Thursday, March 6, 2014

সৈয়দ আশরাফের সাফাই! by সোহরাব হাসান

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের কাজকর্ম নিয়মিত দেখভাল করেন, এ দাবি তাঁর অতি সুহূদও করবেন না। বরং দল ও সরকার সম্পর্কে তাঁর একধরনের উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ আছে। আবার তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন, তেমন সক্রিয় নন বলেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি বহাল আছেন।

আজ-কাল-পরশু- সেই প্রতিবাদী ছাত্ররা কোথায় by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

একুশের মাস ফেব্রুয়ারি চলে গেল। রেখে গেল সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের ডাক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার চেতনা ও সর্বোপরি বইমেলার মাধ্যমে বেশি করে বই, ভালো বই পড়ার আহ্বান। এবারের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি ব্যতিক্রর্মী খবর হলো: আদালত কর্তৃক সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের নির্দেশ ও সময়সীমা নির্ধারণ।

উচ্চশিক্ষা- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন by কাবেরী গায়েন

রাবার বুলেটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর দেহ ঝাঁজরা হতে দেখার স্মৃতি ঝাপসা হওয়ার আগেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পিঠ ঝাঁজরা হলো রাবার বুলেটে। আহত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত শিক্ষা ফি-বিরোধী আন্দোলনে প্রক্টরকে হাত তুলতে দেখেছি আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীর শরীরে। হামলাকারী কে?

রাশিয়া-ইউক্রেন: ঘৃণা ছড়ানোর দিন by মশিউল আলম

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ক্রিমিয়ায় ঢুকে পড়াকে ‘অবিশ্বাস্য আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু সারা ইউক্রেনে ও রাশিয়ার কোথাও কোথাও এখন যা ঘটছে, তার পুরোটাকেই আসলে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

কলকাতার চিঠি- প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে মমতা! by অমর সাহা

আগামী ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের সংসদ লোকসভার নির্বাচন। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভি এস সম্পাত বুধবার সকালে রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। নির্বাচন চলবে নয় দফায়। শুরু ৭ এপ্রিল, শেষ ১২ মে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল ঠিকও করে ফেলেছে তাদের দলীয় প্রার্থীদের তালিকা। কোনো কোনো দল ঘোষণাও করেছে প্রার্থীদের তালিকা।

স্পনসর- সাহারার মুখে কালি, আমাদের? by এ কে এম জাকারিয়া

ভারতের সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশি হেফাজতে ছিলেন। এরপর আদালতে হাজির হতে গিয়ে মুখে কালিও খেলেন। এই কালি কি আর কোথাও লাগল? এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ খেলেও হেরেছে বাংলাদেশ, কিন্তু সেঞ্চুরি করেছেন আমাদের এনামুল।

আগে দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান হোক- বিমসটেক ও রোহিঙ্গা সমস্যা

সাতটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত বহুপক্ষীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগের (বিমসটেক) তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে।

স্বল্পশিক্ষিতদের হাতেই সচল অর্থনীতি by জাহাঙ্গীর শাহ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তির অবদান সামান্যই। বরং দেশের অর্থনীতি টিকে আছে অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত বিশাল এক শ্রমশক্তির শ্রমের ওপর। স্বাধীনতার পর প্রথম তিন দশকে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞ মত- মান নিশ্চিত করা জরুরি by নজরুল ইসলাম

স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৩ বছরে পাকিস্তান আমলের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ পর্যন্ত আরও ২৮টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। এখন দেশে মোট ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৭৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও।

উচ্চশিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ- লক্ষ্যহীন উচ্চশিক্ষা, কর্মহীন স্নাতকেরা by মোর্শেদ নোমান

দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তা কাজের বাজারের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। এসব নিয়ে কাজ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তাদের প্রতিবেদনটি ভিত্তি করেই বিস্তারিত আয়োজন।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ- কী করবে পশ্চিমা বিশ্ব?

ইউক্রেন ক্রিমিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার কাছে হারিয়েছে, এটা এখন পাশ্চাত্যের কাছে মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন সংকটে ভূমিকা রাখার হাতে গোনা কয়েকটি কার্যকর পথই সামনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের।

অশুভ ইঙ্গিতের অকাল মধুচন্দ্রিমা by মাকসুদুল আলম

সার্চ কমিটির বাছাইকৃত এলিট টিম। অসংখ্য ঘটনার উৎপত্তি স্থল। হাজারো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সামপ্রতিক রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রীয় এক প্রতিষ্ঠান। পক্ষে বিপক্ষে বাজারে চাউর আছে নানা কথা। কেউ বলেন মেরুদণ্ড সোজা নেই।

বাংলাদেশে কয়লা-বিভ্রাট by জোসেফ অলচিন

অন্য যে কোন গরিব দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রয়োজন অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ। তা যত সস্তায় হয় ততোই ভাল। এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ বিদ্যুৎ আছে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। কিন্তু সেই গ্যাসের মজুত কমে আসছে। নতুন নতুন কূপ খনন করা হচ্ছে। ভর্তুকি ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। এ অবস্থায় সরকার এক্ষেত্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এরশাদ- আমার কাজ কি?

