Thursday, January 30, 2014

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বিরল বরফঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় ন্যাশনাল গার্ডের
সদস্যরা গত বুধবার বরফের কারণে সড়কে আটকে পড়া
গাড়ি থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে গত বুধবার বিরল শীতকালীন ঝড়ের পর পুরো অঞ্চল বরফাচ্ছাদিত হয়ে গেছে। এতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের শত শত ফ্লাইট। টেক্সাস থেকে জর্জিয়া হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় গত মঙ্গলবার ওই বরফ ঝড় শুরু হয়। গত বুধবার পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই এলাকাগুলোতে বরফ বা তুষার ঝড় তেমন হয় না বললেই চলে। আটলান্টায় বুধবার গাড়ি নিয়ে বের হওয়া মানুষজন ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। বরফের কারণে তাঁদের অনেকে সড়কে আটকা পড়েন।
এর মধ্যে ছিল স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও। অনেককে প্রায় ১৮ ঘণ্টা এভাবে রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। আটলান্টার মেয়র কাসিম রিড জানান, শহরটিতে ৭৯১টি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে কেউই গুরুতর আহত হয়নি। বরফ ঝড়ের কারণে যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনই আলাবামার; অন্যজন জর্জিয়ার। হিউস্টন থেকে আটলান্টার বিমানবন্দরগুলোর কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়। হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা বিমানবন্দরে গত বুধবার প্রায় ৫০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। রয়টার্স।

মৃত্যু আসন্ন, বুঝতে পেরেছিলেন মহাত্মা?

মহাত্মা গান্ধী
নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসনবিরোধী অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই কি তিনি তাঁর আশু পরিণতি টের পেয়েছিলেন? দিল্লির বিড়লা হাউসে বাপুর (ভক্তরা মহাত্মা গান্ধীকে এই নামে সম্বোধন করতেন, যার অর্থ পিতা) জীবনের শেষ ৪৮ ঘণ্টায় এমন বেশকিছু অদ্ভুত নজির ছিল। ওই সময় তিনি কাছের ও প্রিয় মানুষদের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন, তিনি হয়তো তাঁদের মাঝে বেশি দিন নেই। নতুন একটি বইয়ে এমন দাবি করা হয়েছে। বইটির নাম মাই এক্সপেরিমেন্ট উইদ গান্ধী। প্রমোদ কাপুরের লেখা এই বইয়ে মহাত্মার জীবনের এমন সব ঘটনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যে সম্পর্কে মানুষ খুব কমই জানে।
বইয়ে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২৯ জানুয়ারি বিকেলে (হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগের দিন) গান্ধীজির কাছে আসে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গৃহহারা একদল বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। তারা অভিযোগ তোলে, তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য গান্ধীই দায়ী। তাঁকে লক্ষ্য করে তারা বলে, ‘আপনি আমাদের শেষ করে দিয়েছেন। এখন আমাদের পরিত্রাণ দিন; আপনি তল্পিতল্পা নিয়ে হিমালয়ে চলে যান।’ সন্ধ্যায় তিনি তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী নাতনি মানুবিনকে বলেন, ‘ওই মানুষগুলোর করুণ কণ্ঠ ছিল ঈশ্বরের কণ্ঠের মতো। এটিকে তোমার ও আমার মৃত্যুর পরোয়ানা মনে করো।’ ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মাথায় গান্ধীর কাছে আসেন ইন্দিরা, চার বছর বয়সী রাজীব গান্ধী; সঙ্গে জওহরলাল নেহরুর বোন হুথি সিং। গান্ধীর পায়ের ওপর কিছু ফুল রাখেন রাজীব।
তখন তিনি কৌতুকের সুরে রাজীবকে তিরস্কার করে বলেন, ‘তোমরা এটি করবে না। কারণ, কেবল মৃত ব্যক্তির পায়ের কাছে মানুষ ফুল রাখে।’ ৩০ জানুয়ারি সম্ভবত মৃত্যুর চিন্তা ঘিরে ধরেছিল গান্ধীকে। এদিন তিনি অন্তত দুবার নিজের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। কাশি বাড়লে তাঁকে পেনিসিলিন বড়ি সেবন করতে বলা হলে গান্ধী বলেন, ‘আমি যদি অসুখে মারা যাই...তোমরা বাড়ির ছাদে উঠে চিৎকার করে বলবে, আমি ভুয়া মহাত্মা ছিলাম। ...আর যদি কোনো বিস্ফোরণ ঘটে বা কেউ আমাকে গুলি করে এবং কোনো আক্ষেপ না থাকে, তাহলে তোমরা বলবে, আমি ছিলাম সত্যিকারের মহাত্মা।’ সকালের নাশতা একাই তিনি গোসলখানার দিকে যাচ্ছিলেন। অথচ মানুবিনকে ছাড়া গান্ধী কোথাও যাননি। মানুবিন জানতে চাইলে জবাবে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তির কথা উল্লেখ করে গান্ধী বলেন, ‘একলা চলো, একলা চলো।’ আশ্চর্যজনক-ভাবে তাই হয়েছিল। গান্ধী প্রার্থনা সভার দিকে একাই হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ একলা চলা। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ক্যামেরনের পূর্বপুরুষ কলকাতার!

ডেভিড ক্যামেরনে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পূর্বপুরুষ ছিল ভারতের বিশেষ করে কলকাতার মানুষ। ব্রিটিশ যুবরাজ উইলিয়ামের শরীরে ভারতীয় রক্ত বহমান বলে জানার কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের বিষয়টি জানা গেল। ক্যামেরনের এই বংশপরিচয় থেকে জানা গেছে, তিনি কৌতুকাভিনেতা আল মারের জ্ঞাতিভাই। ভ্যানিটি ফেয়ার-এর লেখক উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারে তাঁদের আত্মীয়। ১৮১১ সালের ১৮ জুলাই কলকাতায় জন্ম উইলিয়াম থ্যাকারের।
১৮১৫ সালে শিশু বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। পারিবারিক ইতিহাসবিদ মিয়াকো সেল্যান্ড বলেন, গত বুধবার ব্রিটিশ লাইব্রেরির অনলাইনে প্রকাশ করা পুরোনো তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরন ও মারের পরিবার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল। এই দুই পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ভারতে কর্তৃত্ব করে। সেই সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়েশাদির ফলে ক্যামেরন ও মারে পরস্পরের জ্ঞাতিভাই। পারিবারিক ইতিহাস-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘ফাইন্ডমাইপাস্ট’-এর প্রকাশ করা নথি থেকে জানা যায়, ক্যামেরনের পূর্বতম পঞ্চমপুরুষ জন ট্যালবট শেক্সপিয়ার ও উইলিয়াম থ্যাকারে ছিলেন জ্ঞাতিভাই। আর মারের পূর্বতম চতুর্থ পুরুষ ছিলেন উইলিয়াম। শেক্সপিয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জীবনমান উন্নয়নে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করব

