Friday, November 22, 2019

দাড়িতে থাকে উপকারী অনেক ব্যাকটেরিয়া, ধ্বংস করে ক্ষতিকর জীবাণু by হামিম উল কবির

আপনি নতুন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের খোঁজ করতে চান, তবে কোথা থেকে শুরু করবেন? এ জন্য কি কোনো জলাশয়ে অথবা দূরবর্তী দ্বীপে যাবেন? ভালো, তাহলে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো যায় এমন দাড়ি হলে কেমন হয়? মাইকেল মোসলি এ ব্যাপারটি নিয়েই অনুসন্ধান করেছেন।
দাড়ির সমালোচনাকারীরা বলে থাকেন যে দাড়ি যে শুধু বিরক্তিকর একটি ব্যাপার তাই নয়, অস্বস্তিকর ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয়স্থলও বটে। তা হলে দেখা যাক যে দাড়িতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে এমন কিছু কি রয়েছে?
যারা দাড়িকে ভয় পান তারা নিউ মেক্সিকোর গবেষণাটির কথা বলেন যেখানে দৈব চয়নে নির্ধারণ করা কিছু দাড়ির মধ্য মলে থাকা এন্টেরিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে পেয়েছেন। একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে কিছু দাড়িতে টয়লেটের চেয়ে বেশি দুর্গন্ধ রয়েছে। কিন্তু এতে কি দাড়ির মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে সঠিকভাবে প্রতিফলন ঘটেছে? আমেরিকান একটি হাসপাতাল আগেরটার চেয়ে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এমন একটি গবেষণা করেছে।
হসপিটাল ইনফেকশন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দাড়িওয়ালা ও দাড়িহীন ৪০৮ জন হাসপাতাল কর্মচারীর মুখমণ্ডল পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। এ গবেষণাটি করার তাদের যথেষ্ট কারণও ছিল। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত সংক্রমণ পরে ‘রোগ ও মৃত্যুর’ একটি বড় কারণ। অনেক রোগী হাসপাতাল থেকে এমন কিছু রোগ পেয়ে থাকে হাসপাতালে প্রবেশের আগে তাদের দেহে ওই রোগগুলো ছিল না। হাসপাতাল পরিদর্শনে যাওয়া অথবা হাসপাতাল স্টাফদের হাতে, কোটে, টাই-র মধ্যে এমনকি যন্ত্রপাতিতে এসব জীবাণু থাকে।
কিন্তু দাড়ির কি অবস্থা? গবেষকেরা বিষ্মিত হয়েছেন যে দাড়িওয়ালা ব্যক্তির চেয়ে ক্লিন শেভ করা ব্যক্তির মুখমণ্ডল অস্বস্তিকর কিছু বহন করতে দেখে। ক্লিন শেভ করা ব্যক্তিরা তাদের গালে তিন গুণের চেয়ে বেশি মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্ট্যাপস অরিয়াস (এমআরএসএ) প্রজাতির জীবাণু বহন করেন। মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্ট্যাপস অরিয়াস হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত জীবাণু। তাহলে কি হচ্ছে? গবেষকেরা সুপারিশ করেছেন যে দাড়ি শেভ করা হলে ত্বকের খুবই ক্ষুদ্র (মাইক্রো) অংশ কেটে যায় এবং এই অংশটুকুতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, বেড়ে উঠে।
গবেষকেরা দাঁড়ি নিয়ে যুক্তি সঙ্গত একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে দাঁড়ি ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. এ্যাডাম রবার্টসের কাছে গবেষকেরা দাড়ি শোষণযুক্ত যন্ত্রের সাহায্যে কিছু অংশ পাঠিয়েছিলেন। ড. এ্যাডাম দাড়ি থেকে প্রাপ্ত ত্বকের কেটে যাওয়া অংশের মাইক্রোবস থেকে ১০০’র বেশি ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করেন। এর মধ্যে একটি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে যা আমাদের ইনটেস্টাইনে (পাকস্থলির নিচে ছোট অংশ-ক্ষদ্রান্ত্র) পাওয়া যায়। এ্যাডাম জানান যে ব্যাকটেরিয়াটি মল থেকে এসেছে মনে করার কোনো কারণ নেই। দাঁড়িতে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার প্রাপ্তি খুবই স্বাভাবিক এবং এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
খুবই মজার ব্যাপার হলো দাড়িতে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে তা অন্য ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। ব্যাকটেরিয়াকে আমাদের শত্রু হিসেবে ধরা হলেও এগুলো সেরকম নয়। দাড়ির মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের সংখ্যা কমিয়ে থাকে। এরা সেখানে খাদ্য, রিসোর্স ও স্পেসের (নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জায়গা) জন্য লড়াই করে। এ্যাডাম বলেন, দাঁড়ির মধ্যে থাকা মাইক্রোবস টক্সিন উৎপাদন করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করছে।
এ্যাডাম দাড়ির ওই নমুনায় স্টেফাইলোকক্সাস এপিডারমিস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার ঘাতক খুঁজে পেয়েছেন। এ্যাডাম গবেষণাগারে ওষুধ প্রতিরোধী কিছু ই-কোলির বিরুদ্ধে পরীক্ষা করলে দেখতে পান দাড়ির এইসব স্টেফাইলোকক্কাস এপিডারমিস ই-কোলির প্রজাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রচুর পরিমাণে।
উল্লেখ্য ওষুধ প্রতিরোধি জীবানু প্রতি বছর বিশ্বে সাত লাখ মানুষকে হত্যা করে। ২০৫০ সালে এটা এক কোটিতে উন্নীত হবে। যেখানে গত ৩০ বছরে বিশ্বে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের জন্য আবিস্কার হয়নি। এ্যাডাম দাঁড়ি থেকে প্রাপ্ত এসব মাইক্রোবসকে মাউথওয়াশ ও টুথপেস্টে যোগ করতে চান। এটা মুখের এসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করবে।
(২০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে বিবিসিতে প্রকাশিত আর বেয়ার্ড গুড ফর ইউর হেলথ-এর অনুবাদ)

