছন্দ বেছে নেয়া কঠিন হবে। হয়তো তাদেরকে উপায় পরিবর্তন করতে হবে। জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। অন্য কোথাও তাদেরকে খুঁজতে হবে কাজ এবং থাকার স্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ চেন বলেন, জলবায়ু অধিক পরিমাণে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। তাই আমরা উচ্চ হারে ঘন ঘন অভিবাসন দেখছি। আগে যেখানে আমরা অভিবাসন দেখেছি বার্ষিক বন্যা অথবা নদীর তীর ভাঙনের জন্য, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি লবণাক্ত পানি জনপদে ঢুকে পড়ছে। আর তাতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ, লবণাক্ত পানির জন্য জমির প্রকৃতি স্থায়ীভাবে পাল্টে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগের দিনে মানুষ শহরে যেতেন দু’চার মাস কাজ করার জন্য, যখন বন্যা হতো। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর তারা শহর থেকে ফিরে যেতেন। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। কারণ, মানুষ বুঝতে পারছে যে, গ্রামে ফিরে যাওয়া কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নয়।
কিছু মানুষের জন্য লবণাক্ত পানি সুযোগ নিয়ে আসে। যেখানে এক সময় ধান উৎপাদন হতো, এখন সেখানে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। মাছ চাষের জন্য যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করে দিচ্ছে লবণাক্ত পানি। তাই চেন বলেন, কৃষি উৎপাদন থেকে পেশা পরিবর্তনকারী মানুষের দিকে যখন আমরা তাকাই তখন মনে হয় তারা ভাল উৎপাদন করে যাচ্ছে মৎস্য খাত থেকে। এতে মনে হয় তারা মোটামুটি ভাল আছেন। কিন্তু তারা এই যে মোটামুটি ভাল আছেন, তা ভবিষ্যতে টেকসই হওয়া প্রয়োজন। এই মৎস্য চাষ কিভাবে টেকসই হবে? যদি বিপুল পরিমাণ মানুষ পেশা পরিবর্তন করে এদিকে ঝোঁকেন এবং যদি অধিক হারে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে তাহলে তাতে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে। মানুষ বুঝতে পারবে না এমনভাবে অর্থনীতি পাল্টে যাবে।
(অনলাইন বিবিসিতে প্রকাশিত দীর্ঘ নিবন্ধের সংক্ষিপ্তসার)

শামীম ঘুষ দিতো ডলারে by শুভ্র দেব

গণপূর্ত বিভাগের সকল টেন্ডারে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল টেন্ডার মুঘল জি কে শামীমের। মন্ত্রী থেকে শুরু করে সচিব, প্রধান প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করেই তিনি টেন্ডার বাগাতেন। বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের পকেটে চলে যেত মোটা অঙ্কের ঘুষ। বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীরা শামীমের কাছ থেকে নেয়া ঘুষে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। গড়ে তুলেছেন জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল অর্থ-বৈভব। অনুসন্ধানে এমন তিনজন প্রধান প্রকৌশলীর নাম উঠে এসেছে যারা শামীমের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা। তারা হলেন, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাই ও হাফিজুর রহমান মুন্সী। তারা শামীমের খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। অভিযোগ আছে, এই প্রকৌশলীরা ডলারে ঘুষ নিতেন। ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে ডলারেই ঘুষ দিতেন শামীমও। এসব ডলার দিয়ে তারা বিদেশের মাটিতে করেছেন বাড়ি। দেশের ভেতরেও রয়েছে তাদের নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি। এর বাইরে শামীম গণপূর্তের আরও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘুষ দিয়েছেন। র‌্যাবের কাছে আটকের পর এমন আলোচনা এখন গণপূর্ত অধিদপ্তর এলাকায় চাউর আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডারবাজ গোলাম কিবরিয়া শামীম, যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ভয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তটস্থ থাকতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শামীমের দৌরাত্ম শুরু হয়। এর আগে সে শিক্ষা ভবন কেন্দ্রীক টেন্ডারবাজি করত। তখন তাকে শেল্টার দিত জিসান। প্রথম দিকে জিসানের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছোটখাটো টেন্ডার ছিনিয়ে নিত। কিন্তু ধীরে ধীরে জিসানের ছত্রছায়ায় হয়ে উঠে বেপয়োয়া। জিসানের নির্দেশ ও তার ক্যাডার বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে। এ কাজে সে সফলও হয়ে যায়। অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করে নিত। তার কাজে যদি কোনো ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা বাধা হয়ে দাঁড়াতেন তাকে বিদেশ থেকে জিসানই ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দিত। প্রাণের ভয়ে কেউ আর কথা বলত না। এভাবেই ধীরে ধীরে সে টেন্ডারবাজ শামীম হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। তবে ২০১৩ সালের পর যুবলীগ দক্ষিণের প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় সে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। এরপর থেকে তার আর পেছনে তাকাতে হয়নি। যুবলীগ দক্ষিণের ওই দুই নেতা ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নাম ভাঙ্গাত শামীম। নিজেকে কখনও যুবলীগ আবার কখনও আওয়ামী লীগ নেতা হিসাবে পরিচয় দিত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শামীম গণপূর্তের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই শামীমকে কাজ পাইয়ে দিতো। এজন্য অবস্থান বুঝে সবার জন্যই ঘুষের ব্যবস্থা থাকত। সূত্র জানিয়েছে, গণপূর্তের টেন্ডার যেন শামীমকে পাইয়ে দেবার জন্যই তৈরি করা হত। প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেন্ডারের শর্তাবলী এমনভাবে তৈরি করতেন অনেক বড় ও অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা শর্তাবলী পড়েই আনফিট হয়ে যেতেন। এভাবে দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনেক ঠিকাদার গত কয়েক বছর ধরে কেনো কাজ পাননি। গতকাল সরজমিন পূর্ত অধিদপ্তরে গিয়ে একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে শামীমের দৌরাত্মের অনেক বিষয় উঠে এসেছে। এছাড়া ঠিকাদারদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের বিষয়টিও প্রকাশ পায়। প্রায় দেড়শতাধিক নিবন্ধিত ঠিকাদারদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ গণপূর্ত ঠিকাদার এসোসিয়েশন। টেন্ডারবাজ শামীমের কারণে এখানকার অনেক ঠিকাদারের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। র‌্যাবের হাতে শামীম আটক হওয়ার খবরের পর এই ঠিকাদাররা এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। কাজ না থাকায় অনেক ঠিকাদারই এতদিন গণপূর্তের অফিসে আসেননি। কিন্তু গতকাল রোববার থেকে এসব ঠিকাদারদের আনাগোনা বেড়েছে। সবার মুখে এখন শুধু শামীমের নানা অপকর্মের কথা।

বাংলাদেশ কন্ট্রাক্টরস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহ আলম মানবজমিনকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে গণপূর্তের ঠিকাদারিতে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। এই সমিতিতে দেড় শতাধিক ঠিকাদার রয়েছেন। অথচ গণপূর্তের বড় কোনো টেন্ডার হলে কোনো ঠিকাদারই জানত না। বছরের পর বছর ধরে এখানকার ঠিকাদাররা বেকার সময় কাটাচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলী ও আরও কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে জি কে বিপিএলের শামীম ও তার ঘনিষ্টরা সব কাজ ভাগিয়ে নিত। এমনকি ছোট ছোট কাজও প্যাকেজ তৈরি করে বড় অংকের টেন্ডার বানিয়ে শামীম নিয়ে যেত। পরে সেগুলো ভাগ করে তার ঘনিষ্টদের দিত। এসবের পেছনে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন হতো। শামীমের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে সাবেক কয়েকজন প্রধান প্রকৌশলী হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তারা দেশে বিদেশে বাড়ি কিনেছেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে গণপূর্তের টেন্ডারের দরপত্র আহবানের ক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলী যোগ করে দিতো যাতে করে শামীমের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে না পারে।