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তৃতা
করেন ওবামা এএফপি
জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে এ অঙ্গীকার করেছেন ওবামা। ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্তদের জন্য তহবিল সৃষ্টিসহ বেশ কয়েকটি ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে দেশ ও সরকারের অবস্থার পাশাপাশি পরের বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়ে থাকে। প্রথা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বছরের শুরুতে কংগ্রেসে এ ভাষণ দিয়ে থাকেন। ভাষণে ওবামা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের জীবনমানের উন্নয়ন এবং ধনী-গরিবের আয়ের ব্যবধান হ্রাস করার উচ্চাভিলাষী আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের ডাক দেন তিনি। এ ছাড়া জনগণের স্বার্থে আইনপ্রণেতাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে দীর্ঘদিন। কংগ্রেসের এই বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতার মধ্যভাগে পৌঁছে প্রেসিডেন্ট ওবামা এখন অনেকটা আক্রমণাত্মক উদ্যোগের ঘোষণা দিলেন। কংগ্রেস বাদ সাধলে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা বলেছেন তিনি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধীরগতি এবং ব্যাপক কর্মহীনতায় মার্কিন মধ্যবিত্তের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। গত এক দশকে আয়ের তারতম্য তীব্র হয়ে উঠে সামাজিক বৈষম্য বেড়েছে। ওবামা আইনপ্রণেতাদের পুরোপুরি এড়িয়ে যাননি। বলেছেন, ‘আসুন দেখি, আগামী দিনগুলোতে আমরা একত্রে কী করতে পারি। আসুন ২০১৪ সালকে আমরা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের বছরে পরিণত করি।’
নিজের আলোচিত সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রতিকূলতার উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বিরোধী দল রিপাবলিকানদের কাছে ‘বাস্তবায়নযোগ্য ভালো প্রস্তাব’ থাকলে তা উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১০ দশমিক ১০ ডলার ঘোষণা করেন। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওবামা বলেন, চলতি বছর গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধ হওয়া উচিত। আফগানিস্তানে কত মার্কিন সেনা রয়ে যাবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই স্থায়ী যুদ্ধের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। ইরানের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে পাশ্চাত্যের অন্তর্বর্তী সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওবামা বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় কংগ্রেস ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করলে তিনি তাতে ভেটো দেবেন। প্রথা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামার স্টেট অব দি ইউনিয়ন বক্তৃতার পরই রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসে ওয়াশিংটন রাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্যাথি ম্যাকমরিস দলের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, রিপাবলিকানদের কর্মসূচি জনগণের উন্নয়নের জন্য। সরকারের নয়, জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য রিপাবলিকান দল কাজ করে যাবে।

সমালোচনার মুখে ওঁলাদ

ওঁলাদ ও ত্রিয়াবেলার। যখন একসঙ্গে ছিলেন ছবি: এএফপি
দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ। গত শনিবার বিবৃতির মাধ্যমে ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট। এর ঠিক আগে আগে তাঁর সঙ্গে অভিনেত্রী জুলি গায়েতের পরকীয়ার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিরোধী দল ইউএমপির উপনেতা নাতালি কোসিয়াস্কো-মোরিজেৎ ওঁলাদকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে রুক্ষভাবে ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন, নারী ভোটাররা তা দ্রুত ভুলে যাবেন না।
নাতালি বলেন, ‘ওঁলাদের বিবৃতি পড়ে আমার মনে হয়েছে, কারও সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ নয়, বরং প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করার চিঠি পড়ছি আমি।’ ইউএমপির প্রধান জ্যঁ লুক মেলেনচন বলেন, ‘ওঁলাদের বিবৃতিটি ছিল একেবারে আনাড়ির মতো।’ ৫৯ বছর বয়সী ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে নির্মম আচরণ করেছেন ওঁলাদ। জুলি গায়েতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুজব চলছিল কয়েক মাস ধরেই। পুরো সময় তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেন। পরে ত্রিয়াবেলার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিবৃতি দিয়ে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন। ওলাঁদ রাজনৈতিক সহকর্মী চার সন্তানের জননী সেগোলেন ঘয়ালের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটিয়ে ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। তার আগে কয়েক বছর ধরে ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে অভিসার চলে তাঁর। তখনো সেই প্রেমের কথা অস্বীকার করেছিলেন। এএফপি।

ইউক্রেনে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ইউক্রেনের চলমান সংকট নিরসনে পদত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী মাইকোলা আজারভ। প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পার্লামেন্টে বিশেষ ?অধিবেশনের দিনেই এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন আজারভ। তবে তার পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোচিভ গ্রহণ করেছে কিনা ?জানা যায়নি। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে অপরাধের আওতাভুক্ত করে নতুন আইন পুনর্বিবেচনা করতে প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পরেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন আজারভ। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি এক বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এ পদত্যাগে সংকট কাটিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করে তিনি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ করেছেন। নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি থেকে সরে আসায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় ইউক্রেনে। রাশিয়াকে সুবিধা দিতে সরকার এ চুক্তি করেনি- এ অভিযোগে রাস্তায় নামেন সরকারবিরোধী ও সাধারণ জনগণ। বিরোধীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আলোচনা, সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বৈঠক ও আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন থেকে কিছুটা পিছু হটে সরকারবিরোধীরা। কিন্তু ১৬ জানুয়ারি পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ‘অপরাধের আওতাভুক্ত’ করে একটি বিল পাস হওয়ার পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন বিক্ষোভকারী। গত সপ্তাহে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল স্বাধীনতা স্কয়ারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩ বিক্ষোভকারী নিহতের পর আন্দোলন আরও জোড়ালো হয়। আন্দোলন থামাতে বিরোধী দলকে প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