ফাইভ-জির সুবিধা

পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভ-জি, যা আমূল পালটে দেবে মানুষের প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা৷ ইন্টারনেটের গতি বর্তমানের ফোর-জির তুলনায় হবে ১০০ গুণ বেশি৷ সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয়েছে ফাইভ-জি সুবিধার ফোন৷
মোবাইল প্রযুক্তিতে বিবর্তনের ধারাবাহিকতার সর্বশেষ পর্যায় ফাইভ-জি৷ পঞ্চম প্রজন্মের এই নেটওয়ার্কের গতি হবে ঈর্ষণীয়৷ ইন্টারনেট সংযোগের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি এটা অন্যান্য ডিভাইসকেও মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবে৷ এই প্রযুক্তি নিয়ে উল্লসিত মোবাইল কোম্পানিগুলো নানা রকমের উদ্যোগ নিচ্ছে৷
আশির দশকে প্রথম আসে ওয়ান-জি মোবাইল, যাতে শুধু কথা বলা যেত৷ এরপর কথা বলার সঙ্গে এসএমএস আদানপ্রদান সুবিধা নিয়ে আসে টু-জি৷ ২০০৩ সালে আসে থ্রি-জি, যার মাধ্যমে মুঠোফোনে যুক্ত হয় ইন্টারনেট৷ এরপর ২০০৮ সালে ফোর-জির কারণে উচ্চগতি পায় মোবাইল ইন্টারনেট৷ ফাইভ-জি অতি উচ্চগতির পাশাপাশি হ্যান্ডসেট ছাড়া অন্যান্য ডিভাইসকেও সমানতালে সংযুক্ত করতে পারবে৷
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইভ-জির কারণে ইন্টারনেটের গতি বর্তমানের তুলনায় ১০০০ গুণ বেশি বেড়ে যাবে৷ এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি সিনেমা ডাউনলোড করা যাবে মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে!
২০৩৪ সালের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ির বাজার দাঁড়াবে ৫৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে৷ ফাইভ-জিকে এই খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে ধরা হচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকবিহীন গাড়ির পাশাপাশি অন্য গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ, সরাসরি ম্যাপ এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য পাওয়া যাবে এতে৷
দেশ-বিদেশ ঘুরে রোবট সোফিয়া যখন সবার সঙ্গে আলাপ করে তখন কে-না আনন্দ পায়৷ বর্তমানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে বড় রকমের জায়গা দখল করে নিচ্ছে সোফিয়ার মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট আর এআই প্রযুক্তি৷ ফাইভ-জি থেকে আসা বিপুল পরিমাণের ডেটা এআই প্রযুক্তির এমন কাজকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে৷
শিল্প কল-কারখানা আর দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে রোবটকে ব্যবহার বাড়ছে সারাবিশ্ব৷ ফাইভ-জিতে ইন্টারনেটের গতি বাড়লে রোবটের মধ্যে যোগাযোগের পরিধি বেড়ে যাবে অনেক৷ শিল্প উৎপাদনের ধারাও আমূল পালটে যাবে এর মাধ্যমে৷
ভিডিও, মিউজিক স্ট্রিমিংসহ বিভিন্ন বিনোদন মাধ্যমের জনপ্রিয়তার কারণে সারাবিশ্বে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ছে প্রতিনিয়ত৷ কিন্তু বর্তমানে স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ব্যবহারের বিদ্যমান সক্ষমতার কারণে এ সেবায় ছেদ পড়ে নানা সময়৷ এর বিপরীতে ফাইভ-জিতে হাজার হাজার ডিভাইস সমানতালে চালানোর সক্ষমতা থাকবে৷ ফলে মোবাইল থেকে শুরু করে ইকুইপমেন্ট সেন্সর, ভিডিও ক্যামেরা থেকে স্মার্ট স্ট্রিট লাইট সবকিছুর অভিজ্ঞতা পালটে যাবে৷