গণপূর্তের একাধিক নিবন্ধিত ঠিকাদার মানবজমিনকে বলেন, গণপূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে গত কয়েক বছর ধরে যারাই আসছেন তারা তাদের আত্মীয় স্বজন ঠিকাদারদেরকে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। ছোটখাটো কাজ পাওয়ার আশা নাই। শামীম ঠিকাদারদের অফিসে কখনই আসেনি। অথচ ২০০৯ সাল থেকে সে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। যুবলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সে কাজ ভাগাচ্ছে। বিনিময়ে ওই নেতাদেরকে দিচ্ছে বড় অংকের টাকা। যখন কোনো কিছুতেই কাজ হয়না তখন সে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করায়। জিসান ফোন দিয়ে বলে দিলে আর কোনো কাজ আটকায় না। তিনি বলেন, টেন্ডারবাজিতে শামীম যে কত হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে তার হিসাব নাই। ঢাকা শহরের কত জায়গায় যে তার ভবন, প্লট, ফ্ল্যাট আছে। নন্দী পাড়া ও আশে পাশের এলাকায় শত বিঘা জমি আছে।

বালিশকাণ্ডে শামীম: রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ২০ তলা ও ১৬ তলার মোট ২০টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবনের নির্মানের কাজের নিয়ন্ত্রণ ছিল শামীমের হাতে। বেশ কিছু কাজ তিনি নিজে করেছেন। অভিযোগ আছে কমিশন নিয়ে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব ভবনের বেশ কিছু কাজ পাইয়ে দিয়েছেন শামীম। আর কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য সাবেক এক মন্ত্রী, একজন সচিব, সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলী ও গণপূর্তের আরেক প্রকৌশলীকে দিয়েছেন মোট টেন্ডার মূল্যের তিন শতাংশ টাকা। এছাড়া তার সিণ্ডিকেটের প্রভাবশালী নেতাদেরকে আরও কিছু কমিশন দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, কাজ ভাগিয়ে নিয়ে শামীম কমিশনের ভিত্তিতে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন। কিছু কাজ তিনি নিজেই করেছেন। বিশেষকরে নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র সরবরাহের কাজটি শামীম নিজেই করেছেন। এদিকে আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল কয়েকমাস আগে। আসবাবপত্র কেনা থেকে শুরু করে ভবনের উপরে উঠানো পর্যন্ত কয়েকগুন খরচ বেশি দেখানো হয়েছিলো। পত্রিকায় এধরনের রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্টরা। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও পূর্ত অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটিই ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পায়। কমিটি এ ঘটনায় ৩৪ জনকে দায়ী করে। ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার গড়মিল পায়। তদন্ত কমিঠির প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

টাকা পাচার হতো বিদেশে: এদিকে রিমাণ্ডে ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির টাকা পাঠাতেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের কাছে। এই তিনটি ক্ষেত্রেই জিসানের সম্পৃক্ততা ছিল। তাই এসব ক্ষেত্র থেকে আসা টাকার একটি অংশ প্রথমে মধ্যেপাচ্যের একটি দেশের ব্যাংকে পাঠানো হত। সেখানে এই টাকা রিসিভ করত পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাদিম। পরে সেই টাকা পৌঁছে যেত জার্মানিতে থাকা জিসানের কাছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সূত্র বের হবে আশাবাদী বৃটেন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায় বৃটেন । পুঞ্জিভূত ওই সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃটেনও সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, সংকট নিরসনে চীনের সক্রিয়তা আমাদেরকে আরও বেশি আশাবাদী করে তুলছে। বেইজিং ভূমিকা রাখলে সংকটের দ্রুত সমাধান সহজ হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হতে যাওয়া বৈঠকে সংকটের একটি কার্যকর সমাধান বের হতে পারে বলে মনে করে বৃটেন। গতকাল নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃটিশ দূত এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বৃটেনের ধারাবাহিক সহায়তার অংশ হিসাবে অতিরিক্ত আরও ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৯৭২ কোটি টাকার নতুন প্যাকেজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। হাই হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে বৃটিশ দাতা সংস্থা ইউকে-এইডের প্রধান জুডিথ হারবার্টসন রোহিঙ্গা সহায়তায় বৃটেনের নতুন প্যাকেজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরে তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ভুক্তভোগী কেবল বাংলাদেশ নয়, এটি বৈশ্বিক সংকটও বটে। এ থেকে পরিত্রাণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নানা উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার সঙ্গে বৃটেনও রয়েছে। তিনি বলেন, সংকটের সমাধানে হয়ত কিছু সময় লাগছে। কিন্তু তার দেশ আশাবাদী নিশ্চয়ই এর একটি শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই রাজনৈতিক সমাধান হবে। জনবহুল বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ১১ লাখ রোহিঙ্গা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা এখানে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে। বড় আয়তন ও অর্থনৈতিকভাবে ধনী কোন দেশে কিছু রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা যায় কি-না? এ বিষয়ে বৃটেনের মতামত চাওয়া হলে হাই কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয় একক কোন দেশের উপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবেই এ বিষয়ে ভাবতে হবে।

তবে সংকটের সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি রাখাইনে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়া এবং সেখানে তাদের নির্বিঘ্ন বসবাস নিশ্চিত করা। বৃটেন সেই লক্ষ্যই কাজ করছে। এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইউকে এইড প্রধান বলেন, রোহিঙ্গা ফুটবল নয়। তাদের স্থানান্তর নিয়ে ঠেলাধাক্কার বিষয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব যেটি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে দু’বছর আগে দিয়ে রেখেছেন (এটি এখনও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করে ঢাকা) এ বিষয়ে বৃটেনের অবস্থান কি? হাই কমিশনার ডিকসন বলেন, ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্যেগী হলে বৃটেন সঙ্গে থাকবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন উদ্যোগ জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিছু এনজিও’র প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, এনজিওগুলো জরুরী মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে। তাদের ভূমিকা ক্যাম্পে অবস্থারতদের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষাসহ মানবিক চাহিদা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সংবাদ ইউকে-এইড বাংলাদেশের প্রধান বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বৃটেনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যে সহায়তা দেয়া হয়েছে নতুন ঘোষণায় সেটি ২২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়ালো।

৮৭ মিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত সহায়তার ওই অর্থ রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদার পাশপাশি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে প্রভাবিক কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জীবনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। অতিরিক্ত এ অর্থায়ন রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রদান এবং অসহায় ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বৃটিশ সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অলক শর্মার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল তার আকার পরিমাপ করা খুব কঠিন। ভয়াবহ নির্যাতনের সম্মুখীন হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা তাদের আবাসস্থল ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন এ প্রসঙ্গে বলেন, বৃটেন ও বাংলাদেশের মাঝে একটি দৃঢ় ও টেকসই অংশীদারিত্ব বিদ্যমান যা বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে ওঠার রূপান্তরের সঙ্গে গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ যে অসাধারণ উদারতা এবং মানবতা প্রদর্শন করেছে আমরা ব্যাপকভাবে তার প্রশংসা করি- যোগ করেন হাই কমিশনার। বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এ সংকটের সমাধান বের করা, যেন রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। তাদের ফিরে যাওয়ার যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করতে বৃটেন অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বৃটেনের অতিরিক্ত ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তায় যা হবে: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- কক্সবাজারের হাজারো অসহায় বাংলাদেশি পরিবারের জন্য ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের অধিক সহায়তা; সাড়ে ৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশেষ করে সেই সব রোহিঙ্গা নারী ও শিশু যারা যৌন সহিংসতা, অপহরণ ও পাচারের শিকার; ২৭টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকের মাধ্যমে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান; আড়াই লাখের বেশি শরণার্থী এবং কক্সবাজারের ৫ লাখের বেশি স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা; এক বছরের জন্য ১ লাখ শরণার্থীর মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য দেড় লাখ পরিবারকে কন্টেইনার প্রদান এবং স্থানীয় বন উজাড় ঠেকাতে ৩১ হাজার পরিবারকে রান্নার জন্য গ্যাসের সুবিধা প্রদান।