‘তথাকথিত বিরোধী দল’ ও বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি

একজন আর্জেন্টাইন বিচারকের কথা মেনে আজকের সংসদ অধিবেশন সামনে রেখে এই লেখা। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটলে বিচারক কী করবেন? দুটো বিকল্প—ইস্তফা দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন, না-হয় স্বপদে বহাল থেকে আইনের শাসনের ঝান্ডা যদ্দুর সম্ভব আগলানোর চেষ্টা চালাবেন। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে আমার কাছে দ্বিতীয় বিকল্পই ভরসা। বিরোধী দল ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র চলতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে চলে। এবং তা এবারই প্রথম নয়। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন না। সেই প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অবৈধ উপায়ে মন্ত্রিত্ব লাভ ঠেকাতেই বঙ্গবন্ধু ৭০ অনুচ্ছেদ এনেছিলেন। এবারে তার শ্রাদ্ধ ঘটল। সরকারের ‘বিরোধিতাকারী’ দল মন্ত্রিত্ব করে গাছেরটা খাবে। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিরোধী দলে থেকে তলারটাও কুড়াবে। সত্যি, এর কোনো তুলনা নেই। অভাবনীয়, অভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব। এবারে আইনের একটা ফাঁক বলব। রওশন এরশাদের ‘সরকার বিরোধিতা’ ও তাঁর দলের মন্ত্রীদের যৌথ জবাবদিহির আইনগত বৈধতা স্বতন্ত্র সদস্যদের গ্রুপটি তুলতে পারবে। যদি কখনো পরিবেশ আসে, তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। এই গ্রুপটিতে সুযোগসন্ধানী আছেন। আবার কিছু ভূমিকা রাখার হিম্মতওয়ালাও আছেন। স্পিকার যখন বিরোধী দলের নেতার প্রজ্ঞাপন দেন, তখনো জাপা মন্ত্রিত্ব নেয়নি।
তাই তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। বিরোধী দলের নেতা প্রসঙ্গ ছাড়া কোথাও রওশনের ‘দল’ এবং হাজি সেলিমের ‘গ্রুপ’ শব্দ দুটিতে পার্থক্য দেখা যাবে না। কেবল বিরোধীদলীয় নেতার সংজ্ঞা দিয়েছে কার্যপ্রণালি বিধি। এটি বলেছে, ‘বিরোধী দলের নেতা অর্থ স্পিকারের বিবেচনামতে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত দল বা গ্রুপের নেতা।’ কে বিরোধী দলের নেতা হবেন, তা নিয়ে ১৯৭৩ সালের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার দাবি রাখে। আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন পেয়েছিল। সংসদীয় দল ও গ্রুপ সম্পর্কে প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকালেই বিতর্ক ওঠে। সরকারদলীয় একজন সদস্য সংসদে সরকারের বিরোধিতাকারী সদস্যদের ‘তথাকথিত বিরোধী দল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সরকারের বিরোধিতাকারী গ্রুপের এক সদস্য আপত্তি তোলেন। বৈধতার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বিরোধী দল’। দুর্বল যুক্তি ছিল তাঁদের। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতির ওপর তাঁরা জোর দেননি। যুক্তি দিয়েছেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকে একটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। মাননীয় স্পিকার যখন এভাবে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন সংসদে বিরোধী দল আছে কি না, এ সম্পর্কে রুলিং চাই। তিনি ১৯৬৫ সালের দ্য লিডার অব দি অপজিশন (প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট উল্লেখ করে বলেছিলেন, বিরোধী দলের নেতা হওয়ার জন্য কয়জন সদস্য বিরোধী দলে থাকতে হবে, ওই আইনে তা বলা নেই। বৈধতার এই প্রশ্ন নিয়ে সংসদে প্রায় ২০ মিনিট ধরে বিতর্ক হয়।
সরকারের বিরোধিতাকারী কয়েকটি দলের সংসদ সদস্য ও কয়েকজন নির্দলীয় সংসদ সদস্য সংসদকক্ষে আলাদা বসার ব্যবস্থা করার জন্য স্পিকারের কাছে অনধিক সাতজন একটি আবেদন করেছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কে জাতীয় লীগের আতাউর রহমান খান, জাসদের আবদুস সাত্তার এবং চারজন নির্দলীয় সদস্য অংশ নেন। নির্দলীয়রা ছিলেন—সৈয়দ কামরুল, মুহাম্মদ আবদুল্লাহ সরকার, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এবং চাই থোয়াই রোয়াজা। ওই আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা স্পিকারকে জানিয়েছিলেন, আতাউর রহমান খান তাঁদের নেতা। সেদিন যদি সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে খান হতেন দেশের ইতিহাসের প্রথম বিরোধী দলের নেতা। সেটা কেন হয়নি, তা অনুমান করা কঠিন নয়। কারণ, সংসদ নেতা সেটা চাননি। বিরোধী দলকে সংখ্যার নিক্তিতে মাপা হয়েছিল। এখনো সেই ধারা চলমান। আতাউর রহমান খান মত দিয়েছিলেন, সংখ্যা দেখবেন না। সংসদে সরকারের বিরোধিতাকারী দল বা গ্রুপ নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন। তাঁর মতে, ‘স্পিকারের স্বীকৃতির জন্য দল বা গ্রুপ ন্যূনতম কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে, কার্যপ্রণালি বিধিতে তার কোনো উল্লেখ নেই।’ এই আইনগত অবস্থান আজও একই রয়ে গেছে। আতাউরের যুক্তি আজ বেশি বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ, রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটি সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হলেও তারা ‘সরকারের বিরোধিতাকারী’ সংজ্ঞায় পড়ে না।
পদে পদে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হবে। তাই আতাউরের যুক্তি আজও বিবেচনাযোগ্য যে, ‘যেকোনো সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত দল বা গ্রুপের নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন।’ ১৬ সদস্য নিয়ে স্বতন্ত্রদের গ্রুপটি বৃহত্তম। তিয়াত্তরে ওই বিতর্কের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে যুক্তি দিয়েছিলেন, তা তখন খুব সঠিক ছিল না এবং আজকের প্রেক্ষাপটে তো সঠিক বলে মানার সুযোগ আরও সীমিত। সংসদ নেতা বলেছিলেন, ‘আতাউর রহমান খান একা এক দলের একজন, আরেকদলের একজন, আর কয়েকজন নির্দলীয় সদস্য মোট পাঁচ-সাতজন সদস্য সংসদ ভবনে একটি কক্ষে একটি জায়গায় বসতে চেয়েছেন এবং এ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।’ বঙ্গবন্ধুর সংখ্যাতত্ত্বের কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না, এখনো নেই। সংসদ নেতা হিসেবে তাঁর যুক্তি ছিল, ২৫ জনের কম সদস্য নিয়ে গঠিত কোনো দলকে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। তবে ২৫ জনের কম সদস্য নিয়ে কোনো দল গঠিত হলে এবং ওই দলে কমপক্ষে ১০ জন সদস্য থাকলে ওই দলকে পার্লামেন্টারি গ্রুপ বলা যেতে পারে। কিন্তু সংসদীয় দল বলা যাবে না। (সংসদ বিতর্ক, ১২ এপ্রিল ১৯৭৩, পৃষ্ঠা: ৯৬-৯৭)। কতজন সাংসদকে নিয়ে বিরোধী দল হতে পারে, তা অনিষ্পন্ন থেকে গেছে। বঙ্গবন্ধুর ওই অভিমতই এ বিষয়ে একমাত্র দিকনির্দেশনা। তবে সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান টানা চারটি সংসদে বিরোধী দল না থাকার পরে ১৯৮৪ সালে মত বদলান।
এখন সংবিধানমতে বিরোধী সাংসদ থাকতেই হবে। কেউ না জিতলেও বেশি ভোটে পরাজিত অনধিক নয় প্রার্থী সংসদে সমমর্যাদায় বসবেন। এঁদের বলা হয় নন-কনস্টিটিউয়েন্সি মেম্বার অব পার্লামেন্ট বা এনসিএমপি। সংসদ বিশেষজ্ঞ খোন্দকার আবদুল হক বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ওই দিকনির্দেশনা পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণিত এবং ভারতসহ এই উপমহাদেশের সংসদীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।’ তাঁর মতে, ‘খান নিজেও সংসদীয় কনভেনশন সম্পর্কে সংসদ নেতার সঙ্গে দ্বিমত করেননি। খানের যুক্তি ছিল, প্রধানমন্ত্রীর বর্ণিত কনভেনশন আইন দ্বারা অগ্রাহ্য করা সম্ভব।’ সেই আইন হয়নি। আর ওই কনভেনশন মানলেও ২০১৪ সালের রওশনের দলের মন্ত্রিত্ব ও তাঁর ‘স্বামীর দোয়ায়’ বিরোধী দলের নেতা হওয়া সংবিধান ও কনভেনশন দুটোরই পরিপন্থী। তাই আজ থেকে সংসদে যত ভোটাভুটি হবে, তার গোটা প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতার প্রশ্ন খড়্গের মতো ঝুলতে থাকবে। খোন্দকার আবদুল হকের মতে, ৩১৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রথম সংসদে আওয়ামী লীগ ৩০৭টি আসন লাভ করেছিল বলে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কোনো সদস্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এর সঙ্গে আমি দ্বিমত করি; বরং বলব, এটা করে গোড়াতেই বিরোধী দলের প্রতি আওয়ামী লীগের ভ্রান্ত ধারণার বীজ রোপিত হয়েছে। ২০১৪ সালের আইনগত প্রশ্ন আর ১৯৭৩ সালের আইনগত প্রশ্নের মতো আরও অনেক মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেটা হলো, কার্যপ্রণালি বিধি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে একটি সংসদ চলতে পারে না। কারণ, জাতীয় পার্টি থেকে যারা মন্ত্রিসভায় রয়েছেন, তাঁদের দলনেতা প্রধানমন্ত্রী এবং একই সঙ্গে তাঁদের দলনেতা রওশন এরশাদ। এটা আইনসংগত বা সংবিধানসম্মত নয়।
সুতরাং হাজি সেলিমের গ্রুপের যে কেউ রওশন এরশাদ বিরোধী দলের নেতা কি না, সেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। সত্যিকারের ‘সরকারবিরোধী’ হিসেবে যদি অনধিক ১০ জনও দাবি করতে পারেন, তাহলে স্পিকার তাঁদের গ্রুপের নেতাকেই বিরোধী দলের নেতা করবেন। কোনো সংসদীয় দল বা গ্রুপের নেতা নির্ধারণে স্পিকারের কোনো ক্ষমতা নেই। স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সপ্তম সংসদে বলেছিলেন, ‘সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দল ব্যতীত অন্য কোনো সংসদীয় দল বা গ্রুপের নেতা-সম্পর্কিত কোনো বিধান নেই। সুতরাং এসব দল বা গ্রুপের নেতা নির্বাচনের বিষয়টি তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার। এখন পর্যন্ত সংসদে অন্য কোনো দল বা গ্রুপের নেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বা অনুরূপ স্বীকৃতিদানের কোনো সুযোগ রয়েছে বলে দেখা যায় না।’ (সংসদ বিতর্ক, ৬ জুন ২০০১)। সংবিধানে বর্ণিত একটি বিশেষ অবস্থায় স্পিকারের ওপর ‘সংসদীয় দলের নেতৃত্ব’ নির্ধারণের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু কতজনকে নিয়ে এই দল হবে, সংবিধান সে বিষয়ে নীরব। নির্বাচনের পরে প্রত্যেক সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন সম্পর্কে স্পিকারকে যথাযথভাবে অবহিতকরণের একটি বিধান থাকা দরকার। এটা না থাকার সুযোগ স্পিকার নিয়েছেন। এরশাদকে শপথ পড়িয়েই তিনি বিরোধী দলের নেতার প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন। চেতনাগতভাবে হাজি সেলিমের গ্রুপকেই প্রকৃত বিরোধী দল মনে হতে পারে। এদের মতো সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার মতো উক্তিও সাবেক ফার্স্ট লেডির পার্টি করছে না। এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে, রওশন ও হাজি সেলিম সংসদে কখন কে কার হবেন? তাঁরা আমাদের আইনপ্রণেতা। আইনকানুন ভাঙচুর করতে করতে তাঁরা এগিয়ে যাবেন। তা সত্ত্বেও খুশি হব, যদি ১৯৭৩ সালের সংসদ নেতার সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ

রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল না, ছিল মানবসৃষ্ট জাতীয় বিপর্যয়। ট্র্যাজিক এই ঘটনা কেবল দেশবাসীকে ব্যথিত ও বিচলিত করেনি, এ নিয়ে বহির্বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যেসব দেশ আমাদের দেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে থাকে, সেসব দেশের নাগরিকেরা জোরালো প্রতিবাদ জানান। রানা প্লাজা ধসের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর থেকে জিএসপি-সুবিধা স্থগিত করে দেয়। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও তীক্ষ নজর রেখেছে বাংলাদেশের সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতটির প্রতি। রানা প্লাজার বিপর্যয়ের পর নিহত শ্রমিকদের পরিবার এবং আহত শ্রমিকদের সহায়তায় সরকার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এগিয়ে এলেও যাঁদের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই মালিকপক্ষের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। যদিও দুর্ঘটনার দায় সেখানে অবস্থিত শিল্প-কারখানার মালিকেরা কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। দায় এড়াতে পারেন না, যে ভবনে কারখানাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, সেই ভবনের মালিকও। আদালতের নির্দেশে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি রানা প্লাজা ধসে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছে এবং শিগগিরই এটি আদালতে জমা দেওয়া হবে। কমিটি নিহত, নিখোঁজ (যাচাই সাপেক্ষে) শ্রমিকের পরিবার এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া শ্রমিককে ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৩০০ টাকা, এক হাত বা পা হারানো শ্রমিককে সাড়ে সাত লাখ টাকা, দীর্ঘদিন চিকিৎসা প্রয়োজন এমন শ্রমিককে চার লাখ টাকা এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রমিককে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
বর্তমান বাজারমূল্যে এই ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই অতিরিক্ত বলা যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কর্তাব্যক্তিরা রিপোর্ট হাতে না পেতেই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের পক্ষে এককভাবে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া সম্ভব কি না, সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু নীতিগতভাবে এটা মানতেই হবে যে এ ক্ষতিপূরণ যৌক্তিক। কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরীও এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেছেন, প্রথমে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও বিজিএমইএর আপত্তির কারণেই অর্থের অঙ্ক কমিয়ে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। তাহলে এখন বিজিএমইএ আপত্তি করছে কেন? তাদের মনে রাখতে হবে যে শ্রমিকের ঘামে ও শ্রমে তৈরি পোশাকশিল্পের এত উন্নতি, সেই শ্রমিকের প্রতি তাদের নৈতিক ও আইনি কর্তব্য রয়েছে। সেই কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে রানা প্লাজায় অবস্থিত কারখানার মালিক কিংবা তাজরীনের মালিককে তারা কতটা বাধ্য করতে পেরেছে, সেই প্রশ্নও জরুরি। সরকারের কাছ থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা নানা রকম সুবিধা নিলেও শ্রমিকদের সামান্য সুবিধা বাড়াতে তাঁদের অজুহাতের শেষ নেই। পোশাকশিল্পের মালিকদের এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। বিজিএমইএকে সরকারি কমিটির সুপারিশ মেনে নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

যে ছবি নিয়ে তোলপাড় by সোলায়মান তুষার

ফেসবুকে একটি ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সাইবার দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। তোলপাড় চলছে সর্বত্র। আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্রীরা। হাতাহাতিও হয়েছে।
অভিযোগ গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে। শনিবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ঘুরতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্‌দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। সেখানে তিনি একটি তরল দুধের দোকানে গিয়ে ৫টি প্যাকেট কেনেন এবং একটি ফ্রি পান। ৬টি প্যাকেট হাতে নিয়ে একজন মেয়ে বিক্রেতার সঙ্গে দোকানেই ছবি তোলেন রনি। ওইদিন রাত ১২টার পর ছবিটি তিনি ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি মন্তব্য দেন এভাবে, ‘দুধের এত স্বাদ কে রে ? এই পোলা দুধ খায় কে রে... ’। তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ৩৪০ জন লাইক দেন এবং আরও ৫১ জন কমেন্ট করেন। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সর্বত্র। উল্লেখ্য, মেহেদী হাসান তার ফেসবুক আইডি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে বেশির ভাগ বক্তব্যই ছিল নারীদের প্রতি বিদ্রুপ করে লেখা। বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফরিন নুশরাতের নজরে আসে। নুশরাত মেহেদী হাসানের ফেসবুক ওয়ালে তাকে ‘স্টুপিড’ এবং ‘কে তাদের পোস্ট দেয়’ বলে মন্তব্য করেন। এ মন্তব্যের পর মেহেদী ও তার গ্রুপের কর্মীরা নুশরাতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। মেহেদী মন্তব্য দেয়ার পর নানাজন নানা মন্তব্য দিয়েছেন। কয়েকটি বক্তব্য তুলে ধরা হলো- আবু হাসান তাপস নামের একজন লেখেন, ‘ভাই দুধের দাম কি কম নাকি ?? পাইকারি কিছু কিনতাম’। মইন আহমেদ লিখেন ‘চরংড়হবু ড়র ঃধ শধৎবু’। এ নিয়ে নুশরাত ও মেহেদীর মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলে। ২৬শে জানুয়ারি নুশরাত তার ওয়ালে লিখেন ‘অফলাইন, অনলাইন-এ ইভ টিজিং-এর ঘটনার সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে! আমরা যারা নারী আমাদের প্রতিনিয়ত নানা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে! আর মুখ বুজে সহ্য নয়! এবার হবে প্রতিরোধ...।’ ক্যাম্পাস-এর বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি, নিজের নারী সত্তাকে জাগ্রত করুন; সকল অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করুন...একবার সহ্য করলে বারবার মরতে হবে; এ লড়াই বাঁচার লড়াই...ক্যাম্পাসের বোনদের উদ্দেশ্য বলছি নিজের নারী সত্তাকে জাগ্রত করুন; সকল অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করুন...একবার সহ্য করলে বারবার মরতে হবে; এ লড়াই বাঁচার লড়াই..।’ আবার লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রী বোন এবং নারী শিক্ষকদের আহ্বান জানাই অফলাইন, অনলাইনের এইসব কুলাঙ্গার ইভটিজারদের বিরুদ্ধে এক ও অভিন্ন অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। এটা কোন ব্যক্তিগত সমস্যা না, এটা সামাজিক ব্যাধি, একে সমূলে উৎপাটন করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।’ ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ‘রক্তাম্বর ধারিণী হবো সময়ের প্রয়োজনে- একুশ শতকে নারীর প্রতিবাদ যেন শুধুই কৌতুক’ শিরোনামে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মোমবাতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রীবৃন্দের ব্যানারে একটি মানববন্ধন হয়। এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক পর্যন্ত গড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রীরা ফেসবুকে নারীদের ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভিসিকে লিখিত অভিযোগ করেন। ভিসি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির ঘটনায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপআপ্যায়ন সম্পাদক লিটন মাহমুদকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কবি জসীম উদ্‌দীন হল শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান রনিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। ফেসবুকে মন্তব্য ও ছবি দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান রনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রনি এর আগেও নারীদের নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করেন। এমনকি ছাত্রলীগের মেয়েদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, এর আগে রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের এক নেত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। মেহেদী হাসান রনি ফেসবুকে ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি বাণিজ্য মেলায় গিয়ে ৫টি দুধের প্যাকেট কিনি। একটি প্যাকেট ফ্রি পাই। আমি বিক্রেতাদের অনুমতি নিয়েই একটি ছবি তুলি এবং তা ফেসবুকে দেয়ার কথা জানাই। তখন আগ্রহ নিয়ে এক নারী বিক্রেতা আমার পাশে দাঁড়ায়। আমি অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ফেসবুকে ছবি দেইনি। ছবি দেয়ার পর অনেকেই মজা করে মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, এটা নিতান্তই ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া কিছুই না। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নুশরাত আমাকে নিয়ে একটি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিলে আমার গ্রুপের কর্মীরা তাকে নিয়ে মন্তব্য করেছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফরিন নুশরাত বলেন, একজন নারী হিসেবে আমি ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন বিচার হয়নি। একজন নেতা হিসেবে যেভাবে বক্তব্য দেয়া দরকার সেটা রনির মধ্যে ছিল না। এর আগেও সে নানা ধরনের মন্তব্য করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নারীদের নিয়ে এভাবে নানা মন্তব্য করা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রীদের পক্ষ থেকে অভিযোগটি পেয়েছি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অনেকে এর অপব্যবহার করছে। নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে অন্যকে আক্রমণ করছে। তিনি বলেন, বিষয়টি যখন সাংগঠনিক পর্যায়ে চলে আসে তখন সংগঠনের স্বার্থেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যে ছবি নিয়ে তোলপাড় by সোলায়মান তুষার