ফিকহ অব সোশ্যাল মিডিয়া: শায়খ সুলাইমান আর-রুহাইলি

যদি সোশ্যাল মিডিয়া হারাম কাজে জড়ানোর মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এটা অনেক বড় জুলুমের পথ খুলে দেয়। যখন মানুষ বিভিন্ন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ে, কোনো সন্দেহ নেই এটি নিজের প্রতি অনেক বড় জুলুম হিসেবে গণ্য হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ যেসব হারামে জড়িয়ে পড়ে তার মধ...।
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল : শায়খ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনার নসিহত কী? কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে অনেকে নিজের সন্তানদের সময় দেওয়া এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন।
উত্তর : প্রিয় ভাই, প্রথমে একটা মূলনীতি জেনে নিন। তা হলো, যে বিষয় মানুষকে ওয়াজিব তথা অত্যাবশ্যকীয় কাজ থেকে বিরত রাখে, তাতে লিপ্ত হওয়া হারাম। আর যে বিষয় মানুষকে ফজিলতপূর্ণ কোনো কাজ থেকে বিরত রাখে, তাতে লিপ্ত হওয়া মাকরুহ।
সুতরাং যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কারও ওয়াজিব দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়; তবে এটি ব্যবহার করা তার জন্য হারাম হবে। যেমনÑ কেউ এটি ব্যবহার করার ফলে নিজের সন্তানের পরিচর্যা করে না, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে না; বরং এখন তো এমন অবস্থা হয়েছে যে, যারা চাকরিজীবী তারাও নিজের অফিসে এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়েই পড়ে থাকে, নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে না। দেখা যায়, কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অফিসে এসে দাঁড়িয়ে আছে আর ওই ব্যক্তি তার ফোন নিয়ে ব্যস্ত। কোনো কোনো সময় এমনও হয়, কেউ একজন এসে পাঁচ-দশ মিনিট দাঁড়িয়ে আছে আর ওই কর্মকর্তা তার মোবাইলে গেম খেলেই যাচ্ছে।
এক ব্যক্তি আমাকে নিজের ঘটনা বলেছিল, একবার আমি এক অফিসের কর্মকর্তার কাছে গেলাম। সে তার মোবাইল ফোনে কিছু একটা টাইপ করছিল। সে আমাকে বলল, ‘ভাই একটু অপেক্ষা করুন।’ আমি তাকে বললাম, ‘আপনার কাছে আমার একটু প্রয়োজন আছে। একটা কাজ সারার জন্য আপনার কাছে এলাম।’ সে আমাকে প্রত্যুত্তর করল, ‘তুমি দেখছ না আমি ব্যস্ত!’
তো দেখুন, এই লোকটি কিন্তু তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে না। সে কাজের সময়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছে। হয়তো একজনকে মেসেজ পাঠাচ্ছে কিংবা অন্যজনের পাঠানো মেসেজ পড়ছে। এ রকম বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে।
সুতরাং এ ধরনের কাজকর্ম, যা অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাতে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। আর যদি এমন হয়, ওই কাজটি ফজিলতপূর্ণ কোনো বিষয় থেকে তাকে বিরত রাখে, তাহলে সেটা করা মাকরুহ হবে।
যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি আজ কী পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করেছেন?’ তিনি উত্তরে বলবেন, ‘না, আমি আজ তেলাওয়াত করিনি।’ যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি সর্বশেষ কবে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন?’ তিনি বলবেন, ‘সর্বশেষ গত শুক্রবার তেলাওয়াত করেছি।’ যদি এর কারণ জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন তেলাওয়াত করেননি?’ জবাবে তিনি বলবেন, ‘আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম। তাই তেলাওয়াত করার সময় পাইনি।’ যদি আমরা হিসাব করি তাহলে দেখব, তিনি যে পরিমাণ সময় এসব সোশ্যাল মিডিয়ায় নষ্ট করেছেন, যদি অর্ধেক সময়ও এসব থেকে বিরত থাকতেন, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ৫ পারা কোরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হতেন।