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ৫৩ দিন পর পররাষ্ট্র দপ্তরে গেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গতকাল অফিস সময় শুরুর পরপরই সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র ভবনে প্রবেশ করেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা মন্ত্রীর কক্ষে যান।

শান্তি আলোচনার স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে

ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ দেখতে চাইলে ইসরায়েলকে অবশ্যই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সোমবার ওয়াশিংটনে বৈঠককালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এ কথা বলেছেন। ওবামা ও নেতানিয়াহু সোমবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তাঁরা। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা প্রশ্নে দুই নেতা আগে থেকেই পারস্পরিক বিদ্বেষ থেকে বের হয়ে আসতে পারছিলেন না; সোমবারও তা এড়াতে পারলেন না। ওবামা শান্তি-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তের জন্য চাপ দিলেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিলেন, ইসরায়েল তার কাজ এরই মধ্যে করে দেখিয়েছে। ইরানই এখন শান্তি-প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় হুমকি।  ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বর্তমানে সাত মাস মেয়াদের সরাসরি সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী এপ্রিলে এই সংলাপের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ওবামা বলেন, ‘চলমান সংলাপ শেষ করার জন্য আমরা যে সময়কাঠামো ঠিক করেছি, তার সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এখনো দুটি রাষ্ট্র তৈরি সম্ভব।
তবে এটা কঠিন কাজ এবং এ জন্য সব পক্ষকেই আপস করতে হবে।’ তবে ইসরায়েলি নেতার জবাব ছিল বেশ কড়া। তিনি ওবামাকে জানিয়ে দেন, শান্তির স্বার্থে গত ২০ বছরে ইসরায়েল ‘নজিরবিহীন পদক্ষেপ’ গ্রহণ করেছে। এখন বল নিশ্চিতভাবেই ফিলিস্তিনিদের কোর্টে। তিনি বলেন, গত দুই দশকে ইসরায়েল বসতি নির্মাণ বন্ধ করেছে, পুরো বসতি উচ্ছেদ করেছে এবং শত শত ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসী’কে মুক্তি দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে ওবামা-নেতানিয়াহু বৈঠক অন্তত দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ বৈঠকে ওবামা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দীর্ঘ প্রচেষ্টায় যে বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এপ্রিলের পর বর্ধিত করার ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। অসমর্থিত খবরে বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনিদের আলোচনার টেবিলে রাখতে ইহুদি বসতি নির্মাণ আংশিক বন্ধ রাখার দাবি তুলতে পারে। বসতি নির্মাণ নিয়েই ২০১০ সালে ওবামার প্রথম মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়েছিল। এএফপি।

সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিঙ্গাপুর

বসবাসের জন্য ব্যয়বহুল নগরের তালিকায় বিশ্বের ১৩১টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপে শীর্ষে উঠে এসেছে এই নগর। কাপড়চোপড় কিনতে গেলেও সবচেয়ে বেশি খরচ হয় নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে। শহরটি এবার জাপানের রাজধানী টোকিওকে টপকে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তালিকায় গত বছর শীর্ষে থাকলেও টোকিও এবার ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। সিঙ্গাপুরের পর রয়েছে যথাক্রমে প্যারিস (ফ্রান্স), অসলো (নরওয়ে), জুরিখ (সুইজারল্যান্ড) ও সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)। ইআইইউর জরিপে শহরের মুদ্রার মান,
গাড়িচালনা এবং অন্যান্য সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরকে ভিত্তি হিসেবে ধরে তারা একেকটি শহরে অন্তত ৪০০টি পণ্য বা সেবার খরচের তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নেয়। তাদের এবারের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ১০টি শহরের মধ্যে এশিয়া ও অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চলের শহরগুলোর প্রাধান্য রয়েছে। তবে ইউরোপের কয়েকটি শহরও স্থান পেয়েছে। ইআইইউর প্রতিবেদনের সম্পাদক জন কপস্টেইক বলেন, এশিয়ার কয়েকটি শহর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় স্থান পেলেও একই মহাদেশের বিভিন্ন শহরই আবার সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। টোকিওতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য জিনিসের দাম সবচেয়ে বেশি। আর ভারতের মুম্বাই ও নয়াদিল্লি রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহরের তালিকায়। উপমহাদেশের বাইরে কম খরচে বসবাসযোগ্য শহরের মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। বিবিসি।