ফেসবুকে একটি ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সাইবার দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। তোলপাড় চলছে সর্বত্র। আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্রীরা। হাতাহাতিও হয়েছে।

ছন্দহীন এক পার্লামেন্ট : সরকারি আর বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার

ছন্দহীন এক পার্লামেন্টের যাত্রা শুরু হলো। সরকারি আর বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার এই সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী এমপিরাও এসেছেন নজির সৃষ্টি করে। তাদের ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
১৪৬ জন এমপি হয়েছেন কম ভোটের রেকর্ড গড়ে। সরকারে আছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের চেয়ারম্যান হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। এমনই এক ছন্দহীন অবস্থায় সূচনা হয়েছে দশম সংসদের। দীর্ঘ ২৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশের অর্ধেক ভোটারের প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির অংশগ্রহণ নেই এই সংসদে। ভোট বর্জন করা বিরোধী জোট শুরু হওয়া সংসদকে আখ্যায়িত করেছে সাংবিধানিক গোঁজামিলের সংসদ হিসেবে। এদিকে উদ্বোধনী ভাষণে প্রেসিডেন্ট মো. হামিদ সমঝোতায় আসতে আলোচনার জন্য বিরোধী জোটের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ব্যতিক্রমী এ সংসদে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা, সংসদ উপনেতা গুরুত্বপূর্ণ এ চার পদে দায়িত্ব পালন করছেন চার নারী। বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সংসদে দেয়া ভাষণে নতুন সংসদকে নতুন কনসেপ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সরকারি ও বিরোধী দল সমস্যার সমধান করবে। তবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় একবারের জন্যও রওশন মুখে আনেননি তার দলের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নাম।

ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল সন্ধ্যা ৬ টায় অধিবেশন শুরু হয়। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, জাতীয় পার্টি  (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ সরকার ও বিরোধী দলীয় এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। ৫ই জানুয়ারি ভোটের পর ৮ই জানুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের নামে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ৯ই জানুয়ারি এমপিরা শপথ নেন। এরপর ১২ই জানুয়ারি নতুন মন্ত্রি সভা গঠিত হয়। এ পর্যন্ত দশম সংসদের সদস্য হিসেবে ২৯৮ জন এমপি শপথ নিয়েছেন। এরমধ্যে টাঙ্গাইল ৮ আসনের সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহানের মুত্যুতে ওই আসন শূন্য রয়েছে। এ হিসেবে ২৯৭ জন এমপি নিয়ে দশম জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো। এবারই প্রথম সংসদে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার ১৬ জন এমপি স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদে যোগদান করেছেন। এবারই প্রথম স্বতন্ত্র এমপিদের নিয়ে আলাদা জোট হয়েছে। ১৫জন স্বতন্ত্র এমপিকে নিয়ে গঠিত এ জোটের সভাপতি হয়েছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা হাজী মোহাম্মদ  সেলিম।
সমঝোতার আহবান প্রেসিডেন্টের
সংঘাত ও নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, রাজনীতির নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা দমন করতে হবে। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। গত ৫ বছর শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হেঁটেছি সে পথেই বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস হিংসার রাজনীতি কখনও দেশ, সমাজ ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। বরং তা রাজনৈতিক পরিবেশকে অন্ধকারাছন্ন করে তোলে। প্রেসিডেন্ট বলেন, মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০০৯ সালে কতিপয় বিরোধী রাজনৈতিক দল অসহযোগিতা ও সংঘাতের পথ গ্রহণ করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠে। তারা ক্রমাগতভাবে সংসদ বর্জন, সংবিধান সংশোধনের কাজে সহযোগিতা করেনি।  বিএনপিবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে সহিংসতা এবং নির্বাচন পরবর্তী হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর হামলার সমালোচনাও করে তিনি বলেন, রাজনীতির নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির এ ধরনের অপচেষ্টা দমন করতে হবে। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। বিরোধী জোটের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকারে সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যে এসে গণতন্ত্রকে বিকশিত হতে সাহায্য করুন। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি ও সংঘাত অবসানের মাধ্যমে সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখুন। ভাষণে প্রেসিডেন্ট গত পাঁচ বছরে মহাজোট সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী আবারও স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই   বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন। রংপুর-৬ আসনের সদস্য শিরিন শারমিনের নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার প্রস্তাব সমর্থন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। পরে প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিতে পাস হয়। এরপর ডেপুটি স্পিকার পদে গাইবান্ধা-৫ আসনের সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়ার নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তার প্রস্তাব সমর্থন করেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। এই প্রস্তাবটিও সর্বসম্মতিতে পাস হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখের সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। ভাষণে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে উল্ল্যেখ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিকল্প কেবলই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই এটা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এবং গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করতে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে অধিবেশনের শুরুতে তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমি আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রথমেই সফল নেতা শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ায় আমি আনন্দিত ও গৌরবান্বিত বোধ করছি। আমি সকল সংসদ-সদস্যের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি দশম সংসদের সব সংসদকে অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি ২০ মিনিটের জন্য সংসদ অধিবেশন মূলতবি করেন। এসময় নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করেন। সংসদ ভবনের ৭ম তলায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে তাদের শপথ পাঠ করান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। শপথ শেষে স্পিকার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশের সব নারীর। বিরতি শেষে পুনর্নির্বাচিত স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে আবারও অধিবেশন শুরু হয়।
নতুন কনসেপ্টের সংসদ- বিরোধী দলীয় নেতা: এদিকে স্পিকারকে ধন্যাবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতাসহ সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েক নেতা। রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে বর্তমান সংসদ একটি নতুন কনসেপ্ট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সরকারে থাকা এবং সরকারের খারাপ কাজের সমালোচনা এবং ভাল কাজের প্রশংসা আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর মতো একটি নতুন কনসেপ্ট। বক্তব্যের শুরুতে রওশন এরশাদ স্পিকার শিরিন শারমিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনার মতো একজন প্রফেশনাল একাডেমিক ট্যালেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড পারফেক্ট লেডি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জাতির জনক যদি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন না দেখতেন, তাহলে এই সংসদও হতো না এবং আমরাও সদস্য হতে পারতাম না। জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার অবদানের কথা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু তার রাজনৈতিক দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচনে আসেনি। এটা দুঃখজনক। কিন্তু কোন দল নির্বাচনে আসবে না বলে নির্বাচন হবে না, এটা হতে পারে না। বিরোধীদলীয় নেতা দেশের সকল প্রয়াত ও জীবিত কীর্তিমানদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের দেশের মূল সমস্যা হলো রাজনৈতিক হানাহানি। আমরা কখনও দেখিনি আমাদের বিরোধী দল এবং সরকারি দল জাতির প্রয়োজনে এক সঙ্গে কাজ করেছে। বর্তমান সংসদ সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকেই বলছে এটা গৃহপালিত বিরোধী দল। কিন্তু আমরা সরকারে অংশ নিলেও প্রকৃত বিরোধী দলের মতো সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করবো এবং খারাপ কাজের সমালোচনা করবো। রওশন এরশাদ স্পিকারের প্রতি আহবান রেখে বলেন, আমাদের প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে যথেষ্ট সময় দেবেন এবং দৃষ্টি রাখবেন বলে আশা করি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা সরকারের খারাপ কাজে সমালোচনা এবং ভাল কাজে প্রশংসা করবো। এটা হবে আমাদের ব্যতিক্রম প্রচেষ্টা। জাতীয় পার্টি যেন ইতিবাচক রাজনীতি উপহার দিতে পারে আমি সেই দোয়া কামনা করবো। এ জন্য জন্য দেশের মানুষকে বলবো, আপনারা দেখবেন বিরোধী দলেও থেকে জাতীয় পার্টি তার দায়িত্ব ভালভাবে পালন করবে। জনগণকে এক্যবদ্ধ রাখা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিতকতা রক্ষায় শত প্রতিকূল অবস্থা ছিন্ন করে জাতির কাছে এই সংসদ উপহার দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান রুহুল আমিন হাওলাদার। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় শিরিন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অধিবেশন কক্ষের খণ্ডচিত্র: সন্ধ্যা ৬টায় অধিবেশন শুরুর নির্ধারিত সময় থাকলেও ২০ মিনিট আগেই কক্ষে প্রবেশ করেন জাতীয় পার্টির চেযারম্যান এইচএম এরশাদ। তার সঙ্গে আসেন দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার পাশের আসনে বসেন উপনেতারা। নবম সংসদের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশের আসনে বসেন সরকারি দলের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রওশনের পাশে বসেন এরশাদ। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এখনও কাউকে উপনেতা নির্বাচিত করা হয়নি।
এদিকে অধিবেশন কক্ষে এরশাদকে আগে থেকে বসা দেখে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের বেশ কয়েক নেতা তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ তালিকায় প্রথমে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি প্রায় ৫ মিনিট এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই আসেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ সময় এরশাদকে কিছুটা বিমর্ষ দেখা গেছে। এদিকে প্রায় আধা ঘণ্টা পর সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। পাশে বসে থাকলেও এরশাদ-রওশনের মধ্যে কোন কথা হয়নি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন ২ মিনিটের জন্য মুলতুবি করা হয়। এরপরই আসন থেকে উঠে যান এরশাদ। এর ৫ মিনিট পর সংসদ লবিতে গিয়ে বসেন রওশন।
তথ্যমন্ত্রীর ব্রিফিং: এইচ এম এরশাদের সঙ্গে ৫ মিনিট কুশল বিনিময়ের পর অধিবেশন কক্ষে দায়িত্বরত বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানদের কাছে আসেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় তিনি তাদের বেশ কিছু সময় ব্রিফিং করেন। হাতের ইশারা দিয়ে বুঝিয়ে দেন ক্যামেরা কাদের দিকে তাক করতে হবে। সুষ্ঠু প্রচারণার স্বার্থে তিনি এ ব্রিফিং করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সামনের সারিতে বিরোধী দলের ৬ আসন: রওশন এরশাদের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় পার্টির জন্য সামনের প্রথম সারিতে ছয়টি আসন দেয়া হয়। বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেন রওশন এরশাদ। পরের আসনে এইচএম এরশাদ। এরপর বসেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। সামনের সারির পরের চারটি আসনে যথাক্রমে বসেন হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও ফজলে হোসেন বাদশা। এদিকে আগের সংসদের মতোই এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশের আসনে বসেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর যথাক্রমে বসেন বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু (৯ম সংসদে তিনি ছিলেন মাঝের সারিতে), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও এডভোকেট রহমত আলী। এদিকে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদকে এবার দেয়া হয়েছে মাঝের সারির দ্বিতীয় সারিতে। এর আগে অধিবেশন শুরুর ৫ মিনিট আগে সাদা চাদর গায়ে জড়িয়ে সংসদে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত এমপিরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। এর দুই মিনিট পর অধিবেশন কক্ষে আসেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ৬টা ১০ মিনিটে চেয়ারে বসেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দশম জাতীয় সংসদের অভিযাত্রা।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ কার্য পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচন করা হয়। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী তাদের নাম ঘোষণা করেন। এ তালিকায় রয়েছেন আবুল কালাম আজাদ, এইচএন আশিকুর রহমান, বেগম সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম সুজন ও একেএম মাইদুল ইসলাম।
শোক প্রস্তাব উত্থাপন: চলতি সংসদের সদস্য শওকত মোমেন শাজাহানসহ সাবেক এমপি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, সাবেক আইন পরিষদের সদস্য মমতাজ আহমেদ, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েক নেতা তাদের স্বরণ করে বক্তব্য দেন। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন স্পিকার: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন পুনর্নির্বাচিত স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তাদের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল ৭টায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করবেন তিনি। এ সময়ে তার সঙ্গে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজসহ পাঁচ হুইপ থাকবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাংবিধানিক গোঁজামিলের সংসদ: বিএনপি
দশম সংসদ অধিবেশনকে ‘সাংবিধানিক গোঁজামিলে’র সংসদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, প্রহসন, নাটক ও গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সাংবিধানিক গোঁজামিলের মধ্য দিয়ে সে সরকার সংসদ গঠন করেছে। এটা হলো ‘সং’দের সংসদ। এ সংসদের কোন কর্তৃত্ব নেই। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়ে গেল তাতে ১৫৩ জন কুশীলব বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪৭ আসনের এমপিরা মাত্র ৫ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন।  গণতন্ত্রকে হত্যা করে, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যে সংসদ গঠিত হয়েছে তার কোন কর্তৃত্ব নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাত্র যে ৫ ভাগ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে তাতে শুধু আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যায়। এতে কোন কর্তৃত্ব নেই। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, আবারও প্রমাণ হয়েছে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদেরকে আজ অস্ত্রের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সমপ্রতি সারা দেশে যে পরিমাণ ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এখন যেখানে-সেখানে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যাচ্ছে। গতকালও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পল্লবীতে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিরোধী দলকে নির্মূল করতেই এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। গুম, খুনের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা আমাদের সঙ্গে  যোগাযোগ করেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হবে। তা বিএনপি চেয়ারপারসনই করতে পারেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, ইনু সাহেব যে ভাষায় কথা বলছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বহির্ভূত। তিনি অতীত ভুলে গেছেন। অতীতে হত্যা, সন্ত্রাস ও মানুষ খুনসহ সহিংস ঘটনার সংস্কৃতি ইনু সাহেবই শুরু করেছিলেন। এসব ঘটনার কারণে তার নাম ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে। কারণ, তিনি গণবাহিনী তৈরি করেছিলেন এবং আজকে যাদের সঙ্গে ক্ষমতায় আছেন তাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। তথ্যমন্ত্রীকে তার অতীতের কথা স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পর্কে কথা বলার আহ্বান জানান মির্জা আলমগীর। বিএনপি কতদিন কঠোর কর্মসূচি এড়িয়ে চলবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সচেতনভাবে সব সময় সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে চলছি। আমরা কথা বলার সুযোগ চাই। তবে, সময়  বেঁধে দিয়ে আন্দোলন হয় না। তা সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন দমন, নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা হতাশ নয় বরং উজ্জীবিত। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জানা মতে, কোন রাষ্ট্র সরকারকে বৈধতা দেয়নি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারেক রহমানের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়ার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা এই মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। তারেক রহমানের শাশুড়ি হওয়ায় নোংরা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দুদক এই মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন মামলার রায় কি হবে। রায় না দেয়ার আগেই তারা বলতে পারবে কি রায় দেয়া হচ্ছে। রায় না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছন্দহীন এক পার্লামেন্ট : সরকারি আর বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার

ছন্দহীন এক পার্লামেন্টের যাত্রা শুরু হলো। সরকারি আর বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার এই সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী এমপিরাও এসেছেন নজির সৃষ্টি করে। তাদের ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

চাচার পাঁচালি- বাকশাল by মাহবুব তালুকদার

চাচা বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেই ঝানু পলিটিশিয়ান। নির্বাচনটা তিনি করিয়েই ছাড়লেন।
আমি বললাম, অপারেশন সাকসেসফুল, বাট পেশেন্ট ইজ ডেড।

পেশেন্ট কোন বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে কিনা! এক্ষেত্রে ডাক্তার  
হাসিনা শতভাগ সফল। চাচা আরও বললেন, এরপর তার কাজ হচ্ছে মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার করা।
সেটা কি করে সম্ভব?
শেখ হাসিনার জন্য সবকিছুই সম্ভব। চাচা উদ্দীপ্ত হয়ে জানালেন, দেখছো না বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেভাবেই তারা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। খালেদা জিয়া নির্বাচনে না আসার সমালোচনা পর্যন্ত করেছে রাশিয়া।
এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হয়ে গেল না?
তারা তো সরকার বা রাষ্ট্রের বিপক্ষে কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। বিরোধী দলের কি করা উচিত ছিল আর কি করা উচিত হয়নি বললে তা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হয় কি করে? চাচা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন, বলতে পারো বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জন করে কি অর্জন করলেন?
একটা প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই বা তিনি কি অর্জন করতেন?
শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী তো হতে পারতেন। এখন তার আমও গেছে, ছালাও গেছে। আওয়ামী লীগ আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। সে জন্যই তো তারা ২০৪১ সাল পর্যন্ত রূপকল্প ঘোষণা করেছে।
তাহলে কি দেশে আর কোন নির্বাচন হবে না?
নির্বাচন অবশ্যই হবে। এবারের নির্বাচনে একটা মডেল তৈরি হয়ে গেছে। আশা করি নির্বাচন কমিশন মডেলটির স্থায়ী রূপ দেবে। এই মডেল অনুসরণ করলেই আওয়ামী লীগের পোয়া বারো। ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’ স্লোগানটি এখন জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
চাচার কথাবার্তায় আমি রীতিমতো বিভ্রান্ত। আরও বিভ্রান্ত সরকারি দলের সিনিয়র নেতাদের কথাবার্তা শুনে। যেসব সরকারি নেতা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা’ কিংবা ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছেন, তারাই এখন বলছেন পাঁচ বছরের আগে আর কোন নির্বাচন নয়। নির্বাচন বিষয়ে সংলাপ হতে পারে পাঁচ বছর পরে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব পর্যন্ত এমন স্ববিরোধী উক্তি করেছেন। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? আমি চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি যে নির্বাচনের মডেলের কথা বলেছেন, তা কি রকম?
সব কথা তো প্রকাশ্যে বলা যায় না। চাচা রহস্যময় হাসি হাসলেন। বললেন, বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাপার ছিল, তা মানি। মেনিপুলেশনের ব্যাপার ছিল, তা-ও মানি। ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, এ কথা স্বীকার করতেও আপত্তি নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইলেকশন হয়েছে কিনা। যে কোন মূল্যে ইলেকশন হওয়াই হচ্ছে এই মডেল।
আমি বললাম, কিন্তু ইলেকশন গ্রহণযোগ্য হয়েছে কিনা, সেটা কোন ব্যাপার নয়?
চাচা দু’চোখে অগ্ন্যুৎপাত সৃষ্টি করে আমার দিকে তাকালেন। সরোষে বললেন, কার কাছে গ্রহণযোগ্য? কে গ্রহণযোগ্যতার সার্টিফিকেট দেবে? বিদেশীরা? ইলেকশনের ব্যাপারে আমরা তাদের বয়কট করেছি।
তাহলে আপনি বলছেন, নির্বাচন যথাযোগ্য হয়েছে?
চাচা কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক করে বললেন, তোমার এই ‘যথাযোগ্য’ শব্দটা আমার খুব মনঃপূত হয়েছে। সত্যি বলতে কি, আমাদের যোগ্যতা অনুসারে এই নির্বাচন ‘যথাযোগ্য’ হয়েছে। খোদ আমেরিকা পর্যন্ত নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বৃটিশ পার্লামেন্ট তো পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছে।
যার বিয়ে তার মনে নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই। চাচা বললেন, বিদেশীদের দাবিনামা আস্তে আস্তে চাপা পড়ে যাবে। সবাই বুঝতে পেরেছে, দেশের মানুষ নির্বাচন মেনে নিয়েছে। যেসব দুষ্কৃতকারী নির্বাচন মেনে নেয়নি, সহিংসতার সৃষ্টি করেছে কিংবা উস্কানি দিয়েছে, তাদের পরিণতি তো চোখের সামনে দেখতেই পাচ্ছো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে দু’টি হার্ডল পার হলেন।
কি রকম?
প্রথমত তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করলেন এবং কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখলেন। দ্বিতীয়ত তিনি বিএনপি থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করতে সফল হচ্ছেন এবং হয়েছেন।
কিন্তু জামায়াতকে তিনি নিষিদ্ধ করছেন না কেন? আমি বললাম।
নিষিদ্ধ করার দরকার কি? কাজ সুসিদ্ধ হলেই হলো। চাচা শান্তকণ্ঠে বললেন, একবারে নয়, জামায়াতকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করা হবে। বিএনপিও ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
বিএনপি নিশ্চিহ্ন হবে কিভাবে?
ওরা তো ইলেকশনেই আসতে পারবে না। এরপর যত ইলেকশন হবে, সংবিধান মেনে নিয়ে সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হতে হবে।
বিএনপি যদি তাতেই রাজি হয়ে যায়?
তখন নতুন কোন কৌশল করে ওদের বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এ কথার অর্থ কি?
নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের সাহায্য ছাড়াই বিএনপিকে বসিয়ে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে!
চাচা! একটা বিষয় আমি ঠিক বুঝতে পারি না।
কি বিষয়?
নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অন্যান্য দলের সদস্যদের নৌকা প্রতীক ব্যবহার করার সম্মতি দিয়ে কমিশনে চিঠি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুরা নৌকায় চড়ে বৈতরণী পার হলেন। কিন্তু এরশাদ যখন লাঙ্গল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি না দিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলেন, তার চিঠি আমলেই নেয়া হলো না। এক যাত্রায় এমন পৃথক ফল হয় কি করে? আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
এটাই তো নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার প্রমাণ। এরশাদের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী জেনেই তা কমিশন আমলে নেয়নি।
কিন্তু এরশাদকেও লাঙ্গল প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে জিতিয়ে আনা হলো। তিনি তো নির্বাচনই করতে চাননি।
এটা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মহানুভবতা বলতে পারো। এরশাদ সাহেব নিজের ভালমন্দ বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। আসলেই তিনি খুব অসুস্থ। সত্যি কথা হলো, তিনি একজন মানসিক রোগী।
এ কি কথা বলছেন আপনি?
ঠিকই বলছি। মানসিক রোগী না হলে কেউ নিজের মাথায় পিস্তল ধরে! পিস্তলের ভেতরে যদি গুলিভর্তি থাকতো তখন কি হতো? বারবার যার মুখের কথা ফসকে যায়, তার হাত ফসকে যাওয়াটা কি অস্বাভাবিক কিছু?
আমি কথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে বললাম, চাচা! দেশের এ অবস্থা কি আপনি স্বাভাবিক মনে করছেন?
অবশ্যই স্বাভাবিক। এখনকার মন্ত্রিসভা আওয়ামী লীগের আগের মন্ত্রিসভাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি পাকাপোক্ত। আমু তোফায়েল নাসিম- এরা সবাই তারকা রাজনীতিবিদ।
কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তো কয়েকজন তারকা রাজনীতিবিদ ছিলেন।
খালেদা জিয়া কি রাজনীতি বোঝেন? মোটেই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে তার ভুলের খেসারত দিতে হবে।
রাজনীতিতে কাকে কখন ভুলের খেসারত দিতে হয়, সেটা সময় বলে দেবে। তবে খালেদা জিয়ার ভুলটা কি?
তার তো সবটাই ভুল। তিনি জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য হলেন, কিন্তু জনগণের কথা বলতে সংসদে বসলেন না। তিনি যাতে আদৌ সংসদ অভিমুখী না হতে পারেন, শেখ হাসিনা তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে তুমি হয়তো বলবে, খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েও যখন সংসদে যাননি, তার আর নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার দরকার কি?
আমি তা বলবো না। সংসদ বর্জন আর সংসদে যেতে না পারা এক কথা নয়। তবে বিরোধী দলবিহীন সংসদ গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
বিরোধী দলবিহীন কে বললো? বেগম রওশন এরশাদ এখন বিরোধী দল নেতা। তিনি সরকারের সঙ্গেও আছেন আবার বিরোধী দলেও আছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বিরল কথাটা বোধ হয় ঠিক হলো না। পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
তা বলতে পারো। এটা সাধারণ বিরোধী দল নয়, গঠনমূলক বিরোধী দল। দলের নেতারা বলেছেন, তারা কেবল গঠনমূলক বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা সরকারের পক্ষেও যেমন আছেন, আছেন তেমন বিরোধী দলেও।
সংসদে হ্যাঁ কিংবা না ভোটের সময় তারা কোনদিকে ভোট দেবেন?
চাচা বললেন, তারা সরকারি দলের হয়ে সর্বদা হ্যাঁ ভোট দেবেন, আবার বিরোধী দল হিসেবে না ভোট দেবেন।
তাহলে কি তারা দু’বার ভোট দেবেন?
তা হতেই পারে। তবে এসব ভোটাভুটিতে সরকারি দল সর্বদাই জয়যুক্ত হবে। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি না ভোট দিলেও তাতে সিদ্ধান্তের কোন নড়চড় হবে না। ফলে কিছুই আসবে যাবে না।
দেশে তাহলে বাকশাল চালু হয়ে গেল না?
চাচা ভ্রু-কুঞ্চিত করে আমার দিকে তাকালেন। বললেন, বাকশালের ব্যাপারটা কিছু বোঝো তুমি? বাকশাল অর্থ বোঝো?
বললাম, বাকশাল হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা।
মোটেই না। বাকশাল হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। পঁচাত্তর সালে যে বাকশাল হয়েছিল, তা-ও একদলীয় ছিল না। বহুদলীয় গণতন্ত্রই ছিল তার রূপরেখা। বাকশাল হচ্ছে গণতন্ত্রের সর্বশেষ কথা। গণতন্ত্রের নির্যাসও বলতে পারো।
বলছেন কি চাচা!
ঠিকই বলছি। চাচা হাসিমুখে বললেন, শেখ হাসিনা বাকশাল কায়েম করতে চাইলে সমগ্র জাতি সাধুবাদ জানাবে। তিনি যদি বিএনপিকে তাতে যোগ দিতে বলেন, বিএনপি’র উচিত হবে অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তাতে যোগদান করা। কথাটা পারলে খালেদা জিয়ার কানে পৌঁছে দিও।