উল্লেখ্য, বৃটেনের সহায়তায় কক্সবাজারে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে তা দেখতে আগামী সপ্তাহে দেশটির সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলটির সফরের বিস্তারিত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মতিঝিল যেন ক্যাসিনো পল্লী

বুধবার অভিযান শুরু। ইয়ংমেন্স ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাবের হানায় বেরিয়ে আসে ঢাকার ক্যাসিনো সম্রাজ্যের খণ্ডচিত্র। ক্লাব দুটির ভেতরের চিত্র ছিল জলসা ঘরের মতো। গতকাল মতিঝিলের একই এলাকায় চারটি অভিজাত ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। নামী এসব ক্লাবেও মিলেছে ক্যাসিনো, জুয়ার সামগ্রী, মাদক ও অর্থ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাগের ডগায় এসব ক্লাবে নির্বিঘ্নে চলেছে মদ-জুয়ার আসর। পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল নিরাপদ এক ক্যাসিনো পল্লীতে। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অবস্থান প্রায় পাশাপাশি। প্রতিটি ক্লাবেই অভিযানে মিলেছে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম। অভিযানে গ্রেপ্তার করা যায়নি কাউকে। স্থানীয়রা বলছেন, আগেই আঁচ পেয়ে ক্লাব সংশ্লিষ্টরা আরও অনেক কিছু সরিয়ে নিয়েছে।

বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এই অভিযান শুরু হয়। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি শিবলি নোমান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল। তথ্য পেয়েই আমরা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেই। আরামবাগ ক্লাবে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালানো হয়। ভিক্টোরিয়া ক্লাবে অভিযানে মেলে নগদ ১ লাখ টাকা, মদ, বিয়ার, সীসা, জুয়া ও ক্যাসিনোর অবৈধ সরঞ্জাম। মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন জানান, ক্লাবের ভেতরের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে এখানেও নিয়মিত ক্যাসিনো বসত। আমাদের কাছে খবর আসা মাত্রই আমরা অভিযানে আসি। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চারটি ক্লাবই পুলিশের নাকের ডগায় ছিল, এটা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। এখান থেকে যাদের নাম আসবে তারা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযানে থাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, ৯টি ডিজিটাল বোর্ড পাওয়া গেছে। ক্যাসিনো পাওয়া গেছে। সুসজ্জিত ও অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হলরুমে জুয়া খেলার ব্যবস্থা ছিল। অভিযানে ৯টি ক্যাসিনোর পাশাপাশি অসংখ্য জুয়া খেলার বোর্ডও পাওয়া গেছে। ক্লাবটি থেকে নগদ ১ লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক মোহামেডানে দেখা মেলে ভয়ংকর চিত্র। আধুনিক সব সরঞ্জাম। লাখ টাকার টোকেন থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার টোকেন। দেয়ালে নির্দিষ্ট করে লেখা খেলার নিয়ম। সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকার টোকেন। আর আছে ভিআইপি বোর্ড। যেখানে খেলার জন্য দিতে হয় সর্বনিম্ন দেড় লাখ টাকা। আর এসব ভিআইপি ক্যাবিনের জন্য আছে ভিআইপি পাস। ক্যাশ কাউন্টারে মিলে লিস্ট। একটি পাতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২০ জনের টাকার লেনদেনের হিসেব। যাতে মেলে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকার চিপস ও সর্বনিম্ন ৭০ হাজার টাকার চিপস কিনেছেন সেই ব্যক্তি। মোট ২০ জন কিনেছেন ১ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার চিপস। এই দিনে ৮০ জনের অধিক লোক ক্যাসিনোতে আসেন। মোহামেডানে মেলে ডিজিটাল গেমিং মেশিন ১২ টা, মেন্যুয়াল বোর্ড ৯টি, ১০ টি ছোড়া, ওয়াকিটকি ১২ টি, ২ টি সিন্দুক, রোলিং বল ৬ টি, অসংখ্য চিপস-প্লেয়িং কার্ড। কার্ডগুলো ছিলো অনেক আধুনিক মানের। একটিতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হলেও সেটিতে আগুন ধরেনি। ৪ টি ক্লাবেই দ্রব্যাদি সরিয়ে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। মোহামেডানে দেখা যায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন ছবি, ফ্রিজ। আর মেঝের ধুলা দেখে মনে হয় অনেক সিন্ধুক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ প্রথমে অভিযান চালায় দিলকুশা ক্লাবে। ফকিরাপুল ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের অভিযানে আগেই সর্তক থাকায় দিলকুশা ক্লাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্লাবটি থেকে ক্যাসিনো খেলার বোর্ডের পাশাপাশি নানা সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানের কথা টের পেয়ে আগেই বিদ্যুতের লাইন কেটে রাখা হয়েছিল আরামবাগ ক্লাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল সেখানে। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তবে সেখানে ক্যাসিনো চলে সেটা বোঝা যাচ্ছিল।

অন্ধকারের কারণে আরামবাগ ক্লাবের ভিতর থেকে ক্যাসিনো খেলার বোর্ড ছাড়া তেমন কিছু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। দুটি বোর্ড উদ্ধার করেই ক্লাবটিকে সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। এই ক্লাবটির সভাপতি ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিনের যুগ্ম সম্পাদক ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুমিনুল হক সাঈদ। তিনি সভাপতি দিলকুশ ক্লাবেরও। তার মালিকানাধীন দুটি ক্লাবেই ক্যাসিনোর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি নেসারউদ্দিন আহম্মেদ কাজল ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন। এই ক্লাবের দায়ীত্বশীলদের দাবি জোড় করে তাদের কাছে ভাড়া নিয়ে এখানে ক্যাসিনো বসানো হয়েছে। কাজটি করেছেন দক্ষিণ যুবলীগের দুই নেতা। একই রকম ভাষ্য দিয়েছেন মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুইয়া। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জোরপূর্বক ক্যাসিনোকে ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ক্যাসিনো কারা চালায় সেটা আমি জানি না। লোক মারফত আমাদের ভাড়ার টাকা দিয়ে যাওয়া হতো। এটা বন্ধে প্রশাসন দৃষ্টি দেয়ায় আমরা সত্যি খুশি। কারণ, ভাড়া হিসেবে দৈনিক যা আসত তা নিয়ে দৈনন্দিন খরচ মেটানো সম্ভব হতো না। খোজ নিয়ে জানাগেছে মোহামেডান ও দিলকুশায় ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন নেপালের দুই নাগরিক।

এর আগে বুধবার মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে বিপুল ক্যাসিনো সামগ্রি, নগদ অর্থ ও মাদক উদ্ধার করা হয়। পরে গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বাস্থ্যের টাকার কুমিরদের ধরতে তৎপর দুদক by মারুফ কিবরিয়া