দিল্লিতে আদালতে সাহারা প্রধানের মুখে কালি

নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে গতকাল সাহারাপ্রধান সুব্রত
রায়ের মুখে কালি নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি, এএফপি
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে গতকাল মঙ্গলবার ৭৫ হাজার কোটি রুপির মালিক সাহারা গোষ্ঠীর প্রধান সুব্রত রায়ের মুখে এক দোয়াত কালি নিক্ষেপ করেছেন বিক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি। এরপর আদালতে গিয়ে পেলেন আরও দুঃসংবাদ। তাঁর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তিনি ছাড়াও মামলা দায়ের হওয়া তাঁর দুই কোম্পানির পরিচালকদের বিচারিক হেফাজতে থাকতে হবে। সুব্রত রায় নানা অজুহাতে আদালতে হাজিরা না হওয়ায় ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশ পুলিশ তাঁকে লক্ষেৗ থেকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বেলা একটায় পুলিশি পাহারায় তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে গাড়ি থেকে নামার পরই মনোজ শর্মা নামের এক ব্যক্তি তাঁর মুখে এক দোয়াত কালি নিক্ষেপ করেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, সুব্রত রায় চোর। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তিনি চুরি করেছেন। মনোজ জানান, তিনি আইনজীবী।
দুই বছর আগে কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কারিতে জড়িত কংগ্রেসের সাংসদ সুরেশ কালমাডিকে জুতা মেরেছিলেন। মুখ ও জামায় কালিমাখা অবস্থায় আদালতে ঢোকেন সুব্রত রায়। আদালতে তিনি অর্থ পরিশোধের বিকল্প প্রস্তাব দেন। অর্থ ফেরত দিতে দুই মাস বাড়তি সময় চান। তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি করে লগ্নিকারীদের অর্থ ফেরত দেবেন। সাহারা পরিবারের ১৬ লাখ কর্মীর দিকটাও আদালতকে মনে রাখতে অনুরোধ করেন তিনি। তবে এতে আদালত সন্তুষ্ট হননি। শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে লগ্নিকারীদের স্বার্থ দেখতে গঠিত সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) সাহারা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করেছে। কোম্পানির যে দুটি প্রকল্প থেকে ২৪ হাজার কোটি রুপি সংগৃহীত হয়, সেবি তা বেআইনি বলে জানিয়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ টালবাহানার পর সাহারা দাবি করে, তারা অধিকাংশ অর্থই ফেরত দিয়েছে। বাকি আছে মাত্র পাঁচ হাজার কোটি রুপি। সুপ্রিম কোর্টের কাছে কোম্পানির দাবি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তাই তাঁদের বিচারিক হেফাজতে থাকতে হবে। গতকালই তাঁদের তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১১ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুই দল কী শিক্ষা নিল?

থাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভকারীদের
প্রাচীর তৈরির চেষ্টার ছবি ছেপেছে দি ইকোনমিস্ট
নির্বাচনের পর দুই মাস চলে গেছে। অনেকের আশঙ্কা ছিল হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ অচল হয়ে পড়বে। ভাগ্য ভালো যে ভয়ংকর কিছু ঘটেনি। হরতাল নেই, ভাঙচুর নেই, অনিশ্চয়তা অনেক কম। কিন্তু এটা কত দিন থাকবে? মানুষ শান্তিতে থাকতে চাইলেই তো হয় না। দেশের দুই প্রধান দল ও জোট যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে আবার রাজনৈতিক হানাহানি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই তার লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করেছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আবার আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছে। সরকার ‘স্বেচ্ছায় বিদায়’ না নিলে আন্দোলন শুরুর কথা তারা বলছে। তাদের আন্দোলন এবার সফল হবে বলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশা করছেন। ১ মার্চ রাজবাড়ীর জনসভায় তাঁর ভাষণের মর্মার্থ এটাই। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বিএনপির মনমেজাজে পরিবর্তন নেই। গত নির্বাচনের আগে যে রকম ছিল এখনো তা-ই। বিএনপির শর্তে নির্বাচন দিতে হবে, না হলে ‘হঠাও’ আন্দোলন চলবে।
এই হলো তাদের কথা। তাহলে কি আবার সেই আগের মতোই পুলিশ খুন, ককটেল, পেট্রলবোমা, গাড়ির চালক-যাত্রী হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার মতো নৃশংস ঘটনাগুলো ঘটতে থাকবে? বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের কথা শুনলে সবচেয়ে প্রথম এই শঙ্কাই মনে জাগে। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিও চলছে সেই পুরোনো চালেই। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোটকে বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়লেও এবং নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আওয়ামী লীগ নির্বিকার। তাদের মধ্যে ভাবান্তর নেই। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ঢাক পিটিয়ে চলেছে। দলীয় নেতাদের বক্তৃতা শুনলে মনে হয় না তাঁরা বাস্তবতার ধারেকাছে আছে। অথচ নির্বাচনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল না। মানুষ রাস্তায় নামেনি ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলতে থাকলে হয়তো মানুষের ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ কতটা সচেতন? একতরফা নির্বাচন যে মানুষ গ্রহণ করছে না, এটা তারা মানতে নারাজ। স্রোতের বিপরীতে নৌকা বেয়ে তারা কত দূর যেতে পারবে? পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মোড় নিতে চলেছে। বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনে আওয়ামী লীগের নেতারা অরাজনৈতিক ভাষায় বক্তৃতা দিতে শুরু করেছেন। তাঁরা বলছেন, বিএনপির আন্দোলনে যারা নাশকতা করবে,
তাদের ‘হাত-পা কেটে দেওয়া হবে’! ২ মার্চ তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের এই ভাষণ শুনলে যেকোনো শান্তিপ্রিয় নাগরিক শিউরে উঠবেন। কোনো দায়িত্বশীল নেতা এ রকম উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে পারেন, ভাবতে অবাক লাগে। মূল কথা হলো, বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কেউ তাদের নিজেদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি না। অথচ বিগত নির্বাচন থেকে দুই দলেরই অভিজ্ঞতা গ্রহণের অনেক কিছু আছে। যদি তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দলীয়ভাবে তাদের অনেক বড় সংকটে পড়তে হতে পারে। দেশের জন্যও সেটা কল্যাণকর হবে না। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো শুধু অন্ধভাবে একই কৌশল নিয়ে চলে না। আন্দোলন-নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে কৌশল পরিবর্তন করে। উদাহরণ হিসেবে আমরা নিকটবর্তী দেশ থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে রাখতে পারি। সেখানেও সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পদত্যাগ ও একটি অনির্বাচিত কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে জানুয়ারি মাস থেকে বিক্ষোভ-আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু ২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন তারা ঠেকাতে পারেনি, যদিও দেশের বেশ কিছু এলাকায় ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সেখানে পরে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের পরেও তারা কিছুদিন ব্যাংককের কয়েকটি সড়ক সংযোগ অবরোধ করে রাখে।
প্রধানমন্ত্রী ইংলাকের কার্যালয়ের গেটের বাইরে ইট-পাথর-সিমেন্ট দিয়ে প্রাচীর তোলার চেষ্টা করে। দেশ-বিদেশের পত্রিকায় এসব ছবি ছাপাও হয়েছে (দেখুন, দি ইকোনমিস্ট, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিরোধী আন্দোলনকারীরা রণে ভঙ্গ দিয়েছে। তাদের আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ছিল। এ অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনকারীদের প্রধান নেতা ব্যাংককের সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁদের দীর্ঘ অবরোধে জনসাধারণের অসুবিধা সৃষ্টির জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে সরকার অকার্যকর করার কথা বলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কাজ করেছে একটি ঘটনা। ২৪ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান এক বিরল ভাষণে জানিয়ে দেন যে এই প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতি তাঁর কোনো সমর্থন নেই। শুধু তা-ই নয়, দেশের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন (দেখুন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১ মার্চ, ২০১৪)। অবশ্য ব্যাংককের বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অবরোধ প্রত্যাহার করলেও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শেষ হবে না। থেমে থেমে আন্দোলন চলতেই থাকবে। ব্যাংকক ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তার পরও কিছু বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দিতে পারি। প্রথমত, এত দিন ধরে অবরোধ চলেছে, কিন্তু সে তুলনায় বোমা-গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা খুবই কম। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।
এর মূল কারণ হলো, প্রধানমন্ত্রীর অভাবনীয় নির্দেশ। তিনি প্রথম থেকেই বলে আসছেন, পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষীরা বিরোধী আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগ করবে না। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্য কিছু সরকারি দপ্তর অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তাঁর নিজের এবং সরকারি অন্য দপ্তরগুলো সরিয়ে নেন। দূর থেকে সরকারের জরুরি কাজগুলো সেরে নেন। এমনকি প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ না করার জন্য আদালত রায় দেন। আমাদের দেশে এসব চিন্তাও করা যায় না। অন্যদিকে বিরোধী আন্দোলনের নেতারাও বেশ পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা ব্যাংককের প্রধান সড়ক সংযোগস্থলগুলোতে অবরোধ আরোপ করলেও সারা দেশ অচল করার কোনো পদক্ষেপ নেননি। এমনকি ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবরোধ থাকলেও বিকল্প সড়কগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে হরতাল-অবরোধ ডাকার পরপরই, কর্মসূচি শুরুর আগেই, বোমাবাজি করে আতঙ্ক সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টা ছিল না। ব্যাংককের আন্দোলন থেকে এসব অভিজ্ঞতা আমরা গ্রহণ করতে পারি। আসল কথা হলো, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে না পারলে অচলাবস্থা দূর হবে না। বিএনপি যদি মনে করে তাদের পুরোনো দাবি, অর্থাৎ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে যাবে এবং এর মাধ্যমেই সরকার অপসারণ করে তারা ক্ষমতায় বসতে পারবে, তাহলে হয়তো দেশে এক দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। আর তা ছাড়া, এই দাবি যদি আদায়যোগ্যই হবে, তাহলে কেন তারা কয়েক মাস ধরে হরতাল-অবরোধ দিয়েও পারল না?
এ দিকটি তাদের বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগকেও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। একতরফা নির্বাচনে অর্জিত ক্ষমতা কত দিন ধরে রাখা যায়, সেটি অনুমান করা কি কঠিন? দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগও যদি ভাবে, তারা নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রশ্নে কোনো সমঝোতায় যাবে না, তাহলে তাদের পক্ষে দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। পদে পদে বিরোধিতা নিয়ে দেশ চলে না। বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এত কিছুর পরও অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। যদিও সংকট আছে এবং বেশ কিছুদিন এর রেশ চলবে। তার পরও বাস্তবতা হলো, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি ও তাদের জোটের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা জিতছেন। সরকারকে অবৈধ মনে করলেও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা এই সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন করছেন। এখান থেকেই আমাদের রাজনীতির হারানো সূত্র খুঁজে নিতে হবে। উপজেলা নির্বাচনের পর সরকার পতনের আন্দোলন না, বরং কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, সেটাই হতে হবে বিএনপির মূল উদ্যোগ। আর সরকারকে দেখতে হবে, দলীয় নেতাদের হঠকারী বক্তৃতায় যেন সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে না যায়। দেশবাসী যে হরতাল-অবরোধ-প্রাণহানি আর চায় না, এই বাস্তবতা অস্বীকার করে চলার চেষ্টা করলে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই মাশুল গুনতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