আর যদি এসব সোশ্যাল মিডিয়া হারাম কাজে জড়ানোর মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এটা অনেক বড় জুলুমের পথ খুলে দেয়। যখন মানুষ বিভিন্ন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ে, কোনো সন্দেহ নেই এটি নিজের প্রতি অনেক বড় জুলুম হিসেবে গণ্য হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ যেসব হারামে জড়িয়ে পড়ে তার মধ্যে রয়েছে অশ্লীল দৃশ্য দেখা, অশ্লীল কিছু পড়া অথবা এসব যোগাযোগ মাধ্যমে গাইরে মাহরাম মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের হয়রানি করা।
এ কারণে আমি বলি, প্রিয় ভাই আমার, এসব যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার অনেক ভালো দিক রয়েছে, এতে বেশ কিছু ফায়দা রয়েছে। এটি দূরে অবস্থানকারীকে সহজেই কাছে নিয়ে আসছে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষ অনেক বইপত্র পড়তে পারছে, সংবাদ জানতে পারছে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে। তবে এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। এর ভেতরে হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার যেসব আশঙ্কা আছে, সেগুলো থেকে আমাদের দূরে থাকার জন্য সচেতন হতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেখছেন। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে জড়িয়ে আমরা যেন আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কাজে অবহেলা না করি, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আরও লক্ষ রাখতে হবে, এগুলো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেন আমরা অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে আক্রান্ত না হই।
আমি জানতে পেরেছি, এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা একই বাড়িতে অবস্থান করা সত্ত্বেও একের সঙ্গে অপরের কোনো যোগাযোগ নেই। দেখা যায়, সন্তানরা পরস্পরে যোগাযোগ করছে হোয়াটসাপ বা এ জাতীয় বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাপসের মাধ্যমে। যেন একজন এক রুমে, অন্যজন আরেক রুমে। অথচ তারা দুজনে একই ঘরে অবস্থান করছে। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও সাক্ষাৎ হচ্ছে না। যদি এক ভাইকে অপর ভাইয়ের কিছু বলার দরকার পড়ে, তখন সে তাকে নিজের রুমে বসে একটি মেসেজ পাঠিয়ে দেয়।
অনেক সময় এমনও দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনে একই সঙ্গে অবস্থান করছে। স্বামী মুখে মুখে বলছে, আমি আজ বাসায় সময় দেব। আজ আর বের হব না। অথচ সে তার পুরো সময়টা নিজের ফোনের মধ্যেই কাটিয়ে দিচ্ছে। ফোন নিয়েই সে ব্যস্ত হয়ে থাকছে। অপরদিকে স্ত্রীও নিজের ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে দুজন শারীরিকভাবে কাছাকাছি থাকলেও মানসিকভাবে এবং অন্তরের দিক থেকে তারা একে অপর থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে থাকে।
যাই হোক, নানা দিক বিবেচনায় আমি বলব, এসব যোগাযোগ মাধ্যমকে হারাম বলার কোনো দরকার নেই। বরং এগুলো ব্যবহার করা যাবে। কারণ এর মধ্যে অনেক উপকার রয়েছে। তবে আমাদের উচিত একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
এক বৃদ্ধা মহিলার কাহিনি আমার খুব ভালো লেগেছিল। তার কয়েকজন ছেলে ছিল। তার সঙ্গে তারা প্রায়ই দেখা করতে আসত। যখন তিনি দেখলেন তার ছেলেরা একত্র হওয়ার সময়টাতেও যে যার ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে; হয়তো একজন তার মেসেজ চেক করছে, আরেকজন কিছু টুইট করছে, তখন সেই বৃদ্ধা দরজার সামনে একটি বাক্স রাখলেন এবং বললেন, যে-ই ঘরে ঢুকবে সে যেন তার মোবাইল বাক্সে রেখে তারপর ঘরে ঢোকে। যেহেতু তোমরা আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য ঘরের ভেতরে এসেছে সুতরাং আমার সঙ্গে তোমাদের বসতে হবে, আমার সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং যখন এখান থেকে চলে যাবে, তখন বাক্স থেকে যার যার নিজের ফোন নিয়ে যাবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে যিনি প্রশ্ন করেছেন আল্লাহ তাকে জাজায়ে খাইর দান করুক। আমিন।