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত কয়েক মাসে এসব কর্মকর্তার দুর্নীতির খবর ফাঁস ও অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ার ভিত্তিতে একাধিক মামলা করে সংস্থাটি। তবে এখন পর্যন্ত টাকার কুমির হয়ে যাওয়াদের অনেকেই অধরা রয়ে গেছেন। অবশ্য তাদের গ্রেপ্তারে বেশ তৎপরও দুদক। সংস্থাটি বলছে, যেকোনো সময় মামলার আসামিরা জালে ধরা পড়বে।

এরই মধ্যে অবশ্য সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন তাওহীদুর রহমান আত্মসমর্পণ করলে তাকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেন। এছাড়া তার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক আনোয়ার হোসেন আত্মসমর্পণ করেন। তবে, এ পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা কেউ গ্রেপ্তার হননি। বিশেষ করে, চলতি বছর আলোচিত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খাতুনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া এই দম্পতির বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুদক।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কেউ দুদকের চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না। দুদক এ বিষয়ে বেশ তৎপর।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত দুর্নীতির মামলায় আসামিরা ছাড়াও সংস্থাটির নজরে স্বাস্থ্যের আরো ডজনখানেক কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে।

সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেলে দুর্নীতির দায়ে আবজাল দম্পত্তিসহ ১০ জন, সাতক্ষীরায় সিভিল সার্জনসহ ৯জন এবং রংপুর মেডিকেলের অধক্ষ্যসহ ৬জন রয়েছেন।
গত ২৬শে এপ্রিল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার সাবেক হিসাবরক্ষক আবজাল ও তার স্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন-কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল করিম (অবসর), অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন এবং লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল রশিদ, রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মিসেস রুবিনা খানম, কক্সবাজার জেলার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, এসএএস সুপার সুরজিত রায় দাস (অবসরপ্রাপ্ত), কক্সবাজার জেলার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা পংকজ কুমার বৈদ্য, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা অকতার খুকী, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়নের সাবেক উচ্চমান সহকারী মো. খায়রুল আলম (বর্তমানে প্রধান সহকারী)। দুদক জানায়, অনুসন্ধানে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সংশ্লিতা পাওয়া যায়। রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম যাচাই করে ওই অনিয়মের তথ্য পায় দুদক।

এই মামলায় আসামি দশজন হলেও বিশেষ করে আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের অঢেল সম্পদের তথ্য ফাঁস হওয়ায় সবচেয়ে বেশি নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দুদকের তথ্য মতে, এই দম্পতির নামে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কেই তাদের ৪টি পাঁচতলা বাড়ি ও একটি প্লট রয়েছে। ১১ নম্বর সড়কের ১৬, ৪৭, ৬২ ও ৬৬ নম্বর বাড়িটি তাদের নামে। সড়কের ৪৯ নম্বর প্লটটিও তাদের। মিরপুর পল্লবীর কালশীর ডি-ব্লকে ৬ শতাংশ জমি, মেরুল বাড্ডায় আছে আরও একটি প্লট। মানিকদি এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছেন, ঢাকার দক্ষিণখানে আছে ১২ শতাংশ জায়গায় দোতলা বাড়ি। আবজালের নিজ জেলা ফরিদপুর শহরে টেপাখোলা লেকপাড়ে ফরিদের স’মিলের পাশে নিজে কিনেছেন ১২ শতাংশ জমি। ওই জমির প্রায় পাশাপাশি টেপাখোলায় ওই এলাকার কমিশনার জলিল শেখের আবাসন প্রকল্পে ৬ শতাংশ করে নিজে প্লট কিনেছেন দুটি। ফরিদপুরে ওইসব ভূ-সম্পদ ছাড়াও শহরের গোপালপুর এলাকার বনলতা সিনেমা হলের পাশে মাস্টার কলোনিতে ১৫ শতাংশ জায়গায় একটি একতলা বাড়ি ও ভাড়ায় চালিত ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক এই আবজাল। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় আবজালের বাবা-মা, ভাই-বোন ও নিকট আত্মীয়দের নামে ২০টিসহ সারাদেশে তাদের প্রায় শতাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় ২ একর জমি, অস্ট্রেলিয়ায় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা-বাড়ি, কানাডায় কেসিনোর মালিকানা-ফার্ম হাউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে হোটেল রয়েছে তার। অ্যাকাউন্টস অফিসার থাকা অবস্থায় আবজাল ব্যবহার করেছেন লেক্সাস গাড়ি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এসব সম্পদের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর আদালত এই দম্পতির সব সম্পদ ক্রোক করার আদেশ দেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয় দুদক। তবে মামলার ৫ মাস কেটে গেলেও তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

এদিকে, গত ৯ই জুলাই হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে প্রায় ১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জনসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের তৎকালীন স্টোরকিপার এ কে এম ফজলুল হক, হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, রাজধানীর ২৫/১ তোপখানা রোডের বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির কর্ণধার ঠিকাদার মো. জাহের উদ্দিন সরকার, তার ছেলে মো. আহসান হাবিব, জাহের উদ্দিনের বাবা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার হাজী আবদুস সাত্তার সরকার, তার ভগ্নিপতি ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের কর্ণধার মো. আসাদুর রহমান, জাহের উদ্দিন সরকারের নিয়োগকৃত প্রতিনিধি কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও মহাখালী নিমিউ অ্যান্ড টিসির সহকারী প্রকৌশলী এ এইচ এম আবদুল কুদ্দুস। দুদক জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতির কোনো ধরনের চাহিদাপত্র না থাকা সত্ত্বেও যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেন। জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয়, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দরপত্র আহ্বান, দরপত্র সংগ্রহ, দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ দিয়ে তিনটি মিথ্যা বিলের বিপরীতে মোট ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অপরদিকে, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির দায়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুর ইসলামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুদক। ১২ই সেপ্টেম্বর রংপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে দায়েরকৃত ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির মালিক মো. জাহের উদ্দিন সরকার, তার পিতা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, জাহের উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবীব এবং বোন জামাই ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমান।

দুদক জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়ে ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য অধ্যক্ষ ডা. মো. নুর ইসলাম কর্তৃক বিধি বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে এবং যথাযথ চাহিদা ও সুনির্দিষ্টকরণ ছাড়াই দরপত্র আহবান করেন। পরবর্তীতে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানিকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ২০১৮ সালের ২৩শে জুন কার্যাদেশ প্রদান করেন। কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিল পাস করিয়ে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা টাকা আত্মসাৎ করেন। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আসামিরা শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে।