বিমসটেক ও রোহিঙ্গা সমস্যা

সাতটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত বহুপক্ষীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগের (বিমসটেক) তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে। এই সম্মেলনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিবৃতিসংবলিত প্রথাগত যুক্ত ঘোষণার বাইরে কার্যকর সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সদিচ্ছার ওপর। বিশ্বের বিভিন্ন এলকায় যখন আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হচ্ছে, তখন দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো জিইয়ে থাকার কারণে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় তিন দশক বয়সী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রায় একটি অকার্যকর সংস্থায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না বিমসটেকও একই পরিণতি লাভ করুক। এবারের সম্মেলনে ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপনের কাজ শুরু এবং সংস্থাটির প্রথম মহাসচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। বিমসটেককে একটি কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধের নিষ্পত্তি জরুরি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের ওপর চেপে আছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক সমস্যা ও সহিংসতার কারণেই বিভিন্ন সময়ে তারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।
সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজার বলা হলেও প্রকৃত শরণার্থী তিন থেকে পাঁচ লাখ। এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে ঠাঁই দেওয়া জনবহুল বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধী দলের নেতা নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে বলেছেন। তাঁর এই তাগিদের জবাবে মিয়ানমারের নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। বরং বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের নেতারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা তাঁদের দেশের নাগরিক নন বলে দায় এড়াতে সচেষ্ট থেকেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তাঁদের এই অসার দাবির ব্যাপারে বিশ্বসম্প্রদায় অবহিত হলেও তারা এমন ব্যবস্থা নিতে পারেনি বা নেয়নি, যাতে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। বিমসটেকভুক্ত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ুক, সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হোক—সেটি আমাদেরও একান্ত কাম্য। কিন্তু সেই সহযোগিতা কোনোভাবেই রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যাটি পাশ কাটিয়ে হতে পারে না। সাম্প্রতিক কালে মিয়ানমারে যে গণতন্ত্রের ধারা সূচিত হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব অতীতের একগুঁয়েমি পরিহার করে অবিলম্বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।