>>>মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপকের মসজিদে নববির দরসে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর থেকে ভাষান্তর : আবদুল্লাহ আল মাসউদ

উইকিলিকস-এর প্রতি আগ্রহ ছিল লাদেনের!

মার্কিন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতির কারণ’ হবে জেনেও পেন্টাগনের সামরিক নথি ফাঁস করেছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও ব্র্যাডলি ম্যানিং। তাদের দাবি, পেন্টাগনের গোপন নথিতে থাকা সামরিক নকশা ও কৌশল ফাঁস করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জঙ্গিবাদী হামলার আশঙ্কা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি করেছিলেন তারা। দুই বছর আগে আদালতে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের সময় এর সমর্থনে দেওয়া লিখিত বিবৃতিতে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনও উইকিলিকস-এর প্রতি আগ্রহী ছিল।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই হলফনামা গত ১৫ এপ্রিল সোমবার নতুন করে উন্মোচিত হয়েছে। সেখানে প্রসিকিউটররা উল্লেখ করেছেন, ফাঁস হওয়া মার্কিন সামরিক নথিতে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা জানা গিয়েছিল সেই গত বছর ডিসেম্বরেই। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া জেলা আদালতে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ গঠনের নথি ভুল করে ফাঁস করে ফেলেন প্রসিকিউটররা। অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জানা যায়, নতুন অভিযোগটি আনা হয়েছে দুইটি ধারায়। একটি হলো ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা প্রতারণা’ সংক্রান্ত ধারা, অপরটি কম্পিউটার জালিয়াতির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র’ বিষয়ক ধারা ১০৩০।
সোমবার আদালতে সেই মামলার এক পুরনো নথি উন্মোচিত হয়েছে। রয়টার্স ওই নথির সূত্রে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়া শহরের ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্রের সমর্থনে ওই লিখিত বিবৃতি দিয়েছিলেন প্রসিকিউটররা। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া আফগান যুদ্ধের নথিগুলোর মধ্যে ছিল, জঙ্গিদের ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের নকশা ও হামলা সংক্রান্ত তথ্য এবং হাতে তৈরি এসব বিস্ফোরক ডিভাইসের বিরুদ্ধে মার্কিন ও মিত্র জোটের পাল্টা ব্যবস্থা ও সীমাবদ্ধতার বিস্তারিত। প্রসিকিউটররা ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, লাদেন পাকিস্তানে যে আস্তানায় লুকিয়ে ছিলেন সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি চিঠি পেয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ওই চিঠি থেকে জানা গিয়েছিল, উইকিলিকসে প্রকাশিত পেন্টাগন নথিগুলোর অনুলিপির প্রতি আগ্রহী ছিলেন আল কায়েদা নেতা।
ব্যারি পোলাক নামে অ্যাসাঞ্জের এক আইনজীবী বলেন: ‘তথ্য প্রদান করতে সূত্রকে উৎসাহ প্রদান এবং তাদের পরিচয়ের সুরক্ষা দিতে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলো সকল সাংবাদিকের সাধারণ একটি প্রবণতা। হলফনামায় কোনও নতুন তথ্য নেই। ওবামা প্রশাসন যখন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ দায়েরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং একে প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিচারিক দফতর থেকে যখন রায় দেওয়া হয়েছিল তখন এ হলফনামাটি পাওয়া যায়নি।’
২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আফগান যুদ্ধের ৯০ হাজার, ইরাক যুদ্ধের ৪ লাখ, গুয়ানতানামো বে’র ৮০০ বন্দির জবানবন্দি ডাউনলোড করেন ম্যানিং। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অ্যাসাঞ্জের প্ররোচনা ও সহায়তা পেয়েই সে বছরই ৮ মার্চ প্রতিরক্ষা দফতরের কম্পিউটার পাসওয়ার্ড হ্যাক করেছিলেন ম্যানিং।