বাড়ির কাজ বন্ধ রাখতে ক্রসফায়ারের হুমকি! by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে বাড়ির কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম শামীম-এর বিরুদ্ধে । শুধু তাই নয় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দেয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। বাড়ির মালিকরা তার কথা অনুযায়ী কাজ না করায় বাড়ির কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ফলে আড়াই মাস ধরে বাড়ির কাজ বন্ধ ছিল বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় ৩১ জনের যৌথ মালিকানার একটি প্লটের নির্মাণ কাজ চলছিল। এই কাজ বন্ধ করতে কয়েকজন মালিকের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন এই কর্মকর্তা। যদিও বিষয়টিতে তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছেন।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই প্রতিবেদককে। এদিকে আরো একটি অভিযোগ উঠে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, অভিযোগকারীসহ অন্যদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দিচ্ছেন তিনি। মীমাংসার জন্য চেষ্টা করছেন। তবে অভিযোগকারী জানান, মিরপুরের ডিসির অনুমতি নিয়ে গত বুধবার থেকে বাড়ির কাজ শুরু করেছেন তারা। এই বিষয়ে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
পুলিশ সদর দপ্তরে (স্মারক নং-১০৫৬) দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভাষানটেক থানার টোনারটেক মসজিদের পাশে ৫৮৫-সি নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যৌথভাবে ওই জমি কেনেন ৩১ জন। গত বছরের ১৬ই জুলাই তারা নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৮ই এপ্রিল হঠাৎ পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম শামীম বাড়ির মালিকদের কাছে একটি চিঠি স্মারক নং-২১৯(২)এসি (পল্লবী জোন) পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেছেন। এজন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে ২২শে এপ্রিল হাজির হতে বলেন এসএম শামীম। তবে এ চিঠি ইস্যুর একদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এসি শামীম।
জমির ৩১ মালিকের একজন নটরডেম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শহীদুল হাসান পাঠান। সবার পক্ষে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে করা আবেদনে বলেন, বাড়ির কাজ বন্ধ না করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকিও দেন। এ সময় তারা রাজউকের অনুমোদিত নকশা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভূমি কমিশনার জমিতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। পরে আবারও তারা কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম ক্ষিপ্ত হন। গত ১৪ই জুন তাদের ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ (নং-৪৯৮) করা হয়। ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭শে জুলাই পল্লবীর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার, এসএম সাদিকুরসহ ৩০-৩৫ জন তাদের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। বাড়ির কাজ করলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হমকি দেয়া হয়। ওই দিনই মালিকদের কয়েকজন বিষয়টি এসি শামীমকে জানালে তিনি হাফিজুর রহমানের সঙ্গে টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসা করতে বলেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। বিষয়টি ওই কর্মকর্তাকে জানালে তিনি বলেন, আপনারা মালিকরা প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে ৯০ লাখ টাকা হাফিজকে দিয়ে দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিনই মোস্তাফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে মালিকদের মধ্যে ৫ জনের নামে একটি মামলা করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসি শামীম নিজেই হাফিজের মাধ্যমে জহিরকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।
পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসএম শামীম বলেন, এটা পুরোপুরি মিথ্যা। বাদী অন্য কারো প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তিনি বলেন অভিযোগকারীকে আমি জিজ্ঞেস করেছি আমি আপনাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দিয়েছি কিনা। ওই সময় অভিযোগকারী বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তা ছাড়া অভিযোগকারী অভিযোগটি তুলে ফেলেছেন, আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। আমি চারবার শ্রেষ্ঠ এসি পদক পেয়েছি। আমি এ কাজ করবো কেন?
অভিযোগটির তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা উপ-কমিশনার শাহেন শাহ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কী তৈরি করা হচ্ছে by মুন্নী আক্তার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকার কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সহযোগি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর প্রকল্পটি নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন।
২০১৮ সালের ২৩শে অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকে পাস করা হয় ওই উন্নয়ন প্রকল্পটি। যাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪শ ৪৫ কোটি টাকা।
বলা হয়, অনুমোদনের পর পরবর্তী সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্পটি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নত 'মডেল' বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই এমন প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানানো হয়।
এরইমধ্যে প্রকল্পটির অধীনে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলছে।
এই প্রকল্পটি যখন পাশ হয়, তখন একে 'অস্বচ্ছ' দাবি করে আন্দোলন-প্রতিবাদও করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল শিক্ষক।
গত বছর একই সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ৪৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৯কোটি টাকা।

কিভাবে হলো এতো বড় প্রকল্প?

একাডেমিক, আবাসিক এবং অন্যান্য সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষাদান ও শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেয়া হয় বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হয় এই এ প্রকল্পে।
এ বিষয়ে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ জানান, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩১৫ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
স্থপতি মাজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে যে মাস্টার প্ল্যান দিয়েছিলেন সেটাকে ভিত্তি করেই ওই পরিকল্পনাটি দেয়া হয়।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রকল্প অধীনে যা তৈরি হবে

গত বছর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটির অধীনে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বহুতল বিশিষ্ট ৪১টি সুপরিসর স্থাপনা নির্মিত হবে।
তবে মি. আহমেদ বলেন, মোট স্থাপনার সংখ্যা ৪১টি নয় বরং প্রকল্প অনুযায়ী ২৩টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, "আবাসিক হল, লাইব্রেরী, লেকচার থিয়েটার, গেস্ট হাউস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টারসহ মোট ২৩টি স্থাপনা এই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে"।
এছাড়া অডিটোরিয়াম, মুক্ত মঞ্চ এবং শিক্ষার্থীদের ১২টি হলের সংস্কার কাজ হওয়ারও কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যেসব স্থাপনার কথা বলা হয়েছে তা হলো..
  • •প্রতিটিতে ১ হাজার আসন বিশিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি আবাসিক হল।
  • •দু'টি খেলার মাঠ।
  • •৪ হাজার শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন লেকচার থিয়েটার এবং পরীক্ষার হল ভবন।
  • •৪ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স।
  • •৬ তলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগার।
  • •একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণ।
  • •১০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন।
  • •১০ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের গেস্ট হাউজ কাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ হাউজ।
  • •শিক্ষক, কর্মকর্তা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ১১তলা বিশিষ্ট আবাসিক টাওয়ার।
  • •বৈদ্যুতিক লাইন সম্প্রসারণ এবং ট্রান্সফরমার স্থাপন।
  • •পথচারীদের জন্য নান্দনিকতাপূর্ণ নিরাপদ রাস্তা।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নির্মাণ কাজগুলো সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন হবে।
যার ফল স্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হবে 'মডেল' বিশ্ববিদ্যালয়ে।

'সবচেয়ে অস্বচ্ছ প্রকল্প'

প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকেই এই উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ কর্মবিরতি, পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কী কী উন্নয়ন করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য দেয়া হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির মুখে প্রকল্প সম্পের্ক যা কিছু জানানো হয়েছে তাও প্রকল্পের সম্পূর্ণ চিত্র নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, "শোনা যাচ্ছে নানান কথা যে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বাসস্থান হবে। কিন্তু এর মধ্যে আর কি কি আছে সেগুলো স্পষ্ট করা হয়নি আমাদের কাছে।"
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর উন্নয়নে এখনো পর্যন্ত এতো বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি।
এই প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বড় অস্বচ্ছ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, "এর আগে যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিলো সেগুলো নিয়েও কিছু অস্বচ্ছতা ছিলো। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পটির মতো এতো বেশি অস্বচ্ছ আর কোন প্রকল্পই ছিলো না"।
তবে প্রকল্প নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এই প্রকল্পে কাজ করেছে। তারা এই প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারপর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে সবশেষ একনেক কমিটির মাধ্যমে পাস হয়েছে। তাই এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
উন্নয়ন প্রকল্প পাস হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কি সংকুচিত হয়ে পড়ছে?

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সরকারিভাবে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যার খরচও হয় অত্যন্ত কম, এক লাখ টাকার মধ্যে। অথচ সেখানে চাকরির বেতন হয় আশি হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত।
ফলে এই চাকরির প্রতি আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের অনেক তরুণের।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে কয়েকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অভিবাসনের বিষয়টি আলোচনা হবে কিনা এবিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা কি? নতুন কোন সম্ভাবনা কি তৈরি হচ্ছে?

যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগ হয়

একসময় বাংলাদেশের চারটি কোম্পানির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগ হলেও, ২০০০ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে একসময় বাংলাদেশের কর্মীরা শীর্ষে থাকলেও এখন সেই স্থান নিয়েছে নেপাল ও ভিয়েতনামের কর্মীরা
পরবর্তীতে ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (এইচআরডি) মাধ্যমে কোরিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এখন এই নিয়োগটি হয় রিক্রুটমেন্ট পয়েন্ট সিস্টেমের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ আবেদনকারী কোরিয়ান ভাষা, কর্মদক্ষতা, শারীরিক যোগ্যতা বৃত্তিমূলক কাজের যোগ্যতা, প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ ও চাকরির অভিজ্ঞতা- ইত্যাদি বিষয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে পয়েন্ট পান। সেসব পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রথম দফা প্রার্থী বাছাই করা হয়।
এরপর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ইন্টারনেট ভিত্তিক দক্ষতা পরীক্ষার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফার কর্মী বাছাই হয়। দুই রাউন্ড মিলিয়ে সর্বাধিক নম্বর পাওয়া ব্যক্তিদের চূড়ান্ত করা হয়।
কোরিয়ার নিয়োগ দাতাদের এসব তথ্য সরবরাহ করে উপযুক্ত কর্মী খুঁজে পেতে সহায়তা করা হয়।
পরীক্ষা, যাচাই বাছাইয়ের পরে কর্মীদের এই তালিকা দেয়া হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। সেখান থেকে তাদের চাহিদা মতো কর্মী বেছে নেন।
বাছাইকৃত কর্মীদের মেয়াদ থাকে দুই বছর। এর মধ্যে কোরিয়ান কোম্পানি তাদের বেছে না নিলে পুনরায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানায় বিভিন্ন দেশের অনেক শ্রমিক কাজ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশিরাও
বাছাই হওয়ার পর বিমান ভাড়া, বোয়েসেলের ফিসহ সবমিলিয়ে একজন কর্মীর খরচ হয় ৮০ হাজার টাকা।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২২১৫জন কর্মী, ২০১৮ অর্থবছরে ২০১২জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছেন।
২০১৯ সালে তিন হাজার কর্মীর চাহিদার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, শেষপর্যন্ত কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী অন্তত দুই হাজার কর্মী পাঠানো যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগের এখন কী অবস্থা?

দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ওমর ফারুক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা কমছে।
তিনি জানাচ্ছেন, একসময় বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম দিকে থাকলেও এখন তাদের হটিয়ে নেপাল, ভিয়েতনাম, মিয়ানমারের কর্মীরা জায়গা দখল করে নিয়েছে।
ঢাকায় বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোরিয়ান ভাষার পাঠদান চলছে
এর কারণ হিসাবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশিরা অল্প সময়ের মধ্যে ঘনঘন চাকরি পরিবর্তন করেন, ফলে অনেক নিয়োগদাতা খুশী নন। এছাড়া অনেক কর্মীর মালিকদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়া, খাবারের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যার সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে সার্টিফিকেট জালিয়াতির সমস্যা।
তিনি জানাচ্ছেন, পয়েন্ট সিস্টেমের কারণে পূর্বের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে কোরিয়ায় পরবর্তী ধাপের ভিসা পেতে সুবিধা হয়, যার ফলে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যায়। এই সুযোগ নিতে বাংলাদেশি কিছু কর্মী দেশ থেকে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে নিয়ে এসেছিলেন, যা কোরিয়ান ইমিগ্রেশনে ধরা পড়ে। এসব অভিযোগে ৪০জনের মতো কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এসব কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু প্রতিষ্ঠান অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে তিনি জানান।
ওমর ফারুক জানান, এখন খরচ কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাদের কারখানা ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ সেখানে উৎপাদন খরচ কম। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাতেও। এর ফলে এখানকার শ্রমবাজারে বিদেশী কর্মীদের চাহিদা কমেছে।
ফলে বাংলাদেশিসহ অনেক বিদেশী কর্মী এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় বেকার রয়েছেন বলে তিনি জানান।

কী বলছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা?

বোয়েসেলের কর্মকর্তা নূর আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছুদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা একটু কমে গেছে, নেপাল ও অন্য দেশের কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি, বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা আরো বাড়ানোর।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে এমপ্লয়মেন্ট পয়েন্ট সিস্টেম নিয়ে মতবিনিময়ে করছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপারে নিয়োগ দাতাদের অনাগ্রহের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ''এরকম একটি কথা আমাদের কানেও এসেছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কর্মীদের নানাভাবে বোঝানো, পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে কোনরকম নেতিবাচক মনোভাব তৈরি না হয়।''
তবে বাংলাদেশী কর্মী বেশি নেয়া না নেয়ার বিষয়টি যেহেতু শেষপর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর ওপরেই নির্ভর করে, সুতরাং এক্ষেত্রে সরাসরি বাংলাদেশি কর্মকর্তা বা কোরীয় কর্মকর্তাদের কিছু করার সুযোগ নেই। বরং সেখানে বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষতা ও আচরণ দিয়ে তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারলে বাংলাদেশের এই বাজারটি আরো বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলছেন, খাবার নিয়ে কর্মীদের একটি অভিযোগ অনেকদিন ধরেই আসছে। কারণ সেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে থাকে। ফলে তাদের মতো খাবার বাংলাদেশি কর্মীরা খেতে পারেন না। এক্ষেত্রেও আমরা কর্মীদের বুঝিয়েছি যেন উন্নত ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা নিজেদের মানিয়ে নেন।
বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে সেখানে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