চাচার পাঁচালি- বাকশাল by মাহবুব তালুকদার

চাচা বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেই ঝানু পলিটিশিয়ান। নির্বাচনটা তিনি করিয়েই ছাড়লেন।
আমি বললাম, অপারেশন সাকসেসফুল, বাট পেশেন্ট ইজ ডেড।

নয়া নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের by কাউসার মুমিন

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির একপাক্ষিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
আর প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশের বিতর্কিত নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের আশু করণীয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানের এক ‘তেতো স্বাদ’ নিতে হলো রাষ্ট্রদূতকে। বৈঠকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে রাষ্ট্রদূত যত বেশি এই নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার মাত্রাটাও তত বেশি হচ্ছিল। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে নয়া সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকলেও নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে যথাশিগগির নয়া নির্বাচন দিতে হবে। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ ও ক্রেডিবল নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে সরকারকে।

কিন্তু বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত নিজে মিডিয়াকে ঠিক বিপরীত তথ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে সেদিনই বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ‘হাসিনা সরকারকে বৈধতা দিলো যুক্তরাষ্ট্র’; ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুনঃনির্বাচনের কথা বলছে না’। এ বিষয়ে গতকাল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র এমিলি হর্ন গতকাল দুপুরে এ প্রতিনিধিকে বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্য যদি রাষ্ট্রদূতের নিজস্ব বক্তব্য হয়ে থাকে, তবে তা রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচ্য বিষয়বস্তুর সঠিক প্রতিফলন নয়, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের বৈঠকে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলীর সঙ্গে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তাগাদার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির তাগাদা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২৪শে জানুয়ারি সকাল ১০টায় ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের। এটি একটি নিয়মিত বৈঠক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিবেচনায় এ বৈঠকটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের পর ওই দিনই বাংলাদেশের একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা তার নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধির বরাতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে ‘হাসিনা সরকারকে বৈধতা দিলো যুক্তরাষ্ট্র’ বলে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুনঃনির্বাচনের কথা বলছে না’, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের তাগিদ দেয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান মাত্র। এই সংবাদ ওই দিনই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বাংলা মিডিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কোনভাবেই রাষ্ট্রদূতকে পাওয়া যায়নি। আর মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে যেহেতু রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করা হয়েছে সেহেতু দূতাবাসের অন্য কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার তিনদিন পরও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দূতাবাসের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় প্রকাশিত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র এমিলি হর্ন এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে বলেন, ২৪শে জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত উদ্বেগের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল বাংলাদেশ সরকারকে একটি নতুন নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, ‘ইনক্লুসিভ’ ও ‘ক্রেডিবল’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধান প্রধান দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বাংলাদেশে খুব দ্রুত একটি নয়া নির্বাচন বিষয়ে দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার উপর্যুপরি আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একটি অংশে বিতর্ক চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা কি তার ‘ব্যক্তিগত অতি উৎসাহ’ থেকে এমন অবস্থান নিয়েছেন না কি সত্যি সত্যি তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি বাস্তবায়ন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র এমিলি হর্ন পৃথক এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ধারাবাহিক ভাবে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা অব্যাহতভাবে জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার ভিন্নরকম অবস্থানের সুযোগ নেই। মুখপাত্র বলেন, ‘সকলেরই সুস্পষ্ট ভাবে জানা উচিত, রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত নীতি নয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতি বাস্তবায়ন করেন।’

নয়া নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের by কাউসার মুমিন

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির একপাক্ষিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।