যেখানে বিজ্ঞানীদের অর্ধেকই নারী

বিজ্ঞানের জগতের নিয়ন্ত্রণ এখন পর্যন্ত পুরুষের কবজায়। সেই ১৯০৩ সালে যখন মেরি কুরি বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান, তারপর মেঘে মেঘে বহু বেলা গড়িয়েছে। মেরি কুরির পরে রসায়ন, পদার্থ ও চিকিৎসা শাস্ত্রে ছয় শ পুরুষ নোবেল বাগিয়ে নিতে পারলেও, নারীরা পেয়েছেন মাত্র ১৯টি। অন্যদিকে সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও মাত্র ২৮ শতাংশ নারী গবেষকের উপস্থিতি দেখা যায়।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, বিশ্বব্যাপী জ্ঞানের জগতে নারীদের এই অসম উপস্থিতি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও মুক্ত নয়। বাকি বিশ্বের তুলনায় এই অঞ্চলের নারীরা কিছুটা বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এ অঞ্চলে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে মাত্র একজন নারী। জার্মানি ও ফিনল্যান্ডের চিত্র আরও খারাপ। সেখানে এই পেশায় প্রতি তিনজনে মাত্র একজন নারীর খোঁজ মেলে।

তবে এর উল্টো চিত্রও বিশ্বের একটি অঞ্চলে দেখা যায়। নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর গবেষণাগারে পুরুষের তুলনায় নারীর উপস্থিতি সমান, কিছু ক্ষেত্রে বেশি। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লাটভিয়ার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ নারী। কাছাকাছি অবস্থা বুলগেরিয়ায়। সেখানে এই পেশায় থাকা জনবলের মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী। গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশে নারী-পুরুষের সমতার ক্ষেত্রে পোল্যান্ড ও সার্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে এগিয়ে।

প্রশ্ন হলো, যেখানে বাকি বিশ্বে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি অনেক কম, সেখানে কীভাবে এই অঞ্চল এগিয়ে? ইকোনমিস্ট বলছে, ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক ইতিহাসে উত্তর লুকিয়ে আছে। এসব অঞ্চল এক সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোভিয়েত শাসকেরা সেই সময় পরীক্ষাগারে নারীদের সমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি নিয়েছিলেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও বিজ্ঞানে আগ্রহী করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে নারীদের অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘সাবেক’ হলেও পরীক্ষাগারে নারীদের উপস্থিতির অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে।

তবে বিজ্ঞানী হিসেবে নারীদের কম উপস্থিতির কারণ আরও আছে। নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, নারীরা যতই ওপরের শ্রেণিতে ওঠে, ততই বিজ্ঞানের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে কলেজ শেষ হওয়ার পরে এসব বিষয়ের সঙ্গে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থীর সম্পর্ক একেবারে মুছে যায়।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অনুযায়ী, যদি বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় নারী-পুরুষের সমান উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অঞ্চলের জিডিপি অন্তত ৩ শতাংশ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে ১২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গত দশক জুড়ে অন্য যে কোনো পেশার তুলনায় ইউরোপের প্রযুক্তি খাতে চার গুন বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের ধারণা, ওই অঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পাঁচ লাখ দক্ষ লোকের অভাব থাকায় ২০২০ সালের মধ্যে সেখানকার সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর গবেষণাগারে পুরুষের তুলনায় নারীর উপস্থিতি সমান, কিছু ক্ষেত্রে বেশি। প্রতীকী ছবি: রয়টার্স