৭২ হাজার নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত: ভুল অস্ত্রোপচারে বাড়ছে রোগ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশে ৭২ হাজার অবহেলিত নারী ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর বাড়ার বহরে গতি জোগাচ্ছে ভুল অস্ত্রোপচারজনিত ফিস্টুলা। দেশে প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার নারী নতুন ফিস্টুলা রোগী যোগ হচ্ছেন। প্রতিবছর ৬০০ থেকে ৭০০ জন ফিস্টুলা রোগীকে অপারেশন করান চিকিৎসকরা। এনজেন্ডারহেলথ্‌ বাংলাদেশের ‘ফিস্টুলা কেয়ার প্রকল্প’র গবেষণা প্রতিবেদন মতে, প্রতি হাজার বিবাহিত নারীর বিপরীতে বাংলাদেশে ফিস্টুলা-আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ১ দশমিক ৭ জন। উপযুক্ত বয়সের আগে বিয়ে ও গর্ভধারণকারী নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রসবজনিত কারণে ৭৬ শতাংশ এবং অস্ত্রোপচারজনিত কারণে ২৪ শতাংশ নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর অস্ত্রোপচারজনিত কারণের ৮০ শতাংশ জরায়ু অপসারণের ফলে এবং ২০ শতাংশ সিজার পরবর্তী আঘাতের কারণে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা অপারেশনের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৮৩ ভাগ ফিস্টুলা ঠিক করা সম্ভব বলে তার মত দিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশে ইতিপূবে জাতীয় পর্যায়ে ফিস্টুলা বিষয়ে কোনো জরিপ চালানো হয়নি। কর্মকর্তারা ধারণা দিয়ে বলছেন, গত ১০ বছরে দেশে ফিস্টুলা রোগী দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৬ সালের আইসিডিডিআর,বি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি হাজার বিবাহিত মহিলাদের শূন্য দশমিক ৪২ জন ফিস্টুলায় আক্রান্ত। সে হিসাবে ১৯ হাজার ৭৫৫ জন মহিলা ফিস্টুলা রোগে ভুগছেন। বছরে নতুন করে যোগ হচ্ছেন এক হাজার নারী।
ফিস্টুলা প্রতিরোধ না করে শুধু চিকিৎসা দিয়ে এ জটিলতা দূর করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের মধ্যে গাইনি চিকিৎসক বেশি। এদের মধ্যে ফিস্টুলা চিকিৎসক নেই বললেই চলে। এই সংখ্যা মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন রয়েছেন। দেশে ৬৪ থেকে ৬৫ শতাংশ মায়েদের ডেলিভারি এখনও বাড়িতে হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যেসব দেশে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা ছাড়া বাড়িতে ৫০ শতাংশের বেশি সন্তান প্রসব হয় এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, সেসব দেশে বছরে দুই হাজার নারী নতুন করে ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন। এ হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর দুই হাজার ফিস্টুলা রোগী বাড়ছে। তবে নারীরা লজ্জা পান এবং গোপন রাখেন বলে ফিস্টুলার সঠিক পরিসংখ্যান জানা কঠিন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ মতে, বিশ্বে আনুমানিক ২ মিলিয়নেরও বেশি অর্থাৎ ২০ লাখ নারী ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখেরও বেশি নারী নতুর করে এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর মাত্রা বেশি।
সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ ফিস্টুলা রোগী সেবা নিচ্ছেন। এখানে আগে ১৬টি বেড ছিল। কিন্তু দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ায় কারণে বর্তমানে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫-এ উন্নীত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে বিএসএমএমইউতে ৬টি বেড নিয়ে আলাদাভাবে ফিস্টুলা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গত ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ সেন্টার থেকে এসব রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রায় দু’বছরে দেড়শতাধিক জনের মতো রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে। সেন্টারে আসা রোগীরদের বেশির ভাগই দরিদ্র এবং গ্রামের বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অসচেতনতার কারণে মূলত নারীরা ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশ শিশুমৃত্যুর হারে সাফল্য অর্জন করলেও নিরাপদ প্রসব এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অসতর্কতা, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া, অদক্ষ দাইয়ের হাতে সন্তান প্রসব, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া এবং পরিবারের অবহেলার কারণে এখনো দেশের অনেক মা প্রসবকালীন সময়ে সঠিক সেবা পান না। ফলে নারীরা ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রতিরোধ: চিকিৎসকদের মতে, ফিস্টুলা একটি নিরাময়যোগ্য শারীরিক সমস্যা। দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ সমস্যা নিরাময় সম্ভব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা অপারেশনের মাধ্যমে ফিস্টুলা ঠিক করা যায়। বাল্যবিয়েকে নারীজনিত ফিস্টুলার অন্যতম কারণ বলা হয়। বাল্যবিয়ে বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কম বয়সে গর্ভধারণ করলে ফিস্টুলা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই উপযুক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করে পরিণত বয়সে সন্তান নেয়া উচিত। উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর সহায়তায় প্রসব করালে ফিস্টুলা ঝুঁকি কম থাকে। বাধাগ্রস্ত প্রসবের ক্ষেত্রে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাতীয় ফিস্টুলা সেন্টারসহ দেশের ১১টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঢাকা এবং যশোরের আদ-দ্বীন হাসপাতাল, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ল্যাম্বসহ ৮টি বেসরকারি হাসপাতালে এনজেন্ডারহেলথ্‌? ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে। ঢাকায় এই রোগীদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রও পরিচালিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, নগরের ১৮/২ বকশীবাজারে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগী চিকিৎসা, আরোগ্য ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কার্যালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউএনএফপিএর সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় এ পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২৮ জন নারীর থাকার ব্যবস্থা আছে। কেন্দ্রের ভেতরেই বেকারি, সেলাই, রান্না, সবজির বাগান তৈরি, হাঁস মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রশিক্ষণ পেয়ে এক সময়ে সমাজচ্যুত এই নারীরা এখন অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী।
ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের  সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. ফেরদৌসি ইসলাম লিপি জানান, বাড়িতে বাধাগ্রস্ত প্রসব কমাতে দরকার দক্ষ ধাত্রী। তাহলে ফিস্টুলা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রসবের সঠিক সময়ে পাটোগ্রাফ ব্যবহার করতে হবে। থাকতে হবে পূর্ব প্রস্তুতিও। মানুষের মধ্যে সচেতনতাই পারে এ রোগ থেকে মুক্তি দিতে। বিলম্বিত প্রসব রোধ করতে মায়েদের পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হবে। তিনি বলেন, বাধাগ্রস্ত ফিস্টুল কিছুটা কমলেও গাইনোকোলজিকাল অস্ত্রোপচারে বাড়ছে ফিস্টুলা। এজন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রসবজনিত ফিস্টুলা সংক্রান্ত জাতীয় কৌশলপত্র (২০১৭-২০২২) উদ্বোধনী এক অনুষ্ঠানে নার্সি ও মিডওইয়াফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তন্দ্র সিকদার জানান, বাংলাদেশে ৭২ হাজার নারী ফিস্টুলা রোগের সমস্যয় ভুগছেন। আমাদের সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে। তাহলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ঢাকার বস্তিগুলোতে সরকারি হিসাবে ঘর পৌনে ২ লাখ, বাস্তবে আরও বেশি by শেখ জাহাঙ্গীর আলম

কড়াইল বস্তি
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে নাসির উদ্দিন যশোর থেকে ঢাকায় আসেন ২৮ বছর আগে। ওঠেন কড়াইল বস্তিতে। এরপর আর ঠাঁই বদল হয়নি তার। প্রতিবন্ধী মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। শুরুতে রিকশা চালাতেন। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী। নাসিরের মতো ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫ মানুষ ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে থাকেন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় বস্তি রয়েছে ৩ হাজার ৩৯৩টি। আর এসব বস্তিতে খানা বা ঘর বা পরিবার রয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩১টি।
তবে সরেজমিনে ঢাকার পাঁচটি বড় বস্তি ঘুরে খানার সংখ্যাসহ বসবাসকারীল সংখ্যা অনেক বেশি পাওয়া গেছে। দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, জরিপের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নাও থাকতে পারে।
২০১৪ সালের বস্তিশুমারির পর গত ৫ বছরে দুই সিটিতে কতগুলো বস্তি রয়েছে বা এসব বস্তিতে কত মানুষ বসবাস করছে, এর কোনও হালনাগাদ হিসাব সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর বস্তিশুমারি: পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ‘বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা জরিপ’ করে ২০১৪ সালে। সরকারি এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বস্তি রয়েছে ১ হাজার ৬৩৯টি। এসব বস্তিতে খানা বা ঘর বা পরিবার রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪০টি। খানাসদস্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৯ জন।
আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১ হাজার ৭৫৫টি বস্তিতে খানা (ঘর বা পরিবার) রয়েছে ৪০ হাজার ৫৯১টি। এসব ঘরে বসবাস করে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬ জন।
দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা যা বলছেন: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে বস্তি ও বস্তিবাসীর সঠিক হিসাব নেই। যদিও দুটি করপোরেশনেরই সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগে লোকবল কম থাকায় বস্তি, ঘর ও বসবাসকারীর সংখ্যা নির্ণয়ের কাজ করা যাচ্ছে না।
ডিএনসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ভূঞা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বস্তিতে একটি খানা মানে একটি ঘর। একটি ঘরে একটি পরিবার বসবাস করে। ২০১৪ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বস্তিশুমারি করেছিল। তাদের তথ্যের বাইরে আমাদের কাছে আর কোনও তথ্য নেই।’
ডিএসসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা এ কে এম লুৎফুর রহমান সিদ্দীক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দক্ষিণের বস্তিগুলোতে সঠিক কত ঘর আছে, আলাদা করে আমাদের কাছে তথ্য নেই। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যই আমরা সংরক্ষণ করি। কারণ, তাদের তথ্য সঠিক বলে আমরা মনে করি।’
কড়াইল বস্তি: রাজধানীর মহখালী ও গুলশান এলাকার মাঝে ডিএনসিসির ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই বস্তির আয়তন প্রায় ৯৫ একর। এই জায়গার মালিকানায় একাধিক সরকারি সংস্থা থাকলেও অনেক আগে থেকেই এখানে ঘর তুলে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বসবাস করছে।
কড়াইল বস্তির ১ নম্বর ইউনিটের বস্তি উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন রিপন বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী কড়াইল বস্তিতে মোট ১২ হাজার ঘর রয়েছে। মানুষ বসবাস করে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার।’
তিনি বলেন, ‘বস্তিতে ২৪ হাজার ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ১০ হাজার ভোটার ও ২ নম্বর ইউনিটে ১৪ হাজার ভোটার রয়েছে।’
বিবিএসের ২০১৪ সালের বস্তিশুমারি অনুযায়ী এই বস্তিতে ঘর বা খানা রয়েছে ১০ হাজার ২২২টি। এসব খানায় ৩৬ হাজার ৭১৯ জনের বসবাস। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে বস্তিটিতে ঘর বেড়েছে ১ হাজার ৭৭৮টি।
সাততলা বস্তি: মহাখালীতে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, নিপসম, আইসিডিডিআরবিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায় গড়ে উঠেছে সাততলা বস্তি। এর কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন বাউন্ডারি বস্তি, দক্ষিণ পাড়া, স্টাফ মহল্লা, পোড়া বস্তি ও চৌধুরী পাড়া বস্তি।
সাততলা বস্তি উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু ইউসুফ মৃধা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী সাততলা বস্তিতে মোট ১০ হাজার ৮০০ পরিবারের বসবাস। ঘর আছে ১১ হাজার। এসব ঘরে ৫২ হাজার ৯২০ জন মানুষের বসবাস। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের পর এই বস্তিতে লোক সংখ্যা ও ঘরের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে সেই হিসাব আমাদের কাছে নেই।’
বিবিএস বস্তিশুমারি বলছে, এই বস্তির ঘরসংখ্যা ৬ হাজার ৮৪৫টি। এসব ঘরে ৪ হাজার ৩৭৩টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা ২১ হাজার ৮৬৯। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার ১১৫টি ঘর বেড়েছে।
মিরপুর-২ নম্বর হাজী রোড ঝিলপাড় বস্তি: মিরপুর-২ নম্বরে কমার্স কলেজের পাশে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ জায়গায় গত ৩০ বছর আগে গড়ে উঠেছে হাজী রোড ঝিলপাড় বস্তি।
বস্তির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, ‘বর্তমানে বস্তিতে ১ হাজার ৫০০টি ঘর রয়েছে। পুরো বস্তিতে বাড়িওয়ালা রয়েছে ২২০ জন। সাড়ে ৭ হাজার বস্তিবাসির মধ্যে ভোটার ১ হাজার ৫০০ জন।
বিবিএসের বস্তিশুমারি বলছে বস্তিটিতে ৫৩৪টি ঘর রয়েছে। এসব ঘরে ২ হাজার ১৮ জনের বসবাস। এখানেও ৫ বছরের ব্যবধানে ৯৬৬টি বেশি ঘরের হিসাব পাওয়া যায়।
কল্যাণপুর পোড়া বস্তি: মিরপুরের দক্ষিণ পাইক পাড়ায় কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে ৮টি ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটে ঘর রয়েছে সাড়ে ৩ হাজার। বস্তি উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘বস্তিতে সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ থাকে। এর মধ্যে ভোটার সাড়ে ৪ হাজার।’
বিবিএসের বস্তিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বস্তিটির ঘরসংখ্যা ২ হাজার ১৮৪টি। এখানে বাস করে ৮ হাজার ১২৯ জন। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে বস্তিতে ঘর বেড়েছে ১ হাজার ৩১৬টি।
মিরপুর-৬ নম্বর ঝিলপাড় বস্তি: মিরপুর ৬ ও ৭ নম্বর সেকশনে ঝিলপাড় বস্তি গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে চার দশক আগে। স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বস্তিটিতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার সদস্য রয়েছে। এতে ১৫ হাজারের বেশি ঘর রয়েছে বলে জানান স্থানীয় নেতা ওয়াজেদ আলী সিকদার। তিনি জানান, এ বস্তিতে কোনও কমিটি নেই।
বিবিএসের বস্তিশুমারির হিসাবে বস্তিটিতে ৩ হাজার ২০১টি ঘর রয়েছে। এসব ঘরে ২০ হাজার ৯১৯ জনের বসবাস। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে এই বস্তিতে ১১ হাজার ৭৯৯টি বেশি ঘর পাওয়া যায়।
>>ছবি: সাজ্জাদ হোসাইন

পৃথিবীতে বসবাসের উপযুক্ত সেরা ১০ শহর (ফটোস্টোরি)

বসবাসের উপযুক্ত শহরে ভ্রমণপ্রেমীরা ঘুরে আনন্দ পায়। এসব জায়গার প্রতি তাদের আকর্ষণ থাকে একটু বেশি। ব্রিটিশ গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দৃষ্টিতে ২০১৯ সালে বসবাসের উপযুক্ত সেরা ১০ শহরের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। গতবারের মতোই এতে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা।
সামাজিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও পরিকাঠামো আর স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকাটি তৈরি হয়েছে। সেরা দশে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার তিনটি করে শহর আছে। এছাড়া জাপানের দুটি আর অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কের একটি করে শহর রয়েছে। ছবিতে দেখা যাক সেরা ১০টি শহর।
১০. অ্যাডিলেড
বিশ্বে বসবাসের উপযুক্ত সেরা ১০ শহরের মধ্যে সবার নিচে আছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার শহরটি। গতবারও এটি ছিল একই অবস্থানে। 
৯. কোপেনেহেগেন
তালিকার সেরা দশে স্থান পেয়েছে ইউরোপের দুটি শহর। এর মধ্যে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এবারও আছে ৯ নম্বরে। শহরটির ভেস্টারব্রো এলাকা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এখানকার স্যান্ডউইচ অতুলনীয়।
৮. টোকিও

জাপানের রাজধানী টোকিওকে বলা হয় ভবিষ্যতের শহর। এটি আছে বসবাসের উপযুক্ত শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় ৮ নম্বরে।
৭. টরন্টো
কানাডার সবচেয়ে জনবহুল শহর টরন্টো। এটি আছে সাত নম্বরে।
৬. ভ্যানক্যুভার
প্রশান্ত মহাসাগর ঘেঁষে থাকা কানাডার ভ্যানক্যুভার গতবারের মতোই আছে ছয় নম্বরে।
৫. ক্যালগ্যারি

কানাডার আলবার্তা প্রদেশের শহর ক্যালগ্যারি এবারের র‌্যাংকিংয়ে চার থেকে নেমে গেছে পাঁচে।
৪. ওসাকা
জাপানের ওসাকা শহরের বাসিন্দা ১ কোটি ৯০ লাখ। তালিকায় তিন নম্বর থেকে এটি নেমেছে চারে।
৩. সিডনিপর্যটকদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় শহর সিডনি। অপেরা হাউসের মতো কিছু দর্শনীয় স্থাপনা রয়েছে এখানে। বসবাসের জন্য উপযুক্ত শহরের র‌্যাংকিংয়ে পাঁচ থেকে তিনে উঠে এসেছে সিডনি।
২. মেলবোর্ন

গতবারের মতোই তালিকার দুই নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়ার আরেক শহর মেলবোর্ন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তালিকায় শীর্ষে ছিল এটি।
১. ভিয়েনা

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দৃষ্টিতে ২০১৯ সালে বিশ্বে বসবাসের সবচয়ে উপযুক্ত শহর নির্বাচিত হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। গতবার এটি ছিল এক নম্বরে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকে স্থায়ী হতে ভিয়েনায় পাড়ি জমায়। জাঁকালো স্থাপত্য, সবুজের সমারোহ ও ঐতিহ্যবাহী কফি শপের সুবাদে শহরটির খ্যাতি দুনিয়াজোড়া।