দাঁতে নখ কাটার ৭ স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সারাদিনে সব কাজ করা হয় হাত দিয়েই।
অনেক সময় খেয়াল থাকে না কী করা হয়েছে এবং সেই নোংরা হাতের নখ বেখেয়ালে কাটেন অনেকেই। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস সহ ময়লাগুলো শরীরে প্রবেশ করে অবলীলায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নখ কাটা হয় স্বভাববশত। আবার কোন সমস্যা যেমন- কিছু ভাবলে, চিন্তা করলে, অন্যমনস্ক হলে, কারো সাথে কথা বলার সময়, বকা শুনলে, কোন কারণে রাগান্বিত হলে ইত্যাদি কারণেও নখ কাটা হতে পারে।  
অনেকেই ভাবেন দাঁতে নখ কাটার অভ্যাস কেনো কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, এটি জটিল কোন ব্যাপার তো নয়। Onychophagia একটি অনিয়ন্ত্রিত মৌখিক স্বাস্থ্যজনিত রোগ বা দাঁতে নখ কাটার অভ্যাস। অনেকেই এই সমস্যায় ভুক্তভোগী।
কিন্তু জেনে রাখা প্রয়োজন দাঁতে নখ কাটার ফলে দেখা দিতে পারে, কোন ৭ ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সেক্ষেত্রে নিজের এই বদঅভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
ত্বকের ইনফেকশন
নিউ ইয়র্ক শহরের ত্বক-বিশেষজ্ঞ দেব্রা জলিমান এমডি স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানান, দাঁতে নখ কাটার ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমন একটি জীবাণু হলো, প্যারোনিচিয়া। যার ফলে ত্বক লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং নখের ভেতরে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।
আঙ্গুলের বিকলাঙ্গতা
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ডেভিড কাটজ জানান, প্যারোনিচিয়া বা ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন যদি অতিমাত্রায় হয়ে যায় তাহলে তা হাতের হাড়ের বন্ধনীগুলোতেও ইনফেকশন ছড়িয়ে দিতে পারে। এটি সেপ্টিক আর্থথ্রিটিস নামক একটি অবস্থার ফলে হতে পারে, যা নিরাময় করা কঠিন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
নখের আকৃতির বিকৃতি
চিকিৎসক জলিমান ব্যাখ্যা করেছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ দাঁতে নখ কাটালে নখের নিচে থাকা টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে ও এর ফলে নখের আকৃতির বিকৃতি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও নখের শিরার সমস্যা হলে নখ বড় হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
হার্পিস ভাইরাস
ঠাণ্ডা-জ্বরের মাঝে দাঁতে নখ কাটলে মুখ ও ঠোঁটের মাধ্যমে হার্পিস নামক ভাইরাস নখে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ঠোঁট ও নখে ঠোসা জাতীয় ইনফেকশন হতে পারে।
দাঁতের সৌন্দর্য নষ্ট
একাডেমি অব জেনারেল ডেন্টিস্ট্রি সহ মেরিল্যান্ড-ভিত্তিক দন্তচিকিৎসক গিগি জানান, রোগীদের দাঁতে নখ কাটার ভফলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় তাদের চিকন ও ভঙ্গুর দাঁতে। দাঁতে নখ কাটার ফলে জীবাণুগুলো দাঁতকে কালো, নষ্ট করে ফেলে।
দাঁতের স্থান পরিবর্তন
যারা সাধারণত দাঁতে নখ কাটেন, তারা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট দাঁতেই নখ কেটে থাকেন। এর ফলে দাঁতে বারংবার চাপ অরথোডন্টিক প্রয়োগের মতো কাজ করে। এতে দাঁতের স্থান সরে যেতে পারে।
মাড়ির সমস্যা
চিকিৎসক মাইনকে সতর্ক করেছেন, মাঝে মাঝে দাঁতে নখ কাটার ফলে নখের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুকরোগুলো মাড়িতে গিয়ে আটকিয়ে যায়। এতে সৃষ্টি হয় মাড়ি ফোলা, রক্ত বের হওয়া, ব্যথা করা সহ নানান ইনফেকশন।
কিভাবে নখ কামড়ানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করা যাবে?
১. নখ কেটে ছোট করে রাখতে হবে। নখ কাটটে হবে নখের মাংসের একটু নিচে, যাতে দাঁতের স্পর্শে না আসে।
২. নারীরা নখে দামি নেইলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে তা নষ্ট করতে না চাইলে নখ কামড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
৩. হাতে স্ট্রেস বল বা রাবার জাতীয় কিছু নিয়ে রাখতে পারেন।
সাথে নিজেও খুঁজে নিতে পারেন এমন কোন পদ্ধতি, যেটি আপনাকে দাঁতে নখ কাটা থেকে দূরে রাখবে।